জাতীয়

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    মানিকগঞ্জের মারিয়া মাহির নাম ফেসবুক আর সংবাদমাধ্যমের সুবাদে জানেন অনেকেই। সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত ১৪ বছরের এই কিশোরী। স্কুলবন্ধুর সঙ্গে ক্লাসরুমে ‘ঘনিষ্ঠ অবস্থায়’ দেখতে পাওয়ার অভিযোগে দুজনকেই টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেদিন স্কুল থেকে আর বাসায় ফেরেনি মারিয়া। ‘হারিয়ে যাওয়ার’ ছয় দিন পর স্কুল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন ঝোঁপ থেকে উদ্ধার হয় তার ছিন্নভিন্ন ও ঝুলন্ত দেহ।

    পরিবারের মামলার জের ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী, মারিয়ার ওই বন্ধুসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এজাহার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ— মারিয়া হত্যায় তার ছেলেবন্ধু এবং তার স্বজনরা জড়িত। তবে আড়াই সপ্তাহ পেরোলেও কাটেনি ধোঁয়াশা। মামলার তদন্ত নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে পুলিশ। এতে উঠছে প্রশ্ন— কীভাবে মৃত্যু হলো মারিয়ার?

    তাকে হত্যা হয়ে থাকলে স্কুল থেকে এতটা দূরে খুন করার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার সঙ্গে কতজন জড়িত? আবার ঝুলন্ত দেহের নিচের অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকার কী কারণ— সে প্রশ্নেরও মেলেনি উত্তর।

    আগামীর সময় টানা অনুসন্ধান চালিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। একজন কিশোরীর বিয়োগান্ত পরিণতির পেছনে এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের দায় কতটা— তাও অনুসন্ধান করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনা এখনো রহস্যে ঘেরা। তদন্তের গতি নিয়েও পরিষ্কার জবাব দিচ্ছে না পুলিশ।

    মৃত্যুযাত্রার শুরু যেভাবে

    সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও সিংগাইর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার শুরু গত ১০ জুন। ওসি মাজহারুল ইসলাম বলছিলেন, সেদিন স্কুলের একটি কক্ষে মারিয়া ও দশম শ্রেণির ওই ছাত্রকে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখতে পায় প্রাথমিকের কয়েক শিক্ষার্থী। তারা বিষয়টি জানায় হাই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীকে। পাঁচ দিন ধরে স্কুলে এ নিয়ে ছড়ায় গুঞ্জনের ডালপালা। এরপর ১৫ জুন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের কাছে নালিশ জানায় হাই স্কুলের কয়েক শিক্ষার্থী।

    স্কুলের ল্যাবের খণ্ডকালীন সহকারী মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লাকে ডেকে আলোচিত কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বলেন প্রধান শিক্ষক। তাতে মারিয়া ও তার বন্ধুর ‘ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের প্রমাণ’ পাওয়া যায়। এরপর দুই ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ডাকা হয় স্কুলের অন্য শিক্ষকদের। হতবিহ্বল মারিয়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে মাফ চায়। তবে নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সিরাজুল ইসলাম। দুজনের অভিভাবক ডেকে হাতে ধরিয়ে দেন টিসি।

    সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের জানালেন, ওই দিন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাওয়ার পর তারা সবিস্তারে জানতে পারেন ঘটনা। তাদের সামনে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম স্কুল কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহারকে ফোন করেন।

    ‘ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে হেডস্যার আমাদের বললেন, ওদের টিসি দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন। টিফিনের সময় মারিয়া এসে হেডস্যারের কাছে অনেক অনুরোধ করে। বলে— স্যার, ভুল হয়ে গেছে; মাফ করে দেন। হেডস্যার ওরে বলে যে, তোমাকে মাফ করলে অন্য স্টুডেন্টরা লাই পেয়ে যাবে’— বললেন শিক্ষক আব্দুল কাদের।

    এর পরের ঘটনার বর্ণনাও দেন কাদের ও তার আরও কয়েকজন সহকর্মী। সে অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে মন খারাপ করে ক্লাসে ফিরে যায় মারিয়া। তবে কিছুক্ষণ পর বের হয়ে যায়। নিচে নেমে স্কুলগেট পেরিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। দুপুর ২টার দিকের এ ঘটনার পর ‘হারিয়ে যায়’ মারিয়া।

    ওদিকে, স্কুল ছুটির সময় মারিয়া ও তার ছেলেবন্ধুর অভিভাবক আসেন স্কুলে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কাদেরসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

    ‘মারিয়ার মা এসেছিলেন। আর ছেলের পরিবার থেকে এসেছিলেন তার মা। ছেলেটাও ওই রুমে ছিল। মারিয়া ছিল না। দুজনেরই বাবা প্রবাসী। মায়েদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই রেখে মারিয়া আর ওই ছেলেকে টিসি দেওয়া হয়’— বললেন সহকারী শিক্ষক কাদের।

    টিসি দিতে স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? কাদেরের উত্তর, ‘অভিভাবকরা পরে যদি টিসি না মানেন, সে জন্য আমরা পরামর্শ করে অঙ্গীকারনামায় সাইন রাখার কথা বলেছি।’

    সিসিটিভির ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদেরের কথা, ‘ওইটা আমি দেখি নাই, অন্য কেউ দেখছে বলে শুনি নাই। হেডস্যার আর ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট শুধু দেখেছেন।’

    স্কুল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার অবশ্য দাবি করছেন, টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নয়। তার ভাষ্য, ‘প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে শুনে আমি সিসিটিভি ফুটেজটা চেয়েছিলাম। সেটি উনি কোনো কারণে পাঠাতে পারেননি। পরে আমি বললাম, এটি এমন কোনো বড় বিষয় নয়, গার্ডিয়ানদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে বাচ্চাদের ছেড়ে দেন। মুচলেকায় কী লিখবে, সেটিও বলে দিয়েছি যে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটাবে না, ভবিষ্যতে ঘটালে টিসি দেওয়া হবে।’

    ইউএনও বললেন, ‘প্রধান শিক্ষক সিরাজুল পরে যে টিসি দিয়েছেন, সেটিও আমি জানতে পেরেছি ১৮ তারিখে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম, টিসি কেন দিলেন? তিনি বললেন, স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজনের চাপে পড়ে টিসি দিয়েছেন। আমার অনুমতি ছাড়া টিসি দেওয়ায় সিরাজুলকে আমি সেদিন শোকজও করেছি। জবাবে তিনি লিখেছেন, স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে টিসি দিয়েছেন।’

    নিখোঁজ থেকে মৃত মারিয়া

    অভিযুক্ত ছেলেবন্ধুর সঙ্গে মেয়েকে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার কথা ১৫ তারিখই প্রথম জানতে পারেন বলে দাবি মারিয়ার মা কামরুন্নাহারের। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘স্কুল থেকে ওই দিন ফোন করে বলে, আমাদের প্রধান শিক্ষক ডেকেছেন। প্রথমে আমার ছেলে মাহিম দেওয়ানকে পাঠাই। ওকে বাসায় ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়, আমাকেই যেতে হবে। তারপর আমি যাই।’


    স্কুলের ছুটির সময় তিনি যান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে। ‘ওইখানে ওই ছেলের মা ছিল, ছেলেটাও ছিল। মারিয়াকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলে টিচাররা বলে, ও নিচে আছে। এরপর হেডস্যার আমাকে অনেক বকাঝকা করে বলে, আমার মেয়ে নাকি এমন কাজ করেছে, যেটি পুলিশে দেওয়ার মতো। কিন্তু কী কাজ করছে, তা আর বলে না। মেয়েকে ডেকে দিতে বললে হেডস্যার বলে, তার নাকি ঠ্যাকা নাই’— বলছিলেন কামরুন্নাহার।

    ‘এরপর আমার আর ওই ছেলের মায়ের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে স্ট্যাম্প পেপার আনিয়ে আমাদের সাইন রাখে। টিসির কাগজ ধরিয়ে দেয়।’

    ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে মেয়েকে খুঁজছিলেন কামরুন্নাহার। ‘ওই ছেলে তখন হুড়োহুড়ি করে স্কুলের গেটের দিকে যাচ্ছিল। ছেলের মা ডেকে বলছিল, এত তাড়া কেন? ছেলে তখন বলছিল, মারিয়া স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ওর সঙ্গে কথা বলব। আমিও ওই ছেলের সঙ্গে বের হই। কিন্তু গেটে মারিয়াকে পাই নাই। এরপর ওই ছেলেসহ আমরা আশপাশে খুঁজি। আমার ছেলেও তখন আসে।’
    ‘বাজারের লোকজন বলল, ওকে নাকি গোপালনগর গ্রামের দিকে যেতে দেখছে। আমরা ওই গ্রামে গিয়ে কয়েকজন মহিলাকে মেয়ের বর্ণনা দিই। ওরা তখন জানায়, তাকে দেখেছে; কিন্তু কোথায় গেছে, তা জানে না।’

    কামরুন্নাহারের ভাষ্য, অনেকটা সময় ওই গ্রামসহ আশপাশে মারিয়াকে খোঁজাখুঁজি করেছেন তিনি। সে সময় মারিয়ার ছেলেবন্ধু তার সঙ্গেই ছিল। তবে ছেলের মা স্কুল থেকেই চলে যান। মেয়েকে কোথাও না পেয়ে ওই ছেলেবন্ধুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান কামরুন্নাহার। তাকে আটকে রেখে মেয়ের কথা জানতে চাওয়া হয়। পরে রাতের দিকে ছেলের লোকজন এসে তাকে নিয়ে যায়।

    দৃশ্যপটে হাজির পাঁচজন

    মারিয়া নিখোঁজ হওয়ার পরদিন থানায় অভিযোগ জানায় তার পরিবার। মা কামরুন্নাহার ও ভাই মাহিমকে নিয়ে থানা পুলিশ যায় তার ছেলেবন্ধুর বাড়িতে। সেখানে দেখা হয় সায়েস্তা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শেখ রাসেলের সঙ্গে।

    কামরুন্নাহার বললেন, ‘রাসেল বারবার বলছিল যে ওরা (রাসেল, ওই ছেলে ও তার মা) আমার মেয়েকে খুঁজে দেবে। আমি যেন চিন্তা না করি। পুলিশকেও তারা বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারিয়াকে খুঁজে এনে দেবে। পরদিন ওদের আবার থানায় ডাকা হয়। তখনো রাসেল আর ওই ছেলের মা বলছিল, তারা খুঁজছে। ওই সময় ছেলেটা (মারিয়ার বন্ধু) আমাকে বারবার ডেকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু রাসেল তাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিল।’

    মারিয়া নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর রাতে এলাকার সুজন, মাসুদ, আলিফ আর ইয়ামিম নামে চারজন বাসায় আসেন বলে জানালেন কামরুন্নাহার। ‘সুজন ওই তিনজনকে নিয়ে এসে বলে, মারিয়া কোথায়, সেটি তারা জানে। ২০ হাজার টাকা দিলে মেয়েকে এনে দেবে। সে নাকি অসুস্থ, তার চিকিৎসা দেওয়া লাগবে। আমি ওদের জিজ্ঞেস করি, আমার মেয়ে দেখতে কেমন? ওরা যেইটা বলল, তা মারিয়ার সঙ্গে মিলে যায়। আমি পাঁচ হাজার টাকা দিই। আমাকে ওদের মোবাইল নম্বরও দিয়ে যায়। আমাকে সাহরাইল বাজারে যেতে বলে।’

    ‘আমি পরে ওই নম্বরে ফোন দিই। তখন ওপাশ থেকে বলে যে এখন আইসেন না। রাত হয়ে গেছে। মেয়ে যেখানে আছে, ওই বাসার মহিলা নাকি বলছে, সে ঘুমাচ্ছে। সকাল হলে নিয়ে যেতে বলে। আমি সারা রাত বাজারের একটা দোকানে বসেছিলাম। সুজনকে বললাম, ওরা তো টাকা নিয়ে আর কিছু জানাইল না। সুজন বলল, সমস্যা নাই, ওরা আমার পরিচিত। ওরা দিয়ে যাবে। আমি পুলিশকে জানাইতে চেয়েছি, কিন্তু সুজন বারবার মানা করছে। সে বলে, পুলিশকে জানালে মারিয়ার ক্ষতি হতে পারে’— একনাগাড়ে বলে যান মারিয়ার মা।

    ভোর ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মাসুদ, আলিফ আর ইয়ামিমকে বাজার এলাকা দিয়ে যেতে দেখেন কামরুন্নাহার। দৌড়ে গিয়ে তাদের আটকে জানতে চান মেয়ের কথা। ‘এই যে মেয়েকে আনতে যাচ্ছি’ বলে দ্রুত চলে যায় ওই যুবকরা— জানালেন মারিয়ার মা। এর পর থেকে তাদের আর তিনি দেখেননি।

    এভাবে ছয় দিন খোঁজাখুঁজি করার পর ২১ জুন জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার কবরস্থানের পাশে ঝোপ থেকে মারিয়ার ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ঝুলছিল গাছের ডালে। গলায় পেঁচানো ওড়না। কোমর থেকে নিচের অংশ ছিল বিচ্ছিন্ন; ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল আশপাশে। স্কুলব্যাগ, ওড়না ও বোরকা দেখে পচে-গলে যাওয়া মরদেহটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করেন তার মা ও ভাই। পরদিন সিংগাইর থানায় ১৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন কামরুন্নাহার।

    সেদিন ও পরদিন মারিয়ার ছেলেবন্ধু, তার মা রুমা ও বড় বোন মীম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও ল্যাব সহকারী ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মো. সুজন, মো. মাসুদ (৩৫) ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রাসেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক।

    গ্রেপ্তারের খবরে রাসেলকে দল থেকে বহিষ্কার করে মানিকগঞ্জ ছাত্রদল। জেলা সংগঠনের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ব্যক্তির কোনো দায় সংগঠন নেবে না। ওর নামে একটা হত্যা মামলা হয়েছে, তাই দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে আমরা জানতে পেরেছি, রাসেলের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে।’

    মারিয়ার মায়ের দাবি, রাসেলের সঙ্গে সুজন ও মাসুদের পরিচয় আছে। দলীয় কাজে তাদের প্রায়ই একসঙ্গে দেখা গেছে।

    ছেলের পরিবার যা বলছে

    মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পরই তার বন্ধু, বন্ধুর মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ছেলেটিকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে। তার মা রুমা ও বোন মীম আছেন মানিকগঞ্জ কারাগারে। মারিয়া হত্যায় তার ছেলেবন্ধু জড়িত— এমন অভিযোগ তুলে এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে গিয়ে পরিবারটির অন্য কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয়কে পাওয়া যায়নি।

    তবে ছেলেটির প্রবাসী বাবা বরকত উল্লাহর সঙ্গে কথা হয় ফোনে। তার ভাষ্য, ‘আমার ছেলের প্রেমের বিষয়ে কিছুই আমি জানতাম না। আমার স্ত্রী ১৫ তারিখ কল করে আমাকে জানায়, স্কুল থেকেই আমার ছেলেকে মারিয়ার ভাই ওদের বাড়িতে ধরে নিয়ে গেছে। রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত ওকে ফেরত দেয় নাই। পরে আমার আত্মীয়রা মারিয়াদের বাড়িতে গিয়ে অনেক বুঝিয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে আসে।’

    ‘ওই দিন থেকে আমার ছেলে বাসাতেই ছিল। পুলিশ আসত, তাকে আর আমার স্ত্রীকে থানায়ও ডাকা হতো। অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পায় নাই দেখেই তো ওদের ছেড়ে দিয়েছিল। ২১ তারিখে আমার ছেলেকে নিয়েই মেয়ের লোকজন লাশ দেখতে যায়। পরে ওইখানে আমার ছেলেকে সবাই অনেক মারধর করে। আমার ছেলে ভয়ে বাঁচার জন্য বলে, আমি কিছু জানি না, আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন’— যোগ করেন তিনি।

    ছেলেটিকে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেখানে তাকে বলতেও শোনা গেছে, ‘আমার মা জানে।’

    ঘটনাস্থল, এজাহার ও পুলিশের ভাষ্য

    সিংগাইরের সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল বাজারে অবস্থান সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের। সেখান থেকে পূর্বদিক কানাইনগর গ্রামে মারিয়ার ছেলেবন্ধুটির বাড়ি। আর উত্তর-পশ্চিম দিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামে বাড়ি মারিয়ার।

    কামরুন্নাহারের কথা অনুযায়ী, ১৫ তারিখ মারিয়াকে স্কুল থেকে বের হয়ে গোপালনগর গ্রামের দিকে যেতে দেখেছেন কেউ কেউ। এজাহার ঘেঁটে জানা গেল, ওই গ্রামে আসামি সুজন, আদনান, স্কুলের ল্যাব সহকারী ইয়াকুব ও আশরাফুলের বাড়ি। আদনান ও আশরাফুল সুজনের পরিচিত বলে জানালেন বাদী।

    অভিযুক্ত কিশোরের বাবার দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই তারা প্রথম মারিয়ার সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। তবে মারিয়ার মায়ের করা মামলায় অভিযোগ, ওই কিশোর অনেক দিন ধরেই মারিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি ছেলেটির পরিবারকে জানানো হলে তারা আমলে না নিয়ে উল্টো মারিয়ার ‘ক্ষতি করার’ হুমকি দিয়েছিল।

    মারিয়ার ভাই মাহিম দেওয়ানের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্কের কথা তাদের জানা নেই। বরং স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জেনেছেন, ‘মারিয়াকে ওই কিশোর নাকি এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল।’ সে কারণেই মামলার এজাহারে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    মাহিম বলছিলেন, ‘মামলার আসামি রাসেল ওই ছেলের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। আমাদের ধারণা, ওই ছেলে (মারিয়ার বন্ধু) সরাসরি হত্যায় জড়িত নাও থাকতে পারে। পুলিশ এতদিনে নিশ্চয়ই সবকিছু জানতে পেরেছে। তবে তারা আমাদের কিছু বলছে না। তাদের আচরণে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, ঘটনাটার শিকড় হয়তো অনেক গভীর।’

    এজাহারে ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়ার উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেহের নিচের অংশ ছিল বিচ্ছিন্ন। তা ছাড়া ডুমুরজাতীয় যে জলডাঙ্গা গাছে দেহটি ঝুলন্ত ছিল, সেখান থেকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে বিচ্ছিন্ন দুই পা পাওয়া যায়। বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামিরা যোগসাজশের মাধ্যমে মারিয়াকে হত্যা করার পর বিচ্ছিন্ন দেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

    তবে স্কুলে টিসি দেওয়ার পরের দীর্ঘ সময় অভিযুক্ত কিশোরের মারিয়ার পরিবারের সঙ্গে থাকার বিষয়টির কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মারিয়ার পরিবার অথবা পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ থানার ওসি থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। প্রশ্নের জবাবে তাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর— ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা। গ্রেপ্তার করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পাওয়া গেল কি না, সে বিষয়ে সবার মুখে কুলুপ।

    জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলছেন, ‘অভিযোগ দেওয়ার কারণেই তো অনেককে অ্যারেস্ট করেছি…। এখন পর্যন্ত মূল ঘটনা জানার তদন্ত চলছে। অ্যারেস্টের বাইরেও জড়িত থাকতে পারে কেউ কেউ। তাদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই কোনো তথ্য আমরা দিচ্ছি না। তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

    তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে পুলিশের প্রাথমিক ধারণার কথা। স্কুলকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ মারিয়ার মৃত্যুর পেছনের কারণ হতে পারে বলেও তাদের সন্দেহ।

    কিশোরী মারিয়ার মৃত্যু অনেক প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের অতিসক্রিয়তা একটি কিশোরীর জীবনের গতিতে যতিচিহ্ন এঁকে দিল কি না— সেই বিতর্ক থেকেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছে না রাজধানীর অদূরের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়।

  • সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

    সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র বিক্ষুব্ধ থাকতে পারে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থি মুসলিম রাষ্ট্র। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত যেকোনো অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান তিনি।

    রাষ্ট্রদূত আরও প্রস্তাব করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার আবেদন করলে যাচাইয়ের সুবিধার্থে সেই আবেদনের অনুলিপি ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো যেতে পারে।

    জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইনচার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ ও আলাইদি উপস্থিত ছিলেন।

  • নতুন পোশাকে পুলিশ

    নতুন পোশাকে পুলিশ

    নতুন ইউনিফর্মে (পোশাক) দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। বুধবার পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নতুন পোশাকে দেখা যায়। আইজিপির পরনে খাকি প্যান্ট আর গাঢ় নীল শার্ট এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের পরনে খাকি প্যান্ট ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট দেখা যায়।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বতী সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিগত অন্তর্বতী সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানায়। গতকালই নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেল পুলিশকে। অবশ্য এখনো সব পুলিশ সদস্য এই পোশাক পাননি।
    অল্প সময়ের মধ্যে সবাই নতুন পোশাক পেয়ে যাবেন জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বুধবার থেকে নতুন পোশাক পরছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে এখনো সব পুলিশ সদস্যের হাতে পৌঁছয়ানি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই পাবেন।

