ট্যাগ ফুটবল

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    কোনো তারকা খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা বোঝার অন্যতম বড় সূচক তার জার্সি বিক্রির পরিমাণ। বাংলাদেশেও জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, হামজা চৌধুরীকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার পর দেশের ফুটবল নিয়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতেও। বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হামজার নাম-নম্বর সংবলিত জার্সি।

    গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজা চৌধুরীর জার্সি বিক্রি হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট স্পন্সর হিসেবে দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে খুব একটা সাড়া পাওয়া না গেলেও হামজা বাংলাদেশ দলে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

    দৌড়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি জার্সিতে ছিল নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর। সেই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে হামজা। ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সিতে হামজার নাম ও নম্বর যুক্ত করে নিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার সমর্থক।

    বিক্রির দিক থেকে হামজার পরেই রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।

    দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, হামজা বাংলাদেশে আসার পর জাতীয় দলের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষায়, গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজার জার্সি বিক্রি হয়েছে এবং তার আগমনে দেশের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে হামজার জার্সির ব্যাপক চাহিদার মধ্যেই নতুন ডিজাইনের জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সি নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহ বেশ ইতিবাচক। ইতোমধ্যে এর জন্য এক হাজারের বেশি অর্ডার পাওয়া গেছে।

    ফলে হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধু তার ব্যক্তিগত জার্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; জাতীয় দলের জার্সির প্রতিও সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ছে।

    আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জার্সির চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছে দৌড়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এক বছরে এক লাখ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করা।

    নতুন জার্সির নকশা তৈরিতেও ছিল সমর্থকদের অংশগ্রহণ। আবিদ আলমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বেছে নিয়ে চূড়ান্ত জার্সির নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    হোম জার্সির মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলা। বিশেষ প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘাম মাত্র আট মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।

    খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের সংস্করণের মূল্য রাখা হয়েছে ৭০০ টাকা।

  • এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    এমবাপ্পেকে ইয়ামালের চ্যালেঞ্জ

    ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফরাসি ফরোয়ার্ডের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাবে ইয়ামাল বলেছেন, গত মৌসুমের সাফল্য বিবেচনায় এই পুরস্কার তারই প্রাপ্য।

    মুভিস্টার প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে আর আমিই এখন বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যিই বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আমরা দুজনই আছি। তবে এ বছর আমি যে শিরোপাগুলো জিতেছি, সেই বিচারে ব্যালন ডি’অরটা আমারই প্রাপ্য।’

    গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার পারফরম্যান্সে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে কাতালান ক্লাবটি। স্পেনের হয়ে ১২ ম্যাচে এক গোল ও তিন অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

    তবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আট অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন।

    এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত প্যারিসের থিয়েটার দ্যু শাতলেতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল অনুষ্ঠানটি।

  • হামজার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বার্সেলোনার

    হামজার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বার্সেলোনার

    মিশরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিমের সঙ্গে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা।

    আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় (সিইএসটি) বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করবেন আবদেলকারিম। এরপর ক্লাবের কমার্শিয়াল অফিসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন তিনি।

    ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ধারে বার্সেলোনায় যোগ দেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ধারে খেলার কথা থাকলেও খুব দ্রুতই নজর কাড়েন তিনি। ৮ মার্চ উস্কার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন আবদেলকারিম।

    মাত্র ছয়টি লিগ ম্যাচে নয় গোল করেন তিনি। এর মধ্যে মন্টেকার্লোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৯-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিকও করেন। ওই ম্যাচেই বার্সেলোনা División d’Honor শিরোপা নিশ্চিত করে।

    ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আবদেলকারিমকে স্থায়ীভাবে দলে নেয় বার্সেলোনা। এরপর হান্সি ফ্লিকের অধীনে প্রথম দলের সঙ্গে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে অংশ নেন তিনি। প্রাক-মৌসুমে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন এই ফরোয়ার্ড।

    গত ৩১ আগস্ট স্প্যানিশ লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অভিষেক হয় আবদেলকারিমের।

  • এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

    এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

    রবি ঠাকুরের কবিতার লাইনগুলো নিশ্চয়ই জানা? ‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু…।’

    পরের লাইনগুলোয় একটু পরে আসা যাবে। আগে এই লাইনগুলোর তরজমা হোক। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ার পর হন্যে হয়ে স্ট্রাইকার খুঁজেছে বার্সেলোনা। পছন্দ ছিল একটাই—আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজ। সে জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চেষ্টা করেছে বার্সা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার যত ইচ্ছাই থাকুক, আতলেতিকো তাঁকে ছাড়বে কেন! একে তো অমন একটা স্ট্রাইকারকে ছাড়লে তাদের লোকসান, তার ওপর লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে আলভারেজকে তুলে দেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের পায়েই কুড়াল মারা।

    অতএব আলভারেজ মিশনে বহুদিন ধরে বহুভাবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে বার্সা। মৌসুম শুরুর আগে তাই প্রশ্ন উঠেছিল কাতালান ক্লাবটির সেন্টার ফরোয়ার্ড হবেন কে? স্বয়ং বার্সার এক বোর্ড সদস্যই প্রাক্‌–মৌসুমে সেন্ট জর্জেস পার্কে বার্সার অনুশীলনে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফুটিয়ে বলেছিলেন, ‘(দলে) কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড নেই।’

    কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের অস্তিত্ব নেই। রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বার্সার নীতিনির্ধারকদের হয়তো বিশ্বকবির ওই কবিতার পরের লাইনগুলো জানা ছিল! সে যাহোক, পরের লাইনগুলোয় ফিরে দেখা যাক—‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’

    রাফিনিয়া এখন বার্সার সেই ‘শিশিরবিন্দু’।

    ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে আগে রবি ঠাকুরের লাইনগুলোর সারমর্ম একটু বুঝিয়ে বলতে হয়। কবি বলছেন, প্রচুর অর্থ ও সময় খরচ করে মানুষ দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যায়, কিন্তু ঘরে কিংবা ঘরের কাছে থাকা সুন্দর রূপটি অনেক সময় অদেখাই থেকে যায়।

    এই রাফিনিয়াকে আগে দেখা যায়নি

    এই রাফিনিয়াকে আগে দেখা যায়নি রয়টার্স

    বার্সার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরকার সেই ‘সৌন্দর্য’ অদেখা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চোখ ও মস্তিস্কের রাডারে ব্যাপারটা ধরা পড়েছে। তার আগে অবশ্য ক্যাম্প ন্যুর চৌকাঠের ওপাশে দু–পা ফেলে মাদ্রিদে গিয়ে আলভারেজ নামে আর্জেন্টাইন সৌন্দর্যের সন্ধান করেছেন বার্সার নীতিনির্ধারকেরা। সেখান থেকে ব্যর্থ মনোরথে ঘরে ফিরে বার্সার টিম ম্যানেজমেন্ট যেন হঠাৎ করেই ব্রাজিলিয়ান সেই ‘শিশিরবিন্দু’ আবিষ্কার করে ফেললেন! দরকার ছিল শুধু সেই ‘শিশিরবিন্দু’র অবস্থানটা একটু পাল্টানো। কোচ হান্সি ফ্লিক সেটা করার পর ফলটা মিলছে হাতেনাতে।

    চলতি মৌসুমে ৫ ম্যাচ খেলেছে বার্সা। সবগুলো ম্যাচেই শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামেন রাফিনিয়া। তবে একটু অন্য ভূমিকায়। উইঙ্গার হিসেবে এত দিন খেললেও চলতি মৌসুমে রাফিনিয়াকে দেখা যাচ্ছে মুক্ত ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। তাতে ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ গোল, অ্যাসিস্ট ১টি। কিন্তু এটা তো মাঠের ফল। বার্সার নীতিনির্ধারকদের মনেও একটা প্রভাব পড়ার কথা। আলভারেজকে তাঁরা নিশ্চয়ই ভুলে গেছেন! কিংবা এভাবেও বলা যায়, উইঙ্গার থেকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে রাফিনিয়া বার্সার আলভারেজ–বিরহ ভুলিয়ে ছেড়েছেন।

    বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।

    বার্সার সমর্থকেরা সে জন্য তাঁদের ক্লাবকে একটা ধন্যবাদও জানাতে পারেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপ থেকে বার্সা আলভারেজের পেছনে ছুটতে শুরু করেছিল বলেই তো এই মৌসুমে রাফিনিয়ার ভেতরকার ফরোয়ার্ড–সত্তাটা জেগে উঠল! আর সেই সত্তায় শুধু গোল এবং অ্যাসিস্ট নয়, ফুটছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই ছন্দময় গতি, ড্রিবলিং, স্ট্যামিনা ও ফিনিশিং দক্ষতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোলকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।

    বক্সে দৌড়ের ওপর রাফিনিয়ার পায়ে বল। তাঁকে ঠেকাতে ডাচ ক্লাবটির দুজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে স্লাইডিং ডাইভে সামনে চলে এলেন। তখন রাফিনিয়ার বাঁ পায়ে যেন ফুটবল কবিতার ছন্দ! আলতো স্পর্শে বলটা বাঁ দিকে যখন সরালেন, দুই ডিফেন্ডার তখন তাঁর সামনে দিয়ে স্লাইড করে যেন নেদারল্যান্ডসে চলে গেলেন! তারপর বাঁ পায়ের শটে গোল। জার্সি নম্বর ১১ হলেও কে বলবে এই রাফিনিয়া ৯ নম্বর নয়!

    রাফিনিয়াকে আটকাতে যাওয়া দুই ফেইনুর্ড ডিফেন্ডার স্লাইডে দূরে সরে শুধু গোল হতে দেখলেন

    রাফিনিয়াকে আটকাতে যাওয়া দুই ফেইনুর্ড ডিফেন্ডার স্লাইডে দূরে সরে শুধু গোল হতে দেখলেন রয়টার্স

    বার্সার গোলের সমস্যা সমাধানে রাফিনিয়ার এগিয়ে আসা নতুন কিছু না। ২০২৪-২৫ মৌসুমে করেছিলেন ৩৪টি গোল ও ২৬টি অ্যাসিস্ট; যার মধ্যে লিগে অবদান ছিল ৩০ গোলে (১৮টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। বার্সাও জিতেছিল লা লিগা শিরোপা। আর রাফিনিয়াও উইঙ্গার পজিশন থেকে প্রথাগত ফরোয়ার্ডদের মতো বক্সে ঢুকে কিংবা তার আশপাশ থেকে গোলগুলো করেন এবং করান। সরাসরি সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তখনো খেলা শুরু করেননি।

    পরের মৌসুমে চোটের কারণে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে থাকতে হলেও তাঁর কার্যকারিতা ছিল দেখার মতো। সেবারও ২১ গোল করার পাশাপাশি ৮ অ্যাসিস্ট করে বার্সার লিগ শিরোপা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু বিশ্বকাপেও চোটে পড়ায় হলুদ জার্সিতে সেই রাফিনিয়াকে দেখা যায়নি।

    মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খেলেছেন। গোল পাননি। চোটে পড়েন হাইতি ম্যাচে। সুস্থ হয়ে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও গোল পাননি। ব্রাজিলও হেরে বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে। এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই বার্সার আলভারেজের পিছু ছোটার খবর বেশি করে চাউর হয় সংবাদমাধ্যমে। রাফিনিয়ার কি তখন আঁতে ঘা লেগেছিল? কে জানে!

    বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি রাফিনিয়া।

    বার্সার জার্মান কোচ ফ্লিক কৌশলে দূরদর্শী মানুষ। বিশ্বকাপ শেষে এবারের মৌসুম শুরুর আগে রাফিনিয়ার পজিশন নিয়ে বার্সার অনুশীলনে বেশ কাজ করেন ফ্লিক। উইঙ্গার পজিশন থেকে তাঁকে সরিয়ে এনে মাঠের ভেতরে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। মুক্ত ফরোয়ার্ড হয়ে আক্রমণভাগ চষে বেড়ানোর ভার দেন রাফিনিয়ার কাঁধে। এতে শুধু বার্সার খেলার কৌশল বদলায়নি, আক্রমণভাগ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসানও হয়েছে।

    তবে সন্দেহও ছিল। উইং পজিশনটা সাধারণত বল নিয়ে লম্বা দৌড়ের। সামনে প্রতিপক্ষ পেলে হয় পাস দিয়ে বল ছাড়তে হয় কিংবা ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যেতে হয়। রাফিনিয়া এত দিন সেভাবেই অভ্যস্ত ছিলেন। সেখান থেকে একদম বক্সে কিংবা তার আশপাশে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলার কিছু ঝামেলা ছিল।

    জায়গাটা সংকীর্ণ, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জটলায় খেলার জায়গাও খুব কম মেলে। বার্সার খেলার ধাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে ওই পজিশনে সফল হতে হলে পায়ের কারুকাজ থাকা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে ফিনিশ করার সহজাত ক্ষমতাও লাগে। প্রশ্ন ছিল, রাফিনিয়া কি ওই পজিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন?

    ২০২৬–২৭ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল করে রাফিনিয়া এখন উড়ছেন

    ২০২৬–২৭ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল করে রাফিনিয়া এখন উড়ছেন রয়টার্স

    উত্তর মিলছে মাঠেই। কতটা মানিয়ে নিয়েছেন এ মৌসুমে গোল–পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। আর গোল করার বাইরে সতীর্থদের নিয়ে যেভাবে খেলে যাচ্ছেন, তা হয়তো আরও বড় প্রমাণ। বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।

    সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার, রাফিনিয়ার খেলা দেখে মনে হচ্ছে এটাই তাঁর চিরাচরিত পজিশন। বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি।

    আরও মজার বিষয়, ২০২২ সালে বার্সায় যোগ দেওয়ার সময় রাফিনিয়া কিন্তু বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার ছিলেন না। ডান প্রান্তের উইঙ্গার হয়ে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দেম্বেলে ও তারপর ইয়ামালের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সরে যান বাঁয়ে। ক্লাবের প্রয়োজনেই সেই রাফিনিয়া এখন ফরোয়ার্ড—ফোঁটা ফোঁটা শিশিরবিন্দুর মতো তাঁর একেকটি গোলে ব্রাজিলিয়ানের সবচেয়ে সুন্দর রূপটি কি দেখছে বার্সা?

    উত্তর আপনার কাছে।

  • ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    ৫–০ গোলের জয়েও সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ

    দল জিতেছে ৫-০ গোলে। মৌসুমের শুরুটা হয়েছে চার ম্যাচে চার জয়ে। পয়েন্ট টেবিলেও অবস্থান শীর্ষে। কিন্তু এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তাঁর চোখে, এই বার্সেলোনার আরও ভালো করার জায়গা আছে।

    রোববার রাতে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামাল করেছেন জোড়া গোল, গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া, ফেরমিন লোপেজ আর পেদ্রিও। এই জয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে বার্সার মৌসুমটাই শুরু হলো শিরোপার বড় দাবিদার হিসেবে। আগের দিন রিয়াল বেতিসের কাছে হেরে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ আছে পয়েন্ট তালিকার তিনে, মাঝে দুইয়ে আলাভেস।

    ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফ্লিকের মুখে শুধু প্রশংসাই ছিল না; বরং ৫-০ গোলের জয়ের পরও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিখুঁত বলে কিছু নেই, ‘আজ আমরা দারুণ খেলেছি, প্রায় নিখুঁতই বলা যায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল, আমরা আধিপত্য দেখিয়েছি। আমি এটাই চাই। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জায়গা খুঁজে নেওয়া। আমরা সেটা করতে পেরেছি।’

    এরপরই সতর্ক করেছেন, ‘কিন্তু কিছুই নিখুঁত নয়। সব সময়ই উন্নতির জায়গা থাকে। আমরা আরও ভালো করতে পারি।’

    ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছে বার্সেলোনা

    ভ্যালেন্সিয়ার জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছে বার্সেলোনা এএফপি

    শুধু জয় নয়, বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারও চোখে পড়ছে শুরু থেকেই। চার ম্যাচের তিনটিতেই ৫ গোল করেছে বার্সা। সব মিলিয়ে ১৭ গোল হয়ে গেছে এরই মধ্যে। রাফিনিয়া স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলে করেছেন ৬ গোল। ফেরমিন ও ইয়ামালের গোল ৪টি করে।

    এমন গোল-উৎসবের মধ্যেই অবশ্য বার্সেলোনার একজন প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ দরকার কি না, সে আলোচনাও চলছে। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিল বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে এনেছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই বদলি হিসেবে অভিষেক হয়েছে তাঁর।

    তবে জেসুসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বার্সেলোনা এভাবে গোল করতে থাকলে। ফ্লিক অবশ্য একজন স্ট্রাইকার এখনো দরকার মনে করছেন, ‘আমাদের একজন প্রকৃত নাম্বার নাইন দরকার, এটা পরিষ্কার। তবে আক্রমণভাগে আমাদের অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। মাঝমাঠেও আছে, যারা গোল করতে পারে।’

    বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক

    বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এএফপি

    ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচ দিয়ে বার্সার প্রথম একাদশে অভিষেক হয়েছে রদ্রির। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা এই মিডফিল্ডার এক ঘণ্টা মাঠে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮১টি সফল পাস ছিল তাঁর। রদ্রির প্রশংসায় ফ্লিক বলেছেন, ‘রদ্রি আমাদের দলে আছে, এটা নিয়ে আমরা খুবই খুশি। বল পায়ে সে যা করে, মাঠে যেভাবে খেলে, সবকিছুতেই যুক্তি আছে। বল আমাদের দখলে থাকলে সে দলের কাঠামো ঠিক রাখে, আবার বল ছাড়া সময়েও সাহায্য করে।’

    লা লিগায় বার্সেলোনার পরের ম্যাচ ১৩ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্লিকের দল খেলবে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে।

  • মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

    জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।

    ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

    এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’

    স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’

  • বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    বার্সার পাঁচ গোলে ইয়ামালের দুই

    শুরু এবং শেষ—দুই দৃশ্যেই একজন: লামিনে ইয়ামাল। গোল করেছেন দুটি, শানিয়েছেন একের পর এক আক্রমণ। তাতেই লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়া নিজেদের মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়ায় ৫–০ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার কাছে।

    এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আরও একধাপ শক্ত অবস্থান নিল বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে এখনো কোনো জয় না পাওয়া ভ্যালেন্সিয়া আছে ২০ নম্বরে।

    প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতেই ইয়ামাল-ঝড়; ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বার্সাকে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ফেরমিন লোপেসের দারুণ পাস থেকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান ইয়ামাল। এর দুই মিনিট পর আবারও লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এবারও বলের যোগানদাতা লোপেস, দারুণ শটে মুহূর্তেই জাল কাঁপান ইয়ামাল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

    গোল করেছেন, আবার গোল বানিয়েও দিয়েছেন লোপেস। এমন উচ্ছ্বাস তাকেই তো মানায়

    গোল করেছেন, আবার গোল বানিয়েও দিয়েছেন লোপেস। এমন উচ্ছ্বাস তাকেই তো মানায় এএফপি

    তবু দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সাকে। ২২ মিনিটে প্রথম গোলের জোগানদাতা লোপেস নিজেই স্কোরবোর্ডে নাম লেখান। ভ্যালেন্সিয়ার এলোমেলো রক্ষণের সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান এই তরুণ মিডফিল্ডার। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি লা লিগায় এটি লোপেসের চতুর্থ গোল। ২০১১-১২ মৌসুমে সেস্ক ফাব্রেগাসের পর লোপেসই প্রথম কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড়, যিনি লিগে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে অন্তত চারটি গোল করলেন।

    ২৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়াকে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বাঁচান স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি। ইয়ামালের বাঁকানো শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক।

    ৩৯ মিনিটে আরেকটা বড় সুযোগ পায় বার্সা। আবারও লোপেসের সঙ্গে ইয়ামালের চমৎকার বোঝাপড়া। ইয়ামালের দৌড়ের পথেই বক্সের ভেতর পাস বাড়িয়ে দেন লোপেস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে নিচু শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু বলটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    ২–০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সা। দ্বিতীয় পর্বেও আক্রমণের একই রূপ। তৃতীয় গোলটাও তারা পেয়ে যায় দ্রুত। লোপেসের বাড়ানো বল আলতো টোকায় জালে জড়ান রাফিনিয়া।

    এই গোলে বার্সেলোনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি তথ্য মনে করিয়ে দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০১২–১৩ ও ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিগে বার্সার প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। একুশ শতকে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় নিজ দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি গোলে (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) সরাসরি অবদান রাখলেন রাফিনিয়া।

    তিন গোল করেও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সার। ৭৯ মিনিটে চার নম্বর গোলটি পায় কাতালানরা। দানি ওলমোর বাড়ানো বল চমৎকার শটে নিশানাভেদ করেন পেদ্রি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়ামাল (৫–০)।

  • রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির পাশে স্থান করে নিলেন ব্রাজিলের তারকা রাফিনিয়া।

    শনিবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের ক্রস থেকে জালে বল জড়ান বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোল হলো ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে রাফিনিয়া পেছনে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ শেষে পাঁচটি করে গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনারই সাবেক তারকা লিওনেল মেসির পাশে। ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি গোলের কীর্তি আছে মেসির। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি করে গোল করেছিলেন মেসি।

    রাফিনিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে আরও রেকর্ডে নাম লেখানোর। বার্সার হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আছে দুইজন ফুটবলারের। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ (৮ গোল) আর ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন।