জাতীয় সংবাদ

  • বঙ্গোপসাগরে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

    বঙ্গোপসাগরে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

    বঙ্গোপসাগরে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর ফলে ভারতের বিশাখাপত্তনম ও অন্ধ্রপ্রদেশ সংলগ্ন জেলাগুলোর কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হয়। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস এ তথ্য জানায়। ভূমিকম্পের কারণে কোনো হতাহত, বা অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৫টা ৫ মিনিটের দিকে কেঁপে ওঠে উপকূলীয় শহর বিশাখাপত্তনমের কিছু এলাকা। গাজুয়াকা, মঙ্গলাপালেম, সাগর নগর, পেদ্দা ওয়ালটেয়ার, আরিলোভা, এমভিপি কলোনি, আপ্পুঘরসহ অন্যান্য এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হয়।

    ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসিমোলজি জানিয়েছে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সকাল ৫টা ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বঙ্গোপসাগরে কাকিনাডা উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে।

    আনাকাপল্লি, ভিজিয়ানগরম, কাকিনাদা এবং কোনাসীমা জেলার কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

  • সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

    অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব জেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া জেলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

    চট্টগ্রামে বন্যায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি।

    এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সাত জেলায় ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

    এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।

    সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও চাল

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

    একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়।

    চলছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

    মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।


    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

  • স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    স্থানীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

    আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষদিকে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অর্থনীতি, নেতাকর্মীদের স্বাবলম্বী করা এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন—এ বিষয়গুলো কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    দলীয় সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। রাত ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তার হাতে একটি ক্রেস্টও তুলে দেওয়া হয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    অধিকাংশ সদস্যের অভিমত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের উপযোগী সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।

    সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বিবেচনায় রেখে তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন নেতারা।

    দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোর বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করে

    ন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

    বৈঠকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা নেতাকর্মীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দুজন সদস্য বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক নেতাকর্মী চাকরি, ব্যবসা কিংবা জীবিকার সুযোগ হারিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সদস্যদের মতে, আওয়ামী লীগের মতো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে বিএনপি চাকরি দেবে না। কারণ এমন নীতি অনুসরণ করলে অতীতের মতো অনেকের চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিও বৈঠকের আলোচনায় স্থান পায়। বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন,

    সরকার গঠনের পর নানা ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে দলটির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

  • সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

    জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জমির উদ্দিন সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির এক ফেসবুক পোস্টে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতেই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

    জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন এবং ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তার মৃত্যুর সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক শোক বার্তায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জানান।

    এদিকে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় চিফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    এছাড়া আলাদা শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাবেক স্পকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশু মারা গেছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯৬৯টি শিশু।

    রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৬৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৪টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৫৮টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৯০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৭৯। এই সময়ে ৮৪৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৪৩টি শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৪ হাজার ৩৪০ রোগী, যাদের মধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

    বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

    ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো এবং আটকে থাকা অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা চালু করলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশ এখনো আবেদন গ্রহণ, সুদ মওকুফ কিংবা নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানে আসেনি।

    অনেক ব্যাংক ঝুঁকি, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন, আর্থিক ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে খেলাপির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সুবিধা কার্যকরে অনীহা দেখাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

    অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিলেই হবে না। দীর্ঘদিনের মন্দা, উচ্চ সুদের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নগদ অর্থের সংকটে কয়েক শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

    এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে সহজ শর্তে নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না করলে খেলাপি ঋণ আদায়ও সম্ভব হবে না।

    গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে জানায় ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়া হবে। যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতিটি আবেদন ব্যাংক পৃথকভাবে বিবেচনা করবে।

    তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে যেসব ঋণ সম্পূর্ণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলো এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণও এ সুবিধার আওতায় আসবে না। ব্যাংকাররা বলছেন, বহুদিন ধরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। এতে ব্যাংকগুলো নগদ অর্থ ফেরত পাবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। তবে কোনো গ্রাহককে সুবিধা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতার কথা তুলে ধরছেন ব্যাংকাররা। তাদের দাবি, সার্কুলারে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণে সুদ মওকুফের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হয়ে তা নতুন মূলধনের (প্রিন্সিপাল) অংশে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এভাবে সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা ব্যাংক আয় হিসেবে দেখিয়েছে। সেই আয়ের ওপর সরকারকে করও পরিশোধ করা হয়েছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে আয় হিসেবে গণ্য হওয়া সুদের অংশ এখন মওকুফ করা বা ফেরত দেওয়া ব্যাংকের পক্ষে বাস্তবে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেক ব্যাংকার। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বর্তমানে অধিকাংশ খেলাপি শিল্প উদ্যোক্তার হাতে এককালীন ঋণ পরিশোধের মতো অর্থ নেই। অর্থ থাকলে তারা আগে নিজেদের বন্ধ কারখানাই চালু করতেন। তাদের মতে, ব্যবসা সচল না হলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও তৈরি হবে না। তাই ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে।

    শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থায়নের অভাবে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অন্যান্য খাতের হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত এ তহবিলের লক্ষ্য হলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কার্যকর মূলধনের সংকটে থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে নতুন অর্থায়ন দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বন্ধ কারখানার মালিকদের হাতে টাকা থাকলে তারা কারখানাই চালু করত। তাই শুধু এককালীন সুদ মওকুফ করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে নতুন ঋণ দিতে হবে। এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পেলে অনেক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে এবং ব্যাংকের খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এককালীন এক্সিট সুবিধার আবেদন এলে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারেই গ্রাহককে এককালীন ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এককালীন এক্সিট সুবিধার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলো যেন কোনো ধরনের জটিলতায় না পড়ে গ্রাহকদের এ সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি যেসব উদ্যোক্তা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে চান, তারা ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকেও ঋণ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করবে।

    গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আটকে থাকা ঋণের অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত বিষয় ও প্রায়োগিক জটিলতা রয়েছে। সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে নীতিমালাটি আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন এক্সিট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও শুধু ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে কাক্সিক্ষত ফল মিলবে না। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক ঋণ আদায় তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

  • ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

    ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনী শুরু ৩ সেপ্টেম্বর

    দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড মার্কেটপ্লেস বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের (বিটিএম) আয়োজন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।

    শনিবার (১১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

    সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে ক্রমেই আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরো সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে বোটোয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট আয়োজন করছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এ আয়োজন দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

    বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটনের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

    ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসিন ইকবাল জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট-২০২৬ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বিটুসি) কার্যক্রম পৃথক দুটি প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রদর্শকদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকের ব্যবস্থা থাকবে।

    আয়োজকদের মতে, বিটুবি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, সীমান্ত-অতিক্রমী পর্যটন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    অন্যদিকে, বিটুসি প্ল্যাটফর্মে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন গন্তব্য-সংক্রান্ত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভ্রমণ অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও সেবা নিতে পারবেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহসিন ইকবাল, সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পিকআপের ধাক্কায় স্বামী নিহত

    পিকআপের ধাক্কায় স্বামী নিহত

    সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় অটোরিকশাযাত্রী আখদ্দছ আলী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের করমপুর গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আরোহী রিতা আক্তার নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় রিতার স্বামীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া চার স্থানে সড়কে আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা ও গাজীপুরে দুই মোটরসাইকেল আরোহী, বগুড়ায় চালক এবং চট্টগ্রামে প্রাইভেটকার চালক রয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

    গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : নিহত আখদ্দছ আলী উপজেলার পৌর এলাকার ইয়াগুল গ্রামের মৃত তছির আলীর ছেলে। আহত হয়েছেন আখদ্দছের স্ত্রী রোকসানা বেগম, ছেলে মুসেদ আহমদ এবং মেয়ে হুমায়রা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    মধুপুর (টাঙ্গাইল) : শুক্রবার সকালে ধনবাড়ী উপজেলার টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রিতা ভুয়াপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। জামালপুরগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ঢাকাগামী বাসের সংঘর্ষ ঘটে।

    ঢাকা : বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়ায় মোটরসাইকেলে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন মুদি দোকান কর্মচারী হুমায়ুন কবির। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সোহেল নামে তার এক বন্ধু। শুক্রবার ভোরে পোস্তগোলা ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : কালিয়াকৈরে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে চালক বাবুল ঘোষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার লতিপুর এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মোটরসাইকেলচালক বাবুল ঘোষ মানিকগঞ্জের ঘিউর উপজেলার চককস্তা এলাকার সৃষ্ট কান্ত ঘোষের ছেলে। তিনি উপজেলার কালামপুর এলাকায় সপরিবারে ভাড়া থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

    সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : সীতাকুণ্ড উপজেলায় প্রাইভেটকার-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি কারচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীতমুখী লেনে চলে গেলে চট্টগ্রামমুখী কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

    বগুড়া : নন্দীগ্রামে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে চালক আবদুস সালামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার সিংজানি বাজার এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবদুল সালাম রংপুর সদরের মুন্সীপাড়া এলাকার মৃত রুকু মিয়ার ছেলে।

  • মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    মেসি যত দিন চাইবে, তত দিনই সেরা থাকবে: স্কালোনি

    ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এগিয়ে চলেছেন! ফুটবলের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এই বয়সে একজন খেলোয়াড়ের গতি ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আর্জেন্টাইন মহাতারকা যেন এখনও একইভাবে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। আর সেই কারণেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বাস, মেসি যত দিন মাঠে নামবেন, তত দিনই তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশ সময় রোববার (১১ জুলাই) সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি তার অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

    চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রায় মেসির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়টি ছিল তার নেতৃত্ব ও প্রভাবের বড় উদাহরণ। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দল শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। পেশির চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে মাঠে নামার পর সেই সংশয়ের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের সেরাটাই তুলে ধরছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।

    মেসির ফিটনেস প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, তিনি প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় একই মাত্রার পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও নিজের শরীরের প্রতি বিশেষ যত্ন। কোচের মতে, মেসি যখন অনুভব করেন যে তিনি দলের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারছেন, তখন তার মধ্যে এক ধরনের অতিরিক্ত শক্তি কাজ করে এবং তিনি আরও কার্যকর হয়ে ওঠেন।

    বয়সের কারণে মেসির পারফরম্যান্স কমে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন স্কালোনি। তার ভাষায়, যারা মেসিকে কাছ থেকে চেনে না, তারাই হয়তো এমনটা ভাবতে পারে। তবে তিনি বরাবরই বিশ্বাস করেন, মেসি যত দিন খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন, তত দিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখবেন।

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্যও বিশেষ একটি উপলক্ষ। কারণ, অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল।

    বর্তমানে টুর্নামেন্টে ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

    স্কালোনি জানান, প্রতিদিনের অনুশীলনে মেসির নিবেদন এখনো তাকে মুগ্ধ করে। তার মতে, আজকের মেসিকে যারা দেখছে, তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারবে না তরুণ বয়সে বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলার সময় তিনি কতটা বিস্ময়কর ছিলেন।

  • ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখলেন নরওয়ে কোচ

    ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখলেন নরওয়ে কোচ

    কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের আগে নিজেদের নয়, বরং ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাক্কেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, এই লড়াইয়ে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে শেষ আটের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে দুই দল।

    সেই ম্যাচের আগে বিবিসিকে সোলবাক্কেন বলেন, ‘ইংল্যান্ডই ফেবারিট, কিন্তু তারা খুব বড় ব্যবধানে ফেবারিট নয়।’

    পরে সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একই সুরে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ বেশি। তবে আমরাও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে চাপ অনুভব করি। খেলা শুরু হয়ে গেলে খেলোয়াড়রা আর চাপ নিয়ে ভাবে না।’

    শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। দলটিতে মার্টিন ওডেগার্ড ও আরলিং হালান্ডেরমতো প্রিমিয়ার লিগে খেলা তারকারা রয়েছেন।

    নরওয়ে কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাস বিবেচনায় ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড সম্ভবত সবচেয়ে বড় দুই দল, যাদের মুখোমুখি আমরা হতে পারতাম।’

    এই ম্যাচের বিজয়ী আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

  • মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।

    গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

    তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

    মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’

    আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।

    ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

    পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।

    আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

  • বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    শনিবার (১১ জুলাই) অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো: মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    এর আগে, ১০ জুলাই রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা বজায় রাখতে, প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ সাত দফা বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন এবং তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করতে হবে।

    বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একইসাথে বন্যা মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

    এ লক্ষ্যে আগামী ১২ জুলাই বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম তুলে ধরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
    এছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।

    বন্যাকবলিত উপজেলা ও জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

  • গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

    তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।

    সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বাসটার্মিনালের চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ভবনে এ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি মহাসিন এমদাদুল্লাহ জামেনের উপস্থাপনায় ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ শ্রমিক ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান , চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রুহুল আমিন এমপি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি ও মেহেরপুর বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল ।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেহেরপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কাশেম লিটনসহ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের জন্য শ্রমিকদের অনেক অবদান রয়েছে। এই দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা আমাদের সেই শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে আন্তরিক ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন; এটা আমরা কখনো দেখিনি। যার জন্য সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

    শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরী ৩০ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে শিল্পখাতে শ্রমিকদের সর্বনিন্ম মজুরী সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে একটি পরিবার কিভাবে চলবে।

    বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করতে হবে।শ্রমিকদের অসম্মান করা যাবে না তাদের সম্মান করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরী, চিকিৎসা সেবা,শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ সরকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • নলডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নলডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নাটোরের নলডাঙ্গায় পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা: ফাতেমা খাতুন (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটরি পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু ফাতেমা খাতুন নলডাঙ্গা পৌরসভার কুটিরপাড়া এলাকার মো: ফিরোজ হোসেনের মেয়ে।

    পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় ফাতেমা। পরে বাড়িতে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নলডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নূরে আলম বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ নলডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত রয়েছে। নিহত শিশুটির পরিবারের সাথে কথা বলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জুলাই নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ফান্ড না দেয়, তাহলে আমি নিজের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই ফান্ডে টাকা দেব।’ যোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফান্ডের জন্য প্রয়োজনে আমার রক্ত বিক্রি করতেও দ্বিধা করব না।’

    শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বা ‘সিডিআই’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে সঠিক ইতিহাসের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই জরুরি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

    জুলাই বিপ্লবকে একটি মহাকাব্যিক বিপ্লব এবং অসম মহাযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একপক্ষ অস্ত্র এবং অন্যপক্ষ বুককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ তিনি হাসপাতালে আহতদের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, যার ফলে আহতদের অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং ড্রেসিংয়ের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

  • হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন। পরবর্তী সরকার এসে বিচার করবে।’

    শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশের মানুষ চাঁদাবাজি করে না। যারা চাঁদাবাজি করে, তারা জনগণের কষ্ট কিভাবে বুঝবে।’

    বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ‘তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করলেও বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি ঘোষণা করেন, আগামীতে ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’ এছাড়া সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বিজিবি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানান।

    জামায়াত আমির রংপুর বিভাগকে ‘কৃষির রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি আলু চাষীদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে হিমাগারে প্রতি বস্তা আলুর জন্য ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে যা কৃষকদের ওপর জুলুম। তিনি আলুর বস্তা রাখার খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।তিনি অঙ্গীকার করেন, ১১ দলের সরকার গঠিত হলে দেশে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজের জায়গা হবে না। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত হন, তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

  • রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে; বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই।’

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি রংপুরবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সন্তান আবু সাঈদ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের যে বার্তা দিয়েছেন, তা হলো—দেশের জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিতে হবে। কারও তাঁবেদারি করে থাকবেন না।’

    কর্নেল অলি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সুন্দর কবিতা শোনালেন—একই আকাশ, একই বাতাস। যদি আমাদের জন্য এতই আপনার মায়া হয়, চারিদিকে কাঁটাতার কেন দিলেন? আমাদের জন্য যদি এতই প্রীতি হয়, কেন প্রত্যেকদিন পুশইন করছেন? আমরা কেন ফারাক্কায় পানি পাচ্ছি না? তিস্তায় পানি পাচ্ছি না? আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলো আছে, এগুলো থেকে পানি কেন আসছে না?’

    ‘আমরা যখন উড়োজাহাজ কিনি, আপনাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আপনারা যখন প্লেন কেনেন, বড় বড় জাহাজ কেনেন, আমরা তো কিছু বলি না। আমরা দেশের প্রয়োজনে ট্যাঙ্ক কিনব, আর্টিলারি কিনব, এটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত।’

    অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাস নই। আপনাদের দাসী তো আপনাদের কাছে চলে গেছে। এখন তো দাসী এখানে নেই। যদি আমাদের সাথে সুসম্পর্ক করতে চান, কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে নিন, পুশইন বন্ধ করুন। আর কখনো বলবেন না—রংপুর দখল করবেন।’

    ‘আপনারা যদি বলেন, রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব, কলকাতা দখল করব। আগের দিন শেষ। এখন নতুন জমানা শুরু। বাংলাদেশের এখন আপনার দাসীর রাজত্ব নেই। এই দাস-দাসীরা আর কখনও বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না।’

  • শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের  মৃতদেহ উদ্ধার 

    শ্বশুরবাড়ির ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার 

    পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিন খান (২০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী পুকুরের ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকার মসজিদের পাশে থেকে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

    নিহত তুহিন খান সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খানের ছেলে। শ্বশুরের নাম আবতার হোসেন। তিনি নলদহ লালগোলা এলাকার দুবাই প্রবাসী। স্ত্রীর নাম আফসানা খাতুন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার তুহিন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী আফসানার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। স্থানীয়রা সকালে পুকুরের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে পুলিশের দাবি, তিনি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের নেশায় আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শ্বশুর বাড়ি এসে নেশাদ্রব্য খাওয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হয়েছিল।

    পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তুহিন মসজিদের বারান্দায় রাতে আত্মহত্যা করেছেন। রাত ২টার দিকে আমরা খবর পাই। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সকালে মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা তদন্ত করা হবে। এরপরই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

  • চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষণা

    চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষণা

    ব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধ ঘিরে ভূমিকম্পের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ভারত-বাংলাদেশ

    তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের (ইয়ারলুং সাংপো) ওপর নির্মাণাধীন বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের একদল ভূতাত্ত্বিক। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, এই মেগা বাঁধের ঠিক নিচেই রয়েছে একটি সক্রিয় ভূ-ফাটল (ফল্ট লাইন), যা ভবিষ্যতে বাঁধটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উজানে চীনের এই বিশাল বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশে উদ্বেগ রয়েছে।

    গত মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে’র তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত চীনা ভাষার সাময়িকী ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’তে এ গবেষণা প্রকাশিত হয়।

    এতে বলা হয়েছে, পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের পাইজেন ফল্ট বরফ যুগের প্লাইস্টোসিন সময়কাল থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়। এই ফল্টের অবস্থান বাঁধের জলাধার এলাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় এটি শুধু বাঁধই নয়, আশপাশের সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে।

    গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন সেন্টার এবং মিডল ইয়ারলুং সাংপো রিভার ন্যাচারাল রিসোর্সেস অবজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ স্টেশনের ভূতাত্ত্বিকরা।

    গবেষকরা জানান, পাইজেন ফল্টের দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয়তার কারণে আশপাশের শিলাস্তরে অসংখ্য ফাটল তৈরি হয়েছে এবং সেগুলোর যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মাটি ও শিলার ধারণক্ষমতা এবং স্থিতিশীলতা আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব বড় প্রকৌশল প্রকল্পগুলোর ভিত্তির ওপরও পড়তে পারে।

    গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পাইজেন এলাকা ইয়ারলুং সাংপো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধার অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থিত। এখানকার ভূমির গঠন আলগা এবং মাটির সংযোজন শক্তি তুলনামূলকভাবে কম। ফলে দীর্ঘ সময় জলাধারের পানির নিচে থাকার পাশাপাশি ফল্ট লাইনের নড়াচড়া কিংবা ভূমিকম্পের প্রভাবে দুই পাশের পাহাড়ি ঢাল সহজেই অস্থিতিশীল হয়ে ভূমিধস বা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

    এ কারণে গবেষকরা প্রকৌশলীদের ঢালের স্থিতিশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত শক্তিশালীকরণ, রিটেইনিং ওয়াল বা প্রতিরোধমূলক দেয়াল নির্মাণ এবং ভূমিধস প্রতিরোধে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। তাদের মতে, নির্মাণ ও পরিচালনার পুরো সময়জুড়েই এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

    চীন গত বছর তিব্বত মালভূমিতে এই মেগা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থ্রি গর্জেস বাঁধের উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় তিন গুণ।

    ইয়ারলুং সাংপো নদী তিব্বত ছেড়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসামে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত হয়। পরে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়। এ কারণে উজানে চীনের এই বিশাল বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, পানির প্রবাহ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং ভাটির দেশগুলোর পানি নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পাইজেন এলাকা হিমালয়ের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এখানে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ফলে ইয়ারলুং সাংপো নদীর আশপাশে একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চল গড়ে উঠেছে।

    ভূতাত্ত্বিকদের তথ্য অনুযায়ী, পাইজেন ফল্টটি প্লাইস্টোসিন যুগের শুরু থেকেই সক্রিয় এবং বর্তমান হলোসিন যুগেও এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রাচীন হ্রদের পলিমাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও এই ফল্ট সক্রিয় ছিল।

    গবেষকরা ২০১৭ সালে তিব্বতের মিলিন এলাকায় সংঘটিত ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ওই ভূমিকম্প পাইজেন ফল্টের উত্তর প্রান্তে সংঘটিত হয়েছিল, যা এখনো এই ফল্টের শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।

    গবেষণাপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ভূমিকম্পের প্রভাবে সহজেই ভূমিধস ও পাহাড়ধসের মতো দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। এতে বাঁধ, সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সেখানে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তাই নির্মাণ ও পরিচালনার প্রতিটি ধাপে কাঠামোগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা।

  • লালমোহনে কারেন্ট জাল জব্দ

    লালমোহনে কারেন্ট জাল জব্দ

    ভোলার লালমোহনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে লালমোহন কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বদরপুর ধুমকেতু আবাসনসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে সন্দেহভাজন তিনটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ১৪২ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

    কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জালের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    পরে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে জব্দ করা কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়।

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. সালমান বিন শওকত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পিকআপের ধাক্কায় আমির হোসেন (৪২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমির হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়।

    স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার ভোরে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দিনাজপুরগামী একটি পিকআপ পেছন দিক থেকে এসে ওই বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ভেতরে থাকা চালক আমির হোসেন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের ভেতর থেকে নিহত চালককে উদ্ধার করেন।

    দুর্ঘটনার পর কিছু সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সেইসাথে বাস ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।

  • জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

    জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

    জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে দুই নারীসহ তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ।

    তবে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিজিবি’র কঠোর তৎপরতায় বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    আজ শনিবার ভোর ৪টার দিকে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর এলাকার ২৭৫/৮ এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে একজন বৃদ্ধ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

    স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ ভোররাতে সীমান্তের লাইটপোস্টের আলো নিভিয়ে দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিনজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্তের পাহারায় থাকা স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটকে দেয় এবং বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান জোরালো করে।

    আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক বৃদ্ধের নাম হাফিজুর রহমান (৬৫)। তার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তার সাথে থাকা দুই নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয় ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে বিএসএফ তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে তা প্রতিহত করে। পরে বিজিবিকে বিষয়টি জানানো হয়।

    সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা ওই তিন ব্যক্তিসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) অবস্থান করছেন।

    পত্নীতলা ১৪ বিজিবির সহকারী পরিচালক হাসানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ও তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১১ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ২২ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৪ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯২ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা

    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৯ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ  গ্রেফতার -১

    চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ গ্রেফতার -১

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামাল হোসেন ভুঁইয়া নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক আকাশ গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার কামাল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমানগন্ডা গ্রামে কামালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামালকে গ্রেফতার করা হয়।

    এসআই তারেক আকাশ বলেন, ‘মাদকসহ কামাল ভুঁইয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

  • প্রতি ডিমে ৪ টাকা লোকসান, দাবি খামারিদের

    প্রতি ডিমে ৪ টাকা লোকসান, দাবি খামারিদের

    খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা হলেও বিক্রয়মূল্য ৬ টাকা। ফলে প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন খামারিরা। যদিও ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম ১০ টাকার বেশি।

    এ পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য ডিমের লাভজনক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, দেশের সব পোলট্রি খামারিদের নিয়ে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।

    আজ শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী এ দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান ও বিপিআইএয়ের যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদার বক্তব্য দেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারিদের নিয়ে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এতে খামারিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেনে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে তার চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁরা প্রতিদিন লোকসান গুনছেন এবং ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি। আবার এই খাতে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যদিও প্রতিযোগী দেশগুলোতে তা আরও কম বলা জানান এ উদ্যোক্তা।

    বিপিআইএর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে মাছ, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ, টিকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পোলট্রি–শিল্পের মূল চালিকা শক্তি প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। গত ৫ বছরে ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

    তাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধান ও আখের মতো ডিমের ক্ষেত্রেও ন্যায্যমূল্য বা ‘ফেয়ার প্রাইস’–ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এমন মূল্য নির্ধারণ করা, যাতে খামারিরা ন্যূনতম মুনাফা পেয়ে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।

    জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল পোলট্রি ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। বিপিআইএর দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত খামারির সংখ্যা, উৎপাদন, চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রকৃত খামারিদের কাছে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

    সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান বলেন, ‘খামারিদের ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তার সঙ্গে খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে আছে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; আমরা এটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি।’ প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালে এমন কর নেই বলে জানান তিনি।

    বিপিআইএর দাবি, প্রত্যেক নিবন্ধিত খামারির জন্য ফার্মার আইডি চালু করা হোক। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা, স্বল্পসুদে ঋণ, টিকা, খাদ্যসহায়তা এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    চলতি অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি বলছে, এ বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জুলাই সংস্করণে মূল্যস্ফীতির এই পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সেখানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হবে।

    এডিবি বলছে, দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    বাংলাদেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ হিসাবে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

    এমন পরিস্থিতিতে এডিবির পূর্বাভাস হলো চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এসব দেশ পরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও বাংলাদেশ সেভাবে পারেনি। টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

    প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয়। ১২ মাসের মূল্যস্ফীতি দিয়ে পুরো বছরের গড় চিত্র দেখানো হয়। এতে ওই বছরের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা জানা যায়।

    মূল্যস্ফীতি জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে

    মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানের খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। তবে চালের দামও বাড়তি।

    গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ ও জাতীয় গড় মজুরি হার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মানে হলো, যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।

    মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।

    অন্য দেশে মূল্যস্ফীতি কত

    এডিবির পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হতে পারে। ওই দেশে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আফগানিস্তানের মূল্যস্ফীতি হতে পারে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস হলো ৪ শতাংশ। আর নেপালের জন্য পূর্বাভাস হলো ৫ শতাংশ।

    ২০২৩ সালের দিকে শ্রীলঙ্কার ৭৩ শতাংশ ও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠেছিল। তখন ওই দুটি দেশ নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়।

    বাংলাদেশে কেন বেশি

    বাংলাদেশে কেন গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে। কারণ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বিতীয় দফার প্রভাব, বিনিময় হার সমন্বয়ের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    এডিবি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সীমিত করছে। দুর্বল রপ্তানি ও আমদানির মাঝারি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহের দিক থেকে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে চাপে থাকবে। অন্যদিকে সারের ঘাটতির কারণে কৃষি খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে রেমিট্যান্সনির্ভর পারিবারিক আয়ের কারণে সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা সহায়তা করবে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

    রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ান খেলার মাঠে এ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি বা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জনসচেতনতামূলক একটি র‍্যালি খিলগাঁও, দক্ষিণ গোড়ান ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে স্থানীয় নেতা, সেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

  • তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

    তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

    শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারেন না এবং পাকিস্তান ভাঙতে তার কোনো অবদান থাকুক, তা তিনি চান না। এ কারণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, এটিই প্রকৃত সত্য।

    মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ভিত্তিতে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা ছিল অন্যায়।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চান এবং নিজেদের দলের নেতার বাইরে অন্য কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

    আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই ছিল ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি।

    সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান তাকে এ রেজিমেন্টে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

    এ সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে চিরাচরিত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

  • ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতী গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে ৩২০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ১১ জুলাই শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব এ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামুলক কোন কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝড়ছে দাবি করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবন রক্ষায় ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭শিক্ষার্থী নিহত ও ১১আহত হয়েছে। মার্চ মাসে

    ৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭শিক্ষার্থী নিহত ও ০১ জন আহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫১টি সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে। জুন মাসে ৫৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।

    সড়কে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

    ১.পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচতেনতামূলক পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করা।

    ২.প্রতিমাসে কমপক্ষে ০১ বার কমন রুমে ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

    ৩.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি সড়ক পারপারের স্পটে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীদের পারাপার স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাঁটানো।

    ৪.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে “রোড সেইফটি গার্ড” লাল পতাকা হাতে নিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।

    ৫.প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

  • কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

    কক্সবাজারে বন্যায় ২৪ জনের প্রাণহানি

    টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী উপজেলাসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও কোমর পরিমাণ পানি ঢুকে গেছে বাড়িঘরে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে এসেছে। তবে বৃষ্টি কমলেও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।

    এদিকে বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে চকরিয়া হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা ও শাওরিন মনি নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও তাদের বাবা আব্দুল মালেক, তার স্ত্রী ও আরেক সন্তান প্রাণে বেঁচে গেছেন।

    অপরদিকে টানা ছয় দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় জেলার বন্যাকবলিত এলাকার সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।

    শুক্রবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমে এলেও কক্সবাজারের দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি দ্বিতীয় দিনের মতো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    এই দুর্যোগে জেলায় অতিবৃষ্টিপাতে পাহাড়ধস, দেয়ালচাপা ও পানিতে ডুবে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গেলো পাঁচ দিনের এ ঘটনায় শুধু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বিশজনের অধিক মানুষ।

    গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো সড়কে পানি উঠে পড়ায় যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

    স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টানা বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা।

    প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে টইটং ইউনিয়নের হাজীবাজার ও সোনাইছড়ি, শিলখালী ইউনিয়নের হেদায়াতাবাদ, মাঝেরঘোনা, কাছারীমোড়া ও পেঠান মাতবরপাড়া, রাজাখালীর বামুলাপাড়া, মৌলভীপাড়া, উলুডিয়াপাড়া, মগনামার শরৎঘোনা, পশ্চিম বাজারপাড়া, ধারিয়াখালী, ধরদরীঘোনা, মটকাভাঙা, চেরাংঘোনা, মরিচ্যাদিয়া, রঙ্গিয়াখালী, মগঘোনা, মাঝিরপাড়া ও মৌলভীপাড়া, উজানটিয়ার মিয়াপাড়া, সাবখালীপাড়া, ঘোষলপাড়া, পেকুয়ারচর ও পেরাসিংগাপাড়া, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মোরারপাড়া, সৈকতপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও পশ্চিম গোয়াখালী এবং বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রাম।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরিবারে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    পেকুয়া উপজেলা বিএনপির

    সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ সাংবাদিকদের বলেন, নবগঠিত পেকুয়া পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পেকুয়া বাজারের জেনারেল হাসপাতাল থেকে বাজারের পশ্চিম মাথা পর্যন্ত কহেলখালী খালের প্রয়োজনীয় জায়গায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও খুলে দেয়া হয়েছে প্রবাহমান খালের ওয়াপদা সংলগ্ন স্লুইচ গেট।

    পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অন্যদিকে চকরিয়া কাকারা ফাহাশিয়া খালী লক্ষেশ্বর করইয়া ঘোনা বমুবিলছড়ি চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি চকরিয়া সরকারি কলেজেও হাঁটু পরিমাণ পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ক্লাসসহ দাপ্তরিক কাজ করতে পারছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    আশ্রয়ে যাওয়া হলো না, নৌকা উল্টে দুই বোনের মৃত্যু

    বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল আবদুল মালেক পরিবারের। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল মৃত্যুর ফাঁদ। ঝড়ো বাতাসে ডিঙি নৌকা উল্টে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা ও ৭ বছর বয়সী শাওরিন মনি। টানা চার ঘণ্টার উদ্বেগ, কান্না আর অপেক্ষার পর অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে।

    শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে। মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শাওরিন মনিকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    নিহত হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১৩) ও শাওরিন মনি (৭) ওই এলাকার কৃষক আবদুল মালেকের মেয়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বাড়ির চারপাশ তলিয়ে যায়। পানি বাড়তে থাকায় স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আবদুল মালেক। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিয়ে একটি ছোট ডিঙি নৌকায় রওনা হন তারা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঝড়ো বাতাসে নৌকাটি ডুবে যায়।

    এদিকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়।

    পরিবারের সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করে বাঁচতে সক্ষম হলেও স্রোতের পানিতে ভেসে যায় কিশোরী ঝর্ণা। তার মা লাকি আক্তার (৩১) এবং দুই বোন জেরিন মনি (৯) ও শাওরিন মনি (৭) সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও ঝর্ণাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দল এনে পানির নিচে তল্লাশি চালানো হয়।

    চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার পানিতে নৌকাডুবির ঘটনায় এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পরে ডুবুরি দলের সহায়তায় প্রায় ৪ ঘণ্টা পর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাইছার উদ্দিন বলেন, পরিবারটি শুধু নিরাপদ জায়গায় যেতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যে সেই যাত্রাই তাদের জীবনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ঘটনায় আহত দুই বোন জেরিন মনি ও শাওরিন মনিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু

    টানা বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার জেলায় গত পাঁচদিনে পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা পড়ে ও বন্যার পানিতে ডুবে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাঁচ দফা পাহাড় ধসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া কক্সবাজার শহরে দুজন, চকরিয়া উপজেলায় তিনজন, পেকুয়া উপজেলায় একজন, উখিয়ার মরিচ্ছা এলাকায় একজন, মহেশখালী উপজেলায় একজন ও কুতুবদিয়া উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন পাহাড় ধসে ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান।

    রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। যাদের মধ্যে গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় পাহাড় ধসে ৫ শিশু শিক্ষার্থী মারা যায়।

    এদিকে বৃহস্পতিবার দিনপূর্ব রাত দেড়টার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটার ডবলতলী এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই শিশু মারা যায়।

    দুই নদীর পানি দুই দিন ধরে বিপৎসীমার উপরে

    কক্সবাজার জেলার দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি অতিবৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দিনের মতো বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।

    কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর দ্বিতীয় দিনের মতো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    বাঁকখালী নদীর বিপদসীমা ৫ দশমিক ৭৯ মিটার ও মাতামুহুরী নদীর বিপদসীমা ৫ দশমিক ৮০ মিটার বলে জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি জানান, জেলার কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছিল।

    পাঁচ দিনে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

    কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেলো ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    ইতোপূর্বে গত রোববার থেকে টানা ৫ দিনে ক

    ক্সবাজার জেলায় ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

    জেলা প্রশাসনের সতর্কতা

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় যে কোনো ধরনের প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সময়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

  • ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ‘স্পেন-ফ্রান্স সেমিই আসল ফাইনাল’

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামকে। ফুটবলপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’ বলে মনে করছেন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। তার বিশ্বাস, এই ম্যাচের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিতে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আসে স্পেন। আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

    বেলজিয়ামের বিদায়ের ম্যাচে শেষদিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় কর্তোয়াকে। তার পরিবর্তে নামা সেনে ল্যামেন্সের উপস্থিতিতেই স্পেন জয়সূচক গোলটি করে। ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক।

    কর্তোয়া বলেন, “আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেনই ফেভারিট। তারা ফ্রান্স কিংবা অন্য যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, সেটি তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পেনের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি। অনেকে যেমনটা ভেবেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছি।”

    পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুতগতির পাসিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তারা নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

  • বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

    বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

    ডেস্ক নিউজ : বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাক। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

    ‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

    ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

    ত্রাণ বিতরণ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি। যে বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেগুলো দেখতে নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন, কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে তুলে দেন সহায়তা, কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

    গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

    লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন। সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।

    স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।

    একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটা শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিলেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

    তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

    সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।

    বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ তার সঙ্গে হাত মেলাতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ শুধু নিজের ক্ষতির কথা বলতে চান।

    পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একই ডাক ‘দাদু আসছে… দাদু আসছে…’

  • আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    যশোর আদালত চত্বরে প্রেমিকার কপালে প্রকাশ্যেই সিঁদুর পরিয়ে দেন এক যুবক। তবে এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তরুণী। মুহূর্তেই দুজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে যশোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোর্ট ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জানা গেছে, তরুণীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় এবং যুবকের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া গ্রামে।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে নয় বছরের প্রেম। বিকেলে দুজন যশোরের পুরাতন পরিত্যক্ত জজ আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

    একপর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে রাখা একটি পলিথিনে থাকা সিঁদুর বের করে যুবক হঠাৎ করে তরুণীর কপালে পরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তরুণী প্রতিবাদ করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি দেখে এক আইনজীবী কোর্ট ইন্সপেক্টরকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নেওয়া হয়। পরে তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুজনকেই থানায় আনা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর-কুমারীদহ সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের ফলে জয়রামপুর কাঁঠালতলা মসজিদের পেছনের সড়কের নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে প্রায় ১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে এবং সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    কুমারীদহ গ্রামের বাসিন্দা মসলেম আলী বলেন, রাতভর বৃষ্টির পর সকালে উঠে দেখেন সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু শেখ জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়ক ধসে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম মিলন বলেন, জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, সড়ক ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

  • ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

    ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

    নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরছে সংবিধানে। গতকাল বৃহস্পতিবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এ রায়কে ঐতিহাসিক ও দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকসহ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা।

    রায়ের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ রুদ্ধ হলো। সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান অন্তর্ভুক্ত হবে।আইনজীবীরা জানান, গ্রহণযোগ্য ও কাঙ্ক্ষিত মানের নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা হচ্ছে সর্বজনস্বীকৃত ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার অধীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার এটিকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তারই প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন। অবসরে গিয়ে এমন রায় দেওয়ার ঘটনাকে ইতিহাসের ঘৃণ্য ও জঘন্যতম নজির বলে উল্লেখ করেন আইনজীবীরা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার বহুল বিতর্কিত এ রায়কে পুঁজি করে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও হাসিনার পলায়নের পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনর্বহালের আদেশ দেয়। গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বিচারপতির ফুল আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেয়।

    স্বৈরাচারের ফেরার পথ রুদ্ধ হলো

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে রায়ের পর আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাল্লাহ। এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এটা বিএনপির দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের ফসল। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল, মানুষ যেন তার নিজের ভোট নিজে দিতে পারে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম, বিতর্কিত বিচারপতি খায়রুল হকের এ-সংক্রান্ত রায় ছিল সংবিধানপরিপন্থী। হাইকোর্ট বিভাগ ওই সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। আমরা এ রায় ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

    তিনি বলেন, রায়ে যে ৫৪টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার সবকটি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অ্যাড্রেস করব। এক্ষেত্রে আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই সনদ। জুলাই জাতীয় সনদ সামনে রেখে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যা যা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, সব করা হবে।

    জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে

    অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে যখন রিট করা হয়, তখন হাইকোর্ট চারটি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা, গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানে ৭(ক), ৭(খ) বাতিলের রায় বহাল থাকল। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।

    তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতির পাশাপাশি সংবিধানে জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বাদ দেওয়াসংক্রান্ত ওই সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই দুটিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

    হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যরা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

    এরপর আপিল বিভাগ গত বছরের ১৩ নভেম্বর লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আদেশ দেয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়, যা বৃহস্পতিবার খারিজ হলো।

    তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা বাকি পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন জাতীয় সংসদের।

    যুগের পরিবর্তনে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হয়

    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিটকারী জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ে হাইকোর্ট চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, যা আপিল বিভাগে বহাল থাকল। যে বিষয়গুলো অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল—সংবিধানের কতগুলো বিষয় পরিবর্তন করলে তা হবে সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা, গণভোটের বিধান বাতিল, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল।

    তিনি বলেন, চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলো। এছাড়া বাকি যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধান কোনো দণ্ডবিধি নয়। কেউ যদি অপরাধ করে, তবে সে অপরাধ ডিটারমিন করবে দণ্ডবিধি। প্রসেস ফলো করবে ফৌজদারি কার্যবিধি। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে শাস্তির কথা বলা থাকে না। আর সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ৫০ বছর পর আমরা কেউই থাকব না, নতুন জেনারেশন আসবে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে, এডুকেশন হবে। এজন্য সংবিধানকে বলা হয় লিভিং ডকুমেন্ট। এটিতে সময় ও যুগের সঙ্গে পরিবর্তন আনতে হয়। যদি বলি কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না, তার মানে কি এটা বাইবেল? এটা কি কোরআন? আনসার ইজ নো। এজন্য এই পার্টটুকু বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ।

    রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর বুঝতে পারব আদালত কোন বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে আর কোন কোন বিষয় নিয়ে কী কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

    আপিলে সুজনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, কারিশমা জাহান এবং রিদুয়ানুল করিম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক। অপর আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির।

    রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ।

  • যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।’

    দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুল মালেক খান।

    বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।’

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশিম রেজা।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।

  • অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে বাড়ছে শঙ্কা

    অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে বাড়ছে শঙ্কা

    ফার্মেসিতে মোট অ্যান্টিবায়োটিকের অর্ধেকই বিক্রি হয় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া। ফলে কমে আসছে জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর ওষুধ। এখনই অপারেশনের রোগীদের সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ করছে না, ব্যবহার করতে হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক, তাও পরিমাণে আগের চেয়ে বেশি।

    বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নির্দেশনা ছিল কোনো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট (ব্যাকটিরিয়ার বিরুদ্ধে অকার্যকর) হয়ে যাওয়ার জন্য অন্য কিছু কারণের সাথে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রিকেও দায়ী করা হচ্ছে। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে ওষুধটির কোর্স শেষ করেন না বেশির ভাগ ব্যবহারকারী। এ ব্যাপারে বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ‘লেনসেট’-এ প্রেসক্রিপশনবিহীন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিয়ে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বেশি বিক্রি হয়, সেসব দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও রেজিস্ট্যান্টের হার তুলনামূলক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্বন্ধে বলেছে, ‘প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার কমাতে না পারলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট কমানো সম্ভব নয়।’

    চিকিৎসকরা বলছেন, জীবাণু সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে অ্যান্টিবায়োটিক। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ওষুধ কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিক্রেতাকে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শিখিয়ে ওষুধটির বেশি বিক্রি নিশ্চিত করে। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রি বেড়েছে ঠিকই; কিন্তু এই ওষুধের বিক্রেতাদের ৯৯ শতাংশই তৃতীয় ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট হওয়ায় তারা ওষুধটির সঠিক ব্যবহার জানেন না। তারা শুধু বেশি মুনাফার স্বার্থে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করছেন। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিককে রেজিস্ট্যান্ট হতে সহায়তা করে মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করে তুলছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধগুলোর বেশির ভাগেরই এখন ব্যাকটিরিয়ার প্রতি সংবেদনশীলতা কমে গেছে। আগে যে অ্যান্টিবায়োটিক পাঁচ দিনের অথবা সাত দিনের ডোজ সম্পন্ন করলে রোগ ভালো হয়ে যেত, এখন সেটি আর পাঁচ অথবা সাত দিনে সুস্থ হচ্ছে না। এখন পরিমাণে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে এবং বেশিদিন সেবন করতে হচ্ছে। এ মতামত দিয়েছেন বিশিষ্ট জেনারেল সার্জন অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুল ওহাব।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাওয়ায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন নানা রোগে অ্যান্টিবায়োটিক আগের মতো কাজ করছে না।

    বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক আগের মতো কাজ করছে না। ফলে টাইফয়েডের মতো রোগ সারাতে অনেক বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। যক্ষ্মা রোগ তো সুপার পাউয়ারফুল হয়ে গেছে। অন্য দিকে সাধারণ ডায়েরিয়া, আমাশয় রোগকে আগের মতো কম অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে সুস্থ করে তোলা যাচ্ছে না।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিনতে পাওয়া যায় বলে শুধু বিক্রির জন্য ভাইরাল জ্বর হলেও হাতুড়ে ডাক্তাররা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছে রোগীদের। যেখানে শুধু সাধারণ প্যারাসিটামলে সুস্থ করে তোলা সম্ভব সেখানে কমপক্ষে একটি ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক থাকছে।অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মফস্বল শহর ও গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। গ্রামের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় অসুখ হলে তারা স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতার ওপরই বেশি নির্ভর করছে। ওষুধ বিক্রেতাই তাদের কাছে ‘ডাক্তার’। গ্রামের ওষুধ বিক্রেতারা তৃতীয় ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্টও না। ওষুধ সম্বন্ধে তাদের কোনো বেসিক ট্রেনিংও নেই। অন্য কোনো ওষুধের দোকানে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাদের ভরসা। আর তাদের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শিখিয়ে ওষুধ বিক্রি করে থাকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ ব্যাপারে ডা: মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বাংলাদেশে আইন থাকলেও তার কঠোর প্রয়োগ না থাকায় জীবনরক্ষাকারী এই ওষুধটি অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় আসবে, জীবাণু সংক্রমণে অথবা অপারেশন করার পর মানুষকে সুস্থ করার জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই পাওয়া যাবে না। কারণ পুরনো ও বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে এমন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট (প্রতিরোধী) অর্থাৎ অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারও হচ্ছে না।

  • গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পিরোজপুর জেলা শাখা।

    শুক্রবার (৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কেএম ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • বৃষ্টির প্রভাব সবজির বাজারে, কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০ টাকা

    বৃষ্টির প্রভাব সবজির বাজারে, কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০ টাকা

    সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম একলাফে ৪০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া ডিমের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি।

    বিক্রেতারা বলছেন, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির ফলে ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজি সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজার কিছুটা অস্থির। ক্রেতাদের বলছেন, বৃষ্টির অজুহাতে সরবরাহ কমার কথা বলা হলেও বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই।

    সব দোকানেই ভরপুর সবজি তবু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    টমেটো প্রকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাকের আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এসব বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম এক ডজন ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

    মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ব্রয়লার ১৬৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা কেজি দরে।

    মাছের বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি মাছ ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। এক কেজি শিং মাছ চাষ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায়, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৪০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • বিদায়ী আষাঢ়ের শেষ কান্না, থাকবে আরো দুইদিন

    বিদায়ী আষাঢ়ের শেষ কান্না, থাকবে আরো দুইদিন

    দেশের আকাশ যেন আজ অশ্রুঝরা কোনো ব্যথিত জনপদ। গত পাঁচ দিন ধরে প্রকৃতির এই অঝোর কান্না থামার নাম নেই। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ বিদায় নিলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ শুক্রবারও রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে অবিরাম বর্ষণ। এই টানাবর্ষা জনজীবনকে যেমন স্থবির করে দিয়েছে, তেমনি রাজধানীবাসীর মনে জাগিয়েছে এক বিষণ্ণ হাহাকার।

    সাঁঝের শিশির কিংবা ভোরের রোদ—সবই আজ যেন মেঘের অকাল আঁধারে ম্লান। পূর্ণিমার চাঁদ কিংবা নীলাকাশের হাতছানি নেই আজ পাঁচ দিন ধরে; শুধু ঝরেই চলেছে অবিরাম বৃষ্টিধারা। শুরুটা হয়েছিল বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এক অস্থির নিম্নচাপের হাত ধরে। সেই পথিক নিম্নচাপ তার অভিমান মিটিয়ে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে দিগন্তের ওপারে। কিন্তু মেঘের কান্না থামেনি। এখন তো মৌসুমি বায়ুর সেই চিরাচরিত প্রাণচাঞ্চল্য—সেই সক্রিয় বাতাসই আকাশজুড়ে গেয়ে চলেছে তার বর্ষণমুখর সুর।

    সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানীতে ১৫ মিলিমিটার, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর বাতাসের আর্দ্রতা যেন জানিয়ে দিচ্ছে, বৃষ্টি এখনই থামার নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শুধু আজ নয়, ভারী বৃষ্টির এই ধারা শনিবার এমনকি রোববার পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    এবার এই সময়ে কেন এতো বেশি বৃষ্টি হচ্ছে এবং তা আর কতদিন থাকবে এমন প্রশ্নে জবাবে আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আবহাওয়ার এ অবস্থা আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর থেকে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। এ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য তিনি বৈশ্বিক এল নিনোর প্রভাবকেই দায়ী করে বলেন, জুনে ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টি হলেও জুলাইয়ের শুরুতেই কমসময়ে অতিবৃষ্টি হচ্ছে; এবার বছরজুড়েই কমবেশি এল নিনোর প্রভাব থাকতে পারে। এতে অতিবৃষ্টি ছাড়াও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

    তিনি বলেন, বর্ষার বৃষ্টি সাধারণত অনেক সময় ধরে থেমে থেমে কখনো স্বল্প কখনো বেশি হয়ে থাকে; কিন্তু এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা বর্ষাকালের মতো কোনো স্বাভাবিক বৃষ্টি নয়। অল্প সময়ে অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে; এটা বৈশ্বিক এল নিনোর প্রভাব বলেই আমরা মনে করছি।

    এই প্রবীণ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, জুলাই মাসে একদিনে এতো বৃষ্টি গত চার দশকেও দেখা যায়নি। আমাদের কাছে যতটা রেকর্ড রয়েছে তাতে ১৯৮৩ সালের ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিলএদিকে পাহাড়ধস ও বন্যার করুণ বাস্তবতায় যখন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটে মানুষের আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, তখন রাজধানী ঢাকাও যেন এক অদ্ভুত নীরবতায় ডুবে আছে। রাজপথের জলাবদ্ধতা আর যান চলাচলের ধীরগতি রাজধানীবাসীর প্রাত্যহিকতায় যোগ করেছে এক অন্তহীন অপেক্ষা।

    টানা বৃষ্টির এই আবহে সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ফুটে উঠছে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা গভীর উপলব্ধির বয়ান। নাজমুল হক শামীম নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, শহরটা যেন পানির নিচে কোনো প্রাচীন রহস্যময় নগরী হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির শব্দে কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ধুয়ে গেলেও, মনে হচ্ছে এই বৃষ্টি যেন আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।

    সাদিয়া আফরোজ নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ‘বৃষ্টির কাব্যিক রূপটা কেবলই উপভোগের হয়, যখন বাড়ির বারান্দায় চা হাতে দেখা যায়। কিন্তু এই টানা বৃষ্টির নিচে যখন লাখো মানুষের ঘরবন্দী হওয়ার খবর শুনি, তখন বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা মনে হয় এক একটি দীর্ঘশ্বাস।’

    আবু বকর সিদ্দিক নামের প্রবীণ নাগরিক বলেন, ‘আগেকার দিনে বৃষ্টি মানে ছিল ফসলের হাসি, আজ বৃষ্টি যেন নাগরিক জীবনে এক আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়েছে; মেঘের গর্জনে আজ বৃষ্টির কবিতার চেয়েও মানুষের নিরাশ্রয় হওয়ার ভয়টাই বেশি চোখে পড়ছে।’

    আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তার তথ্যমতে, সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকলেও সারা দেশেই বৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকবে। এতে দেশের চার সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা এবং নৌবন্দর সমূহে এক নম্বর সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

    আবহাওয়া দপ্তরের দৃষ্টিতে ভারী বৃষ্টির সংজ্ঞায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটারের সীমানা ছাড়িয়ে যেখানে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা থাকে, সেখানে এই একটানা বর্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ছয়টা নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে

    সবচেয়ে বেশি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ২১১ মিলিমিটার। এছাড়া টেকনাফে ২০৯, সাতক্ষীরায় ১৭৯, গোপালগঞ্জে ১৬৩, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৫৩, বান্দরবানে ১৩১, কুতুবদিয়ায় ১২৯, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৩৮, টাঙ্গাইলে ১২৪, মাদারীপুরে ১১১ এবং যশোরে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় রাজধানীতে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

    তবে এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বেশিরভাগ জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বেশি ছিল। চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাত ৩২৯ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, তেতুঁলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

    আগামী রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, সোমবার নাগাদ বৃষ্টির গতি কমতে পারে। প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ আর আকাশের অঝোর কান্না কবে থামবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু বৃষ্টির এই ছন্দময় পতনের মাঝে, রাজধানীবাসীর হৃদয়ে এখন প্রার্থনার সুর—বৃষ্টি থামুক, মেঘ কাটুক, আর পৃথিবী আবার তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসুক।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সেবা জনগণের নাগালে করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি।

    আমার বাংলাদেশ পার্টির আয়োজনে আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের গড়িমসির সমালোচনা করেন অতিথিরা।

    জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল রেখে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    এ সময় জুলাইয়ে ৭ বছরের সন্তান জাবিরের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন রোকেয়া বেগম।

  • দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।’ বাকি মামলাগুলোর বিচার শেষ করতে এত দেরি হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছেন। সেই বাংলাদেশে যেন আর কোনো নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান না ঘটে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।’

    নিজের ছেলে শহীদ জাবির ইব্রাহীমকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় মাত্র ছয় বছরের জাবির সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখত। লং মার্চে যাওয়ার আগে তার শেষ কথাগুলো এখনো আমাদের মনে গেঁথে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো শহীদ হওয়ার অনুভূতি থেকেই শিশুটি এমন কথাগুলো বলেছিল।’

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে কেউ কেউ কটাক্ষ ও অবমাননার চেষ্টা করছে। তবে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। শহীদরা কোনো অপমান সহ্য করার জন্য জীবন দেননি। তারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘গত দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে এত দেরি হচ্ছে কেন? অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার শেষ করে শহীদ পরিবার ও আহতদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

  • চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পলান উদ্দীন নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত পলান উদ্দীন (৮০) ওই গ্রামের মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পলানের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমির জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

  • সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে ১৮ ফুটবলার

    সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার মুখে ১৮ ফুটবলার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ৪৮ দলের লড়াই পর্ব শেষে বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে ৮ দলের লড়াইয়ে। এক দিনের বিরতির পর বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মাঠে গড়াচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল।

    তবে শেষ আটের মহারণে নামার আগে বড় ধরনের দুর্ভাবনায় রয়েছেন অংশ নেয়া দলগুলোর অন্তত ১৮ জন ফুটবলার। এই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলেই দল সেমিফাইনালে উঠলেও দর্শক হয়ে থাকতে হবে তাদের।

    ফলে শেষ আটের প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের পাশাপাশি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শৃঙ্খলা। একটি ভুল ট্যাকল, অপ্রয়োজনীয় ফাউল কিংবা রেফারির সাথেই তর্কই কেড়ে নিতে পারে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ।

    সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই চারজন করে ফুটবলার ইতোমধ্যে নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রত্যেককেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

    ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের তিনজন করে, আর আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের একজন করে ফুটবলারও একই ঝুঁকিতে আছেন। অর্থাৎ আট দলের মধ্যে কেবল কোনো ঝুঁকি নেই কলম্বিয়ার খেলোয়াড়দের।

    প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ানো ৪৮ দলের বিশ্বকাপে যোগ হয়েছে একটি অতিরিক্ত নকআউট পর্ব। তাই হলুদ কার্ডের নিয়মেও পরিবর্তন আসে। আগের নিয়ম বহাল থাকলে নকআউটে অনেক তারকা ফুটবলারকে হারানোর আশঙ্কা ছিল।

    তাই গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগে বাতিল (রিসেট) করা হয়। তবে শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে যারা একটি করে হলুদ কার্ড পেয়েছেন, তারা আছেন ঝুঁকিতে।

    কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডের নিয়মানুসারে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। সে ক্ষেত্রে দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা মাঠে নামতে পারবেন না।

    অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আবারো হলুদ কার্ডের হিসাব রিসেট হবে। ফলে হলুদ কার্ডের কারণে কোনো খেলোয়াড় ফাইনাল মিস করবেন না। তবে সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখলে ফাইনালে নিষিদ্ধ থাকতে হবে।

    আর গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা থাকবে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির। সেটা অবশ্য অন্য বিষয়।

    নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যে ১৮ ফুটবলার

    ইংল্যান্ড : জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি

    মরক্কো : ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস

    ফ্রান্স : মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা

    সুইজারল্যান্ড : গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম

    আর্জেন্টিনা : গঞ্জালো মন্টিয়েল

    স্পেন : ফেররান তোরেস

    বেলজিয়াম : ব্র্যান্ডন মেচেলে

    নরওয়ে : অ্যান্তোনিও নুসা

  • ইন্দোনেশিয়ায় ডি-৮ হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের ২২ প্রতিষ্ঠান

    ইন্দোনেশিয়ায় ডি-৮ হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের ২২ প্রতিষ্ঠান

    ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এ উপলক্ষে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলও এক্সপোতে অংশগ্রহণ করছে।

    এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ও ডি-৮ভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

    আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস এবং ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) যৌথভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ এক্সপোতে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়িক প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

    এবারের এক্সপোতে আইবিসিসিআই বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপনে সহায়তা করে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সহযোগিতায় সেখানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এই প্যাভিলিয়ন বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি এবং আইবিসিসিআইর সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।

    এক্সপো চলাকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি প্রদর্শক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বিজনেস ম্যাচমেকিং কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

    এ সময় আইবিসিসিআইর স্টল পরিদর্শন করেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এবং দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ আনিস মাত্তা।

    এক্সপোতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শক হিসেবে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজেস এবং ইলিয়েন। এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে হালাল শিল্প, খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন, উৎপাদন ও ভোক্তাপণ্য খাতে আঞ্চলিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (ডি-৮) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে এবং বাংলাদেশ এ জোটের সদস্য। ইন্দোনেশিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে হালাল শিল্পের প্রসার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস জানায়, ভবিষ্যতেও দুই দেশের সরকার, ব্যবসায়িক সংগঠন ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে কাজ করবে তারা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এ অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে প্রকৃতিতে এখন মৌসুমি ফলের সমারোহ। আম, জাম ও কাঠালের মৌসুম শেষের দিকে। ঠিক এমন সময় মাগুরার শালিখার স্থানীয় বাজারগুলোতে দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি পরিচিত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল কাঠলিচু। অঞ্চলভেদে এটি ‘আশফল’ বা ‘পিচফল’ নামেও পরিচিত।

    বর্তমানে শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারে কাঠ লিচুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। লিচুর মতোই খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা শাঁস খেতে হয়। স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হলেও এর আঁটি তুলনামূলক বড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে ফলটি বেশ জনপ্রিয়।

    একসময় রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে অযত্ন-অবহেলায় জন্মানো এই ফলের তেমন কোনো বাণিজ্যিক মূল্য ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন কাঠ লিচুর চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ায় অনেকেই পুরোনো গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন করে চারা রোপণেও আগ্রহ বাড়ছে।

    ফল পাকার মৌসুমে বাদুড় ও বিভিন্ন পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অনেক চাষিকে গাছ মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা যায়। শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এটি এখন পরিচিত এক দৃশ্য।

    উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাঠ লিচুর ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে কাঠ লিচু এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে গত কয়েক বছরে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমার বাচ্চারা এই ফল খুব পছন্দ করে। লিচুর তুলনায় দামও কম। তাই অনেকেই এখন এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

    একই ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী রোস্তম কাজী বলেন, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই কাঠ লিচুর বিক্রি বেড়ে যায়। বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে চাষ না হলেও স্থানীয় বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি আঁটি বা ছড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও প্রায় এক মাস বাজারে এই ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

    আঁশফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিসা বলেন, কাঠ লিচু শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন ‘সিথ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি সিজোনাল অনেক রোগের প্রষেধক হিসেবে কাজ করে।

    একসময় অবহেলিত ফল হিসেবে পরিচিত কাঠ লিচু এখন শালিখার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমি ফলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই ফল কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়েরএকটি অন্যতম উৎস হতে পারে খুলে যেতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

  • উচ্চশিক্ষায় ভেরিফিকেশন ফি কমাল ঢাবি

    উচ্চশিক্ষায় ভেরিফিকেশন ফি কমাল ঢাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি ১০ ইউএস ডলার কমানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এ সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি ৪০ ইউএস ডলার পরিশোধ করতে হবে।

    বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি জনপ্রতি ৫০ ইউএস ডলার ছিল। গত মার্চে পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের স্নাতক শেষ করা ছাত্রী জিনিয়া তাসনিমের একাডেমিক কাগজপত্র যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইডেনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে যা সুইডেনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কর্তৃপক্ষ দিতে অস্বীকার করে। ফলে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার আবেদনটি অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তখনই শিক্ষার্থীরা ই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি করার দাবি করেছিলেন। তবে সম্পূর্ণ ফ্রি না করে ১০ ডলার কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • ডিএসইতে সূচকের উত্থান, লেনদেন ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচকের উত্থান, লেনদেন ১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটিতে মূল্যসূচক বেড়েছে। একইসাথে বেড়েছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদরও।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ বাজারে ৩৯২টি কোম্পানির মোট ৪২ কোটি ৮৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৬০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩১ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১৪টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১১৬টির কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮০৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ দশমিক ১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো ইস্টার্ন হাউজিং, মালেক স্পিনিং, বিএসসিসি, জেনেক্স ইনফোসিস, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট নিটিং, আইটিসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।

    অন্যদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন কেবলস, সোনালী পেপার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট নিটিং, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, ফার কেমিক্যাল এবং ন্যাশনাল টিউবস।

    দরপতনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো এফএএস ফাইন্যান্স, ইনটেক লিমিটেড, বিআইএফসি, সিঙ্গার বিডি, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১, জেনারেশন নেক্সট, সাফকো স্পিনিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমএল ডাইং।

  • বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ : বিএসইসি চেয়ারম্যান

    বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ : বিএসইসি চেয়ারম্যান

    উৎপাদন বন্ধ ও দীর্ঘদিন অচল থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, বিশ্বের কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একইসাথে পুঁজিবাজারকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, মার্জিন ঋণ নীতিমালায় পরিবর্তন, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালুর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরো বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। একইসাথে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। বেশির ভাগ খুচরা বিনিয়োগকারীর পক্ষে ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন হওয়ায় বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।

    বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণকে সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে বড় বেসরকারি কোম্পানিকেও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।

    মার্জিন ঋণ নীতিমালা প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরো সহজ হবে।

    তিনি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (জিডিআর) সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর বিষয়েও উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি দুই দিনে সম্পন্ন হয়। এটি কমিয়ে টি+১, অর্থাৎ একদিনে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।

    পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ খান।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলোকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

  • সংসদে জামায়াত এমপি সাবিকুন্নাহার

    সংসদে জামায়াত এমপি সাবিকুন্নাহার

    ‘মাদকে ভেজাল নেই, খাদ্যে ভেজাল—এটা আশ্চর্যজনক’

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বাজারে মাদকে ভেজাল না থাকলেও মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি বলেন, ফলের মৌসুমে মানুষ বুঝতে পারে না কোন ফল নিরাপদ আর কোনটি ফরমালিনমুক্ত। ‘মাদকে ভেজাল নেই, অথচ খাদ্যে ভেজাল—এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক।’

    এর জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ কমিটি গঠনসহ নজরদারি, মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর এবং লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য উঠে আসে।

    সম্পূরক প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ফলের মৌসুমে বাজারে প্রচুর ফল থাকলেও সাধারণ মানুষ দ্বিধায় থাকেন কোন ফলটি কিনবেন। কোনটি ফরমালিনমুক্ত, কোনটি নিরাপদ—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভেজালের এই চাদরে ঢাকা বাস্তবতায় মাদকে ভেজাল না থাকাটা বিস্ময়কর। জনগণকে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

    জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ভেজাল খাদ্যের কারণে দেশে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

    তিনি জানান, সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও কার্যক্রম তদারকি করবে। কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল নির্মূলে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

    তিনি বলেন, আম, শুঁটকি মাছ, খেজুরের গুড়সহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ৩৪০ জন খাদ্যকর্মীকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ৯৪টি সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছে ৯ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী।

    মন্ত্রী জানান, বিএফএসএর কর্মকর্তারা ৬ হাজার ৪৪৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান ও বাজার তদারকি করেছেন। সরকার স্বীকৃত পরীক্ষাগারে ৬৭০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ল্যাবে ৩ হাজার ৫৭৪টি এবং মিনি ল্যাবে ৪ হাজার ৯৩৮টি খাদ্য নমুনার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর আওতায় ১৭১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৩৯০ জন গৃহিণীর অংশগ্রহণে ৫১টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    ‘আমার কথায় ছেলে বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেছে, তা কেউ হাইলাইট করে না’

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তাঁর কথাতেই ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে ঘটনাটি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন মন্তব্য করেন।

    নিজের পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে দেখুন আজকে আমাদের সন্তানেরা কিছু করলে সেটা নিয়ে বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাহউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলামের সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে, আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে, আমি তাঁকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা এটা নিয়ে নানান কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ করো।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে…পরদিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজ তো আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী নির্বাচিত তাঁর সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে আনছে।’

    এর আগে গত ২০ জুন বগুড়ার দুটি নবগঠিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১১ জুন জেলা প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ রাখা হয়।

    পরে অভিযোগ ওঠে, মীরবাড়ী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম এবং সীমান্ত ও দিগন্ত তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।

    সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে একটি ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় অন্যটির নাম ‘দিগন্ত’ রাখা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকাকে তিনি ‘কাকতালীয়’ বলে উল্লেখ করেন।

    তবে সেই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টেও জেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

    চলতি বছর শেষে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে নির্বাচনের অনেক আগেই ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। একইসাথে প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    তবে চাপ সামলাতে প্রতিটি কক্ষে একাধিক গোপন বুথ বা মার্কিং প্লেস স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো: রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

    ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বৃদ্ধি

    আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত বা প্রকাশের জন্য যে সময় নির্ধারণ করা ছিল, নতুন সংশোধনীতে তা আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটাররা কেন্দ্র সম্পর্কে জানার জন্য বাড়তি সময় পাবেন। গেজেটের ৬৫৩০ নম্বর পৃষ্ঠার ক্রমিক ১-এর ১.২ এবং ১.৩ উপঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখের অন্যূন ১৫ (পনের) দিন আগে এই সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নিয়ম ছিল। সংশোধিত নীতিমালায় ‘১৫ দিন’-এর স্থলে অন্যূন ২৫ দিন আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    ভোটকক্ষ নির্ধারণ ও ভোটার বিন্যাসে পরিবর্তন

    ইসি বলছে, ভোটকেন্দ্রে বুথ বা ভোটকক্ষ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয় বুথেই ভোটারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

    সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে : সংশোধনের আগে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করার নিয়ম ছিল। এখন থেকে ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে হবে।

    উপনির্বাচনের (একটি পদে) ক্ষেত্রে : সংশোধনের আগে উপনির্বাচনে একটি পদের জন্য সাধারণভাবে প্রতি ৫০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৪০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ ছিল। সংশোধনের পর এখন উপনির্বাচনেও সাধারণ নির্বাচনের মতোই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপন

    ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ভোটগ্রহণের গতি যেন ধীর না হয়, সেজন্য সংশোধিত নীতিমালায় একটি নতুন ও কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে এখন থেকে প্রতিটি ভোটকক্ষে (বুথে) ভোটারদের সুবিধার্থে এবং দ্রুত ভোটাদানের জন্য প্রয়োজনে একাধিক গোপনকক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করা যাবে।

    অপরিবর্তিত নিয়মাবলী

    নীতিমালার কিছু মৌলিক নিয়ম আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। যেমন- গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য ওই ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে বাস্তবতার নিরীখে ও স্থানীয় প্রয়োজনে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।

    নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধনের ফলে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় খরচ ও জনবল কিছুটা কমবে এবং দীর্ঘ সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা এবং এ কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় জানানো হয়, এসব অভিজ্ঞতা নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সরকার জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজ করছে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশের দুর্গম এলাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ বক্তব্য দেন।

    কর্মশালায় জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

    আলো ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • কিশোরগঞ্জে থানা হাজতে আসামির আত্মহত্যা

    কিশোরগঞ্জে থানা হাজতে আসামির আত্মহত্যা

    কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা হাজতে এক মাদকের আসামি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শহরমূল গ্রামের রাজা হাওলাদারের ছেলে রুবেল মিয়া (২২)।

    নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওমি) মো. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রুবেল মাদকাসক্ত ছিলেন। তার বাবার দায়ের করা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় গায়ের শার্ট খুলে হাজতের কার্নিশের সঙ্গে গলায় ফাঁসি নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রুবেল এর আগেও মাদকের মামলায় প্রায় তিন মাস কারাবাস করেছেন বলে ওসি জানান।

    তিনি জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মরদেহের ময়নাতদন্ত করানো হবে কি না।

    বাবা রাজা হাওলাদার জানান, রুবেল বাড়িতে সবাইকে খুব অত্যাচার করতেন। বাড়িঘরে কুপিয়েছেন। অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি থানায় মামলা করেছিলেন। রুবেলকে আজ থানায় আনার পর বাবা এসে তাকে নাস্তা খাইয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এমন সময় ওসি মাহবুবুর রহমান তাকে ফোন করে আত্মহত্যার খবর জানান।

  • মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার। বছর পাঁচেক আগেও এটি ছিল কেবল প্রান্তিক বাজার। ড্রাগন ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে বাজারটি এখন যেন ড্রাগন ফলের রাজধানী। এই ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত। এসব আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় সুস্বাদু ড্রাগন ফল। বাজারে দিনে গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। আড়ত গড়ে ওঠায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
    জানা গেছে, জেলাজুড়ে বিদেশি ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। দিনদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। আড়তগুলোতে চলে বেচাকেনা। আড়তের চালার নিচে সাজিয়ে রাখা হয় লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। বাজারজুড়ে প্রতিদিন প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। দিনভর চলে দরদামের হাকডাক।
    স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন খরচ ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল ও বস্তায় ভরে ফল নিয়ে বাজারে এসে বিক্রি করি।’
    একটি আড়তের হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বাজার গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫-১৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এ ছাড়া আড়তগুলোতে ফলের পরিমাপ করা ও প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা লোক কাজ করে। সবাই প্রতি মাসে গড়ে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।’
    নাটোর থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘বাজারে আমার মতো অনেকেই ফল কিনতে আসেন। ব্যবসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সন্তোষজনক। বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন ফল পাওয়া গেলেও গৌরীনাথপুর বাজারের ফলের মান ভালো। দামও নাগালের মধ্যে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে এসে ফল কিনে ট্রেনে করে নাটোরে ফিরে যাই।’
    পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার বলেন, ‘বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সহজেই ব্যবসা করতে পারেন। এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এসব ফল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে। ফলের আকার ও মান ভেদে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।’

  • কিশোরগঞ্জে ব্রীজের সড়কে ধস,    যান চলাচল বন্ধ

    কিশোরগঞ্জে ব্রীজের সড়কে ধস, যান চলাচল বন্ধ

    কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ও উজানের ঢলে ক্রমাগত পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের নিতাই ইউনিয়ন পরিষদ যাওয়ার একমাত্র সড়কের ওপর নির্মিত বেলতলী ব্রীজের সংযোগ সড়কটি ধসে গিয়েছে। এতে ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    উপজেলা প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর বেলতলী ঘাঁটে চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর ২০১৪ সালে প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে ১৪০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। ব্রীজটি নির্মানের পর গত কয়েক বছর প্রতি বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রীজের দক্ষিণে দিকে ধসে যায়।

    নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব ও সহিদার রহমান জানান, ব্রীজটি নির্মানের পর প্রায় প্রতি বছর একই জায়গায় ধসে যাওয়ার কারণে জনগণ দুর্ভোগের স্বীকার হয়। উপজেলা প্রকৌশল দফতর ও প্রশাশনের লোকজন পরিদর্শনে এসে নামমাত্র কাজ করে সড়ক চলাচলের উপযোগী করে চলে যায়।

    নিতাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু জানান, ব্রীজটির দক্ষিণ দিকের সংযোগ সড়কটি প্রতি বছর ভাঙে, প্রতি বছর সংস্কার হয়। প্রকৌশল দফতরের উচিত সংযোগ সড়কটির ভাঙন রোধে বড় ধরনের বরাদ্দ নিয়ে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান করা। তা না করে প্রতিবছর দায়সারা কাজ করার কারণে বারবার সড়কটির একই জায়গায় ধসে পরে জনগণের চলাচলে ভোগান্তি হয়।

    উপজেলা প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘ব্রীজের দক্ষিণ দিকে সংযোগ সড়কটি ধসে গিয়ে যান চলাচল বন্ধের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, দ্রুত ধসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া করছি। পরে মোটা অঙ্কের বরাদ্দ এনে স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।’

  • সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের

    সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. তাহের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলেন। পরে তা সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।

    কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- ঢাকা-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির এ কে এম ফজলুল হক মিলন, ভোলা-২ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, ময়মনসিংহ-৭ আসনের বিএনপির মো. মাহবুবুর রহমান, খুলনা-৪ আসনের বিএনপির এস কে আজিজুল বারী হেলাল, দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপির মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপির ফজলে হুদা, ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতের মো. রুহুল আমিন এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি

    সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়, নিরীক্ষা আপত্তি এবং সরকারি হিসাবের জবাবদিহির বিষয়গুলো এ কমিটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাজেট পাসের পর সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, নিরীক্ষায় কী অনিয়ম ধরা পড়ছে এবং মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সেসব বিষয়ে কী জবাব দিচ্ছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা হিসেবে এ কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।