    তিনি জানান, খাকি প্যান্ট ও গাঢ় নীল রংয়ের শার্ট জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটের পুলিশের জন্য এবং খাকি প্যান্ট ও জলপাই রংয়ের শার্ট ব্যবহার করবেন শুধু মহানগর পুলিশ সদস্যরা।

    গত ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে দিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরের আগের পোশাকে ফিরেছে পুলিশ বাহিনী।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটের পুলিশের জন্য হবে গাঢ় নীল রঙের শার্ট। সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের হবে ‘হালকা অলিভ’ (জলপাই) রঙের এবং সকল পুলিশের প্যান্টের রঙ হবে খাকি। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র্যা ব এই পোশাকের আওতামুক্ত থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে পোশাক পরিবর্তন হবে না। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ২২ বছর পর পুলিশের পোশাকে আবারো ফিরেছে ‘খাকি’ রঙ।

  • ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: জামায়াত আমির

    ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে হবে— এমন দাবি তুলেছিলাম সংসদে। এ কারণে অনেক সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কোনো সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করবো না ইনশাআল্লাহ।

    বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রবাসীদের পক্ষে সবসময় জোরালো বক্তব্য রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা এই দাবি ইনশাআল্লাহ জোরালোভাবে উত্থাপন করবো সংসদে। প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন আজ খবর পেলাম যে একদল আমার বিরুদ্ধে খেপে গেছে। আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে। দালাল যারা তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি কি দালালের কোনো তালিকা দিয়েছি? আপনাদের জানামতে আমি কি কোনো সংস্থার কথা বলেছি? তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত কষ্ট লাগে কেন?

    তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়। সারা বিশ্বে আমাদের এই গরিব লোকগুলোকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়। এরপরে তারা প্রতারিত হয়। সেখানে আবার গিয়ে দেখা যায় যে তার ওই ভ্যালিডিটিটাও নেই, জেলে থাকে। তাহলে আমরা কি এগুলা নীরবে গিলবো আর হজম করবো? দেখতে থাকবো? না। এগুলার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কী করতে পারবো, আমরা সংসদের ভিতরে চিৎকার দেবো, আওয়াজ তুলবো। যদি কেউ ভুলের মধ্যে থাকেন এতে তাদের সংশোধনের সুযোগ হবে।

    মুদি দোকানের কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গরিব মানুষ প্রান্তিক ব্যবসায়ী মুদি দোকানদার, তাদের উপরে উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছিল। মানে প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাও আউট হয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল।

    অর্থবছর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা অর্থবছর পরিবর্তনের কথা বলছি। আমাদের দেশে একটা দানব আছে, উন্নয়নের দানব। এটা নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়। শেষের তিন মাস গা ঝাড়া দিয়ে চলে আসে। এসে এমন গতিতে কাজ শুরু করে, ঝড়ের গতি।

    নয় মাসে এডিপি ব্যয় ৪২ শতাংশ, অথচ তিন মাসে ৫০ শতাংশ। তখন কী হয়? বৃষ্টি ঝড়ে জনগণের টাকা পানির সঙ্গে মিশে যায়। লুটপ্ট, অপচয়, হজম। কেন এটা করতে হবে তার কোনো যৌক্তিকতা নাই। আমরা বলেছিলাম আমাদের আবহাওয়া এবং সিজন অনুযায়ী এটা হোক জানুয়ারির এক তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ। তাহলে অন্তত শেষ তিন মাসে দৈত্যের ঘুম ভাঙলেও আমাদের সম্পদ পানিতে ভেসে যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন বিদেশ থেকে আনা সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের উপরে একটা ভালো ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব এসেছে। আমরা এটা তুলে দিতে বলেছিলাম। অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বললেন যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে ভালো হতো। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। উনারা আশ্বাস দিলেন যে এখন তো আর এটা বিলে আনা যাচ্ছে না।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম, আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে এমপি হোক মন্ত্রী হোক যাই হোক আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনবো না। সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেবো না। কিছু বন্ধু ওই গুড়ের সঙ্গে কিছু লবণ না ছিটাইলে আরাম পায় না। আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি, অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি।

    এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নিবো না, এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা কি সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওইটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে তত সময় উনি এটা ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নাই। ছেড়ে দিতে হবে। এটাকে নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়।

    তিনি বলেন, আমরা আরও বলেছিলাম সরকারি সুযোগ সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করবো। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায় এখানে কোনো অপরাধ নাই। তা আমরা সেটা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি। এই যে বাজেটটা এসেছে, বলা হচ্ছে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। কিন্তু আমরা যদি মানি অ্যান্ড মার্কেট ইনফ্লেশনের কথা চিন্তা করি তাহলে এটাকে বড়, সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট বলা যাবে না।

    অনেকটা বাজারের সঙ্গে এটা সংগতিপূর্ণ। বড় বাজেট করা কোনো অপরাধ নয়। একটা জাতির মিশন থাকলে বড় বাজেট লাগবে। চ্যালেঞ্জটা কয়েক জায়গায়, একটা হলো বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা। এর চাইতে বড় হলো দুর্নীতি। এই দুই জায়গায় যদি বড় সংস্কার আনা না যায়, বাজেট হবে কিন্তু বাজেটের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে না। এই বাজেট থেকেই তো ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। যদি এই দুই জিনিসের সংস্কার না হয় আবার যাবে।

    এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা শুধু এনবিআরের না। এনবিআর আমাদের কালেক্টর। কিন্তু এক্সিকিউশন তো এক্সিকিউটিভ ডিপার্টমেন্টেরর ওপর। এর সঙ্গে একদম প্রান্তিক লেভেলে গ্রামের একজন ওয়ার্ড মেম্বার এবং কোনো প্রজেক্ট হয়ে থাকলে সেই প্রজেক্টে জড়িত।

  • ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু, শেষ ২৬ সেপ্টেম্বর

    ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু, শেষ ২৬ সেপ্টেম্বর

    ২০২৭ সালে পবিত্র হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বুধবার (১ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন শেষ করার জন্য আগ্রহী হজযাত্রীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    জানা গেছে, গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ ঘোষণা করে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ রোডম্যাপ হস্তান্তর করা হয়।

    বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ তার হাতে হজের রোডম্যাপ তুলে দেন।

    রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ইসলামের চার খলিফার নামে সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটেলিয়নের চার কোম্পানি

    ইসলামের চার খলিফার নামে সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটেলিয়নের চার কোম্পানি

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটেলিয়ন গঠন করেছে। এ ব্যাটেলিয়নের অধীনে চারটি কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা— হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর নামে।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) সেনাপ্রধান ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএতে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’-এর পাশাপাশি নতুন এ ব্যাটেলিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’-এ পাঁচটি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে। সেগুলো হলো— জাহাঙ্গীর কোম্পানি, রউফ কোম্পানি, হামিদ কোম্পানি, নুর মোহাম্মদ কোম্পানি এবং মোস্তফা কোম্পানি।

    সূত্রটির দাবি, নতুন গঠিত দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কাঠামোয় সম্প্রসারণ ঘটেছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর নামকরণে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নে আরও দুটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি হিসেবে প্রস্তাবিত এ দুটি ইউনিটের নাম নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) এবং স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-এর নামে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ দুটি কোম্পানি এখনো অনুমোদন পায়নি।

    সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর অফিসার ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন একটি ব্যাটেলিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

  • দেশের ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার মোতায়েন

    দেশের ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার মোতায়েন

    দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সমজাতীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে আজ থেকে ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পাঁচ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (১ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে এ মোতায়েন কার্যকর করার পাশাপাশি বাস্তবায়ন শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

    সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখা-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও জনবান্ধব করতে নবগঠিত পাঁচটি উপজেলাসহ দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ১০ জন করে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

    যেসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকেই আনসার সদস্য কর্মরত রয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সদস্যদের সমন্বয় করে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১০ জন আনসার সদস্য নিশ্চিত করতে হবে।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ হাজার আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় হবে। এ অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পরিবর্তে আনসার ও ভিডিপির নির্ধারিত বাজেট কোডে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে আনসার সদস্যদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

    একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনরাও আরও নিরাপদ পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।

  • গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে পুকুরে ডুবে রামিম হোসেন নামে আট বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।
    নিহত রামিম গাংনী উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসি রুহুল আমিনের ছেলে ও গাংনী তালিমুল কোরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ওই মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত হাজি মহসিন আলীর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, রামিম হোসেনসহ তার কয়েকজন বন্ধু পুকুরের পাশ দিয়ে হাটার সময় পা ফঁসকে পড়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
    অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    একই পুকুরে ডুবে এর আগেও দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা