জাতীয় সংবাদ

  • দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) নেত্রকোণা সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে সংসদে সব দলের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশ পেলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিত। বর্তমান সংসদের ৩৪৮ সদস্যই দেশের জনগণের প্রতিনিধি। তাই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

    তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করছে। প্রয়োজন হলে জনগণও দেশপ্রেমের শক্তি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। অতীতেও বিভিন্ন স্থানে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি বরাদ্দ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও অনুদান দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উচিত দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্ব পালন করা। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের কল্যাণেই সরকারকে কাজ করতে হবে।

  • ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবিরের অপচেষ্টা

    ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবিরের অপচেষ্টা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির, সুপারিশ ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটি একই সঙ্গে সাদা দল স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং মেধা, যোগ্যতা, সততা ও প্রচলিত বিধিবিধানের ভিত্তিতেই সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে তারা বিশ্বাস করে।

    আজ শুক্রবার ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানান।

    এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু ব্যক্তি সাদা দল এবং সাদা দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম ব্যবহার করে ঢাবি প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যক্তিগত তদবির, সুপারিশ এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাবি সাদা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, এসবের সাথে সাদা দলের কোনো সম্পর্ক নেই। সাদা দল কখনোই কোনো অনৈতিক আবদার বা সুপারিশ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এ ব্যাপারে সাদা দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারা বলেন, ঢাবি সাদা দল প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, গবেষণা-সুযোগ, বৃত্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একমাত্র মেধা, যোগ্যতা, সততা, স্বচ্ছতা ও প্রচলিত বিধিবিধানকে মানদ- হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। কোনো ব্যক্তি যদি যোগ্যতা ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো সুযোগ পাওয়ার অধিকারী হন, তবে তিনি অবশ্যই তা পাবেন। দলীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কারও জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাদা দলের অবস্থান সুস্পষ্ট।

    তারা আরো বলেন, সাদা দলের পক্ষ থেকে ঢাবি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি ভবিষ্যতে সাদা দল বা সাদা দলের কোনো নেতার নাম ব্যবহার করে কোনো সুপারিশ, তদবির বা ব্যক্তিগত দাবি উপস্থাপিত হলে তা গ্রহণ না করে সরাসরি সাদা দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সাদা দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের যেকোনো প্রচেষ্টা রোধে সবার সতর্ক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা আশা করছে সাদা দল।

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • তেহরানে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানালেন যেসব দেশের প্রতিনিধিরা

    তেহরানে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানালেন যেসব দেশের প্রতিনিধিরা

    ইরানের শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় উপস্থিত হয়েছেন।

    বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে রাশিয়া, ভারত, চীন, তুরস্ক, ইরাক, বসনিয়া, হার্জেগোভিনা, হাঙ্গেরি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতারা এবং পাশাপাশি ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহর সদস্যরা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এছাড়া, ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের আলেম ও ধর্মীয় চিন্তাবিদ, আহমদ মাসউদ (আহমদ শাহ মাসউদের ছেলে), লেবাননের আমাল আন্দোলনের প্রতিনিধিদল, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, মরক্কো ও তুরস্কের প্রতিরোধ ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা, আফগানিস্তানের ফাতেমিয়ুন ব্রিগেডের প্রতিনিধি এবং পাকিস্তানের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    স্পেন, ইকুয়েডর ও বলিভিয়ার সাংস্কৃতিক কর্মী, বুলগেরিয়ার সংসদ সদস্য ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধিরাও শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ইরানের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ গোলাম আলী হাদ্দাদ আদেল এবং দেশটির আরো অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এছাড়া শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর পরিবার, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের কমান্ডাররা, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল, ইরাকের উপজাতীয় নেতা, কুর্দিস্তান অঞ্চলের কুর্দি দলগুলো, ইরাকি সংসদের সদস্য, লেবাননের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং লেবানন, ইরাক ও আফগানিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    আরো উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল, হিন্দু ধর্মীয় নেতারা, থাইল্যান্ড ও জার্মানির শিয়া প্রতিনিধিরা, রাশিয়ার আলেমদের প্রতিনিধি দল, তুরস্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং জর্জিয়ার মুসলিম প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণসংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি আটজন রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১২ জন পার্লামেন্ট স্পিকার অংশগ্রহণ করবেন।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আটদিন পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩২) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    নির্যাতনের পর পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। এটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে। পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

  • গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সারা দেশে একযোগে ভার্চুয়ালি (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল এবং এনসিপি নেতা সবুজ রানা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও বাঙালি জাতিকে সাম্য, ন্যায়, মানবতা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা জোগায়। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, দেশপ্রেম ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।

    বক্তারা শিশু-কিশোরদের নজরুলের জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির প্রতি আগ্রহী হয়ে তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত নজরুল সাহিত্য পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত চর্চার মাধ্যমে তাঁর চেতনাকে লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর রহমান ও ওহিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় তাদের বসতঘরসহ শ্রেষ্ঠা-শাকিরা বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুর করা হয়েছে। টিনের চালা, বেড়া ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙ্গে ফেলে লোহাগড়া মৌজার ৩৫৪ দাগের প্রায় ৯ শতক জমি দখলচেষ্টা করা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এখনো আইনানুযায়ী বণ্টননামা বা বাটোয়ারা করা হয়নি। কিন্তু অভিযুক্ত মাহমুদ আলম, লিয়াকত হোসেন লিকু ও তাহানূর সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে বায়নাপত্রের অজুহাতে তাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করেন। বেআইনি ভাবে, বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর ও ওহিদুর রহমান।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তপক্ষের লিয়াকত হোসেন লিকু দাবি করে বলেন, এই জমির মালিক জাহিদুর ও ওহিদুর নয়। জমির মালিক ওনাদের বোন। সেই বোনের কাছ থেকে আমরা জমি কিনেছি। অথচ, তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, কোনো পক্ষকে তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার, এলাকায় আতংক

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার, এলাকায় আতংক


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক রজবের বাড়ির গেটে চিরকুট এবং হাতবোমা রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা, এঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।
    আজ বুধবার সকালে বোমা ও চিরকুটটি দেখতে পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সকাল আটটার দিকে ঘটনা স্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানভর্তি বালততিতে রাখেন পুলিশ।

    চিরকুটে লেখা আছে “দেয়াল দিচ্ছি রাসতা পাস দিএ, পানি নামতে না দিলে বোমা মেড়ে মেরে ফেলব, দোল এখন পাউয়ারে, বেচে থাকতে কথা শন”।
    গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক রজব আলীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নিচে লালকসটেপ মোড়ানো হাতবোমা ও চিরকুটটি রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।
    সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
    এদিকে সম্প্রতি গাংনী উপজেলার পৃথক ৮ টি স্থান থেকে প্রায় ২০ টি বোমা ও হুমকী সংবলিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা :
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক রজবের বাড়ির গেটে চিরকুট এবং হাতবোমা রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা, এঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।
    আজ বুধবার সকালে বোমা ও চিরকুটটি দেখতে পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সকাল আটটার দিকে ঘটনা স্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানভর্তি বালততিতে রাখেন পুলিশ।

    চিরকুটে লেখা আছে “দেয়াল দিচ্ছি রাসতা পাস দিএ, পানি নামতে না দিলে বোমা মেড়ে মেরে ফেলব, দোল এখন পাউয়ারে, বেচে থাকতে কথা শন”।
    গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক রজব আলীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নিচে লালকসটেপ মোড়ানো হাতবোমা ও চিরকুটটি রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।
    সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
    এদিকে সম্প্রতি গাংনী উপজেলার পৃথক ৮ টি স্থান থেকে প্রায় ২০ টি বোমা ও হুমকী সংবলিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।

  • ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির

    চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।

    অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধে সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এর পরের অবস্থানে আছে রাজশাহী, সেখানে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

    আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয় সমকাল। এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

    আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১০২ জন আহত হয়েছেন।

    যেসব কারণে খুন
    রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরোধে ৩০ খুনের মধ্যে সাতটিই ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় এই সাতজন নিহত হন। তাদের চারজন বিএনপির ও তিনজন জামায়াতের নেতাকর্মী।

    নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। পরে সেদিনই মারা যান জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মার্চ মৃত্যু হয় স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সংসদ নির্বাচনের পরদিন হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে মারধর করে প্রতিপক্ষ। সেই ঘটনার জেরে ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলায় মেহেদীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    নির্বাচনের আগেও প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নজরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের (বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত) কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন এরশাদ বাজার এলাকায় তাদের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পর সেখানে হামলা চালায় বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে খুন হন বিএনপির সাতজন এবং জামায়াত ও আওয়ামী লীগের একজন করে নেতাকর্মী। এর মধ্যে গত ২১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে শিমুল কাজী নামের এক তরুণ নিহত হন। সেদিন দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে আব্দুল হান্নানের কর্মী শিমুল খুন হন। এর আগে তাঁর দাদা নাজিম উদ্দিন কাজী নাতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে, যা সব সময় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে থাকে। সেসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়।

    ৮ জুন রাতে রাজধানীর মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। রমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রাহাৎ খান বলেন, পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

    এর আগে ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া নামের এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে মামলা হয়।

    কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের ছেলে), তোফাজ্জল হোসেন, তাঁর ছেলে হূমায়ুন কবীর আকাশ ও মনিরুল ইসলাম।

    গত ৯ জুন রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়ল। রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দুষছেন বিএনপির নেতারা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসানকে ঢাকা ও মশিউরকে যশোরের অভয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১০ মার্চ বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে যুবদলকর্মী সজিব চৌধুরী আকাশ নিহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পরদিন সবজি ক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে একটা বিরোধ ছিল। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের সংঘর্ষে নিহত হন সজিব।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। যেমন সংগঠনের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মতবিরোধ থেকে সংঘর্ষে একজন, দরপত্র নিয়ে বিরোধে একজন, মসজিদের জলসায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে সংঘাতে একজন, জলাশয় ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে দুজন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সভা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে মারধরে একজন, খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে একজন, জামায়াত নেতার ফেসবুক পোস্টে বিরূপ মন্তব্য নিয়ে বিরোধে একজন, ধান কাটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডতার জেরে একজন ও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে একজন খুন হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের একজন এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন অপসারণ নিয়ে বিরোধে জামায়াতের একজন খুন হয়েছেন।

