জাতীয়

  • গাংনীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

    গাংনীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

    আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র সহায়তা প্রদান

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, মাঠ পর্যায়ে কৃষি জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জীব মৃধা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।

    অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, ডিএই পার্টনার, যশোর।

    অনুষ্ঠানে কৃষকদের কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চারজন কৃষকের মাঝে চারটি ভারমিকম্পোজট সেপারেটর মেশিন বিতরণ করা হয়। এসব যন্ত্র কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, কাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

    বক্তারা বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ফিল্ড স্কুলের সদস্য ও স্থানীয় কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।

  • গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

    গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
    আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার ব্রজনাথপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪২-এর ৫এস ও ৬এস-এর মধ্যবর্তী শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ওই ৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া প্রতিবাদ জানায়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও পুশইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত সাতজনকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
    জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টা করা সাতজনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ১ জন নারী ছিলেন।
    এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিজিবির দ্রুত অবস্থান গ্রহণ ও জনসাধারণের প্রতিবাদের কারণেই পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

  • মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    গাংনী( মেহেরপুর) সংবাদদাতা
    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এবং গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৫ উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
    জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি)

    এসময় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা; আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা; আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

    শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।

    পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।

    বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।

    মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।

    মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।

    আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

  • সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই: স্পিকার

    সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই: স্পিকার

    জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। এসময় তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনও কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন এমপির সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।

    জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কোনও মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না। আলোচনায় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়।

    এসময় শফিকুর রহমান সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে কখনও কখনও কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়। বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কয়েকজন মিলে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

    স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ নানা খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আমি আবারো তাগিদ দিচ্ছি, কোনও রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রীদের উচিত যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা এবং তাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা। পাশাপাশি সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও চেষ্টা করা উচিত।

  • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

    অ্যাশেজ শুরুর আগে ইংল্যান্ড নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। ম্যাচটি আগামী বছরের মে মাসের শেষ দিকে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ শেষবার ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলেছিল। তাই প্রায় ১৭ বছর পর আবার ইংলিশ কন্ডিশনে সাদা পোশাকে মাঠে নামবে টাইগাররা। তবে এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।

    ম্যাচের ভেন্যু এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল কোথায় হবে তার ওপর। যদি ফাইনাল লর্ডসে না হয়, তাহলে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টটি লর্ডসে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি লর্ডসেই ফাইনাল হয়, তাহলে ম্যাচটি ওভালে আয়োজন করা হতে পারে।

    সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, কারণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট খুব কম ওভারে শেষ হয়েছিল এবং বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক কন্ডিশন ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল লর্ডস থেকে সরিয়ে ওভালে নেওয়ার কথাও ভাবছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।

    ২০২৭ সালের সূচিতে ইংল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর করবে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে। এরপর মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট খেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই সিরিজগুলো ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাশেজের আগে প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ বিরতির পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হবে।

  • সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকার; শোকর করেন অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন

    সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকার; শোকর করেন অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন

    জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার সময় অনেক মন্ত্রীর আসন ফাঁকা ছিল। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, তিনি লক্ষ করছেন বাজেট অধিবেশনে বেশির ভাগ সময় অধিকাংশ মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন না।

    জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, ‘এইখানে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তারপরে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী নাই। মন্ত্রীদের চেয়ার সব খালি। এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা চাচ্ছি মাননীয় স্পিকার।’

    জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে। কিন্তু অন্যান্য মন্ত্রীদেরও অনুরোধ জানাবেন সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে। বাজেট সেশন গুরুত্বপূর্ণ সেশন। তাঁরা থাকলে আমরা বাধিত হব।’

    স্পিকারের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে সংসদে তাঁদের উপস্থিত থাকা উচিত। অর্থমন্ত্রী আগাগোড়াই এখানে উপস্থিত আছেন। বাজেট–সংক্রান্ত বিষয়ে সব খাতের বিষয়ে সবশেষে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।’

    চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সব সময় উপস্থিত থাকেন। অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। তবে তিনি আশা করেন, যাঁরা উপস্থিত থাকেন না তাঁরা যেন উপস্থিত থেকে সংসদ উপভোগ করেন।’

    এ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বললেন আমাদের মন্ত্রীরা নাই, ঠিক আছে। বলার আগে যদি নিজের দিকে তাকিয়ে বলতেন, সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা দুজনের কেউই নাই। তারাও যাতে ঠিকমতো থাকে।’

    প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের নেতা না থাকলে অসুবিধা নেই, মন্ত্রীদের থাকা প্রয়োজন। তবু সংসদের সৌন্দর্য রক্ষার্থে সবারই থাকা বাঞ্ছনীয়।

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের আগামী ২৩ জুনের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে রাবি ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘোষণা দেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। ছবি: সংগৃহীত

    সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যে স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদেরকে বাংলার মাটিতে আর মিছিলের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সুশীল শিক্ষক এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরি করছেন। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেন, তবে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ দেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করার সুযোগ আমরা দেব না।’

    ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেবেন। এ সময় যদি কেউ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে ধরিয়ে দিতে পারেন, তবে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’

    বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

    জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সবসময় তৎপর আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’

    আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। সভা-সমাবেশ করা বিরোধীদলের গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি; কিন্তু আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এতে মনে হয়েছে, তারা অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘এজন্য আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে। তার বাইরে আমরা আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের এনে আইন অনুসারে বেসামরিক ক্ষমতা দিয়েছি, যাতে যেকোনো রকম অপতৎপরতার সুরাহা করা যায়; এ জন্যই এটা করা হয়েছে। তবে সেনা মোতায়েনে পুলিশ বাহিনীর ওপর আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নেই। আমরা সবসময় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কখনো বিজিবি বা কখনো সেনাবাহিনীকে নিয়ে আসি। প্রায় দেড় বছর মাঠে থাকার পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকার আসার পর যথাশিগগির সম্ভব তাদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব জেলায় অপতৎপরতার চেষ্টা করা হয়েছে, সেসব জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে কোনো কোনো মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। সেজন্য সতর্ক থাকার অংশ হিসেবে আমরা সেনা মোতায়েন করেছি।’

    নারায়ণগঞ্জের এক এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার করার পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো এমপির ছেলের বিশেষাধিকার নেই। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

    পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে; সেখানে কি এক হিন্দু নারীর আলাদা প্রদেশ চাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। সেখানে ওই নারীর প্রসঙ্গও এসেছে। এটা তার স্লিপ অব টাং হতে পারে। তাকে যেন সেই বার্তাটি দেওয়া হয়। বক্তৃতা দেওয়ার সময় অতিউৎসাহী হয়ে অনেকে অনেক কথা বলে ফেলে।’

    এর আগে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সেনা মোতায়েন চেয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

    এ অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামাতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি—সবিনয়ে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের যে চিফ মিনিস্টার শুভেন্দু বাবু, তাঁকে থামান। বাংলাদেশ বিরোধী যে সমস্ত বক্তব্য আসছে মাঝেমধ্যে, যে সমস্ত বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন, এই বক্তব্য…ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে গেছে।’

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমি আহ্বান করি যে, এখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নাই। বাংলাদেশে উনি নাই হয়ে গেছে। আউট অফ সিন অ্যান্ড সে কোনো দিনই বাংলাদেশে…।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা সবাই চাই, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব সম্মানজনকভাবে টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব ক্ষণস্থায়ী হয়, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী এসে বলেছেন ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে’।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা বলতে চাই—আসুন মানুষের হৃদয় জয় করুন। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই, ভারত বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ বিরোধিতা যাতে না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চাই। সে ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ, আপনারা দয়া করে পুশ ইন বন্ধ করুন।

    জিএম সিরাজ পুশ ইনের পাশাপাশি ভারত সীমান্তে মাদক তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ করারও দাবি জানান।