জাতীয় সংবাদ

  • রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নওগাঁর রাণীনগরে বালতির পানিতে ডুবে সাহানাজ পারভিন শিফা (২) নামে এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    শিশু শিফা আবাদপুকুর বাজার উত্তরপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।

    শিশুর চাচা আব্দুল কাদের জানান, শিশুটির মা বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় শিশু শিফা বাড়ির গোসলখানায় গিয়ে বালতিতে রাখা পানি নিয়ে খেলার সময় উপর হয়ে বালতির মধ্যে পড়ে যায়। এতে সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা গোসলখানায় বালতিতে শিশুর লাশ দেখতে পায়।

    রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে শিশুর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতার

    বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতার

    চলতি বছর বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে কাতারের সমন্বিত জাতীয় তেল ও গ্যাস করপোরেশন ‘কাতারএনার্জি’। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

    সোমবার (০৬ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান।

    তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার মূল কারণ যুদ্ধ। ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি। স্পট মার্কেট থেকে বেশি এলএনজি কেনা যেতে পারে। অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে সুবিধাজনক বাণিজ্যিক বিকল্পই বেছে নেওয়া হবে।’

    বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার। বাংলাদেশে আমদানি হওয়া এলএনজির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীও দেশটি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে।

    বর্তমানে কাতারএনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। এর একটি বছরে ২৫ লাখ টন এবং অন্যটি ১৮ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের জন্য।

    আবদুল মান্নান জানান, নির্ধারিত সরবরাহ কমানো হলেও কাতার কর্তৃপক্ষ যতটা সম্ভব এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে কাতারএনার্জির তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি বছর কাতার থেকে ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল বাংলাদেশ।

    তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে আর কোনো এলএনজি কার্গো আসেনি। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে বিকল্প চালান কিনতে হচ্ছে। মার্চের পর থেকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

  • জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম পাশে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে উথলী রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের ধারণা, তিনি রেললাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং এ সময় দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

    তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

    দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক জানান, লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    উথলী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের

    নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    জাল-ই- ভিসা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উধাও ৭১ যাত্রী

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইট ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত ওই ৭৬ জন যাত্রী ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যায়।

    বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরো অনেক যাত্রী হঠাৎ করে সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন।

    সূত্র আরো জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে ‘ভেরিফায়েড’হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।

    বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরো কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

    বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ফ্লাইটের ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। এরপর আরো পাঁচ যাত্রীকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরো ৬১ জন যাত্রী আর বোর্ডিং গেটেই আসেননি। এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়।

    বিমানের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ বোসরা ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী বিমানের ওই ফ্লাইটে ২৮৮ জন যাত্রী টিকিট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দশজন যাত্রীকে অফলোড করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাঁচজনকে পাসপোর্ট চেকিংয়ের সময় ভিসা সমস্যায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ১০ জনকে ইমিগ্রেশনে আটকায়। ফ্লাইটে ৬১ জন যাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর আরো ৬১ জন যাত্রী যারা বোর্ডিং পাস নিয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডিংয়ের জন্য আর গেটেই আসেননি। শেষ পর্যন্ত ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে সাড়ে ৮টার দিকে ছেড়ে যায় ফ্লাইটটি।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের ৭৬ জন যাত্রী প্লেনে চড়েননি। তাদের রেখেই চলে যায় ফ্লাইট। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জন অফলোড করা হয়েছে।

    বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিছু যাত্রী টুরিস্ট ভিসা নামে মালয়েশিয়ায় কাজ করার জন্য ঢাকা ত্যাগ করছিল। ইমিগ্রেশন পুলিশের বিষয়টি নজরে এলে তারা অফলোড করে।

    অবৈধভাবে বিদেশ যেতে কাগজপত্রে ত্রুটি রেখেই বিনা বাধায় ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেয় একটি অসাধু চক্র। যা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।

    যেসব যাত্রীকে অফলোড করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, আমার কাছে তাদের জাল ভিসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না। বা আরো কতগুলো বিষয় মিলিয়ে সন্দেহের কারণ থাকে।

    বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ৬ থানা নির্মাণ করছে ভারত

    বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ৬ থানা নির্মাণ করছে ভারত

    বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা পুলিশ রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি নতুন থানা, দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং একটি বিদ্যমান পুলিশ ক্যাম্পকে পুলিশ ফাঁড়িতে উন্নীত করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে

    দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাবে।
    রোববার মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং সংবাদমাধ্যমকে এ প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা, কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচন্ডি পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হবিবপুর থানার জাজইল এবং বামনগোলা থানার জগদলা এলাকায় দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইংরেজবাজার থানার অধীন মহদীপুর পুলিশ ক্যাম্পকে পুলিশ ফাঁড়িতে উন্নীত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
    অনুপম সিং বলেছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে জেলায় পুলিশের জনবলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    ভারতের মালদা জেলা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ও বিস্তৃত সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই সীমান্ত অনুপ্রবেশ, গবাদিপশু পাচার এবং মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।
    পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেশটির সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে সহায়তার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে দেশটির সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে।
    অনুপম সিং জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে এবং অনুপ্রবেশ রোধে জেলা পুলিশ বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে হবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকার দীর্ঘ অনাবৃত সীমান্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে একটি নতুন থানা এবং দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
    তিনি বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় গবাদিপশু পাচার, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন হলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে।

  • জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

    জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই কমতি এসেছে।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯.৪২ শতাংশ।খাদ্য মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে।
    অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, অর্থনীতির অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • ক্লিনিকে লেবার রুম বাধ্যতামূলক

    ক্লিনিকে লেবার রুম বাধ্যতামূলক

    অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমাতে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে আগামী শনিবারের মধ্যে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসবকক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

    তিনি আরও জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।

    মন্ত্রী বলেন, মাতৃ ও নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসূতিসেবায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    কর্মশালায় বক্তারা মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ এবং স্বাভাবিক প্রসবের পরিবেশ তৈরিতে মিডওয়াইফদের ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • আত্রাইয়ে ​কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি আওতায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ

    আত্রাইয়ে ​কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি আওতায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ

    নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে সোবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহায়তার লক্ষ্যে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, চারা, সার এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ কর্মসুচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার মোট ২৫০৬ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে উফশী রোপা আমন ধান, হাইব্রিড মরিচ বীজ, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, লেবুর চারা, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (এন-৫৩ জাত), বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা, ডিএপি ও এমওপি রাসায়নিক সার, জৈব সার (গোবর সার) এবং বালাইনাশক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ ও বৃক্ষরোপণের জন্য চারা, খুঁটি, জৈব সার পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে আমরা এই প্রণোদনা দিচ্ছি। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আমরা উফশী রোপা আমনের জন্য ১৮০০ জন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জন্য ২৩০ জন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৪০০ জনসহ মোট ২৫০৬ জন কৃষককে নির্বাচন করেছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার্থে এবার বিনামূল্যে আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ দেওয়া হচ্ছে, যা মাঠ পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও পচন রোধে দারুণ ভূমিকা রাখবে। সঠিক নিয়মে এই উপকরণগুলো ব্যবহার করলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

    আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-০৬(আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজু। তিনও তাঁর বক্তব্যে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দিচ্ছে যাতে কোনো জমি অনাবাদী না থাকে।আমন ধান, হাইব্রিড মরিচ, উন্নত জাতের লেবু ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির যে বীজ, সার ও চারা পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। আমি আশা করি, প্রণোদনা পাওয়া কৃষকেরা আন্তরিকতার সাথে চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাবেন এবং দেশের কৃষি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।

    উফশী রোপা আমন: ১৮০০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার), মরিচ বীজ (হাইব্রিড): ২০ জন কৃষক (প্রতিজন: ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার ও বালাইনাশক),

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি: ৩০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৩০০ গ্রাম বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার), লেবু চারা: ২০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫টি চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার) গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (এন-৫৩ জাত): ২৩০ জন কৃষক (প্রতিজন: ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার, পলিথিন ও বালাইনাশক), এয়ার ফ্লো মেশিন: ০৬ জন কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে ০১টি করে মেশিন প্রদান। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ৪০০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫টি চারা, ৩০ কেজি জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি)।

    উপকরণ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি ও কৃষি অফিসার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং মাঠ পর্যায়ে যেকোনো সমস্যায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, এসময় উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পি.এম কামরুজ্জামান এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মীর, আত্রাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরদার প্রমুখ।

    এ এম

  • লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কাউসার আলম মোল্লা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ৬ হাজার ৯৩০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে রোপা আমন ধানের বীজ ও সার, গ্রীষ্মকালীন উফশী ও হাইব্রিড জাতের সবজির বীজ ও সার, হাইব্রিড মরিচের বীজ, সার ও বালাইনাশক, ফলদ ও লেবুর চারা/কলম, জৈব ও গোবর সার এবং বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়। এছাড়া কৃষক-কৃষাণী ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ১০ হাজার ৪৫০টি চারা ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হবে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “এটি আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি উদ্যোগ। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করে যাবে।”

    তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের ঋণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের জন্য সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।”

    কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    এ এম

  • অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে। রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

    নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

    সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

    সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

    বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

    তিনি আরো বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    বেতনের ১০ শতাংশ গরিবদের জন্য সরকারি কোষাগারে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন—মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’

    ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’ উল্লেখ করেন তিনি।

  • ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র ছাড়া ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জরিমানা করেন-ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজি্েস্ট্রট কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবনী বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন), যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক রাকিব ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার ‘তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ১৫ হাজার টাকা এবং নড়াগাতী থানার পাকুড়িয়া এলাকার ‘আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক ফারহানা লাজু জানান, ইউটিউব দেখে যন্ত্রপাতি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পানি বোতলজাত করছেন। তার স্বামী ফার্ণিচারের ব্যবসা করেন। আর ফারহানা লাজু বাড়িতে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ ও মুরগির খামার করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য এসব কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বোতলজাত করে কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।

  • খামেনির জানাজা-পরবর্তী শোকযাত্রায় মানুষের ঢল

    খামেনির জানাজা-পরবর্তী শোকযাত্রায় মানুষের ঢল

    ইরানের রাজধানী তেহরানে আজ সোমবার (৬ জুলাই) লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা-পরবর্তী শোকযাত্রা শুরু হয়েছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকেই শোকযাত্রার নির্ধারিত সড়কগুলো মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির ছবি বহন করেন এবং উদ্দীপনাময় স্লোগান দিতে দিতে জাতীয় ঐক্য ও শহীদ নেতার আদর্শের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

    নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুবকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। শহীদ নেতাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে বিদায় দিতে তারা রাজপথে নেমে আসেন।

    পুরো পরিবেশ ছিল শোক, দোয়া, শোকগাথা ও অশ্রুসিক্ত আবেগে পরিপূর্ণ। এতে দেশটির বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

    তেহরানের এই কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার কোমে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। সবশেষে, বৃহস্পতিবার মাশহাদে জানাজা শেষে তাকে ইমাম রেজা (আ:)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

  • নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে গভীর রাতে পাথর বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুইবোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বড়বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সেতু (১৪) এবং আহত ছোটবোন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু (১২) আহত হয়েছে। তারা স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নলদী গ্রামের কাঁচামাল দোকানি হাফিজুর মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতুু রোববার রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুলে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি হাফিজুল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বসতঘরের উপর আচড়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকের পাথরগুলো সেতু ও মিতুর গায়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

  • গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    র‍্যালি, আলোচনা সভা, উদ্যোক্তা ঋণ, প্রণোদনা চেক ও গাছের চারা বিতরণ

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:
    ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্যোক্তা ঋণ, কিশোরীদের প্রণোদনা চেক এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ নুর উল্লাহ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাম থেকে আগত নারী-পুরুষ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়ন দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দুইজন উদ্যোক্তার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়। একজন মাঠ ব্যবস্থাপককে কমিশন প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজন কিশোরীর হাতে ২৯ হাজার ৪০০ টাকা করে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে উপস্থিত অতিথি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুধীজন এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ পালিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    লাইচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের (২০২৫) ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • ইনক্রিমেন্টের নিয়ম বদলে যাচ্ছে নতুন পে স্কেলে, গ্রেডভেদে বেতন বাড়বে যে হারে

    ইনক্রিমেন্টের নিয়ম বদলে যাচ্ছে নতুন পে স্কেলে, গ্রেডভেদে বেতন বাড়বে যে হারে

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। যদিও এ সংক্রান্ত গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। এরই মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রাথমিক খসড়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানের মতো সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে এবার গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে আরও সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গেজেট জারি হতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

    প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে।

    সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নতুন ইনক্রিমেন্ট কাঠামো নির্ধারণের আগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।

    অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা উচিত। একইসঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হওয়া প্রয়োজন।

    এদিকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও তা কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কয়েকটি ভাতার হার কিছুটা কমানো হচ্ছে। তবে বর্তমানের তুলনায় সব ভাতাই বাড়বে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শুধু নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সরকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রাপ্তি প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন পে স্কেলে ওই গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে ভাতাসহ মোট প্রাপ্তি বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    একইভাবে ১৯তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই বেতন ও ভাতা বাড়বে। তবে সমতা বজায় রাখতে উচ্চ গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ কয়েকটি ভাতা বর্তমানে মূলত ১০ম বা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরাই পান। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নতুন ভাতা কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।

  • জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

    এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।

  • চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

    চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

    অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের বড় বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব চাইছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। একই সাথে তারা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথেও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

    গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যান। এই সফর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিক নির্দেশ করে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর ঢাকার কৌশলগত অগ্রাধিকার পরিবর্তনের আভাস দেয়। প্রথম সফর মালয়েশিয়ায় হলেও, চীনের সফরটিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

    সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার নতুন নির্বাচিত নেতারা প্রথমে ভারতে সফরে যান। তারেক রহমানের চীন সফরকে দিল্লির জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন ভারতের কেউ কেউ। দিল্লি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

    প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং মংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন চুক্তিটি বিশেষ নজর কেড়েছে। বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় থাকা ভারত ও চীন উভয় দেশই এই বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক শীতল হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন। এরপর ডা. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। ভারত তখন উচ্চপর্যায়ের সফর এড়িয়ে চলে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পায়। এরপর তারেক রহমান দায়িত্ব নিলে উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

    তিনি জানান, সীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা দিচ্ছে।

    ১৮ মাস বন্ধ থাকার পরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাস চলাচল আংশিক শুরু হয়েছে। এখন কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস চলছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। তখন ভারত ‘ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার টন জরুরি জ্বালানি পাঠায়।

    গত মাসে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিয়েছেন। দিল্লি তাকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড। এই বাণিজ্য মূলত ভারতের পক্ষে ছিল।

    তবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক যতটা আশা করা হয়েছিল, ততটা সহজ হয়নি। সম্পর্কে এখনো কিছু অস্বস্তি রয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে সমর্থনের কারণে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যাদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে, তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে। এটি ঢাকায় বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলিমকে পুশ-ইন করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের সময় হিন্দু-জাতীয়তাবাদী নেতাদের বাংলাদেশ-বিরোধী মন্তব্য ঢাকায় নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

    সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এসব বিষয় বাংলাদেশে জনঅসন্তোষ তৈরি করেছে, যা ঢাকার চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।’

    গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়। এর ফলে সীমান্তে অবস্থিত এই রাজ্যে তৃণমূলের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে।

    তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের যেকোনো ভূমিকা ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু। ভারত ও বাংলাদেশ এই নদীর পানি শেয়ার করে। তবে পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই পক্ষ তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিকাজের জন্য নদীটির ড্রেজিং ও নাব্যতা ফেরানো প্রয়োজন।

    শ্যাম শরণ বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের কাছে যেকোনো প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা সবসময় উদ্বেগের বিষয়। আমরা এটিকে মোটেও স্বাগত জানাব না।’

    ভারত ও চীনের মধ্যেও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারতের পরাজয় হয়েছিল। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষেও উভয় পক্ষের প্রাণহানি হয়েছে।

    এই প্রকল্পে চীনের ভূমিকা ভারতকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি নিয়ে আসবে। এই ২২ কিলোমিটারের স্ট্রিপটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করেছে।

    বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারগুলো ভারতকে তিস্তা প্রকল্পে যোগ দিতে বলেছিল। কিন্তু দিল্লি সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় নেয়।

    তাদের মতে, চীনের এই বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

    তবে বেইজিং ভারতের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।’

    চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ। বাংলাদেশের মোট অস্ত্র আমদানির ৭০ শতাংশের বেশি আসে চীন থেকে। বেইজিংয়ের কাছে ঢাকার দেনা ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সফরকালে চীন ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি চীনের ইউনান প্রদেশকে দুই দেশের সাথে যুক্ত করবে।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়াকে নিজের প্রভাব বলয় মনে করে। তবে চীন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে তার অবস্থান বাড়িয়েছে। নতুন সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানের কারণে। ঢাকা তার প্রত্যর্পণ চাইছে। ছাত্র আন্দোলনে শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

    শ্যাম শরণ বলেন, ‘যতদিন হাসিনা দিল্লিতে আছেন, রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানের ভারত সফর কিছুটা কঠিন হতে পারে।’

    তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিবেশী। তাই তারেক রহমান দিল্লি সফর করতে পারেন। ভারতও জানে যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক জরুরি। সেখানে বেশ কয়েকটি জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি

  • খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ৩

    খাগড়াছড়িতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ৩

    খাগড়াছড়ির পানছড়িতে উপজাতীয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি জানান ৩ জন নিহতের খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে।

  • এনসিপির ‌‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু আজ

    এনসিপির ‌‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু আজ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষা’ এই তিন মূল দাবিতে আজ সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে দলটির বিশেষ কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’। রবিবার (৫ জুলাই) দলটির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়।

    এনসিপির এই কর্মসূচিটি দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল- এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরিচালিত হবে। আজ বিকেল ৩টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর আজই সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা জেলার উত্তর সাভারে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় রাত্রিযাপন করবে। পরবর্তীতে ৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেটসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই সকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে ওই দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

    অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রাটি শুরু হবে আগামীকাল ৭ জুলাই থেকে। প্রথম দিনে কক্সবাজারের উখিয়া এবং কক্সবাজার সদরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া এবং মানিকগঞ্জ জেলায় ২৯ জুলাই পর্যন্ত এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাদারীপুরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ৩১ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দল ঢাকার বাংলামোটরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

    এই ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। জুন-জুলাই মাসের এই আন্দোলনটি দেশে ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যুবরাজের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়৷

    এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু।

    রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন তারা।

    ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাৎ। সৌজন্য সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট পাস, বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রত্যাশিত সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

    বৈঠকে বাজেট বাস্তবায়ন এবং এর বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং এর সম্ভাব্য সমাধান ও চ্যালেঞ্জগুলো বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

    বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে স্পেনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় স্পেনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্যও তিনি স্পেন সরকারের প্রশংসা করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    আলোচনাকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্রাজিলকে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে নরওয়ে

    ব্রাজিলকে ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে নরওয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাস্তবতা মেনে নিয়েই আত্মবিশ্বাসী নরওয়ে। দলটির প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেন স্বীকার করেছেন, কাগজে-কলমে ফেবারিট ব্রাজিলই। তবে ফুটবল যে সব সময় হিসাব মেনে চলে না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউজার্সিতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সোলবাকেন বলেন, ব্রাজিলকে হারানো অসম্ভব নয়, তবে তার জন্য নিজেদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে।

    ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। হয়তো আগের মতো এত বড় ফেবারিট নয়। আমরা জানি, ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের আছে। কিন্তু সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’—বলেছেন নরওয়ের কোচ।

    গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের সামনে এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ব্রাজিল। আর সেই পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ব্রাজিলের বহুমাত্রিক আক্রমণভাগকেই দেখছেন সোলবাকেন।

    তার ভাষায়, ‘ওদের আক্রমণভাগে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন সমন্বয় তৈরি করতে পারে। তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে করেছিল। আমরা সেই চাপ কতটা সামলাতে পারি, সেটাই বড় বিষয়।’

    বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পেলে সেটি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হবে বলেও মনে করেন সোলবাকেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটা বড় একটি চমক হবে।’

    ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে পারে আর্লিং হলান্ড ও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বৈরথ। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নরওয়ে কোচ।

    ‘ব্রাজিলের রক্ষণজুটি গাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওস বিশ্বমানের। কিন্তু এটি কোনো ব্যক্তিগত দ্বৈরথের ম্যাচ নয়। শেষ পর্যন্ত এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’—যোগ করেন তিনি।

  • সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

    সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

    সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি(থ্রিডি বা অন্য যেকোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রচারণামূলক উপকরণের নকশায় অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

    পরিপত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে।

  • জুনে সড়কে ৪৩৮ প্রাণহানি, ৩০% নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

    জুনে সড়কে ৪৩৮ প্রাণহানি, ৩০% নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

    গত জুন মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৩৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলছে,জুনে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৭২টি। এতে ৪২৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৬১ জন। নিহতের মধ্যে ৪৪ জন নারী, শিশুর সংখ্যা ৫৬ জন।

    ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে মাসওয়ারি দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীর সড়কে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। এছাড়া মোট দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন; অর্থাৎ ১৩ শতাংশ। এই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন। আর ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

    সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি (৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে ১৯৪টি (৪১.১০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৩.৫৫ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.০৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৬টি (১.২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

    বিভাগওয়ারী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।দুর্ঘটনার প্রধান কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

  • জগন্নাথপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ

    জগন্নাথপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ

    রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জগন্নাথপুরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হুরায়রা ছাদ মাস্টার, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিক মিয়া, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান, জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সালা উদ্দিন মিঠু এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুল ইসলাম সমছুসহ অনেকে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় উপকারভোগী কৃষক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রত্যেককে ৫ কেজি উন্নত জাতের আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সরকারের এ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে আমন ধানের আবাদ বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করা হবে বলে জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিচাষে আরও উৎসাহিত করবে।

    এ এম

  • ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    টানা ৪৭ বছর ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত শেষে অবসরে গেলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ। এ উপলক্ষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাকে এক আন্তরিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, দুটি গরু ও উপহার দিয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৪৭ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে ইমামতি করেছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন ইমাম হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

    বক্তারা আরো বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের ইমাম ও আলেমদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ যেন তার এ খেদমত কবুল করেন এবং সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।

    অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    শেষে বিদায়ী খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’

  • জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু

    বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) নামে জামায়াতের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

    নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি। তিনি উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

    দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাটের মৃত্যু হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল করিম আকন্দ তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগমও আহত হন। তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আব্দুল করিম আকন্দ ভেলুরচক গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

    দুপঁচাচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

  • সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে আটক করে পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    রোববার দুপুরে সচিবালয়ের সামনে থেকে তাকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়রা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।

    এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা-পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সমকালকে বলেন, ‘ভাতসহ বিভিন্ন রান্না করা খাবার ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি করা হচ্ছিল। তাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর ঢাকাগামী চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গঁজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

    সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’
    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ-এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস

  • লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    লালমোহনে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছেন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

    বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া চলমান রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। আর এই পরীক্ষার মধ্যেই চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।

    ভোলার লালমোহনে প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

    রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে।

    মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ, এমরান, শান্ত বলেন, বর্তমানে আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস হলেই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের পড়ালেখায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

    মিজানুর রহমান, আবু তাহের ও নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ভোলাবাসী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে লালমোহনে লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কিন্তু ঠিকমতোই আসছে। তবে বিলেও রয়েছে নানান অসঙ্গতি। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

    বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক আল এমরান, জাহিদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিনই লোডশেডিং হচ্ছে। এই কারণে পরীক্ষার সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসের কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, গত দুই দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন লাইনে ফল্ড হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক করার জন্য। একটানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ছে। বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ার মাটি নরম হয়ে গাছ পরে যাওয়াও একটি কারণ। তাছাড়া এমনিতে কোনো লোডশেডিং নেই।

  • নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সব কটি ম্যাচে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু। আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ই দেখছে মিলু।

    ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের আগুয়ানিল পৌর শহরে মিলুর বসবাস। তার মালিক নাথান পিনেইরো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলের ম্যাচ নিয়ে মিলু ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ভিডিওতে এরই মধ্যে ৫৫ লাখ ভিউ হয়েছে।

    এমন তুমুল সাড়া মেলার পর মিলুর মালিক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে পর্দার পেছনের গল্প এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে কীভাবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা তুলে ধরেছেন পিনেইরো।

    মিলুর মালিক নাথান পিনেইরো দুটি একই রকম প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার রাখেন। সেখানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দুটি দেশের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর নাথান বাটি দুটির মাঝে মিলুকে ছেড়ে দেন। মিলু তখন সেই বাটিটিই বেছে নেয়, যেটির পতাকাবাহী দেশ ম্যাচটিতে জিতবে বলে সে মনে করে।

    মিলু যেন সব সময় ব্রাজিলের বাটিই বেছে নেয়, সে জন্য পাত্রগুলো নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে নাথান গোটা প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখানো হয়।

    বাটিগুলোয় খাবার দেওয়ার পর মিলুর মালিক নাথান সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন, ক্যামেরা ঠিক করেন এবং মিলুকে তার পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য ডাকেন। দৃশ্যটি প্রস্তুত করার সময় রেকর্ডিংয়ের শুরুতেই নাথানকে বলতে শোনা যায়, ‘যেন সবাই দেখতে পারে, এটা কীভাবে কাজ করে।’

    ভিডিওতে মিলুর মালিক উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এই বিড়ালের সাফল্যের হার শতভাগ। জাপান ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের ব্যাপারে মিলুর করা সব কটি ভবিষ্যদ্বাণীই মাঠে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

    ভিডিওর শেষে তিনি জানান, তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কাটছাঁট না করা (আনকাট) সংস্করণ প্রকাশ করবেন, যাতে অনুসারীরা পাত্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে প্রাণীটির বাটি বেছে নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন।

  • অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় স্যার খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যতদূর শুনেছি, হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যাপকের।

  • হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, এর কঠোর সমালোচনা করেছেন তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

    আজ শনিবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল তাজ এ সমালোচনা করেন। নিচে তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    একজন মানুষের ইগো/অহংকার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমান হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।

    গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ছাত্র/জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি/লুটপাট করে লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছে।

    আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করলে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবধর্মী নেতৃত্বে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ‘আমেরিকা ২৫০’ বিশ্বের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমেরিকান স্বপ্ন, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা গ্রহণ করছে।

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ও উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও গভীর করতে কাজ করে যাবেন।

    বার্তার শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন তিনি।

  • শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    ফন্ট সাইজ:

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব ২৬৯ ও ইলিয়াস কোবরা ২১৬, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত ২৬৬, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু ৩২৩, আলি রাজ ২৯৬, নাসরিন ২৮৯, জেসমিন আক্তার ২৮০, শিপন মিত্র ২৪৮, সুশান্ত ২৩২, রাকা আলম ২২৭, শিরিন শিলা ২২৫, চিকন আলী ২২৪, কাবিলা ২২১ এবং ফরহাদ ২১৬।

    নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কায়েস আরজু, আলি রাজ, জেসমিন আক্তার, শিপন মিত্র, কাবিলা, শিরিন শিলা ও ফরহাদ শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে এবং নাসরিন, সুশান্ত, রাকা আলম ও চিকন আলী আরমান–মুক্তি পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশান।

  • ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, এই অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এই অর্জন দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন।’

    শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে যদি জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, মা গত সতের বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান, আমি তার প্রতিশোধ নিই?।….কারণ সেই প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত আমার মা আমাকে বলতেন—তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইটিকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, তুমি কি চাও তোমার সঙ্গে যে অন্যায় অবিচার হয়েছে, তোমাকে মৃত্যুর মুখ ঠেলে দেয়া হয়েছে, যারা এরজন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই? কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাকে আমি চিনি, আমি জানি। একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার ভাইটিও সেই একই উত্তর দিতো, যে উত্তরটি আমার মা আমাকে দিতেন।’

  • জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় রিপন হোসেন (৫০) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিপন সন্তোষপুর গ্রামের ব্রিজপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে রিপন হোসেন পাখিভ্যান নিয়ে আন্দুলবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির আলমসাধু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধু ও পাখিভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রিপন ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে রাখা ইটের স্তূপের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এইচএসসির দ্বিতীয়দিনে অনুপস্থিত ২৭ হাজারের বেশি, বহিষ্কার ১৭

    ইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা প্রথমদিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সারা দেশে অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ হাজার ৩২৭ জন।

    এদিন অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ১৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে প্রথমদিনের পরীক্ষায় বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল সাতজন। সে হিসাবে দ্বিতীয় দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

    শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানায়।এদিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্র, মাদরাসায় সাধারণ বিভাগে আরবি প্রথমপত্র এবং বিজ্ঞা

    ন ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগে আরবি সাহিত্য ও কারিগরিতে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে রাজশাহী বোর্ডে একজন, কুমিল্লা বোর্ডে দুজন, বরিশাল বোর্ডে দুজন, দিনাজপুর বোর্ডে একজন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন বহিষ্কার হয়েছেন। ঢাকা, যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয়পত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন। তাদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৯ জন।

    মাদরাসা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় মোট ৮৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৭৯ হাজার ৯১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ২০২ জন। এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন সাতজন পরীক্ষার্থী।

    অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৮৩ হাজার ২৬৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৮৬ জন। সেখানে বহিষ্কার হয়েছেন তিনজন পরীক্ষার্থী।

  • মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

    মাধ্যমিকে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩ ও সহকারী শিক্ষকের ২৮৪২ পদ শূন্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ শতাংশের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদই খালি পড়ে আছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট ১৫ হাজার ২৯৩টি। তবে এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ, প্রায় ১৮.৫৮ শতাংশ পদে কোনো শিক্ষক নেই।

    শিক্ষক সংকটের এই চিত্র কেবল সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই নয়, বিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ প্রশাসনিক পদেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে ৩৮৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষকের এই শূন্য পদের পাশাপাশি সহকারী প্রধান শিক্ষকের আরও ২৪৯টি পদ খালি পড়ে আছে।

    দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা না নিলে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

    নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি সরকার। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার সব স্তরে জোর দেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা বেশি জোর পাবে। শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

    এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন অনেক হয়েছে। এখন দরকার গুণমান বৃদ্ধিতে নজর দেওয়া। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভালো শিক্ষক।

    দেশের শিক্ষা খাতে বিগত বছরগুলোতে দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রচুর হলেও, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ইটের ওপর ইট গেঁথে ভবন নির্মাণ বা ভৌত অবকাঠামো বাড়ালেই শিক্ষার মান বাড়ে না; বরং শিক্ষার আসল মান বাড়াতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।

  • দুর্বার গতির ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

    দুর্বার গতির ফ্রান্সের সামনে প্যারাগুয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও নিখুঁত দলের নাম ফ্রান্স। শুধু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শো করছে না দলটি, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে শাসন করছেন ফরাসিরা। যে ধারার ফুটবল খেলছে তারা, এই দুর্বার গতির ফ্রান্সকে আটকানোর সাধ্য আছে কার? গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য আর নকআউটে সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়ে দেওয়ার পর ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়েছে। এবার রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে তাদের সামনে প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে ‘বুলেট’ গতির ফ্রান্সকে কী থামাতে পারবে প্যারাগুইয়ানরা? সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
    এবার আরো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। গতিময় গোছানো ফুটবল আর বিধ্বংসী আক্রমণ ভাগই অন্য দলের চেয়ে নিজেদের আলাদা করে রাখছে দলটি। তাদের দলে চোখে পড়ার মতো অনেক কিছুই আছে। ঐক্যতা, শৃঙ্খলা, বোঝাপড়া, স্পিরিট—সব মিলে দলটি অনন্য। গত আসরের চেয়েও উচ্চগতির ফুটবল খেলছে ফ্রান্স। দলটির প্রাণ এমবাপ্পে। গত বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বড় মঞ্চের তারকা বনেছেন ফ্রান্সের আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়। এবার আরো পরিপক্ব হয়ে এসেছেন তিনি। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একের পর এক ম্যাচে গোল উপহার দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল তারও। এতে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বেশ জোড়ালোভাবেই আছেন এই ফরাসি তারকা। তার সামনে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল পেলেই চলমান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাবেন এমবাপ্পে। আর দুটি গোল পেলে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসিকে ছাড়িয়ে নাম লেখাবেন তিনি। এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস, বার্কেলোরাও মাঠে যে নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তাদের আটকানো অনেক কঠিন কাজ হবে। ফ্রান্স ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা মুখোমুখি হতে হবে প্যারাগুয়েকে। বিশেষ করে তাদের জন্য ফরাসি আক্রমণভাগকে সামলানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের হবে। অবশ্য সাবেক চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে শেষ বত্রিশের ম্যাচে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় এসেছে প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগের সক্ষমতা দেখা গেছে। বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশলই অবলম্বন করবে প্যারাগুয়ে।
    নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করছেন না ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। প্যারাগুয়ের ম্যাচটি খুবই মনোযোগ দিয়েছে দেখেছেন এই কোচ। প্যারাগুয়ে যোগ্যতা প্রদর্শন করেই জিতেছে। ফলে তাদের বিপক্ষে ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। দেশমের মতে, প্যারাগুয়ে সাউথ আমেরিকান টিম। খুবই শক্তিশালী তারা। তাদের দলে বেশকিছু উচ্চমানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন। শক্তি দেখিয়েই শেষ ষোলোয় ম্যাচ খেলছে প্যারাগুয়ে। তাই এই দলটির বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচ সহজ হবে না। অন্যদিকে, অতীতের হিসাব-নিকাশও চুকিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্যারাগুয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে এই ফ্রান্সের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল তারা। সেবার প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ২৮ বছর পর আবার একই মঞ্চে মুখোমুখি দুদল। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে কোচ গুস্তাভো আলফারোর দল। আর সেটি তারা পারবে কি না—সময়ই বলে দেবে। এ পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফরাসিদের বিপক্ষে জেতার কোনো রেকর্ড না থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন রূপকথার জন্ম দিতে পারবে কি না প্যারাগুয়ে, সেটিই দেখা যাবে মাঠের লড়াইয়ে।

  • নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ ও ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীসহ আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওৎ পেতে থাকা ভদ্রবিলার গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • সবজি চাষে স্বাবলম্বী জামফুল বেগম

    সবজি চাষে স্বাবলম্বী জামফুল বেগম

    গাইবান্ধার চিরায়ত রূপ বন্যা ও নদীভাঙন। যমুনা ও তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করেন। সেই জীবনসংগ্রামের মধ্যেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর গ্রামের সংগ্রামী নারী জামফুল বেগম।

    একসময় প্রতিবছর বন্যার করাল গ্রাসে তার বসতভিটা তলিয়ে যেত। ক্ষতিগ্রস্ত হতো ঘরবাড়ি। স্বামী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটত তার। তবে এখন আর সেই দিন নেই। কঠোর পরিশ্রম ও সময়োপযোগী উদ্যোগে বদলে গেছে তার ভাগ্য। পাল্টে গেছে তার জীবনচিত্র। বসবাসের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়ির আঙিনায় কোনো ধরনের সবজি চাষ করাও তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ‘প্রুফস’ প্রকল্পের আওতায় তার বসতভিটা উঁচু করা হয়। ফলে এখন প্রলয়ংকরী বন্যার মধ্যেও তার ঘরবাড়ি নিরাপদ থাকে। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, বসতভিটা উঁচু করার পর বাড়ির চারপাশের পতিত ও খালি জায়গা কাজে লাগিয়ে জামফুল বেগম আধুনিক পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাড়ির চারপাশে লাউ, পুঁইশাক, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, করলাসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত সবজির সমারোহ। পরিবারের দৈনন্দিন সবজির চাহিদার সিংহভাগই এখন নিজেদের উৎপাদিত সবজি থেকে পূরণ হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটছে, অন্যদিকে উদ্বৃত্ত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তিনি।

    নিজের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে জামফুল বেগম বলেন, ‘প্রকল্প থেকে সময়মতো আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নতমানের বীজ পেয়েছি। ফলে সবজি চাষে খুব ভালো ফলন হয়েছে। এখন আর বন্যায় সবকিছু ভেসে যাওয়ার ভয় নেই। আমার সাফল্য দেখে প্রতিবেশীরাও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    এ বিষয়ে কথা হলে চরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় চরাঞ্চলে বসতভিটা উঁচু করা এবং এর সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা টেকসই উন্নয়নের একটি কার্যকর উদ্যোগ। জামফুল বেগমের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।’

    এ এম

  • ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার

    ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, দুধকুমার নদ দিয়ে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের সাথে লাশটি ভেসে এসেছে।

    তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা দুধকুমার নদের চরে লাশটি দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। দুধকুমার নদের পানি কমে যাওয়ায় লাশটি চরের কাদায় আটকা পড়েছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে বিকেলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশটি সম্ভবত ভারতীয় নাগরিকের।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, লাশটি ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের পরিচয় মেলেনি। অজ্ঞাত লাশটির দাফনকাজ সম্পাদনের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সরকারি খাস (হালট) জমিতে নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে, সরকারি খাস জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণকাজে বাধা, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখল করে রাখার কারণে ওই এলাকার কৃষিজমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলে আনোয়ার হোসেন বাধা দেন।

    এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ওসি সজল সরকার বলেন, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এ,আর

  • চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

    চার খলিফার নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন, গা জ্বলছে ভারতের

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এই নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে; যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা হজরত আবু বকর (রা), হজরত উমর (রা), হজরত উসমান (রা) এবং হজরত আলী (রা)-এর নামে।

    এই ব্যাটালিয়নে আরো দুটি কোম্পানির প্রস্তাব করা হয়েছে; যেগুলো হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি। আর সেগুলোর নাম করা হবে— হজরত মুহাম্মদ (স)-এর কন্যা হজরত ফাতিমা (রা) এবং স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা)-এর নামে। তবে এ প্রস্তাব এখনো অনুমোদিত হয়নি। এদিকে বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তের কারনে গা জ্বলা শুরু হয়েছে ভারতের।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজতক বাংলা’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল’ এবং ‘নেতিবাচক’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা এই পরিবর্তনকে কেবল সাধারণ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে বরং একটি বড় ধরনের আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে তুলনা: ভারতীয় মিডিয়া এই বিষয়টিকে এভাবে দেখছে যে, যেখানে আগে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোর নাম ছিল ‘বীরশ্রেষ্ঠদের’ (যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন) নামে, সেখানে এখন ইসলামের ‘চার খলিফার’ নামে নামকরণ করা হচ্ছে। তাদের আলোচনায় এটি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ হয়তো তার মূল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসছে।

    নবভারত টাইমস নামে একটি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh Army: Is General Zaman forming an Islamic army for Bangladesh? A company named after the Prophet’s first four caliphs.’

    অন্যদিকে নর্থইস্ট নিউজ নামে একটি ওয়েবসাইটে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘Bangladesh Army’s new battalion has Umar, Abu Bakr, Ali and Usman companies.’। প্রতিবেদনের ভেতরে মন্তব্য হিসেবে আরও লেখা হয়েছে, “Naming the four companies after close companions and fathers- and sons-in-law is a sign of growing Islamisation within the rank and file of the Bangladesh Army.”

    এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কয়েকটি কোর, বিগ্রেড, ব্যাটালিয়ন রয়েছে, যেগুলোর নাম সরাসরি হিন্দু দেবতার সঙ্গে যুক্ত প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে।

    একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি এলিট ব্যাটালিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ নামে। ভৈরব হচ্ছে হিন্দু দেবতা শীবের অগ্নিমূর্তি। এছাড়া কয়েকটি ইউনিটের নাম রয়েছে যেগুলো হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন প্রতীকের নামে।

    যেমন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ কোরকে বলা হয় ব্রহ্মাস্ত্র কোর, ২১ কোরকে বলা হয় সুদর্শন চক্র কোর, ৩৩ কোরকে বলা হয় ত্রিশক্তি কোর, ১১ কোরকে বলা হয় বজ্র কোর, ১০ কোরকে বলা হয় চেতক কোর।

    ব্রহ্মাস্ত্র হিন্দু পুরাণের অন্যতম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্র। মহাভারত ও রামায়নে বহুবার এর উল্লেখ রয়েছে। নামটির সঙ্গে সরাসরি ব্রহ্মা-প্রদত্ত অস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

    সুদর্শন চক্র হলো বিষ্ণু এবং তার অবতার কৃষ্ণের ঐশ্বরিক অস্ত্র। হিন্দুধর্মে এটি ধর্মরক্ষা, ন্যায় ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। বজ্র মূলত বৈদিক দেবতা ইন্দ্রের অস্ত্র। ঋগ্বেদে ইন্দ্র বজ্র দিয়ে বৃত্রকে বধ করেন।

  • বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

    বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (৩ জুলাই) স্থানীয় সময় ইরানের তেহরানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছান।

    শনিবার (৪ জুলাই) আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা হবে এবং আগামী ৯ জুলাই নিজ জন্মস্থানে তাকে দাফন করা হবে। শনিবার জানাজায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

    আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় তিনি শাহাদতবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

  • ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশকে ভালোবাসেন?’ সোমা ইসলামের প্রশ্ন

    চ্যানেল আইয়ের লাইভ টক শো ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর একটি পুরোনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। আর উপস্থাপক ছিলেন সোমা ইসলাম। তিনি শাহজাহান ওমরকে প্রশ্ন করেন, ‘তারেক রহমান কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ এবং আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে সোমা ইসলামকে এই প্রশ্ন করতে দেখা যায়।

    চব্বিশের পট পরিবর্তনের আগে অনুষ্ঠিত এই টকশোতে সোমা ইসলাম তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে জানতে চান, ‘তিনি কি আদৌ বাংলাদেশ বা গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন?’

    এছাড়াও তিনি সেই সময়ের বিএনপির অবস্থাকে একটি ‘নেতৃত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, তার দৃষ্টিতে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা হতাশ এবং তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইড করার মতো কেউ নেই। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘দলের প্রধান দেশের বাইরে অবস্থান করে ভার্চুয়াল মিটিং করছেন এবং প্রতিদিন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন, যা দলের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।’এছাড়া তিনি বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে কোনো দাবি উঠেছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান।

    এম আবদুল্লাহ ও জুলকারনাইন সায়েরের শেয়ার করা এই ভিডিও প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভিউ হয়েছে।

  • শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে তাদের সেবক হতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিক আল্লাহর বন্ধু, তাই তাদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করাটা আমাদের কর্তব্য।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী অঞ্চলের থানা নেতাদের দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল হালিম আরো বলেন, শ্রমিক নেতৃত্ব বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন নেতা কখনো প্রভু নন; তিনি কর্মীদের খাদেম। তাই শ্রমিক নেতৃত্বে আদর্শিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেকুলার চিন্তাধারার বিপরীতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক শ্রমিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৫৭ বছর আগে প্রতিকূল পরিবেশে একটি আদর্শভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যাত্রা শুরু হয়, যা আজ বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি বট গাছের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শ্রমিকরা আজ তাদের দাবি আদায়ে সবার আগে শ্রমিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

    তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সংগ্রাম করেছি, তেমনি শ্রমিকের দাবি আদায়ে যেকোনো প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তুত।

    শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ- সভাপতি ও কর্মশালা সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, উত্তরের সভাপতি মহিবুল্লাহ, দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেন রানা মিঠু, উত্তরের সেক্রেটারি এসএম আতিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা জামিল মাহমুদ, হাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল।বৃহস্পতিবার সকালের একটি ফ্লাইটে ইরানের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারা।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে দেশটিতে সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সূত্রমতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।১১ দলের প্রতিনিধিদলটি ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করেছন সংশ্লিষ্টরা।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শ্রেয়। অনেকেই দিনের শুরুতে গ্রিন টি কিংবা ফলের রস পান করেন। এ অভ্যাস ঠিক নয়। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই যেসব খাবার খাওয়া হয়, কিংবা যে পানীয় পান করা হয় তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ সারারাত না খেয়ে থাকার পর শরীর দীর্ঘ সময় উপবাস অবস্থায় থাকে। তাই দিনের প্রথম খাবার বা পানীয় হজম, শক্তির মাত্রা এমনকি দিনের পরবর্তী সময়ে খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ কারণেই দিনের শুরুতে খালি পেটে কী খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে একটু সচেতন থাকার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ভারতের পরামর্শক কিরণ কুকরেজা খালি পেটে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

    খালি পেটে যেসব খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলবেন

    লেবুজাতীয় ফল
    সকালের নাশতায় কমলা বা আনারস খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে এটি সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। কিরণ কুকরেজার মতে, লেবুজাতীয় ফল স্বাভাবিকভাবেই বেশ অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। খালি পেটে এগুলো খেলে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে, তবু খাওয়ার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

    গ্রিন টি
    ওজন কমানো ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি খালি পেটে পান করা সবসময় ভালো নাও হতে পারে। কিরণের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অম্বল, বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারণ এতে থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিন পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

    চা ও কফি
    অনেকের দিনই শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে চা কিংবা কফি পান করলে অম্লতা, পেট ফাঁপা ও হজমতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন কিরণ কুকরেজা। ফলে দিনের শুরুটা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে।

    ঝাল খাবার
    সবুজ বা শুকনো মরিচসমৃদ্ধ ঝাল খাবার খালি পেটে খেলে পাকস্থলীর আবরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। এতে বুকজ্বালা, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।ফলের রস
    ফলের রসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিরণের মতে, ফলের রসে সম্পূর্ণ ফলের তুলনায় আঁশ (ফাইবার) অনেক কম থাকে। ফলে সকালে খালি পেটে ফলের রস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

  • রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সঠিক পথ দেখানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে। যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা উদ্বেগজনক।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

    সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উপজেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।