জাতীয়

  • তারা জুলাইকে ধারণ করেন না ‘আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধীদলীয় নেতা আসেননি।’

    তারা জুলাইকে ধারণ করেন না ‘আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধীদলীয় নেতা আসেননি।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের দূরত্ব থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগকারী ও শহীদ পরিবারের পাশে না এসে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা জুলাইকে ধারণ করেন না।

    জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ না নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার (১৯অক্টোবর) ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নব-নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতেই বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন জুলাইয়ের আত্মত্যাগকারী মানুষদের সম্মান জানানোর জন্য। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের শীর্ষ ব্যক্তিদেরও যথাযথভাবে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। আপনারা সরকারি মঞ্চে না বসলেও পারতেন, কিন্তু যাঁরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, সেই জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে এসে তো বসতে পারতেন।’

    তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আপনাদের রাজনৈতিক দূরত্ব আছে, সেই দূরত্ব থাকুক—তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যে মানুষগুলো জীবন উৎসর্গ করল, যারা আহত হলো, চোখ হারাল—যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই বীরদের মাঝেও আপনারা এলেন না। আজ যদি আপনারা এই মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়াতেন, তবে আমরা বুঝতে পারতাম বিএনপি যেভাবে জুলাইকে ধারণ করে, আপনারাও জুলাইকে সেভাবেই হৃদয়ে ধারণ করেন। কিন্তু আপনাদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে আপনারা জুলাইকে ধারণ করেন না।’

    তিনি আরো যোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের রক্তস্নাত ইতিহাস ও জুলাই শহীদদের অবদানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এই রাজনৈতিক মানসিকতা অত্যন্ত হতাশাজনক। এর মাধ্যমে বিরোধী দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও সাধারণ মানুষের গভীর অনুভূতির প্রতি চরম অনীহা প্রদর্শন করেছে।

  • সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন

    সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন

    সচিবালয় ঢাকার আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

    আজ রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

    সভা শেষে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, শেরেবাংলা নগরে ৩১ দশমিক ৫১ একর জায়গায় ১৪টি ১২ তলা বিশিষ্ট ভবন হবে। সেখানে ৩২ লাখ স্কয়ার ফুটের মতো বিল্ডিং নির্মাণ হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে অফিস করা যাবে বলে আশা করছি।

    গত ৭ অক্টোবর শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

  • ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার সরে আসছে’- ডা. শফিকুর রহমান

    “জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

    আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয়, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।

    তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

    এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি।

    তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতার কারণেই ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে।

    তার মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। আর জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা।

    তার অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল,গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • অমর একুশে বইমেলা ৭ জানুয়ারি শুরু

    অমর একুশে বইমেলা ৭ জানুয়ারি শুরু

    ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম।

    সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়।

  • ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন: বিএনপি মহাসচিব

    ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন: বিএনপি মহাসচিব

    ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াত আমিরের কাছে জানতে চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছেন, বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তো আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? এটা তো আপনাকে উল্লেখ করতে হবে। বলতে হবে, ফ্যাসিস্টদের পথ মানে কোন পথে এগোচ্ছে? একটা দৃষ্টান্ত দেখান। পথটা কি মেঠোপথ, না পাকা রাস্তা, নাকি ইটের রাস্তা?

    রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনারা ৫ আগস্টের পর বললেন যে আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেবেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবেন। বিএনপির কোনো নেতা বলেননি এবং প্রধান নেতা তারেক রহমানও বলেননি, বলেছেন আপনারাই। এখন বলছেন যে ফ্যাসিস্টদের পথেই হাঁটছে বিএনপি। আসলে আপনারা কোন পথে হাঁটছেন, এটা জনগণ বেশি প্রত্যক্ষ করছে। বিএনপিকে জনগণ চেনে। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ আপনারা করেছেন। আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলোই করেছেন। শেখ হাসিনার যে পথ, সে পথ ধরেই করেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন, এরশাদ একটা অবৈধ সরকার, তার অধীনে নির্বাচন করব না। সে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছে। তার অধীনে নির্বাচন করব না। এ কথা হাসিনাও বলেছেন। এ কথা জামায়াতও বলেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসিনা এরশাদের অধীনে গেছেন। জামায়াতও গেছে। সুতরাং আপনারা তো ইতিহাসে প্রমাণ রেখেছেন। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচেয়ে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন, বলেন—কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে আপনারা একই পথে হেঁটেছেন। আওয়ামী লীগের পথেই হেঁটেছেন। সুতরাং ইতিহাসের প্রমাণ বা উদাহরণগুলোকে অগ্রাহ্য করে আপনারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছেন।

    রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তিই বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অসংখ্য নেতাকর্মীর গুম, গুপ্তহত্যার আত্মদান এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শিক চেতনা। কিন্তু আপনাদের সেই চেতনা আছে কি না, এটা আমাদের জানা নেই। আপনারা কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপনাদের আদর্শিক কোনো জায়গা নির্মাণ করেননি। এই কারণেই জনগণ আপনাদের এখনো সন্দেহের চোখে দেখে। একাত্তর, এরশাদ আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং তারপরও গণতন্ত্রের আন্দোলনে আপনাদের কখনোই একটি আদর্শিক পথ ধরে হেঁটে যেতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেনি।

    আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী-বিষয়ক সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন নসু প্রমুখ।

  • বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ

    বিমানবন্দরে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফে কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও চার সহ-সভাপতি।

    ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় বাংলাদেশের ফুটবলের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বাফুফে কর্মকর্তারা।

    ভুটান সফরে যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ফিফা) সভাপতি।

    এ বিষয়ে বাফুফে সহসভাপতি ও গর্ভমেন্ট রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি জানান, ‘সভাপতি ও আমরা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলের নানা বিষয় তুলে ধরেছি। কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে ট্যাকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফিফার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাসও দিয়েছেন।’

    দুপুর ২টা পঞ্চাশ মিনিটে ঢাকা থেকে থিম্পুর উদ্দেশ্যে রওনা হন ইনফান্তিনো। ভূটানে দুদিন থাকবেন তিনি। ২০ তারিখ ফেরার পথেও বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঐ সময় অবশ্য বাফুফে কর্মকর্তারা জাপানে এএফসি বিশেষ কংগ্রেসে থাকবেন।

    এর আগে ২০১৭ সালে একদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটকে অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় জনগণ হতাশ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনআস্থা অর্জনে জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় জামায়াতের গাজীপুর মহানগরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

    সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে।

    এ সময় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জানমাল দিয়ে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোক বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি বিএনপির পছন্দের। স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।’

    বরগুনার আহত নেতার পাশে
    সন্ত্রাসী হামলায় আহত বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসানকে দেখতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যান বিরোধীদলীয় নেতা। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করছেন। বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই চিফ হুইপকে ফোন করেছি। সুষ্ঠু তদন্তে দায়ীদের বিচারের আহ্বান জানিয়েছি। দেশে সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই।

    হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
    এর আগে ৫ মাসব্যাপী আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেন জামায়াত আমির। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল ও অর্ধকোটি নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • এবার সিনা ফার্মায় আগুন,  ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

    এবার সিনা ফার্মায় আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট। আজ শনিবার বিকেলে কারখানাটিতে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির শর্ত ও কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসবে।

    শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বৈশ্বিক সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো মতদ্বৈততা নেই; আলোচনার মাধ্যমে যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

    এর আগে দিনের শুরুতে ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

  • বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগের ছেলে, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

    বীরেন্দর শেবাগের ব্যাটিংয়ের কথা মনে আছে? বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিতেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। বল বাউন্ডারিতে পাঠানোই যেন ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এবার বাবার সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

    ৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পেয়েছেন।

    তবে অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের ম্যাচেই কর্ণাটক তাঁর দলের বিপক্ষে তুলেছিল ৪১৮ রান। জবাবে দিল্লি অলআউট হয়েছিল ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীর করেছিলেন ৩২ রান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন শেবাগপুত্র।

    আজ টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লিকে দারুণ শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।

    ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর।ইনস্টাগ্রাম

    তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৪৮ রান। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।

    সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হন আর্যবীর। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৭৩ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ নেন ২ উইকেট। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ের ঝড়টা বিশেষভাবে গেছে পার্থ গুপ্তার ওপর দিয়ে।

    বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালাতেন। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই মানসিকতারই ছাপ। ১৪৩ বলের ইনিংসে শুধু চার ও ছক্কা থেকেই তুলেছেন ১২৪ রান।

    অবশ্য আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় এবারই প্রথম পাওয়া গেল, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে পেতে পারতেন ফিফটিও। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তরুণ এই ওপেনার।

    দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর্যবীরের। সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের।