আর্ন্তজাতিক

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • ইসরাইলপন্থিকে হারিয়ে আফগানপন্থির জয়

    ইসরাইলপন্থিকে হারিয়ে আফগানপন্থির জয়

    সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের শূন্য আসন পূরণের লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (কংগ্রেস) সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    শতভাগ ব্যালট গণনা শেষে দেখা যায়, ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী মোট ভোটের ৫৩.১ শতাংশ পেয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী, ডেমোক্রেটিক দলেরই মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬.৯ শতাংশ ভোট।

    উল্লেখ্য, আয়েশা ওয়াহাব পূর্বে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ও প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য ছিলেন। তিনি একটি প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন, যেখানে ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ পেয়েছিল।

    অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজ ইসরাইলপন্থি অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালান। মার্কিন ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি) থেকে তিনি প্রচারাভিযানে বিপুল আর্থিক সহায়তা পান।

    পলিটিকো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে উভয় প্রার্থীর পেছনে যে ৪ মিলিয়ন (৪০ লাখ) ডলার ব্যয় হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন ডলারই পেয়েছেন হার্নান্দেজ। কেবল এআইপিএসি থেকেই তার তহবিলে এসেছে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার।

    এক সাক্ষাৎকারে এই জয় নিয়ে আয়েশা ওয়াহাব বলেন, ‘বাইরে থেকে লাখ লাখ ডলারের অর্থপ্রবাহ, ভুয়া তথ্য ও মিথ্যা বিবরণী সত্ত্বেও আমার নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষ সত্যকে চিনতে পেরেছেন এবং আমাকে ভোট দিয়েছেন। এজন্য আমি আমার অঞ্চলের মানুষের প্রতি অত্যন্ত গর্বিত।’

    তবে পরাজয় সত্ত্বেও মেলিসা হার্নান্দেজ আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ১৪তম ডিস্ট্রিক্টের পুনর্নির্ধারিত মানচিত্র অনুযায়ী নতুন করে প্রায় ২৬,০০০ ভোটার যুক্ত হচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, পূর্বে যেখানে তিনি মেয়র ছিলেন, সেই ডাবলিন সিটির ভোটারদের সমর্থন তিনি ফের ফিরে পাবেন এবং ভোটের এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

    আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মধ্যবর্তী মেয়াদে আগামী ৩ নভেম্বর আয়েশা ওয়াহাব ও মেলিসা হার্নান্দেজের মধ্যে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হবে।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বিমানটি অ্যাঙ্কোরেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কেপ নিউনহ্যামের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটের দিকে গন্তব্যের কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়।

    ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন বলেন, সিকিউরিটি এভিয়েশন পরিচালিত চার্টার ফ্লাইটটিতে দুজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী ছিলেন।

    আলাস্কান কমান্ড জানিয়েছে, এটি ছিল একটি বেসামরিক ঠিকাদারের পরিচালিত ফ্লাইট, যাতে মোট আটজন আরোহী ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে যে কেউ বেঁচে নেই।

    কমান্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, বিমানটি কেপ নিউএনহাম বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দরটি একটি বিমানবাহিনীর রানওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে লং রেঞ্জ রাডার সাইটে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

  • তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
    স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মহড়া থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শিরোনামের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। তবে নয়াদিল্লি কিংবা ঢাকা- কোনো পক্ষই তখন পর্যন্ত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এরপরেই দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়।

    বিকেল ৩টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো নতুন এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।
    দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এটি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাধারণত তিন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথির আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব থাকে।

  • ফিরে গেলো আব্রাহাম লিংকন

    ফিরে গেলো আব্রাহাম লিংকন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া বিমানবাহী মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্য নিয়ে রণতরিটি গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। ৯ মাস ধরে এটি সামরিক অভিযানে মোতায়েন ছিল।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে জাপানে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।

    যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা আব্রাহাম লিংকনের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে রণতরিটির বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আব্রাহাম লিংকনের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘শুভযাত্রা। শিগগিরই প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাহাজটিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান ও নানা সমস্যা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

    ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর সরবরাহব্যবস্থায় দেখা দেওয়া সংকটের কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে। ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র ছিল।

    গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। এরপর ২৭২ দিনের মধ্যে মাত্র দুবার রণতরিটি সমুদ্রে অবস্থান থেকে বিরতি নিয়েছে। তা ছিল, ডিসেম্বরে গুয়ামে অল্প সময়ের জন্য ও রসদ সরবরাহ নেওয়ার জন্য ওমানে।

    ২৭২ দিনের প্রায় পুরো সময়ই সমুদ্রে কাটিয়েছেন জাহাজটির কয়েক হাজার নাবিক। বিশ্রামের জন্য তাঁদের কোনো ছুটির দিন ছিল না। এখন তাঁদের প্রায় ১৩ হাজার মাইল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে হবে। এতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ লাগতে পারে।

    ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা জাহাজটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, পানিদূষণ, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা ও নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে অ্যাডমিরাল কুপার তাঁর মতামতধর্মী নিবন্ধে এসব সমস্যার অনেকগুলো পুরোনো বলে আখ্যায়িত করেন।

    গতকাল এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং বুধবার থেকে সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীন কার্যক্রম শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনী প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে। এর মধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও জর্জ ওয়াশিংটনকে কেন্দ্র করে আছে নৌবাহিনীর দুটি ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক’ গ্রুপ (সমন্বিত যুদ্ধদল)।

    এ ছাড়া আছে একটি ‘অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি’ গ্রুপ (উভচর অভিযান পরিচালনাকারী দল), যাতে একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট রয়েছে। আরও আছে কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, যেগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপ করা ইরানের বন্দর অবরোধ কর্মসূচি কার্যকর করছে।

  • ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    নিজের গান রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এবার তাঁর ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইয়োর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি গ্রান্দে।

    বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।

    পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’

    দুই মাসে দ্বিতীয়বার
    ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

    সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
    তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।

    শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
    গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।

    এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
    আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।

    বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ইরান

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

    ইরাকে সফররত গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা’ মোকাবিলা করে তা অতিক্রম করার পরিকল্পনা ইরানকে করতে হবে। তিনি বাগদাদের সঙ্গে তেহরানের সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান।

    গালিবাফের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ও কাঁচামালের দিকে তাকান, তাহলে বুঝতে পারবেন যে আমাদের শত্রুরা সেগুলো লুট করতে আসছে, তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করতে হবে যাতে আমরা এটি কাটিয়ে উঠতে পারি।’

    এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ইরাক সফরে থাকা গালিবাফ চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইরাকের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।