রাজনীতি

  • ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সেই নেতা গ্রেপ্তার

    ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সেই নেতা গ্রেপ্তার

    নামাজে ইমামতি করার সময় কৌশলে পালিয়ে যাওয়া গোলাম আজম (৪৫) নামে এক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানা পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) সকালে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর মাদারটেকের নন্দীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, চাঁদপুর আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর অধীনে করা একটি মামলায় রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে গত সোমবার (১৫ জুন) পুলিশ রাজধানীর পুরানা পল্টনে তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।

    ওসি জানান, গ্রেপ্তারের সময় গোলাম আজম আসরের নামাজ আদায়ের অনুমতি চান। পুলিশ অনুমতি দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ইমামতি শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে মুসল্লিরা সিজদায় থাকা অবস্থায় পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান।

    এরপর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার সকালে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলটির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই এবং দীর্ঘদিন আগে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানি ভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।

    উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, “এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।”

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

    এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫/৩০ টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি বর্ষণ করে। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
    এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

    একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি করার সিদ্ধান্ত

    বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি করার সিদ্ধান্ত

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানের ‘ইয়াবা সেবনের’ একটি ভিডিও আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ইয়াবা সেবন করিয়েছে।

    ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গোপীনাথপুর হাট অফিসের একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আগুনের তাপে একটি যন্ত্র ব্যবহার করে পাইপের মাধ্যমে কোনো পদার্থ গ্রহণ করছেন এক ব্যক্তি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান এবং তিনি ইয়াবা সেবন করছিলেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সভাপতির ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হবে। একজন দায়িত্বশীল নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই বলে দাবি করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হাট অফিসে নিয়ে যায় এবং ইয়াবা সেবন করায়। তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি।’ এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

    আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কিনা, সেটিও যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও তিনি জানান।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেটা সংসদে সমাধান হয়, হবে। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে। আমরা জনগণের দাবি ছেড়ে দেবো না, ছেড়ে দেওয়ার কোনো অধিকার আমাদের নেই। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমরা কনফিডেন্ট, এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশাল্লাহ।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন।সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল প্রতিনিধি দেবে না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার। এজন্যই রেফারেন্ডাম (গণভোট) হয়েছে। আমরা বলেছি, ৭০ ভাগ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, আমরা সংসদের ভিতরে এসে এটা বদলাতে চাই না। আমরা জনগণের পক্ষে, জনগণের রায়ের পক্ষে। অতএব সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি করলে আমরা দেখবো বিবেচনা করবো।

    তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, এটা নতুন করে আর বলার কিছু নেই যে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির দরকার নেই। এইটা তো একটা রুটিন ওয়ার্ক। এটা বিল আকারে আসবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে, আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো। পাস হলে পাস হবে, রিজেক্ট হলে রিজেক্ট হবে, এইটার জন্য কোনো কমিটি লাগে না। কমিটির প্রয়োজন সংবিধান সংস্কারের জন্য। সংস্কারের জন্য যদি তারা কোনো প্রস্তাব দেন, তখন আমরা বিবেচনা করবো।অতীতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জনগণের স্বার্থে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ডিসিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হবো না এবং আমরা সংসদের ভেতরে এমন কোনো আচরণ করবো না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুন্ন হয়। জনগণ আমাদের এইখানে (সংসদে) পাঠিয়েছে জনগণের কথা বলার জন্য।

    তিনি বলেন, কোনো ইস্যুতে আমাদের যদি যৌক্তিক বিষয়টাকে বিবেচনায় না নিয়ে নাকচ করে দেওয়া হয় বা সুযোগ না পাই তখন আমরা ওয়াকআউট করব। কিন্তু সেটা লং টার্মের জন্য না। আমি আবারও বলছি, আমাদের খুব গরম বিরোধীদল ভাববেন না এবং আমাদের একটা যৌক্তিক বিরোধীদল হিসেবে দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য আপনারা সহযোগিতা করবেন।সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটের জন্য এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা স্পিকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, দলের চরিত্রহনন এবং কারো মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা- এগুলো যেন বাদ দেওয়া হয়। এখানে কারো প্রশংসা করতে আমরা আসি নাই। আমরা এসেছি জনগণের পক্ষে কথা বলতে।

    সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রম তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে আমরা কিছু নোটিশ দিয়েছি। আমাদের প্রথম নোটিশ ছিল গণভোট নিয়ে অধিবেশন আহ্বান করার জন্য। সেইটা নিয়ে সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছি।

    তিনি বলেন, ব্যাংক ইস্যুতে আমরা কথা বলেছি। এটাও জনস্বার্থে বলেছি। আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দুই অঙ্গই বিধ্বস্ত। স্টক মার্কেট মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ব্যাংকের যা হাড্ডি ছিল, এইটাও এখন গুঁড়া হওয়ার উপক্রম।

    এনিয়ে আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের পক্ষে কথা বলেছি। প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ো নোটিশ দিয়েছি। সেটা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল সবাই খুব গঠনমূলক আলোচনা করেছে। কিন্তু এইটা যদি আলোচনায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, যদি এক্সিকিউশনে না যায় তাহলে এ দিয়ে প্রবাসীদের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছি। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনো প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্ত আমরা জানতে পারিনি। আরেকটা নোটিশ দিয়েছিলাম, সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে।

    আমার নোটিশদাতাকে ডেকে নিয়ে বলা হয়েছে যে, এটা সেনসিটিভ ইস্যু, আপনি একটু উইথড্র করেন। ওই এমপি বলছেন, আমি উইথড্র করবো না।

    সেনসিটিভ ইস্যু বলেই তো আমি আলোচনা করতে চাচ্ছি। দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে। একবার নোটিশ দেওয়া হলো ১৪ তারিখ, এটা আলোচনায় আসবে। নোটিশ আমরা পেয়ে গেলাম, তারপরে আবার এটা বাদ দিয়ে আবার ওই দিনের কার্যসূচি ঠিক করা হয়।

    মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ।

  • সরকারের তোষামোদ নয়, সত্য তুলে ধরতে হবে: গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রী

    সরকারের তোষামোদ নয়, সত্য তুলে ধরতে হবে: গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রী

    গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।

    এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম. ছালেহ জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৈঠকে টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।

    বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আগামী ১৮ জুনের সংলাপের দিকে, যেখানে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব: জামায়াত আমির

    বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব: জামায়াত আমির

    বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের কৃতিত্ব, বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ব্যবস্থার কারণেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্যোগও বর্তমান সরকারের সময় যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন হলেও বিষয়টি নিয়ে অতি উৎসাহ দেখানোর সুযোগ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি অর্থবহ নির্বাচনের প্রত্যাশা থাকলেও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারা নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারত।সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো: হারুন অর রশিদ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’

    এসময় তারা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের।

    সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে সাক্ষাৎটি আন্তরিক, ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) হ্যারি থমসন এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) অ্যানা পিটারসন।

    এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি, মারজিয়া আক্তার এমপি, মারদিয়া মমতাজ এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

    বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রকে আরো অর্থবহ করে তুলতে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গটি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    আলোচনার এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উপায় নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগ।

    সোমবার সকালে উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো. হারুন অর রশিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

    বক্তারা আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং এলাকার সবুজায়ন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    ‘হামে শিশু মৃত্যু, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বিএনপির

    বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে মহামারি আকারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হাম ও এই রোগের উপসর্গে সংক্রমণের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৬৫২ শিশু। এত মৃত্যুর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘সরকারের মিস ম্যানেজমেন্টের জন্যই এত মৃত্যু হয়েছে। যদি ম্যানেজমেন্টটা ভালো করা যেত, তাহলে এত মৃত্যু হতো না।’

    তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা করে সারা দেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি না করাটা সরকারের একটা ‘বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’।

    তবে অব্যবস্থাপনার কারণে হামে মৃত্যু বেড়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সেই সঙ্গে দাবি করেছেন, সরকার যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে হামে তুলনামূলক কম শিশু মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিন পরেই হামের এটা শুরু হলো। আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতো।’

    হাসপাতালের পরিস্থিতি এখন কেমন?

    সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন সালমা বেগম ও আব্দুল গণি দম্পতি। তার পরও বাঁচাতে পারেননি প্রথম সন্তান ইব্রাহীমকে। সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে তিন সপ্তাহ আগে মারা গেছে আড়াই বছর বয়সি শিশুটি।

    শিশুর মা সালমা বেগম বলেন, ‘শুরুতে ওর জ্বর আর ঠান্ডা ছিল। পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তখন আমরা প্রথমে একটা ক্লিনিকে নিলাম। শ্বাসকষ্ট না কমায় পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার পরও আমার বড় ছেলেটারে বাঁচাতে পারলাম না।’

    সেই শোক না কাটতেই আরেক ছেলের শরীরেও দেখা দিয়েছে হামের লক্ষণ। তীব্র জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা আট মাসের ওই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে রাত-দিন এক করে এখন ঢাকার শেরেবাংলা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে পড়ে আছেন এই বাবা-মা।

    সালমা বেগম বলেন, ‘বড় বাচ্চাটা কিছুদিন আগে মারা গেছে, আর ঈদের পর এই বাচ্চাটারও গায়ে হাম, ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট—এগুলা শুরু হইছে। এখন এক সপ্তাহের মতো হইলো আমরা এই হাসপাতালে ভর্তি করছি।’শিশুটির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। ধার-দেনা করে তিনি ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছেন বলে জানা

    ন তিনি।

    শিশুর বাবা আব্দুল গণি বলেন, ‘কাছে টাকা-পয়সা যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করতেছি। কত দিন পারব, কইতে পারি না। দোয়া কইরেন, আল্লাহ যেন সুস্থ করে দেয় আমার ছেলেটারে।’

    হাসপাতালে তাদের বিছানার সামনেই আরেকটি বিছানায় মেয়ের সঙ্গে খেলছিলেন সাইমা খান। ফরিদপুর থেকে আসা এই মা জানাচ্ছিলেন গত এক সপ্তাহে কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল খুব। সে কারণে হাসপাতালে আনার পরেই ওরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আশপাশের বেডে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, লাইফ সাপোর্টে নিচ্ছে। এগুলো দেখে আমার মনে অনেক ভয় কাজ করতেছিল। একপর্যায়ে এটাও মনে হচ্ছিল না যে, ও সুস্থ হবে।’

    কিন্তু তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখার পর সাইমা খানের মেয়ের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়।

    আমার বাচ্চাটা এখন আল্লার রহমতে ভালোই খাচ্ছে-দাচ্ছে, হাসতেছে-খেলতেছে। মা হিসেবে এই দৃশ্য দেখাটা যে কত শান্তির, বলে বোঝাতে পারবে না’, বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাইমা খান।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার আরো বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগী প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।

    রোগীর চাপ আরো অনেক বেশি ছিল। গত সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।

    সরকারের দায় কতটা?

    চলতি বছরের মার্চে প্রাদুর্ভাব ঘটার পর গত তিন মাসে হামে ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে পৌনে এক লাখে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা গেছে প্রায় ৩৬ জনের মতো, যাদের বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    যথা সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ডা. ইসলাম বলেন,‘ঢাকার বাইরে থেকে কিছু কিছু মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আসতেছে। যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছে, এখন কমপ্লিকেশন ডেভেলপ (জটিলতা তৈরি) করেছে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া। এ জন্য আতঙ্ক ও শঙ্কা থেকে ভালো চিকিৎসার জন্য অনেকেই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় আসতেছে। কিছু কিছু রোগি এর মধ্য থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মারা যাচ্ছে।’

    বাংলাদেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম পুনরায় কীভাবে ফিরে এলো এবং এর জন্য দায়ী কারা, সেটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও বিতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে।

    বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলমান হাম পরিস্থিতির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ এবং অর্ন্তবর্তী সরকার দায়ী।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই হাম সংক্রমণের পেছনে বিগত দুই সরকার দায়ী। প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইনিং করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০-এর ডিসেম্বরের পরে তারা সেটি করেনি। এর প্রভাব আমাদের ওপরে এসে পড়েছে।’

    হামের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে আগের দুই সরকারের মধ্যে কে কতটুকু দায়ী, সেবিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    সেই সঙ্গে, হাম পরিস্থিতি কীভাবে এবং কেন এমন পর্যায়ে এলো, তা জানতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) একটি ‘স্বাধীন তদন্ত’ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে।

    কিন্তু প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে ভূমিকা না থাকলেও হাম ছড়িয়ে পড়ার পর তিন মাসেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা এবং এর ফলে যত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য বর্তমান সরকারের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    বিশেষ করে, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা জারি না করা এবং জেলা পর্যায়ে হামের ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে মৃত্যু বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এটা মহামারি ঘোষণা করে দেওয়া বা একটা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার। সেটা করলে সর্বাত্মক একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেত সবগুলো ফ্রন্ট থেকে। আর সবগুলো ফ্রন্ট থেকে যদি হামের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করা যেত, তাহলে হাম এত দীর্ঘায়িত হতো না।’

    প্রাদুর্ভাবের শুরুতে হামকে মহামারি ঘোষণা করে সরকার সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করলে এত বিপুলসংখ্যক শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হতো না বলেও মনে করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে সরকার যদি হামকে মহামারি ঘোষণা করতো এবং মিস ম্যানেজমেন্টের বদলে আরো বেশি ফোকাসড ম্যানেজমেন্ট করতে পারতো, আইসিইউ ফ্যাসিলিটিস বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাড়ানো যেত এবং ডাক্তার ও নার্সদের এ বিষয়ে ট্রেনিং দিতে পারতো, তাহলে হাম এত বেশি ছড়াতো না, মৃত্যুও কম হতো।’

    সরকার কী বলছে?

    বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি অস্বীকার করেছে সরকার।

    কর্মকর্তারা উল্টো দাবি করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পরপরও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    ‘কিন্তু এত শিশু আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার পরও সরকার কেন হামকে মহামারি ঘোষণা করল না কিংবা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা কেন হলো না?’ প্রশ্ন তোলেন ডা. আহমেদ।

    বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের চেষ্টার কমতি নেই।

    তবে বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, হাম ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করার সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,‘এটা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করলে সরকারের দিক থেকে সত্যিকার অর্থে কোনো ক্ষতি ছিল না। এটা একটা রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বা অবস্থান।’

    বিষয়টি আরেকটু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সে অবস্থানটা এরকম যে, আমাদের সময় একটা হেলথ ইমার্জেন্সি বা একটা মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে, এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। কেননা এখন পর্যন্ত কেউই বলছে না যে, এই মহামারিটা হওয়ার দায় এই সরকারের। বলতেছে, এটা পূর্বাতন সরকারের।’

    ডা. আহমেদ বলেন, ‘কাজেই মহামারি যদি ঘোষণা করা হতো, কিন্তু দায় তাদের হতো না- এটা ধরেই নেওয়া যায়। বরং মহামারি ঘোষণা করার পরে যদি এই অল আউট ইফোর্টস গুলো নিতো, তড়িৎ ব্যবস্থা নিতো এবং খুব দ্রুত মহামারিটাকে থামিয়ে আনতো, মৃত্যু হতে দিতো না এত, তাহলে কিন্তু বরঞ্চ সরকার প্রশংসা পেত এবং তাদের এটা ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতো।

    কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলার মাধ্যমে হাম পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্য দুই মাস আগে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখনও শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

    এর মধ্যে আবার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে হাম পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সরকারের জন্য সামনের দিনগুলোতে কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা চান।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”

  • ৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান, ৭ জনই বিএনপি নেতা

    ৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান, ৭ জনই বিএনপি নেতা

    দেশের আট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বিএনপি নেতা।

    এসব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেতনকাঠামোর গ্রেড-২ পদে তাঁদের এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

    আটজনের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

    এ ছাড়া রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করেছে সরকার।

    এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মো. নুরুল করিমের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।

    রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব এস এম তুহিনুর আলম। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

  • চীনে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিরোধীদলীয় নেতার সমবেদনা

    চীনে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিরোধীদলীয় নেতার সমবেদনা

    চীনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শানডং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তৌফিক আহমাদ স্পর্শের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর কচুক্ষেত-ভাষানটেক এলাকায় অবস্থিত তাদের বাসভবনে গিয়ে এই সমবেদনা জানান তিনি।

    এ সময় তিনি নিহতের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।


    সাক্ষাৎকালে তিনি মরহুম তৌফিক আহমাদ স্পর্শের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আহত অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩১ মে রাত প্রায় ৯টার দিকে চীনে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তৌফিক আহমাদ স্পর্শ নিহত হন, এসময় অপর একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আহত হন।

    বি. এ

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার ওএমএসের ডিলার পয়েন্ট থেকে পাচারকালে  ২8০ কেজি চাল-আটা জব্দ

    চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার ওএমএসের ডিলার পয়েন্ট থেকে পাচারকালে  ২8০ কেজি চাল-আটা জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি ওএমএসের ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ওএমএস ডিলার ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকা থেকে একটি আলমসাধু (ভ্যানগাড়ি) ভর্তি সরকারি চাল ও আটা উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রী সরকারি ওএমএস কর্মসূচির পণ্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন৪৭) তার ওএমএস এর গুদাম চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় হলেও তিনি আলমসাধুতে করে সাতগাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন , এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলমসাধু থেকে সরকারি ওএমএসের ৭ বস্তা চাল ও ২ বস্তা আটা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল ২১০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি আটা।

    এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক মালিক এর ছেলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ মালিক সুজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। চাল জব্দ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো সহ ডিলারের শাস্তি দাবি করেন , সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল ও আটা কোনোভাবেই অবৈধভাবে বিক্রি বা পাচার করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

    অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও জেলা পুলিশের একটি টিম।

  • সাড়ে তিন মাসের মাথায় কঠিন সংকটে সরকার

    সাড়ে তিন মাসের মাথায় কঠিন সংকটে সরকার

    নবগঠিত বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস অতিক্রম করলো। এরই মধ্যে সংকটের মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের সরকারের নাজুক পরিস্থিতির কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন ইতিমধ্যে। তিনি বলেছেন- সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে দিন কাটালে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে তিনি যা কিছুটা আভাস দিয়েছেন প্রকৃত পরিস্থিতি কিন্তু এরচেয়েও অনেক গুরুতর। শীর্ষনিউজ ও শীর্ষকাগজের নিজস্ব অনুসন্ধানে এমন তথ্যই বেরিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সামনে কঠিন সংকট।’ কিন্তু প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সংকট ইতিমধ্যেই এসে পড়েছে। সরকারের ভেতরে-বাইরে নানামুখী সংকট শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা একনাগাড়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বহাল থাকার দীর্ঘ ১৫ বছরের মাথায় যতটা সংকটে পড়েছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকার মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় তারচেয়েও অন্ততঃ তিনগুণ বেশি সংকটে পড়েছে বা পড়ছে। হাসিনার ওই সংকটটা ছিল একমুখী- শুধুমাত্র ভূ-রাজনীতিগত। আর বর্তমান সময়ে বিএনপি সরকারের সংকট বহুমুখী। এরমধ্যে ভূ-রাজনীতির ভয়াবহ সংকটও বিদ্যমান। তাছাড়া অর্থসংকট তো রয়েছেই। পাশাপাশি অনেক ভুল পদক্ষেপ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারকে ভাবমূর্তি সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ এমনকি সাধারণ সমালোচনার মানুষের কথা বাদ দিলেও, সরকারের নিজস্ব লোকজনের মুখেই অভ্যন্তরীণ চরম সমালোচনা, ক্ষোভ-অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট আমলে যারা জেল-জুলুম, চরম নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও মাটি কামড়ে পড়েছিলেন ভালো কিছু দেখার আশায়- এইসব ত্যাগী নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ-অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নানারকমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সরকারের একের পর এক ‘ভুল’ পদক্ষেপ এইসব নেতা-কর্মী, সমর্থককে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। ‘ভুল’ পদক্ষেপগুলোকে ‘ভয়াবহ আত্মঘাতী’ বলেও অনেকে উল্লেখ করছেন। এসবের বিবরণ পরবর্তীতে আলাদা প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। সংকটের ‘ধরন’ এবং ‘মাত্রা’ এ প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হচ্ছে।

    ভূ-রাজনীতির সংকট

    বিএনপি সরকারের সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকটটা ভূ-রাজনীতি নিয়ে। যা তিন মাসের সরকারের সময়ে মোটেই আশা করা হয়নি। আদতে বর্তমান বিএনপি ক্ষমতায় এসেছেই কঠিন এক সংকটকে বোঝা হিসেবে নিয়ে। আওয়ামী লীগকে ১৫ বছরেও যা ভুগতে হয়নি। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তিন টার্ম পূর্ণ করেছে কোনো রকমের ভূ-রাজনীতিগত সংকট ছাড়াই। বাংলাদেশে ভূ-রাজনীতির প্রভাব রয়েছে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই। চীনের প্রভাব তেমন একটা নেই। শুধুমাত্র অর্থনীতির ক্ষেত্রেই তারা সীমাবদ্ধ। আওয়ামী লীগের তিন টার্মের প্রায় পুরোটা সময় ভারতের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধীপক্ষের দফায় দফায় কঠোর আন্দোলনেও হাসিনা সরকারের কিছুই হয়নি, যদিও হাসিনার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল অনেক আগেই।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য চায়, এটা সবারই জানা কথা। এক সময় তাদের চাহিদা ছিল সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে তা পরিবর্তিত হয় সামরিক চুক্তি- অকাস এবং জিসোমিয়া-য়। এই দু’টি সামরিক চুক্তির খসড়াও শেখ হাসিনার আমলে শেষের দিকে আদান-প্রদান হয়েছিল। কিন্তু ভারত কোনো ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে দেবে না, তাই শেখ হাসিনা পারেননি চুক্তি চূড়ান্ত করতে।

    ভারত জানে, আমেরিকার পরিকল্পনায় যা আছে সেটি ভারতের জন্য মহাবিপর্যয়কর। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ঢুকতে পারলে ভারতের অখন্ডতাকে তছনছ করে দেবে। আর জানে বলেই নানা কৌশলে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ঠেকিয়ে রেখেছে। বার্মা অ্যাক্ট করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে শুরু থেকেই ভারতের সম্পর্ক ‘সাপে নেউলে’ ছিল। এর কারণ, ড. ইউনূস আমেরিকার লোক। ভারত চাচ্ছিল, বাংলাদেশে বিকল্প অন্য কোনো সরকার আসুক। তাই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে সমর্থন দিয়েছে তারা।

    শুরুতে এটা ধরে নেওয়া হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপিও পুরোপুরি ভারত প্রভাবিত সরকার হিসেবে চলবে। প্রথম আড়াই মাস অনেকটা সেভাবেই চলছিল। কিন্তু তারপর থেকেই ভিন্ন পথে চলতে শুরু করে বিএনপি সরকার। গত ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দিল্লী সফরে যান। সফরের শুরুটা আন্তরিকতাপূর্ণ হলেও শেষটা ভালো হয়নি। যে কোনো কারণেই হোক সফরটা তিক্ততার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। হয়তো এমনটা হবে, আগে থেকেই জানা ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান যে একান্তভাবেই আমেরিকার লোক, এটা কারো অজানা নয়। ভারত সফরের পর পরই ভিন্ন দিকে হাঁটতে শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। এটা আসলে যুক্তরাষ্ট্রেরই কেরামতি! চীন ইতিপূর্বে বরাবরই এ অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যবিরোধী ছিল। কিন্তু এ মুহূর্তে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বিশেষ সমঝোতা গড়ে উঠেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করছে।
    পাকিস্তানের সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকারের সম্প্রতি চোরাচালান, মাদক এবং কৌশলগত তথ্য বিনিময়ের একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপি সরকারের কোনো রকমের চুক্তি ভারতের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। অন্যদিকে একই সময়ে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে একের পর এক প্রতিনিধিদল চীন সফরে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চীন সফরে যাচ্ছেন খুব শিগগিরই। তারিখ এখনো সরকারিভাবে ঘোষণা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এখনই আগাম চীন যাওয়ার কথা রয়েছে। ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এমন পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় প্রস্তুতি চলছে। এদিকে পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে বিএনপি সরকার। এমনকি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহুল আলোচিত ‘অকাস’ এবং ‘জিসোমিয়া’ চুক্তিও একই সঙ্গে ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে চাউর হয়েছে। এই ইস্যুগুলোর প্রত্যেকটিই ভারতের জন্য ‘স্পর্শকাতর’ এবং মহাচিন্তার বিষয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং এর ভবিষ্যৎ

    গত সপ্তায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি হয়েছে। ঘটনাটি ছোট হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই গণমাধ্যম এবং সরকারের তরফ থেকেও এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটিকে ষড়যন্ত্রের ‘সংকেত’ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যতটা জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার সম্ভাবনা ততই কম থাকবে। কিন্তু আদতে জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে কিনা, এ ব্যাপারে সরকার কী তেমন একটা সতর্ক?

    সরকারের লোকজন নিজেদের মধ্যে পাওয়া-না পাওয়া এবং পারস্পরিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন ব্যাপকভাবে। যার যেটা পাওয়ার কথা নয়, তিনি তারচেয়ে বেশি কিছু পাচ্ছেন। আবার অন্যরা ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে সরকারের ভেতরকার লোকজনের রেষারেষি বাড়ছে প্রবলভাবে। সরকারের অনেক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারেই ‘কেন’ প্রশ্নের জবাব নেই। দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। জিয়াউর রহমানের আমলের কথা বাদ দিলেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই বিএনপি দুই দফায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। তারেক রহমান বিদেশে থাকলেও বিএনপির রাজনীতি, দেশের সরকার পরিস্থিতি এমনকি সরকারের প্রতিটি খাত নিয়েও কাজ করেছেন বলে দেখা গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আশা করেছিল আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খলভাবে সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এখন যেভাবে সরকার চলছে এতটা অগোছালো কেউই মেনে নিতে পারছেন না। কোনো কিছুর ওপরই সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতারও অনেক অভাব আছে বলে অভিযোগ উঠছে, যদিও এটিই বেশি মাত্রায় চাইছে মানুষ। প্রকাশ্য ঘুষ-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠার পরও সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনোই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আর এসব কারণে সমালোচনার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

    অভিযোগ উঠেছে, অনেক বিষয়েই উল্টো পথে হাঁটছে সরকার। ভোটের কালি মোছার আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা বলা হচ্ছে বার বার। এ ব্যাপারে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রভৃতি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষের চাহিদা কি, মানুষ কোনটি কীভাবে দেখতে চাইছে, কোন কাজটি আগে চাইছে- সেদিকে নজর না দিয়ে নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাবে বিএনপি সরকার। তাতে এক পর্যায়ে অস্তিত্ব সংকটও দেখা দিতে পারে। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে একটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। বিপ্লবের যে স্পিরিট তা এখনো রয়ে গেছে, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। বিপ্লবের পর ‘প্রতিবিপ্লব’ একটা প্রচলিত শব্দ। এবং এটা সবারই জানা কথা। একদিকে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরের ক্ষুব্ধতা- এগুলো সরকারের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকলে ‘প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র’ গাঢ় হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহেই। দলের ভেতরের অসন্তোষ-ক্ষুব্ধতা সেই ষড়যন্ত্রকে ঠেকাবে না, বরং জায়গা করে দেবে। তাই সময় থাকতে এখনই এসব ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    সূত্র: শীর্ষনিউজ

