কৃষি

  • বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    বাল্কহেডে বালু এনে ফসলি জমি ভরাট

    ফসলি জমি

    মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী বাজারের মাছঘাটের পূর্ব পাশে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে মো. রাজিব শেখের বিরুদ্ধে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধেশ্বরী বাজারের সরকারি খাল থেকে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাউৎভোগ ও গনাইসার এলাকার দুই ফসলি জমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাস্তার ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়ে গিয়ে এসব জমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রাউৎভোগ ও গনাইসার সড়কের পাশে সাইজদ্দিন শেখের প্রায় ৬৯ শতাংশ ফসলি জমিসহ একাধিক জমি ভরাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া রাউৎভোগ গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় আমির আলী মিস্ত্রীর ফসলি জমিতেও একইভাবে বালু ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি বাল্কহেডে করে বালু এনে এসব জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনাকারী রাজিব শেখ বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফসলি জমি ভরাটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে রাজিব শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।

    কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।

    কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।

    স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

  • ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    ফল কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম

    সিরাজগঞ্জের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ও দেশি ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি ফলের মধ্যে কাটিমন আম ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    ফল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে বেশি দামে কিনে একই অনুপাতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    ফল কিনতে আসা তৌফিকা নাসরিন বলেন, ‘এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এসব ফল আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমাদের আয়ের সঙ্গে পণ্যের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই।’

    সিরাজগঞ্জ শহরের ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলের দাম বেশি। মোকামেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। তবে দাম কম থাকলে বেচাকেনা ভালো হয়, লাভও ভালো হয়।’

    তিনি বলেন, ‘এত বেশি দামে ফল কিনে বিক্রি না হলে পচে যায়। ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়।’

  • কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কম খরচে নিরাপদ সবজি করলা চাষ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৮)। প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করে এরই মধ্যে ১ হাজার ৯৪ কেজি ফলন তুলেছেন তিনি। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভের আশাও করছেন এই কৃষক।

    উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্থানপাড়া এলাকায় চলতি মৌসুমে করলার আবাদ করেছেন ইমরান। তিনি মো. সফর উদ্দিনের ছেলে।

    ইমরান জানান, “এক বিঘা জমিতে এগ্রো ওয়ান লিডার জাতের করলার চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। মালচিংয়ের জন্য জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মাটির আর্দ্রতাও দীর্ঘ সময় বজায় থাকে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “এক বিঘা জমিতে তার প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।”

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা, রোগবালাই এবং বাড়তি শ্রমিক খরচ কৃষকদের জন্য প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সেচের পানি সাশ্রয় এবং শ্রমিক খরচ কমানো সম্ভব হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান প্রথমবারের মতো মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।”

    ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন করে রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “ফেরোমন ফাঁদ ও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার প্রতি বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আল-ইমরানের এক বিঘা জমির করলা আবাদ ইতোমধ্যে লাভজনক ফলন দিয়েছে।”

  • মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    মুজরি চর সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ

    দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ’ আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

    স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ। উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

    চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।

    কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

    কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’ শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

    মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না।

    বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

    মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

  • চৌগাছায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

    চৌগাছায় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

    মাচায় মাচায় লতিয়ে উঠেছে সিমগাছ। কোথাও ফুল, কোথাও ঝুলছে কচি সিম। ভোরের আলো ফুটতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন কৃষক। কেউ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা পাকা সিম তুলে বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগাম ফলন ও ভালো দামের প্রত্যাশায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদার মাঠে এবার সিম চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    চুটারহুদার একই মাঠে সিম চাষ করেছেন রফিকুল ইসলাম, মুসা মণ্ডল, নজু, সাজেদুল, শুকুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক। একজনের সফলতা দেখে পাশের জমির কৃষকরাও আগাম সিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
    চুটারহুদার মাঠে ১০ কাঠা জমিতে সিম চাষ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। এরই মধ্যে তাঁর ক্ষেতের সিম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামে সিম বিক্রি করতে পেরে স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।
    রফিকুল ইসলাম জানান, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাম ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যে সিম বিক্রি শুরু করেছেন এবং ভালো দামও পেয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘এবার গাছ খুব ভালো হয়েছে। সিমও আগে ধরেছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছি এবং ভালো দাম পেয়েছি। আগাম সিম হওয়ায় সামনে আরও ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে।’

