জাতীয়

  • সন্তান সংখ্যা বিবেচনায় মাতৃত্বকালীন ছুটি কমানোর বিধান স্থগিত চেয়ে রিট

    সন্তান সংখ্যা বিবেচনায় মাতৃত্বকালীন ছুটি কমানোর বিধান স্থগিত চেয়ে রিট

    দুটির বেশি সন্তান হলে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত বা অস্বীকার করার বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই রিট দায়ের করেন। রিটে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) প্রাসঙ্গিক বিধান চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

    রিট আবেদনে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো বিশেষ সুবিধা বা সন্তান জন্মদানে উৎসাহ প্রদানের উপকরণ নয়; বরং এটি একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, প্রসব-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, নবজাতকের পরিচর্যা এবং ব্রেষ্ট ফিডিং নিশ্চিত করার জন্য একটি অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

    রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন নারী প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান জন্মদান করুন না কেন, প্রসবজনিত শারীরিক ঝুঁকি, চিকিৎসা প্রয়োজন, বিশ্রাম এবং নবজাতকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা একই থাকে। ফলে শুধুমাত্র সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    রিটে দাবি করা হয়েছে যে, এ ধরনের বিধান সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়া এটি মাতৃত্ব ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

    রিটে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদের (সিইডিএডব্লিউ) সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মাতৃত্ব সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার অধীন।

    রিটে নারীদের জন্য সন্তানের সংখ্যা নির্বিশেষে বৈষম্যহীন ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা করার আবেদন করা হয়।

    পরে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো উপকরণ নয়। এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। একজন মা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেও তার স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার প্রয়োজন কমে যায় না।’

  • মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

    মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

    রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘোরার বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    সোমবার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কতৃপক্ষ আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে হাসপাতালে নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, এ কথা সত্য নয়, আমরা কেন টাকা নিয়ে ঘুরবো। আমাদের টাকা নিয়ে ঘুরার কোনো প্রশ্নই উঠে না। তার পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরেছি এটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় টাকার প্রতি কোনো লোভ হয় নাই আমার। আমাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, পূর্ণ সমর্থন দেবো। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।

    হাইকোর্টে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এক আইনজীবীর করা রিটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবে জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।

    শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঠিক কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও সুস্পষ্ট করা হয়নি কী কারণে মারা গেছে। যেসব শিশু মারা গেছে তাদের ময়নাতদন্তও হয়নি।

    শেখ মহিউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে তা সংস্কার শুরু হয়েছে। হাসপাতালের জন্য অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনো অক্সাইড যন্ত্র কেনা হয়েছে। আমরা বের করার চেষ্টা করছি যে। শিশু ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে, সেটিও ঠিক করতে চাবি চাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এক সপ্তাহেই সংস্কার করা যাবে।

  • মহাখালী থেকে বাস ডিপো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

    মহাখালী থেকে বাস ডিপো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

    যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপো অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে তৃতীয় সভা শেষে এসব তথ্য জানান তিনি।

    হাদিউজ্জামান বলেন, যানজট নিরসনে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেটি নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

    আগামী সাত দিনের মধ্যে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে।

    একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে।

    তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের উচ্ছেদ না করে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও না রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর যাতে বাস দাঁড়িয়ে না থাকে, সেজন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

  • আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার দলে স্বস্তির খবর

    ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে দলের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর—চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

    কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে কানসাসের কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে সোমবার অনুশীলন করে আর্জেন্টিনা। সেখানে পারেদেস নিজের ফিটনেস যাচাই করতে একটি অনুশীলন ম্যাচেও অংশ নেন, যা তার সম্পূর্ণ ফেরা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

    গত মাসে তিনি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন এবং তখন থেকেই পুনর্বাসনে ছিলেন।

    অন্যদিকে নিকোলাস তালিয়াফিকো হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে আলাদা অনুশীলন করছিলেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, তিনি এখন জিম ও ফিজিও সেশনের মাধ্যমে উন্নতি করছেন এবং তার অগ্রগতি সন্তোষজনক।

    তবে তালিয়াফিকোর ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষার পর। এরপরই কোচ স্কালোনি তাকে দলে রাখবেন কি না তা নির্ধারণ করবেন।

    এদিকে ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের ইনজুরি আপডেটও আজ প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যেই গোড়ালির চোট কাটিয়ে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরেছেন।

    বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চোট পাওয়া খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

  • গাংনী শহরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, দেড় ঘণ্টায় ১৪ জন আহত

    গাংনী শহরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, দেড় ঘণ্টায় ১৪ জন আহত

    মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরে একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

    গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট এলাকা থেকে শুরু হওয়া কুকুরটির তাণ্ডব বাসস্ট্যান্ড, আমিন মিষ্টির গলি ও রাজলক্ষ্মী থানা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

    এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি হঠাৎ উন্মত্ত আচরণ শুরু করে পথচারীদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। যে-ই সামনে পড়েছে, তাকেই ধাওয়া করে কামড়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে শহরের একাধিক স্থানে অন্তত ১৪ জন আহত হন। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও বাসাবাড়িতে ছুটে যান।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা কলেজ পাড়ার নুহু (৯), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ (৬৩), গাংনী উত্তরপাড়ার মাহাবুর রহমান (১২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিয়া আক্তার (১২), চৌগাছা গ্রামের হাজি আব্দুল মান্নান (৭০), পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া (১৬), হারদি গ্রামের কাদব আলী (৫৬), গাংনী বাজারপাড়ার মুকুল মিয়া (৪৫), গাংনী বাগানপাড়ার হাবিবুর রহমান (২২), ধানখোলা গ্রামের রফিক (৫৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রহমান (৬০) এবং পূর্ব মালসাদহ গ্রামের হযরত আলী (৫০)সহ আরও কয়েকজন।

    আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরে ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই বেড়ে চলেছে। তবে এ ধরনের ভয়াবহ হামলার ঘটনা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    এ বিষয়ে সচেতন মহল ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

  • চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি 

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি 

    প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।

    আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর চারটার দিকে দর্শনা-গেঁদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ১১ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী।

    ভোরে বিজিবির টহলদল এদেরকে নিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে রেখে আসে। পরবর্তীতে তারা কোথায় আছে তা জানা যায়নি।

    বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, পুশইনসহ সীমান্তের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিজিবির টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের অধীনে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলাজুড়ে ১১৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে।

  • গণমাধ্যমকে নিখুঁত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন

    গণমাধ্যমকে নিখুঁত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। সে কারণে এটিকে অবশ্যই নিখুঁত হতে হবে। কিন্তু গণমাধ্যমকে নিখুঁত করে গড়ে তোলার দায়িত্বও গণমাধ্যমকেই পালন করতে হবে। এজন্য সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যতেও একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা যাবে না। সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)’ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ১৬ জুন বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে, যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদারের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।

    তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে, গণমাধ্যমকে নিখুঁতভাবে করে গড়ে তোলার এ-সংক্রান্ত যত উদ্যোগ, তা সব সময় কিছুটা ছিল আংশিক। যেহেতু এটি কখনোই পূর্ণাঙ্গতা পায়নি এবং সে কারণেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পারিনি। অবশ্যই বিগত দিনের সব সরকারের এ দায়-দায়িত্ব বহন করা উচিত।

    এজন্য সব পক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কারণ আমরা যদি শুরুতেই আমাদের লক্ষ্যের ব্যাপারে ঐকমত্য তৈরি করতে না পারি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে যদি একই মঞ্চে দাঁড় করতে না পারি, তাহলে এই কঠিন কাজটা অতীতে যে কারণে হয়নি, এবারেও কিন্তু সে কারণে আবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।

    গণতন্ত্রকে কাঠামোবদ্ধ না করা পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারব না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে যে সমস্যাটি প্রধানত কারণ হিসেবে কাজ করেছে তাহলে- আমরা ভিন্নমত সম্মিলিতভাবে চর্চা করার জন্য যে সংস্কৃতি এবং তাকে কাঠামোবদ্ধ করার যে কাজ- সেটিকে কখনোই আমরা প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারিনি। আমি খুবই আশাবাদী এবারে আপনাদের এই (সেমিনারে দেওয়া) বক্তব্য এবং ইতোমধ্যে অন্য যার যার সঙ্গে আমি কথা বলেছি তাদেরও যে লক্ষ্য এবং কনক্লুশন আমি তার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের যে একটা সম্মিলিত অবস্থান- আমরা যদি সেটাকে একবার দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি এবং সেখানে যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটা কমিশন দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি তাহলেই কিন্তু সব সমস্যার সমাধানের একটা আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে তা আমরা করতে পারব।

    সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে একনায়কতন্ত্র বাকশালের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে ফ্যাসিবাদের ইতিহাস, সংবাদপত্র দলনের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা এটা দেখে এসেছি এবং আজকের যে বিষয়ে সেমিনার, সেই সংবাদত্রের কালো দিবস হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন। তাই, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মানুষের অধিকার ছিন্ন করবার ইতিহাসটা স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকেই চলছে। আজকের মূল প্রবন্ধে আমাদের বক্তব্য মোটামুটি দেওয়া হয়ে গেছে।

    শেখ রেহানার কন্যা ও ইংল্যান্ডের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সম্পর্কে একটি মন্তব্য করায় ২০১৭ সালে নিজের নামে ৩৫টি মামলা হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো একটি প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম- সংবাদপত্র বা মিডিয়ার প্রতি অসহিষ্ণুতা শেখ পরিবারের জিনের মধ্যে আছে। কারণ-শেখ সাহেব সরকারপত্র ধ্বংস করেছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা সংবাদপত্র নিয়ে কি করেছে, সবাই জানেন এবং টিউলিপও লন্ডনের একটি পত্রিকার সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। সেই প্রসঙ্গেই আমি বলেছিলাম যে শেখ পরিবারে জিনের সমস্যা আছে, তারা মুক্ত গণমাধ্যম সহ্য করতে পারে না। এটা বলার কারণে আগের ১০০ টির সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে ৩৫ টি নতুন মামলা হয়েছিল। এই ধরনের একটা মামলায় হাজিরা দিতে গিয়েই কুষ্টিয়াতে আক্রান্ত হয়েছিলাম।

    এই সেমিনার আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, আমরা এই ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। আর এই পরিবর্তন চাইতে গেলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমরা মিডিয়াকে কোটারিমুক্ত করে এটাকে জাতীয় চরিত্র দিতে চাই। এজন্য আমাদের সংগঠনের নাম ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল দিয়েছি এবং এতে প্রথমবারের মত ঢাকার বাইরের সম্পাদকরাও আছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা চাই। অর্থাৎ আমার মতটা যাতে আমি প্রকাশ করতে পারি। আপনার যদি আমার মত পছন্দ না হয়, তাহলে আপনি লিখে আমার মতের প্রতিবাদ করবেন। তবে আমার কণ্ঠরোধ করবেন না। এটাই আমাদের চাওয়া। এটাই মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা করতে হলে আমাদের অন্তত এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তিনি বলেন, সম সম্পাদকীয় নীতি এক হবে না। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সহ কিছু মৌলিক ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। ফ্যাসিবাদী আমলে এই জিনিসটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যেমন-সে সময় প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল-বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমকে। অথচ শপথ ভঙ্গের কারণে তার ইমপিচমেন্ট হওয়া উচিত ছিল। শেখ হাসিনা সরকার মিডিয়াকে কিভাবে দেখতেন, তিনি বা তার সরকার দেখতো সেটা আমরা এই নিয়োগ থেকে আমরা বুঝতে পারি।

    এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকারের নিয়োগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিয়োগগুলো মেসেজ দেয় যে সরকার আসলে কি বলতে চাচ্ছে, কি করতে চাচ্ছে। এই কারণেই নিয়োগের ব্যাপারে তারা যেন সতর্ক থাকে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা আত্মশুদ্ধি করে আমাদের ঐক্যে আসতে চাইলে আপত্তি নেই। তবে যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বা গণহত্যাকে জায়েজ করেছেন, তাদের এই ঐক্যের মধ্যে নেয়ার সুযোগ নেই। তাদের ক্রিমিনাল আইনে বিচার হতে হবে। আমরা আশাকরি, শেখ হাসিনা মিডিয়ার যে স্বাধীনতা ধ্বংস করেছিল, ড. ইউনূস সরকারের সময় সেটার অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করেছেন, বর্তমান সরকারও সেটা অব্যাহত রাখবে।

    সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন- নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বিএফইউজে সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক সৈয়দ মেছবাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, পিআইবি চেয়ারম্যান ফারুক ওয়াসিফ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি রাশেদুল ইসলাম এবং নিউ টাইমস সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

    এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

  • নড়াইলের কালিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর, আহত ১২

    নড়াইলের কালিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর, আহত ১২

    নড়াইল প্রতিনিধি

    জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্ততপক্ষে সাতটি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১২জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    রোববার (১৪ জুন) সকালে এবং শনিবার বিকেলে দুই দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের সাইফুল ফরাজী ও রুহুল ফরাজীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রতিপক্ষের হামলায় হায়দার, সোহাগসহ অন্তত সাতটি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। রুহুল ফরাজির লোকজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় টিন ও সিমেন্টের চালা, বেড়া, চেয়ার, ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের ক্ষতি হয়েছে।

    এছাড়া শনিবার বিকেলে প্রতিপক্ষের হামলায় সাইফুল ফরাজী গ্রুপের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এদিকে, প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সাইফুল ফরাজীর গ্রুপের পুরুষরা বাড়িঘর ছেড়ে আশেপাশের গ্রামে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বাড়িতে ফিরতে চান এবং এ ঘটনার বিচার চান।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের রুহুল ফরাজী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপরই হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের গ্রুপের পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নড়াইলের সাতবাড়িয়া গ্রামের সাইফুল ফরাজী ও রুহুল ফরাজীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • ৬৪ জেলা ও ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলায় শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’

    ৬৪ জেলা ও ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলায় শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’

    আগামী ১৮ জুন ২০২৬ থেকে সারা দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’র উদ্বোধনী কার্যক্রম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    রোববার (১৪ জুন) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব কানিজ মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ ঐতিহাসিক ঘোষণাকে সফল ও সার্থক করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসমূহ সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য চলতি অর্থ বছরের বাজেট হতে দেশের প্রতিটি জেলা ও নির্দিষ্ট উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর বাংলা সাহিত্যে ও জাতীয় জীবনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান ও দর্শনকে যথাযথভাবে ও মর্যাদার সাথে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে নজরুলের চেতনা সবসময় আমাদের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছে।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম ও দর্শন প্রসারে অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কবি নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।

    সংবাদ সম্মেলনে ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭) উদযাপনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গৃহীত মূল কর্মপরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরা হয়-

    ১. জাতীয় কমিটি গঠন: জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে নজরুল বর্ষ পালনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

    ২. লোগো ও পোস্টার প্রকাশ: নজরুল বর্ষের স্মারক হিসেবে একটি অনন্য ও দৃষ্টিনন্দন অফিসিয়াল লোগো এবং পোস্টার তৈরি করা হচ্ছে।

    ৩. বিশেষ ক্যালেন্ডার ও ডাকটিকিট: বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘নজরুল বর্ষ ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে ‘স্মারক ডাকটিকিট’ প্রকাশ করা হবে।

    ৪. গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ: নজরুল বর্ষ উদযাপন শুধু উৎসব-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কবির সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সঙ্গীত নিয়ে উচ্চতর গবেষণা ও আর্কাইভ সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

    ৫. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি ও দর্শনকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক জীবনদর্শন আজকের বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের আপামর জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সম্মানিত সাংবাদিক ভাই-বোনদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

  • দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীরের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট

    দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীরের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট

    দুবাইয়ে গ্রেফতার পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

    রোববার (১৪ জুন) দুবাইয়ের একটি সূত্র জানায় বাংলাদেশ ছাড়াও তার কাছে পর্তুগালের পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়া তার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসের অনুমতিপত্র আছে।

    এর আগে, দুদকের একটি মামলায় দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার হওয়ার কথা জানান বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।

    দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে সরকার। দুবাইয়ের একটি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুবাইতে এলে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    এর আগে, রোববার সকালে বিশ্বস্ত সূত্রে সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে বিভিন্ন গণমাধ্যম। এ খবর জানার পর পুলিশ সদর দপ্তরের দুইজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন ডিআইজি ও একজন এআইজির কাছে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা প্রত্যেকে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে বা নাম প্রকাশে রাজি হননি কেউ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ১২ জুন দুবাই ইন্টারপোল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে একটা চিঠি এসেছে। ওই চিঠিতে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার কথা জানানো হয়।

    অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তার ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।