জাতীয়

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

    দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, দুদকের এই মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ জুন আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আবেদনটি করেন । সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, আগে থেকেই কারাগারে থাকা কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ হলে সেই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলায় রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাশেদ খান মেনন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক।

  • মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কবার্তা

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কবার্তা

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা বা এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার মন্ত্রণালয় এক জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও কঠোর নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। পাশাপাশি কোনো কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ বা লেনদেন থেকেও বিরত থাকতে হবে।

    মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া গমন-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ জানাতে দেশের ভেতর থেকে ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া-সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে টেলিফোন, ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করলেই তা যথাসময়ে গণমাধ্যম ও সরকারি মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তত দিন পর্যন্ত গুজব বা অননুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাধারণ গ্রামবাসীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবিদার বাবর আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ায় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হুদাপাড়া গ্রামের বাবর আলী নামের এক ব্যক্তি হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ার মরহুম আইয়ুব আলী মেম্বারের ছেলে শাহিন (৩০), ওলি শেখের ছেলে ও পেশায় চুল ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম (২৮), মহৎ হালসানার ছেলে সুইট (৩৫), গোলাম হালসানার ছেলে নজরুল ইসলাম, আজাদ শেখের স্ত্রী শাহিনুর শেখ (৪০), আসেহার (৪৫) এবং জহির উদ্দিন জনিসহ অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবর আলী প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে এই নিরীহ গ্রামবাসীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করাচ্ছেন।

    বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত বাবর আলী নিজেকে হঠাৎ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় এ ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এর আগে কখনোই তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় বা জড়িত থাকতে দেখা যায়নি।

    গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে হুদাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান,

    একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুদাপাড়া এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশি হয়রানি বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না করা হয়।

    তবে অভিযুক্ত বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন পতিত আওয়ামীলীগের লোকজন তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন জেলা বিএনপির সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমি এখানে একটি বিএনপির অফিস করেছেন যা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মাদক আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এই হয়রানি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • এনসিপির সমাবেশে হামলায় সংসদে আখতারের ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

    এনসিপির সমাবেশে হামলায় সংসদে আখতারের ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি সামনে আনেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি সোমবার সাভারে দলের পদযাত্রা কর্মসূচিতে হওয়া হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে বিরোধী দলের নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, জুলাই মাসব্যাপী সারা দেশে তাদের পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার সাভারে উদ্বোধনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগেই সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে বক্তব্য চলাকালে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে দলের নেতা-কর্মীরা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।

    এনসিপির এই নেতা আরও দাবি করেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ কেন্দ্র করে কর্মসূচি দিলেই বিভিন্ন মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। ক্ষমতাসীন দলের মতো বিরোধী দলেরও সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে সাভারের ঘটনায় সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

    তার এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ পর্যায়ে কথা বলার জন্য ফ্লোর চান আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। স্পিকার প্রথমে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুললেও পরে তাকে সুযোগ দেন।

    ফ্লোর পেয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেই সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনিভাবে যতটা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, স্বচ্ছতার সঙ্গে ততটা কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। হিউমান রিসোর্সের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

    কৃষির অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানা আবার চালু করা হবে। সনাতনী পদ্ধতির বদলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনে সরকার কাঁঠাল রপ্তানি কর‌বে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কারণে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরছে বলেও জানান তিনি।

  • মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে এক ভিন্নধর্মী কৃষি উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা লালন-পালনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই এলাকায় সৃষ্টি করেছেন ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। ২০২৩ সালে ছোট পরিসরে মাত্র ২টি দুম্বা নিয়ে শুরু হওয়া এই খামারে বর্তমানে দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। এখানে শুধু তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে-জুন মাসে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা দরে ৩টি দুম্বা বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতাদের বেশির ভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ। দুম্বা পালন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এখনই বিক্রি না করে প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই খামারে।

    রাইয়ান বিন রাকিব দুম্বা খামারের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার দাম এক লাখ টাকা। অথচ একই বয়সী উন্নত জাতের একটি ভেড়ার দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভেড়ার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয় মরুর দেশের প্রাণীটি। এক বছর বয়সী একটি দুম্বার ওজন সাড়ে তিন মণ পর্যন্ত হয়। তখন সেটি তিন লাখ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি করা যায়। দুম্বা পালন এখন কঠিন কিছু নয়। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিচ্ছে এই প্রাণী। ঘাস, খড় ও দানাদার খাদ্যেই বেড়ে উঠছে প্রাণীগুলো। রোগবালাইও তুলনামূলক কম। ফলে দুম্বা পালনে লাভের সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

    দুম্বা নিয়ে এক সম্ভাবনাময় উদ্যোগে দেশীয় পরিবেশে বিদেশি প্রজাতির এ প্রাণী লালন-পালন সহজ নয়। তবে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রাকিবুল ইসলাম সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন।

    সরেজমিনে খামার ঘুরে দেখা যায়, বিশাল খামারের এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা মাচার মতো উঁচু করে বানানো সেই ঘরের এক পাশে মা দুম্বাসহ ৩টি বাচ্চা দুম্বা এবং অন্য পাশে রাখা হয়েছে ১টি বড় পাঠা দুম্বাসহ ১১টি দুম্বা। চারপাশ ঘেরা থাকলেও দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। পরিপাটি পরিবেশে যত্নের সঙ্গে লালন করা হচ্ছে প্রতিটি দুম্বা। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রজাতির পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    সাহেবনগরের এই দুম্বা খামার এখন শুধু একটি খামার নয়, বরং স্বপ্ন দেখার এক অনন্য উদাহরণ। মরুভূমির দুম্বা আজ কুষ্টিয়ার সবুজ প্রান্তরে নতুন সম্ভাবনার গল্প বলছে, যেখানে সাহস, শ্রম আর উদ্ভাবনী চিন্তার মিলনে গড়ে উঠছে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানী কাকরাইলের আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শিরোনামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। নির্বাচন এবং বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। জুলাইয়ে আমরা যেই আন্দোলন করেছিলাম এর ২টি উদ্দেশ্য ছিল; আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং আওয়ামী কায়দা বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা। হাজার হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ।’

    আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই গড়িমসি করে আসছে, সেই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা থেকেই। ভোটের পিআর অনুযায়ী উচ্চকক্ষ তারা মানবে না, নতুন বিচারিক প্রক্রিয়া, পিএসসি, দুদক নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কার মানতে নারাজ তারা।’

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতিদ্রুত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে জুলাইকে কটূক্তি করছে। তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

  • প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলের সেমিনারে তিনি এ পরামর্শ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে অলি আহমেদ বলেন, আপনার কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে যারা বিদেশি গুপ্তচর তাদেরকে বের করা। তাদের দ্বারা আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে সংস্কারের বিষয়ে আপনার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, চতুর্দিকে শত্রু রেখে আপনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা হলাম আপনার প্রকাশ্য শত্রু। যারা আপনার পাশে আছেন, তারা হচ্ছেন আপনার আসল শত্রু।

    অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শত্রু দ্বারা আবর্তিত। বিদেশি গুপ্তচররা সরকারে ও দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। বিদেশি গুপ্তচর যেকোনো সময় তারেক রহমানের বড় ক্ষতি করতে পারে। তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। নতুন বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে না। আপনি (তারেক রহমান) ভালো অবস্থানে নেই।

    অলি আহমেদ বলেন, ১১ দল আপনার শত্রু নয়, আপনার বন্ধু। যার কারণে আপনাকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দিচ্ছে। আপনি ইতিহাসে একজন নেতা হয়ে থাকেন।

  • ‘ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে হারানো হয়েছে- জামায়াত আমির

    ‘ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে হারানো হয়েছে- জামায়াত আমির

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত।

    বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল তারা মেনে নিয়েছেন। তবে গণভোটের রায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নতুন বা পুরোনো—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ গ্রহণযোগ্য নয় এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, কেউ যদি শালীনতার সীমা অতিক্রম করে জুলাইকে অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও। তিনি বলেন, দেশে আর কোনো রক্তপাত এড়াতে হলে সরকারের উচিত গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা।