আর্ন্তজাতিক

  • হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    হ্যান্ডবলের পরও পেনাল্টি পায়নি বার্সেলোনা, নতুন নির্দেশনা উয়েফার

    প্রায় ৪ মাস পর বার্সেলোনা অবশেষে একটা নৈতিক জয় পেয়েছে। উয়েফা এখন রেফারিদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। পেনাল্টির জন্য এই নির্দেশনাটি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থা।

    মাঠের কোনো খেলোয়াড় যদি নিজের বক্সের ভেতরে ইচ্ছা করে হাত দিয়ে বল ধরে, আর তখন বল খেলার মধ্যেই থাকে, তাহলে রেফারিকে অবশ্যই পেনাল্টি দিতে হবে। উয়েফা বলেছে, এই ধরনের ঘটনায় আর কোনো ব্যাখ্যা বা তথাকথিত ‘কমন সেন্স’ খাটানো যাবে না।

    এই নতুন নির্দেশনা মূলত এল চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের একটা বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিত। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যে সেই ম্যাচ হয়েছিল।

    গোলকিক থেকে আতলেতিকোর গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বল বাড়ান মার্ক পিউবিলের কাছে। পিউবিল তখন নিজের বক্সের ভেতরে হাত দিয়ে বলটা থামিয়ে দেন, যদিও তখন বল খেলার মধ্যেই ছিল। কিন্তু প্রধান রেফারি ইস্তভান কোভাচ পেনাল্টি দেননি, আর ভিএআরও তাকে ঘটনাটা আবার দেখার জন্য ডাকেনি।

    বার্সেলোনা এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে। তারা দাবি করে, রেফারির এই ভুল স্বীকার করতে হবে। কিন্তু উয়েফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দেয়। এখন নতুন নির্দেশনা দিয়ে উয়েফা ঘুরিয়ে হলেও বার্সেলোনার কথাকেই সঠিক বলে মেনে নিল।

    উল্লেখ্য, সেই বিতর্কিত ঘটনার সময় বার্সেলোনা আতলেতিকোর কাছে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা তারা ০-২ গোলে হারে। দুই লেগ মিলিয়ে মাদ্রিদের দলের কাছে হেরে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের কাছে একটি দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ শনিবার হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করেছে। এদিকে, অন্যতম ভয়াবহ দাবানল মৌসুম রেকর্ড হওয়ায় অঙ্গরাজ্য জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

    টানা চতুর্থ বছরের মতো রেকর্ড খরার মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ একরেরও বেশি এলাকা আগুনে পুড়ছে।

    গভর্নর বব ফার্গুসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রেকর্ড খরা ও তীব্র বাতাস পুরো অঙ্গরাজ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’

    তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ উন্মুক্ত স্থানে এবং কৃষিকাজে আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ বলেন, ‘এ বছর ইতোমধ্যেই আমাদের রেকর্ডের অন্যতম ব্যস্ত দাবানল মৌসুম চলছে। অথচ আগস্ট মাস মাত্র শুরু হয়েছে।’

    স্থানীয় স্পোকসম্যান-রিভিউ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ‘ওল্ড ট্রেইলস’ নামে পরিচিত দাবানলটি শনিবার বিকেলে স্পোকেন নদী অতিক্রম করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করে।

    সরকারের সরিয়ে নেয়ার মানচিত্র অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘গো নাউ’ জারি করা হয়েছে। এতে শহরের সীমানার ভেতরে থাকা হাজারো মানুষকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

    স্পোকসম্যান-রিভিউ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আগুনের বিস্তার ৩ হাজার ৫০০ একরের বেশি এলাকায় পৌঁছেছে। শহর কর্তৃপক্ষ কোনো হতাহতের খবর জানায়নি।

    মেজর জেনারেল জেন্ট ওয়েলশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর এবং আগামীকাল সূর্য ওঠার সময় আমরা হতবাক হয়ে যাব।’

    জরুরি কর্তৃপক্ষ স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।

    এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস পূর্ব ওয়াশিংটনের জন্য ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে ‘রেড ফ্ল্যাগ অ্যালার্ট’ জারি করে। এতে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিকে ‘চরম’ বলে উল্লেখ করা হয়।

    ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ড এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, স্পোকেন অঞ্চলে সহায়তার জন্য তারা ‘দ্রুতগতিতে ইউনিট মোতায়েন’ করছে।

  • দিল্লির অনুরোধ উপেক্ষা, মুদ্রায় সেই মানচিত্রই রাখল নেপাল

    দিল্লির অনুরোধ উপেক্ষা, মুদ্রায় সেই মানচিত্রই রাখল নেপাল

    ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বৃহত্তর নেপাল’ মানচিত্র নতুন এক রুপির মুদ্রা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। বিরোধী দল ও জনমতের চাপে বৃহত্তর নেপালের মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লির কূটনীতি কার্যত ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক (এনআরবি) শনিবার জানিয়েছে, নতুন এক রুপির মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে। তবে মুদ্রার আকার ও ধাতব উপাদানে পরিবর্তন এলেও তাতে আগের মতোই থাকবে বৃহত্তর নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্র, যেখানে ভারতের দাবি করা লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল বলেন, নতুন নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না এলেও ব্যাংক নিশ্চিত যে আগের মানচিত্রই বহাল থাকবে। তিনি জানান, নতুন মুদ্রাটি আগের তুলনায় আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হবে।

    কেন বিতর্ক?

    ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার কাছে ভারত-নেপাল-চীনের ট্রাই-জংশন সংলগ্ন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি এই তিনটি অঞ্চল নিয়েই দুই দেশের বিরোধ।

    বিরোধের মূল উৎস ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যা। নেপালের দাবি, মহাকালী (কালী) নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা থেকে হওয়ায় ওই তিনটি এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎপত্তি কালাপানির কাছের একটি ঝরনা থেকে। ফলে তিনটি এলাকাই ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

    ২০২০ সালে নতুন করে উত্তেজনা

    ২০২০ সালের মে মাসে ভারত ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত কৌশলগত সড়ক উদ্বোধন করলে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে নেপাল নিজেদের দাবিকৃত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্মিত বলে অভিযোগ তোলে।

    এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকার সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। পরে সেই মানচিত্র সংবিধানসম্মত স্বীকৃতি পায় এবং সরকারি নথি ও প্রচলিত মুদ্রাতেও স্থান পায়। ভারত অবশ্য শুরু থেকেই এই মানচিত্রের বিরোধিতা করে আসছে।

    বালেন্দ্র সরকারের অবস্থান

    ২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসেন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তিনি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে সরকারপ্রধান হওয়ার পর অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও সীমান্ত সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর বালেন্দ্রকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দেন। একই সময়ে নেপাল চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখলেও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চ সুদের ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

    লিপুলেখ নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

    ক্ষমতায় আসার পরই বালেন্দ্র সরকার ভারত ও চীনকে লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা আয়োজন না করার আহ্বান জানায়। নেপালের দাবি, ওই গিরিপথ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তবে ভারত জানিয়ে দেয়, ১৯৫৪ সাল থেকেই ওই পথ ব্যবহার করে তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । একই সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি লিপুলেখ ইস্যুতে চীন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলে ভারত স্পষ্ট জানায়, দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    সিদ্ধান্ত বদল

    এরপর গত ২০ জুলাই বালেন্দ্র সরকার বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে মুস্তাং জেলার মারং গ্রামের ঐতিহাসিক ‘লো ঘিয়াকার মঠ’-এর ছবি নতুন মুদ্রায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। অনেকেই এটিকে ভারত-নেপাল সম্পর্ক উন্নয়নের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, যদিও সরকার একে নিয়মিত মুদ্রা সংস্কারের অংশ বলে ব্যাখ্যা করে।

    কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত দেশটির ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধী দল ও জনমতের চাপের পর শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে নতুন এক রুপির মুদ্রাতেও আগের মতোই ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধের জেরে তেল কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধের জেরে তেল কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধের কারণে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের মুনাফা বেড়েছে; যদিও তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়েই নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের সংবাদে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরনের মোট মুনাফা হয়েছে ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। তবে এই রেকর্ড আয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

    গত শুক্রবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেভরন জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৯৬০ কোটি ডলার বেশি।

    একই সময়ে এক্সনমোবিলের মুনাফা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণের বেশি।

    শেভরনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ওয়ার্থ বলেন, নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উৎপাদন ও শোধনাগারের উচ্চ সক্ষমতার কল্যাণে এই মুনাফা হয়েছে। এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, সংঘাতের মধ্যেও কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করতে পারাই তাদের সাফল্যের মূল কারণ।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি শেল দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা জানায়, আগের বছরের তুলনায় মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম

    গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত মুনাফা সত্ত্বেও বড় তেল কোম্পানিগুলো নতুন তেলক্ষেত্র বা খনন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নয়। তাদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। তখন নতুন বিনিয়োগের অর্থ তুলে আনা কঠিন হবে।

    প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, চলতি বছর গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলার থাকলে বৈশ্বিক তেল খাতের অতিরিক্ত মুনাফা ৪২৫ বিলিয়ন বা ৪২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে তা ৯০ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে হয়।

    ভোক্তার ক্ষোভ, রাজনীতিতে চাপ

    যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের বেশি। এতে ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও শেলডন হোয়াইটহাউস তেল কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চেয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কীভাবে লাভবান হয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে হোয়াইট হাউসে তারা তদবির করেছে কি না, সেটাও জানতে চেয়েছেন দুই সিনেটর।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্র্যাড শারম্যান যুদ্ধকালীন অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভোক্তাদের হয় কম দামে জ্বালানি দিতে হবে, নয়তো অতিরিক্ত মুনাফার কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ জনগণকে ফেরত দিতে হবে।

    তেলশিল্পের জবাব

    তবে তেলশিল্প এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস খাতের সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডাস্টিন মেয়ার বলেন, বৈশ্বিক তেলবাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ। সেখানে মূল্য কারসাজির সুযোগ নেই।

    এক্সনমোবিলও জানিয়েছে, আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ৭১ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে।

    অতিরিক্ত মুনাফায় কর কতটা কার্যকর

    যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। ১৯৮০ সালে এ রকম করারোপ করা হয়েছিল, তবে তা থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আসেনি। অর্থনীতিবিদেরা বলেন, এতে দেশীয় উৎপাদন নিরুৎসাহিত এবং করব্যবস্থা আরও জটিল হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন করে এ ধরনের করারোপ করা হলে তেল কোম্পানির বিনিয়োগ কমতে পারে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন হ্রাস ও সরবরাহ–সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে অন্যদের মতে, উৎপাদন কমার পেছনে আরও কিছু কারণ আছে। যেমন পুরোনো তেলক্ষেত্রের সক্ষমতা কমে যাওয়া ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়া।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেশি থাকলে আগামী প্রান্তিকেও বড় তেল কোম্পানিগুলো মোটা অঙ্কের মুনাফা করবে। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, তেল কোম্পানিগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপও তত বাড়তে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিক্ষেত্র ভস্ম করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

    মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিক্ষেত্র ভস্ম করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

    ইরান সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আবার হামলা চালায়, তবে কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে এ হুঁশিয়ারি দেন।

    আব্বাস আরাগচির এ হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলেও জানায় তারা।

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের’ সম্ভাব্য পরিণতি এবং এর ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।

    পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হামলা বা এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক কোনো দেশের অংশগ্রহণের জবাবে ইরান ‘সমান প্রতিক্রিয়া’ জানাবে।

    এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গতকাল ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুবরাজ ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান’ বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

    ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ গতকাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র, পাশাপাশি কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাবে।

    নূরনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে।’

    আগের দিন শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচক দলে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন।

    তবে ট্রাম্প এ–ও বলেছেন, ইরানের প্রতি তাঁর আস্থা ক্রমশ কমছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। প্রয়োজন হলে তিনি তাদের ওপর আবার আঘাত হানবেন।

    ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ করে আসছে।

  • ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও এর প্রতিবেশী মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে হতাহত শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোয় যুদ্ধের রেশ রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজবাড়ি, বিদ্যালয় আর এলাকা—যেসব জায়গায় শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে তারা।

    সবশেষ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে ৩০ জুলাই মার্কিন হামলায় মা–বাবার সঙ্গে দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছে আরও দুই শিশু—এমনটাই জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বিবৃতিতে ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে শিশুরা সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাচ্ছে। গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে এ অঞ্চলের ছয় দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানে হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। দেশটিতে চলমান যুদ্ধে ৩৮৬ শিশু নিহত এবং আরও ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতির স্ক্রিনশট।

    সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর শিশুদের এমন দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া উচিত হবে না। কারণ, যে সংঘাত শিশুরা শুরু করেনি এবং যা থামানোর কোনো ক্ষমতাও শিশুদের নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার শিশুরাই হয়—বলেন আবদুল ফোফানা।

    মধ্যপ্রাচ্যে বিবদমান পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা কার্যকর করতে হবে, এখনই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। যেখানেই থাকুক না কেন, শিশুদের সার্বক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ বন্ধ

    আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ বন্ধ

    বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাপুয়া নিউগিনির জন্যেও কার্যত বন্ধ আন্তর্জাতিক এই জোটে যোগদানের পথ। আসিয়ানের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন না আসলে এ দুই দেশকে সদস্য করা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন জোটের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

    সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে এ কথা জানান হোর্ন। গত ৩১ জুলাই ইন্দোনেশীয় সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি (পিএনজি) আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা পূরণ করে না। মিডিয়া ফোরামে কাও কিম হোর্ন বলেন, তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ কার্যত শেষ হয়েছে।

    তিনি বলেন, আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ১১টি দেশই এ জোটের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি এই ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।

    সনদে কী বলা আছে

    আসিয়ান সনদই এই জোটের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করে। সেখানে নতুন সদস্য হওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে।

    কিন্তু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অংশ। অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

    কাও কিম হোর্ন বলেন, বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে চাইলে প্রথমে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে।

    এ জন্য জোটের সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সনদে ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি দেশই আসিয়ানের সদস্য হিসেবে থাকবে বলে জানান তিনি।

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটায় প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনার পেছনে ইসরাইলের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনের এক মন্ত্রী।

    জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন শুক্রবার এক্সে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘স্পেন, যারা ইসরাইলকে জ্ঞান দেওয়ার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করে না, তারা এখন তাদের অভিবাসন নীতি নিয়ে সংকটের মুখে সেউটায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে হয়তো তাদের বিশ্বকে ব্যাখ্যা করা উচিত, কেন তারা এখনো আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে।’

    ড্যাননের এই পোস্ট শেয়ার করে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মন্তব্য করেন, ‘বেশ, পুরো ব্যাপারটা এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।’

    স্পেনের অনেক রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা করার প্রতিশোধ হিসেবে স্পেনের জন্য সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

    বামপন্থী দল রিপাবলিকান লেফট অব কাতালোনিয়ার সংসদীয় মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল রুফিয়ানও দাবি করেন, এই সংকট আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থই রক্ষা করছে।

    স্পেনের সাংবাদিক হোসে ভিজনার এদিকে ২০১৯ সালের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেন। এটি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর করা একটি পোস্ট, যেখানে সেউটায় বিচ্ছিন্নতাবাদে ইসরাইলের সমর্থনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    স্পেনের বিখ্যাত অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমও একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ করেন, এই সীমান্ত পারাপারের পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে।

    পর্তুগালের সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্লেষক ব্রুনো মাকায়েস বলেন, ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হলেও ঘটনার পর তারা গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্তমান স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে এই ঘটনাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল তারা।

    মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউটা স্পেনের একটি অঞ্চল। দেশটির উত্তর উপকূলে আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিয়া। এই দুটি জায়গাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার মধ্যে একমাত্র স্থল সীমান্ত।

    স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউটায় প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিশু।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের বেষ্টনী ঘুরে সাঁতরে ছিটমহলে ঢুকছেন অনেকে। কেউ কেউ সাঁতারের পোশাক পরে ও ভাসমান রিং ব্যবহার করে এই বিপজ্জনক যাত্রা করেন।

    ফ্রান্স জানায়, তারা স্পেনের সাথে তাদের সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইতালি হুমকি দেয়, ইইউর মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা থেকে স্পেনকে স্থগিত করা হতে পারে।

    তবে শনিবার স্পেন জানায়, প্রায় ৪৮ হাজার অভিবাসী ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছে। স্পেনের সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু অভিবাসী সুড়ঙ্গে লুকিয়ে আছেন, আবার কেউ কেউ সেউটার রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন।

    ছিটমহলে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কী কারণে এই পারাপারের স্রোত শুরু হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিম সাহারা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মরক্কান নাগরিক সেউটায় প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় স্পেন অভিযোগ করেছিল, মরক্কো অভিবাসীদের চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে। জবাবে মরক্কোর এক মন্ত্রী বলেছিলেন, কূটনৈতিক বিরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা তাদের জন্য যৌক্তিক ছিল।

    কিছু বিশ্লেষক এবার মরক্কোকেও দোষারোপ করছেন। তাদের মতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সম্প্রতি আলজেরিয়া সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছে মরক্কো সরকার। আলজেরিয়া স্পেনের সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী দেশ।

    বার্সেলোনার পম্পেউ ফাব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেনজো গাব্রিয়েলি সেউটায় অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মরক্কো-স্পেন সীমান্ত পার হওয়া, মরক্কোর সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

    সেউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস এই অভিবাসনকে স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানান।

    স্পেনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াইচ বলেন, ‘আমরা সবসময় সবার জন্য বৈধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সীমান্ত পারাপার মরক্কো সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঘটেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না থাকলে আমাদের দেশ এমন মাত্রায় আক্রান্ত হবে, যার তুলনায় স্পেনের ঘটনাকে সামান্যই মনে হবে।’

  • পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা চালু করছে ওমান

    পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা চালু করছে ওমান

    পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজলভ্য করতে নতুন নিয়মের আওতায় বিনামূল্যে ১৪ দিনের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান।

    গালফ নিউজ জানায়, দেশটির পুলিশ ও কাস্টমসের ইন্সপেক্টর জেনারেল লেফট্যান্যান্ট জেনারেল হাসান বিন মোহসিন আল শ্রাইকি স্বাক্ষরিত এবং রয়্যাল ওমান পুলিশের ১০৯/২০২৬ নম্বর আদেশের মাধ্যমে এই নতুন বিধিমালা কার্যকর করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের আবাসন আইনের কার্যনির্বাহী বিধিমালার সংশোধনী হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নতুন এই নিয়মের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু দেশের যোগ্য নাগরিকেরা কোনো ফি ছাড়াই ১৪ দিন মেয়াদী পর্যটন ভিসা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে এই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।

    আকর্ষনীয় বিষয় হলো, এই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দর্শনার্থীরা চাইলে প্রযোজ্য নিয়ম ও ফি পরিশোধ সাপেক্ষে এটিকে অন্য যেকোনো পর্যটন ভিসা ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করতে পারবেন।

    কার্যনির্বাহী বিধিমালার ধারা ১০ এবং এন্ট্রি ভিসার অফিসিয়াল শিডিউলের ধারা ২৯-এ এই নতুন ভিসা ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এর ফি শূন্য ওমানি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকেরা এই ফ্রি ভিসার সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তালিকা এখনো প্রকাশ করেনি ওমান কর্র্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটিতে প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাবলীল করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।