জাতীয়

  • তাদের ‘পথহারা মন’

    তাদের ‘পথহারা মন’

    দীর্ঘদিন পর নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় কাজ করলেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। তাদের নতুন নাটকটির নাম ‘পথহারা মন’। প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মাণাধীন এই নাটকে আরও অভিনয় করছেন খায়রুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী ও দীপা খন্দকার। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন ডা. এজাজুল ইসলাম ও মনিরা আক্তার মিঠু।

    নির্মাতা রাজ জানান, ‘পথহারা মন’ মূলত ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের আবেগের গল্প। দর্শক যেন নিজেদের জীবনের কিছু মুহূর্ত এই নাটকে খুঁজে পান, সেভাবেই গল্পটি লেখা।

    জাহিদ হাসানকে নিয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালে ‘ছেলেমানুষি’ নামে সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এটি প্রচার হয়েছে বৈশাখী টিভিতে।

    রাজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। তার অভিনয় দক্ষতা নাটকটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও তরুণ শিল্পীদের সমন্বয়ে দারুণ একটি টিম পেয়েছি।’

    জাহিদ হাসান বলেন, ‘রাজের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই ভালো। অনেকদিন পর আবারও তার পরিচালনায় কাজ করছি, এটা আমার জন্য আনন্দের। গল্পটি খুব আন্তরিক। আমার অভিনীত চরিত্রটিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। শুটিংয়ের পরিবেশও দারুণ।’

    ঢাকার উত্তরায় গত ১০ জুলাই থেকে ‘পথহারা মন’র শুটিং চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এর কাজ সম্পন্ন হবে। গল্পটি লিখেছেন জাকিয়া হোসেন তৃষা। পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন আসাদ জামান ও নির্মাতা রাজ। শিগগিরই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

  • হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

    হৃদয়ের আলো তাহাজ্জুদ

    তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে। রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো তাহাজ্জুদ। সেজদায় রবের কাছে গিয়ে প্রেমালাপের উত্তম তরিকা তাহাজ্জুদ। মনের ভাষাগুলো চোখ দিয়ে বের করে হাতে ও মুখে শান্তি মাখানোর নাম-ই তাহাজ্জুদ।

    তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে রব বান্দার খুব কাছাকাছি চলে আসেন। বান্দারও সুযোগ থাকে রবকে কাছে পেয়ে সব হাজত তুলে ধরার। দুনিয়াবাসী এ সময় ঘুমের কোলে পরম আরামে থাকে। আরশ থেকে নামা রবের বিশেষ রহমত পেতে বান্দার আরাম বিসর্জন দেওয়া জরুরি। ইবাদত যত ত্যাগ ও মেহনতময় হবে, তত লাভজনক হবে এর ফল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম : ১১৬৩)গোনাহ মাফ, নৈকট্যলাভ ও মন ভালো রেখে মন্দ থেকে দূরে থাকার অন্যতম পথ হলো রাতের নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, রাতে ইবাদত করা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। এটি তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১১৩৫)

    পৃথিবীর প্রাসাদ মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আর মাটিও ইসরাফিল (আ.)-এর ফুঁতকারের অপেক্ষায়। আকাশ-মাটি সব ধ্বংস হবে। দুনিয়ার প্রাসাদ তো দুনিয়ার চোখে নামমাত্র সুন্দর, কিন্তু রাতজাগা ইবাদতকারীদের জন্য রয়েছে, অবর্ণনীয় সুন্দরের জান্নাতি চিরস্থায়ী প্রাসাদ। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভেতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং এর বাইরে থেকে ভেতরের সবকিছু দেখা যাবে।’ এক বেদুইন দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! এসব কাদের জন্য? তিনি বললেন, ‘যারা মানুষের সঙ্গে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করে ।’ (তিরমিজি : ২৫২৭)

    আমরা মানুষ। আল্লাহর বান্দা। তিনি জানেন আমরা অপরাধ করতে পারি! তাই তো, তিনিই ক্ষমার অপার সুযোগ রেখে তাহাজ্জুদের সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে আমাদের ডাকতে থাকেন। সাহাবি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনÑকেউ আছে কি! যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আছে কি! যে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি : ৬৩২১)

    বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাপ্রেমিকরা শেষরাতে প্রিয় দলের লড়াই দেখার জন্য জেগে ওঠে। (কপালপোড়া সেই মুসলিমরা আল্লাহর সব নিয়ামত ভোগ করেও তাঁর হুকুমে একটু পর ফজর পড়তে পারে না।) তেমনি প্রকৃত মুমিনরা শেষ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যের টানে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তাহাজ্জুদকে সেতু বানিয়ে সেজদার বাহনে চড়ে চলে যায় মহান রবের দরবারে। আল্লাহর দরবারের চেয়ে উত্তম গন্তব্য মুমিমের আর কী হতে পারে! রব আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

  • সংরক্ষিত আসনের এমপিদের এলাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

    সংরক্ষিত আসনের এমপিদের এলাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

    সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদীয় এলাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দাবি করে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এমন প্রশ্ন তোলেন। বিএনপি বিরোধী দলের আসনে তাদের নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চান কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিরোধী দলের এই এমপি। তার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা নেই; পুরো বাংলাদেশেই তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার হোসেন প্রসঙ্গটি তোলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

    এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ জীবা আমিনা খান বলেন, গতকাল (রোববার) আমার অতিরিক্ত দায়িত্বের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করে এসেছি। ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে জানতে চান। ওই পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার বক্তব্য দিতে চাইলে ডেপুটি স্পকার তাকে ফ্লোর দেননি। তবে আছরের বিরতির পরে তাকে ফ্লোর দেওয়া হয়।

    পয়েন্ট অব অর্ডারে এনসিপির সংসদ সদস্য (রংপুর-৪) আখতার হোসেন বলেন, বিরতির আগে সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় এমপি বক্তব্য প্রদানের সময় বলেছিলেন, আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। অর্থাৎ তার অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা বলে রংপুরের দুটো সংসদীয় আসনের কথা বলেছেন। তিনি সেখানে যাওয়ার পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে শুনেছি— ‘এ আসনে নির্বাচিত যে এমপি রয়েছেন তিনি এমপি না, সংরক্ষিত আসনের যিনি এমপি তিনিই ওখানকার এমপি। যে ধরনের কাজ হোক না কেন, তার মাধ্যমে হতে হবে।’

    তিনি বলেন, সেদিন আমাদের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বলতে শুনেছি অতিরিক্ত দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু মহিলা সংসদ সদস্য বলছেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসলে কোন বিষয়টা সত্য? অতিরিক্ত দায়িত্বের আওতা কত? সেটা কিভাবে পালন করা হবে? সেই অতিরিক্ত দায়িত্বের সাংবিধানিকতা কতটুকু সেটাও জানতে চাই। অতিরিক্ত দায়িত্ব শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, সে আসনগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে। এখানে আশঙ্কার জায়গা তৈরি করছে, বিএনপি কি বিরোধী দলের আসনে তাদের নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়? বিষয়টি আমাদের কাছে অনানুষ্ঠানিক ছিল, কিন্তু সংসদে বলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসেছে। আমরা সুরাহা চায়, সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চায়।

    পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ফ্লোর দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা নেই; পুরো বাংলাদেশেই তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং অতিরিক্ত ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারণ আসনের সদস্যরা একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের সীমানা বিবেচনায় সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী এসব নির্বাচনি এলাকা সময়-সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে সাধারণ আসনের জন্য নির্ধারিত ওই আঞ্চলিক সীমা সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা যে আসনে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের লিমিটেড এরিয়া হচ্ছে হোল কান্ট্রি বাংলাদেশ।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও অন্যদের মতো পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে তারা যে বরাদ্দ পান, তা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে দিতে পারেন।

    নিজের এলাকার সংরক্ষিত আসনের এমপি শামীর আরা বেগম স্বপ্নার নাম উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো সদস্য চাইলে কক্সবাজারে বরাদ্দ দিতে পারেন, আবার বাঁশখালী বা সাতকানিয়াতে দিতে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সংসদে একটি বা দুটি এলাকাকে ‘আমার এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজেই নিজের কার্যপরিধি সীমিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের বলা উচিত, পুরো বাংলাদেশই তাদের এলাকা। দেশের যেকোনো স্থানে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব বা সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক সীমানার ধারণা সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • ইমাম খতিবদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের

    ইমাম খতিবদের সতর্ক থাকার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের

    সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নজরে এসেছে।

    শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতারক চক্রটি কখনো টেলিফোন, কখনো মোবাইল, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় কিংবা এর কোনো জেলা বা উপজেলা কার্যালয় কখনোই অননুমোদিত ব্যক্তি বা নম্বরের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে না। কোনো আর্থিক সুবিধা, সম্মানী, ভাতা, অনুদান বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধার নামে যদি কেউ ব্যাংক হিসাব নম্বর, ওটিপি, পিন নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য অথবা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য জানতে চায়, তবে তা প্রতারণার অংশ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

    এমতাবস্থায় দেশের সব ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ফোনকলের মাধ্যমে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেবেন না। ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য, ওটিপি, পিন নম্বর কিংবা অন্য কোনো গোপন তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো তথ্য বা অর্থ দাবি করলে তা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে নেবেন। প্রতারণার কোনো প্রচেষ্টা বা সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

  • ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’

    ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’

    চট্টগ্রাম নগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। এতে ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ।’ এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।

    আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।

    আদিল বিন মামুন আরও বলেন, মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ডেভিড ইমন নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। এমনকি তাঁর ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলেন। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আদিল বিন মামুন তাঁদের চেয়ে বড় ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান।

    অফিস চলাকালীন সময়ে এই হামলা চালানো হয়ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

    ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালান। এ সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান তাঁরা।

    চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।

    আজ যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ১০ থেকে ১৫ জনের দল হামলা চালায়ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে

    কে এই ইমন

    মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

    পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নাচের ছন্দে ও তালে বর্ষা উদ্‌যাপন করবে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। ১৭ জুলাই ঢাকার চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করা হবে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’। অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির সঙ্গে অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নির্দেশনা দিচ্ছেন নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। এ বছর একুশে পদক পাওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে অর্থী আহমেদ নির্দেশিত প্রথম প্রযোজনা।

    গত বছর একই স্থানে ‘ঘনঘটা’ আয়োজন করেছিল অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। অর্থী আহমেদের নির্দেশনায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১১০ শিল্পী। বছর ঘুরে এবারও একই স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’।

    ১৭ জুলাই বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হবে আয়োজন। খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই পরিবেশনায় অংশ নেবেন ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০০ জনের বেশি শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজকর্মী, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার, নানা শ্রেণির মানুষ।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘনঘটা শুধু একটি নৃত্য প্রযোজনা নয়, বরং এটি নতুন করে শুরু করার উৎসব; যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আর মনের ভেতরে চেপে রাখা স্বপ্নকে ডানা মেলতে দেওয়া হয়। বর্ষার দিনটিকে বরণ করে নিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। ছাতাটি ঘরে রেখেই আসুন, তার বদলে সিক্ত হোন বৃষ্টির গান, নাচ ও কবিতায়।

    আয়োজকেরা আরও জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা পরিস্থিতি মাথায় রেখে অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে জাগো ফাউন্ডেশনের ডোনেশন বুথ। যেখানে আগত অতিথিরা বন্যার্তদের সহায়তায় সরাসরি ডোনেশন দিতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দর্শকদের সাদা, নীল বা সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজকেরা।

  • এনসিপিতে নতুন উপ-কমিটি, যারা দায়িত্ব পেলেন

    এনসিপিতে নতুন উপ-কমিটি, যারা দায়িত্ব পেলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং-বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষারকে।

    রোববার (১২ জুলাই) রাতে দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন দলের গণযোগাযোগ, প্রচার কার্যক্রম, ব্র্যান্ডিং, গণমাধ্যম সমন্বয় এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও সুসংহত, কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিং-বিষয়ক উপ-কমিটির অনুমোদন দেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার মূল দায়িত্বে থাকবেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন— তাহসীন রিয়াজ (প্রচার ও ব্র্যান্ডিং), জয়নাল আবেদীন শিশির (প্রিন্ট ও ওয়েব মিডিয়া), ইয়াসির আরাফাত (ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), মাহবুব আলম (নিউ মিডিয়া ও মাল্টিমিডিয়া), আবদুল্লাহ আল মামুন (ফ্যাক্টচেকিং, এআই ও ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন), শাহাদাত হোসেন (সোশ্যাল মিডিয়া), আবু সুফিয়ান রায়হান (ব্র্যান্ডিং), যাবের বিন নূর ঐশি আলম পৃথ্বী (দফতর ও আর্কাইভ), সজীব ওয়াফি।

  • যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’

    বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা পতাকার সাজে সেজেছে। যেন আর্জেন্টিনার পতাকাই আকাশ ছুঁয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

    সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে যমুনার চরে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কিনে যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি ১৯ জন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বটগাছটি রাঙিয়েছেন।

    বটগাছটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই বটগাছটি এতদিন যমুনার চরের ক্লান্ত পথিকদের ছায়া দিত। এখন এটি ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নীল-সাদা রঙে সজ্জিত গাছটি চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যেন সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে। গাছের ওপরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। নিচে চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন সমর্থকেরা।

    স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জাও থাকে। এসব আয়োজনের জন্য স্থানীয়রাই চাঁদা তোলেন।

    স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

    তিনি আরও বলেন, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকাল বা সন্ধ্যায় এখানে বসে সবাই আলোচনা করেন—২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটি

    প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটি

    বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

    রোববার (১২ জুলাই) এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

    কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক।

    অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

    কমিটিকে মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।

    তারা হলেন-শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

    কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকি করা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করা।

    একই সাথে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

    গঠিত এ কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে।

  • গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।


    শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়।
    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।