রাজনীতি

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) নামে জামায়াতের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

    নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাটের মৃত্যু হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল করিম আকন্দ তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমও আহত হন। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আব্দুল করিম আকন্দ ভেলুরচক গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    দুপঁচাচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • জেন-জি বিপ্লব

    জেন-জি বিপ্লব

    প্রথম ১০০ দিন যেমন পার করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পূর্ণ করলেন নেপালের ৩৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। র‌্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। এই সময়ে সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে জনসমক্ষে তিনি এখনো অধরা রয়ে গেছেন।

    কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ‘বালেন’ নামে বেশি পরিচিত বালেন্দ্র শাহ রোববার ক্ষমতার ১০০ দিন পূর্ণ করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    শপথ নেয়ার পরদিনই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের তদন্ত কমিশনের সুপারিশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই অভ্যুত্থানেই অলির সরকারের পতন হয়।

    তবে তদন্ত চলমান থাকায় পরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়েছে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম এই পদক্ষেপই সরকারের পরবর্তী কর্মকাণ্ডের ধরন স্পষ্ট করে দেয়।

    শাহ জনসমক্ষে খুবই কম আসেন। তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করেন বেশি। এমনকি নির্বাচনে বিজয়ের ভাষণও তিনি র‌্যাপ গানের মাধ্যমে দিয়েছিলেন।

    তিনি বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর প্রচলিত প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য ভারত ও চীন হলেও সেই সফর তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

    সাংবাদিক প্রণয় রানা বলেন, ‘তিন মাস পেরিয়ে গেলেও আমরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাকে নির্বাচিত করেছি, সেই মানুষটিকে খুব কমই জানতে পেরেছি। তার আরো খোলামেলা হওয়া প্রয়োজন।’

    ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে শাহ’র বিপুল বিজয় খুব কম মানুষই অনুমান করতে পেরেছিলেন। ২০২৫ সালে তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অলির সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

    তার উত্থানের পেছনে কাজ করেছে সেই গণঅসন্তোষ, যা তরুণদের রাজপথে নামতে উৎসাহিত করেছিল। অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজাতদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভই ছিল এর মূল কারণ।

    ক্ষমতায় এসে সরকার ১০০ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা, জনসেবা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    সরকারের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৭০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। জুন মাসে এক সভায় দেয়া বক্তব্যে শাহ বলেন, তার সরকার পরিবর্তনের ‘এক্সপ্রেসওয়েতে’ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ব্রেক চাপা হবে না।’

    সরকার ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুপি ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেছে। এতে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একইসাথে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

    বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, ‘দেশ এখন সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।’

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

    সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’
    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ-এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস

  • ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে একমত পাকিস্তান-তুরস্ক

    ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে একমত পাকিস্তান-তুরস্ক

    পাকিস্তান ও তুরস্ক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শনিবার ইস্তাম্বুলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এবং তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তাদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। এরদোগান বলেন, আমরা সব সময় একে অপরের পাশে থাকি। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি বিশ্বশান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। এরদোগান জানান, তার সঙ্গে শেহবাজের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক গভীর, ঐতিহাসিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। শেহবাজ বলেন, যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে আয়োজিত বিজনেস ফোরামে তুরস্কের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এবং উভয় দেশই ৫০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-তুরস্ক বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, তুরস্ক পাকিস্তানের শক্তিশালী ও আন্তরিক মিত্র এবং আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। শেহবাজ বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল খিলাফত আন্দোলনের সময়। তিনি স্মরণ করেন, আলী ভ্রাতৃদ্বয়সহ উপমহাদেশের মুসলমানরা তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কঠিন সময়ে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। শেহবাজের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আন্তরিক সমর্থনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পেরেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং শান্তির এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

  • খামেনির যেসব নীতিতে পাল্টে যায় ইরানের রাজনীতি

    খামেনির যেসব নীতিতে পাল্টে যায় ইরানের রাজনীতি

    ইরানের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন চলছে। তার মৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ এক যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৯৮৯ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সময় সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। তার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নিয়োগের ওপর ব্যাপক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

    খামেনির শাসনামলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের যুক্তিতে ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করে।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধও তার শাসনামলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। খামেনি বারবার দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষার বিষয়েও তিনি অনড় অবস্থান বজায় রেখেছিলেন।

    আঞ্চলিক কৌশলের অংশ হিসেবে মিত্র সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তৃত হয়। তবে এই নীতির কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনাও আরো গভীর হয়।

    খামেনির মৃত্যু রাষ্ট্রকে দুর্বল করার পরিবর্তে অনেক ইরানির জন্য ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার শেষ বিদায়কে ঘিরে দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, এর কঠোর সমালোচনা করেছেন তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

    আজ শনিবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল তাজ এ সমালোচনা করেন। নিচে তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    একজন মানুষের ইগো/অহংকার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমান হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।

    গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ছাত্র/জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি/লুটপাট করে লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছে।

    আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করলে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবধর্মী নেতৃত্বে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ‘আমেরিকা ২৫০’ বিশ্বের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমেরিকান স্বপ্ন, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা গ্রহণ করছে।

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ও উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও গভীর করতে কাজ করে যাবেন।

    বার্তার শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন তিনি।

  • ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, এই অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এই অর্জন দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন।’

    শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে যদি জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, মা গত সতের বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান, আমি তার প্রতিশোধ নিই?।….কারণ সেই প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত আমার মা আমাকে বলতেন—তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইটিকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, তুমি কি চাও তোমার সঙ্গে যে অন্যায় অবিচার হয়েছে, তোমাকে মৃত্যুর মুখ ঠেলে দেয়া হয়েছে, যারা এরজন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই? কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাকে আমি চিনি, আমি জানি। একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার ভাইটিও সেই একই উত্তর দিতো, যে উত্তরটি আমার মা আমাকে দিতেন।’

