আর্ন্তজাতিক

  • ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি, সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি, সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন

    মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাসের টানা সংঘাতের কারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ইন্টারসেপ্টর বা বাধারক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা পাল্টা হামলা বা সামরিক অভিযানের বর্তমান গতি বজায় রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছেন।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)–এর সংকলিত তথ্যে দেখা গেছে, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০টি। বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৮২৭টির নিচে।

    একইভাবে মার্কিন আরেক আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাডের মজুতও দ্রুত কমেছে। পূর্বে ৪৫২টি থাড মিসাইল মজুত থাকলেও এখন তা কমে ২৭৮টির নিচে নেমে এসেছে।

    সিএসআইএস সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে হঠাৎ নতুন করে সংকট তৈরি হলে সেখানে মার্কিন সামরিক কর্মী ও ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংকট কাটাতে পেন্টাগন ২০২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৭০০ কোটি (৬৭ বিলিয়ন) ডলারের জরুরি তহবিল প্রস্তাব করেছে। সেখান থেকে অন্তত ১ হাজার ৮২০ কোটি (১৮.২ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা হবে প্যাট্রিয়ট মিসাইল, নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং থাড ব্যবস্থা পুনরায় সংগ্রহ করার কাজে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পেন্টাগনের ২০২৭ অর্থবছরের প্রাথমিক বাজেটে কম খরচের অস্ত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত মোট অস্ত্রের প্রায় অর্ধেকই রাখা হয়েছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যের, যেগুলোর প্রতিটির দাম ৬ লাখ ডলার বা তার নিচে।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।

    শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ‘হয় থাকো, নয়তো চলে যাও’—ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বার্তা

    ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দাবি, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা রেখেছে ইউরোপের অন্যতম সফল ক্লাবটি।

    ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি আছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারকা ফুটবলারের প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হয়তো চুক্তি নবায়ন করে থেকে যেতে হবে, অন্যথায় চলতি গ্রীষ্মেই তাঁকে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোবে রিয়াল।

    গত কয়েক মাস ধরে ভিনিসিয়ুস-রিয়াল চুক্তির আলোচনা আলোর মুখ দেখছে না। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় কেবল অনিশ্চয়তাই বেড়েছে। এর মধ্যে ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে আর্সেনালের আগ্রহ রিয়ালকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা যোগ দেওয়ায় তারকা উইঙ্গারের দলবদল নিয়ে আর সময়ক্ষেপন করতে চাইছে না রিয়াল।

    মার্কার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের রিয়াল জানিয়েছে, বর্তমান প্রস্তাবের বাইরে আর কোনো বেতন বৃদ্ধি বা নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই। ক্লাবের বার্তা পরিষ্কার—ভিনিসিয়ুস প্রস্তাব গ্রহণ করলে চুক্তি নবায়ন হবে। সেটা না হলে ভিনিসিয়ুসকে ধরে রাখতে আগ্রহী নয় রিয়াল। ভবিষ্যতে বিনা ট্রান্সফার ফিতে হারানোর ঝুঁকি এড়াতেই এই পথে হাঁটতে চায় চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড শিরোপাজয়ীরা।

    কড়া অবস্থান নিলেও রিয়াল এখনো ভিনিসিয়ুসকে নিজেদের প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই বিবেচনা করছে। গত কয়েক মৌসুমে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে নিজেদের নীতি থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয় রিয়াল। ক্লাবের অবস্থান, কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই দলের নির্ধারিত বেতন কাঠামো ভাঙা হবে না, তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন।

    রিয়ালের ডাগআউটে ফেরার পর দলবদলে পরিবর্তনের হাওয়া এনেছেন জোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিয়ুস থেকে গেলেও তাই একাদশে আগের মতো নিয়মিত হতে পারবেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দুই উইংয়েই খেলতে সক্ষম দিয়োমান্দের সম্ভাব্য আগমন মরিনিয়োর জন্য ভালো বিকল্প হবেন। যেটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমিয়ে দেবে। এসব বিবেচনায় ভবিষ্যত নিয়ে এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে  রোহিঙ্গারা

    ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পের মানবিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সামনে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। শুক্রবার উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have your home! We miss our home!’ বাংলায় যার অর্থ, ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি।’ প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ দূতের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানান, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

    রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া- নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।’

    তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।’

    ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে সার্জিও গোর রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

  • ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ভারতে দলে সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী ক্রিকেটার। ভারতের নাগপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দলে সুযোগ না পেয়ে ১৭ বছর বয়সী এই নারী ক্রিকেটার আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেয়েটির নাম অদিতি চৌখান্ডে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর বাড়ি মহারাষ্ট্রের আকোলায়। ভালো মানের ক্রিকেট প্রশিক্ষণের জন্য দুই বছর ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে নাগপুরে বসবাস করছিলেন। সেখানে একটি ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি। তাঁর ভাইও একজন পেশাদার ক্রিকেটার।

    গত বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নাগপুরের লক্ষ্মীনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’। চিঠি থেকে পুলিশের ধারণা, দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশাই এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বিদর্ভের দলে নাম না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই ক্রিকেটার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত তদন্তের পর জানা যাবে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    ভারতের তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা আবারও রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে প্রায় ১৮ কোটি ২৯ লাখ রুপি মূল্যের নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্ল্যাটটির আয়তন ২ হাজার ৬৪৪ বর্গফুট। বহুতল ভবনের ওপরের দিকের একটি তলায় অবস্থিত এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ৩১৬ বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য জায়গা। এছাড়া তিনটি গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধাও রয়েছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকার সমুদ্রঘেঁষা একটি আবাসনের ৩৫তম তলায় ৭ হাজার ১৭১ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রায় ৩৪ কোটি রুপিতে বুক করেছিলেন বিরাট। চার শয়নকক্ষের সেই ফ্ল্যাটের বুকিং পরে বাতিল করা হয়। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    নতুন এই ফ্ল্যাটের মাধ্যমে বিরাট-আনুশকার সম্পত্তির তালিকায় আরও একটি সংযোজন হলো। এরই মধ্যে মুম্বাই, গুরুগাঁও ও আলিবাগে তাদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন এই তারকা দম্পতি।

    পশ্চিম দিল্লিতে বেড়ে ওঠা বিরাটের গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ-১ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি। সেখানে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, আধুনিক জিমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলিবাগের আওয়াস সমুদ্রসৈকতের কাছে জিরাড গ্রামে পাঁচ একরের বেশি জমি কেনেন বিরাট ও আনুশকা। জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি।

    এর আগে ২০২২ সালে আলিবাগেই প্রায় আট একর জমি ১৯ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন তারা। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন। সেই ভিলায় রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল, বিশেষ নকশার রান্নাঘর, চারটি বাথরুম, জাকুজি, বড় ল্যান্ডস্কেপ বাগান, ছাউনি দেওয়া পার্কিং এবং কর্মীদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।

  • ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার

    ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার

    ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের একটি স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে পরিচালিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পর এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হতে পারে।

    এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।

    সংসদীয় কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে দেশটির মানবিক ঐতিহ্য ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির আলোকে। তবে একই সঙ্গে ভারত কঠোরভাবে এ নীতি অনুসরণ করছে যে, তার ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ

    ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম চালুরও আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

    গঙ্গা চুক্তি নবায়নে দ্রুত আলোচনার আহ্বান

    ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটি ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে।

    কমিটির মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখা উচিত।

  • ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকায়

    ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকায়

    যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

    পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

    সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যুক্ততা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গোর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গোরের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গোরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই পদে নিয়োগের পর থেকে তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে সার্জিও গোর দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। নয়াদিল্লিকে কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে রেখে তিনি ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গোরের নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সফর সেই আঞ্চলিক কৌশলেরই প্রতিফলন।