রাজনীতি

  • চৌগাছায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে স্বপর্রাজপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগদীশপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ড. মাহবুবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ।

    এসময় বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি ও সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা রওশন জামিল, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম এবং মাওলানা আবুল হাসেম।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী উপজেলার সব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) পদে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

  • ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) প্রথম কারখানার উৎপাদন দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

    সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক হয়। সেখানে জোনটি চালুর বিষয়ে প্রথমে তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। পরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানও এই সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।’

    চীনা বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আমাদের অতিথি। তারা বিনিয়োগে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। এই জোন দ্রুত চালু হলে এই এলাকার চেহারা বদলে যাবে।’

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    যেকোনো সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।’

    দেশের অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

  • সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে সালিশে নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের আটপাড়া গ্রামে বাদল মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রাবিনের মোবাইল চুরি হয়। মোবাইল চুরি সন্দেহে একই গ্রামের শারফুলের ছেলে রানাকে (২০) বাড়ি থেকে ধরে বিএনপি অফিসে নিয়ে যান লোকজন। সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে রানাকে বিএনপি অফিসের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    নাতির চিৎকারে বৃদ্ধ দাদা মো. নবী হোসেন এগিয়ে যান। এ সময় সালিশে উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নাতিকে চোর আখ্যা দিয়ে বৃদ্ধ নবী হোসেনকে ধরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় নবী হোসেনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ভাতিজা জলিল জানান, মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচা নবী হোসেনও মারধরের শিকার হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    ময়লা বাণিজ্য ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার ছক

    রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন।

    ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

    মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম

    এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
    গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

    ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

  • শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ; শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ; শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

    গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্যে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন।

    এ মামলায় বর্তমানে নয় আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ জনের নিহতের প্রমাণ পেয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালে ৫ মে দিনভর হেফাজতের সমাবেশ শেষে রাতে শাপলা চত্বরে জমায়েতে নৃশংস হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৫ আগস্টের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক আগামীকাল

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক আগামীকাল

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক হবে।

    আগামীকাল বেলা ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ে সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

    গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। ওই দিন দুপুরে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর জমা দেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি তাঁর গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা—বিশেষ করে, ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের জটিল রোগ শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

    স্পিকারের উদ্দেশে লেখা পত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। আগে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও সম্পন্ন হয়েছিল।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরদিন ২৫ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেটি নির্ধারণ হবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথাসময়ে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মির্জা ফখরুল বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। একবার নয়, বিএনপি পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। এ সরকার কৃষিবান্ধব ও জনগনের সরকার। বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সেভাবে গড়ে উঠেছে।

    এর আগে, সকালে তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

    এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

  • আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

    আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

    ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী, এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্ত সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে।

    রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়, তারা জামায়াতি (ইসলামপন্থি) মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

    গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

    এ ঘটনার পর সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

    এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।

    এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ উলফের মেন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দলটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং তাদের অন্যান্য দাবির প্রতি সরকারের সম্মতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

    নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

    বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গড়ে তুলেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমতাভিত্তিক সুশাসন ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরনের নেতৃত্বে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা কার্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল আগামী ৮ আগস্ট ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিতব্য ‘এসডিজি স্থানীয়করণ বিষয়ক জাতীয় প্রচার অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। কায়সার কামাল আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান এবং প্রতিনিধিদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বৈঠকে কায়সার কামাল বলেন, দেশে নারী উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সমতা, সুশাসন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যা এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

  • সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী

    সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

    তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

    রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।

    তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

    তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

    উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

    তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

    তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

    এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

    তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

    তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

    তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

    তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

    ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

  • শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

    রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শেকৃবির উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের প্রত্যাশা নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না।

    রোববার সকালে চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুরস্থ কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবি আরও জোরালো করবো। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। আমরা জানি না বর্তমান সরকার এ বিচার করবে কি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন।”

    কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, জেলা নেতা মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার উপজেলা আমির মোস্তফা উদ্দিন, নায়েবে আমির আবুল খায়ের, পৌর আমির জমির হোসাইন, নায়েবে আমির সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, সেক্রেটারি ছাদ উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি রুকন উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।

    সাংবাদিক এটিএম তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর তৎকালীন সিলেট ব্যুরো প্রধান এবং দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণআন্দোলনের সময় সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

    উল্লেখ্য, শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারতের আগে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নানা মাস্টার জোয়াদুর রহমান, প্রবীণ জামায়াত কর্মী মুহুরী আব্দুল খালিক এবং লেখক ও গবেষক আব্দুল হাকিম তাপাদারের কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

  • সবকিছু পর্যালোচনা করেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সবকিছু পর্যালোচনা করেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার । সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর এতটুকু ভরসা রাখতে হবে।

    রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পিরোজপুরে এলজিইডির প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

  • মঙ্গলবার থেকে অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    মঙ্গলবার থেকে অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    মঙ্গলবার থেকে বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই হবে বঙ্গভবনে তার নিয়মিত অফিস কার্যক্রমের সূচনা।

    বিষয়টি জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

    জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বঙ্গভবন থেকেই রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তার সরকারি আবাসস্থল হিসেবে থাকবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবন। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সেখান থেকে বঙ্গভবনে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বঙ্গভবনে তার কার্যালয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

    এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি বঙ্গভবনে অফিস করলেও স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন। একই সঙ্গে সংসদ প্রাঙ্গণে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার আদলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে বঙ্গভবনেই সম্পন্ন করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

  • হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন

    হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন

    রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখলের সংস্কৃতিতে ভাটা পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে ও প্রতিবাদ করতে পারছেন। তবে ক্যাম্পাসে নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের পুরোনো সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বটতলায় বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আখতার হোসেন বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন কথা বলার পরিবেশ ছিল না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে সরব হতে পারছেন, যা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো হল দখলের রাজনীতি করবে না। বরং কেউ যদি হল দখল করতে আসে, তাহলে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাই সবার আগে প্রতিবাদে সামনে দাঁড়াবে। শিক্ষার্থীদের হল শিক্ষার্থীদের কাছেই থাকবে এবং ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

    তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা আবারও ভয় ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের মতো পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

    আলোচনা সভায় সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-কে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন প্রতীকই নন, তিনি ব্যাংক লুটের সঙ্গেও জড়িত। ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিদেশে বাড়ি করেছেন এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করেছেন। এমন একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিদেশে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য স্পিকারের কাছে সময় চাওয়া হবে: ইসি সিনিয়র সচিব

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য স্পিকারের কাছে সময় চাওয়া হবে: ইসি সিনিয়র সচিব

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য স্পিকারের কাছে সময় চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সেই মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আজ রোববার (২৬ জুলাই) সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র সচিব অনির্ধারিত বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তফসিল ঘোষণার পরবর্তী কার্যক্রম ঠিক করতে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

    নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। যার জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। যার ভিত্তিতে ইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা করবে। এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এসব বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি বৈঠক করবে।

    সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার সাক্ষাতের জন্য স্পিকারের দপ্তরে চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশন।

    রেওয়াজ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন কায়সার কামাল। এর আগে ২০০২ সালে তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার সরকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা গেলে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির হন তৎকালীন সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ, পরে তিনি দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হন। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী।

  • ঢাকার দুই সিটি দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করতে বলল জামায়াত

    ঢাকার দুই সিটি দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করতে বলল জামায়াত

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ঢাকায় সুন্দর নির্বাচন হলে সারাদেশে তার প্রভাব পড়বে। এজন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম সহ যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর নির্বাচন আগে করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে বুঝতে হবে সরকার জনগণের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে।

    রোববার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মহানগর উত্তর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এ ধরণের কোনো চিন্তা যেন কেউ না করে।

    রাজধানী ঢাকায় চরম নাগরিক দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রমাণ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক, সন্ত্রাসে মানুষ অতিষ্ঠ। সরকারের নিয়োগ দেয়া প্রশাসকরা এসব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ। তারা নাগরিক সেবাবে পুরানো ধাচেই চালাচ্ছে। অথচ আমাদেরকে তিন মাস সময় দিলেই ঢাকার চিত্র পাল্টে যেতে পারে।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিক সেবামূলক নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা নাগরিক সেবা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা সহায়তা, কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্নতা, দরিদ্রদের সহায়তা, মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন সহ বহু কর্মসূচি পরিচালনা করছি। যদিও সেগুলোর তেমন কোন প্রচার নেই।

    জলাবদ্ধতা ও ময়লা সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাঠে নেমে আন্দোলনের ঘোষণা দেন সেলিম উদ্দিন। পাশাপাশি নাগরিক সেবা উন্নত করা এবং দালালচক্র নির্মূলেরও দাবি জানান তিনি।

    জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার জুলাই বিপ্লবের প্রধান স্টেকহোল্ডার না হয়েও তারা প্রধান বেনিফিশিয়ারি। অথচ তারা এখন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তালবাহানা করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ন্যায়-বিচারের চেতনাও আছে। তাই জুলাইকে বাদ দিয়ে সরকারে থাকা বা রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

    তিনি সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ব্যাংকের শেয়ার জালিয়ারির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের এই দোসরের আগেই সরাতে বলেছিলাম। কিন্তু সরকার তাকে সরায়নি। এখন যেভাবেই হোক তার পদ্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তবে আমাদের দাবি হলো-তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত যেন বাইরে যাওয়ার সুযোগ না দেয়া হয়। প্রয়োজনে সব হাসপাতাল মিলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

    ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় মতবিনিময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কর্মপরিষদ সদস্য হেমায়েত হোসেন ও জামাল হোসেন প্রমুখ।

  • জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।

    আজ রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। পরে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটে মোটর শোভাযাত্রাসহ তিনি স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন।

    এ সময় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে গতকাল শনিবার থেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।

    তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ফলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।

  • সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

    জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

    নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

    আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’

    সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।

    এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’

    এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’

    পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

  • সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

    এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

    তারা আরও জানান, আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন- সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহায়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন সেজন্য তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম। আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগের আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

  • হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    হাসিমুখে বঙ্গভবন ছেড়েছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রবিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে যান।

    মো. সাহাবুদ্দিন এখন তার গুলশানের বাড়িতে উঠবেন বলে জানা গেছে।

    বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শনিবারই বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার অপরাহ্ণে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির পদকে বিদায় জানান মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগে সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও জাতীয় সংসদে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন হাফিজ উদ্দিন। তবে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করবেন।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সম্ভব হবে।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ অধিবেশন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে তারা।

    এ বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাসের মেয়াদে আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি এই তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ পড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি মনোনীত হওয়া থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত নানা কারণে রাজনৈতিক আলোচনায় ছিলেন তিনি।

  • হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়নে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ শুনতে চাই না

    হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়নে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ শুনতে চাই না

    বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের হ্যাঁ-কে আমরা অপমান করতে দেবো না। হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাই পানাই শুনতে চাই না।

    তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষের একই দাবি- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে। বংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ আমরা চাই না।

    শনিবার বিকেল সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই হাঁটা শুরু করেছেন। তারা সকল পর্যায়ে দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন। আমরা এটি মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন জনগণ তাদেরও তাড়াবে।

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। আমরা আমাদের জুলাইযোদ্ধা, জুলাইশহীদ ও ১৮ কোটি মানুষের সাথে বেঈমানি করব না। আমরা কথা রাখব। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব।

    সিলেটবাসীকে পরবর্তী আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, ঢাকার জন্য ডাক আসবে। প্রস্তুতি নিন। ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। আমরা থামব না, বলেন তিনি।

    সিলেটের বঞ্চনা ও ভোগান্তি তুলে ধরে সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সিলেটের কিছু ন্যায্যদাবি ঝুলে আছে যুগ যুগ ধরে। সিলেট এমএ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন। অবিলম্বে সিলেটের ৬ লেনের রাস্তা সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেয়া হোক। সিলেটের দীর্ঘ দিনের দাবি- এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি হবে। কলেজটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন? এটিকে ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তর করে প্রাণ দেয়া হোক। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামে মাত্র একটি ঘর, আর একজন ভিসি। এর বাইরে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে এটাকে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হোক, বলেন তিনি।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু দুঃখের সাথে দেখতে হচ্ছে- সেই সরকার গণভোটে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে। বিএনপি যদি জুলাই, তরুণদের ভুলে যায়, ১৪শ’ শহীদকে ভুলে যায়- তাহলে এর পরিণতি বিএনপিকে বরণ করতে হবে, সতর্ক করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি সংস্কারকে ভুলে গেছে। তারা এখন শুধু সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। কিছু দালাল বুদ্ধিজীবীই বলছে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, সরকার সংস্কার না করলে জনগণের মাঝে যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারবেন না। জুলাই সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, বলেন নাহিদ।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ আরও বলেন, বিএনপি দেশের নির্বাচন কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে। যার কারণে আমরা যে উন্নতি চেয়েছিলাম- তা হবে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না কবরলে এই সরকারকে আর আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। যদি জুলাই সনদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এই সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। সেজন্য গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে তাকে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। সরকারি দল বা ১১ দলের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ বাটোয়ারার জন্য নয়। যতদিন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। নেতাকর্মীরা হত্যা, খুন গুমের শিকার হয়েছে। আমাদের ভাইয়েরা জুলাই বিপ্লব, শাপলায় রক্ত দিয়েছে। অনেক ভাই-বোনেরা চিরদিনের জন্য পঙ্গত্ববরণ ও চোখ হারিয়েছেন।

    সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই, আপনারাও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন। আমরা আপনাদের বন্ধু মনে করি। আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই। যে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন, যদি সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করেন, তাহলে আপনাদের ঘাড় ধরে ধাক্কা দিতে আমাদের বাঁধবে না। গণভোটের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি করেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেন- তাহলে আপনাদের পরিণাম শেখ হাসিনার মতো হবে।

    মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে নিন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করুন। গণভোটের গণরায়ের আলোকে গণপরিষদ গঠন করুন। তা না হলে আন্দোলন করে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। আমাদের আন্দোলন ৩০ হাজার আহত জুলাইযোদ্ধার অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

    এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকেও বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বিচার ও সংস্কার। কিন্তু গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, আপনারা নির্বাচন নিয়ে যতটা আগ্রহী ও তৎপর ছিলেন, বিচার ও সংস্কারের ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। শুধু জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট বা গণরায়ের কথা বললেই হবে না। জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর করা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে হবে। জনগণ জানতে চায়—যে দল নিজের প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারে না, তাদের ওপর জনগণ কীভাবে আস্থা রাখবে?

    লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে এবং নির্বাচনে প্রকৌশল করে অনেক প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ডা. হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকার যদি মনে করে থাকে যে, তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তাহলে তারা ভুল করছে। অতীতের সরকারগুলোও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু জনগণের আন্দোলনের মুখে তা সম্ভব হয়নি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

    জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা ৫ মাসে জাতির জন্য কিছু করতে পারে না, তারা আগামী ৫ বছরেও কিছুই করতে পারবে না। আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর দেখতে চাই না। ভারতের নির্দেশে ইলিয়াস আলীর মতো আর কাউকে গুম হতে দেখতে চাই না। টিপাইমুখ বাঁধের কারণে সিলেটের জনগণকে আর বঞ্চিত হতে দেখতে চাই না। ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করা হবে।

    নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জনগণের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারবে না। জনগণ যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল, ভবিষ্যতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা হলে- তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আগামী দিনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা মানতে না চাইলেও তারা ১৯৯৬ সালে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিএনপি ২০০৪ সালে আবার জাতির সাথে প্রতারণা করে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করেছিল। ফলে এক-এগারোর সরকার এসেছিল। বিএনপির এই গোয়ার্তুমির কারণেই জাতি ১৭ বছরের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়েছিল। একইভাবে বিএনপি আবার গণভোটের রায় না মেনে জাতিকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, জনগণের রায় অস্বীকার করা যায়, কিন্তু সে রায়ের ফলাফল মেনে না নেয়ার পরিণতি অস্বীকার করা যায় না। ক্ষমতা বদলায়, চেয়ার বদলায় কিন্তু জনগণের রায় বদলায় না। সময় থাকতে গণরায় মেনে নিন।

    সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ তখনই সম্ভব হবে, যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব হবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, বিএনপির না। আপনি দালাল, চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করে সংস্কার বাস্তবায়ন করুন। প্রয়োজনে ১১ দলের নেতাদের সাথে কথা বলেন। জাতিকে মুক্ত করেন।

    তিনি বলেন, জনগণ যে সংস্কার চায় সেই সংস্কার করেন। আপনি বাংলাদেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন। আপনি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি। আপনাকে ভুলপথে পরিচালিত করছে। আপনি বাহিরে থাকায় আপনি বাস্তবতা এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমাদের সরকার পতনের এক দফায় ধাক্কা দিবেন না। সংস্কারগুলো সংসদের মাধ্যমে পাস করে দেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জনান।

    বিভাগীয় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মো. সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (জাগপার) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহনগরীর সভাপতি জিয়াউল আনোয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট জেলা সভাপতি জুনায়েদ আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরীর সাবেক নায়েবে আমির হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিলেট মহানগরীর আমীর মাওলানা মোজ্জামেল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইকবাল হুসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সিলেট মহানগরীর সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট মহানগরীর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজু।

  • ধর্মেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসে উত্থান:প্রশ্ন ফাঁসে পতন!

    ধর্মেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসে উত্থান:প্রশ্ন ফাঁসে পতন!

    ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, ঠিক তেমনই এক ঘটনা প্রায় তিন দশক আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত করেছিল। ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমেই মূলত রাজনীতির মাঠে বড় পরিচিতি পান তিনি।

    সে সময় ওড়িশার কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী জনকী বল্লভ পট্টনায়কের সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন এবিভিপির ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে রাজনীতিতে আসা তরুণ প্রধান উৎকলে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পাশাপাশি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

    সে সময় ভুবনেশ্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের লাঠিচার্জে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। ক্যাম্পাস রাজনীতির সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুলিশের দমনপীড়ন পেরিয়ে তার এই লড়াকু মানসিকতাই পরবর্তীতে তাকে বিজেপির মূল স্রোতের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে দেয়।

    ছাত্র রাজনীতির সেই কণ্টকাকীর্ণ পথ থেকেই ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০২১ সালে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশায় বিজেপির ভিত্তি শক্ত করার পেছনেও তার দীর্ঘ সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার হাত ধরে ২০২৪ সালে সেখানে দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

    আর আজ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই একই ধরনের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং তার জেরে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার পরিস্থিতি ১৯৯৭ সালের সেই পুরোনো ইতিহাসকে ফিরিয়ে এনেছে সামনে। যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এককালে নিজে রাস্তায় লড়েছিলেন তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান, আজ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঠিক একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের জেরে তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।

  • ‘হ্যাঁ’ ভোট বাস্তবায়নে ধানাইপানাই চাই না-জামায়াত আমির

    ‘হ্যাঁ’ ভোট বাস্তবায়নে ধানাইপানাই চাই না-জামায়াত আমির

    ‘‘নির্বাচনের সময় সবাই জনগণের কাছে ভোট চাইতে গেছে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটে সমর্থন দিয়েছে। তাই এখন সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কোনো ধানাইপানাই চাই না।’’ আজ শনিবার নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বললেন এমনই।

    তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে যান, তাহলে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে। আমরা জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করব না। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। জনগণের পাশে থেকে আমরা আমাদের আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।’

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট।

    এ সময় সিলেটের রাস্তাঘাট নিয়ে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন, ‘সিলেটের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে নড়াচড়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো কিনারা লাগছে না। সমুদ্রের ঢেউ দেখতে সমুদ্রে যেতে হবে না, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে গেলেই তা দেখা যাবে।’

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

    বিশেষ অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক তার বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

    এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সিলেট জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায় জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত দলগুলো। সমাবেশে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমাগম দেখা যায়।

    এর আগে শুক্রবার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বললেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।

  • বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির বাইরে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে অতীতে তারা পড়েছিলেন সংকটের মুখে। দলের নেতারা উদাহরণ টানলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বিদায় নিয়েছিলেন চাপের মুখে। এতে করে পথ প্রশস্ত হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যায় বিএনপি। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত সতর্ক বিএনপি।

    দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব পর্যায়ে অভিমত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের নীতি-আদর্শ-দর্শন ধারণ করেন, রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম— রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ‘সবুজসংকেত’ পেয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার চাইছিল যে তিনি পদত্যাগ করুক। কেননা, গত কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যেটা দৃশ্যমানও হয়।

    সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিতের রেওয়াজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন— এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। তাই অনেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা বলছিলেন।

    বিএনপির ভেতর থেকে কেউ কেউ বলছেন, গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি (সদ্য সাবেক) মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, তখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মারফতে ওই ফোনালাপের বিষয়টি সরকারের কাছে চলে আসে, যেটাকে গুরুত্বসহকারে আমলে নেয় সরকার। এরপরই মূলত সরকার থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ধারণা, সেই সূত্র ধরেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন ওই ফোনালাপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন।

    অনেকের ধারণা, ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যে মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর তাদের যে আস্থা ছিল, ওই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চিড় ধরেছে তাতে। তবে এটাও ঠিক, মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেটি তিনি উল্লেখও করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাদের বাইরে থেকেও চমক আসতে পারে। সেটি একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বললেন, ‘সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। এতে করে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

    ‘রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন’— যোগ করেন নূরুল ইসলাম মনি।

  • নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর আওতাধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচিত প্রার্থী ২ হাজার ৭২০ জন। এই প্রার্থীরা ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনাবলি

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তী সময় আবেদনকারীর মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে জানানো হবে। এ ছাড়া ফলাফল–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

    ফলাফল দেখুন এখানে https://asset.ecs.gov.bd/media/uploaded_files/notices/2026/07/3167fcab-6b03-401a-a09e-abcccd17a5ba.pdf

  • ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ‘একবারে চোখ তুইল্লালবাম’—খেলাফতের এমপিকে বিএনপির কর্মীর হুমকি

    ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। হুমকির একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিওতে তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গালাগাল করতে এবং তাঁকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বিএনপির নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আন্দোলন করো এমপি সাব? ওই যে ওয়াহাবি এমপি সাব, রাজাকারের বাচ্চা। আজকে কইতাছে তারে বুলে পিটাইছে মোতাহার তালুকদারের লোকে। এই…মোতাহার তালুকদারের লোকে পিটাইলে তুই এলাকায় থাকতারবি? এলাকায় আন্দোলন করো? রাস্তায় না, আন্দোলন…দেয়াম। দেশটা ভালোভাবে চলতাছে, তোর সহ্য হয় না রাজাকারের বাচ্চা? এই সরকার খারাপভাবে চালাইতাছে দেশ?’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরে মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

    ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।

    মুহাম্মদুল্লাহ, সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)

    বিএনপির কর্মী সোহরাব হোসেনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘দেশের মধ্যে কত সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব, অন্য দেশে যুদ্ধ চলতেছে—এসব বাদ দিয়া তুই আন্দোলন করস। আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরে যাইতে দিতাম না। তুই এমপির যোগ্য? তোরে এমপির মতো লাগে? রাজনীতি করতে সবকিছু মিলায়া যোগ্যতা লাগে। রমজান মাস আইলে টুপি পইরা দাওয়াত খাইছস, এখন এমপি হইয়া গেছস। ভোট চুরি কইরা নির্বাচন কইরা এখন আবার আন্দোলন মারাও? তোমারে কেউ কিছু করতে পারবো না?…দেখছস কী, একবারে চোখ তুইল্লালবাম…। আজকে লাস্ট কথা কইয়া দিলাম—আর কোনো দিন যদি লাইভে আইয়া তালুকদারের বিষয়ে কথা কইছস, তোর অবস্থা খারাপ কইরালবাম।’

    স্থানীয়রা জানান, সোহরাব হোসেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী। তাঁর বাড়ি রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে। ভিডিও বার্তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোহরাব হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেনছবি: প্রথম আলো

    হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ। তাঁরা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য, ‘জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। উসকানি দিয়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।’

    সংসদ সদস্যকে হুমকি বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নন; সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি ভিডিওটি ডিলিট করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমন আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। আমি এ ধরনের আচরণ অ্যালাউ করি না। যে কেউ হতে পারে, আমার শত্রু হতে পারে—তার ব্যাপারে এমন কথা কেন বলবে? ভিডিও না মুছে ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে জানিয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী আজ শনিবার বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

    অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বঙ্গভবনে, তবে বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনে। আজ শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    এরই মধ্যে সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জিয়ারত করবেন।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

    দলের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাঁকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াতের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।

    নেতাদের সাবধান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ ভাসে বেশি। সাবধান, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।
    প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশি সংবিধান কচলাবেন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।

    ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

  • সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকা শক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতিমধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

    আজ শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ এর আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর।

    সেমিকন্ডাক্টরকে চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, মুঠোফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুযোগ আছে। তাঁর বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর বিতরণপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ ঢাকার নভোথিয়েটারেছবি: বাসস

    আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’—প্রতিপাদ্যে দুই দিনের এ সামিটের আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ।

    সামিটের পাশাপাশি আয়োজিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

  • বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কাজ, স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কাজ, স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে তিনি বসবাস করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই।

    শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।

    এদিকে, সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুক্রবার বিকাল থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি সম্পর্কে শায়রুল কবির খান জানান, আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জিয়ারত করবেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর ভূমিকা এবং বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

    একই সঙ্গে তিনি নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব পালনে সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

  • রাষ্ট্রপতির নাম ঠিক করা হবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে: মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতির নাম ঠিক করা হবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে: মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।

    বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

    সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বাইরে থেকে কাউকে নয়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় এসেছে।

    দলীয় সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন বাস্তবতা ও শারীরিক সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় সম্ভাব্যদের তালিকা এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়েছে। এ অবস্থায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির একটি অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে।

    তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।

  • রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে’: জামায়াত আমির

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে’: জামায়াত আমির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেরিতে হলেও জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    একইসঙ্গে তিনি নিরপেক্ষতা, সততা ও সংবিধানসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন না। তিনি একসময় স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেয়া শপথের লঙ্ঘন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ছায়া সরে গেল।

    তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ দায়িত্ব পালনে জামায়াতে ইসলামী তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা চাই, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এমন কেউ হোন, যিনি কোনো তোষামোদকারী নন।

    এসময় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যায় তিনি নীরব সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের না

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের না

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান লড়াইয়ের মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির মধ্যস্থতায় দেওয়া এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

    শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহরান সফরকালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব নিয়ে যান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবটির বিস্তারিত বিবরণ জানা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এটিকে এই মুহূর্তে বিদ্যমান একমাত্র প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তেহরান প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ এতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান রাখা হয়নি।

    তবে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিষয়টি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফর

    গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সফর। সফরকালে তিনি এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    ইরানি কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়াও উভয় সরকার বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও আঞ্চলিক ইস্যুতে বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইরানের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আল-জাইদি ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন।

    বৃহত্তর সংঘাতের শঙ্কা ও সামরিক পরিস্থিতি

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি তেহরান বা দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানি কর্মকর্তারা।

    দু’জন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, এ ধরনের কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান সমগ্র অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে। এর অংশ হিসেবে সরাসরি ইসরাইলের তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে।

    এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার ভোরে টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

    অন্যদিকে বুধবার ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব ধারাবাহিক হামলায় দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হামলায় আরও অন্তত ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।

  • মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণাকে ‘ফাঁপা প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানসহ একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হবে। সেইসঙ্গে এ ধরনের মামলার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি । এর পরিপ্রেক্ষিতেই কেজরিওয়াল এই মন্তব্য করেন।

    একটি ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘গত রাতে ১২টার সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সোমবার সংসদে একটি বিল আনা হবে, যার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। এই আশ্বাস কতটা ফাঁপা, তা গতকালই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’

    কেজরিওয়াল বলেন, ‘২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের মূল হোতাকে সিবিআই আদালতে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।’

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি এ ধরনের তদন্তই করতে হয়, যদি আদালতে দেখানোর মতো কোনো প্রমাণই না থাকে, তাহলে দ্রুত বিচার আদালতের (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) নাটক কেন?’

    দিল্লির সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ

    শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের তথ্য জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসসিনক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রধান করা হলো।’

    তিনি বলেন, ‘সংবিধানে, ইতোমধ্যেই আপনারা হয়তো জানেন, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকার সাহেব, তিনিও যখন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেন, তখন বলা থাকে, যখন প্রয়োজন হবে কোনো কারণে স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    ৫টায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন স্পিকারের

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল পাঁচটায় এই সংবাদ সম্মেলন হবে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    স্পিকার আজ শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান।

    দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবেন না করবেন, তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।’

    সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। আর গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’

    রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ট্র্যাডিশনাল বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের পজিশন।’

    ১৯ জুলাই স্পিকার ঢাকা থেকে ব্যাংককে যান চিকিৎসার জন্য। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফিরলেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।

    কয় দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায়। তিনি আজ-কালের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

  • গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি: বঙ্গভবন

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। স্পিকার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন

    আজ বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামের রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    রাষ্ট্রপতি আরও লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

    আরও পড়ুন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

    দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

  • ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    ‘আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান’— পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

    পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

    এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে।

    আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রবিবার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

  • পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

    পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’

    তিনি লেখেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

    পদত্যাগের কারণ নিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

    সবশেষে তিনি লেখেন, ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

    প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল।’

    প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার, পরে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয় : শফিকুর রহমান

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়। আমরা মানুষ, আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়। আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলেছি, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের রুকন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, আমরা দাবি করি না যে আমাদের কোনো ভুল হয় না। বরং আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আমরা তা সংশোধনের চেষ্টা করব। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত কোনো ছাড় দেয় না।

    দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সাদা কাপড়ে যেমন সামান্য দাগও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি একটি আদর্শিক দলের কর্মীদের সামান্য বিচ্যুতিও মানুষের নজরে আসে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কিন্তু অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও দল পিছপা হবে না।

    তিনি বলেন, শয়তান সবসময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই নেতাকর্মীদের সব বিষয়ে সৎ ও নৈতিক হতে হবে। নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত হলে সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, প্রত্যেক যুগেই কিছু অপরাধপ্রবণ মানুষ ছিল। সে কারণেই যুগে যুগে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করি। তারপরও ধানের মধ্যে যেমন চিটা থাকতে পারে, তেমনি সমাজ বা সংগঠনের মধ্যেও ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণ-আন্দোলনের চেতনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রভাব ফেলছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। একটি গণরায়ের ফল মেনে নিয়ে আরেকটি অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    তিনি বলেন, যদি সংসদে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে জনগণ রাজপথেই সমাধান খুঁজে নেবে—যেমনটি ২০২৪ সালে হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংবিধানকে অতিরিক্ত টানাটানি করবেন না। আমরা দেখতে চাই সরকার জনগণের রায়কে সম্মান জানায়। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে খুন, সন্ত্রাস ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যদের বিষয়ে যতটা সক্রিয়, নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে ততটা মনোযোগী নন। তিনি যেন নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গুরুত্ব দেন এবং দেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

    পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়ে কথা বলবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই মধ্যে সংসদে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল।

    দুদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করা হয়নি। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। আজ দুপুরের দিকে নির্ধারিত সফরসূচির দুদিন আগেই দেশে ফেরেন তিনি।

  • মন্ত্রিসভায় ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের খসড়া অনুমোদন

    মন্ত্রিসভায় ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের খসড়া অনুমোদন

    বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে পরিকল্পিত আধুনিক নগর গড়ে তুলতে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতে নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল বা ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

    এজন্য ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য হলো বগুড়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রতিরোধ, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা।

    খসড়া আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করা হবে। কর্তৃপক্ষ গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। আইনে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ল্যান্ড রিডজাস্টমেন্ট (ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ভূমিমালিকের সম্মতিতে) এবং ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্টের মতো আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া অননুমোদিত নির্মাণ, জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি নির্ধারণ, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষার ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন–২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা কাঠামো প্রণয়ন করবে কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনার বাইরে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া ভবন নির্মাণ কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণও নিষিদ্ধ থাকবে।

    আইনে কর্তৃপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি আদায়, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষা পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দু’দিনের সরকারি সফরে ইরানে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেহরান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদিনেজাদেহ। পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠক করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে জাইদি তেহরানে গেছেন বলে ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আব্বুদ জানিয়েছেন।

    সফরকালে জাইদি ওই অঞ্চলের ‘উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ইরানের কাছ থেকে গ্যাস আমদানিসহ বেশকিছু বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বৃহস্পতিবার নতুন নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

    তিনি বলেন, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর নতুন নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস অ্যাডমিরাল মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীমকে গত ১৬ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

    তিনি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের ছাত্র মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন পান।

    চাকরি জীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ডেন্টের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

  • ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা আড়াইটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

    এই সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সিলেট বিভাগ জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এই আহবান জানান।

  • জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনা হয় তাকে। সেখানে প্রসিকিউশনের আবদনের প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এক এগারোর সরকারের বির্তকিত কর্মকাণ্ড থেকে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে নানা অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

    এর আগে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  • তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
    তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তাদের জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলে ঢাকা আশা করে।

    এ সময় আগামী ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্ভাব্য ঢাকা সফরের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমান সরকারের আমলে আরও জোরদার হচ্ছে। আসন্ন সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।

    এ ছাড়া প্রেসিডেন্টকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো তথ্য সত্য প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে।
    পাসপোর্টের অবনমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান কমেনি। বিভিন্ন দেশে ভিসা-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। অবৈধ অভিবাসন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

    সাবেক এই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুকসেদুর রহমান আবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    এর আগে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেই।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে, স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে, তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকায় যা দেখছেন, সেটাই দেখছেন। যদি এমন কিছু ঘটে, তখন আমরাও দেখব।’

    রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে চলা গুঞ্জনের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনিই তো বললেন, এটি গুঞ্জন। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই।’ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তাঁকেই (রাষ্ট্রপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় তিনি অপমানবোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর দুঃসময়ে বিএনপি শতভাগ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল।

  • দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে। তিনি দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্রময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

    ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

    সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

    তারেক রহমান বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

    তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি।

    তিনি বলেন, তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।

    তারেক রহমান বলেন, তাই আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।

    একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি।

    এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

    ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ’ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

    সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।

    তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।

    প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

    সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

  • পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

    • অসুস্থতাকে পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে।
    • বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।
    • সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে সরকার ও দলে আলোচনা।
    • পদ শূন্য হলে স্পিকার সাময়িক দায়িত্ব পালন করবেন।
    • ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

    সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

    বঙ্গভবন

    মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

    রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

    এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

    যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে

    সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

    এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

    সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়েই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। দুদকের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই দুটি ব্যাংকের মালিক ছিল আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। ব্যাংক দুটিতে তখন সবচেয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়।

    তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    ইসলামী ব্যাংকের পদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা ছিল। তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়েন কি না, তা দেখতে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা সময় নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

  • ধর্মেন্দ্রকে কেন বরখাস্ত করছে না মোদি

    ধর্মেন্দ্রকে কেন বরখাস্ত করছে না মোদি

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে ছেঁটে ফেললে আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ যদি শান্ত হয়, তিনি পদত্যাগ করলে বিরোধীরা যদি সংসদ সচল রাখে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তা মানতে অসুবিধা কোথায়? কেন এই দাবি, যা ছাত্রসমাজ এক মাস ধরে জানিয়ে আসছে, বিরোধীরাও যে দাবিতে সরব হয়েছে, সেটা মানতে প্রধানমন্ত্রীর এত অনীহা কেন? কেন সরকার এই সমঝোতায় রাজি নয়?

    এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। আলোচিত হচ্ছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের গুরুত্ব নিয়ে। কী এমন শক্তি তাঁর, কেন তিনি এত অপরিহার্য যে তাঁকে অপসারণের দাবি সরকার মানতে চায় না? বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা যাক।

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম হলো কোনো রকম চাপের কাছে মাথা না নোয়ানো। এই ১২ বছরের শাসনে মোদি সরকারকে সবচেয়ে বেশি বিব্রত করেছে কৃষি আইন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি আইন পাস করিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও দিল্লির সীমান্ত অবরোধের কারণে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা প্রত্যাহার করে নেন।

    এই একটি মাত্র নিদর্শন ছাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য যেসব আন্দোলন হয়েছে, যেমন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ, সিএএ, এনআরসি কিংবা সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন—কোনো সিদ্ধান্ত থেকেই সরকার পিছিয়ে আসেনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তাঁদের দাবি নিয়েও তাই আগ্রহ জমছে। জল্পনা শুরু হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।

    এই সরকারের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক মন্তব্য করেছিলেন। ললিত মোদি বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এনডিএ সরকার, ইউপিএ সরকার নয়। এখানে বিরোধীরা চাইলেই কাউকে পদত্যাগ করানো হয় না।’

    সেই থেকে বারবার দেখা গেছে, বিরোধীদের দাবি নিয়ে সরকার আলোচনায় রাজি হয়েছে, তদন্তে রাজি হয়েছে, হয়তো নানা রকম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একবারের জন্যও কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়নি।

    রেল দুর্ঘটনার জন্য রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোকে পদত্যাগ করানো যায়নি। এপস্টিন ফাইলে নাম থাকার দরুন হরদীপ সিং পুরিকে ছেঁটে ফেলা হয়নি। মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটানো হয়েছে বিজেপির শর্তে, বিজেপির পক্ষে উপযুক্ত সময়ে, বিরোধীদের দাবির মুখে নয়।

    শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও তাঁদের দাবি মেনে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছেঁটে ফেললে তাই সেটা হবে মোদি সরকারের চরিত্রবিরোধী। সরকার এখনো এই দাবির মুখে ঝুঁকতে নারাজ। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করে সরকার সংকট মোচনে উদ্যোগী হলে বুঝতে হবে, প্রধানমন্ত্রী দুর্বল হয়ে গেছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটাই হয়ে দাঁড়াবে বিরোধীদের হাতিয়ার। সংগত কারণেই মোদি চান না নিজেকে দুর্বল প্রতিপন্ন করতে।

  • ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    মোদি সরকারের কোনো প্রকার সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। যখনই কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ ওঠে, তা নিয়ে অভিনেত্রীর মুখের আগল খুলে যায়। আরও একবার তার প্রমাণ মিলল শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে।

    গত সোমবার লোকসভা অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাদের। এমনিতেই মাসখানেক ধরে ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে একই দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানে বসেছে। সেখানে অনশন ধর্মঘটে ছিলেন সোনম ওয়াং চুক। সব মিলিয়ে দিল্লি উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। ককরোচ জনতা পার্টি তথা তরুণদের এই প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন একেবারে তাঁর নিজস্ব চেনা কায়দায়।

    এ তথ্যের পাশাপাশি আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বক্তব্য, কে পদে থাকবেন আর কে থাকবেন না, বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা ঠিক করা যায় না।

    সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জনস্বার্থের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা হলো সংসদ। নিট প্রশ্ন-ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি।’

    বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি কঙ্গনার। তাঁর বক্তব্য, ‘জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, সেই সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা ঠিক নয়। সরকার কীভাবে দেশ চালাবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদের রয়েছে। যদি এতই আপত্তি থাকে, তা হলে নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। জানি সেই সাহস কারও নেই। তাই ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।

    বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা।’ এমন বক্তব্যের জেরে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েছেন কঙ্গনা। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ নয় বলেই দাবি করছেন তারা।

  • ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এ দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক- তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন- বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

    তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

    কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।