জাতীয়

  • পুলিশকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে : মনিরুল

    পুলিশকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে : মনিরুল

    আওয়ামীপন্থি পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়ে নানাভাবে পুলিশ বাহিনীকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান ও চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম পুলিশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য জুলাই আন্দোলনে পুলিশ হত্যা কার্ড নিয়ে খেলছেন।

    আন্দোলনে দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও কয়েক হাজার আন্দোলনকারীকে পঙ্গু করে দেওয়া বিষয়টি চেপে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি বিদেশে বসে দাবি করে তিনি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। তার দাবি, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলকে কেবল নিষেধাজ্ঞা বা পুলিশি শক্তি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের সহিংসতায় কোনো হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া এবং কিছু থানা ও স্থাপনা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের নিচের পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক কাজ করছে বলে তথাকথিত একটি টক শোতে যুক্ত হয়ে মনিরুল ইসলাম দাবি করেন। তিনি বলেন, পুলিশ যখন কেবল ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক করতে তাদের ৯০ শতাংশ মনোযোগ দিচ্ছে, তখন দেশের ক্রাইম কন্ট্রোল ও জঙ্গিবাদবিরোধী কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তার এ ধরনের বক্তব্যে পুলিশে থাকা আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এতে কিছুটা উৎসাহ পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা বলছেন, মনিরুলদের এ ধরনের উসকানিমূলক কথাবার্তায় পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর কাজের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়তা বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে নানাভাবে চেষ্টা করছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে দেশের সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলো এবং রাজধানী ঢাকার কয়েকটি স্পটে হঠাৎ ব্যানার নিয়ে কয়েক মিনিটের মহড়া দিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পুলিশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান, উত্তরা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বরিশাল, বাগেরহাট ও নেত্রকোনার ঝটিকা মিছিল ভাবিয়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। ঝটিকা মিছিল নিয়ে মাঠ পুলিশে কিছুটা আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। কারণ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, কোনো এলাকায় ঝটিকা মিছিল হলে তার দায় এসপি, ডিসি ও ওসিকে নিতে হবে। ইতোমধ্যেই এ বক্তব্যের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

    গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি পলাতক ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির গোপন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন, বিশেষ করে যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নিষ্ক্রিয় সদস্যকে অর্থায়ন করে এই তৎপরতায় নামানোর চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে পুলিশের ভেতরে থাকা আওয়ামীপন্থি বেশকিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। এদেরই একজন ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি রাকিবুল হাসান। কেবল রাকিবুল একাই নন, তার মতো অনেকেই গোপনে এখনো বিগত শাসকগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের আশা প্রকাশ করছেন।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও ক্লিপ ও দিকনির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংকটগুলোকে হাইলাইট করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দৃশ্যমান কর্মসূচির বদলে ছোট ছোট গ্রুপ বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে যোগাযোগ রেখে কর্মী ভিত্তি টিকিয়ে রাখার কৌশল হাতে নিয়েছে দলটি।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে যে ধ্বংসাত্মক অবস্থায় ফেলে গেছে, তার রেশ কাটাতে সময় লাগছে। গত ৫ আগস্টের পর পুলিশের ভেতরের শৃঙ্খলা ও মনোবল পুনর্গঠনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আন্দোলন চলাকালীন সংঘর্ষে বেশকিছু পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় বাহিনীর একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সুযোগকেও কাজে লাগাতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল এবং পুলিশে থাকা তাদের সহযোগী ও পলাতক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে ক্ষোভ থাকলেও পেশাদার পুলিশ বাহিনী কখনো কোনো অপশক্তির পুনর্বাসনে সহযোগী হতে পারে না বলে তারা জানিয়েছেন।

    পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই পুলিশের মূল কাজ। রাজনৈতিক পক্ষপাত না করে পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে পুলিশে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। অনিয়মের মাধ্যমে দলীয় লোককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল। সরকারি নির্দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত রয়েছে। তাই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম করতে না দেওয়া এবং তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। কোনো পুলিশ সদস্যের রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন কাজ বাহিনীর মর্যাদা ও দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট করে। তাই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গাঁজাখোর বললেন রাশেদ খাঁন

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গাঁজাখোর বললেন রাশেদ খাঁন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে শহীদ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    রাশেদ খাঁন লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার জন্য বলেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।

    রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খাঁন।

    জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্লান থেকেই গাঁজাখোর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।’

    রাশেদ খাঁন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। এ কারণে তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও পোস্টে নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

    পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন, ‘যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’ আমিও শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে এক মত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদীকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’

  • বিএনপির লোকজনের পড়াশোনা করা উচিৎ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বিএনপির লোকজনের পড়াশোনা করা উচিৎ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, দলীয়করণ ও বিভিন্ন সেক্টরে দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির লোকজন কি পড়াশোনা করে না? পরীক্ষা দিতে প্রশ্নফাঁস করতে হবে কেন?

    ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, টেম্পুস্ট্যান্ড, হাটবাজার সবকিছু দখল এবং ব্যবসায়ীদের রুজি-রোজগারে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলের পর এবার চাকরির বাজারও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশ চালাতে হলে অন্তত চাকরির বাজারটা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখুন। মেধার বদলে দলীয় পরিচয়, যোগ্যতার বদলে তদবির আর পরীক্ষার বদলে প্রশ্নফাঁস চলতে থাকলে দেশ চলবে কীভাবে? এ ধরনের দূরদর্শিতাহীন কর্মকাণ্ডের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি মন্তব্য করেন, এমনটা চলতে থাকলে একসময় দল হিসেবে নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনবে, যা নিজের লেজ নিজেই খেয়ে ফেলার মতো অবস্থা হবে।

    পোস্টের শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, সকল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত হতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে কোটার অপব্যবহার ও দলীয়করণের অবসান ঘটাতে হবে। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব পরিহার করে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে যাচ্ছেন

    প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে যাচ্ছেন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

    শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাপান সফরে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। ’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সাথে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে প্রাধান্য দেবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব চায়।

    জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবিলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সে দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

    খুব শিগগিরই তিনি সুবিধাজনক সময়ে এ সফরে যাবেন।

    সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।

    পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদ রক্ষার যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।


    এছাড়াও বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং এনএসইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

  • বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

    মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এসময় প্রকল্পের গবেষকরা তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পরিদর্শনকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    আজ শনিবার (১০অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

    এ প্রকল্পের গবেষক কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

    গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এর কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন। প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গবেষকরা।

    এ সময় গবেষকরা জানান, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

    তারা জানান, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন।

    প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্রঃ দৈনিকআমাদের সময়

  • প্রশ্নফাঁস: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অপসারণ দাবি

    প্রশ্নফাঁস: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অপসারণ দাবি

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অপসারণসহ ৪ দাবি জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।

    সাদিক কায়েম পোস্টে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসে জড়িত প্রতিটি সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস চিরতরে নির্মূল করা, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা, প্রশ্নফাঁসে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

    প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

    পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে বাঙলা কলেজের মূল ফটকে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

  • আমরা আধিপত্যবাদবিরোধী: আসিফ মাহমুদ

    আমরা আধিপত্যবাদবিরোধী: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আমরা ভারতবিরোধী নই, বরং আধিপত্যবাদবিরোধী। বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লি আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, শুধু বক্তব্য ও বিবৃতির মধ্যে আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

    তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হলে এবং তাতে বড় কোনো ঝুঁকি না থাকলে সেটি করতে আপত্তি নেই। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি বা সম্পর্কের পক্ষে তারা নন।

    আবরার ফাহাদের ‘আট স্তম্ভ’-এর প্রসঙ্গ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, গণতন্ত্র ও গণপ্রতিরোধসহ এসব ধারণা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দিনের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে কার্যকর জায়গায় নেওয়া সম্ভব হবে।

    সভায় এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার কারণেই আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

    আখতার হোসেন বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার অজুহাতে বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। ভারতসহ বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

  • ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহের তথ্য চায় সংসদীয় কমিটি

    ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহের তথ্য চায় সংসদীয় কমিটি

    ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে কত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে কমিটির সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী বৈঠকে দিতে বলা হয়েছে।

    আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট, প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। আর তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।

    বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকেরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।

    কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত।

    ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে কমিটি। এ ছাড়া কমিটির সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরসহ লিখিত প্রতিবেদন পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠক শেষে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপনায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও পরিকল্পনাহীনতার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের বিপুল ব্যয়ের কথাও উঠে এসেছে। তবে আগের তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়নি।

    তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশ কী ছিল এবং তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে জানাতে বলা হয়েছে।

    সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।

    নাজিবুর রহমান বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। কর্মকর্তারা প্রতিদিন দুই মেগাওয়াট করে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা জানালেও এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

    জ্বালানির দাম নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পাবনার সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের আইনের ৩৪ ধারায় গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ এবং এ জন্য প্রবিধান তৈরির বিধান রয়েছে। কিন্তু ২৩ বছরেও তা কার্যকর হয়নি।

    মন্ত্রণালয় থেকে প্রবিধানের খসড়া তৈরির কথা জানানো হলেও সেটি অনুমোদন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। এলপিজির দাম নির্ধারণ এবং সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে কমিটি।

    বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে মন্তব্য করেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটকে ব্যবসায়িক সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়েও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা থাকলেও আগামী ছয় মাস, এক বছর বা দুই বছরের মধ্যে কোন কূপ থেকে গ্যাস পাওয়া সম্ভব, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। নতুন রিগ কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে।

    নাজিবুর রহমান বলেন, ‘দেশীয় কূপ খনন ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে অগ্রগতি নেই কেন, তার জবাব দিতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা প্রয়োজন।’

    বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যয় বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে কমিটি।

    এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, একটি কোম্পানি দৈনিক ১ লাখ ৯০ হাজার ডলারে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত দৈনিক ২ লাখ ৪২ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি আগেও সংসদে তুলেছিলেন।

    নাজিবুর রহমান বলেন, প্রথম বৈঠক হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন না। পরবর্তী বৈঠকের আগে কমিটির সদস্যরা তাঁদের প্রশ্নগুলো মন্ত্রণালয়কে জানাবেন, যাতে কর্মকর্তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পারেন।

    তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির লক্ষ্য হলো মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংসদকে কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা। কমিটিগুলো যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে জনগণের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।’

    বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জের ফরেনসিক অডিট, ডিজেলের মজুত বৃদ্ধি এবং এলপিজির বাজারে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ১২৫ মেগাওয়াট। অথচ এ পর্যন্ত ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে এ ব্যয়ের ফরেনসিক অডিট হওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। সক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যয়, ভর্তুকি ও ওভারহোলিং চার্জ অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।’

    ডিজেলের মজুত মাত্র ৩১ দিনের উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, গ্রামীণ কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনীতি ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহে বিপর্যয় ঘটলে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ডিজেলের মজুত কীভাবে বাড়ানো যায়, তা জানতে চেয়েছে কমিটি।

    এলপিজির বাজারে সরকারের নজরদারির অভাবের অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা হলেও বাজারে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। তাঁর ভাষায়, ‘এলপিজির দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা খাতায়-কলমে আছে, কিন্তু বাজারে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কার্যত বাজারে সরকার অনুপস্থিত।’

    সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ দিনে যুক্ত হয়েছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট।

    তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এই হারে চললে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭২০ মেগাওয়াট পাওয়া যাবে।’ এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাসিক অগ্রগতি এবং সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের (এলসি) হিসাব চেয়েছে কমিটি।

    সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি। পরবর্তী বৈঠকে প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব দিতে বলা হয়েছে।

    জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর কথা বলা হলেও মহেশখালী ও পায়রায় নতুন এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা এ লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ২০৩০ সালের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, সর্বোচ্চ চাহিদা, গ্যাস-কয়লা-সৌর ও পারমাণবিক বিদ্যুতের অনুপাত এবং অলস তেলভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধের সময়সীমা জানতে চেয়েছে কমিটি।

    দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি আহরণ বাড়াতে হবে। অল্প সময়ে ৩২টি কূপ খননের বিষয়ে প্রচারিত তথ্যেরও ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি। কোনগুলো অনুসন্ধান কূপ আর কোনগুলো উন্নয়ন কূপ, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

    এ ছাড়া অতিরিক্ত ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো কোনো গ্রাহকের নামে ৩ কোটি থেকে ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে। এসব অনিয়মের বিষয়েও কমিটিতে আলোচনা হয়েছে।

    সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সরকারের এই কমিটিগুলো যেন চা-সিঙ্গারা কমিটি না হয়, বরং কার্যকর কমিটি হয়।’

    জনগণের অর্থে গঠিত সংসদীয় কমিটিগুলোকে কার্যকর করা এবং মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সেবা ও ব্যবস্থাপনা আগামী দিনে সরকারের জনবান্ধব হওয়ার অন্যতম নির্ণায়ক হবে।

  • উড্ডয়নের পর চাকায় ত্রুটি, ঢাকায় বিমানের জরুরি অবতরণ

    উড্ডয়নের পর চাকায় ত্রুটি, ঢাকায় বিমানের জরুরি অবতরণ

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের উড্ডয়নের পর পেছনের একটি চাকায় ত্রুটি দেখা দেয় । পরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করে। বিমানটি কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ছিলো।

    এ ঘটনায় বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রায় আধাঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

    আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-৪৩৬। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-একেই।

    জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটির পেছনের একটি চাকায় ত্রুটি দেখা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পাইলট ঢাকার টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকা টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রানওয়েতে সব ধরনের উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত ছিল।

    পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। এতে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    রানওয়ে বন্ধ থাকায় ওই সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠা-নামায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

  • তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    তিন সিটির রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    আজ বুধবার (৭অক্টোবর) একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

    একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

    রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।