জাতীয়

  • বেপরোয়াভাবে শুল্ক–কর আদায় করা হতে পারে, অ্যামচেমের বাজেট আলোচনায় বক্তারা

    বেপরোয়াভাবে শুল্ক–কর আদায় করা হতে পারে, অ্যামচেমের বাজেট আলোচনায় বক্তারা

    আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। আবার ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মতও নয়। রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে বেপরোয়াভাবে শুল্ক-কর আদায় করা হতে পারে।

    আজ সোমবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন আলোচকেরা।

    বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। এতে অ্যামচেম সদস্য ছাড়াও অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এটা আদায় করতে গিয়ে বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    ব্যয়ের বিষয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাজেটের ৪১ শতাংশ চলে যাবে বেতন–ভাতা, পেনশন, ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে। আবার উন্নয়ন বরাদ্দের একটা বড় অংশ থোক হিসেবে রাখা হয়েছে। থোক বরাদ্দ খরচে স্বচ্ছতার অভাব থাকে।

    প্যানেল আলোচনায় বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের আকার নিয়ে কথা হচ্ছে। নতুন সরকারের জনগণের প্রতি অনেক প্রতিশ্রুতি আছে। তাই এটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট। কিন্তু অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    আরেক প্যানেল আলোচক ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসা সহজ করার কথা ছিল। তবে তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও মনোযোগ দেওয়ার দরকার। কৃষিতে সেভাবে বরাদ্দ বাড়েনি। তবে বর্তমান সরকার আগের যেকোনো সরকার থেকে আমাদের কথা বেশি শুনেছে।’

    প্যানেল আলোচনায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের (এসসিবি) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় বলেন, কীভাবে রাজস্ব আদায় হবে, সেটি বাজেট কাঠামোতে নেই। ব্যাংকের একটি বড় অংশ দুর্বল অবস্থায় আছে। তারল্যসংকট রয়েছে। তাই ব্যাংকঋণনির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট হতে পারে।

    প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সহসভাপতি মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলা উদ্দিন আহমদ।

    সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রেজা উর রহমান মাহমুদ। তিনি জানান, এবারের বাজেটে অ্যামচেমের ১৮ প্রস্তাবের মধ্যে ৮ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

  • ‘তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়’

    ‘তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়’

    হালের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণিও সবার মতো ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দে মেতে উঠেছেন। প্রিয় দলকে ঘিরে নায়িকার আনন্দ-উল্লাসের যেন কমতি নেই বিন্দুমাত্রও। ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসির একজন ‘ডাইহার্ড ফ্যান’।

    সম্প্রতি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন পরী। সেখানে দেখা যায়, তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা সমস্বরে ‘আর্জেন্টিনা’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। সেই উচ্ছ্বসিত মুহূর্তে সেলফি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তদের উদ্দেশে ‘উড়ন্ত চুমু’ ছুড়ে দেন এই চিত্রনায়িকা। ভিডিওটি অল্প সময়েই নেটদুনিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

    অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রতি পরীর ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

    নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে পরী বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা। আমি আজীবনের আর্জেন্টিনা। আই লাভ মেসি।’

    মেসির খেলা দেখার সময় নিজের আবেগও কখনো লুকাননি এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘মেসির পায়ে যখন বল থাকে, তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়।’

  • কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার জন্মদিন আজ

    কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার জন্মদিন আজ

    বাংলা সিনেমার সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম এক উজ্জ্বল নাম শাবানা। যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। সেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী জন্মদিন আজ ১৫ জুন (সোমবার)। ৭৫-এ পা রাখলেন গুণী এই অভিনেত্রী।

    ১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। পরে নির্মাতা এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর হাত ধরে সিনেমায় অভিনয় শুরু করার সময় তার নাম রাখা হয় ‘শাবানা’। এরপর এই নামেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

    শিশু বয়সেই অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন শাবানা। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর ১৯৬৭ সালে ‘চকোরী’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। আর প্রথম সিনেমাতেই তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন।

    জুটি হিসেবে আলমগীরের সঙ্গেই তিনি ১৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এ ছাড়া রাজ্জাক, ওয়াসিম, উজ্জ্বলের সঙ্গেও অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি নায়ক নাদিমের সঙ্গেও দর্শক তাকে পছন্দ করেছিল।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৩ সালে শাবানা বিয়ে করেছেন পরিচালক ওয়াহিদ সাদিককে। দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের জননী তিনি। অভিনয়জীবনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০০০ সালে হুট করেই সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান শাবানা। শুরুর দিকে নিউইয়র্কে থাকলেও এখন স্বামী, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে নিউ জার্সিতে থাকছেন।

    দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছরের অভিনয়জীবনে শাবানা অভিনয় করেছেন ২৯৯টি সিনেমায়। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হলো- ‘চকোরী’, ‘মধু মিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘চান্দ সুরজ’, ‘একই অঙ্গে এত রূপ’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘চৌধুরী বাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘স্বীকৃতি’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অতিথি’, ‘ঝড়ের পাখি’, ‘জননী’, ‘মাটির ঘর’, ‘সখী তুমি কার’, ‘শেষ উত্তর’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘নাজমা’, ‘ভাত দে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘লালু ভুলু’, ‘মা ও ছেলে’, ‘লাল কাজল’, ‘নালিশ’, ‘ঘরের বউ’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘নতুন পৃথিবী’, ‘হিম্মতওয়ালী’, ‘বাসেরা’, ‘হালচাল’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘অশান্তি’, ‘বিরোধ’ ও ‘স্বামী স্ত্রী’ ইত্যাদি।

  • ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাড়তি খরচ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

    ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাড়তি খরচ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বেড়েছে ৫৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

    ঋণের সুদ, ভর্তুকি, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি খাতেই অর্ধেকের বেশি বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। এসব খরচের জন্য বাড়তি টাকা জোগাড় করতে হয়।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর তাঁর সমাপনী বক্তব্যে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভর্তুকি সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম, পুরোহিত, মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীর মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের জন্য আমরা সম্পূরক বাজেটে ব্যয় এবং ঘাটতি কিছুটা সমন্বয় করেছি।’

    নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব

    চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, মূল বাজেটে যেখানে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত হিসাবে তা কমে দাঁড়াবে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা বা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী জানান, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এর পরিমাণ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    জাতীয় সংসদে আজ নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) আইন, ২০২৬ উপস্থাপন করা হয়। এতে যে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে অর্থ বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বেশি চাওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জন্য বেশি চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১২ হাজার ৪০৮ কোটি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের জন্য ২২ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

    বাড়তি খরচের কারণ কী

    বরাদ্দ বৃদ্ধির যুক্তি দিতে গিয়ে ব্যাখ্যামূলক স্মারকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, অভ্যন্তরীণ দেনার সুদ, শেয়ার মূলধন, ভর্তুকি ও প্রণোদনার জন্য বাড়তি অর্থের দরকার পড়েছে। এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ব্যয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ দিতে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) দুটি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বহির্ভূত চারটি প্রকল্পের জন্য বাড়তি অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

  • রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে শনাক্ত ত্রুটি উদ্বেগজনক নয়, জানাল এনপিসিবিএল

    রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে শনাক্ত ত্রুটি উদ্বেগজনক নয়, জানাল এনপিসিবিএল

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে শনাক্ত হওয়া একটি কারিগরি বিচ্যুতি নিয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।

    সংস্থাটির মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে এ ধরনের ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করা কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক এবং বাধ্যতামূলক অংশ।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরুর আগেই গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি প্রচারিত হলে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছেন এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।

    সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। কিছু মহলের প্রচারিত বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অযথা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, যার সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।’

    ড. জাহেদুল হাসান জানান, কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একাধিক নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ সব পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়া বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ।

    তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডারি সার্কিটে ৮ দশমিক ১ মেগাপাস্কাল (এমপিএ) চাপে পরিচালিত লিক-টাইটনেস টেস্ট একটি বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত পরীক্ষা, যা প্রতিবার কেন্দ্র শাটডাউন অবস্থা থেকে অপারেশনাল অবস্থায় যাওয়ার সময় সম্পন্ন করা হয়। পারমাণবিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্পে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া।’

    তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডের তুলনায় একটি কারিগরি বিচ্যুতি শনাক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের কঠোর নিরাপত্তা সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্রতম বিচ্যুতিকেও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা অনুমোদন দেওয়া হয় না।

    তিনি বলেন, ‘এই বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়াই প্রমাণ করে যে প্রকল্পের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে।’

    বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরমাণুবিজ্ঞানী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি লোডিং বা কমিশনিং পর্যায়ে এ ধরনের ক্ষুদ্র কারিগরি বিষয় শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্ল্যান্ট শাটডাউন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের নয় এবং এটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনেরও কোনো কারণ নেই।’

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রূপপুর প্রকল্পকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, প্রথম প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে রূপপুরে আরও দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য অনেক জ্বালানি উৎসের তুলনায় অধিক সাশ্রয়ী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

  • শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    যশোরের শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।

    গতকাল ১৪ জুন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় মামলা করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯), ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২৪) ও মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)। অপর দুই আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও ইমন (২৪)। তাঁরা পলাতক রয়েছেন।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুন দিবাগত রাতে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় কাউকে না বলতে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

    পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহ-ভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের প্রচেষ্টা চলছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে একটি সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    এ সময় তিনি গ্রাহকদের কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে, সমস্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

    ‘পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    গত রোববার (১৪ জুন) ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর বিধান অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারী এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরো ঘোষণা করেছে যে, ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বোর্ডের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি পৃথক পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ অনুমোদন করেছে যা প্রতিষ্ঠানটিকে চলমান তারল্য সঙ্কট মোকাবেলা করতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

  • কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

    কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

    পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ছয়টি মামলার অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে আসে।

    দুদক জানায়, বেনজীর বিদেশেও পাচার করেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। গতকাল রোববার তিনি দুদকের মামলাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।
    দুদক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর, তাঁর স্ত্রী জীসান মির্জা, মেয়ে ফারহিন রিশতা বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা করে। তাদের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও রয়েছে।

    ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর আরও একটি মামলা করা হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে সম্পদের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এই মামলায় তাঁকে বিদেশে গ্রেপ্তার করিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল দুদক।

    পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলা

    অপরাধমূলক অসদাচরণ ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর মামলা করে দুদক। বেনজীর আহমেদ ঢাকায় পুলিশ কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পুলিশের ডিআইজির মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদনপত্রের ‘প্রফেশন’ অংশে সরকারি চাকরিজীবী ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেছিলেন। সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্টের (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) জন্য আবেদন করেছিলেন।

    সম্পদের বাজারমূল্য

    বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে সব ধরনের স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন মৌজামূল্যে, অর্থাৎ সরকারি মূল্যে। স্থানীয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে জবরদস্তিমূলক অনেক জমির মালিক হয়েছেন। বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদকের ছয় মামলায় ৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা।

    এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদরের টুঠামান্দ্রা মৌজায় ৬০০ একর জমিতে বিশাল রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক হাজার কোটি টাকা। এই রিসোর্টে ২০ একর জমিতে একটি পুকুরসহ মোট ২৮টি পুকুর রয়েছে। চারটি ডুপ্লেক্সসহ মোট ১২টি কটেজ, একটি সুইমিংপুল, শিশু পার্ক, দেশি-বিদেশি ফলের বাগান আছে। রিসোর্টটি করা হয় ২০১৬ সাল থেকে। আদালতের আদেশে এটি ক্রোক করা হয়। বর্তমানে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এই রিসোর্টটির রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে তাঁর দুটি আলিশান বাংলো।

    ঢাকার গুলশানে ৪ ফ্ল্যাট

    রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের র‍্যাংকন টাওয়ারে বেনজীরের চারটি ফ্ল্যাট দুদকের জিম্মায় রয়েছে। চার হাজার ৫৯৫ বর্গফুট করে মোট ৯ হাজার ১৯০ বর্গফুটের ডুপ্লেক্স দুটি ফ্লোরে পাঁচটি বেডরুম আছে। একটি রুম থেকে আরেকটি রুমের দূরত্ব ২৫-৩০ বর্গফুট। ১৯ কাঠা ১২ ছটাক জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে র‍্যাংকন আইকন টাওয়ার নামের ভবনটি।

    প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য চার-পাঁচ কোটি টাকা। সে ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে ফ্ল্যাটগুলো ক্রয় করেছেন অর্ধকোটির কিছু বেশি টাকায়। ভবনটির ১৩ তলায় দুটি বেডরুম, একটি কিচেন রুম, একটি ডাইনিং রুম ও নিজস্ব অফিস কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ১৪ তলায় তিনটি বেডরুম, বাকি স্থান উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দামি খাট, কাঠের ওয়াল কেবিনেটে সাজানো হয়েছে কক্ষগুলো।

  • অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাবেক আইজি বেনজীর: চিফ প্রসিকিউটর

    অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাবেক আইজি বেনজীর: চিফ প্রসিকিউটর

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া অবৈধ তিন নির্বাচনের অন্যতম কারিগর ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আজ সোমবার নিজ কার্যালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু মতিঝিলের শাপলা চত্বরকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড নন, তিনি একসময় সরকার চালাতেন। কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি প্রভাবশালী ছিলেন। এর কারণে হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই, যেটা তিনি নিজের কর্মজীবনে করেননি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে তাদেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার এসব কুকীর্তি প্রকাশ পায়। গণমাধ্যমে বেনজীরের সবকিছু দেখেছিল এ জাতি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে তখনই মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে আমাদের ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে যখন র‌্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের ঘটনায় হওয়া একটি মামলার বিচার চলছে। তিনি শাপলা চত্বরের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হওয়া প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। অবৈধ নির্বাচন করার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এ দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে হাজারও মানুষকে বিনাবিচারে হত্যাসহ অসংখ্য দায় রয়েছে তার। অতএব তার বিচারের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ নজর দেব।

  • ১ জুলাই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাতিল হবে ‘বিশেষ সুবিধা’

    ১ জুলাই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাতিল হবে ‘বিশেষ সুবিধা’

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাতিল হতে পারে। কারণ ওই সময় থেকে নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। বেতন কাঠামোয় এ ধরনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাহার করা হবে।

    বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা।

    সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না এবং তা বাতিল করা হবে।