জাতীয় সংবাদ

  • চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আলো ট্রাস্টের  মাদকবিরোধী মানববন্ধন  

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আলো ট্রাস্টের  মাদকবিরোধী মানববন্ধন  

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। ’

    এতে শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিক , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ,সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক-ছড়াকার , সুশীল সমাজের প্রতিনিধি , নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

    প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান , মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদুল হক মুন্সী , কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস , চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ , জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক ও নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন ।

    প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রফিক রহমান, বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা , ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক ইসলাম রকিব , ক্রীড়াবিদ রোকন উদ্দিন , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

  • গাংনীর সীমান্তে ফের বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা

    গাংনীর সীমান্তে ফের বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা

    মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে একের পর এক অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং পুশ-ইনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলারের কাছে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবিকে জানালে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

    একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    জানা গেছে, এদিন পুশ-ইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।

    এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবির কাথুলী কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, “বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”

    এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে একই সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি জুন মাসে গাংনী র সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনাতেই বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
    মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্তে বিএসএফের ধারাবাহিক পুশ-ইনের চেষ্টায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সীমান্তবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত প্রতিটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।

  • বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর প্রধানদের সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সমঝোতা স্মারকগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

    এ সমঝোতা স্মারকগুলো দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্ত হতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রতিনিধি দলসহ দেশে ফিরবেন।

  • খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ ৩ ইউপিডিএফ সদস্য আটক

    খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ ৩ ইউপিডিএফ সদস্য আটক

    খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপ) তিন সদস্যকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রেখুং পাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের লক্ষ্যসিপাড়া গ্রামের থোয়াইগ্য মারমার ছেলে হ্লাপ্রুসাই মারমা (৩০), গুইমারা সদর ইউনিয়নের কলাপাড়ার সুমইল্লা চাকমার ছেলে তেজেন্দ্র চাকমা (২৭) এবং মানসিপাড়ার দূর্গ মোহন ত্রিপুরার ছেলে বিশ্ব ত্রিপুরা (২৮)।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কাজ শেষে তারা মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি এলাকার রেখুং পাড়ায় এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছে এমন ‌গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা ক‌রে তাদের আটক করা হয়।

    এ সময় আটকদের কাছ থেকে একটি দেশী একনলা বন্দুক,‌ দুই রাউন্ড গুলি, একটি বিদেশী পিস্তল, এক‌টি গুলি, এক‌টি চাকু, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, তিনটি ব্যাগ, এক জোড়া জুতা এবং ১১ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হ‌য়।

    মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের থানায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • লক্ষ্মীপুরে ৩ মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

    লক্ষ্মীপুরে ৩ মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা গেছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় থাকা সবাই একে একে মারা যান।

    নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

    এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।

    আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত অন্তরকে গণপিটুনি দেয়।

    অন্যদিকে, আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়।

    ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কা অবস্থায় সদর হাসপাতাল নিলে সেও মারা যায়৷ এদিকে ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও (সিফাত) কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারও সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই।

    রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেও মারা যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে সেও মারা গেছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।’

    বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়। হয়তো পূর্বপরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়ন। তখন অন্তর বলেন, তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্‌ঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।

  • দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাজমুল বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন

    চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবা(২৫জুন) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলাব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। জেলায় এবার ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জনকে ভিটামিনের প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে ১ টি লাল রঙ্গের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে নীল রঙ্গের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৮৯৬ টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসব টিকা খাওয়ানো হবে।

    এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. সাজিদ হাসান। সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে বলে জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

    গাংনীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামে রাতের আঁধারে একটি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে|
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের জামায়াত নেতা ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানের মাছের পুকুরে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে|


    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী|


    সকালে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে পানির ওপর ভেসে থাকা অসংখ্য মৃত মাছ দেখতে পান পুকুর মালিক| পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মৃত মাছ দেখতে পান|
    পুকুর মালিক কামরুজ্জামান জানান, তার পুকুরে ৯ থেকে ১০ কেজি ওজনের পাঙ্গাসসহ রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ ছিল| এসব মাছ বিক্রির উপযুক্ত হয়ে উঠেছিল| বিষ প্রয়োগে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি|

    তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল| পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন|


    ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন|


    এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

  • গাংনীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

    গাংনীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

    আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র সহায়তা প্রদান

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, মাঠ পর্যায়ে কৃষি জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জীব মৃধা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।

    অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, ডিএই পার্টনার, যশোর।

    অনুষ্ঠানে কৃষকদের কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চারজন কৃষকের মাঝে চারটি ভারমিকম্পোজট সেপারেটর মেশিন বিতরণ করা হয়। এসব যন্ত্র কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, কাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

    বক্তারা বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ফিল্ড স্কুলের সদস্য ও স্থানীয় কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।

  • গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

    গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
    আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার ব্রজনাথপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪২-এর ৫এস ও ৬এস-এর মধ্যবর্তী শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ওই ৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া প্রতিবাদ জানায়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও পুশইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত সাতজনকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
    জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টা করা সাতজনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ১ জন নারী ছিলেন।
    এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিজিবির দ্রুত অবস্থান গ্রহণ ও জনসাধারণের প্রতিবাদের কারণেই পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর

    চুয়াডাঙ্গায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তানিশা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানিশা কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মায়ের সঙ্গে পাশের বাড়িতে যায় শিশুটি। সেখানে চার্জে থাকা একটি ইজিবাইকে খেলার সময় চার্জিং লাইনের বিদ্যুৎসংযোগে লিকেজ থেকে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    গাংনী( মেহেরপুর) সংবাদদাতা
    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এবং গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৫ উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
    জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি)

    এসময় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা; আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা; আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

    শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।

    পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।

    বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।

    মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।

    মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।

    আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রশ্নফাঁসে এমন শাস্তি হবে যা সারা দেশ মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

    প্রশ্নফাঁসে এমন শাস্তি হবে যা সারা দেশ মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্নফাঁস হতে দেয়া যাবে না। প্রশ্নফাঁস যদি হয় তাহলে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এমন শাস্তি হবে যা সারাজীবন বাংলাদেশ মনে রাখবে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষায় কোনো রকম চালাকি চলে না।

  • সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই: স্পিকার

    সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই: স্পিকার

    জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। এসময় তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনও কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন এমপির সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।

    জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কোনও মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না। আলোচনায় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়।

    এসময় শফিকুর রহমান সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে কখনও কখনও কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়। বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কয়েকজন মিলে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

    স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ নানা খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আমি আবারো তাগিদ দিচ্ছি, কোনও রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রীদের উচিত যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা এবং তাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা। পাশাপাশি সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও চেষ্টা করা উচিত।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। বৈঠকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাতের শুরুতেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বেশ কয়েকটি মেগা পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) উৎপাদনে কর-সুবিধা ও বড় প্রণোদনা প্রদান করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও গৃহীত উদ্যোগগুলোকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এটি তাদের বড় আগ্রহ তৈরি করবে।”

    তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সাক্ষাৎ শেষে জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।

    সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

  • জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু

    জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও জিপিএ-এর ভিত্তিতেই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বছরও নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না— শিক্ষার্থীরা আগের মতোই সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পাবে।

    গত রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কলেজ পরিদর্শকদের এক বৈঠকে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালার খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সব কলেজ পরিদর্শকই বিগত বছরগুলোর মতো এবারও জিপিএ-এর ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু রাখার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। তবে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। পরিদর্শকদের মতে, মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্কুলের ভর্তি আর কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। জিপিএ-র ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি করালে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হয় এবং এতে অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকে না। তাছাড়া, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে সশরীরে একাধিক কলেজে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম হিসেবে দেওয়া সম্ভব। এমনকি প্রথম ধাপে সুযোগ না পেলেও পরের ধাপে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সরাসরি কারিগরি সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মেধা তালিকা ও কলেজ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের সুযোগ নেই বললেই চলে।

    জানা যায়, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে জিপিএর ভিত্তিতে দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও মিশন বা চার্চ পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠান আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এগুলো হলো নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

  • সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকার; শোকর করেন অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন

    সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকার; শোকর করেন অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন

    জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার সময় অনেক মন্ত্রীর আসন ফাঁকা ছিল। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, তিনি লক্ষ করছেন বাজেট অধিবেশনে বেশির ভাগ সময় অধিকাংশ মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন না।

    জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, ‘এইখানে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তারপরে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী নাই। মন্ত্রীদের চেয়ার সব খালি। এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা চাচ্ছি মাননীয় স্পিকার।’

    জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে। কিন্তু অন্যান্য মন্ত্রীদেরও অনুরোধ জানাবেন সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে। বাজেট সেশন গুরুত্বপূর্ণ সেশন। তাঁরা থাকলে আমরা বাধিত হব।’

    স্পিকারের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে সংসদে তাঁদের উপস্থিত থাকা উচিত। অর্থমন্ত্রী আগাগোড়াই এখানে উপস্থিত আছেন। বাজেট–সংক্রান্ত বিষয়ে সব খাতের বিষয়ে সবশেষে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।’

    চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সব সময় উপস্থিত থাকেন। অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। তবে তিনি আশা করেন, যাঁরা উপস্থিত থাকেন না তাঁরা যেন উপস্থিত থেকে সংসদ উপভোগ করেন।’

    এ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বললেন আমাদের মন্ত্রীরা নাই, ঠিক আছে। বলার আগে যদি নিজের দিকে তাকিয়ে বলতেন, সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা দুজনের কেউই নাই। তারাও যাতে ঠিকমতো থাকে।’

    প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের নেতা না থাকলে অসুবিধা নেই, মন্ত্রীদের থাকা প্রয়োজন। তবু সংসদের সৌন্দর্য রক্ষার্থে সবারই থাকা বাঞ্ছনীয়।

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের আগামী ২৩ জুনের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে রাবি ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘোষণা দেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। ছবি: সংগৃহীত

    সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যে স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদেরকে বাংলার মাটিতে আর মিছিলের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সুশীল শিক্ষক এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরি করছেন। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেন, তবে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ দেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করার সুযোগ আমরা দেব না।’

    ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেবেন। এ সময় যদি কেউ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে ধরিয়ে দিতে পারেন, তবে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’

    বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

    জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সবসময় তৎপর আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’

    আজ সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। সভা-সমাবেশ করা বিরোধীদলের গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি; কিন্তু আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এতে মনে হয়েছে, তারা অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘এজন্য আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে। তার বাইরে আমরা আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের এনে আইন অনুসারে বেসামরিক ক্ষমতা দিয়েছি, যাতে যেকোনো রকম অপতৎপরতার সুরাহা করা যায়; এ জন্যই এটা করা হয়েছে। তবে সেনা মোতায়েনে পুলিশ বাহিনীর ওপর আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নেই। আমরা সবসময় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কখনো বিজিবি বা কখনো সেনাবাহিনীকে নিয়ে আসি। প্রায় দেড় বছর মাঠে থাকার পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকার আসার পর যথাশিগগির সম্ভব তাদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব জেলায় অপতৎপরতার চেষ্টা করা হয়েছে, সেসব জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে কোনো কোনো মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। সেজন্য সতর্ক থাকার অংশ হিসেবে আমরা সেনা মোতায়েন করেছি।’

    নারায়ণগঞ্জের এক এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার করার পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো এমপির ছেলের বিশেষাধিকার নেই। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

    পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে; সেখানে কি এক হিন্দু নারীর আলাদা প্রদেশ চাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। সেখানে ওই নারীর প্রসঙ্গও এসেছে। এটা তার স্লিপ অব টাং হতে পারে। তাকে যেন সেই বার্তাটি দেওয়া হয়। বক্তৃতা দেওয়ার সময় অতিউৎসাহী হয়ে অনেকে অনেক কথা বলে ফেলে।’

    এর আগে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সেনা মোতায়েন চেয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

    এ অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামাতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি—সবিনয়ে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের যে চিফ মিনিস্টার শুভেন্দু বাবু, তাঁকে থামান। বাংলাদেশ বিরোধী যে সমস্ত বক্তব্য আসছে মাঝেমধ্যে, যে সমস্ত বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন, এই বক্তব্য…ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে গেছে।’

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমি আহ্বান করি যে, এখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নাই। বাংলাদেশে উনি নাই হয়ে গেছে। আউট অফ সিন অ্যান্ড সে কোনো দিনই বাংলাদেশে…।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা সবাই চাই, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব সম্মানজনকভাবে টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব ক্ষণস্থায়ী হয়, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী এসে বলেছেন ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে’।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা বলতে চাই—আসুন মানুষের হৃদয় জয় করুন। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই, ভারত বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ বিরোধিতা যাতে না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চাই। সে ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ, আপনারা দয়া করে পুশ ইন বন্ধ করুন।

    জিএম সিরাজ পুশ ইনের পাশাপাশি ভারত সীমান্তে মাদক তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ করারও দাবি জানান।

  • প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

    প্রাথমিকে বদলি-পদায়নে চার কমিটি, নেতৃত্বে সচিব-ডিসি-ইউএনও

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনা ও আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এসব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

    গতকাল রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-২) রাজীব কুমার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। আজ সোমবার প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা যায়, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন।

    জানতে চাইলে আজ বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. লাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি-পদায়নে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সদস্যসচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।

    আন্তবিভাগ শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিভাগীয় উপপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা)। কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে। একই বিভাগের মধ্যে, তবে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে, সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন বিভাগীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) বদলির আদেশ জারি করবেন।

    এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের পদায়ন ও কর্মরত শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বিভাগীয় উপপরিচালকের (প্রাথমিক শিক্ষা) কার্যালয়ে পাঠাবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। একই জেলার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন জেলা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে উপজেলা বা থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সভাপতির মনোনীত দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে এবং সভার কার্যবিবরণীসহ প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাবে। একই উপজেলা বা থানার মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করবেন এবং বদলির আদেশ জারি করবেন।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা আগে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ বদলির আদেশ পেয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

  • আগামীতে সারাদেশে মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে সারাদেশে মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা একই প্রশ্নে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার যেসব বিষয় কমন, তাদের প্রশ্নও একই করা হবে। আমরা শিক্ষায় কোনো বৈষম্য চাই না’ সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের জনসংখ্যা কমছে, আমাদের বাড়ছে, এটা কোনো অভিশাপ নয়। এটাকে মানব সম্পদে রূপান্তর হতো তাহলে অভিশাপ বলতে হতো না। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতাম তাহলে সম্পদ হতো। আমরা কারিগরি শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

    শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা অবসরে চলে গেছেন হাইকোর্টের মামলার কারণে। ২০১৭ সালে এই সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু এতদিন কেউ এটি এড্রেস করেনি। আমি মন্ত্রী হওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকদের মামলা চলে, ফলে দেশে ৬৫ হাজারের মধ্যে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি পান না। আমি সংসদে বলার পর সেটি আদালতের নজরে এসেছে। ২ জুলাই এটি সমাধান হবে। এমপিও শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

    মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি মাসে ৫০০ কোটি টাকা বেতন দিতে হয়। আগের সরকার নিয়োগ দিয়েছে কিন্তু বেতনের ব্যবস্থা করেনি। এই শিক্ষকদের বেতনের বাজেট ছিল না।’ ভবিষ্যতে তাদের নিয়মিত বেতন হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি।

    ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আগামীতে ক্রমান্বয়ে আমরা শিক্ষায় জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ ক্রস করবো। কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো করতে হলে আপনাদের লেখাপড়া ছাড়া যা দরকার তা আপনাদের কাছে নেই। আমি প্রথম ব্লু-ইকোনোমির কথা প্রথম শুনেছিলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুখে। আমারা দেখেছি উনি ছাত্রদের কীভাবে উৎসাহিত করতেন, শুধু রাজনীতি নয় এর পাশাপাশি লেখাপড়াও করতে হবে।’

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে বগুড়া ইউনিভার্সিটি বিল পাস করেছি। সেখানে নতুন-নতুন বিষয় থাকবে। এই প্রথম ইউরোপ আমেরিকার মতো একটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে। নোয়াখালীতেও এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন সাহেবের কাছ থেকে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব আমরা পাবো বলে আশাকরি।’
    অনুষ্ঠানে ৪৯ জন কৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. গোলাম রব্বানী।

  • ধানমণ্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক

    ধানমণ্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক

    রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার সকাল ৬টার দিকে সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-মো. ইবাদুল ইসলাম (২১), মিলন বারৈ (২০), মো. সুজন সরদার (২৬), সবুজ ঢালী (২৮), নিপুল বিশ্বাস (২৯), সমু ঢালি (২৮), অশোক ঢালি (৩০), মো. সৌরভ হাওলাদার (২৩), মো. জয় (২৮) ও মাহবুব হাওলাদার (৪০)।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী। তিনি বলেন, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে ১০ জন সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতা-কর্মীদের ছবি সম্বলিত ৮টি গেঞ্জি ও একটি ব্যানার যাতে লেখা রয়েছে ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ উদ্ধার করা হয়। এসময় আটককৃতদের বহনকারী দুটি বাস ও একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

  • গাংনীতে তপন হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    গাংনীতে তপন হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তপন হত্যা মামলার পলাতক আসামি মন্টু শাহকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।
    গাংনীর ভবানিপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম একই উপজেলার করমদি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
    মন্টু শাহ গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পুরাতনপাড়া এলাকার ফজল আলীর ছেলে।
    আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১ টার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে মেহেরপুর জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    গত বছরের ২০ ডিসেম্বর গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা ও সাহেবনগর মাঠের মধ্যে একটি পেঁপে বাগান থেকে তপন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷
    ওই ঘটনায় তপনের স্ত্রী আশিকা ইয়াসমিন রুপা বাদি হয়ে গাংনী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ যার মামলা নং ২২, তারিখ ২২/১২/২০২৫ ইং, ধারা ৩০২/৩৪।
    মামলায় আসামি হিসেবে সাতজনকে সাসপেক্ট করেন পুলিশ। পুলিশের সেই তালিকার ৬ নং আসামি সে।
    ওসি মোহাদ্দিদ মোর্শেদ আরও জানান,
    মামলার পর থেকেই মিন্টু শাহসহ অন্যান্য আসামীরা পলাতক ছিল৷ গ্রেফতারকৃত মন্টুকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগার প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

    ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রবিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ১৪৮ ও ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন ডিএসইতে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

    রবিবার ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭১টি কোম্পানির, কমেছে ২৯৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

    অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

    রবিবার সিএসইতে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা কম। আগের দিন সিএসইতে ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

  • আশুলিয়ায় ১৬ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

    আশুলিয়ায় ১৬ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

    ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে, আরেকজন পলাতক রয়েছে।

    রোববার সকালে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন সিফাতের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতাররা হলেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার সিফাত (১৮), ফরিদপুরের বোয়ালমারীর মমিন শেখ (১৮) এবং সিরাজগঞ্জের সুমন শেখ (১৮)। ঘটনার সাথে জড়িত আরেক অভিযুক্ত জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগও রয়েছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে মমিন কিশোরীকে সিফাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে সিফাত, মমিন ও সুমন মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেন।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

    উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের লালারটেক এলাকায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।

  • অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত সবুজ বন এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির এ সাম্রাজ্যে চলে লাখ লাখ টাকার কারবার। আর ওই সাম্রাজ্যের অঘোষিত রাজা যেন বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান। বনের সিংহভাগ দুর্নীতির নিয়ন্ত্রকও তিনি।অভিযোগ আছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলে তার রাজত্ব। একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর চাকরি করলেও রহস্যজনক কারণে বদলি করা হচ্ছে না তাকে। অথচ, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার বদলির সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগেই।

    বনের দুর্নীতির সাম্রাজ্যের সঙ্গে রওসান হাছান ছাড়াও বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হওয়া উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির দাপটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। বন ও অর্থখেকো কর্তাদের জুলুম-নির্যাতনে অসহায় সাধারণ মানুষ। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চরহাদীতে এক বিট কর্মকর্তার চাহিদামতো ১২ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ছয়টি মহিষ আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন সুমন হাওলাদার নামে এক রাখাল। আলোচিত সে ঘটনার পরও কর্মকর্তাদের মনের বনে রয়ে গেছে দুর্নীতির শেকড়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চরহায়দার, লালচর, চরআলগা, চরহাদি ও চরশাহজালালে বন বিভাগের সামাজিক বনাঞ্চল রয়েছে। বন বিভাগ সূত্র বলছে, চরগুলোতে ২০ হাজার একর বন বিভাগের জমি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮২১ একর বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশাল বনাঞ্চল ও জমি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রভাবশালীদের বনের গাছ ও মাটি কেটে খালে বাঁধের পর বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পরবর্তী বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকায় লিখিত-অলিখিত বিট দেওয়া হয় চরাঞ্চল। সেইসঙ্গে বনের খালে ঝাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুসের কারবার করা হচ্ছে।

    এছাড়া গোপনে বনের গাছ বিক্রি ও বন বিভাগের জমিতে মহিষ চড়ানোর অনুমোতি দিয়ে মাসিক ও বার্ষিক কিস্তিতে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে রাখালদের থেকে। নারকেল গাছের ডাব বিক্রি করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অত্যাচার, হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

    মো. অহিদুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর চরের খালে বাঁধ দিতে নিষেধ করেছেন। তারপরও টাকা নিয়ে বন বিভাগ খালে বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় প্রভাবশালীদের। গণঅধিকার পরিষদের নেতা হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বন বিভাগ।’

    তিনি বন বিভাগের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। সহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘তাদের শতাধিক মহিষ রয়েছে। বছরে প্রত্যেকটি মহিষের জন্য বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের লোকজনকে দুই হাজার করে টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে খালে বাঁধ দেওয়া হয়।’

    হাসান সরদার নামে অন্য একজন বলেন, বন বিভাগের লোকজন চরে লাখ লাখ টাকার কারবার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান যুগান্তরকে বলেন, তিনি চরফাতেমা, চরআলগা ও চরহায়দারের দায়িত্বে আছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার কোনো দুর্নীতির সাম্রাজ্য নেই এবং তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

    উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রওসান হাছান দুর্নীতির গডফাদার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালে বাঁধ দেওয়া হলেও এখন সে সুযোগ নেই। বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যায় করেছেন কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।

    এ এম

  • প্রণোদনায় ‘অকৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

    প্রণোদনায় ‘অকৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

    কলমাকান্দায় বন্যায় ক্ষতিগস্ত সরকারি কৃষি প্রণোদনার তালিকায় খারনৈ ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক ও ভুয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার উপজেলার পালপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে পালটা মানববন্ধন করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকরা। কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সড়কের পালপাড়া বাজার এলাকায় মানববন্ধনে কৃষকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় নলগড়া, করাসাবরা, দলা বিল, মেধা বিলসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অনেকের নাম প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যাদের নিজস্ব কোনো কৃষিজমি নেই কিংবা কৃষিকাজে জড়িত নন, তাদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। কৃষক কুদরত আলী বলেন, আমার ৩৪ কাঠার মধ্যে ২৯ কাঠা জমির ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম নেই। যারা কখনো কৃষিকাজ করেনি, তারা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্ড পেয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকসহ কয়েকজন তাদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    এ এম

  • গাজীপুরে যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি

    গাজীপুরে যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি

    গাজীপুর মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    রোববার ভোর ৬টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন কলম্বিয়া এলাকা থেকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে মালেকের বাড়ি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে গাছা থানার দুজন পুলিশ সদস্য মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একপর্যায়ে তারা মিছিলের দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে মিছিল থেকে এক ব্যক্তিকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘এই একটাও সামনে আবি না, মাইরালামু, মাইরালামু।’ একইসাথে মিছিলে ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন’ স্লোগানও দেয়া হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবং দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিলটির আয়োজন করা হয়। তবে মিছিল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে হুমকিসূচক বক্তব্য প্রদান এবং প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি পালন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

    ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, প্রকাশ্যে এমন স্লোগান ও কর্মসূচি চললেও কেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর-রশিদ বলেন, ভিডিওতে হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে করতে হেঁটে যাচ্ছেন যুবক, ভিডিও ভাইরাল

    অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে করতে হেঁটে যাচ্ছেন যুবক, ভিডিও ভাইরাল

    একটি পোশাক কারখানার সামনে থেকে এগিয়ে আসছেন এক যুবক। একপর্যায়ে প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে পিস্তল বের করেন তিনি। এরপর পোশাক কারখানার দিকে গুলি ছোড়েন। পরে এগোতে থাকেন গুলি করতে করতে।

    চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় একটি পোশাক কারখানার সামনে এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকালের দিকে।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার ইয়ুনেস্কো পোশাক কারখানার সামনে পাঁচজনের একটি দল অবস্থান নেয়। তাঁদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

    ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কারখানাটির সামনে থেকে গোলাপি টি–শার্ট পরা এক যুবক সড়কের দিকে এগিয়ে আসছেন। এ সময় তাঁর পাশ দিয়ে কয়েকজন পথচারী হেঁটে যাচ্ছেন। এরপর সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে তাক করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন টি–শার্ট পরা যুবক। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিস্তল উঁচিয়ে আবার গুলি করতে দেখা যায় তাঁকে।

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, একটি পক্ষ বিসিক শিল্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও কারখানা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে। গতকাল গুলির ঘটনার পর স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে যুবদল নেতাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পুলিশও তদন্ত স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করতে চায়নি।

    চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, বিসিক এলাকায় গুলির ঘটনার তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। থানায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

  • সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার

    সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার

    সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ অগাস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন সারওয়ার আলম। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

  • মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুর ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফর করবেন। আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • নড়াইলে ১৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান

    নড়াইলে ১৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান

    মেধাবৃত্তি বাচ্চাদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি করে, তারা চৌকস হয়-অতিরিক্ত আইজিপি জিল্লুর রহমান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ১৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদের আয়োজনে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান।

    নড়াইল পুলিশ লাইন্স স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হায়দার আলী দেওয়ান, ব্যবসায়ী সৈয়দ আহাদ আলী, হলি চাইল্ড কেয়ার হোম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম খানসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন-নাসমুস সাকিব ব্রাইট ও প্রবীর চক্রবর্তী।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে এই মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান একটি ভালো উদ্যোগ। বৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকলে বাচ্চাদের মধ্যে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এতে মা-বাবার মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তারা চৌকস হয়। এই বৃত্তি প্রতিযোগিতায় নড়াইল জেলার ১৯টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৪৪৮ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে বলে জেনেছি। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৫৬ জন। সাধারণ গ্রেডে ৮৭ জন বৃত্তি পেয়েছে। দুই গ্রেড মিলে ১৪৩ জন বৃত্তি পেয়েছে। যারা বৃত্তি পায়নি তারা যে খারাপ এটা বলা যাবে না। কারণ, তারাও চেষ্টা করেছে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

  • জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন

    জেলা বিএনপি সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল; সংবাদ সম্মেলন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে। পলাশ এর আগেও সড়কে মাইক্রোবাস চাপায় তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি এবং এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী মজিদুল ইসলাম ও তার ভাই মহিরুল ইসলাম।

    লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নাম ব্যবহার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা-মামলার হুমকি এবং সালিশের নামে অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

    ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ এবং বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেন তারা। জমির বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকার পরও সাজ্জাদ হোসেন পলাশ তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ মকলেছুর রহমান, আবুল কালাম ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে ওই জমিতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা। এতে তাদের প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    এ ঘটনায় মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করার পর তা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেলা বিএনপির সভাপতির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

    এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, “কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অন্যায় কাজ করলে তার দায় দল নেবে না; দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।”

    এদিকে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। মামলার শীর্ষ আসামি ওই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মকলেছুর রহমান ও একই গ্রামের ছ্যান ভিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম। তারা দুজনেই জেল হাজতে রয়েছে।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
    মুহাদ্দিদ মোর্শেদ বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে একাধিক. সন্তানের মধ্যে কোনো একজনের প্রতি বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করাও অন্যদের ওপর এক ধরনের অবিচার করা। আবার যেমন সাধারণ দান বা কারো জন্য জায়গাজমি, সম্পদ ইত্যাদি ভাগবাটোয়ারা ও বণ্টনে বে-ইনসাফি করা, কারো প্রতি বেশি টান অনুভব করে কমবেশি করা-এসবই হলো, জুলুম ও অবিচার। এজন্য জরুরি হচ্ছে, কাউকে কিছু হিবা-দান বা দেওয়ার ইচ্ছা হলে, সর্বোচ্চ ইনসাফ কায়েম করা এবং সাধ্যমতো সবার জন্য সমবন্টন করা জরুরি!

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়ে যায় (মাতার লক্ষণ দেখা যায় কারো মধ্যে বা দ্রুত মৃত্যু হবে এমন অবস্থা তৈরি হয়), আর যে যদি কল্যাণকর কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য ইনসাফের সঙ্গে পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য ওনিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো। (সুরা বাকারা: ১৮০)এ আয়াতের তাফসির সম্পর্কে মাআরেফুল কোরআনে এসেছে, যদিও ও ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার বিষয়ে এ আয়াতটি (সুরা নিসার ৭নং আয়াত ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের জন্য যেমন নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও তেমনি অংশ রয়েছে; হোক তা অল্প বা বেশি-এটি একটি নির্ধারিত অংশ’) দ্বারা এ-জাতীয় ওসিয়তের বিধান রহিত হয়ে গেছে। একইভাবে তাফসিরে জাসসাস ও কুরত্ববিতে এসেছে, মিরাস-উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াত আত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করাকে রহিত করে দিয়েছে। এমনকি বিদায় হজের ‘ঘোষণায় রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক হকদারের হকপ্রাপ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই এখন থেকে কোনো ওসিয়তকারীর জন্য তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারের জন্য ওসিয়ত করা জায়েজ নয়। (জামে তিরমিজি)

    সাহাবি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার বাবা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা (রা.) বললেন, আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রাসুল (সা.)-কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবীজির (সা.) কাছে এলেন। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি কি এমন কাজ তোমার অন্য সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। তখন আমার পিতা চলে এলেন এবং তিনি তার যে দান ফিরিয়ে নেন। (মুসলিম)

    মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজির কাছে যখন এ বিষয়ে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্য আসা হলো, তখন নবীজি (সা.) বললেন, এছাড়া তোমার কি আর কোনো পুত্র আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবীজি বললেন, তুমি কি তাদের সকলকে এমন (এই একই সমপরিমাণে) দান করেছ? (এর উত্তরে) যখন বলা হলো, না। তখন নবীজি বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি জুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সবাইকে সমবন্টন করে না দেওয়ার কারণে নবীজি স্বয়ং সাক্ষী তো হলেনই না। বরং, এমন আচরণকে জুলুম অবিচার হিসাবে আখ্যায়িত করলেন। আরেক বর্ণনায় আরো একটু বর্ধিত বিবরণ এসেছে। নবীজি বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা (তোমার সব ছেলে) সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে এমন করো না। (অর্থাৎ, একজনকে কিছু (বেশি বা সাধ্যের মধ্যে) দান করে, অপরকে বঞ্চিত করো না। (মুসলিম)

    শেষোক্ত বর্ণনাটি থেকে এ বিষয়টিই বুঝে আসে

    যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই কর্তব্য হচ্ছে, আমরা যদি আমাদের সন্তানদের থেকে সদ্ব্যবহার কামনা করি, তবে তাদের সবার প্রতি ইনসাফ বজায় রাখাও জরুরি। নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আজকাল আমাদের সমাজে এ-জাতীয় আচরণও প্রকাশ পাচ্ছে, অনেকেই তাদের আপন সন্তানের মধ্যে কারো প্রতি বেশি আবেগ ভালোবাসার কারণে, কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়েন। ফলে ওই সন্তানের প্রতি বা তার ছেলেমেয়ের প্রতিও লালন করেন অগাধ ভালোবাসা। এমন আচরণ কখনো কাম্য নয় কারো থেকেই! এর ফলে অনেক সময় বাকি সন্তানরা রাগ-অভিমান করে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কেউবা মা-বাবার প্রতি অযত্ন-অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন করে। এটিও কোনোভাবে কাম্য নয়। এমনকি বাবা-মায়ের এমন আচরণের কারণে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়াও বিধিসম্মত নয় কখনোই।

    লেখক: শিক্ষার্থী, শ্রীপুর ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা, শ্রীপুর, গাজীপুর

    এ এম

  • বেসরকারি এতিমখানায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ সরকারের

    বেসরকারি এতিমখানায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ সরকারের

    বেসরকারি এতিমখানায় ১৪০ কোটি টাকার সরকারি ভাতা অনুমোদন

    ডেক্স নিউজ : দেশের বেসরকারি এতিমখানাগুলোর শিশুদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সরকারি ভাতা হিসেবে ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ অর্থ দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি বেসরকারি এতিমখানার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর অনুকূলে মঞ্জুর করা হয়েছে।

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সম্প্রতি এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট অর্থ সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুকূলে ন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এতিমখানাগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে পারেন।

    সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল।

    দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা মঞ্জুর করায় পুরো বরাদ্দ অর্থই কার্যত বিতরণের আওতায় চলে এসেছে।

    বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে বসবাসরত ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ৬ মাসের অনুদান দেওয়া হবে।

    অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিটি শিশুর অনুকূলে মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এই অর্থ মূলত খাদ্যদ্রব্য ক্রয় এবং শিশুদের মৌলিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে।

    সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এতিম শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

    এ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে অবস্থানরত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

    ফলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অভিভাবকহীন শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

    অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ছাড় ও ব্যবহারের বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এতিম শিশুদের জন্য এ ধরনের সহায়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তাদের মতে, দেশে অনেক এতিমখানা সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে পরিচালিত হয়। ফলে সরকারি অনুদানে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করে।

    বিশেষ করে খাদ্য ব্যয়, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে বিতরণ হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার এতিম শিশুর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    পাশাপাশি বেসরকারি এতিমখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহেও এ অনুদান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

    এ এম

  • তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন সরকারের তিন মন্ত্রী

    তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন সরকারের তিন মন্ত্রী

    দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বর্তমান সরকারের তিন শীর্ষ নীতি-নির্ধারক।
    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর মধ্যবর্তী তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পৌঁছান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরি এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা দুপুরে তিস্তা ব্যারাজ ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তারা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।সভায় তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, লালমনিরহাট, নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জনগণের হক তছরুপ করলে কোনো ছাড় নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

    জনগণের হক তছরুপ করলে কোনো ছাড় নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

    সাধারণ মানুষের অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি। তিনি বলেছেন, জনগণের হক আদায় না করে যদি কেউ দুর্নীতি করেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য তছরুপ করার চেষ্টা করেন, তবে অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১২টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণের হক নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার সরকার। প্রধানমন্ত্রী দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তিনি ছুটে চলছেন। আপনারা সরকারের পাশে থাকুন, আমাদের সহযোগিতা করুন; এই সরকার সুশাসন নিশ্চিত করলে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে।

    মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম (পিপিএম) এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া। এছাড়াও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এলাকার স্থানীয় অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন। এর আগে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গজারিয়ায় এসে পৌঁছালে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে বরণ করে নেন।

  • শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলা দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

    শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলা দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

    কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের সেই নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

    এর আগে, গত মঙ্গলবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার কুমিল্লার আলোচিত শিবির নেতা জিসান প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন ওই দুই আইনজীবী।

    ওইদিন বিকেলে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানি করতে আইনজীবীদের ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি।’

    অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরূপ বক্তব্য দেন।

    অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী সমকালকে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। এর প্রমাণও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে কিনা, চিঠিতে তা স্পষ্ট উল্লেখ নেই।’

    কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সমকালকে বলেন, ‘আমরা পিপি এবং এপিপিরা কী করতে পারব আর কী করতে পারব না, তা বিধিতে বলা আছে। এপিপিদের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিসানের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে বিয়ের চাপ দিলে পরদিন গত ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ জুন রাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই রাতে ওই নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেন। এ ছাড়া ধর্ষণের সহায়তায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

    ওই মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে তিনি পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৬ জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

  • জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’

    আব্দুল মুনতাকিমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। ফেসবুকে নুর ইবনে আলম নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাবা–দাদা শহীদ হওয়ার পরও তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে হয় কীভাবে? হলফনামা অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল।’ অনামিকা আমিন নামের একজন বলেন, ‘উনি বুঝতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া গর্বের। তাই একটু মিছা কথা মুখ দিয়ে বের হইছে…।’

    আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল–ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’

    আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল মুনতাকিমের বাড়ি সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দীর সঙ্গে কথা হয়। সংসদ সদস্যের মা–ও জীবিত আছেন। আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন।’

    যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আপাতত এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

  • পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

    পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

    ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. গোলাম সাকলায়েন, ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাবেক এডিসি ডিবি গুলশান বিভাগে কর্মকালীন বাংলাদেশ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

    এতে আরও বলা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

    ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব প্রদানপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন সাকলায়েন এবং একই মাসের ২৮ তারিখে তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে, এডিসি সাকলায়েনের ওপর গুরুদণ্ড আরোপের পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা বিধি মোতাবেক ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয় এবং এডিসি সাকলায়েন ২০২৪ সালের ১০ মার্চ দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সে পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনশ মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় বলে পরামর্শ প্রদান করে।

    এরপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন সানুগ্রহ অনুমোদন করেন।

    এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর দায়ে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (খ) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

  • একের পর এক সিনেমা ফ্লপ, রাভিনার ‘অপয়া’ অপবাদ ঘুচে যে সিনেমায়

    একের পর এক সিনেমা ফ্লপ, রাভিনার ‘অপয়া’ অপবাদ ঘুচে যে সিনেমায়

    ১৯৯১ সালে বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ‘পাত্থর কে ফুল’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। তবে এ সিনেমার পর বেশ কয়েক বছর তার ক্যারিয়ারে একাধিক সিনেমা ফ্লপ হয়। সেই সময়ে অভিনেত্রীকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকা হতো। জিংকস বলতে এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, যা দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়।

    সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাভিনা ট্যান্ডন তার পথচলা এবং কীভাবে পরিস্থিতি বদলে গিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, সেই সম্পর্কে কথা বলেন। ‘মোহরা’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারে একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল বলেও জানান তিনি।

    রাভিনা ট্যান্ডন বলেন, তখনকার মিডিয়াও খুবই নিষ্ঠুর ছিল আমার প্রতি। তারা আমাকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকত।’ সমালোচনা সত্ত্বেও অভিনেত্রী বিশ্বাস করতেন একটি সিনেমার সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনো একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, আপনি আপনার ১০০ শতাংশ দেন, কখনো তা কাজে দেয়, কখনো দেয় না। এটা কোনো একজনের দোষ নয়।

    ১৯৯৪ সালে ‘মোহরা’ মুক্তির পর সব কিছু বদলে যায় বলে জানিয়েছেন রাভিনা ট্যান্ডন। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী— কীভাবে প্রযোজক গুলশান রাই প্রকাশ্যে তাকে ‘ভাগ্যবতী’ বলে আখ্যা দিয়ে তার প্রতি সিনেমা জগতের মনোভাব পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারপর হঠাৎ করেই আমি খুব ভাগ্যবতী হয়ে উঠলাম। তখন প্রযোজকরা বলতে শুরু করলেন— তাদের যাতে একটা সুযোগ দেওয়া হয়। তবে কিছু সিনেমা নির্মাতা বিশ্বাস করতেন যে, রাভিনা ট্যান্ডন অভিনীত যে কোনো সিনেমাই ফ্লপ হবে।

    কিন্তু ১৯৯৯ সালে ‘শূল’ মুক্তির পর অভিনেত্রী হিসেবে তার ভাবমূর্তি বদলে যায়। এ সিনেমার মাধ্যমে গ্ল্যামারস ইমেজ ভেঙে একেবারে অন্য রাভিনা ট্যান্ডনকে তুলে ধরেছিল।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন বর্তমানে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যে সিনেমায় প্রায় ২২ বছর পর অক্ষয় কুমারের বিপরীতে দেখা যাবে।

  • নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    সবার হাতে হাতে গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ। মুখে নির্মল হাসি। আনন্দ-আবেগে ভরপুর পুরো স্কুল আঙিনা। পড়ন্ত বিকেলে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে এ এক অন্যরকম আনন্দ উৎসব। এ যেন এক টকুরা ‘সবুজ বাংলাদেশ’। স্কুল আঙিনায় সবুজ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এ দৃশ্যের দেখা মেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে।

    শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ, ফুটবল, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে কালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ২৫০ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

    ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই অনুষ্ঠানে ২৫০ জন ছাত্রীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫০টি গাছের চারা, বাল্যবিয়ে রোধে আলোচনা, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, সঞ্চয়কৃত টাকার চেক প্রদান, খাতা, কলম, ইংরেজি অভিধানসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে মহাখুশি শিক্ষার্থীরা।

    বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরীন চৌধুরী বলে, গাছের চারা পেয়ে যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার পেয়েছি। ডিসি স্যার ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কর্মকর্তারা আমাদের সুন্দর উপহার দিয়েছেন।

    দশম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আফরিন রহমান মৌ বলে, ডিসি স্যার অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। ওনার (ডিসি) কথা হৃদয়ে এতোটা গেঁথে গেছে যে, অন্যায়ের পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

    বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কালিয়া উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র বলেন, শিক্ষা জীবন থেকেই সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তুলতে ‘সঞ্চয় সেবা’, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও সচেনতামূলক প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। ভালো সাড়া পেয়েছি।

    বিআরডিবি নড়াইলের উপ-পরিচালক গোলাম রসুল জানান, একজন শিক্ষার্থী যদি প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বছরে ২ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয় জমা করে তাহলে সরকারি প্রণোদনা পাবে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে বছর শেষে একজন শিক্ষার্থী সঞ্চয় ও প্রণোদনাসহ পাচ্ছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেয়াসহ আর্থিক সুবিধা হচ্ছে। নড়াইলে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে। তবে, ১৮ বছরের আগে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে হলে ওই শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনার টাকা পাবে না। শুধু তার জমাকৃত টাকা পাবে। এর প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাল্যবিয়ে রোধ করে ছাত্রীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া।

    সার্থকি দাস বলেন, আমি এখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছি। ডিসি ও বিআরডিবি স্যারদের হাত থেকে আজ ২০ হাজার ৭০০ টাকা চেক পেয়েছি। বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে আজ এই টাকা (২০ হাজার ৭০০) পেলাম। আমি খুব আনন্দিত।

    এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, একজন সন্তানকে ভালো ভাবে মানুষ করতে এবং পড়ালেখা শেখাতে তার বাবা-মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। বাবা হয়ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন। মা সংসারে অনেক কষ্ট করেন। তবু বাবা-মা সন্তানকে পড়ালেখা শেখান। ভালো ভাবে মানুষ করতে চান। তাই বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। পারিবারিক বন্ধন এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘ভালো মানুষ’ হতে হবে। তাহলে জীবন সার্থক হবে। দেশ ও জনকল্যাণে কাজ হবে।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, একটি ভালো চিন্তা, আরেকটি ভলো চিন্তার জন্ম দেয়। তাই শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সবসময় ভালো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরণের অন্যায়-অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ^াস, কালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা চৌধুরীসহ অনেকে।

  • চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ফ্যাক্ট-চেক গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।

    প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাশাসক লুৎফুন নাহার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদকর্মী সরদার আল আমিন, বিপুল আশরাফ, হুসাইন মালিক ও রাজীব হাসান কচি।

    প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ সাংবাদকর্মীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন এমন একটি অবস্হা দাঁড়িয়েছে, আমরা কোনটা বিশ্বাস করবো, কোনটা করবো না তা বুঝতে পারিনা। সে কারনে এই বিষয়গুলো বোঝানোর জন্যই এ প্রশিক্ষণ অনেক গুরুত্ববহন করে’।

  • মুসলিম বিশ্বের টুকরো ইতিহাস

    মুসলিম বিশ্বের টুকরো ইতিহাস

    ১০ জুন : উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরবদের বিদ্রোহ

    ডেক্সনিউজ : ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (৭/৮ শাবান ১৩৩৪ হিজরি) ব্রিটিশদের মদতপুষ্ট মক্কার শরিফ ও আমির হুসাইন ইবনে আলীর নির্দেশে মক্কায় অবস্থানরত উসমানী সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ‘আরব বিদ্রোহ’-এর প্রকৃত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এই বিদ্রোহে আরবদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছিল।১০ জুন : উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরবদের বিদ্রোহ

    ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (৭/৮ শাবান ১৩৩৪ হিজরি) ব্রিটিশদের মদতপুষ্ট মক্কার শরিফ ও আমির হুসাইন ইবনে আলীর নির্দেশে মক্কায় অবস্থানরত উসমানী সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ‘আরব বিদ্রোহ’-এর প্রকৃত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এই বিদ্রোহে আরবদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছিল।১৩ জুন : কায়রোকেন্দ্রিক আব্বাসী খেলাফত প্রতিষ্ঠা

    ১৩ জুন ১২৬১ খ্রিষ্টাব্দ (৫/৬ রজব ৬৫৯ হিজরি) কায়রোভিত্তিক আব্বাসী খেলাফতের প্রথম খলিফা আহমদ আল-মুসতানসিরের শাসন শুরু হয়। তিনি মামলুক সালতানাতের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কায়রোর প্রথম আব্বাসী খলিফা ছিলেন।

    আল-মুসতানসির ছিলেন আল মুসতাসিম বিল্লাহর চাচা। ১২৫৮ সালে মঙ্গোল আক্রমণে বাগদাদ পতনের সময় তিনি প্রাণে রক্ষা পান এবং মরুভূমিতে বিভিন্ন বেদুইন গোত্রের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীকালে মামলুকরা মঙ্গোলদের পরাজিত ও প্রতিহত করার পর তিনি কায়রো আসেন। সেখানে বাইবার্স তাকে খলিফার পদে অধিষ্ঠিত করেন। এর মাধ্যমে কায়রোয় আব্বাসী খেলাফতের নতুন ধারার সূচনা হয়।

    ১৬ জুন সুলতান বায়েজিদ প্রথমের : উসমানী খেলাফতের দায়িত্বগ্রহণ

    ১৬ জুন ১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দ (১১/১২ জমাদিউস সানি ৭৯১ হিজরি) বায়জিদের (প্রথম) শাসনকাল শুরু হয়। তিনি ‘ইলদিরিম’ (বজ্র বা বিদ্যুৎ) নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। বায়েজিদ ছিলেন মুরাদের (প্রথম) ছেলে। ১৩৮৯ সালের ১৫ জুন কসোভো যুদ্ধে উসমানীদের বিজয়ের পর তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।

    এ এম

  • সংসদে মাথা নুইয়ে প্রবেশ করা ইসলাম পরিপন্থী কিনা যাচাইয়ের অনুরোধ

    সংসদে মাথা নুইয়ে প্রবেশ করা ইসলাম পরিপন্থী কিনা যাচাইয়ের অনুরোধ

    সংসদে মাথা নুইয়ে প্রবেশ করা ইসলাম পরিপন্থী কিনা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আমি পৃথিবীর অনেক দেশের সংসদ দেখেছি। সেখানে মাথা নুইয়ে প্রবেশের নীতি রয়েছে। কিন্তু বিষয়টা কি ইসলাম পরিপন্থী কিনা সেটা আমাদের জানানোর অনুরোধ করছি।এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে।

    তিনি আজ সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্তি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ + মহিলা ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ + মহিলা ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।

    এ এম

  • ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

    ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্থান দিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত বিশ্ব সাহিত্য অভিধান দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ফরাসি জ্ঞানকোষ ও অভিধান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস–এর প্রকাশিত তথ্যভাণ্ডারে নজরুলকে বাংলা ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    লারুস–এর তথ্য অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম চুরুলিয়া, ১৮৯৯ -মৃত্যু ঢাকা, ১৯৭৭। বাংলা ভাষার একজন কবি এবং তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন “পোএৎ র‍্যবেল্” বা “বিদ্রোহী কবি” নামে। সেখানে তার সাহিত্যকর্মকে দেশপ্রেম, সামাজিক চেতনা ও মানবিক অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ গীতিকাব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে নজরুলের উল্লেখযোগ্য রচনার উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) এবং ‘ভাঙার গান’–এর নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।

    কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারীর মতে, ইউরোপের একটি স্বীকৃত ও দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্যভিত্তিক জ্ঞানকোষে নজরুলের অন্তর্ভুক্তি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক পরিচিতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

    তিনি বলেন, এটি কেবল একজন কবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ঐতিহ্যের বৈশ্বিক উপস্থিতিকেও নির্দেশ করে।

    কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের সভাপতি কবি সোহেল আহমদ বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার সাহিত্য আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

    তিনি আরও জানান, ফরাসি কমিউনিটির মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করতে তাদের সংগঠন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ফরাসি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস–এর দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর বিশ্বজুড়ে সাহিত্য, লেখক ও সাহিত্যধারার ওপর বিস্তৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য পরিচিত।

    এ এম

  • ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সেই নেতা গ্রেপ্তার

    ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির বহিষ্কৃত সেই নেতা গ্রেপ্তার

    নামাজে ইমামতি করার সময় কৌশলে পালিয়ে যাওয়া গোলাম আজম (৪৫) নামে এক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানা পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) সকালে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর মাদারটেকের নন্দীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, চাঁদপুর আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর অধীনে করা একটি মামলায় রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে গত সোমবার (১৫ জুন) পুলিশ রাজধানীর পুরানা পল্টনে তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।

    ওসি জানান, গ্রেপ্তারের সময় গোলাম আজম আসরের নামাজ আদায়ের অনুমতি চান। পুলিশ অনুমতি দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ইমামতি শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে মুসল্লিরা সিজদায় থাকা অবস্থায় পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান।

    এরপর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার সকালে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলটির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই এবং দীর্ঘদিন আগে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • বেনজীরকে কি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যাবে?

    বেনজীরকে কি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যাবে?

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি না থাকায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর থেকে তাকে কী প্রক্রিয়ায় ফেরত আনা হবে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তাকে ওই দেশের আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন বলেও জানা গেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজের সাবেক অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং দ্য অ্যারাবিয়ান পোস্টের এক্সিকিউটিভ এডিটর সাইফুর রহমান বিবিসিকে জানান, দেশটিতে সরকারি ছুটি শেষে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। সেক্ষেত্রে এখন যদি বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয় তাহলে তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন।

    তিনি বলেন, সম্ভবত তার আইনজীবীরা আদালতে মুভ করবেন, তার জামিনের জন্য। হয়তো ট্রাভেল ব্যান বা এই জাতীয় যদি কিছু থেকে থাকে, হয়তো দেশেই রাখবে। বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী মুভমেন্টের ওপরে ওনার ভাগ্যটা নির্ধারিত হবে।

    আদালতের প্রক্রিয়া শুরু হলে পাবলিক প্রসিকিউশন থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা যাবে বলেও জানান তিনি। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিবিসি হাতে পায়নি।

    সাইফুর রহমান বিবিসিকে বলেন, দুবাই বিমানবন্দর থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেটি সঠিক নয়, তাকে দুবাই মল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদ দুবাইতেই ছিলেন ও সেখানকার রেসিডেন্ট বলেও জানান তিনি।

    সাইফুর রহমান জানান, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন বলেও তথ্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সাইফুর রহমান বলেন, দুবাইয়ের গোল্ড কার্ড যেটা দশ বছর মেয়াদী, বিনিয়োগকারীদের এই গোল্ড কার্ড দেওয়া হয়। শর্ত পূরণ করলে যে কোনো বিদেশি নাগরিককে ১০ বছর মেয়াদে গোল্ড কার্ড দেওয়া হতে পারে।

    তবে বাংলাদেশের সাবেক এই পুলিশপ্রধানকে কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, বা তাকে নিয়ে অন্যান্য বিষয়ে এখনো দুবাই পুলিশ কোনো বক্তব্য দেয়নি বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ বা ফেরানোর বিষয়টি মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইনি পেশায় রয়েছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন।

    তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বাংলাদেশের সাথে ইউএই এর প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি তাদের আইন, আদালত, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যথাযথ নথিপত্রের ওপরই মূলত নির্ভর করছে।

    ওলোরা আফরিন বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইজ নট অ্যান অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট। ইটস জাস্ট এ নোটিশ। বাংলাদেশের সাথে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও ইউএই কোর্টে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে কনসিডার করা হয়। সেটা হচ্ছে যেই অভিযোগে ইন্টারপোলে নোটিশটা এসেছে, বাংলাদেশে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটাকে এখানেও ক্রিমিনাল অ্যাক্ট হিসেবে গণ্য করা হবে কি না।

    যে প্রক্রিয়ায় বেনজীরকে ফেরাতে হবে

    আইনজীবী ওলোরা আফরিন জানান, সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক, নাকি আসলেই অপরাধমূলক কার্যক্রমে তিনি জড়িত ছিলেন সেটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বিবেচনা করবে।

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সাবেক আইজিপিকে ফেরাতে বাংলাদেশকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে বেশ কিছু নথি জমা দিতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, মামলা সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র, অপরাধ সংশ্লিষ্ট সব নথি এবং বাংলাদেশের আদালতের সব আদেশের নথি জমা দিতে হবে আরব আমিরাতের আদালতে।

    ওলোরা আফরিন বলেন, এগুলো দেখে, সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক আছে কি না এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনি ব্যবস্থা অনুযায়ী আদালতের কাছে সব নিয়মমতো এসেছে কি না সেগুলো দেখা হবে।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের ওপরই নির্ভর করবে বলেও তিনি জানান।

    বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, আরেকটির বিচার চলছে।

    এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরো পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায়ও তদন্ত চলছে।

    তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলছেন, কূটনৈতিক এবং আইনি দুইক্ষেত্রেই একইসাথে চেষ্টা চালাতে হবে।

    এই আইনজীবী বলেন, আমি বলবো এটা আসলে, ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলেই মূলত বেশি কাজ করবে। সেক্ষেত্রে একটা সিদ্ধান্তে আসতে ইউএই সরকারও বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করবে। আর এই প্রসেসটা ফলো করলে এটায় আনুমানিক কম-বেশি ৩০ দিনের মতো সময় লাগবে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দুদকের দায়ের করা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ এই দুইটি মামলায় রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।

    আকতারুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার করছে মূলত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত মামলায়। এখন আমাদের পরবর্তী যে কার্যক্রম তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যে রিকোয়েস্ট লেটার পাঠাতে হবে, তার সাথে সমস্ত ডকুমেন্টসগুলো যুক্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রপার চ্যানেলে যাবে।

    আকতারুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি’র সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

    ফেরানো কঠিন হতে পারে কখন?

    বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শিথিল আইনি ব্যবস্থার উদাহরণ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এমন উদাহরণ রয়েছে।

    সাংবাদিক সাইফুর রহমান বলছেন, বেনজীর আহমেদ যদি লিগ্যাল রেসিডেন্ট হন এবং এখানে তার কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকে, সেক্ষেত্রে উনার আইনজীবীরা হয়তো এই যুক্তিটা তুলে ধরতে পারেন।

    তবে আফরিন মনে করেন, দুবাইয়ে বিনিয়োগকারী হলেও আইনি শিথিলতা পাওয়া যাবে বিষয়টি এমন নয়। বরং বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে বলে তিনি মনে করছেন।

    তিনি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের মামলাটির কথা তুলে ধরেন।

    ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাংলাদেশি নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল। কিন্তু তার অন্য দেশের নাগরিকত্ব, অর্থাৎ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণে পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশে ফেরানো যায়নি।

    আফরিন বলছেন, বেনজীর আহমেদ, উনার যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকে সেই ক্ষেত্রে হয়তো ওই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা কী আছে, সেটাও দেখবে ইউএই।

  • অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

    অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

    সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

    বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

    তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

    তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

    তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

  • এনএপিডির নতুন মহাপরিচালক খাইরুল কবীর মেনন

    এনএপিডির নতুন মহাপরিচালক খাইরুল কবীর মেনন

    জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের (পরিবহন পুল) পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাইরুল কবীর মেনন।

    তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার পর এই পদে পদায়ন করে বুধবার (১৭ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অন্যদিকে, এনএপিডির বর্তমান মহাপরিচালক (সচিব) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে অবসরে যাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চের উপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে পানি ভর্তি পাত্রে সংরক্ষণ করেন।

    উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, “এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।”

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

    এর আগে চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫/৩০ টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি বর্ষণ করে। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
    এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

    একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’ এর উদ্যোগে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’ এর উদ্যোগে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি ও সেলাই মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স’। ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে ‘স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি’র আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) রনি বিশ্বাস উপস্থিত থেকে কর্মক্ষম ও অসচ্ছল নারীর হাতে নতুন সিঙ্গার সেলাই মেশিন তুলে দেন। এর মাধ্যমে ওই পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের একটি টেকসই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়।

    সেলাই মেশিন বিতরণকালে চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আসলাম হোসেন বলেন, “আমরা শুধু সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য বিতরণে বিশ্বাসী নই; বরং একজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সেলাই মেশিনটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।”

    সংগঠনের সেক্রেটারী রনি বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চুয়াডাঙ্গার পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে আমাদের এই ধরনের স্বাবলম্বীকরণ ও মানবিক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যুবসমাজকে সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আদর্শ ও স্বাবলম্বী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স আরও পাঁচটি বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হল ডিবেট ক্লাব, আইটি টিম, ব্লাড সেন্টার, মানষিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সহ আগামীর নেতৃত্ব তৈরির জন্য লিডারশিপ প্রোগ্রাম।

  • টিকটকে আসক্ত স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

    টিকটকে আসক্ত স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

    গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে প্রেম, পরিণয় ও টিকটক, অতঃপর স্ত্রীকে হত্যা! স্বামী আটক

    স্ত্রীর চতুর্থ বিয়ে, স্বামীর দ্বিতীয় ! অতঃপর স্ত্রীকে হত্যা!! স্বামী আটক

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটকে আসক্ত স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসীকে (৩৬) হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বামী লিমন মল্লিককে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে নিজ এলাকা থেকে চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে অভিযুক্ত লিমনকে আটক করা হয়। নিহত সুমনা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

    লিমন পুলিশকে জানিয়েছেন, স্ত্রী সুমনা টিকটকে ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি পরপুরুষদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরণের ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতো। এ নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে প্রায়ই কলহ সৃষ্টি হতো। এর জের ধরে সুমনাকে সোমবার সকালে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে যান লিমন।

    পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, স্ত্রী সুমনাকে হত্যার পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে দরজা বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান লিমন। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন তিনি। লিমনের কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্ত্রী সুমনা আত্মহত্যা করেছে মর্মে লিমন প্রথমে প্রচার করার চেষ্টা চালালেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

    পুলিশ জানায়, আটক লিমন মল্লিক জানিয়েছেন; ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে সুমনার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। এরপর ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটা লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চরদিঘলিয়ায় আসেন লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় প্রায়ই পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। বর্তমানে লিমন স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, স্ত্রী সুমনাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য তাকে ঘরে মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে চলে যান লিমন। তবে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিমন। নারায়ণগঞ্জে সুমনার পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ!

    ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ খেলতে নয়, যেন অস্ট্রেলিয়াকে ক্যাচ প্র্যাক্টিস করাতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। চট্টগ্রামের মাঠে ১০ উইকেটের মধ্যে ৮ উইকেটই বাংলাদেশ হারিয়েছে ক্যাচ তুলে দিয়ে, যে নজির এত বছরের ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।

    ব্যাটিং বিপর্যয়ের এই ম্যাচে ইনিংসের এক ওভার বাকি থাকতেই দলীয় ১৩১ রানে সবকটি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

    বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল বেশ ছন্দেই আছেন ব্যাটাররা। দুই টাইগার ওপেনার হাত খুলে খেলছিলেন। তবে তৃতীয় ওভারে ক্যাচ তুলে দিলেন তানজিদ তামিম।

    এরপরই যেন ক্যাচ তুলে দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। একের পর এক ক্যাচ উঠে থাকে অজি ফিল্ডারদের হাতে।

    অবশেষে এক ওভার বাকি থাকতেই সবকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ, স্কোরবোর্ডে রান তখন ১৩১। অজিদের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে এই রান একদমই যথেষ্ট নয়। জয়ের জন্য নিজেদের সেরাটা দিয়েই এখন বাংলাদেশকে বোলিং আর ফিল্ডিং করতে হবে।

  • চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামলেন নেইমার। গত ১৬ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিলের অনুশীলন মাঠে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে। এটি তার সুস্থতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মে মাসের শেষ দিকে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এখনো পূর্ণ অনুশীলনে ফেরেননি তিনি।

    মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার মাঠে নামতে পারেননি। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি নেইমার। এবারের বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শেষমেশ সব গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে নেইমার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

    ব্রাজিলের পরের ম্যাচ শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়, হাইতির বিরুদ্ধে। এরপর ২৪ জুন মায়ামিতে গ্রুপ সি-র শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। নেইমার এর মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র

    মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র

    উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরেন্দ্রভূমি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে যাচ্ছে। যে ভূগর্ভস্থ পানি কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রেখেছিল, সেই পানির স্তর এখন দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় গভীর নলকূপে আর আগের মতো পানি উঠছে না। কোথাও কোথাও ২০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে পানির স্তর।

    খাওয়ার পানির জন্য গ্রামবাসীকে শত শত মিটার দূরে যেতে হচ্ছে। সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এই পটভূমিতে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মরূকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস।

    দ্রুত নামছে পানির স্তর
    বরেন্দ্র অঞ্চলে তুলনামূলক কম ও অনিয়মিত বৃষ্টি হয়। কয়েক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। আশির দশক থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) হাজার হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করে। ফলে একসময় খরাপ্রবণ এই অঞ্চলে বোরো ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু হয়। তবে সেই সাফল্যের পেছনে তৈরি হয়েছে বড় সংকট। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি প্রতিস্থাপন হচ্ছে না।

    পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ছিল ২৬ থেকে ৩০ ফুট নিচে। ১৯৯৪ সালে তা নেমে যায় ৩৫ ফুটে। ২০০৪ সালে ৫১ ফুট এবং ২০১৩ সালে ৬০ ফুটে পৌঁছে। বর্তমানে বহু এলাকায় পানির স্তর ৮০ থেকে ৯০ ফুটেরও নিচে। কোথাও কোথাও ১১৩ ফুটের বেশি খনন করেও পানি মিলছে না।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের ৮২ শতাংশের বেশি এলাকা পানি সংকটে রয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু’দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে।

    পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সরকার গত বছর রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং এক হাজার ২৪০টি মৌজাকে ‘মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে। সরকারি হিসাবে এসব এলাকার আয়তন প্রায় দুই হাজার ৭৮৭ বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রায় ২১ লাখ পাঁচ হাজার মানুষ পানি সংকটে ভুগছে। পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী, এসব এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নলকূপ স্থাপনেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। বাস্তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলা অব্যাহত রয়েছে

    পানি সংকট এখন শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহু গ্রামে নিরাপদ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর তানোরের উচ্চাডাঙ্গা গ্রামে শত শত গভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। ডাসকো ফাউন্ডেশন এক হাজার ৪০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও ওই গ্রামের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পানির স্তর পায়নি।

    বাড়ছে সেচ ব্যয়, কমছে উৎপাদন
    পানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। রাজশাহীর কৃষানি শব্দরানী বলেন, আগে এক ঘণ্টা সেচের জন্য ৯০ টাকা লাগত, এখন লাগে ১২০ টাকা। সারের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, তবে ফলন কমেছে। সরকারি নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০ গভীর নলকূপের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ব্যক্তিমালিকানায় হাজার হাজার শ্যালো ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলায় ৬২ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল ও প্রায় চার হাজার গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এসব নলকূপের পানি তোলার সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার গভীর নলকূপের সমান।
    বাংলাদেশে ব্র্যাকের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে শুধু নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না। এর জন্য পানিসাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জলবায়ু সহায়ক কৃষি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে।

    বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বড় কারণ ব্যক্তিমালিকানাধীন নলকূপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০টি নলকূপ থাকার কথা। এর মধ্যে বিএমডিএ পরিচালনা করছে আট হাজার ৪০০টি। তবে ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত নলকূপের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজারে পৌঁছেছে।

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে আমরা একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

  • শরীরে স্কচটেপ পেঁচিয়ে গাঁজা পাচারের সময় একজন আটক

    শরীরে স্কচটেপ পেঁচিয়ে গাঁজা পাচারের সময় একজন আটক

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অভিনব কায়দায় স্কচটেপ দিয়ে শরীরে গাঁজা বহনের সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ-৫৫, বিজিবির একটি বিশেষ দল উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ ওই মাদক কারবারিকে আটক করে।আটক মাদক কারবারি মো. আরিফ মিয়া (২৮) ময়মনসিংহ জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

    জানা গেছে, অভিযান চালিয়ে আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ ওই মাদক কারবারিকে আটক করে। পরে জব্দকৃত গাঁজাসহ মাদক কারবারিকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    চুনারুঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    এ এম

  • বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি করার সিদ্ধান্ত

    বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি করার সিদ্ধান্ত

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানের ‘ইয়াবা সেবনের’ একটি ভিডিও আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ইয়াবা সেবন করিয়েছে।

    ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গোপীনাথপুর হাট অফিসের একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আগুনের তাপে একটি যন্ত্র ব্যবহার করে পাইপের মাধ্যমে কোনো পদার্থ গ্রহণ করছেন এক ব্যক্তি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান এবং তিনি ইয়াবা সেবন করছিলেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সভাপতির ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হবে। একজন দায়িত্বশীল নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই বলে দাবি করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হাট অফিসে নিয়ে যায় এবং ইয়াবা সেবন করায়। তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি।’ এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

    আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কিনা, সেটিও যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও তিনি জানান।