কৃষি

  • বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    মা ইলিশ রক্ষা ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এ সময় একজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ইলিশ মাছ, যা স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা। মা ইলিশ সংরক্ষণে তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করা এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীতে পরিচালিত এ অভিযানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একটি মামলা করা হয়। এতে একজনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এ ছাড়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জেলেদের মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন এবং বরিশালের ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।

    ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে এক অনুষ্ঠানে জেলার ২০ জন কৃষকের হাতে এ মেশিন তুলে দেয়া হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সঞ্চালনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, প্রকৃত পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এয়ার ফ্লো মেশিন দিচ্ছে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২১ হাজার টাকা ও ঘর নির্মাণের জন্য দেয়া হবে ৭ হাজার টাকা। একটি মেশিনের আওতায় ২০/২৫ মেট্রিক টন পেয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে।

    তিনি আরো বলেন,পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই পেঁয়াজ ভালো মত শুকিয়ে রাখতে হবে।

  • আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

    আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়ঘাটে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে । ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে বলে জানান, কৃষকরা।

    সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগ থেকেই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধান কাটা চলবে। মূল মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের শুরুতে।

    এ বছর বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রভাব বা মারাত্মক রোগবালাই না থাকায় আগাম জাতের আমনের ফলন বেশ ভালো ও আশানুরূপ হয়েছে। এতে কৃষকদের মনে আনন্দের হাসি ফুটেছে। তবে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কোনো কোনো কৃষক।

    উপজেলার রামেশরপুর গ্রাম এলাকার কৃষক নজির হোসেন জানান, সাধারন উঁচু জমিতে আগাম জাতের বিনা ৭ ধান চাষ করেছি । এসব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ২ বিঘা জমিতে এধান চাষ করেছেন ।

    তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা কিন্তু গেল বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। ‘আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর আমি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়াও ভুট্টা চাষ করবেন বলে জানান।

    উপজেলার কশিগাড়ি গ্রামের কৃষক মজু জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-ভুট্টা চাষ করা যায়। এতে তারা লাভবান হন। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় আছি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৭,৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫০০ হেক্টর । মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি থাকলেও খেতের অবস্থা ভালো রয়েছে এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

    এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ আগাম জাতের, শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

  • ১৯ লাখ তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা

    ১৯ লাখ তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা

    দেশের বস্ত্রশিল্পের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন বাড়িয়ে ১৯ লাখ বেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে বছরে ১৬ লাখ বেল তুলার চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে মাত্র ১৮ থেকে ২০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বাসসকে বলেন, ‘দেশের ৫০টিরও বেশি জেলায় তুলার উৎপাদন বাড়াতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি।’

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুলা চাষের জমি বাড়িয়ে দুই লাখ হেক্টরে উন্নীত করার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ বেল, ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ লাখ বেল এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ বেল আঁশতুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিডিবি।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার ও নীলফামারী জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে।

    বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলা ও ১৩২টি উপজেলায় উফশী ও পাহাড়ি—উভয় জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ জমিতে উফশী এবং ৩১ শতাংশ জমিতে পাহাড়ি তুলা চাষ করা হয়। প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে এসব তুলা চাষ করে বছরে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার বেল আঁশতুলা উৎপাদিত হচ্ছে।

    তুলার উৎপাদন বাড়ানোর কর্মসূচির আওতায় উঁচু চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, উপযোগী পাহাড়ি জমি, তুলনামূলক কম উর্বর ও কম উৎপাদনশীল জমি, লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকা, বিভিন্ন ফলের বাগান, সবজি, ডাল ও মসলার সঙ্গে তুলার আন্তঃফসল চাষ সম্প্রসারণ এবং সরকারি খাসজমি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় দেশের তুলা উৎপাদনের সব সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে সিডিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায়ও স্থানীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানো এবং বিপুল আমদানি ব্যয় কমাতে সিডিবিকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

  • পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    কয়েক বছর আগেও ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা যে ৮০ শতক জমি পড়ে ছিল অলসভাবে। এক ব্যবসায়ীর অদম্য চেষ্টায় আজ সেখানে ফলছে সোনালি সম্ভাবনা। পতিত জমিকে উর্বর শস্য খেতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫)। মূল ব্যবসার পাশাপাশি বিষমুক্ত এ সবজি বাগান এখন তার জীবনের গতি বদলে দেওয়া নির্ভরযোগ্য বাড়তি আয়ের পথ।

    ২০২২ সালে বাড়ির পাশে পারিবারিক ২০ শতক অনাবাদি জমি কাজে লাগানোর চিন্তা করেন মতিন। পাশের মালিকের আরও ৬০ শতক জমি পড়ে থাকতে দেখে উদ্যোগ বাড়ান তিনি। বছরে ২৫ হাজার টাকায় তা ইজারা নিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু হয় জমি প্রস্তুতের কাজ।

    প্রথমবার স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা মূলধনে চাষ করেন টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও ধনেপাতা। প্রথম মৌসুমেই মেলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয়। এমন অভাবনীয় সাফল্য মতিনের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সাল থেকে একক উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে মাঠে নামেন তিনি। দোকানের কেনাবেচা আর কৃষিকাজ দুই সামলানো কঠিন হলেও একাগ্রতা হারাননি মতিন। ভোররাতে ফজরের নামাজ শেষেই তিনি ছুটে যান খেতে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা শেষে বাড়ি ফিরে গোসল-নাশতা সেরে খোলেন দোকান। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন স্থায়ী শ্রমিকও নিয়োগ

    দিয়েছেন।

    মতিনের এ বাগান স্থানীয় একজনের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করেছে। বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন এ উদ্যোক্তা। প্রথমবার সরাসরি মাটিতে সবজি চাষ করেছিলেন মতিন। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির মাটি সরে গিয়ে নানা সমস্যা হতো। তাই দ্বিতীয়বার চাষপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন। জমিতে ব্যবহার করছেন মাটির পুষ্টি রক্ষায় ‘মালচিং পেপার’, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ‘পলিশেড’ এবং গ্রীষ্মে টমেটো ফলনে ‘গ্রাফটিং’ (কলম) পদ্ধতি। রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া মূলত জৈব সার দিয়েই চাষ হচ্ছে সবজি। ফলে বাজারে তার বাগানের ফসলের চাহিদা অন্য যেকোনো খেতের চেয়ে অনেক বেশি।

    বর্তমানে ৩০ শতকে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা এবং ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ হাসছে মতিনের খেতে। মতিনের ভাষ্য, আধুনিক পদ্ধতিতে খরচ বেড়েছে। এখন প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেন তিনি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলার চাষ করেন। শীতকালে চাষ করেন লাউ, টমেটো ও আলু।বাজারদর ও সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আবদুল মতিন জানান, খেতের টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা এবং লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রির পর শীতের মুখ দেখার আগেই আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

    কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল মতিন বলেন, ‘জায়গাটা বেকার পড়ে আছিল, তাই কাজে লাগাইলাম। খেতের সবজিতে নিজেদের ঘরের চাহিদাতো মিটছেই, দুই ভাইয়ের পরিবারকেও দিচ্ছি।’

    তার ভাষ্যে, স্থানীয় কিছু পাইকার তার কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। আবার তার দোকানের সামনেও কিছু সবজি নিয়ে রাখেন। সেখান থেকে অনেকে এক-দুই কেজি করে কিনে নেন। বাজারে নেওয়ার আগেই সবজি বিক্রি হয়ে যায়। ব্যবসার পাশাপাশি এটি তার বাড়তি আয়ের পথ হয়েছে।

    শুধু সবজি নয়, ফলের বাগানও করেছেন মতিন। বাড়ির কাছে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা লাগিয়েছেন। পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি।

    গ্রীষ্মে শীতের সবজি মতিন জানান, জমিতে জৈব সারই বেশি ব্যবহার করেন। কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। টমেটো, লাউ ও শসা সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালে বাজারে এ সব সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে বলে জানান তিনি। এ কারণেই গ্রীষ্মকালীন চাষে এ সব সবজি রাখছেন। মতিনের এ অভূতপূর্ব সাফল্য নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি বিভাগেরও।

    উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে গত ২৪ আগস্ট মতিনের বাগানেই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘ইচ্ছা, সঠিক শ্রম ও আধুনিক পরিচর্যা থাকলে পতিত জমি থেকেও কীভাবে বিপুল মুনাফা অর্জন করা যায়-মতিন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুরো এলাকার জন্যই তিনি এখন অনুপ্রেরণা। অনাবাদি জমিতে বুনে দেওয়া সেই ছোট স্বপ্নটি আজ পুরো উপজেলার কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপ নিয়েছে।

  • দুই ভাই গ্রীষ্মে বাঁধাকপি চাষে সফল

    দুই ভাই গ্রীষ্মে বাঁধাকপি চাষে সফল

    গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের মহাসিন গার্ডের দুই ছেলে সেন্টু গার্ড ও তুহিন গার্ড। পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ করে তারা এ সফলতা পেয়েছেন।

    তাদের এ চাষাবাদ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। দুই ভাইয়ের সাফল্য দেখে বাঁধাকপি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।বাঁধাকপি চাষি তুহিন গার্ড বলেন, গ্রীষ্মের বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা তার। পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

    তুহিন গার্ড আরও বলেন, গ্রীষ্মকালে বাঁধাকপি চাষ করে ফলন পাওয়া নিয়ে প্রথমে শঙ্কা থাকলেও কৃষি বিভাগের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন হয়েছে। সেচ ও সার কম লাগায় শীতের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও বাঁধাকপি চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব। আগামী বছর অন্য ফসলের আবাদ কমিয়ে বাঁধাকপি চাষের পরিমাণ বাড়াবেন বলেও জানান তিনি।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ হোসেন বলেন, ভালো দামের আশায় এবার নভেম্বরের আগেই, অর্থাৎ অক্টোবরেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম জাতের বাঁধাকপি। সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ডসহ খাঁড়ারা ব্লকের অনেক কৃষক এ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

    মিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম রাজীব বলেন, সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ড এবার পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন পর্যন্ত কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভালো ফলন হওয়ায় গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বাঁধাকপি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

  • হাঁসের খামারের লোকসান পোকা চাষে সাফল্য

    হাঁসের খামারের লোকসান পোকা চাষে সাফল্য

    পোকা দেখলে বিরক্ত হয়ে দূরে সরিয়ে দেন অনেকেই। অথচ সেই পোকাই এখন পাবনার শিমুল হোসেনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। চাকরি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে হাঁসের খামার করেছিলেন তিনি। কিন্তু রোগে একের পর এক হাঁস মারা যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেনার বোঝায় থমকে যায় পথচলা।ঠিক সেই সময় ইউটিউবের একটি ভিডিও বদলে দেয় তার চিন্তা। পরিচিত হন ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা কালো পোকা চাষের সঙ্গে। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞতা আর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো। এখন তার রয়েছে পাঁচটি পোকা চাষের খামার। মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, তার উদ্যোগে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন মানুষেরও।

    পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পারসিধাই গ্রামের মোজাহার আলী প্রামানিকের ছেলে শিমুল হোসেন। পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা পাশ করেন। ৬ বছর আগে তিনি খামার শুরু করেন। এর আগে তিনি ঢাকায় বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করতেন। বর্তমানে তার খামারে ১৭ জন কর্মচারী কাজ করেন।শিমুলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হয়েছিল বড় ধরনের ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে। চাকরি ছেড়ে নিজের কিছু করার ইচ্ছা থেকেই হাঁসের খামার করেছিলেন। শুরুতে স্বপ্ন ছিল খামার বড় করবেন, আয় বাড়াবেন, পরিবারের অবস্থাও বদলাবেন। কিন্তু হঠাৎ খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক হাঁস মারা যেতে থাকে। চোখের সামনে শেষ হয়ে যায় বিনিয়োগ করা টাকা। লোকসানের ধাক্কায় যখন নতুন করে কিছু শুরু করার সাহসও পাচ্ছিলেন না, তখন অনলাইনে বিভিন্ন কৃষি ও খামারবিষয়ক ভিডিও দেখা শুরু করেন শিমুল। সেখানেই প্রথম জানতে পারেন ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের কথা। এই পোকার লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় জানার পর আগ্রহ তৈরি হয় তার। খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন জৈব বর্জ্য খেয়েও এই লার্ভা বেড়ে ওঠে। অর্থাৎ একদিকে প্রাণিখাদ্যের জন্য প্রোটিন, অন্যদিকে জৈব বর্জ্য ব্যবহারের সুযোগ বিষয়টি শিমুলকে আরও উৎসাহী করে।

    এরপর আর বেশি ভাবেননি শিমুল। ঝুঁকি নিয়েই শুরু করেন পোকা চাষ। শুরুটা ছিল খুব ছোট পরিসরে। নিজের জায়গায় পরীক্ষা করে দেখতে থাকেন উৎপাদন পদ্ধতি। প্রথমদিকে নানা সমস্যা হয়েছে। কীভাবে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কীভাবে লার্ভা সংগ্রহ করতে হবে এসব শিখতে হয়েছে।বর্তমানে পাঁচটি খামারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদন করছেন শিমুল। উৎপাদিত লার্ভা সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা থাকায় উৎপাদনের পরপরই তা বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

    শিমুল হোসেন বলেন, হাঁসের খামারে যখন লোকসান হলো, তখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে পোকা চাষের বিষয়ে জানতে পারি। প্রথমে অল্প পরিসরে শুরু করি। পরে বুঝতে পারি এর চাহিদা আছে। এখন ধীরে ধীরে খামার বাড়িয়েছি।’

    শিমুলের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম জায়গায় এবং কম খরচে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই চাষ করা সম্ভব। তবে সঠিক নিয়মে পরিচর্যা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শুরুতে মানুষ হাসাহাসি করত। পরিবারের লোকজনও পছন্দ করত না। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল পরিবার। কিন্তু আমি কাজটা চালিয়ে গেছি। এখন পাঁচটি খামার হয়েছে। মাসে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো লাগে, আমার কারণে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’স্থানীয় কয়েকজন জানান, এলাকায় আগে এ ধরনের উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি। প্রথমে কেমন কেমন যেন লাগছিল। এখন ভালোই লাগে। শিমুলের খামারে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বেকার যুবকদের কয়েকজনের আয় করার পথ হয়েছে। তাদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    শিমুলের বাবা মোজাহার আলী প্রামানিক বলেন, শুরুতে যখন পোকা চাষ শুরু করল, তখন আমরা বিরক্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। ভাবতাম, এসব আবার কী কাজ! একসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করতাম। এখন তো বিশাল খামার হয়েছে। অনেক শ্রমিক দিনরাত কাজ করে। এখন আমার ছেলের অধীনেই অনেক মানুষ কাজ করে। এটা দেখে আমাদের ভালো লাগে।

    পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস। প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ করা গেলে এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

    পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেকার যুককদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এ ধরনের উদ্যোক্তা অনেক প্রয়োজন। এমন কাজের মাধ্যমেই দেশেরপ্রাণি খাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস তৈরি হবে

  • পতিত জমিতে পানিফলের চাষ

    পতিত জমিতে পানিফলের চাষ

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একসময় বছরের বেশিরভাগ সময় পতিত পড়ে থাকা নিচু জমি ও জলাশয় এখন কাজে লাগছে পানিফল চাষে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকা এ সব জমিতে পানিফল চাষ করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি ও জলাশয়ের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে সবুজ পানিফলের গাছ ছড়িয়ে রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের চাদরে ঢেকে গেছে পুরো জলাশয়। পানির ওপর ভেসে থাকা পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে উঠছে পানিফলের গাছ।

    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগে এ সব জমির বড় একটি অংশ বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকায় কৃষিকাজ করা সম্ভব হতো না। ফলে জমিগুলো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অনেকটাই অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই পতিত জমিতে পানিফল চাষ করে পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    দেশে প্রথম পানিফল চাষ শুরু হয় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে। অল্প সময় ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পানিফল চাষে অনেক আগ্রহী হয়ে উঠেছে চাষিরা। উপজেলায় পানিফল উৎপাদনে সফলতা পাওয়ায় অন্যান্য উপজেলার চাষিরা অনুপ্রাণিত হয়ে চাষাবাদ পদ্ধতি শিখে তাদের পতিত জমিতে পানিফল চাষ শুরু করেছে।

    স্থানীয় নাম ‘সিঙ্গারা’, অনেকই চিনেন ‘পানিফল’ হিসেবে। তাছাড়াও নানা জায়গায় বাহারি সব নাম রয়েছে। ওয়াটার কালট্রপ, বাফেলো নাট, ডেভিল পড ইত্যাদি। আবার ইংরাজিতে একে ‘ওয়াটার চেস্টনাট’ বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ট্রাপা নাটানস’। এটি কেবল হাঁটু বা কোমর পানিতেই জন্মায়। দেখতে খানিকটা বাজারে তৈরি সিঙ্গারা মতো হওয়ায় অনেকেই সিঙ্গারা বলেও চিনেন।

    পানিফল চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। ফলে চাষিদের খরচ কম। পতিত জলাশয়ে চারা রোপণ করে শুধুমাত্র ভাল পরিচর্যায় এর ভালো ফলন পাওয়া যায়। বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ পানিফলের গাছ ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পানির নীচে মাটিতে শিকড় থাকে পানির উপর পাতাগুলি ভাসতে থাকে। বিভিন্ন পতিত ডোবা, খাল, পুকুরের অল্প পানিতেই পানিফল চাষ করা যায়। যার কারণে এই চাষে উৎসাহ পাচ্ছে চাষিরা।

    পানিফল চাষে তুলনামূলকভাবে জমি প্রস্তুতের ঝামেলা কম। নিচু ও পানিযুক্ত জমিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে পানিফলের চারা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর গাছগুলো পানির ওপর বিস্তৃত হয়ে ফলন দিতে শুরু করে। মৌসুমে কয়েক দফায় ফল সংগ্রহ করা যায় বলে কৃষকদের কাছে এ চাষ বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কৃষকরা জানান, পানিফল স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারেও সরবরাহ করা হয়। মৌসুমে চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পানিফল বিক্রি করে অনেকেই সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি অর্থ উপার্জন করছেন।

    স্থানীয়দের মতে, দেওয়ানগঞ্জে বর্ষাকালে অনেক নিচু জমি পানিতে তলিয়ে থাকে। পরিকল্পিতভাবে এ সব জমিকে পানিফলসহ জলজ কৃষির আওতায় আনা গেলে একদিকে যেমন পতিত জমির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের কর্মসংস্থান ও আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন মিয়া জানান, দেওয়ানগঞ্জে এ বছরে ৩৫ হেক্টর জমিতে পানি ফল চাষাবাদ হয়েছে, যেসব জমি দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকে, সেখানে পানিফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

    তবে কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষাবাদ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব। অনাবাদি জমিগুলো চাষের আওতায় আনলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • অকার্যকর ‘কৃষক অ্যাপ’, তালিকা দিতে অনীহা কৃষি কর্মকর্তাদের

    অকার্যকর ‘কৃষক অ্যাপ’, তালিকা দিতে অনীহা কৃষি কর্মকর্তাদের

    আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন ধান সংগ্রহ ২০২৬-২৭ মৌসুমে খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারি উদ্যোগ শুরুতেই বড় ধরনের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতায় পড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি অফিসে প্রকৃত আবাদকারী কৃষকের তালিকা চাওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ।

    একদিকে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘কৃষকের অ্যাপ’ দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। অন্যদিকে, উপজেলা খাদ্য অফিসের বিরুদ্ধে কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা তোয়াক্কা না করে নিজস্ব পছন্দসই লোক দিয়ে ভুয়া লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ফলে তালিকা প্রণয়নে চরম অনীহা ব্যক্ত করছেন ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ময়মনসিংহে আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল দুই হাজার ২৫৬ টন। জেলার ১৩টি উপজেলার ১৯টি গুদামে একযোগে চলে ধান সংগ্রহ অভিযান। তবে চলতি বছর আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক করেনি সরকার।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আমন সংগ্রহ মৌসুমে ‘অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭’ অনুযায়ী ইউনিয়নওয়ারি আবাদকারী প্রকৃত কৃষকের তালিকা আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দুই উপায়ে কৃষক নির্বাচন করার কথা— খাদ্য বিভাগের ডিজিটাল মাধ্যম ‘কৃষকের অ্যাপ’ এবং উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণীত আবাদকারী কৃষকের তালিকা। কিন্তু ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, গফরগাঁও, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, তারাকান্দা, নান্দাইল ও হালুয়াঘাট এই ১৩টি উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোবাইলে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ইন্সটল করার পর তা খোলেই না। সার্ভার ত্রুটি ও কারিগরি জটিলতায় অ্যাপটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ চাষিরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    অ্যাপ বিকল হওয়ায় খাদ্য সংগ্রহের পুরোটাই নির্ভর করার কথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তালিকার ওপর। কিন্তু এতেও তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ। জেলার একাধিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছর আবাদকারী প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আমরা কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়ায় তালিকা পাঠাই। কিন্তু খাদ্য অফিস সেই তালিকা অনুযায়ী ধান না কিনে নিজেদের সুবিধাজনক লোকজনের তালিকা তৈরি করে লটারির নামে ধান সংগ্রহ দেখায়।

    পরবর্তীতে অভিযোগ উঠলে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অভিযোগ, তাদের পাঠানো হাজার হাজার কৃষকের তালিকা থেকে ৭০-৮০ শতাংশের বেশি নাম বাদ দিয়ে নামমাত্র কয়েকজন কৃষকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়। বাকি জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী ও খাদ্য অফিসের সিন্ডিকেটের লোকজনকে জায়গা দেওয়া হয়। এ কারণে প্রতিবছর কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কৃষকদের অসন্তোষের মুখে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে এবার নতুন করে পুনরায় কৃষকের তালিকা তৈরিতে অনীহা দেখাচ্ছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

    ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় দুই লাখ ৭০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১০ লাখ কৃষক রয়েছেন। কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও হয়রানির কারণে সাধারণ কৃষকরাও খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার কয়েকজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে মাঠপর্যায় থেকে প্রকৃত আবাদকারী কৃষকদের এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিলিয়ে নিখুঁত তালিকা পাঠাই। কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান জমা নেওয়ার সময় আমাদের সেই তালিকার কোনো প্রতিফলন থাকে না। খাদ্য অফিস নিজেদের মতো করে তালিকা বানিয়ে লটারির অজুহাত দেয়। কৃষকরা এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়। যদি আমাদের তালিকাই মূল্যায়ন না করা হয়, তবে প্রতিবছর এমন নিষ্ফল তালিকা পাঠানোর কোনো মানে হয় না।’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, প্রতিবছর আমরা যে তালিকা দেই; সে অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হয় না। অনেক কৃষক আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা তুলে মাত্র ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। আর ধান দিতে গেলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।

    অন্যদিকে, অ্যাপ সচল না থাকা ও কৃষি কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসান জানান, অ্যাপের কারিগরি দিকটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। আর সংগ্রহ নীতিমালার আলোকেই উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমেই কৃষক চূড়ান্ত করা হয়। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। অ্যাপ-এর কার্যক্রম সারা বছর বন্ধ থাকে, নির্দিষ্ট সময়ে এটি খুলে দেয় সরকার।

    স্থানীয় নাগরিক নেতা ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য, ডিজিটাল ‘কৃষকের অ্যাপ’ সচল না থাকা এবং কৃষি ও খাদ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছে। আর সরকারের আসল উদ্দেশ্য কৃষককে ধানের ন্যায্য মূল্য দেওয়া—তা ভেস্তে যেতে বসেছে। অবিলম্বে অ্যাপটি সচল করা এবং কৃষি অফিসের প্রেরিত প্রকৃত কৃষকদের শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম জানান, আমরা কৃষকের কাছ থেকে ধার নিলেও এসব তাদেরকে আমরা চিনি না। এজন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের তালিকা নিতে হয়।

  • লবণাক্ত জমিতে তুলা চাষের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

    লবণাক্ত জমিতে তুলা চাষের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

    খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল ও অন্যান্য কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, তুলা উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

    বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িতে তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে হবে। যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উন্নতমানের পণ্য এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বিনিয়োগে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য হতে হবে কার্যকর ও লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা।

    রঙিন তুলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে। পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের তুলার উৎপাদন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে নাকি বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে, এসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, তুলা চাষের জন্য খাদ্যশস্যের জমি ব্যবহার করা যাবে না। বরং চর, লবণাক্ত ও কম ফসলি জমিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তুলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে হলুদসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে।

    তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে অর্থায়ন বড় বাধা হবে না উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি তুলা উৎপাদন ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ।