তথ্য-প্রযুক্তি

  • প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন (মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবেলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরো জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন–পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

    এ সময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যেন ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

    জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

    অংশগ্রহণকারীরা এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো খেলতে পারিনি’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজেদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা যা করেছি, তা কোনোভাবেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মানের ছিল না। আমরা প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছি।’

    এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘বল পুনরুদ্ধার করার পরও আমাদের আক্রমণ, পাস এবং প্রথম স্পর্শ; এসব কিছুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উপযুক্ত ছিল না। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো যা দরকার, তা আমাদের মধ্যে ছিল না।’

    স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে মার্ক কুকুরেয়া, আয়মেরিক লাপোর্তে ও উনাই সিমনের দৃঢ় প্রতিরোধে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন ফ্রান্সের এই তারকা।

  • যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা

    যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা

    কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ ফি ধার্য করার মার্কিন পরিকল্পনাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা।

    ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করা একটি পরাশক্তি নিজেই এখন জলদস্যুর ভূমিকা নিতে পারে না।

    সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছেন। একই সাথে এই সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি উন্মুক্ত রাখার খরচ মেটাতে এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র।

    ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সাও পাওলোতে আয়োজিত এক জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাজিলের প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা। লুলা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালী অবমুক্ত করবেন, কিন্তু এর বিনিময়ে সেখান দিয়ে পার হওয়া প্রতিটি জাহাজের তেলের মালিককে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। অতীতে এই ধরনের কাজকে জলদস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বড় দেশের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    চলমান এই সংঘাতের কারণে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চাল, ডাল, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দেন লুলা।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি অবরোধ করে। পরবর্তীতে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তবে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় ট্রাম্প আবারও অবরোধ ও কঠোর মাশুল আরোপের হুংকার দিচ্ছেন।

    আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়তে যাওয়া ৮০ বছর বয়সি লুলা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানির ওপর বিশেষ কর মওকুফসহ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  • চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

    চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

    গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী কয়েক দশকে প্রয়োজন হবে বিপুল অংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যকে এ লক্ষ্য পূরণে অতিরিক্ত ২৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা, সফটওয়্যার অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকল্প গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির প্রয়োজন হবে প্রায় ১৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ইউরোজোনের প্রয়োজন হবে ৯ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

    ইওয়াই-পার্থেননের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে তিন অঞ্চলের গড়ে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৯৪০ বিলিয়ন বা ৯৪ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এটি জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে চলমান বিনিয়োগের অতিরিক্ত।

    শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনা হিসেবে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশটির বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ জোটটির বর্তমান বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণের সমান।

    ইওয়াই-পার্থেননের কর্মকর্তা ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ম্যাটস পারসনের মতে, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানীয়করণ করা সহজ হবে না। কারণ এতে করদাতা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    তার ভাষ্য, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেয়ে আংশিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোই বাস্তবসম্মত পথ। শুরুতে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়বে।

    বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ উন্নত উৎপাদন, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহে এখনো চীনের আধিপত্য রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের পরিশোধিত লিথিয়াম ও কোবাল্টের ৬০ শতাংশের বেশি এবং ব্যাটারি-গ্রেড গ্রাফাইট ও বিরল খনিজের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করবে চীন। ফলে এসব কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

    নির্ভরতার এ বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয় গত বছর। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির জবাবে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গাড়ি শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সমঝোতা হলেও বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরল খনিজ মজুদের পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে।

    ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, ‘বড় অংকের বিনিয়োগ করলেও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে দ্রুত চীন থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। কারণ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানের নিয়ন্ত্রণ এখনো চীনের হাতে রয়েছে।’

    ইওয়াই-পার্থেননের হিসাব বলছে, চীনে উৎপাদিত অনেক পণ্যের কারখানা পর্যায়ের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় ২০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত কম। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা মূল্যেও পড়বে। বিশেষ করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে পণ্যের দাম ১ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    এতে মূল্যস্ফীতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন শিল্পনীতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। তবে চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু সময়ই নয়, বিপুল অর্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও প্রয়োজন হবে।

  • সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশসহ তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের আরেকটি দাবি হলো, আগামী দিনের নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করারও দাবি জানান তারা।এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে তারা বৈঠক করছেন।

    বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ সময় শিক্ষার্থী আন্দোলন ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সারা দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত।

  • ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • বিদেশী গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে শক্ত হচ্ছে জাপান

    বিদেশী গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে শক্ত হচ্ছে জাপান

    বিদেশী গোয়েন্দা তৎপরতা মোকাবিলায় আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সোমবার স্বীকার করেছে জাপান। এর একদিন আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আখড়া’ ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত করেছে রাশিয়া। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    রোববার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুর্বল গুপ্তচরবৃত্তি-বিরোধী আইনের’ সুযোগ নিয়ে জাপানকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ইউক্রেন যুদ্ধে প্রয়োজনীয় দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে মস্কো।

    জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সোমবার বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশে আমরা উপলব্ধি করছি, জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের মতো বিদেশী গোয়েন্দা তৎপরতা আরো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের ওই সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের আরো কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

    ইউক্রেন সরকারের হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ব্যবহৃত ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি যন্ত্রাংশ রয়েছে। এতে আরো বলা হয়, জাপানে রাশিয়ার এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাকসিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ। তিনি টোকিওতে রাশিয়ার বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লটের কার্যালয়ে আড়ালের পরিচয়ে কাজ করছেন।

    রাশিয়ায় সরাসরি রফতানিতে বিধিনিষেধ থাকায়, বিভিন্ন সংগ্রহ নেটওয়ার্ক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশ ব্যবহার করে এসব যন্ত্রাংশ রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    কিহারা আরো জানান, চলতি বছর জাপানের পার্লামেন্ট একটি আইন অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির বিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নতুন একটি জাতীয় সংস্থা গঠনের পথ সুগম হয়েছে।

  • আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ

    আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ

    মতামত:

    শিক্ষাক্রম বা কারিকুলাম হলো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিতভাবে সাজানো পাঠ্যবিষয়, শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার অভিজ্ঞতার সমষ্টি। সহজভাবে বলতে গেলে, শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কীভাবে শিখবে এবং কীভাবে তাদের শেখা মূল্যায়ন করা হবে—এসবের পূর্ণ পরিকল্পনাই শিক্ষাক্রম।

    পৃথিবীর সব দেশেই সমাজ-সভ্যতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাক্রমকেও যুগোপযোগী করতে হয়। কারণ সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রকে সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, বহির্বিশ্বের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষ, সুনাগরিক এবং সমাজ-স্বীকৃত প্রচলিত মূল্যবোধের সঙ্গে আত্মস্থ করে নিতে সমাজ, রাষ্ট্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হয়। তা না হলে দেশ-বিদেশে আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

    আমাদের দেশে গতানুগতিক শিক্ষাক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনায় তেমন আগ্রহ সৃষ্টি হয় না। দেশের গতানুগতিক শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ, বইয়ের চাপের ফলে বিদ্যালয় উপস্থিত হওয়ার ভীতি, অনীহা তাদের মধ্যে কাজ করে। তাছাড়া, প্রচলিত শিখন-শেখানোর কৌশলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমির ছাপ স্পষ্টত লক্ষ করা যায়। বর্তমান সরকার এ সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময়ের আলোচিত কনসেপ্ট হলো, আনন্দময় শিক্ষণ বা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কী এবং কীভাবে কাজ করে। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বলতে, এমন একটি শিক্ষণ-পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে আনন্দ, আগ্রহ, ইতিবাচক অনুভূতি এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখানো ও শেখা হয়। এর মূল ধারণা হলো—শিক্ষার্থীরা যদি আনন্দের সঙ্গে শেখে, তাহলে তারা বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে, মনে রাখতে এবং প্রয়োগ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, গল্প, গান ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো, ভয় বা চাপমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ, সক্রিয় অংশগ্রহণ, কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন ঘটে।

    আনন্দময় শিক্ষণ মানবজীবন ও সমাজে গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে এটি কতটা পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে; শিক্ষার মান বজায় থাকছে কি না এবং শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও অর্জন করছে কি না।

    ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। কারণ তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কম হোমওয়ার্ক ও কম পরীক্ষা। তাদের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো। শিক্ষকরা উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণে স্বাধীনতা পান। শ্রেণিকক্ষে মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষার্থীর কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বেশি থাকে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফল করেছে। বিদ্যালয় ত্যাগের হার তুলনামূলকভাবে কম। সিঙ্গাপুরে ‘Teach Less, Learn More’ নীতির মাধ্যমে আনন্দময় ও গভীর শিক্ষার ওপর জোর দেয়। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী । প্রকল্পভিত্তিক ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার। শিক্ষক প্রশিক্ষণে ব্যাপক বিনিয়োগ। ফলে গণিত, বিজ্ঞান ও পাঠ দক্ষতায় ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের মধ্যে অবস্থান। উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি। কানাডার বহু প্রদেশে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন : দলগত শিক্ষা। প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন। সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতার বিকাশ। ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সহযোগিতামূলক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। জাপানে আনন্দময় শিক্ষার সঙ্গে শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় করা হয়েছে। তাদের শিশু শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্জিত সুন্দর আচার-আচরণ শিক্ষা দেওয়া। তাদের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করে। দলগত কাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা করে। নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। এর ফলে দায়িত্ববোধ, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে। নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়, এ দেশের শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে। শেখাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

    জন ডুয়ি বলেছেন, ‘Education is not preparation for life; education is life itself.’

    মারিয়া মন্টেসোরি বলেছেন, ‘শিশু স্বাভাবিকভাবেই শেখার প্রতি আগ্রহী। আনন্দময়, স্বাধীন ও অনুসন্ধানভিত্তিক পরিবেশে শিশু সবচেয়ে ভালো শেখে।’

    মনোবিজ্ঞানী লেভ ভাইগোটস্কির মতে, সামাজিক যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং দলগত কার্যক্রম শিক্ষাকে আনন্দদায়ক ও অর্থবহ করে তোলে। শিক্ষক ও সহপাঠীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ শেখার সুযোগ পায়।

    জেরোমি ব্রানার আবিষ্কারভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা নিজেরা আবিষ্কার করে শিখলে শেখা আনন্দদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    হাওয়ার্ড গার্ডনারের মতে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ভিন্ন। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্যময় প্রতিভা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    খেলাধুলা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আনন্দময় কর্মকাণ্ড শিশুর বুদ্ধি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনন্দের পরিবেশে শিক্ষার্থীরা শেখার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহী হয়। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে অর্থবহ ও স্থায়ী শেখা সম্ভব হয়। ভয়, অতিরিক্ত চাপ ও পরীক্ষাভীতি কমে। আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে। প্রশ্ন করা, নতুন ধারণা তৈরি করা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে। ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত হয়। আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। অন্যের মতামতকে সম্মান করার অভ্যাস তৈরি হয়। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বাস্তব জীবনে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হয়। সৃজনশীল ও দক্ষ জনশক্তি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। যুক্তিবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা বৃদ্ধি পায়। তবে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    অনেক শিক্ষক এখনো প্রচলিত বক্তৃতানির্ভর পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। অনেক সরকারি বিদ্যালয়ে এক শ্রেণিতে ৫০-৮০ বা তারও বেশি শিক্ষার্থী থাকে। এত বড় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা কঠিন। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।

    শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য পরীক্ষায় ভালো ফল। ফলে আনন্দময় ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় গুরুত্ব হারায়

    অভিভাবক প্রায়ই মনে করেন, কঠোর পড়াশোনা ও বেশি পরীক্ষা মানেই ভালো শিক্ষা। যদি মূল্যায়ন প্রধানত লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সহযোগিতার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হয় না। শহরের তুলনায় অনেক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, প্রযুক্তি ও শিক্ষা-উপকরণের ঘাটতি বেশি।

    শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রমে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

    শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে উপযুক্ত কারিকুলাম প্রণয়নের পাশাপাশি এসব সংকট দূর করতে হবে। আমাদের উচিত ফিনল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভালো করে পর্যালোচনা করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

  • স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    জুলাইয়ের এক মেঘলা সকাল। চরম বৈরী স্কটল্যান্ডের উপকূলের আবহাওয়া। চারদিকে সিসা রঙের আকাশ, উত্তাল সমুদ্র আর আনুভূমিকভাবে পড়তে থাকা বৃষ্টি। ঝড়ের মধ্যেই নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর উপদেষ্টার খোঁজে জেটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে মনে ভাবছিলেন, তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’-র ছয় মাসের শুটিং শিডিউলের প্রথম দিনটি হয়তো আজ বাতিল করতে হবে।

    কিন্তু ১১৫ ফুট দীর্ঘ যে জাহাজটিতে তাঁরা শুটিং করছিলেন, সেটি ঠিক এই ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। উপদেষ্টা নোলানকে আশ্বস্ত করলেন, অভিজ্ঞতা কিছুটা ভয়ানক হলেও কাজ করা পুরোপুরি নিরাপদ হবে। এক ঘণ্টার মধ্যে পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা উত্তাল ঢেউয়ের বুকে ভেসে পড়লেন। ঢেউয়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বেশ কয়েকজন সহ-অভিনেতা জাহাজের রেলিং ধরে বমি করতে শুরু করেন।

    ঝড়ের গর্জনকে ছাপিয়ে নোলান চিৎকার করে তাঁর চিত্রগ্রাহক হোয়াইটে ভ্যান হোয়াইটেমাকে ডেকে বললেন, ‘কিছু মনে না করলে বমি করার এই দৃশ্যগুলো কি আমরা ক্যামেরায় ধারণ করতে পারি?’ দীর্ঘ এক বছর পর, লন্ডনের করিন্থিয়া হোটেলের শান্ত পরিবেশে বসে ৫৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-আমেরিকান পরিচালক সেই দিনের স্মৃতিচারণ করছিলেন।

    নোলান হাসিমুখে বলেন, ‘অভিনেতাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে রাজি হয়ে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। দিনটি একই সঙ্গে যেমন কষ্টের ছিল, তেমনি দারুণ কিছু শট এনে দিয়েছিল। সেগুলোই পরবর্তীতে এই সিনেমায় আমার অন্যতম প্রিয় দৃশ্য হয়ে ওঠে।’

    হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নোলানের এই নতুন সিনেমাটিকে (দ্য ওডিসি) ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সিনেমার প্রিমিয়ারের ঠিক আগের রাতে ফুটবল ম্যাচ দেখার কারণে ভোর ৪টা পর্যন্ত জেগে থাকা নোলান চা পান করছিলেন আর তাঁর সিনেমা নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন।

    ১৯৭০ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া এবং যুক্তরাজ্য ও শিকাগোয় বেড়ে ওঠা নোলান ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর প্রথম স্বল্প বাজেটের ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ক্রাইম থ্রিলার ‘ফলোয়িং’ দিয়ে বাজিমাত করেন। এরপর ভাই জোনাথনের ছোটগল্প অবলম্বনে তৈরি করেন ‘মেমেন্টো’। মাত্র ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সেই সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি সিনেমাটি তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর একে একে ইনসোমনিয়া, ব্যাটম্যান ট্রিলজি, ইনসেপশন, ইন্টারস্টেলার এবং ২০২৩ সালে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করা ও সাতটি অস্কার জেতা ওপেনহাইমার-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেন তিনি।

    হলিউডের স্টুডিও ও নির্মাতারা তাঁর ওপর চোখ বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে, কারণ দর্শনের জটিল মনস্তত্ত্ব বা সময়কে উল্টো করে দেখানোর মতো দুরূহ বিষয়কেও নোলান অবলীলায় বক্স অফিস হিটে রূপান্তর করতে পারেন। নোলান জানান, অনেকে ভাবছেন ‘দ্য ওডিসি’ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১২ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ এখনো তাঁর সবচেয়ে বেশি বাজেটের ছবি।

    এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই ইন্টারনেটে তীব্র সংস্কৃতি যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। গত মে মাসে যখন জানা যায়, জিউসের পৌরাণিক কন্যা ‘হেলেন অব ট্রয়’ চরিত্রে অভিনয় করবেন কেনিয়ান-মেক্সিকান কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংও, তখন ইলন মাস্কসহ একদল ইউটিউবার নোলানকে হলিউডের ‘ওক এজেন্ডা’-র কাছে আত্মসমর্পণ করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া ট্রিলজির অন্য একটি চরিত্রে ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতা এলিয়ট পেজের কাস্টিং নিয়েও অনেকে আপত্তি তোলেন, যার ফলে ইউটিউবে সিনেমার ট্রেইলারে প্রায় ৬ লাখ ডিসলাইক পড়ে।

    এই বিষয়ে জানতে চাইলে নোলান শান্তভাবে চায়ে চুমুক দিয়ে হেসে বলেন, ‘এগুলো আসলে এই পেশারই অংশ। মানুষ সিনেমাটি দেখার আগেই যেসব বিতর্ক করে তা পুরোপুরি অর্থহীন। কারণ তারা জানেই না পর্দায় আসলে কী আসতে চলেছে। আমি ব্যাটম্যান নির্মাণের সময় ১০ বছর এই ধরনের ভক্তদের উন্মাদনা সামলেছি। হিথ লেজারকে যখন জোকার চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল, তখনো অনেকে আকাশ থেকে পড়েছিলেন। আমার কাজ হলো মূল টেক্সটের প্রতি সৎ থেকে নিজের সেরা কাজটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা।’

    বর্তমান যুগের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মধ্যেও নোলান প্রথাগত প্র্যাক্টিক্যাল ইফেক্টস এবং অ্যানিমেট্রনিক্সের ওপর ভরসা করেন। সিনেমার দৃশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যত্রতত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তিনি তাঁর নিজের চার সন্তানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম এআইয়ের তৈরি কৃত্রিম জিনিসগুলো খুব দ্রুত ধরে ফেলে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। চলচ্চিত্রে এখন আবার বাস্তব ও স্পর্শকাতর গল্প বলার ধারা ফিরে আসছে।’

    নোলানের নিজের প্রযুক্তিবিমুখতাও চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ কিংবদন্তিতুল্য। তিনি আজ পর্যন্ত কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। এ বিষয়ে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই এখন পড পিপল বা ফোনের দাস হয়ে গেছেন। আমি যদি একটা স্মার্টফোন কিনতাম, তবে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম এবং সারাক্ষণ ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতাম। আমি আমার সিনেমার নতুন নতুন আইডিয়াগুলো মূলত সেই সময়গুলোতেই মাথায় আনি যখন সাধারণ মানুষ পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে ডুবে যায়—যেমন ট্রেনে বা এয়ারপোর্টে অপেক্ষার সময় কিংবা রেস্তোরাঁয় কারও জন্য বসে থাকার মুহূর্তগুলোতেই আমি আমার পরবর্তী কাজের রূপরেখা তৈরি করি।’

    স্মার্টফোন না থাকার কারণে তিনি ইন্টারনেটের কোনো গুজবে কান দেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল থেকেও দূরে থাকেন। কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর মতো ‘১০টি সিনেমা বানিয়ে অবসরে যাওয়া’-র নিয়মে তিনি বিশ্বাসী নন। নোলান মনে করেন, প্রতিটি সিনেমাই এমনভাবে বানানো উচিত যেন এটিই তাঁর জীবনের শেষ কাজ। সিনেমা হলের ভেতরে ফোন ব্যবহারেরও বিরোধী নোলান। আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার থেকে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে তাঁর নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দর্শকদের।

  • প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে

    প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রকাশ পেয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল। বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। রোববার দুপুর ১২টায় ফল প্রকাশ করা হয়।

    শিক্ষার্থীরা অনলাইন, এসএমএস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারছে।

    যেভাবে জানা যাচ্ছে ফল: যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে মোবাইলের মেসেজ অপশনে DPE লিখে একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে DPE 123456 এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া বিস্তারিত ফলাফল ও মার্কশিট দেখতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে ‘সাবমিট’ বা ‘ফল দেখুন’ বাটনে ক্লিক করলেই ফলাফল দেখা যাবে।

  • ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বন্যা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

    ইতোমধ্যে গত ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও আজকের ১১ জুলাইয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে রুটিন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরীক্ষা স্থগিতের কথা স্বীকার করে আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ও বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দেশের অন্যান্য জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে কি সিদ্ধান্ত আসতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট বোর্ডে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজও আমরা পরীক্ষা চালিয়েছি। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানেও একই ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।

    উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রবল বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় গত বুধবার ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে ১১ জুলাই শনিবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। অপরদিকে এবারই সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা

    সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে আইপি ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালুর বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৩ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত গুগল ফর্মে তাদের প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ও মনিটরিং সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবেশুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সব স্কুল ও কলেজ প্রধানদের এ নির্দেশনা দেয় মাউশি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনা ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি ও বেসরকারি) প্রধানদের আগামী ১৩ জুলাই বিকাল ৪টার মধ্যে গুগল ফর্মে (https://forms.gle/2jEaP9MDfmj8VD7y7) গুগল ফর্মে তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

    এতে আরো ও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি অতীব জরুরি।

  • ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাইস মিলের ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে মিল মালিক মোহাম্মদ আলী সরকারকে (৫০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের পুটখোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের কাঠগড়া গ্রামের আব্দুল বারিক সাকিদারের ছেলে আব্দুল আলিম (৪০)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে স্থানীয় ফুলতলা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন তার রাইস মিলে পাহারা দিতে যান। রাত দেড়টার দিকে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র বা ডাকাত দল মিলের ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে।

    এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনে ফেললে, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

    ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনবে ভারত

    অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনবে ভারত

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত।

    এটি ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী বছরগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মোদি। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সাথে বৈঠকের পর মোদি বলেন, ‘আজ আমরা পারমাণবিক জ্বালানি বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে। একইসাথে আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে নতুন গতি আসবে।’

    দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম রফতানি করা হবে। এতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।’

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম রফতানির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতা থেকে যাওয়ায় এতদিন দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য প্রায় ছিলই না। বৃহস্পতিবারও দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আলবানিজ।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’ অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।

  • এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের মুনাফা বেড়েছে ১৮০০ শতাংশ

    এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের মুনাফা বেড়েছে ১৮০০ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফা প্রায় ১৮০০ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের চেয়ে প্রায় ১৯ গুণ বেশি। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বাভাস দিয়েছে, এপ্রিলের শুরু থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৮৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন । এই অর্থ প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড বা ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সমান। এটি টানা তৃতীয় প্রান্তিক, যেখানে স্যামসাং রেকর্ড পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বড় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের ধারণা দিতে বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সাধারণত আয়-সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রকাশ করে থাকে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত এই পূর্বাভাসটি চলতি মাসের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ফল প্রকাশের আগে দেয়া হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা এখনও সরবরাহের চেয়ে বেশি থাকায় চিপের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্যামসাংয়ের আয়-সংক্রান্ত এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭১ ট্রিলিয়ন ওন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ-এর বিশ্লেষক মার্ক আইনস্টাইন বলেন, এটি স্যামসাংয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল। তার মতে, এ বছরের শুরুতে এনভিডিয়া যে রেকর্ড গড়েছিল, স্যামসাংয়ের ফলাফল তার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
    তিনি বলেন, এর পুরো কৃতিত্বই এআই-নির্ভর বাজারের উত্থানকে দিতে হবে। সীমিত সরবরাহ এবং নজিরবিহীন চাহিদার কারণে মেমোরি চিপ নির্মাতারা বিশাল সুবিধা পাচ্ছে। সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকায় স্যামসাং তাদের মেমোরি চিপের দামও বাড়িয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি জানিয়েছে, ডাটা সেন্টার এবং এআই অবকাঠামোর জন্য সেমিকন্ডাক্টরের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা মেমোরি শিল্প আগে কখনও দেখেনি। এর ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারের ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য চিপ সরবরাহও প্রভাবিত হচ্ছে। আইডিসির প্রযুক্তি বিশ্লেষক ব্রায়ান মা বলেন, এআই ডাটা সেন্টারের চাহিদা কমার কোনো লক্ষণ নেই। তাই আগামী বছরজুড়েও চিপের সরবরাহ সংকুচিত থাকবে বলে আমরা মনে করছি।

    স্যামসাং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। তারা এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য চিপ তৈরি করে। পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যও উৎপাদন করে। এআই চিপের ব্যাপক চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও দ্রুত বেড়েছে। তবে মঙ্গলবার সিউল শেয়ারবাজারে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়। কারণ, অনেক বিনিয়োগকারী আরও বেশি মুনাফার প্রত্যাশা করেছিলেন। তবুও চলতি বছরের শুরু থেকে স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্স-এর বাজারমূল্য ২০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারসূচক কসপি চলতি বছরে ৮০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

    গত মে মাসে এনভিডিয়া রেকর্ড পরিমাণ ত্রৈমাসিক বিক্রি ও মুনাফার ঘোষণা দেয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে তাদের আয় ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে সেই সময় এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমে যায়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এআই চিপ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ঘোষণা দেয়, আগামী কয়েক বছরে দেশের চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পে অন্তত ৮৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এদিকে জাপান, চীন ও তাইওয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই চিপের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে নতুন চিপ কারখানায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

  • যুদ্ধবিমান তৈরিতে একজোট হচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক

    যুদ্ধবিমান তৈরিতে একজোট হচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক

    তুরস্কের তৈরি ‘কান’ যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ যৌথভাবে উৎপাদনের জন্য একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। দুই দেশের এই উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সামরিক অংশীদারত্বকে আরো গভীর করবে। একই সঙ্গে তা উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের আওতায় যুদ্ধবিমানটির ‘কান-পিকে’ সংস্করণের জন্য উন্নত অ্যাভিওনিক্স বা বিমান চালনাসংক্রান্ত ইলেকট্রনিকস এবং রাডার-ব্যবস্থা যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এই সহযোগিতার মূল চুক্তিটি ২০২৬ সালের মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উভয় দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে এই যৌথ প্রকল্পগুলোর গতি আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাশিল্প আরো শক্তিশালী ও উন্নত করার ক্ষেত্রে ‘কান’ যুদ্ধবিমান প্রকল্পটি একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যৌথ উৎপাদন পরিকল্পনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হবে। এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমান চালনা ও বিমান তৈরিতে তুরস্কের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে দুই দেশই একে অপরের শক্তি ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

  • আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছেন হালান্ড

    ফুটবল বিশ্বে এর আগে এসেছেন অসংখ্য কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ওয়েইন রুনি, রোনালদো নাজারিও, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলে। কেউ বল নিয়ন্ত্রণে, কেউ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কেউ গতিতে, আবার কেউ শারীরিক সামর্থ্যে ছিলেন অনন্য। তবে প্রত্যেকের খেলাতেই ছিল কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা।

    কিন্তু আর্লিং হালান্ড যেন সেই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—হালান্ড কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কোনো ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারড’ অ্যাথলেট?

    ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বিস্ফোরক গতি, শক্তিশালী শারীরিক গঠন এবং গোল করার প্রায় যান্ত্রিক দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। তবে কেবল জন্মগত প্রতিভা নয়, বরং নিজের শরীর ও জীবনযাপনকে বৈজ্ঞানিকভাবে গড়ে তোলার কারণেই তিনি আজ অন্যদের থেকে আলাদা।

    ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস

    বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ফুটবলারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রোটিন শেক ও নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব থাকে গরুর হৃদপিণ্ড, কলিজাসহ বিভিন্ন অঙ্গের মাংসে।

    নিজের প্রামাণ্যচিত্র Haaland: The Big Decision-এ তিনি বলেন, অনেকেই এসব খাবার খায় না। কিন্তু আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন।

    পানির ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সাধারণ পানি না খেয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিশোধিত পানি পান করেন। এছাড়া কাঁচা দুধ, পালং শাক ও কেলের মিশ্রণে তৈরি একটি পানীয় পান করেন, যাকে তিনি মজার ছলে নিজের ‘ম্যাজিক পোশন’ বলে উল্লেখ করেন।

    ঘুমই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    হালান্ডের বিশ্বাস, একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ঘুম। তাই প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিত দুপুরেও কিছু সময় বিশ্রাম নেন।

    মেন্স হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে তিনি কমলা রঙের বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিম আলোর প্রভাব কমিয়ে শরীরে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

    এছাড়া ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ ব্যবহার করেন, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। এতে অক্সিজেন গ্রহণ আরও কার্যকর হয় এবং গভীর ঘুমে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘুমানোর আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বন্ধ করে দেন তিনি।

    হালান্ডের অনুশীলনের মূল ভিত্তি শক্তি, গতি ও নমনীয়তা। তার সাবেক ক্লাব রেড বুল সালসবুর্গের সাবেক কোচ স্ট্যানিস্লাভ ম্যাসেক জানিয়েছেন, কিশোর বয়সেই হালান্ডের প্রতিদিনের রুটিনে ছিল ৩০০টি পুশ-আপ ও এক হাজার সিট-আপ। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে স্প্রিন্ট এবং নিয়মিত যোগব্যায়ামও করেন তিনি।

    শুধু অনুশীলন নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই স্ট্রাইকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, নিজের বাড়িতে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ক্রায়োথেরাপি চেম্বার স্থাপন করেছেন তিনি। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরকে রাখার মাধ্যমে ল্যাকটিক অ্যাসিড কমানো, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন হালান্ড, যাতে টানা উচ্চগতির খেলায়ও শরীর সতেজ থাকে।

    মাঠের বাইরেও ভিন্ন এক ব্যক্তিত্ব

    শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দিক থেকেও নিজেকে আলাদা করেছেন হালান্ড। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সবসময় সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত ছিলাম। তাই ভাবলাম, অতিরিক্ত সময় খেলতে পারব না। আমাদের এখনই গোল করতে হবে।

    জ্লাতানের পরামর্শেই লম্বা চুল

    মাঠে হালান্ডের আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো ম্যাচের শেষ দিকে চুলের বাঁধন খুলে দেওয়া। তার লম্বা চুল নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প।

    টেলিভিশন অনুষ্ঠান জেমস কর্ডেনের স্পেশাল শো ‘After with James Corden’-এ হালান্ড জানান, সুইডিশ কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ একবার তাকে বলেছিলেন, ‘কখনো চুল কাটবে না। শক্তি লুকিয়ে আছে চুলেই।’

    হালান্ড হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, জ্লাতান আমাকে এ কথা বলেছেন। এখন আমি আর কী করতে পারি? তার কথা তো শুনতেই হবে।

    মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কঠোর অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম, উন্নত ক্রীড়াবিজ্ঞান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। এসব কিছুর সমন্বয়েই তিনি আজকের ফুটবলে একজন আদর্শ অ্যাথলেটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ, পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

    মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ, পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

    সাধারণত চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত দেশের বাজারে তরমুজের সরবরাহ বেশি থাকে। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন আর তরমুজ শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন ফল নয়; বছরের অন্যান্য সময়েও বাণিজ্যিকভাবে এ ফল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

    বিশেষ করে মালচিং, মাচা পদ্ধতি, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তার সমন্বয়ে বর্ষা মৌসুমেও সফলভাবে তরমুজ উৎপাদন করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা। সেই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

    কয়েক বছর আগেও বর্ষাকালে যেসব জমি জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকত, বর্তমানে সেই জমিতেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সুস্বাদু তরমুজ। একজন কৃষকের সফল উদ্যোগ এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার দেখাদেখি অনেক কৃষক ধানসহ প্রচলিত কম লাভজনক ফসলের পরিবর্তে অসময়ের তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন।

    পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বর্তমানে এ এলাকার অফ-সিজনের তরমুজ চাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। কয়েক বছর ধরে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ধারাবাহিকভাবে সফলতা অর্জন করছেন। প্রথমদিকে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর মাত্র ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ আবাদ করে প্রায় ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। সেই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ জমিতে অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন।

    বর্তমানে তার ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে শত শত বড় আকৃতির তরমুজ। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ফলচাষি এবং সাধারণ মানুষ তার ক্ষেত দেখতে আসছেন। অনেকে সরাসরি মাঠে এসে চাষাবাদের কৌশল, মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার, মাচা তৈরির পদ্ধতি, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন, উৎপাদন ব্যয় এবং সম্ভাব্য লাভ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফলে তার ক্ষেত এখন অনেকটা কৃষকদের জন্য একটি উন্মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করে মালচিং পলিথিন বিছানো হয়েছে। প্রতিটি সারির ওপর বাঁশ ও দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শক্তপোক্ত মাচা। সেই মাচাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে সবুজ লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য সবুজ ডোরাকাটা তরমুজ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন সবুজের বুকে ঝুলছে শত শত ফলের মালা। প্রতিটি গাছে তিন থেকে চারটি করে তরমুজ রয়েছে এবং প্রতিটির ওজন প্রায় চার থেকে পাঁচ কেজি। ভারী ফলের চাপ সামলাতে প্রতিটি তরমুজ আলাদা করে জালি বা নেট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত ওজনের কারণে ফল ছিঁড়ে পড়ে নষ্ট না হয়।

    ক্ষেতজুড়ে রয়েছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। কোথাও আগাছার অস্তিত্ব নেই। মালচিং পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকছে, আগাছা জন্মাতে পারছে না এবং সারের অপচয়ও কম হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি সরাসরি গাছের গোড়ায় জমে না থাকায় গোড়া পচা রোগের ঝুঁকিও কমে গেছে। নিয়মিত সেচ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রতিটি গাছ সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠেছে। অধিকাংশ তরমুজ ইতোমধ্যে পরিপক্ব হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা হবে।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়, আগাছা কম জন্মায়, সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। অন্যদিকে মাচা পদ্ধতিতে লতা ওপরে ওঠানো হলে ফল মাটির সংস্পর্শে আসে না। ফলে ছত্রাকজনিত রোগ, পচন ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে ফলের আকার, রং, স্বাদ ও গুণগত মান ভালো থাকে এবং বাজারে বেশি দাম পাওয়া যায়।

    জানা গেছে, এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তরমুজ সংগ্রহ করা যায়। বর্ষাকালে সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মালচিং এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমের বাইরেও বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে বাজারে অফ-সিজনের তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। ফলে কৃষকরা মৌসুমের তুলনায় অনেক ভালো মূল্য পাচ্ছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কারণেই ধানসহ তুলনামূলক কম লাভজনক ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    কৃষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “গত বছর ১৭-১৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে প্রায় ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। এতে আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যেই তরমুজ বিক্রি শুরু করব। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা দাম পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছি। খরচ বাদ দিয়েও ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমি ধাপে ধাপে তিনটি প্লটে তরমুজ চাষ করেছি। এক প্লটের তরমুজ বিক্রি শেষ হলে পাশের জমিতে আবার নতুন করে চাষ করব। বর্ষাকালে এ জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। তাই মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষ করছি। প্রতিটি তরমুজ নেট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে পড়ে নষ্ট না হয়। আমার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমার ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইছেন।”

    একই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “আমি তরমুজ চাষে নতুন। আলাউদ্দিন কাকাসহ এলাকার কয়েকজন কৃষকের সফলতা দেখে আমিও প্রায় এক বিঘা জমিতে অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছি। আগে এই জমিতে ধান চাষ করতাম, কিন্তু ধানে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ খুবই কম। তাই বেশি লাভের আশায় তরমুজ, শসাসহ লাভজনক ফসলের চাষে ঝুঁকেছি। আশা করছি ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হতে পারব।”

    আরেক কৃষক রতন বলেন, “ধান চাষ করে এখন আর তেমন লাভ হচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদলের কারণে অনেক সময় উৎপাদনও কমে যায়। পাশের কৃষকদের অফ-সিজনের তরমুজ চাষে ভালো ফলন ও লাভ হতে দেখে আমিও আগ্রহী হয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও উন্নতমানের বীজ নিয়ে এবার তরমুজ চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি এতে ভালো লাভবান হতে পারব।”

    সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দীন বলেন, “আলাউদ্দিন প্রতি বছরই অফ-সিজনে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ পাচ্ছেন। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষকও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সরকার ও কৃষি বিভাগ যদি উন্নত বীজ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতা দেয়, তাহলে আরও অনেক কৃষক তরমুজ চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। এতে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশেও মৌসুমের বাইরে তরমুজের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।”

    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকার উৎপাদিত তরমুজ খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। আমরা নিজেরা যেমন খাই, তেমনি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও উপহার হিসেবে পাঠাই। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভও বেশি। তাই এখন অনেক কৃষক এই ফসলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।”ঘাগড়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ ব্লকে ২০ শতাংশ জমিতে একটি তরমুজ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। আগে এ জমিতে ধান চাষ হলেও লাভ কম ছিল। কৃষক আলাউদ্দিনকে অফ-সিজনের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি সফল হয়েছেন। তার সফলতা দেখে অনেক কৃষক কৃষি অফিসে যোগাযোগ করছেন এবং এ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।”

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে-আলম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ঘাগড়া ও চন্ডিপাশা এলাকায় ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছিল। এসব প্রদর্শনী সফল হওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও এ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

    তিনি বলেন, “প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হলেও ফসল বিক্রি করে এক লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। ফলে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেন। মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই এই লাভ পাওয়া যায়।”

    তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে গাছের গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধে মালচিং পেপার অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, জমি প্রস্তুত, রোগবালাই দমন, সারের সঠিক ব্যবহার এবং স্প্রে শিডিউল সম্পর্কে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ব্ল্যাক কুইন, জামালপুর সিডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অফ-সিজনের মানসম্মত বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

    তিনি জানান, অসময়ের তরমুজ চাষের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শিমসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক ফসলের আবাদ সম্প্রসারণেও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকদের সারা বছর আয় নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধানসহ প্রচলিত ফসলের কম লাভজনক অবস্থার কারণে কৃষকরা এখন বিকল্প উচ্চমূল্যের ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা এবং বাজারে অফ-সিজনের তরমুজের ভালো দাম অব্যাহত থাকলে পাকুন্দিয়ার এই উদ্যোগ শুধু কিশোরগঞ্জের কৃষিতেই নয়, দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য সফল মডেল হয়ে উঠতে পারে।

    এ এম

  • পোপ চীনা কমিউনিস্টদের হয়ে কাজ করছেন: মার্কিন বিলিয়নিয়ার পিটার থিয়েল

    পোপ চীনা কমিউনিস্টদের হয়ে কাজ করছেন: মার্কিন বিলিয়নিয়ার পিটার থিয়েল

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভ্যাটিকানের পোপ লিও চতুর্দশ। এর মাধ্যমে তিনি মূলত পরোক্ষভাবে চীনা কমিউনিস্ট এজেন্টের মতো কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিলিয়নিয়ার পিটার থিয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে আয়োজিত ‘অ্যাসপেন আইডিয়াজ ফেস্টিভ্যাল’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টিতে উগ্র বামপন্থী বা ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্টদের আধিপত্য বিস্তার এবং ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    পেপ্যাল ও প্যালান্টিরের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দিকের সমর্থকদের মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ক্যারিয়ার গঠনেও থিয়েলের বড় অবদান রয়েছে। অ্যাসপেন ফেস্টিভ্যালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামার সঙ্গে ‘হিউম্যানিটি অ্যাট দ্য এন্ড অব হিস্ট্রি’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে থিয়েল পোপের সমালোচনা করেন।

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে পোপ লিও চতুর্দশ তাঁর প্রথম এনসাইক্লিক্যাল (ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস) নামের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার এবং এর ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপেরও আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে থিয়েল যুক্তি দেখান, পোপের এই ধর্মীয় ও নৈতিক বার্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলো এআইয়ের বিকাশ ধীর করে দেবে। কিন্তু চীন কোনোভাবেই পোপের কথায় কান দেবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান তীব্র এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় শুধু এক পক্ষ তথা যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়বে।

    এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই থিয়েল দাবি করেন, পোপ প্রকৃতপক্ষে চীনা কমিউনিস্টদের হয়ে কাজ করছেন। থিয়েলের এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত দর্শকেরা হেসে ওঠেন। তবে ভ্যাটিকান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

    ফুকুইয়ামার সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছর পর আয়োজিত এই প্যানেল আলোচনায় থিয়েল পশ্চিমা গণতন্ত্রের বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম স্থবিরতার ইঞ্জিন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন, প্রযুক্তির স্থবিরতাই আজ পশ্চিমা রাজনীতিকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    আলোচনায় মার্কিন রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থিয়েল দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন চরম বামপন্থী শক্তির উত্থান ঘটছে। শিগগির ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্টদের হাতে চলে যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয় এবং চলতি বছরে একাধিক মেয়র ও কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে (প্রাইমারি) সোশ্যালিস্ট প্রার্থীদের একচেটিয়া বিজয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘রিপাবলিকান পার্টি আসলে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ডেমোক্রেটিক পার্টি যখন সম্পূর্ণভাবে সোশ্যালিস্টদের দখলে চলে যাবে, তখনই এই দেশের পতন নিশ্চিত হবে।’

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মার্কিন সংবিধানের ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দাঁড় করান থিয়েল। তিনি বলেন, আমেরিকান বিপ্লব আসলে রাজা জর্জের বিরুদ্ধে ছিল না। বিপ্লব ছিল আসলে ব্রিটেনের স্বৈরাচারী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পার্লামেন্ট এবং আইনজীবীদের শাসনের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ। এ ছাড়া তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) একটি স্থবির ও নিয়মকানুনের বেড়াজালে বন্দী আমলাতন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, পেন্টাগন এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে প্যালান্টিরের বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। থিয়েল দাবি করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও তাঁর কোম্পানি মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া সরকারের অংশ নয়। আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বিশাল ক্ষমতাকে তিনি দেশের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে থিয়েল বলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক একটি উগ্র উদারপন্থী কোম্পানি। তারা তাদের অত্যাধুনিক এআই মডেল ব্যবহার করে ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জেতাতে ব্যাপক কারচুপি বা জালিয়াতি করবে।

    থিয়েলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে ইলন মাস্ক ডানপন্থীদের পক্ষে যত চেষ্টাই করুন না কেন, অ্যানথ্রোপিকের এআই তার চেয়ে অনেক বেশি চতুরতার সঙ্গে কাজ করবে। অ্যানথ্রোপিক অবশ্য থিয়েলের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    বক্তব্যের শেষে নিজের প্যালান্টির কোম্পানির নামকরণ প্রসঙ্গে সমালোচকদের জবাব দেন থিয়েল। তিনি জানান, প্যালান্টির নামটি জে.আর.আর. টলকিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’-এর জাদুকরি পাথর ‘প্যালান্টির’ থেকে নেওয়া হয়েছে। সমালোচকেরা বলে থাকেন, যারা এই পাথর ব্যবহার করে তারা শেষ পর্যন্ত ভিলেন সাউরনের প্রভাবে পড়ে।

    তবে থিয়েলের দাবি, অনেকে টলকিনের উপন্যাসটি সঠিকভাবে বোঝেন না। তিনি বলেন, ‘গল্পের শেষদিকে ভালো চরিত্রগুলোই প্যালান্টির ব্যবহার করে। আরাগন এটি ব্যবহার করে সাউরনের মুখোমুখি হয় এবং শেষে সে পরাজিত হয়। টলকিনের এই গল্প যে অন্যভাবে বলে, সে সাহিত্যই বোঝে না।’

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    গত মার্চে মৌসুমী হামিদের সংসার ভাঙার খবর শুনে অনেকেরই মন ভেঙেছিল। সেই দুঃসংবাদের চার মাসের মাথায় জোড়া সুখবর দিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের সঙ্গে দিলেন মা হওয়ার খবরও। গতকাল শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সহকর্মীদের চমকে দেন মৌসুমী হামিদ।

    মৌসুমী হামিদের স্বামীর নাম আবদুল ওয়াদুদ সজীব। তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরোনো বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল ছিল। যে কারণেই বিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবকিছুর জন্য দোয়া চাই।’

    মৌসুমী হামিদের দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর অনেকেরই অজানা ছিল। চরকির অনুষ্ঠানে তাই তাঁকে দেখে সহকর্মীরা জড়িয়ে ধরেন, শুভকামনা জানান।

    সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য প্রথম বাইরে এসেছি। জানতাম এখানে অনেকেই থাকবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য স্বামীসহ এসেছি মা হওয়া খবর দিতে।’

    এত দিন দ্বিতীয় বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে। এই জন্য আমি এত দিন কাউকে কিছু বলিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবেই মা হওয়ার খবরটা জানবে সবাই। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি, নতুন একটা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানাকে বিয়ে করেন মৌসুমী হামিদ। দুই বছরের মাথায় ফাটল ধরে তাঁদের ভালোবাসার সংসারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেপারেশনে চলে যান। এরপর গত মার্চে মৌসুমী জানান বিচ্ছেদের খবর।

    লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সবশেষ মৌসুমীকে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ নামের ওয়েব ফিল্মে।

  • দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

    দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

    বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। দীর্ঘকাল ধরে আমরা দিনে তিনবেলা ভারী খাবার খাওয়ার প্রথা মেনে আসছি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও ফিটনেস দুনিয়ায় এখন অন্য একটি ধারণাও বেশ জনপ্রিয়, তা হলো ‘মিল ফ্রিকোয়েন্সি’ বা সারা দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া। কেউ ওজন কমাতে চাচ্ছেন, কেউ বা চাচ্ছেন দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম থাকতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীর আর মেটাবলিজমের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর? প্রচলিত তিনবেলার রুটিন, নাকি আধুনিক ছয় বেলার অভ্যাস? এই বিতর্কের সমাধান পেতে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে আমাদের বুঝতে হবে শরীরের নিজস্ব প্রয়োজন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।

    পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য কার্যকর এমন কোনো নির্দিষ্ট ‘এক ছাঁচের’ নিয়ম নেই। আপনার প্রতিদিনের জীবনধারা, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, স্বাস্থ্যের লক্ষ্য এবং ক্ষুধার ধরনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি সঠিক।

    মেটাবলিজম বা বিপাক হার নিয়ে ভুল ধারণা অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ঘন ঘন খেলে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। যদিও খাবার হজম করার সময় শরীর সাময়িকভাবে কিছু ক্যালরি পোড়ায় (যাকে ‘থার্মিক ইফেক্ট অফ ফুড’ বলা হয়), তবে এটি সারাদিনের মোট ক্যালরি ব্যয়ের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না।

    গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি সারা দিনে ২,০০০ ক্যালরি গ্রহণ করেন, তবে তা তিনবারে খান বা ছয়বারে, মেটাবলিজমের ওপর তার প্রভাব প্রায় একই থাকে। শরীরের মেটাবলিজম মূলত নির্ভর করে আপনার বয়স, শারীরিক গঠন, হরমোন, ব্যায়াম এবং ঘুমের মানের ওপর।

    ওজন কমানোর রহস্য

    ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মোট ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়ের ভারসাম্য। আপনি যে পদ্ধতিই বেছে নিন না কেন, ওজন কমাতে হলে শরীর যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। কম ক্যালরি গ্রহণ করে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো সম্ভব।

    ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও খাবারের গুণগত মান

    ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে কোন পদ্ধতিটি ভালো, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। তবে এক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যার চেয়ে খাবারের উপাদান বা ‘কন্টেন্ট’ বেশি গুরুত্ব বহন করে।

    প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার: এই উপাদান সমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাবার ধীরে হজম হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    চিনি ও রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: চিনিযুক্ত খাবার বা ময়দা জাতীয় খাবার খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও রক্তে শর্করা

    সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা রক্তে শর্করার ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যারা ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভুগছেন, তাদের জন্য ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী হতে পারে। এতে একবারে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

    আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন?

    তিনবেলা খাবার তাদের জন্য ভালো যারা নির্দিষ্ট ও সাধারণ রুটিন পছন্দ করেন, একবারে পেট ভরে খেলে বেশি সন্তুষ্ট বোধ করেন, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং বা বারবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চান, খুবই ব্যস্ত সময়সূচি মেনে চলেন এবং বারবার খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়।

    ঘন ঘন অল্প খাওয়া তাদের জন্য ভালো যারা খাবারের মাঝখানের দীর্ঘ বিরতিতে খুব বেশি ক্ষুধার্ত অনুভব করেন, সারাদিন কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শক্তির প্রয়োজন বোধ করেন, অত্যধিক পরিশ্রমী জীবনযাপন করেন, যাদের বেশি ক্যালরির প্রয়োজন, হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং একবারে বেশি খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন।

    তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

  • উদ্ভাবনের পথে ভূল হবে, থেমে গেলে চলবে না-ডা. ফরিদ

    উদ্ভাবনের পথে ভূল হবে, থেমে গেলে চলবে না-ডা. ফরিদ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    ছোট ছোট স্বপ্নই একদিন বড় স্বপ্ন দেখার পথ তৈরি করে। মানুষ একদিনে হাঁটতে শেখে না। ধীরে ধীরে হাঁটতে শিখেই দৌড়াতে শেখে। তাই ভুলকে ভয় না পেয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

    চৌগাছা স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতায় স্থানীয় সংসদসদ্য ডা. ফরিদ এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, বিজ্ঞান মুখস্থ করার বিষয় নয়। বিজ্ঞান বুঝতে পারলে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে গেলে ভুল হবেই। তবে ব্যর্থতায় ভেঙে পড়লে চলবে না।

    ডা. ফরিদ বলেন, বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন প্রায় ১০ হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পর বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। আজকে আমরা যাদের খুদে বলছি তাদের ধারাবাহিক চেষ্টা অব্যহত থাকলে একদিন জগদীশ চন্দ্র বসু, আইনস্টাইন, নিউটন, ইবনে সিনা ও এরিস্টটলের মতো মহান বিজ্ঞানী ও দার্শনিক তৈরি করবে।

    অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুরা ভুল করবেই। তবে তাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না। নিজেদের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।
    তিনি আরও জানান, শিশুদের উদ্ভাবনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

    শুক্রবার (১২ জুন) চৌগাছা উপজেলা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার নাসরিন সুলতানা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএম মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম বজলুর রশিদ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল আহমেদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সায়েন্স স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে।

    প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ। দ্বিতীয় হয় চৌগাছা সরকারি কলেজ। তৃতীয় স্থান পায় চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    তবে ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, উন্নত চিন্তনশীল প্রজেক্ট থাকার পরেও একটি প্রতিষ্ঠানের অনেক নিম্ন মানের প্রজেক্ট প্রদর্শনী করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাদের প্রজেক্ট বাইরের থেকে কিনে এনে প্রদর্শন করার অভিযোগও করেন। এতে প্রকৃত উদ্ভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

    এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের উৎসাহ প্রদান করেন।

    বি. এ

  • মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে  ‘অ্যালগরিদম’

    মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে ‘অ্যালগরিদম’

    আধুনিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শব্দ ‘অ্যালগরিদম’। অনেকের কাছেই শব্দটি এখন এক নেতিবাচক বা ভীতিজাগানিয়া অর্থ বহন করে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখব, পড়ব বা শুনব-তা নির্ধারণে সাহায্য করে এই অ্যালগরিদম। এর ফলে মানুষের নিজস্ব রুচি ও পক্ষপাতিত্ব আরো দৃঢ় হয় এবং তৈরি হয় আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’।

    শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।

    কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।

    ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।

    কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?

    আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।

    তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’

    অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।

    গাণিতিক রেসিপি

    জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’

    এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’

    মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।

    সূত্র:সূত্র: এনপিআর

    বি.এ

  • তুরস্কের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে আলোচনা

    তুরস্কের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে আলোচনা

    বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দপ্তরে তার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধান দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।

    ড. আলি এরজান বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ শিক্ষা খাতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেডাগজিক্যাল পদ্ধতি নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে একমত হন।

  • বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের জন্য দ্রুত ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটি শুরু করা হবে।

    তিনি আরও জানান, পরিকল্পনার আওতায় গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী—এই তিন স্তরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সুবিধা সংযোজন করা হবে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব যানবাহনের নকশা করা হবে।

    সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

    মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন নিয়ম কার্যকর শুরু করেছে মালয়েশিয়া। তরুণ ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় শরিক হয়ে সোমবার থেকে এই নিয়ম বলবৎ করেছে দেশটি।

    নতুন এই নিয়মের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা এবং ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট ব্লক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ অন্তত ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এমন সব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    যেসব কোম্পানি এই নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তাদের ১ কোটি রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। তবে শিশুরা যদি এই আইন ফাঁকি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে, তাহলে তাদের বাবা-মাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

    সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্ট, সাইবার বুলিং এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্তি তৈরি করে প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন ফিচার থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত আরোপ করেছে। এছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াও একই ধরনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা বা উন্নয়ন করছে।

    মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন জানিয়েছে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা নয়, বরং অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলা করা এবং বয়সোপযোগী সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া।

    গত মাসে এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, ‘এই পদক্ষেপগুলো অনলাইন পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে সাহায্য করবে এবং ক্রমবর্ধমান জটিল ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিভাবকদের বাড়তি আশ্বাস দেবে।’

    প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন ‘সেফটি-বাই-ডিজাইন’ ফিচার চালু করতে হবে, যার মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন কারসাজিমূলক ডিজাইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া কম বয়সি অ্যাকাউন্ট এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার এই নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো বিস্তারিত জানায়নি।

    এজ-ভেরিফিকেশন সিস্টেমের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

    এর আগে গত এপ্রিলে মেটার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর ক্লারা কোহ সতর্ক করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সিদের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এটি কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষিত অ্যাপ থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক কোণগুলোতে নিয়ে যেতে পারে।

    তিনি জানান, মেটা ইতোমধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করেছে, যা যোগাযোগ, স্ক্রিন টাইম এবং অনুপযুক্ত কনটেন্ট দেখার সুযোগ সীমিত করে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন সুরক্ষায় কীরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই মালয়েশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি প্ল্যাটফর্মের ডিজাইনের কারণে এক তরুণ ব্যবহারকারীর ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবকে লাখ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    অনেক অভিভাবকের সমর্থন থাকলেও মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ ডেটা প্রাইভেসি বা তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সায়েন্সের লেকচারার বেঞ্জামিন লোহ বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক প্রবণতা অনুসরণ করছে ঠিকই, তবে বয়স যাচাইয়ের জন্য সরকারি আইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তার কারণে এটি শঙ্কা তৈরি করছে।’

    লোহ আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা দেখায় যে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। মা-বাবার জন্য কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় পরিবারগুলো সহজেই তাদের শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এই আইন ফাঁকি দিতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি বড় ফাঁকফোকর। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি এটি সংশোধন না করে, তাহলে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে এই আইনের কার্যকারিতা খুব কমই থাকবে।’##

  • রবিবার পূর্ণিমায় দেখা যাবে নীল ‘ক্ষুদ্রচাঁদ’

    রবিবার পূর্ণিমায় দেখা যাবে নীল ‘ক্ষুদ্রচাঁদ’

    এ সপ্তাহান্তে রাতের আকাশে দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণিমা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই চাঁদ কিছুটা ছোট ও কম উজ্জ্বল দেখাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বলছেন ‘নীল ক্ষুদ্রচাঁদ’। একই সঙ্গে মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অবস্থান—এই দুই ঘটনার মিলেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ এই দৃশ্য।

    ‘নীল চাঁদ’ বলতে একই মাসে হওয়া দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে বোঝানো হয়। আর ‘ক্ষুদ্রচাঁদ’ দেখা যায় তখন, যখন পূর্ণিমার সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। এ কারণে চাঁদ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোট ও ম্লান দেখায়।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক গণমাধ্যম সায়েন্স অ্যালার্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ মে বিশ্বসময়ের হিসাবে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে এই পূর্ণিমা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। তখন চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৬০ মাইল দূরে থাকবে। ফলে এটি সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ ছোট এবং প্রায় ১০ শতাংশ কম উজ্জ্বল দেখা যাবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নীল চাঁদ’ সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর দেখা যায়। কারণ চাঁদের এক পূর্ণ আবর্তন শেষ হতে প্রায় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা সময় লাগে, যা ক্যালেন্ডারের মাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

    তবে নামের সঙ্গে ‘নীল’ শব্দ থাকলেও চাঁদ আসলে নীল রঙের হবে না। এটি সাধারণ পূর্ণিমার মতোই সাদা বা কিছুটা সোনালি-কমলা রঙের দেখা যাবে।

    দক্ষিণ গোলার্ধ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই দৃশ্য আরও সুন্দর দেখা যেতে পারে। সেখানে চাঁদকে বৃশ্চিক নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল লাল তারা ‘অ্যান্টারেস’-এর খুব কাছ দিয়ে যেতে দেখা যাবে। উত্তর গোলার্ধ থেকেও চাঁদকে ওই তারার কাছাকাছি দেখা সম্ভব হবে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, খালি চোখেই এই বিরল পূর্ণিমা দেখা যাবে। তবে দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠ আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হবে।

  • আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে বছরের শেষের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে এসে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

    হ্যাকিং গ্রুপ শাইনি হান্টার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের এই হামলার ফলে হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত একাডেমিক সফটওয়্যার ক্যানভাস এই সপ্তাহে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার ক্যানভাস-এর মালিক প্রতিষ্ঠান ইন্সট্রাকচার তাদের ওয়েবসাইটে জানায় যে, ‘অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ক্যানভাস আবার চালু হয়েছে’। তবে শুক্রবারও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সেবা বিঘ্নের অভিযোগ জানিয়েছে।

    এই সাইবার হামলা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যার প্রভাবে আনুমানিক নয় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া কাজ পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে শুক্রবারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী অবরে পালমার বিবিসিকে জানান, তার স্ক্রিনে যখন মুক্তিপণের বার্তা ভেসে তখন তিনি মাত্রই ২ হাজার ৯০০ শব্দের একটি পরীক্ষার প্রবন্ধ শেষ করেছিলেন।

    বার্তাটিতে লেখা ছিল: ‘শাইনি হান্টারস আবারও ইন্সট্রাকচারের নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকেছে’।

    এতে হুমকি দেওয়া হয় যে, ক্যানভাস বা ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিটকয়েনে মুক্তিপণ না দিলে চুরি করা তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

    পালমার বলেন, “আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে আমাকেই হ্যাক করা হয়েছে, কারণ ব্যাপারটা ঠিক সেরকমই দেখাচ্ছিল। কিন্তু পরে মুক্তিপণের নোটটি পড়ে বুঝলাম ক্যানভাসই হ্যাক হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, তিনি তখন তার অধ্যাপক এবং আরও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিলেন। সবাই চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন যে একই বার্তা তারা সবাই পেয়েছেন।

    প্রথমদিকে, তাদের কাজ সেভ হয়েছে কি না তা স্পষ্ট ছিল না। এ সময় খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে এবং পালমার বলেন তিনি ‘আবার পরীক্ষার লেখা লিখতে হতে পারে- এই চিন্তায় খুবই ক্ষুব্ধ’ ছিলেন।

    এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইমেইলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে , পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করছে এবং এ ধরনের ‘দেশব্যাপী নিরাপত্তা ঘটনার’ জেরে সন্দেহজনক বার্তা উপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে।

    ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি শুক্রবার তাদের শিক্ষার্থীদের জানায় যে ‘ক্যানভাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না’ এবং তারা শিক্ষার্থীদের লগইন করার চেষ্টা না করতে নির্দেশ দেয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, “বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমরাও এই বিভ্রাটের শিকার এবং আমরা এখনও ইন্সট্রাকচারের পরামর্শের অপেক্ষায় আছি”।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, এই বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের কোর্সওয়ার্ক ও পরীক্ষায় প্রভাব ফেলেছে এবং তারা ‘সেমিস্টারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে এটিকে অত্যন্ত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে স্বীকার করেছে ।

    বৃহস্পতিবার ইদাহো স্টেট ইউনিভার্সিটি জানায় যে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়েছে।

    পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পাঠানো এক বার্তায় জানায় যে ‘কেউই ক্যানভাস-এ প্রবেশ করতে পারছে না’ এবং পরবর্তী ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান আসার সম্ভাবনা কম’। বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের কিছু পরীক্ষা বাতিল করে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক আপডেটে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া শিক্ষার্থীদের জানায় যে, ক্যানভাস এর এর মূল কোম্পানি ইন্সট্রাকচারের ‘সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে অচল’ এবং তাদের দ্রুত লগ আউট করার পরামর্শ দেয়।

    ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো জানায় যে, তারাও এই সাইবার হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা এও জানায় যে “একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এতে আক্রান্ত হয়েছে”।

    অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলস এর শিক্ষার্থীরা ক্যানভাস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে সমস্যায় পড়ে।

    আর ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো জানায়, তাদের ক্যানভাস পেজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    দ্যা শিকাগো ম্যারুন-এর প্রকাশ করা একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায় শাইনি হান্টারস মুক্তিপণ দাবি করে একটি বার্তা পাঠিয়েছে।

    বার্তাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যক্তিগতভাবে হ্যাকিং গ্রুপটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার জন্য আলোচনার আহবান জানানো হয় এবং ‘তাদের তথ্য প্রকাশ’ না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়।

    একই ধরনের বার্তা পেয়েছিলেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স শিক্ষার্থী জ্যাকুয়াস আবো- রিজক। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রশাসকের পাঠানো বলে মনে হওয়া একটি ইমেইলের লিংকে ক্লিক করার পর তিনি এই বার্তা দেখতে পান।

    আবো-রিজক বলেন, “আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। এমন একটি বার্তা পাওয়া সত্যিই ভয়ের ব্যাপার।”

    তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টি এ বিষয়ে একটি সাধারণ ইমেইল পাঠায়, যা বিবিসি দেখেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, নর্থওয়েস্টার্ন ‘একটি বিষয়ের ওপর নজর রাখছে’।

    ই-মেইলে আরও বলা হয়, ক্যানভাস পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জানা নেই এবং অন্য আইটি অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    আবু-রিজক জানান, শুক্রবারও তিনি ক্যানভাসে প্রবেশ করতে পারেননি এবং এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর কোনো বার্তা পাননি।

    তিনি বলেন, “শুধু আমার নিজের কাজ শেষ করা বা ক্যানভাস এর প্রয়োজনীয় সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে না পারা নিয়েই নয়, বরং আসল হুমকিটা কী এবং এটি কীভাবে আমাকে প্রভাবিত করতে পারে—এ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    “কোন তথ্য প্রকাশ করা হবে আমি জানি না, আর সেটাই আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে।”

    বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    শাইনি হান্টারস অতীতেও একাধিক আলোচিত সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে গত বছর জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এর ওপর চালানো বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হ্যাকটি ছিল অন্যতম।

    সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এমিসফট- এর বিশ্লেষক লুক কনলি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, স্ক্রিনশট অনুযায়ী এই গোষ্ঠীর লক্ষ্যভিত্তিক হুমকি রবিবার থেকে শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার ও ১২ মে পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

    তিনি বলেন, মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা এখনও চলতে পারে। সাম্প্রতিক হামলায় তারা যে তথ্য চুরি করেছে বলে দাবি করছে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে কী করবে—সে বিষয়ে গোষ্ঠীটি এখনো কিছু জানায়নি।

    হস্পতিবারের এই সাইবার হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাইবার ঝুঁকির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষার আহবান জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

    তিনি লিখেছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ‘অবিলম্বে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, “আমেরিকানরা এমন বিভ্রাট, বিঘ্ন এবং মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে- এমন হামলার শিকার হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে

  • ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

    ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

    জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি আর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, ঠিক সেই সময়েই সম্ভাবনার এক ভিন্ন দিগন্ত দেখাচ্ছেন রাণীশংকৈল উপজেলার এক তরুণ উদ্ভাবক। স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে রতন মহন্ত তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    রাণীশংকৈল পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত পেশায় একজন অটোভ্যান মেকানিক। সাইকেল-ভ্যান মেরামতের আয়েই চলে তার সংসার। তবে সীমিত আয়ের মধ্যেও তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেমে থাকেনি।

    জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি পুরোনো ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকেই নানা যান্ত্রিক জটিলতায় পড়েন রতন। বারবার মেরামত করেও স্থায়ী সমাধান না পেয়ে এবং জ্বালানি খরচের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন প্রচলিত ইঞ্জিন সরিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করবেন। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন খুলে সেখানে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার মোটর।

    তার এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফল একটি কার্যকর ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা এখন অনায়াসেই সড়কে চলাচল করছে। একবার চার্জে তার তৈরি এই বাইক প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ৫ টাকা। বিপরীতে একই দূরত্বে একটি সাধারণ মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ প্রায় ৪০০ টাকার মতো, যা খরচের দিক থেকে এক বিশাল পার্থক্য তৈরি করেছে।

    রতন মহন্ত বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই আমার কাজ নিয়ে হাসাহাসি করেছে। কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি যে এই বাইক চলতে পারে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন যখন তেলের জন্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, তখন তারাই এসে আমার কাজের প্রশংসা করছে।

    তার এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার বাড়িতে। অনেক মোটরসাইকেল চালক ইতোমধ্যেই নিজেদের বাইক ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

    রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ রতন খুব সহজেই চলাফেরা করছে, খরচও অনেক কম। আমিও এখন আমার বাইক ব্যাটারিতে রূপান্তরের কথা ভাবছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর, নাজমুল ও আক্তার বলেন, বর্তমানে তেলের সংকট আমাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবুও নিশ্চয়তা থাকে না তেল পাব কি না। এতে করে দৈনন্দিন কাজকর্ম, বিশেষ করে যাদের চলাফেরার জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রতনের এই ব্যাটারিচালিত বাইক আমাদের কাছে নতুন আশার মতো মনে হয়েছে। খুব কম খরচে যদি ১০০-১২০ কিলোমিটার চলা যায়, এটা সত্যিই বড় একটা সুবিধা। এতে যেমন খরচ কমবে, তেমনি তেলের জন্য ভোগান্তিও কমে আসবে।

    তারা আরও বলেন, আমরা নিজের চোখে বাইকটা চলতে দেখেছি, যা আমাদের আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি আরও উন্নত করা যায় এবং সহজভাবে সবাই ব্যবহার করতে পারে, তাহলে এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠবে। আমরা আশা করি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন উদ্ভাবনকে সহযোগিতা করবে। যাতে রতনের মতো আরও তরুণ সামনে এগিয়ে আসতে পারে।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. মিঠুন বলেন, রতনের এই কাজটা সত্যি অনেক ভালো লাগছে। এত কম খরচে যদি একটা বাইক চলে, তাহলে এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এখন তেলের জন্য যে ভোগান্তি, সেটা কমাতে এই ধরনের উদ্যোগ খুব দরকার। আমি মনে করি তাকে যদি একটু সহযোগিতা করা হয়, তাহলে সে আরও ভালো কিছু করতে পারবে এবং এলাকায় এমন নতুন কিছু করার আগ্রহও বাড়বে।

    এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, রতন মহন্তের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিয়েছেন তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তার এই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।

    এম কে

  • ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    কয়েক বছর আগে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর তৎপরতা সম্পর্কিত সামরিক প্রতিবেদনে প্রথম ইরানের ড্রোনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে হাউছিদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর উৎস খুজতে গিয়ে তার সাথেও ইরানের সম্পর্ক খুঁজে পান।

    তবে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইরান রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবারহ করে, তখন সারা বিশ্ব অবাক হয়ে যায়।

    এর কিছুদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে জেরেনিয়াম-২ (শাহেদ-১৩৬) ড্রোন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছিল।গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা একটি দেশ কিভাবে আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে খেলার নিয়ম বদলে দিতে সক্ষম হলো? ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর সাফল্যের মূল চালিকাশক্তিগুলো আসলে কী?প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরান তাদের নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে থাকে এবং সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে। তখনকার ইরানের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের প্রকৌশলীদের ওপর আস্থা রাখে এবং তাদেরকেই উদ্ধুদ্ধ করেছিল।নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশে একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে, যাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে তারা বেসামরিক প্রযুক্তিরও সহায়তা নিয়েছে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ইরানিরা সুস্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ করেছিল এবং তা ধৈর্য, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করে গেছে। যা তাদের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ধরা দেয়।

    ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে যখন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি অস্ত্রের দিক এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রেখে গিয়েছিলেন। সে সময় ইরানের বিমানবাহিনীর কাছে এফ-১৪ টমক্যাটের মতো বিমান ছিল। যা সেই সময়ে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হতো।তবে এই বিমানগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন মূলত ইরানে নিযুক্ত আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা। যন্ত্রাংশ সরাসরি আমেরিকান কোম্পানি সরবরাহ করত। ফলে, ইরানের বিমান বাহিনী অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।রাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, কেউ আবার গুপ্তহত্যা কিংবা কেউ কেউ কারাবন্দী হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরাও ইরান ত্যাগ করেন এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলো নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।তখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের অভাবে ইরানের কেনা শত শত কোটি ডলার মূল্যের বিমানগুলো অকেজো ধাতুতে পরিণত হয়েছিল।

    প্রয়োজনই আবিষ্কারের জনক১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা আট বছর ধরে চলে।এই যুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসের নৃশংসতম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রও ছিল। এই দীর্ঘ ও বিভীষিকাময় যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী আকাশপথে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যার ফলে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।ইরাকি সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে গোয়েন্দা বিমান ক্রয় করে এবং ইরানি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করত, যা তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট সুবিধা প্রদান করে।এর বিপরীতে তখন ইরানের সামরিক বাহিনী এমন একটি যুদ্ধ লড়ছিল, যার জন্য তাদের কাছে না ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সামরিক সক্ষমতা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরা চলে যাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যেমন অকেজো পড়েছিল, তেমনি নিজেদের প্রযুক্তিকেও তখন আর উন্নত করতে পারেনি নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে।ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিশ্ববাজার থেকে সেই প্রযুক্তি কিনতে পারছিল না।যে কারণে ইরানি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় অন্যদের কাছ থেকে প্রযুক্তি নেয়ার বদলে তারা নিজেরাই তা উদ্ভাবন ও তৈরি করবে।ভাবনাটি ছিল একেবারেই সহজ। যদি শত্রুর অবস্থান ও গতিবিধি জানতে সীমান্ত পেরিয়ে গোয়েন্দা বিমান পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না কেন? এগুলো একদিকে যেমন ছিল সস্তা অন্যদিকে সেগুলোকে শনাক্ত করাও ছিল বেশ কঠিন।

    ১৯৮১ সালের শুরুর দিকেই ইরানিরা এই ছোট ডিভাইসগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে। সেগুলোতে ক্যামেরা স্থাপনের কথাও চিন্তা করে। ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। যেখানে শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীরা একসাথে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছিলেন।তারা এই যন্ত্রগুলোর নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, পরীক্ষা ও উন্নয়নমূলক পর্যায়গুলো সম্পন্ন করে পরে তা আইআরজিসি বা ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে।ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি সাধারণ ওয়ার্কশপ ছিল। যেখানে দৃঢ় সংকল্পবব্ধ ও উজ্জীবিত তরুণরা কাজ করত। যাদের অনেকে বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ ছিল।বছরের পর বছর প্রচেষ্টা, বারবার ব্যর্থতা এবং নিরন্তর সংগ্রামের পর ওই তরুণরা ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওর্য়াকশপে একটি নকশা তৈরি করেন। পরে খুজেস্তানের খোলা মাঠে তা উৎক্ষেপন করে পরীক্ষা চালাতে শুরু করে।তাদের মধ্যে ছিলেন ফারশিদ নামের একজন বেসামরিক পাইলট, সাঈদ নামের একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র এবং মাসুদ জাহিদী নামের একজন পেশাদার স্বর্ণকার।

    প্রথমবার যখন তারা তাদের প্রাথমিক মডেলটি সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিল তখন কোনো কোনো কর্মকর্তা এটি নিয়ে উপহাস করেছিলেন।তারা যে মডেল তৈরি করেছিল তা দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের খেলনার মতো ছিল। তাতে জ্বালানি ট্যাঙ্ক হিসেবে যে বস্তুটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মেডিক্যাল আইভি ব্যাগ। আর প্রপেলার বা পাখাটিও ছিল হাতে তৈরি।

    প্রথম ড্রোন যুদ্ধ১৯৮৩ সালে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থেকে সেই ‘খেলনা বিমান’ বা ড্রোনটি প্রথমবারের মতো ইরাকি সামরিক অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম হয়।সেখান থেকে খুব পরিস্কার ও ব্যবহারযোগ্য ছবি নিয়ে ফিরে আসে, যেখানে ইরাকি সামরিক স্থাপনাগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এই সাফল্যের পর ‘থান্ডার ব্যাটালিয়ন’ গঠন এবং একটি নিয়মিত ড্রোন কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপে তৈরি এ বিষয়টি পরে আইআরজিসির তত্ত্বাবধানে আসে। তখন তারা বিমান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে।পরে আইআরজিসি দুবাইতে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ কিনতে শুরু করে। পরে এই যন্ত্রাংশগুলো ইসফাহানে নেয়া শুরু হয়। সেখানেই যন্ত্রাংশগুলো জোরা দিয়ে ড্রোন তৈরি শুরু হয়

    ২০২২ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে পাঠানো একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ভূপাতিত করে ইউক্রেন। যাতে একটি মার্কিন চিপও পাওয়া গিয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপের সেই ড্রোনগুলো এক সময় গোয়েন্দা তৎপরতায় নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। ১৯৮৩ সালের পর আইআরজিসি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ইরাকি সেনাদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করে।তবে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘রাদ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রকৌশলী ও সামরিক সদস্যরা শুধু নজরদারির জন্য নয়, ড্রোনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার ধারণা নিয়েও কাজ শুরু করেন।

    যদি কোনো ড্রোন শত্রুর অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়ে তাদের গতিবিধির ভিডিও ধারণ করতে পারে, তাহলে সেটিতে অস্ত্র যুক্ত করলে তা সরাসরি আঘাত হেনেও শত্রু পক্ষকে ধ্বংস করা সম্ভব, এমন ধারণা থেকে পরবর্তীতে মোহাজের ড্রোন তৈরি করে।১৯৮৮ সালে ইরান ছিল সেই প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি যারা সশস্ত্র ও পাইলটবিহীন আকাশযান বা ইউএভি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু করে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইসরাইল ড্রোন উদ্ভাবন ও ব্যবহারে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে ইরানই যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছে।

    ১৯৮৮ সালে ইরানি ড্রোনগুলোর নকশা ছিল কিছুটা অপরিপক্ক। যেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটারের বেশি উড়তে পারতো না। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে ইরান এমন উন্নত ড্রোন তৈরি করেছে যা ইরান থেকে উড়ে একাধিক দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইসরাইলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ইসরাইল সামরিক উদ্দেশ্যে পাইলটবিহীন ড্রোন বা ইউএভি ব্যবহার করা প্রথম দেশ ছিল।১৯৭৩ সালের যুদ্ধে তারা এগুলো ব্যবহার করেছিল মিশরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে। একই সাথে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রকে অকার্যকর করে তুলতে পারতো। পরবর্তীতে একই কায়দায় ইরানও ড্রোন কর্মসূচি শুরু করেছিল এবং সেই প্রযুক্তি ছিল আরো উন্নত।একইভাবে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল বেকা উপত্যকায় সিরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালানো এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ‘স্কাউট’ ও ‘ম্যাস্টিফ’ ড্রোন ব্যবহার করেছিল। যেটিকে যুদ্ধের ইতিহাসে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহারের প্রথম ও স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    পরষ্পর বিরোধী ধারণাইরানের বিশেষজ্ঞরা লেবাননের পরিস্থিতি ও অগ্রগতির ওপর গভীর নজর রাখেন। হিজবুল্লাহর ভেতরে থাকা তাদের মিত্ররা ইসরাইলি ড্রোন সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।পরবর্তীতে সেখানের পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইরানি বাহিনী দেখে যে, ইসরাইলি ড্রোনগুলো এতটা জটিল নয় যে তেহরান ও ইসফাহানের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সেগুলোর অনুকরণে নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন না।একাধিক সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে ইরানি ড্রোন মডেলগুলোতে ইসরাইলি ‘স্কাউট’ ও ‘মাস্টিফ’ ড্রোনের সাথে যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। তাদের মতে, ইরানি প্রকৌশলীরা এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য ইসরাইলি নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

    ১৯৭০-এর দশক থেকে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রই সবচেয়ে মূল্যবান ও কার্যকর।একটি গাইডেড মিসাইল এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, তা শত শত অগাইডেড অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হতো।ইরানিরা এই সামরিক সমীকরণে একটি নতুন ধারণা যুক্ত করে। যদি একটি দেশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে না পারে, তবে তাকে সংখ্যা ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটাই সেই মৌলিক ধারণা, যার ওপর ইরানি ড্রোন কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।যদি একটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ২০ হাজার ডলার খরচ হয়, তবে নির্ভুলতার দিক থেকে এটি ২০ লাখ ডলারের ক্রুজ মিসাইলের সমান কার্যকর হতে পারে না।কিন্তু যদি একসাথে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তাহলে প্রতিপক্ষকে সেগুলো ধ্বংস করতে কমপক্ষে ১০০টি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করতে হবে এবং এই খরচটা কয়েকগুণ বেশি।

    ড্রোন মূলত সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নয়, বরং শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে এবং আর্থিক চাপ বাড়াতেই তৈরি করা হয়।ইরান দীর্ঘক্ষণ ধরে ড্রোন হামলা চালাতে পারে কারণ এগুলোর খরচ শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম।একটি সাধারণ হিসাব দেখায়, ১০০টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে একটি আক্রমণকারী রাষ্ট্রের প্রায় ২০ লাখ ডলার খরচ হয়। এর বিপরীতে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রকে সেই ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে ২০ কোটি ডলার মূল্যের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।ড্রোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, রাডারের মাধ্যমে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এগুলো কম গতিতে এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে। এছাড়া একসাথে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠালে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে অনেক সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন প্রতিহত করতে পারে না।

    ২০১৯ সালে সৌদি আরব আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা এই সক্ষমতার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। ওই হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি তৈরি ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যদিও হামলার দায় হাউছিরা স্বীকার করেছিল, তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় যে এসব ড্রোন ইরান বা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।আরামকো স্থাপনায় হামলার ফলে কয়েক ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, অথচ ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মোট খরচ ছিল মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার। এই খরচের ব্যবধানই আসলে ড্রোন যুদ্ধে বিজয়ী ও পরাজিত নির্ধারণ করে দেয়।

  • চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, চীনের তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।

    বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলাগুলোর পেছনে এই চীনা প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির বরাতে জানা গেছে, ইরান গোপনে চীনের ‘আর্থ আই’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘TEE-01B’ স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এই স্যাটেলাইটটি আধা-মিটার রেজোলিউশনের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

    এই প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানি কমান্ডাররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, যেমন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ বা জর্ডানের মোয়াফ্ফাক সালতি ঘাঁটির রিয়েল-টাইম তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখন চীনের ‘বেইদু’ নেভিগেশন সিস্টেম এবং এই উচ্চমানের ইমেজিং স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে তারা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারছে। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কোনো হামলার আগে যেমন লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্ট করতে পারছে, তেমনি হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত যাচাই করতে পারছে।

    এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিং এই ধরণের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

    তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত না থেকেও ইরানের হয়ে এক ধরণের ডিজিটাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শামিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    এই স্যাটেলাইট কূটনীতি একদিকে যেমন ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের নতুন নজির স্থাপন করছে।

  • পদ্মা সেতুতে গাড়ি থামানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়

    পদ্মা সেতুতে গাড়ি থামানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়

    পদ্মা সেতুতে লাইভ পাইলটিং আকারে চালু হয়েছে আধুনিক ননস্টপ ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম। সোমবার দুপুর ২টা থেকে এ সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়ি থামানো ছাড়াই নির্ধারিত লেন ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করে সেতু পার হচ্ছে যানবাহন।

    রোববার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়।

    এতে বলা হয়- ইটিসি সিস্টেমে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের প্রথমে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের টেপ অ্যাপে গিয়ে ‘ডি-টোল’ অপশনে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও রিচার্জ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর পদ্মা সেতুর ‘আরএফআইডি’ বুথে শুধু প্রথমবারের মতো ‘আরএফআইডি’ ট্যাগ চেক ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

    পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, ইটিসিতে এখন লাইভ পাইলটিং ভাবে টোল কালেকশন চলবে। তবে যেতে পারবে সব ধরনের যানবাহন। পরীক্ষামূলকভাবে এখন টোল কালেকশন করার মাধ্যমে কোনো প্রকার টেকনিক্যাল সমস্যা হয় কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। আশাকরি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুরোপুরিভাবে এই ইটিসির মাধ্যমে টোল কালেকশন করা সম্ভব হবে।

    প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গাড়ি ব্যবহারকারীরা ন্যূনতম ৩০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে ইটিসি লেন ব্যবহার করতে পারবেন। এ সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ধারিত টোল কেটে নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে টেপের পাশাপাশি অন্যান্য ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাপও এই সেবার সঙ্গে যুক্ত হবে মর্মে আশা করা যায়। টেপসহ বিভিন্ন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য কাজ করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই।

  • পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাত্র ১৭ বছর বয়সের কলেজপড়ুয়া ছাত্র কাজী হাসিব টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেছেন মিগ-২৯ মডেলের রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। বিমানটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে আকাশে উড্ডয়ন করা হয়। যুদ্ধবিমানের মতোই দ্রুত গতিতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দৃষ্টিনন্দন ডিগবাজি খেতে খেতে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে। বিমানের শব্দ শুনে মনে হয়, যেন এটা আসলেই রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান।

    বিমানটি মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রদক্ষিণ করতে পারে বলে জানান এই তরুণ উদ্ভাবক।

    কাজী হাসিব উপজেলার চালা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কাজী ইলিয়াসের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সের (ডিপ্লোমা) প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র। কাজী হাসিবের এমন কারিশমায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয় কাজী হাসিব। সে নবম শ্রেণি থেকেই শুরু করে এই বিমান তৈরির গবেষণা। অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর পর সে সফলতার মুখ দেখেন। দরিদ্র পরিবারের কাজী হাসিব তার স্বপ্ন পূরণ হয়।

    দীর্ঘদিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেন এই যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। এ জন্য তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থ এ বিমানটি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন, ডিপরম শিট ও ককশিটের বডি, পাওয়ার ব্যাটারি, ট্রান্সমিটার, রিসিভার, ইলেকট্রনিক স্পিড কন্ট্রোলার, সার্ভো, মোটর, প্রপেলার, ব্লগান, আঠা ও কসটেপ। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয় এই মিনি বিমান। বিমানটি যখন আকাশে ওপরের দিকে উঠে তখন তার শব্দে চারপাশ ভারি হয়ে ওঠে। দেখে মনে হয় এটি সত্যিকারের একটি যুদ্ধবিমান।

    তরুণ উদ্ভাবক কাজী হাসিব বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। ক্লাস নাইন থেকেই এই বিমান তৈরির চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খায়; কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে আমাকে পড়াশোনা করায়। তাই এই কাজে বাবার কাছে হাত না পেতে আমার টিফিনের টাকা জমিয়ে আমি এই মিনি বিমানটি তৈরি করি। তবে আগে আরও দুইটা বানাইছিলাম। সেগুলো ঠিক মতো হয়নি। পরে এটা তৈরি করি এবং আকাশে উড়াই। এটা আরও উন্নত করতে পারলে অটো পাইলটের এ বিমানটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্ভব হবে।’

    ছবি সংগৃহিত

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুন বলেন, ‘আমরা আসলে অবাক হয়েছি ওর মেধা দেখে। এত অল্প বয়সে কত সুদূর পরিকল্পনা করে এ বিমানটি সে তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে হাসিব আমাদের এলাকার গর্ব। ওর বাবা গরীব মানুষ। তাই সরকারিভাবে হাসিবকে দেখভাল করলে দেশের জন্য ভালো কিছু হতে পারে। আমি ওর বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

    প্রতিবেশী মো. ইমন শেখ বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই হাসিব যে বিমানটি বানিয়েছে নিঃসন্দেহে আমাদের এলাকার গর্বের বিষয়। আমরা এতে গর্ববোধ করি। সরকারিভাবে যদি ওকে দেখভাল করে তাহলে ভালো করতে পারবে। কারণ ওর মেধা আছে। আমরা চাই সরকারিভাবে হাসিবকে সহযোগিতা করা হোক।’

    হাসিবের মা বলেন, আমার ছেলের বিমান তৈরির জন্য এলাকার সব মানুষ অবাক হয়েছে। আমরাও অবাক। আসলে আমরা তো ওর খরচ ঠিক মতো চালাইতে পারি না। নিজের টিফিনের টাকা জোগাড় করে আজ যে বিমান বানিয়েছে অবশ্যই এটা গর্বের। আমার অনুরোধ রইল, আপনারা যদি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ও ভালো কিছু করতে পারবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    হাসিবের বাবা কাজী ইলিয়াস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কৃষিকাজ করে খাই। আমার ছেলে তার টিফিনের টাকা জমা করে আজ ২২ হাজার টাকা খরচ করে এ বিমানটি বানিয়েছে। এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। যদি সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকারিভাবে আমার ছেলেকে সহায়তা করে তাহলে সে ভালো কিছু করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আগে শুনিনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আমি ওর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখি। তারপর দেখা যাবে আমরা ওর জন্য কিছু করতে পারি কি না।’

  • বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী। তিনি বলেছেন, ‘বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। এটি তার আগাম বার্তা।’

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিবিসি বাংলাকে তিনি এসব কথা বলেন

    মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘সাধারণত একশ থেকে দেড়শ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত দেড়শ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আশপাশে সবশেষ বড় ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছিল প্রায় একশ বছর আগে। তাই আরেকটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে।’

    সচেতনার বিষয়ে তুলে ধরে মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, ‘বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে, এটিই স্বাভাবিক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে যে ভবনগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বেড়েই চলেছে।’

    এদিকে রাজধানীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আকস্মিক একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।

    শুক্রবার সকালে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং ২ শতাধিক আহত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নগরীর বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সার্বিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য জরুরি এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ বা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে, দুর্ঘটনা সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য আদান-প্রদান ও জরুরি প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

    নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরগুলো

    মোবাইল : ০১৭০০-৭১৬৬৭৮
    ফোন : ০২-৪১০৫১০৬৫

  • মোবাইলে অশোভন বার্তা পাঠালে ২ বছরের দণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা

    মোবাইলে অশোভন বার্তা পাঠালে ২ বছরের দণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা

    ফোনে অশ্লীল বা অশোভন বার্তা পাঠালে হতে পারে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং দেড় কোটি টাকা জরিমানা। এমনকি কাউকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করলেও গুনতে হতে পারে এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড। এসব বিধান রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায়।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বুধবার অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করেছে। অংশীজন ও সাধারণ নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

    অধ্যাদেশের ধারা ৭০ অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কাউকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর ধারা ৬৯-এ বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ বা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে অশ্লীল, ভীতিকর, অপমানজনক বা অশোভন কোনো বার্তা, ছবি বা ভিডিও পাঠালে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, বেআইনিভাবে আড়ি পাতলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দেড় কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা যেমন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মেসেজিং ও ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ—সবই সরকারের অনুমোদনের আওতায় আসবে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে নিবন্ধন নিতে হবে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

    এ খাতে গঠিত হবে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন’, যা হবে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিশনটি লাইসেন্স প্রদান, নীতিনির্ধারণ, স্পেকট্রাম বণ্টন ও প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিশনের একজন হবেন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান।

    খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, অনুমতিহীনভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা বা বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম স্থগিত বা বন্ধ করতে পারবে।

    অধ্যাদেশের বিষয়ে মতামত পাঠানো যাবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ই-মেইলে অথবা ডাকযোগে সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভা
    বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা ঠিকানায়।
    সুত্র: ইত্তেফাক