জাতীয়

  • অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    ‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

    তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

  • কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের পাশে অবস্থান করা শতাব্দী প্রাচীন গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। মসজিদ কমিটি, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বজনমতের ভিত্তিতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ও নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মনে করা হচ্ছে শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই এই মসজিদ স্থানান্তরের কাজ শুরু হতে পারে। কারণ বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে শনিবার থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।

    ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ যা অনেকের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হয়। এর কারণ মসজিদটির অবস্থান।

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকায় প্রবল বর্ষণ বা ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সময় পাইলটের পক্ষে রানওয়ে থেকে সামান্য দূরত্বে এই মসজিদ ভিজ্যুয়াল ইলিউশন তৈরি করে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া কিছু সেফটি নর্মস বা সুরক্ষাবিধি রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, বাঁকড়া মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি বা সহকারী রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিকভাবেই এই আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে বেশ কিছুটা কম দূরত্বে রয়েছে মসজিদটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানওয়ের এত কাছাকাছি এই কাঠামোটি থাকার কারণে সেখানে আধুনিক ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ (আইএলএস) বসানো যাচ্ছিল না। আর এর ফলেই বিমানবন্দরের উড়ান পরিচালনার সামগ্রিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

    বর্তমান এই কাঠামোগত বিন্যাসের কারণে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। মসজিদটির অবস্থানের দরুন সেকেন্ডারি রানওয়ের ‘টাচডাউন পয়েন্ট’ বা বিমান ছোঁয়ার নির্দিষ্ট স্থানটিকে বাধ্য হয়ে কিছুটা এগিয়ে এনে ছোট করতে হয়েছিল। আর রানওয়ের এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় বিমানগুলো এই রানওয়েটি ব্যবহার করতে পারছিল না। মসজিদটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেলে এই সমস্ত বাধা-বিপত্তি এক ঝটকায় দূর হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণের রাস্তা সাফ হওয়ায় বিমান চলাচল ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হবে।

    কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, চলতি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই ২০১৩ সালের আগে কলকাতা বিমানবন্দর যে পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ব্যবহার করত, সেটিও এবার ভেঙে ফেলা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ভেঙে ফেলার পর নতুন টার্মিনাল তৈরি এবং মসজিদ স্থানান্তরের পর দ্বিতীয় রানওয়ে পুরোদমে চালু করা গেলে কলকাতা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন করার ক্ষমতা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন)।

    এই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে আছে প্রায় ৩০ বছর। সূত্র বলছে, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি।

    তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় ফের মসজিদ সরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঈদের নামাজ ওই মসজিদে পড়েন বহু মানুষ। তাদের ভাবাবেগকেও প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মনে করা হচ্ছে শনিবার থেকেই এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।

    মসজিদ কমিটির তরফে আগেই এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।’

    স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন ‘যারা নামাজ পড়তে যান তাদের কোনো পাশ ইস্যু করা হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা রেখে তাদের রানওযের পাশে থাকা ওই মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। আপনারা জানেন আগের সরকারের আমলে কত জাল আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তার একটা সংকট তৈরি হয়। একইসঙ্গে যারা নামাজ পড়তে যান তাদের জন্য সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন রাখতে হয়। একটা বাস সবসময় যাতায়াতের জন্য রাখতে হয়। মসজিদটির জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বড় বিমান আসতে পারে না। বিমানবন্দরের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এক কথায় বিমানবন্দরের উন্নয়ন কিছুই হচ্ছে না। আবার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। আমরা মসজিদ কমিটিকে বলেছি রানওয়ের বাইরে এয়ারপোর্ট অথরিটির অন্য জমি আপনারা চিহ্নিত করুন, আমরা দিয়ে দেবো।’

    ১৯২৪ সালে চালু হয় কলকাতা বিমানবন্দর। জমিটি প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তি। পরে ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তখন মসজিদের পাশেই ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেয়া হয়। মসজিদটি থেকে যায় বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভেতর, রানওয়ের পাশেই।

    ১৯৬২ সালের জমি অধিগ্রহণের অন্যতম শর্ত হিসেবে গৌরীপুর কালীমন্দিরের (যশোহর রোডের ওপর) বিপরীতে একটি ছোট্ট লোহার গেট করা আছে। তার ওপর রয়েছে সিআইএসএফের ওয়াচ টাওয়ার। গেটের কলিং বেল বাজালে নামাজ পাঠ করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য গেট খোলা হয়। তাদের আধার কার্ড যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ বাসে করে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যান। দৈনিক তিনটি শিফটে এরকম ৪টি করে বাসের ব্যবস্থা থাকে। এই বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই মসজিদ পর্যন্ত যাওয়া কার্যত অসম্ভব।

    শনিবার সালামপুরের কারণে যদি মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয় বাইরের জগতের মানুষ সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না। কারণ ভাঙার যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরের নিজস্ব। সেগুলো পুরাতন টার্মিনাস কার্গো বিভাগ থেকে সরাসরি রানওয়ে হয়ে মসজিদ পর্যন্ত যাতায়াত করবে। যশোহর রোড থেকে মসজিদের দূরত্ব কমবেশি প্রায় ৩ কিলোমিটার।

  • শাহবাগে ‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

    শাহবাগে ‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ আদেশ দেন।

    এর আগে মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান। আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আসামিকে কারাগারে রাখা হোক। পরবর্তীতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তবে এদিন আসামিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন ছিল না।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পশ্চিম পাশের পাদদেশে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রচিত ‘তাফহীমূল কুরআন’এর তিনটি খণ্ডে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ওই যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। উত্তেজিত জনতার মারধরে আসামি সামান্য আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

  • ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই আসুন

    ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই আসুন

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই; এখনই ফিরে এসে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরা উচিত।

    শনিবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।’ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, আপনার (শেখ হাসিনা) শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ—এসব বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? কেন দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম? এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।

    পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল লিখেছেন, আপনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আগেই বিদেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনার সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির ভার বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তাদের অনেকেই আজও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন। আর যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।’

  • তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

    তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

    শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারেন না এবং পাকিস্তান ভাঙতে তার কোনো অবদান থাকুক, তা তিনি চান না। এ কারণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, এটিই প্রকৃত সত্য।

    মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ভিত্তিতে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা ছিল অন্যায়।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চান এবং নিজেদের দলের নেতার বাইরে অন্য কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

    আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই ছিল ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি।

    সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান তাকে এ রেজিমেন্টে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

    এ সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে চিরাচরিত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

  • চট্টগ্রামের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

    চট্টগ্রামের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

    চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকার দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাহ্দী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরকার জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উদ্ধার কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

  • বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

    বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

    ডেস্ক নিউজ : বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাক। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

    ‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

    ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

    ত্রাণ বিতরণ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি। যে বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেগুলো দেখতে নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন, কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে তুলে দেন সহায়তা, কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

    গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

    লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন। সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।

    স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।

    একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটা শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিলেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

    তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

    সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।

    বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ তার সঙ্গে হাত মেলাতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ শুধু নিজের ক্ষতির কথা বলতে চান।

    পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একই ডাক ‘দাদু আসছে… দাদু আসছে…’

  • চাল নিয়ে প্রতারণা

    চাল নিয়ে প্রতারণা

    আমাদের প্রধান খাদ্য চাল নিয়ে দেশে বছরের পর বছর ধরে যে সুসংগঠিত ও জঘন্য প্রতারণা চলছে, শনিবার যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এর এক ভয়ংকর চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে নীতিপ্রণেতারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, দেশে মিনিকেট নামে ধানের কোনো জাত নেই, নেই কোনো সরকারি স্বীকৃতি। অথচ এক অদ্ভুত মায়াজালের মতো দেশের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে বছরের পর বছর ধরে দাপটের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে এই তথাকথিত সরু চাল। জানা যায়, মূলত স্বর্ণা, পাইজাম ও বিআর-২৮-এর মতো মোটা ও মাঝারি জাতের ধান কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মজুত করে একশ্রেণির অসাধু মিলার। এরপর আধুনিক অটো রাইস মিলে সেগুলোকে অতিরিক্ত ছাঁটাই, ঘর্ষণ এবং কেমিক্যালের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পলিশ করে চকচকে ও সরু আকার দেওয়া হয়, যার নতুন নাম হয় মিনিকেট। এই কারসাজির মাধ্যমে শুধু যে ভোক্তার পকেট থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে তা-ই নয়, গোটা জাতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ছাঁটাই ও পলিশ করার কারণে চালের গায়ে থাকা প্রাকৃতিক ও অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন-ভিটামিন বি-১, বি-৬, আয়রন ও ফাইবার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আর এই অতি-পরিশোধিত চাল খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা দেশে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক অসংক্রামক রোগ বাড়িয়ে তুলছে। উল্লেখ্য, এই প্রতারণা রুখতে ২০২৩ সালে একটি সুনির্দিষ্ট আইনও প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইনে চালের বস্তার গায়ে অবৈজ্ঞানিক বা কাল্পনিক নাম লিখলে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়। পরিতাপের বিষয়, তদারকি সংস্থাগুলোর শৈথিল্য ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই এই নিষিদ্ধ চালের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই জনবিরোধী খাদ্য প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ২০২৩ সালের আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে একদিকে দেশব্যাপী সমন্বিত ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে, মিল পর্যায় থেকে চালের বস্তার গায়ে ধানের আসল জাত এবং মিলিংয়ের তারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো বস্তায় ‘মিনিকেট’ শব্দটির ব্যবহার পেলেই তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একইসঙ্গে, ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাহ্যিক সৌন্দর্য বা চকচকে সাদা চাল মানেই যে পুষ্টিকর নয়, বরং তা একপ্রকার বিষ, এ তথ্যটি প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে মোটা ও লাল চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। আমরা আশা করব, নীতিনির্ধারকরা এই সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার লুণ্ঠন ও স্বাস্থ্যবিধ্বংসী বাণিজ্য বন্ধে মিলারদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

  • কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামেও গড়ে তোলা হয়েছে পর্যাপ্ত মজুত। মূল্য সহনীয় রাখতে বাজেটে চালের শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবু বাজারে কমছে না চালের দাম। বছরের পর বছর দৃশ্যমান মিলার সিন্ডিকেটে এক প্রকার অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে।পরিস্থিতি এমন-হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়েও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। অথচ সেই ধান থেকেই চাল বিক্রিতে মোটা অঙ্কের মুনাফা করছেন অসাধু চক্র। মিলগেট থেকে পাইকারি হয়ে খুচরা বাজারে চালে দামের ব্যবধান করা হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে দেশের মানুষ চড়ামূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সেই অর্থের ভাগ মিলছে না কৃষকের কপালে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ধান থেকে উৎপাদিত চালের পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ, খুদ ও ভাঙা চাল বিক্রি করেও বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করছেন মিলাররা। অথচ বাজারে চালের দামে তার কোনো প্রভাব নেই। এতে মাঠে কৃষক ও বাজারে ঠকছেন ভোক্তা। মাঝখানে ফুলেফেঁপে উঠছে সেই অতিমুনাফালোভী চক্র। এসবের অভিযোগ থাকলেও যেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপে নেই।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য মতে (৫ জুলাই), বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারিভাবে দেশে ধান, চাল ও গমের নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি গুদামে মোট মজুত ২২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৫ টন খাদ্যশস্য। এর মধ্যে ফ্লোটিং চাল ৪ হাজার ৭৭২ টনসহ মোট চালের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৯ টন। পাশাপাশি ধানের মজুত ৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮৩ টন। সঙ্গে গম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ টন মজুত রাখা হয়েছে। এর পরও দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা।

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ অঞ্চলের কৃষক আব্দুল আলিম যুগান্তরকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে বর্গাসহ ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। সেখানে বর্গা খরচই দিতে হয় বছরে ১৫ হাজার টাকা। কীটনাশক কিনতে ব্যয় হয় ৩-৪ হাজার টাকা।

    দিনমজুরদের দিতে হয় ৫০০০ টাকা। সেচে খরচ পড়ে ৩ হাজার টাকা। সবমিলে এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে খরচ পড়ে যায় ২৫-২৭ হাজার টাকা। তবে বর্তমান বাজারে এক মন ধানে ২০০-৩০০ টাকা লোকসান দিয়ে ১১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিলাররা সিন্ডিকেট করে ধানের বাজারে নৈরাজ্য করছে। আমরা কৃষকরা কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে ধান আবাদ করলেও লাভ হচ্ছে না। আর সেখানে মিলাররা ধান নিয়ে চাল তৈরি করে অতিমুনাফা করছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য মতে, কৃষকরা এক মন ধান বিক্রি করছে ১০০০-১১০০ টাকা। এই এক মন ধান দিয়ে ২৫ কেজি চাল হয়। ৫০ কেজির ধানের মূল্য দাঁড়ায় ২২০০ টাকা। সেক্ষেত্রে মিল পর্যায়ে মিনিকেট নামের অবৈধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ কেজির বস্তা ৩৩০০ টাকা। দেখা যায় মিলাররা আনুসাঙ্গিক খরচ ও লাভ রেখে ৫০ কেজির বস্তায় ১১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। আর মিল পর্যায়ে ৩৩০০ টাকা বস্তা মিনিকেট পাইকারিতে ৩৪০০ ও খুচরায় ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ের ধান থেকে মিলের চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় হয়ে ক্রেতার কাছে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যাচ্ছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, কৃষক থেকে শুরু করে মিল, পাইকারি ও খুচরা মোট ৪ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে চাল পৌঁছায়। সেখানে ধান থেকে চাল উৎপাদন খরচ, পরিবহণ খরচ মিলে ২২০০ টাকার চাল সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা বিক্রি করলে ক্রেতার ভোগান্তি পোহাতে হয় না। তবে মিল থেকেই বড় ব্যবধানে চাল বিক্রি হচ্ছে, আর পাইকারি ও খুচরায় এই দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আর এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা ভোক্তাকেই বহন করতে হচ্ছে। যা নজরদারি করা দরকার।

    তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে চালসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যায়নি। বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে চালসহ অন্য পণ্যের মূল্য সহনীয় করা যাচ্ছে না। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

    নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল পর্যায়ে নাজিরশাইল ২৫ কেজির বস্তা মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা পাইকারি পর্যায়ে ২১০০ টাকা ও খুচরায় ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮ জাতের চাল মিল পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায় এই চাল ২৭০০ ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকা।

    কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিল পর্যায়ে সব ধরনের চালের দাম বেশি। মিল মালিক সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনলেও মিলাররা বাড়তি মুনাফা করে। মিল থেকে সেই চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় যেতে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যায়। যা দেশের সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে।

    তিনি জানান, হঠাৎ করেই মিল মালিকরা এক মাস ধরে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। ৫০ কেজির বস্তা পোলাও চাল মিলে বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা। যা এক মাস আগেও মিলে ৬৬০০ টাকা ছিল। যার ফলে এই চাল খুচরা পর্যায়ে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১৫০ টাকা ছিল। দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

    জানতে চাইলে তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক ডজন কমকর্তা যুগান্তরকে বলেন, চালের বাজারে মূল্য সহনীয় রাখতে তদারকি অব্যাহত আছে। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও অভিযান পরিচালনা করি। সব মিলে মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • স্থানীয় নির্বাচনে পুরুষ বুথে ৬০০, নারী বুথে ৫০০ জন ভোট দেবেন

    স্থানীয় নির্বাচনে পুরুষ বুথে ৬০০, নারী বুথে ৫০০ জন ভোট দেবেন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ স্থাপনের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ৬০০ জন পুরুষ ও ৫০০ জন নারী ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়ার সই করা এক সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আগে ভোটার সংখ্যার তুলনায় কম ভোটার নিয়ে পৃথক ভোটকক্ষ নির্ধারণের যে নিয়ম ছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে।

    এর আগে সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটকক্ষে সাধারণত ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য ব্যবস্থা রাখা হতো। নতুন নিয়মে এই সংখ্যা বাড়িয়ে পুরুষ ভোটারের ক্ষেত্রে ৬০০ এবং নারী ভোটারের ক্ষেত্রে ৫০০ করা হয়েছে।

    উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। আগে উপনির্বাচনে কোনো একটি পদের ভোটে একটি কক্ষে ৫০০ জন পুরুষ ও ৪০০ জন নারী ভোটারের ব্যবস্থা রাখা হতো। এখন সাধারণ ও উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ও ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।

    ইসির নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটারদের চাপ কমাতে প্রয়োজনে প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস তৈরি করা যাবে।

    এ ছাড়া আগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় একই ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।