জাতীয় সংবাদ

  • ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলার

    ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলার

    দেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২,৩৯৮ কোটি ডলার বা ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ১১ মাসের (জুলাই-মে) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট—বিওপি) সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশ থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৪০৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য। এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ শতাংশে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাত শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি কমলেও আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছিল ছয় হাজার ২৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে।

    তবে রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হলেও রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৭৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৭৭ কোটি ডলারে, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

    রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রপ্তানি আয় ঋণাত্মক থাকার কারণে চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ডলার। যদিও তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল সাত কোটি ডলার।

    এদিকে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রথম ১১ মাসে সার্বিক বিওপিতে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪০১ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ১১৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট বা রাষ্ট্রের আর্থিক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যেখানে আর্থিক হিসাবে ৫৭ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল, গত অর্থবছরের একই সময়ে সেখানে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ডলারে। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও ঋণের ওপর ভর করে আর্থিক হিসাবে এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।

  • নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দক্ষিণ কান্দী গ্রামের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি অর্ধগলিত অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পাশে লাশটি দেখতে পান। পরে তারা নগরকান্দা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, লাশটি একজন পুরুষের হতে পারে। তবে পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ।

    নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

    ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, লাশটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে সিআইডির ফরেনসিক টিম কাজ করছে। পরিচয় শনাক্ত হলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

    স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সব উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ জুলাই ২০০৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন অনুমোদন করেছে।

    কমিশন জানায়, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট। এছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।

  • উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    উল্লাপাড়ায় বাসচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বাসের চাপায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই আরোহী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে।

    হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সলঙ্গা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নীলা বেগম তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটিকুমরুলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির বাস সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মা ও তার তিন বছরের শিশুসন্তান মারা যায়। এ সময় সিএনজিতে থাকা আরো অন্তত তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

    ঘটনার নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাসটি সিএনজিটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালক-সহকারীকে আটকে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এরপরে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এটি কি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি।

    তিনি বলেন, ৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল যে—‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে  স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

    প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পরে তাঁকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

    আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে আজ বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, আইরিন খান এ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

    আইরিন খান বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    নলডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আশ্রয় হলো দলীয় কার্যালয়ে

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্র নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মো: জাহিদুল ইসলাম অমি নামে আশ্রয়হীন এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাকে উপজেলার মাধনগর আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে বিছানা-বালিশ ও আসবাবপত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।

    স্থানীয়রা জানান, জাহিদুল ইসলাম অমি উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের মো: আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

    তারা জানান, বিএনপির দলীয় কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর প্রতিপক্ষের হাতে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাড়িতে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করেন।

    তারা আরো জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তার ঘর-বাড়ি নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলা শ্রমিকের কাজ করে রাতে দলীয় কার্যালয়ে এসে নিজে রান্না করে খাবার খান এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন।

    ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে থেকেছি। আর কত দিন এভাবে থাকব, কত বছর থাকা যায়?

    তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক আমার পাশে দাঁড়াননি। কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেননি। দলের নেতা ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি, তারা যেন জীবন চলার মতো আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।

    মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা ও বাঁশিলা আট নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের জাহিদুল ইসলাম ভাই খুবই অসহায় এবং দলপ্রেমী একজন মানুষ। তিনি বাধ্য হয়ে বিএনপির কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই দলের নেতারা তার একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, বললেন সুইজারল্যান্ডের কোচ

    মিসরের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে শেষ মুহূর্তে। এই জয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের।

    গতকাল রাতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে সুইসরা। ওই ম্যাচের পরই শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনের কাছে। তাঁর কথায় প্রতিপক্ষের জন্য সমীহ থাকলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো যে অসম্ভব কিছু নয়, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই আমরা তাদের হারানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা লাতিন আমেরিকার দলগুলোর মানসিকতা ভালো করেই জানি।’

    ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছর পর আবার তারা শেষ আটে জায়গা পেল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

    নকআউটে আলজেরিয়ার পর কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে আসা রিকার্দো রদ্রিগেজ। তাঁর কণ্ঠে সমীহই ছিল আর্জেন্টিনার জন্য।

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা আর্জেন্টিনা অসাধারণ একটা দল। ওদের দলে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছে। ওরা কীভাবে খেলে, তা আমাদের জানা। ওদের দলে আছে বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি।’

  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের পূুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকরবলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

    আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের (পুঁজিবাজার) স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় স্পিকার আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

    সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তারেক রহমান। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা,পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।

    পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা.এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত কর এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

    বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো,কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট,নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি ।’

    এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদ্‌ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    ‘চট্টগ্রাম পূঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে’

    সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আমি একটু আগে মূল প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

    অন্যদিকে, বীমা কোম্পানি অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি ইনভেস্টিগেশন করছে। এরকম যেগুলো কমপ্লেন সবগুলো ইনভেস্টিগেশন করছে। ইনভেস্টিগেশনটা কমপ্লিট হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রুপ ঈমান নষ্টের কারণ, কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা

    ইসলামের বিধান নিয়ে বিদ্রুপ ঈমান নষ্টের কারণ, কোরআন ও হাদিসে কঠোর সতর্কতা

    মহান আল্লাহ মানুষের কল্যাণে যুগে যুগে দ্বিন ও শরিয়তের বিধান দিয়েছেন। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো শরিয়তের বিধানগুলোকে মান্য করা এবং তাকে সম্মান করা।

    এটা তার ঈমানের দাবি ও নিদর্শন। পক্ষান্তরে ইসলামের কোনো বিধান, নিদর্শন বা শরিয়তের কোনো অংশ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যা মানুষের ঈমান পর্যন্ত বিনষ্ট করে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বোলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রুপ করছিলে? ঈমান আনার পর তোমরা দোষ ঢাকার চেষ্টা কোরো না।

    ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬)
    তাফসিরবিদরা বলেন, তাবুক অভিযানের সময় কিছু লোক সাহাবায়ে কেরাম ও দ্বিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল, তখন এই আয়াত নাজিল হয়। আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে দ্বিনকে নিয়ে উপহাস করা কুফরির নামান্তর।

    কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘এটাই বিধান; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর সম্মান রক্ষা করে, তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩২)

    এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শরিয়তের বিধি-বিধান ও দ্বিনের প্রতীক বিষয়গুলোকে সম্মান করা আল্লাহভীতির লক্ষণ, বিপরীতে তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও বাঁকা মন্তব্য করা তাকওয়া পরহেজগারির পরিপন্থী কাজ।

    মহানবী (সা.)-ও এ বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বান্দা কখনো এমন একটি কথা বলে, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়। কিন্তু সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না, অথচ এর কারণে সে জাহান্নামে পতিত হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৭)

    বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, পারস্পরিক কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কে অনেকেই ইসলামের বিধান, দাড়ি, হিজাব, নামাজ, কোরবানি কিংবা অন্য কোনো বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকে। অনেকের দৃষ্টিতে এটাকে বাকস্বাধীনতার অংশ বা তুচ্ছ বিষয় মনে হলেও শরিয়তে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ।

    কারণ এতে দ্বিনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং মানুষের অন্তরে দ্বিনের প্রতি অবজ্ঞা সৃষ্টি হয়।
    ফিকহের কিতাবগুলোতে শরিয়তের বিধি-বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করাকে কুফরির কারণ বলা হয়েছে। ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি শরিয়তের কোনো বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ করে, সে কাফির হয়ে যায়।’ (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ২/২৫৯)

    ইমাম ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেছেন, ‘দ্বিন বা দ্বিনের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস করা কুফরি।’ (আল বাহরুর রায়িক : ৫/১৩৪)

    তবে মনে রাখতে হবে, শরিয়তের কোনো বিধানের দলিল, প্রয়োগ পদ্ধতি বা ফিকহি ব্যাখ্যা নিয়ে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা আর বিদ্রুপ করা এক বিষয় নয়। ইসলাম চিন্তা, গবেষণা ও প্রশ্নকে উৎসাহিত করে; কিন্তু উপহাস ও অবজ্ঞাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। কোনো বিধানের হিকমত বা প্রজ্ঞা তার বোধগম্য না হলেও এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করা যে আল্লাহর প্রতিটি বিধানই কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করে দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সেই বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকে না।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)

    পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের বিধি-বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা শুধু একটি নৈতিক অপরাধ নয়; বরং তা ঈমানের জন্যও মারাত্মক হুমকি। দেশের প্রচলিত আইনও তা অনুমোদন করে না। একজন মুসলমানের উচিত দ্বিনের প্রতিটি বিধানকে সম্মান করা, অন্যদেরও এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উৎসাহিত করা এবং কথাবার্তা ও আচরণে এমন সব বিষয় থেকে দূরে থাকা, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করুন। আমিন।

  • সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী

    সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী

    দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বকালীন বিরতিতে আছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। গত ১১ মে কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন তিনি। লোকচক্ষুর আড়ালে আছেন তারও কয়েক মাস আগে থেকে। রোজার ঈদে বুবলী অভিনীত ‘প্রেশার কুকার’ মুক্তির সময়ও পাওয়া যায়নি তাঁর দেখা। অবশেষে বুবলীর কাজে ফেরার খবর পাওয়া গেল। আগামী সেপ্টেম্বরে জাহিদ হোসেনের ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমা দিয়ে আবার লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনে ফিরছেন তিনি।

    বিরতি কাটিয়ে বুবলীর কাজে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার পরিচালক জাহিদ হোসেন। আজকের পত্রিকাকে নির্মাতা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকাইয়া দেবদাসের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বুবলী।

    জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বুবলীর সঙ্গে শুটিং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে এখন নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরে ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবে।’

    পুরান ঢাকার মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে ঢাকাইয়া দেবদাস। গত জানুয়ারিতে সাকরাইন উৎসবের সময় শুরু হয় সিনেমার শুটিং। বুবলীর বিরতিতে শুটিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েছিল কি না জানতে চাইলে নির্মাতা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকাইয়া দেবদাস একটি ঢাকাইয়া শিল্প-সংস্কৃতির চলচ্চিত্র। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য উৎসবের সময়ে রিয়েল লোকেশনে শুটিং করছি আমরা। তাই প্রথম থেকেই পরিকল্পনা ছিল সময় নিয়ে চলবে শুটিং। বছরব্যাপী ঢাকাইয়াদের যেসব রিচুয়াল কালচার রয়েছে, তা তুলে ধরা হবে। সেপ্টেম্বরে বুবলী শুটিং করবেন, এটা আগে থেকে ঠিক করা ছিল। মাঝে বুবলী না থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু অংশের শুটিং হয়েছে। সবশেষ আশুরার সময়েও রিয়েল লোকেশনে আমরা দৃশ্যধারণের কাজ করেছি। আশা করছি সেপ্টেম্বর থেকে আবার ক্যামেরা ওপেন হবে।’

    ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে আছেন আদর আজাদ। নির্মাতা জানান, ঢাকাইয়া দেবদাস মূলত প্রেমের গল্পের সিনেমা। দুজন মানুষের গল্পের মধ্যেই তুলে ধরা হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। এতে আরও অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, রোজী সিদ্দিকী প্রমুখ।

    নির্মাতা আরও জানান, আগামী বছর রোজার ঈদের মিছিলের দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার শুটিং। এরপর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষে কোরবানির ঈদের পর মুক্তি পাবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। সিনেমাটির প্রযোজনা ও পরিবেশনায় রয়েছে এক্সেল ফিল্মস ও রেভল্যুশন মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল।

  • এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

    দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, দুদকের এই মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ জুন আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আবেদনটি করেন । সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, আগে থেকেই কারাগারে থাকা কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ হলে সেই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলায় রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাশেদ খান মেনন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক।

  • মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কবার্তা

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কবার্তা

    মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা বা এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার মন্ত্রণালয় এক জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও কঠোর নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। পাশাপাশি কোনো কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ বা লেনদেন থেকেও বিরত থাকতে হবে।

    মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া গমন-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ জানাতে দেশের ভেতর থেকে ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া-সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে টেলিফোন, ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করলেই তা যথাসময়ে গণমাধ্যম ও সরকারি মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তত দিন পর্যন্ত গুজব বা অননুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাধারণ গ্রামবাসীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবিদার বাবর আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ায় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হুদাপাড়া গ্রামের বাবর আলী নামের এক ব্যক্তি হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ার মরহুম আইয়ুব আলী মেম্বারের ছেলে শাহিন (৩০), ওলি শেখের ছেলে ও পেশায় চুল ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম (২৮), মহৎ হালসানার ছেলে সুইট (৩৫), গোলাম হালসানার ছেলে নজরুল ইসলাম, আজাদ শেখের স্ত্রী শাহিনুর শেখ (৪০), আসেহার (৪৫) এবং জহির উদ্দিন জনিসহ অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবর আলী প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে এই নিরীহ গ্রামবাসীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করাচ্ছেন।

    বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত বাবর আলী নিজেকে হঠাৎ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় এ ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এর আগে কখনোই তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় বা জড়িত থাকতে দেখা যায়নি।

    গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে হুদাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান,

    একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুদাপাড়া এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশি হয়রানি বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না করা হয়।

    তবে অভিযুক্ত বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন পতিত আওয়ামীলীগের লোকজন তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন জেলা বিএনপির সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমি এখানে একটি বিএনপির অফিস করেছেন যা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মাদক আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এই হয়রানি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা পান চাষি

    ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা পান চাষি

    কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলার প্রাচীন আদি পেশা পান চাষ। এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে মহেশখালীর হাজারো পরিবার। তবে দেশের দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি, বাজারে পানের দরপতন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবে বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় পান চাষিরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে পান বরজ তৈরি করলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    স্থানীয় পান চাষি আমির হোসেন জানান, মহেশখালীতে প্রতিবছর তিন হাজারেরও বেশি পান বরজ রোপণ করা হয়। উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পান চাষের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মতে, প্রায় ৩০০ বছর আগেও মহেশখালীতে পান চাষের প্রচলন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মহেশখালীতেও বহু শতাব্দী ধরে পান চাষ হয়ে আসছে। একসময় জমিদার পরিবারগুলো বিবাহ ও সামাজিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে পান চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিত।

    মহেশখালী উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। এর মধ্যে ১৪০০ হেক্টর চাষাবাদ হয় পাহাড়ি জমিতে। পানের বরজের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের মতো।

    ঐতিহাসিক মৈনাক পর্বতের চারিদিকে ঢালু জমিতে যে মিষ্টি পান উৎপাদিত হয় তা দুনিয়ার আর কোথাও হয় না। এ কারণেই মহেশখালীর মিষ্টি পান এত গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে বিশ্বজুড়ে। এমনটাই মনে করেন ঐতিহাসিকরা।

    পান চাষের জন্য প্রয়োজন উপযোগী ও উঁচু জমি। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে পান চাষ ভালো হয়। কিছু এলাকায় বিল বরজেও পান চাষের প্রচলন রয়েছে।

    একটি পান বরজ তৈরির জন্য প্রথমে জমি সমতল করা হয়। এরপর খুঁটি স্থাপন, রশি দিয়ে সারি নির্ধারণ, গর্ত তৈরি, ছন ও বাঁশ দিয়ে ছায়া তৈরি, মাটি খনন করে পাঠি নির্মাণসহ নানা কাজ সম্পন্ন করতে হয়। পরে অন্য বরজ থেকে রোগমুক্ত ও ভালো মানের লতা নির্বাচন করে দুই বা তিন গিরা করে চারা প্রস্তুত করা হয় এবং মাটির প্রলেপ দিয়ে রোপণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

    রোপণের ১২ থেকে ১৩ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়। ৪০ থেকে ৫০ দিন পর পরিচর্যার কাজ শুরু হয়। রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। রোপণের প্রায় তিন মাস পর থেকে পান সংগ্রহ করা যায়।

    চাষিদের দাবি, একটি মাঝারি আকারের পান বরজ তৈরি ও পরিচর্যায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অধিকাংশ কৃষক ঋণ নিয়ে বরজ তৈরি করেন। কিন্তু বাজারে পানের ন্যায্য মূল্য না থাকায় উৎপাদন খরচই উঠছে না।

    পান চাষি সুকুন্দ, মিদুল, আব্দুল করিম, আমির হোসেন ও আবু বক্কর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদার আদি পেশা হিসেবে পান চাষ করে আসলেও আমরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। এমনকি এক মুঠো সারও পাইনি। যদি পানের ন্যায্য মূল্য পেতাম, তাহলে আমাদের জীবনযাপন অনেক সুন্দর হতো।”

    তাঁরা আরও বলেন, “ঋণের টাকায় বরজ তৈরি করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিনের পর দিন পরিবার নিয়ে মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় পান বিক্রির টাকা দিয়ে বাজার খরচও মেটানো যায় না।”

    মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফ্ফার বলেন, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু মহেশখালীর মিষ্টি পান চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি সাথে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশের জন্য বিখ্যাত। তাই পান চাষীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে উৎপাদনে আরো উৎসাহিত হবে এবং এই এলাকার পান চাষীরা উপকৃত হবে।

    মহেশখালী উপজেলা কৃষি বিভাগের সিনিয়র উপসহকারী কর্মকর্তা জনাব জোনায়েদ জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো পান চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালু হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জাতীয় সংসদে মহেশখালীর পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং জিআই স্বীকৃতির দাবি তুলে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন।

    স্থানীয় চাষিদের আশা, পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হলে মহেশখালীর প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে এবং কৃষকের মুখে আবারও হাসি ফুটবে।

    মহেশখালীর মিষ্টি পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। সরকারিভাবে পান রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন বিদেশি বাজার সৃষ্টি করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পান বরজের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান। পানের সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থা আধুনিক করা। রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি।

    পান চাষিদের জন্য ভর্তুকি ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা।

    মহেশখালীর মিষ্টি পান বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতিমান কৃষিপণ্য। মহেশখালীর পাহাড়ি ঢাল ও উপকূলীয় জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এ পানের স্বাদ ও গুণগত মানকে অনন্য করেছে। মিষ্টি স্বাদ, বড় আকার ও উন্নত মানের কারণে এ পানের সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে; হাজারো কৃষকের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই পান চাষ।

  • জীবননগর  বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    জীবননগর বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বুধবার রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মাধবখালী সীমান্তের একটি বাঁশবাগান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি আজ বুধবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক।

    বিজিবি জানায়, মাধবখালী বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্তের ৭০/৬-এস সীমান্ত পিলারের কাছে অভিযান চালায়। এ সময় এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে ধাওয়া করলে তিনি পালানোর সময় সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে দেন। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি বিদেশি (ইউএসএ) পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জীবননগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (০৮ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ১৮ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ০২ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৫ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯৯ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৩ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩৩ টাকা ১২ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ৫৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান

    বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান

    বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শরীফা খান।

    সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আবদুর রহমান খানের নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

    বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন। ঋণ, অনুদান, উন্নয়ন প্রকল্প, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেন তিনি। অন্যদিকে বিকল্প নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালকের অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

  • এনসিপির সমাবেশে হামলায় সংসদে আখতারের ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

    এনসিপির সমাবেশে হামলায় সংসদে আখতারের ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি সামনে আনেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি সোমবার সাভারে দলের পদযাত্রা কর্মসূচিতে হওয়া হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে বিরোধী দলের নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, জুলাই মাসব্যাপী সারা দেশে তাদের পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার সাভারে উদ্বোধনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগেই সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে বক্তব্য চলাকালে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে দলের নেতা-কর্মীরা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।

    এনসিপির এই নেতা আরও দাবি করেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ কেন্দ্র করে কর্মসূচি দিলেই বিভিন্ন মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। ক্ষমতাসীন দলের মতো বিরোধী দলেরও সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে সাভারের ঘটনায় সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

    তার এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ পর্যায়ে কথা বলার জন্য ফ্লোর চান আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। স্পিকার প্রথমে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুললেও পরে তাকে সুযোগ দেন।

    ফ্লোর পেয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেই সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনিভাবে যতটা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, স্বচ্ছতার সঙ্গে ততটা কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

  • গাংনীতে গরুবোঝাই লাটাহাম্বার উল্টে চালক নিহত, আহত ১১

    গাংনীতে গরুবোঝাই লাটাহাম্বার উল্টে চালক নিহত, আহত ১১

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গরুবোঝাই একটি লাটাহাম্বার (ইঞ্জিনচালিত যান) উল্টে চালক উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন গরু ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

    আহতরা হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলাম (৪৭), রাজা মিয়া (৬০), রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আলী (৪৬), মুজিবনগর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৪২), মনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৫২), চকশ্যামনগর গ্রামের ওসমান আলী (৪৮) ও ইসরাফিল হোসেন (৩৫), মনাখালী গ্রামের সাব্দার মণ্ডল (৫৫) ও রফিকুল ইসলাম (৫৫), এবং সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫)। তারা সবাই গরু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয়রা জানান, মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই লাটাহাম্বারটি চালকসহ ব্যবসায়ীদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুর হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাইপুর বাজারের অদূরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে লাটাহাম্বারটি উল্টে গেলে গাড়িতে থাকা যাত্রী ও গরুগুলো নিচে চাপা পড়ে।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক উজ্জ্বল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আরও চারজনকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি আহতরা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত অবৈধ লাটাহাম্বারটি জব্দ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং আহত গরুগুলোরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুবদলের ৩০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

    শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যুবদলের ৩০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সারা দেশে যুবদলের প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    যুবদল সভাপতি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী যুবদল সুশৃঙ্গল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। কোনো রকম বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেয় না। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

    তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন। আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।’

  • উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আগামী ১৮ জুলাই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নওগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. সায়েম বিন সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো আইন বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নতুন এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহম্মেদ, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।এ ছাড়া নওগাঁ-১ থেকে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্যরা এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনজনই ঢাকা বিভাগে মারা গেছে।

    বুধবার (৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৭৪৫। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৩ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫২ জন মারা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ১০৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত রোগী ১৩ হাজার ৭০ জন।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৯৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন।

  • মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর মোল্লাপাড়ায় মো. রাজ্জাক মোল্লা ওরফে নাজো (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গাবগাছে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে রাজ্জাক মোল্লার সঙ্গে তার ভাতিজা রিপন মোল্লার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী একাধিকবার তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের হাতে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

    মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপন মোল্লার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

    এ,আ র

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানী কাকরাইলের আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শিরোনামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। নির্বাচন এবং বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। জুলাইয়ে আমরা যেই আন্দোলন করেছিলাম এর ২টি উদ্দেশ্য ছিল; আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং আওয়ামী কায়দা বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা। হাজার হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ।’

    আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই গড়িমসি করে আসছে, সেই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা থেকেই। ভোটের পিআর অনুযায়ী উচ্চকক্ষ তারা মানবে না, নতুন বিচারিক প্রক্রিয়া, পিএসসি, দুদক নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কার মানতে নারাজ তারা।’

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতিদ্রুত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে জুলাইকে কটূক্তি করছে। তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

  • প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ : কর্নেল অলি

    ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলের সেমিনারে তিনি এ পরামর্শ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে অলি আহমেদ বলেন, আপনার কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে যারা বিদেশি গুপ্তচর তাদেরকে বের করা। তাদের দ্বারা আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে সংস্কারের বিষয়ে আপনার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, চতুর্দিকে শত্রু রেখে আপনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা হলাম আপনার প্রকাশ্য শত্রু। যারা আপনার পাশে আছেন, তারা হচ্ছেন আপনার আসল শত্রু।

    অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শত্রু দ্বারা আবর্তিত। বিদেশি গুপ্তচররা সরকারে ও দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। বিদেশি গুপ্তচর যেকোনো সময় তারেক রহমানের বড় ক্ষতি করতে পারে। তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। নতুন বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে না। আপনি (তারেক রহমান) ভালো অবস্থানে নেই।

    অলি আহমেদ বলেন, ১১ দল আপনার শত্রু নয়, আপনার বন্ধু। যার কারণে আপনাকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দিচ্ছে। আপনি ইতিহাসে একজন নেতা হয়ে থাকেন।

  • দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় নানা সংকটে স্বাস্থ্য খাত

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডে-শনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ‘আমারি’তে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এ মন্তব্য করেন

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানেই কেবল লাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান তৈরি করাই একজন প্রকৃত স্বাস্থ্য উদ্যোক্তার মূল লক্ষ্য।জুবাইদা রহমান বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও মানুষের সেবাপ্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবেস্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
    সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপগুলো সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে। স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন জুবাইদা রহমান।তিনি বলেন, আমাদেরকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অপুষ্টির মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
    ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ দেশের স্বাস্থ্য খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিদ্যমান সম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা এরই মধ্যে একটি বেশ ভালো বাজেট বরাদ্দ করেছি। কিন্তু শুধু বাজেট বরাদ্দ করা কখনোই যথেষ্ট নয়। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা হবে, সেই প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তিপ্রস্তর বা গাঁথুনি আমরা স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি করতে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার খাত আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। উভয়পক্ষ যদি যার যার নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে এ খাত সামগ্রিক ভাবে উপকৃত হবে না। তাই বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, একইসঙ্গে এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিহতরা হলেন- পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের শেখপাড়া সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই ইউনিয়নের হরিদাস কাঠি গ্রামের বাড়ৈপাড়ার বাসিন্দা তাপস হোর ওরফে সুনু হোর (৬০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সয়াবিন তেল বোঝাই একটি ট্রাক খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পেছনে থাকা অপর একটি ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পতিত ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ভেতরে থাকা দুই যাত্রী নিচে পড়ে যান। এ সময় পিকআপ ভ্যানে থাকা তেলের ড্রাম ইজিবাইকচালক দিদারুল হক ও যাত্রী তাপস হোরের মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    নগরীর হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা পাইকগাছা থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ করে খুলনার দিকে আসছিল। ট্রাকটি তেল নিয়ে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    এ,আর


  • মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগে মাংস ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই মণ খাবার অনুপোযোগি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

    মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে জাকির হোসেনের মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রওশনা জাহান। অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. তানজির নাঈম সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, প্রায় দুই মন গরুর পঁচা মাংস জব্দের পর ধংস করে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের নাম পরিবর্তন

    পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের নাম পরিবর্তন

    বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ (এসএসইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি’ (এসএসইউ-ডিএমপি) রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে দুই ইউনিটের নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি তাদের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ করার অনুমোদন চাওয়া হয়। পরদিন ৮ জুন ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, দেশে ও বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে উদ্ভূত নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত ও আধুনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়, নতুন নামে পরিচালিত হলে ইউনিটগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং অতীতের বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বাইরে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বও বহাল থাকবে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় এসএসইউ শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নাম ব্যবহারের ফলে বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং দেশীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ হবে বলে মনে করছে পুলিশ সদর দপ্তর।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ইউনিটটি বর্তমানে সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে জাতীয় সংসদের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের মানববন্ধন

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে জাতীয় সংসদের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের মানববন্ধন

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে সেখান থেকে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিতে স্পিকারের কার্যালয়ে যান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা ও শহীদ পরিবারের একটি প্রতিনিধি দল।

  • বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    বংশালে রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

    রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের একটি বাসায় মোহাম্মদ সুমন (৪২) নামে ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটের এক কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    সুমন হবিগঞ্জ জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ডালুগাছ বাজার এলাকার নবী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের জমিদার গলিতে আনারস মসজিদ সংলগ্ন একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ডেইলি বেসিস কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    হাসপাতালে সুমনকে নিয়ে আসা তার স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, তার স্বামী ইয়াবাসেবী ছিলেন। আগের রাতে তিনি তার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়ে ইয়াবা কিনে আনেন এবং রাতে বাথরুমে বসে তা সেবন করেন।

    তার দাবি, মঙ্গলবার সকালে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি নাসিমার হাতে আঘাত করেন। পরে একই অস্ত্রের আঘাতে সুমনের বুকের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ঢাকা মেডিক্যালে এসে সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার অভিযোগ করেন, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় সুমনকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী নাসিমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

  • পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হয়।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।

    এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

    প্রসঙ্গত, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে রায় দেন।

    ১৫ বছর আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

    হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ খুললেও কিছু জটিলতা থেকে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিলটি করেন। নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পৃথক আপিল করা হয়েছে। আপিল তিনটি শুনানির জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।

    আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

  • ডিএসইতে সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন ১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন ১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা

    সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার বেশি।

    ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এদিন মোট ৩৯০টি কোম্পানির ৪৫ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ১০৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৩৮৮ কোটি তিন লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৯ টাকা।

    দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮ দশমিক ২৪ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৭৮১ দশমিক ২৭ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ১৮১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে। তবে ডিএসইএস বা শরিয়াহভিত্তিক সূচক এক দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৮৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়।

    লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৮০টির কমেছে এবং ৫০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো ফার্মা, মালেক স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, এপেক্স স্পিনিং, আইটিসি, সিমটেক্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো লিমিটেড, আইপিডিসি এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবিবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং সার্প ইন্ডাস্ট্রিজ।

    অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফনিক্স ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, মাইডাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, জেনেক্স ইনফোসিস, জেনারেশন নেক্সট, তুংহাই নিটিং এবং এমএল ডাইং।

  • ৪৫৫ শিশুর জন্য জীবনের সর্বস্ব দান করলেন চীনা দম্পতি, ঘরে মিলল জরাজীর্ণ আসবাব

    ৪৫৫ শিশুর জন্য জীবনের সর্বস্ব দান করলেন চীনা দম্পতি, ঘরে মিলল জরাজীর্ণ আসবাব

    জীর্ণ আসবাব, স্কচটেপ দিয়ে মেরামত করা চশমা আর ১৭ ইউয়ানের (প্রায় ২৫০ টাকা) দুপুরের খাবার দুজনে ভাগ করে খাওয়া—এমন অতি সাধারণ ও মিতব্যয়ী জীবন ছিল চীনের এক নিঃসন্তান দম্পতির। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁরা যে অনন্য কীর্তি রেখে গেছেন, তা এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।

    নিজেদের জীবনের সব সঞ্চয় মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮ কোটি টাকার সমতুল্য) জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দান করে গেছেন এই দম্পতি। তাঁদের এই মহৎ দানের ফলে অন্তত ৪৫৫ জন শিশুর জটিল হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে বলে গত মাসে সাংহাইয়ের এক প্রদর্শনীতে নিশ্চিত করেছেন দাতব্য কর্মকর্তারা।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়স্পর্শী তথ্য উঠে এসেছে। একটি পোস্টার বদলে দিল জীবন এই মানবিক গল্পের নেপথ্যে রয়েছেন দু ইংরং ও তাঁর স্ত্রী লু সুয়িং। দু পেশায় কলেজশিক্ষক ছিলেন এবং লু একই কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে ৮১ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দু ইংরং এবং তাঁর স্ত্রী লু সুয়িং গত বছর (২০২৫ সালে) ৯২ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে দু ইংরং সাংহাইয়ের ‘ইয়োদা কার্ডিওথোরাসিক হাসপাতাল’-এর সামনে একটি পোস্টার দেখতে পান। সেখানে জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার সহায়তায় সাধারণ মানুষের প্রতি অর্থ সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল।

    পোস্টারটি দেখার পর এই দম্পতি তাৎক্ষণিকভাবে ১০টি শিশুর চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৭০ লাখ টাকা) দান করেন। এর কিছুদিন পর তাঁরা তাঁদের বাকি ৪৫ লাখ ইউয়ানও (প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা) একই তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

    এই দম্পতির ঘরের পরিস্থিতি দেখে হাসপাতালের দাতব্য প্রকল্পের এক কর্মী তাঁদের কিছু টাকা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ, তাঁদের ঘরটি ছিল অত্যন্ত পুরোনো ও জীর্ণ।

    সেই অনুরোধের জবাবে দু ইংরং বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনেরই আর বেশি সময় বাকি নেই। আমরা পেনশনের টাকা পাই এবং আমাদের কিছু সঞ্চয়ও আছে। আমাদের এত টাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’

    নিজেদের কোনো সন্তান না থাকায়, এই দম্পতি তাঁদের আইনি অভিভাবক হিসেবে ‘সাংহাই ওভারসিজ চায়নিজ ফাউন্ডেশন’কে নিযুক্ত করেছিলেন।

    ২০১৮ সালে দু এবং ২০২৫ সালে লুর মৃত্যুর পর ওই ফাউন্ডেশনের কর্মীরা তাঁদের ঘরে গিয়ে অবাক হয়ে যান। ঘরের আসবাবগুলো ছিল বহু পুরোনো, চশমাটি ছিল মেরামত করা। এমনকি তাঁরা দৈনন্দিন খরচের প্রতিটি হিসাব ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। অনেক সময় দু ইংরং মাত্র ১৭ ইউয়ানের একটি দুপুরের খাবার কিনে এনে তা দুজনে ভাগ করে খেতেন।

    তবে জীবনযাপনে চরম মিতব্যয়ী হলেও এই দম্পতি মননে ছিলেন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁদের ঘরে ছিল বইয়ের বিশাল সংগ্রহ, সংবাদপত্রের ক্লিপিংস এবং অজস্র মিউজিক রেকর্ড। শুধু এই শেষ দানই নয়, দীর্ঘ বছর ধরে চীনের বিভিন্ন ভূমিকম্পের ত্রাণ তহবিল, শিক্ষা খাত এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণে তাঁরা নিয়মিত অর্থ দান করে গেছেন।

    তাঁদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁদের মরদেহ সাগরে সমাহিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে জানান, এই দম্পতির রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি হলো সেই ৪৫৫টি শিশু, যাদের হার্ট এখন সুস্থভাবে স্পন্দিত হচ্ছে কেবল এই দম্পতির ভালোবাসায়।

  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’

    চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন, আটকে আছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’


    চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার পানির নিচে চলে গেছে রেললাইন। এর ফলে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ আটকে থাকায় ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইনে পানি জমলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এর পর থেকে ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।

    পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

  • মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরের কালকিনিতে বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কোলচরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত খাদিজা আক্তার একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও জাকির বেপারীর স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৭টার দিকে কাঠের লাকড়ি আনতে রান্নাঘর যান গৃহবধূ খাদিজা। এ সময় লাকড়ির ভেতর থাকা একটি বিষধর সাপ খাদিজার হাতে কামড় দেয়। সাপের কামড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে খাদিজা ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে তার স্বামীসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

    পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় খাদিজাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অখিল সরকার বলেন, বিষধর সাপের কামড়ে খাদিজা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আসার অনেক আগেই তিনি মারা যান।

  • নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের কাছে জয়া আহসান শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মুখ। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা। আমাগী ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। সিনেমার মুক্তির আগে নতুন রূপে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী।

    মঙ্গলবার নতুন ফটোশুটের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন জয়া। ছবিটিতে জয়া আহসানকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস লুকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: ফেসবুক

    সাদা রঙের ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার ও গলায় একাধিক স্তরের সোনালি-সবুজ পাথর বসানো স্টেটমেন্ট নেকলেস। ডান হাতের অনামিকায় বড় সবুজ রত্নখচিত আংটি, যা নেকলেসের সঙ্গে মানানসই। গয়নাগুলো ছবির প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি। ছবি: ফেসবুক

    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন তার ভক্তরা। প্রতিক্রিয়া এসেছে এক হাজারের বেশি। ভক্তদের অনেকে জয়ার পোস্ট করা এসব স্থিরচিত্র নিজের ফেসবুক ওয়ালেও শেয়ার করেছেন।ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার প্রচারণার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন জয়া। ছবি: ফেসবুক

    ক’দিন আগে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমা নিয়ে জয়া বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর বাইরে আমি একজন দর্শকও। তাই আমিও অপেক্ষা করছি সিনেমাটি দেখার জন্য। এই সিনেমার প্রথম পর্বে যে সম্পর্কের সমীকরণ আমরা দেখেছিলাম, এবার সেটি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখবে দর্শক।’ ছবি: ফেসবুক

    ‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই এগোবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ফলে আগের ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রের সম্পর্ক এবার কোন নতুন দিকে মোড় নেয়, সেটিই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছেন জয়া আহসান। ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় জয়া আহসান ছাড়াও অভিয়ন করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য প্রমুখ। ছবি: ফেসবুক

    জয়াকে সবশেষ পর্দায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ওসিডি’ সিনেমায়। এটি পরিচালনা-রচনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। এই সিনেমাটি শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চাপ নিয়ে তৈরি। ছবি: ফেসবুক

    চলতি বছরের শুরুতে সুমন মুখার্জি পরিচালিত ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) বিভাগে ‘জি ২৪ ঘণ্টা’ আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ছবি: ফেসবুক

  • ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    ‘ভাইকিং রো’ কী, কেন এই উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে?

    বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়ে গতকাল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মেতে ওঠে নরওয়ে ফুটবল দল।

    ‘ভাইকিং রো’ এমন একটি উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সমর্থকরা এই উদযাপনে অংশ নেন।

    একজন ড্রামার তালে তালে গতি ঠিক করে দেন। প্রতি দুই বিট পরপর দর্শকরা একসঙ্গে ‘রো’ বলে স্লোগান দেন এবং সমবেত উদযাপন চলতে থাকে।

    এই উদযাপন মূলত নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চালু হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি ছিল নরওয়ে। ইতিহাসের সেই ‘ভাইকিং যুগ’ আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ‘ভাইকিং রো’-এর প্রবর্তক কে?

    নরওয়ের সুপরিচিত সমর্থক ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের প্রবর্তক। ২০২৬ সালের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম এই উদযাপনের সূচনা করেন তিনি। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরই ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। যা তাকে খ্যাতিও এনে দেয়। যে কারণে তাকে ডাকা হয় ‘মিস্টার রো রো’।

    এখন শুধু সমর্থকরাই নন, নরওয়ের ফুটবলাররাও এই উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে নেতৃত্ব দেন।

    সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ জানান, ‘মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটা ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাইকিং রো। বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

  • জেট ফুয়েলের দাম কমলো

    জেট ফুয়েলের দাম কমলো

    উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের (জেট এ-১) দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা কমিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য শুল্ক ও মূসকসহ এ দাম কমানো হয়।

    এছাড়া দেশী ও বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর আর্ন্তজাতিক ফ্লাইটের জন্য শূন্য দশমিক ১৩ মার্কিন ডলার কমানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিইআরসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    নতুন এই মূল্য আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অপরদিকে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের জন্য এই দাম লিটার প্রতি শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার থেকে শূন্য দশমিক ১৩ ডলার কমিয়ে শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার করা হয়েছে।

    বিইআরসি জানায়, গত ৫ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাটস রেটের গড় মূল্য বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (পিওসিএল) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ৩৪ (৪) এবং ৩৪ (৬) ধারা অনুযায়ী বিইআরসি আজ একটি গণশুনানি করে।

    গণশুনানিতে ৫ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত জেট এ-১ ফুয়েলের প্লাটস রেটের বিস্তারিত মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিষ্পত্তিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে জুলাই মাসের জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

  • চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লি উন্নয়ন দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

    এ উপলক্ষে সোমবার(৬জুলাই) সকাল ১০টায় র্যালি , আলোচনা সভা, ক্ষুদ্র ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক চত্বরে এক র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই জায়গায় শেষ হয়।। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা পল্লী উন্নয়নের বোর্ডের উপ-পরিচালক জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।

    সভার শুরুতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। চুয়াডাঙ্গায় পল্লী উন্নয়নে গ্রামীণ জনপদের মানুষের উন্নতিসাধনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, ব্র্যাকের সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ন রুগ্গা, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, উপকারভোগী খাদিজা বেগম, শিক্ষার্থী উম্মে হালিমা প্রমুখ।

    এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, টিটিসি’র অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান,জেলা সমবায় কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন,সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

    সভার শেষে ক্ষুদ্র ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের চেক ও গাছের চারা এবং পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘের সদস্যদের উৎসাহ বোনাসের চেক বিতরণ করা হয়।

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সরকারি চাকুরীতে  শূন্য পদ ৫ লাখ ২২ হাজার :  জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

    সরকারি চাকুরীতে শূন্য পদ ৫ লাখ ২২ হাজার : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

    গত ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সরকারি অফিসগুলোতে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি অনুমোদিত পদ এবং ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি শূন্য পদ আছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

    তিনি বলেন, এ সব শূন্য পদ পূরণে সরকার ইতোমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।

    মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

    জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী সরকারি অফিসসমূহে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি এবং শূন্য পদ রয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। শূন্য পদ পূরণে সরকার ইতোমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’র বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য এবং নিয়োগের অধিযাচন প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রুততম সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

    স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা জনগণের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি দেশের মানুষ মৌলিক অধিকার।’

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা উন্নয়নের পথরেখা বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

    দেশের স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, তরুণদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে, যেন তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করতে এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে সরকার।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের রয়েছে এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম। যাদের শক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, চিন্তা আমাদের অন্যতম সেরা জাতীয় সম্পদ। চলতি বছরে গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান কোনো অংশেই কম নয়। বেশিরভাগ ওষুধই উন্নতমানের এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে।

    জুবাইদা রহমান বলেন, নানা কারণে আমরা দারিদ্র্য, দুর্যোগ, রোগবালাই, বাস্তুচ্যুতি এবং নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছি। এরপরও সাহসিকতার সঙ্গে এসব মোকাবিলা করেছে দেশের মানুষ। তবে বর্তমান সরকার রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আর এ লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অপুষ্টি এবং অন্যান্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।

    তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যগত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। অসংক্রামক রোগ বাড়ছে, জনসংখ্যা বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে এবং নগরায়ন মানুষের জীবনযাপন, কাজ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য নতুন চিন্তা ও নতুন অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

  • সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন।

    মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।

    মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

    এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

    একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার খান এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

    পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখছে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।▫️

  • আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং মিশর জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ।

    ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে অনুশীলনে যোগ দেন মেসি। এর আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি-র সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে প্রাণবন্তভাবেই অংশ নিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

    স্কালোনি বলেন, টানা ম্যাচ, দীর্ঘ বিমানযাত্রা, গরম আবহাওয়া এবং একেক ভেন্যুর ভিন্ন পরিবেশ এবারের বিশ্বকাপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, এ টুর্নামেন্টে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেবারিট বলা যাচ্ছে না এবং সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। আর্জেন্টিনাকে যথেষ্ট সম্মান করলেও ভয় পান না বলে জানান তিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চান এবং সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। চোট কাটিয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজের বদলে শুরু থেকেই খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই শেষ কথা নয়। একটি মুহূর্ত বা একজন খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই নামছে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

  • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন তার।

    এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির দূতাবাসের রাজনৈতিক সেকশনের পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং পলিটিকাল এ্যাটাচে রু কি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয় এবং উভয় দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে দুই দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরো গভীর, সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    এছাড়াও তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

  • এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    রাজনীতি ডেস্ক:

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার বাদী জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

    এটি একটি পরিকল্পিত হামলা দাবি করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত যুগান্তরকে বলেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হঠাৎ বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা।

    এ ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা- হলেন মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

    এনসিপি নেতাকর্মীরা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে সমাবেশস্থলে আসেন। তারা পৌঁছানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উঠেন এবং অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ছিল। তাদের পেছনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা স্থানে সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাবিলা তাসনিমের বক্তব্য চলাকালে ওই স্থানেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

    বোমা হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। পরে তারা সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে এনসিপির নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

    সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমালোচনা করেন এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

    সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

  • এমপিও শিক্ষকদের জাতীয়করণসহ ৮ দাবি

    এমপিও শিক্ষকদের জাতীয়করণসহ ৮ দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈষম্য নিরসনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান সচেতন শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য দূর করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

    আটটি দাবি হলো- শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তিকরণ, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকদের প্রেষণে নিয়োগ বন্ধকরণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আওয়ামী দোসরদের অপসারণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি না করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থাকরণ এবং শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া প্রদান এবং কল্যাণ-অবসরের টাকা দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. মোকলেছুর রহমান, মোল্লা নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল হক, আব্দুল আউলিয়া, প্রভাষক হালাদার আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, অধ্যাপক আব্দুল মফিজ, মো. বোরহান উদ্দিন, শাহাজ পারভীন, এএইসএম সাইদুজামন, মো. আজিজুল হক রাজা প্রমুখ।

  • এইচএসসিতে ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

    এইচএসসিতে ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রথমবারের মতো শিক্ষাবোর্ডগুলোর মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা থেকে বিপুল শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে গত রোববার মাধ্য্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেলের সভাপতিত্বে সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সরাসরি ও জুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

    জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, গত অধিদপ্তরে সব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নয়টি সাধারণসহ মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে দৈব চয়নের ভিত্তিতে সারাদেশের মোট ২৬০টি প্রতিষ্ঠান এই গবেষণার আওতাভুক্ত হবে। আগামী সপ্তাহে এই গবেষণা শুরু হতে পারে।

    তিনি বলেন, ঝরে পড়া পরীক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হবে। শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারও গবেষণায় অংশ নেবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)।

    জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ঝরে পড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রথমবারের মতো শিক্ষাবোর্ডগুলোর উদ্যোগে এইচএসসি ও সমমানের বিপুল পরীক্ষার্থীর অংশ না নেওয়া বা ঝরে পড়ার প্রকৃত কারণসমূহ চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে এ বছর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই হার অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

    গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গত বছর নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি।

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ বছর এই বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি পরীক্ষার জন্য ফরমই পূরণ করেননি।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করেও তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ইদানীং পাবলিক পরীক্ষায় ফরম পূরণ করার পরেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী বাড়ছে। যেমন গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগের বছর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৫ হাজার ২০৩ পরীক্ষার্থী।

    শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এ প্রবণতার উল্লেখযোগ্য কারণ।

    সম্প্রতি সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এই দুর্বলতাগুলো বের করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।

  • অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    অদম্য সুইজারল্যান্ডের সামনে দুর্দান্ত ছন্দের কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে সুইজারল্যান্ড। একই পথে আছে লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়াও। দুদল এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শেষ ষোলোর ম্যাচে। নকআউটের এই ম্যাচে হারলেই বিদায়। দুদলই দারুণ ছন্দে থাকায় জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া।

    বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য সুইজারল্যান্ডের জন্য খুব সুখকর ছিল না। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছিল মুরাত ইয়াকিনের দল। এরপর যেন পুরোপুরি বদলে যায় তাদের চেহারা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে সুইসরা।

    সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় কারণ বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা। জোহান মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাস দারুণ ছন্দে রয়েছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ব্রিল এমবোলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সুইজারল্যান্ড।

    অন্যদিকে কলম্বিয়া বিশ্বকাপে এসেছে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে। শেষ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে ওঠে নেস্তর লরেঞ্জোর দল।

    রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে লস ক্যাফেতেরোসরা। যদিও ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ছিটকে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার জন কর্দোবা। তবে তার বদলি হিসেবে নেমে লুইস সুয়ারেজ ম্যাচের একমাত্র গোলের অ্যাসিস্ট করে কোচের আস্থা অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একাদশে তাকেই দেখা যেতে পারে।

    কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছাড়া টানা তিন ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে তারা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগও ধারালো। ফলে ম্যাচটি হতে পারে শক্তিশালী রক্ষণ বনাম গতিময় আক্রমণের লড়াই।

    তবে সুইজারল্যান্ডের জন্য কিছু দুশ্চিন্তাও রয়েছে। পেশির চোটের কারণে মিডফিল্ডার মিশেল এবিশার ও ডিফেন্ডার লুকা জাকেজের খেলা অনিশ্চিত। তারা না খেলতে পারলে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লার মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলাবেন, আর রক্ষণে থাকবেন মানুয়েল আকাঞ্জি ও নিকো এলভেদি।

    দুদলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোনো পক্ষই পরিষ্কার ফেভারিট নয়। সুইজারল্যান্ড টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, আর কলম্বিয়া ভরসা করবে নিজেদের সংগঠিত রক্ষণ ও ধারাবাহিক ফর্মের ওপর। ফলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে ভ্যাংকুভারে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এক দ্বৈরথ।

  • চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

    চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ ইমরান হোসেন নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    গোপন সংবাদ পেয়ে ৬ জুলাই রোববার বিকেলে চৌগাছা থানার পুলিশ উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় ইমরানের বাড়ি তল্লাশি করে ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ তাকে আটক করে।

    আটক ইমরান উজিরপুর গ্রামের আকিমুল ইসলামের ছেলে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারির সাথে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স  ৩৮.১ শতাংশ বেড়েছে

    জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স ৩৮.১ শতাংশ বেড়েছে

    চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বাংলাদেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ (৫৬৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একই সময়ের ৪১ কোটি ১০ লাখ (৪১১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের ৫ জুলাইই প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ২১ কোটি ৯০ লাখ (২১৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এ শক্তিশালী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করছে।

  • দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২২৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গত শুক্রবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৩ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • ঋণখেলাপিকে   এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ঋণখেলাপিকে এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের করপোরেট গ্যারান্টর হওয়া সত্ত্বেও আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে তারা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই বিধান আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর। আব্দুল মোনেম লিমিটেডই আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি এসব ঋণ বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের আবেদন করেছিল।

    এরপর গত ৭ জুন শতভাগ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করা হয়।

    শোধনাগার কর্তৃপক্ষ আবেদনে উল্লেখ করে, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সময়মতো এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি দেশে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে বাজারে চিনির সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

    বর্তমানে বিক্রয়চুক্তির আওতায় শোধনাগারটি আবুল খায়ের লিমিটেড পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

  • খামেনির শেষ বিদায়ে শোকে স্তব্ধ তেহরান, রাজপথে জনতার ঢল

    খামেনির শেষ বিদায়ে শোকে স্তব্ধ তেহরান, রাজপথে জনতার ঢল

    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান সোমবার রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে। ভোর থেকেই নির্ধারিত শোভাযাত্রার পথগুলোতে মানুষের ঢল নামে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি খবরে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির ছবি বহন করেন। শোভাযাত্রাজুড়ে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন।

    রাজধানীর আজাদি সড়কসহ আশপাশের এলাকায় নারী-পুরুষ, তরুণ, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। পুরো পরিবেশ ছিল শোক, দোয়া ও শোকগাথায় মুখর। মরদেহবাহী শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

    সূচি অনুযায়ী, তেহরানের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার পবিত্র নগরী কোমে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ বিদায় ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার মাশহাদে জানাজা শেষে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ আটক

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ আটক

    মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের তামান মালুরি নাইট মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ২০০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সপ্তাহ নজরদারি চালানোর পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নাম ছিল ‘অপ কুটিপ’। অভিযানে কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ও কুয়ালালামপুর সিটি হল একসঙ্গে অংশ নেয়।

    ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, মোট ৫০০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন মালয়েশিয়ান। যাচাই শেষে ২০০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়।

    আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং ৭৫ জন নারী রয়েছেন। তারা ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক।

    অভিযানটি সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেখে অনেক বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ লুকিয়ে পড়লেও পরে কর্মকর্তারা তাদের খুঁজে বের করেন।

    হামশা ইনজাউ বলেন, এই এলাকায় অনেক বিদেশি জড়ো হচ্ছেন— এমন অভিযোগ পাওয়ার কারণেই এখানে অভিযান চালানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ নথি (পাসপোর্ট/ভিসা) না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, সামাজিক ভিজিট পাসের অপব্যবহার এবং ভিসা বা ইমিগ্রেশন পাসের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    তিনি বলেন, শুধু তামান মালুরি নয়, কুয়ালালামপুরের অন্যান্য নাইট মার্কেটেও এ ধরনের অভিযান চালানো হবে, বিশেষ করে যেখানে অনেক বিদেশি যাতায়াত করেন।

    তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে থাকা বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগদাতা, ব্যবসায়ী, দালাল, চক্র এবং যারা তাদের আশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এই উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

    একই সময়ে প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তার আওতায় প্রাপ্ত নগদ টাকা ও চেকসহ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পক্ষ থেকে চেক বিতরণ করেন তিনি।

    বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের মধ্যে ছিল এক হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে পাঁচ কেজি করে রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    একই সময়ে ১০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে ১০ গ্রাম করে হাইব্রিড মরিচের বীজ, পাঁচ কেজি করে ডিএপি সার, পাঁচ কেজি করে এমওপি সার ও একটি করে কীটনাশকের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া এক হাজার কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে একটি করে মাস্টার প্যাকেট গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, ১৫ কেজি করে ডিএপি সার ও ১৫ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: শাহদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস আর এম জি কিবরিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান হাজী হাফেজ মো: দ্বীন ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীবৃন্দ।

    পরে প্রতিমন্ত্রী কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাইলকাটা টিএনটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং কুলিয়ারচর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।

    এর আগে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    এছাড়া সকালে তিনি উপজেলার পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শামসু উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন।