জাতীয়

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু মারা গেছে। তবে এসময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এসময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।

    তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

    ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) নতুন মহাসচিব হলেন গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। আর সদ্য বিদায় নেওয়া মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে।

    শনিবার (২৭ ‍জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল এন্ড রিসোর্টে আইএবির মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে গাজী আতাউরকে মহাসচিব পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অধিবেশনে পূর্বের কমিটি মেয়াদের আগেই ভেঙে দিয়ে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে কিছু রদবদল আনা হয়েছে।

    ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়তুল্লাহ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে এককভাবে নির্বাচন করা, প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তাসহ কয়েকটি সাংগঠনিক দুর্বলতা উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    গাজী আতাউর এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অধ্যক্ষ ইউনুছ ২০০৮ সাল থেকে টানা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

  • সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদ সদস্যদের স্পিকার

    সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদ সদস্যদের স্পিকার

    জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বাড়তি সময় চেয়ে তাঁকে বিব্রত না করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেছেন, ‘মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    আজ শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা শুরুর আগে স্পিকার বলেন, ‘হাতে সময় কম থাকায় আজ ও আগামীকাল—এই দুই দিন বাজেটের সাধারণ আলোচনা হবে। এরপর সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে।’

    সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের হুইপরা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময় তিনি সদস্যদের জানিয়ে দেবেন। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।

    অসমাপ্ত বক্তব্য এড়াতে সংসদ সদস্যদের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এমনভাবে কনক্লুড (শেষ) করবেন, যাতে অসমাপ্ত বক্তৃতা দিয়ে আপনাকে বসে যেতে না হয়।’

    স্পিকার আরও বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনের সাফল্যজনক সমাপ্তির জন্য বাধ্য হয়ে আপনাদের সময় স্টিক করতে হচ্ছে। সুতরাং আবারও বলছি, আপনারা অনুরোধ করে বিব্রত করবেন না। যে সময় দেওয়া হবে, ওই সময়ের মধ্যে দয়া করে বক্তব্য শেষ করবেন।’

    এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাতেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন স্পিকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করলে দ্রুত বাজেট আলোচনায় ফেরা সম্ভব হবে।’

    ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। প্রথম বক্তা ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনার সময় ছয় মিনিট। ছয় মিনিটে দয়া করে শেষ করবেন।’

    নির্ধারিত সময় শেষ হলে বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে পরবর্তী বক্তাকে আহ্বান জানান স্পিকার।

    এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় চাইলে স্পিকার বলেন, ‘সময় নাই।’

    পরে ফজলুল হক আবার সময়ের আবেদন করলে স্পিকার বলেন, ‘আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেছি, মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    পরে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার আগেই সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এক মিনিট বাকি থাকতে সমাপ্ত করবেন, যাতে বক্তব্য সমাপ্ত করতে পারেন।’

    চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও বক্তব্যের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘সাত মিনিট সময় পেয়েছেন, তবে স্পিকারের কাছ থেকে কিছুটা “ম্যাগনানিমিটি” আশা করেছিলেন।’

    জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ গিয়াস উদ্দিন কাদের আবার সময়ের প্রসঙ্গ তুললে স্পিকার বলেন, ‘সময় আপনাদের হুইপরা দেন, আমি দিই না। সাত মিনিটে শেষ করুন, প্লিজ।’

  • দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    দশ বিশ্বকাপের পথিক: তপন চৌধুরীর চোখে ফুটবলের পৃথিবী

    কিছু মানুষের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবল মানে পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখা। নিজের জীবনের সঙ্গে কিছু মুহূর্তকে চিরস্থায়ী করে রাখার নাম। তপন চৌধুরীর গল্প তেমনই।

    ব্যবসায়িক পরিচয়ে তিনি দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘ পথচলা। গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসবের বাইরে আরেকটি দিক আছে, যা তাকে আলাদা করে। তপন চৌধুরী বিশ্বকাপ ফুটবলের এক নিবেদিত পথিক।

    তার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকো থেকে। সেই সময় মেক্সিকো নিয়ে নানা আতঙ্ক ছিল। পরিচিতরা বলেছিলেন, সাবধানে থাকতে, পরিস্থিতি নাকি খুব ভালো নয়। চারদিকে ছিনতাই, নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। ভয় তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধু ফকির মাহবুব আনামকে (বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ) উড়ে গেলেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ দেখতে।

    সেই সময়ের হিসাবেই একেকজনের খরচ হয়েছিল প্রায় ১৮শ মার্কিন ডলার। থাকা, খাওয়া, খেলা দেখা সব মিলিয়ে। তারা দেখেছিলেন সাতটি ম্যাচ। কিন্তু খেলার ফলের চেয়ে বেশি মনে গেঁথে আছে স্টেডিয়ামের বাইরের পৃথিবী।