    রফিকুল ইসলামের পাশের জমিতে সিম চাষ করেছেন মুসা মণ্ডল। একই মাঠের অন্য জমিতে আবাদ করেছেন নজু ও সাজেদুল। শুকুর আলীসহ আরও কয়েকজন কৃষকও সিম চাষ করেছেন।
    কৃষকদের আবাদে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজের আবহ। মাচায় ঝুলে থাকা সিম দেখে বোঝা যায়, মৌসুমের শুরুতেই বাজার ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সিমের বাজারে চাহিদা থাকায় আগাম ফলন তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে আবহাওয়া, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা তাঁদের জন্য বড় ঝুঁকি। ফলে আগাম ফলনের পাশাপাশি বাজারদরের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সিম চাষের আলাদা কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে ১১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।
    ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ফুলসারা ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর, সিংহঝুলি ইউনিয়নে ১৫, পাতিবিলা ইউনিয়নে ১৭, নারায়ণপুরে ৪২ এবং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এ ছাড়া স্বরূপদাহ ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে।

    কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চৌগাছায় সবজি চাষ অনেক কৃষকের জন্য বাজারমুখী উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
    সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম সবজি চাষ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চৌগাছার কৃষকরা।
    কৃষকদের ধারণা, অন্যান্য এলাকায় সবজির সরবরাহ কম থাকলে আগাম উৎপাদিত সিমসহ বিভিন্ন সবজি তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
    তবে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা কৃষকের হিসাব বদলে দিতে পারে। এ কারণে সময়মতো কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকদের মতে, আগাম সবজি চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। অনেক কৃষকের পক্ষে একসঙ্গে এসব ব্যয় বহন করা কঠিন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা উপকরণ সহায়তা পাওয়া গেলে আরও কৃষক আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।

  • জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    জীবননগরে কৃষি কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি সার ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে খুচরা সার বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরকারি সার বিতরণ এবং এ ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, কেডিকে ইউনিয়নের প্রায় ২০টি খুচরা সার দোকানের নামে-বেনামে ভুয়া সার কার্ড তৈরি করে এসব কার্ড ও কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিশেষ স্লিপের মাধ্যমে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সার বিতরণের সময় প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি কৃষি প্রণোদনা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন।

    কেডিকে ইউনিয়নের কৃষক ইনামুল, ইসরাইল, ইব্রাহিম ও খলিলসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা মাঠের সার ও পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁকে প্রায়ই পাওয়া যায় না। অথচ তিনি আমাদের সরাসরি সার না দিয়ে দোকানদারদের ভুয়া কার্ড ও স্লিপের মাধ্যমে একবারে ৫ থেকে ১০ বস্তা করে সার দিয়ে দেন। বিনিময়ে দোকানদারদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা।’

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে সত্য নয় বলে দাবি করেন।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগনে যত্নের মাধ্যমে ফলন বাড়বে

    ড্রাগন ফল ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। দেশে এর চাষ ও বাজারচাহিদা বাড়ছে। ছাদ কৃষি থেকে মাঠপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষের সুযোগও রয়েছে। সঠিক জাত নির্বাচন, চারা তৈরি, রোপণ, খুঁটি স্থাপন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-পোকা দমন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে এ চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘রানার কৃষি’তে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    ড্রাগন ফল এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ। পুষ্টিগুণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে ফলটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    উপযুক্ত জলবায়ু ও মাটি
    ড্রাগন ফল উষ্ণ জলবায়ুর ফসল। সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষারপাত গাছের জন্য ক্ষতিকর। বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন ফল ভালো জন্মে। মাটির পিএইচ ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ হলে তা চাষের জন্য উপযোগী।
    আমাদের দেশে বর্তমানে বাউ ড্রাগন ফল-১ ও বাউ ড্রাগন ফল-২ জাত চাষ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বাগান স্থাপনের ক্ষেত্রে এলাকার আবহাওয়া, মাটির ধরন ও বাজারচাহিদা বিবেচনা করে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।

    চারা তৈরি ও রোপণ
    সাধারণত কাণ্ডের ডাল বা কাটিংয়ের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চারা তৈরি করা হয়। সুস্থ ও রোগমুক্ত গাছ থেকে ৮–১০ ইঞ্চি লম্বা কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। কাটিং সংগ্রহের পর প্রায় সাতদিন ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে কাটিংয়ের কাটা অংশ শুকিয়ে যায় এবং রোপণের পর পচনের ঝুঁকি কমে।
    মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর প্রায় ২ ফুট চওড়া ও ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে।
    চারা রোপণের আগে প্রতিটি গর্তে ১০–১৫ কেজি গোবর সার, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা যেতে পারে। জমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে গর্তের নিচে বালু ব্যবহার করা যেতে পারে।

    খুঁটি স্থাপন ও চারা লাগানো
    ড্রাগন ফল গাছ লতানো প্রকৃতির হওয়ায় গাছকে ভর দেওয়ার জন্য শক্ত খুঁটি প্রয়োজন। এজন্য ৪ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি বেড়ের ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা যায়। খুঁটির প্রায় দেড় ফুট মাটির নিচে রেখে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
    খুঁটির মাথায় টায়ার অথবা ১ থেকে ১ দশমিক ৫ ফুট ব্যাসের বৃত্তাকার রডের কাঠামো তৈরি করতে হয়। প্রতিটি খুঁটির চারপাশে চারটি করে কাটিং রোপণ করা যায়। তবে কাটিংয়ের গোড়া ৩ থেকে ৪ ইঞ্চির বেশি মাটির নিচে দেওয়া যাবে না। রোপণের পর চারাগুলোকে আলতোভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে।
    সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশ পেলে রোপণের প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে গাছে ফল আসতে পারে। তবে ফলন ও উৎপাদনকাল জাত, পরিবেশ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে।

    রোগবালাই ও পোকামাকড়
    ড্রাগন ফলের বাগানে অ্যানথ্রাকনোজ, গোড়াপচা, কাণ্ডপচা ও কাণ্ডের ক্যানকার জাতীয় রোগ দেখা দিতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে প্রয়োগ করতে হবে।
    বাগানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে গোড়া ও কাণ্ড পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং গাছের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
    ড্রাগন ফলে থ্রিপস, মিলিবাগ ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গাছ ও ফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রমণ বেশি হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

    পরিচর্যায় গুরুত্ব
    ড্রাগন ফলের ভালো ফলনের জন্য শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না; নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও পানি নিষ্কাশন, রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণ এবং গাছের বাড়তি শাখা-প্রশাখা ব্যবস্থাপনা করতে হবে। গাছ যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। ড্রাগন ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বাড়ির ছাদ, বসতভিটা কিংবা উপযুক্ত কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষকের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    একসময় যে পাট ছিল বাংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণ। সেই ‘সোনালি আঁশ’ এবার যেন নতুন করে হাসি ফুটিয়েছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে। সবুজ মাঠ পেরিয়ে পাট এখন উঠেছে হাটে। পচানো, ধোয়া ও শুকানোর পর পরিপক্ব আঁশের গন্ধে মুখর জেলার হাট-বাজার। আর ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে চড়া দাম—দুইয়ের সমন্বয়ে এ বছর পাটচাষিদের ঘরে ফিরছে স্বস্তি।

    চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে ফরিদপুরে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি এবং কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যায় শুধু ফলনই নয়, পাটের আঁশের রং ও গুণগত মানও হয়েছে বেশ ভালো।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর থেকেই কৃষকদের পাট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ২২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের পরিচর্যায় বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের মানও হয়েছে চমৎকার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কানাইপুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন প্রধান পাটের হাট ঘুরে দেখা যায়, নতুন পাটের বেচাকেনায় বেশ প্রাণচাঞ্চল্য। হাটে কৃষকের ভিড়, পাটের স্তূপ আর দরদামে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ।

    গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পাটের দরও বেড়েছে। কানাইপুর, তালমা, কাদিরদী, সাতৈর ও বড়গাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট প্রায় ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর মাটি, পানি, রোদ আর শ্রমের সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ঘরে তুলেছেন, এবার তার ন্যায্য মূল্য মিলছে—এটাই যেন তাদের মুখের হাসির সবচেয়ে বড় কারণ।ফরিদপুর সদর উপজেলার পাটচাষি লাভলু মিয়া বলেন, ‘এবার পাট ও আঁশ দুটোই চমৎকার হয়েছে। সার, কীটনাশক আর সেচ খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো লাভ থাকছে।’

    আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং আগের দেনা মেটানো সহজ হয়ে গেছে। এমন দাম পুরো মৌসুমজুড়ে থাকলে আমাদের মতো পাটচাষিদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’

    তবে বাজারে পাটের চড়া দাম স্বস্তি যেমন এনেছে কৃষকের জীবনে, তেমনি কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর। হাটে নতুন পাটের আমদানি কিছুটা কমে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পেলেও মিল বা ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করার পর আগের মতো মুনাফা থাকছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    কানাইপুর হাটের ব্যবসায়ী লিয়াকত মুন্সি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা ৪০০০-৪২০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি। এখন হাটে পাটের সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ও মিলে বিক্রি করে তেমন লাভ থাকছে না।’

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার জেলাজুড়ে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি আঁশের গুণগত মানও ভালো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো গুণগত মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাজারে বর্তমান চড়া দাম বজায় থাকলে ফরিদপুর থেকে ২২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।’

    কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা মনে করেন, পাট বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ কৃষকের হাতে গেলে তা শুধু কৃষকের পরিবারেই স্বস্তি আনবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কৃষকের আয় বাড়লে বাড়বে ক্রয়ক্ষমতা, সচল হবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।

    ফরিদপুরের মাঠে তাই এখন শুধু পাটের আঁশ নয়, কৃষকের স্বপ্নও শুকাচ্ছে রোদে। হাটে হাটে সোনালি আঁশের স্তূপ যেন বলে দিচ্ছে—মাটির সঙ্গে যে মানুষের বন্ধন, তার গল্প কখনো পুরোনো হয় না। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম মিললে সেই মাটিই কৃষকের ঘরে এনে দিতে পারে স্বচ্ছলতার আলো।

    এবার ফরিদপুরের পাটের মাঠে সেই আলোরই যেন দেখা মিলছে। সোনালি আঁশের রঙে রাঙা হচ্ছে কৃষকের মুখ, আর তার সঙ্গে আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

  • সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    মরুভূমির প্রাণী দুম্বা বাংলাদেশের মাটিতে পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যুবক রবিউল ইসলাম। দুটি দুম্বা দিয়ে শুরুর সফলতায় সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ ৬৫ দুম্বা। এ সব দুম্বার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

    নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউল ইসলাম। এসএসসি পাশের পর কাজের সন্ধানে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় ভাটা পড়ে সে

    সিদ্ধান্তের। এরপর ভাবতে শুরু করেন এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। এমন ভাবনা থেকে শুরু করেন দুম্বা পালন।

    দুম্বা পালন শিখেছেন ফেসবুক-ইউটিউব দেখে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ প্রাণীর পালনে

    আগ্রহ তৈরি হয় রবিউলের। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরীক্ষামূলভাবে দুটি দুম্বার পালনের সফলতায় আরও সংগ্রহ করেন ছয়টি। মোট আটটি দুম্বা সংগ্রহে তার খরচ হয় ১২ লাখ টাকা।

    রবিউল জানান, ছয়মাসের মধ্যেই এ সব দুম্বা বাচ্চা দিতে শুরু করে। এরপর প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ করছে ৬৫ দুম্বা। সবুজ ঘাস আর খৈল ভুসি এ সব দুম্বার প্রধানখাবার। ওই ৬৫ দুম্বা পরিচর্যায় তার খামারে কাজ করছেন পাঁচজন কর্মচারী।

    রবিউলের ভাষ্য, একটি দুম্বার ওজন ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স, ওজন ও আকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি দুম্বা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    রবিউল বলেন, ‘দুম্বার পছন্দের খাবার কাঁচা ঘাস। ঘাস, খৈল-ভুসিসহ প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারের পেছনে খরচ ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। রোগবালাই খুব কম হয়। সময়মতো খাবার এবং রোগ প্রতিরোধের টিকা দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।’

    প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইবার করে বাচ্চা দেয়। প্রতিবার একটি থেকে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। তিনমাস বয়সে একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। এ বয়সের একটি বাচ্চার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। দুম্বার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।

    এক সময় নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন রবিউল ইসলাম। দুম্বার খামার বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন নিজে পার করছেন কর্মব্যস্ত জীবন। তেমনি তার ওই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার পাঁচ শ্রমিকের।

    খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, ‘রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের আহার জুটছে। এর পরিধি বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

    তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ খামার দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপকতা বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    রবিউল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুম্বা ক্রেতারা ফোন করছেন। অনলাইনে অনেকে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে এর পালন পদ্ধতি শিখতে চাচ্ছেন। তবে কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে ফোন কল আসছে। বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। তাই বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।’

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, ‘দুম্বা পালনে রবিউলের সাফল্য অনেক। তাকে অনুরণ করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন দুম্বা পালনে। সৈয়দপুরের কাঠারিপাড়ার সবুজ মাঠে এখন তাই মরুর প্রাণী দুম্বার বিচরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সেই দৃশ্য দেখতে। কেউ কৌতূহলি হয়ে, কেউ ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে, আবার কেউ কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে।’

    রবিউলের খামারের গল্প তাই শুধু দুটি দুম্বা থেকে ৬৫টি দুম্বায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের পশুপালনে একজন তরুণের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোগেরও গল্প।