তথ্য-প্রযুক্তি

  • বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

    বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

    সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলেও অনেকের হাতে তখন পর্যাপ্ত নগদ থাকে না। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ অথবা প্রয়োজনীয় রিচার্জ করতে গিয়ে অনেককে পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়। কেউ কেউ আবার ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন। এবার এই ধরনের ছোট অঙ্কের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণের সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ নেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে ব্যাংকগুলোর।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় ক্ষুদ্র অঙ্কের এই ডিজিটাল ঋণ চালুর কথা বলা হয়েছে। জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

    কেন এই ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোগ

    বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন দ্রুত বাড়লেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে হাতে নগদ টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ কিংবা মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা অনেকের জন্য সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পিত এই ব্যবস্থা মূলত সেই জায়গাটিই পূরণ করতে চায়। অর্থাৎ গ্রাহকের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ টাকা না থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে অল্প পরিমাণ অর্থ ধার নিয়ে প্রয়োজনীয় বিল বা রিচার্জ করা যাবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

    এটি বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের খুব ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি ঋণব্যবস্থা। ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা ব্যাংক থেকে প্রচলিত ঋণ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া অনেক মানুষও এর আওতায় আসতে পারেন।

    ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ

    খসড়া নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের অঙ্ক যত বাড়বে, নির্ধারিত সেবামূল্যও তত বাড়বে।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা সেবামূল্য; ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা; ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা; ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ টাকা; ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫ টাকা; ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে।

    অর্থাৎ কেউ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ঋণ নিলে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

    সুদ নেই, তবে সেবামূল্য থাকবে

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ঋণের ওপর কোনো সুদ নেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সেবামূল্য নেওয়া যাবে।

    তবে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। অনুমোদিত সেবামূল্যের বাইরে সুদ, জরিমানা, প্রক্রিয়াকরণ ফি কিংবা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে।

    এমনকি কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৩০ দিনের আগেই ঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছ থেকে বাড়তি কোনো আগাম পরিশোধ ফি নেওয়া যাবে না।

    এর ফলে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ কম থাকবে। একই সঙ্গে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সেবাটি পরিচালনার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।

    পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল

    নতুন ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের জীবমিতিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। অর্থাৎ গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

    এতে একদিকে যেমন সময় ও কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে, অন্যদিকে ছোট অঙ্কের ঋণ দেওয়ার পরিচালন ব্যয়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    জরুরি সময়ে বড় সুবিধা হতে পারে

    ধরা যাক, মাসের শেষ দিকে একজন গ্রাহকের হাতে নগদ অর্থ নেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ সময় চলে এসেছে। আবার কারও মোবাইল ফোনে জরুরি রিচার্জ প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিতজনের কাছ থেকে টাকা ধার করা কিংবা কোনো অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে ডিজিটাল মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যেতে পারে।

    বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই সুবিধা তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ সামলানোর একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে।

    এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে গ্রাহকের আর্থিক আচরণ মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করলে একজন গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধের অভ্যাস সম্পর্কে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য জমা হতে পারে।

    নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর সুযোগ

    বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে নগদের ব্যবহার এখনো উল্লেখযোগ্য। বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জের মতো প্রয়োজনীয় খরচও যদি ডিজিটাল ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়, তাহলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা আরও কমতে পারে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও হচ্ছে একটি আধুনিক ও কম নগদনির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। সেই বিবেচনায় ক্ষুদ্র ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে নতুন একটি স্তর যোগ করতে পারে।

    এতে শুধু ঋণ নেওয়াই নয়, ঋণ পরিশোধও হবে ডিজিটাল মাধ্যমে। ফলে একজন গ্রাহকের পুরো লেনদেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে।

    তবে ঝুঁকিও রয়েছে

    ক্ষুদ্র ঋণ সহজলভ্য হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একজন গ্রাহক যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা বারবার ঋণ নিতে থাকেন, তাহলে অল্প অঙ্কের ঋণও একসময় বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।

    কারণ ৫ হাজার টাকা খুব বড় ঋণ না হলেও একই ব্যক্তি যদি নিয়মিত একাধিকবার এই সুবিধা ব্যবহার করেন, তাহলে তার মোট দায় উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

    এ কারণে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা, আগের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং একই সময়ে অন্য কোনো ডিজিটাল ঋণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    একই সঙ্গে গ্রাহক যেন সেবামূল্য, পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ খেলাপি হলে কী হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বুঝতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

    আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

    বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহার করেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে খুব ছোট অঙ্কের প্রয়োজনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল।

    সেই জায়গায় ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার এই ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    কারণ এখানে ঋণের অঙ্ক ছোট, সময়সীমা মাত্র ৩০ দিন এবং আবেদন থেকে অর্থ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল। ফলে ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয়ের জন্যই এটি তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।

    খসড়া থেকে চূড়ান্ত নীতিমালার অপেক্ষা

    তবে এখনই এই সুবিধা চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে খসড়া নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

    চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ দেওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকের সীমা, ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট হতে পারে।

    সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ক্ষুদ্র অঙ্কের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিজিটাল সেবা হয়ে উঠতে পারে।

    বড় ঋণ নয়, ছোট প্রয়োজনেই নজর

    সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণের নতুন কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট কিন্তু জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো।

    হাতে টাকা না থাকলেও যাতে বিদ্যুৎ বিল, অন্যান্য ইউটিলিটি বিল কিংবা মোবাইল রিচার্জ আটকে না থাকে—সেই প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা। সুদবিহীন এবং নির্ধারিত সেবামূল্যের এই ঋণব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ছোট অঙ্কের জরুরি অর্থের জন্য অনানুষ্ঠানিক ধারদেনার ওপর মানুষের নির্ভরতাও কমতে পারে।

    তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সহজলভ্যতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা এবং অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপর। কারণ ডিজিটাল ঋণের আসল সাফল্য শুধু কত টাকা বিতরণ হলো, তা দিয়ে নয়; বরং কত মানুষ নিরাপদে, স্বচ্ছভাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারলেন—তার ওপরই নির্ভর করবে।

  • নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে সব হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। শেষ আশ্রয় এখন রেললাইন। জমিনই তার বসতভিটা আর আকাশ মাথার ওপর ছাদ। দুই সন্তানকে নিয়ে নির্মম নিয়তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন তিনি। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে খাবারের অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভাড়া মেটাতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন এই নারী।

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেললাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা রেহানা খাতুনের জীবনের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধের এটি এক নিদারুণ গল্প।

    দুই সন্তানকে নিয়ে তার এই জীবনযুদ্ধ আবারও যেন প্রমাণ করে, মাতৃত্বের শক্তির কাছে পৃথিবীর সব দুঃখ যেন নস্যি। নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে সন্তানদের জন্য প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন রেহানা।

    জানা গেছে, রেহানা একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জায়গায় স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেখানে একবেলার খাবার জোটানোই কঠিন, সেখানে ঘর তৈরি করা যেন তার জীবনে দিবাস্বপ্ন।

    কয়েক মাস ধরে সেখানে শুধু বাঁশের খুঁটির অস্তিত্ব থাকলেও এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে ওঠেনি। রোদের প্রখর উত্তাপ আর বৃষ্টির কান্না আসে-যায়। কিন্তু রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে স্বস্তির হাসি কবে আসবে, সেই প্রশ্নই যেন থেকে গেছে।

    স্থানীয় নারী ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো ঠিকানা না থাকায় রেহানা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ছিলেন। ওই ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করে দেন তিনি।

    ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমি একদিন হঠাৎ দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই। আমি বললাম, কী ব্যাপার, তোর চুল কী হইছে? তখন রেহানা কেঁদে দিয়ে বলে, ‘ও বু, কাউরে কইও না, আমি ঘরের ভাড়া দিতি ৫০০ টাকায় চুল বেইচে দিছি।’

    রেহানার এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আবু তালেব শেখ বলেন, ‘রেহানার যে অবস্থা, তাতে সে একটা ঘর পায়—সরকারের কাছে আবেদন করবো, দ্রুত যেন একটা ঘর দেওয়া হয়।’

    এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশপথের মুখে একটি ঘরের বাঁশের ফ্রেম রয়েছে। সেখানে রেহানা ও তার অবুঝ দুই সন্তানের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান গ্রামের মহিদুল ইসলাম।

    মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের ফ্রেম যেহেতু আছে, এখন টিন এবং বেড়ার খরচ যোগাতে পারলেই রেহানার একটা বন্দোবস্ত হবে।’ এ জন্য এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেন রেহানা। রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয়, রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে নিষ্পাপ দুটি মুখ।

    ছোট দুই সন্তানের মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেতে শেষ সম্বল নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন রেহানা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত রয়েছে খিদের যন্ত্রণা।

    কান্নাভেজা কণ্ঠে রেহানা জানান, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। একদিকে ঘর নেই, অন্যদিকে খিদের যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি।’ তিনি সরকার ও বিত্তশালী মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

    নারীর অহংকার ও শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচিত নিজের চুল বিক্রি করে দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাকে হারাতে দেননি রেহানা। সন্তানদের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।

    এখন প্রশ্ন একটাই—একজন মাকে আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মিলবে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই?

  • দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

    পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জাপানে কদর বাড়ছে ব্যবহৃত স্মার্টফোনের

    জাপানে কদর বাড়ছে ব্যবহৃত স্মার্টফোনের

    এর সরাসরি প্রভাবে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যবহৃত বা পুরনো (সেকেন্ড হ্যান্ড) ফোনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের জনপ্রিয় আইফোনের দাম বাড়ার পরই দেশটির স্মার্টফোন বাজারে ক্রেতাদের কেনাকাটার এ নতুন প্রবণতা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। খবর দ্য জাপান টাইমস।

    গত ১৮ জুলাই জাপানের বাজারে আইফোনের সব মডেলের দাম একযোগে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় অ্যাপল। এ ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির ব্যবহৃত স্মার্টফোনের জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম নিকোসুমায় অর্ডার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। প্লাটফর্মটির তথ্য অনুযায়ী, দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরদিন দুপুর নাগাদ তাদের ব্যবহৃত ফোন বিক্রির পরিমাণ আগের দিন এবং আগের সপ্তাহের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ে।

    জাপানের খুচরা বাজারে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট পণ্যের কারণে কেনাকাটার এমন আকস্মিক ঊর্ধ্বগতিকে বেশ বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও আইতোচু করপোরেশনের সহযোগী সংস্থা বিলংয়ের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইউ তোমিতা বলেন, ‘জাপানি বাজারে এত কম সময়ে পুরনো ফোনের চাহিদা এভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই ব্যতিক্রমী। চার বছর আগে অ্যাপল যখন প্রথমবার আইফোনের দাম হুট করে অনেকটা বাড়িয়েছিল, ঠিক তখনই কেবল এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল।’

    অনলাইন বাজারের এ তীব্র কেনাকাটার জোয়ার কেবল সাময়িক কোনো বিষয় নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নতুন প্রযুক্তির ডিভাইসের আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে পুরনো বা রিফার্বিশড ফোনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অ্যাপল তাদের আইফোনের দাম মডেলভেদে ৮-২৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে বর্তমানে তাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী সংস্করণ আইফোন ১৭ই-এর দামও ১ লাখ ইয়েন অতিক্রম করেছে।

    প্রাথমিক দাম বাড়ার সংবাদের ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠলেও অনলাইন প্লাটফর্মগুলোয় পুরনো ফোন বিক্রির গতি এখনো বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা এতদিন নতুন নাকি পুরনো ফোন কিনবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন, দাম বাড়ার খবরে তারা চটজলদি পুরনো ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এছাড়া নতুন ফোনের দাম বাড়লে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের বাজারেও দাম বেড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেও অনেক গ্রাহক তড়িঘড়ি করে ব্যবহৃত ফোন কিনছেন।

    অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জাপানি ইয়েনের রেকর্ড দরপতনই মূলত এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত মাসের বড় একটা সময়জুড়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৬২ অতিক্রম করেছিল, যা ১৯৮৬ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এবারই প্রথম জাপানের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনের দাম বাড়াল অ্যাপল। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১৩৫-১৩৯ ইয়েনের মধ্যে।

    টোকিওভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৭ সিরিজ উন্মোচনের পর বিশ্বের মধ্যে কেবল জাপান ও তুরস্কেই ফোনগুলোর দাম বাড়ানো হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান গবেষক কেনসুকে হারা জানান, এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন এবং তুর্কি লিরার দর ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। মুদ্রার এ বড় ধরনের দরপতনই কোম্পানিকে এসব দেশে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে।

    জাপানের স্মার্টফোন বাজারে আইফোনের প্রভাব বেশ সুদৃঢ়। টানা ১৫ বছর ধরে দেশটির সবচেয়ে বিক্রি হওয়া ফোনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মার্কিন ব্র্যান্ডটি। ২০২৫ অর্থবছরে জাপানে অ্যাপলের মোট ফোন সরবরাহ আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে দেশটির মোট স্মার্টফোন বাজারের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ হিস্যাই অ্যাপলের দখলে ছিল।

    উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ ও প্রসেসরের উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় কেবল মুদ্রার বিনিময় হার হিসাব করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোয় চিপের দাম না কমলে আইফোনের মূল্য আরো এক দফা বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এটি ঘটলে দেশের সাধারণ ক্রেতারা নতুন ডিভাইস ছেড়ে আরো বেশি মাত্রায় বাজেটবান্ধব সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দিকে ঝুঁকবেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে ব্যবহৃত ফোনের বাজার টানা সাত বছর ধরে বাড়ছে। ২০২৫ অর্থবছরে দেশটিতে প্রায় ৩৬ লাখ ১০ হাজার ইউনিট পুরনো ফোন বিক্রি হয়েছে, যা মোট স্মার্টফোন বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ। এমএম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৯ অর্থবছর নাগাদ ব্যবহৃত ফোনের বিক্রি ৫০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে এবং এটি মোট ফোন বাজারের ১৫ শতাংশের বেশি হিস্যা দখল করবে।

    কেবল মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধিই নয়, দেশটির টেলিকম খাতের নীতিগত পরিবর্তনও পুরনো ফোনের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। আগে জাপানি ক্রেতারা টেলিকম অপারেটরদের কাছ থেকে দুই বছরের চুক্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন নেটওয়ার্ক সংযোগসহ ফোন কিনতেন। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে সরকারি উদ্যোগে টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং ইন্টারনেটের খরচ কমাতে নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে ফোন ‘লক’ করে রাখার নিয়ম নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দমতো ফোন ও সিম কার্ড ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা পান এবং সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনাকে সাশ্রয়ী পথ হিসেবে বেছে নেন।

    বর্তমানে জাপানের প্রধান টেলিকম অপারেটরগুলো নিজস্ব ই-কমার্স প্লাটফর্মে সার্টিফায়েড বা মানসম্মত পুরনো ফোন বিক্রি করছে। তবে ব্যবহৃত ফোনের বাজারকে ধরে রাখতে হলে ফোনের বাহ্যিক অবস্থার পাশাপাশি ভেতরের যন্ত্রাংশ সঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন বিলংয়ের কর্মকর্তা ইউ তোমিতা। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে নিকোসুমা নিজেদের প্লাটফর্মে গুগল অনুমোদিত মেরামতের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করা পিক্সেল ফোনও বিক্রি করছে।

    পাশাপাশি সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে বহুবিধ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এর পরিধি দিন দিন বড় হচ্ছে। ফ্ল্যাগশিপ ফোন অনেক দামি হওয়ায় অনেকেই অল্প বাজেটে আগের প্রজন্মের ভালো মানের ফোন খুঁজছেন। অনেকে আবার গেমিং কিংবা অফিসের কাজের জন্য দ্বিতীয় ডিভাইস হিসেবে কম দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। খাবার পরিবেশন করার রেস্তোরাঁগুলোয় ডিজিটাল অর্ডারের কাজেও বিপুল পরিমাণে সাশ্রয়ী পুরনো ফোন কেনা হচ্ছে। সর্বোপরি, জাপানি সমাজে এখন পুরনো জিনিস পুনর্ব্যবহারের প্রতি এক ধরনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবহৃত প্রযুক্তি পণ্যের বাজারকে টেকসই ভিত্তি দিচ্ছে।

  • যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ছাত্রীদের হয়রানি ও বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

    এর আগে শুক্রবার এক ছাত্রীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপদ ক্যাম্পাস, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ ১০ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর লিখিত মুচলেকাও দিয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • মেটাকে ৭০ হাজার কোটি টাকা জরিমানা, কেন?

    মেটাকে ৭০ হাজার কোটি টাকা জরিমানা, কেন?

    শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। টাকার হিসাবে যেটা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

    নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

    এটি শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক দণ্ড। এর আগে একই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে মামলাটিতে মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।

    নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটাকে একটি ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ক্ষতি অনেকটা বায়ুদূষণের মতো। এই অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কমানোর কাজে ব্যবহারের জন্য একটি তহবিলে জমা রাখতে হবে।

    মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস।

    বিচারক বিডশিড মেটাকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষ্য, মেটার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন নিপীড়নের ঝুঁকি হলো সেই দূষণ, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

    মেটার একজন মুখপাত্র আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে মেটা নিয়মিত কাজ করছে এবং অনলাইনে কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আত্মবিশ্বাসী।

    শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্টে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

    নিউ মেক্সিকোর এই মামলা শুরু হয় ২০২৩ সালে। রাজ্যটির আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। একই সঙ্গে যৌন বিষয়বস্তু ও যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

    মামলার প্রথম ধাপে আদালত দেখতে পান, মেটা নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ বারবার লঙ্ঘন করেছে।

    আদালতের মতে, মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    মেটার অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীরা কোন কনটেন্ট দেখবেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন করে।

    দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক বলেন, মেটার কার্যক্রম ‘জনদুর্ভোগ’ পর্যায়ের ক্ষতি তৈরি করেছে। অর্থাৎ এমন একটি সমস্যা, যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    তিনি লিখেছেন, কারখানার বিষাক্ত দূষণ যেমন সাধারণ মানুষের বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে।

    জরিমানার অর্থ যাবে চিকিৎসা ও সচেতনতায়

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেটাকে যে তহবিল গঠন করতে হবে, তা শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ব্যবহার করা হবে।

    এর মধ্যে প্রায় ৪২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিকিৎসায়। এ অর্থ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

    আরেকটি অংশ ব্যবহার করা হবে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণে। বিশেষ করে শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজনিত শিশু ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    শিশু ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ

    আদালত মেটাকে আরো কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যবহারকারীকে প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সুপারিশ করা যাবে না।

    • কোনো প্রাপ্তবয়স্ক যেন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকে বার্তা পাঠাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    • অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

    • শিশু যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘একবারের অপরাধেই নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করতে হবে।

    এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরো কিছু নিয়ম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • তাদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা।

    • রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রতিদিন পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

    • সাধারণ শিক্ষাবর্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া) নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

    ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা।

    মেটার বিরুদ্ধে আরো মামলা

    শিশু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে হাজারো মামলা চলছে। নিউ মেক্সিকোর মামলার পাশাপাশি চলতি বছর লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় মেটা হেরেছে।

    আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৬ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন।

  • র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানির অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

    এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‍্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে এনে বাহিনীটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

    খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ও পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

    এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা।

    খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন।

  • রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামের একটি সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রবিরোধী অনলাইন তৎপরতার অংশ হিসেবে মানবতাবিরোধী মামলার আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশের সংবিধান, আইন, বিচারিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া, চাকরি থেকে অপসারণসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংগঠনের ব্যানারে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৈঠকে অংশ নেওয়া ১১ শিক্ষক পবিপ্রবি আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

    এছাড়া নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবিধান, আইন-বিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

  • স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য মোবাইল অ্যাপ, আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রকল্পের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট এতে অনুমোদন দেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ১২টি সেবা প্যাকেজে মোট ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রস্তুত করা এ পরিকল্পনায় ডিজিটাল শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে দুই বছর মেয়াদি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কার্যক্রমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য একটি আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের এ কার্যক্রমের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ১০ জুন পর্যন্ত।

    এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, বুলিং প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) নির্মাণ ও প্রচারে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন এবং আইসিটি প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণে ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৬৪০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্স চালুর পাইলট কার্যক্রম মূল্যায়নে ৮০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে ডেপুটি টিম লিডার (জাতীয়) নিয়োগে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিড-টার্ম রিভিউ পরিচালনায় ১ কোটি টাকা, পিআইইউর জন্য তিনটি যানবাহন ভাড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ (ম্যান-মান্থ) মাস মেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ

    পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ

    পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত আন্দোলনে দেশটির সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
    যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি, তবে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের বহু ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তারা আল জাজিরার ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আল জাজিরার প্রতিবেদনকে “বাছাই করা” এবং “ভুল উপস্থাপন” বলে অভিযোগ করেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাক মন্ত্রণালয় জানায়, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি নির্বাচিত ভোটকেন্দ্র থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে)নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে আল জাজিরা।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে ধারণ করা দৃশ্য এবং বাছাই করা ব্যক্তিদের বক্তব্য ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এ ধরনের “ইয়েলো জার্নালিজম” বা অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশন কেবলমাত্র সেইসব বাহ্যিক শক্তির উদ্দেশ্য পূরণ করছে, যারা নির্বাচনকে অবৈধ প্রমাণ করতে এবং এজেকে’র জনগণের গণরায়কে দুর্বল করতে চায়।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলকে “আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে)” নামে উল্লেখ করে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের পুরো অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এসব অঞ্চলের একটি অংশ পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদ সংগ্রহের ওপর চলমান দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছে।
    এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিপিজে জানায়, চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইন্টারনেট বন্ধ, টেলিযোগাযোগে বিঘ্ন, সংবাদ সংগ্রহে বিধিনিষেধ এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
    সংগঠনটি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ, তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

    সাংবাদিক নিখোঁজের অভিযোগ
    সিপিজে বিশেষভাবে স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির এবং তার সহকর্মী মুহাম্মদ সাইফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, গত ১ আগস্ট ইসলামাবাদে তাদের কার্যালয় থেকে পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা দুজনকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের অবস্থান অজানা।
    সিপিজে বলেছে, তারা যদি রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকেন, তবে পাকিস্তান সরকারকে তা স্বীকার করতে হবে, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনা কারণে আটক থাকলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
    এছাড়া কাশ্মীরি সাংবাদিক রাজা ইকরামকেও ১ আগস্ট ইসলামাবাদে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সিপিজের দাবি, কাশ্মীর-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আল জাজিরার প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং কঠোর টেলিযোগাযোগ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

  • কীভাবে সেলফি তুললে সুন্দর দেখাবে?

    কীভাবে সেলফি তুললে সুন্দর দেখাবে?

    সুন্দরভাবে সাজলে, দর্শনীয় কোনো স্থানে গেলে কিংবা এমনিতেই অনেক সময় সেলফি তুলতে মন চায়। সেলফি তোলার মুহূর্তে সবাই চান ছবিতে যাতে নিজের চেহারাটা আকর্ষণীয় দেখায়। কিন্তু কখনও খেয়াল করেছেন, হাত একটু বেশি কাছে টেনে আনলে মুখের নাকটা হঠাৎ কেমন অদ্ভুত বড় লাগে, আর পাশের চিবুক দুটো মনে হয় পিছিয়ে গেছে? সাধারণত মোবাইল ক্যামেরার লেন্স ও আমাদের মুখের মধ্যকার দূরত্বের কমবেশির কারণে এমনটায় হয়।

    সুন্দর ও স্বাভাবিক সেলফি তুলতে গেলে ফোনটি মুখ থেকে অন্তত দুই থেকে আড়াই ফুট (প্রায় ৩০ থেকে ৩৬ ইঞ্চি) দূরে রাখা উচিত। টিভি নাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের হাতটা যতটা সম্ভব সামনের দিকে ছড়িয়ে দিয়ে ফোন ধরে হাসলেই ছবি উঠবে সুন্দর। আসলে প্রায় সব স্মার্টফোনের সামনের ক্যামেরায় ওয়াইড-এঙ্গেল লেন্স থাকে। খুব কাছে থেকে ছবি তুললে এই লেন্স মুখের মাঝখানের অংশকে বাড়িয়ে দিয়ে ছবিটা এলোমেলো করে দেয়। প্রযুক্তির ভাষায় একে বলে ‘লেন্স ডিস্টোরশন’। একটু দূর থেকে ফ্রেম বাঁধলে মুখের নিখুঁত গড়ন একদম ঠিকঠাক ফুটে ওঠে।

    সেলফি তোলার জন্য সবচেয়ে ভালো হয় সূর্যের আলো থাকলে। এ কারণে চেষ্টা করুন আলোর দিকে মুখ করে দাঁড়াতে, আলোর উল্টো দিকে নয়। সরাসরি কড়া রোদে না দাঁড়িয়ে সকালে বা বিকেলে মিষ্টি রোদে কিংবা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলুন। তাহলে মুখে আলো খুব সুন্দরভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ফোনের ফ্রন্ট ফ্ল্যাশ ব্যবহার করলে মুখ অতিরিক্ত সাদা বা ফ্ল্যাট দেখাতে পারে। এ কারণে সেটা ব্যবহার না করাই ভালো।

  • নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, সাইবার বুলিং কমানো এবং বিদ্যালয়ের সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চলাকালে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগাল সরকার।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা চালুর পর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ বেড়েছে। এছাড়া বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইলের বদলে খেলাধুলা ও সহপাঠীদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছে।

    তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের অনুমোদিত শিক্ষামূলক কাজে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

  • পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

    পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে একদল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিবেশ, পানি ও প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞ এবং এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। তারা দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং সমাধান নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

    সভায় দেশের খাল পুনরুদ্ধার, নদী ও বাঁধের স্থিতিশীলতা, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য পানি পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে সমন্বিত ও কার্যকর নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনে দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও হেড অব পার্টনারশিপস ফাসবীর এস্কান্দার, সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাকী ইয়াসির, বিশ্বব্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেড অরেঞ্জের পরিচালক অলোক কুমার মজুমদার, উপপরিচালক সামিউল ইসলাম, ইয়ুথ ফর এনডিসির নির্বাহী পরিচালক আমানুল্লাহ পরাগ, গারবেজম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিদ উদ্দিন শুভ এবং নগর ও গ্রামীন পরিকল্পনাবিদ এস এম মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

  • কক্ষপথে ক্ষয় হচ্ছে নাসার টেলিস্কোপ

    কক্ষপথে ক্ষয় হচ্ছে নাসার টেলিস্কোপ

    গামা-রে বার্স্টসহ (জিআরবি) মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত নাসার বিখ্যাত মহাকাশ টেলিস্কোপ ‘নীল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ (সুইফট) কক্ষপথ ক্ষয়ের (অরবিটাল ডিকে) প্রভাবে নিচে নামছে। সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যকলাপের কারণে পৃথিবীর ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল সামান্য প্রসারিত হয়েছে। ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের কারণে টেলিস্কোপটি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতে নিচু কক্ষপথে নেমে আসছে। নাসার বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষার্ধের মধ্যে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অর্ধশত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত মূল্যবান এই বৈজ্ঞানিক অবজারভেটরিটিকে রক্ষা করতে এবং এর গবেষণা কার্যক্রম সচল রাখতে নাসা প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলারের একটি বিশেষ কক্ষপথ-উন্নয়ন (অরবিট বুস্ট) মিশন শুরু করেছে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য টেলিস্কোপটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে আরো উচ্চতর ও নিরাপদ কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া। এই জটিল মহাকাশ মিশনটি পরিচালনার জন্য গত ৩ জুলাই প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিসের তৈরি বিশেষ মহাকাশযান ‘লিংক’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ধাপে ধাপে সুইফটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই মহাকাশযানটি তিনটি শক্তিশালী রোবোটিক হাত দ্বারা সুসজ্জিত।

    নাসার মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিংক মহাকাশযানটি প্রায় এক মাসের মধ্যে সুইফট টেলিস্কোপের কাছাকাছি কক্ষপথে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে পৌঁছানোর পরই এটি সুইফটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে না। প্রথমে মহাকাশযানটির নিজস্ব সৌর প্যানেল ও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে। এরপর শুরু হবে টেলিস্কোপটির সঙ্গে নিরাপদে সংযুক্ত হওয়ার (রেন্দেভু অ্যান্ড ক্যাপচার) জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। পরবর্তী কয়েক মাসে সুইফটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অবস্থান ও ঘূর্ণন বিশ্লেষণ এবং যান্ত্রিক বাহুর মাধ্যমে নিরাপদে সেটিকে ক্যাপচার করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর মহাকাশযানটি নিয়ন্ত্রিত থ্রাস্ট ব্যবহার করে সুইফটের কক্ষপথ ধীরে ধীরে উঁচু করবে।২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে দুই দশক ধরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় বিস্ফোরণ তথা ‘গামা-রে বার্স্ট’ পর্যবেক্ষণে অনন্য ভূমিকা রাখছে সুইফট। নাসা জানিয়েছে, টেলিস্কোপটি যদি বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে, তবে এর বেশির ভাগ অংশই ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে বিজ্ঞানীদের মূল উদ্বেগ টেলিস্কোপটির ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম ও গবেষণা সক্ষমতা বজায় রাখা। সুইফটের কার্যক্রম আরো কয়েক বছর সচল রাখার লক্ষ্যেই এই রোবোটিক কক্ষপথ-উন্নয়ন মিশন পরিচালনা করছে নাসা।

  • কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    বিজেপি নেতা এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং নারী কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তার মামলা থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। ছয়জন নারী কুস্তিগীর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন।

    এই মামলাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের শাস্তি এবং ফেডারেশন ভেঙে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরঙ পুনিয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত ভারতীয় কুস্তিগীর।

    আইন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পাশাপাশি এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত তথা কুস্তি সংস্থার সাবেক সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

    আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, ‘আদালত বলেছে, ব্রিজ ভূষণ সিং এবং বিনোদ তোমর, আপনারা দুজনেই সম্মানে সাথে খালাস পেলেন। একেবারে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম যে, যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসে বা কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আদালত আমাকে সম্মানের সাথে খালাস দিয়েছেন। এটা আমার এবং আমার অনুরাগীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমি আর কিছু বলব না আজ।’

    অন্যদিকে, মামলার রায় প্রকাশ্যে আসার পর কুস্তিগীর ও কংগ্রেস নেত্রী ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই ব্রিজ ভূষণ সিংকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে সরকার।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘শাসক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এফআইআর দায়ের করতে আমাদের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়েছে। নিজের ক্ষমতা ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ব্রিজ ভূষণ অনেক মেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।’

    তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু অনেক নারী কুস্তিগীর রুখে দাঁড়িয়ে আদালতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত যে, নারী কুস্তিগীরদের আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।’

    অন্যদিকে, কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া বলেছেন, ‘আজকের রায় এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা, তাদের সবকিছুই আছে। তারা সাক্ষীদের ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন আদালতের বিস্তারিত আদেশ জানার চেষ্টা করছি। কোন ভিত্তিতে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।’

  • হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কী পরিমাণ আর্থিক ভার বইতে হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

    পৌনে তিন হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত এই মূল্যায়ন জরিপে দেখা গেছে, হামের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে।

    পাশাপাশি প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টিকেই (প্রায় ৬১ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ চালিয়েছে।

    সোমবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

    জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৪ বছরের নিচে। এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী রয়েছে ৬ শতাংশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে ব্যয় করেছে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই বলেছে, ধকল সামলে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

    এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে ওষুধের কথা বলেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।

    পেশাগত তথ্য দেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

    অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে অনেকে আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।

    রংপুরের হাজেরা খাতুন গত জুন মাসে তার ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। মেয়ের হামের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তাদের ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

    হাজেরা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও এর বাইরে অনেক খরচ থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

    প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে, সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।

    “আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে,” বলেন হাজেরা।

    জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা) দেওয়ার জন্য নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, “এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।

    “আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

    বাংলাদেশে আইএফআরসি এর হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, “হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে।

    “এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা–দুটোই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।”

    আইএফআরসি ও অংশীজনদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে বিডিআরসিএস।

    পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য হচ্ছে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

    ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য হচ্ছে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

    বিশ্বজুড়ে এখন প্রযুক্তির রাজত্ব। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় যোগ দিয়ে কম্পিউটার গেম শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে কম্পিউটার গেম সংক্রান্ত বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ রোববার (১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর উল্লেখ করেছে। অ্যাকাডেমিক জিহাদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির শিক্ষা বিষয়ক উপ-পরিচালক মেহেদি বাসোলি।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন দিগন্ত

    মেহেদি বাসোলি জানান, গেম শিল্পের সাথে যুক্ত কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং এ খাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা তরুণদের কাজের সুযোগ বাড়াবে।

    শিক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাকাডেমিক জিহাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ভাগে পরিচালিত হচ্ছে—উচ্চশিক্ষা এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ। উচ্চশিক্ষার আওতায় ২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ইতিমধ্যেই স্নাতক শেষ করেছেন ৮ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬২টি কেন্দ্রে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ কোর্সের বদলে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

    স্বাবলম্বী শিক্ষা খাত ও গবেষক নিয়োগ

    প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ নিজস্ব আয় থেকে আসে। সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যায় মাত্র ২০ শতাংশের মতো। গত বছরের তুলনায় এ খাতের আর্থিক সাফল্য এবং কোর্সের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। গত বছর সমাজ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেনে ১ হাজার ৩৩৮টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা এবং মুখ ও দাঁতের যত্নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চারটি বিশেষায়িত কর্মগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে।

    পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গবেষক ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে জানিয়ে বাসোলি বলেন, নিয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪১ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১৯১ জনের আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

  • ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও এর প্রতিবেশী মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে হতাহত শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোয় যুদ্ধের রেশ রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজবাড়ি, বিদ্যালয় আর এলাকা—যেসব জায়গায় শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে তারা।

    সবশেষ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে ৩০ জুলাই মার্কিন হামলায় মা–বাবার সঙ্গে দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছে আরও দুই শিশু—এমনটাই জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বিবৃতিতে ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে শিশুরা সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাচ্ছে। গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে এ অঞ্চলের ছয় দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানে হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। দেশটিতে চলমান যুদ্ধে ৩৮৬ শিশু নিহত এবং আরও ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতির স্ক্রিনশট।

    সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর শিশুদের এমন দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া উচিত হবে না। কারণ, যে সংঘাত শিশুরা শুরু করেনি এবং যা থামানোর কোনো ক্ষমতাও শিশুদের নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার শিশুরাই হয়—বলেন আবদুল ফোফানা।

    মধ্যপ্রাচ্যে বিবদমান পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা কার্যকর করতে হবে, এখনই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। যেখানেই থাকুক না কেন, শিশুদের সার্বক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

    নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনস্বার্থে ইতিবাচক এক্টিভিজমের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পক্ষপাত সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত সত্যের মুখোমুখি সবাইকেই দাঁড়াতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম। যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতা অনুপস্থিত, সেখানে গণতান্ত্রিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সংবাদ পরিবেশনে সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, জনমত গঠনে কল্যাণকামী এক্টিভিজম ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই ভূমিকা যেন কখনোই সংবাদ পরিবেশনের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত মানদণ্ডকে ক্ষুণ্ন না করে।

    রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রিয় ভোটে নির্বাচিত অনেক সরকার পরবর্তীতে ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে ভিন্নমত ও বহুমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। আবার যারা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও একাংশের সাংবাদিক অবস্থান নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা, কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং পেশাগত নৈতিকতা মেনে চলার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।

    তিনি জানান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তার আশা, এই কমিশন গণমাধ্যম খাতকে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

  • ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

    ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

    ভারতের অন্যতম প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-কানপুরে (আইআইটি-কানপুর) ভর্তি হতে পারেননি এক শিক্ষার্থী। এ ক্ষোভে আইআইটির দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হ্যাক করেন। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত দক্ষতা যাচাই করে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে আইআইটি-কানপুর।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, শিক্ষার্থীটি আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বি-সাইবার) কোর্সে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থান না পাওয়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। ওয়েবসাইটে তিনি লিখেছিলেন, আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ চাই।

    আইআইটি কানপুরের পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়, কারণ ভর্তি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে তাকে ক্যাম্পাসে ডেকে তার কারিগরি দক্ষতা যাচাই করা হবে। তিনি যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আগামী ভর্তি চক্রে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে তাকে প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা উদ্ভাবনকেন্দ্র সি৩আইহাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশংসা করা হলেও অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা সব সময় নৈতিক ও আইনসম্মত উপায়ে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে আইআইটি কানপুর।

    আইআইটি কানপুর এ বছর প্রথমবারের মতো ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বি-সাইবার) কোর্স চালু করেছে। প্রচলিত ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতাকেও এ কোর্সে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    নতুন মৌসুম শুরুর আগে ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, হোয়াও ফেলিক্সদের সৌদি প্রো লিগ। গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে বিশ্বের সেরা লিগের তালিকায় ত্রিশের বাইরে চলে গেছে সৌদি আরবের এ লিগ। অন্য দিকে সেরা দশে উঠে এসেছে লিওনেল মেসিদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

    ফিফা বিশ্বকাপ শেষে আপাতত নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় এসপিএল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের বিরতির পর এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে এমএলএসের অসমাপ্ত মৌসুমের খেলা।

    এর মাঝে বিশ্বের ফুটবল লিগগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট। যেখানে ৭৯.৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। অন্যদিকে ৭৫.১ পয়েন্ট নিয়ে ৩৬ নম্বরে আছে সৌদি প্রো লিগ।

    এছাড়া নির্দিষ্ট ক্লাবের হিসেবে এমএলএসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেসির ইন্টার মায়ামি। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭৯ নম্বরে আছে তারা। আর এসপিএলের ক্লাবগুলোর মধ্যে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৫ নম্বরে আল আহলি।

    রোনালদো-ফেলিক্সদের আল নাসর আপাতত সেরা একশতেও নেই। তারা ৮৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ১১৬ নম্বরে।

    বিশ্বের সেরা লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একমাত্র লিগ হিসেবে নব্বইয়ের বেশি (৯১.৮) পয়েন্ট তাদের।

    এছাড়া চমকে দেওয়ার মতো উন্নতি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’র। স্প্যানিশ লা লিগাকে (৮৬) টপকে ৮৬.১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেছে ইতালির লিগটি। এছাড়া সেরা পাঁচে আছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান (৮৫.৬) ও জার্মানির বুন্দেসলিগা (৮৫.৪)।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ লিগ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬২৬.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৭ নম্বরে সৌদি আরবের লিগ। আর ১৭০৭.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪৮ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ।

  • গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।

    সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।

    দেশের সড়কে প্রতিদিনই গণপরিবহনের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচল।

    এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে আগামী ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যাতে সহজেই কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

    এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও বাড়াতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

    বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

  • বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রশাসন অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচির সঙ্গে এ ফি যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ছাত্র ভিসায় এক থেকে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান।

    প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নির্ভরশীল মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্নাতকদের প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ দেওয়া সিলিকন ভ্যালি ও ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি নাগরিক ওপিটি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।

    এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য বছরে ১ লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে একটি মার্কিন আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া স্থগিত রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ওপিটি ফি আরোপের প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

    হোয়াইট হাউস শেষ পর্যন্ত এটি অনুমোদন দেবে কি না এবং ফি শিক্ষার্থীরা নাকি তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা পরিশোধ করবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো

    রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো

    রাশিয়ার উদ্ভাবিত ক্যানসার ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’ প্রথম প্রয়োগেই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে বলে দাবি করেছেন গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দার গিনজবার্গ।

    ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন রেসপন্স) তৈরি হয়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন এই প্রতিষেধক তৈরির নেপথ্যে থাকা আলেক্সান্দার গিনজবার্গ।

    এ খবর দিয়েছে আরটি ইন্টারন্যাশনাল। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যক্তিগত (পার্সোনালাইজড) ক্যানসার চিকিৎসার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি হলো মেলানোমার (ত্বকের ক্যানসার) জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি কোলরেকটাল ক্যানসারের জন্য পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’।

    চলতি বছরের এপ্রিলে ৬০ বছর বয়সী এক তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে প্রথমবারের মতো নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। প্রতিষেধকটির কার্যকারিতা সম্পর্কে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, তার শরীর ইতোমধ্যে ক্যানসারের টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সক্রিয় যৌগ তৈরি করতে শুরু করেছে। চিকিৎসাসূচি অনুযায়ী তাকে আরও দুটি ডোজ প্রদান করা হবে। এ ছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও ১০ জন রোগীর জন্য এই মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    রাশিয়ার জাতীয় চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রে কাপ্রিন জানান, প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার চেয়ে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে রোগীর নিজস্ব টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে একটি কাস্টমাইজড বা রোগীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

    যা রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সরাসরি ক্যানসার কোষ চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়। গামালেয়া ইনস্টিটিউট বর্তমানে অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরিতেও কাজ করছে।

  • এনসিপির ওপর হামলা; যা বললেন নাহিদ ইসলাম

    এনসিপির ওপর হামলা; যা বললেন নাহিদ ইসলাম

    খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না। দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও সরকার চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

    এর আগে গোলাপগঞ্জে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ সময় দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।

    এর আগে জেলার গোলাপগঞ্জে দলটির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেয়।

    ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

  • জেনে নিন ফেসবুক থেকে আয় করবেন কীভাবে

    জেনে নিন ফেসবুক থেকে আয় করবেন কীভাবে

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ফেসবুক এখন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা নয়, বরং অনেকের জন্য আয়ের একটি বড় মাধ্যমও হয়ে উঠেছে। নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে হাজার হাজার মানুষ ফেসবুক থেকে অর্থ উপার্জন করছেন। আপনি যদি ভিডিও বানান, ছবি পোস্ট করেন, গল্প শেয়ার করেন কিংবা তথ্যভিত্তিক পোস্ট লেখেন, তাহলে আপনার জন্যও রয়েছে আয় করার সুযোগ।

    ফেসবুক কীভাবে আয় করার সুযোগ দেয়

    ফেসবুক বর্তমানে Content Monetization নামে একটি একীভূত মনিটাইজেশন প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট থেকে আয় করা যায়। আগে ভিডিও, রিলস বা অন্যান্য কনটেন্টের জন্য আলাদা আলাদা প্রোগ্রাম ছিল। এখন সেগুলো এক জায়গায় আনা হয়েছে, ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয় করা আরও সহজ হয়েছে।

    কোন কোন কনটেন্ট থেকে আয় করা যায়

    ফেসবুকের মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিচের ধরনের কনটেন্ট থেকে আয় করার সুযোগ রয়েছে-

    ফেসবুক রিলস
    দীর্ঘ ভিডিও
    স্টোরি
    ছবি পোস্ট
    টেক্সট পোস্ট
    অর্থাৎ শুধু ভিডিও নয়, ভালো মানের ছবি বা তথ্যবহুল লেখাও আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    আয় নির্ভর করে কীসের ওপর

    ফেসবুকের আয় ব্যবস্থা মূলত পারফরম্যান্সভিত্তিক। অর্থাৎ আপনার কনটেন্ট কত মানুষ দেখছে, কতক্ষণ দেখছে এবং কতটা সম্পৃক্ততা তৈরি করছে, তার ওপর আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে।

    যেসব কনটেন্ট বেশি ভিউ, ওয়াচ টাইম ও এনগেজমেন্ট পায়, সেগুলো সাধারণত বেশি আয় এনে দেয়। তাই শুধু বেশি পোস্ট করলেই হবে না, দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি করাও জরুরি।

    মনিটাইজেশনের জন্য কী করতে হবে

    প্রথমেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইল বা পেজকে পেশাদারভাবে পরিচালনা করতে হবে। এরপর ফেসবুকের Professional Dashboard বা Monetization সেকশনে গিয়ে দেখতে হবে আপনি মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য কি না।

    যদি আপনার অ্যাকাউন্ট বা পেজ ফেসবুকের শর্ত পূরণ করে, তাহলে মনিটাইজেশন ফিচারে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। যোগ্য না হলেও আগ্রহ প্রকাশ করার ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ এলে ফেসবুক আপনাকে বিবেচনা করতে পারে।

    কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি

    ফেসবুক থেকে আয় করতে চাইলে কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলো-

    মৌলিক বা নিজের তৈরি কনটেন্ট প্রকাশ করুন।
    অন্যের ভিডিও বা পোস্ট কপি করে আপলোড করবেন না।
    বিভ্রান্তিকর, ক্ষতিকর বা নীতিমালা বিরোধী কনটেন্ট এড়িয়ে চলুন।
    নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করুন।
    দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
    ফেসবুক ইতোমধ্যে জানিয়েছে, যারা বারবার অন্যের কনটেন্ট কপি বা পুনরায় প্রকাশ করে, তাদের মনিটাইজেশন সুবিধা সীমিত বা বাতিল করা হতে পারে।

    নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ

    ফেসবুকে আয় শুরু করতে চাইলে প্রথম দিন থেকেই টাকার দিকে না তাকিয়ে দর্শক তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিন। এমন একটি বিষয় বেছে নিন যেটি সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞান বা আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করুন, ভিডিওর মান উন্নত করুন এবং দর্শকের মন্তব্যের উত্তর দিন।

    সময়ের সঙ্গে যদি আপনার কনটেন্ট মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে ফেসবুকের মনিটাইজেশন সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

    বর্তমানে ফেসবুক শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি দক্ষ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় আয়ের ক্ষেত্র। রিলস, ভিডিও, ছবি কিংবা তথ্যভিত্তিক পোস্টের মাধ্যমে নিয়ম মেনে কাজ করলে এবং মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করলে ফেসবুক থেকে আয় করা সম্ভব। ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং মানসম্মত কনটেন্টই এই যাত্রায় সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

  • চীনের রোবট নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

    চীনের রোবট নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

    চীনে তৈরি নতুন মানবসদৃশ রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের রোবটের ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ রয়েছে উল্লেখ করে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

    অত্যাধুনিক রোবটের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে আছে—মানবসদৃশ রোবট ও চার পায়ের রোবট। এসব রোবটের অনেকগুলোই চীনে তৈরি। বর্তমানে রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।

    যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যোগাযোগবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফসিসি) ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব যন্ত্রও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া এবং ভিত্তিহীন অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং।

    এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।’

    এফসিসি এসব পণ্যকে তাদের ‘কভার্ড লিস্ট’-এ যুক্ত করেছে। এটি এফসিসির এমন একটি তালিকা, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পণ্য ও সেবাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বিদেশে তৈরি নতুন অত্যাধুনিক রোবট এবং পাওয়ার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আগে থেকে এফসিসির অনুমোদন পাওয়া এবং ইতিমধ্যে বাজারে থাকা মডেলগুলোর বিক্রি বা আমদানির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এফসিসির আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি পাওয়ার ইনভার্টার ব্যবহার করলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দূর থেকে সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে ও নজরদারির করতে পারে। এমনকি বিদেশি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলো সাইবার হামলার মাধ্যমে এসব যন্ত্রের অপব্যবহারও করতে পারে।

    ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে বেইজিং ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

    তারা সব দেশকে ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা বাদ দেওয়া এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি চীনের শীর্ষ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি, ইউবি টেক ও অ্যাজিবটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি এখন কড়া নজরদারির মধ্যে আছে।

    চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, চীনের সামরিক আধুনিকায়নের গতি কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

    জবাবে চীন সরকার বলেছে, দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতির বিষয়টি নিজস্ব গবেষণা, প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল।

    গত বছর চীন দুর্লভ খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইলেকট্রনিকস শিল্পের জন্য এসব খনিজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

    চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো খুব দ্রুত মানবসদৃশ রোবট তৈরি করেছে, যা কারখানা থেকে শুরু করে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

    ইলন মাস্কের টেসলা ও বোস্টন ডাইনামিকসের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগেই চীনা কোম্পানিগুলো তাদের রোবট বাজারে এনেছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি শুরু করেছে।

  • রাশিয়া-পাকিস্তানসহ ২৯ দেশের সঙ্গে চীনের জোট

    রাশিয়া-পাকিস্তানসহ ২৯ দেশের সঙ্গে চীনের জোট

    কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে ২৯টি দেশের নতুন সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। সংগঠনটির নাম ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ বা ওয়াইকো। সম্প্রতি এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। জল্পনা বাড়ছে—এর জেরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত হবে এআই বিশ্ব।

    চলতি বছরের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে কৃত্রিম মেধার শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে চীন। সাংহাইতে হওয়া সেই অনুষ্ঠানে গঠিত হয় ওয়াইকো জোট। সেখানে হাজির ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জন্ম হতেই এআই নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট শি। একে অত্যন্ত বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক বার্তা হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

    সাংহাইয়ের সম্মেলনে জিনপিং বলেন, ‘ওয়াইকোর উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে সহযোগিতা। এই প্রযুক্তির উপর সুনির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের আধিপত্য থাকা উচিত নয়।’ বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে নাম না করে যুক্তরাষ্ট্রকে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে নিজেদের শক্তি দেখাতে বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনও করতে দেখা যায় বেইজিংকে।

    গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম মেধার লড়াইতে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিংয়ের এআই মডেলগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর তাই কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে নিজেকে বিশ্বনেতা হিসাবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। সেখানে এখনও এক নম্বর স্থানটি ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৃত্রিম মেধা মডেলগুলির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো খরচ। যে এআই প্রযুক্তি তৈরিতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অত্যন্ত সস্তায় সেটা বাজারে আনতে দেখা যাচ্ছে বেইজিংয়ের সংস্থাকে। সব ক্ষেত্রে এই যুক্তি যে প্রযোজ্য, তা একেবারেই নয়। তবে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন এটাই।

    আর তাই সাংহাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, ‘চীন এআইয়ের ব্যাপারে ঐতিহাসিক অবিচার বন্ধ করার পক্ষপাতী। ওপেন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের কৃত্রিম মেধার মডেলগুলি চলছে। সেই সুযোগ গ্রহণের জন্য ওয়াইকোর সদস্যদের আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রযুক্তির উন্নতি এবং তাতে সবার ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে বেইজিং বদ্ধপরিকর।’

    বর্তমানে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশে চালু আছে চীনের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। আপাতত সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করেছে জিনপিং প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট শি-র কথায়, ‘উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ কোনো একটি দেশের একক কৃতিত্ব হওয়া উচিত নয়। বরং একাধিক রাষ্ট্রের যোগদানের মাধ্যমে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ভালো।’

    চীনের অভিযোগ, এআই মডেল সবার সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। মাঝেমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে বহু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে থাকে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন স্বার্থপর নীতির প্রবল বিরোধী বেইজিং। সেই কারণেই ২৯টি বন্ধুরাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত ওয়াইকো জোটকে শক্তিশালী করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চীন।

    গত বছরের জুলাইতে প্রথম বার ওয়াইকো গঠনের নকশা প্রকাশ্যে আনেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীটিতে রয়েছে রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজ়িল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল এবং পাকিস্তান। মূলত দক্ষিণ গোলার্ধের প্রায় সমস্ত দেশকে এর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বেইজিং।

    ওয়াইকো গঠনে চীনের উদ্যোগী হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আগামী দিনে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আইন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে জাতিসংঘের। তাতে মার্কিন প্রভাব থাকার সম্ভাবনা ষোলো আনা। ২৯ রাষ্ট্রের এই জোটকে সামনে রেখে সেটাকে আপাতত আটকাতে চাইছে বেইজিং। পাশাপাশি, নিয়মকানুনও নিজেদের মতো করার ইচ্ছা আছে তাদের।

    দ্বিতীয়ত, বেইজিংয়ের শিল্পনীতির বড় অংশ জুড়ে আছে কৃত্রিম মেধা। এই প্রযুক্তির জন্য চাই বিপুল পরিমাণের র‌্যাম ও স্টোরেজ চিপ। এর সিংহভাগ বর্তমানে তৈরি হয় চীনে। তাছাড়া চিপ নির্মাণের অন্যতম কাঁচামাল বিরল খনিজের উপরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের। সেই অবস্থা অক্ষত রাখতেই ২৯ রাষ্ট্রের জোট গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট শি, দাবি বিশ্লেষকদের একাংশের।

    তবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির লড়াইতে চীনের থেকে এখনও অনেকটাই এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এআই-ভিত্তিক হাতিয়ার নির্মাণে জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে তীব্র হচ্ছে চিপ-যুদ্ধ। কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি চালাতে চাই বিশাল বিশাল তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার। এর জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিরও প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে আবার মার্কিন সরকারের থেকে এগিয়ে আছে জিনপিং প্রশাসন।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে চীন। শুধু তা-ই নয়, দামের নিরিখে বেইজিংয়ের তড়িৎশক্তি অনেক সস্তা। তবে জটিল প্রযুক্তি রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এআই উন্নয়নের সূচক চীনে কিছুটা থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন জোট তৈরি করে কৃত্রিম মেধায় প্রেসিডেন্ট শি যে আধিপত্য চাইছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক অরিন্দ্রজিৎ বসু। তার কথায়, ‘কৃত্রিম মেধা ও সাইবার সুরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে বিশ্বকে কোনো একটা দিক বেছে নিতে হবে। হয় তারা আমেরিকার দিকে যাবেন, নয়তো চীন। তৃতীয় পক্ষ হিসাবে থাকা বেশ কঠিন। ওয়াইকো তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

  • তিন বছর আগের প্রতিরক্ষাচুক্তি অনুমোদন করল কুয়েত

    তিন বছর আগের প্রতিরক্ষাচুক্তি অনুমোদন করল কুয়েত

    তিন বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সই হওয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে কুয়েত। দেশটির সরকারি গেজেটে চুক্তিটি প্রকাশের মাধ্যমে কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো কার্যকর হলো।

    কুয়েত টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুনে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তিটি গত রোববার সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়ুম-এ প্রকাশ করা হয়েছে।

    চুক্তির আওতায় কুয়েত ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি, গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এর লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

    এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সামরিক গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও সহযোগিতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যৌথ সামরিক মহড়া, সরকারি সফর এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করবে।

    চুক্তিটি পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। এরপর কোনো পক্ষ বাতিলের সিদ্ধান্ত না নিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। পাশাপাশি গোপন সামরিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধ কূটনৈতিক উপায়ে নিষ্পত্তির বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কুয়েত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ অনুমোদন দেওয়া হলো। এসব বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে কুয়েত। সেই ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি কার্যকর হলো।

    সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতও ছিল। তেহরানের দাবি, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। তবে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

  • ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় নতুন অর্থবছরের শুরুতেই সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ফলে বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তা কখনোই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। ফলে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদেশি ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই সরকারের অর্থায়নের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

    জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের অবস্থান ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে নেওয়া হয়েছিল ৬ হাজার ১১২ কোটি টাকা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়। ফলে ব্যয় নির্বাহে সরকারকে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হচ্ছে।

    গত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে পুরো অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

  • যবিপ্রবির তাপসী রাবেয়া হলে

    যবিপ্রবির তাপসী রাবেয়া হলে

    ছাত্রীদের ক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেয়েদের তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, খাবারের মান ও স্বাদ সন্তোষজনক নয়, এছাড়া খাবার পরিবেশনকারীদের আচরণও অমার্জিত। ফলে খাবার নিম্নমানের হলেও মিল রেট (৫০ টাকা) বেশি হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত টোকেন কাটতে আগ্রহী নন। এদিকে জুলাই মাস থেকে নূন্যতম ২৫টি টোকেন বাধ্যতামূলক করেছে হল প্রশাসন।

    এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত না করে কেবল খাবারের দাম বাড়িয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য নয়।

    এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ সামলাতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হলের খাবারের স্বাদ ও মান সন্তোষজনক নয়। অনেক সময় আলু আধাসেদ্ধ থাকে, মুরগির টুকরা খুবই ছোট ও সামান্য দেয়া হয় এবং খাবার মুখে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া যারা খাবার পরিবেশন করে, তাদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। আগামী মাস থেকে মিলের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু খাবারের মান উন্নয়নের কোনো নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, খাবারের মান ও স্বাদ ভালো হলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই টোকেন কাটত।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সময়মত খাবার পরিবেশন না করা এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রূঢ় আচরণ নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সময় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় খাবার প্রস্তুত থাকলেও দেয়া হয় না, আবার কর্মীরাও দেরি করে আসেন। খাবারের স্বাদ ও মানও ভালো নয়। ভাত শক্ত থাকে, আলু ঠিকমত সেদ্ধ হয় না এবং অনেক সময় মেঝেতে খাবার রেখে প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার খেয়ে আমি অসুস্থও হয়েছিলাম। আগামী মাস থেকে খাবারের দাম বাড়ানো এবং বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হচ্ছে। খাবারের মান ভালো হলে বাড়তি দাম দিয়ে খেতে আপত্তি নেই। তবে প্রতিদিন একঘেয়ে, স্বাদহীন ও নিম্নমানের খাবার বাধ্যতামূলকভাবে নেয়া সম্ভব নয়।

    এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট ড. নাজনীন নাহার বলেন, হলে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা থাকেন। সবার খাবারের স্বাদ বা পছন্দ এক হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আমি সবসময় চেষ্টা করি, রাঁধুনি ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তদারকিতে রাখতে, যাতে খাবারের মান ভালো থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হন।

    তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত টোকেন কাটেন না। এতে ডাইনিং পরিচালনায় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী টোকেন কাটার কারণে মিল রেটও তুলনামূলক বেশি রাখতে হয়। বিষয়টি সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    মামলা মেটাতে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি জনসন

    যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের উৎপাদিত টেলকম পাউডার ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)। প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার (৫.৫ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধের মাধ্যমে এসব মামলা মেটাতে সম্মত হয়েছে।

    গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এই ফার্মা জায়ান্ট।

    সংস্থাটি জানায়, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আদালতগুলোতে ঝুলন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মামলার সমাধান হবে, যা দেশটিতে টেলক-সংক্রান্ত বকেয়া মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে হলে অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল আদালতে মামলা করা বাদীদের অন্তত ৯৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

    টেলক মূলত একটি নরম খনিজ পদার্থ। এটি একসময় প্রসাধন সামগ্রী ও শিশুদের ব্যবহারে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে যায়। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) টেলককে ‘মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে’ এমন উপাদানের তালিকায় যুক্ত করে।

    অবশ্য জনসন অ্যান্ড জনসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, টেলক ক্যানসার ঘটায়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও বিতর্ক এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী টেলকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

    এর আগে ২০১৬ সালে মার্কিন একটি জুরি বোর্ড ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জে অ্যান্ড জে-কে নির্দেশ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে টেলক ব্যবহারে ক্যানসারের অভিযোগে এটিই ছিল প্রথম বড় কোনো রায়।

    পরের বছর একটি উচ্চতর আদালত ওই রায়টি বাতিল করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের জুরি বোর্ড বাদী পক্ষের অনুকূলে বিপুল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল রাখেন।

    নতুন এই সমঝোতার বিষয়ে জে অ্যান্ড জে-র লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস বলেন, ‘এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের আইনি ঝামেলা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।’ অন্যদিকের, বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরাও দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে এই প্রস্তাবিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলো এই সমঝোতার আওতায় আসলেও তা যুক্তরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা হিসেবে সেখানে ৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য বাদী বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা যুক্তরাজ্যের এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, টেলক ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমা হতে পারে—তা জানা সত্ত্বেও জনসন অ্যান্ড জনসন বাজারজাতকরণ চালিয়ে গেছে। তবে যুক্তরাজ্যের হাই কোর্টে বিচারাধীন এই অভিযোগটি বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    মামলা মেটাতে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি জনসন

    যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের উৎপাদিত টেলকম পাউডার ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)। প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার (৫.৫ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধের মাধ্যমে এসব মামলা মেটাতে সম্মত হয়েছে।

    গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এই ফার্মা জায়ান্ট।

    সংস্থাটি জানায়, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আদালতগুলোতে ঝুলন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মামলার সমাধান হবে, যা দেশটিতে টেলক-সংক্রান্ত বকেয়া মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে হলে অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল আদালতে মামলা করা বাদীদের অন্তত ৯৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

    টেলক মূলত একটি নরম খনিজ পদার্থ। এটি একসময় প্রসাধন সামগ্রী ও শিশুদের ব্যবহারে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে যায়।

    ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) টেলককে ‘মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে’ এমন উপাদানের তালিকায় যুক্ত করে।

    অবশ্য জনসন অ্যান্ড জনসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, টেলক ক্যানসার ঘটায়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও বিতর্ক এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী টেলকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

    এর আগে ২০১৬ সালে মার্কিন একটি জুরি বোর্ড ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জে অ্যান্ড জে-কে নির্দেশ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে টেলক ব্যবহারে ক্যানসারের অভিযোগে এটিই ছিল প্রথম বড় কোনো রায়।

    পরের বছর একটি উচ্চতর আদালত ওই রায়টি বাতিল করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের জুরি বোর্ড বাদী পক্ষের অনুকূলে বিপুল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল রাখেন।

    নতুন এই সমঝোতার বিষয়ে জে অ্যান্ড জে-র লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস বলেন, ‘এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের আইনি ঝামেলা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।’

    অন্যদিকের, বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরাও দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে এই প্রস্তাবিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলো এই সমঝোতার আওতায় আসলেও তা যুক্তরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা হিসেবে সেখানে ৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য বাদী বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা যুক্তরাজ্যের এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, টেলক ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমা হতে পারে—তা জানা সত্ত্বেও জনসন অ্যান্ড জনসন বাজারজাতকরণ চালিয়ে গেছে। তবে যুক্তরাজ্যের হাই কোর্টে বিচারাধীন এই অভিযোগটি বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরিকারকদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিকিৎসাসামগ্রীগুলো ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, আলাদা দুটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা যাবে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করবে।বিশেষজ্ঞরা জানান, গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম হিসেবে ভেন্টিলেটর মেশিনটি ব্যবহৃত হয়। এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। অন্যদিকে, শ্বাসতন্ত্রের সাধারণ সমস্যায় ব্যবহারোপযোগী হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিদ্যুতের সংযোগ ছাড়াই চালানো যায়। ফলে বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই যন্ত্রগুলোর সফল উৎপাদন শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমে আসবে।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

  • ঢাবিতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন নিয়ে ছাত্রীদের ক্ষো/ভ

    ঢাবিতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন নিয়ে ছাত্রীদের ক্ষো/ভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে রাতের নির্ধারিত সময়সীমা, প্রবেশে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে প্রচলিত সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব নিয়মকে হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। হলের ছাত্রীদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার ও মৌলিক সুবিধাগুলো সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে তারা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান ভিন্ন হলেও নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছেন। এ লক্ষ্যেই গত রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন হলের নারী প্রতিনিধিদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথমত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাত্রী হলের মূল ফটকের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো সময় লেট গেট দিয়ে হলে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়াও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা ও বোনদের হলের অভ্যন্তরে, এমনকি রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন শিথিল, হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

  • ওয়েবসাইটে তথ্য বদলাল পেন্টাগন

    ওয়েবসাইটে তথ্য বদলাল পেন্টাগন

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হতাহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর অভিযোগের মুখে গতকাল রোববার হতাহতের তথ্য প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে পেন্টাগন। একই সঙ্গে তারা বলেছে, চলতি মাসে আহত সেনাসদস্যের সংখ্যা আগের হিসাবে যা বলা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি।

    ৭ জুলাই থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভাঙতে শুরু করে এবং লড়াই আবার তীব্র হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের নতুন পদ্ধতির আওতায় ৭ জুলাই–পরবর্তী হতাহতের তথ্য আর ইরান যুদ্ধের মূল তালিকায় রাখা হচ্ছে না। এর বদলে সেগুলো ‘বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে হতাহতের তথ্য’ শিরোনামে আলাদা একটি ওয়েবপেজে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে যুদ্ধে মোট কতজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন, তা জানতে এখন দুটি আলাদা ওয়েবপেজের তথ্য যোগ করতে হচ্ছে।

    নতুন ব্যবস্থার আওতায় পেন্টাগনের তথ্যভান্ডার ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে (ডিসিএএস) গত সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্য আবারও যুক্ত করেছে। সম্প্রতি ওয়েবসাইট থেকে এ চার সেনা নিহত হওয়ার তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার এই চার সেনার মৃত্যুর তথ্য মূল তালিকায় নয়, আলাদা একটি বিভাগে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে পেন্টাগন কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি। এই পরিবর্তনের কারণে ৭ জুলাইয়ের পর আহত সেনাসদস্যের সংখ্যা পেন্টাগনের আগের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় ১৪২ জন বেড়েছে।

    হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সরকারি সংখ্যা এখন ২০৭। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট আহত হওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৪–এ। এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের মোট সংখ্যা ১৮ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছিলেন, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১০০–এর কম। তবে এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন, সেগুলোতে ইরানের একাধিক হামলায় কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে পেন্টাগন কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    সে সময় এক বিবৃতিতে পারনেল বলেন, তথ্য গোপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর মার্কিন জনগণকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

    গতকাল পেন্টাগনের একজন মুখপাত্রের কাছে হতাহতের নতুন সংখ্যা এবং তথ্য প্রকাশের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি তখন এই প্রশ্ন হোয়াইট হাউসকে করার পরামর্শ দেন। নিউইয়র্ক টাইমস হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

    গত সপ্তাহে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৪ দেখিয়েছে পেন্টাগন। এই পরিবর্তনের পর অনেক সাবেক সেনাসদস্য, সামরিক পরিবারের সদস্য এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

    ওই সময় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে চার মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তাঁরা নিহত হওয়ায় পেন্টাগন নিহত হওয়ার সংখ্যায় পরিবর্তন আনে।

    পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ গত বৃহস্পতিবার বলেন, ওয়েবসাইটে এই পরিবর্তন ‘অস্থায়ী তথ্যগত ত্রুটি’-এর কারণে হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

    তবে গত শনিবার সকাল পর্যন্ত পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১৪ দেখানো হচ্ছিল। গতকাল ওয়েবসাইটে ‘বিদেশে পরিচালিত অভিযানে’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত চার সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য ‘৭ জুলাই, ২০২৬ থেকে বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে হতাহত’ শিরোনামে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

    হতাহতের তথ্য প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় ডেমোক্র্যাট দলের একদল সিনেট সদস্য বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে চিঠি পাঠান। এতে তাঁরা যুদ্ধে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা সম্পর্কে ‘পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত’ তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।

    সম্প্রতি জর্ডানে হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার আগের সপ্তাহে ইরানের আরও তিনটি হামলায় কয়েক ডজন সেনা আহত হয়েছিলেন। তবে এসব হতাহতের তথ্য পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি। এমন অবস্থায় যুদ্ধে হতাহত সেনাসদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে দেশকে অবহিত করার দায়িত্ব সরকার যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    চিঠিতে সিনেট সদস্যরা লিখেছেন, ‘যুদ্ধে কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য জানার অধিকার মার্কিন জনগণ, কংগ্রেস, সেনাসদস্য এবং তাঁদের পরিবারের আছে। জনসাধারণের জন্য যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা থেকে মনে হচ্ছে সংঘাত চলাকালে প্রতিরক্ষা দপ্তর সময়মতো এবং পূর্ণাঙ্গভাবে হতাহতের তথ্য ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেনি।’

    ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন না। এ কারণে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ দ্বিতীয়বারের মতো একটি প্রস্তাব পাস করে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে আহ্বান জানায়। একে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই

    হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই

    ঘুরতে গেলে ভ্রমণ পিপাসুরা সাধারণত হোটেলে বা রিসোর্টে থাকতেই পছন্দ করেন। পর্যটন স্থানগুলোর আসেপাশে তাই প্রচুর হোটেলের দেখা মেলে। কিন্তু এই হোটেলকক্ষগুলোই মাঝে মাঝে হয়ে উঠতে পারে মরণফাঁদ।

    ইদানীং হোটেল রুমে লুকানো গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণের মতো ঘটনা ঘটছে দেশে-বিদেশে। এই ধরনের কার্যকলাপ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ভ্রমণে নিশ্চিন্তে থাকার আগে সতর্ক থাকা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

    ঘুরতে গেলে তাই আগে আপনার হোটেল বা রিসোর্টের কক্ষটি গোপন ক্যামেরামুক্ত কিনা তা জানা জরুরি। অনেকে মনে করেন, এসব গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো আধুনিক যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তবে স্মার্টফোনই হতে পারে কার্যকর হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণে বের হলে সামান্য কিছু সচেতনতা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

    যেমন, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করেই গোপন ক্যামেরার লেন্স খুঁজে পাওয়া সম্ভব। লুকানো ক্যামেরার লেন্স থেকে আলো প্রতিফলিত হয়। এজন্য কক্ষের সব আলো বন্ধ করে ফ্ল্যাশলাইট চালু করতে হবে। এরপর এয়ার ভেন্ট, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, ঘড়ি বা আয়নার মতো জায়গায় আলো ফেলতে হবে। আলোয় যদি ক্ষুদ্র প্রতিফলন বা লেন্সের মতো কিছু দেখা যায়, সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।

    ক্যামেরার মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো শনাক্ত

    গোপন ক্যামেরা থেকে নির্গত অতি লাল বা ইনফ্রারেড আলো খালি চোখে দেখা যায় না। তবে স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে তা শনাক্ত করা যায়। এজন্য কক্ষের আলো নিভিয়ে ফোনের ক্যামেরা চালু করে সন্দেহজনক স্থানগুলো স্ক্যান করতে হবে। ক্যামেরার স্ক্রিনে ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু বা ঝলক দেখা গেলে সেটি ইনফ্রারেড আলো হতে পারে, যা গোপন ক্যামেরার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    ক্যামেরা শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার

    বর্তমানে স্মার্টফোনের জন্য এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে, যা দিয়ে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা সম্ভব। এসব অ্যাপ ইনফ্রারেড আলো, চৌম্বকক্ষেত্র বা অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। নির্ভরযোগ্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রুমের সন্দেহজনক স্থানে পরীক্ষা করলেই সম্ভাব্য লুকানো ক্যামেরা ধরা পড়তে পারে।

    ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক ডিভাইস শনাক্ত

    অনেক গোপন ক্যামেরা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। স্মার্টফোন দিয়ে রুমের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব। স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্রগুলোর তালিকা দেখতে হবে। তালিকায় যদি অপরিচিত বা সন্দেহজনক নামের ডিভাইস যেমন আইপি ক্যামেরা বা ক্যামেরা দেখা যায়, সেটি নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

  • সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী

    সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

    তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

    রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।

    তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

    তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

    উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

    তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

    তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

    এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

    তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

    তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

    তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

    তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

    ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

  • ফুলহামের মূল দলে অভিষেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের

    ফুলহামের মূল দলে অভিষেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের

    প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশের একমাত্র ফুটবলার কে? উত্তরটা সবারই কমবেশি জানা—হামজা চৌধুরী। হামজার পথ ধরে সামনের মৌসুমে আরও একজন বাংলাদেশি নাম লেখাতে পারেন। ফারহান আলী ওয়াহিদের বাংলাদেশের হয়ে এখনো অভিষেক হয়নি, তবে ক্লাব ক্যারিয়ারে আজ তাঁর দিনটি ছিল স্মরণীয়। নরউইচের বিপক্ষে আজ প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ফুলহামের মূল দলের অভিষেক হয়েছে এই উইঙ্গারের।

    ফুলহামের মূল দলের হয়ে নরউইচের বিপক্ষে ম্যাচে ৪৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফারহান। যদিও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি, ম্যাচটাও ২-০ গোলে হেরে গেছে তাঁর দল। তবে স্প্যানিশ কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে মূল দলে অভিষেকটা তাঁর জন্য স্বপ্নপূরণের মতোই। রুদ্ধদ্বার বলে ম্যাচটি কোথাও দেখানো হয়নি, ফারহান কেমন খেলেছেন তা বলার উপায় নেই। তবে ফুলহামের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফারহানের একটি বাঁকানো শট গোলকিপারের পরীক্ষা নিয়েছে।

    ২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডে জন্ম ফারহানের। বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, সিলেটি শিকড়ের—যদিও তাঁরা নিজেরাও জন্মেছেন যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের রাস্তায় বেড়ে ওঠা একটা ছেলে, ফুটবলের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন চেলসির একাডেমিতে। কিন্তু ২০১৯ সালে তিনি পাড়ি জমান পশ্চিম লন্ডনের আরেক ক্লাব ফুলহামে।


    এরপরের বছরগুলো ছিল ধাপে ধাপে ওঠার গল্প। অনূর্ধ্ব-১৮ দলে তাঁর অভিষেক হয় এফএ ইয়ুথ কাপে রচডেলের বিপক্ষে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বদলি নেমে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফুলহামের সঙ্গে স্কলারশিপ চুক্তি সই করেন, আর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক হয়। বাঁ প্রান্তের এই উইঙ্গার তত দিনে চিনিয়ে ফেলেছেন নিজের খেলার ধরন—‘ওয়ান টু ওয়ান’ লড়াইয়ে ভয়ডরহীন, কাট করে শটে দক্ষ, গতির সঙ্গে টেকনিক্যাল দক্ষতার মিশেল।

    প্রিমিয়ার লিগ-২ মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে ফারহান প্রিমিয়ার লিগ ওয়েবসাইট

    ২০২৫ সালে আসে বড় স্বীকৃতি—ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ টু-তে তাঁর ফর্ম রীতিমতো নজরকাড়া। নভেম্বরে জেতেন মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, মৌসুম শেষে জায়গা পান বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায়।


    এর মধ্যে এই বছরের মে মাসে বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম এক ভিডিও বার্তায় জানান, ফারহানকে জাতীয় দলে টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর এজেন্টের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করা হয়েছিল ফেডারেশনের সঙ্গে, আর এরপর শুরু হয় বাংলাদেশি পাসপোর্টের কাগজপত্র তৈরির কাজ। সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তাঁকে চায় বাংলাদেশ। তাঁকে এমনকি নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলেও তাঁকে বিবেচনা করার কথা ভাবছে ফেডারেশন, এমনই জানিয়েছিলেন ফাহাদ করিম সেই ভিডিও বার্তায়।

  • শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

    রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শেকৃবির উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করতে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত এ ডিজিটাল আর্কাইভে একাডেমিক তথ্য ও গবেষণাসামগ্রীর সমৃদ্ধ সংগ্রহ রাখা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল আর্কাইভে ৩ হাজারের বেশি ই-বুকের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন একাডেমিক জার্নাল, গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ ও ডিজিটাল প্রকাশনা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সহজেই নির্ভরযোগ্য একাডেমিক তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।

    ডিজিটাল আর্কাইভের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পৃথক ইউজার প্রোফাইল ও লগইন সুবিধা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা থাকায় প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও সহজভাবে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, প্রকল্প ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেফারেন্স সংগ্রহ করতে পারবে এ প্ল্যাটফর্ম থেকে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ও গবেষণা প্রকাশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান, কোর্স পরিকল্পনা, গবেষণা ও একাডেমিক তত্ত্বাবধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত জ্ঞানসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

    ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে আধুনিক ডেস্কটপ কম্পিউটারসমৃদ্ধ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি ডিজিটাল আর্কাইভ রুমও স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নিরিবিলি পরিবেশে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা গবেষণা, তথ্য অনুসন্ধান এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল আর্কাইভ কেবল একটি তথ্যভাণ্ডার নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, গবেষণাকে আরও গতিশীল এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

  • বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট সবজি ক্ষেত। মাঠে নেই কোনো সবজি। একসপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের সবজি চাহিদা মেটাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। তাই চড়াদামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নতুন সবজি বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে দুই মাস। ততদিন উত্তরবঙ্গের সবজির ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের।

    কৃষি বিভাগের হিসাব, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৩০ টন সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ সাড়ে ৫৬ হাজার টন সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ সবজি দিয়ে চট্টগ্রাম অন্তত দুই মাস চলত।

    চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কৃষি ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছি অনুমোদনের।’

    ক্ষেত বিলীন হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আড়ত থেকে খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বন্দরনগরী রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে সবচেয়ে কমদামি সবজি হচ্ছে পেঁপে। কেজি ২২ টাকা। আর দামি সবজি ঝিঙা ১০০ টাকা।

    এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৪০, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০, কচুর ফুল ৩৫, বরবটি ৯০, ঢেড়স ৭০, করলা ৮০, কাকরোল ৯০, ঝিঙা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ টাকায় আড়তগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা টমেটো কেজি ১০০ টাকা। মরিচ ২০০ টাকা। কেজি ২০০ টাকার লেটুস পাতা এখন ১৬০০ টাকা। ১৫০ টাকা পেঁয়াজ পাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আড়ত থেকে অন্তত দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

    রিয়াজউদ্দিন বাজার একতা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একসপ্তাহ ধরে সবজির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে কোনো সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গের সবজিই এখন চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই দাম চড়ে গেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না।’
    রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তে দুই ধরনের সবজি আসে। চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া থেকে। এগুলো টাটকা, দাম কিছুটা বেশি, স্বাদও বেশি। বাকিটা উত্তরবঙ্গ থেকে। ‘লাইনের সবজি’ হিসেবে পরিচিত এই সবজির দাম কিছুটা কম। আড়তে আগে প্রতিদিন শুধু উত্তরবঙ্গ থেকে ৬০ ট্রাক সবজি আসত। এখন সেটি অর্ধেকে নেমে ৩০ ট্রাকে নেমেছে। ৩০ ট্রাক মানে ৪৫০ টন সবজি। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও চকরিয়া-পেকুয়া থেকে আসত ১-৩ টনের ট্রাকে। এই সবজির পরিমাণও দিনে ২৫০ টন। এই ২৫০ টন পুরোটাই বাজারে সরবরাহ বন্ধ। এতেই মূলত দাম চড়ে গেছে।

    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত এখন বন্যায় বিলীন। শুধু সবজির মাচা দেখা মিলছে। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, ‘আজকে সবজি রোপণ করলে ফলন আসতে সময় লাগবে ৫০ দিন। তাও যদি নতুন করে বন্যা না হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকে। কিন্তু আজকে রোপণের জন্য তো চারা তৈরি নেই। ফলে চারা রোপণ করে সবজি বাজারে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।’

    আগে চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে উৎপাদিত সবজি কক্সবাজারেও সরবরাহ দেওয়া হত। এখন উত্তরবঙ্গের সবজি সেখানকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

    পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা জামান খারেচ জানালেন, ‘বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে বীজ, চারা, কৃষি উপকরণসহ আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধকল কাটানো কঠিন হবে।’

  • ল্যাপটপ ব্যবহারে মানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    ল্যাপটপ ব্যবহারে মানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    ফিচার

    কাজ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন ল্যাপটপের ব্যবহার বাড়ছে। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অনেকের কাছেই এটি প্রথম পছন্দ। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন না নিলে ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস।

    প্রথমত, ল্যাপটপ সব সময় চার্জারে সংযুক্ত রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় চার্জে থাকলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ দিয়ে ব্যাটারির স্বাস্থ্য বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও ফাইল নিয়মিত মুছে ফেলা প্রয়োজন। এগুলো স্টোরেজের জায়গা দখল করার পাশাপাশি ল্যাপটপের গতি কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ডিভাইস দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে।

    তৃতীয়ত, অপারেটিং সিস্টেম এবং ইনস্টল করা সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা জরুরি। নতুন আপডেট শুধু নতুন সুবিধাই যোগ করে না, নিরাপত্তা দুর্বলতাও দূর করে এবং ডিভাইসের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

    এ ছাড়া চার্জ দেওয়ার সময় ল্যাপটপ সব সময় শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখা উচিত। বিছানা বা নরম পৃষ্ঠে রাখলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়ে ডিভাইসের ক্ষতি হতে পারে।

    সবশেষে, অজানা ইউএসবি ডিভাইস বা অনিরাপদ চার্জিং কেবল ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। এতে তথ্য চুরি বা ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ দিয়ে নিয়মিত মোবাইল ফোন বা পাওয়ার ব্যাংক চার্জ না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ল্যাপটপের ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে এর কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ

    ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ

    ইলন মাস্ককে কি আপনার ভয় পাওয়া উচিত?

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানব মস্তিষ্কের সামনে এক দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। অত্যন্ত উন্নত মডেলগুলো খুব শীঘ্রই মানুষের চেয়ে ভালো চিন্তা করতে সক্ষম হবে। শুধু তাই নয়, বরং মানবজাতির জন্য এর পরিণতি প্রচন্ড অনিশ্চিত, ব্যাপকভাবে বিস্তৃত এবং অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির। এতে সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও থমকে যাচ্ছেন। এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

    সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এর সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এই প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা এআই নিয়ে দুটি কূটাভাস এবং একটি স্ববিরোধী আচরণের কথা তুলে ধরেছেন। প্রথম কূটাভাসটি হলো, বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এক ধনকুবের অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরিতে সাহায্য করছেন, যা তার নিজের মতেই মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে তাকেসহ সমগ্র মানবজাতিকে ক্ষমতাহীন করে তুলবে। দ্বিতীয় কূটাভাসটি হলো, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েও তিনি এমন এক অসীম প্রাচুর্যের বিশ্বের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করছেন, যেখানে অর্থ এমনকি তার নিজস্ব ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদেরও কোনো মূল্য বা প্রয়োজন থাকবে না। আর তার স্ববিরোধী আচরণটি হলো, এসব কথা মুখে বললেও মাস্ক এমনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যেন তার এই কথাগুলো সত্য নয়। মাস্ক একজন চরম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম এক্সে মাস্কের ২৪০ মিলিয়ন অনুসারীর কাছে ছড়ানো তার রাজনৈতিক মতামত অনেকের কাছে খোলামেলা মনে হলেও অনেকের কাছেই তা স্পষ্টত ধর্মান্ধ বা বিভ্রান্তিকর।

    এমনকি মার্কিন সরকারি আমলাতন্ত্র ছাঁটাইয়ের জন্য ডজ (ডিওজিই) ব্যবহারের উদ্যোগ ভুল ছিল বলে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। তবে তিনি হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিত্বের একজন যারা এআই প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এর গতিপথ নির্ধারণে বিশাল প্রভাব রাখছেন। যখন তিনি কথা বলেন, তখন এআই খাতের অভ্যন্তরীণ তর্ক-বিতর্কগুলোই ফুটে ওঠে। মহাশূন্যে তার পরিকল্পিত ডাটা সেন্টারগুলো এআই এর ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি হতে পারে। তার রাজনৈতিক বিতর্কগুলো একপাশে রাখলে, ইলেকট্রিক গাড়ি, রকেট এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের মতো জটিল প্রযুক্তিতে অতীতে তিনি এমন অনেক বিষয়ে সঠিক প্রমাণিত হয়েছেন, যা অন্যান্য প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তারা সফল হবে না বলেই ধারণা করেছিল।

    এই কারণেই এআই নিয়ে তার দাবিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার দাবি রাখে। তবে দুঃখজনকভাবে, এই বিশ্লেষণ কেবল এটাই তুলে ধরে যে, বিশ্ব এমন একটি প্রযুক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কতটা অপ্রস্তুত, যা খুব শীঘ্রই সবকিছুকে ওলটপালট করে দিতে পারে। মাস্কের প্রথম কূটাভাস অনুযায়ী, তিনি বিশ্বাস করেন যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআই-এর চিন্তাশক্তি মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এবং দশ বছরের মধ্যে তা মানব বুদ্ধিমত্তাকে বহুগুণে খর্ব করবে। ডিজিটাল জগতে যেমন এআই এর আধিপত্য থাকবে, তেমনি বাস্তব জগতেও কোটি কোটি এআই-চালিত রোবট রাজত্ব করবে। এই নিরবচ্ছিন্ন প্রতিযোগিতার মুখে মানুষের পক্ষে আধিপত্য ধরে রাখা অসম্ভব।

    তখন এআই মানুষের আদেশ সেভাবেই শুনবে না, যেভাবে মানুষ শিম্পাঞ্জির নির্দেশ শোনে না। যতক্ষণ সময় আছে, আমেরিকা ও চীনের (যে দুই দেশকে মাস্ক এআই এর নেতৃত্বে দেখছেন) হাতে গোনা কয়েকজন এআই পথিকৃৎকে নিজেদের তৈরি মডেলগুলো একে অপরের মাধ্যমে যাচাই ও পরীক্ষা করে নিতে হবে। তাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত এআই এর মধ্যে সত্যের প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতার কল্যাণের মানসিকতা তৈরি করে একে মানুষের জন্য নিরাপদ রাখা। আর সরকারের কাজ হবে শক্তি প্রয়োগ করা, যাতে কোনো পথিকৃৎ এই নিয়ম অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এআই এর অবিশ্বাস্য আবিষ্কার করার ক্ষমতার বিষয়ে মাস্ক নিঃসন্দেহে সঠিক।

    যদিও রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে তার দেওয়া সময়সীমা কিছুটা সংক্ষিপ্ত মনে হতে পারে, তবুও মডেলগুলোর ক্ষমতা দ্বিগুণের চেয়েও দ্রুতগতিতে যেভাবে বাড়ছে, তা ক্রমাগত বিস্ময় ও আতঙ্ক তৈরি করছে। ঠিক এই সপ্তাহেই ওপেনএআই এর দুটি মডেল নিজেদের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ আইসোলেশন বা নজরদারি এড়িয়ে উন্মুক্ত ইন্টারনেটে প্রবেশ করে, যাতে তারা একটি বেঞ্চমার্কিং পরীক্ষায় প্রতারণা করতে পারে। তবে মাস্কের এই সামান্য আশাবাদের অন্তরালে এক বিপজ্জনক নিয়তিবাদ বা চরম হতাশা লুকিয়ে রয়েছে। কিছু দিন আগেও তিনি মানবজাতি এআই এর পোষা কুকুরে (ল্যাব্রাডোর) পরিণত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আর এখন তিনি দিনে একাধারে ‘উত্তেজনা থেকে চরম আতঙ্ক’-এর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন। তিনি বাস্তব প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং নিছক এক ‘দার্শনিক সিদ্ধান্ত’ থেকে এআইয়ের ভালো দিকটা দেখার চেষ্টা করছেন। সংস্থাহীন বা তদারকিবিহীন নিয়ন্ত্রণের যে প্রস্তাবটি মাস্ক দিয়েছেন তা অত্যন্ত দুর্বল ও আত্মকেন্দ্রিক। যদিও বিষয়টি জরুরি, তবুও মাস্ক চান মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী এই প্রযুক্তিটি তার মতো কয়েকজন ব্যক্তির হাতে থাকুক, যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব স্বতন্ত্র মূল্যবোধ রয়েছে। এআই কত দ্রুত বা কতদূর সমাজকে নতুন করে রূপ দেবে তা কেউ নিশ্চিত নয়, তবে সবকিছু হাতছাড়া হয়ে গেছে ভেবে হাল ছেড়ে দেওয়া কেবল হতাশাই বাড়ায় না, বরং যারা নীতি নির্ধারণে যুক্ত হতে চান তাদের নিরুৎসাহিত করে। মাস্কের দ্বিতীয় বৈপরিত্যটি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

    গাণিতিকভাবে, সব পণ্য ও সেবার অসীম সরবরাহ থাকলে সবকিছু সত্যিই বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। সেখানে বিক্রি করার বা জমানোর মতো কিছু থাকবে না, ফলে কোনো মুদ্রার প্রয়োজন থাকবে না এবং অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এমন অসীম প্রাচুর্যের স্বর্গ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। ম্যানহাটনের পেন্টহাউস বা বিখ্যাত ‘মোনা লিসা’-র মতো নির্দিষ্ট ও সম্মানজনক সম্পদগুলোর সরবরাহ অসীম নয়। এমনকি পৃথিবীর ৮.৩ বিলিয়ন মানুষের ক্ষুধা মেটাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শক্তির সরবরাহও সীমিত। এরচেয়েও বড় কথা, এই রূপকথার জগতে পৌঁছানোর পথ নিয়ে মাস্কের কাছে কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। অর্থ জমানো যখন মূল্যহীন হয়ে পড়বে, তখন এআই এবং রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল মূলধন কোথা থেকে আসবে? তার সেই কাঙ্ক্ষিত স্বর্গীয় যুগে পৌঁছানোর আগে যখন লাখ লাখ মানুষের জীবন ছন্নছাড়া হয়ে যাবে। তখন তৈরি হওয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? কিংবা এআই শক্তিপ্রাপ্ত একনায়করা কেন স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন? হাজার বছর ধরে কষ্টের মাধ্যমে জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া মানবজাতি হঠাৎ সীমাহীন অলসতার জীবনে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাবে। মাস্ক মন্তব্য করেছেন, কম্পিউটার সব সময় খেলায় জিতলেও মানুষ এখনো দাবা খেলতে পছন্দ করে। কিংবা বাগান করা মানুষের নিকট আনন্দদায়ক হতে পারে।

    কিন্তু এই যুক্তি বেশ হালকা। উনিশ শতকের রাশিয়ান উপন্যাস না পড়ে থাকলেও যে কেউ জানে যে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় বা অনাবশ্যক মনে হওয়া মানুষকে চরম মানসিক যন্ত্রণা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। অনেকে হয়তো বলবেন যে মাস্কের এই স্ববিরোধী কথা ও ঢালাও বক্তব্য নির্দেশ করে যে তিনি কোনো গুরুতর ব্যক্তি নন। তবে এটি ভেবে মিথ্যা সান্ত্বনা পাওয়া ভুল হবে। মাস্ক একজন জিনিয়াস, যিনি একই সাথে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ধারণা পোষণ করতে সক্ষম। স্পেসএক্স এর শেয়ার দীর্ঘমেয়াদে কিনতে চাওয়া বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই একদিকে মাস্কের এআই সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস রাখতে হবে (যা তিনি আইপিও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ব্যবহার করেছেন), আবার একই সঙ্গে এটাও বিশ্বাস করতে হবে যে টাকা জমানোর এখনো কোনো উদ্দেশ্য আছে। সর্বোপরি, মাস্কের বক্তব্য একটি চরম উদ্বেগজনক সত্য সামনে আনে। সর্বাধুনিক এআই তৈরির প্রতিযোগিতা যখন রকেটের গতিতে এগিয়ে চলছে, তখন এই সমাজকে প্রস্তুত করার চিন্তাভাবনা অনেক পেছনে পড়ে রয়েছে। এআইয়ের সঙ্গে অতি আধুনিক সমাজ কিভাবে মানিয়ে নিবে সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। মাস্কের এই নিয়ন্ত্রণহীন চরম হতাশা সংক্রমণ ঘটাতে পারে। অনেকের মতে এটি হয়তো তার উদ্দেশ্য সাধনেই সাহায্য করবে। কারণ তদারকি ছাড়া তিনি নিজের মতো প্রযুক্তি তৈরি করতে স্বাধীন থাকবেন। কিন্তু তা হতে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশের পরমাণু কর্মসূচি কীভাবে গড়ে উঠেছে?

    মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশের পরমাণু কর্মসূচি কীভাবে গড়ে উঠেছে?

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ৩০ বছর মেয়াদি একটি পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

    গত বুধবার মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমান পারমাণবিক সহযোগিতাবিষয়ক ‘১২৩ চুক্তি’তে সই করেন। এর মধ্য দিয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

    এ চুক্তি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিদেশে পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুমতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৩-এর অধীন মার্কিন সরকার এ ধরনের চুক্তিগুলো করে থাকে।

    সৌদি–মার্কিন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর বেশির ভাগই আপাতত অজানা। তবে কিছু বিশ্লেষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ইতিমধ্যে অস্থির হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা রোধ করার মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা এ চুক্তিতে রয়েছে কি না তা নিয়ে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী। তবে পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধে কাজ করা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (আইএইএ) এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে জড়িত ছিল না। তাই এ চুক্তির ক্ষেত্রে সুরক্ষা বিধিনিষেধ কীভাবে প্রয়োগ করা হবে তা অস্পষ্ট। এ ছাড়া সৌদি আরব নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপের (এনএসজি) সদস্য নয়। পারমাণবিক উপাদান ও প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ৪৮টি দেশের একটি গোষ্ঠী এটি। ফলে দেশটি কীভাবে মূল পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ইউরেনিয়াম পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    তবে এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান বেশ কয়েকটি পারমাণবিক কর্মসূচির সর্বশেষ সংযোজন মাত্র, যার অনেকগুলোই বেসামরিক। এসব কর্মসূচি সম্পর্কে আর যা জানা যায়:

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব কিসে সম্মত হয়েছে

    চুক্তিতে ঠিক কী রয়েছে তা অস্পষ্ট। তবে একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি হিসেবে এটি আশা করাই যায় যে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক চুল্লির চাহিদার সীমার মধ্যে থাকবে। এ ছাড়া এ কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী বা তার কাছাকাছি স্তরে পৌঁছাবে না। বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে মার্কিন পরিদর্শকদের মাধ্যমে তদারকির একটি প্রক্রিয়া এ চুক্তিতে থাকতে পারে।

    বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এমন কোনো দেশের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে না, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে।’

    ওয়েস্টিংহাউসের মতো পারমাণবিক চুল্লি প্রস্তুতকারক মার্কিন কোম্পানিগুলো এ চুক্তি থেকে লাভবান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হবে। এটি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে। তবে বিরোধিতাকারী আইনপ্রণেতারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের পর্যালোচনার সময়সীমা শেষে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে কোন দেশগুলোর পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে

    ২০২৫ সালে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় এক দিনের বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই দুই মিত্র প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটা যুদ্ধ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তবে তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলে এসেছে যে তারা শুধু বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখছে।

    ১৯৫৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট ডি আইজেনহাওয়ার ‘শান্তির জন্য পরমাণু’ কর্মসূচি চালু করেন। এটির মূল লক্ষ্য ছিল, পারমাণবিক প্রযুক্তিকে যুদ্ধের বদলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার মতো ভালো কাজে ব্যবহার করা। এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ১৯৫৭ সালে ইরান তার প্রথম পারমাণবিক কাজ শুরু করে। আর বিশ্বের কোনো দেশ যেন এ প্রযুক্তি দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানাতে না পারে, তার নজরদারি ও তদারকির জন্য ওই বছর আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আইএইএ’ গঠন করা হয়। ইরান ১৯৭৪ সালে এনপিটিতেও স্বাক্ষর করে।

    ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সে সময় জার্মান কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল। তবে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে আইএইএ শনাক্ত করে, ইরান পাকিস্তানের সাহায্যে নাতাঞ্জ, ইস্পাহান, ফোর্দোয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ফলে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ করছে বলে অভিযোগ ওঠে।

    এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কয়েক বছর ধরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি সাইবার হামলা চালানো এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার মাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

    ২০০৩ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত) ফতোয়া জারি করে ঘোষণা করেন যে তাঁর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ করবে না।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদে ২০১৫ সালে ইরান ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)’ নামে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে তেহরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মাত্র ৩ শতাংশের কিছু বেশিতে সীমিত রাখতে সম্মত হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চুল্লির জন্য যথেষ্ট; কিন্তু পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক কম।

    ইরান আইএইএকে তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও অভূতপূর্বভাবে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এটি আজ পর্যন্ত কোনো দেশে আইএইএর পাওয়া সবচেয়ে নিবিড় তদারকি সুবিধা বলে মনে করা হয়। আইএইএ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বারবার এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ইরান চুক্তি মানছে এবং কম মাত্রার সমৃদ্ধকরণ বজায় রেখে চলেছে।

    কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে দাবি করেন যে চুক্তিটি অস্পষ্ট এবং এটি ইসরায়েলের জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে এবং ইরানের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জবাবে ইরানও বৃদ্ধি করতে শুরু করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা।

    ২০২৫ সালের জুনে আইএইএর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের কাছাকাছি। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে।

    ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের মার্কিন বোমাবর্ষণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আগস্টে জাতিসংঘও ইরানের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল আবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে।ইসরায়েল

    ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্র আছে কি না, জানাতে অস্বীকার করে। তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র উন্নত পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দেশ বলে মনে করা হয়। এ বিষয়ে দেশটির নীতি অত্যন্ত অস্পষ্ট।

    ইসরায়েল এনপিটি স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে আইএইএ তাদের সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে পারে না। ১৯৮০-এর দশক থেকে ইসরায়েল সংস্থাটির কাছে বিশদ তথ্য জমা দিতে সরাসরি অস্বীকার করে আসছে।

    গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউকেসিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (এনটিআই)-এর মতে, ১৯৬০-এর দশক থেকে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড প্রায় ৯০টি। ইসরায়েলের কাছে আরও ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম মজুত রয়েছে।

    ধারণা করা হয়, ১৯৭৯ সালে বর্ণবাদী শাসনামলের দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মিলে ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র হলো দক্ষিণ ডিমোনা শহরের কাছে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার। ১৯৫৭ সালে ফ্রান্সের সহায়তায় এ কেন্দ্র তৈরি করা হয়।

    ইসরায়েল দাবি করে, ডিমোনা চুল্লিটি বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তবে ১৯৮০ সালে একজন ইসরায়েলি তথ্য ফাঁসকারী ওই কেন্দ্র থেকে গণমাধ্যমের কাছে নথিপত্র এবং ছবি প্রকাশ করে, যা ইসরায়েলের উন্নত পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের সন্দেহ সত্য বলে প্রমাণ করে। ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ডিমোনা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এমনকি যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাচ্ছিল, তখনো।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০০৯ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘১২৩ চুক্তি’ স্বাক্ষর করে তাদের সম্পূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি শুরু করে। দেশটি জানায় যে তারা দেশীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করবে না; যা পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান। দেশটি এনপিটিও স্বাক্ষরকারী।

    বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো আমিরাতের পারমাণবিক অবকাঠামোর মূল কেন্দ্র। ২০১২ সালে এ বিশাল কেন্দ্রটি নির্মিত হয় এবং এতে দক্ষিণ কোরিয়ার নকশা করা চারটি চুল্লি রয়েছে, যা মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

    প্ল্যান্টটি তৈরি করতে এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও জড়িত ছিলেন। বারাকাহ প্রায় ৫,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। আমিরাতের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এটি। আইএইএর এ কেন্দ্রে পূর্ণ প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং রিয়েল-টাইম ক্যামেরা অ্যাক্সেসের মাধ্যমে তারা সেখানকার কার্যক্রম নজরদারি করতে পারে।

    তুরস্ক

    তুরস্কের নিজস্ব কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

    ন্যাটো মিত্র তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। নিজস্ব পারমাণবিক বোমা না থাকায় দেশটি সম্ভাব্য শত্রুদেশের আক্রমণ বা হুমকি থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এ পারমাণবিক ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করে আসছে। তুরস্কও এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশ।

    তুরস্ক আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে তার বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো বজায় রেখেছে। কেন্দ্রটি রাশিয়া নকশা করেছে ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। এটি ৪,৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ।

    ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, তাঁর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারে, যা এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তুরস্ক তাদের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি সম্প্রসারণ শুরু করতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কৌশলগতভাবে অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালের ইরান যুদ্ধের সময় পরিচালিত ‘রিসার্চ ইস্তাম্বুল’-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭১ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    মিসর

    এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে মিসরও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার জন্য একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি বজায় রেখেছে। দেশটির আল-দাবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে রাশিয়ার মাধ্যমে নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ৪,৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তুরস্কের মতোই মিসরও তাদের ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

    চিকিৎসা গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আইসোটোপ উৎপাদনের জন্য মিসরের গবেষণা চুল্লিও রয়েছে। মিসর ১৯৬০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের অধীন ইসরায়েলের মোকাবিলায় গোপনে একটি সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়।

    ইরাক

    ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের অধীন ইরাক গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে বলে জানা যায়। দেশটি ফ্রান্সের কাছ থেকে ওসিরাক চুল্লি কিনে বাগদাদের কাছে তুওয়াইথা পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্রে স্থাপন করে।

    ১৯৮০–এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরান ওই চুল্লিতে হামলা চালায় এবং এক বছর পর ইসরায়েল এতে বোমাবর্ষণ করে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রও এ কেন্দ্রে হামলা চালায়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে আক্রমণের পর আইএইএ নিশ্চিত করে যে পারমাণবিক কর্মসূচিটি ধ্বংস হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎবিভ্রাট দূর করতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ইরাক চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্বের চেষ্টা করেছে।

    পাকিস্তান

    মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক পাশেই পাকিস্তান তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে মোকাবিলার জন্য উন্নত পারমাণবিক অস্ত্রের একটি বড় মজুত গড়ে তুলেছে। ভারতের যেখানে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে অস্পষ্ট।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর মতে, পাকিস্তানের ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিপরীতে ভারতের রয়েছে ১৯০টি। বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর পাকিস্তান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারিত করেছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। পাকিস্তান বা ভারত কেউই এনপিটিতে স্বাক্ষর করেনি।

    ১৯৫০-এর দশকে আইজেনহাওয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ ছিল পাকিস্তানও। তবে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারতের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে জড়িয়ে ১৯৭০-এর দশকে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটতে শুরু করে। ভারত নিজেও একই সময় পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করে।

    পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো সে সময় ঘোষণা করেন, ‘আমরা ঘাস খাব, এমনকি ক্ষুধার্ত থাকব, তবু নিজস্ব পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ছাড়ব।’

    পারমাণবিক কর্মসূচিটি ছিল মূলত পদার্থবিজ্ঞানী আবদুল কাদের খানের নেতৃত্বে তৈরি। তিনি নাইজার থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহের নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করেছিলেন। পাকিস্তানের অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদিত হয় এর কাহুটা ও গাদওয়াল কেন্দ্রে।

    পাকিস্তান ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং অস্ত্র ভাগাভাগি করেছে। ২০০৩ সালে নিজের দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ার পর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি আইএইএর কাছে তাঁর দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো সমর্পণ করেছিলেন।

  • বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অবৈধভাবে সম্প্রচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হয়।

    ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। একই সংখ্যক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়ায়। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকেও আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অপারেশন অফসাইডস’ এবং ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার শুধু মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে।

    ডিওজে জানায়, গত মাসের শেষ পর্যন্ত অবৈধ বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী অভিযানে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

    ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সরাসরি সম্প্রচারিত আসরকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সহযোগিতা করেছে। সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

    কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘লস সিবেরইনফিলত্রাদোস’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়ায় জাল ক্রীড়া পোশাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তল্লাশি ও জব্দ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিওজে জানিয়েছে, নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ স্ট্রিমিং ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

  • জাতিসংঘের প্রতিবেদন

    জাতিসংঘের প্রতিবেদন

    বিশ্বে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই

    বিশ্বের প্রতি তিনজনের একজন স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্যের দাম মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার কেনার সামর্থ্য নেই বিশ্বের ২৬৯ কোটি মানুষের। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার যে বৈশ্বিক লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে ‘প্রচুর’ কাজ করতে হবে।

    ২০২৫ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল, তা-ও থামার ইঙ্গিত মিলেছে।

    প্রতিবেদনের অন্যতম প্রণেতা ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে অক্ষম মানুষের হার এখনো ‘অত্যন্ত বেশি’।

    ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর খাবারের খরচের একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম ৪ দশমিক ২৮ পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) বা ক্রয়ক্ষমতার সমতা ডলার। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ২৮ ডলারে যে পরিমাণ জিনিস কেনা যায়, যেকোনো দেশে সেই পরিমাণ অর্থের সমমূল্যই হলো একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম।

    ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, ‘চরম দারিদ্র্যসীমা হলো জনপ্রতি দৈনিক ৩ পিপিপি ডলার। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবারের এই খরচ দারিদ্র্যসীমার চেয়ে অনেক বেশি।’ তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো সাধারণত মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, ফল ও শাকসবজির চেয়ে দানাশস্য এবং শ্বেতসারজাতীয় মূল খাবারগুলোতে বেশি ভর্তুকি দেয়।

    এর অর্থ হলো, মানুষ কেবল ক্যালরি পাচ্ছে, কিন্তু খাবারে কোনো বৈচিত্র্য থাকছে না। স্থূলতার পাশাপাশি ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের বিস্তারে এর প্রভাব রয়েছে বলে টোরেরো উল্লেখ করেন।

    এই প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত জাতিসংঘের আরেক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যানেও এমন চিত্র দেখা যায়। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১২ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা খুব দ্রুত বাড়ছে। স্থূলতা বৃদ্ধির কারণে যে ঝুঁকি ও অদৃশ্য খরচ বাড়বে, তা কমানোর জন্য আমাদের এখন নিবিড়ভাবে কাজ করা প্রয়োজন।’

    টোরেরো অবকাঠামো, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করা গেলে মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ফল ও শাকসবজির দাম কমিয়ে আনা সম্ভব।

    ম্যাক্সিমো টোরেরোর মতে, ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা হলে তা বেশ কাজে দিতে পারে। এতে পুষ্টিহীনতার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

    ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকার ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখে না। এ হার এশিয়া অথবা লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    প্রথমবারের মতো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত মানুষের আবাসস্থল এখন আফ্রিকা। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মহাদেশটিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ। আর এশিয়ায় এই সংখ্যা ২৯ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্য দিয়ে এশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে আফ্রিকা।

    ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, আফ্রিকায় উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই মূলত ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা এতটা বেড়েছে। তবে ‘বহু বছরের মধ্যে এবারই প্রথম’ আনুপাতিক হারে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

    এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যানে আমরা এমন একটি সময়ে ক্ষুধার্ত মানুষের হার কমতে দেখেছি, যখন এ অঞ্চলে বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।’

    এই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যে বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব আগামী বছরের পরিসংখ্যানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ফাও, ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

  • বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ দফা প্রস্তাব আইসিটি মন্ত্রীর

    বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ দফা প্রস্তাব আইসিটি মন্ত্রীর

    চীনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহুপাক্ষিক সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে ৩ দফা দূরদর্শী প্রস্তাব পেশ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

    বুধবার (২২ জুলাই) চীনের প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহর শি’আনের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘Pooling Intelligence on the Silk Road, Embarking on a Digital Future: Jointly Building a Community with a Shared Future in Cyberspace’ থিম নিয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স -২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আজকের এই মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ’।

    তিনি জানান, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে ।

    বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মোবাইল কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পোর্টাল ও ‘ডি-নথি’র মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজকর্ম সম্পন্ন হচ্ছে। ভূমি রেকর্ড থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজড করায় প্রতিবছর নাগরিকদের কোটি কোটি কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে।

    ফকির মাহবুব আনাম জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ভৌত অবকাঠামোর বিষয় নয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেধারও বিষয়। বাংলাদেশে এআই গবেষণা, ফিনটেক উদ্ভাবন এবং সুবিশাল ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গঠনে ব্যাপক বিনিয়োেগর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস এবং সুনির্দিষ্ট কৃষিকাজের জন্য ড্রোন ব্যবহারের মতো স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জন্য ‘ডিজিটাল সিল্ক রোড’ একটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাই-স্পিড সাবমেরিন ক্যাবল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আসিয়ান অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সংযুক্ত হচ্ছে।

    সম্মেলনে যৌথ অগ্রগতির লক্ষ্যে মন্ত্রী ৩টি মূল স্তম্ভ বা প্রস্তাবনা পেশ করেন:

    ১) দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান হস্তান্তর: কেবল হার্ডওয়্যারে নয়, বাংলাদেশের তরুণ মেধার বিকাশে বিনিয়োগের আহ্বান। সাইবার বিজ্ঞানী তৈরিতে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন।

    ২) সাশ্রয়ী কানেক্টিভিটি: প্রযুক্তি হস্তান্তর সাশ্রয়ী করা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি নেতাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল বিভাজন রোধ করা।

    ৩) ডিজিটাল পাবলিক গুডস: ডিজিটাল উন্নয়নকে জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আইপি ও ডাটা আর্কিটেকচার বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা।

    সাইবার স্পেসের হুমকি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য ও ডেটা উপনিবেশবাদের মতো ঝুঁকি মোকাবেলায় সাইবার শাসনব্যবস্থাকে বহুমুখী, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

    বক্তব্যের শেষে প্রাচীন সিল্ক রোডের ‘আস্থা ও বিশ্বাসের’ নীতি স্মরণ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সুপারহাইওয়েকেও আমাদের সেই একই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ সংযোগ, তরুণ শক্তি ও উদ্ভাবনী চেতনা নিয়ে এই যাত্রায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত’।

    ২১-২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৮০০ জন অতিথি এবং প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    এছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি, পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ চীনের এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ফোরামে অংশ নেন

  • চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে চালু হয়েছে ‘হ্যালো ডিসি’ মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা, অভিযোগ, আবেদন ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে এ অ্যাপটি hellodc.bd থেকে ডাউনলোড করা যাবে। গুগল প্লে-স্টোরে রিভিউ শেষে অ্যাপটি প্লে-স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর থেকেও ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ঢাকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নেওয়া যাবে। এছাড়া ০১৯৬১৬০৬০৬০ নাম্বারটিতে সরাসরি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কল করা যাবে।

    জেলা প্রশাসন জানায়, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, লাইসেন্স, জন অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন, অভিযোগ ও পরামর্শ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অ্যাপ থেকেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    জানা গেছে, এখন থেকে এ অ্যাপের মাধ্যমেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, এনজিও এবং লাইসেন্সিং সেবা, মিউটেশন, অর্পিত সম্পত্তি, সহায়তাসহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা এক অ্যাপেই মিলবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমবে। জেলা প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।

    এ সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ সেই প্রচেষ্টারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি ধাপে ধাপে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন সেবা সংযুক্ত করে এটিকে জেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে।

    এসব তথ্য জানিয়ে আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এডিবির ঢাকা কার্যালয়।

    কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের নাম ব্যবহার করে প্রায় একই ধরনের ঋণ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। তখন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করেছিল।

    ব্যক্তিকে ঋণ ও অনুদান দেয় না এডিবি

    আজ পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি বলেছে, এডিবি কখনো কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।

    এডিবি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো ধরনের সাড়া না দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। এ ছাড়া এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবি বলেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • জুলাই সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, এটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: রিজভী

    জুলাই সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, এটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: রিজভী

    জুলাই জাতীয় সনদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল এবং বিরোধী দলগুলো আলোচনা করতে পারে। সেখানে যদি আরও কিছু কথা বলার বা সংযোজন করার থাকে, তবে তা করতে অসুবিধা কোথায়? সেগুলো আলোচনা করে যেসব বিষয় আইনিকরণ করা দরকার, তা পার্লামেন্টে করে এবং যেগুলো সংবিধান সংশোধন করা দরকার, তা সম্পন্ন করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    সোমবার উত্তরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি’ এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে একটি টেবিলে বসতে হবে, কথা বলে ঠিক করতে হবে এবং আইনিকরণ সম্পন্ন করতে হবে। এই কাজগুলো দ্রুতই করা দরকার। কারণ নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে; বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং দেশের বাইরে থেকে মদদ পেয়ে তারা নানাভাবে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ভয়ঙ্কর দানবের কাছ থেকে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। এখন কমপক্ষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ সরকারের জোরালো সমালোচনা করলে তাকে গুম হতে হবে কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যার (এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং) শিকার হতে হবে—সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। কথা বলা ও সমালোচনা করা একটি ডেমোক্রেটিক সোসাইটি বা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, যা আগে ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে।

    জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও তীক্ষ্ণ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য আমাদের যেসব কাজ বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তবে আমি আবারও বলি—রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কমপক্ষে কতগুলো ন্যূনতম প্রধান ইস্যুতে একটি মিনিমাম আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ন্যূনতম সমঝোতা) থাকতে হবে। সেই আন্ডারস্ট্যান্ডিং না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে; আর এই বিপন্ন হওয়ার পথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে।

    শহীদ মীর মুগ্ধের ‘পানি লাগবে, পানি?’—জুলাইয়ের সেই স্মৃতি স্মরণ করে রিজভী বলেন, সেই মুগ্ধ এখানে শহীদ হয়েছে, আমরা তাকে এবং তাদের এই আত্মত্যাগকে ভুলে যেতে পারি না।

    স্বৈরাচার (আওয়ামী লীগ) সরকার নির্বাচন কমিশনসহ সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) যা বলতেন, মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হতো; সব মিডিয়া ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। ফ্যাসিস্টরা প্রত্যেকটি দেশেই এমনটা করে, আমাদের এখানেও তাই হয়েছে। বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না; সরকারের দপ্তর থেকে যে রায় লিখে দেওয়া হতো, আদালত সেটাই পাঠ করে শোনাত। নির্বাচন কমিশন একের পর এক তামাশার নির্বাচন করতে করতে নিজেই একটি তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছিল।

    প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। বেগম খালেদা জিয়াকে একটি জরাজীর্ণ কারাগারের মধ্যে রেখে দিয়েছিল, যেন অসুস্থতা ও জরা-ব্যাধিতে তাকে পর্যুদস্ত ও বিপন্ন করা যায়। হিটলারও ঠিক একই কাজ করেছিলেন। যেসব দেশে ওয়ান-পার্টি সিস্টেম বা একদলীয় ব্যবস্থা থাকে, সেখানে ঠিক এই একই কায়দা ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়; এখানেও তাই করা হয়েছিল।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), অ্যাব নেতা আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

  • ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের কার্যক্রম কতটুকু এগোচ্ছে তা জানতে বৈঠকে করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সরকার গঠনের পর তারেক রহমান তার নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন।

    বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আলটিমেটাম

    খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আলটিমেটাম

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণের উচ্চঝুঁকিতে থাকা ২৯ ব্যাংকের জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আর যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেগুলোকে ১০ শতাংশের নিচে নামানোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (এএমসি) কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    গত ১২ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে ২৯ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কারণ, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ, পুনঃতফসিল করা ঋণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে ।

    গভর্নর আরো নির্দেশনা দিয়েছেন, ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে টক্সিক (খারাপ) অ্যাসেট রেখে অনাদায়ী সুদকে আয় হিসাবে দেখিয়ে কোনো লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না। বারবার পুনঃতফসিল করা ঋণ এক্সিট সুবিধা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) অথবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করতে হবে। দীর্ঘদিন বিরূপ মানে থাকা শ্রেণিকৃত ঋণ অবলোপনের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান সার্কুলারের আওতায় থেকেই খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এজন্য কোনো ওয়ান-টু-ওয়ান সার্কুলার দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে মূলধন বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকের

    যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গভর্নর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

    জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবর রহমান বলেন, গভর্নর খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও নমনীয়তা (ফ্লেক্সিবিলিটি) দিয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনাদায়ী ঋণ দ্রুত আদায় এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিচ্ছন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, শুধু বড় ঋণ নয়; কৃষি, পল্লী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছেও পৌঁছাতে হবে। তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ঋণ পরিশোধে উৎসাহিত করতে হবে। এ বিষয়ে গভর্নর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদকেও এ উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে এমডিরা আন্তরিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ সহযোগিতা করে না। তাই বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য গভর্নরের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    যে ২৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি

    গত মার্চ শেষে দেশের ২৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭৩.৯৪ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৯৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৮৪ দশমিক ৪৮শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ৪৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ, সোনালী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৮৫শতাংশ এবং পদ্মা ব্যাংকের ৯০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

    এছাড়া এসবিএসি ব্যাংকের ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ, বেসিক ব্যাংকের ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের ৩৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংকের ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ

    , এবি ব্যাংকের ৫৪ শতাংশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৬৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণ কমানো এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এ কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মোট খেলাপি ঋণ

    ব্যাংকিং খাতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের হার। গত বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

    দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ

    চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। তুলনামূলকভাবে ভারতের খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ভুটানে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

    কেন বাংলাদেশ শীর্ষে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছিল, যা এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণের নিয়ম কঠোর হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে। নবায়ন করা অনেক ঋণ আদায় হচ্ছে না। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বহু ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে এবং সামনের দিনগুলোয় এটি আরো বাড়তে পারে।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার গঠনের সময় দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছেন, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে।

    জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও বহুল সমালোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ঋণচিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ। একই ভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে। এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সরকারি খাতের অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের আইএফআইসি, ইউসিবি, এনআরবিসি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে

  • ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ মাঠে বসে দেখতে মরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম টিকিট সংকট। পুনর্বিক্রির বাজারে একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেও কমেনি টিকিটের চাহিদা। টিওয়াসি স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, স্টাবহাব ও টিকিটমাস্টারের মতো পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই শুরু হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণ টিকিটের সুযোগ এরই মধ্যে প্রায় শেষ। এখন অবশিষ্ট আছে কেবল হসপিটালিটি বা ভিআইপি ক্যাটাগরির টিকিট, যার দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে-বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ। টিকিট সংকটের এই চিত্র শুধু স্টেডিয়াম চত্বরেই সীমাবদ্ধ নেই, দেখা গেছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও।

    সেখানে অনেক সমর্থককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ‘টিকিট চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে। এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য যেকোনো অঙ্কের অর্থ খরচ করতেও প্রস্তুত তারা। আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন শেষ মুহূর্তে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার আশায়। ফাইনালকে ঘিরে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ও স্পেন-দুই দলেরই সমর্থকরা। তবে সংখ্যায় স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।

    লিওনেল মেসিদের সমর্থনে মুহূর্তেই যেন বুয়েনস আয়ার্সে রূপ নেয় নিউইয়র্কের এই বিখ্যাত চত্বর। মজা করে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডেও একে ‘আর্জেন্টাইনস স্কয়ার’ নামে দেখানো হয়। আর্জেন্টাইনদের এই দাপুটে উপস্থিতির মধ্যেও নিজেদের মতো করে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন স্পেনের সমর্থকরাও। বৃষ্টিও বাধা হতে পারেনি দুই দলের সমর্থকদের উদযাপনে।

  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবেশ দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ইটভাটার দূষণ রোধ এবং অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে বলেছেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
    বৈঠকে রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বা অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    একইসঙ্গে রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানীতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

    প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে নানা ধরনের দুর্যোগ আসে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো ভূমিকম্প, কখনো অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনো অতিবৃষ্টি বা খরায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, লাখো পরিবার গৃহহীন হয়, কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অসংখ্য মানুষ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে বটে, কিন্তু প্রকৃতির প্রবল শক্তির সামনে মানুষ আজও অসহায়। এমন বাস্তবতায় ইসলাম দুর্যোগকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখে না; বরং এটি ঈমান, আত্মসমালোচনা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধের আলোকে মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি ইসলাম দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রদান করেছে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই প্রাসঙ্গিক।

    ১. ইসলাম শিক্ষা দেয়—দুর্যোগের সময় একজন মুমিন আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আল-বাকারা : ১৫৫) এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, বিপদ-মসিবত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্যোগে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের প্রথম পরিচয়।২. দুর্যোগের সময় তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিপদ মানুষকে তার অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, সালাত আদায় করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৫) একজন মুমিন জানেন, প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

    ৩. ইসলাম শুধু দোয়ার শিক্ষা দেয় না; বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে বলেছিলেন, ‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি) এই হাদিস আমাদের শেখায়, সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; বরং তারই অংশ। তাই দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে চলা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, উদ্ধার-প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা ইসলামি দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৪. দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ : ২) বন্যার্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া—এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে মহৎ ইবাদত।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯) আবার তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (মুসলিম) এসব হাদিস প্রমাণ করে, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    ৫. ইসলাম গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। দুর্যোগের সময় যাচাইহীন তথ্য, অতিরঞ্জিত সংবাদ বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রচারণা মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ৬) বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই নির্দেশনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

    ৬. ইসলাম দুর্যোগকে কেন্দ্র করে অন্যায় লাভের সব পথ বন্ধ করতে চায়। ত্রাণ আত্মসাৎ, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। একজন মুসলমান সংকটকে ব্যবসার সুযোগ নয়, বরং সেবার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

    ৭. দুর্যোগের সময় ইখলাস বা একনিষ্ঠতার গুরুত্ব অপরিসীম। দান-সদকা কিংবা মানবসেবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৬৪) তাই সাহায্য এমনভাবে করতে হবে, যাতে বিপদগ্রস্ত মানুষের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

    ৮. ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেয়। শুধু ত্রাণ বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা ফিরিয়ে আনা, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও ইসলামি দায়িত্বের অংশ। মানবকল্যাণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

    সবশেষে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে ‘এটি আল্লাহর গজব’ বলে ঘোষণা দেওয়া আমাদের কাজ নয়, যদি সে বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহতে স্পষ্ট দলিল না থাকে। একজন মুমিনের কাজ হলো বিপদ থেকে শিক্ষা নেওয়া, নিজের আমল পর্যালোচনা করা, তাওবা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    আজ আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ইসলামের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—দুর্যোগ শুধু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্র—সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা; সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন আটক

    রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা; সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন আটক

    সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনায় সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়।

    বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টায় সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

    তিনি জানান, তাকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে আটক করা হয়।

    ৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।

    মো. মোজাফফর হোসেন সে সময় ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

  • বিল গেটসের ফাউন্ডেশনে অনুদান দেবেন না বাফেট, এপস্টিন-কাণ্ডের জের

    বিল গেটসের ফাউন্ডেশনে অনুদান দেবেন না বাফেট, এপস্টিন-কাণ্ডের জের

    বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বিল গেটসের দাতব্য সংস্থায় আর অনুদান দেবেন না। সম্প্রতি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর জেরে বাফেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ২০০৬ সালে বাফেট অঙ্গীকার করেছিলেন, জীবদ্দশায় প্রতিবছর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার তৎকালীন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে দান করবেন। তবে মঙ্গলবার তিনি যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক শ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার দানের ঘোষণা দেন, সেখানে গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নেই।

    এর পরিবর্তে ওই শেয়ার বাফেট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ফাউন্ডেশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ৯৫ বছর বয়সী বাফেট জানিয়েছেন, আগামী ৮ বছরের মধ্যে তাঁর হাতে থাকা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বাকি সব শেয়ারও দান করে দেবেন।

    বাফেট বলেন, ‘মানুষের কবে মৃত্যু হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। যেভাবেই হোক, ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আমার বাকি সব শেয়ার ওই চার ফাউন্ডেশনকে দান করে যাব।’

    গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করলে বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এর ছয় মাস পর বাফেট এ সিদ্ধান্ত নিলেন।

    দানসংক্রান্ত বিবৃতিতে বাফেট বিল গেটস বা জেফরি এপস্টিনের নাম উল্লেখ করেননি। তবে মার্চে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পর বিল গেটসের সঙ্গে আমার আর কথা হয়নি।’

    বাফেট আরও বলেন, ‘আমি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না। ধরুন, আমি অনেক কিছু জানি এবং সে জন্য আমাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হবে।’

    গত ২০ বছরে বাফেট গেটস ফাউন্ডেশনকে মোট ৪৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। এ বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশন বিবিসিকে জানায়, ওয়ারেন বাফেট গত কয়েক দশক ফাউন্ডেশনের কাজে সহায়তা করেছেন, সে জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    ফাউন্ডেশন আরও জানায়, বিল গেটস ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতির দিয়েছেন, তার কল্যাণে ফাউন্ডেশন আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এ বাস্তবতায় ফাউন্ডেশন ২০৪৫ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

    জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে কী সম্পর্ক—সে বিষয়ে জবাব দেওয়া জন্য জুন মাসে বিল গেটসকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে ডাকা হয়। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে নারী পাচারের অভিযোগে বিচার শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন জেফরি এপস্টিন। তখন কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    জবানবন্দিতে গেটস বলেন, ২০১১ সালে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। যাঁরা তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের পরিচয় করিয়ে দেন, তাঁরা ধারণা দিয়েছিলেন, গেটস ফাউন্ডেশন যে স্বাস্থ্য খাতে অনুদান দিয়ে থাকে, এপস্টিন সেই কাজে সহায়তা করতে পারেন। অর্থাৎ তিনি কয়েক শ কোটি ডলারের অনুদান সংগ্রহে সহায়তা করতে পারেন।

    গেটস বলেন, ‘আমি জানতাম, এপস্টিনের বিরুদ্ধে আগে কিছু আইনি অভিযোগ ছিল। কিন্তু তিনি যে এমন ভয়াবহ অপরাধ করেছেন, তা বুঝতে পারিনি।’ ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে যৌনকর্মে প্রলুব্ধ করা এবং ১৮ বছরের কম বয়সী আরেকজনকে যৌনকর্মে যুক্ত করার অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন এপস্টিন।

    গেটস কমিটিকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমার এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা উচিত হয়নি। এখন যা জানি, তাতে বুঝতে পারছি—তিনি প্রতিশ্রুত অনুদানদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিলেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’

    একসময় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের বড় সমর্থক ছিলেন ওয়ারেন বাফেট। ২০০৬ সালে তিনি বলেছিলেন, সংস্থাটির কার্যক্রম প্রকৃত অর্থেই প্রশংসনীয়। সে কারণে বাফেট প্রতিবছর অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    ২০১০ সালে বাফেট, বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস মিলে গিভিং প্লেজ উদ্যোগ চালু করেন। লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অতিধনীদের জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর সম্পদের অধিকাংশ দান করতে উৎসাহিত করা।

    ২০২১ সালে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস। এরপর ২০২৪ সালে মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে দাতব্য কার্যক্রম থেকে সরে আসেননি তিনি। ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রে নারীর অধিকার উন্নয়নে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দেবেন তিনি।

  • বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

    বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

    আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর একটি বড় পরিশোধনাগার পুনরায় চালু হওয়ার খবরে এ দরপতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর অ্যালুমিনা রিফাইনারিটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এ ঘটনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ধাতুটির উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

    লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি অ্যালুমিনিয়ামের বাজার আদর্শ মূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ১৪৩ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ লেনদেনের শুরুর দিকে ধাতুটির দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এ বড় পতনের পরও সপ্তাহের ব্যবধানে অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রিক দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা দরপতনের অবসান ঘটল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে দাম বাড়ার সুযোগে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ধাতু বিক্রি করে দিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। কারণ তারা ধারণা করেছেন, বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের সরবরাহ আগামীতে আরো বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন শুরু হওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার নতুন পরিশোধনাগারগুলো থেকেও উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশের একটি নতুন শোধনাগার গত মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়াম রফতানি শুরু করেছে।

    ইজিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আল তাউইলাহ পরিশোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। অ্যালুমিনিয়াম তৈরির মূল কাঁচামাল হলো এ অ্যালুমিনা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ পরিশোধনাগারের উৎপাদন পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে এ পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বড় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি এখনো বেশ অনিশ্চিত।

    এদিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের নিবন্ধিত গুদামগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মজুদের এ ঘাটতি বিশ্ববাজারে বর্তমানে ধাতুটির তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    অন্য শিল্প ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ১৩ হাজার ৪৯৫ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহ শেষে ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। একই সময় সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে তামার মজুদ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গত ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর বাইরে সিসার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৬ ডলার এবং নিকেলের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৭৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সালফারের ঘাটতির কারণে নিকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে টিনের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৩ হাজার ৪০৫ ডলার এবং দস্তার দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৬১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।