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

  • ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    চ্যানেল আইয়ের লাইভ টক শো ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর একটি পুরোনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। আর উপস্থাপক ছিলেন সোমা ইসলাম। তিনি শাহজাহান ওমরকে প্রশ্ন করেন, ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ এবং আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে সোমা ইসলামকে এই প্রশ্ন করতে দেখা যায়।

    চব্বিশের পট পরিবর্তনের আগে অনুষ্ঠিত এই টকশোতে সোমা ইসলাম তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে জানতে চান, ‘তিনি কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’

    এছাড়াও তিনি সেই সময়ের বিএনপির অবস্থাকে একটি ‘নেতৃত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, তার দৃষ্টিতে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা হতাশ এবং তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইড করার মতো কেউ নেই। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘দলের প্রধান দেশের বাইরে অবস্থান করে ভার্চুয়াল মিটিং করছেন এবং প্রতিদিন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন, যা দলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।’এছাড়া তিনি বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে কোনো দাবি উঠেছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান।

    এম আবদুল্লাহ ও জুলকারনাইন সায়েরের শেয়ার করা এই ভিডিও প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভিউ হয়েছে।

  • শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে তাদের সেবক হতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিক আল্লাহর বন্ধু, তাই তাদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করাটা আমাদের কর্তব্য।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী অঞ্চলের থানা নেতাদের দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল হালিম আরো বলেন, শ্রমিক নেতৃত্ব বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন নেতা কখনো প্রভু নন; তিনি কর্মীদের খাদেম। তাই শ্রমিক নেতৃত্বে আদর্শিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেকুলার চিন্তাধারার বিপরীতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক শ্রমিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৫৭ বছর আগে প্রতিকূল পরিবেশে একটি আদর্শভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যাত্রা শুরু হয়, যা আজ বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি বট গাছের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শ্রমিকরা আজ তাদের দাবি আদায়ে সবার আগে শ্রমিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

    তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সংগ্রাম করেছি, তেমনি শ্রমিকের দাবি আদায়ে যেকোনো প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তুত।

    শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ- সভাপতি ও কর্মশালা সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, উত্তরের সভাপতি মহিবুল্লাহ, দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেন রানা মিঠু, উত্তরের সেক্রেটারি এসএম আতিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা জামিল মাহমুদ, হাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

    নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

    ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য খাতের কাজসহ এই যে প্রতিশ্রুতিগুলো, এগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমতি বা ঘাটতি নেই; প্রতিনিয়ত তিনি এগুলো মনিটরিং করছেন, সবকিছু দেখছেন।

    তিনি বলেন, যার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ টাকা, এবারের বাজেটে বলা হয়েছে তাঁর কোনো আয়কর দিতে হবে না। প্রস্তাব করা হয়েছিল মুদির দোকানগুলোতে কর বসানোর; আমরাও বলেছি , ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই দোকানগুলোতে ভ্যাট বা কর বসানো যাবে না। বাজেট যখন পাস হয়েছে, তখন মুদির দোকানের ওপর যে করের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা এও দেখছি, ১২ কেজির যে গ্যাস সিলিন্ডার, সেটার মূল্য ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ জনস্বার্থকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে, জনগণের কষ্ট লাঘব করাকে বড় করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আজকে আমরা একটা মুক্ত পরিবেশে নির্বিধায় সবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যার মনে যা আছে, সেই কথা বলার স্বাধীনতা অনেকদিন পর এসেছে। একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে পরিবেশ পেয়েছি, সেই পরিবেশে এই কথা বলা নিশ্চিত হয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

    সকল ধর্মের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, আমরা একই ভূখণ্ডের মানুষ ও জনগোষ্ঠী। আমাদের স্বাধীন সত্তা বিনির্মাণের জন্য একসাথে লড়াই করা ও আত্মত্যাগ করা মানুষ আমরা। এদের মধ্যে যেমন মুসলমান ছিল, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ছিল। সবাই মিলে এই জাতি ও গোষ্ঠী নির্মাণ করেছেন। অথচ বারবার একটি বিভাজনের রেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে—’ওরা’ আর ‘আমরা’। এই ধরনের একটি প্রচেষ্টা বারবার করা হয়েছে, অথচ তারা জানত না যে এই দেশের মাটিতে এটা কখনো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, কৃত্রিমভাবে সংকট ও বিভাজন তৈরি করা যায়, কিন্তু আমাদের মনের উদারতা ও গভীরতা অনেক বেশি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, ত্রিপুরা—সবাই মিলে এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য একসাথে লড়াই করেছে। এই জাতি কখনো কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করেনি। আমাদের ভেতরের এই নিবিড় সম্পর্ককে তারা আগেও বিনষ্ট করতে পারেনি, এখনও পারেনি; যদিও নানাভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চলে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কাছে হিন্দু-মুসলমান বা ধর্ম বড় ছিল না; তার কাছে বড় ছিল ; তার পরিবার এবং দল । এর বাইরে উনাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। যদি অস্তিত্ব থাকত, তাহলে তপন মিত্রের চাকরি কেন চলে গেল? উনার তো সচিব হওয়ার কথা ছিল, অথবা ডেপুটি সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আপনাদের চাকরি নাই, কারণ উনারা জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে সম্পর্কিত। বেগম খালেদা জিয়া বিজন দাদার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন—এইটাই হচ্ছে তার অপরাধ। এই কারণে সে আর বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, তপনদা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। এটা শুধু আপনাদের একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে

    রিজভী বলেন, ৫ই আগস্টে একসাথে দাঁড়িয়েছি। সেদিন পিছনে বুলেটের মুখে হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে, জুলাই আন্দোলনে সবাই মিলে দাঁড়িয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পরস্পরের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আমরা আমাদের এই স্বাধীন সত্তাকে রক্ষা করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যেকে একসাথে কাজ করে যাব। একসাথে লড়াই করব, একসাথে বিনির্মাণ করব, একসাথে সৃষ্টি করব আর প্রয়োজনে একসাথে প্রতিরোধ করব।

    এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু সহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের নেতৃবৃদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির , ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল।বৃহস্পতিবার সকালের একটি ফ্লাইটে ইরানের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারা।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে দেশটিতে সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সূত্রমতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।১১ দলের প্রতিনিধিদলটি ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করেছন সংশ্লিষ্টরা।

  • রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সঠিক পথ দেখানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে। যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা উদ্বেগজনক।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

    সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উপজেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) নেত্রকোণা সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে সংসদে সব দলের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশ পেলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিত। বর্তমান সংসদের ৩৪৮ সদস্যই দেশের জনগণের প্রতিনিধি। তাই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

    তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করছে। প্রয়োজন হলে জনগণও দেশপ্রেমের শক্তি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। অতীতেও বিভিন্ন স্থানে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি বরাদ্দ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও অনুদান দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উচিত দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্ব পালন করা। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের কল্যাণেই সরকারকে কাজ করতে হবে।

  • পরিবর্তনের রাজনীতিতে অংশ নিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: এমপি মিলন

    পরিবর্তনের রাজনীতিতে অংশ নিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: এমপি মিলন

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, ‘আর্তমানবতার সেবায় সমাজ ও রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব আমাদের ওপর আসুক, তা আমরা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি পরিবর্তনের রাজনীতিতে অংশ নিতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে গরিব ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদি, জামায়াত নেতা আবু সাঈদ মণ্ডল, আবুল কালাম আজাদ, সাজ্জাদ হোসেন বিপ্লব প্রমুখ।

    সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘আমরা সব কার্যক্রম ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে চাই। কারা এ অর্থ পাবেন, তা নিয়ে আমরা প্রাক-সমীক্ষা চালিয়েছি। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকৃত হকদারদের মধ্যে অর্থের চেক বিতরণ করা হচ্ছে। এই অর্থ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী ভোগ করতে পারবেন না। এ ধরনের অশুভ চর্চা আমাদের মধ্যে নেই। কেউ আসতে ব্যর্থ হলে আমাদের লোকজন তাদের কাছে পৌঁছে দেবে।’ তিনি আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সব স্তরের জনগণের সার্বিক সহায়তা কামনা করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হইনি, বরং জনগণের সুখ-দুঃখে সর্বাবস্থায় মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা আমাদের কাজ। আমরা জনগণের কাছে কৃত অঙ্গীকার যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা রিমান্ড শেষে কারাগারে

    সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা রিমান্ড শেষে কারাগারে

    সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আশিকা সুলতানাকে (৪৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এর আগে, ২৬ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম এ মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক গত ২৯ জুন দ্বিতীয় দফায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কতিপয় সদস্য পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-১ অ্যাপেক্স ভবন সংলগ্ন বাটা শো-রুমের সামনে পাকা রাস্তার ওপর জমায়েত হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে মিছিল করছিলেন। যার ফলে উপস্থিত জনগণের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়।

    ঘটনার দিন মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

  • গণভোট না মানার কারণে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে

    গণভোট না মানার কারণে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে

    বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট না মানার কারণে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকা-১৫ আসনের জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে নাগরিক সমাবেশ, মতবিনিময় সভা তিনি একথা বলেন।

    বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেমন ধারণা করেছিলাম তার কাছাকাছি হয়েছে এবারের বাজেট। শফিকুর রহমান বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশকে সহযোগিতা এবং পরিবার থেকেই সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

  • ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: জামায়াত আমির

    ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে হবে— এমন দাবি তুলেছিলাম সংসদে। এ কারণে অনেক সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কোনো সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করবো না ইনশাআল্লাহ।

    বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রবাসীদের পক্ষে সবসময় জোরালো বক্তব্য রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা এই দাবি ইনশাআল্লাহ জোরালোভাবে উত্থাপন করবো সংসদে। প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন আজ খবর পেলাম যে একদল আমার বিরুদ্ধে খেপে গেছে। আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে। দালাল যারা তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি কি দালালের কোনো তালিকা দিয়েছি? আপনাদের জানামতে আমি কি কোনো সংস্থার কথা বলেছি? তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত কষ্ট লাগে কেন?

    তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়। সারা বিশ্বে আমাদের এই গরিব লোকগুলোকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়। এরপরে তারা প্রতারিত হয়। সেখানে আবার গিয়ে দেখা যায় যে তার ওই ভ্যালিডিটিটাও নেই, জেলে থাকে। তাহলে আমরা কি এগুলা নীরবে গিলবো আর হজম করবো? দেখতে থাকবো? না। এগুলার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কী করতে পারবো, আমরা সংসদের ভিতরে চিৎকার দেবো, আওয়াজ তুলবো। যদি কেউ ভুলের মধ্যে থাকেন এতে তাদের সংশোধনের সুযোগ হবে।

    মুদি দোকানের কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গরিব মানুষ প্রান্তিক ব্যবসায়ী মুদি দোকানদার, তাদের উপরে উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছিল। মানে প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাও আউট হয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল।

    অর্থবছর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা অর্থবছর পরিবর্তনের কথা বলছি। আমাদের দেশে একটা দানব আছে, উন্নয়নের দানব। এটা নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়। শেষের তিন মাস গা ঝাড়া দিয়ে চলে আসে। এসে এমন গতিতে কাজ শুরু করে, ঝড়ের গতি।

    নয় মাসে এডিপি ব্যয় ৪২ শতাংশ, অথচ তিন মাসে ৫০ শতাংশ। তখন কী হয়? বৃষ্টি ঝড়ে জনগণের টাকা পানির সঙ্গে মিশে যায়। লুটপ্ট, অপচয়, হজম। কেন এটা করতে হবে তার কোনো যৌক্তিকতা নাই। আমরা বলেছিলাম আমাদের আবহাওয়া এবং সিজন অনুযায়ী এটা হোক জানুয়ারির এক তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ। তাহলে অন্তত শেষ তিন মাসে দৈত্যের ঘুম ভাঙলেও আমাদের সম্পদ পানিতে ভেসে যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন বিদেশ থেকে আনা সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের উপরে একটা ভালো ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব এসেছে। আমরা এটা তুলে দিতে বলেছিলাম। অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বললেন যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে ভালো হতো। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। উনারা আশ্বাস দিলেন যে এখন তো আর এটা বিলে আনা যাচ্ছে না।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম, আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে এমপি হোক মন্ত্রী হোক যাই হোক আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনবো না। সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেবো না। কিছু বন্ধু ওই গুড়ের সঙ্গে কিছু লবণ না ছিটাইলে আরাম পায় না। আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি, অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি।

    এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নিবো না, এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা কি সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওইটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে তত সময় উনি এটা ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নাই। ছেড়ে দিতে হবে। এটাকে নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়।

    তিনি বলেন, আমরা আরও বলেছিলাম সরকারি সুযোগ সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করবো। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায় এখানে কোনো অপরাধ নাই। তা আমরা সেটা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি। এই যে বাজেটটা এসেছে, বলা হচ্ছে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। কিন্তু আমরা যদি মানি অ্যান্ড মার্কেট ইনফ্লেশনের কথা চিন্তা করি তাহলে এটাকে বড়, সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট বলা যাবে না।

    অনেকটা বাজারের সঙ্গে এটা সংগতিপূর্ণ। বড় বাজেট করা কোনো অপরাধ নয়। একটা জাতির মিশন থাকলে বড় বাজেট লাগবে। চ্যালেঞ্জটা কয়েক জায়গায়, একটা হলো বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা। এর চাইতে বড় হলো দুর্নীতি। এই দুই জায়গায় যদি বড় সংস্কার আনা না যায়, বাজেট হবে কিন্তু বাজেটের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে না। এই বাজেট থেকেই তো ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। যদি এই দুই জিনিসের সংস্কার না হয় আবার যাবে।

    এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা শুধু এনবিআরের না। এনবিআর আমাদের কালেক্টর। কিন্তু এক্সিকিউশন তো এক্সিকিউটিভ ডিপার্টমেন্টেরর ওপর। এর সঙ্গে একদম প্রান্তিক লেভেলে গ্রামের একজন ওয়ার্ড মেম্বার এবং কোনো প্রজেক্ট হয়ে থাকলে সেই প্রজেক্টে জড়িত।

  • ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর না খুললে জনগণই খুলে নেবে: নাহিদ ইসলাম

    ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর না খুললে জনগণই খুলে নেবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি খুলে নেবে।

    বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ পহেলা জুলাই। দুই বছর আগে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার শহীদদের স্মরণে আমরা রায়েরবাজারে গণকবরে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। আজ থেকে আমাদের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ঢাকা ও সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান, ফাইয়াজ, রিয়াগোপসহ জুলাইয়ের প্রায় ১৪০০ শহীদকে। আমরা স্মরণ করছি আহত প্রায় ৩০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামা ছাত্রসমাজ পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘শ্রমিক, নিম্নবিত্ত মানুষ, নারী সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। প্রবাসী ভাই-বোনেরা, বিদেশি বন্ধুরাও আমাদের সহযোগিতা করেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্যরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন সবাইকে আমরা স্মরণ করছি।’

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এখনো পাইনি।’

    ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল ট্রাইব্যুনালের একটি রায় এসেছে, যা জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাও ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনুকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটি যথেষ্ট নয়। আমরা আপিল করে আরও কঠোর বিচার প্রত্যাশা করছি।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার আসার পর মাত্র দুটি মামলার রায় হয়েছে। তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক।’

    শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ যারা জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং যারা ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ পরিবারদের আর্থিক সহায়তা ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। কবরস্থান সংরক্ষণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হয়নি এটি দ্রুত করতে হবে।’

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। এখনো আমরা সেই সংস্কার পাইনি।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। শুধু নামমাত্র পালন করলে হবে না, আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

    জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে। না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি খুলে নেবে এবং সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

  • এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি নজরুল ইসলাম খান

    এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি নজরুল ইসলাম খান

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম খান গত ২৫ জুন সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফেরেন। পরে গতকাল ৩০ জুন তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সকালে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এসময় তার সঙ্গে শায়রুল কবির খান ছিলেন। তিনি জানান, শিমুল বিশ্বাস চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

    শায়রুল কবির খান বলেন, নজরুল ইসলাম খানের কাছে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে।

  • খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধি দল

    খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধি দল

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধি দলটি আগামী ৩ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবেন। তারা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

    দলীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনেয়ীর জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।

    ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।

    একইসঙ্গে, এ গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইরান সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

  • ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ

    ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ

    সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার থেকে আসা ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে নিহতের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিহতদের মরদেহের কফিন ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছার আগেই সেখানে উপস্থিত হন সিলেট জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এসময় লাশ রিসিভের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের সহমর্মিতা জানান তারা।

    মঙ্গলবার সকালে কাতার থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ছয়টি লাশের কফিন আসে। এরমধ্যে সকলেই দুর্ঘটনায় মারা যান। তন্মধ্যে পাঁচজন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এবং একজন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার।

    গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

    এদিকে, গত ১৭ জুন সকালে কাতারে ডিউটি করার সময় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশিঘর গ্রামের মরহুম আব্দুল আলীর ছেলে লিফন মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে লিফনের লাশও রিসিভ করা হয়।

    কাতার ফেরত ছয় প্রবাসীর লাশ রিসিভকালে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, জেলা নায়েবে আমির হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, সাবেক ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

    এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ নিহতের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তারা বলেন, নিহত প্রবাসীরা গরীব পরিবারের মানুষ। তারা স্বজনের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে গিয়েছেন। অনেকেই ঋণ ও দ্বার-কর্জ করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। একটি দুর্ঘটনা তাদের জীবন ও স্বজনের মুখে হাসি কেড়ে নিয়েছে। সিলেট এয়ারপোর্টে নিহতের স্বজনদের কান্না দেখে চোখের পানি আটকানো যায়নি। নিহত প্রবাসীদের পরিবারের পাশে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমত সহযোগিতা নিয়ে নিহত ছয় প্রবাসীর পরিবারের পাশে আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

    কানাইঘাটের নিহতরা হলেন- ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার

    খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২ জুলাই তিনি ঢাকা থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা করবেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। ওই জানাজায় বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অংশ নেবেন।

    স্পিকার ছাড়াও জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্য নিজ উদ্যোগে জানাজায় অংশ নিতে ইরানে যাবেন বলে জানা গেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হন তিনি। ইরানের কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হবে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আগামী ৪ জুলাই তেহরান ও কোমে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে আগামী ৯ জুলাই তার দাফন সম্পন্ন হবে।

  • জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

    জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

    জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডসহ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিত ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। রায় ঘোষণা বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। গত ২২ জুন রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।গত ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী পার্টনার ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ ও ৪ আগস্ট তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। সেই সব কথাবার্তার মধ্য দিয়ে কারফিউ জারি এবং জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো—এসব বিষয় তার কথোপকথনের মধ্যে ছিল।’

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি এবং কথোপকথনের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবেই এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি যে, জনাব ইনু সাহেব একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপরে নিপীড়ন চালানোর জন্য নানা কৌশল বা নানা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার ফলে বহু লোকের জীবনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

    গত ২ এপ্রিল ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। টানা ৯ কার্য দিবস যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন তিনি। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

    গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১০ জন সাক্ষী ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেন। গত ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

  • ৫ আগস্ট রাজধানীতে গণমিছিল করবে জামায়াত

    ৫ আগস্ট রাজধানীতে গণমিছিল করবে জামায়াত

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীতে গণমিছিল করবে জামায়াতে ইসলামী—এমনটিই জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতীয় ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়, এটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হুংকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় আসার আগে জুলাইকে ঘিরে যে কথা বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেলিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত জুলাইভিত্তিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নেও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

    কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১ থেকে ১০ জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন, ১১ থেকে ১৬ জুলাই শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা, ১৭ থেকে ৩০ জুলাই শাহাদাতের ঘটনাস্থলভিত্তিক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী, ২৪ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, ৩১ জুলাই মসজিদে মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মাহফিল, ১ থেকে ৪ আগস্ট ওলামা, শ্রমিক ও মহিলা সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল।

  • মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, শিগগিরই দেশে ফিরবেন

    মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, শিগগিরই দেশে ফিরবেন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।গতকাল রোববার এক বার্তায় শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসবেন। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি দ্রুত পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। মহান আল্লাহর কাছে তার আশু আরোগ্য কামনা করছি।’

    গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

    পরে ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে মির্জা আব্বাসকে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

  • বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, পাঁচবার জেলে গেছি : স্পিকার

    বিরোধী দলে থেকে কানাকড়িও পাইনি, পাঁচবার জেলে গেছি : স্পিকার

    দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসদীয় জীবনে বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের সরকারি সুবিধা পাননি বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৮তম কার্যদিবসে তিনি এ কথা জানান।

    স্পিকার বলেন, ৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনোদিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেফতার হয়ে জেলে গিয়েছি। এটুকুই। প্রাপ্তিযোগ অন্য কিছু হয়নি।

    তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বাজেট-বিষয়ক বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও বাজেটের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই চেয়ারে বসার কারণে আমার জন্মভূমি, আমার নির্বাচনী এলাকা ভোলার সমস্যাগুলো এখানে বলতে পারি না। তিনি (বিরোধী দলীয় নেতা) সেগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আশা করি, অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবেন।

  • বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। যে চিঠিতে নিজের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

    চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লেখিত হয়নি।

    এদিকে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম পাওয়ার ঘটনা শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রাপ্তি। ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

    ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দু’টি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অপরটিতে মো. আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

    এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ভাষ্য, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএস এর কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।

    তিনি আরও বলেন, অনুদানের টাকাটা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।

  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

    ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন। আবার যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

    তাই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার যদি এই নোটগুলো বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন না দেখার কথাও জানান নোয়াখালী–১ আসনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে ব্যাংকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষপাতী তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকা নেই। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলে একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    টাকা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো যায়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

    নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন দলের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়, বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই বাজেটটি এসেছে। এ কারণেই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

  • ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

    ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) নতুন মহাসচিব হলেন গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। আর সদ্য বিদায় নেওয়া মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে।

    শনিবার (২৭ ‍জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল এন্ড রিসোর্টে আইএবির মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে গাজী আতাউরকে মহাসচিব পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অধিবেশনে পূর্বের কমিটি মেয়াদের আগেই ভেঙে দিয়ে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে কিছু রদবদল আনা হয়েছে।

    ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়তুল্লাহ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে এককভাবে নির্বাচন করা, প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তাসহ কয়েকটি সাংগঠনিক দুর্বলতা উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    গাজী আতাউর এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অধ্যক্ষ ইউনুছ ২০০৮ সাল থেকে টানা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

  • পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপে গোলাগুলি, বিএনপি কর্মী নিহত

    পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা। তিনি বিএনপি কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালেও এ বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সকালে দুই গ্রুপের লোকজন বালু আছে কিনা চেক করতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

    সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে আমরা ভাতিজারা বাঁধা দেয়। এ সময় তাদেরকে কয়েকজন আমার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে মঞ্জু শেখ নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    মিরসরাইয়ে জামায়াতের যুব বিভাগের মাদকবিরোধী র‍্যালি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যালীটি মিরসরাই পৌর সদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির নুরুল কবিরসহ উপজেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    আয়োজক উপজেলা যুব বিভাগ জানায়, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় যুবকরা মাদকবিরোধী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো এলাকা।

    র‍্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা আজ সমাজের নানা স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের টাকার জন্য পরিবারে সঙ্ঘাত, এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। সরকার যদি মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের সচেতন যুবসমাজ মাদকের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

  • চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

    চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বৈঠকটি শুরু হয়।

    এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশটির বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।

    চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।

    বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকটি গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

    একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, যা যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গেও দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।

    চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও কার্যকর অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

    বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। মালয়েশিয়া সফর ও সামার দাভোসে অংশগ্রহণের মতো এই সফরেও তিনি মাত্র ২৫ সদস্যের একটি ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা আজ বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

    পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

    দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন এ বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বেতনবৈষম্য দূরীকরণকে এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুটি খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

    সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে দুই-তিন মাস সময় লাগলেও ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে সেই অর্থ প্রদান করা হবে।

    প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন মাত্র দুই ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।

    পে স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সেজন্য আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে এ দুই সংস্থার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিগগির বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এজন্য আরো একটি সভা হতে পারে।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন প্রশাসনিক ও আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

  • জুলাই স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের

    জুলাই স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের

    চলমান আন্দোলন জোরদার করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিকে জোরালো করা।

    ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব জেলা ও মহানগরে সেমিনার আয়োজন। এছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কনের আয়োজন করা হবে।

    এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ দিনে, অর্থাৎ ৫ আগস্ট সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ১১-দলীয় জোট।

  • ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে যুবদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

    এর আগে সোমবার দুপুরে পৌর বিএনপি ও সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। এসব মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হয়।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের নেতাকর্মীরা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে, সেই আশঙ্কায় আমরা রাজপথে সোচ্চার আছি। শান্তিপূর্ণ ঝালকাঠিতে আমরা কোনো নৈরাজ্য হতে দেব না।

    উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২৩ জুন মঙ্গলবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের বিষয়ে বেশকিছু দিন ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালাতে থাকে। এ বিষয়ে কেউ যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেই কারণে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেয়।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। বৈঠকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাতের শুরুতেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বেশ কয়েকটি মেগা পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) উৎপাদনে কর-সুবিধা ও বড় প্রণোদনা প্রদান করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও গৃহীত উদ্যোগগুলোকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এটি তাদের বড় আগ্রহ তৈরি করবে।”

    তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সাক্ষাৎ শেষে জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।

    সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

  • ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ।

    সোমবার (২২ জুন) ভোরে সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো: ইবাদুল ইসলাম (২১), মিলন বারৈ (২০), মো: সুজন সরদার (২৬), সবুজ ঢালী (২৮), নিপুল বিশ্বাস (২৯), সমু ঢালি (২৮), অশোক ঢালি (৩০), মো: সৌরভ হাওলাদার (২৩), মো: জয় (২৮) ও মাহবুব হাওলাদার (৪০)।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত আটটি গেঞ্জি এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বহনকারী দু’টি বাস ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ঝালকাঠিতে  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে  পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির বিক্ষোভ

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পৌর বিএনপি।

    সোমবার (২২ জুন) সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপুর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

    বিক্ষোভ মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফায়ার সার্ভিস মোড়ে শেষ হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    সমাবেশে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আনিচুর রহমান তাপু বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদেই আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ। দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা করলে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা যেখানেই থাকুন, ভারতে বসে উস্কানি দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতেও দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ও বিকেলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পুনরায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’

  • ধানমণ্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক

    ধানমণ্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক

    রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার সকাল ৬টার দিকে সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-মো. ইবাদুল ইসলাম (২১), মিলন বারৈ (২০), মো. সুজন সরদার (২৬), সবুজ ঢালী (২৮), নিপুল বিশ্বাস (২৯), সমু ঢালি (২৮), অশোক ঢালি (৩০), মো. সৌরভ হাওলাদার (২৩), মো. জয় (২৮) ও মাহবুব হাওলাদার (৪০)।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী। তিনি বলেন, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে ১০ জন সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতা-কর্মীদের ছবি সম্বলিত ৮টি গেঞ্জি ও একটি ব্যানার যাতে লেখা রয়েছে ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ উদ্ধার করা হয়। এসময় আটককৃতদের বহনকারী দুটি বাস ও একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মি. নিকোলাস উইকস বৈঠক করেছেন।

    সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মিস ম্যাটিল্ডা সভেনসন, সেকেন্ড সেক্রেটারি এবং বাণিজ্য, রাজনীতি ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ওলে লুন্দিন। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে তারা বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও সুইডেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি সুইডেনের দৃঢ় সমর্থন থাকার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সুইডেনের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে জুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও আলোচিত অর্ডিন্যান্সগুলোর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেট, কর কাঠামো সংস্কার, রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকর সমাধান এবং বাংলাদেশে সুইডেনের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিবি হেফাজতে এমপিপুত্র খায়রুল

    ডিবি হেফাজতে এমপিপুত্র খায়রুল

    নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
    ক্ষুদেবার্তায় জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনার পর তাকে আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
    তবে কী অভিযোগের প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবি।

  • এনসিপির এমপিদের ৬ জনই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল – আব্দুল্লাহ হিল বাকী

    এনসিপির এমপিদের ৬ জনই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল – আব্দুল্লাহ হিল বাকী

    এনসিপির এমপিদের মধ্যে ৬ জনই আগে-পরে সাংগঠনিকভাবে কিংবা কোচিং টিচার হিসেবে নানানভাবেই শিবিরের সাথে সংযুক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আব্দুল্লাহ হিল বাকী।

    শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    পোস্টে তিনি বলেন, এনসিপির এমপিদের মধ্যে ৬ জনই আগে-পরে সাংগঠনিকভাবে কিংবা কোচিং টিচার হিসেবে; নানানভাবেই শিবিরের সাথে সংযুক্ত ছিলো। এখন হয়তো পথ-মত, চিন্তাধারা আলাদা হয়ে গেছে। এসব নিয়ে নাক সিঁটকানোরও এখন কিছু নাই। অতিরঞ্জনেরও কিছু নাই।

    তিনি আরও লেখেন, দুইদিন পরপর এনসিপিতে এই ক্যাঁচালটা লাগে যে, কে সাবেক শিবির আর কে শিবির না, এসব নিয়ে বাটখারা বসানো হয়। কেউ শিবির বা জামায়াতের রাজনীতিটা করবে না বলেই সে এনসিপিতে এসেছে। এটাকে সানন্দেই গ্রহণ করা উচিত।

    আবদুল্লাহিল বাকী বলেন, এনসিপি সেক্যুলার পার্টি, মধ্যপন্থি রাজনীতি করবে। এই লাইনের রাজনীতিটা ধারণ করেই পার্টি ফর্ম হয়েছে। ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় সেটা আসলে আগ থেকে কেউই বলতে পারবে না।

  • মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল- সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

    মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল- সেই বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় পদ থেকে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে (গত রাতে) আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতেই তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    শনিবার রাতে (গতরাতে) তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করে এসএম কায়কোবাদকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

    ওই অব্যাহতি পত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তার সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এ ব্যাপারে সাইদুল ইসলাম জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত। শনিবার বিকালে তদন্ত হয়েছে। আমার পক্ষে বেশির ভাগ লোকজন কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিঠি পেয়েছি। ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও আমি জেনেছি।

    এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২০ জুন) রাত ও রোববার ভোররাতে তাদের সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারদের মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্রাফিল ফরাজী, ঘটমাঝি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর জমাদ্দারও রয়েছে।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা করতে পারে এমন অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

    এমন কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

  • জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন

    জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে। পলাশ এর আগেও সড়কে মাইক্রোবাস চাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এবং এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মজিদুল ইসলাম ও তার ভাই মহিরুল ইসলাম।

    লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নাম ব্যবহার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা-মামলার হুমকি এবং সালিশের নামে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

    ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেন তারা। জমির বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকার পরও সাজ্জাদ হোসেন পলাশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ মকলেছুর রহমান, আবুল কালাম ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে ওই জমিতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা। এতে তাদের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    এ ঘটনায় মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করার পর তা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

    এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, “কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অন্যায় কাজ করলে তার দায় দল নেবে না; দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।”

    এদিকে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। মামলার শীর্ষ আসামি ওই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মকলেছুর রহমান ও একই গ্রামের ছ্যান ভিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম। তারা দুজনেই জেল হাজতে রয়েছে।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
    মুহাদ্দিদ মোর্শেদ বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূর ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

    আজ শুক্রবার দুপুরে সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ ও র‍্যাব। সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই মোটরসাইকেলে আসা চার আরোহী হঠাৎ করেই নূর ইসলামের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে যায়।

  • গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।

    জেলা জামায়াতের আমির ড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি শফি উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি মানুষকে খেলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্যও সৃষ্টি করা হয়েছে। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তারা এককভাবে নয়; বরং দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সেই নীতিকে সামনে রেখে এ দেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের কর্মীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাতের প্রত্যাশায় কাজ করেন। রুকনরা এ সংগঠনের চালিকাশক্তি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সৎ মানুষের নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শক্তিগুলো ইসলামী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’

    শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, ড. হাফিজুর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

    ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবলমাত্র একটি গতানুগতিক ধারার ব্যাংক নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক যেই অবদান রেখেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পতিত এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর জোনের বাছাইকৃত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ আরো বলেন, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য আদর্শিক লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকার দল ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী সেই ভূমিকা রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্যামপুর জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক ও কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

    আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন, কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন, যাত্রাবাড়ী থানা আমির মাওলানা সাদিক বিল্লাহ প্রমুখ।

  • রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে  এক একবিন্দুও ছাড় নয়

    রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে এক একবিন্দুও ছাড় নয়

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র সংস্কার করছে না, তাই এই দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। সংস্কার প্রশ্নে এই সরকারকে আমরা এক একবিন্দুও ছাড় দেব না । বিএনপি সরকার যদি ৭৫ভাগ মানুষকে ডিনাই করে তাহলে তাদের পতন হতেও সময় লাগবে না। শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে বাগেরহাটের খানজাহান আলী ( রহ:) এর মাজার জিয়ারতের পূর্বে সাংবাদিকদের সাথে তিনি এ কথা বলেন।

    খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে দুটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন।

    বাগেরহাট প্রশ্নে সাংবাদিকদের সাথে তিনি আরো বলেন, বাগেরহাটে শেখ পরিবারের একটা রাজত্ব ছিল। এরা কোন কাজ করেনি। শুধু অর্থ ভাগিয়ে নিয়েছে।

    এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া এবং ঋণখেলাপিদের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন, এর পাশাপাশি সংস্কারের ব্যাপারে তার দলের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি এসব বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

    সফর শেষে তিনি বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। এবং এসকল ঐতিহাসিক স্থাপনা গুলো কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে সকলকে সহযোগিতা করার জন্য বলেন।

  • সংসদকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: আবদুল কাইয়ূম

    সংসদকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: আবদুল কাইয়ূম

    জাতীয় সংসদকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম।শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, জনগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে অর্থ উপার্জন করে। প্রবাসীরা স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে গিয়ে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠায়।

    সেই টাকার উপর ট্যাক্স নিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালিত হয়। জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর পর থেকে অযথা সব আলাপের মাধ্যমে জনগণের টাকার অপচয় করা হচ্ছে। মনে হয় জাতীয় সংসদকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

    নগর সভাপতি আরো বলেন, সংসদ সদস্যদের মনে রাখা উচিত, সংসদ অধিবেশনে প্রতি মিনিটে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়।

    রাষ্ট্রের সম্পদ তাদের কাছে মানুষ আমানত রেখেছে। আমানতের খেয়ানত করে জনগণের অভিশাপ অর্জন করছেন কি-না ভেবে দেখছেন? আমরা সংদকে কার্যকরী আইনসভা হিসেবে দেখতে চাই। অপ্রাসঙ্গিক আলোচনায় প্রাসঙ্গিক বিষয় আড়ালে চলে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

  • জুলাই ঐক্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীনরা

    জুলাই ঐক্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীনরা

    ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্র পরিচালনার শুরুতেই সংবিধান সংস্কারের শপথ না নিয়ে জুলাইয়ের ঐক্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, তাদের প্রকৃত চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    শুক্রবার কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আ. মান্নান, ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার।বক্তব্য রাখেন মহানগরী নায়েবে আমির মাস্টার মোসলেহ উদ্দিন, অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন প্রমুখ।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াত এমন একটি মানবিক নগর প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে কর্মসংস্থানের অভাবে কেউ বেকার থাকবে না এবং কেউ না খেয়ে থাকবে না। প্রত্যেক শহরকে একটি মানবিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে তার দল কাজ করছে।

    তিনি জানান, মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাজারো মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। জনগণের কল্যাণ ও সেবাকে কেন্দ্র করেই দলটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    সকাল ৭টায় রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে ডিএনসিসি নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে দায়িত্ব দিলে নিরাপদ নগর গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকাকে নতুন রূপে গড়ে তোলা সম্ভব। দুর্নীতিমুক্ত নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আধুনিক সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক স্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মেধা বিকাশ ও সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে হবে। তিনি তরুণদের মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে দেশ ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

  • সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

    সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের ব্যাংক খাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশাসনিক পদে নিজেদের দলীয় লোক বসিয়ে বর্তমান সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সচেতন দেশবাসী সরকারের এই একদলীয় মনোভাব কখনোই মেনে নেবে না।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে চরম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করতো বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকারও সেই একই পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে বিভিন্ন নেতিবাচক ট্যাগ দিয়ে কথা বলছে। কিন্তু দেশের জনগণ এখন সচেতন, তারা এসব রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা আর বিশ্বাস করে না।”

    সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “আপনারা তরুণ সমাজের মনের ভাষা ও তাদের দাবি বুঝার চেষ্টা করেন। অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো ও স্বৈরাচারী পথে হাঁটা বন্ধ করুন।”

    নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীবৃন্দ।

  • উত্তরায় ‘মানবতার বক্স’ উদ্বোধন করলেন সেলিম উদ্দিন

    উত্তরায় ‘মানবতার বক্স’ উদ্বোধন করলেন সেলিম উদ্দিন

    সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উত্তরা পশ্চিম থানার উদ্যোগে “মানবতার বক্স” নামের একটি ব্যতিক্রমী মানবিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তরা ১১ নং সেক্টরের কাঁচা বাজারে এই মানবিক উদ্যোগের উদ্বোধন করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উদ্বোধন শেষে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন নিজেই কাঁচা বাজারের ভেতরে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন দোকানদার ও বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে যান। এ সময় তিনি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ‘মানবতার বক্সে’ সামর্থ্য অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, বস্ত্র বা আর্থিক সহায়তা রাখার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বান বাজারে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মকবুল আহমেদ, তুরাগ মধ্য থানার নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ১১ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন ভূইয়া, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, উত্তরা পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ফিরোজ আলম, যুব নেতা তারিক হাসান, মোতালেব হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

  • জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’

    আব্দুল মুনতাকিমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। ফেসবুকে নুর ইবনে আলম নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাবা–দাদা শহীদ হওয়ার পরও তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে হয় কীভাবে? হলফনামা অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল।’ অনামিকা আমিন নামের একজন বলেন, ‘উনি বুঝতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া গর্বের। তাই একটু মিছা কথা মুখ দিয়ে বের হইছে…।’

    আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল–ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’

    আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল মুনতাকিমের বাড়ি সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দীর সঙ্গে কথা হয়। সংসদ সদস্যের মা–ও জীবিত আছেন। আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন।’

    যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আপাতত এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

  • জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক

    জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও তার রাজনৈতিক পরামর্শক কামরান ধাঙ্গাল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

    বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা হয়। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। এর মধ্যে ৭৪ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

    পাকিস্তানের হাইকমিশনার একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

    আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

  • লন্ডনে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নাগরিক সংবর্ধনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

    লন্ডনে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নাগরিক সংবর্ধনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

    সবার জন্য সেবা নিশ্চিতের আগে বিশেষ সুবিধা নেবো না

    ডেক্স নিউজ: দেশের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। রাষ্ট্রের সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য সমভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিশেষ সুবিধা বা ভিআইপি সংস্কৃতির অংশ না হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    বুধবার এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে গত রবিবার লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার মাইদা ব্যাংকুয়েটিং হলে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় হাসনাত আব্দুল্লাহকে। সেখানে তিনি এমন অঙ্গীকার করেন।

    এ এম

  • হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় মো: সোহেল মাহমুদ (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের সুবর্ণচর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কের বয়ারচর মানিক কাউন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, হরনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সোহেল মাহামুদ মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে পরিবার নিয়ে বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ফরেস্ট সিরাজের বাড়িতে বসবাস করছেন।

    বুধবার সকালে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে চানন্দী ইউনিয়নের নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর মানিক কাউন্টার এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে যান।

    দুর্ঘটনায় তিনি পেট, হাত ও পায়ে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২দিকে তার মৃত্যু হয়।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।