জাতীয়

  • আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

    আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে। এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।

    একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে।

    গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

    এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

    নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

    এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

    এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।

    ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    সূত্র: বাসস

  • রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট:কি  বলছে সিআইডি

    রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট:কি বলছে সিআইডি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আইনি মতামতের জন্য ওই খসড়া অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যায়।

    দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করার কথা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ‘মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সম্প্রতি গণমাধ্যমে রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সিআইডির নজরে এসেছে। তবে খসড়া চার্জশিট বা সংশ্লিষ্ট কোনও তথ্য সিআইডির কোনও কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে দেননি।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য দেওয়া হয়নি।

    সিআইডি আরও জানায়, এ ধরনের সংবেদনশীল মামলার তথ্য প্রকাশে সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত। তদন্ত শেষ হলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

    সংস্থাটি পেশাদারত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে বলেও জানানো হয়েছে।

  • সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

    সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের ব্যাংক খাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশাসনিক পদে নিজেদের দলীয় লোক বসিয়ে বর্তমান সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সচেতন দেশবাসী সরকারের এই একদলীয় মনোভাব কখনোই মেনে নেবে না।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে চরম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করতো বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকারও সেই একই পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে বিভিন্ন নেতিবাচক ট্যাগ দিয়ে কথা বলছে। কিন্তু দেশের জনগণ এখন সচেতন, তারা এসব রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা আর বিশ্বাস করে না।”

    সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “আপনারা তরুণ সমাজের মনের ভাষা ও তাদের দাবি বুঝার চেষ্টা করেন। অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো ও স্বৈরাচারী পথে হাঁটা বন্ধ করুন।”

    নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীবৃন্দ।

  • শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলা দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

    শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলা দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

    কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের সেই নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

    এর আগে, গত মঙ্গলবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার কুমিল্লার আলোচিত শিবির নেতা জিসান প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন ওই দুই আইনজীবী।

    ওইদিন বিকেলে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানি করতে আইনজীবীদের ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি।’

    অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরূপ বক্তব্য দেন।

    অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী সমকালকে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। এর প্রমাণও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে কিনা, চিঠিতে তা স্পষ্ট উল্লেখ নেই।’

    কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সমকালকে বলেন, ‘আমরা পিপি এবং এপিপিরা কী করতে পারব আর কী করতে পারব না, তা বিধিতে বলা আছে। এপিপিদের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিসানের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে বিয়ের চাপ দিলে পরদিন গত ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ জুন রাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই রাতে ওই নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেন। এ ছাড়া ধর্ষণের সহায়তায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

    ওই মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে তিনি পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৬ জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

  • জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’

    আব্দুল মুনতাকিমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। ফেসবুকে নুর ইবনে আলম নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাবা–দাদা শহীদ হওয়ার পরও তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে হয় কীভাবে? হলফনামা অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল।’ অনামিকা আমিন নামের একজন বলেন, ‘উনি বুঝতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া গর্বের। তাই একটু মিছা কথা মুখ দিয়ে বের হইছে…।’

    আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল–ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’

    আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল মুনতাকিমের বাড়ি সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দীর সঙ্গে কথা হয়। সংসদ সদস্যের মা–ও জীবিত আছেন। আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন।’

    যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আপাতত এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

  • পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

    পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

    ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. গোলাম সাকলায়েন, ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাবেক এডিসি ডিবি গুলশান বিভাগে কর্মকালীন বাংলাদেশ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

    এতে আরও বলা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

    ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব প্রদানপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন সাকলায়েন এবং একই মাসের ২৮ তারিখে তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে, এডিসি সাকলায়েনের ওপর গুরুদণ্ড আরোপের পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা বিধি মোতাবেক ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয় এবং এডিসি সাকলায়েন ২০২৪ সালের ১০ মার্চ দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সে পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনশ মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় বলে পরামর্শ প্রদান করে।

    এরপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন সানুগ্রহ অনুমোদন করেন।

    এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর দায়ে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (খ) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

  • একের পর এক সিনেমা ফ্লপ, রাভিনার ‘অপয়া’ অপবাদ ঘুচে যে সিনেমায়

    একের পর এক সিনেমা ফ্লপ, রাভিনার ‘অপয়া’ অপবাদ ঘুচে যে সিনেমায়

    ১৯৯১ সালে বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ‘পাত্থর কে ফুল’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। তবে এ সিনেমার পর বেশ কয়েক বছর তার ক্যারিয়ারে একাধিক সিনেমা ফ্লপ হয়। সেই সময়ে অভিনেত্রীকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকা হতো। জিংকস বলতে এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, যা দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়।

    সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাভিনা ট্যান্ডন তার পথচলা এবং কীভাবে পরিস্থিতি বদলে গিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, সেই সম্পর্কে কথা বলেন। ‘মোহরা’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারে একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল বলেও জানান তিনি।

    রাভিনা ট্যান্ডন বলেন, তখনকার মিডিয়াও খুবই নিষ্ঠুর ছিল আমার প্রতি। তারা আমাকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকত।’ সমালোচনা সত্ত্বেও অভিনেত্রী বিশ্বাস করতেন একটি সিনেমার সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনো একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, আপনি আপনার ১০০ শতাংশ দেন, কখনো তা কাজে দেয়, কখনো দেয় না। এটা কোনো একজনের দোষ নয়।

    ১৯৯৪ সালে ‘মোহরা’ মুক্তির পর সব কিছু বদলে যায় বলে জানিয়েছেন রাভিনা ট্যান্ডন। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী— কীভাবে প্রযোজক গুলশান রাই প্রকাশ্যে তাকে ‘ভাগ্যবতী’ বলে আখ্যা দিয়ে তার প্রতি সিনেমা জগতের মনোভাব পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারপর হঠাৎ করেই আমি খুব ভাগ্যবতী হয়ে উঠলাম। তখন প্রযোজকরা বলতে শুরু করলেন— তাদের যাতে একটা সুযোগ দেওয়া হয়। তবে কিছু সিনেমা নির্মাতা বিশ্বাস করতেন যে, রাভিনা ট্যান্ডন অভিনীত যে কোনো সিনেমাই ফ্লপ হবে।

    কিন্তু ১৯৯৯ সালে ‘শূল’ মুক্তির পর অভিনেত্রী হিসেবে তার ভাবমূর্তি বদলে যায়। এ সিনেমার মাধ্যমে গ্ল্যামারস ইমেজ ভেঙে একেবারে অন্য রাভিনা ট্যান্ডনকে তুলে ধরেছিল।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন বর্তমানে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যে সিনেমায় প্রায় ২২ বছর পর অক্ষয় কুমারের বিপরীতে দেখা যাবে।

  • নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    সবার হাতে হাতে গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ। মুখে নির্মল হাসি। আনন্দ-আবেগে ভরপুর পুরো স্কুল আঙিনা। পড়ন্ত বিকেলে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে এ এক অন্যরকম আনন্দ উৎসব। এ যেন এক টকুরা ‘সবুজ বাংলাদেশ’। স্কুল আঙিনায় সবুজ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এ দৃশ্যের দেখা মেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে।

    শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ, ফুটবল, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে কালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ২৫০ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

    ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই অনুষ্ঠানে ২৫০ জন ছাত্রীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫০টি গাছের চারা, বাল্যবিয়ে রোধে আলোচনা, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, সঞ্চয়কৃত টাকার চেক প্রদান, খাতা, কলম, ইংরেজি অভিধানসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে মহাখুশি শিক্ষার্থীরা।

    বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরীন চৌধুরী বলে, গাছের চারা পেয়ে যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার পেয়েছি। ডিসি স্যার ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কর্মকর্তারা আমাদের সুন্দর উপহার দিয়েছেন।

    দশম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আফরিন রহমান মৌ বলে, ডিসি স্যার অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। ওনার (ডিসি) কথা হৃদয়ে এতোটা গেঁথে গেছে যে, অন্যায়ের পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

    বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কালিয়া উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র বলেন, শিক্ষা জীবন থেকেই সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তুলতে ‘সঞ্চয় সেবা’, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও সচেনতামূলক প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। ভালো সাড়া পেয়েছি।

    বিআরডিবি নড়াইলের উপ-পরিচালক গোলাম রসুল জানান, একজন শিক্ষার্থী যদি প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বছরে ২ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয় জমা করে তাহলে সরকারি প্রণোদনা পাবে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে বছর শেষে একজন শিক্ষার্থী সঞ্চয় ও প্রণোদনাসহ পাচ্ছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেয়াসহ আর্থিক সুবিধা হচ্ছে। নড়াইলে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে। তবে, ১৮ বছরের আগে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে হলে ওই শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনার টাকা পাবে না। শুধু তার জমাকৃত টাকা পাবে। এর প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাল্যবিয়ে রোধ করে ছাত্রীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া।

    সার্থকি দাস বলেন, আমি এখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছি। ডিসি ও বিআরডিবি স্যারদের হাত থেকে আজ ২০ হাজার ৭০০ টাকা চেক পেয়েছি। বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে আজ এই টাকা (২০ হাজার ৭০০) পেলাম। আমি খুব আনন্দিত।

    এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, একজন সন্তানকে ভালো ভাবে মানুষ করতে এবং পড়ালেখা শেখাতে তার বাবা-মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। বাবা হয়ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন। মা সংসারে অনেক কষ্ট করেন। তবু বাবা-মা সন্তানকে পড়ালেখা শেখান। ভালো ভাবে মানুষ করতে চান। তাই বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। পারিবারিক বন্ধন এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘ভালো মানুষ’ হতে হবে। তাহলে জীবন সার্থক হবে। দেশ ও জনকল্যাণে কাজ হবে।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, একটি ভালো চিন্তা, আরেকটি ভলো চিন্তার জন্ম দেয়। তাই শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সবসময় ভালো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরণের অন্যায়-অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ^াস, কালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা চৌধুরীসহ অনেকে।

  • চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।

    প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাশাসক লুৎফুন নাহার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদকর্মী সরদার আল আমিন, বিপুল আশরাফ, হুসাইন মালিক ও রাজীব হাসান কচি।

    প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ সাংবাদকর্মীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন এমন একটি অবস্হা দাঁড়িয়েছে, আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো, কোনটা করবো না তা বুঝতে পারিনা। সে কারনে এই বিষয়গুলো বোঝানোর জন্যই এ প্রশিক্ষণ অনেক গুরুত্ববহন করে’।

  • বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দ. কোরিয়া

    বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দ. কোরিয়া

    বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সাথে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    আজ বুধবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি-জুন কিম এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন।

    তিনি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

    হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। এ ধরনের বিনিয়োগ আরো সহজ করতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সাথে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।