জাতীয়

  • যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, ৫জনই সরকারি কর্মকর্তা

    যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, ৫জনই সরকারি কর্মকর্তা

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫জনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য রয়েছেন।

    এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে সংস্থাটির।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী আসাদুল হাবিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম, এনবিআরের কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ (নিলয়) এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য মফিজুল ইসলাম ওরফে রাফি, হাসিনুর রহমান সুজন ও এমদাদুর রহমান।

    এর আগে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

    ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

    ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়।

  • হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    হাসিনা সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বরং সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে।

    তিনি বলেছেন, ‘বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। এ সরকার গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।’

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরের শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত নির্বাচনের পূর্বে একটি দল বলে বেড়াতো নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বর্তমানে সমস্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। আপামর জনতার দাবি ছিল ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আপনাদের গন্তব্য হবে হাসিনার মতোই।’

    ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলাম ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ পাবে। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এ সরকারে সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে গত সরকারের মতো দলীয়করণ, লুটতরাজ, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসাচ্ছেন।’

    মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে ঐক্য না থাকায় সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে রাসুল (সা.)- এর আদর্শ উপেক্ষা করার কারণে মুসলিম বিশ্ব আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জনগণ মনে করে জামায়াতে ইসলাম একমাত্র নিরাপত্তার স্থল।’

    রুকনদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সুরা কালাম বুকে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের ও পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই রিকোয়েস্ট করে, তাই মানুষকে সম্মান করতে হবে, সমাজের মানুষের ভালো ব্যবহার, ভাল আচরণ করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘শুধু তলওয়ার দিয়ে ইসলাম কায়েম হয়নি। রাসুলের আচরণে আকৃষ্ট হয়ে বিদায়ী হজে ১ লাখ ২০ হাজার অমুসলিম মুসলিম হয়েছেন। মৃত্যুর স্বাদ যখন তখন ভোগ করতে হবে, তাই উত্তম আমলের মধ্যে শেষটা হোক। কোন লোক সুদের সাথে জড়িত থাকবে না, সর্বাবস্থায় সুদ হারাম। রাসুল সঃ আমলের তলোয়ার দিয়ে মদিনাসহ সারাদুনিয়া জয় করেছেন।’

    জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করার জন্যই মানব সৃষ্টি হয়েছে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ।

  • পুলিশের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আইজিপি

    পুলিশের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন আইজিপি

    ‘কোনো গুজব, মিসইনফরমেশন ও ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হলে দায়মুক্তি পাবেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অপেশাদার কাজে জড়িত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতঃপূর্বে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে টেলিসংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। এক সময় মাদকের স্পট থেকে টাকা নেওয়া হতো। টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়া হতো। এখন এসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের প্রধান (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরমাঠ পুলিশের উদ্দেশে এসব কথা বলেছেন।

    দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, বিতর্কিত ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনাসহ নানা বিষয় নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আইজিপি এসব কথা বলেন।

    গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে।

    তথ্য পাচারকারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কী বার্তা- জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য চাকরিতে থেকে ভেতরের তথ্য বাইরে পাচার করছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতে যেসব পুলিশ সদস্য দলীয় লেজুড়বৃত্তি করেছেন তারা এখন পলাতক। পলাতক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কর্মরত যাদের যোগাযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, পুলিশে ষড়যন্ত্রকারীর সংখ্যা হাতেগোনা। কোনো ষড়যন্ত্রকারীই আইনের বাইরে থাকবে না। গুজব ছড়ানো হচ্ছে-ফ্যাসিবাদ আমলের ১৭ বছরে যাদের নিয়োগ হয়েছে, তাদের চাকরি থাকবে না। এ ধরনের গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদেরও চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ ফুটবলে খেলবেন রোনান সুলিভান

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে দেখা যাবে রোনান সুলিভানকে।

    যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    গত এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রোনান সুলিভান এবার সরাসরি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, রোনান তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজকেই সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, ইনশা আল্লাহ আসতে পারবে। আগামী ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময়। আমরা তাকেই স্কোয়াডে রাখব।’

    গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যে অবদান ছিল রোনানেরও। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ফ্রি-কিক ও হেডে দুটি গোল করেছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও টাইব্রেকারে গোল করে দলের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।

    দীর্ঘদিন ধরে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে বাংলাদেশ। রোনানের অন্তর্ভুক্তিতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    বয়সভিত্তিক দলের সাফল্যের পর এবার সিনিয়র পর্যায়েও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর।

    নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার ছয়টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

  • বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেছেন, ‘দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। প্রশাসনে যারা আছেন তাদের হয়তো বিষয়টি জানার কথা।

    বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল তারা। জনগণ তা হতে দেয়নি।

    তিনি বলেন, গ্যাসের যে সঙ্কট তা নিরসন হতে এক বছর সময় লাগবে। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমদানি করে সরকার গ্যাস দিয়ে যাচ্ছে।’

    শুক্রবার (১৬অক্টোবর) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা ক্ষমতা নেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ লেগে গেল। ইরান,ইউক্রেন,এখন সৌদি আরবে চলছে। নানান কারণে অর্থনেতিক সঙ্কটে পড়েছি। এই অর্থনৈতিক সঙ্কট বিশ্বব্যাপী।

    মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের যে ক্ষতি করছে তা তো করেছেই। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। ইউরোপে ডিজেলের লিটার বাংলাদেশের টাকায় সাড়ে তিন শ টাকা। অথচ আমাদের দেশের কিছু অসভ্য লোক সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে অকারণে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বলে। বট বাহিনী মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বট বাহিনী লেগেই আছে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য এ সরকার বদ্ধপরিকর। মাদকের সাথে কোন আপস নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। দলের যারা খারাপ কাজ করবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে আমরা প্রস্তুত। এছাড়া সরকার চেষ্টা করছে সবকিছু স্বাভাবিক করার।

    পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অর্জুন গাছের চারা রোপণ, পূজা মন্ডপে সরকারি সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ, গরীব-অসহায়দের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    উপজেলা অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) জোনাঈদ আফ্রাদ, ওসি মকবুল হোসেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুজ্জামান গামা,সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাজহাজান শাওন,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন ও মহিলা দলের সভাপতি শান্তি আক্তার শিউলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল করিনি: হিন্দু নেতৃবৃন্দ

    বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল করিনি: হিন্দু নেতৃবৃন্দ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছেন, “বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।”

    তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না।”

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন হিন্দু নেতারা। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

    এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”

    দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।

  • স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দিবে

    স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দিবে

    স্থানীয় নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে সংসদীয় দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

    আজ সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সংসদীয় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠক শেষে চিফ হুইপ জানান, সরকারের কার্যক্রম নিয়ে জনগণের কাছে সরকার জবাবদিহি করবে। সভায় সংসদ সদস্যদের নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে দল থেকে বিএনপি একক প্রার্থী দিবে বলেও জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

    চিফ হুইপ জানান, আগামী মাসে সংসদ অধিবেশন আবার বসবে।

  • শেরেবাংলা নগরে সরে যাচ্ছে সচিবালয়

    শেরেবাংলা নগরে সরে যাচ্ছে সচিবালয়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। সে লক্ষ্যে একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। ওই প্রকল্প প্রস্তাবে সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন সচিবালয় প্রকল্পের এখনো অনুমোদন হয়নি। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকার আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করতে চায়।

    এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তা অনুসরণ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের নকশাও প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন। তার ওপর বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব আমলে নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় চিন্তা করা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউট প্রস্তুত করেছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে; অনুমোদন পেলে বাস্তবায়ন কাজের উদ্বোধন করা হবে চলতি বছরের মধ্যেই।

    সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আগামী ডিসেম্বরে কাজ শুরুর লক্ষ্যের কথা এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আর এটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করবেন এমন নির্দেশনা রয়েছে, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য থাকলেও পুরো নির্মাণে চার থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে।

    গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে কাজ শুরু করতে চান। তবে ওই সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।

    স্থাপত্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করেছেন তারা। প্রকল্প অনুমোদনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

  • সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ব্লু ইকোনমির বিকাশ ঘটাতে হবে: নৌবাহিনী প্রধান

    সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ব্লু ইকোনমির বিকাশ ঘটাতে হবে: নৌবাহিনী প্রধান

    বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশ এবং সমুদ্র শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬’-এর আওতায় এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) সেমিনার হলে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ও বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বলেন, এ ফেলোশিপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ফেলোদের অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগ পরিচালিত এ ফেলোশিপের আয়োজন করে দেশটির ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান রিসোর্সেস অ্যান্ড সিকিউরিটি’।

    কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ পান। এই আয়োজনের মাধ্যমে আঞ্চলিক পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিন্ন সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞানের কার্যকর প্রয়োগকে উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব, কার্যকর সমুদ্র শাসনব্যবস্থা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিমরাড। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সামুদ্রিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। এতে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্র শাসনব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বিমরাডের চেয়ারম্যান এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

  • দেশের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    দেশের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগকে দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।”

    সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

    তিনি বলেন, “আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ রয়েছে, সেই কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকতে হবে। তিনি বলেন, “যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।”

    দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় থাকে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। দায়িত্বে থাকার সময়টুকু মানুষের উপকারে ব্যয় করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

    সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।”

    কর্মকর্তাদের মতামত দেওয়ার আহ্বান

    সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা যেসব বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তা সরকারের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।

    ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।