জাতীয়

  • ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো এই তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে আট দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসে ৩৩ দশমিক ২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করেছিল ৩৬ দশমিক ২২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

    ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৬১৪ দশমিক ৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। এই সময়ে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ছয় দশমিক ৯৫ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

  • হরমুজ খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে তেলের বাজার: আইইএ

    হরমুজ খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে তেলের বাজার: আইইএ

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালে উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্তে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    আইইএর সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের তেল সরবরাহ সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে। সংকটের সময় প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

    প্রতিবেদনে আইইএ উল্লেখ করেছে, সমঝোতা কার্যকর থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি পুনরায় শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে মে মাসে দৈনিক ৯৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসা তেল প্রবাহ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

    তবে আইইএ সতর্ক করে বলেছে, তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। কারণ প্রধান নৌপথগুলো থেকে মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

    সংস্থাটির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

  • বেনজীরকে কি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যাবে?

    বেনজীরকে কি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যাবে?

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি না থাকায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর থেকে তাকে কী প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হবে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাকে ওই দেশের আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন বলেও জানা গেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজের সাবেক অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং দ্য অ্যারাবিয়ান পোস্টের এক্সিকিউটিভ এডিটর সাইফুর রহমান বিবিসিকে জানান, দেশটিতে সরকারি ছুটি শেষে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। সেক্ষেত্রে এখন যদি বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয় তাহলে তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন।

    তিনি বলেন, সম্ভবত তার আইনজীবীরা আদালতে মুভ করবেন, তার জামিনের জন্য। হয়তো ট্রাভেল ব্যান বা এই জাতীয় যদি কিছু থেকে থাকে, হয়তো দেশেই রাখবে। বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী মুভমেন্টের ওপরে ওনার ভাগ্যটা নির্ধারিত হবে।

    আদালতের প্রক্রিয়া শুরু হলে পাবলিক প্রসিকিউশন থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা যাবে বলেও জানান তিনি। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিবিসি হাতে পায়নি।

    সাইফুর রহমান বিবিসিকে বলেন, দুবাই বিমানবন্দর থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেটি সঠিক নয়, তাকে দুবাই মল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদ দুবাইতেই ছিলেন ও সেখানকার রেসিডেন্ট বলেও জানান তিনি।

    সাইফুর রহমান জানান, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন বলেও তথ্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সাইফুর রহমান বলেন, দুবাইয়ের গোল্ড কার্ড যেটা দশ বছর মেয়াদী, বিনিয়োগকারীদের এই গোল্ড কার্ড দেওয়া হয়। শর্ত পূরণ করলে যে কোনো বিদেশি নাগরিককে ১০ বছর মেয়াদে গোল্ড কার্ড দেওয়া হতে পারে।

    তবে বাংলাদেশের সাবেক এই পুলিশপ্রধানকে কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, বা তাকে নিয়ে অন্যান্য বিষয়ে এখনো দুবাই পুলিশ কোনো বক্তব্য দেয়নি বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ বা ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইনি পেশায় রয়েছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন।

    তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বাংলাদেশের সাথে ইউএই এর প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি তাদের আইন, আদালত, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যথাযথ নথিপত্রের ওপরই মূলত নির্ভর করছে।

    ওলোরা আফরিন বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইজ নট অ্যান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট। ইটস জাস্ট এ নোটিশ। বাংলাদেশের সাথে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও ইউএই কোর্টে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে কনসিডার করা হয়। সেটা হচ্ছে যেই অভিযোগে ইন্টারপোলে নোটিশটা এসেছে, বাংলাদেশে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটাকে এখানেও ক্রিমিনাল অ্যাক্ট হিসেবে গণ্য করা হবে কি না।

    যে প্রক্রিয়ায় বেনজীরকে ফেরাতে হবে

    আইনজীবী ওলোরা আফরিন জানান, সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক, নাকি আসলেই অপরাধমূলক কার্যক্রমে তিনি জড়িত ছিলেন সেটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বিবেচনা করবে।

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সাবেক আইজিপিকে ফেরাতে বাংলাদেশকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে বেশ কিছু নথি জমা দিতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, মামলা সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র, অপরাধ সংশ্লিষ্ট সব নথি এবং বাংলাদেশের আদালতের সব আদেশের নথি জমা দিতে হবে আরব আমিরাতের আদালতে।

    ওলোরা আফরিন বলেন, এগুলো দেখে, সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক আছে কি না এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনি ব্যবস্থা অনুযায়ী আদালতের কাছে সব নিয়মমতো এসেছে কি না সেগুলো দেখা হবে।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের ওপরই নির্ভর করবে বলেও তিনি জানান।

    বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, আরেকটির বিচার চলছে।

    এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরো পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায়ও তদন্ত চলছে।

    তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলছেন, কূটনৈতিক এবং আইনি দুইক্ষেত্রেই একইসাথে চেষ্টা চালাতে হবে।

    এই আইনজীবী বলেন, আমি বলবো এটা আসলে, ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলেই মূলত বেশি কাজ করবে। সেক্ষেত্রে একটা সিদ্ধান্তে আসতে ইউএই সরকারও বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করবে। আর এই প্রসেসটা ফলো করলে এটায় আনুমানিক কম-বেশি ৩০ দিনের মতো সময় লাগবে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দুদকের দায়ের করা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ এই দুইটি মামলায় রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।

    আকতারুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার করছে মূলত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত মামলায়। এখন আমাদের পরবর্তী যে কার্যক্রম তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যে রিকোয়েস্ট লেটার পাঠাতে হবে, তার সাথে সমস্ত ডকুমেন্টসগুলো যুক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রপার চ্যানেলে যাবে।

    আকতারুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি’র সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

    ফেরানো কঠিন হতে পারে কখন?

    বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শিথিল আইনি ব্যবস্থার উদাহরণ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এমন উদাহরণ রয়েছে।

    সাংবাদিক সাইফুর রহমান বলছেন, বেনজীর আহমেদ যদি লিগ্যাল রেসিডেন্ট হন এবং এখানে তার কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকে, সেক্ষেত্রে উনার আইনজীবীরা হয়তো এই যুক্তিটা তুলে ধরতে পারেন।

    তবে আফরিন মনে করেন, দুবাইয়ে বিনিয়োগকারী হলেও আইনি শিথিলতা পাওয়া যাবে বিষয়টি এমন নয়। বরং বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে বলে তিনি মনে করছেন।

    তিনি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের মামলাটির কথা তুলে ধরেন।

    ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাংলাদেশি নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল। কিন্তু তার অন্য দেশের নাগরিকত্ব, অর্থাৎ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণে পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশে ফেরানো যায়নি।

    আফরিন বলছেন, বেনজীর আহমেদ, উনার যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকে সেই ক্ষেত্রে হয়তো ওই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা কী আছে, সেটাও দেখবে ইউএই।

  • অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

    অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

    সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

    বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

    তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

    তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

    তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

  • এনএপিডির নতুন মহাপরিচালক খাইরুল কবীর মেনন

    এনএপিডির নতুন মহাপরিচালক খাইরুল কবীর মেনন

    জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের (পরিবহন পুল) পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাইরুল কবীর মেনন।

    তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার পর এই পদে পদায়ন করে বুধবার (১৭ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অন্যদিকে, এনএপিডির বর্তমান মহাপরিচালক (সচিব) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে অবসরে যাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানি ভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।

    উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, “এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।”

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

    এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫/৩০ টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি বর্ষণ করে। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
    এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

    একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’ এর উদ্যোগে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’ এর উদ্যোগে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’। ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে ‘স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি’র আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) রনি বিশ্বাস উপস্থিত থেকে কর্মক্ষম ও অসচ্ছল নারীর হাতে নতুন সিঙ্গার সেলাই মেশিন তুলে দেন। এর মাধ্যমে ওই পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের একটি টেকসই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়।

    সেলাই মেশিন বিতরণকালে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন বলেন, “আমরা শুধু সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য বিতরণে বিশ্বাসী নই; বরং একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সেলাই মেশিনটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।”

    সংগঠনের সেক্রেটারী রনি বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চুয়াডাঙ্গার পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে আমাদের এই ধরনের স্বাবলম্বীকরণ ও মানবিক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যুবসমাজকে সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আদর্শ ও স্বাবলম্বী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স আরও পাঁচটি বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হল ডিবেট ক্লাব, আইটি টিম, ব্লাড সেন্টার, মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সহ আগামীর নেতৃত্ব তৈরির জন্য লিডারশিপ প্রোগ্রাম।

  • টিকটকে আসক্ত স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

    টিকটকে আসক্ত স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

    গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে প্রেম, পরিণয় ও টিকটক, অতঃপর স্ত্রীকে হত্যা! স্বামী আটক

    স্ত্রীর চতুর্থ বিয়ে, স্বামীর দ্বিতীয় ! অতঃপর স্ত্রীকে হত্যা!! স্বামী আটক

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটকে আসক্ত স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসীকে (৩৬) হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বামী লিমন মল্লিককে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে নিজ এলাকা থেকে চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে অভিযুক্ত লিমনকে আটক করা হয়। নিহত সুমনা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

    লিমন পুলিশকে জানিয়েছেন, স্ত্রী সুমনা টিকটকে ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি পরপুরুষদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরণের ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতো। এ নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে প্রায়ই কলহ সৃষ্টি হতো। এর জের ধরে সুমনাকে সোমবার সকালে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে যান লিমন।

    পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, স্ত্রী সুমনাকে হত্যার পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে দরজা বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান লিমন। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন তিনি। লিমনের কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্ত্রী সুমনা আত্মহত্যা করেছে মর্মে লিমন প্রথমে প্রচার করার চেষ্টা চালালেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

    পুলিশ জানায়, আটক লিমন মল্লিক জানিয়েছেন; ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে সুমনার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। এরপর ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটা লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চরদিঘলিয়ায় আসেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় প্রায়ই পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। বর্তমানে লিমন স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, স্ত্রী সুমনাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য তাকে ঘরে মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে চলে যান লিমন। তবে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিমন। নারায়ণগঞ্জে সুমনার পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    আয়কর আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ঋণের সুদকে ‘ব্যয়’ হিসেবে বাদ দিয়ে নিট মুনাফা দেখায়। এর ফলে কোম্পানিগুলোর করে হিসেবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এটি উপস্থাপন করেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো—কোম্পানিগুলো যেন ঋণের সুদের বিপরীতে বারবার ‘ব্যয়ের’ সুবিধা নিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দিতে না পারে। কোম্পানি সুদের যে ব্যয় দাবি করে, তা তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে সরকার ধরে নেবে—এটি আসলে ব্যয় ছিল না, বরং মুনাফা ছিল। তাই ওই সুদের ওপর এখন কর দিতে হবে।

    এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাক্রুয়াল বেসিসে হিসাব করা হয়। কিন্তু আয়কর আইনে যে বিধানটি রয়েছে, সেটা করা হয়েছে কস্ট বেসিসে। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আইএফআরএসের (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেমের) সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কোম্পানির ব্যয়ের হিসাবকেও অ্যাক্রুয়াল বেসিসে করা হয়েছে। আয়কর আইনের ইংরেজি ভার্সনে বিষয়টি ঠিকই আছে, কিন্তু বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে কোনো কারণে মিসিং হয়ে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে এ ধারাটি সংযোজন করতে হচ্ছে।

    অ্যাক্রুয়াল ও কস্ট বেসিসে হিসাবের পার্থক্যটি নিচের উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরা যাক, একটি কোম্পানি একটি ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার বার্ষিক সুদ ১০ লাখ টাকা।

    অ্যাক্রুয়াল বেসিস : হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম (আইএফআরএস) অনুযায়ী, আপনি এই বছর টাকা পরিশোধ না করলেও ওই ১০ লাখ টাকা আপনার চলতি বছরের ‘খরচ’ । কারণ, সুদটি এই বছরেরই এবং কোম্পানি এটি পরিশোধ করতে বাধ্য। তাই আর্থিক বিবরণীতে আপনি ১০ লাখ টাকাই খরচ দেখাবেন।

    কস্ট বেসিস : আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর আগে বলত—‘টাকা পকেট থেকে না গেলে (বা পরিশোধ না হলে) সেটি খরচ হিসেবে গণ্য হবে না।’ ফলে কোম্পানি ওই ১০ লাখ টাকা খরচ হিসেবে দেখালেও, ট্যাক্স রিটার্নে এনবিআর ওই খরচটি বাতিল করে দিত এবং ওই টাকার ওপর কর আরোপ করত।

    সমস্যাটি কোথায় ছিল?

    এতে কোম্পানির বইতে একটি বা সময়ের পার্থক্য তৈরি হতো। অ্যাকাউন্টিং বলছে এটা খরচ, কিন্তু ট্যাক্স ল বলছে এটা খরচ নয়। নতুন ধারার অর্থ হলো—এনবিআর এখন বলছে, ‘ঠিক আছে, তোমরা তো অ্যাক্রুয়াল বেসিসে এটাকে খরচ হিসেবে দেখাচ্ছ, আমরা সেটাকে অনুমোদন দেব। কিন্তু এই সুযোগ অনন্তকাল চলতে পারে না।’

    অর্থাৎ, যদি তিন বছর পর্যন্ত সুদ পরিশোধ না করে ওই টাকাটা ঋণের মূলধনের সঙ্গে যোগ করে বা অন্যভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে সরকার চতুর্থ বছরে এসে সেটিকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর দাবি করবে।

  • প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    একুশ শতকের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর খাত বা চিপ। মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভরশীল বিশ্বে চিপ এখন কৌশলগত পণ্য। সেই দৌড়ে পা রাখতে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযক্তিনির্ভর চিপ তৈরি এ খাতকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের এই বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার পথ সুগম করেছে সরকার। সরকারি এই নীতি সহায়তায় পুরোপুরি রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর খাতের ৬ মিলিয়ন ডলারে থাকা রপ্তানি আয় আগামী ৫ বছরে বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের পর প্রযুক্তি খাত হতে পারে আরেকটি বড় রপ্তানিমুখী শিল্প।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য আমদানিকৃত উপকরণের ওপর ১ শতাংশের ওপরে কোনো আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আগাম কর সুবিধা স্থগিত রাখা হবে। এরপরই এই সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন-ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং (ওএসএটি) এবং প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় ক্ষুদ্রাংশ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের ওপরে আছে তাদের নাম। তবে বাজেটে প্রযুক্তি খাতের বড় সুখবর হচ্ছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ এবং কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের এ উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও অভিমত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখনো এ খাতে তেমন উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিপ ডিজাইন করে বছরে প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিপ ডিজাইন ও টেস্টিং খাতে মনোনিবেশ করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ আয় এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদিম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উন্নয়ন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন, আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং ফ্যাব্রিকেশন খাতের জন্য ব্যাপক কর ও শুল্ক অব্যাহতি দিয়েছে। সরকারের এই নীতিগত সহায়তা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোন, ডেটা সেন্টার, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। ফলে এই শিল্পে অংশগ্রহণ মানে কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়; বরং উচ্চমূল্যের রপ্তানি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, পরীক্ষণ সরঞ্জাম এবং উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি কার্যত ১ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম চৌধুরী বলেন, সরকারের এই সুবিধার মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইডিএ সফটওয়্যার যেমন ক্যাডেন্স, সিমেন্সের মতো ডিজাইন টুলসকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের চিপ ডিজাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, হার্ডওয়্যার এমুলেশন সিস্টেম, হাইস্পিড অসিলোস্কোপ, ভেক্টর নেটওয়ার্ক অ্যানালাইজার, অটোমেটেডটেস্ট ইকুইপমেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক পরীক্ষণ সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান বুয়েটের এই শিক্ষক।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের এই প্রণোদনা দেশের জন্য কৌশলগত কয়েকটি সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন কোম্পানি গড়ে ওঠার পথ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে গবেষণা ও ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে আগ্রহী হবে। তৃতীয়ত, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং উৎপাদনভিত্তিক শিল্প বিকাশের ভিত্তি তৈরি হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদীয়মান প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প একাডেমি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ম্যাককিন্সির মতে, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২১ শতকের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে খাতটি ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে ২০২১ সালে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় রপ্তানি খাত। সরকারের এই রেয়াতি সুবিধা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র পরিসরের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পটি এরই মধ্যে বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানে উল্কাসেমি প্রায় ৩০০ প্রকৌশলী নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন করছে। তারা গুগল, অ্যাপল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করছে। আপাতত ডিজাইন পর্যায়ের কাজ করলেও লক্ষ্য উৎপাদনে যাওয়া। এ ছাড়া নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন, টোটন ইলেকট্রনিকসের মতো কোম্পানি কাজ করছে। এ ছাড়া দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো এই বাজারে প্রবেশ করার কাজ শুরু করেছে। ঘরের বাতি, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মোবাইল হ্যান্ডসেট—যেখানে যা, তার সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর।