তথ্য-প্রযুক্তি

  • হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    হলি ক্রস কলেজে বিবাহিতদের ভর্তি নিষেধ, বিয়ে করলে টিসি

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেবে না রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলি ক্রস কলেজ। কলেজের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিবাহিতদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেয়া হবে।

    কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০, মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.০০ থেকে ৫.০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ ৪.০০ থেকে ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

    এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৭০টি আসন রয়েছে।

    ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কলেজের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত লিংকে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে বিকাশের মাধ্যমে চার্জ ছাড়া ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদন ফরম ও ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোড করা যাবে।

    ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সিলেকশন টেস্টে অংশ নিতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সিলেকশন টেস্ট হবে ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) এবং বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা হবে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)।

    সিলেকশন টেস্টের শিফট ও সময় ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার পর কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। আর সিলেকশন টেস্টের বিস্তারিত আসন ব্যবস্থা—ভবনের নাম ও রুম নম্বরসহ—৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ১টার পর প্রকাশ করা হবে।

    সিলেকশন টেস্টে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা হবে। মানবিক বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, ভূগোল, পৌরনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্যোগ ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    সিলেকশন টেস্টে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর কলেজের ওয়েবসাইট, হলি ক্রস কলেজ ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি টাকা জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি টাকা জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    ভর্তি-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

  • খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

    খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

    খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা করেছে একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।

    ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সভায় পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    সভায় জানানো হয়, খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশনের (এডিআর) মতো সমঝোতাভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এছাড়া ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৫টি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএসহ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে। তাছাড়া আমানতকারীরা যাতে ৫ ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে তাঁদের আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকটির শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক ইউনিটের একীভূতকরণ, পুনর্বিন্যাস ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার কাজ চলমান রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বিআরডি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।

  • দু’দিন পরই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে

    দু’দিন পরই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে

    আগামী ২৮ আগস্ট আকাশে ঘটতে যাচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। আর তা হলো- একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে এই গ্রহণের সৃষ্টি করে। খবর আনাদোলুর।

    উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশপ্রেমীরা এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাবে।

    মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে) গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে এ মহাজাগতিক ঘটনাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে পর্যবেক্ষকরা কেবল সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের সময় গ্রহণের আংশিক রূপ দেখতে পাবেন।

    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মতো এবার সম্পূর্ণ চাঁদ ঢাকা পড়বে না, চাঁদের একটি ছোট অংশ পৃথিবীর গভীরতম ছায়ার বাইরেই থেকে যাবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যদিয়ে সূর্যালোক অতিক্রম করার সময় তা বিচ্ছুরিত ও প্রতিসরিত হওয়ার ফলে গ্রহণকবলিত অংশটি লালচে বা তামাটে বর্ণ ধারণ করতে পারে, যা ‘ব্লাড মুন’ হিসেবে পরিচিত।

    এই চন্দ্রগ্রহণটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে, যদিও গভীর আংশিক পর্যায়ের স্থায়িত্ব হবে তুলনামূলকভাবে বেশ কম। নাসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রগুলোর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে অবস্থান করবে।

    গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান হওয়া একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। মূলত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের একই সরলরেখায় অবস্থানের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় সংঘটিত হয়।

    সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ কোনও সুরক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দৃশ্যটি আরও কাছ থেকে উপভোগ করা সম্ভব।

  • জ্যোতিনগর মুসলিমকলোনিতে পানি নেই এক মাস ধরে

    জ্যোতিনগর মুসলিমকলোনিতে পানি নেই এক মাস ধরে

    কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জাহানারা বিবিসহ কয়েক শ পরিবারের বাসিন্দারা এই সংকটে পড়েছেন। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা গঙ্গার পানি ব্যবহার করছেন। তবে এতে নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

    জাহানারা বিবি বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুরাও মুখ ধুতে ঘাটে যাচ্ছে। অনেক শিশু গঙ্গায় পড়ে গেছে, কেউ কেউ অল্পের জন্য ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচেছে। যারা সাঁতার জানে না, তাদেরও বাধ্য হয়ে নদীতে গোসল করতে হচ্ছে।’

    জ্যোতিনগর কলোনি কলকাতা পৌর করপোরেশনের (কেএমসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৬০ বছর ধরে এখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম। অল্পসংখ্যক হিন্দু পরিবারও এখানে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লাপাড়া’ বা মুসলিম কলোনি নামে পরিচিত।

    কলোনির অনেক বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ অল্প মজুরিতে বোতল গলানোর কারখানায় কাজ করেন।

    ৬০ বছর ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে বসবাসকারী সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ নানা সমস্যায় একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এমন সংকট আমাদের জন্য একেবারেই নতুন।’

    কলোনিতে পানির ছয়টি কল রয়েছে। ২৯ জুলাই থেকে সব কটি কলেই পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কলগুলো শুকিয়ে থাকলেও একই সড়কের হিন্দু অধ্যুষিত কলোনিগুলোর পানির কল সচল রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামত করতে আসেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলে এবং সেদিন বাসিন্দারা পানি পান। কিন্তু ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তারা দেখতে পান, পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    পরদিন বাসিন্দারা পুলিশ ও পৌর করপোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি বলে দাবি তাদের। এর পরদিন কলোনির রাস্তাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    বাসিন্দারা জানান, দূষিত নদীর পানি ব্যবহারের কারণে কয়েকটি শিশু জ্বর, মাথাব্যথা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ঘাটের কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল সিঁড়িতে পড়ে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তাদেরও গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    রাস্তার বাতি বন্ধ করে দেওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইসা খাতুন বলেন, পানির সংকটের কারণে তিনি স্কুলে যেতে পারছেন না। পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় তার পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বস্তিতে থাকা স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।

    ইসা আরও বলেন, ‘রাস্তাগুলোর বাতি বন্ধ করে দেওয়া কলোনির নারীদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।’

    সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করে শুধু দরিদ্র মানুষকে হয়রানি করছে।’ দীর্ঘদিনের পানির সংকটে বস্তির প্রতিটি বাসিন্দাই সমস্যায় পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

    বাসিন্দারা জানান, সিপিআই(এম) ও পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি তিন থেকে চার দিন পরপর কেএমসির মাধ্যমে পানীয় পানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।

    সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় শাখার সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ৭০০ রুপি দিয়ে কেএমসির কাছ থেকে পানির ট্যাংকার নিচ্ছি। কিন্তু তিন-চার দিন পরপর এক ট্যাংকার পানি ৫ হাজার মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পৌর করপোরেশনেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস হয়ে গেল।’

    বুধবার কলোনির রাস্তার বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনতেও দলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

    বাসিন্দারা জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুমন সিংয়ের কাছ থেকেও তারা কোনো সাড়া পাননি। কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

    বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারির আগের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে পানির সংকটের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বলেছিলেন, যারা তাকে ভোট দেননি, সেই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কাজ করবেন না।

    ডিওয়াইএফআই কর্মী মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপির বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি এর আগে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই বস্তির মানুষকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বলেছিলেন। সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ করবেন না—এমন তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি এখন সেই কথাই বাস্তবায়ন করছেন।’

    বস্তির বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর হকার ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।

    সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গত ৬০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এই বস্তিই আমার সবকিছু। আমি এখান থেকে কোথাও যাব না।’

    সাংবাদিক ও কলাম লেখক অর্ক ভাদুড়ি বলেন, ‘জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক। এটি সংবিধানবিরোধী। শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের এমন অকল্পনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

    কলকাতার নাগরিক সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজ এখনো রাস্তায় নামেনি—এটি আমাদের সবার জন্য লজ্জার। এর মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে থাকা ইসলামবিদ্বেষেরই প্রকাশ ঘটছে।’

    পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরাও অজু করতে পারছেন না। উচ্ছেদের আশঙ্কার মধ্যে বস্তিটি রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি। সিপিআই(এম) নেতা শামীম আহমদ মামলাটি পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, বস্তি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়া গেছে।

    তবে আদালতের এই আদেশের পরও জ্যোতিনগর কলোনিতে পানির সংকট অব্যাহত রয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের ৭ নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ ঘিরে দেশজুড়ে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতে লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনসহ সাত ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানানো এবং প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সভায় প্রতিযোগিতার প্রচার-প্রচারণা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব অফিস তাদের আওতাধীন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বা গেটে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দর্শনীয় স্থানেও ড্রপডাউন ব্যানার ঝোলাতে হবে। এছাড়া ক্লাস চলার সময় প্রতিটি শ্রেণিতে নোটিশ পাঠ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মূল নোটিশ বোর্ডে এ-সংক্রান্ত তথ্য টাঙানোর পাশাপাশি নিজস্ব অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা গ্রুপেও প্রতিযোগিতার প্রচার চালাতে হবে। একইভাবে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যানার প্রকাশ করতে হবে।

    প্রচার উপকরণ হিসেবে লোগো, মাসকট, ব্যানার ও ফেস্টুনের নমুনা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে এসব উপকরণ সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ফুটবল দল গঠনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর। জেলা পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ের খেলা হবে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলা হবে ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।

    উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের খেলা হবে ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা পর্যায়ের খেলা ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর এবং শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)-এই চার বিভাগে খেলা হবে। প্রতিযোগিতাটি উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয়-চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও যাতায়াত সহজ করতে উপজেলা পর্যায়ের খেলা চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল জেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-এই সাত শিক্ষা অঞ্চলের বিজয়ী দলের সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে।

    জাতীয় পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-দুই স্তরে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ৩২টি দল খেলবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি দল থাকবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। বয়স নির্ধারণের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে খেলতে পারবেন। প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কর্মকর্তা বা শিক্ষক-ম্যানেজার ও কোচ-থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক। খেলা হবে নকআউট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

    প্রতিযোগিতায় অবৈধ, ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো দল পাতানো খেলায় জড়িত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে মাঠ থেকে উঠে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ ছাড়া রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করলে দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পুরস্কৃত করা হবে।

  • নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে

    নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বাড়ছে

    অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের ব্যবহার আবারো বাড়ছে। অভিভাবকদের জন্য তৈরি নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কুস্টোডিও-এর প্রকাশিত তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে।

    বিশ্বের অন্যতম কঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নিয়ন্ত্রণ আইন হিসেবে অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। পরে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরো কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

    নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এরপর ধীরে ধীরে সেই ব্যবহার আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো কোনো অ্যাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের সময়ের মাত্রার কাছাকাছিও পৌঁছে গেছে।

    কুস্টোডিওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ বছর এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের হার বাড়ছে।

    বিশেষ করে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এখনও অ্যাপটি ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে যে হার ছিল, তার চেয়ে এটি মাত্র এক শতাংশের কিছু বেশি কম।

    অন্যদিকে, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকটক ব্যবহারের হার নিষেধাজ্ঞার আগের মাত্রার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ পয়েন্ট কম।

    কুস্টোডিওর গ্লোবাল অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন লন্ডন বলেন, শিশুরা হয়তো ভিপিএন ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকছে, অথবা বয়সের তথ্য গোপন করছে।

    তবে তার মতে, বিষয়টি আরো সহজও হতে পারে- নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে কাজ করছে না বলেই শিশুরা আবার এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে।

    এদিকে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহারও শিশুদের মধ্যে বাড়ছে বলে কুস্টোডিওর তথ্য থেকে জানা গেছে।

    কুস্টোডিও জানিয়েছে, তারা অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নাম-পরিচয়বিহীন মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। কোনো শিশু একটি নির্দিষ্ট অ্যাপে এক মাসে অন্তত একবার টানা পাঁচ মিনিটের বেশি সময় কাটালে তাকে ওই অ্যাপের ব্যবহারকারী হিসেবে হিসাব করা হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের অনলাইন হয়রানি (সাইবার বুলিং) এবং শিশুদের লক্ষ্য করে কাজ করা ‘প্রিডেটরি অ্যালগরিদম’ থেকে সুরক্ষা দেয়াই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

    তবে জুনে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনাকৃত অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একদল গবেষকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে গেছে- এমন প্রমাণ খুবই কম।

    এদিকে, নিউজিল্যান্ড সরকারও চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। ওই আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো নিয়ম না মানলে মেটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

  • বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। এ সময় তিনি সহযোগিতার কথা জানান।

    বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।’

    তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন-পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।’

    আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’

    মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

    প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

    বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।

    সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদি আরবকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ফরাসি

    সৌদি আরবকে ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ফরাসি

    ফরাসি কোম্পানিগুলোর কাছে সৌদি আরব এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। দেশটি উৎপাদন, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার ঘাঁটি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

    সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে শিল্প ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৪৬টিতে। ওই বছর ১ হাজার ৬৬০টি নতুন শিল্প লাইসেন্স দেওয়া হয়, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগমূল্য প্রায় ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো। একই সময়ে ১ হাজার ২০১টি কারখানা উৎপাদনে যায়।

    দেশটিতে বর্তমানে ৩৬টি শিল্পনগরী এবং ৭০০টির বেশি প্রস্তুত কারখানা রয়েছে। চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড যোগ্য প্রকল্পের ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারে।

    সৌদি আরবে ইতোমধ্যে শ্নাইডার ইলেকট্রিক, ভ্যালুরেক ও টারকেটের মতো ফরাসি কোম্পানি শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। টারকেট জেদ্দায় উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগও প্রতিষ্ঠা করেছে।

    রপ্তানি ক্ষেত্রেও সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ২০২৫ সালে দেশটির তেলবহির্ভূত রপ্তানি ও পুনঃরপ্তানি ৮৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে এবং তা ১৮০টির বেশি দেশে গেছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে ৮৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    এদিকে রিয়াদকে আঞ্চলিক সদর দপ্তরের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। আঞ্চলিক সদর দপ্তর কর্মসূচির আওতায় রাজধানীতে ৭৫০টির বেশি কোম্পানি কার্যক্রম স্থাপন করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি ফরাসি কোম্পানি রয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত কর সুবিধা পেতে পারে।

    ফরাসি বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো, যা তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

    ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদি আরব এখন শুধু একটি বিনিয়োগের বাজার নয়; বরং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ব্যবসা ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী অর্জনের স্বীকৃতি প্রদান কেবল বিআইআরডিআই’র আওতাভুক্ত গবেষক ও উদ্যোক্তাদেরই নয়, বরং দেশজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে নিয়োজিত বৃহত্তর গবেষক ও উদ্ভাবক সমাজকেও ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

    তিনি বলেন, শিল্প খাতে উদ্ভাবন ও উন্নয়নে অবদান রাখা গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।

    সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (বিআইআরডিআই) উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দেশের শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিচালিত সিসিপের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্প উন্নয়নে উদ্ভাবনী অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব এবং সিসিপের জাতীয় প্রোগ্রাম পরিচালক ড. মো: খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

    তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় অর্থ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন বিআইআরডিআই উদ্যোগটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবমুখী ও শিল্পবান্ধব সমাধানের বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সুসংহতকরণ এবং দক্ষ জনশক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিআইআরডিআই উদ্যোগটি সিসিপের মূল লক্ষ্য ‘দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আলোকিত করা’- এর সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বক্তব্য রাখেন। তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের সাথে এডিবি’র দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে সিসিপের অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থকভাবে আয়োজনের জন্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিআইআরডিআই উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বিআইআরডিআই উদ্যোগ শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

  • চীনে চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

    চীনে চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত ব্যবহারে চীনের শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন খাতে এআই ও রোবটের ব্যবহার বাড়ায় অনেক কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামার ফেই ঝাওজুনের ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ। তার নিয়োগকর্তা জানতে চেয়েছিলেন, এআই শিগগিরই মানুষের বদলে কোডিংয়ের কাজ করতে পারবে কি না। এর দুই সপ্তাহ পর ফেইসহ প্রায় ১৬০ জন কর্মী চাকরি হারান।

    চীনে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি স্ক্রিপ্ট লেখা, অনুবাদ, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শারীরিক কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এসব কাজে যুক্ত কর্মীদের চাকরি ও আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খাবার সরবরাহের কাজেও রোবট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা লাখ লাখ ডেলিভারি কর্মীর জীবিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    চীনা সরকার ‘এআই প্লাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির পরিকল্পনাতেও বিভিন্ন শিল্পে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

    তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব কাজ নির্দিষ্ট দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেসব কাজে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বেশি।

    চীনে বর্তমানে সামগ্রিক নগর বেকারত্বের হার প্রায় ৫ শতাংশ। তবে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের বেকারত্বের হার এর প্রায় তিন গুণ। এ পরিস্থিতিতে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে এআই ও রোবটের ব্যবহার চীনের জন্য কিছুটা সুফলও আনতে পারে। দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চীনের অনেক কর্মীও এআইকে শুধু হুমকি হিসেবে দেখছেন না। কেউ কেউ চাকরি হারানোর পর এআই ব্যবহার করে নতুন ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এআই মানুষের বিকল্প হওয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি করতে পারে।

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    ফিচার:

    বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও কর্মক্ষেত্রÑপ্রায় সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবার লেখা, ছবি বা সফটওয়্যার তৈরির গণ্ডি পেরিয়ে জীববিজ্ঞানের আরো গভীরে প্রবেশ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন নতুন ভাইরাসের জিনোম নকশা তৈরি করেছেন, যেগুলো গবেষণাগারে কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ, এআইয়ের তৈরি জিনগত নকশা ব্যবহার করে এমন ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে এবং ধ্বংস করতে পারে।

    এই গবেষ

    ণার কেন্দ্রে রয়েছে Evo সিরিজের জিনোম-ভাষা মডেল। এর আগের সংস্করণ Evo-1 এবং পরবর্তী আরো উন্নত সংস্করণ Evo-2 জিনগত তথ্যের কাঠামো ও সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নতুন ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরির জন্য তৈরি করা হয়েছে। Stanford-এর তথ্য অনুযায়ী, Evo-এর প্রাথমিক প্রশিক্ষণে লাখ লাখ প্রোক্যারিওটিক ও ফাজ জিনোম এবং বিপুল পরিমাণ ডিএনএ সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হয়েছিল। মানুষের সংক্রমণ ঘটাতে পারেÑএমন ভাইরাসের জিনোম প্রশিক্ষণ ডেটা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

    গবেষণায় ব্যাকটেরিওফাজ ΦX174-কে একটি জৈবিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে এআইকে এমন নতুন জিনোম নকশা তৈরি করতে বলা হয়, যা Escherichia coli বা E. coli ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে। উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক কোনো ভাইরাসের হুবহু অনুলিপি তৈরি করা নয়; বরং জিনোমের কার্যকর কাঠামো অনুসরণ করে নতুন সিকোয়েন্স তৈরি করা। শত শত নকশার মধ্যে কার্যকর হলো মাত্র ১৬টি। এআই বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য জিনোম নকশা তৈরি করার পর গবেষকরা সেগুলোর একটি নির্বাচিত অংশ পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, প্রায় ৩০০টি নকশা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়; এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজে পরিণত হয়। এসব ফাজ E. coli সংক্রমিত করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়।

    এআইয়ের তৈরি প্রতিটি নকশা কার্যকর হয়নি। বরং বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য নকশার তুলনায় কার্যকর ফল পাওয়া গেছে খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে। ফলে গবেষণাটি এখনো মূলত proof of concept বা ধারণাটির বাস্তব কার্যকারিতার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গবেষকদের লক্ষ্য ছিল ব্যাকটেরিয়া

    গবেষণায় তৈরি ভাইরাসগুলো ব্যাকটেরিওফাজÑঅর্থাৎ এমন ভাইরাস যেগুলো ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। এগুলো মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়নি। গবেষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জিনগত তথ্য প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দিয়েছেন, যা মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে এ ধরনের প্রযুক্তির কোনো ঝুঁকি নেই। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে কম্পিউটারে তৈরি একটি জিনোমকে বাস্তব জৈবিক ব্যবস্থায় কার্যকর করা সম্ভব। আর এখানেই ভবিষ্যৎ বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী

    গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো ফাজ থেরাপি। ব্যাকটেরিওফাজ নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ করে ধ্বংস করতে পারে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো নির্দিষ্ট ও কার্যকর ফাজ তৈরির ক্ষেত্রে এআইনির্ভর জিনোম নকশা তৈরির নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

    তবে ফাজ থেরাপি এখনো সব ধরনের সংক্রমণের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না। কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট রোগীর জন্য উপযুক্ত ফাজ নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম নকশা করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও জীবপ্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ভুল হাতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়।

    জৈবনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই যত দ্রুত জিনোম নকশার সক্ষমতা অর্জন করছে, সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, গবেষণা-নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কম্পিউটারে তৈরি জিনগত নকশা থেকে বাস্তব জৈবিক উপাদান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত যাচাই ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। Stanford-এর গবেষকদের মতে, এই কাজ দেখাচ্ছে যে জেনারেটিভ মডেল শুধু বিদ্যমান জিনগত তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা নতুন জিনোমের নকশাও প্রস্তাব করতে পারে এবং সেসব নকশার কিছু বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা দেখাতে পারে।এই গবেষণা দ্বারা প্রথমবারের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছেÑএআই ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞানের নকশা ও পরীক্ষার কাজে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। একদিকে এটি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে। ফলে এআইনির্ভর জীববিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল গবেষণা, বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

  • দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি

    দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আইনের ব্যত্যয়বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ উপাচার্য (ভিসি)। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভিসির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন বাতিল, মাসের মধ্যে ভিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে ভিসি পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, গবেষণা ও একাডেমিক ডিগ্রিকে খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। নিয়োগ পাওয়া এসব ভিসির অনেককে ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩০টি পদে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ, দলীয় ঘনিষ্ঠতা, সুপারিশ ও তদবিরের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৫ কোটি পর্যন্ত। দেশের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সিন্ডিকেট এসব নিয়োগে সক্রিয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, দলীয় পরিচয় বা কোটায় নয়-মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগ অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু ঘটেছে উলটো। দলীয় আনুগত্য ও বিষয়ভিত্তিক-একাডেমিক দক্ষতার ঘাটতি থাকা ব্যক্তিদেরও এ পদে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেই দলীয় শিক্ষকরা ভিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এজন্য যা যা করা দরকার তারা সব ধরনের চেষ্টাই করেন। এভাবে কেন তারা নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন-এমন প্রশ্নেরও জবাব রয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ, টেন্ডার, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এসব কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের ঘটনা ঘটে। ফলে ভিসি পদটি হয়ে উঠেছে লোভনীয়। আর এসব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানোর কাজটি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং থেকে ছিটকে পড়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

    আইন লঙ্ঘন করে নিয়োগ : গাজীপুর ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) ভিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে রয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে খ্যাতিসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে-আইনে এমনটিই বলা আছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজনকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মানা হয়নি। একই ভাবে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজন ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করার আইনটি এখানেও উপেক্ষিত।

    অপরদিকে, কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে বিশেষ যোগ্যতার উল্লেখ না থাকার সুযোগ নিয়েছে নিয়োগ কমিটি। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলামকে। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এ সুযোগ থাকায় একাডেমিক অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে ব্যবসা প্রশাসন বা মানবিক বিভাগের শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

    নিয়োগ দিয়ে ফের বাতিল : নিয়োগের অসঙ্গতির বড় দৃষ্টান্ত বেগম রোকেয়া ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ ও বাতিলের ঘটনা। ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. শওকত আলীকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। দায়িত্ব গ্রহণের ২৩ দিনের মাথায় ৬ জুন তাকে ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমির হোসেনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইও করা হয়নি বলে জানা যায়।

    রাজনৈতিক পরিচয় যখন হাতিয়ার : সাম্প্রতিক ভিসি নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের দাবি, উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এমন অভিযোগের মাঝেই আলোচনায় আসে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাতের ঘটনা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চারজন সদস্য পদ পাওয়ায় ভিসির অফিশিয়াল প্যাডে ১৭ আগস্ট পৃথক অভিনন্দন বার্তা জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক হলেও কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোয় তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক নিয়োগকৃত ভিসিদের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে এবং ৩০ শতাংশ নিয়োগ হয়েছে যোগ্যতা-দক্ষতা ও একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে।

    দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ২ এপ্রিল ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভিসি নিয়োগে অনিয়ম বা বিতর্কের বিষয়ে জানতে কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। কমিটির অপর সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি এসব বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানি না।

    ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ভিসি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যারা এ পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন বা তদবির করেন, সবার আগে তাদের বাদ দেওয়া উচিত। এ পদে আবেদন করে আসা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, আওয়ামী লীগ আমলের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ফিরে আসবে কিনা, সেটিও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

    আওয়ামী আমলে শুরু দলীয় অনুগতদের নিয়োগ প্রক্রিয়া : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ফোনালাপে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে ফোনালাপটির সত্যতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথিতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার, উন্নয়ন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্তের অভিযোগ ওঠে। বিশেষজ্ঞরা সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে বলছেন, ৫ আগস্টের পরও সেই পুরোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইনের ব্যত্যয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করা ঠিক নয়। যদি নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটে থাকে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান বলেন, নোবিপ্রবি যেহেতু বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ কাউকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। ভিসির ব্যাকগ্রাউন্ড সমাজ বিজ্ঞানের হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণায় অবদান রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ

    সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ

    দেশজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ পরিদর্শনে দেয়া অনুশাসনের অগ্রগতি সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে দেওয়া অনুশাসনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত ১৬ আগস্ট (রোববার) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন চালু ও সচল রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিও চালু করতে হবে।

    নির্দেশনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বিল দিতে বলা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেতন বিল দেওয়া করা যাবে না। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ই-হাজিরা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

  • আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    আখের নতুন জাত ও জৈব সার উৎপাদনে সাফল্য

    ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চিনি কারখানার ক্ষতি হ্রাস, কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উথলী ইউনিটে স্থানীয় আখ চাষী শামীমের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনকালে এমডি রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির অন্যতম প্রধান অঙ্গ চিনি কারখানার লোকসান বিগত সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মূল কাঁচামাল আখের সরবরাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে চাষীদের সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সরকার প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করেছে। আসন্ন মাড়াই মৌসুমে কৃষকরা এই বর্ধিত মূল্য পাবেন। এছাড়া ফলন বাড়াতে ৮২টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে নতুন জাতের আখের পরীক্ষামূলক উদ্ভাবন কার্যক্রম চলছে।

    প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আর্থিক চিত্র তুলে ধরে এমডি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। চিনি কারখানা ব্যতিত অন্য সবকটি ইউনিটই লাভে রয়েছে—যার মধ্যে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৫ লাখ টাকা এবং পরীক্ষামূলক খামার থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ অর্জিত হয়েছে।

    বিশেষ করে জৈব সার ‘সোনার দানা’ বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সার বিক্রি থেকে এবার ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের কৃষকরা এটি ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

    কৃষকদের দেশের ‘প্রাণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য মূল্যের সমন্বয়ে কৃষক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়েই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
    অনুষ্ঠানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমান, ডিএম (সম্প্রসারণ) মাহাফুজুল আলম, সিডিএ সাকী মাহমুদ ও স্থানীয় আখ চাষী শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  • ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দিচ্ছে ফ্রান্স

    ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দিচ্ছে ফ্রান্স

    ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের পর এ সহায়তার কথা জানান।

    ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি। এ জন্য ফ্রান্স দেশটিতে নতুন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ করবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রযুক্তি ও লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবে প্যারিস।

    ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। বিশেষ করে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কিয়েভের। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।

    সাম্প্রতিক এক হামলায় ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ শহরের একটি শপিং সেন্টারে রুশ ড্রোন হামলায় বহু মানুষ হতাহত হন। এর পরই জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

    ইউক্রেনকে আরও সহায়তা ও রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ইউরোপীয় মিত্রদের একটি বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।

  • বৃটেনের সহায়তা কমছে ৫০ শতাংশের বেশি

    বৃটেনের সহায়তা কমছে ৫০ শতাংশের বেশি

    বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশে বৃটেনের অর্থায়নে পরিচালিত সুন্দরবনভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকল্পটির আওতায় থাকা প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রত্যাশিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ইতোমধ্যে নেয়া কিছু উদ্যোগও কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


    বৃটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০২৩ সালে সুন্দরবন এলাকায় প্রকল্পটি শুরু করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলার কথা থাকা প্রকল্পটির আওতায় সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মাছ চাষের প্রযুক্তি এবং ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। লক্ষ্য ছিল ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো। কিন্তু অর্থ কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত

    প্রকল্পটির জন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এর তুলনায় ‘অনেক কম’ অর্থ পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের জুনের মধ্যে প্রকল্প বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। পরে তদবিরের পর সময়সীমা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের প্রকল্পটি বৃটেন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কমানোর বৃহত্তর সিদ্ধান্তের অংশ। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশে বৃটেনে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ৬৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে নামবে- অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি কমছে।
    একই সময়ে বৃটেনের সামগ্রিক বৈদেশিক সহায়তা বাজেট জিএনআইয়ের ০.৫ শতাংশ থেকে ০.৩ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান তামান্না রহমান বলেন, আকস্মিকভাবে প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রকল্পের সুফল টেকসই করার সুযোগও কমে গেছে।

    এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা বিনা মণ্ডল একটি সৌর প্যানেল পেয়েছেন। এতে রাতেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তার পরিবারের মাছ ধরার আয় মাসে প্রায় ২-৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪-৫ হাজার টাকায় উঠেছে। আরেক বাসিন্দা বাসন্তী মণ্ডল সৌরচালিত ধান ভাঙানোর মেশিন পেয়ে বাড়িতে বসে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন।


    প্রকল্প বন্ধের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেঁদেছেন, আবার কেউ বুঝতে পারেননি- যখন উদ্যোগগুলো সুফল দিতে শুরু করেছে, তখন কেন সহায়তা বন্ধ হচ্ছে।


    এ ছাড়া বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে ১৪০ জন উদ্যোক্তার একটি প্রকল্প নিয়ে। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও এখন প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে তারা আবার ‘শূন্য অবস্থায়’ ফিরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন।


    প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বলছে, প্রকল্পের ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে নতুন অনুদান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ায় নতুন অর্থায়ন খোঁজার সময়ও পাওয়া যায়নি।


    বৃটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ার সারাহ চ্যাম্পিয়ন বলেছেন, এভাবে প্রকল্প দুই বছর আগে বন্ধ করে দেয়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিম্নআয়ের দেশগুলোর পাশে থাকার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। এতে বৃটিশ করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং লন্ডনের আন্তর্জাতিক সুনাম- দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    অন্যদিকে বৃটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এফসিডিও) বলেছে, তারা উচ্চমাত্রার অনুদানভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্বে বেশি গুরুত্ব দেবে।
    তাদের দাবি, এর মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, অর্থায়ন বাড়ানো এবং সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

  • মাটির নিচে গোপন ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

    মাটির নিচে গোপন ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

    ইরানের মাটির গভীরে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন। তেমনই এক গোপন সামরিক উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি। শনিবার (২২ আগস্ট) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘শত্রুপক্ষের জানা উচিত, তারা একটি জাতির ইচ্ছাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জিততে পারবে না।’

    ইরানের মেজান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী (ভারপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইবনে-রেজার উপস্থিতিতে জেনারেল আব্দুল্লাহি ভূগর্ভস্থ কারখানাটি ঘুরে দেখেন। সেখানে তাকে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র উৎপাদনের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো তৃতীয় দফায় চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময়কার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে

    সামরিক শিল্পের আধুনিকায়ন ও ক্ষিপ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করে জেনারেল আব্দুল্লাহি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এখন শুধু নিরলস শ্রম আর অগ্রগতির উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আজ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত মানের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদিত হচ্ছে। গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতিও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোনের উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কৃত্রিম উপগ্রহ, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী যান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। বছরের পর বছর গবেষণাগার ও উৎপাদন লাইনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই ইরান আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অথচ বিপ্লব-পূর্ব যুগে ইরানের প্রতিরক্ষা চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভর করত, যা এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে।

  • ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    নতুন বছর শুরু হতে এখনও প্রায় চার মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান কবে শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর কোন দিনে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে জর্ডান নিউজ। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখে একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাজ্যের হিজরি ক্যালেন্ডারের ওয়েবসাইট স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস ২০২৭ সালের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়বে এবং আগামী বছর রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিনটি হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি সোমবার পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, যা ১৪৪৮ সালের শাবান মাসের ২৯ তারিখের সঙ্গে মিলে যায়।এর ফলে হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসটি (৩০ দিন) পূর্ণ হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তা শেষ হবে। আর এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।

    এ ছাড়া ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রমজান মাস ২৯ দিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা আগামী বছরের ৮ মার্চ (সোমবার) শেষ হতে পারে।

  • তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

    ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: এনগেজিং অ্যান্ড ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ইন ব্যাংকিং’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। এতে তরুণদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা, স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাইম ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হবে।’ এ ধরনের আয়োজনের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এমএম মাহবুব হাসান মূল বক্তব্যে আর্থিক সাক্ষরতা ও স্মার্ট মানি ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের স্বাস্থ্যকর আর্থিক অভ্যাস গড়ে তোলা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়মিত সঞ্চয়, সচেতন আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ এ সময় তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ‘গ্র্যান্ডফাদার কনসেপ্ট অব পারসোনাল মানি ম্যানেজমেন্ট’ ধারণাটিও তুলে ধরেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে ব্যাংক খাতে আরো কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও আর্থিক খাত সম্পর্কে ধারণা দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন মনোয়ারা খাতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মক ইন্টারভিউ পরিচালনা করেন। ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিজিওনাল হেড (সাউথ) মোস্তফা মাহমুদ উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

    সেমিনারে মক ইন্টারভিউ, ক্যারিয়ার আড্ডা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব পর্বে সেরা অংশগ্রহণকারীদের প্রাইম ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন মুন্না।

  • ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ

    এ ক্যাম্পেইনের আওতায় বাংলা কিউআর ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধকারী ৫০ জন গ্রাহক এবং ৫০ জন মার্চেন্ট স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ পাবেন। ২৩ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে।

    ২০ আগস্ট রাজধানীতে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলতাফ হুসাইন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম।

    অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআর ও কিউআরভিত্তিক সিকিউরড স্টেটমেন্ট বিষয়ে আলোচনা করেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনজুজ্জামান। এ সময় ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন জোন ও শাখাপ্রধান এবং উপশাখার ইনচার্জরা জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা কিউআর একটি নতুন সংযোজন। এটি দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রবাসীদের দ্রুত, সহজ ও নিরাপদে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ তৈরিতেও ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা কিউআর ব্যবহারের বিস্তারের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নিতে পারবেন। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরো বিস্তৃত হবে এবং একটি আধুনিক, ক্যাশলেস ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলা কিউআরকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা হিসেবে নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ অধিকসংখ্যক মার্চেন্টকে বাংলা কিউআরের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

  • গাজায় লাখ লাখ লোকের রোগীর তীব্র ওষুধ সংকট

    গাজায় লাখ লাখ লোকের রোগীর তীব্র ওষুধ সংকট

    গাজা উপত্যকায় বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখের বেশি রোগীর জন্য জরুরি ওষুধ প্রয়োজন হলেও সেখানে যে পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করছে, তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ।

    আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশের ব্যবস্থা না করা গেলে উপত্যকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

    মোহাম্মদ আবু আফাশ বলেন, বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ সহায়তা গাজায় ঢুকছে, তা মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বাড়বে এবং রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

    ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির এই কর্মকর্তা গাজায় দ্রুত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

  • যে ধরনের কনটেন্টে বাড়বে ফেসবুকের আয় ও রিচ

    যে ধরনের কনটেন্টে বাড়বে ফেসবুকের আয় ও রিচ

    ফেসবুক পেজ থেকে আয় ও রিচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্ল্যাটফর্মটি এখন আর শুধু নিয়মিত পোস্ট করাকেই যথেষ্ট মনে করছে না; বরং কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অবদান কতটা রয়েছে, তা-ও বিবেচনায় নিচ্ছে অ্যালগরিদম। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুক রিচ বাড়ানোর উপায় ও ফেসবুক মনিটাইজেশন নিয়ে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    ফেসবুকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব উপস্থাপনা ও নতুন মূল্য সংযোজন থাকে, সেগুলোই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে ফেসবুক থেকে আয় ও ফেসবুক পেজের রিচ বাড়াতে চাইলে কনটেন্ট তৈরির ধরনেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে নির্মাতাদের।

    নিজের তৈরি কনটেন্টে গুরুত্ব বেশি

    ফেসবুকের ভাষ্যমতে, নিজের ধারণ করা ভিডিও, নিজের পরিকল্পনায় তৈরি কনটেন্ট এবং নিজস্ব কণ্ঠ, উপস্থাপনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা ভিডিওকেই অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো বিষয়ে নির্মাতা নিজে গবেষণা করে তথ্য উপস্থাপন করলে কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যুক্ত করলেও কনটেন্টের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

    অন্যের কনটেন্টে যোগ করতে হবে নতুন মূল্য

    অন্যের ভিডিও

    বা ফুটেজ ব্যবহার করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অরিজিনাল হয়ে যায় না বলে স্পষ্ট করেছে ফেসবুক। তবে সেই কনটেন্টের সঙ্গে নিজস্ব বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করলে তা দর্শকের জন্য বাড়তি মূল্য তৈরি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ঘটনার ফুটেজ শুধু দেখিয়ে দেওয়ার বদলে তার কারণ, প্রভাব বা প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরলে কনটেন্টটি ভিন্ন মাত্রা পায়।

    সামান্য এডিটে অরিজিনাল হয় না

    অন্যের ভিডিওতে শুধু গান পরিবর্তন, ক্যাপশন যোগ, বর্ডার সংযোজন কিংবা গতি কমানো-বাড়ানোর মতো সামান্য সম্পাদনাকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয় না বলে জানিয়েছে ফেসবুক। কারণ, এতে কোনো নতুন সৃজনশীল সংযোজন থাকে না। রিঅ্যাকশন ভিডিওর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য—শুধু অন্যের ভিডিও দেখে প্রতিক্রিয়া জানালেই চলবে না, নির্মাতার নিজস্ব মতামত, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। কোনো ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ, এর প্রভাব কী বা এতে নতুন কী তথ্য যুক্ত হলো—এসব তুলে ধরলে কনটেন্টে আলাদা মূল্য যোগ হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ফেসবুকের লক্ষ্য হলো, নির্মাতারা যেন শুধু অন্যের কনটেন্ট পুনরায় প্রকাশ না করে নিজস্ব ভাবনা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করেন।

    ট্রেন্ড অনুসরণ ও ভিডিও কনটেন্টের ভূমিকা

    অরিজিনাল কনটেন্টের পাশাপাশি বর্তমান আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করলে অর্গানিক রিচ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে বলে জানাচ্ছেন কনটেন্ট বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে ফেসবুকের নিজস্ব ট্রেন্ডস ট্যাব ও হ্যাশট্যাগ বিশ্লেষণ কাজে লাগানো যেতে পারে। এর পাশাপাশি ফেসবুকের অ্যালগরিদম বর্তমানে শর্ট-ফর্ম ভিডিও তথা রিলস কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। তাই নিয়মিত মানসম্মত রিলস তৈরি করলে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়ানো সহজ হয়।

    দর্শকের সম্পৃক্ততা ও ধারাবাহিকতা

    কমেন্টের উত্তর দেওয়া, পোলস ব্যবহার করা এবং প্রশ্নভিত্তিক পোস্ট দেওয়ার মতো পদ্ধতিতে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি ইন্টারঅ্যাকশন বাড়ানো যায়, যা অ্যালগরিদমের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি অনিয়মিতভাবে পোস্ট করলে অ্যালগরিদম পেজের কনটেন্টকে কম প্রাধান্য দেয় বলেও জানা গেছে, ফলে নির্দিষ্ট একটি পোস্টিং সময়সূচি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মনিটাইজেশনের শর্ত

    আয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ফেসবুকের মনিটাইজেশন শর্তগুলো পূরণ করতে হবে—যেমন পেজের ফলোয়ার সংখ্যা, ভিডিওর ওয়াচ টাইম এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা। ইন-স্ট্রিম অ্যাডস ও ফেসবুক স্টারসের মতো ফিচারগুলোও আয়ের অতিরিক্ত পথ খুলে দিতে পারে বলে জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, ফেসবুকে আয় ও রিচ বাড়াতে চাইলে কপি করা কনটেন্টের পরিবর্তে নিজস্ব পরিকল্পনা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে তৈরি মৌলিক কনটেন্টের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

  • সারাক্ষণ মোবাইল ডেটা চালু রাখলে যে সমস্যা হতে পারে

    সারাক্ষণ মোবাইল ডেটা চালু রাখলে যে সমস্যা হতে পারে

    ফিচার

    স্মার্টফোন এখন যোগাযোগ থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন—দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও ফোনের মোবাইল ডাটা সবসময় চালু রাখেন। তবে এই অভ্যাসের কারণে অজান্তেই বাড়তে পারে ডেটা খরচ, দ্রুত কমতে পারে ব্যাটারি এবং কখনো কখনো ফোনের ওপর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হতে পারে।

    ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা খরচ

    ফোনের স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও অনেক অ্যাপ পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, নিউজ, আবহাওয়া কিংবা শপিং অ্যাপ নিয়মিত সার্ভারের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। ফলে নতুন মেসেজ, নোটিফিকেশন ও অন্যান্য তথ্য আপডেট করার সময় মোবাইল ডাটা ব্যবহার হয়। এতে ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও ডেটা প্যাক থেকে কিছুটা খরচ হতে পারে।

    ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে

    মোবাইল ডাটা চালু থাকলে ফোনকে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে হয়। বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় সংযোগ ধরে রাখতে ফোন তুলনামূলক বেশি শক্তি ব্যয় করতে পারে। এর সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকলে ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

    ফোন উষ্ণ হতে পারে

    মোবাইল ডাটা চালু থাকার পাশাপাশি অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করলে প্রসেসর ও নেটওয়ার্ক মডেমের কাজের চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় এভাবে চললে ফোন কিছুটা গরম হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু মোবাইল ডাটা চালু রাখলেই ফোনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

    দ্রুত শেষ হতে পারে ডেটা প্যাক

    স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক, ক্লাউড ব্যাকআপ, অ্যাপ আপডেট এবং ভিডিও কনটেন্ট প্রিলোডের মতো বিভিন্ন কাজ ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে পারে। এসব কার্যক্রমের পরিমাণ ফোনের অ্যাপ ও সেটিংসের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ডাটা চালু রাখলে মাসিক ডেটা প্যাক প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    বাড়তে পারে নোটিফিকেশনের বিড়ম্বনা

    ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় থাকলে বিভিন্ন অ্যাপ থেকে নিয়মিত নোটিফিকেশন আসতে থাকে। ফোনে বেশি অ্যাপ থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বারবার শব্দ, ভাইব্রেশন বা স্ক্রিন জ্বলে ওঠা কাজে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। রাতে ঘুমের সময়ও এটি বিরক্তির কারণ হতে পারে।

    কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

    ফোন ব্যবহার না করার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ডাটা বন্ধ রাখা সবচেয়ে সহজ সমাধান। যারা সবসময় ডাটা চালু রাখতে চান, তারা ফোনের Data Saver বা Background Data Restriction সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

    এ ছাড়া সেটিংস থেকে কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করে দেখা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা সীমিত করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় আপডেট বন্ধ রাখা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ করেও ডেটা ও ব্যাটারি সাশ্রয় করা সম্ভব।

    অর্থাৎ, সারাক্ষণ মোবাইল ডাটা চালু রাখলেই দামি স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া ডাটা চালু রাখার অভ্যাস ব্যাটারি ও মোবাইল ডাটার অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বাড়াতে পারে। সচেতনভাবে ফোনের সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে এই বাড়তি খরচ ও ব্যাটারির ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ কিংবা সাগরে থাকা মানুষকে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা চালু করেছিল বাংলালিংক। এ কার্যক্রম সফল হয়েছে দাবি করে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবা এবার বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে চায় অপারেটরটি। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলালিংক।

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি।

    যেভাবে কাজ করে ডিটুসি

    সাধারণ মুঠোফোনের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত ভূমিতে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল। ফোন থেকে পাঠানো সংকেত প্রথমে কাছের মোবাইল টাওয়ারে যায়। কিন্তু কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায়। এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বার্তা বা ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। এ প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, সেবা পেতে আলাদা স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

    প্রযুক্তিগতভাবে উপযোগী সাধারণ ফোর–জি মুঠোফোন ব্যবহার করেই সেবা নেওয়া সম্ভব। মোবাইল টাওয়ারের কভারেজের বাইরে গেলে ফোনটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে।

    কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    কেন দরকার

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট মুঠোফোন গ্রাহক ১৯ কোটির কাছাকাছি। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার রয়েছে ২১ হাজার ৩৬৯টি। এর বাইরে সাত হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে কম জনসংখ্যার বা দুর্গম এলাকায় টাওয়ার স্থাপনে অপারেটরদের আগ্রহ কম থাকে।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেখানে টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে সীমিত যোগাযোগসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে।

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। গত মে মাসে সরকার দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট (পিওসি) পরীক্ষার অনুমতি দেয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে মোবাইল সংযোগ দেওয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সময় বান্দরবান, সন্দ্বীপসহ নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সেখানে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং, ওটিটি ভয়েস কলসহ বিভিন্ন কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।

    সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে

    বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান

    বাণিজ্যিক অনুমোদন চেয়ে চিঠি

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলালিংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত এলটিই-সক্ষম মুঠোফোন কোনো বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি ডিটুসি সেবায় যুক্ত হতে পারে—পিওসিতে তা প্রমাণিত হয়েছে। এই ভিত্তিতে বিদ্যমান সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস অপারেটর লাইসেন্সের আওতায় প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি চেয়েছে তারা।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও অন্য সামুদ্রিক পেশাজীবীরা, যাঁরা বর্তমানে স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের বাইরে থাকেন, তাঁরাও এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলালিংক আরও জানিয়েছে, সেবা চালুর ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত সব শর্ত ও নির্দেশনা মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    জানতে চাইলে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।’

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    শুরুতে যে সেবা মিলবে

    বাংলালিংক সূত্র বলছে, বাণিজ্যিক অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতেই সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিরেক্ট-টু-সেলের বর্তমান ব্যবহারে মূল সুবিধা হলো, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায়ও সীমিত ব্যান্ডউইথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

    নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে প্রশ্ন

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পরও বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসি বাংলালিংককে যে অনুমতি দিয়েছিল, তা ছিল শুধু পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য। সেই অনুমোদনকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না—এমন শর্তও ছিল।

    এর বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার জন্য ব্যবহৃত স্পেকট্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আওতায় মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি ব্যান্ড স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক কাঠামোতেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিটিআরসির এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) স্যাটেলাইট সার্ভিসের গাইডলাইনে এই লাইসেন্সের আওতায় ‘স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইএমটি বলতে মূলত মুঠোফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও স্পেকট্রামকে বোঝায়।

    যদিও বিটিআরসির একটি সূত্র বলছে, ডিটুসি প্রযুক্তির বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখনো কমিশনের হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানী ঢাকায় যানজট বেশ পুরনো সমস্যা। এতে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেলেনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধান। তবে সম্প্রতি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার ব্যবহার কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উদ্যোগ নিয়েছে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর।

    সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশ কমে আসবে বলে আশা করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্ত করেন এ আশাবাদ।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তার ভাষ্য, পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে, এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, ড্রোনে যদি অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে অফিসে বসে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ঢাকায় বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থামে না। বাসের কন্ডিশন অনুযায়ী ‘পার ডে’ তারা মালিককে টাকা দেয়। এই টাকা দেওয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন করে তারা। কম্পিটিশনের কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের পুরো রাস্তা ব্লক করে দেয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, উন্নত দেশগুলোয় নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে— সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকার প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। এটা যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন— এই দুটি কাজ যতদিন আমরা যথাযথভাবে করতে না পারব, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

    ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান জানালেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন— কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’

    ‘ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তবে এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব’, যোগ করেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তা।

    ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডাটা সরাসরি পাওয়া যাবে কি না— জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বললেন, একদম রিয়েল টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব। তবে, এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো লাগবে। কারণ এগুলো সবই হচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস দরকার, অবকাঠামো দরকার। এগুলোর জন্য ব্যয় আছে।

    ড্রোন পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দরকার আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা এরই মধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    এ প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে চ্যালেঞ্জের কথা জানাতে গিয়ে আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।

    ‘আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কি না। আপাতত কাজ করছে। তবে সমস্যা যে নেই, তা নয়। সমস্যা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। তবে এই অভ্যাস তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে। আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। যদি কোনো নেতিবাচক দিক দেখা যায়, তাহলে এটি চালু করা হবে না’, যোগ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    ইসলামের মূল লক্ষ্য শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে শান্তি ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য কখনো কখনো শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তাই অনেক সময় দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব পরিহার করে আত্মরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই শক্তি শুধু অস্ত্রশস্ত্র বা সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কৌশলগত দক্ষতা ও নৈতিক নেতৃত্বও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের আলোকে মুসলিম উম্মাহর সামরিক শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিরোধ

    ইসলাম মুসলমানদের আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জন এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধোপকরণ সংগ্রহ, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহনের ব্যবস্থা, শরীরচর্চা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। কোরআনে নির্দিষ্ট কোনো অস্ত্রের নাম উল্লেখ না করে শক্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে, যা যুগ ও সময়ভেদে পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করে। অতীতে তীর-তলোয়ার ও বর্শা ছিল যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র; পরে বন্দুক ও কামানের যুগ এসেছে আর বর্তমান যুগে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা প্রচলিত।

    সুতরাং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশল আয়ত্ত করা ইসলামি নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রভান্ডারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, গোয়েন্দা দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও এর অপরিহার্য অংশ। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক শক্তি অর্জন অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ববাহিনী, তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে, তোমাদের শক্রকে এবং এরা ছাড়া অন্যদের যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা আল-আনফাল : ৬০)

    নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষা

    ইসলামে সামরিক শক্তি অর্জনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলোÑ অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা। যদি দুর্বলদের রক্ষা করা না হয়, তাহলে পৃথিবীতে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করবে এবং সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো তাদের যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ তারা অত্যাচারিত। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। তাদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।’ আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিষ্টান সংসার-বিরাগীদের উপাসনা স্থান, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদগুলো; যাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে (তাঁর ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান, চরম পরাক্রমশালী।’ (সুরা আল-হজ : ৩৯-৪০)

    এই আয়াত প্রমাণ করে, সামরিক শক্তি শুধু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং মানবসমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইসলাম শান্তিপ্রিয় অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয়। তবে যখন কোনো শক্তি ইসলাম, মুসলমান বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-মুমতাহিনা : ৮)

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    নবী (সা.) মুসলমানদের যুদ্ধোপকরণ প্রস্তুত করা, তীরন্দাজি শেখা, ঘোড়সওয়ারি অনুশীলন করা এবং সামরিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি এসব কাজকে শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, বরং ইবাদত ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবু হোসাইন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা একটি তিরের উসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তীর নির্মাতা যে নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করেছে, (জিহাদে) এই তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি করো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজি শিক্ষা করা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়। মুসলিম ব্যক্তির সব ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তীর নিক্ষেপ, ঘোড়ার প্রশিক্ষণ এবং নিজ স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। (কারণ) এগুলো হলো উপকারী ও বিধিসম্মত। (তিরমিজি : ১৬৩৭)

    বোঝা যায়, মুসলিম সমাজকে সর্বদা দক্ষ, সক্ষম ও প্রস্তুত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে সামরিক শক্তি অর্জন কোনো আগ্রাসী মনোভাবের প্রতীক নয়; বরং আত্মরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষার একটি অপরিহার্য উপায়। মুসলিম উম্মাহর জন্য সামরিক শক্তি অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চরিত্রগঠন ও নৈতিক নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হওয়াও সমানভাবে জরুরি। তখনই একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

  • ভারতে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি পাচ্ছেন না স্নাতকেরা

    ভারতে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি পাচ্ছেন না স্নাতকেরা

    ভারতে ‘নলেজ পার্ক’ বলতে এমন এক পরিকল্পিত অঞ্চলকে বোঝায়, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি এবং স্টার্ট-আপগুলো একত্রে গড়ে তোলা। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে কয়েকটি নলেজ পার্ক গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চল মূলত অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচিত।

    উত্তর ভারতের ‘নলেজ পার্ক থ্রি’ (গ্রেটার নয়ডা এলাকা) তেমনি একটি বড় শিক্ষা কেন্দ্রের অংশ। এটি গড়ে উঠেছিল এমন একটি প্রতিশ্রুতির ওপর—কলেজের ডিগ্রি তরুণ ভারতীয়দের মধ্যবিত্ত জীবনে পৌঁছে দেবে। কিন্তু রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্র থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে গড়ে ওঠা বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এলাকায় পড়তে আসা প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ডিগ্রির বদলে তাঁদের অনেকের ভাগ্যে জুটছে ঋণ আর একরাশ হতাশা।

    এ এলাকার পাঁচটি নলেজ পার্কে গত এক দশকে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াতে পরিবারগুলো তাদের সঞ্চয় শেষ করছে। কিন্তু প্রতিবছর যত শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করছেন, সেই তুলনায় ভালো বেতনের চাকরি তৈরি হচ্ছে অনেক কম।

    উত্তর ভারতের বারানসি শহরের ১৮ বছর বয়সী হর্ষিত রাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংসহ চাকরি পেতে কাজে লাগতে পারে—এমন সব বিষয় পড়ছেন। নয়ডা ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তাঁর ডিগ্রি শেষ করতে প্রায় ১৫ হাজার ডলার খরচ হবে। এর মধ্যে সাত হাজার ডলার ব্যাংকঋণ। তাঁর লক্ষ্য মাসে ৮০ হাজার রুপি বা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার আয় করা। তবে এর অর্ধেক বেতনের চাকরি পেলেও তিনি রাজি হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে শুধু পড়াশোনার খরচের সমান অর্থ আয় করতে তাঁর পাঁচ থেকে ছয় বছর চলে যাবে। স্নাতক হওয়ার এক বছর পর তাঁর ঋণের ওপর বছরে ১০ শতাংশ হারে সুদ যোগ হওয়া শুরু হবে। হর্ষিত বলেন, ‘কিছুটা চাপ অনুভব করি। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে?’

    ভারতের তরুণদের মধ্যে এই উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। গত মাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের (ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপির ডাকে) মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরলভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য বিক্ষোভ এখন কমে এসেছে, কিন্তু যে হতাশা থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা রয়ে গেছে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা ভালো জীবনের পথে তরুণদের সামনে থাকা নানা বাধার বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে শুরু হয় বিক্ষোভ। ভারতের প্রধান বিচারপতি মে মাসে দেশটির বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের ইঙ্গিতেই দলের এই নাম রাখা হয়। তরুণদের অসন্তোষের একটি বড় কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।

    ভারতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। প্রতিবছর এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ করে বাড়ছে।

    যেসব পরিবারের কিছু অর্থ আছে, তাদের কাছে শিক্ষা কম মজুরির কৃষিকাজ ও শ্রমের জীবন থেকে বেরিয়ে আসার কয়েকটি পথের একটি। সবচেয়ে ভালো সুযোগ হলো দেশের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো একটিতে ভর্তি হওয়া। যাঁরা সেখানে সুযোগ পান না, তাঁদের সামনে বিকল্প হিসেবে থাকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভারতে বেসরকারি শিক্ষার এই ব্যবসা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরের এক দশকে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা তিন গুণ হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ। এক দশক আগের তুলনায় এটি ৪১ শতাংশ বেশি। উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েন। উচ্চশিক্ষা যত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে, সেই গতিতে ভালো চাকরি তৈরি হয়নি।

    আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২৫ বছরের কম বয়সী কলেজ স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার।

    ভারতে মাসে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি বছরে তৈরি হয় মাত্র প্রায় আড়াই লাখ। দেশটির বেশি আয় করা ব্যক্তিদের মধ্যে আরামদায়ক জীবনযাপনের একটি মানদণ্ড হিসেবে এই বেতনকে বিবেচনা করা হয়। এসব চাকরির প্রতিযোগিতায় নামী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরা অনেক এগিয়ে থাকেন।

    উদ্যোক্তা ও একটি শিক্ষা ফেলোশিপ কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা অক্ষয় সাক্সেনা বলেন, ‘তরুণদের কাছে একটি মিথ্যা বিক্রি করা হয়েছে। সেটি হলো, ডিগ্রি পেলেই চাকরি পাওয়া যাবে।’

    ভারতীয় শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে

    ভারতে প্রায় ৫৫০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এগুলোর মাত্র এক-দশমাংশকে অভিজাত বা সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনকারীদের ৫ শতাংশেরও কম ভর্তির সুযোগ পান। সেখানে বছরে গড় টিউশন ফি ২৫০ ডলারের কম। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি ডিগ্রি একজন শিক্ষার্থীকে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলোর দিকে এগিয়ে দিতে পারে। বাকিদের সামনে থাকে অনেক বেশি ঝুঁকির হিসাব।

    অক্ষয় সাক্সেনার হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে পড়ার জন্য ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন। তাঁদের আশা, ডিগ্রি শেষ করে তাঁরা বড় অঙ্কের বেতন পাবেন। কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বেতন প্রায় তিন হাজার ডলার। তিনি বলেন, ‘গড়পড়তা একজন স্নাতকের চাকরি পাওয়ার উপযোগিতা মাত্র ২০ শতাংশের মতো।’

    এই অসামঞ্জস্য এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাকে অক্ষয় সাক্সেনা বলেছেন ‘ভয়াবহ জাতীয় মানসিক সংকট’।

    একসময় প্রকৌশল ডিগ্রিকে ভারতের প্রযুক্তি খাতে ঢোকার নির্ভরযোগ্য পথ মনে করা হতো। তাই এসব ডিগ্রি পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো কোম্পানি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এখন এসব চাকরির ভবিষ্যৎও আগের চেয়ে অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।

    ভারতের ক্লাউড সফটওয়্যার কোম্পানি জোহো সহপ্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভারতে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষার নামে তরুণদের ঋণের ফাঁদে ফেলা উচিত নয়।’

    নয়াদিল্লির উপকণ্ঠ নয়ডায় অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কম খরচের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্প হিসেবে আসে। অতুল আনন্দ নিজের রাজ্য বিহারের একটি শীর্ষ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর আগে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে তিনি সেখানে ভর্তি হতে পারেননি। পরে ঋণ করে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ডিগ্রি ও জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৫ হাজার ডলার (১ ডলার সমান ৯৫ দশমিক ৭০ ভারতীয় রুপি) লাগবে। রাজ্য সরকার এ খরচের জন্য তাঁকে চার হাজার ডলার ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থ জোগাতে তাঁর পরিবার সঞ্চয়ের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছেছে।

    অতুলের বাবা গ্রামের একটি স্কুলে গণিত ও হিন্দি পড়ান। নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে অতুল রাতে ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করেন। ভাগ্য ভালো হলে প্রযুক্তি খাতে বছরে ১০ হাজার ডলার বেতনের চাকরি পেতে পারেন বলে তাঁর আশা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন খুব বড় নয়। আমি ঋণ ও পরিবারের খরচের বোঝা কমাতে চাই।’

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই অতুল গত মাসের দিল্লির যন্ত্রর মন্ত্ররে সিজেপির আন্দোলনের শেষ দিনে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি আন্দোলনকারী হিসেবে নয়, বরং নিজেদের নানা অভিযোগ জানানোর জন্য সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক কারণে সেখানে যাইনি।’ তাঁর বন্ধু এম জে বিশ্বাস আন্দোলনকারীদের ঘোষিত দাবির বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাঁদের দাবির মূল বিষয় ছিল ভারতের পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা। বিশ্বাসের মতে, আন্দোলনের পেছনে আরও গভীর একটি কারণ ছিল। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষোভ আসলে তোমাদের ভয় ঢাকার মুখোশ। তোমরা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব ভীত।’

    অক্ষয় সাক্সেনা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধাপ্রাপ্ত দিকটি কেমন, তা জানেন। তিনি দেশের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বোম্বেতে পড়েছেন। পরে তিনি বোস্টন কনসালটিং গ্রুপে যোগ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে নতুন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। এখন তিনি অবন্তী ফেলোসের মাধ্যমে মেধাবী ও নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    কিন্তু শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যত আসন আছে, সেখানে ভর্তির চেষ্টা করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে ভালো চাকরির সংখ্যার তুলনায় স্নাতকের সংখ্যা অনেক বেশি। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষার বিশাল একটি খাত পরিবারগুলোর কাছে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ওপরে ওঠার সম্ভাবনা বিক্রি করছে। অথচ সেই সম্ভাবনা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অক্ষয় সাক্সেনা বলেন, ‘বাস্তবে কেউই চাকরি পাবে না। মানুষের অসহায়তাকেই অর্থ উপার্জনের উপায় বানানো হবে।’

  • সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    ঢালিউডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তার মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের মান ধরে রাখতে হলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন চলচ্চিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে দেশীয় সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও কারিগরি টিমের কাজের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান বা কারিগরি পারসন আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে আমরা বা আমাদের আগের-পরের শিল্পীরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই সময়ের চাহিদা মেনে নিজেদের গড়ে তোলা ও আপডেট হওয়াটাও খুব জরুরি।’

    কাজের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত পরিকল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনাল। প্রফেশনালিজম বলতে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে কাজটাই করা হোক না কেন, সেখানে ডেডিকেশন থাকবে ১০০ পারসেন্ট, কোনো ছাড় থাকবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক সময় দেখা যেত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে লোকেশন বা অন্যান্য বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হতো। কিন্তু এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করে না। তাদের এই অদম্য মনোযোগই প্রমাণ করে তারা কতটা পেশাদার। সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে এই মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি দরকার।’

    তার কথায়, ‘স্বদেশি টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই স্পেশাল। এখানে কাজের পাশাপাশি একটা আন্তরিকতা থাকে। আর একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে কাজের ভালো-মন্দ কিছুটা মূল্যায়ন করার জাজমেন্ট করার ক্ষমতা আমার তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বলছি, আমাদের চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের এই নতুন ধারাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

  • রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য চীনের

    রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য চীনের

    পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে চীনের একটি বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ ল্যান্ডস্পেস। বুধবার প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো বাণিজ্যিক রকেটের প্রথম ধাপ উৎক্ষেপণের পর স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে দেশটির মহাকাশ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছে।

    ল্যান্ডস্পেসের তৈরি ঝুকু-৩ (Zhuque-3) রকেটটি স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটির প্রথম ধাপ নির্ধারিত অবতরণ এলাকায় ফিরে গিয়ে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপটি মরুভূমির নির্ধারিত অবতরণস্থলের দিকে ধীরে ধীরে নেমে আসে। অবতরণের ঠিক আগে এর ভাঁজ করা পা খুলে যায় এবং রকেটটি নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে অবতরণ করে।

    এদিকে রকেটটির দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পুরো অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম

    মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যারা কক্ষপথে উৎক্ষেপণযোগ্য শ্রেণির রকেটের বুস্টার নিজস্ব অবতরণ পা ব্যবহার করে স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিজ এই ঘটনাকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তাঁর মতে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চীন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—দুই খাতের মাধ্যমে রকেট পুনরুদ্ধারের দুটি পৃথক প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে। এর আগে জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

    ডি গ্রিজের মতে, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মহাকাশ খাতের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চীনকে ভবিষ্যতে কম খরচে আরও ঘন ঘন রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল বা মেগা-কনস্টেলেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বাড়ছে চীনের বিনিয়োগ

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতকেও প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ঝুকু-৩ রকেটটি চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বেশি সক্ষমতা নিয়ে এবং ঘন ঘন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যেই রকেটটি তৈরি করা হয়েছে।

    রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন উৎক্ষেপণের খরচ কমাতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত ভবিষ্যতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পেতে পারে।

  • ফেসবুকের নতুন রিচ নীতিতে বদলে যাচ্ছে কনটেন্টের হিসাব

    ফেসবুকের নতুন রিচ নীতিতে বদলে যাচ্ছে কনটেন্টের হিসাব

    ফিচার:

    ফেসবুকে কনটেন্ট কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তার হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এনেছে প্ল্যাটফর্মটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। নতুন নীতিতে মৌলিক ও মানসম্পন্ন কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে আর নিম্নমানের বা ব্যাপক হারে তৈরি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর কনটেন্টের রিচ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেটার ভাষ্য, এর মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত নির্মাতাদের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নকল বা পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্টের দৌরাত্ম্য কমানো।

    মেটার নীতিমালা অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে যেসব পোস্টে মানুষের সৃজনশীল অবদান বা সম্পাদনা নেই, সেগুলোর নিউজফিড ও রিলে দেখানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। কোনো কনটেন্ট মৌলিক কি না, তা যাচাইয়ে দেখা হচ্ছে নির্মাতার প্রকৃত অবদান—মূল ধারণা, সম্পাদনা, ধারাভাষ্য বা নিজস্ব উপস্থাপনা আছে কি না। শুধু অন্যের ভিডিও নামিয়ে পুনরায় পোস্ট করা, লোগো বা সাবটাইটেল জুড়ে দেওয়া কিংবা প্লে-ব্যাক গতি বদলে দেওয়ার মতো কাজকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে না।

    চলতি বছরের মার্চে মেটার নিউজরুম থেকে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, মৌলিক কনটেন্ট তৈরিকারী নির্মাতাদের বেশি রিচ ও আয়ের সুযোগ দেওয়া হবে, আর অমৌলিক কনটেন্টকে পেছনে ফেলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নকল ঠেকাতে কনটেন্ট সুরক্ষা টুল উন্নত করা হচ্ছে, যাতে নির্মাতারা সহজে চুরি হওয়া কনটেন্ট শনাক্ত করে অভিযোগ জানাতে পারেন।

    এআই দিয়ে তৈরি ছবি, অডিও বা বাস্তবসদৃশ ভিডিওতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘মেড উইথ এআই’ লেবেল যুক্ত করার নিয়মও কার্যকর হয়েছে। চলতি বছরের মে থেকে সাধারণ পোস্টে এই লেবেল দেখা যাচ্ছে, জুলাই থেকে বিজ্ঞাপনেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বাস্তবসদৃশ এআই মানুষের উপস্থিতি থাকলে ‘স্পনসরড’ ট্যাগের পাশে স্পষ্ট লেবেল বসানো হচ্ছে।

    আয়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। মেটা জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করলেই কোনো পেজ বা অ্যাকাউন্টের আয়ের সুযোগ বাতিল হবে না, তবে মৌলিকত্বহীন, ব্যাপক হারে তৈরি বা পুনরায় পোস্ট করা কনটেন্টের মনিটাইজেশন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফেসবুকের অ্যালগরিদম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি এআই-নির্ভর হয়ে উঠেছে। ব্যবহারকারী যাদের অনুসরণ করেন না, এমন পেজ থেকেও প্রায় অর্ধেক কনটেন্ট এখন নিউজফিডে দেখানো হচ্ছে, যা ছোট পেজ ও নতুন নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর চেষ্টা করা পোস্টের রিচ কমছে, আর প্রকৃত মন্তব্য ও শেয়ারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আইনি কাঠামোর কারণে এআই কনটেন্টের স্বচ্ছতা প্রকাশ আরও কড়াকড়ি হয়েছে। ইইউ ব্যবহারকারীদের দেখানো এআই-নির্মিত কনটেন্টে প্রকাশ্য ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা মেটার বিদ্যমান লেবেলিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই অনেকাংশে পূরণ হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেটার এই পদক্ষেপ অনলাইন কনটেন্ট বাস্তুতন্ত্রে মানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের পক্ষে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে যেসব পেজ বা ব্যক্তি নিয়মিত স্বল্প শ্রমে বা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট তৈরি করে আসছিলেন, তাদের রিচ ও আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। গতকাল মধ্যরাতের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ৯ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

    অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পকেট গেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। কঠোরভাবে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পরই হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • বিশ্বের অন্যতম এআই হাব হবে তুরস্ক

    বিশ্বের অন্যতম এআই হাব হবে তুরস্ক

    বিশ্বের অন্যতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ২০২৬–২০৩০ সাল মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তুরস্ক। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে এআইভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ২০২৬–২০৩০ সালের তুরস্ক এআই অ্যাকশন প্ল্যানসংক্রান্ত সার্কুলারে স্বাক্ষর করেন। পরে তা দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রণীত এ কর্মপরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব ও টেকসই ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের এআই-ভিত্তিক উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    কর্মপরিকল্পনাটি চারটি মূল ধাপকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে—সচেতনতা তৈরি, ব্যবহার, উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা। এর মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।

    ৫ কোটি নাগরিককে এআই প্রশিক্ষণ

    পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৮১টি প্রদেশের ৫০ লাখ নাগরিককে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার উচ্চপর্যায়ের এআই বিশেষজ্ঞ এবং ১ লাখ এআই প্রয়োগকারী পেশাজীবী তৈরির জন্য জাতীয় প্রতিভা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

    সরকার অন্তত ২ হাজার সরকারি ডেটাসেট প্রস্তুতের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অধিকার সুরক্ষায় এআই ব্যবহারের জন্য আইনগত ও নৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাড়ানো হবে কম্পিউটিং সক্ষমতা

    ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির ডেটা সেন্টারগুলোর মোট স্থাপিত কম্পিউটিং সক্ষমতা ১ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষক, স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে এআই-ভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তা দিতে ২ কোটি জিপিইউ-আওয়ার বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিনিয়োগ বাজেটের অন্তত ২ শতাংশ এআই প্রকল্পে ব্যয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে ইতোমধ্যে এআইভিত্তিক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ক্যাম্পাসে সহজলভ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোর সুবিধা কাজে লাগিয়ে এআই গ্রোথ জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশীয় উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য একটি এআই গবেষণা তহবিল ও গ্রোথ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের ডেভেলপারদের নিজস্ব খাতভিত্তিক ভাষা মডেল এবং রোবটিক প্রযুক্তি তৈরি ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে উৎসাহিত করা হবে।

    ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য

    নতুন কর্মপরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের এআই ও ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তুরস্ক। পাশাপাশি ওসিইডি, জি২০ ও জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এআই-সংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

    আঞ্চলিক পর্যায়েও এআই সহযোগিতা বাড়াতে তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তত পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে নিয়ন্ত্রক ‘স্যান্ডবক্স’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচির বলেছেন, এআই এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নতুন নির্ধারক হয়ে উঠছে। তাই এই বৈশ্বিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে তুরস্ক দর্শকের ভূমিকায় না থেকে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তিনি বলেন, নিজস্ব মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য এআই পণ্য ও সেবা তৈরি এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে সেগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায় তুরস্ক। এর মাধ্যমে দেশের কল্যাণের পাশাপাশি মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণে এআইয়ের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশটির।

  • যুক্তরাষ্ট্র নাকি চীন—এআইকে বেছে নিতে হবে

    যুক্তরাষ্ট্র নাকি চীন—এআইকে বেছে নিতে হবে

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু দেশকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া চিঠি ও এক মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খসড়ায় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যদি বেইজিংয়ের নেতৃত্বাধীন এআই উদ্যোগে যোগ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বাদ পড়তে পারে।

    বেইজিংয়ের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করে ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য ছিল এআই মডেল, সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ করা।

    কাজাখস্তানসহ প্রায় ২৪টি দেশ এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বড় উৎস। দেশটি একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগেও যোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও প্যাক্স সিলিকার সদস্য।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি খসড়া চিঠিটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্ট নামের একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করা ৩৫টি দেশের উদ্দেশে লেখা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে প্যাক্স সিলিকার সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআই নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী দেশগুলো রয়েছে।

    দেশগুলোকে পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিয়ে অত্যাধুনিক এআই তৈরির দৌড়ে চীনকে প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মনে করে, সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    গত জুলাইয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও) নামের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই খাতে মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় চীন তাদের প্রযুক্তি ও সহযোগিতার কাঠামো সম্প্রসারণ করছে।

    এখন পর্যন্ত কাজাখস্তানই একমাত্র দেশ, যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয় উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া চিঠিতে দেশগুলোকে এআইয়ের বিষয়ে ‘সুচিন্তিতভাবে পক্ষ বেছে নেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সবকিছুর অংশ হওয়ার অর্থ কোনো কিছুরই অংশ না হওয়া। প্যাক্স সিলিকা ঘোষণায় সই করা মানে কেবল সদস্য হওয়া নয়, বরং এটি একটি প্রতিশ্রুতি।’

    চিঠিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো সমান্তরাল জোটে যুক্ত থেকে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব নয়।

    যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কবে চিঠিটি পাঠাবে বা পাঠানোর আগে এতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, রয়টার্স তা নিশ্চিত হতে পারেনি। খসড়াটিতে কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে নিয়োজিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার বিরোধী। দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে এআইয়ের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না।’ কাজাখস্তানের দূতাবাসও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ‘দুই নৌকায় পা রাখা চলবে না’

    প্যাক্স সিলিকা চুক্তির লক্ষ্য হলো মার্কিন মিত্র ও অংশীদারদের যৌথ প্রকল্প ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা। এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই মডেল ও সেমিকন্ডাক্টর চিপের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভরতা কমানো।

    প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের লড়াই এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন কোম্পানির মালিকানাধীন (প্রোপ্রাইটারি) ব্যবস্থার বিপরীতে চীনের ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেলগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ওপেন-ওয়েট এআই মডেল বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যার প্রশিক্ষিত প্যারামিটার বা ‘ওজন’ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে এগুলো ডাউনলোড করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার বা পরিবর্তন করা যায়।

    স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাক করার সক্ষমতাসহ এআইয়ের ক্ষমতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এর শক্তি ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বেইজিং তাদের শীর্ষস্থানীয় কিছু এআই মডেলে বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার কথা ভাবছে। এতে চীনের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তানীতির প্রতিফলন ঘটছে।

    গত জুনে কাজাখস্তান প্রথম মধ্য এশীয় দেশ হিসেবে প্যাক্স সিলিকায় যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখে। দেশটির কাছে উন্নত প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার রয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা শুল্কযুদ্ধের জবাবে চীন তাদের খনিজ সম্পদের ওপর আধিপত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশে এবং মিত্রদের কাছ থেকে এসব খনিজ সংগ্রহের চেষ্টা জোরদার করেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্যাক্স সিলিকার সদস্যরা এআই-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ পায়। আর এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্টে সই করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অভিন্ন লক্ষ্য’ ও ‘ভবিষ্যৎ ভাবনা’র বিষয়ে প্রতীকীভাবে একমত হয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘একই সঙ্গে দুই দিকে থাকতে পারবে না’—দেশগুলোকে এটি স্পষ্ট করে দিতেই চিঠিটি খসড়া করা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কোনো দেশ একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন এআই জোটে যোগ দিয়ে কীভাবে আমাদের ইকোসিস্টেমের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারে, তা বোঝা কঠিন।’

  • কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শাবিপ্রবি অধ্যাপকের

    কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শাবিপ্রবি অধ্যাপকের

    কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলেও এখনো দায়িত্বে যোগ দেননি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক। একই সঙ্গে এ পদে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আতিকুল হক এ কথা জানান।

    পোস্টে তিনি লেখেন, সবাইকে বলছি, দয়া করে আমাকে অভিনন্দন জানাবেন না। এটি কোনো আনন্দের বিষয় নিয়ে লেখা পোস্ট নয়।

    কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের আরও জানাতে চাই যে, আমি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে এখনো যোগ দিইনি এবং যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছাও আমার নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমি আমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।

    নানা জটিলতা ও মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক আতিকুল হক বলেন, অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ার পর, আমার মনে হয় যে কাজটিতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টি বোধ করি, সেটাই চালিয়ে যাওয়া শ্রেয়।

    নিজের পেশাগত জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে আমি আমার সাধ্যমতো সেরাটাই করার চেষ্টা করি। ২০০৬ সালে প্রভাষক হিসেবে যে কাজ শুরু করেছিলাম, তা আমি উপভোগ করি।

    এ কারণে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য তাকে অভিনন্দন না জানাতে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক।

    উল্লেখ্য আজ সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • চাকরি বাঁচাতে এআইর সঙ্গে লড়ছেন চীনের কর্মীরা

    চাকরি বাঁচাতে এআইর সঙ্গে লড়ছেন চীনের কর্মীরা

    সারা বিশ্বের মতো চীনেও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। চালকবিহীন ট্যাক্সি থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ—বিভিন্ন খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন খাতের মতো এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানেও।

    চালকবিহীন ট্যাক্সিতে আয় কমেছে ট্যাক্সিচালকদের

    চীনের উহান শহরের ৪৫ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক ইয়াও শিননংয়ের অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। ২০২২ সালে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বাইদু শহরে ‘অ্যাপোলো গো’ নামের চালকবিহীন ট্যাক্সি চালু করে। এরপর ইয়াওয়ের আয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। চলতি বছরের মার্চে অ্যাপোলো গোর কয়েকটি গাড়ি হঠাৎ রাস্তায় থেমে যায়। এতে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন। তদন্তের জন্য কয়েক মাস উহানের সড়ক থেকে এসব গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়।

    উহানে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ট্যাক্সিচালকদের বিক্ষোভও হয়েছিল। তবে এতে কতজন অংশ নিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, বিক্ষোভের খবর দ্রুত সেন্সর করা হয়।

    গিগ অর্থনীতির ওপরও চাপ

    চীনে এআইয়ের বিস্তার এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন দেশটির শ্রমবাজার আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবাসন খাত ও শিক্ষা খাতের মতো একসময় বড় কর্মসংস্থানের উৎস থাকা শিল্পগুলো সংকটে পড়েছে। অনেক কর্মী আয় ধরে রাখতে রাইড হেইলিং ও অন্যান্য গিগ কাজে যুক্ত হয়েছেন।

    একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে, চলতি বছর চীনে নমনীয় বা অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে থাকা মানুষের সংখ্যা ৩২ কোটি ছাড়াতে পারে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি। অর্থাৎ চীনের মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪৪ শতাংশ এ ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারেন।

    এআই নিয়ে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে বলেন, ‘এআইকে অভিন্ন সমৃদ্ধি ও সবার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হতে হবে।’

    তবে এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও এখন সতর্ক হচ্ছে চীন সরকার।

    চাকরি হারাচ্ছেন সাদা–কলারের কর্মীরাও

    এআইয়ের প্রভাব শুধু ট্যাক্সিচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো শ্বেত–কলার কর্মীদের নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সম্প্রতি দেশটির কয়েকটি আদালতের রায়ে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তবে অনেক কর্মীর আশঙ্কা, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এআই।

    আসছে সময়ে কী হবে

    বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের সরকার এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বেশি সক্ষম।

    সরকার চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে। এমনকি এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান রক্ষার নীতি চাপিয়ে দিতে পারে বেইজিং। তবে কর্মীদের জন্য এই সুরক্ষা কত দ্রুত আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

  • ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    নতুন বছর শুরু হতে এখনও প্রায় চার মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান কবে শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর কোন দিনে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে জর্ডান নিউজ।

    তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখে একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাজ্যের হিজরি ক্যালেন্ডারের ওয়েবসাইট স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস ২০২৭ সালের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়বে এবং আগামী বছর রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিনটি হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি সোমবার পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, যা ১৪৪৮ সালের শাবান মাসের ২৯ তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। এর ফলে হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসটি (৩০ দিন) পূর্ণ হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তা শেষ হবে। আর এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।

    এ ছাড়া ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রমজান মাস ২৯ দিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা আগামী বছরের ৮ মার্চ (সোমবার) শেষ হতে পারে। ফলে এর পরদিন ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন হতে পারে।

  • ইউরোপে বিমান চলাচলের প্রাণকেন্দ্র ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর

    ইউরোপে বিমান চলাচলের প্রাণকেন্দ্র ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর

    ইউরোপের বিমান চলাচল খাতে অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। উদ্বোধনের আট বছরেরও কম সময়ের মধ্যে যাত্রী পরিবহন, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিমানবন্দরটি এখন ইউরোপের প্রতিষ্ঠিত বড় বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

    চলতি বছরের জুলাইয়ে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর দিয়ে ৮১ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। একই সময়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯ লাখ। ফলে এক মাসের হিসাবে ইউরোপের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে হিথ্রোকে ছাড়িয়ে গেছে ইস্তাম্বুল।

    ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া বিমানবন্দরটি শুরু থেকেই ব্যাপক সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

    বিমানবন্দরটির দ্রুত উত্থানের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্কের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, জাতীয় বিমান সংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইন্স-এর বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং বড় পরিসরে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো নির্মাণ।

    ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়ায় ইস্তাম্বুলকে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। তুরস্কের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইস্তাম্বুল থেকে চার ঘণ্টার উড়ান দূরত্বের মধ্যে ৬৭টি দেশের প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

    প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বিমানবন্দরটি নতুন সক্ষমতা দেখিয়েছে। ইউরোপে প্রথমবারের মতো এখানে এমন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একই সময়ে তিনটি বিমান রানওয়ে ব্যবহার করে উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারে। এতে বিমান চলাচলের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি অপেক্ষার সময়ও কমেছে।

    কার্গো পরিবহনেও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর দ্রুত এগিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিমানবন্দরটির কার্গো পরিবহন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ টনের বেশি হয়েছে। এতে ইউরোপের ব্যস্ততম কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে ফ্রাঙ্কফুর্টকে পেছনে ফেলেছে ইস্তাম্বুল।

    এ ছাড়া শহরের সঙ্গে সরাসরি মেট্রো সংযোগ চালু হওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াতও সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতে চতুর্থ রানওয়ে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বছরে ২০ কোটি যাত্রী পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সম্প্রসারণ, আধুনিক অবকাঠামো এবং তুরস্কের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ইউরোপের বিমান চলাচলের নতুন শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠছে।

  • চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    ভালো কাজের পুরস্কার

    হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

    ডিজিটাল হবে হাসপাতালের ফি আদায়

    হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে।

  • জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    জেলা প্রশাসকদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা

    ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে ১৪ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।

    সেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা, অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা, দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবার ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

    একই সঙ্গে অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, নাগরিক সনদ, তথ্য বোর্ড ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রাখা, আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভূমি আইন, বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করা, ‘ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র’-এর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম তদারকি, আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, অগ্রগতি এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

    ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ভূমিসেবার গুণগত মান আরও উন্নত করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

  • আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা

    আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা

    বিশ্বজুড়ে ১১০টি দেশের আইফোন ব্যবহারকারীদের ফোনে অত্যন্ত বিপজ্জনক নজরদারি সফটওয়্যার বা ‘মার্সেনারি স্পাইওয়্যার’ হামলার আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে অ্যাপল।

    এই সতর্কতাবার্তা মূলত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পাঠানো হয়, যাদের ফোনে রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিশানা করতে হামলাকারীরা কোটি কোটি ডলার খরচ করে এসব জটিল স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে। বহুল আলোচিত ‘পেগাসাস’ এ ধরনের নজরদারি সফটওয়্যারের একটি উদাহরণ।

    স্বল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকায় এসব হামলা সাধারণ অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সহজে শনাক্ত করা যায় না। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের এই ধরনের হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।

    যদি কোনো ব্যবহারকারী অ্যাপলের কাছ থেকে এ ধরনের সতর্কবার্তা পান, তবে দ্রুত ফোনের ‘লকডাউন মোড’ চালু করা এবং ‘অ্যাক্সেস নাও’-এর মতো সাইবার নিরাপত্তা সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সাধারণ ব্যবহারকারীদের সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদে থাকতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিভাইসের সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখা, শক্তিশালী পাসকোড ও ফেস বা টাচ আইডি ব্যবহার করা এবং অ্যাপল আইডিতে দ্বি-স্তরীয় প্রমাণীকরণ (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু রাখা। এছাড়া শুধু অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা এবং অচেনা কোনো লিংকে ক্লিক করা বা ফাইল নামানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

  • ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, কী ভাবছেন বাংলাদেশিরা

    ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, কী ভাবছেন বাংলাদেশিরা

    বিশ্বের ৩৬টি দেশের গড়ে ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারতকে নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ৪১ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের অনুকূলে নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার ৩৬টি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেশি। ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশেও তা বাড়ছে।

    অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষের মধ্যে মোটাদাগে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্র। যেমন শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আবার পাকিস্তানের চিত্রটা ঠিক উল্টো। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়।

    পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, আসুন দেখে নিই

    উত্তর আমেরিকা

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। কানাডায় এ হার ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে কানাডার ৫১ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে তা দ্রুত কমতির দিকে রয়েছে। ওই বছর ৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছিলেন।

    মূলত রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান-সমর্থকদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক স্বতন্ত্রদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার সম্ভাবনা বেশি। ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা ভারতের প্রতি বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আর ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ৪২ শতাংশ।

    বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাব সম্পর্কে জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা আগের মতোই আছে। ৩০ শতাংশ বলেছেন, ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব জোরদার হয়েছে। আর ১৩ শতাংশের মতে, ভারতের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ইউরোপ

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভালো। দেশটি থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭১ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৪ শতাংশের।

    অন্যদিকে জার্মানির ৬৩ শতাংশ, ইতালির ৫৬ শতাংশ, সুইডেনের ৫৫ শতাংশ, ফ্রান্সের ৫০ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসের ৪৯ শতাংশ, হাঙ্গেরির ৪০ শতাংশ, গ্রিসের ৩৯ শতাংশ এবং পোল্যান্ড ও স্পেনের ৩৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য

    ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ মধুর। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৯ শতাংশের। অধিকৃত পশ্চিম তীর বা পূর্ব জেরুজালেমে অধিবাসীদের মাত্র ১৮ শতাংশের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    তুরস্ক থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। দেশটির মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক এবং ৪৬ শতাংশ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। অন্যদিকে কেনিয়ার ৭১ শতাংশ, ঘানার ৫০ শতাংশ, নাইজেরিয়ার ৪৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক।

    লাতিন আমেরিকা

    ব্রাজিলের ৩৭ শতাংশ, কলম্বিয়ার ৩৬ শতাংশ, মেক্সিকোর ৩০ শতাংশ, পেরুর ২৯ শতাংশ, চিলির ২৫ শতাংশ ও আর্জেন্টিনার ২৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    এশিয়া–ওশেনিয়া

    জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক। সিঙ্গাপুরে এই হার ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার ৫০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৪৯ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার ৪৪ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার ৪১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলো

    ভারত সম্পর্কে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাত্র তিনটিতে জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ঐতিহাসিক বৈরিতা রয়েছে। এর প্রভাব দেখা গেছে জরিপেও। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৭ শতাংশ পাকিস্তানি বলেছেন, ভারত সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। অন্যদিকে ৯১ শতাংশ পাকিস্তানির ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

    শ্রীলঙ্কায় চিত্রটা উল্টো। দেশটির মাত্র ১১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন ৭৯ শতাংশ মানুষ। ২০২৪ সালে তা ৬৫ শতাংশ ছিল।

    বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি (৫১ শতাংশ) মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। আর ৪২ শতাংশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন। পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তখনকার তুলনায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির হার ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি ওই সময় জরিপে অংশ নেওয়া ২৪ শতাংশ মতামত দিতে চাননি। সেটাও এবারের জরিপে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

    মতাদর্শভেদে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা

    পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামতে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডানপন্থীদের তুলনায় বামপন্থী মতাদর্শের মানুষদের ভারত সম্পর্কে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে দেখা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ উদারপন্থী ও ৪০ শতাংশ রক্ষণশীল মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে কানাডায় জরিপে অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ বামপন্থী ও ৪৫ শতাংশ ডানপন্থীর ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    ইসরায়েলে চিত্রটা আবার পুরোপুরি বিপরীত। বামপন্থী ইসরায়েলিদের ৪৬ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। দেশটির ডানপন্থীদের মধ্যে এ হার ৬৮ শতাংশ।

  • বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশের আইসিটি ও ফিনটেকে বিনিয়োগে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া

    বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক খাতে যৌথ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে সীমিত হলেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান আইসিটি খাত, দক্ষ তরুণ জনশক্তি এবং ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। দেশে বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার (Repatriation) ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।

    লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, লিথুয়ানিয়া বিশ্বমানের লেজার প্রযুক্তি, গভটেক (GovTech) এবং ফিনটেক সেবায় অন্যতম অগ্রগামী দেশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে লিথুয়ানিয়া অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময়ে আগ্রহী।

    তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে বড় বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স গ্রুপ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে চীনভিত্তিক সৌর ফটোতিল্টাইক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোনার্জি আয়োজিত ‘অ্যাস্ট্রোনার্জি ও ওয়ার্ল্ড ফিউচার ২০২৬–বাংলাদেশ রোডশো’ অনুষ্ঠানে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিন্তাভাবনা করছে। দেশজুড়ে সোলার ছাদ এবং সোলার সেচের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের এই বিশাল বাজারে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হতে ২০ কোটি টাকার সরঞ্জাম অর্ডার করেছে ম্যাক্স গ্রুপ, যা খুব শীঘ্রই দেশে এসে পৌঁছাবে।

    তিনি আরো বলেন, ম্যাক্স গ্রুপ এবং আন্তর্জাতিক সোলার খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু কার্বন’ যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বাংলাদেশের সোলার মার্কেটে ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। পাওয়ার সেক্টরে ম্যাক্স গ্রুপের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের একটি ১৬৫ মেগাওয়াটের গ্যাস-ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু রয়েছে এবং আমরা ইপিসি ঠিকাদার হিসেবেও কাজ করছি। এছাড়া ম্যাক্সের নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কোনো স্টোরেজ বা ব্যাটারি ছাড়াই সফলভাবে প্রায় ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

    চীনা প্রযুক্তি ও গুণগত মান প্রসঙ্গে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ভালো মানের চীনা পণ্য কিনলে ক্রেতার অভিজ্ঞতা কখনোই খারাপ হয় না। রেলওয়ে ও সড়কপথের বড় বড় ইপিসি চুক্তি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাতে চীনা অংশীদারদের সাথে কাজ করার দীর্ঘ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভালো চীনা কোম্পানি নির্বাচন করা হলে কাজের মান সবসময়ই চমৎকার হয়। সৌরবিদ্যুৎ খাতে যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদের তিনি অ্যাস্ট্রোনার্জি এবং ভবিষ্যতে বাজারে আসতে যাওয়া ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’-এর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশের শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে অ্যাস্ট্রোনার্জির নতুন সোলার মডিউল ‘এন৭ প্রো’ উন্মোচন করা হয়।

    এছাড়া অ্যাস্ট্রোনার্জির এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সেরা পরিবেশক, কৌশলগত অংশীদার এবং সেরা সৌর প্রকল্প বিভাগগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান এবং বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করতে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

  • আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের নতুন কৌশল

    আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের নতুন কৌশল

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় একটি নতুন বিমান প্রতিরক্ষাকাঠামো তৈরি করেছে তেহরান। এর আওতায় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধকৌশলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

    ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ইরানের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগের সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে ইরান প্রচলিত বা ‘ক্লাসিক্যাল’ আকাশ প্রতিরক্ষা মডেল থেকে সরে এসে আরো সমন্বিত একটি কাঠামোর দিকে এগিয়েছে।

    তিনি বলেন, নতুন কাঠামোর আওতায় যুদ্ধকৌশল, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে তথ্য সংগ্রহ, আদান-প্রদান ও ব্যবহারের পদ্ধতিতেও সংস্কার করা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব পরিবর্তনের ফলে সংঘাত চলাকালে ইরান তাদের আরো বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

  • ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা হাসনাতের

    ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা হাসনাতের

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী যে ছয় মাসের সময়সীমা দিয়েছেন, সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া পরিকল্পনাগুলো বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ এসব কথা জানান।

    হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’

    তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই জানতে পারতেন যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব ইতোমধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর জানা দরকার ছিল যে সমাধান ইতোমধ্যেই টেবিলে আছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম স্বল্প (৩০ দিন), মধ্য (৬ থেকে ১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ে মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন।’

    হাসনাতের ভাষ্য, এসব প্রস্তাবে সংকটের পেছনে কোন সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল এবং কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতামতও এ বিষয়ে এসেছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, এসব বিষয় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সেমিনারেও আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঢাউস সাইজের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকা সত্ত্বেও এই তথ্য তার কাছে পৌঁছায়নি, এটি লজ্জার কথা।’

    ‘প্রধানমন্ত্রীর টিমের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন’

    সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর টিমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের সভাসদ। এর একজনও নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পড়ে দেখেননি, গণতান্ত্রিক চর্চায় এর চেয়ে খারাপ উদাহরণ কম আছে। প্রশ্নটা আর নীতির নয়, প্রশ্নটা এখন এই টিমের কার্যকারিতা ও যোগ্যতার।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য চারটি প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান হাসনাত।

    বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তাতেও সরকারের সাড়া দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ‘আমরা সরকারের এমন ইগ্নোরেন্সকে খুবই হতাশার চোখে দেখি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশালাকার টিমের সক্ষমতা, যোগ্যতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি।’

    ‘ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই’

    প্রশাসনে গত ছয় মাসে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত। এর ফলে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি কাটা হয়েছে ঠিক সেখান থেকে যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, আর ক্যাপাসিটি চার্জ অক্ষত। সচিবালয়ে যারা এসেছেন তারা নতুন, অনভিজ্ঞ এবং লবি গ্রুপের পরামর্শে চলছেন।’

    মহেশখালী এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ‘নাশকতা নাকি অবহেলা, সরকার নিজেই জানে না’।

    মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

    ডলার সংকট ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনা সম্ভব হচ্ছে না—সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন হাসনাত। তার দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অনেক ভারী শিল্প বন্ধ হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ এখনো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

    হাসনাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। বিদ্যুতের দাম ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে নির্ধারণ করবে, আর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। তার দাবি, এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বাকি কাজ কেবল এসএলএ ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করা, যা কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ, রকেট সায়েন্স নয়।’

    প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের সময়সীমা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বলার আগেই আমরা সমাধান দিয়েছি। আপনারা সেটা পড়ার দরকার মনে করেননি কিংবা আপনার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তথাপি, ছয় মাসের হিসাবটা আমরা মেনে নিলাম। কিন্তু ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, আপনার সরকারের।’

    মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে ছয় মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হলে সেটিকে কেবল নীতিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সেটি হবে সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।’

    ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল জবাবদিহি করা’

    কৌশলগত খাতে ব্যর্থ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রী ও অযোগ্য লোক দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে না। এটা হচ্ছে ‘আই হ্যাভ নো প্ল্যান’-এর টেস্টিং।’

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত বলেন, ‘একটি প্র্যাক্টিসিং ডেমোক্রেসিতে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে আল্টিমেটাম কিংবা চ্যালেঞ্জ দেন না, বরং সরকারই তার কাজের জবাবদিহি করে।’

  • গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    গাংনীতে র‍্যাবের অভিযানে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারি আটক

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ ২ জুয়ারিকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১২। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ৩টি স্মার্টফোন, ৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ১০ হাজার ২শত ৮০ টাকা জব্দ করা হয়।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১২ এর সিপিসি-৩, মেহেরপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী থানাধীন রায়পুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন রুয়েরকান্দি (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মৃত রবিউল হকের ছেলে আনোয়ার (৩৫) এবং একই এলাকার ষোলটাকা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের ছেলে মো: হাসান (১৯)।

    র‍্যাব জানায়, আনোয়ারের নিজস্ব গরুর খামারের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে 1XBET প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

    এ ঘটনায় গাংনী থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ এর ১৬, ১৭, ১৯(১) ও ২৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, পিপিএম স্বাক্ষরিত রাত সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সহপাঠীদের তথ্যে ফেঁসে যাচ্ছেন বিল গেটস কন্যা!

    সহপাঠীদের তথ্যে ফেঁসে যাচ্ছেন বিল গেটস কন্যা!

    ধনকুবের বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন তার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। নিজের শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়তে যাচ্ছেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস-কন্যা ফিবি। কোডিংয়ে নিজের অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ার পরও একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি কতটা যোগ্য, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ফিবির স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠী জানিয়েছেন, এই ধনকুবের-কন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডভান্সড কোডিংয়ের কোনো ক্লাস করেননি। কারণ, হিউম্যান বায়োলজিতে (মানব জীববিজ্ঞান) তার স্নাতক ডিগ্রির জন্য এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।

    ওই সূত্র জানায়, ‘প্রকৃতপক্ষে ফিবিকে কম্পিউটার সায়েন্সের একটি ক্লাসও করতে হয়নি। কম্পিউটার সায়েন্স কীভাবে কাজ করে, এমন বিষয় বোঝার জন্য তিনি হয়তো কিছু ক্লাস করে থাকতে পারেন, তবে সেটি মূলত জীববিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রিক হওয়ারই কথা—যদি তিনি আদৌ সেসব ক্লাস করে থাকেন।’

    এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ বা ফিবি গেটস কোনো সাড়া দেননি।

    সূত্রটি আরও ব্যাখ্যা করে, ফিবি চাইলেই হুট করে অ্যাডভান্সড কোডিং ক্লাসে যোগ দিতে পারতেন না। এর জন্য তাকে আগে কিছু আবশ্যিক প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন করতে হতো। নিজের নিয়মিত পড়াশোনার রুটিনের সঙ্গে সেগুলো মেলানো তার জন্য বেশ কঠিনই ছিল, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এক বছর আগেই গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।

    তবে ২৩ বছর বয়সী ফিবি ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (ফলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি ক্লাস করেছিলেন। এই ক্লাসটিই মূলত তার স্টার্টআপ ‘ফিয়া’র ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেছিল। স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট ২৫ বছর বয়সী সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন।

    স্টার্টআপটিতে ‘কুকি-স্টাফিং’-এর অভিযোগ ওঠার পর চলতি সপ্তাহে তরুণ এই উদ্যোক্তারা বড়সড় এক প্রযুক্তি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। তবে এখন জানা যাচ্ছে, টেক দুনিয়ার এই ‘নেপো বেবি’ (স্বজনপ্রীতির সুবিধাপ্রাপ্ত) ও তার স্টার্টআপটি খোদ তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই হাসির খোরাক ছিল।

    সূত্র অনুযায়ী, ফিবির স্ট্যানফোর্ডের সহপাঠীরা তাকে কোনো দক্ষ কোডার হিসেবে চিনতেন না। এমনকি ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা যখন ঘোষণা করা হয়, তখন কম্পিউটার সায়েন্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাকি ‘তাদের মুখের ওপরই হেসে দিয়েছিলেন’ বলে জানা যায়।

    কিয়ানির একজন প্রতিনিধিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো প্রথাগত ক্লাস করেননি। সূত্রটি কটাক্ষ করে বলেছে, কিয়ানি তার ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ ডিগ্রিতে যেসব কোর্স করেছেন, তা থেকে ‘কুকি জিনিসটা আসলে কী, তা-ই তার জানার কথা নয়’।

    ফাঁস হওয়া কিছু স্ল্যাক বার্তায় দেখা গেছে, কিয়ানি তার প্রকৌশলীদের সঙ্গে ‘ফিয়া’র বিতর্কিত ‘কুকি স্টাফিং’ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং কুকিগুলো ‘ড্রপ’ করে যেতে (ফেলে রাখতে) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্ল্যাকে এক প্রকৌশলীকে তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, ‘এই কুকিগুলো ক্রমাগত ড্রপ করে যাওয়ার জন্য আমরা যা যা করতে পারব, তা দারুণ হবে।’

    সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিয়ার ‘অটো ড্রপ’ ফিচারটির কারণে কোম্পানিটি সম্ভবত এমন সব কেনাকাটার ওপরও কমিশন সংগ্রহ করতে পেরেছে, যেগুলোতে তারা বাস্তবে কোনো ক্রেতাকে পাঠায়নি।

    ফিয়া কর্তৃপক্ষ প্রথমে এটিকে একটি ‘সফটওয়্যার বাগ’ বা ত্রুটি বলে দাবি করেছিল। তবে কিয়ানির ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তাসহ নতুন প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ফিচারটি কয়েক মাস ধরেই চালু ছিল।

    ‘কুকি স্টাফিং’ হলো এমন একটি প্রতারণামূলক পদ্ধতি, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো একটি কোম্পানি একজন ক্রেতাকে কোনো রিটেইলার বা বিক্রেতার কাছে পাঠিয়েছে, বাস্তবে হয়তো তারা তা করেনি—আর এর মাধ্যমে কোম্পানিটি অন্যায্যভাবে কমিশন হাতিয়ে নিতে পারে)।

    অবশ্য কোম্পানিটি এই অনুসন্ধানের কিছু অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা জানিয়েছে, এই ফিচারটি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রিগুলো তারা পর্যালোচনা করে দেখছে।

    ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জুলাই মাসে ফিয়া ওই ফিচারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর কোম্পানিটির গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে এক ধাক্কায় কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এক বিলাসবহুল পেন্টহাউসে বসবাসকারী ফিবি ও তার সঙ্গী কিয়ানির ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগের কারণে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মতো কড়া শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা হতে পারে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও গুনতে হতে পারে।

  • ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজের আয়োজন করা হয়।

    এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন আম্মার ১৫ আগস্টের এ আয়োজনের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি জানান, ভোজের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে এবং সেটি কোরবানি করে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করা হবে।

    পরে শুক্রবার গভীর রাতে গরু জবাইয়ের পর দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টেও বিষয়টি জানান আম্মার।

    আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই জিয়াফত’-এ অংশ নিতে গুগল ফরমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য আসে। সালাউদ্দিন আম্মার জানান, রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না এবং পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। ফলে এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

    শনিবার দুপুরের পর রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থীদের জড়ো হতে দেখা যায়। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য ঘাসের ওপর ত্রিপল বিছানো হয়। জোহরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতে শুরু করেন। পরে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার নিয়ে আসা হয়।

    মসজিদের সামনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে জুলাইয়ের জিয়াফত।’ ব্যানারের দুই পাশে ‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা ছিল।

    তবে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। রাকসু ভবন থেকে তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

    আয়োজনের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এতে একমত ছিলেন না। পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। তাই এই আয়োজনে রাকসুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টকে তারা ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই গরুটির এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, আয়োজনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা গেছে। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা, খাবারের মান ও ইন্টারনেট সেবার মতো বিষয়গুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

  • আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    আগস্টে আরো ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

    চলতি আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। যার মোট পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ)।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো পাঁচ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ তিন ধরনের উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে।

    মিজানুর রহমান আরো জানান, আগস্ট মাসে মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে চার কার্গো দেশে পৌঁছেছে। বাকিগুলো এ মাসেই চলে আসবে। আমদানি করা নয় কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ রয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

    পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এক, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় পাঁচ এবং স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের দেশে পৌঁছাবে।

    এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

    এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

    উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় সাড়ে ৭ লাখ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ

    অস্ট্রেলিয়ায় সাড়ে ৭ লাখ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ

    অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ ঠেকাতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ৭ লাখ ৫৬ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে মেটা। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। মেটার প্রকাশিত হিসাবে, এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামের ৪ লাখ ৬২ হাজার এবং ফেসবুকের ২ লাখ ৯৪ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা।

    অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা গত ১০ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এটি বিশ্বের প্রথম এ ধরনের আইন।

    আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৬ বছরের কম বয়সি অস্ট্রেলীয়দের অ্যাকাউন্ট বন্ধে ‘যুক্তিসংগত পদক্ষেপ’ নিতে হয়।

    বেশির ভাগ অ্যাকাউন্ট বন্ধ ডিসেম্বরেই

    মেটার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট বন্ধের সবচেয়ে বড় অংশ হয়েছে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম মাসে।

    ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ৩ লাখ ৩১ হাজার ইনস্টাগ্রাম এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আরও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। জুন পর্যন্ত মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৬ হাজারে।

    মেটা জানিয়েছে, যেসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলো ১৬ বছরের কম বয়সি অস্ট্রেলীয়দের বলে প্রতিষ্ঠানটি সন্দেহ করেছে।

    আইন নিয়ে আপত্তি থাকলেও মানছে মেটা

    মেটা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার এই আইনের বিরোধিতা করে আসছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আইনটির সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার আইন মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    কোম্পানিটি বয়স শনাক্ত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীর প্রোফাইলের তথ্য বিশ্লেষণসহ বয়স শনাক্তের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বয়সের সীমা পূরণ না করলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

    আইন কতটা কার্যকর, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

    মেটা এত বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেও অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার সরকারি হিসাব ও একাধিক স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম তিন মাসেও ১৬ বছরের কম বয়সি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছিলেন।

    অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ কারণে আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে। মেটাসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টারি তদন্তে মেটা, টিকটক, স্ন্যাপ ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য শোনার কথা রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বয়সসীমার আওতায় থাকা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে দেশটিতে ৪৭ লাখের বেশি ১৬ বছরের কম বয়সি অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

    তবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ছাড়া অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর কেউ মেটার মতো একই সময়সীমা ধরে নিজেদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেনি।

    সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। মেটার ৭ লাখ ৫৬ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধের হিসাব দেখাচ্ছে, আইনটি বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

  • শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে অপহরণের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে এক কিশোরীকে (১৪) উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণের অভিযোগে নূর মোহাম্মদ বাবু (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ বাবু শার্শা উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। রাতেই মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে শার্শা থানায় একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন ঘণ্টার মধ্যে শার্শা বাজার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চটকাপোতা গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

    সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক প্রযুক্তির হৃৎপিণ্ড। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জাম—সবকিছুই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান বিশ্বে মাইক্রোচিপকে নতুন যুগের ‘জ্বালানি’ বা কৌশলগত সম্পদ বলা হয়, যার বৈশ্বিক বাজার শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সেমি কন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী শিল্প হলো এমন একটি প্রযুক্তি খাত, যেখানে সিলিকন বা অন্যান্য পদার্থ দিয়ে তৈরি মাইক্রোচিপ বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইনও প্রস্তুত করা হয়। এটি আধুনিক ইলেকট্রনিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত অগণিত ডিভাইসকে শক্তি জোগায়। এর বহুমুখিতা ও অভিযোজন ক্ষমতা বিভিন্ন শিল্প এবং প্রয়োগ ক্ষেত্রে একে অপরিহার্য করে তুলেছে। এআই, রোবোটিকস, ফাইভজি ও মহাকাশ গবেষণার মতো ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তিগুলো এর ওপর পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। প্রতিটি দেশ এ শিল্পের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

    তাইওয়ান উন্নত চিপ ও চুক্তিতে উৎপাদন বা ফাউন্ড্রিতে বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকারী দেশ, যেখানে টিএসএমসির মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র চিপ ডিজাইন, এআই প্রসেসর ও উচ্চপ্রযুক্তির গবেষণায় বিশ্ববাজারে প্রধান ভূমিকা পালন করে। দক্ষিণ কোরিয়া মেমোরি চিপ উৎপাদনে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মাধ্যমে শীর্ষে রয়েছে। চীন পরিপক্ক প্রযুক্তির চিপ উৎপাদন ও প্যাকেজিং বাড়াচ্ছে, আর জাপান চিপ তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে এগিয়ে আছে।

    প্রতিবেশী দেশ ভারত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বর্তমানে একটি দ্রুতবর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যা মূলত চিপ ডিজাইন এবং উদীয়মান উৎপাদন (ফ্যাব্রিকেশন ও প্যাকেজিং) খাতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। ভারতে ২০২১ সালে চালু হওয়া ৯ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির হাত ধরে দেশে চিপ উৎপাদন ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। টাটা গ্রুপ ও তাইওয়ানের পিএসএমসির যৌথ উদ্যোগে গুজরাটের ঢোলেরায় ১ হাজার ৯০ কোটি ডলারের একটি ফ্যাব্রিকেশন প্লান্ট নির্মাণাধীন। এছাড়া মাইক্রন টেকনোলজি, কেইন্স সেমিকন ও সিজি পাওয়ারের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিক ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভারতের বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও নয়ডার মতো প্রযুক্তি শহরগুলোয় ইন্টেল ও কোয়ালকমের মতো বহুজাতিক কোম্পানির হাত ধরে ভারত বিশ্বমানের চিপ ডিজাইন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

    বাংলাদেশে মূলত ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন, ভেরিফিকেশন ও এমবেডেড সিস্টেম নিয়ে কাজ বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রধান কাঁচামাল যেমন সিলিকন ওয়েফার বা রাসায়নিক পদার্থ, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয় না বললেই চলে এবং এর জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। সিলিকন ও অন্যান্য মৌলিক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এ শিল্প বিকাশে দক্ষ ও শিল্প উপযোগী জনবলের অভাব, আধুনিক গবেষণাগার ও টেস্টিং অবকাঠামোর স্বল্পতা এবং চিপ তৈরির (ফ্যাব্রিকেশন) জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল মূলধন বা বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর হাজারো গ্র্যাজুয়েট বের হলেও তারা সরাসরি শিল্পমুখী বা ‘টেপ-আউট রেডি’ প্রকৌশলী নন। মাইক্রোইলেকট্রনিকস, এমবেডেড সিস্টেম ও ভিএলএসআই (ভিএলএসআই) ডিজাইন নিয়ে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সীমিত। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক ও বিশেষায়িত সার্টিফিকেশন ইনস্টিটিউটের অভাব রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ক্লিন-রুম ফ্যাসিলিটি ও অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং বা টেস্টিং ল্যাবের অভাব। হাই-টেক পার্কগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও বিশেষায়িত পরিবেশের ঘাটতি। কাঁচামাল আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি কাস্টমস জটিলতা ও সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা রয়েছে। তদুপরি বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতাও আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। ফ্যাব্রিকেশন প্লান্ট স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বর্তমান বাস্তবতায় বড় চ্যালেঞ্জ। তাইওয়ান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ নীতি সহায়তার ধারাবাহিকতার অভাব।

    অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে পরবর্তী বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চলতি বছর জুলাইয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬-এর আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‌সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকাশক্তি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এ চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার এরই মধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এ বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুযোগ আছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ শিল্পের বিকাশে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রফতানি আয়ের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রফতানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব আশাবাদ উদ্যোক্তা, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের ব্যাপক উৎসাহিত করে।

    চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এ যুগে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যাক্ত করা হয়েছে। সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে। তবে এ খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সমন্বিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

    সেমিনারে আগত আমেরিকার প্রাডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তুফা হোসেইন জানান, ‌বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে ২১টি কোম্পানিতে ১ হাজার ২০০ ইঞ্জিনিয়ার এ সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে ডিজাইনে কাজ করছেন, কিছু প্যাকেজিংয়ে ও কিছু এমবেডেড সিস্টেমে কাজ হচ্ছে। আমেরিকায় তিন হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী এ সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে কাজ করছেন। প্রতি বছর ‘সেমিকন্ডাক্টর কনজিউমার ইলেকট্রনিক শো’ হয় আমেরিকার লাস ভেগাসে এবং এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শোতে ১১৭ দেশ নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আগামী বছর জানুয়ারিতে আমেরিকার লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিতব্য এ শোতে বাংলাদেশ থেকে ১০ জন বিনিয়োগকারী ‘বাংলাদেশ ইনোভেক্স’ নামে যুক্ত হবে। বাংলাদেশ সরকার এ খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশ করাতে তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং এ খাতের গবেষণায় শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব রাখেন সরকারের কাছে।

    আশার কথা হলো সরকার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছেন এবারের বাজেটে। বিদেশী ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা ও বিশেষায়িত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ দেশের মানুষের মেধা, দক্ষ তারুণ্য ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই বাংলাদেশের এ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এখন নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা উদ্যোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে দুদেশের সরকার।

    প্রতিটি স্তরে যুব সমাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।

    তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি।

    একই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানায়, ঘরে বসে যেন যুব ও নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

  • চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের তৌফিকা তারিক জানান। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    তৌফিকা চুটারহুদা গ্রামের তারিকুল ইসলাম ও তহমিনা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তার বাবা তারিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণফোনের যশোর রিজিওনাল হেড হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই দায়িত্বে ছিলেন।

    ছোটবেলা থেকেই সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির প্রতি তৌফিকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে মানবিক উদ্যোক্তা হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার জীবনের লক্ষ্য।

    তৌফিকার বাবা তারিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তৌফিকা যেন তার মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তার স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা সবসময় পাশে থাকব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

  • আকাশেই পথ বদল করছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    আকাশেই পথ বদল করছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    দুশমনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নজরদারি আর ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ঢালকেপুরোপুরি ফাঁকি দিতে নতুন প্রযুক্তির পথ ধরেছে ইরান। দেশটির তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আর আগের মতো নির্দিষ্ট এক বিন্দু থেকে ছুড়ে অন্য বিন্দুতে গিয়ে আছড়ে পড়ার সাধারণ অস্ত্র নয়। বরং উড্ডয়নরত অবস্থাতেই আকাশে নিজেদের গতিপথ নিজে নিজেই বদলে ফেলার ও গন্তব্য পুনর্নির্ধারণ করার এক অভাবনীয় সক্ষমতা অর্জনের ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি।

    সোমবার উত্তর ইরানের কাজভিন শহরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সামরিক ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহাবি। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আইআরজিসির তৈরি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে সহজেই ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পুরোই সক্ষম।

    প্রযুক্তিগত এই উত্তরণকে আধুনিক যুদ্ধকৌশলের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে তেহরান। মহাবি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরিচালিত ‘প্রযুক্তি যুদ্ধ’-এর মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রতিপক্ষের ইট-পাথরের দালানকোঠা কিংবা যুদ্ধের সামরিক সরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দেয়া নয়।

    এর চেয়েও বড় লক্ষ্য হলো শত্রুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গোটা নিরাপত্তা নেটওয়ার্ককে ভণ্ডুল ও অকার্যকর করে দেয়া। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসনের সময়েও শত্রুর শক্তিশালী বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে আঘাত হানতে ইরানের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকার মার্কিন দোসরদের অঞ্চলে অবস্থিত ঘাঁটি তেহরানের এই সাম্প্রতিক কৌশলগত সামরিক চাপের মুখে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করলে পুরো অঞ্চলটিজুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    এই আক্রমণের কড়া জবাব হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গত এপ্রিলে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে জুন মাসে এক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে।

    তবে সমঝোতার সেই উদ্যোগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে গত জুলাই মাসে সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বানচাল হয়ে যায়। চুক্তি নস্যাৎ হওয়ার পর তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারো টানা দুই সপ্তাহ ধরে একে অপরের সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি জোরালো হামলা শুরু করে। অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সমাধানের আশ্বাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই বোমাবর্ষণ ও হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন।

    এদিকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার সময় গতিপথ বদলে ফেলার এই আধুনিক ইরানি প্রযুক্তির খবর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে

  • একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম সিনহা।

    কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ডিএসই জানিয়েছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাসনিম সিনহাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    কোম্পানি কর্তৃপক্ষের আশা, তাসনিম সিনহার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবসার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, গুণগত মানের মানোন্নয়ন আর দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। শেয়ারবাজারে আজ একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ৮৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে।

    গত বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১১ টাকা ৪৮ পয়সা।

    বর্তমানে শেয়ারবাজারে একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ২১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৭০০। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে, ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী আর শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

  • সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি সংক্রান্ত খাতভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় ২৭ সদস্যের ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

    রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বাণিজ্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সদস্য করা হয়েছে।

    এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রতিনিধিদের কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।

    উদ্যোক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেলকে সেক্টর স্পেশালিস্ট হিসেবে সদস্য করা হয়েছে। আরো একজন সেক্টর স্পেশালিস্ট সদস্য হিসেবে এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের রোডম্যাপ অনুমোদন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। একইসাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।

    বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির কার্যক্রমও পর্যালোচনা করবে এ কমিটি। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির প্রয়োজন অনুসারে সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

  • রাশিয়ার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে চায় ইউক্রেন

    রাশিয়ার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে চায় ইউক্রেন

    বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের মতো রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তাতিয়ানা কিম। যুদ্ধের সময় দেশটির রাজনীতির সঙ্গেও বেশ ভালোভাবে তাল মিলিয়ে চলেছেন তিনি। তাঁর সাত সন্তানের বাবা সাবেক স্বামীর সঙ্গে তীব্র ব্যবসায়িক বিরোধেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে মস্কোর রেড স্কয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গোলাগুলিও হয়েছিল।

    অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের সহপ্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী। তবে যুদ্ধের কারণে এখন তাঁর পুরো ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ইউক্রেন বিমান হামলা চালিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগুলো একের পর এক ধ্বংস করছে।

    রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোয় কয়েক মাস ধরে হামলা চালিয়ে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরির পর ইউক্রেন এবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোয় হামলা জোরালো করেছে। এখন পর্যন্ত রাশিয়াজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ২৩টি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে প্রায় প্রতি রাতেই এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। এতে কয়েক শ কোটি ডলারের পণ্য পুড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৯ জন কর্মীও নিহত হয়েছেন।

    এসব হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, এবারই প্রথম ইউক্রেন কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দিতে চাইছেন। তাঁর আশা, রুশ সমাজে অসন্তোষ ও ভোগান্তি বাড়লে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপও বাড়বে।

    ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার মোট খুচরা পণ্য বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশই ওয়াইল্ডবেরিজের মাধ্যমে হয়। রুশ সেনাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করায় প্রতিষ্ঠানটি হামলার বৈধ লক্ষ্য বলে মনে করে কিয়েভ।

    গত মাসের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় তাতিয়ানা কিম এসব হামলার নিন্দা জানান। তিনি এগুলোকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজে যেসব পণ্য বিক্রি হয়, অ্যামাজন বা চীনের আলিবাবাতেও একই ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।

    তাতিয়ানা কিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে কোনো যুক্তি, সাধারণ বোধ বা বিবেচনা নেই, থাকতেও পারে না।’ তাঁর ভাষায়, শত্রুপক্ষ বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে চাপ সৃষ্টি, অস্থিতিশীলতা এবং আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে।

    হামলাগুলো ওয়াইল্ডবেরিজের পাশাপাশি রাশিয়ার খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলছে। অথচ এরই মধ্যে দেশটির অর্থনীতি নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তুলনায় ওয়াইল্ডবেরিজে হামলার ক্ষয়ক্ষতি এখনো অনেক কম।

    রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাশিয়ার বৃহৎ ব্যাংক সবারইনডেক্সের গবেষণা বিভাগ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াইল্ডবেরিজের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খাদ্য নয়, এমন পণ্য কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর পেছনে ইউক্রেনের বিমান হামলার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মস্কোভিত্তিক ই-কমার্স পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেটা ইনসাইটের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি রুবেল বা ৫৯০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য ধ্বংস হয়েছে।

    ডেটা ইনসাইটের বিশ্লেষক সের্গেই সেমকো বলেন, ‘ওয়াইল্ডবেরিজের সবচেয়ে বড় গুদামগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন একটি করে গুদাম পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।’

    ইউক্রেনের হামলা কত দিন চলবে এবং তাতিয়ানা কিম কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বদলাতে পারবেন তার ওপর ওয়াইল্ডবেরিজের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। রুশ সরকারের কাছ থেকে তিনি কতটা সহায়তা আদায় করতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    রুশ পরিবারে জন্ম নেওয়া কোরীয় বংশোদ্ভূত তাতিয়ানা কিম ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক। ২০০৪ সালে স্বামী ভ্লাদিস্লাভ বাকালচুককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওয়াইল্ডবেরিজ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পোশাক বিক্রি করত প্রতিষ্ঠানটি।

    বছরের পর বছর ধরে ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার ভোক্তা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯৫ হাজার পণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র চালু হয়। রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি মানুষ মাসে অন্তত একবার ওয়াইল্ডবেরিজ থেকে কেনাকাটা করতেন।

    ইউক্রেনে পুতিনের হামলার পর ওয়াইল্ডবেরিজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার বাজার থেকে সরে যায়।

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদাম। ইউক্রেন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে

    ২০২৪ সালে তাতিয়ানা কিম একটি রুশ বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়াইল্ডবেরিজকে একীভূত করেন। ধারণা করা হয়, রুশ সরকারের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। কিমের স্বামী এই চুক্তিকে ‘করপোরেট দখল’ বলে অভিযোগ করেন।

    একপর্যায়ে সশস্ত্র চেচেনদের একটি দল নিয়ে মস্কোয় ওয়াইল্ডবেরিজের কার্যালয়ে হাজির হন কিমের স্বামী বাকালচুক। সেখানে গোলাগুলিতে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হন। পরের বছর কিম ও বাকালচুকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

    এত দিনে সেই সংকট কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে আরও বড় সংকটের মুখে পড়েছে ৫০ বছর বয়সী কিমের ব্যবসা। ফলে দ্রুত ব্যবসার ধরন বদলানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

    ভিডিও বার্তায় তাতিয়ানা কিম বলেন, ওয়াইল্ডবেরিজ পণ্য সরবরাহব্যবস্থা আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং দ্রুত সরবরাহ অবকাঠামো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক অনলাইন পোস্টে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অঞ্চলের সরকার ও বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বড় ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ওয়াইল্ডবেরিজ এরই মধ্যে ৮০ হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জন্য দুই দফায় স্বেচ্ছা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ড্রোন হামলায় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিক্রেতারা যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সে জন্য সীমিত পরিসরে বিমার ব্যবস্থাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    রাশিয়ার উপঅর্থমন্ত্রী আলেক্সেই সাজানভ চলতি সপ্তাহে বলেন, ওয়াইল্ডবেরিজের বিক্রেতাদের জন্য সরকারও সহায়তার ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে কর ছাড় এবং নির্দিষ্ট কিছু অর্থ পরিশোধে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার মতো সুবিধা থাকবে।

    বিক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ওয়াইল্ডবেরিজের কর্মীদের মধ্যে এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    সেন্ট পিটার্সবার্গে ওয়াইল্ডবেরিজের ২৪ বছর বয়সী এক কর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির গুদামগুলোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সময় তিনি অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

    ওই কর্মী যে গুদামে কাজ করতেন সেখানে এবং তাঁর বাড়ির কাছে আরেকটি গুদামে হামলা হওয়ার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ কাজটি তিনি পছন্দ করতেন।

    ওয়াইল্ডবেরিজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা স্বাধীন ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

    ৪৪ বছর বয়সী কাটেরিনা কোরদিক এশিয়া থেকে তৈরি পোশাক ও অলংকার এনে বিক্রি করতেন। তাঁর ব্যবসা এতটাই ভালো চলছিল, পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হতো।

    গত মাসে মস্কোর কাছে ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ইউক্রেনের প্রথম হামলায় কাটেরিনার মজুত করা পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি ছিল হাতে তৈরি অলংকার।

    অন্য জায়গায় কাটেরিনার আরও অনেক পণ্য রাখা ছিল। কিন্তু একের পর এক ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা হওয়ায় তিনি সেসব পণ্যও বের করে আনতে পারছিলেন না।

    চলতি সপ্তাহে মস্কোর দক্ষিণে তুলা শহরের একটি ওয়াইল্ডবেরিজ গুদামে হামলা হয়। এতে কাটেরিনার আরও অর্ধেক পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। কাটেরিনা বলেন, প্রায় ২ হাজার পণ্যের মধ্যে এখন মাত্র ১০০টি বিক্রির জন্য আছে। তিনি বলেন, এসব কারণে এত বেশি ভেঙে পড়েছেন, জীবনে প্রথমবারের মতো তাঁকে একজন মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হয়েছে।

    কাটেরিনা বলেন, ‘আপনি যদি এমন একটি দেশে বাস করেন, যেখানে যুদ্ধ চলছে, তবে কোনো একসময় সেই যুদ্ধ আপনার জীবনেও প্রভাব ফেলবে না—এমনটা আশা করাই অস্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি শিক্ষা হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    তাতিয়ানা কিমকে এখন প্রতিযোগীদের চাপও সামলাতে হচ্ছে। ই-কমার্স খাতের পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ওয়াইল্ডবেরিজের অনেক বিক্রেতা এখন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওজনে চলে যাচ্ছেন। ওজনের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ইউক্রেন এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি।

    তবে অনেক জায়গায় ওয়াইল্ডবেরিজ এখনো স্বাভাবিকভাবেই চলছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য সরবরাহব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এতটাই উন্নত, কয়েকটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাবে না বলে মনে করেন ওয়াইল্ডবেরিজের সাবেক এক কর্মকর্তা।

    ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়—এমন বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এর মধ্যে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও নেভিগেশন সরঞ্জামও রয়েছে। তবে কিম এসব হামলাকে শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর হামলা বলে নিন্দা করেছেন।

    ওয়াইল্ডবেরিজের নিজস্ব নীতিমালাতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে রুশ সেনাদের অনেক সমর্থক ও পরিবারের সদস্য এই ওয়েবসাইট থেকে বুলেটপ্রুফ পোশাক, হেলমেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনেছেন বলে জানা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়—এমন ড্রোন ও অন্যান্য পণ্যও সেখানে পাওয়া যায়।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্যামেরার সরাসরি দৃশ্য দেখে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন ড্রোনও আগস্টের শুরুতেও ওয়াইল্ডবেরিজে বিক্রির জন্য ছিল। এসব ড্রোনের মধ্যে বিস্ফোরক বহনের ব্যবস্থা ছিল। ড্রোন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য ফাইবার-অপটিক তারের রোলও বিক্রি হচ্ছিল।

    একটি বিজ্ঞাপনে বিস্ফোরক ফেলার ব্যবস্থা থাকা একটি ড্রোন বিক্রির কথা বলা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটির প্রশ্নোত্তর অংশে কয়েকজন ক্রেতা এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার কেউ কেউ বেশি পরিমাণে কিনলে ছাড় পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চান। তাঁদের কেউ কেউ কোন রুশ সামরিক ইউনিটের জন্য ড্রোন কিনতে চান, সেটিও উল্লেখ করেন।

    একজন ক্রেতা ইউক্রেনীয় সেনাদের বোঝাতে রাশিয়ায় ব্যবহৃত একটি অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে লেখেন, ‘ড্রোনটি ভালো, ইউক্রেনীয়দের ঘায়েল করা যাবে।’ তবে এসব ড্রোন সত্যিই কেউ কিনেছে বা পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি নিউইয়র্ক টাইমস।

    আরেক সম্ভাব্য ক্রেতা জানতে চান, ড্রোনটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বা ইউক্রেন যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না। বিক্রেতার উত্তর ছিল, ‘হ্যালো, হ্যাঁ।’

  • জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    জলাবদ্ধতার বুকে সবুজ বিপ্লব

    খুলনার বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বর্ষা এলেই মাঠঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে সবজির চারা উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ সময়মতো মানসম্মত চারা না পেলে কৃষকদের মৌসুমি সবজি চাষও ব্যাহত হয়। এমন বাস্তবতায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে পলি নেট হাউস প্রযুক্তি।


    একসময় যেখানে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের দূর-দূরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করতে হতো, সেখানে এখন স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সবজির চারা। শুধু নিজের এলাকার চাহিদা পূরণই নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের কাছেও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস হয়ে উঠছে এসব পলি নেট হাউস। ফলে জলাবদ্ধতাকে সীমাবদ্ধতা নয়, বরং নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার এক সফল উদাহরণ তৈরি হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলায়।


    কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পলি নেট হাউস হলো মোটা ও টেকসই পলিথিন দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের সুরক্ষিত ঘর। এর ভেতরে লোহার তৈরি ট্রে বা নেটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির বীজ বপন করা হয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হওয়ায় চারা রোগবালাই, অতিবৃষ্টি কিংবা ঝড়ো আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে চারা সমানভাবে বেড়ে ওঠে এবং কৃষকের হাতে পৌঁছায় উন্নতমান নিশ্চিত করে।


    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, একটি পলি নেট হাউসে একসঙ্গে এক লাখেরও বেশি চারা উৎপাদন করা সম্ভব। সঠিক ব্যবস্থাপনায় বছরে আট থেকে দশ লাখ পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা যায়। বর্তমানে উপজেলার খর্ণিয়া ও আটলিয়া ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ব্যক্তি উদ্যোগে তিনটি পলি নেট হাউস গড়ে উঠেছে। এসব হাউসে প্রধানত বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।


    তার মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় এ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মানসম্মত চারা উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা জলাবদ্ধতার সময়ও চারা নিরাপদ থাকে। ফলে কৃষক নির্ধারিত সময়েই চারা হাতে পান এবং মৌসুমি সবজি চাষে কোনো বিলম্ব হয় না।
    ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা তাপস সরকার এ পরিবর্তনের অন্যতম সফল মুখ। তার প্রতিষ্ঠিত রুদ্রনীল এগ্রি নার্সারি এখন বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের কাছে পরিচিত একটি নাম। উন্নতমানের সবজির চারা উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেননি, স্থানীয় কৃষকদের জন্যও নির্ভরযোগ্য চারার উৎস গড়ে তুলেছেন।


    তাপস সরকার ২০১৭ সাল থেকে সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২০২১ সালে সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের পর তার নার্সারির কার্যক্রম নতুন গতি পায়। বর্তমানে তিনি চুইঝাল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করছেন।
    তার নার্সারি থেকে এখন ডুমুরিয়া ছাড়াও যশোরের কেশবপুর, নড়াইল এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক মৌসুমভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী চারা সংগ্রহ করেন। কৃষকদের দাবি, এখান থেকে সংগ্রহ করা চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় মাঠে রোপণের পর ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।


    তাপস সরকার বলেন, সরকারি সহায়তায় পলি নেট হাউস স্থাপনের ফলে সারা বছর উন্নতমানের চারা উৎপাদন অনেক সহজ হয়েছে। এ কাজে তার স্ত্রী বিজয়া সরকার সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন। পারিবারিক উদ্যোগেই তারা কৃষিভিত্তিক একটি সফল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
    তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা আরও বাড়ানো হলে বিল ডাকাতিয়াসহ জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি পরিমাণে মানসম্মত চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমবে এবং সময়মতো চারা পাওয়ার নিশ্চয়তা বাড়বে।


    স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলাবদ্ধ এলাকায় সবজি চাষের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল মানসম্মত চারার সংকট। এখন স্থানীয়ভাবে চারা উৎপাদন হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। সময়মতো চারা পাওয়ায় কৃষিকাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা যাচ্ছে এবং ফলনও বাড়ছে।

  • প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা ফুটবলে বিনিয়োগে আগ্রহী কেন

    প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা ফুটবলে বিনিয়োগে আগ্রহী কেন

    তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপের একাংশ বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। এই ঘটনায় অনেক দেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। পাশাপাশি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

    বিষয়টা হলো, প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বকাপে কেন আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব কি আবারও আসবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের বিনোদন ও অবসর কাটানোর ধরন আমূল বদলে দিতে পারে— বাস্তবতা সেদিকেই যাচ্ছে। সেই সময় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের কর্মকর্তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিনিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তারা বিনিয়োগকারীদের কনসোর্টিয়াম গঠন করে।

    তারা ফুটবল বিশ্বকাপকে নতুন বিনিয়োগ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেছিল। তাদের বিশ্বাস, এআই বিপ্লবের মধ্যেও খেলাধুলা শুধু টিকে থাকবে না, বরং এর মূল্য আরও বাড়বে।

    থ্রাইভ ক্যাপিটালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের ভাই। থ্রাইভ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। প্রতিষ্ঠানটি ওপেনএআইয়ের অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক।

    চলতি বছরের এপ্রিলে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’ নামে নতুন বিনিয়োগ শাখা চালু করে। প্রযুক্তির মাধ্যমে যেসব বিষয় ‘অনুকরণ করা যায় না’, তেমন খাতে বিনিয়োগ করাই এই কোম্পানির লক্ষ্য।

    এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে খেলাধুলা। সেখান থেকেই ফুটবলে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। ফিফার প্রস্তাবিত ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের (এফএফই) মাধ্যমে বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব নেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

    বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ফুটবলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে মানুষের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তার কারণে এই খেলা এআইজনিত আমূল পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। চলচ্চিত্র ও সংগীতের মতো বিনোদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেখানে প্রযুক্তি ইতিমধ্যে মানুষের জায়গা নিতে শুরু করেছে, ফুটবলের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

    ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা বলেন, বিনিয়োগের আগ্রহ ও বাণিজ্যিকীকরণের কারণে ফুটবল ও সমর্থক–সংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্ত এখন ‘ওয়াল স্ট্রিট ও সিলিকন ভ্যালিতে’ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে চেপে বসেছে এবং কী ঘটছে, তা নিয়ে অনেকেই প্রকৃত অর্থে ভাবেননি।

    ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশ্লেষকেরা বলেন, মানুষ পছন্দ করুক বা না করুক, খেলাধুলায় বেসরকারি মূলধন বিনিয়োগ এখন বাস্তবতা।

    এবারের বিশ্বকাপে বাণিজ্যিকীকরণের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেলেও বিবিসি জানতে পেরেছে, এফএফই প্রস্তাব নিয়ে থ্রাইভের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে গত বছর। বাণিজ্যিক পরামর্শক হিসেবে আনা হয়েছিল ফর্মুলা ওয়ানের মালিক প্রতিষ্ঠান লিবার্টি মিডিয়ার সাবেক প্রধান গ্রেগ ম্যাফেইকে।

    থ্রাইভ সাবেক ডিজনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব আইগারকেও নিয়োগ দিয়েছিল।

    থ্রাইভ ইটার্নাল ইতিমধ্যে অন্যান্য ক্রীড়া খাতেও বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরুর সময় জানিয়েছিল, তারা মেজর লিগ বেসবলের দল সান ফ্রান্সিসকো জায়ান্টসের একাংশ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে। এ ছাড়া লাস ভেগাসে নতুন এনবিএ ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহ আছে বলে জানা গেছে।

    থ্রাইভ ইটার্নালের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘ঐতিহ্য, পরিচয় ও অভিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এসব ‘খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান’ এআই বিপ্লবের মধ্যে শুধু টিকে থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে এগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

    ফিফায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা এবং তা নিয়ে পরবর্তী বিতর্কের বিষয়ে কুশনার ও থ্রাইভ ইটার্নাল মন্তব্য করেনি।

    তবে প্রতিষ্ঠানটির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ফিফার সদস্যসংস্থাগুলোর অনুমোদনসাপেক্ষ এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য দ্রুত মুনাফা করা ছিল না; বরং দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করে ফুটবলের উন্নয়নে অর্থায়ন করাই ছিল এর লক্ষ্য।

    প্রাথমিকভাবে ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া বিনিয়োগকারীরা ধরে নিয়েছিলেন, কয়েক দশক মুনাফা হবে না। সেই বিষয়টি মাথায় নিয়েই এগোচ্ছিলেন তাঁরা। কেননা, থ্রাইভ ইটার্নালকে হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

    সূত্রটি আরও জানায়, এফএফই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২০০ কোটি ডলারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি সদস্যসংস্থা সর্বোচ্চ ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার মূল্যের অংশীদারত্ব পেত। তবে ওই অংশীদারত্বের নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগকারীদের হাতে নয়, ফিফার কাছেই থাকত। পরবর্তী সময়ে সেই অংশীদারত্বের কোনো অংশ বিক্রি করা হবে কি না, তা নিধর্ধারণের ভারও ছিল সংশ্লিষ্ট সদস্যসংস্থার।

    সূত্রটি বলেছে, বাইরের বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেসব দেশ সাধারণত বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ পায় না, সেসব দেশের হাতে শুরুতেই বেশি অর্থ তুলে দেওয়া। ওই অর্থ দিয়ে তারা স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ অবকাঠামোসহ নিজেদের দেশে ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারত।

    ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এফএফইর লক্ষ্য ছিল ‘ফুটবলের ব্যবসা খেলাটির পরিচালনা থেকে আলাদা করা’।

    ইংল্যান্ডে ফুটবলের ব্যবসা বেড়েছে, বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগ চালুর পর। এই লিগের আর্থিক নিয়মকানুন, খেলোয়াড় কেনাবেচার চুক্তি ও ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের নানা খবর এখন মাঠের খেলার মতোই সমর্থকদের আলোচনার বিষয়।

    ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। দুই দশকেরও বেশি আগে গ্লেজার পরিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কেনার পর থেকে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য ক্লাবে মার্কিন বিনিয়োগ ক্রমেই বেড়েছে।

    তবে প্রশ্ন উঠেছে, ফিফা ও বিশ্বকাপের এই অর্থের প্রয়োজন কেন। ফিফা দাবি করেছে, বিশ্বকাপ থেকে যতটা আয় করা সম্ভব, ততটা হচ্ছে না। তবে পানিবিরতির বিজ্ঞাপন, টিকিটের দামে পরিবর্তন, সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ স্বত্ব থেকে রেকর্ড আয়—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ও ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের যে সম্ভাবনা, তাতে আরও বেশি বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা আছে। বেশি দেশ মানে বেশি দর্শক, বেশি দর্শক মানে বেশি আয়।

    পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও ক্রীড়া অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টিনা ফিলিপু বলেন, নগদ অর্থের প্রবাহে সমস্যা দেখা দিলে অন্যান্য খেলাধুলা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ফুটবল ক্লাবেও এ ধরনের বাইরের বিনিয়োগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে ফিফার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তেমন নয়। তাঁর ভাষায়, ‘ফিফা এমন অবস্থায় নেই যে তাদের অর্থের জন্য মরিয়া হতে হবে; বরং তারা চাইলে হাতে থাকা অর্থ দিয়েই সদস্যসংস্থাগুলোকে আরও বেশি অর্থ দিতে পারে। বাইরের অর্থ আনার প্রয়োজন নেই।’

    থ্রাইভ ইটার্নাল এ পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মোদ্দা কথা হলো, ফুটবলে বিনিয়োগের আগ্রহ যে এখনো প্রবল, তা পরিষ্কার।