রাজনীতি

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে তারা বৈঠক করছেন।

    বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ সময় শিক্ষার্থী আন্দোলন ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সারা দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত।

  • ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী

    আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী

    দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।’

    তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণি-পেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশটাকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।’

    সোমবার বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজকে বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই— সকলে মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।’

    ত্রিশ গোডাউনে সা

    গরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়ত পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সকলের কাছে, আপনারা যখনই যার সাথে দেখা হবে— দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন যে, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না।’

    সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি কর্পোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।’

    পরিবেশ প্রতিম

    ন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতৃবৃন্দরা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।

    এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও।’

    প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়।

  • সংরক্ষিত আসনের এমপিদের এলাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

    সংরক্ষিত আসনের এমপিদের এলাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

    সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদীয় এলাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দাবি করে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এমন প্রশ্ন তোলেন। বিএনপি বিরোধী দলের আসনে তাদের নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চান কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিরোধী দলের এই এমপি। তার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা নেই; পুরো বাংলাদেশেই তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার হোসেন প্রসঙ্গটি তোলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

    এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ জীবা আমিনা খান বলেন, গতকাল (রোববার) আমার অতিরিক্ত দায়িত্বের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করে এসেছি। ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে জানতে চান। ওই পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার বক্তব্য দিতে চাইলে ডেপুটি স্পকার তাকে ফ্লোর দেননি। তবে আছরের বিরতির পরে তাকে ফ্লোর দেওয়া হয়।

    পয়েন্ট অব অর্ডারে এনসিপির সংসদ সদস্য (রংপুর-৪) আখতার হোসেন বলেন, বিরতির আগে সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় এমপি বক্তব্য প্রদানের সময় বলেছিলেন, আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। অর্থাৎ তার অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা বলে রংপুরের দুটো সংসদীয় আসনের কথা বলেছেন। তিনি সেখানে যাওয়ার পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে শুনেছি— ‘এ আসনে নির্বাচিত যে এমপি রয়েছেন তিনি এমপি না, সংরক্ষিত আসনের যিনি এমপি তিনিই ওখানকার এমপি। যে ধরনের কাজ হোক না কেন, তার মাধ্যমে হতে হবে।’

    তিনি বলেন, সেদিন আমাদের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বলতে শুনেছি অতিরিক্ত দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু মহিলা সংসদ সদস্য বলছেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসলে কোন বিষয়টা সত্য? অতিরিক্ত দায়িত্বের আওতা কত? সেটা কিভাবে পালন করা হবে? সেই অতিরিক্ত দায়িত্বের সাংবিধানিকতা কতটুকু সেটাও জানতে চাই। অতিরিক্ত দায়িত্ব শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, সে আসনগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে। এখানে আশঙ্কার জায়গা তৈরি করছে, বিএনপি কি বিরোধী দলের আসনে তাদের নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়? বিষয়টি আমাদের কাছে অনানুষ্ঠানিক ছিল, কিন্তু সংসদে বলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসেছে। আমরা সুরাহা চায়, সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চায়।

    পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ফ্লোর দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা নেই; পুরো বাংলাদেশেই তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং অতিরিক্ত ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারণ আসনের সদস্যরা একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের সীমানা বিবেচনায় সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী এসব নির্বাচনি এলাকা সময়-সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে সাধারণ আসনের জন্য নির্ধারিত ওই আঞ্চলিক সীমা সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা যে আসনে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের লিমিটেড এরিয়া হচ্ছে হোল কান্ট্রি বাংলাদেশ।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও অন্যদের মতো পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে তারা যে বরাদ্দ পান, তা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে দিতে পারেন।

    নিজের এলাকার সংরক্ষিত আসনের এমপি শামীর আরা বেগম স্বপ্নার নাম উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো সদস্য চাইলে কক্সবাজারে বরাদ্দ দিতে পারেন, আবার বাঁশখালী বা সাতকানিয়াতে দিতে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সংসদে একটি বা দুটি এলাকাকে ‘আমার এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজেই নিজের কার্যপরিধি সীমিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের বলা উচিত, পুরো বাংলাদেশই তাদের এলাকা। দেশের যেকোনো স্থানে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব বা সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক সীমানার ধারণা সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বরিশালের গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে বরিশালে ফেরার পথে খুদে শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়িবহর থামিয়ে তাদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

    সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে গৌরনদী থেকে বরিশাল পর্যন্ত ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। সড়কের দুই পাশে উপস্থিত জনতাকে দেখে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর থামিয়ে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    দুপুর দেড়টার দিকে সাতমাইল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান এবং স্মরণীয় মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন।

    এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি এক ছাত্রীর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে নিজেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটি

    প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটি

    বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ নামের এ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

    রোববার (১২ জুলাই) এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা।

    কমিটির ‘প্রধান সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অন্যদিকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক।

    অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের আইজিপি, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক।

    কমিটিকে মাঠপর্যায়ে ও কৌশলগত বিষয়ে সহায়তা করার জন্য ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা হয়েছে।

    তারা হলেন-শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

    কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের তদারকি করা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করা।

    একই সাথে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ‘পর্ষদ’ গঠন করা হবে। এই পর্ষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মূল ‘জাতীয় কর্মকৌশল’ তৈরি করবে। আগামী ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে জমা দেবে।

    গঠিত এ কমিটির প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সব ধরনের সাচিবিক সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সামরিক বা বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটিতে কো-অপ্ট (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে।

  • ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    ফ্রান্স স্কোয়াডে কোনো ‘ফরাসি খেলোয়াড়’ নেই: স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। সেই বিতর্কে এবার জড়িয়ে পড়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়।

    ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাহয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফ্রান্স জাতীয় দল নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্সের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, তবে তার দাবি, দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’, তারপরও তারা দুর্দান্ত খেলছে।

    রাহয়ের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দেন।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার বিএফএম টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাহয়ের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে বৈচিত্র্যই শক্তি, আর বিভিন্ন পটভূমির মানুষ সমানভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়।

    শুধু ফ্রান্সেই নয়, রাহয়ের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে স্পেনেও। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এমন মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের সঙ্গে মানানসই নয়। পাশাপাশি তিনি রাহয়ের নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

    স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এখনও এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোনো দেশের নাগরিকত্বকে পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে বিচার করেন। অথচ প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা এবং অবদানের ভিত্তিতে। তিনি রাহয়ের মন্তব্যকে বিদেশিবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন।

  • জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। এটি উন্নয়নের ভিত্তি এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

    আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার জনসংখ্যার আকারের ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমবাজার, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দেয়।’ এসময় তিনি ভারসাম্যপূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিত করা এবং এর গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার ঘোষিত ১৯ দফা সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি কর্মসূচির অন্যতম দফা ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ’। ১৯৭৬ সালে তার নেতৃত্বে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন এবং ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করা হয়।’

    তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সুফল অর্জনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যার ফলে বাল্যবিবাহ কমে, সচেতনতা ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সীমিত ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর তুলনায় আমাদের জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি, সীমিত বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা কেবল পরিবার পরিকল্পনা বা স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এবং এই বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। অর্থনীতির ভাষায় যা জনমিতিক লভ্যাংশ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং চীনের মতো বহু দেশ এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই আজকের তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। আর তা করতে না পারলে এই সম্ভাবনাই একসময় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ যা তারুণ্যের প্রত্যাশা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা এবং কর্মসংস্কৃতির মতো জীবনদক্ষতারও বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা তরুণদের দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে।’

    কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যার বিশাল ভিত্তির কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করছে। ফলে দেশের মোট জনসংখ্যা এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    দ্বিতীয়ত, মোট প্রজনন হার গত দেড় দশক ধরে প্রায় দুই দশমিক তিন-এ স্থির রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে এ হারকে দুই এর কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

    তৃতীয়ত, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ পরিবারে জন্মহার তুলনামূলক অনেক বেশি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সেভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।

    চতুর্থত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিয়ের গড় বয়স বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম সামাজিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু নয়’ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এই জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি রচনা করবে। পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন এই ছয়টি ভিত্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।’

    রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

    এর আগে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য খাতের তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।

  • ১৪ সংশোধনীতে গঠনতন্ত্র বদলাচ্ছে জামায়াতের

    ১৪ সংশোধনীতে গঠনতন্ত্র বদলাচ্ছে জামায়াতের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী নির্বাচনে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের স্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ পরিস্থিতিতে সাত বছর পর দলটির গঠনতন্ত্রে আসছে বেশকিছু বড় সংশোধন। বর্তমান আমিরের নেতৃত্বে এবারই প্রথম ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪টি সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এতে নিয়ন্ত্রিত হতে যাচ্ছে দলের আর্থিক খাত। দলের সদস্য না হলেও সাংবিধানিক বড় পদে আসীন হবারও সুযোগ মিলবে। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৬৮ নম্বর ধারায় নতুন উপধারা যুক্ত করে জেলা ও মহানগর আমিরদের অর্থ ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দলটির আয়ের উৎস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গঠনতন্ত্রের তৃতীয় অধ্যায়ে নতুন ধারা সংযোজন করে কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দলীয় সূত্র আরও বলছে, এই পরিষদে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যারা দলের সদস্য নন, কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৩তম সংশোধনী প্রস্তাব ইতোমধ্যে মজলিসে শূরায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশোধনী কমিটিতে আলোচনা শেষে প্রস্তাবগুলো নির্বাহী পরিষদে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো শূরায় আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও এসেছে। এ বিষয়ে শূরা সদস্যদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

    তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী শূরা বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হবে। গঠনতন্ত্রের সংশোধনী চূড়ান্ত হলে তা প্রকাশ করা হবে এবং দলের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হবে।

  • সোমবার দেশব্যাপী শোক পালন করবে বিএনপি

    সোমবার দেশব্যাপী শোক পালন করবে বিএনপি

    দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আগামীকাল সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

    আজ রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    তিনি বলেন, ‘মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। আগামীকাল সোমবার সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হবে।’

    এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়সমূহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন বলেও জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

    রিজভী বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি আমাদের থেকে বহু দূরে চলে গেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের প্রতিটা অধিকারের আন্দোলন, স্বাধীনের আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন-প্রতিটা আন্দোলনে তার অনন্য ভূমিকা এই জাতির কাছে কোনদিনই বিস্তৃত হবে না। তিনি ছিলেন সমকালীন রাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। তার মহিমান্বিত অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ হারাল একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে, দেশ হারাল একজন অভিভাবককে।’

    উল্লেখ্য, রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির ‍উদ্দিন সরকার।

    রিজভী জানান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রথম জানাজা বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং পরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় প্রয়াত নেতা জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।’

    এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, অধ্যাপক আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা. জাহিদ হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা!

    ‘পরিচয় সংকটে’ বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েটরা!

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনীতির মাঠে বড় চমক ছিল বেশ কয়েকজন ‘হেভিওয়েট’ নেতার বিএনপিতে যোগদান। কেউ ছিলেন নিজ দলের প্রধান, কেউ দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা, আবার কেউ বা ছিলেন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতারা ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করতে নিজ দল বিলুপ্ত করে কিংবা পদত্যাগ করে নাম লেখান বিএনপিতে। উদ্দেশ্য ছিল-‘সহজেই’ নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়া এবং রাজপথে ত্যাগের মূল্যায়ন পাওয়া।তবে নির্বাচন-পরবর্তী তাদের অনেকেই এখন এক ধরনের ‘পরিচয় সংকটে’ ভুগছেন। কেউ কেউ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, আবার কেউ প্রতিমন্ত্রী হয়েও পাননি দলীয় কোনো পদ। অন্যদিকে যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তারা এখন তাকিয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলছেন নেতারা। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ৫ মাসের বেশি সময় ধরে বিএনপিতে আছেন। সাধারণ সদস্য হওয়ায় এলাকায় গুরুত্ব পাচ্ছেন না তারা। এমনকি স্থানীয় বিএনপির সঙ্গেও তাদের এক ধরনের বৈরিতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিতে বড় পদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্ব চান তারা। আবার দু-একজনের প্রত্যাশা, বিএনপি হাইকমান্ড ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধামতো সময়ে তাদের মূল্যায়ন করবেন।

    বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা ২ জন সদস্য যুগান্তরকে জানান, নতুন যোগদানকারীদের বিষয়ে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আছে। সময়মতো সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। আগামীতে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমেই এই নেতাদের স্থায়ী পদ-পদবি ও রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ করা হবে।

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। তার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন ৮ জন নেতা। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন সাতজন। তারা হলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বাংলাদেশ এলডিপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিএম’র সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপি’র চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। এছাড়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আবু সাইয়িদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিলেও নির্বাচনে অংশ নেননি।

    বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করা ৭ জনের মধ্যে ৩ জন সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বিভিন্ন দল ঘুরে বিএনপিতে যোগ দিয়েই হবিগঞ্জ-১ থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন ও শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ববি হাজ্জাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ড. রেদোয়ান আহমদ, সৈয়দ এহসানুল হুদা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি।

    এদিকে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দলের রাজনীতি বিএনপির সঙ্গে বিলীন করে দিয়েছেন এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ তাদের বর্তমান পরিচয় বিএনপির সাধারণ সদস্য। এ নিয়ে তাদের অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে তাদের নেতাকর্মীরাও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এমনটা ধরে নিতে হবে। কিন্তু গত কয়েক মাসে ওই নেতাকর্মীরা বিএনপি বা সরকারে তেমন কোনো গুরুত্ব পাচ্ছেন না।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে যোগদানকারী দলের একজন সংসদ-সদস্য বলেন, তিনজন ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হলেও একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। অন্য দুজনও সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। তার মতে, সংসদ-সদস্যের পাশাপাশি দলীয় পদ-পদবি থাকলে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাজনীতি করার জন্যই একটা রাজনৈতিক পরিচয় প্রয়োজন।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমরা যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলাম, পরে আমাদের দল বিলুপ্ত করতে হয়েছে মূলত কিছু কৌশলগত কারণে। বিশেষ করে আরপিও’র বিভিন্ন ধারা পরিবর্তনের ফলে আমাদের দল বিলুপ্ত করে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছিল। তবে বিএনপিও আমাদের সেখানে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেছে। তিনি বলেন, আমি বিএনপিতে আছি এবং শেষদিন পর্যন্ত থাকব। আশা করি, দল খুব শিগগিরই আমাদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় দেবে।

    রাশেদ খান বলেন, ২০২২ সাল থেকে যখন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়, সেই সময় থেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুসম্পর্কের সুবাদে আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। বিশেষ করে গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিএনপির নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। আমরা যেহেতু আন্দোলন-সংগ্রাম করে এসেছি এবং গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি, তাই আমি আশাবাদী যে বিএনপি অবশ্যই আমাদের মতো যারা আছে, তাদের মূল্যায়ন করবে।

  • ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া দেশে এসে সরাসরি আত্মসমর্পণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবেরোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো ইচ্ছা করলেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দেশে আসতে হলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। আর দেশে পা রাখামাত্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষদিকে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অর্থনীতি, নেতাকর্মীদের স্বাবলম্বী করা এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন—এ বিষয়গুলো কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    দলীয় সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। রাত ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তার হাতে একটি ক্রেস্টও তুলে দেওয়া হয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    অধিকাংশ সদস্যের অভিমত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের উপযোগী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।

    সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বিবেচনায় রেখে তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন নেতারা।

    দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করে

    ন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

    বৈঠকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা নেতাকর্মীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দুজন সদস্য বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক নেতাকর্মী চাকরি, ব্যবসা কিংবা জীবিকার সুযোগ হারিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সদস্যদের মতে, আওয়ামী লীগের মতো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে বিএনপি চাকরি দেবে না। কারণ এমন নীতি অনুসরণ করলে অতীতের মতো অনেকের চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিও বৈঠকের আলোচনায় স্থান পায়। বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন,

    সরকার গঠনের পর নানা ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে দলটির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জমির উদ্দিন সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির এক ফেসবুক পোস্টে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

    জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তার মৃত্যুর সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক শোক বার্তায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জানান।

    এদিকে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় চিফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এছাড়া আলাদা শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাবেক স্পকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

    তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।

    সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন। পরবর্তী সরকার এসে বিচার করবে।’

    শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশের মানুষ চাঁদাবাজি করে না। যারা চাঁদাবাজি করে, তারা জনগণের কষ্ট কিভাবে বুঝবে।’

    বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ‘তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করলেও বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি ঘোষণা করেন, আগামীতে ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’ এছাড়া সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বিজিবি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানান।

    জামায়াত আমির রংপুর বিভাগকে ‘কৃষির রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি আলু চাষীদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে হিমাগারে প্রতি বস্তা আলুর জন্য ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে যা কৃষকদের ওপর জুলুম। তিনি আলুর বস্তা রাখার খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।তিনি অঙ্গীকার করেন, ১১ দলের সরকার গঠিত হলে দেশে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজের জায়গা হবে না। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত হন, তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

  • রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে; বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই।’

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি রংপুরবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সন্তান আবু সাঈদ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের যে বার্তা দিয়েছেন, তা হলো—দেশের জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিতে হবে। কারও তাঁবেদারি করে থাকবেন না।’

    কর্নেল অলি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সুন্দর কবিতা শোনালেন—একই আকাশ, একই বাতাস। যদি আমাদের জন্য এতই আপনার মায়া হয়, চারিদিকে কাঁটাতার কেন দিলেন? আমাদের জন্য যদি এতই প্রীতি হয়, কেন প্রত্যেকদিন পুশইন করছেন? আমরা কেন ফারাক্কায় পানি পাচ্ছি না? তিস্তায় পানি পাচ্ছি না? আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলো আছে, এগুলো থেকে পানি কেন আসছে না?’

    ‘আমরা যখন উড়োজাহাজ কিনি, আপনাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আপনারা যখন প্লেন কেনেন, বড় বড় জাহাজ কেনেন, আমরা তো কিছু বলি না। আমরা দেশের প্রয়োজনে ট্যাঙ্ক কিনব, আর্টিলারি কিনব, এটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত।’

    অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাস নই। আপনাদের দাসী তো আপনাদের কাছে চলে গেছে। এখন তো দাসী এখানে নেই। যদি আমাদের সাথে সুসম্পর্ক করতে চান, কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে নিন, পুশইন বন্ধ করুন। আর কখনো বলবেন না—রংপুর দখল করবেন।’

    ‘আপনারা যদি বলেন, রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব, কলকাতা দখল করব। আগের দিন শেষ। এখন নতুন জমানা শুরু। বাংলাদেশের এখন আপনার দাসীর রাজত্ব নেই। এই দাস-দাসীরা আর কখনও বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না।’

  • আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

    আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

    অনিয়ম-দুর্নীতি, অপচয় ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার লাগাম টানতে কঠোর সরকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যয় এবং কেনাকাটায় যাচাইবাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন-অনুন্নয়ন ব্যয় এবং কেনাকাটা তদারকি করতে বলা হয়েছে। গুরুতর অভিযোগ পেলে প্রকল্প পরিচালকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরম্যান্ট অ্যাক্ট কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধু ব্যয় কমানো নয়-দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করা, অপচয় বন্ধ করা এবং আর্থিক খাতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে মনে করে সরকার।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অতীতে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই ছাড়াই ব্যয় অনুমোদন, অতিমূল্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যয়ের আগে প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, বাজারদর, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের ব্যয়ে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে দুর্নীতির বড় ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য দরপত্র মূল্যায়ন, সরবরাহকারীর সক্ষমতা যাচাই, বাজারমূল্য বিশ্লেষণ এবং নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, আর্থিক তদারকি এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃচ্ছ্রসাধনের চেয়ে বড় বিষয় আর্থিক খাতের শাসনব্যবস্থা বা আর্থিক খাতের সুশাসন শক্তিশালী করা। অর্থনীতিবিদ ড. জাহির হোসেন বলেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়বে এবং জনসাধারণের করের অর্থ আরও সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতের সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন একই নিয়ম সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে কার্যকর হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে শুধু রাজস্ব বাড়ালেই হবে না; ব্যয় ব্যবস্থাপনাও শৃঙ্খলায় আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা এবং দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অর্থবিভাগ মনে কওে এ উদ্যোগ কেবল সাময়িক কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি হয়ে থাকবে না; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংস্কৃতির সূচনা করবে। প্রতিটি ব্যয় হবে প্রয়োজনভিত্তিক। প্রতিটি কেনাকাটা হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও গতিশীল হবে। গত ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সীমিত করার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন ব্যয়ে আরও কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত স্থগিত থাকবে। সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর সীমিত করা হয়েছে। পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণও বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেগুলো বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য-এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়; বরং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

  • তুরস্কে আজানের ধ্বনিতে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    তুরস্কে আজানের ধ্বনিতে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রোস্তাদোত্তির।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তুরস্কের মুসলিমদের সহনশীলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে; এর মধ্যে এক ধরনের গভীর ও হৃদয়স্পর্শী সুর রয়েছে।

    তুরস্কে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি খুব শিগগিরই আবার তুরস্ক সফর করব।

  • পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল আমিনের স্ত্রী।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

    মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

  • ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই আসুন

    ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই আসুন

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই; এখনই ফিরে এসে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরা উচিত।

    শনিবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।’ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, আপনার (শেখ হাসিনা) শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ—এসব বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? কেন দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম? এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।

    পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল লিখেছেন, আপনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আগেই বিদেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনার সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির ভার বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তাদের অনেকেই আজও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন। আর যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।’

  • ধর্ম

    ধর্ম

    মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদ উদ্বোধন

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় এর উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।

    অনুষ্ঠাননে গেস্ট অব অনার ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুমিনুল হক।

    মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল ফারুক, মডেল মসজিদ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মাদ ফেরদৌস-উজ-জামান।

  • আস্থা ফেরাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে; প্রধানমন্ত্রী

    আস্থা ফেরাতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে; প্রধানমন্ত্রী

    চিকিৎসকদের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

    শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে রোগীরা চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা ফিরে পান। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান। এ নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে সকালে ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢামেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে ঢামেক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চট্টগ্রামের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

    চট্টগ্রামের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

    চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকার দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাহ্দী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরকার জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    উদ্ধার কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

  • বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

    বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

    ডেস্ক নিউজ : বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাক। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

    ‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

    ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

    ত্রাণ বিতরণ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি। যে বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেগুলো দেখতে নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন, কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে তুলে দেন সহায়তা, কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

    গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

    লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন। সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।

    স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।

    একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটা শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিলেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

    তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

    সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।

    বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ তার সঙ্গে হাত মেলাতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ শুধু নিজের ক্ষতির কথা বলতে চান।

    পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একই ডাক ‘দাদু আসছে… দাদু আসছে…’

  • ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

    ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

    নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরছে সংবিধানে। গতকাল বৃহস্পতিবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এ রায়কে ঐতিহাসিক ও দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকসহ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা।

    রায়ের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ রুদ্ধ হলো। সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান অন্তর্ভুক্ত হবে।আইনজীবীরা জানান, গ্রহণযোগ্য ও কাঙ্ক্ষিত মানের নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা হচ্ছে সর্বজনস্বীকৃত ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার অধীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার এটিকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তারই প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন। অবসরে গিয়ে এমন রায় দেওয়ার ঘটনাকে ইতিহাসের ঘৃণ্য ও জঘন্যতম নজির বলে উল্লেখ করেন আইনজীবীরা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার বহুল বিতর্কিত এ রায়কে পুঁজি করে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও হাসিনার পলায়নের পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনর্বহালের আদেশ দেয়। গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বিচারপতির ফুল আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেয়।

    স্বৈরাচারের ফেরার পথ রুদ্ধ হলো

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে রায়ের পর আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাল্লাহ। এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এটা বিএনপির দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের ফসল। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল, মানুষ যেন তার নিজের ভোট নিজে দিতে পারে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম, বিতর্কিত বিচারপতি খায়রুল হকের এ-সংক্রান্ত রায় ছিল সংবিধানপরিপন্থী। হাইকোর্ট বিভাগ ওই সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। আমরা এ রায় ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

    তিনি বলেন, রায়ে যে ৫৪টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার সবকটি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অ্যাড্রেস করব। এক্ষেত্রে আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই সনদ। জুলাই জাতীয় সনদ সামনে রেখে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যা যা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, সব করা হবে।

    জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে

    অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে যখন রিট করা হয়, তখন হাইকোর্ট চারটি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা, গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানে ৭(ক), ৭(খ) বাতিলের রায় বহাল থাকল। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।

    তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতির পাশাপাশি সংবিধানে জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বাদ দেওয়াসংক্রান্ত ওই সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই দুটিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

    হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যরা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

    এরপর আপিল বিভাগ গত বছরের ১৩ নভেম্বর লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আদেশ দেয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়, যা বৃহস্পতিবার খারিজ হলো।

    তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা বাকি পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন জাতীয় সংসদের।

    যুগের পরিবর্তনে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হয়

    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিটকারী জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ে হাইকোর্ট চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, যা আপিল বিভাগে বহাল থাকল। যে বিষয়গুলো অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল—সংবিধানের কতগুলো বিষয় পরিবর্তন করলে তা হবে সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা, গণভোটের বিধান বাতিল, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল।

    তিনি বলেন, চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলো। এছাড়া বাকি যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধান কোনো দণ্ডবিধি নয়। কেউ যদি অপরাধ করে, তবে সে অপরাধ ডিটারমিন করবে দণ্ডবিধি। প্রসেস ফলো করবে ফৌজদারি কার্যবিধি। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে শাস্তির কথা বলা থাকে না। আর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ৫০ বছর পর আমরা কেউই থাকব না, নতুন জেনারেশন আসবে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে, এডুকেশন হবে। এজন্য সংবিধানকে বলা হয় লিভিং ডকুমেন্ট। এটিতে সময় ও যুগের সঙ্গে পরিবর্তন আনতে হয়। যদি বলি কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না, তার মানে কি এটা বাইবেল? এটা কি কোরআন? আনসার ইজ নো। এজন্য এই পার্টটুকু বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ।

    রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর বুঝতে পারব আদালত কোন বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আর কোন কোন বিষয় নিয়ে কী কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

    আপিলে সুজনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, কারিশমা জাহান এবং রিদুয়ানুল করিম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক। অপর আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির।

    রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ।

  • যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।’

    দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুল মালেক খান।

    বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।’

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশিম রেজা।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।

  • আজ মাহাথির মোহাম্মদের ১০১তম জন্মদিন

    আজ মাহাথির মোহাম্মদের ১০১তম জন্মদিন

    মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের ১০১তম জন্মদিন আজ (শুক্রবার, ১০ জুলাই)। এ উপলক্ষে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

    এদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “তুন যেন সর্বদা মহান আল্লাহর রহমত, সুস্বাস্থ্য ও অশেষ বরকতে ধন্য থাকেন। ইনশাআল্লাহ।” ড. মাহাথির মোহাম্মদ ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের আলোর সেতারে জন্মগ্রহণ করেন।

    চিকিৎসক থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া মাহাথির দেশটির আধুনিকায়নের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রথমবার ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর দেশ পরিচালনা করেন। দীর্ঘ এই সময়ে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    এরপর ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ৯২ বছর বয়সে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সে সময় তিনি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কর্মরত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তিনি ২০২০ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

  • স্থানীয় নির্বাচনে পুরুষ বুথে ৬০০, নারী বুথে ৫০০ জন ভোট দেবেন

    স্থানীয় নির্বাচনে পুরুষ বুথে ৬০০, নারী বুথে ৫০০ জন ভোট দেবেন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ স্থাপনের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি ভোটকক্ষে সর্বোচ্চ ৬০০ জন পুরুষ ও ৫০০ জন নারী ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়ার সই করা এক সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আগে ভোটার সংখ্যার তুলনায় কম ভোটার নিয়ে পৃথক ভোটকক্ষ নির্ধারণের যে নিয়ম ছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে।

    এর আগে সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটকক্ষে সাধারণত ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য ব্যবস্থা রাখা হতো। নতুন নিয়মে এই সংখ্যা বাড়িয়ে পুরুষ ভোটারের ক্ষেত্রে ৬০০ এবং নারী ভোটারের ক্ষেত্রে ৫০০ করা হয়েছে।

    উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। আগে উপনির্বাচনে কোনো একটি পদের ভোটে একটি কক্ষে ৫০০ জন পুরুষ ও ৪০০ জন নারী ভোটারের ব্যবস্থা রাখা হতো। এখন সাধারণ ও উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ও ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।

    ইসির নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটারদের চাপ কমাতে প্রয়োজনে প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস তৈরি করা যাবে।

    এ ছাড়া আগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় একই ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • কেন গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের গভীর নজর?

    কেন গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের গভীর নজর?

    যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের আধা-স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পের এই দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানান, গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয়। বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটির প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চলই উত্তর মেরু বা আর্কটিক বৃত্তের ওপরে অবস্থিত। এখানে মূলত ৫৬ হাজার ইনুইট আদিবাসী মানুষের বসবাস।

    দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব রাজনীতির আড়ালে থাকা এই বরফাবৃত দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে ট্রাম্পের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পেছনে গভীর কৌশলগত, সামরিক ও খনিজ কেন্দ্রিক কারণ রয়েছে।

    উত্তর আমেরিকা রক্ষা এবং বিশ্ব সুরক্ষার দাবি: ট্রাম্পের মূল যুক্তি হলো, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের কাছে থাকা নিরর্থক, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত। ন্যাটোর বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ডেনমার্কের জন্য নয়। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের সুরক্ষার স্বার্থেই আমাদের এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি কানাডা এবং ভেনিজুয়েলা নিয়েও অঞ্চল সম্প্রসারণের কথা ভাবলেও, গ্রিনল্যান্ডের বিষয়টি তার মুখে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে। পূর্বে তিনি দ্বীপটির মালিকানা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমানে সামরিক বিকল্পের পথ থেকে সরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

    চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি: পারমাণবিক পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন উত্তর মেরু অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে। ২০১৮ সালে চীন নিজেকে একটি নিকট-আর্কটিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং বৈশ্বিক বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে একটি মেরু সিল্ক রোড তৈরির পরিকল্পনা উন্মোচন করে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও চীনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আমরা কি আসলেই চাই উত্তর মেরু মহাসাগরটি সামরিকীকরণ এবং ভূখণ্ড দাবির প্রতিযোগিতায় আরেকটি দক্ষিণ চীন সাগরে রূপান্তরিত হোক? অন্য দিকে, রাশিয়া এই মেরু অঞ্চলে তাদের পুরোনো সোভিয়েত আমলের সামরিক অবকাঠামো সংস্কার করছে এবং ২০১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি নতুন সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর তৈরি করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঐতিহাসিক কেন্দ্র এবং তাদের নর্দার্ন ফ্লিট (নৌবহর) এই উত্তর মেরু অঞ্চলেই অবস্থিত। তাই মার্কিন মূল ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

    কৌশলগত অবস্থান ও পিটুফিক স্পেস বেস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষায় গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তৎকালীন সময়ে এটি যাতে নাৎসি জার্মানির হাতে না পড়ে এবং উত্তর আটলান্টিকের জাহাজ চলাচল পথ সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করেছিল। বর্তমানেও ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে প্রত্যন্ত পিটুফিক স্পেস বেস (সাবেক থুলে এয়ার বেস) পরিচালনা করে। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্রের আগাম সতর্কবার্তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ নজরদারি কার্যক্রমে সাহায্য করে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও বৃটেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমা (যা জিআইইউকে গ্যাপ নামে পরিচিত) দিয়ে রুশ নৌবাহিনীর যেকোনো যুদ্ধজাহাজের যাতায়াতের ওপর নজরদারি রাখার জন্য এই দ্বীপটির অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তন ও নতুন বাণিজ্য পথ: কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের পর উত্তর মেরু অঞ্চলটি মূলত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ছিল। কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের পুরু বরফের স্তর দ্রুত গলতে শুরু করেছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি নতুন এবং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ (নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ) উন্মুক্ত হচ্ছে। এই নতুন বিশ্ব বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নিতেই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন করে শুরু হয়েছে।

    বিরল খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার: প্রাকৃতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের মাটির নিচে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ সম্পদ। আধুনিক পৃথিবীর অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় হাই-টেক গ্যাজেট, যেমন স্মার্টফোন, কম্পিউটার, উন্নত ব্যাটারি এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য অপরিহার্য রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল খনিজ উপাদানের এক বিশাল উৎস এই দ্বীপ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই খনিজ বাজারের সিংহভাগ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলো চীনের এই একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের ওপর চোখ রাখছে, যদিও সেখানকার কঠোর আবহাওয়া এবং পরিবেশগত কঠোর আইন খনিজ উত্তোলনের জন্য বড় বাধা।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং ডেনমার্কের হুঁশিয়ারি: সামরিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন পতাকা উড়লেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল রাতারাতি উন্নত হয়ে যাবে না। রয়্যাল ডেনিশ ডিফেন্স কলেজের সামরিক বিশেষজ্ঞ থমাস ক্রসবির মতে, যুক্তরাষ্ট্র একজন বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে ডেনমার্কের কাছ থেকে ইতিমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা ও সামরিক সুবিধা ভোগ করছে। তাই এটি জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেয়েও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা। ডেনমার্কের পার্লামেন্ট গত বছর তাদের মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি করার অনুমতি দিয়ে একটি বিল পাস করেছে, যা ২০২৩ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের সাথে করা সামরিক চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ডেনমার্কের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনোভাবে সম্পূর্ণ গ্রিনল্যান্ড বা এর কোনো অংশ জোরপূর্বক নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে, তবে ডেনমার্ক এই সামরিক চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। অন্য দিকে, গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় জনগণও তাদের রাজধানী নুউকে অবস্থিত নতুন মার্কিন কনসুলেটের সামনে সমবেত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

  • সংসদে জামায়াত এমপি সাবিকুন্নাহার

    সংসদে জামায়াত এমপি সাবিকুন্নাহার

    ‘মাদকে ভেজাল নেই, খাদ্যে ভেজাল—এটা আশ্চর্যজনক’

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বাজারে মাদকে ভেজাল না থাকলেও মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, ফলের মৌসুমে মানুষ বুঝতে পারে না কোন ফল নিরাপদ আর কোনটি ফরমালিনমুক্ত। ‘মাদকে ভেজাল নেই, অথচ খাদ্যে ভেজাল—এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক।’

    এর জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ কমিটি গঠনসহ নজরদারি, মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর এবং লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য উঠে আসে।

    সম্পূরক প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ফলের মৌসুমে বাজারে প্রচুর ফল থাকলেও সাধারণ মানুষ দ্বিধায় থাকেন কোন ফলটি কিনবেন। কোনটি ফরমালিনমুক্ত, কোনটি নিরাপদ—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভেজালের এই চাদরে ঢাকা বাস্তবতায় মাদকে ভেজাল না থাকাটা বিস্ময়কর। জনগণকে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

    জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ভেজাল খাদ্যের কারণে দেশে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

    তিনি জানান, সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও কার্যক্রম তদারকি করবে। কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল নির্মূলে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

    তিনি বলেন, আম, শুঁটকি মাছ, খেজুরের গুড়সহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ৩৪০ জন খাদ্যকর্মীকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ৯৪টি সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছে ৯ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী।

    মন্ত্রী জানান, বিএফএসএর কর্মকর্তারা ৬ হাজার ৪৪৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান ও বাজার তদারকি করেছেন। সরকার স্বীকৃত পরীক্ষাগারে ৬৭০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ল্যাবে ৩ হাজার ৫৭৪টি এবং মিনি ল্যাবে ৪ হাজার ৯৩৮টি খাদ্য নমুনার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর আওতায় ১৭১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৩৯০ জন গৃহিণীর অংশগ্রহণে ৫১টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

    চলতি বছর শেষে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে নির্বাচনের অনেক আগেই ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। একইসাথে প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    তবে চাপ সামলাতে প্রতিটি কক্ষে একাধিক গোপন বুথ বা মার্কিং প্লেস স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো: রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

    ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বৃদ্ধি

    আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত বা প্রকাশের জন্য যে সময় নির্ধারণ করা ছিল, নতুন সংশোধনীতে তা আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটাররা কেন্দ্র সম্পর্কে জানার জন্য বাড়তি সময় পাবেন। গেজেটের ৬৫৩০ নম্বর পৃষ্ঠার ক্রমিক ১-এর ১.২ এবং ১.৩ উপঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখের অন্যূন ১৫ (পনের) দিন আগে এই সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নিয়ম ছিল। সংশোধিত নীতিমালায় ‘১৫ দিন’-এর স্থলে অন্যূন ২৫ দিন আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    ভোটকক্ষ নির্ধারণ ও ভোটার বিন্যাসে পরিবর্তন

    ইসি বলছে, ভোটকেন্দ্রে বুথ বা ভোটকক্ষ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয় বুথেই ভোটারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

    সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে : সংশোধনের আগে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করার নিয়ম ছিল। এখন থেকে ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে হবে।

    উপনির্বাচনের (একটি পদে) ক্ষেত্রে : সংশোধনের আগে উপনির্বাচনে একটি পদের জন্য সাধারণভাবে প্রতি ৫০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৪০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ ছিল। সংশোধনের পর এখন উপনির্বাচনেও সাধারণ নির্বাচনের মতোই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপন

    ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ভোটগ্রহণের গতি যেন ধীর না হয়, সেজন্য সংশোধিত নীতিমালায় একটি নতুন ও কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে এখন থেকে প্রতিটি ভোটকক্ষে (বুথে) ভোটারদের সুবিধার্থে এবং দ্রুত ভোটাদানের জন্য প্রয়োজনে একাধিক গোপনকক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করা যাবে।

    অপরিবর্তিত নিয়মাবলী

    নীতিমালার কিছু মৌলিক নিয়ম আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। যেমন- গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য ওই ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে বাস্তবতার নিরীখে ও স্থানীয় প্রয়োজনে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।

    নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধনের ফলে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় খরচ ও জনবল কিছুটা কমবে এবং দীর্ঘ সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

  • পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু গাছ লাগানোর ঘোষণা দিলেই হবে না, প্রকৃতপক্ষে কতটি গাছ রোপণ করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সময় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তবে সর্বোচ্চ দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, “সাত লাখ গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও পরে দেখা গেছে সর্বোচ্চ দুই লাখের মতো গাছ রোপণ করা হয়েছে। এটি সত্যিই দুঃখজনক।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই হবে না। কোন এলাকার মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়েই বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগিয়ে সেই জন্মকে স্মরণীয় করে তুলি। সন্তান ও গাছ- দুটিই একসঙ্গে বেড়ে উঠুক।”

    সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জনজীবনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই সরকার পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ দেশের সব নগর ও শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (থ্রি-আর) নীতির বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।”

    অনুষ্ঠানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

  • অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনবে ভারত

    অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনবে ভারত

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত।

    এটি ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী বছরগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মোদি। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সাথে বৈঠকের পর মোদি বলেন, ‘আজ আমরা পারমাণবিক জ্বালানি বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে। একইসাথে আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে নতুন গতি আসবে।’

    দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম রফতানি করা হবে। এতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।’

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম রফতানির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতা থেকে যাওয়ায় এতদিন দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য প্রায় ছিলই না। বৃহস্পতিবারও দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আলবানিজ।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’ অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।

  • একীভূত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি

    একীভূত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি

    একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের আমানত উত্তোলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরোপ করা সীমার বাইরে বিশেষ অনুমতি পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনায় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা তার হিসাব থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মে মাসের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের জন্য নিজের হিসাব থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি চান। পরে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

    ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় থাকা পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্কিম কার্যকর হওয়ার পর সাধারণভাবে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারেন। পরে যাদের জমার পরিমাণ দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস পর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। তবে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। যদিও অনেক আমানতকারী অভিযোগ করছেন, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তারা এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। পাঁচটি ব্যাংকের আমানত পরিশোধের বিষয়টি ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় পরিচালিত হলেও রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও অবস্থান বিবেচনায় তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এর আগেও কয়েকজন আমানতকারীকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের

    সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলেন। পরে তা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।

    কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক মিলন, ভোলা-২ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, ময়মনসিংহ-৭ আসনের বিএনপির মো. মাহবুবুর রহমান, খুলনা-৪ আসনের বিএনপির এস কে আজিজুল বারী হেলাল, দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপির ফজলে হুদা, ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতের মো. রুহুল আমিন এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি

    সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়, নিরীক্ষা আপত্তি এবং সরকারি হিসাবের জবাবদিহির বিষয়গুলো এ কমিটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাজেট পাসের পর সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, নিরীক্ষায় কী অনিয়ম ধরা পড়ছে এবং মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সেসব বিষয়ে কী জবাব দিচ্ছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা হিসেবে এ কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

  • স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

    স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সব উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ জুলাই ২০০৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন অনুমোদন করেছে।

    কমিশন জানায়, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট। এছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।

  • নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্র নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মো: জাহিদুল ইসলাম অমি নামে আশ্রয়হীন এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাকে উপজেলার মাধনগর আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের মো: আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    তারা জানান, বিএনপির দলীয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর প্রতিপক্ষের হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

    তারা আরো জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তার ঘর-বাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলা শ্রমিকের কাজ করে রাতে দলীয় কার্যালয়ে এসে নিজে রান্না করে খাবার খান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন।

    ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থেকেছি। আর কত দিন এভাবে থাকব, কত বছর থাকা যায়?

    তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক আমার পাশে দাঁড়াননি। কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেননি। দলের নেতা ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি, তারা যেন জীবন চলার মতো আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।

    মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা ও বাঁশিলা আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জাহিদুল ইসলাম ভাই খুবই অসহায় এবং দলপ্রেমী একজন মানুষ। তিনি বাধ্য হয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই দলের নেতারা তার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের পূুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকরবলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

    আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের (পুঁজিবাজার) স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় স্পিকার আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

    সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তারেক রহমান। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা,পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।

    পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা.এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত কর এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

    বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো,কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট,নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি ।’

    এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদ্‌ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    ‘চট্টগ্রাম পূঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে’

    সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আমি একটু আগে মূল প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

    অন্যদিকে, বীমা কোম্পানি অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি ইনভেস্টিগেশন করছে। এরকম যেগুলো কমপ্লেন সবগুলো ইনভেস্টিগেশন করছে। ইনভেস্টিগেশনটা কমপ্লিট হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

  • শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুবদলের ৩০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

    শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুবদলের ৩০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সারা দেশে যুবদলের প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    যুবদল সভাপতি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী যুবদল সুশৃঙ্গল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। কোনো রকম বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেয় না। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

    তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন। আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।’

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। হিউমান রিসোর্সের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

    কৃষির অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানা আবার চালু করা হবে। সনাতনী পদ্ধতির বদলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনে সরকার কাঁঠাল রপ্তানি কর‌বে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কারণে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরছে বলেও জানান তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলের সেমিনারে তিনি এ পরামর্শ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে অলি আহমেদ বলেন, আপনার কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে যারা বিদেশি গুপ্তচর তাদেরকে বের করা। তাদের দ্বারা আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে সংস্কারের বিষয়ে আপনার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, চতুর্দিকে শত্রু রেখে আপনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা হলাম আপনার প্রকাশ্য শত্রু। যারা আপনার পাশে আছেন, তারা হচ্ছেন আপনার আসল শত্রু।

    অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শত্রু দ্বারা আবর্তিত। বিদেশি গুপ্তচররা সরকারে ও দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। বিদেশি গুপ্তচর যেকোনো সময় তারেক রহমানের বড় ক্ষতি করতে পারে। তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। নতুন বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে না। আপনি (তারেক রহমান) ভালো অবস্থানে নেই।

    অলি আহমেদ বলেন, ১১ দল আপনার শত্রু নয়, আপনার বন্ধু। যার কারণে আপনাকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দিচ্ছে। আপনি ইতিহাসে একজন নেতা হয়ে থাকেন।

  • ‘ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে হারানো হয়েছে- জামায়াত আমির

    ‘ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে হারানো হয়েছে- জামায়াত আমির

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত।

    বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল তারা মেনে নিয়েছেন। তবে গণভোটের রায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নতুন বা পুরোনো—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ গ্রহণযোগ্য নয় এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, কেউ যদি শালীনতার সীমা অতিক্রম করে জুলাইকে অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও। তিনি বলেন, দেশে আর কোনো রক্তপাত এড়াতে হলে সরকারের উচিত গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

  • দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডে-শনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এ মন্তব্য করেন

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।জুবাইদা রহমান বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও মানুষের সেবাপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবেস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
    সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপগুলো সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন জুবাইদা রহমান।তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অপুষ্টির মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
    ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করা কখনোই যথেষ্ট নয়। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সেই প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তিপ্রস্তর বা গাঁথুনি আমরা স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি করতে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার খাত আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উভয়পক্ষ যদি যার যার নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে এ খাত সামগ্রিক ভাবে উপকৃত হবে না। তাই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ৭১ ব্রিটিশ এমপি

    নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ৭১ ব্রিটিশ এমপি

    ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচারমন্ত্রী ইয়্যারিভ লেভিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য।

    মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৭১ জন ব্রিটিশ এমপি ও লর্ডস সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘পদ্ধতিগত ও নথিভুক্ত নির্যাতনের’ দায় ইসরাইল সরকারের, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও রয়েছেন।

    লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে তৈরি ওই চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি ও ৭ জন লর্ডস সদস্যসহ বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতারা স্বাক্ষর করেন।

    ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানান, নেতানিয়াহু, উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ইয়্যারিভ লেভিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ‘দায়মুক্তির অবসান’ ঘটাতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, গত বছর ইসরাইলের ডানপন্থি দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। তবে এতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের আচরণে তেমন পরিবর্তন আসেনি। বরং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে এবং ‘প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ তৈরি হয়েছে।

    চিঠিতে জাতিসংঘের ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, জীবনধারণের উপকরণ ধ্বংস এবং বঞ্চনার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।

  • অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আর এ কারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই তো তদন্ত শুরু হয়েছে। আমাদের তদন্ত টিম কাজ করতেছে। প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা তো আছেই। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া তো সময়ের ব্যাপার।

    প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার মধ্যে কি আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্যে দলগত তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। ব্যক্তিগত দায় আছে। সুপরিয়র দায় আছে। এগুলো নিয়েই আমাদের তদন্ত এগুচ্ছে।

    এর আগে রবিবার চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, আমার কাছে রিপোর্ট যদি দাখিল করা হয়, আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। আপাতত এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান আছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে  আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক।

    ইরনা জানিয়েছে, এহুদ বারাক বর্তমান রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ব্যাপক আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেন।

    সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিতে মন্ত্রিসভার অস্বীকৃতি কেবল একটি আইনি বিবাদ নয়, বরং এটি এমন একটি মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে ইসরাইল এবং এর সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যাদের বিষয়াদি পরিচালনার যোগ্যতা ও দক্ষতা নেই।

    বারাক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভবিষ্যতের ওপর এই বিবাদের গুরুতর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন স্তরের ব্যর্থতার কারণে, বিশেষ করে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে উস্কে দেওয়া যুদ্ধগুলোর প্রতিকূল ফলাফলের ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইলি শাসনের অভ্যন্তরে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে।

  • সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন।

    মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।

    মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

    এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

    একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার খান এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখছে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।▫️

  • দল হিসেবে আ.লীগের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

    দল হিসেবে আ.লীগের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বলেছেন, নির্বাহী আদেশে এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছ। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ট্রাইবুনালে এ দলটির বিচার হবে। বিচার শেষে আদালতই রায় দিবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসাবে এ দেশে থাকবে কি না–।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুক, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন তার।

    এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির দূতাবাসের রাজনৈতিক সেকশনের পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং পলিটিকাল এ্যাটাচে রু কি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয় এবং উভয় দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে দুই দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরো গভীর, সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    এছাড়াও তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

  • এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    রাজনীতি ডেস্ক:

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার বাদী জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

    এটি একটি পরিকল্পিত হামলা দাবি করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত যুগান্তরকে বলেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হঠাৎ বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা।

    এ ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা- হলেন মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

    এনসিপি নেতাকর্মীরা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে সমাবেশস্থলে আসেন। তারা পৌঁছানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উঠেন এবং অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ছিল। তাদের পেছনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা স্থানে সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাবিলা তাসনিমের বক্তব্য চলাকালে ওই স্থানেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

    বোমা হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। পরে তারা সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে এনসিপির নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

    সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমালোচনা করেন এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

    সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

  • ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে  বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। রোববার বিকেলে বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নাসিরুল বিশ্বাস (৫০) বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গেলে নাসিরুল বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিঠে গুলি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়েও আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, ওই ব্যক্তির পিঠ থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।

    ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলী বলেন, নাসিরুল ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় আমাদের বালু ব্যবসা আছে। তিনিই দেখাশোনা করেন। বালু বিক্রির জন্য ব্যবসাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বালু ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত হামলাকারীর ছয়জন মুখোশধারী। একজনের মুখ খোলা থাকলেও তারা কাউকে চিনতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খুঁটিবগাড়ি বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

  • অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে। রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

    নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

    সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

    সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

    বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

    তিনি আরো বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

  • বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন—মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’

    ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’ উল্লেখ করেন তিনি।

  • চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

    চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

    অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের বড় বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব চাইছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। একই সাথে তারা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথেও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

    গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যান। এই সফর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিক নির্দেশ করে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর ঢাকার কৌশলগত অগ্রাধিকার পরিবর্তনের আভাস দেয়। প্রথম সফর মালয়েশিয়ায় হলেও, চীনের সফরটিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

    সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার নতুন নির্বাচিত নেতারা প্রথমে ভারতে সফরে যান। তারেক রহমানের চীন সফরকে দিল্লির জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন ভারতের কেউ কেউ। দিল্লি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

    প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং মংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন চুক্তিটি বিশেষ নজর কেড়েছে। বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় থাকা ভারত ও চীন উভয় দেশই এই বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক শীতল হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন। এরপর ডা. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। ভারত তখন উচ্চপর্যায়ের সফর এড়িয়ে চলে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পায়। এরপর তারেক রহমান দায়িত্ব নিলে উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

    তিনি জানান, সীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা দিচ্ছে।

    ১৮ মাস বন্ধ থাকার পরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাস চলাচল আংশিক শুরু হয়েছে। এখন কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস চলছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। তখন ভারত ‘ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার টন জরুরি জ্বালানি পাঠায়।

    গত মাসে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিয়েছেন। দিল্লি তাকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড। এই বাণিজ্য মূলত ভারতের পক্ষে ছিল।

    তবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক যতটা আশা করা হয়েছিল, ততটা সহজ হয়নি। সম্পর্কে এখনো কিছু অস্বস্তি রয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে সমর্থনের কারণে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যাদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে, তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে। এটি ঢাকায় বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলিমকে পুশ-ইন করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের সময় হিন্দু-জাতীয়তাবাদী নেতাদের বাংলাদেশ-বিরোধী মন্তব্য ঢাকায় নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

    সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এসব বিষয় বাংলাদেশে জনঅসন্তোষ তৈরি করেছে, যা ঢাকার চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।’

    গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়। এর ফলে সীমান্তে অবস্থিত এই রাজ্যে তৃণমূলের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে।

    তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের যেকোনো ভূমিকা ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু। ভারত ও বাংলাদেশ এই নদীর পানি শেয়ার করে। তবে পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই পক্ষ তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিকাজের জন্য নদীটির ড্রেজিং ও নাব্যতা ফেরানো প্রয়োজন।

    শ্যাম শরণ বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের কাছে যেকোনো প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা সবসময় উদ্বেগের বিষয়। আমরা এটিকে মোটেও স্বাগত জানাব না।’

    ভারত ও চীনের মধ্যেও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারতের পরাজয় হয়েছিল। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষেও উভয় পক্ষের প্রাণহানি হয়েছে।

    এই প্রকল্পে চীনের ভূমিকা ভারতকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি নিয়ে আসবে। এই ২২ কিলোমিটারের স্ট্রিপটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করেছে।

    বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারগুলো ভারতকে তিস্তা প্রকল্পে যোগ দিতে বলেছিল। কিন্তু দিল্লি সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় নেয়।

    তাদের মতে, চীনের এই বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

    তবে বেইজিং ভারতের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।’

    চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ। বাংলাদেশের মোট অস্ত্র আমদানির ৭০ শতাংশের বেশি আসে চীন থেকে। বেইজিংয়ের কাছে ঢাকার দেনা ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সফরকালে চীন ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি চীনের ইউনান প্রদেশকে দুই দেশের সাথে যুক্ত করবে।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়াকে নিজের প্রভাব বলয় মনে করে। তবে চীন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে তার অবস্থান বাড়িয়েছে। নতুন সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানের কারণে। ঢাকা তার প্রত্যর্পণ চাইছে। ছাত্র আন্দোলনে শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

    শ্যাম শরণ বলেন, ‘যতদিন হাসিনা দিল্লিতে আছেন, রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানের ভারত সফর কিছুটা কঠিন হতে পারে।’

    তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিবেশী। তাই তারেক রহমান দিল্লি সফর করতে পারেন। ভারতও জানে যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক জরুরি। সেখানে বেশ কয়েকটি জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যুবরাজের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়৷

    এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু।

    রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন তারা।

    ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাৎ। সৌজন্য সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট পাস, বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রত্যাশিত সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

    বৈঠকে বাজেট বাস্তবায়ন এবং এর বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং এর সম্ভাব্য সমাধান ও চ্যালেঞ্জগুলো বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

    বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে স্পেনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় স্পেনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্যও তিনি স্পেন সরকারের প্রশংসা করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    আলোচনাকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

    সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

    সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি(থ্রিডি বা অন্য যেকোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রচারণামূলক উপকরণের নকশায় অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

    পরিপত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে।

  • জগন্নাথপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ

    জগন্নাথপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ

    রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জগন্নাথপুরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হুরায়রা ছাদ মাস্টার, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিক মিয়া, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান, জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সালা উদ্দিন মিঠু এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুল ইসলাম সমছুসহ অনেকে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় উপকারভোগী কৃষক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নত জাতের আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সরকারের এ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে আমন ধানের আবাদ বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করা হবে বলে জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিচাষে আরও উৎসাহিত করবে।

    এ এম

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’