জাতীয়

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সেবা জনগণের নাগালে করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি।

    আমার বাংলাদেশ পার্টির আয়োজনে আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের গড়িমসির সমালোচনা করেন অতিথিরা।

    জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল রেখে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    এ সময় জুলাইয়ে ৭ বছরের সন্তান জাবিরের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন রোকেয়া বেগম।

  • দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।’ বাকি মামলাগুলোর বিচার শেষ করতে এত দেরি হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছেন। সেই বাংলাদেশে যেন আর কোনো নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান না ঘটে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।’

    নিজের ছেলে শহীদ জাবির ইব্রাহীমকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় মাত্র ছয় বছরের জাবির সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখত। লং মার্চে যাওয়ার আগে তার শেষ কথাগুলো এখনো আমাদের মনে গেঁথে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো শহীদ হওয়ার অনুভূতি থেকেই শিশুটি এমন কথাগুলো বলেছিল।’

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে কেউ কেউ কটাক্ষ ও অবমাননার চেষ্টা করছে। তবে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। শহীদরা কোনো অপমান সহ্য করার জন্য জীবন দেননি। তারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘গত দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে এত দেরি হচ্ছে কেন? অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার শেষ করে শহীদ পরিবার ও আহতদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

  • চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পলান উদ্দীন নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত পলান উদ্দীন (৮০) ওই গ্রামের মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পলানের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমির জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

  • যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ১৭২ জন কর্মকর্তা

    যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ১৭২ জন কর্মকর্তা

    উপসচিব পদ থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১৭২ জন কর্মকর্তা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করা হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়েছে, সরকারের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ করা হলো।

    এতে আরও বলা হয়, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হয়ে থাকলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

    পরবর্তীতে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তাঁর ক্ষেত্রে এ আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

    সরকারের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর অথবা অনলাইনে ই-মেইল ঠিকানায় (sal@mopa.gov.bd) দাখিল করতে পারবেন।

    এর আগে সকালে পদোন্নতির সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়া হলো।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৪ ও ২৫তম ব্যাচের বাদ পড়া কর্মকর্তাদের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

    ২৪তম ব্যাচের প্রায় ১৯০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের পরবর্তী ধাপে (অতিরিক্ত সচিব) পদোন্নতির বিষয়টিও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

    এর আগে ২৪তম ব্যাচের ৮০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। আর ১৩৮ জন বাকি ছিলেন। পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয় ১৯০ জনকে (প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডার)।

    অন্যদিকে, ২৫তম ব্যাচের মোট ১৭০ জনের মধ্যে ৮০ জনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। বাকিদের পরবর্তীতে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু গাছ লাগানোর ঘোষণা দিলেই হবে না, প্রকৃতপক্ষে কতটি গাছ রোপণ করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সময় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তবে সর্বোচ্চ দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, “সাত লাখ গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও পরে দেখা গেছে সর্বোচ্চ দুই লাখের মতো গাছ রোপণ করা হয়েছে। এটি সত্যিই দুঃখজনক।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই হবে না। কোন এলাকার মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়েই বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগিয়ে সেই জন্মকে স্মরণীয় করে তুলি। সন্তান ও গাছ- দুটিই একসঙ্গে বেড়ে উঠুক।”

    সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জনজীবনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই সরকার পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ দেশের সব নগর ও শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (থ্রি-আর) নীতির বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।”

    অনুষ্ঠানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

  • সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের

    সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলেন। পরে তা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।

    কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক মিলন, ভোলা-২ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, ময়মনসিংহ-৭ আসনের বিএনপির মো. মাহবুবুর রহমান, খুলনা-৪ আসনের বিএনপির এস কে আজিজুল বারী হেলাল, দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপির ফজলে হুদা, ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতের মো. রুহুল আমিন এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি

    সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়, নিরীক্ষা আপত্তি এবং সরকারি হিসাবের জবাবদিহির বিষয়গুলো এ কমিটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাজেট পাসের পর সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, নিরীক্ষায় কী অনিয়ম ধরা পড়ছে এবং মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সেসব বিষয়ে কী জবাব দিচ্ছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা হিসেবে এ কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

  • স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

    স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সব উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ জুলাই ২০০৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন অনুমোদন করেছে।

    কমিশন জানায়, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট। এছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এরপরে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এটি কি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি।

    তিনি বলেন, ৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল যে—‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের পূুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকরবলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

    আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের (পুঁজিবাজার) স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় স্পিকার আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

    সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তারেক রহমান। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা,পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।

    পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা.এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত কর এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

    বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো,কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট,নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি ।’

    এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদ্‌ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    ‘চট্টগ্রাম পূঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে’

    সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আমি একটু আগে মূল প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

    অন্যদিকে, বীমা কোম্পানি অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি ইনভেস্টিগেশন করছে। এরকম যেগুলো কমপ্লেন সবগুলো ইনভেস্টিগেশন করছে। ইনভেস্টিগেশনটা কমপ্লিট হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’