জাতীয়

  • দীর্ঘদিন পর চালু হলো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ

    দীর্ঘদিন পর চালু হলো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    দেশের ১০টি জেলায় একযোগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধনের অংশ হিসেবে রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    সকাল ১০টায় সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি চুয়াডাঙ্গাসহ ১০টি জেলার আইসিইউ উদ্বোধন করেন। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের সপ্তম তলায় স্থাপিত আইসিইউ ইউনিট পরিদর্শন করেন অতিথিরা।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আইসিইউ চালু হওয়া জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।

    সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্বোধনের পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে খুব শিগগিরই আইসিইউর কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এ ইউনিট পরিচালনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।

    এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, আরএমও ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, ডা. এহসানুল হক তন্ময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    দীর্ঘদিন পর আইসিইউ চালুর ফলে চুয়াডাঙ্গার সংকটাপন্ন রোগীরা স্থানীয়ভাবেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় দোস্ত এইডের উদ্যোগে ৫০ পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গায় দোস্ত এইডের উদ্যোগে ৫০ পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রিতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় ৫০টি পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ করেছে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রবিবার (১৪ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়।

    টিউবওয়েল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।”

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকন্দবাড়িয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো. খায়রুল বাশার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ হোসাইন আহমেদ।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. রমজান আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    টাকার সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি আবার চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, নগদ টাকার চাহিদা বেশি তৈরি হয়েছে। টাকা জমা নেই বললেই চলে, সবাই টাকা তুলতে চাইছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাখা বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসে।

    ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন চলছে।

    জাতীয় সংসদেও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক।

    আজও অবস্থান কর্মসূচি

    আজ সকালে চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে একদল গ্রাহক। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

    শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ আছে, এতে সহায়তা করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংক পরিচালনা করছেন। এখন ইসলামী ব্যাংকের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি, নামে–বেনামে যার বড় অংশ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।

  • মেট্রোরেলের লাইনে ঢুকে পড়লো বিড়াল, সাময়িক বন্ধ হলো ট্রেন চলাচল

    মেট্রোরেলের লাইনে ঢুকে পড়লো বিড়াল, সাময়িক বন্ধ হলো ট্রেন চলাচল

    মেট্রোরেলের লাইনে এবার ঢুকে পড়েছে একটি বিড়াল। ফলে সাময়িক ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিড়াল উদ্ধারের পর ফের চালু হয় মেট্রোরেল। রাজধানীর শাহবাগে মেট্রোরেল স্টেশনে শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনে যেকোনো প্রাণীর উপস্থিতি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিলো।

    এরআগে, বিভিন্ন সময়ে মেট্রোরেলের লাইনে বৈদ্যুতিক তার পড়া, ফানুস পড়া, ককটেল পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রেন।

  • নারায়ণগঞ্জে  লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো. রাশেদুজ্জামান (২২), মো. গালিব (১৮) ও মোসা. সুরাইয়া (১২)। পরে ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহই উদ্ধার করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব এবং শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ সুরাইয়ার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার। পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন। অপরদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে নতুন রূপরেখা

    প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে নতুন রূপরেখা

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে এবার প্রযুক্তি খাতের ওপর সবচেয়ে বড় ভরসা রাখছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং টেলিকম খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ বা বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তর করা।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এজন্য ডিজিটাল অবকাঠামো, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও কর-প্রণোদনার ঘোষণা এসেছে এবারের বাজেটে।

    এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আইসিটি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে মূল বাজেটে সরাসরি বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

    ৫জি ও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ : বাজেটে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

    সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যয় কমাতে প্রতিটি সিম কার্ডের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিকম অপারেটরদের রেভিনিউ শেয়ারিং ও লাইসেন্স ফি-সংক্রান্ত উৎস কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

    এআই, রোবোটিক্স ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই বাস্তবতায় সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট সিটি গঠন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এআই, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণাগার স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    ডিজিটাল পরিচয় ও ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে : ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং নিরাপদ আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

    ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে পয়েন্ট অব সেলস (পজ) মেশিনের আমদানিতে শুল্ক ও আগাম কর কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় প্রণোদনা : প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আগামী অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তি। আইটি ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত আয়ের কর অব্যাহতি সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা : সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে। এজন্য ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং এসএসডি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর কর-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বড় ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতির ঘোষণা এসেছে।

    এ ছাড়া গবেষণাকে সরাসরি বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ এবং ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে ট্রান্সমিশন ও টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান ফাইবার@হোম লিমিটেড-এর চিফ টেকনোলজি অফিসার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, করছাড়, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে এবারের বাজেট বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে নেবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দ্রুত বাস্তবায়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার ওপর।

    এই প্রযুক্তিবিদের মতে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে। এসব সুবিধা তরুণদের উদ্যোক্তা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে।

  • বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর

    বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাজেটের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। সম্পদের চেয়ে বাজেটের আকার বড় করা হয়েছে। রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অনেক বেশি। ফলে অর্থবছর শেষে বিশাল আকারে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থাকবে। অন্যদিকে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের। তাই বাড়তি করের জোগান দিতে গিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের জীবনযাত্রায়। আর মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার পথনকশা না থাকায় এনবিআরের পক্ষেও লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরজুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজস্ব বোর্ড উভয়কেই চরম চাপে থাকতে হবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এনবিআরের নীতি বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদাভাবে কাজ করবে। দুর্নীতি কমিয়ে আনা হবে। এক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করা হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব কৌশলই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জিডিপির ৭ শতাংশের নিচে কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প রূপান্তরে অর্থায়ন করতে পারবে না বাজেট এটি স্বীকার করেছে। পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, করভিত্তি সম্প্রসারণ, করছাড় পর্যালোচনা এবং করনীতি ও কর প্রশাসন পৃথক করার প্রস্তাবও দিয়েছে। এগুলো যুক্তিসংগত সংস্কার। সাফল্য নির্ভর করবে নজরদারিযোগ্য সংস্কারসূচক, স্বচ্ছ কর-ব্যয় হিসাব, প্রণোদনার সময়সীমা এবং কর-ছাড়ের সঙ্গে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃঢ় সংযোগের ওপর।

    এরই মধ্যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সেখান থেকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণ করতে হলে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। সিপিডির মতে, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এত বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবে সম্ভব নয়।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর না করে শুধু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে বছরের শেষে আবারও রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে এবং সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

    বাস্তবতা হচ্ছে, অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে এবং পরিস্থিতির শিগগিরই পরিবর্তন হবে এমন লক্ষণও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করে অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে তারা এনবিআরকে রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। দেশে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার পথনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রণে পথনকশা নেই। ফলে এনবিআরের পক্ষে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরের পুরো সময়ই রাজস্ব আহরণে চাপে থাকবে। আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা অসম্ভবই।

    পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তখন সেটি বাস্তবায়নও সম্ভব হয় না। আর যখনই এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা যায় না, তখনই বাজেটের শৃঙ্খলাটা নষ্ট হয়। তখন বাজেটে কোথা থেকে আয় আসবে, কোথায় ব্যয় হবে, এমন অনেক শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়। আমাদের রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থায় ঐতিহাসিকভাবে ব্যর্থতা-দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী একটি উচ্চমাত্রা রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি আমরা অর্জন করতে পারি না।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের মতো এবারও রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবভিত্তিক পথনকশা অনুপস্থিত। ফলে কোনোভাবেই এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

    জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে হবে। ফলে প্রতিদিন এনবিআরকে ১ হাজার ৬৫৪ কাটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। এর মধ্যে আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বেশি। মূল্য সংযোজন কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা বেশি। এতে সব মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে বলে মনে করে বিশ্লেষকরা।

    এ ছাড়া সম্পূরক শুল্ক আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা বেশি। আমদানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বেশি। রপ্তানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ২১ কোটি টাকা বেশি। আবগারি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বেশি। অন্যান্য কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা বেশি।

    রাজস্ব আহরণে তিন খাতেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তদের ওপর চাপটা থাকবে বেশি। তবে এ চাপ এনবিআরের জন্যও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কার ছাড়াই বিপুল রাজস্ব আদায় বরাবরের মতো এবারও চাপে থাকতে হবে এনবিআরকে। এ ছাড়া বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের জন্য যে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন, নীতি সংস্কার এবং অন্যান্য সক্ষমতাÑ অনেক বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

    বাংলাদেশে কর্মরত মার্কিন ব্যবসায়ীদের সংগঠন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) মনে করে, রাজস্ব আহরণের বিষয়ে অ্যামচেম বলেছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ঋণনির্ভরতা কমাতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও কর প্রশাসনের কার্যক্রম পৃথক করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছে অ্যামচেম।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

    দেশের বাজারে আবারো স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৫ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

    শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।

  • রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

    রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

    চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের (৪৫) বাড়ি পাশের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত খালেদ চৌধুরীর সন্তান এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থানকালে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসীর ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

    হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার যুবদল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলি (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দুপুর ১টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    বিক্ষুব্ধ জনতা জানিয়েছেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কবর জিয়ারতের সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৬ জুলাই (২০২৪) চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের স্নাতক চুতর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম শহীদ হন। তিনি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

    ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম। ৫ সন্তানের মধ্যে ওয়াসিম ছিলো দ্বিতীয়।