আর্ন্তজাতিক

  • ইরান যাওয়ার পথে মরুভূমিতে ১৯ আফগানের মৃত্যু

    ইরান যাওয়ার পথে মরুভূমিতে ১৯ আফগানের মৃত্যু

    ইরানে প্রবেশের চেষ্টার সময় মরুভূমির তীব্র গরমে ও তৃষ্ণায় ১৯ জন আফগান অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। খবর গালফ নিউজের।

    আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিমরোজ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাদঘিস প্রদেশ থেকে আসা ওই ১৯ জন পুরুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তীব্র গরম ও পানির অভাবে তারা মরুভূমিতে আটকা পড়েন এবং তৃষ্ণা ও তাপজনিত কারণে মারা যান।

    নিমরোজের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ এলহাম জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় নিমরোজের রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে নিকটবর্তী ‘মৃত্যুর উপত্যকা’ নামে পরিচিত দাশ্ত-এ মার্গো মরুভূমি থেকে আরও ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ওই দলের ১৯ জন অভিবাসীরই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    প্রাদেশিক মুখপাত্র আব্দুল মুতাওয়াকিল তাওয়াহিদি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা দুর্গম ওই এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে স্থানান্তর করেছেন।

    নিহত অভিবাসীরা সবাই বাদঘিস প্রদেশের একটি নির্দিষ্ট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মূলত কাজের সন্ধানে ও উন্নত অর্থনৈতিক জীবনের আশায় তারা দেশত্যাগ করে ইরানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। ইরান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী নিমরোজ প্রদেশটি আফগান অভিবাসীদের জন্য অন্যতম প্রধান একটি ট্রানজিট রুট। তবে বিশাল বালিয়াড়ি, বরফাবৃত নয় বরং রুক্ষ ল্যান্ডস্কেপ এবং গ্রীষ্মকালে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা থাকার কারণে এই অঞ্চলের মরুভূমি পারাপার অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    মানবাধিকার ও মানবিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে গ্রীষ্মের এই সময়ে মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় পানিশূন্যতা, চরম আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে অভিবাসীরা মারাত্মক জীবনঝুঁকির মুখে পড়েন। আফগানিস্তান থেকে অবৈধ ও বিপজ্জনক এই অভিবাসন রুটগুলোর ভয়াবহতারই একটি করুণ উদাহরণ এই ঘটনা।

  • ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

    ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

    ভারতের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ‘ফরেনার সেল’ পরিচালিত ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন)-এর অধীনে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) ডাবল-এন্ট্রি ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাদের আটক করা হয় বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কর্মকর্তারা জানান, আটককৃত এই ৬ বিদেশি নাগরিক তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় প্রতি সফরে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত এক বিশেষ যাচাইকরণ অভিযানের সময় এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ভ্রমণের নথিপত্র যাচাই শেষে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়। এফআরআরও তাদের বিরুদ্ধে ‘রেস্ট্রিকশন অর্ডার’ বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেছে। এরপর ওই ৬ জনকেই সেবা ধামের ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবেন।

    যেভাবে আটক হলেন তারা

    বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বিধিমালা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান প্রয়োগ অভিযানের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ফরেনার সেল এই ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ শুরু করে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

    সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ইনচার্জ পরিদর্শক সন্দীপ যাদবের নেতৃত্বে এবং এসিপি (অপারেশনস) পদম সিং রানার তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান চলাকালে ফরেনার সেলের একটি দল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। নবি করিমের আরাকাশান রোডের একটি হোটেলে পরিদর্শনের সময় ওই ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে পাওয়া যায়।

    জিজ্ঞাসাবাদে ওই ৬ জন জানান, তারা বৈধ ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং মধ্য দিল্লির ‘সার্থক প্লেস’ হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভিসার শর্ত অনুযায়ী প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু তারা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বৈধ অনুমোদন বা মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন।

    সবশেষে নথিপত্র ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাইয়ের পর এফআরআরও ভিসা লঙ্ঘন এবং ভারতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধানগুলোর অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের দিল্লির সরাই রোহিল্লার শাহজাদা বাগের সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তাদের ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে গাজায় এতিম শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা

    বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে গাজায় এতিম শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা

    চলমান যুদ্ধের মধ্যে মা-বাবাকে হারানো শিশুদের করুণ বাস্তবতার দিকে বিশ্ববাসীর নজর ফেরাতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় এক বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেয় শত শত ফিলিস্তিনি শিশু।

    মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্কিং ফর হিউম্যানিটেরিয়ান’-এর উদ্যোগে এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়।

    সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধে প্রতিদিন বহু শিশু তাদের বাবা-মা কিংবা অভিভাবককে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ছে। চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মুখে পড়া এসব শিশুর দুঃখ-কষ্ট ও সার্বিক দুর্দশার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

    ম্যারাথন চলাকালে শিশু ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবরুদ্ধ গাজার এতিম শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো জোরালো ভূমিকা পালন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা এগিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নেদারল্যান্ডসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নেদারল্যান্ডসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে হাজার হাজার শিশু। তাদের স্মরণে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। গত ১ আগস্ট হেগের শেভেনিঙ্গেন সৈকতে শিশুদের হাজার হাজার জোড়া জুতা সারি বেঁধে রাখা হয়।

    সৈকতে রাখা ৭ হাজার জুতা হয়ে ওঠে নিহত শিশুদের জীবনের প্রতীক; তুলে ধরে ইসরাইলের গণহত্যায় মানবিক প্রভাবের গভীরতা। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে অংশগ্রহণকারীরা দিনভর সেখানে জড়ো হন। আয়োজকদের লক্ষ্য, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো।

    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় ২০ হাজার শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৪ হাজারের বেশি শিশু।

    এছাড়া আরো হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে তারা।

    অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পাঁচ বছরের কম বয়সি অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু তীব্র ক্ষুধার কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনাহারে মারা গেছে অনেকে।

  • গাজা যুদ্ধে ৭৫ স্বজনকে হারিয়েছে হানিয়ার পরিবার

    গাজা যুদ্ধে ৭৫ স্বজনকে হারিয়েছে হানিয়ার পরিবার

    ইসরাইলের সঙ্গে চলমান গাজা যুদ্ধে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ৭৫ জনের বেশি সদস্যকে হারিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার পরিবার। একই সঙ্গে তাদের বিস্তৃত ‘আল-হাজ্জ’ গোত্রের প্রায় ২৫০ জন সদস্য এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।

    ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছেন তার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া।

    সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ঘরের দেয়ালে ঝোলানো পারিবারিক ছবির দিকে নির্দেশ করে আবদুল সালাম জানান, ছবিতে থাকা স্বজনদের একটি বড় অংশই ইসরাইলি হামলায় শহীদ হয়েছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ইসরাইলি বিমান হামলায় ইসমাইল হানিয়ার তিন ছেলে—হাজেম, আমির ও মোহাম্মাদ এবং তাদের সন্তানেরা (হানিয়ার নাতি-নাতনি) নিহত হন।

    বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবদুল সালাম বলেন, ‘বাড়িতে আমার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা, রাজনৈতিক নেতা এবং একজন পরম স্নেহশীল বন্ধু। তিনি আমাদের সব সময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার এবং তাদের সেবা করার উপদেশ দিতেন।’

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থানকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইসমাইল হানিয়া। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ওই হত্যাকাণ্ডে ইসরাইলের সরাসরি জড়িত থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন।

    সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের রাজনৈতিক ও মানবিক সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন আবদুল সালাম। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমেই গাজা পুনর্গঠন এবং ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্ভব হবে।

    যুদ্ধের নির্মমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গাজায় ৩০ হাজারের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনের শিশুদের আকুল আবেদন—তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচতে দেওয়া হোক এবং অন্য দেশের শিশুদের মতো পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ দেওয়া হোক।’

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনী প্রতিনিয়ত চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। কেবল যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরাইলি হামলায় আরো ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধে মোট নিহত ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।

  • এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হলেন দাভুতোগলু

    এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হলেন দাভুতোগলু

    একসময় তুরস্কের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন আহমেত দাভুতোগলু। এই শিক্ষাবিদ শতাব্দীর শুরুতে দেশটির উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি গঠনে সহায়তা করেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে, যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন, তারই সমালোচক হয়ে ওঠেন তিনি।

    সম্প্রতি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দাভুতোগলু। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী ফিউচার পার্টি রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। একে আত্মসমর্পণ নয়, বরং দেশের ‘দূষিত রাজনৈতিক পরিবেশ’ থেকে নিজেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    একসময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন দাভুতওগলু। ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ তত্ত্বের মাধ্যমে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে তিনি দেশটিকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।

    ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তার সময়ে ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে শূন্য সমস্যা’ নীতির মাধ্যমে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ে।

    তবে সিরিয়ার যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার পররাষ্ট্রনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০১৬ সালে এরদোয়ানের সঙ্গে ক্ষমতা ও নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। পরে ২০১৯ সালে ফিউচার পার্টি গঠন করলেও দলটি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী রাজনীতির সীমাবদ্ধতা ও স্বাধীন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটি সফল হয়নি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে দলটি প্রধান বিরোধী সিএইচপির প্রতীকে নির্বাচন করে পার্লামেন্টে গেলেও এতে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় আরো দুর্বল হয়।

    রাজনীতিতে ব্যর্থ হলেও দাভুতগলুর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও পররাষ্ট্রনীতির দর্শন দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এরদোয়ান ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, তুরস্কের রাজনীতি ও কূটনীতিতে তার রেখে যাওয়া প্রভাব ভবিষ্যতেও আলোচিত হবে।

  • শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

    শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

    দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি আবহাওয়া সংস্থা।

    এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইয়াংসানে। টানা পঞ্চম দিনের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। অনেক শহরেই তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

    এর ফলে রোববার দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকায় ‘জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় এ বছর প্রথমবারের মতো এই নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

    কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ দিন।

    দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে ‘তাপপ্রবাহের দিন’ হিসেবে ধরা হয়। আর রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকলে তাকে ‘ক্রান্তীয় রাত’ বলা হয়।

    বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

  • বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    রাশিয়া বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য বেঞ্জামিন মেন্দি নিজের কাছে থাকা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির অফিসিয়াল প্রতিকৃতি বিক্রি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের দেওয়া এই স্মারক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডিন’-এর ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট ২’-এ ট্রফিটির রেপ্লিকা বিক্রির জন্য তোলেন মেন্দি। নিলামে এটি ৬২ হাজার মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়।

    বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্মারক বিক্রি করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। তবে সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে স্ন্যাপচ্যাটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

    মেন্দির ভাষ্য, ট্রফিটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই সেটি রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তার। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্য কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

    পরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি আরও বলেন, ট্রফিটি এতদিন আলমারিতে অযথাই জায়গা দখল করে ছিল। তাই সেটি বিক্রি করে দেওয়ায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না।

  • বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    নতুন মৌসুম শুরুর আগে ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, হোয়াও ফেলিক্সদের সৌদি প্রো লিগ। গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে বিশ্বের সেরা লিগের তালিকায় ত্রিশের বাইরে চলে গেছে সৌদি আরবের এ লিগ। অন্য দিকে সেরা দশে উঠে এসেছে লিওনেল মেসিদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

    ফিফা বিশ্বকাপ শেষে আপাতত নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় এসপিএল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের বিরতির পর এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে এমএলএসের অসমাপ্ত মৌসুমের খেলা।

    এর মাঝে বিশ্বের ফুটবল লিগগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট। যেখানে ৭৯.৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। অন্যদিকে ৭৫.১ পয়েন্ট নিয়ে ৩৬ নম্বরে আছে সৌদি প্রো লিগ।

    এছাড়া নির্দিষ্ট ক্লাবের হিসেবে এমএলএসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেসির ইন্টার মায়ামি। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭৯ নম্বরে আছে তারা। আর এসপিএলের ক্লাবগুলোর মধ্যে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৫ নম্বরে আল আহলি।

    রোনালদো-ফেলিক্সদের আল নাসর আপাতত সেরা একশতেও নেই। তারা ৮৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ১১৬ নম্বরে।

    বিশ্বের সেরা লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একমাত্র লিগ হিসেবে নব্বইয়ের বেশি (৯১.৮) পয়েন্ট তাদের।

    এছাড়া চমকে দেওয়ার মতো উন্নতি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’র। স্প্যানিশ লা লিগাকে (৮৬) টপকে ৮৬.১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেছে ইতালির লিগটি। এছাড়া সেরা পাঁচে আছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান (৮৫.৬) ও জার্মানির বুন্দেসলিগা (৮৫.৪)।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ লিগ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬২৬.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৭ নম্বরে সৌদি আরবের লিগ। আর ১৭০৭.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪৮ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ।

  • টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন

    আবারও দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) ভুটানে হয়ে গেল সাফের কনগ্রেস। সেখানে বিভিন্ন এজেন্ডার মধ্যে ছিল কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনও। সবগুলো পদের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। সবার মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বস হলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক এ সভাপতি।

    সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের বেশি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত বলে গণ্য হন।

    কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলেন।

    ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব কেউ সাফের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে পারবেন না- এত দিন এ কথাই বলা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। তবে নিয়মটা গত বছর কলম্বোয় সাফের বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়। তাতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা হয়নি সালাহউদ্দিনের জন্য।

    নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ থেকেও বাড়ছে প্রতিনিধিত্ব। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হতে যাচ্ছেন। সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। আর কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য হিসেবে থাকছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ।