কৃষি

  • বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    মাঠে বীজ বুনে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ধানগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন দিশেহারা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত কৃষক। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের বীজধান কিনে ৪৫ থেকে ৫০ কানি জমিতে চাষ করার পর এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, ধান রোপণের মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই গাছে ছড়া দেখা দিয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ধানের গোছা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। অনেক গাছের পাতা ও কাণ্ড লালচে হয়ে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন তো দূরের কথা, শেষ পর্যন্ত খড়ও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাইশারী ইউনিয়নের যৌথখামার এলাকার বিভিন্ন ধানখেত এবং পাশের কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের ধান চাষ করা কয়েকটি জমিতে অস্বাভাবিকভাবে ছোট অবস্থায়ই গাছে ছড়া এসেছে। অনেক গাছের গোছা স্বাভাবিক আকার ধারণ করেনি। কোথাও কোথাও গাছের পাতা ও কাণ্ডে লালচে ভাব দেখা গেছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মো. আনিসুর রহমান, অলি আহমদ, আকবর আহমদ, আব্দুল জব্বার, আবু তাহের, মো. ইউসুফ, মোতালেব, ওবায়দুর রহমান, মো. হেলাল উদ্দিন, আব্দুল হাকিম ও হামিদুল হকসহ প্রায় অর্ধশত কৃষক রয়েছেন।কৃষকেরা জানান, বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডুর দোকান থেকে উন্নত ও উফশী জাতের বীজধান হিসেবে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ কিনে জমিতে রোপণ করেন তারা। বীজ বিক্রির সময় যে পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

    কৃষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘উন্নত জাতের বীজ মনে করেই টাকা দিয়ে বীজ কিনেছি। ধারদেনা করে জমিতে চাষ করেছি। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে এসেছে। এখন ফলন পাব কি না জানি না। আমাদের সব টাকা-পয়সা পানিতে গেছে।’

    মো. অলি আহমদ ও মো. আব্দুল জব্বারসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রতি কানি জমিতে তাদের প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ, জমি প্রস্তুত, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। ফলন না হলে ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

    তাদের ভাষায়, ‘আমরা কৃষক। ধার করে চাষ করি, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করি এবং সংসার চালাই। এবার যদি ধানই না হয়, তাহলে আমাদের পরিবার চলবে কীভাবে?’

    কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডু বলেন, তিনি কৃষকদের কাছে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ ধানের বীজের প্যাকেট বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘বেশির ভাগ কৃষকের ধান ভালো হয়েছে বলে আমি জেনেছি। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন কৃষকের ধান খারাপ হয়েছে বলে শুনেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি। কোম্পানির প্রতিনিধি এসে সরেজমিনে জমি দেখেও গেছেন। তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    অভিযোগের বিষয়ে সোনালী সিড কোম্পানির প্রতিনিধি মো. শোয়াইব বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। কৃষকেরা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেননি বলেই এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। যারা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেছেন, তাদের ধান এখন পর্যন্ত ভালো আছে।’

    তিনি দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সার, কীটনাশক ও উন্নতমানের স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি অংশ সেসব পরামর্শ মানছেন না।মো. শোয়াইব বলেন, ‘তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি দেখছি।’

    তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তারা বীজ বিক্রেতা ও কোম্পানির দেওয়া নির্দেশনা মেনেই চাষাবাদ করেছেন। এরপরও রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে ধানগাছে ছড়া আসায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

    সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের মালিকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাইশারী ব্লকের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী তাদের কাজ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে।’

    নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, ‘রঞ্জিত পাইজাম নামে যে বীজধানের কথা বলা হচ্ছে, এ নাম আমি আগে শুনিনি। ওই বীজধানের চাষ ভালো হয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে বলেছি। পাশাপাশি বীজধানের প্রতিনিধিকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।’

    কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বীজের গুণগত মান পরীক্ষা ও কৃষি বিভাগের কারিগরি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের বা অনুপযোগী বীজের কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে কোম্পানির প্রতিনিধি দাবি করছেন, কৃষকেরা কোম্পানির পরামর্শ অনুযায়ী চাষ না করায় এ সমস্যা হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ধানগাছ অস্বাভাবিকভাবে ছড়া আসার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

  • দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে কাশফুলের দোলা। আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে বেড়েছে ঝুনা নারকেলের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর দামও।

    পূজার বিভিন্ন উপকরণ থেকে শুরু করে প্রসাদ তৈরিতে নারকেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ সময় ঝুনা নারকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

    ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় নারকেলগাছের সংখ্যা কমেছে। অনেকেই গাছ থেকে কাঁচা ডাব পেড়ে খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করেন না। নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর প্রবণতাও কমেছে। পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছে ফলন হচ্ছে না। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নারকেলগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহেও টান পড়েছে।

    অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ঝুনা নারকেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারকেল কিনতে আসা দীপ্ত সাহা ও অরুণ মণ্ডল বলেন, “পূজার সময় নারকেল না হলে চলে না। কিন্তু এবার দাম আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”

    ঝুনা নারকেলের বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “চাহিদার তুলনায় নারকেলের সরবরাহ কম। এছাড়া গাছ থেকে নারকেল পেড়ে এনে বিক্রি করতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিন ১০-১২টি গাছে উঠে গৃহস্থদের নারকেল পেড়ে দিতে হয়। সেখান থেকে ১০-১২টি নারকেল এনে বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারণে নারকেল বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

    তেল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল কিনে নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

    ফরিদপুরের ময়না গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপূজায় আমাদের ঝুনা নারকেল লাগে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পূজার প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর নাড়ু, পিঠা ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও নারকেল লাগে। তাই এর চাহিদা সব সময়ই আছে।”

    নারকেলগাছের সংখ্যা কমার সঙ্গে কমছে ফলনও। অথচ পূজার থালা থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পিঠা-পায়েস—সবখানেই নারকেলের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। তাই উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • দেশে ইউরিয়া পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: বিসিআইসি চেয়ারম্যান

    দেশে ইউরিয়া পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: বিসিআইসি চেয়ারম্যান

    বিসিআইসির চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, দেশের সার কারখানা ও বাফার গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার রয়েছে। সোমবার নীলফামারী, মহেন্দ্রনগর (লালমনিরহাট) ও কুড়িগ্রামে বিসিআইসির সারের গুদাম পরিদর্শন করে তিনি এ কথা বলেন। বিসিআইসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে আতঙ্কিত হবেন না। নভেম্বর পর্যন্ত দেশের চাহিদাকৃত ইউরিয়া সার গুদামে মজুত রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ৩টি সার কারখানায় প্রতিদিন ৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে এবং বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি চলমান রয়েছে, যা দিয়ে আগামী পিক সিজনে সারের চাহিদা পূরণ করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

  • আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    আত্রাইয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

    ‘বৃক্ষরোপনে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যে নওগাঁর আত্রাইয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিএমডিএর সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁড়িয়াগাঁথি ব্রিজ থেকে পারব্রজপুর সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডিএ) মো. আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মৃধা, যুবদলের সিনিয়র আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম প্রমুখ।

    উপজেলা প্রশাসন ও বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য

  • কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    সার বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলারদের প্রণোদনা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের জন্য ডিলার পর্যায়ে কমিশন কেজিপ্রতি ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে, কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন এ হার আগামী ১ জুলাই ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

    সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রেখে ডিলার পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমে উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতোই ২৭ টাকা থাকবে। ডিএপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ টাকা করা হলেও কৃষক পর্যায়ের দাম ২১ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। একইভাবে টিএসপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে।

    এ সারের কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য ২৭ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এমওপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৭ টাকা করা হয়েছে এবং কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতো ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

    চার ধরনের সারের ক্ষেত্রেই ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজিতে সরকারের নির্ধারিত মূল্য ১ টাকা করে কমেছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি সারে কমিশনের পরিমাণ ৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

    সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বিদ্যমান মূল্যেই তারা ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার কিনতে পারবেন।

  • দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুরের কয়েকটি জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ অবমুক্ত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

    মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার নয়টি জলাশয়ে মোট ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিলের বিলশা বিলে ৫৫ কেজি, খামারপাথুরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ৫০ কেজি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৩০ কেজি, দিকদারিয়া বিলে ৩০ কেজি, মির্জা মাহমুদ খালে ৩০ কেজি, খোলাগাড়ি বিলে ৩০ কেজি, পাটপাড়া মরা তুলশী নদীতে ২০ কেজি, থানা পুকুরে ২০ কেজি এবং বিল কাঠোর মরা নদীতে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়।

    উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের মাছের জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুর রশীদ, উপজেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবমুক্ত পোনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এসব জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

  • ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৯০ হাজার ৮৫৪ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তিন ধাপের সমীক্ষার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপের সমীক্ষা চলছে। সেই হিসেবে প্রথম দফায় কৃষকের সংখ্যা এক লাখ চাড়িয়ে যাবে।

    খুলনা কৃষি অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে গঠিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে কৃষক কার্ডের জন্য যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলায় ২৮ হাজার ৪০৩, সাতক্ষীরায় ২৯ হাজার ৬৮৫, বাগেরহাটে ২৬ হাজার ৩৩৮ এবং নড়াইলে ৬ হাজার ৪২৮ কৃষককে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলার অবশিষ্ট যোগ্য কৃষকদের নামও পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে।

    কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছরে খুলনা কৃষি অঞ্চলের মোট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সেচসেবা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা, বালাই দমনসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি বীমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    খুলনা অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পাবেন। কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’