আর্ন্তজাতিক

  • কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    বিজেপি নেতা এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং নারী কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তার মামলা থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। ছয়জন নারী কুস্তিগীর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন।

    এই মামলাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের শাস্তি এবং ফেডারেশন ভেঙে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরঙ পুনিয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত ভারতীয় কুস্তিগীর।

    আইন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পাশাপাশি এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত তথা কুস্তি সংস্থার সাবেক সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

    আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, ‘আদালত বলেছে, ব্রিজ ভূষণ সিং এবং বিনোদ তোমর, আপনারা দুজনেই সম্মানে সাথে খালাস পেলেন। একেবারে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম যে, যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসে বা কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আদালত আমাকে সম্মানের সাথে খালাস দিয়েছেন। এটা আমার এবং আমার অনুরাগীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমি আর কিছু বলব না আজ।’

    অন্যদিকে, মামলার রায় প্রকাশ্যে আসার পর কুস্তিগীর ও কংগ্রেস নেত্রী ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই ব্রিজ ভূষণ সিংকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে সরকার।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘শাসক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এফআইআর দায়ের করতে আমাদের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়েছে। নিজের ক্ষমতা ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ব্রিজ ভূষণ অনেক মেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।’

    তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু অনেক নারী কুস্তিগীর রুখে দাঁড়িয়ে আদালতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত যে, নারী কুস্তিগীরদের আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।’

    অন্যদিকে, কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া বলেছেন, ‘আজকের রায় এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা, তাদের সবকিছুই আছে। তারা সাক্ষীদের ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন আদালতের বিস্তারিত আদেশ জানার চেষ্টা করছি। কোন ভিত্তিতে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।’

  • ইসরাইল আসলেই শান্তি চায় না: তুরস্ক

    ইসরাইল আসলেই শান্তি চায় না: তুরস্ক

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলাগুলোই আবার প্রমাণ করেছে যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সদিচ্ছা বা মানসিকতা নেই।

    সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করেছে।

    বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘নেতানিয়াহুর একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব জন্মভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করা এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পরিবেশকে নস্যাৎ করা।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নেতানিয়াহু ক্রমাগত এমন সব পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর আঞ্চলিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি ও মধ্যস্থতার বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে তিনি বারবার ভেস্তে দিচ্ছেন।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে তুরস্ক জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সম্প্রসারণবাদী ও সামরিক নীতি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড় ধরনের সংঘাতের অঞ্চলে পরিণত করতে চাচ্ছে। তাই তার এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্বের আরো দৃঢ়, সংহত ও কঠোর অবস্থান নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা বা রূপরেখা ঘোষণা করে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাব ঘোষণার পরপরই রবিবার গাজাজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

  • মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ইমরান খান !

    মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ইমরান খান !

    পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে আপাতত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

    আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, ‘পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে হলে এই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।’

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে দুর্নীতির কথা বলা হলেও মূলত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাকে কারাবন্দি করা হয় বলে মনে করা হয়।

    আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কারাগার থেকে মুক্তির জন্য সাধারণত সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাতে হয়। সে ক্ষেত্রে ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে তার চোখে একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।

    গত কয়েক মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান বলেন, এখন আর নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই।

    তারা বলেন, ‘আমাদের বাবা সাত মাসের বেশি সময় ধরে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিনের কারাবাসের ফলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে বলে আমাদের আশঙ্কা। তার সঙ্গে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগ থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

    ইমরান খানের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি দ্য অবজারভারকে বলেন, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকি তার বোন, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার সামান্য দায়িত্বশীল হলেও স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত।’

    এর আগে একই ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ইমরান খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে নওয়াজও দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যদি সমঝোতা হয়, তাতে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত থাকতে পারে।

    তবে পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

    তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ বলেন, ‘ইমরান খুবই একগুঁয়ে মানুষ। ক্রিকেট মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষিপ্রগতির বোলারদের মুখোমুখি হতেও তিনি কখনো হেলমেট পরেননি। ফলে রাজনৈতিক মুক্তির এমন কঠোর শর্ত তিনি মানবেন না বলেই মনে হয়। তবে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে আমি চাই তিনি এটি মেনে নিন, কারণ কারাগারে একা একা তার মৃত্যু হোক তা আমি চাই না।’

  • ভয়ে ট্রাম্প  শান্তির কথা বলছে: আনসারুল্লাহ

    ভয়ে ট্রাম্প শান্তির কথা বলছে: আনসারুল্লাহ

    ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর এক জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সামরিক শক্তির ভয়ে আবারও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।

    তাসনিমের বরাতে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য হিজাম আল-আসাদ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অপরাধী ও সন্ত্রাসী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফাঁপা হুমকি এবং বারবার পিছু হটার ঘটনাকে উপহাস করেছেন।

    হিজাম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘একটি বাস্তবতা সম্পর্কে অপরাধী ট্রাম্পের উপলব্ধি তাকে ‘শান্তির’ পথে যেতে বাধ্য করেছে । আর এটি হলো, মার্কিন সামরিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে, তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে গেছে। এর মধ্যেও ইরানের হাতে এখনও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী, মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থ এবং অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার মতো প্রবল সক্ষমতা রয়েছে।’

    তিনি কটাক্ষ করে আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘যখন সংঘাতের মূল্য বেড়ে যায়, তখন হুমকির ভাষা শান্তির ভাষায় রূপান্তরিত হয়।’

  • ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ ভারতের কলঙ্ক: মাহমুদ মাদানী

    ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ ভারতের কলঙ্ক: মাহমুদ মাদানী

    ভারত থেকে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী। তিনি এ ধরনের সরবরাহকে ‘মানবতা ও ভারতের মূল্যবোধের ওপর কলঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এক বিবৃতিতে মাওলানা মাদানী বলেন, নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশুদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে যেসব অস্ত্র, এটি জানা সত্ত্বেও অস্ত্র সরবরাহ করা একটি অপরাধমূলক কাজ, যা গণহত্যায় সহযোগিতার সমতুল্য।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটি কেবল আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘনই নয়, বরং মানবতা এবং ভারতের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে এক গভীর বিশ্বাসঘাতকতা।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসরাইলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

    তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশ থেকে রপ্তানি করা ডুয়াল-ইউজ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যগুলো কঠোর আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ভারতের সব ধরনের রপ্তানি কার্যক্রম জাতীয় আইন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হয়।

    মাওলানা মাদানী বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাই একদিকে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলা এবং অন্যদিকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।

  • কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত

    কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত

    ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে ইসরাইলি আদালত। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা এই কারাগারের চারপাশে খনন করা পরিখায় কুমির ছাড়ার কথা ছিল। খবর আনাদোলুর।

    ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিমালস লিভ’ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করার পর রোববার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    বিচারক আভরাহাম রুবিন পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমানের এক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলমানের ওই সিদ্ধান্তে কুমিরকে ‘পোষা বন্যপ্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা আইনি কাঠামোয় কুমির স্থানান্তর ও কারাগারে রাখার অনুমতি দিত।

    কান জানায়, বেন-গাভির, সিলমান ও ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পরই এই রায় আসে। এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সিলমানের ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত, যার লক্ষ্য ছিল কারাগারে ‘প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কুমির ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া।

    আবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কুমিরের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করে এবং সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়।

    কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই কারাগারের চারপাশে খাল খননসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছিল, এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এই পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ শেকেল (আনুমানিক ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছিল।

    ২০২২ সালের শেষদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের আটক পরিস্থিতি কঠোরতর করার তদারকি করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে অনাহারে রাখা, চিকিৎসা অবহেলা, নির্যাতন ও একাকী বন্দিত্বের মতো নীতি। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি—নারী ও শিশুসহ—ইসরাইলি কারাগারে কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বহুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, যার কারণ হিসেবে অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।

  • দাবদাহে ইতালির ২৫ শহরে রেড অ্যালার্ট

    দাবদাহে ইতালির ২৫ শহরে রেড অ্যালার্ট

    গ্রীষ্ম মৌসুমের চতুর্থ তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইতালি। সোমবার দেশটির ২৫টি শহরে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যা চলতি গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ সংখ্যক শহরে একসঙ্গে জারি হওয়া তাপপ্রবাহ সতর্কতা।

    ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববারের ২৩টি শহর থেকে সতর্কতার সংখ্যা বাড়িয়ে সোমবার ২৫টিতে উন্নীত করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেলা সেরা।

    রেড অ্যালার্টের বাইরে রয়েছে শুধু রেজ্জিও কালাব্রিয়া ও মেসিনা। তবে এই দুই শহরেও ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বহাল রয়েছে।

    দেশটির পো উপত্যকা এবং মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অঞ্চল ও সার্ডিনিয়া দ্বীপেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। মধ্য ও উত্তর ইতালির কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রাও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকবে, যাকে আবহাওয়াবিদরা ‘সুপার-ট্রপিক্যাল নাইট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। রোববার মধ্য ইতালির টের্নি প্রদেশে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান অ্যান্টিসাইক্লোনের প্রভাব এবং ভূমধ্যসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা এই তীব্র দাবদাহের প্রধান কারণ। বর্তমানে ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি।

    আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট iLMeteo.it-এর আবহাওয়াবিদ লরেঞ্জো তেদিচি বলেন, অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে, যার ফলে আল্পস ও অ্যাপেনাইন পর্বতমালাজুড়ে বিকেলের দিকে শক্তিশালী বজ্রঝড় হতে পারে।

    এদিকে ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ উমব্রিয়া থেকে কালাব্রিয়া পর্যন্ত অ্যাপেনাইন অঞ্চল এবং সিসিলির অভ্যন্তরীণ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

    লরেঞ্জো তেদিচি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের গ্রীষ্মের সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে প্রকৃত স্বস্তি পেতে অন্তত আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

    দাবদাহের পাশাপাশি দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে সিসিলি ও এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • দাবদাহে কোরিয়ায় ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গ

    দাবদাহে কোরিয়ায় ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গ

    দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও দেশটির অধিকাংশ এলাকায় তীব্র গরমের সতর্কতা বহাল ছিল। তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং তাপজনিত অসুস্থতা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। খবর আনাদোলুর।

    দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, ২৯ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডেগুতে ১৯৪২ সালের আগস্টের পর প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।

    এদিকে ডেগুর কাছের ইয়াংসান শহরে আগের দিন সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।

    চলমান তাপপ্রবাহে দেশজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ইনচনে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ে মারা যান। এছাড়া সপ্তাহান্তে দক্ষিণ চুংচিয়ং প্রদেশে ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী দুই কৃষকও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন।

    কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসনের মতে, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর একাধিক উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব এবং পরিষ্কার আকাশে তীব্র সূর্যকিরণের কারণে দীর্ঘস্থায়ী এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চিলিতে পৌঁছেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কোলোতে যোগ দিতে সান্তিয়াগোয় পা রাখতেই ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

    সান্তিয়াগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোজিনহাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। ব্যানার, পতাকা, ড্রাম আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেন সমর্থকেরা।

    সমর্থকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    গত ২৪ জুলাই কলো-কোলো ভোজিনহাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেয়। যদিও চিলিতে তার আগমন কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণেও সফরের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এ সময় মরক্কোর ক্লাব আরএস বারকানসহ অন্য কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সান্তিয়াগোয় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে কলো-কোলোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং সাবেক তারকা ড্যানিয়েল মোরন ভোজিনহাকে স্বাগত জানান।

    পর্তুগিজ ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন ভোজিনহা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টে ১৮টি সেভের পাশাপাশি স্পেনের বিপক্ষে স্মরণীয় ক্লিন শিট রেখে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও।

    ভোজিনহার আগমনকে সামনে রেখে চিলির ফুটবলেও ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি দিয়ে কলো-কোলোর জার্সির পেছনে তার পারিবারিক নামের পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডাকনাম ভোজিনহা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

    কোচ ফার্নান্দো অর্টিজের অধীনে প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের চুক্তিতে খেলবেন ভোজিনহা। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।