  • বিরোধীদের আসনের তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদের আসনের তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি কেন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদে তা ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের যে নিয়ম আছে, সে নিয়ম অনুযায়ীই এগোচ্ছেন।

    বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্য মীর আহমদ প্রশ্নে বলেন, ‘বহুল প্রচারিত পত্রিকায় জানতে পেরেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারদলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকারদলীয় মহিলা এমপিগণ।’

    গত ৭ জুন সমকালে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছিল। এতে বলা হয়, এর আগের দিন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংরক্ষিত আসনের দলীয় ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের জেতা ৭৯ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত মীর আরমান বলেন, ‘এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে, এ কাজ কি তাঁদের এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধীদলীয় এমপি আছি, আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না? এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।’

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি এবং বিরোধী দল থেকে যে সকল নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাঁদের কোনো আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোনো নির্দিষ্ট আসন আছে, সেরকম নির্দিষ্ট কোনো আসন তাঁদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যেখানে তাঁরা কাজ করবেন।

    ব্যারিস্টার আরমানের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনার নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে, আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে চান। যেহেতু এই সংসদ নারী সদস্যদের নির্বাচিত করেছেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁদেরও একই রকমভাবে হক আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা সরকারের যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।

  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বাজেট কার্যকর হবে না: জামায়াত আমির

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া বাজেট কার্যকর হবে না: জামায়াত আমির

    সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো সরকারের দেওয়া বাজেটই কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের আলোকে কেমন বাজেট হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরছি। এটি কোনো চূড়ান্ত বাজেট নয়, বরং বাজেটের পূর্বধারণা বা প্রস্তাবনা।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যাশা করে আসছে।

    কিন্তু বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনগণ হতাশ হয়েছে এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে।

    বাজেট প্রস্তাবনার লক্ষ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো দলীয় বাজেট নয়; দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। সরকার চাইলে এখান থেকে ইতিবাচক বিষয় গ্রহণ করতে পারে। তবে এর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, বীমা ও বিভিন্ন কর্পোরেশনে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার সংকটে রয়েছে, আর ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশের অর্থনীতি আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া কমবে এবং বছরের শেষ দিকে এডিপি ব্যয়ের নামে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও হ্রাস পাবে।

    সম্পূরক বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বছরের শেষ মুহূর্তে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করলে সংসদীয় পর্যালোচনার কার্যকারিতা কমে যায়। বরং নিয়ম অনুযায়ী আগেই তা সংসদে আনা হলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

    বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের এক ফাঁকে নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।

    এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

  • জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    জামায়াতের ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা, ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রস্তাব

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি বিকল্প বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে। বাজেটে জনপ্রশাসন, শিক্ষা-প্রযুক্তি এবং ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।

    প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ২৪.০৯ শতাংশ জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫.১৯ শতাংশ। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

  • জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

    জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

    দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিডিয়া সেলের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ ও কমিউনিটি সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু জেলায় বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও প্রচারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ, কমিউনিটি সক্রিয় রয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি মিডিয়া সেলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশে জেলা বা মহানগর পর্যায়ে এ নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মিডিয়া সেলের অনুমোদিত কমিটি দাবি করছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    এতে আরো বলা হয়, অননুমোদিত ও ভুয়া কমিটি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে বলে সতর্ক করা যাচ্ছে।

    সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ও তালিকা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইসিএপিপি সেক্রেটারি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আইসিএপিপি সেক্রেটারি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি)-এর সেক্রেটারি জেনারেল ওহ সং।

    সোমবার দুপুর ১২টায় বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ ভবনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন (আইসিএপিপি)-এর সেক্রেটারিয়েট অফিসার পার্ক বিয়ংচান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি।

    ওহ সং জামায়াতের কাছে আসিএপিপির কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। আসিএপিপির পরবর্তী স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রন জানানো হয়। পাশাপাশি আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।

  • জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবে দলটি।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    গত শুক্রবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের অর্থনীতিকে ১২ খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দেয় দলটি।

  • দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন (৩০) এক নারী সাথে ধর্ষণ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে অভিযোগকারী ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    সোমবার ওই নারী কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে সেই অভিযোগের বিষয়ে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদন করেছেন ওই নারী। ঘটনাটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    ১ জুন সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় জিডি সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এলাকার বাসিন্দা রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেল ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আবেদনকারী।

    তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শুক্রবার ২০২৬ ভুক্তভোগী ওই নারী পুনরায় মোহাম্মদপুর থানায় আরেকটি লিখিত আবেদন করে। তিনি জানান, গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়েছে। রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেলের বিরুদ্ধে তার আর কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন।

    আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি পূর্বে দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। ফলে জিডিটি রেকর্ডে থাকলেও পরবর্তী কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    এদিকে রিয়াল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ দায়েরের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করায় স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা কী, অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য ছিল, কিংবা কী পরিস্থিতিতে আপস-মীমাংসা হলো এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাচলছে।

    মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার শেখ তামিম আহম্মেদ (বিপি নং-৯৩২৩২৪৬২৬৭) জিডি গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার ওসি তদন্ত রকিবুজ্জামান বলেন, থানায় এই ধরনের জিডি অনেকেই করে। আপনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ।

    বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থানের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

    এ বিষয়ে রিয়েল ইসলাম লিওন বলেন আমার পক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সিনিয়র গ্রুপ কাজ করেছে। মেয়ের পরিবারের সাথে আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে। মেয়ে নিজে জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, আমার পারিবারের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বসে এবিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক আল্লাহ বিচার করবে। আমি আমার অভিযোগের জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।

    চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের (পিপি) আইনজীবী মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ থানায় জিডি অথবা মামলা হলে আপস-মীমাংসার নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। আপসের বিষয়ে আমি জানিনা।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, এ ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ মীমাংসার জন্য পরামর্শ দিলে দিতে পারে। তবে এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই।

  • বিএনপিতে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য

    বিএনপিতে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য

    সুসময়েও ভালো নেই তৃণমূলের ত্যাগীরা

    ডেক্স নিউজ : ফেনীর মেহেদী হাসান। ২০২২ সাল থেকে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রদলের কমিটিতে নাম থাকায় ওই বছর থেকে পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় বাড়িছাড়া হন তিনি। এরপর সপরিবারে আশ্রয় নেন ফেনী শহরে ছোট্ট এক ভাড়া বাসায়। শুরুর দিকে গরুর খামারে কাজ করে কোনোরকমে টিকে থাকার চেষ্টা চালান। বেশ কিছুদিন এভাবেই মানবেতর দিন যাপন করেন তিনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, চব্বিশের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও এলাকায় না যেতে পেরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে তাকে। আবার এখন তার ওপরে অত্যাচার করা সেই আওয়ামী লীগ নেতারাই বিএনপির সঙ্গে মিশে গিয়ে তাকে এলাকায় ফিরতে বাধা দিচ্ছে। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও নিজের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মেহেদী। এখনও তার ভরসা সেই অটোরিকশা।মেহেদীর মতো এভাবেই বিএনপির তৃণমূলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর মানবেতর জীবন কাটছে। অনেক জায়গায় আবার হামলারও শিকার হচ্ছেন। দল ক্ষমতায় থাকার পরও কেন এমন অবস্থা-এ নিয়ে বিভিন্ন জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে যুগান্তর।

    জেলা নেতাদের মতে, মেহেদীর মতো ত্যাগী নেতাদের অনেকেই এখন ভালো নেই। কারণ ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন করে সুবিধাবাদী আর হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের উত্থান হয়েছে। বিগত কোনো আন্দোলনে বা দলের কোনো পদে না থাকলেও অনেকেই এখন বিএনপি সেজেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারাই এখন সব জায়গায় হর্তাকর্তা হয়ে বসেছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপকর্মেও। তাদের কারণে ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপির দেখা পাওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার শীর্ষ নেতারাও আগের মতো আর খোঁজ নেন না।

    জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো সারাক্ষণ আমার কর্মীদের মধ্যে থাকি। সুতরাং মন্ত্রীদের বিষয়ে যে অভিযোগ এটা ঠিক না’। দাগনভূঞার ছাত্রদলের নেতার মানবেতর জীবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওখানকার নেতারা যারা আছেন অবশ্যই সেটা দেখবেন এবং দেখা উচিতও। তার জন্য কি করা যায় আমরা চেষ্টা করে দেখব।

    পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার আগে বা পরের বিষয় নয়, আমি সব সময়ই নিয়মিত এলাকায় যাই। আমার নেতাকর্মী-সমর্থকদের খোঁজ-খবর নেই। ফোনেও সব সময় তারা আমাকে পান’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। এরমধ্যে আমাদের অনেক ছেলে আছে; যাদের আর্থিক উপার্জন অত্যন্ত দুর্বল এবং তারা কেউ কেউ অসহায়। আমাদের অবগত করলে আমরা তাদের সাপোর্ট দেব’ তিনি বলেন, ‘অর্থ বছর মাত্র শুরু হবে। সর্বশেষ পার হওয়া অর্থবছর অল্প সময়ে অসহায় নেতাকর্মীদের কাজে লাগানো সেভাবে সম্ভব হয়নি। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অবগত হলেই আমরা তাদেরকে সহযোগিতা দেব।’

    শুক্রবার দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলনে তার রাজপথে থাকার এক ডজনেরও বেশি ছবি ও ভিডিও পাঠান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি তারা কেউ এখন আমাকে চেনেন না। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের কাছে গিয়েছি, এলাকায় যেতে কেউ সহায়তা করেনি। এক সপ্তাহ আগে আমার অটোরিকশায় জেলা বিএনপি নেতা রতন উঠলে আমাকে চিনতে পারেন। পরে তার কাছে সবকিছু খুলে বলি। বুধবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। সভাপতিকে বলেছি, আওয়ামী লীগের যারা নির্যাতন করেছে, তারা বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছেন। এ সময় রাকিব অভয় দিয়ে বলেছেন, তুমি এলাকায় থাকবে, রাজনীতি করবে।’

    এদিকে মেহেদীর সঙ্গে রাকিবের কথপোকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মেহেদীর সঙ্গে রাকিবের কথা বলার সময় পাশে বসা বিএনপি নেতা রতনকে কাঁদতে দেখা যায়।

    ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান অন্তত ১৫ জন নেতা যুগান্তরকে জানান, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন। তাদের বন্ধু-বান্ধব অনেকেই এখন সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু অনেকেই আবার রাজনীতিতে নেমে চাকরির খোঁজার সময় পাননি। বিগত সরকারের হামলা-মামলায় অনেকে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলেও এখন আগের মতো কোনো নেতা আর খোঁজ নেন না। মন্ত্রী-এমপিদের কাছে গেলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তারা আরও বলেন, আন্দোলনের সময় মিছিল করার আগে নেতাকর্মী নিয়ে আসার জন্য যারা অন্তত দিনে ১০ বার ফোন করতেন, ক্ষমতায় আসার পার এখন আর তারা ফোন ধরছেন না। দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন-এই আশায় এখনও রাজনীতি করছেন। একটি সেল গঠন করে ত্যাগীদের, বিশেষ করে যারা শিক্ষিত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর দাবি করেন তারা।

    ছাত্রদলের সাবেক দুইজন সহ-সভাপতি যুগান্তরকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা-মা মনে করেছিল বিএনপি ক্ষমতায় এলে অন্তত একসঙ্গে ঈদ করা যাবে। কিন্তু দুই ঈদেও বাড়ি যাওয়া হয়নি। বাড়ি যেতে চাইলে খরচের ব্যাপার আছে। নিজেই চলতে পারছি না, বাড়তি খরচ কিভাবে করব।’

    সম্প্রতি রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বক্তব্যেও তৃণমূলের হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। বক্তব্যে রাকিব বলেন, ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সেই জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী যারা রক্ত দিয়েছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই এই বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে বসা মন্ত্রী-এমপিদের উদ্দেশ্য করে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক হলেও নিবেদন রাখছি, আপনারা এই দিনগুলোর কথা কখনো ভুলে যাবেন না। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বহু নির্যাতিত নেতাকর্মী রয়েছেন; যারা বিগত সাড়ে ১৫ বছর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতিকে বুকে ধারণ করে আপনাদের আগলে রেখেছিল। আগামীতেও তারা যেন আপনাদের আগলে রাখে। আত্মীয়-স্বজনকে প্রশ্রয় দেবেন না। আবারও বলে যাচ্ছি, কোনো আত্মীয়-স্বজনকে আপনারা প্রশ্রয় দেবেন না।’

    এছাড়াও সম্প্রতি নাটোরে এক সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করতে দেবেন না। দেড় বছর হয়ে গেছে একটি কমিটিও ত্বরান্বিত করতে পারিনি। সব নেতাকর্মী আজকে পদবিহীন বসে আছে। সংগঠন যদি না থাকে, দল চালাবেন কি করে? নিজের আমিত্ব আর ক্ষমতাকে জাহির করতে গিয়ে দলটাকে ধ্বংস করবেন না। এই দলের পেছনে অনেক শ্রম আছে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখে পালিয়ে গেছি, তারপরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করিনি। আপনাদের সঙ্গে ছিলাম দলকে ভালোবেসে, অন্য কিছুর লোভে নয়।’

    জেলা পর্যায়ের বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে সংঘঠিত কিছু ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি রংপুরে থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা হাইকমান্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার দাবি করেছেন নেতারা। রক্তাক্ত অবস্থায় রাকিবুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, আওয়ামী লীগ আমলেও মামলা ও কারাগারে গিয়েছেন, কিন্তু এভাবে কখনও মারধর করা হয়নি। এছাড়া গত রোববার পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫ নেতাকর্মীর ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এমন ঘটনা আরও বেশ কয়েক জায়গায় ঘটেছে, যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখছেন না বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, বাস্তবতা হলো সরকারের তিন মাস পার হলেও প্রশাসনে এখনো কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপি মধ্যপন্থি একটি দল। সরকার দেশকে একটি স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে। আর সরকারের এই সহনশীল ভূমিকার সুযোগ নিচ্ছেন কিছু আমলা ও পুলিশসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এ ঘটনা ঘটতে থাকলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে যাবে।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানে কিছুসংখ্যক মানুষ দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে। কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দলও এর মধ্যে জড়িত আছে। তারাই এসব ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।

    এ এম

  • দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক নারীকে (৪৬) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

    শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), তাঁর ভাই মো. বুলবুল (২৮) এবং যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। তাঁর দুই ছেলে। একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। মামলার পর শনিবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। সেদিনই রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন। এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করেন।

    লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

    জানতে চাইলে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ বলেন, ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

    পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

  • বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের জন্য দ্রুত ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটি শুরু করা হবে।

    তিনি আরও জানান, পরিকল্পনার আওতায় গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী—এই তিন স্তরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সুবিধা সংযোজন করা হবে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব যানবাহনের নকশা করা হবে।

    সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে।

    বিরোধীদের ভাষ্য, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে না নিলে কিছুই করার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে সংসদে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

    বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু ‘বৈধতা’ দিতে কমিটিতে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথেই সমাধান দেখছেন।

    আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৫ মে তারা প্রথম সমাবেশ করেছে রাজশাহীতে। আগস্টে ঢাকায় বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে এই জোটের।

    সংবিধান সংশোধনে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে। এর সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
    বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাইছে সংবিধানের সংশোধন।

    সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

    এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।

    পরে আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।

    অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে সেই সংসদের এমপি হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; কমিটি নয়। আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করা প্রতারণা। এতে জামায়াত অংশীদার হবে না।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।

    বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও, সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেবে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ ও আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতেই পারে। কিন্তু পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।

    সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার বিষয়ে আলোচনা নেই। বিরোধী জোট মনে করে, গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কীভাবে সংবিধান করতে হবে। যারা তা মানবে না, তারা ফ্যাসিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী হবে।

    জামায়াত জোটে আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, জোটগতভাবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ১১ দলের অন্য শরিকদের মতো বাংলাদেশ খেলাফতের অবস্থান হলো গণভোটে ৬৮ শতাংশ জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।

    রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; ভোটের অনুপাতে সংসদের

    উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ আখ্যা দেওয়া দলটি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শরিকরা জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের ভাষ্য, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে এসব সংস্কারে সম্মতি দিয়েছে। তা মেনে সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে।

  • জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে মিছিল বের হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মূল্যবৃদ্ধি জনবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে দলটি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

  • যশোরে পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ এনসিপির

    যশোরে পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ এনসিপির

    যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ করেছে দলটি। তবে পুলিশ বলছে, এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

    এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ছাত্রশক্তির নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদ, যুবশক্তির নেতা রুপম আহসান আহত হয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের অন্য নেতারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

    এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল প্রথম আলোকে বলেন, পুশ ইনের চেষ্টার প্রতিবাদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির নেতা–কর্মীরা আজ সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাদিপুর এলাকায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সাদিপুর থেকে ফেরার সময় প্রথমে গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকজন যুবক ডিম নিক্ষেপের পর পালিয়ে যান। তাঁরা গাড়ির ভেতরে থাকায় কারও গায়ে ডিম লাগেনি। এরপর বেনাপোল স্থলবন্দর বাজারে পৌঁছালে সেখানে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আবার হামলা চালানো হয়।

    এ বিষয়ে বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। এনসিপি নেতারা কীভাবে বলছেন, আমরা বুঝতে পারছি না।’

    এদিকে একটি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙার ছবি দিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘ফেরার পথে আমাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’

  • মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার ‘স’ মিল থেকে সরকারি গাছ জব্দ

    মহাদেবপুরে বিএনপি নেতার ‘স’ মিল থেকে সরকারি গাছ জব্দ

    নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার দুটি নিমগাছ ঝড়ে উপড়ে যাওয়ার পর কেটে নিজ ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    অভিযুক্ত হলেন—উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন। বিষয়টি জানার একদিন পর বন বিভাগ ওই ‘স’ মিল থেকে গাছ দুটি জব্দ করেছে।

    জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের চাংকুড়ি মোড় থেকে তেজপাইন মোড়ের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। এ রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে। গত শনিবার রাতে ঝড়ে এ রাস্তার লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় দুটি নিমগাছ উপড়ে পড়ে যায়। পরদিন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে গাছ দুটি কেটে নওহাটা মোড়ে তার ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন চলছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি রাস্তার গাছ সরকারি অনুমতি ছাড়াই কীভাবে কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গাছ কেটে নিয়ে আসার যে দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে কেউ এমন গুজব রটানোর চেষ্টা করছে।’

    তিনি বলেন, ‘ঝড়ে দুটি গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে ছিল। গাছের সর্বোচ্চ মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা হবে। সেখানকার উপকারভোগীরা (গাছ পরিচর্যা সদস্য) আমার সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিক দিতে বলে। পরে তারাই দেড় হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরি দিয়ে গাছ কেটে নেয়। ওই দুটি গাছ তারা আরো এক হাজার টাকা পরিবহন খরচ করে আমার ‘স’ মিলে নিয়ে এসে রাখে। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে গাছ দুটি নিয়ে যায়।’

    মহাদেবপুর উপজেলার বন বিভাগের কর্মকর্তা মো: খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রাস্তার গাছ কেউ কেটে নিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি কেউ বিক্রিও করতে পারবে না। বিষয়টি জানার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে গাছ দুটি জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া গাছের মোথাও (গোড়া) নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেনসহ এর সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থী হলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব মো: একরাম উল্লাহ।

    সম্প্রতি জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

    এ সময় জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা গফরগাঁও পৌরবাসীর দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

    মেয়র প্রার্থী একরাম উল্লাহ বলেন, ‘ন্যায়ভিত্তিক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত ও কল্যাণমুখী আধুনিক গফরগাঁও পৌরসভা গঠনে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

  • ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    ‘জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’—হারুনুর রশিদের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দেওয়া তাঁর মন্তব্যকে দলটির নেতারা ‘ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হারুনুর রশিদ।

    বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপিতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই বিএনপির পক্ষে কাজ করেননি।

    হারুনুর রশিদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী বিভিন্ন সময়ে শিবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মশাল মিছিলের ঘটনাও উল্লেখ করেন।

    একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও বিএনপির পক্ষে ভোট করেনি।’ এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা যায়।

    অন্যদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

    জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সক্রিয় ছিলাম। অথচ হারুনুর রশিদ অতীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।’

    তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারুনুর রশিদ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও হারুনুর রশিদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘হারুনুর রশিদ অতীতে নিজেই বলেছিলেন, জেলা কমিটি বলে কিছু নেই। এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।’

    গোলাম জাকারিয়া আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

    হারুনুর রশিদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

  • গাংনীতে এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৫০ জনের যোগদান

    গাংনীতে এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৫০ জনের যোগদান


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে এক যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১জুন) বাদ আসর গাংনী উপজেলা এনসিপির নিজ কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত ৫০ জন নতুন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান করেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলা প্রধান সমন্বয়কারী, (এনসিপি)অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ।

    গাংনী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মোঃ সবুজ রানা।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মেহেরপুর জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মোঃ আরিফ খান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সংগঠক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, মোঃ সাজেদুর রহমান, এনসিপি মেহেরপুর জেলা শাখার সদস্য শামীম আহমেদ আজম এবং আমীর হামজা।

    এছাড়াও কাজীপুর ইউনিয়নের প্রধান হাসানুজ্জামান, ষোলটাকা ইউনিয়নের প্রধান সাহারুল ইসলাম, মঠমুড়া ইউনিয়নের প্রধান মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ বলেন, দেশের পরিবর্তন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবযোগদানকারীদের সংগঠনের আদর্শ ও নীতির প্রতি আস্থা রেখে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    সভায় বক্তারা সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে নতুন ৫০ জন সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।

  • সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহার পাঠালেন জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    সোমবার (১ জুন) দুপুরে বাউফল নির্বাচন অফিসের মাঠে আয়োজিত বৌভাত অনুষ্ঠানে এমপির পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন স্থানীয় জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর। এ সময় তিনি নবদম্পতির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন কামনা করে ফাহাদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

    উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে ছাত্রদল নেতা ফাহাদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তার প্রতিনিধি দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

    প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তোলেন ফাহাদ। মাসুদকে নিয়ে তার নানা মন্তব্যকে ঘিরে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষুব্দ ছিলেন। এমন সেময়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নিজের বিয়েতে দেওয়া উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদল নেতা ফাহাদ। অবশ্য ওই উপহারের প্যাকেটে কী ছিল তা জানা যায়নি।

  • মারা গেছেন তোফায়েল আহমেদ

    মারা গেছেন তোফায়েল আহমেদ

    সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)।

    সোমবার (১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

    বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইজডসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

  • ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    রোববার (১ জুন) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের দাবি ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে বহু আমানতকারী আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের আপত্তিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারীদের উদ্বেগ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

  • চৌদ্দগ্রামে আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে: বিরোধী দলীয় উপনেতা

    চৌদ্দগ্রামে আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে: বিরোধী দলীয় উপনেতা

    কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, ‘চৌদ্দগ্রামে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান হবে না। এদের ছয় মাসের সময় দেওয়া হলো, তারা যেন পেশা পরিবর্তন করে। ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি, তাই সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘর থেকে বের হতে হবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

    আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ কথাগুলো বলেন। উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের বিএনপির দাবি করছে, এই এলাকার সব উন্নয়ন তাদের হাত ধরেই হবে৷ তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন চৌদ্দগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম। নির্বাচন শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি।’

    ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্ভাগ্যজনকভাবে দিন দিন অবনতি ঘটছে। শিশুহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো অপ্রত্যাশিত। এর প্রধান কারণ, সরকারি দলের লোকেরাই এসবের সঙ্গে জড়িত। সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলেও পারেন না।’

    বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে নতুন সংবিধান সংস্কার, পার্লামেন্টারি সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আশায়। কিন্তু বিগত কয়েক মাসে বিএনপির কাছ থেকে আমরা সে ধরনের ভূমিকা দেখছি না, যা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। আমরা বিএনপিকে এখনই ব্যর্থ সরকার বলতে চাই না। তবে যদি এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তবে মানুষের কাছে তাদের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হবে। আমি সরকারপ্রধানকে আহ্বান জানাব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে।’

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মুহাম্মদ শাহজাহান ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।

  • শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

    শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, এই সময় সজাগ না থাকলে দেশ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ক্ষতি হবে। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

    রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশকে অল্প সময়ে অনন্য উচ্চতায় গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের নামে বিদেশের মানুষ বাংলাদেশকে চিনতো। যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে। শহীদ জিয়া যেভাবে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন আমরা চেষ্টা করছি সেভাবে দেশ পরিচালনা করতে।

    তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সামনে রেখে ইশতেহার ছিল বিএনপির। সরকার গঠনের পর এই ইশতেহারে ৫২ শতাংশ মানুষের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। খাল খনন, শিক্ষা, শিল্পের বিপ্লব ইশতেহারে ছিল। সেই কাজগুলো করছি। জিয়াউর রহমান যেভাবে প্রত্যেক খতকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছিলেন, সেই পথনির্দেশিকা অনুসরণ করে কাজ করা হচ্ছে।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • গাংনীতে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ২৫ টি গরু কোরবানি এনসিপির

    গাংনীতে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য ২৫ টি গরু কোরবানি এনসিপির

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনীতে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণের লক্ষ্যে ২৫টি গরু কোরবানি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহৎ এ মানবিক আয়োজনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গাংনী পৌর কাঁচাবাজার এলাকায় কোরবানি ও মাংস প্যাকেজিং কার্যক্রম চলে। পরে দুপুর ২টার দিকে গাংনী ঈদগাহ ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস বিতরণ করা হয়।

    আয়োজকদের দাবি, মেহেরপুর জেলায় কোনো রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে এত বড় পরিসরে কোরবানির আয়োজন এবারই প্রথম। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও গাংনী পৌর মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

    তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা দিয়ানেত ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং এনসিপির গাংনী উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ২ হাজার ১০০ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

    জানা গেছে, তুরস্কের দিয়ানেত ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরবানি, ত্রাণ সহায়তা, মসজিদ নির্মাণ, ইসলামিক শিক্ষা ও স্কলারশিপসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গাংনীতেও এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

    মাংস বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন দিয়ানেত ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ফাতিহ শিমশেক, দোভাষী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল গালিব, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম, এনসিপির গাংনী উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ রানা, জেলা এনসিপির সদস্য শামিম আহমেদ আজম, আমির হামজা ও উপজেলা সদস্য আমিনুল ইসলাম সায়েমসহ দলের শতাধিক নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।

    কোরবানি ও মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, “ঈদের আনন্দ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেই আমাদের এ উদ্যোগ। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।”

    মাংস পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় আয়োজনে সহায়তা পেয়ে তারা আনন্দিত। তারা এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

  • দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাইকে দেশ গঠনের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করি সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা করব। একজন নাগরিক হিসেবে যদি সবাই সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করি, তাহলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।’

    দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও খাবার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি আরও বলেন, ‘আসুন আমরা আজকে সেই কাজটি করি। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করি যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশ গঠনে কাজ করছে তাদেরকে সহযোগিতা করব। তাদের সাহায্য করব একজন নাগরিক হিসেবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আর কথা বলব না। কারণ আমরা আজকের এই অনুষ্ঠানটির কারণে মানুষের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে আরেকদিন সভা সমাবেশ করব। সেদিন আমরা বসে ভালো করে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব।’

  • বাবা- মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বাবা- মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

    জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টার দিকে শেরেবাংলা নগরে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।এসময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।এরপর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান দলীয় নেতাকর্মী, এমপি, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • আজ স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী

    আজ স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী

    দেশের জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ শনিবার। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি শহীদ হন।

    জিয়াউর রহমান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বীর নায়ক। একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে নিরীহ বাঙালিদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। সে সময় পুরো জাতি ছিল দিশাহারা। ঠিক সেই সময় ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ইথারে ভেসে আসা ওই ঘোষণায় দিশাহারা জাতি উজ্জীবিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে তিনি ছিলেন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার মহান বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

    জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন আট দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির কার্যক্রম তুলে ধরেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

    আজ শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী।

    জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মনসুর রহমান এবং মাতার নাম জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ২০ জন শ্রেষ্ঠ বাঙালির মধ্যে জিয়াউর রহমান একজন

  • দেশবাসীকে শুভেচ্ছা

    দেশবাসীকে শুভেচ্ছা

    ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আজহা: প্রধানমন্ত্রী

    বিডিটােইমস ডেস্কঃ দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    ‘পবিত্র ঈদুল আজহা’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি পবিত্র ঈদুল আজহার এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মুবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ উৎসবই নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ইমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।’

    একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কুরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’ বাসস

  • দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস!

    দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস!

    ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। যাত্রাপথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ট্রানজিট নিয়ে প্যারিসে পৌঁছাবেন এই সাবেক প্রধান উপদেষ্টা।

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়। আজ সকালে ড. ইউনূস টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তবে তার এ সফরের উদ্দেশ্য বা নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ।

  • ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামায়াতের নারী এমপির সহায়তা

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামায়াতের নারী এমপির সহায়তা

    প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারে ইভা কমিউনিটি সেন্টারে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

    মিরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের এমপি শামসুন্নাহার বেগম।বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঈদের আনন্দ সমাজের সব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি তানজিনা আক্তার লিপি, তালিমুল কোরআন বিভাগের সেক্রেটারি জোবাইদা আক্তার, মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি জুবাইদা জবা, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ইসলাম টিটু, মিরসরাই পৌরসভার আমির মাওলানা শিহাব উদ্দিন। এ ছাড়া ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আমির হাফেজ একরামুল হকসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • সীমান্তে নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে-ডা. শফিকুর রহমান

    সীমান্তে নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে-ডা. শফিকুর রহমান

    আন্তর্জাতীকঃ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সীমান্তে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আরো নতুন সমস্যা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, এই সমস্যা যেন বীরত্বের সাথে মোকাবিলা করতে পারি। শুক্রবার বিকালে রংপুরে সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আমরা এ দেশকে ভালোবাসি। এ দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি এ দেশ একদিন বদলাবেই। আর আমরা এই দেশকে ভালোবাসি বলেই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি।

    তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহপাক হয়তো আমাদের বিরোধী দলে রেখেই পরীক্ষা করছেন। এই পরীক্ষায় আমাদের বিজয় হতে হবে।

    এর আগে সকাল ৯টায় একদিনের সফরে রংপুর আসেন জামায়াত আমির। সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেয় মহানগর পুলিশ।

  • ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

    ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আরও অর্থবহ করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিন রিগার ব্রাউনও উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয় গুরুত্ব পায়।

    এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এসময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজিউল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খুব শিগ্‌গির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিটি ক্যাম্পাসে সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

  • ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পদত্যাগ দিয়ে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত হয়েছে উপউপাচার্য, প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে। ধারাবাহিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে একধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের এই পুনর্বিন্যাস কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ। আর এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

    তিনি জানান, দায়িত্বের একটি পর্যায় শেষ হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য জায়গা করে দেওয়াই সমীচীন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২৭ আগস্ট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার পদত্যাগের পর নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সায়মা হক বিদিশা এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর বিশ্ববিদ্যালয় এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং এই সময়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যৌক্তিক।

    তার পদত্যাগের পর চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)-কে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এদিকে প্রক্টরের পদত্যাগের পরদিনই সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন মোনামীও পদত্যাগ করেছেন। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শুধু শীর্ষ পর্যায়েই নয়, রেজিস্ট্রার ভবনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইতোমধ্যে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা বদলি, পদায়ন এবং নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

    একচেটিয়া রাজনৈতিক মেরূকরণে উদ্বেগ

    এদিকে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনে একচেটিয়া রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একচেটিয়া স্থলাভিষিক্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরূকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, যদি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে আসীন হন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক একটি একমুখী ক্ষমতা কাঠামো গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।

    তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে বহুমাত্রিক মত, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। অন্যথায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    তিনি বলেন, যারা পদত্যাগ করেছেন তারা স্বেচ্ছায় করেছেন এবং কাউকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক প্রশাসনেরই নিজস্ব কাজের ধরন থাকে। যাদের সঙ্গে কাজ করলে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব, তাদেরই বেছে নেওয়া হয়।’

  • ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি

    ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলমানদের ওপর চলমান নিপীড়ন, উচ্ছেদ অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মাওলানা মামুনুল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঈদগাহে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইভাবে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।তিনি বলেন, সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তিনি জাতিসংঘ, ওআইসি, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বৈঠকে আরো আলোচনা করেন— সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।বৈঠকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।বৈঠকে অবিলম্বে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত এবং মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার জনগণের মতামতের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে।বৈঠকে গণভোটের রায় কার্যকরে ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সফল করতে জেলা-জেলায় নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আজীজ, সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানাজাল এমপি, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এমপি, মুফতি হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আমজাদ হুসাইন, মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মুফতি আজিজুল হক, হাফেজ শহীদুল ইসলাম, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা রেজাউল করিম, মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রমুখ।

  • এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে: সারজিস

    এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে বলে জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণাকালে তিনি একথা জানান।

    সারজিস আলম বলেন, প্রথম ধাপে ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে পাঁচটির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর প্রার্থীও ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে দেশে ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভাসহ মোট ৮৩০টি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রার্থী হতে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    আগামী মে’র মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ছাড়াও অন্য রাজনৈতিক দল থেকে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিরাও এনসিপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    সারজিস আলম বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সে কারণে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না—এই অনিশ্চয়তায় বসে না থেকে দল এককভাবেও প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে।

    আর আর খান

  • ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা

    ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা

    আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রথম ধাপে পাঁচ সিটিতে মেয়রপ্রার্থী ঘোষণার পর এবার প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, প্রথম ধাপে ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে পাঁচটির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর প্রার্থীও ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে দেশে ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভাসহ মোট ৮৩০টি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রার্থী হতে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।আগামী মে’র মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ছাড়াও অন্য রাজনৈতিক দল থেকে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিরাও এনসিপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের সুযোগ দেওয়া হবে না।সারজিস আলম বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি দল হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সে কারণে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না—এই অনিশ্চয়তায় বসে না থেকে দল এককভাবেও প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে।প্রথম ধাপে ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শিশির আসাদ এবং দেবীগঞ্জ পৌর মেয়র পদে মাসুদ পারভেজের নাম ঘোষণা করা হয়।ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ইমরান চৌধুরী, বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মাওলানা এম এ তাফসির হাসান, ফুলবাড়ী পৌর মেয়র পদে শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র পদে মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এবং হাকিমপুর পৌর মেয়র পদে মোহাম্মদ রায়হান কবিরের নাম ঘোষণা করা হয়।এ ছাড়া নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আবু সাঈদ লিওন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ডা. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সদর পৌর মেয়র পদে মোহাম্মদ মাসুম মিয়া, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শাহ সুলতান নাসিরউদ্দিন আহমেদ, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম খুদির নাম ঘোষণা করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেলের প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ প্রমুখ।

  • মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে : মাওলানা আব্দুল হালিম

    মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে : মাওলানা আব্দুল হালিম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জনসেবা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

    রোববার (১০ মে) গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলা মজলিশে শূরা, কর্মপরিষদ, উপজেলা আমির-সেক্রেটারি, নারী ইউনিট এবং ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কর্মীরা অংশ নেন।

    সভায় মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে আর্থিক সহযোগিতা ও ত্যাগের মনোভাব জরুরি। পাশাপাশি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে বৃহত্তর আন্দোলন ও সমাজ উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। জ্ঞান, আমল ও নৈতিকতায় এগিয়ে থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত সবার মূল লক্ষ্য।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলা আমির মো. আব্দুল করিম। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকার।

    এ সময় কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি

    সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি

    সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে ইতিপূর্বে যত গণভোট হয়েছে কোন গণভোট বাতিল করা হয়নি তাহলে এই গণভোট বাতিল করা নিয়ে কেন ধুম্রজাল তৈরী করা হচ্ছে? বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌগাছা উপজেলা শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল এ কথা বলেন । শনিবার বিকেলে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে দেশে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সময়মত দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। এদেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। আমরা যদি দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি তাহলে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, চৌগাছা ঝিকরগাছার উন্নয়নে আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন,পৌর আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, মাষ্টার ইমদাদুল হক, শ্রমিক নেতা তুহিনুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। প্রার্থীরা হলেন, ফুলসারা ইউনিয়নে জাহিদুল ইসলাম, পাশাপোল ইউনিয়নে মাওলানা শাহ আলম,ধুলিয়ানী ইউনিয়নে রোকনুজ্জামান,চৌগাছা ইউনিয়নে মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, জগদীশপুর ইউনিয়নে মাওলানা আব্দুর রহমান,পাতিবিলা ইউনিয়নে মাওলানা নুরুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়নে হাফেজ আমিন উদ্দীন খান,স্বরুপদাহ ইউনিয়নে মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, নারায়ণপুর ইউনিয়নে তুহিনুর রহমান ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে আব্দুল আলিম।

  • নিজামীর স্বপ্ন পূরণে জামায়াত আমিরের আহ্বান

    নিজামীর স্বপ্ন পূরণে জামায়াত আমিরের আহ্বান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক এমপি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    তিনি মাওলানা নিজামীর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতের আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনকে সামনে রেখে শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি।

    বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ মাওলানা নিজামী বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেমে দ্বীন, দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ এবং আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সততা, প্রজ্ঞা, বিনয়, উদারতা ও নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

    তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে শৈশবকাল থেকেই মাওলানা নিজামী প্রতিটি স্তরে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি ইসলামী আদর্শের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাওলানা নিজামী নিজ এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তার গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    জামায়াত আমির বলেন, তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে দেশের শিল্পখাত নতুন গতিশীলতা লাভ করে এবং লাভজনক খাতে পরিণত হয়।

    তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক। ২০০৬ সালের এক বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের আরেকটি বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

    তিনি অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আলোর দিশা হিসেবে কাজ করবে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, সভা ও সমাবেশে তাঁর দাওয়াতি বক্তব্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ২০১৬ সালের ১০ মে রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে মাওলানা নিজামীর অবদান স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করা এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করার জন্য মহান রবের দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন।

  • সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় বিকাশ কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পেস্টে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

    গ্রেফতার নয়জন হলেন— দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) ও কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।

    এর মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান (৩৮), আবু তাহের (২৬) ও রুপায়ন বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।

    ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার (৮ মে) সকালে নিজ কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ৮২ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। এরপর দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা সকলকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনসহ একজনকে মারপিট করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোগলাবাজার থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের এক সিকিউরিটি গার্ডকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত জুলহাস মিয়া নিজেও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে দাবি করেছেন।

    গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে ২ মে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তালিকায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়ার নাম দেখা যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মেইন গেটে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ‘সম্মানসূচক’ একটি পদ চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় মাস আগে মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে সিভি জমা দেন।

    তবে কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে তিনি কোনো ফেসবুক পোস্টও দেননি।

    ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক-দেড় বছর আগে আক্তার ভাইয়ের কাছে সিভি দিয়েছিলাম। পরে কীভাবে কমিটিতে নাম এসেছে, সেটি আমি নিশ্চিত না। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

    তবে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাসের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “তিনিই জুলহাস। তিনি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সহ-সভাপতি আক্তার জানিয়েছিলেন, তিনি একজন রানিং স্টুডেন্ট।”

    এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন বলেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আমি শুধু সিভি গ্রহণ করেছি। তিনি যে সিকিউরিটি গার্ড, তা জানতাম না।

    একই কথা জানিয়েছেন মহানগর পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার।

    তিনি বলেন, “আমরা তার সিকিউরিটি গার্ড পরিচয় জানতাম না। বর্তমানে ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক না হলেও একাডেমিক সনদ প্রয়োজন হয়। তিনি আমাদের কাছে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।”

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনারা তালিকাটি পাঠিয়ে দিন, বিষয়টি দেখে পরে মন্তব্য করব।”

  • সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমান

    সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমান

    বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বড় সাংগঠনিক বৈঠক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    সভায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, স্থানীয় পর্যায়ের অন্তঃকোন্দল নিরসন এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তারেক রহমান।

    দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাদের আরও সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হবে এ মতবিনিময় সভা থেকে।

    এর আগে, মতবিনিময় সভা ঘিরে শুক্রবার বিকেলে ভেন্যু পরিদর্শন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ মতবিনিময়ের মাধ্যমে আগামী দিনের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির রূপরেখা তুলে ধরবেন তারেক রহমান।

  • ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    আগামী দিনের মাঠের কর্মসূচি বেগবান এবং তৃণমূলকে আরো সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে একযোগে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটি। তবে সেসব কমিটি নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এগুলো নিয়ে সংগঠনের মধ্যে রীতিমতো তুলকালাম চলছে।

    কমিটি নিয়ে গুরুতর

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতরা পদ পেয়েছেন। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা এবং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নিপীড়ন, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের বঞ্চনা সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের আন্তরিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। ঘটেছে সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার ঘটনা। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এছাড়া পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে।

    পদবঞ্চিত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষণার ফলে যেখানে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক। পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অভিমানে দল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং সুবিধাবাদীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্কোন্দলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার অবস্থা।

    পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, আগামী দিনে বিরোধী দলের মাঠের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। সেসব কর্মসূচিতে এ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাত্রদলের শক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের কেন্দ্র ও তৃণমূলের একাধিক নেতা বলেছেন, আগামী দিনে ছাত্রদলের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে এমন অনেককে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজপথে কখনো দেখা যায়নি। আবার নিষিদ্ধ ও বৈরী ছাত্র সংগঠনের অনেককেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যাদের মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বিপরীতে রাজপথে ভূমিকা রাখা, জেল-জুলুমের শিকার অনেক নেতা পদবঞ্চিত হয়েছেন। কীসের ভিত্তিতে কমিটিতে এমন পদায়ন হয়েছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সেই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, বিএনপির চেয়ার‌ম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সোচ্চার একটি অংশ ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা—কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা না হলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    একযোগে ৪৫ ইউনিটের কমিটি

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি মর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। তার মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে ২২ ইউনিটে। সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, ভোলা, ঝালকাঠি, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী মহানগর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, যশোর, বান্দরবান, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমসহ ২৩টি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলো হলো— কুমিল্লা মহানগর, ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা মহানগর, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ।

    ক্ষোভ ও বিতর্কের নেপথ্যে

    বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরে রাজপথে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক এলাকার নেতাদের অভিযোগ—অনেক ইউনিটে নিয়মিত ছাত্রদের বাদ দিয়ে অছাত্র, ব্যবসায়ী ও বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি কোথাও কোথাও ত্যাগীরা অবমূল্যায়িত হয়েছেন। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকটি জেলা ও মহানগরে নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতারা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেক জায়গায় পদবঞ্চিত কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কুশপুতুল পুড়িয়েছেন। অনেকে ফেসবুক লাইভে অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের বর্ণনা দিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। কেউ কেউ অভিমানে ছাত্রদলের রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

    কমিটি নিয়ে তুলকালাম

    ছাত্রদল ঘোষিত জেলা ও মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র, ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

    ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ গত রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ—কমিটিতে অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদেরও পদায়ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে বিগত দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    রাঙামাটিতে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা

    জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে নবনির্বাচিত কমিটি ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করেছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

    নিজ জেলায় অবাঞ্ছিত ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক

    সদ্য ঘোষিত নোয়াখালী জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। সেই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে নোয়াখালীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাছির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগতদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির ১৮ জনই বিবাহিত।

    মমেকের কমিটিতে ৮ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ২২ সদস্যের কমিটিতে আটজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পদবঞ্চিতরা। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজার ও বরিশালে সড়ক অবরোধ

    দীর্ঘ দুই বছর পর ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি দাবি করে রোববার রাতে শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকের এক পোস্টে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের অভিযোগ, তার সহযোদ্ধাদের দেখে দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটাকে অপরাজনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর পূর্বের ৪০০ সদস্যের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। দিনাজপুরেও একতরফা কমিটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা। এছাড়া ভোলায় বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের পদ পাওয়া নিয়েও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

    সার্বিক বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, জেলা কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রে শীর্ষ দুজন ছাড়া বাকিদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। বিগত দিনের কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তবে বাস্তবে সংগঠনের পদ এবং প্রত্যাশীদের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন সম্ভব হয়নি। এ কারণে অনেকের সংক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

    ময়মনসিংহ মেডিকেলের বিষয়ে নাছির বলেন, সেখানে ছাত্রলীগ গণহারে অনেককে পদ দিয়ে দিয়েছে। যে কারণে এমন অনেকের নাম এসেছে, যারা আসলে এ বিষয়ে জানেও না।

    আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ রকম কোনো বিষয় নেই। আর এমন অভিযোগ কাম্য নয়।