    তপন চৌধুরী এখনও মনে করতে পারেন সেই দিনটির কথা, যেদিন দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    তিনি বলছিলেন, সেদিন পুরো মেক্সিকো যেন উৎসবে ভেঙে পড়েছিল। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উদ্‌যাপন। তিনি আর তার বন্ধুও সেই জনসমুদ্রে মিশে গিয়েছিলেন।

    তারপর হোটেলে ফিরে টেলিভিশনে দেখলেন আরেক গল্প, ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হাতের গোল। মাঠে বসে তারা কেউই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে।

    তারপর শুরু হয় এক দীর্ঘ বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৯৯০–এ দেখেছেন রোমের সেই রাত। যেখানে ফুটবলের রাজা ম্যারাডোনা কাঁদলেন, আর জার্মানি ট্রফি তুলল।

    ১৯৯৪–এ দেখেছেন আমেরিকার গরমে বদলে যাওয়া ফুটবলের ভাষা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে ইতালির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য।

    ১৯৯৮–এ প্যারিসে দেখেছেন তরুণ এক ফরাসি দলের উত্থান। যখন পুরো স্টেডিয়াম জিদানের নামে কাঁপছিল।

    ২০০২–এ এশিয়ার আকাশের নিচে দেখেছেন ব্রাজিলের পুনর্জন্ম। রোনালদো যেন হারানো সময় ফিরে পেয়েছিলেন।

    ২০০৬–এ দেখেছেন বার্লিনের ফাইনাল। এক মহাতারকার বিদায় ফুটবলকে বিষণ্ন করেছিল।

    ২০১০–এ দক্ষিণ আফ্রিকার রাতজাগা ভুভুজেলা আর স্পেনের ধৈর্যের ফুটবল তাকে নতুন এক সৌন্দর্য চিনিয়েছিল।

    ২০১৪–তে রিওর উৎসব আর তার মাঝেই দেখেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ভাঙনের একটি। ব্রাজিল–জার্মানির সেই ম্যাচ। তিনি বলছিলেন, প্রথম গোল খাওয়ার পরই তার মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঠিক নেই। ব্রাজিল যেন নিজের ছায়াকেও চিনতে পারছিল না। বিরক্ত হয়ে পাশে বসা মানুষদের বলে ফেলেছিলেন, “আজ ব্রাজিল সাত গোল খাবে।” মিনিটের পর মিনিট যেন সময় থেমে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ড বদলাচ্ছিল, মানুষ বদলাচ্ছিল। একসময় আর গোল গোনা হচ্ছিল না, গোনা হচ্ছিল স্তব্ধতা। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের চোখে পানি, মুখে অবিশ্বাস। কেউ পতাকা দিয়ে মুখ ঢেকেছে, কেউ মাথা নিচু করে বসে আছে।

    তিনি বলছিলেন, জীবনে এত খেলা দেখেও কোনো দেশের ফুটবল হৃদয়কে এভাবে ভেঙে যেতে দেখেননি। যখন সপ্তম গোল হলো, পাশে বসা এক ইতালিয়ান ভদ্রলোক বারবার তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন, এ মানুষটা কি সত্যিই আগেই জানত।

    তপন চৌধুরী হাসতে হাসতে বলেন, “আমি জ্যোতিষী ছিলাম না। শুধু মনে হয়েছিল ব্রাজিল সেদিন আর মাঠে ছিল না।”

    ২০১৮–তে দেখেছেন নতুন প্রজন্মের উত্থান।

    আর ২০২২–এ কাতারের সেই রাত, যেখানে ফুটবল যেন এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে লিওনেল মেসি ট্রফি তুললেন, আর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ শুধু একটা ম্যাচ দেখেনি। দেখেছিল সময়কে পূর্ণ হতে।

    বিশ্বকাপের সঙ্গে তার সম্পর্ক এরপরও থামেনি। এবারও তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। এটা হবে তার দশম বিশ্বকাপ। একসময় প্রায় প্রতি আসরেই তার সঙ্গে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা পরিবারের কেউ না কেউ থাকত। বিশ্বকাপ ছিল পরিবারেরও উৎসব।

    এবার যাত্রার আগে একটি অনুপস্থিতি তাকে অন্যরকমভাবে স্পর্শ করছে। তার ছেলে ড্যানি আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তাকে। কথা বলতে বলতে থেমে যান তপন চৌধুরী। বলেন, ছেলেটাকে খুব মিস করেন।

    হয়তো এবারও যাওয়ার কথা ছিল। বাবা–ছেলে একসঙ্গে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতেন। গোল হলে উঠে দাঁড়াতেন, ছবি তুলতেন, তর্ক করতেন, ফিরে এসে রাতভর আলোচনা করতেন। এখন সেই আসন খালি।

    বিশ্বকাপ থেমে থাকে না। জীবনও না। তপন চৌধুরী আবার যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে। এবার তার ব্যাগে থাকবে শুধু টিকিট আর পাসপোর্ট নয়, থাকবে ১৯৮৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অসংখ্য ফাইনালের আলো, হাজারো গ্যালারির শব্দ, আর এক না–ফেরা সঙ্গীর জন্য গভীর, নীরব এক অপেক্ষা।

  • গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


    মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে শিক্ষক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৭ জুন) গাংনী উপজেলার চৌগাছা দারুল ইয়াতিম মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবুল হাশেম।

    প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাংনী উপজেলা আমির মোঃ রবিউল ইসলাম।

    বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আল আমিন ইসলাম (বকুল), সেক্রেটারি মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাংনী পৌর শাখার আমির আহসানুল হক।

    কর্মশালায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • নড়াইলে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উত্তর শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে প্রথমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।

    মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার, এনায়েত মোল্যা, মন্টু শেখ, তারা মিয়া সরদার, ফাহাদ সরদারসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইলের শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামের অনেকেই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামটি। এদের আবার অনেকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুক্তগ্রাম হয়ে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

    এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। তবে মাদক কারবারিদের দমন করতে হলে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের ব্যাপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।

    তিনি কঠোর হুশিয়ারি করে বলেন, আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নেই। তারপরও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাকে, তাহলে আমাকে বা পুলিশ সুপার স্যারকে অবগত করলে; অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়-অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তাদেরকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। অনেকের বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এলাকায় অন্যায়-অপকর্ম বন্ধে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি সন্তানকে ভালো ভাবে দেখভাল করতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান পড়ার টেবিলে আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করছে কিনা খোঁজখবর রাখতে হবে। বিলাসিতা না করে সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে।

    এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালিয়া-লোহাগড়া সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুকের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

    আয়োজকরা জানান, গত ৯ জুন সকাল ৬টার দিকে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক বাড়ির পাশের মাঠে গরু বাঁধতে গেলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওই গ্রামের আলমগীর সরদার (৫০), মিজান সরদার (৪৫) বিল্লাল সরদার (৪০), মুন্না সরদার (২৫) জিন্নাহ সরদার (২০), সাগর সরদার (২২), জামাল সরদারসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে (ফারুক) রক্তাক্ত করে। এ হামলায় ফারুকের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

    মাদক বেচাকেনায় বাধা দেয়ায় গোলাম ফারুককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসী। ফারুক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম ফারুক নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ জুন মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

    এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আলো ট্রাস্টের  মাদকবিরোধী মানববন্ধন  

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আলো ট্রাস্টের  মাদকবিরোধী মানববন্ধন  

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। ’

    এতে শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিক , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ,সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক-ছড়াকার , সুশীল সমাজের প্রতিনিধি , নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

    প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান , মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদুল হক মুন্সী , কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস , চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ , জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক ও নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন ।

    প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রফিক রহমান, বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা , ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক ইসলাম রকিব , ক্রীড়াবিদ রোকন উদ্দিন , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

  • গাংনীর সীমান্তে ফের বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা

    গাংনীর সীমান্তে ফের বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা

    মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে একের পর এক অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং পুশ-ইনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলারের কাছে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবিকে জানালে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

    একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    জানা গেছে, এদিন পুশ-ইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।

    এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবির কাথুলী কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, “বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”

    এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে একই সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি জুন মাসে গাংনী র সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনাতেই বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
    মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্তে বিএসএফের ধারাবাহিক পুশ-ইনের চেষ্টায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সীমান্তবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত প্রতিটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।

  • লক্ষ্মীপুরে ৩ মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

    লক্ষ্মীপুরে ৩ মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা গেছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় থাকা সবাই একে একে মারা যান।

    নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

    এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।

    আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত অন্তরকে গণপিটুনি দেয়।

    অন্যদিকে, আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়।

    ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কা অবস্থায় সদর হাসপাতাল নিলে সেও মারা যায়৷ এদিকে ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও (সিফাত) কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারও সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই।

    রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেও মারা যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে সেও মারা গেছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।’

    বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়। হয়তো পূর্বপরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়ন। তখন অন্তর বলেন, তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্‌ঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন

    চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবা(২৫জুন) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলাব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। জেলায় এবার ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জনকে ভিটামিনের প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে ১ টি লাল রঙ্গের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে নীল রঙ্গের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৮৯৬ টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসব টিকা খাওয়ানো হবে।

    এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. সাজিদ হাসান। সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে বলে জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।