    ১৬ খুনের কারণ অজানা
    রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।

    ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

    রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে: ড. তৌহিদুল হক
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, অনেক সময় একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বার্থ, পদ-পদবি, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জনের মতো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। নইলে রাজনৈতিক অপরাধ বন্ধ হবে না। তথ্য-প্রমাণ থাকলে অভিযুক্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সরকারকেই সহায়তা করতে হবে, যাতে পুলিশ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

    পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুনের মামলার তদন্তে দেখা যায়, সব সময় রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে না। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে। আর অল্পসংখ্যক ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

  • জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরসভা ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চারজন হলেন— সীমান্ত ইউনিয়নের বেনিপুরপুর গ্রামের বসুতিপাড়ার শফি উদ্দিনের ছেলে আল মামুন (৩০), কয়া গ্রামের মরহুম মোবারক মণ্ডলের ছেলে আহমদ আলী খোকা (৩৫), হরিহরনগর গ্রামের মরহুম মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩০) ও জীবননগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মরহুম মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ (৩০)।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি: রিজভী

    চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি: রিজভী

    জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ধাপে ধাপে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই স্মৃতি তর্পণের অনুষ্ঠান আমরা মোমবাতির আলোয় করছি। এই আলো শুধু সাময়িক অন্ধকার দূর করবে না, এটি ভুবনভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, প্রজ্জ্বলিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।

    তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শুভ সময়ে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর তারা লড়াই-সংগ্রাম করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। এ জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

    আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু শহীদ আনাসের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু দেখেই প্রশান্ত মহাসাগরের কথা মনে পড়ে।

    তিনি আরও বলেন, শহীদদের স্মৃতি শুধু একটি মাস বা একটি দিনের জন্য নয়। আমাদের সব জানালা খোলা রাখতে হবে। তারা আমাদের বিবেককে জাগ্রত রাখবে, যেন আর কোনো স্বৈরাচার, অগণতান্ত্রিক শক্তি বা ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে।

    রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে, কিন্তু তার অবশিষ্টাংশ এখনো বিভিন্ন জায়গায় রয়ে গেছে। যারা দেশের টাকা লুট করেছে, তারা এখনো নানা জায়গায় ষড়যন্ত্র করছে। তাই ছাত্রসমাজকে সবসময় জাগ্রত থাকতে হবে। ইতিহাস বলে, ছাত্রসমাজ কখনো ঘুমায় না।

    ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করেন। জাতীয়তাবাদ মানে দেশ, দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য অবিরাম সংগ্রাম। আপনাদের নেতা তারেক রহমানের চিন্তা-চেতনায়ও সেই জাতীয়তাবাদ প্রতিফলিত হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে আপনাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মরণেই আমরা প্রতিবছর ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।

    তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়েছেন, আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্রদল অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।

    ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দীর্ঘ ১৭ বছর নিপীড়ন সহ্য করার পরও আমরা দেশের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি।

    তিনি আরও বলেন, জুলাইকে কোনো ব্যবসার উপকরণ হতে দেওয়া হবে না। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বাংলাদেশ চলবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও সুশাসনের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া ‘জুলাইয়ের চেতনা’র ভিত্তিতে নয়। সবার আগে বাংলাদেশ এই নীতিই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

  • মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    মানিকগঞ্জের মারিয়া মাহির নাম ফেসবুক আর সংবাদমাধ্যমের সুবাদে জানেন অনেকেই। সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত ১৪ বছরের এই কিশোরী। স্কুলবন্ধুর সঙ্গে ক্লাসরুমে ‘ঘনিষ্ঠ অবস্থায়’ দেখতে পাওয়ার অভিযোগে দুজনকেই টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেদিন স্কুল থেকে আর বাসায় ফেরেনি মারিয়া। ‘হারিয়ে যাওয়ার’ ছয় দিন পর স্কুল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন ঝোঁপ থেকে উদ্ধার হয় তার ছিন্নভিন্ন ও ঝুলন্ত দেহ।

    পরিবারের মামলার জের ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী, মারিয়ার ওই বন্ধুসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এজাহার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ— মারিয়া হত্যায় তার ছেলেবন্ধু এবং তার স্বজনরা জড়িত। তবে আড়াই সপ্তাহ পেরোলেও কাটেনি ধোঁয়াশা। মামলার তদন্ত নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে পুলিশ। এতে উঠছে প্রশ্ন— কীভাবে মৃত্যু হলো মারিয়ার?

    তাকে হত্যা হয়ে থাকলে স্কুল থেকে এতটা দূরে খুন করার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার সঙ্গে কতজন জড়িত? আবার ঝুলন্ত দেহের নিচের অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকার কী কারণ— সে প্রশ্নেরও মেলেনি উত্তর।

    আগামীর সময় টানা অনুসন্ধান চালিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। একজন কিশোরীর বিয়োগান্ত পরিণতির পেছনে এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের দায় কতটা— তাও অনুসন্ধান করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনা এখনো রহস্যে ঘেরা। তদন্তের গতি নিয়েও পরিষ্কার জবাব দিচ্ছে না পুলিশ।

    মৃত্যুযাত্রার শুরু যেভাবে

    সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও সিংগাইর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার শুরু গত ১০ জুন। ওসি মাজহারুল ইসলাম বলছিলেন, সেদিন স্কুলের একটি কক্ষে মারিয়া ও দশম শ্রেণির ওই ছাত্রকে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখতে পায় প্রাথমিকের কয়েক শিক্ষার্থী। তারা বিষয়টি জানায় হাই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীকে। পাঁচ দিন ধরে স্কুলে এ নিয়ে ছড়ায় গুঞ্জনের ডালপালা। এরপর ১৫ জুন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের কাছে নালিশ জানায় হাই স্কুলের কয়েক শিক্ষার্থী।

    স্কুলের ল্যাবের খণ্ডকালীন সহকারী মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লাকে ডেকে আলোচিত কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বলেন প্রধান শিক্ষক। তাতে মারিয়া ও তার বন্ধুর ‘ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের প্রমাণ’ পাওয়া যায়। এরপর দুই ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ডাকা হয় স্কুলের অন্য শিক্ষকদের। হতবিহ্বল মারিয়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে মাফ চায়। তবে নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সিরাজুল ইসলাম। দুজনের অভিভাবক ডেকে হাতে ধরিয়ে দেন টিসি।

    সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের জানালেন, ওই দিন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাওয়ার পর তারা সবিস্তারে জানতে পারেন ঘটনা। তাদের সামনে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম স্কুল কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহারকে ফোন করেন।

    ‘ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে হেডস্যার আমাদের বললেন, ওদের টিসি দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন। টিফিনের সময় মারিয়া এসে হেডস্যারের কাছে অনেক অনুরোধ করে। বলে— স্যার, ভুল হয়ে গেছে; মাফ করে দেন। হেডস্যার ওরে বলে যে, তোমাকে মাফ করলে অন্য স্টুডেন্টরা লাই পেয়ে যাবে’— বললেন শিক্ষক আব্দুল কাদের।

    এর পরের ঘটনার বর্ণনাও দেন কাদের ও তার আরও কয়েকজন সহকর্মী। সে অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে মন খারাপ করে ক্লাসে ফিরে যায় মারিয়া। তবে কিছুক্ষণ পর বের হয়ে যায়। নিচে নেমে স্কুলগেট পেরিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। দুপুর ২টার দিকের এ ঘটনার পর ‘হারিয়ে যায়’ মারিয়া।

    ওদিকে, স্কুল ছুটির সময় মারিয়া ও তার ছেলেবন্ধুর অভিভাবক আসেন স্কুলে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কাদেরসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

    ‘মারিয়ার মা এসেছিলেন। আর ছেলের পরিবার থেকে এসেছিলেন তার মা। ছেলেটাও ওই রুমে ছিল। মারিয়া ছিল না। দুজনেরই বাবা প্রবাসী। মায়েদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই রেখে মারিয়া আর ওই ছেলেকে টিসি দেওয়া হয়’— বললেন সহকারী শিক্ষক কাদের।

    টিসি দিতে স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? কাদেরের উত্তর, ‘অভিভাবকরা পরে যদি টিসি না মানেন, সে জন্য আমরা পরামর্শ করে অঙ্গীকারনামায় সাইন রাখার কথা বলেছি।’

    সিসিটিভির ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদেরের কথা, ‘ওইটা আমি দেখি নাই, অন্য কেউ দেখছে বলে শুনি নাই। হেডস্যার আর ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট শুধু দেখেছেন।’

    স্কুল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার অবশ্য দাবি করছেন, টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নয়। তার ভাষ্য, ‘প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে শুনে আমি সিসিটিভি ফুটেজটা চেয়েছিলাম। সেটি উনি কোনো কারণে পাঠাতে পারেননি। পরে আমি বললাম, এটি এমন কোনো বড় বিষয় নয়, গার্ডিয়ানদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে বাচ্চাদের ছেড়ে দেন। মুচলেকায় কী লিখবে, সেটিও বলে দিয়েছি যে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটাবে না, ভবিষ্যতে ঘটালে টিসি দেওয়া হবে।’

    ইউএনও বললেন, ‘প্রধান শিক্ষক সিরাজুল পরে যে টিসি দিয়েছেন, সেটিও আমি জানতে পেরেছি ১৮ তারিখে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম, টিসি কেন দিলেন? তিনি বললেন, স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজনের চাপে পড়ে টিসি দিয়েছেন। আমার অনুমতি ছাড়া টিসি দেওয়ায় সিরাজুলকে আমি সেদিন শোকজও করেছি। জবাবে তিনি লিখেছেন, স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে টিসি দিয়েছেন।’

    নিখোঁজ থেকে মৃত মারিয়া

    অভিযুক্ত ছেলেবন্ধুর সঙ্গে মেয়েকে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার কথা ১৫ তারিখই প্রথম জানতে পারেন বলে দাবি মারিয়ার মা কামরুন্নাহারের। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘স্কুল থেকে ওই দিন ফোন করে বলে, আমাদের প্রধান শিক্ষক ডেকেছেন। প্রথমে আমার ছেলে মাহিম দেওয়ানকে পাঠাই। ওকে বাসায় ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়, আমাকেই যেতে হবে। তারপর আমি যাই।’


    স্কুলের ছুটির সময় তিনি যান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে। ‘ওইখানে ওই ছেলের মা ছিল, ছেলেটাও ছিল। মারিয়াকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলে টিচাররা বলে, ও নিচে আছে। এরপর হেডস্যার আমাকে অনেক বকাঝকা করে বলে, আমার মেয়ে নাকি এমন কাজ করেছে, যেটি পুলিশে দেওয়ার মতো। কিন্তু কী কাজ করছে, তা আর বলে না। মেয়েকে ডেকে দিতে বললে হেডস্যার বলে, তার নাকি ঠ্যাকা নাই’— বলছিলেন কামরুন্নাহার।

    ‘এরপর আমার আর ওই ছেলের মায়ের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে স্ট্যাম্প পেপার আনিয়ে আমাদের সাইন রাখে। টিসির কাগজ ধরিয়ে দেয়।’

    ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে মেয়েকে খুঁজছিলেন কামরুন্নাহার। ‘ওই ছেলে তখন হুড়োহুড়ি করে স্কুলের গেটের দিকে যাচ্ছিল। ছেলের মা ডেকে বলছিল, এত তাড়া কেন? ছেলে তখন বলছিল, মারিয়া স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ওর সঙ্গে কথা বলব। আমিও ওই ছেলের সঙ্গে বের হই। কিন্তু গেটে মারিয়াকে পাই নাই। এরপর ওই ছেলেসহ আমরা আশপাশে খুঁজি। আমার ছেলেও তখন আসে।’
    ‘বাজারের লোকজন বলল, ওকে নাকি গোপালনগর গ্রামের দিকে যেতে দেখছে। আমরা ওই গ্রামে গিয়ে কয়েকজন মহিলাকে মেয়ের বর্ণনা দিই। ওরা তখন জানায়, তাকে দেখেছে; কিন্তু কোথায় গেছে, তা জানে না।’

    কামরুন্নাহারের ভাষ্য, অনেকটা সময় ওই গ্রামসহ আশপাশে মারিয়াকে খোঁজাখুঁজি করেছেন তিনি। সে সময় মারিয়ার ছেলেবন্ধু তার সঙ্গেই ছিল। তবে ছেলের মা স্কুল থেকেই চলে যান। মেয়েকে কোথাও না পেয়ে ওই ছেলেবন্ধুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান কামরুন্নাহার। তাকে আটকে রেখে মেয়ের কথা জানতে চাওয়া হয়। পরে রাতের দিকে ছেলের লোকজন এসে তাকে নিয়ে যায়।

    দৃশ্যপটে হাজির পাঁচজন

    মারিয়া নিখোঁজ হওয়ার পরদিন থানায় অভিযোগ জানায় তার পরিবার। মা কামরুন্নাহার ও ভাই মাহিমকে নিয়ে থানা পুলিশ যায় তার ছেলেবন্ধুর বাড়িতে। সেখানে দেখা হয় সায়েস্তা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শেখ রাসেলের সঙ্গে।

    কামরুন্নাহার বললেন, ‘রাসেল বারবার বলছিল যে ওরা (রাসেল, ওই ছেলে ও তার মা) আমার মেয়েকে খুঁজে দেবে। আমি যেন চিন্তা না করি। পুলিশকেও তারা বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারিয়াকে খুঁজে এনে দেবে। পরদিন ওদের আবার থানায় ডাকা হয়। তখনো রাসেল আর ওই ছেলের মা বলছিল, তারা খুঁজছে। ওই সময় ছেলেটা (মারিয়ার বন্ধু) আমাকে বারবার ডেকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু রাসেল তাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিল।’

    মারিয়া নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর রাতে এলাকার সুজন, মাসুদ, আলিফ আর ইয়ামিম নামে চারজন বাসায় আসেন বলে জানালেন কামরুন্নাহার। ‘সুজন ওই তিনজনকে নিয়ে এসে বলে, মারিয়া কোথায়, সেটি তারা জানে। ২০ হাজার টাকা দিলে মেয়েকে এনে দেবে। সে নাকি অসুস্থ, তার চিকিৎসা দেওয়া লাগবে। আমি ওদের জিজ্ঞেস করি, আমার মেয়ে দেখতে কেমন? ওরা যেইটা বলল, তা মারিয়ার সঙ্গে মিলে যায়। আমি পাঁচ হাজার টাকা দিই। আমাকে ওদের মোবাইল নম্বরও দিয়ে যায়। আমাকে সাহরাইল বাজারে যেতে বলে।’

    ‘আমি পরে ওই নম্বরে ফোন দিই। তখন ওপাশ থেকে বলে যে এখন আইসেন না। রাত হয়ে গেছে। মেয়ে যেখানে আছে, ওই বাসার মহিলা নাকি বলছে, সে ঘুমাচ্ছে। সকাল হলে নিয়ে যেতে বলে। আমি সারা রাত বাজারের একটা দোকানে বসেছিলাম। সুজনকে বললাম, ওরা তো টাকা নিয়ে আর কিছু জানাইল না। সুজন বলল, সমস্যা নাই, ওরা আমার পরিচিত। ওরা দিয়ে যাবে। আমি পুলিশকে জানাইতে চেয়েছি, কিন্তু সুজন বারবার মানা করছে। সে বলে, পুলিশকে জানালে মারিয়ার ক্ষতি হতে পারে’— একনাগাড়ে বলে যান মারিয়ার মা।

    ভোর ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মাসুদ, আলিফ আর ইয়ামিমকে বাজার এলাকা দিয়ে যেতে দেখেন কামরুন্নাহার। দৌড়ে গিয়ে তাদের আটকে জানতে চান মেয়ের কথা। ‘এই যে মেয়েকে আনতে যাচ্ছি’ বলে দ্রুত চলে যায় ওই যুবকরা— জানালেন মারিয়ার মা। এর পর থেকে তাদের আর তিনি দেখেননি।

    এভাবে ছয় দিন খোঁজাখুঁজি করার পর ২১ জুন জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার কবরস্থানের পাশে ঝোপ থেকে মারিয়ার ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ঝুলছিল গাছের ডালে। গলায় পেঁচানো ওড়না। কোমর থেকে নিচের অংশ ছিল বিচ্ছিন্ন; ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল আশপাশে। স্কুলব্যাগ, ওড়না ও বোরকা দেখে পচে-গলে যাওয়া মরদেহটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করেন তার মা ও ভাই। পরদিন সিংগাইর থানায় ১৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন কামরুন্নাহার।

    সেদিন ও পরদিন মারিয়ার ছেলেবন্ধু, তার মা রুমা ও বড় বোন মীম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও ল্যাব সহকারী ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মো. সুজন, মো. মাসুদ (৩৫) ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রাসেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক।

    গ্রেপ্তারের খবরে রাসেলকে দল থেকে বহিষ্কার করে মানিকগঞ্জ ছাত্রদল। জেলা সংগঠনের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ব্যক্তির কোনো দায় সংগঠন নেবে না। ওর নামে একটা হত্যা মামলা হয়েছে, তাই দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে আমরা জানতে পেরেছি, রাসেলের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে।’

    মারিয়ার মায়ের দাবি, রাসেলের সঙ্গে সুজন ও মাসুদের পরিচয় আছে। দলীয় কাজে তাদের প্রায়ই একসঙ্গে দেখা গেছে।

    ছেলের পরিবার যা বলছে

    মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পরই তার বন্ধু, বন্ধুর মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ছেলেটিকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে। তার মা রুমা ও বোন মীম আছেন মানিকগঞ্জ কারাগারে। মারিয়া হত্যায় তার ছেলেবন্ধু জড়িত— এমন অভিযোগ তুলে এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে গিয়ে পরিবারটির অন্য কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয়কে পাওয়া যায়নি।

    তবে ছেলেটির প্রবাসী বাবা বরকত উল্লাহর সঙ্গে কথা হয় ফোনে। তার ভাষ্য, ‘আমার ছেলের প্রেমের বিষয়ে কিছুই আমি জানতাম না। আমার স্ত্রী ১৫ তারিখ কল করে আমাকে জানায়, স্কুল থেকেই আমার ছেলেকে মারিয়ার ভাই ওদের বাড়িতে ধরে নিয়ে গেছে। রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত ওকে ফেরত দেয় নাই। পরে আমার আত্মীয়রা মারিয়াদের বাড়িতে গিয়ে অনেক বুঝিয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে আসে।’

    ‘ওই দিন থেকে আমার ছেলে বাসাতেই ছিল। পুলিশ আসত, তাকে আর আমার স্ত্রীকে থানায়ও ডাকা হতো। অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পায় নাই দেখেই তো ওদের ছেড়ে দিয়েছিল। ২১ তারিখে আমার ছেলেকে নিয়েই মেয়ের লোকজন লাশ দেখতে যায়। পরে ওইখানে আমার ছেলেকে সবাই অনেক মারধর করে। আমার ছেলে ভয়ে বাঁচার জন্য বলে, আমি কিছু জানি না, আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন’— যোগ করেন তিনি।

    ছেলেটিকে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেখানে তাকে বলতেও শোনা গেছে, ‘আমার মা জানে।’

    ঘটনাস্থল, এজাহার ও পুলিশের ভাষ্য

    সিংগাইরের সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল বাজারে অবস্থান সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের। সেখান থেকে পূর্বদিক কানাইনগর গ্রামে মারিয়ার ছেলেবন্ধুটির বাড়ি। আর উত্তর-পশ্চিম দিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামে বাড়ি মারিয়ার।

    কামরুন্নাহারের কথা অনুযায়ী, ১৫ তারিখ মারিয়াকে স্কুল থেকে বের হয়ে গোপালনগর গ্রামের দিকে যেতে দেখেছেন কেউ কেউ। এজাহার ঘেঁটে জানা গেল, ওই গ্রামে আসামি সুজন, আদনান, স্কুলের ল্যাব সহকারী ইয়াকুব ও আশরাফুলের বাড়ি। আদনান ও আশরাফুল সুজনের পরিচিত বলে জানালেন বাদী।

    অভিযুক্ত কিশোরের বাবার দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই তারা প্রথম মারিয়ার সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। তবে মারিয়ার মায়ের করা মামলায় অভিযোগ, ওই কিশোর অনেক দিন ধরেই মারিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি ছেলেটির পরিবারকে জানানো হলে তারা আমলে না নিয়ে উল্টো মারিয়ার ‘ক্ষতি করার’ হুমকি দিয়েছিল।

    মারিয়ার ভাই মাহিম দেওয়ানের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্কের কথা তাদের জানা নেই। বরং স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জেনেছেন, ‘মারিয়াকে ওই কিশোর নাকি এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল।’ সে কারণেই মামলার এজাহারে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    মাহিম বলছিলেন, ‘মামলার আসামি রাসেল ওই ছেলের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। আমাদের ধারণা, ওই ছেলে (মারিয়ার বন্ধু) সরাসরি হত্যায় জড়িত নাও থাকতে পারে। পুলিশ এতদিনে নিশ্চয়ই সবকিছু জানতে পেরেছে। তবে তারা আমাদের কিছু বলছে না। তাদের আচরণে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, ঘটনাটার শিকড় হয়তো অনেক গভীর।’

    এজাহারে ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়ার উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেহের নিচের অংশ ছিল বিচ্ছিন্ন। তা ছাড়া ডুমুরজাতীয় যে জলডাঙ্গা গাছে দেহটি ঝুলন্ত ছিল, সেখান থেকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে বিচ্ছিন্ন দুই পা পাওয়া যায়। বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামিরা যোগসাজশের মাধ্যমে মারিয়াকে হত্যা করার পর বিচ্ছিন্ন দেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

    তবে স্কুলে টিসি দেওয়ার পরের দীর্ঘ সময় অভিযুক্ত কিশোরের মারিয়ার পরিবারের সঙ্গে থাকার বিষয়টির কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মারিয়ার পরিবার অথবা পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ থানার ওসি থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। প্রশ্নের জবাবে তাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর— ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা। গ্রেপ্তার করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পাওয়া গেল কি না, সে বিষয়ে সবার মুখে কুলুপ।

    জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলছেন, ‘অভিযোগ দেওয়ার কারণেই তো অনেককে অ্যারেস্ট করেছি…। এখন পর্যন্ত মূল ঘটনা জানার তদন্ত চলছে। অ্যারেস্টের বাইরেও জড়িত থাকতে পারে কেউ কেউ। তাদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই কোনো তথ্য আমরা দিচ্ছি না। তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

    তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে পুলিশের প্রাথমিক ধারণার কথা। স্কুলকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ মারিয়ার মৃত্যুর পেছনের কারণ হতে পারে বলেও তাদের সন্দেহ।

    কিশোরী মারিয়ার মৃত্যু অনেক প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের অতিসক্রিয়তা একটি কিশোরীর জীবনের গতিতে যতিচিহ্ন এঁকে দিল কি না— সেই বিতর্ক থেকেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছে না রাজধানীর অদূরের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়।

  • সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

    সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র বিক্ষুব্ধ থাকতে পারে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • পাঁচবিবিতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফল আবু হুরায়রা

    পাঁচবিবিতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফল আবু হুরায়রা

    আঙ্গুর চাষে সফল পাঁচবিবির আবু হোরায়রা

    ডেক্স নিউজ: জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর জয়দেবপুর গ্রামে আঙ্গুর চাষ করে সফলতা পেয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা আবু হুরায়রা। জীবীকার তাগিদে বিদেশ যেতে চাওয়া হুরায়রা এখন বিদেশি জাতের আঙ্গুর বাগান করেই সফল হয়েছে। বাবার ২৫ শতক জমিতে আঙ্গুর বাগান করে লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন তার। প্রতিটি গাছের ডগায় থোকায় থোকায় ঝুলছে অতি মিষ্টি আঙ্গুর ফল।

    উপজেলার সীমান্তবর্তী আয়মারসুলপুর ইউপির উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের আবু হুরায়রা পড়ালেখা শেষে কাজের সন্ধানে ইতালি যেতে চেয়েছিল। বিদেশ না গিয়ে এক প্রবাসীর পরামর্শে আঙ্গুরের বাগান করেন। তার বাগানে লাল-সবুজ রংয়ের আঙ্গুরে নজর কাড়ছে সবার।

    হুরায়রার বাগানে বাইকুনুর, রিলায়েন্স ও ডিক্সন সহ ৫ জাতের ৬০ টি আঙ্গুর চারা রোপন করে। অক্লান্ত পরিশ্রমে ৭ মাসেই প্রতিটি গাছেই আঙ্গুর ধরে। ইতিমধ্যেই আঙ্গুর বিক্রয় শুরু করেছে হুরায়রা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তেমন সহযোগিতা না করলেও জাকস ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা করেছে।

    একই সঙ্গে জাকসের কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন শাহিনের পরামর্শে বাগান করার পাশাপাশি নিজেই বিদেশি আঙ্গুরের চারা উৎপাদন করছেন। শ্রমিক ছাড়াই বাবা ভাইয়ের সহযোগিতায় হুমায়রা আঙ্গুর বাগান করছেন। আবু হুমায়রা এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

    প্রতিদিন আবু হুরায়রার আঙ্গুর বাগান দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এবং জানাচ্ছেন নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।

    পড়ালেখা করে চাকরির পিছনে না ছুটে হুমায়রার মত তরুণ উদ্যোক্তা হতে হবে। তাহলেই কৃষি পণ্যে স্বনির্ভর হবে দেশ সচেতন মহলের এমনটি ধারণা।

    এ এম

  • নতুন পোশাকে পুলিশ

    নতুন পোশাকে পুলিশ

    নতুন ইউনিফর্মে (পোশাক) দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। বুধবার পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নতুন পোশাকে দেখা যায়। আইজিপির পরনে খাকি প্যান্ট আর গাঢ় নীল শার্ট এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের পরনে খাকি প্যান্ট ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট দেখা যায়।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বতী সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিগত অন্তর্বতী সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানায়। গতকালই নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেল পুলিশকে। অবশ্য এখনো সব পুলিশ সদস্য এই পোশাক পাননি।
    অল্প সময়ের মধ্যে সবাই নতুন পোশাক পেয়ে যাবেন জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বুধবার থেকে নতুন পোশাক পরছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে এখনো সব পুলিশ সদস্যের হাতে পৌঁছয়ানি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই পাবেন।

    তিনি জানান, খাকি প্যান্ট ও গাঢ় নীল রংয়ের শার্ট জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটের পুলিশের জন্য এবং খাকি প্যান্ট ও জলপাই রংয়ের শার্ট ব্যবহার করবেন শুধু মহানগর পুলিশ সদস্যরা।

    গত ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে দিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরের আগের পোশাকে ফিরেছে পুলিশ বাহিনী।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটের পুলিশের জন্য হবে গাঢ় নীল রঙের শার্ট। সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের হবে ‘হালকা অলিভ’ (জলপাই) রঙের এবং সকল পুলিশের প্যান্টের রঙ হবে খাকি। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র্যা ব এই পোশাকের আওতামুক্ত থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে পোশাক পরিবর্তন হবে না। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ২২ বছর পর পুলিশের পোশাকে আবারো ফিরেছে ‘খাকি’ রঙ।

  • ভাইয়ের প্রতারণায় ২ কোটি টাকা হারানোর অভিযোগ প্রবাসী ভাইয়ের

    ভাইয়ের প্রতারণায় ২ কোটি টাকা হারানোর অভিযোগ প্রবাসী ভাইয়ের

    ফেনীর দাগনভূঞায় দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী আবুল মনছুর আহাদ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছরের কষ্টার্জিত দুই কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা তার মেজো ভাই আত্মসাৎ করেছেন।

    বুধবার ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

    মনছুর আহাদ উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের বাসিন্দা খায়েজ আহমদের ছেলে।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে উপার্জিত সব সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। তার মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। দেশে ফিরে তার জন্য ফ্ল্যাট, জায়গা এবং ব্যবসার জন্য হাইস গাড়ি কিনে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দেখেন তার পাঠানো অর্থ দিয়ে ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তাকে কোনো সম্পদের মালিকানা কিংবা টাকার হিসাব দেয়া হয়নি। বারবার হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।

    আবুল মনছুর আহাদের দাবি, তিনি তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এনএ কনস্ট্রাকশনের হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকাসহ মোট ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা পাঠিয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, দেশে ফেরার আগে তার হাতে লেখা টাকার হিসাবের একটি চিরকুট ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে রেখে আসেন। দেশে ফিরে সেই হিসাবও তাকে দেয়া হয়নি। বরং পাওনা টাকা ও হিসাব চাইতে গেলে তাকে পৈত্রিক বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।

    আবুল মনছুর আহাদ বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি অর্থহীন, অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবুল মনছুর আহাদ বলেন, ‘প্রবাসে জীবনের সোনালী সময়গুলো পরিবারের সুখের জন্য উৎসর্গ করেছি। আজ সেই কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইতে গিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই, এর বেশি কিছু নয়।’

  • ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: জামায়াত আমির

    ৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে হবে— এমন দাবি তুলেছিলাম সংসদে। এ কারণে অনেক সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কোনো সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করবো না ইনশাআল্লাহ।

    বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রবাসীদের পক্ষে সবসময় জোরালো বক্তব্য রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা এই দাবি ইনশাআল্লাহ জোরালোভাবে উত্থাপন করবো সংসদে। প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন আজ খবর পেলাম যে একদল আমার বিরুদ্ধে খেপে গেছে। আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে। দালাল যারা তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি কি দালালের কোনো তালিকা দিয়েছি? আপনাদের জানামতে আমি কি কোনো সংস্থার কথা বলেছি? তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত কষ্ট লাগে কেন?

    তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়। সারা বিশ্বে আমাদের এই গরিব লোকগুলোকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়। এরপরে তারা প্রতারিত হয়। সেখানে আবার গিয়ে দেখা যায় যে তার ওই ভ্যালিডিটিটাও নেই, জেলে থাকে। তাহলে আমরা কি এগুলা নীরবে গিলবো আর হজম করবো? দেখতে থাকবো? না। এগুলার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কী করতে পারবো, আমরা সংসদের ভিতরে চিৎকার দেবো, আওয়াজ তুলবো। যদি কেউ ভুলের মধ্যে থাকেন এতে তাদের সংশোধনের সুযোগ হবে।

    মুদি দোকানের কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গরিব মানুষ প্রান্তিক ব্যবসায়ী মুদি দোকানদার, তাদের উপরে উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছিল। মানে প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাও আউট হয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল।

    অর্থবছর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা অর্থবছর পরিবর্তনের কথা বলছি। আমাদের দেশে একটা দানব আছে, উন্নয়নের দানব। এটা নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়। শেষের তিন মাস গা ঝাড়া দিয়ে চলে আসে। এসে এমন গতিতে কাজ শুরু করে, ঝড়ের গতি।

    নয় মাসে এডিপি ব্যয় ৪২ শতাংশ, অথচ তিন মাসে ৫০ শতাংশ। তখন কী হয়? বৃষ্টি ঝড়ে জনগণের টাকা পানির সঙ্গে মিশে যায়। লুটপ্ট, অপচয়, হজম। কেন এটা করতে হবে তার কোনো যৌক্তিকতা নাই। আমরা বলেছিলাম আমাদের আবহাওয়া এবং সিজন অনুযায়ী এটা হোক জানুয়ারির এক তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ। তাহলে অন্তত শেষ তিন মাসে দৈত্যের ঘুম ভাঙলেও আমাদের সম্পদ পানিতে ভেসে যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন বিদেশ থেকে আনা সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের উপরে একটা ভালো ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব এসেছে। আমরা এটা তুলে দিতে বলেছিলাম। অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে বললেন যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে ভালো হতো। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। উনারা আশ্বাস দিলেন যে এখন তো আর এটা বিলে আনা যাচ্ছে না।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম, আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে এমপি হোক মন্ত্রী হোক যাই হোক আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনবো না। সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেবো না। কিছু বন্ধু ওই গুড়ের সঙ্গে কিছু লবণ না ছিটাইলে আরাম পায় না। আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি, অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি।

    এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নিবো না, এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা কি সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওইটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে তত সময় উনি এটা ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধীদল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নাই। ছেড়ে দিতে হবে। এটাকে নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়।

    তিনি বলেন, আমরা আরও বলেছিলাম সরকারি সুযোগ সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করবো। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায় এখানে কোনো অপরাধ নাই। তা আমরা সেটা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি। এই যে বাজেটটা এসেছে, বলা হচ্ছে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। কিন্তু আমরা যদি মানি অ্যান্ড মার্কেট ইনফ্লেশনের কথা চিন্তা করি তাহলে এটাকে বড়, সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট বলা যাবে না।

    অনেকটা বাজারের সঙ্গে এটা সংগতিপূর্ণ। বড় বাজেট করা কোনো অপরাধ নয়। একটা জাতির মিশন থাকলে বড় বাজেট লাগবে। চ্যালেঞ্জটা কয়েক জায়গায়, একটা হলো বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা। এর চাইতে বড় হলো দুর্নীতি। এই দুই জায়গায় যদি বড় সংস্কার আনা না যায়, বাজেট হবে কিন্তু বাজেটের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে না। এই বাজেট থেকেই তো ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। যদি এই দুই জিনিসের সংস্কার না হয় আবার যাবে।

    এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা শুধু এনবিআরের না। এনবিআর আমাদের কালেক্টর। কিন্তু এক্সিকিউশন তো এক্সিকিউটিভ ডিপার্টমেন্টেরর ওপর। এর সঙ্গে একদম প্রান্তিক লেভেলে গ্রামের একজন ওয়ার্ড মেম্বার এবং কোনো প্রজেক্ট হয়ে থাকলে সেই প্রজেক্টে জড়িত।

  • নতুন তিন উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন

    নতুন তিন উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন

    চট্টগ্রামে নতুন একটি থানা এবং চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিকার ১২১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি নতুন উপজেলা হচ্ছে— চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরাগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘পাগলা’ উপজেলা। এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার এই বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরোধী দলীয় নেতার এলাকায় সরকারের টিম

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরোধী দলীয় নেতার এলাকায় সরকারের টিম

    ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রধান বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি আসন ঢাকা–১৫ এলাকার চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম পরিদর্শন ও মতবিনিময় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। টিমের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বুধবার (১ জুলাই) দিনব্যাপী পরিদর্শনের শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

    পরে প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আনন্দবাজার খাল, পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন গলি, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

    স্থানীয়রা এ সময় পানির সংকট, গ্যাস সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, অবৈধ দখল, ট্রাফিক জট, মাদক ও কিশোর গ্যাং সমস্যা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

    মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি টিম লিডার হিসেবে আজ এই এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন।

    বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে স্থায়ী সমাধান করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ওয়াসা, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশ্বাস দেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    সভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং ঢাকা–১৫ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে সহায়ক হবে।

    পরিদর্শন ও কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে পুকুরে ডুবে রামিম হোসেন নামে আট বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।
    নিহত রামিম গাংনী উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসি রুহুল আমিনের ছেলে ও গাংনী তালিমুল কোরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ওই মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত হাজি মহসিন আলীর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, রামিম হোসেনসহ তার কয়েকজন বন্ধু পুকুরের পাশ দিয়ে হাটার সময় পা ফঁসকে পড়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
    অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    একই পুকুরে ডুবে এর আগেও দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা

  • নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেনকে (৩২) প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আনোয়ার সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আনোয়ারকে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা জানান, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৩০ হাজার ৩৪২ টাকার বিশদ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভায় এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।

    বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, উন্নত জীবননগর গড়ার লক্ষ্যে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নাগরিকসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিতে বাজেটে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

    ২০২৬-২৭অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭২লাখ ৮০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫২ টাকা। এতে রাজস্ব খাতে প্রারম্ভিক জের রয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪২ টাকা এবং বছরের শেষে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকবে ৯ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা।

    রাজস্ব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় ধরা হয়েছে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, গৃহ ও ভূমি কর: ৮২ লাখ টাকা, হাট-বাজার ইজারা: ৪৮ লাখ টাকা,পেশা, ব্যবসা ও কলিং লাইসেন্স: ৩২ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা: ১ কোটি ২০ লাখ ১৮ হাজার ৩৫২ টাকা।

    বাজেটে উন্নয়ন খাতে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা। উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো-আরইউডিটিপি , কোভিট ১৯ ও টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন।

    এছাড়াও পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত ও সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) আতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন, পৌরসভা পরিচালনা কমিটির সদস্য নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন এবং বিস্তারিত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌরসভার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ । এছাড়াও অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেনস্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক বলেন, জীবননগর পৌরবাসীর কল্যাণে এই বাজেট কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি জীবননগর পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। সকলের সহযোগিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা সুন্দর একটি পৌরসভা উপহার দিতে পারব।

  • কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা আরও কার্যকর করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্প্রসারণে সরকার বদ্ধপরিকর।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনেন। তিনি এলাকার রাস্তা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং কৃষক কার্ড প্রাপ্তির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

    তিনি বলেন, কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ ও সরকার সর্বদা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    এর আগে সোমবার বিকালে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হারভেস্টার সরবরাহ, সার ও উন্নতমানের বীজের সহজলভ্যতা, সেচসুবিধার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার বিষয় ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।

    এ এম

  • ১টি নতুন থানা ও ৩টি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

    ১টি নতুন থানা ও ৩টি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন ৩টি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে গত রোববার জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।

    সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।

    অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

    এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

    এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।

    সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

    প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

  • গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    ধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভেয়নের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

    জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভেয়নের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।

  • বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    পীরগঞ্জে বাদশা মিয়ার সবুজ বিপ্লব

    ডেক্স নিউজ: রংপরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশা মিয়া। কিশোর বয়স থেকে গাছ লাগানোর প্রতি তার আগ্রহ। নিজের জমি না থাকায় যুবক বয়সে বেছে নেন সড়কের দুই ধার, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জায়গা। বিশ বছরে ত্রিশ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। তার এ সবুজায়ন ছড়িয়ে দিতে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে হাজির হন তিনি।সরেজমিন দেখা গেছে, বড়দরগাহ্-মাদারগঞ্জ সড়কের মেষ্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ। ফলের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরনের ফল।

    বাদশা গাছ লাগিয়ে থেমে যাননি বরং নিজস্ব অর্থায়নে সার কীটনাশকসহ প্রতিটি গাছের করেছেন সন্তানের মতো যত্ন। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জীববৈচিত্র্য।

    বাদশা মিয়া বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। তাই আমি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষ বলে গাছগুলো বাদশা লাগিয়েছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। আমার স্বপ্ন-একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে, আর মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, শামীম, ইমরান, রতন বলেন, গ্রীষ্মের দাবদাহে বাদশার লাগানো গাছের ছায়া পথচারীদের স্বস্তি দেয়। পাশাপাশি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে অনেকে খেয়ে থাকেন। শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান বলেন, বাদশা প্রকৃত পরিবেশবন্ধু। তার এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে। আমি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পরিবেশ পদক দেওয়ার অনুরোধ করছি।

    শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে বাদশার মতো মানুষদের উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সবুজায়নের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা অনুকরণীয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদশা একজন বৃক্ষপ্রেমী। তার গাছ লাগানো অব্যাহত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    এ এম

  • যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

    আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’

    সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’

    ‘দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

    আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পানি প্রবাহ, সেচ ব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।’

    কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।’

    কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’

    যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’

    এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।’

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’

    শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

  • দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দুপুরের বিরতিতে অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    মাদারীপুর জেলার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষার্থী বাজেট অধিবেশন দেখতে আসেন। দুপুরে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান ছিলেন তারা। নিজ কার্যালয় থেকে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন।
    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্মরণীয় এই অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়।

    মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বাজেট অধিবেশন দেখতে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডোনাভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং টেকেরহাট পপুলার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
    অধিবেশন দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে সংসদের ইতিহাস, স্থাপত্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

  • এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

    এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। সোমবার এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এর আগে এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহসান হাবিব। ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

    কর্মজীবনে কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আহসান হাবিব। সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আহসান হাবিব।

  • চাকরির জন্য তরুণদের অপেক্ষা করতে হবে না, তারাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে: প্রধানমন্ত্রী

    চাকরির জন্য তরুণদের অপেক্ষা করতে হবে না, তারাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে: প্রধানমন্ত্রী

    বিগত সময়ে স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, ভুল নীতি ও হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, পুঁজিবাজারে সর্বস্ব হারিয়ে সাধারণ মানুষ আত্মহত্যা করেছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে বিগত সরকারের নেওয়া কয়েকটি ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা অহেতুক প্রকল্পের জন্য নেওয়া দেশি-বিদেশি ঋণ এখন জাতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করতে চায় না। তবে সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে।

    সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকটের কারণে যে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল, দেশের সাধারণ মানুষও তা উপলব্ধি করেছে। এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকটকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সরকারকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের মূল দর্শন হলো—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

    ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটকে শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারেক রহমান বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা সচল ও গতিশীল করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

    সরকারি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হলো, সেটিই বড় বিষয় নয়; বরং সেই প্রকল্প মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে এবং কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা।

    অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের তিনটি ধাপের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা হবে। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল, উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয়, যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণেরা তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পান।

    তারেক রহমান বলেন, ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তাঁরা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২৩ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১৬।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১ হাজার ৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২১১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪১ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮০ হাজার ১৯৩ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

    বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

    ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বাহিনীটি তাদের আনসার ব্যাটালিয়নের ২৮তম ব্যাচে ‘সিপাহি (পুরুষ)’ পদে নতুন জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।২৭ জুন থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী
    পদের নাম: সিপাহি (পুরুষ)
    ব্যাচ: ২৮তম শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
    বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে।

    শারীরিক যোগ্যতা

    উচ্চতা: সাধারণ ও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৭৬ মিটার) এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬২৫ মিটার)।

    ওজন: সাধারণ ও অন্য প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম ৪৯.৮৯৫ কেজি (১১০ পাউন্ড) এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৭.১৭৩ কেজি (১০৪ পাউন্ড)।

    বুকের মাপ: সাধারণ ও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি।

    দৃষ্টিশক্তি: প্রার্থীদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি অবশ্যই ৬/৬ হতে হবে।

    বয়সসীমা: আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আবেদনকারীর বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাফিডেভিট বা হলফনামা গ্রহণযোগ্য হবে না।

    আবেদনের শেষ সময়: ১৯ জুলাই ২০২৬

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮, ঢাকা বিভাগে ২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ ও রাজশাহী বিভাগে আটজন রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও তিনজন নারী।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও আটজন নারী।

  • বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে কর কমানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

    বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে কর কমানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

    প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের এই বাজেটকে একটি জাতি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে অভিহিত করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অবস্থার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতের দুঃশাসনের কারণে বিশেষ করে পুঁজিবাজার এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। স্বৈরাচারের সময়ে পুঁজিবাজারে অসহায় মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও ঘটেনি। বর্তমান সরকার এই পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং যোগ্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্রুতই এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেক্টরে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

    দেশের মানুষের পাচার হওয়া লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের মাধ্যমে এই পাচারকৃত সম্পদ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

    রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী করের বোঝা না বাড়িয়ে, হয়রানি কমিয়ে এবং করের ভিত্তি বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর নীতি গ্রহণের কথা বলেন। তিনি এমন একটি রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে করদাতারা কর প্রদান করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গর্ববোধ করবেন। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করার অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা করার অনুরোধ জানান। একইভাবে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের জটিলতা দূর করতে বাজেটে যে বিশেষ বিধান আনা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের বহু ভাষায় পারদর্শী করতে ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে ‘টিন’ দাখিলের প্রস্তাবিত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান তিনি। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

  • ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) রাতে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে জিসানুর রহমানের (৩০) নামে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চার থেকে পাঁচজনকে। জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিতে থাকেন বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা। তবে, জিসানুর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকদল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য সচিব বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলার সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন তিনি।

    মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এর আগেও আপনাকে (জিসানুর) একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘœ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। এছাড়া জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    এ বিষয়ে জিসানুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, ্আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে জিসানুরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, ‘আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব’।
    নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন পেশার মানুষ দাবি করেন, অফিসে যদি সিসিটিভি ফুটেজ থাকে; তাহলে তা পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধের দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯ টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ২০০ বছরের ঐহিত্যবাহী নড়াইল সদরের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে বিএনপিপন্থী প্যানেলের বিজয় হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন-বিএনপিপন্থী প্যানেলের শোভন আহমেদ বাকী বিল্লাহ (১৫৫ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মুরাদ পেয়েছেন ৭৭ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইবাদত শেখ বিজয়ী হয়েছেন (১৪৪ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কিবির হোসেন পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

    ১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নয়টিতে বিএনপিপন্থীরা বিজয় লাভ করেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন-নির্বাচন কমিশনার হলি চাইল্ড কেয়ার হোম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম খান। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন-বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সদর উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র।

    এদিকে, সহসভাপতি পদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আল আমিন মোল্যা ও সহসাধারণ সম্পাদক জালাল শেখ বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আলামিন মোল্যা, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ খান মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক শামীম শেখ, সদস্য সবুর বিশ্বাস, মাসুদ মোল্যা, বখতিয়ার সরদার ও নবীর মোল্যা বিজয়ী হয়েছেন।

    নির্বাচনে ২৪৯ ভোটারের মধ্যে ২৪৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে প্রতিটি পদে দুইজন করে ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতিতে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার আসলাম খান ও প্রিজাইডিং অফিসার সুজন কুমার চন্দ্র।

  • বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। যে চিঠিতে নিজের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

    চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লেখিত হয়নি।

    এদিকে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম পাওয়ার ঘটনা শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রাপ্তি। ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

    ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দু’টি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অপরটিতে মো. আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

    এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ভাষ্য, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএস এর কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।

    তিনি আরও বলেন, অনুদানের টাকাটা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।

  • নিখোঁজের ১ দিন পর ধলাই নদী থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

    নিখোঁজের ১ দিন পর ধলাই নদী থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামে নিখোঁজের এক দিন পর ধলাই নদী থেকে তামিম ইকবাল (৫) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে নিজ বাড়ির সামনে গ্রামীণ সড়কের সংস্কার কাজ দেখছিল তামিম। এ সময় তার শরীরে কাদা ছিটকে পড়লে সে বাড়িতে গিয়ে পরনের টি-শার্ট খুলে আবার বাইরে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। রোববার দুপুরে ধলাই নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

    আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুমের আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কমর উদ্দীন বলেন, খবর পেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন হলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বান্দরবানের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বান্দরবানের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা

    বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে এ বিষয়ে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেন যে, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন তার সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালান। শুধু মার্চ-এপ্রিল মাসে নৌকা চালিয়ে আয় করেছেন ৪৯ হাজার টাকা। যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন সহকর্মীদের বেতন বাবদ। যেখানে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে একটি স্কুল টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে প্রধান শিক্ষক অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। বিষয়টি নজরে আসার পর রাতেই প্রধানমন্ত্রী স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।
    বাজেট বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন, সেই থানচির তিন্দু এলাকার সেই স্কুলটিকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। আজকে মহান সংসদে এ স্লিপটি পাঠিয়েছেন। আমি জানাতে চাই, স্কুলটি জাতীয়করণ করা হবে শিগগিরই।

    ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়লেও অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারেন না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালানো হয়ে পড়ে কঠিন। এই সংকট মোকাবিলায় ছুটির দিনগুলোতে প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান থানচি-তিন্দু–-রেমাক্রী নদীপথে। পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করে যা আয় হয়, তার বড় অংশই চলে যায় শিক্ষকদের বেতনে।

  • হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬১৯ এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭১২।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগে এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবককে গুলি এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া একজনের যাবজ্জীবন এবং অপর পুলিশ সদস্যের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

    আজ রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

    রায়ে রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন ও রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    এ মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন চঞ্চল। তাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে মোটাদাগে তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

    প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনায় এবং তখনকার ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আদেশে আসামিরা নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বাইরে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালান।

    ওই বছরের ১৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার দিকে বনশ্রী এইচ ব্লকে জামে মসজিদের সামনের গলিতে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তখন মো. নাদিম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি পেটে দুটি গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    দ্বিতীয় অভিযোগে কার্নিশে ঝুলে থাকা ১৮ বছরের তরুণ আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও গুরুতর জখম করার ঘটনা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধাওয়া খেয়ে বনশ্রী জামে মসজিদের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। আত্মরক্ষায় তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। ওই তরুণ লাফ না দেওয়ায় পর পর ছয়টি গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।

    মামলার তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ রয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বনশ্রী জি ব্লকে রামপুরা থানার সামনের একটি বাসার নিচতলায় গেটের ভেতরে দাদি-নাতি অবস্থান করছিলেন। আসামিরা যখন ক্রমাগত গুলি চালাচ্ছিল, তখন পুলিশের একটি বুলেট শিশু মুসার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তা সরাসরি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।

    এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ৭ অগাস্ট প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন।

    পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আইসিটি তদন্ত সংস্থার সহকারী পরিচালক সৈয়দ আব্দুর রউফ ৩০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিলেও ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন ১৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে ‘ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স’ জমা দেওয়ার আবেদন করা হলে তা পিছিয়ে যায়।

    গত ১৫ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের জন্য রোববার দিন ঠিক করে দেয়।

  • ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব বিএনপি এমপির

    মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

    ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন। আবার যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

    তাই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার যদি এই নোটগুলো বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন না দেখার কথাও জানান নোয়াখালী–১ আসনে বিএনপির এই সংসদ সদস্য। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে ব্যাংকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষপাতী তিনি।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকা নেই। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলে একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    টাকা পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো যায়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

    নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন দলের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।

    মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়, বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

    মাহবুব উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই বাজেটটি এসেছে। এ কারণেই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

  • ঢাকায় নতুন কমিশনার, কুমিল্লা-সিলেটে নতুন ডিসি

    ঢাকায় নতুন কমিশনার, কুমিল্লা-সিলেটে নতুন ডিসি

    কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি পদে বদলি করেছে সরকার। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোজী আকতারকে কুমিল্লার ডিসি নিয়োগ দিয়ে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    ২১ জুন সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাঁকে বহালের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন হয়েছিল। সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করে তাঁকে ডিসির পদে বহাল করা হবে বলেও গুঞ্জন ছিল।

    ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার

    গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান মিঞাকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

  • ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ১৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

    ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ১৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

    ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ১ হাজার ৩২০ ও নন-ক্যাডার পদে ২০১ জন।

    আজ রোববার বিকেলে পিএসসির জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

  • জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন, ১৮ কোটি মানুষ

    জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন, ১৮ কোটি মানুষ

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘একক কোনও মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না।’
    রোববার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেটের সাধারণ আলোচনা সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    এর আগে জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিরোধীদলীয় নেতার বরাত দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা এই আন্দোলনের সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে বলেছিলেন, আন্দোলনের প্রধান নায়ক তারেক রহমান। কাজেই আজকে যে এই বড় ধরনের বাজেট নিয়ে আপনারা চিন্তিত রয়েছেন আমাদের বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ। আপনাদের এই চিন্তার কোনো কারণ নাই। এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট, এই বাজেট সম্পূর্ণ পূরণ হবে।’

    পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মিল্লাত সাহেব উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। হ্যাঁ আমি বক্তব্য রেখেছি, কিন্তু সময়টা আপনি সঠিকভাবে বলেননি। এই সময়টা ছিল ২৪ সালের এপ্রিল মাস। আর পরিবর্তনটা হয়েছে ২৪ এর আগস্টে। আগস্টের ৫ তারিখের পরে আমার এই বক্তব্য। ওই সময় যাদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাদেরকে সম্মান করি, ভালোবাসি। তাদের এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে। এমনকি ড. ইউনূস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে তিনি মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমিই সেই ব্যক্তি যে, প্রথমে প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনও মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। আমাদের যুব সমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।’

  • নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের হলদা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে সাড়ে তিন বছরের শিশু নুসরাতের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নুসরাত হলদা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শহিদুল্লার মেয়ে।

    নুসরাতের বাবা শহিদুল্লাহ জানান, তার মেয়ে নুসরাত সকালে বাড়িতে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নতুন দালাল ঘর নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করছিলেন। খেলার ফাঁকে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। উঠানে নুসরাতকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তালেব মোল্যা বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারসহ এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রবিবার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

    চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা.হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিভিল সার্জন কাার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা.শামিমা ইয়াসমিন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা.খন্দকার ইমরান হাসিব এবং ইপিআই সুপারভাইজার রেহেনা খাতুনসহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    চুয়াডাঙ্গা এবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ শিশুকে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবো। এরমধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৫ মিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

    জেলার ৮৯৬টি আইটরিচ কেন্দ্রে শিশুদের একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।

  • নড়াইলে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু! এলাকায় চাঞ্চল্য

    নড়াইলে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু! এলাকায় চাঞ্চল্য

    নড়াইল প্রতিনিধি

    সুতাকাটা ঘুড়ি খুঁজতে গিয়ে প্রাণ গেলো স্কুলছাত্র হুসাইনের। ঘটনাটি ঘটেছে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নোয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়ার বিলে। হুসাইন ওই গ্রামের সাবু শেখের ছেলে এবং স্থানীয় শাহবাগ ইউনাইটেড একাডেমির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রবাস থেকে ছুটে এসেছেন তার বাবা।

    পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলে হুসাইনসহ সমবয়সী চারজন মিলে বাড়ির পাশে ফুটবল খেলছিল। এর মধ্যে হুসাইন স্থানীয় দোকান থেকে চকলেট ও কেক নিয়ে বিলের দিকে ঘুড়ি ওড়াতে যায়। হঠাৎ করে সুতা কেটে গেলে ঘুড়ির পেছনে ছুটতে থাকে হুসাইন। এদিকে, ফুটবল খেলা শেষে হুসাইনের সমবয়সী তিনজন বিলের দিকে শাপলা তুলতে যায়। এ সময় তারা দেখতে পায়, বিলের নরম মাটিতে হুসাইন মাথা উপুড় হয়ে পড়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে ভয় ও আতঙ্কে তারা চিৎকার করে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হুসাইনের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

    কালিয়া থানার এসআই দিবাকর সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হুসাইনের গলায় ঘুড়ির সুতা পেচানো ছিল। এছাড়া শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। হুসাইনের মৃত্যুর খবর শুনে তার মালয়েশিয়া প্রবাসী বাবা বাড়িতে এসেছেন। আজ রোববার বিকেলে হুসাইনের দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।

    এদিকে গ্রামবাসীদের অনেকের মন্তব্য, বিকেলবেলা ফাঁকা বিলের মধ্যে ঘুড়ি খুঁজতে যাওয়ার পর হুসাইনকে জি¦নে মেরে ফেলেছে। মাথা মাটির দিকে দিয়ে হুসাইনকে জি¦নে মেরেছে। এ ধরণের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এ মৃত্যুর ঘটনায় হুসাইনের পরিবার, সহপাঠীসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, হুসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো ধরণের অভিযোগ করা হয়নি।

  • এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

    আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    আজ শনিবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

    সভায় শিক্ষামন্ত্রী আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে কেন্দ্রসচিবদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। সভায় বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবেরাও অংশ নেন।

    সভায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮ জেলায় ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন শিক্ষার্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

  • হাবিবুরসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি

    হাবিবুরসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি

    জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল রোববার। রায়ের এ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ‘পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায় ঘোষণা হবে ২৮ জুন। পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ রায় দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩ জন।’

    এ মামলায় অভিযুক্ত মোট পাঁচ আসামির মধ্যে শুধুমাত্র রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি চারজন হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

    এর আগে, গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন প্রথমেই রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

    গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি। এ মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

    গত বছরের ৭ অগাস্ট প্রসিকিউশন এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

  • বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে গুনতে হবে জনপ্রতি ২৫ টাকা

    বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে গুনতে হবে জনপ্রতি ২৫ টাকা

    দেশে এমন অনেক আইন ও আদেশ আছে, বাস্তবে যার প্রয়োগ নেই। ১৯৮৪ সালে জারি করা ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’ এমনই একটি। সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অপচয় রোধ এবং অতিথির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার আদেশটি আবার নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

    ১৯৮৪ সালে জারি করা ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’–এ ২০০৩ সালে সংশোধনী আনা হয়কোলাজ: প্রথম আলো

    দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অপচয় রোধ এবং অতিথির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৯৮৪ সালে ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ১৯৮৪’ (দ্য গেস্ট কন্ট্রোল অর্ডার, ১৯৮৪) জারি করা হয়। দেশের সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অপচয় রুখতে এই আদেশটি জারি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলের ধারাবাহিকতায় এবং ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’-এর ৩ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই বিশেষ এই আদেশটি জারি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

    আদেশটি আবার নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। ২২ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয় রোধে অতীতে ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন’ কার্যকর করার আহ্বান জানান।

    ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’-এ আসলে কি আছে?

    আদেশটি আবার নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমছবি: ভিডিও থেকে

    প্রধান ধারা ও নিয়মাবলি

    ১০০ জনের বেশি অতিথি নিষিদ্ধ: এই আদেশের মূল শর্ত ছিল, কোনো ব্যক্তি বা আয়োজক বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা বা যেকোনো সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে (আয়োজক পরিবার বাদে) চাল বা গমের তৈরি কোনো খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না।

    বিশেষ অনুমতি ও রাজস্ব: বিশেষ কারণে যদি কোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে খাওয়াতেই হয়, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ‘ফরম-এ’-র মাধ্যমে পূর্ব অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। শুধু তা–ই নয়, ১০০ জনের অতিরিক্ত প্রতি অতিথির জন্য সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫ (শুরুতে ছিল ১০) টাকা ফি জমা দিতে হবে।

    তদারকি ও তল্লাশির ক্ষমতা: নিয়ম ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তদারকি করার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা কিংবা জেলা প্রশাসক বা ইউএনও মনোনীত যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    শাস্তি

    ১৯৫৬ সালের মূল আইনের আওতায় এই আদেশ অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়ম ভাঙলে অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং যে স্থানে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে (যেমন কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন হল) তার মালিকের জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

    সংশোধনী

    ২০০৩ সালে এই আদেশে একটি সংশোধনী আনা হয়। মিলাদ মাহফিল, ইফতার পার্টি, কুলখানি, চেহলাম, ওরস বা শ্রাদ্ধের মতো বিশুদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে অতিথির বাধ্যবাধকতা বা অতিরিক্ত ফির আওতামুক্ত করা হয়।

    বর্তমান পরিস্থিতি

    আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা না হলেও যথাযথ প্রয়োগ এবং নজরদারির অভাবে বর্তমানে এটি প্রায় নিষ্ক্রিয়। রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন সেন্টারে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলেও অনুমতি নেওয়া বা ফি দেওয়ার নিয়মটি এখন আর চর্চা করা হয় না।
    দেশে এমন অনেক আইন ও আদেশ আছে, বাস্তবে যার প্রয়োগ নেই।

  • জুলাই থেকে কি মুঠোফোনের দাম আবার বাড়বে?

    জুলাই থেকে কি মুঠোফোনের দাম আবার বাড়বে?

    নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। কারণ, ১ জুলাই থেকে একই ফোন কিনতে কয়েক হাজার টাকা বেশি গুনতে হতে পারে।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুঠোফোন আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্কছাড় দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সাময়িক এই সুবিধার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে করভার বেড়ে যাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মুঠোফোনের খুচরা বাজারে।

    মুঠোফোনের প্রতীকী ছবিছবি: রয়টার্স

    এ নিয়ে মুঠোফোন আমদানিকারকদের সংগঠন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) ১৮ জুন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ না বাড়ানো হলে আমদানি করা মুঠোফোনের ওপর মোট করভার বেড়ে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

    এমআইওবি সূত্র বলছে, করভার বেড়ে গেলে আমদানীকৃত মুঠোফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ, মাদারবোর্ড, সিপিইউ, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বাড়ছে। ফলে মুঠোফোনের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে আমদানি কর বেড়ে গেলে মুঠোফোনের দাম আরও বাড়বে। অনেক ক্রেতা কম দামে ফোন কিনতে আবারও ‘গ্রে মার্কেটের’ দিকে ঝুঁকতে পারেন।

    আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আনা সম্পূর্ণ তৈরি মুঠোফোনের জন্য এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার আমদানীকৃত মুঠোফোনের ওপর কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল। এর ফলে ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অন্যান্য কর মিলিয়ে আমদানি করা মুঠোফোনের ওপর মোট করভার নেমে আসে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে। যার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।

    এদিকে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আনা সম্পূর্ণ তৈরি মুঠোফোনের জন্য এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার।

    বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ‘আনঅফিশিয়াল’ ফোন বিক্রি কমেনি

    গত এক দশকে দেশে মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্প গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কারখানাগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যম দামের ফোন সংযোজন করে থাকে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির অনেক প্রিমিয়াম মডেল স্থানীয়ভাবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। জটিল সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং সীমিত বাজার চাহিদা এর অন্যতম কারণ।

    দেশে ‘অফিশিয়াল’ ও ‘আনঅফিশিয়াল’—এই দুই ধরনের মুঠোফোন বিক্রি হয়। তুলনামূলক কম দামের কারণে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশে আসা ফোনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। তবে এতে বছর বছর রাজস্ব হারায় সরকার। এই প্রবণতা কমাতে চলতি বছরের শুরুতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর ঘোষণা দেয় বিটিআরসি। এর উদ্দেশ্য ছিল অনানুষ্ঠানিক বা গ্রে মার্কেটের ফোন নিয়ন্ত্রণে আনা।

    তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুরের মতে, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়; এটি শিক্ষা, আয়-উপার্জন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার প্রধান মাধ্যম। ফলে এর দাম বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।

    একই সময়ে বৈধভাবে আমদানি করা মুঠোফোনের দাম কমাতে সরকার শুল্কহ্রাসেরও সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, বৈধ ও অবৈধ ফোনের দামের ব্যবধান কমে এলে ক্রেতারা বৈধ পথে আমদানি করা ফোন কিনতে উৎসাহিত হবেন।

    তবে বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যায়নি। শুল্ক কমানোর আগেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা তখন এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছিলেন। অন্যদিকে বন্ধ করা যায়নি আনঅফিশিয়াল মুঠোফোনের বাজারও। রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলে নিয়মিত আনঅফিশিয়াল ফোন বিক্রি হচ্ছে।

    সরকারের দেওয়া সাময়িক শুল্ক-সুবিধা প্রত্যাহার হলে আমদানি পর্যায়ে করের চাপ আবারও বাড়বে। বাজারে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে খুচরা দামে। ফলে দিন শেষে বাড়তি ব্যয়ের সেই বোঝা টানতে হবে গ্রাহককেই। ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়া দামের সঙ্গে নতুন কর যুক্ত হয়ে একটি স্মার্টফোন কিনতে ক্রেতার খরচ আরও বাড়বে।

    এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর। তাঁর মতে, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়; এটি শিক্ষা, আয়-উপার্জন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার প্রধান মাধ্যম। ফলে এর দাম বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।

    ফাহিম মাশরুর প্রথম আলোকে বলেন, স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো মানে ডিজিটাল সেবার প্রবেশাধিকার আরও ব্যয়বহুল করে তোলা। স্মার্টফোনকে ডিজিটাল অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এর ওপর করের চাপ কমানো প্রয়োজন।

  • ফতোয়ার জন্য মাদ্রাসায় যেতে হবে না, সংসদেই দেওয়া হয়: শাহজাহান চৌধুরী

    ফতোয়ার জন্য মাদ্রাসায় যেতে হবে না, সংসদেই দেওয়া হয়: শাহজাহান চৌধুরী

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছেন সরকারি ও বিরোধীদলীয় দলের সংসদ সদস্যরা।

    জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘হাল জামানার মুফতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এখন বলা হচ্ছে ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না, ফতোয়া এখন পার্লামেন্টেই দেওয়া হয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে যারা ইসলামী দল নয় বলে ফতোয়া দিচ্ছেন, তাদের জামায়াত সম্পর্কে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে।

    শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমাদের চট্টগ্রামের আরেক কৃতি সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজকে আমাদের চট্টগ্রামে একটা কথা এসেছে, কয় যে ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না। আমি জিজ্ঞাস করলাম কেন? কয় যে, ফতোয়াতো আপনারদের এই পার্লামেন্টে দেওয়া হয়। ফতোয়া কী রকম, ফখরুল ইসলাম মাননীয় মন্ত্রী, উনি যেমন ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামী কে জানতে হলে একশ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। জামায়াতে ইসলামী কি ইসলামী দল না অন্য কিছু সেটা আর ফতোয়া দেওয়ার দরকার নাই।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘আলিফ বা তা’ না জানা লোক হিসেবে অভিহিত করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, ফতোয়ার জন্য তারা আর হাটহাজারী, পটিয়া বা লালবাগে যাবেন না, বরং এই মহান পার্লামেন্টেই যার কাছ থেকে ফতোয়া পাওয়া যাচ্ছে, তার কাছ থেকেই নেবেন।

    শাহজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্যের পরপরই বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি জামায়াত নেতার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সংসদকে উত্তপ্ত না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নিজেদের কথা নিজেরাই বিচার করা উচিত।

    তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা এবং মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান। স্বাধীনতার ঠিক একদিন আগে কারা বাংলাদেশকে বুদ্ধিজীবীশূন্য করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিল, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আমরা অবশ্যই স্মরণ করব, কিন্তু ১৯৭১ সালকে কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। পাশাপাশি তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবিও জানান।

  • হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন শিশু মারা গেছে। তবে এসময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এসময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।

    তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

    ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) নতুন মহাসচিব হলেন গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। আর সদ্য বিদায় নেওয়া মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে।

    শনিবার (২৭ ‍জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল এন্ড রিসোর্টে আইএবির মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে গাজী আতাউরকে মহাসচিব পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অধিবেশনে পূর্বের কমিটি মেয়াদের আগেই ভেঙে দিয়ে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে কিছু রদবদল আনা হয়েছে।

    ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়তুল্লাহ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে এককভাবে নির্বাচন করা, প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তাসহ কয়েকটি সাংগঠনিক দুর্বলতা উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    গাজী আতাউর এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অধ্যক্ষ ইউনুছ ২০০৮ সাল থেকে টানা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

  • সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদ সদস্যদের স্পিকার

    সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদ সদস্যদের স্পিকার

    জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বাড়তি সময় চেয়ে তাঁকে বিব্রত না করার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেছেন, ‘মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    আজ শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা শুরুর আগে স্পিকার বলেন, ‘হাতে সময় কম থাকায় আজ ও আগামীকাল—এই দুই দিন বাজেটের সাধারণ আলোচনা হবে। এরপর সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে।’

    সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের হুইপরা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময় তিনি সদস্যদের জানিয়ে দেবেন। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।

    অসমাপ্ত বক্তব্য এড়াতে সংসদ সদস্যদের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এমনভাবে কনক্লুড (শেষ) করবেন, যাতে অসমাপ্ত বক্তৃতা দিয়ে আপনাকে বসে যেতে না হয়।’

    স্পিকার আরও বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনের সাফল্যজনক সমাপ্তির জন্য বাধ্য হয়ে আপনাদের সময় স্টিক করতে হচ্ছে। সুতরাং আবারও বলছি, আপনারা অনুরোধ করে বিব্রত করবেন না। যে সময় দেওয়া হবে, ওই সময়ের মধ্যে দয়া করে বক্তব্য শেষ করবেন।’

    এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাতেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন স্পিকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করলে দ্রুত বাজেট আলোচনায় ফেরা সম্ভব হবে।’

    ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। প্রথম বক্তা ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনার সময় ছয় মিনিট। ছয় মিনিটে দয়া করে শেষ করবেন।’

    নির্ধারিত সময় শেষ হলে বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে পরবর্তী বক্তাকে আহ্বান জানান স্পিকার।

    এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় চাইলে স্পিকার বলেন, ‘সময় নাই।’

    পরে ফজলুল হক আবার সময়ের আবেদন করলে স্পিকার বলেন, ‘আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেছি, মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

    পরে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার আগেই সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এক মিনিট বাকি থাকতে সমাপ্ত করবেন, যাতে বক্তব্য সমাপ্ত করতে পারেন।’

    চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও বক্তব্যের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘সাত মিনিট সময় পেয়েছেন, তবে স্পিকারের কাছ থেকে কিছুটা “ম্যাগনানিমিটি” আশা করেছিলেন।’

    জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ গিয়াস উদ্দিন কাদের আবার সময়ের প্রসঙ্গ তুললে স্পিকার বলেন, ‘সময় আপনাদের হুইপরা দেন, আমি দিই না। সাত মিনিটে শেষ করুন, প্লিজ।’

  • গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


    মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে শিক্ষক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৭ জুন) গাংনী উপজেলার চৌগাছা দারুল ইয়াতিম মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবুল হাশেম।

    প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাংনী উপজেলা আমির মোঃ রবিউল ইসলাম।

    বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আল আমিন ইসলাম (বকুল), সেক্রেটারি মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাংনী পৌর শাখার আমির আহসানুল হক।

    কর্মশালায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • নড়াইলে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উত্তর শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে প্রথমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।

    মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার, এনায়েত মোল্যা, মন্টু শেখ, তারা মিয়া সরদার, ফাহাদ সরদারসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইলের শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামের অনেকেই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামটি। এদের আবার অনেকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুক্তগ্রাম হয়ে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

    এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। তবে মাদক কারবারিদের দমন করতে হলে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের ব্যাপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।

    তিনি কঠোর হুশিয়ারি করে বলেন, আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নেই। তারপরও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাকে, তাহলে আমাকে বা পুলিশ সুপার স্যারকে অবগত করলে; অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়-অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তাদেরকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। অনেকের বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এলাকায় অন্যায়-অপকর্ম বন্ধে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি সন্তানকে ভালো ভাবে দেখভাল করতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান পড়ার টেবিলে আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করছে কিনা খোঁজখবর রাখতে হবে। বিলাসিতা না করে সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে।

    এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালিয়া-লোহাগড়া সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুকের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

    আয়োজকরা জানান, গত ৯ জুন সকাল ৬টার দিকে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক বাড়ির পাশের মাঠে গরু বাঁধতে গেলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওই গ্রামের আলমগীর সরদার (৫০), মিজান সরদার (৪৫) বিল্লাল সরদার (৪০), মুন্না সরদার (২৫) জিন্নাহ সরদার (২০), সাগর সরদার (২২), জামাল সরদারসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে (ফারুক) রক্তাক্ত করে। এ হামলায় ফারুকের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

    মাদক বেচাকেনায় বাধা দেয়ায় গোলাম ফারুককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসী। ফারুক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম ফারুক নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ জুন মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

    এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।