জাতীয়

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮, ঢাকা বিভাগে ২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ ও রাজশাহী বিভাগে আটজন রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী।

  • বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে কর কমানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

    বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে কর কমানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

    প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের এই বাজেটকে একটি জাতি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে অভিহিত করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অবস্থার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতের দুঃশাসনের কারণে বিশেষ করে পুঁজিবাজার এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। স্বৈরাচারের সময়ে পুঁজিবাজারে অসহায় মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও ঘটেনি। বর্তমান সরকার এই পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং যোগ্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্রুতই এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেক্টরে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

    দেশের মানুষের পাচার হওয়া লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের মাধ্যমে এই পাচারকৃত সম্পদ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

    রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী করের বোঝা না বাড়িয়ে, হয়রানি কমিয়ে এবং করের ভিত্তি বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর নীতি গ্রহণের কথা বলেন। তিনি এমন একটি রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে করদাতারা কর প্রদান করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গর্ববোধ করবেন। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করার অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা করার অনুরোধ জানান। একইভাবে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের জটিলতা দূর করতে বাজেটে যে বিশেষ বিধান আনা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের বহু ভাষায় পারদর্শী করতে ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে ‘টিন’ দাখিলের প্রস্তাবিত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান তিনি। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

  • ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) রাতে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে জিসানুর রহমানের (৩০) নামে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চার থেকে পাঁচজনকে। জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিতে থাকেন বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা। তবে, জিসানুর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকদল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য সচিব বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলার সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন তিনি।

    মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এর আগেও আপনাকে (জিসানুর) একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘœ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। এছাড়া জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    এ বিষয়ে জিসানুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, ্আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে জিসানুরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, ‘আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব’।
    নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন পেশার মানুষ দাবি করেন, অফিসে যদি সিসিটিভি ফুটেজ থাকে; তাহলে তা পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধের দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯ টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ২০০ বছরের ঐহিত্যবাহী নড়াইল সদরের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে বিএনপিপন্থী প্যানেলের বিজয় হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন-বিএনপিপন্থী প্যানেলের শোভন আহমেদ বাকী বিল্লাহ (১৫৫ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মুরাদ পেয়েছেন ৭৭ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইবাদত শেখ বিজয়ী হয়েছেন (১৪৪ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কিবির হোসেন পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

    ১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নয়টিতে বিএনপিপন্থীরা বিজয় লাভ করেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন-নির্বাচন কমিশনার হলি চাইল্ড কেয়ার হোম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম খান। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন-বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সদর উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র।

    এদিকে, সহসভাপতি পদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আল আমিন মোল্যা ও সহসাধারণ সম্পাদক জালাল শেখ বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আলামিন মোল্যা, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ খান মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক শামীম শেখ, সদস্য সবুর বিশ্বাস, মাসুদ মোল্যা, বখতিয়ার সরদার ও নবীর মোল্যা বিজয়ী হয়েছেন।

    নির্বাচনে ২৪৯ ভোটারের মধ্যে ২৪৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে প্রতিটি পদে দুইজন করে ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতিতে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার আসলাম খান ও প্রিজাইডিং অফিসার সুজন কুমার চন্দ্র।

  • বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। যে চিঠিতে নিজের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

    চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লেখিত হয়নি।

    এদিকে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম পাওয়ার ঘটনা শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রাপ্তি। ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

    ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দু’টি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অপরটিতে মো. আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

    এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ভাষ্য, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএস এর কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।

    তিনি আরও বলেন, অনুদানের টাকাটা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বান্দরবানের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বান্দরবানের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা

    বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে এ বিষয়ে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেন যে, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন তার সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালান। শুধু মার্চ-এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে আয় করেছেন ৪৯ হাজার টাকা। যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন সহকর্মীদের বেতন বাবদ। যেখানে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে একটি স্কুল টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে প্রধান শিক্ষক অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। বিষয়টি নজরে আসার পর রাতেই প্রধানমন্ত্রী স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।
    বাজেট বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন, সেই থানচির তিন্দু এলাকার সেই স্কুলটিকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। আজকে মহান সংসদে এ স্লিপটি পাঠিয়েছেন। আমি জানাতে চাই, স্কুলটি জাতীয়করণ করা হবে শিগগিরই।

    ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়লেও অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারেন না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালানো হয়ে পড়ে কঠিন। এই সংকট মোকাবিলায় ছুটির দিনগুলোতে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান থানচি-তিন্দু–-রেমাক্রী নদীপথে। পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করে যা আয় হয়, তার বড় অংশই চলে যায় শিক্ষকদের বেতনে।

  • হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬১৯ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১২।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া একজনের যাবজ্জীবন এবং অপর পুলিশ সদস্যের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

    আজ রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

    রায়ে রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    এ মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন চঞ্চল। তাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে মোটাদাগে তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

    প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনায় এবং তখনকার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আদেশে আসামিরা নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বাইরে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালান।

    ওই বছরের ১৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার দিকে বনশ্রী এইচ ব্লকে জামে মসজিদের সামনের গলিতে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখন মো. নাদিম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি পেটে দুটি গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    দ্বিতীয় অভিযোগে কার্নিশে ঝুলে থাকা ১৮ বছরের তরুণ আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও গুরুতর জখম করার ঘটনা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধাওয়া খেয়ে বনশ্রী জামে মসজিদের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। আত্মরক্ষায় তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। ওই তরুণ লাফ না দেওয়ায় পর পর ছয়টি গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।

    মামলার তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ রয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বনশ্রী জি ব্লকে রামপুরা থানার সামনের একটি বাসার নিচতলায় গেটের ভেতরে দাদি-নাতি অবস্থান করছিলেন। আসামিরা যখন ক্রমাগত গুলি চালাচ্ছিল, তখন পুলিশের একটি বুলেট শিশু মুসার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তা সরাসরি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।

    এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ৭ অগাস্ট প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন।

    পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আইসিটি তদন্ত সংস্থার সহকারী পরিচালক সৈয়দ আব্দুর রউফ ৩০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিলেও ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন ১৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে ‘ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স’ জমা দেওয়ার আবেদন করা হলে তা পিছিয়ে যায়।

    গত ১৫ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের জন্য রোববার দিন ঠিক করে দেয়।

  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

    ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন। আবার যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

    তাই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার যদি এই নোটগুলো বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন না দেখার কথাও জানান নোয়াখালী–১ আসনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে ব্যাংকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষপাতী তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকা নেই। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলে একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    টাকা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো যায়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

    নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন দলের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়, বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই বাজেটটি এসেছে। এ কারণেই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

  • ঢাকায় নতুন কমিশনার, কুমিল্লা-সিলেটে নতুন ডিসি

    ঢাকায় নতুন কমিশনার, কুমিল্লা-সিলেটে নতুন ডিসি

    কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি পদে বদলি করেছে সরকার। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোজী আকতারকে কুমিল্লার ডিসি নিয়োগ দিয়ে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    ২১ জুন সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাঁকে বহালের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন হয়েছিল। সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করে তাঁকে ডিসির পদে বহাল করা হবে বলেও গুঞ্জন ছিল।

    ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার

    গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান মিঞাকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।