জাতীয় সংবাদ

  • আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

    আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের অলংকার কিনতে এখন গ্রাহককে গুনতে হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করে এই অলংকারের খুচরা দাম ঠিক করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকার আজ মঙ্গলবার থেকে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকায়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

    এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বেড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯৬৫ হাজার ৯২০ টাকা।

    তবে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। নতুন তালিকায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বহাল রয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

  • একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারবেন

    একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে ব্যাংকটিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাৎকালে গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো আমানতকারীদের মুনাফা নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতা দূর করা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সাক্ষাৎকালে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাঁদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা তাঁদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থের নির্ধারিত অংশের বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সব ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকটিকে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে হবে।

  • কর্মমুখী হবে মাদরাসা শিক্ষা

    কর্মমুখী হবে মাদরাসা শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মামুন বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো কারিকুলামকে কর্ম বাজারমুখী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে দেশে পাশাপাশি বিদেশেও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।

    তিনি বলেন, অন্যান্য শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সুযোগের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সরকার। দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তাদের জাতি গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

    কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, ওপর থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেই কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

    কর্মশালায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ, ইউজিসির দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে যুক্ত করা, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্টার্টআপসহ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকী ও কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম। কর্মশালায় ৩০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।

  • ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    ঢাকা কলেজ হলে সিটে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ, বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধা, উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়।তালিকা প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রদল-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

    মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শাহিন আলম জানান, তিনি সিটের জন্য ভাইভায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়া একজনকে সিট দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিট বরাদ্দ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রশাসনের সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার অভিযোগ, প্রশাসন উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনার কথা বললেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে সুপারিশ করা শিক্ষার্থীদের নাম পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এর বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করায় সিট বরাদ্দ দিতে সমস্যা হয়েছে। কোনো ভুল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিটের বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হবে। এদিকে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

  • চীনের জে-১০সিই এত আলোচনায় কেন

    চীনের জে-১০সিই এত আলোচনায় কেন

    চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমানের গুলিতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং এ তথ্য এখন প্রমাণিত হয়েছে।

    জানা গেছে, চীনের তৈরি চেংদু জে-১০সি বর্তমানে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একক-ইঞ্জিন বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এর রপ্তানি সংস্করণের নাম জে-১০সিই। আকাশযুদ্ধ, ভূমি ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা—একই বিমান দিয়ে একাধিক ধরনের অভিযান চালানোর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক রাডার, দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত অ্যাভিওনিকস এবং তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়ের কারণে জে-১০সিইকে অনেক সময় পশ্চিমা ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।

    জে-১০ কী ধরনের যুদ্ধবিমান?

    জে-১০সিই হলো চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ-এর তৈরি একক-ইঞ্জিনের সুপারসনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এর নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মূল ডানার সামনে ছোট আকারের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পাখা রয়েছে এবং মূল ডানা ডেলটা আকৃতির। এই নকশা বিমানটিকে উচ্চ গতিতে ভালো নিয়ন্ত্রণ ও দিকপরিবর্তন করতে সাহায্য করে।

    উন্নত অস্ত্র বহন সক্ষমতার কারণে সামরিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চীনের সুপারসনিক, বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান জে-১০সি ফাইটার জেট। জে-১০ ফাইটার জেটের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে জে-১০সি প্রথম জনসমক্ষে আনা হয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। এটি চীনের তৃতীয় প্রজন্মের সুপারসনিক ফাইটার। উন্নত এভিওনিক্স সিস্টেম এবং বিভিন্ন অস্ত্রের সমন্বয়ে এটি স্বল্প ও মাঝারি পাল্লায় কার্যকর। একই সাথে, এটি ভূমি ও সমুদ্র উভয় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে।

    জে-১০সিতে একটি ‘বাম্প এয়ার-ইনলেট সিস্টেম’ আছে। জে-১০-এ ছিল অ্যাডজাস্টমেন্ট প্লেটসহ একটি এয়ার ইনটেক সিস্টেম। জে-১০সির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে এর অস্ত্র বহনের সক্ষমতায়। যেখানে জে-১০ যুদ্ধবিমানে রাখা যেত ১০টি অস্ত্র। জে-১০সিতে রাখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ৪০টিরও বেশি অস্ত্র। পুরনো জে-১০ যুদ্ধবিমানের তুলনায় নতুন জে-১০সি হলো প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক আধুনিক। জে-১০সি-এর রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং অস্ত্র—সবকিছুই একদম নতুন প্রজন্মের হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

    জে-১০সি আর জে-১০সিই-এর পার্থক্য কী?

    জে-১০সি হলো চীনের নিজস্ব বিমানবাহিনীর জন্য ব্যবহৃত সংস্করণ। জে-১০সিই হলো এর বিদেশে বিক্রির জন্য তৈরি সংস্করণ। চীনের বিমানবাহিনী ২০১৮ সালের এপ্রিলে জে-১০সি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনে নেয়। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন জানায়, বিমানটি উন্নত অ্যাভিওনিকস এবং বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এবং আকাশ, স্থল ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

    আলোচনায় থাকার পেছনের কারণ

    জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি অনেক কম জায়গায় ‘টেক অফ’ করতে পারে।

    অর্থাৎ, শত্রুপক্ষ হামলা করলে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান অনেক কম সময়ে (রিঅ্যাকশন টাইম) স্বল্প জায়গার মধ্যে ‘টেক অফ’ করতে পারে। েরানওয়ের একটি অংশে শত্রুপক্ষ বোমা হামলা করলেও এই যুদ্ধবিমান অন্য অংশ থেকেই টেক অফ করতে পারবে।

    এছাড়া, এই যুদ্ধবিমান সিঙ্গেল ইঞ্চিন ফাইটার। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ম্যানুভারিং, অর্থাৎ ‘টপ ফাইট’ বা উঁচুতে যুদ্ধ করা যায়। টপ ফাইটের সময় দ্রুতগতিতে প্রচুর টার্নিং নিতে হয়। দ্রুত আকাশে ওঠার ক্ষমতা এই টপ ফাইটে প্রয়োজন। এই যুদ্ধ বিমান এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ ম্যানুভারিং করা সম্ভব। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের বিমানকে সহজে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব এই বিমান দিয়ে।

    আকাশ থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা উভয় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকেই এই জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সহজে ফাঁকি দিতে সক্ষম এর অ্যারো ডায়নামিকস ডিজাইনের কারণে। এই যুদ্ধবিমান ‘মাল্টিরোল’ ভূমিকাও পালন করে, অর্থাৎ ডিফেনসিভ এবং অফেনসিভ দুই ধরনের কাজই এই যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে করা যাবে। এছাড়া, এই যুদ্ধবিমানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ এর গতিবেগ। অর্থাৎ এই বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার ৪১৫ কিলোমিটার।

    রাফাল এবং জে-১০সি দুটোই চার দশমিক পাঁচ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, কিন্তু রাডারের ক্ষেত্রে জে-১০সি বিমান রাফালের চেয়ে শক্তিশালী বলে ধারণা করা হয়। বিমানবাহী রণতরী এবং ভূমিতে থাকা ঘাঁটি থেকে পরিচালনা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এই যুদ্ধবিমান।

  • কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেছেন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

    আবেদনে বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত এবং যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত না করে কাবিননামা হালনাগাদে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন সুরক্ষায় ফরমটি সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না। এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

  • ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বার্তা

    ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বার্তা

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলন ভারত সরকারের মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না এমন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়া, শেখ হাসিনাকে সেখানে আশ্রয় না দেওয়া, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকারের শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে দলটির পলিসি ও রিসার্চ–বিষয়ক উপকমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশইন না হয় এবং সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ হয়—এসব শর্তের ভিত্তিতেই ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।

    তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে শেখ হাসিনা যেখানে অবস্থান করছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসীই বা একে কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটি শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি অবমাননাকর ঘটনা হবে। এতে এই বার্তাই যাবে যে, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।’সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা’ শীর্ষক একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। এতে বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস–সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ–সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন–পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি এবং নতুন মোড়কে র‍্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় ও সেগুলোর বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

  • প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ওয়াদার শফিকুল আলম, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, মানবকণ্ঠের শহিদুল ইসলাম, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, এদিন নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, ভোরের ডাকের কে, এম, বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, দেশ রূপান্তরের সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, করতোয়ার মোজাম্মেল হক, জনতার ওবায়দুর রহমান শাহীন, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজের আহসান হাবীব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, গ্রিন ওয়াচের মোস্তফা কামাল মজুমদার, দ্যা ইভিনিং নিউজের এ বি এম সেলিম আহমেদ, ডেইলি সানের আল আমিন, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাজ্জাদুর রহমান, সংগ্রামের শামসুল আরেফীন, সোনার বাংলার ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

    মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আমন্ত্রণে সিনিয়র সম্পাদকরা এখানে এসেছিলেন। এ সময় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সংসদে ও বাইরে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে সে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আমরা ভালো কজে সরকারকে সহযোগিতা করব, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব—এই পলিসির ওপরই জামায়াত আছে। এই বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সম্পাদকদের অবহিত করেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। এই বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক। বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক—এগুলো নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সম্পাদকদের প্রশ্নোত্তর এবং মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াত আমির জানিয়েছেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের পলিসির বিষয়টি রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সেটিই আমাদের পলিসি।

    তিনি জানান, সম্পাদকদের পক্ষ থেকে জামায়াতের পার্লমেন্টের পলিসি তারা এপ্রিশিয়েট করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এই প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, দলের নেতা ও পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে খোলামেলা মতবিনিময়ে মিলিত হয়েছেন বলে সম্পাদকরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন যে, এরকম সুযোগ পেলে তারা মাঝে মাঝে তাদের মতামত জানাবেন । এছাড়া, সংসদে বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধীদলের এমপিদের মধ্যে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দে, বিলিবণ্টনে, এমনকি পার্লামেন্টের ফ্লোরে কথা বলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়ার তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে । বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের রায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং স্পিকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইনসাফপূর্ণ আচরণ না পেয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে ।

    জামায়াত আমির গণতন্ত্র উত্তরণে দায়িত্ব পালনে বিরোধীদলকে সহযোগিতা করার জন্য সম্পাদকদের সাহায্য কামনা করেছেন। একইসঙ্গে যাতে লেখনির মধ্য দিয়ে জাতির কাছে সম্পাদকরা সত্য তুলে ধরেন সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এসময় সম্পাদকরা অতীতের বিরোধীদলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ইতিহাস স্মরণ করে জামায়াতের ব্যতিক্রমী ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশকে স্থিতিশীল রেখে বিরোধিতার জায়গায় গঠনমূলক বিরোধিতা করা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করা—এটা তারা প্রথম দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত সংসদকে কার্যকর রাখতে একটি ‘কনস্ট্রাক্টিভ এবং রেসপন্সিবল’ অপজিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে; শুধু বিরোধীদল একা দায়িত্বশীল হতে পারে না, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।

    সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন, আপনারা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন। জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথেও ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আগের বিরোধীদলের মত অসহিষ্ণু ও সহিংসতার পথে গিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। এ ব্যাপারে কয়েকজন সম্পাদক জামায়াত আমিরের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য তথা জামায়াতে ইসলামী তিল পরিমাণ ছাড় দেবে না। জনগণের রায়ের সঙ্গে আমরা আছি। পার্লামেন্টে যদি নিষ্পত্তি হয় আলহামদুলিল্লাহ, না হলে ৭০ ভাগ জনগণ যেখানে আছে আমরা সেখানেই চলে যাব। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ তারিখ সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লং মার্চের বিশাল গাড়িবহর যাত্রা করবে এবং সারাদেশে এই লং মার্চ সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রধান ইস্যু হচ্ছে এখন গণভোটের রায়, এর চেয়ে বড় পলিটিক্যাল ইস্যু আর হতে পারে না । যিনি এটার কোনো ভিত্তি নেই বলেন, তিনি হয়তো সরকারের চাটুকারকে খুশি করার জন্য তা বলেছেন। সম্পাদকরা জামায়াতের এই ধরনের আন্দোলনকে প্রশংসিত করেছেন যা রাজপথে এবং পার্লামেন্ট উভয় জায়গাতেই করা সম্ভব।

    মতবিনিময় শেষে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিরোধীদলীয় নেতা মিডিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। সেই সঙ্গে তারা কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের মনোকষ্টের কথা জানিয়েছেন। যেমন তারা জ্বালানি সংকট নিয়ে একটা বিশেষ অধিবেশন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সাড়া পাননি। তারপরেও তারা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং পার্লামেন্টের সকল কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা করতে চান। এজন্য সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তাদের ভুল হলে যেন আমরা ধরিয়ে দিই এবং পরামর্শ দিই। তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়মতি বসতে চান। আজকে তো সবাই মিলে বসা হয়েছে, এরপরে হয়তো আরো সিনিয়র সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন।

    তিনি বলেন, আমরা সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলেছি যে, জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে, মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরে এসছে। আমরা বলেছি যে, আমাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না, আমরা প্রথমসারির মিডিয়াগুলো প্রফেশনালি দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।

    মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, বিরোধীদলের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা হলো—সবাই সব বিষয়ে কথা না বলে একটা জায়গা থাকলে ভাল হয়। এজন্য আমি ছায়া ক্যাবিনেট করার কথা বলেছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন, তারা এটা করেছেন, সেটার প্রশিক্ষণ চলছে।

    তিনি বলেন, আমি বলেছি, আগে দেখা গেছে, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে। আশাকরি বর্তমান সরকার তা হবে না। কিন্তু সরকার যদি আগের মতো কোন মিডিয়ার প্রতি ফ্যাসিবাদী আচরণ করে, তাহলে বিরোধীদল যেন তার প্রতিবাদ করে।

    প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমরা ভারতের কাছ থেকে প্রতিবেশিসূলভ আচরণ প্রত্যাশা করি। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিতে চাই না, নিতেও চাই না। এসময় বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেছেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মতবিনিময়ের জন্য সম্পাদকদের দাওয়াত দেওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকে আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার আমার আসার সুযোগ হলো। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ । ১৯৯৬ সালের পর এবার বৃহত্তম বিরোধীদল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম সবসময় প্রফেশনাল ও বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করে। জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ এসেছে। তবে সব সরকারই বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    মিডিয়ার ওপর ফ্যাসিবাদের সর্বপ্রথম আক্রমণ হিসেবে আমার দেশ বন্ধ ও আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিরোধীদলকে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান জানান।

    এ সময় প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি যে, ফ্যাসিবাদ এবং বিরোধীদলের নামে নৈরাজ্য অতিক্রম করে এসেছি। তাই গণতন্ত্রকে টেকসই করতে ফ্যাসিবাদ ও বিরোধীদলের নৈরাজ্য যেন আর ফিরে না আসতে পারে।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • আজকের মুদ্রার বিনিময় হার 

    আজকের মুদ্রার বিনিময় হার 

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার নতুন বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করেই টাকার এই মান নির্ধারিত হয়েছে।

    মুদ্রাকেনাবেচা
    মার্কিন ডলার১২২.৫০০০১২২.৫৮০০
    ইউরো১৪৩.০৬৭৭১৪৩.১৭৩৪
    ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৭.০০৪২১৬৭.১৫০১
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৭.৮২০৩৮৭.৯৫১১
    জাপানি ইয়েন০.৭৭০৬০.৭৭১৩
    কানাডিয়ান ডলার৮৮.৯৬৮০৮৯.০৫৮৪
    সুইডিশ ক্রোনা১২.৯৩৭৪১২.৯৪৯৯
    সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৪৫৬৭৯৬.৫৭২৯
    চীনা ইউয়ান১৮.২২৫৬১৮.২৪৩০
    ভারতীয় রুপি১.২৭৯৯১.২৮১০
    শ্রীলঙ্কান রুপি২.৬৮৭২২.৬৮৯৮

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত দরের চেয়ে খোলাবাজারে মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হারের ওপরই নির্ভর করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ।

  • পরিচালকদের ২ লাখ কোটি টাকা ঋণে ৪২ ব্যাংকের হাঁসফাঁস

    পরিচালকদের ২ লাখ কোটি টাকা ঋণে ৪২ ব্যাংকের হাঁসফাঁস

    তারা সবাই বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক। বেশ প্রভাবশালী। সংখ্যায় ৫০০। বিধিবিধানের তোয়াক্কা করেন না। প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নিয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। কেউ কেউ মাঝেমধ্যে কিস্তি দেন, আবার অনেকে দেনই না। আইনের নানা ফাঁকফোকরে সামান্য টাকা জমা দিয়ে খেলাপি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন। এরপর আবার ঋণ নেন। বেড়ে যায় এর অঙ্ক। তাদের দাপট সব সরকারেই। কিছুটা কমেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। এরপর আবার লাগামহীন। অসহায় ব্যাংক এমডিরা (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)। এমনকি সবকিছু জানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু নেই কার্যকর ব্যবস্থা। শুধু তা-ই নয়, প্রকাশ হওয়া সরকারি প্রতিবেদনে এখন আর থাকে না এসব ঋণের তথ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিচালকদের ঋণের নথি বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিধান অনুযায়ী, একজন পরিচালক একটি ব্যাংকের শেয়ার কিনতে পারেন ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমান ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন সাধারণত ৫০০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার নিতে পারবেন। আর যেকোনো ব্যাংক থেকে পরিচালকের ঋণ নেওয়ার সীমা হচ্ছে নিজস্ব শেয়ারের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ ২৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিতে পারবেন না। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের ৫০০ পরিচালক যদি ঋণ নিয়ে থাকেন, এর অঙ্ক দাঁড়াবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যদিও এ মুহূর্তে পরিচালকদের ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণ বেআইনি— এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

    তাদের অভিমত, পরিচালকদের একটি বড় অংশ কৌশলে নিজের ব্যাংক ছাড়াও অন্য ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। যার সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল আওয়ামী লীগ আমলে। তখন (২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত) ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে (২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত) পরিচালকদের ঋণ কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি; কিন্তু ২০২৫ সালের জুন থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় ঋণের ধারা, যা বর্তমান সরকার গঠনের পর গত জুনে মাত্র ৪২টি ব্যাংকের কাছে ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকের অন্তত ১২ জন এমডি প্রায় একই ধরনের তথ্য দিয়ে আগামীর সময়কে বললেন, ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ বিতরণ ও তার ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এই পরিচালকরা ব্যবসায়ী, তারাই আবার ব্যাংকের উদ্যোক্তা। নির্বিঘ্নে ঋণ নেন ও খেলাপি হন, আবার কৌশলে ঋণও নেন। এ যেন একরকম ‘স্থায়ী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অবৈধ হওয়ার পরও চলছে বছরের পর বছর। এটা ব্যাংক ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ ও খেলাপির বিষয়ে নজর দিচ্ছে না। আইন থাকার পরও পরিচালকরা ঋণ পরিশোধ করছেন না। এরপরও বাধ্য হয়েই নির্বাহীরা অসহায়ভাবে পরিচালকদের ঋণ অনুমোদন করেন। এতে স্পষ্ট অনুমান করা যায়, দেশের আইনের চেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক পরিচালকরা। তাদের হাতে বাড়তি ঋণ থাকায় অন্যরা ঋণ পাচ্ছেন না। এর সমাধান হতে পারে একমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘ব্যাংক পরিচালক স্বাভাবিকভাবে প্রভাবশালী। তাদের কাছে অনেক ঋণ আটকা। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ আদায়ে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে ব্যাংককে। পরিচালক হলে সব মাফ করতে হবে, তা নয়। আর ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাজ হবে অসহায়ত্ব না দেখিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা। সেখানে সমাধান না পাওয়া গেলে ঋণ আদায়ে উপায় চাইতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে উপায় বের করতে পারে। তখন একটা ফলাফল আসবে। সেখানে তো সব ক্ষমতা দেখানো বা চর্চা করা যায় না।’

    পরিচালকদের ঋণের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাংক খাতে সংকটের শুরুটা ২০১৩ সালে। ওই সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তত ৯টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। এসব ব্যাংকের অধিকাংশ পরিচালক ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ব্যাংকে অবৈধ প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। যদিও এস আলম, সালমান এফ রহমান, নজরুল ইসলাম মজুমদার, জয়নুল হক সিকদার চক্র আরও আগে থেকে ব্যাংক খাতে মাফিয়া হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে ২০১৭ সালে এস আলমের ইসলামী ব্যাংক জবরদখলের মাধ্যমে ব্যাংক লুটপাটের শঙ্কা সৃষ্টি হয়। তখন থেকে ব্যাংক পরিচালকরাও বেপরোয়া হতে থাকেন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে পরিচালকদের ঋণ ছিল মাত্র ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা ১০ বছর পর গত জুনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটিতে।

    তথ্য অনুযায়ী, নিজ ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— পূবালী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, ব্যাংক এশিয়া, শাহ্‌জালাল ইসলামী, ডাচ্‌-বাংলা, প্রাইম, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথইস্ট, ব্র্যাক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, প্রিমিয়ার, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি)।

    এ ছাড়া অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ দিয়েছে এমন ব্যাংকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— পূবালী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, শাহ্‌জালাল ইসলামী, ডাচ্‌-বাংলা, প্রাইম, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথইস্ট, ব্র্যাক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতারা সাক্ষাৎ করেন। তখন খেলাপি আদায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন গভর্নর। পাশাপাশি পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি নজরে আনেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালনায় নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে বিএবির প্রধান ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এখন ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। পরিচালকরা ব্যাংক খাতের উন্নয়নে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ম অনুযায়ী চলছে। যথাযথ নিয়ম মেনে যাচাই-বাছাই করেই ঋণ বিতরণ করা হয়। সেক্ষেত্রে পরিচালকদের ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ঋণ পাওয়া তো দোষের কিছু নয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, ‘ব্যাংক পরিচালকরা প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারেন। তারাও সাধারণ গ্রাহকের মতো শর্ত ও বন্ধকি সম্পদ রেখে ঋণ নেবেন। ব্যাংকের উচিত ঋণের মানদণ্ড মেনে চলা। কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। আর বিশেষ যোগসাজশ বা আঁতাতের মাধ্যমে শর্ত মেনে ঋণ বিতরণ না করলে আগের মতো সংকট দেখা দেবে, যা এখনো রয়ে গেছে। মানুষের আস্থা কমে গেছে ব্যাংকের ওপর। এখন সময় এসে গেছে এরকম অপসংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার। কেননা, চিহ্নিত কিছু গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারাই আবার ব্যাংকের মালিক। আর ব্যাংক পরিদর্শনে যা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ‘ব্যাংক পরিচালকরা প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারেন। কিন্তু সীমা অতিক্রম করার সুযোগ নেই। এত টাকার ঋণ মালিকদের কাছে গেল কীভাবে? নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাছে এত টাকা থাকার সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আর খেলাপিরা তো পরিচালক থাকতে পারেন না। ব্যাংকগুলো কেন ব্যবস্থা নেয় না। এভাবে কতদিন চলবে। এর একটা সুরাহা দরকার।’

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) সচিব নাজমা মোবারেক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত সব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থাৎ ব্যাংক পরিচালনা, নজরদারি, পরিচালক ঋণ— সবই দেখভাল করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমরা বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ দেখি না। তাদের ঋণের তথ্য আমাদের কাছে আসে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি চায়, আমরা আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেব।’

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক

    নজরে মার্চেন্ট ব্যাংক

    প্রায় তিন দশকের পুরনো বিধিমালাকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর যোগ্যতা-অযোগ্যতাসহ লাইসেন্সিং শর্ত, কার্যক্রম ও ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬’ হালনাগাদ করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কমিশন।

    সম্প্রতি আইন বিভাগের সিএমআরআরসি ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি আদেশ জারি হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও ঝুঁকিভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।

    এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি অনেক পুরনো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেসব আপডেট প্রয়োজন, সেগুলো করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্চেন্ট ব্যাংকারের লাইসেন্সিংয়ের শর্ত, কার্যক্রম এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়গুলো কী হওয়া উচিত, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এখানে মূল বিষয় হলো মার্চেন্ট ব্যাংকারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ। বিশেষ করে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকার বলা হচ্ছে, তাদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি ডিউটি বা বিশ্বস্ততার দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়েই বিধিমালা হালনাগাদ করা হবে।

    বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালাটি হালনাগাদ করতে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা এবং সহকারী পরিচালক মেহরান আলী (সদস্য সচিব)। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাবসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনের কাছে।

    সূত্র বলছে, নতুন কাঠামোয় মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সক্ষমতার মানদণ্ড স্পষ্ট করা হবে। বিশেষ করে, ফুল-ফ্লেজড মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কার্যক্রম এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফিডুশিয়ারি দায়িত্ব কী হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। গ্রাহকের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বার্থের সংঘাত, তথ্যের গোপনীয়তা, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করা যেতে পারে।

    পাশাপাশি ইস্যু ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে করপোরেট বন্ড, সুকুক, এসএমই তালিকাভুক্তি এবং বিভিন্ন কাঠামোবদ্ধ আর্থিক পণ্যে কোন ধরনের মার্চেন্ট ব্যাংকার কী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে, তা স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানভেদে সক্ষমতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় কার্যক্রম অনুমোদন সম্ভব হবে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগ দিয়ে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগাম নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ফলে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, পেশাগত মান ও বাজারের শৃঙ্খলা হবে শক্তিশালী।

    তথ্য বলছে, বর্তমানে কার্যকর ১৯৯৬ সালের বিধিমালাটি মূলত সেই সময়ের শেয়ারবাজারের কাঠামোকে সামনে রেখে তৈরি। এরপর বাজারের আকার, বিনিয়োগের ধরন ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন সময়ে সংশোধন আনা হলেও বিএসইসির ওয়েবসাইটে থাকা সংস্করণটি সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতা, নতুন আর্থিক পণ্য এবং পরিবর্তিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিধিমালাটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজন।

    নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের লাইসেন্সিং ও কার্যক্রমের সীমা স্পষ্ট হবে। বিনিয়োগকারীর অর্থ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি বাড়বে। দুর্বল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে নতুন আর্থিক পণ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার পথ তৈরি হবে।

  • জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরর চৌগাচা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যশোর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম তাঁর হাতে এ শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

    চৌগাছা থানার এই সফল কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য, সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ভূমিকা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। বলাচলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করেছেন তিনি। নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানায় দায়িত্ব পালনে ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বটে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, সততা, সাহস, কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের একান্ত সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

  • বন্ধ হ্যাচারিতে কাগজে রেণু উৎপাদন

    বন্ধ হ্যাচারিতে কাগজে রেণু উৎপাদন

    ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’Ñপ্রবাদটির বাস্তব উদাহরণ যেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা মিনি মৎস্য হ্যাচারি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে হ্যাচারিটির রেণু উৎপাদন কার্যক্রম। অথচ সরকারি নথিতে চলতি বছরও সেখানে ৩৭ কেজি রেণু উৎপাদনের তথ্য দেখানো হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে হ্যাচারিটির বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে হ্যাচারিটিতে কোনো উৎপাদন কার্যক্রমের দেখা মেলেনি।


    মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে শৈলকূপা উপজেলা শহরের কোর্টপাড়ায় নির্মাণ করা হয় মিনি মৎস্য হ্যাচারিটি। দীর্ঘদিন অচল থাকায় বর্তমানে স্থাপনাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হ্যাচারির অফিস কক্ষেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া এক কর্মচারী।
    স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে হ্যাচারিটিতে কোনো রেণু উৎপাদন হয়নি। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর সেখানে ৩৭ কেজি রেণু উৎপাদন হয়েছে। এর বিপরীতে খরচ দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ফলে সরকারি নথিতে দেখানো উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


    স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হ্যাচারিতে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম আমরা দেখতে পাইনি। হ্যাচারিটি চালু হলে এলাকার মাছচাষিরা উপকৃত হতেন। কিন্তু এতদিন বন্ধ থাকার পরও যদি সরকারি কাগজে উৎপাদন দেখানো হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।’


    আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাচারিটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত উৎপাদন হলে এখানে কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা। অথচ বাস্তবে তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। সরকারি অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।’
    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হ্যাচারিটির সংস্কার, শ্রমিক মজুরি, মৎস্যখাদ্য, কম্পিউটার সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব অর্থ কীভাবে এবং কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


    স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে উৎপাদন কার্যক্রম না থাকলেও কাগজপত্রে উৎপাদন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ঘটনা ঘটছে। তারা হ্যাচারিটির বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
    ঝিনাইদহ সিপিবির সভাপতি স্বপন বাগচি বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। কোনো প্রকল্প কার্যকর না থাকলে সেখানে বছরের পর বছর অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। হ্যাচারিটির বরাদ্দ, ব্যয় এবং কাগজে দেখানো রেণু উৎপাদনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন।’


    এদিকে সরকারি নথিতে রেণু উৎপাদনের তথ্য থাকার বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘হ্যাচারিটিতে নতুন করে রেণু উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তবে গত কয়েক বছরে হ্যাচারিটির জন্য কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় হয়েছেÑএ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।


    মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে নির্মাণের পর হ্যাচারিটির কার্যক্রম ১৯৮৬ সালের দিকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালে মৎস্য বিভাগ আবারও কিছুদিনের জন্য রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে হ্যাচারিটির সব কার্যক্রম।


    একদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই, অন্যদিকে সরকারি নথিতে রেণু উৎপাদনের তথ্য এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দÑএমন পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যাচারিটির গত কয়েক বছরের বরাদ্দ, ব্যয় ও কাগজে দেখানো রেণু উৎপাদনের তথ্য তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে হাজার টাকা

    মাঠজুড়ে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কোথাও আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, কোথাও হাটে উঠছে নতুন পাট। চলতি মৌসুমে নড়াইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। ফলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময়ই বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। বর্তমানে মাঝারি মানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে।

    নড়াইল কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়। সেখানে ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নড়াইল সদরে ৬ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়ায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

    জেলার বিভিন্ন বিল ও মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে নলদী বাজার, শিয়ারব হাট, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া, বড়দিয়া, মাইজপাড়া, লোহাগড়া, কালিয়া ও তুলারামপুরসহ বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
    কৃষকেরা বলছেন, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, শ্রমিক, নিড়ানি, কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই খরচ তুলে আনা নিয়ে এখন শঙ্কায় তাঁরা।

    এড়েন্দা মোকামের ফড়িয়া সুজন ও মিরাজ ফকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে যে দরে পাট কেনাবেচা হয়েছে, বর্তমানে তা মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। এখন মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
    নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া গ্রামের কৃষক দীপক রায় বলেন, ‘এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। যদি পাটের বাজারদর ঠিক না থাকে, তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।’

    পাটের আঁশের দাম কমলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকেরা কিছুটা বাড়তি আয় করছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে পাটকাঠিরও কেনাবেচা চলছে।
    কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নড়াইলে পাটকাঠি কিনতে আসছেন। এসব পাটকাঠি পানবরজে ব্যবহার করা হয়।
    ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। তবে পাটের প্রধান উৎপাদিত পণ্য আঁশের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে কৃষকের প্রত্যাশিত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
    নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ায় জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।’
    তিনি জানান, পাটের গুণগত মানোন্নয়নে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৩০ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি এবং সফর শেষে ৩১ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গভবনের প্রটোকল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন এবং যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

    নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফরগুলোর একটি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সফর হতে যাচ্ছে।

  • সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে দাপট অব্যাহত বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি)। ডারউইনে গতকাল তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়াকে। এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় পেল এইচপি। পয়েন্ট টেবিলেও তারা আছে শীর্ষে। শুরুতে ব্যাট করে ভিক্টোরিয়া গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে এইচপি লক্ষ্যে পৌঁছে ১৬ বল হাতে রেখে।

    ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল এইচপি। সেখান থেকেই হালটা ধরেন শামীম হোসেন ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। দুজন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৮৩ রানের জুটি। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৩২ বলে ৪৩ করে ইরফান ফিরলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন শামীম। ৩৩ বলে ২ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান প্রথম ওভারে ফিরেছিলেন ০ রানে। জিশান আলম ১১ ও আরিফুল ইসলাম করেন ১৫।

    এর আগে মোহাম্মদ রুবেল ১৫ রানে ৪টি আর রাকিবুল হাসান ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন ১৩১ রানে। সর্বোচ্চ ৪৯ করেছিলেন অধিনায়ক স্যাম হার্পার।

    বাংলাদশ প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল নেপালকে। দ্বিতীয় ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনস একাডেমিকে হারায় ৩ উইকেটে। সেই ম্যাচে ৪৫ বলে ৫৯ রান করেছিলেন হারিয়ে যেতে বসা সাব্বির রহমান। গতকাল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য করতে পারেননি তেমন কিছু। আউট হয়ে যান ১৪ বলে ৫ রানে।

  • সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। গ্রেফতার ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০)।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

    জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতার হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মরহুম আলী আকবর শেখের ছেলে।

    সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এ,আর

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ সোমবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া বিচার বিভাগের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

    গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবনে ওঠেন রাষ্ট্রপতি।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিল পরিমাণ ছাড় নয়: জামায়াত

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিল পরিমাণ ছাড় নয়: জামায়াত

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-তে পড়েছে। এই রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াত কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। এই মুহূর্তে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে বড় কোনো ইস্যু নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ ব্যর্থ হলে জামায়াত জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।

    সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ছয় মাসের সংসদীয় পথচলায় এই প্রথম দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে দলটির অনড় অবস্থান এই মতবিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে চায়। সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে লক্ষ্য করা গেছে, দলটি প্রথাগত সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনীতির বিপরীতে ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় মনোনিবেশ করছে।

    সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার জামায়াতের ‘গঠনমূলক রাজনীতি’ র বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিরোধী দল মানেই কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের মূল নীতি হলো— সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী ও মন্দ কাজের গঠনমূলক প্রতিবাদ করা। অতীতে দেশের বিরোধী রাজনীতির যে নেতিবাচক ও ব্যর্থ প্রথা ছিল, তা ভেঙে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র উত্তরণে জামায়াত বদ্ধপরিকর। এই কৌশলগত অবস্থান দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    মতবিনিময় সভায় সম্পাদকদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের কার্যকর মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য। এদিনের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সভায় জামায়াতের আমিরের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও স্বনামধন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিরোধী দলকে ‘ভালো কাজে সমর্থন ও মন্দের প্রতিবাদ’ এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখে সম্পাদকরা এটিকে রাজনীতির এক ইতিবাচক বিবর্তন হিসেবে সভায় অভিহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, উপস্থিত সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি প্রয়োজন হলেও তা যেন কোনোভাবেই পূর্বের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না যায়। তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াতকে শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় অটল থাকার আহ্বান জানান। দীর্ঘ ছয় মাস পর সম্পাদকদের সাথে এমন আনুষ্ঠানিক ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানান এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন জামায়াতে ইসলামীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।

    অতীতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের অভাব এবং জনগণের কন্ঠস্বর রোধ হওয়া একটি গভীর জাতীয় সংকট। সেই জায়গায় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর তথা ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ এবং বিলি-বণ্টনে বিরোধী দলীয় সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট ফ্লোরে কথা বলার সুযোগ সীমিত করা, আইন প্রণয়ন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ট্রেজারি বেঞ্চের আচরণ ‘ইনসাফপূর্ণ’ নয় বলে সভায় সম্পাদকদের অবগত করেছে জামায়াত।

    এ ছাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁতে ভোট দিয়ে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। আইনমন্ত্রী গণভোটের ৪টি বিষয়ের মধ্যে সাড়ে ৩টিতে একমত হলেও বাকি অর্ধেক ইস্যুতে অমত পোষণ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত স্পষ্ট করেছে যে, জনগণের এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে তারা ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেবে না। এসব সংকট সমাধানে এবং জনগণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে জামায়াত সম্পাদকদের কলম ও লেখনীর মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করেছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, সম্পাদকদের একাংশের অনুপস্থিতির মধ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে আমাদের দূরত্বের কোনো বিষয় নেই। অনেক সম্পাদক এসেছেন, যারা আসতে পারেননি, তারা টেলিফোনে কারণ জানিয়েছেন। এই মতবিনিময়ই সুসম্পর্কের প্রমাণ।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আপনাদের লং মার্চ, সভা, সমাবেশসহ আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই। এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এ কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষমতা নেই। তারা কেবল সরকারকে খুশি করতে ‘চাটুকারিতা’ করছেন। বর্তমানে ‘গণভোটের রায়’ দেশের প্রধান ইস্যু।

    জনমত গঠন ও রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৫ তারিখ সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এক বিশাল লং মার্চ ও গাড়িবহর যাত্রা করবে।

    কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির রুট বরাবর সাধারণ মানুষকে এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করতে জামায়াত গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের দৃঢ় সহযোগিতা কামনা করেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।

    এর আগে, সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ছাড়াও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। সভায় আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রূপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • সরকারের ছয় মাস নিয়ে যে মূল্যায়ন করল সিপিডি

    সরকারের ছয় মাস নিয়ে যে মূল্যায়ন করল সিপিডি

    নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এখনো নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতি হলেও রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে একটি মিশ্র চিত্র পাওয়া গেলেও নেতিবাচক প্রবণতার আধিক্য রয়েছে। এসব সমস্যার বড় অংশই কাঠামোগত।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উপস্থাপনায় জানানো হয়, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নে মোট ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে শাসন ও প্রশাসন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, জ্বালানি ও পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ মোট ৯টি খাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শুধু ঘোষণার পরিবর্তে বাস্তবে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকেই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

    মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি, কমেনি জীবনযাত্রার চাপ

    সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

    তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি। পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক থাকায় মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে মনে করছে সিপিডি।

    রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগে উদ্বেগ

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বলতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে সময়ে মোট কর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। ফলে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি। এর ফলে উন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে কাটছাঁটের চাপ বাড়তে পারে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিনিয়োগ পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে সিপিডি। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হয়েছে। কমেছে নিট বিদেশি বিনিয়োগও।

    সিপিডির মতে, এসব সূচকে দ্রুত বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

    গ্যাস সংকটে ব্যাহত শিল্প উৎপাদন

    চলমান গ্যাস সংকটকে শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সিপিডি। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা, বিকল্প এলএনজি কার্গো সংগ্রহে জটিলতা এবং সরবরাহ পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব পড়েছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে শিল্প উৎপাদনের সাধারণ সূচক এবং উৎপাদনশিল্পের সূচক—দুটির প্রবৃদ্ধিই শূন্যে নেমে এসেছে। একই সময়ে শিল্প খাতে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণও কমেছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়বদ্ধ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, কৌশলগত জ্বালানি মজুত, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর সুপারিশ করেছে সিপিডি।

    ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু হলেও আস্থা নিয়ে প্রশ্ন

    ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এর মধ্যে পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক একীভূত করা এবং সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ এবং ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সিপিডির মতে, ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রয়োজন।

    রিজার্ভ বাড়লেও বহিঃখাতে চাপ

    বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছে সিপিডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে বিপিএম-৬ হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    তবে একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে গেছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে দেখছে সিপিডি।

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির কারণ কী

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির অভাব, দুর্বল রাজস্ব ও আর্থিক কাঠামো, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যমূল্যে চাপ, প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ঘাটতি।

    সিপিডির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে শুধু মূল্যস্ফীতি কমার মাধ্যমে মূল্যায়ন করলে চলবে না। মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ও সুদের হারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উন্নতি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি।

    সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির তাগিদ

    দীর্ঘায়িত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করতে আগামী অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত একটি বাস্তবসম্মত ‘মূল বাজেট’ বা কোর বাজেট প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, এ বাজেট বাস্তব সময়ের তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি হওয়া উচিত।

    পাশাপাশি জ্বালানি, ব্যাংক সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসন, উন্নয়ন ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ, নিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থা ও ডিজিটালাইজেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং সংসদের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    সামগ্রিক মূল্যায়নে সিপিডি বলছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসে কিছু সংস্কারমূলক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সংস্কার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চৌদ্দগ্রামে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ শাফকাত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামাল হোসেন।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর হোসেন, অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তাসনিয়া মোস্তফা, ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজরাত জাহান ইশফা, মাইশা ফাইরোজ পাটোয়ারী প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সনদ ও বই উপহার দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেন।

  • এবার ইরানে বিশাল খনির সন্ধান

    এবার ইরানে বিশাল খনির সন্ধান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। ফার্স প্রদেশে আবিষ্কৃত এই নতুন খনিতে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ জানান, নতুন খনিটিতে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য।

    এই আবিষ্কার দেশের জাতীয় হাইড্রোকার্বন মজুদে বড় ধরনের মাত্রা যোগ করেছে। উত্তোলনযোগ্য এই গ্যাসের পরিমাণ ইরানের বিখ্যাত সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের একটি পুরো ফেইজ থেকে টানা ১৫ বছর প্রাপ্ত গ্যাসের সমান।

    তেলমন্ত্রী আরও জানান, নবআবিষ্কৃত গ্যাসটি ‘সুইট গ্যাস’ (মিষ্টি বা কম সালফারযুক্ত গ্যাস) হওয়ায় এটি উত্তোলনে খরচ ও জটিলতা অনেক কম হবে। গ্যাসের পাশাপাশি খনিটিতে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে, যা বিক্রি করে ইরান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও কোটি কোটি ডলার বাড়তি রাজস্ব আয় করতে পারবে।

    এদিকে গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, যার মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শত্রুতা কিছুটা থমকে দাঁড়ায়। তবে সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে দ্বিমতের কারণে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার নতুন আলোচনা থমকে রয়েছে।

  • সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক

    সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক

    প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করবে এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ জানাবে। তবে সেই বিরোধিতা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, অতীতের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না গিয়ে সংসদকে কার্যকর রাখা এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় জামায়াত।

    সোমবার বেলা ১২টায় প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে দেশের প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি সংকট, সংসদে জামায়াত ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের ভূমিকা এবং বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সংসদে জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে নীতি, তা আমাদের আমীর সংসদের ভেতরে-বাইরে বলে আসছেন। আমরা একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। প্রচলিত প্রথাগত বিরোধী দলের রাজনীতিতে যে খারাপ ঐতিহ্য ছিল, তা ভেঙে দেশের স্থিতিশীলতা, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের উত্তরণে ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করব। আর সব মন্দ ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে প্রতিবাদ করব।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই নীতি সম্পাদকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সম্পাদকদের মধ্য থেকেও জামায়াতের এই পার্লামেন্টারি পলিসিকে প্রশংসা করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, গঠনমূলকভাবে দেশকে স্থিতিশীল রেখে সরকারকে বিরোধিতার জায়গায় বিরোধিতা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করে একটি বিরোধী দল যে বৃহৎ ভূমিকা পালন করতে পারে, এটি আমরা প্রথম দেখতে পাচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমাদের আমীর সম্পাদকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সব অন্যায়, গণবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা সবসময় প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। তবে আমাদের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সম্পাদকদের সঙ্গে আমিরে জামায়াতের প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াতের বিভিন্ন নীতি ও অবস্থান, যা আমীর বিভিন্ন সময়ে জনসভা ও সংসদে তুলে ধরেছেন এবং গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বলেছেন, সেগুলোও আলোচনায় এসেছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন—আপনারা বিরোধিতা করবেন গঠনমূলকভাবে, আলোচনা করবেন এবং জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজন হলে রাজপথেও থাকবেন। তবে আগের বিরোধী দলের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস কোনো পথে গিয়ে দেশকে আর অস্থিতিশীল করবেন না।

    তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের নেতা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা প্রথমবারের মতো জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ও খোলামেলাভাবে মতবিনিময় করেছেন। সম্পাদকরা এতে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন, এ ধরনের সুযোগ পেলে মাঝে মাঝে তারা নিজেদের মতামত দিতে পারবেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্য, উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ও বণ্টন, সংসদের ফ্লোরে কথা বলার সুযোগ, আইন প্রণয়ন ও বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য, প্রবাসীদের অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াত সংসদে কী ভূমিকা পালন করেছে, তা সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেছেন আমীর।

    জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংসদে স্পিকার অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা অনেক ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ আচরণ পাইনি। বরং বিভিন্ন জায়গায় আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিক ও সম্পাদকরা তাদের লেখনী ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে জাতির কাছে সত্য তথ্য তুলে ধরেন। গণতন্ত্রের উত্তরণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের আমীর সম্পাদকদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে অতীতে বিরোধী দল কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল ও সংসদকে অকার্যকর করেছে, সম্মানিত সম্পাদকরা সেই ইতিহাস স্মরণ করেছেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান যে ব্যতিক্রম, সেটিও তারা প্রশংসা করেছেন। আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। তবে একটি কনস্ট্রাক্টিভ ও রেসপন্সিবল অপজিশন হিসেবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে চাই।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরাও বলেছি, সরকারের দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু বিরোধী দল একা সব দায়িত্ব নিয়ে দায়িত্বশীল হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য। এসব বিষয় নিয়েই আজকের মতবিনিময় সভায় আলোচনা হয়েছে।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রুপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, মানবকন্ঠের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার।

  • কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মিটার জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। পরে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলের লক্ষ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া ও নাঙ্গলী এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান। এ সময় পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

    অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা, জলজ প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জেলেসহ সবাইকে সরকারি আইন মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

    মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

    নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের বাংলাদেশি মালিকানার পিৎজার দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম মো. রাজু (৪৪)। রাসেল নামের ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    জানা গেছে, রাজুর বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়। তাঁর স্ত্রী-সন্তান দেশেই থাকেন।

    প্রিসিংক্ট ৭৩ এলাকার রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউর আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা নামে দোকানে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ১২টা ১ মিনিটে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

    হাসপাতালে নেওয়া হলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

    নিহত রাজুর সহকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কোনো কিছু না বলে সরাসরি আমাকে গুলি করে। আমার ঊরুতে গুলি লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রাজুকেও ওই ব্যক্তি গুলি করে। তাঁর বুকে গুলি লাগে। ওই পিৎজার দোকানটি রাজুর এক বন্ধুর মালিকানাধীন। রাজুই দোকানটি নিজের মতো দেখভাল করতেন।’

    দোকানের মালিক আবদুল জলিল বলেন, ‘রাজু আমার বন্ধু। আমার দোকানটা তিনি নিজের মতো করে আগলে রাখতেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। রাজুর স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান দেশে থাকে।’

    জলিল বলেন, ‘তিন বছর আগে রাজু যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এখানে তাঁর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্য সমিতিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা আশা করছি।’

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীরা।

  • তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং পরিকল্পনাহীনতা থেকেই সরকার ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতেই ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।’

    সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। একটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবারহ। আমরা দেখতে পারলাম, এই ছয় মাসে যে তিনটি বিষয়কে যারা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    সরকার ক্ষমতায় বসে পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই দেশ পরিচালনা করছে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অপরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থা করার কারণে আপনারা দেখছেন, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন করা লাগছে এবং সরকার বলেছিল তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যান রয়েছে। এখন সরকার দুই দিনের কাছে প্ল্যান চাচ্ছে মন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে প্রতিমন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে। আমরা জানিনা কখন পরিবর্তন করতে করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু তিন মাসের সময় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। ক্ষমা প্রার্থনা করা যে, গ্যাসের সংকটে সারাদেশে মানুষ ভুগছে সে প্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা যে তারা বলেছিল যে যে কনফিডেন্স আত্মবিশ্বাস তারা দেখেছিল যে তারা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আনবে এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ করবে। কোন কিছু কিন্তু তারা পারেনি।’

    সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস অতিবাহিত হলে কিন্তু এই সরকার আর বলতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়। এটা কিন্তু জনগণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    তিনি বলেন, সরকার যদি সংকটগুলা সুরাহা না করে পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তারা পড়বে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও ছয় মাস অতিবাহিত হলে এই সরকার আর বলতে পারবে না যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা আগের সরকারের দায়। জনগণের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার, ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

  • জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাটাগাং এলাকা ও পানিছড়া এলাকায় দুর্ঘটনা দু’টি সঙ্ঘটিত হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ও বেলা ১১টার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে উপজেলার কাটাগাং এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে হাসান মিয়া গুলাল (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত হাসান মিয়া গুলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতিরপাড়া গ্রামের মরহুম সাইফুল্লাহর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান মিয়া মোটরসাইকেলযোগে জাফলং যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী একটি হাইড্রলিক ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন হাসান মিয়া গুলাল। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে উপজেলার পানিছড়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড সংলগ্ন ইয়াকুব আলী চেয়ারম্যানের বাড়ির গেইটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত যাত্রীর নাম নুসরাত জাহান (১৭)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের আব্দুল মুমিনের মেয়ে। আহতরা হলেন— মোহাম্মদ আলী (২৮), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) ও মোহাম্মদ আলীর মা কুলসুম বেগম (৬০)। তাদের তিনজনের বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় কদমতলী এলাকায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামা-মামি ও নানির সাথে সিলেটে বেড়াতে আসে নুসরাত জাহান। সোমবার সকালে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড মেইন গেইট এলাকায় পৌঁছালে সিলেটমুখী দ্রুতগতির আম্মাজান এন্টারপ্রাইজের একটি বাস জাফলংমুখী সিএনজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন তার মামা-মামি ও নানি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

    তামাবিল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। নিহত নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। নিহত নুসরাত জাহানের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে যেতে চায় পরিবার। তাই পরিবারের সম্মতিতে লাশ তাদের কাছে হস্থান্তর করা হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও সিএনজি পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।

    অন্যদিকে কাটাগাং এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করেছে তামাবিল হাইওয়ে থানা পুলিশ। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তামাবিল মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান বহনকারী যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। তাদের এই বেপরোয়া গতির কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই এলাকাবাসী মহাসড়কে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক নজরদারি কঠোর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • ‎ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা

    ‎ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে এক খুচরা সার বিক্রেতাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অপর এক সার ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে খুচরা সার বিক্রেতা নুর এ আলমের গোডাউন থেকে বিভিন্ন ধরনের ৬৩৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি ও ৮৫ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে জব্দ করা সার উচাখিলা ইউনিয়নের মূল সার ডিলার শামছুল হকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সার অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় উচাখিলা ইউনিয়নের ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হকের ছেলে নুর এ আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অপরদিকে, একই বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় একই আইনে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান অপরাধের বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান জানান, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছে। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি কিংবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সার ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    উদ্ভাবন নির্ভর শিল্প উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী অর্জনের স্বীকৃতি প্রদান কেবল বিআইআরডিআই’র আওতাভুক্ত গবেষক ও উদ্যোক্তাদেরই নয়, বরং দেশজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে নিয়োজিত বৃহত্তর গবেষক ও উদ্ভাবক সমাজকেও ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

    তিনি বলেন, শিল্প খাতে উদ্ভাবন ও উন্নয়নে অবদান রাখা গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিসিপ) যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।

    সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (বিআইআরডিআই) উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দেশের শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিচালিত সিসিপের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্প উন্নয়নে উদ্ভাবনী অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের সচিব এবং সিসিপের জাতীয় প্রোগ্রাম পরিচালক ড. মো: খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

    তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় অর্থ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন বিআইআরডিআই উদ্যোগটি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবমুখী ও শিল্পবান্ধব সমাধানের বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সুসংহতকরণ এবং দক্ষ জনশক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিআইআরডিআই উদ্যোগটি সিসিপের মূল লক্ষ্য ‘দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আলোকিত করা’- এর সাথে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বক্তব্য রাখেন। তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের সাথে এডিবি’র দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে সিসিপের অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থকভাবে আয়োজনের জন্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিআইআরডিআই উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাবৃন্দ এবং উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বিআইআরডিআই উদ্যোগ শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

  • বগুড়ায় হাঁস পালন করে লাখপতি

    বগুড়ায় হাঁস পালন করে লাখপতি

    প্রায় ১২ বছর আগে হাঁস খাওয়ার জন্য গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে হাঁস কিনতে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতিবেশী হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ ও ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই হাঁস পালন করবেন। একদিনের সেই জেদই বদলে দিয়েছে তার জীবন।

    বর্তমানে মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৩ হাজার হাঁস পালন করছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমান। তার খামারে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ডিম। ডিম বিক্রিসহ হাঁসের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তিনি ভালো আয় করছেন।

    সরেজমিনে রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দারুগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। ২৪ শতাংশ জমির একাংশে রয়েছে পুকুর, অন্য অংশে তৈরি করা হয়েছে হাঁস পালনের ঘর। সীমিত জায়গার মধ্যেই চলছে প্রায় ৩ হাজার হাঁসের পরিচর্যা।

    ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান। ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়ে জমি ফাঁকা থাকলে হাঁসগুলো সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে বাড়তি খাবারের খরচ কিছুটা কমে যায়। তবে হাঁসগুলো মাঠে ছেড়ে দিলে দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়।

    তিনি বলেন, তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। প্রতিদিনের ডিম বিক্রি করে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। এ হিসাবে মাসে ডিম বিক্রি থেকেই প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় হয়। এ ছাড়া প্রতি ছয় মাসে একটি প্রকল্প শেষ হলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা আয় হয়।

    একসময় ফজলুর রহমানের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।

    ফজলুর রহমান জানান, হাঁস পালনের জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। এখন পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহায়তা ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাঁসের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছেন তিনি।

    তার এই দক্ষতার কথা আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখন হাঁসের চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে তার কাছে আসেন। তার সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে।

    শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নিয়াজ কাযমীর রহমান বলেন, “এই উপজেলায় প্রায় ৫০ জন হাঁসের খামারি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ সংখ্যা কম-বেশি হয়। খামারিদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ের কারণে কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

  • চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

    থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বেলন-বিলে নুরুজ্জামানের মাছের ঘের এলাকায় অভিযান চালায় চৌগাছা থানার এস আই বেলাল হোসেন। এ সময় পুলিশ ইমরান হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেন তিনি। পরে তার নিকট থেকে ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ইমরান হোসেন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের মরহুম মুক্তার হোসেনের ছেলে।

    আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

    এর আগে রাতে চৌগাছা থানা পুলিশের এস আই সলিমুল হকের নেতৃত্বে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সড়কের বকুলতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফাহিম হোসেন ওরফে আবু তালেবকে (২৭) আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক ফাহিম হোসেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পৌর শহরের কুটিপাড়া মোড় এলাকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ার তাহাজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে সোহান হোসেন দয়াল (২২) ও পৌর শহরের কুঠিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হাসানকে (৩০) আটক করা হয়। পরে তাদের নিকট থেকে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুইজনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত একটি মামলা করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মাদক মামলা করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

    অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

    চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার রোগী এবং তাঁর স্বজনদের সংখ্যা খুব কম নয় এ দেশে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই জানেন না, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে কিংবা আদৌ এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না। এমন ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন।

    এই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অভিযোগগুলো কোথায় ও কীভাবে জানাতে হবে, কোন চিকিৎসা নথিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে একটি সহজ সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের জন্য নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম আইনি দৃষ্টিকোণ ও বাস্তবতার আলোকে চিকিৎসায় অবহেলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উল্লিখিত বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন আলতাফ পারভেজ। নিভীন রেজা ও মাজহারুল ইসলাম প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

    আলতাফ পারভেজ বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক ভরসার চরম অভাবের কারণে উন্নত সেবা পেতে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়ে। তবে বেশির ভাগ মানুষ বাধ্য হচ্ছে এই ভঙ্গুর ব্যবস্থার মধ্যে বাস করতে। ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম বলেন, এসব অবহেলার বিচারগুলো দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য বাংলাদেশের বর্তমানে কার্যকরী আইনি অবকাঠামো নেই। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করে ল কমিশন গঠন করা উচিত, যেন সমস্যা ও সমাধানের যাত্রা একত্রে শুরু হয়। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে রিসোর্সের ঘাটতি আছে কি না বা লাইসেন্সের শর্তগুলো তারা যথাযথভাবে পালন করছে কি না, সেদিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে। ব্যারিস্টার সারা হোসেন পরামর্শ দেন, আর্থসামাজিক অবস্থানের কারণে যেসব ভুক্তভোগী পিছিয়ে থাকেন, তাঁরাও যেন এই আন্দোলনের অংশীদার হতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোকে যথাযথ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রতিটি অভিযোগ যেন ন্যায্যভাবে শোনা ও যাচাই করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ পান এবং একটি ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা বাড়াতে কাজে লাগে, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে উদ্যোগটি।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়। অনেক রোগী ও পরিবার জানেন না কোথায় অভিযোগ করবেন, কী প্রমাণ বা নথি রাখবেন এবং অভিযোগের পর কীভাবে অগ্রগতি অনুসরণ করবেন। এই তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি কমাতেই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে।

    আয়োজকেরা জানান, অভিযোগ মানেই চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ নয়। তবে প্রতিটি অভিযোগ শোনা, নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকার নিশ্চিত করা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তি, চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে নয়; বরং অবহেলা, অস্পষ্টতা ও জবাবদিহির ঘাটতির বিরুদ্ধে।

  • আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি। তিনি একইসঙ্গে প্রেম, মানবতা, ধর্ম ও দ্রোহের কবি। নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তারেক রহমান।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

    নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।

    তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। আমাদের যে নজরুলকে আমরা পেয়েছি, তাকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

    চিফ হুইপ বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তিনি মানুষের কথা বলেছেন, নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। তাই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।

    তিনি বলেন, নজরুল শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন; তিনি সকল মানুষের কবি। তার লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    চিফ হুইপ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তার অবদান স্মরণীয়। আজকের বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। আলোচনা সভায় সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও ভালো করতে চাই স্থানীয় নির্বাচন: সিইসি

    জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও ভালো করতে চাই স্থানীয় নির্বাচন: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তার চেয়ে ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে। ”
    সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সিইসি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কিছুটা বেশি হয়—এ বিষয়টি মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয়ভাবে মোতায়েন করা হবে। ”
    সিইসি বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে কমিশনের অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি নেই।

    জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করা হয়েছে, তার চেয়ে ভালো নির্বাচন করার চেষ্টা করা হবে। আমরা আবার কমিটমেন্টে অটল। এখানে আমাদের কমিটমেন্টের কোনো ঘাটতি নেই। আমরা ঠিক জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, তার চাইতে বেটার করার চেষ্টা করব, খারাপ হবে না।আমরাই সেট করেছি, এর নিচে তো আমরা যেতে পারি না। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড তো থাকবেই, যদি পারি তার চাইতেও বেটার (ভালো) করব। ”

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই বলা সম্ভব নয় জানিয়ে সিইসি বলেন, “নির্বাচনের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আইন ও বিধি-বিধান সংশোধনের কাজ চলছে।

    তিনি বলেন, “কমিশনের পক্ষ থেকে আইন ও বিধি-বিধানের সংশোধনী প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকিউরমেন্টসহ অন্যান্য আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে। ”

    সিইসি বলেন, “সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচন পরিচালনায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন হওয়ায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোতে হবে। ”

    তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটু ভায়োলেন্স বেশি হয়, এটা আপনারা এবং আমরা সবাই জানি। সেই দিকটা আমাদের মাথায় আছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবে মোবিলাইজ করার চেষ্টা করব। ”

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কেও আলোচনা শুরু করেছে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময় পুলিশ কী পরিমাণ সদস্য দিতে পারবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বিদ্যমান মনিটরিং ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় মাঠ পর্যবেক্ষণে ব্যবহারের জন্য চাওয়া হয়েছে। ”

    নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে বলে জানান সিইসি। দুর্গাপূজা, বর্ষাকাল, বন্যার সম্ভাবনা এবং বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হবে।

    তিনি বলেন, “নির্বাচনে স্কুলের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচিও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ”

    তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেন সিইসি।

    ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কমিশন কাজ করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। ”

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    সাক্ষাৎ শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি জানান, বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ও উঠে আসে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারি নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।

    বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত নগরায়নের ফলে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানানো হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়লে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা

    নতুন করে আস্থার সংকট ও আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫২.১৪ শতাংশ। দেশের ব্যাংক খাতে এটিই এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

    এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই এস আলম গ্রুপ ও তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া, প্রকৃত ঋণচিত্র গোপন রাখা এবং পরে এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটি এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বিপুল খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। প্রকৃত হিসাবে মূলধন ঘাটতিও প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। একইসঙ্গে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩১৬ কোটি টাকা। তারল্য সংকট, ব্যবসা কমে যাওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে সামনে ব্যাংকটির আর্থিক চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ব্যাংকের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৭,৭২৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪.৪২ শতাংশ। কিন্তু ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির প্রকৃত ঋণচিত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭,৭৫২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ১০,৮৩ শতাংশ। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে তা আরো বেড়ে ৩২,৮১৭ কোটি টাকা বা ২১ শতাংশ হয়।

    ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪৭,৬১৮ কোটি টাকা বা ২৭.৩৮ শতাংশ। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে জুন শেষে তা এক লাফে বেড়ে ১ লাখ ২,৭৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তখন ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬.৫৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ে।

    পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬.২৭৫ কোটি টাকা বা ৫৮.২৪ শতাংশ। পরে বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধায় ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে ৯২,১১৫ কোটি টাকায় নামে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ আদায়ে বিশেষ জোর দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নীতি সুবিধা ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। এর ফলে ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে আসে।

    তবে চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে আবারও বাড়তে শুরু করে খেলাপি ঋণ। মার্চ শেষে তা দাঁড়ায় ৯৫.৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষে আরো ৩.২৮৬ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৮.৯১৫ কোটি টাকায়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে দেওয়া বড় অঙ্কের বিতর্কিত ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা, পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়া এবং ঋণ আদায়ে ধীরগতির কারণেই খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন করে তারল্য ও আস্থার সংকট যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, মূলত ঋণগ্রহীতাদের পেমেন্ট বিহেভিয়ারের কারণেই এখন খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে যেভাবে কিস্তি পরিশোধ করার কথা, সেভাবে করতে পারছেন না। একটি বা একাধিক কিস্তি বকেয়া হলে নিয়ম অনুযায়ী ওই ঋণকে শ্রেণিকৃত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, আগে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল বা অন্য ব্যবস্থায় নিয়মিত করা হয়েছিল, সেসব ঋণেও নির্ধারিত কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হলে আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তায় অনেক ঋণের খেলাপি অবস্থা কমেছে। তবে কিছু ঋণগ্রহীতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    ঢাবিতে তামাক প্রচারণা বন্ধের দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তামাক কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশনসহ প্রচারণা বন্ধ এবং পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের (বাটা) ঢাবি সদস্যরা।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বাটার দুই ঢাবি প্রতিনিধি তারানা জাহিদ সন্ধি ও ফাইয়াজ আনাম স্বনন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিঠি দুটি হস্তান্তর করেন।

    চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা, ব্র্যান্ড প্রমোশন, চাকরি ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ক্যাম্পাসে পৃথক স্মোকিং জোন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে পৃথক ধূমপান এলাকা স্থাপনের পরিবর্তে পুরো ক্যাম্পাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করতেই হবে।’

  • কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।

    দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’

    অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

  • স্কুল দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ককরোচ পার্টি

    স্কুল দেখতে গিয়ে হামলার শিকার ককরোচ পার্টি

    ভারতের রাজস্থানে ‘ভারতে গোয়ালঘরে’ স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদল। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিল। ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্কুল পরিদর্শন করছে সিজেপি। স্কুলগুলো কীভাবে চলছে, কী ধরনের সমস্যা ও ঘাটতি রয়েছে—এসব বিষয় সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে দলটি।

    এরই অংশ হিসেবে গত ২১ আগস্ট রাজস্থানের জয়পুরের রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি স্কুল পরিদর্শনে যান আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। সিজেপির অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার আগেই তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হেঁটে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীদের একাংশ তাদের বাধা দেন। আগে থেকেই কিছু লোক সেখানে জড়ো হয়ে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে দলটি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

    সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগে রেখা শর্মা জানান, জয়পুরের একটি গোয়ালঘরে সরকারি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে তাদের দল ওই গ্রামে যায়। কিন্তু গ্রামের সীমানায় তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে তারা হেঁটে এগোতে শুরু করলে কিছু দূর গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের গালিগালাজ করেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বার বার অনুরোধ করি, আমাদের কথা শুনতে বলি। গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণেই আমরা স্কুলটা দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দলের উপর চারদিক থেকে ইট, পাথর ছোড়া হয়, লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়।’

    সিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রতিনিধি সঞ্জু বর্মার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সলমন নামে আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেখা শর্মার চোখে ধুলো ছুড়ে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটির কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে, ভগবান সহায় ধানকা নামে এক গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিজেপি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আশুতোষ রাঙ্কা ৫০-৬০ জনকে নিয়ে গ্রামে আসেন। স্কুল পরিদর্শনের কথা বলে তারা গ্রামবাসীদের গালিগালাজ করেন এবং গ্রামের নারীদেরও কটূক্তি করেন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলে সিজেপি প্রতিনিধিরা মারধর শুরু করেন এবং জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করে অপমান করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

    অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও একটি এফআইআর করেছে পুলিশ।

  • স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না।’ তার মতে, এটা নির্ভর করবে—দুর্গাপূজা, বন্যা, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ওপর।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা ঠিক যে নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) করেছি, যেভাবে করেছি, তার চেয়ে খারাপ হবে না। বরং আমরা তার চেয়ে আরও ভালো করতে চাইব। ওই নির্বাচনে যে স্ট্যান্ডার্ড আমরা সেট করেছি, তার নিচে তো আমরা যেতে পারি না। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড থাকবেই। যদি পারি, তার চেয়েও আরও ভালো করবো। আশা করি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা পারবো। কোনও অসুবিধা হবে না।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে না, আমরাই নেব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করবো। এটা এমন নয় যে সরকার একটি তারিখ দেবে আর আমরা তা ঘোষণা করে দেব। আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতি চলমান আছে।’

    এ সময় অনুষ্ঠানে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা

    মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ( IUGIP) এর আওতায় পৌরসভার প্লান( MP) প্রণয়নের লক্ষ্যেপরামর্শ সভা-৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনসভা কক্ষে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই পরামর্শকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ মামুন হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পৌর এলাকার রাস্তা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ,

    বাস টার্মিনাল সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। আলোচনায়, পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামোর অবস্থা, নাগরিকদের চাহিদা এবং ভবিষ্যত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ও বাস্তব সম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরশনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে মহেশপুর পৌরসভা কে আরো আধুনিক পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৌরসভার প্লান পরিকল্পনা করা উচিত। উক্ত পরামর্শ সভায় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগন কোন অংশ নেন। পরামর্শ সভায় উঠে আসা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মতামত ও পরিকল্পনা ,ভবিষ্যৎ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

  • ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    ১৪ মার্চ শুরু হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারির পরিবর্ততে ১৪ মার্চ শুরু হবে। চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

    এর আগে ৭ জানুয়ারি এই পরীক্ষা শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষার প্রাথমিক সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তবে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি সহ নানা দিক বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। দুই মাস পরে ১৪ মার্চ এই পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে সরকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার।

    শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাড়াতে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এই প্রতিযোগিত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।গত ১৮ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার শিক্ষার সব ক্ষেত্রেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনের এই মতবিনিময় শুরু হয়।এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ওয়াদার শফিকুল আলম,খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডেইলি ইভিনিং নিউজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, দৈনিক এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন।এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • স্কুলের কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: ডেপুটি স্পিকার

    স্কুলের কমিটিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: ডেপুটি স্পিকার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না। বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

    রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কায়সার কামাল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দুর্গাপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    বিগত দিনে দলীয়করণের অপসংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। ’

    শিক্ষকতা পেশার মর্যাদার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ‘একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে “স্যার” বা “ম্যাডাম” হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র। ’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের সর্বজনীন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) সবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য প্রতিদিন ১৮-২০ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। তার সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেখতে হবে। ’

    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান আনছারী প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

  • সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর জুলেখা (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শিরিরচালা মধ্যপাড়ার একটি জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত জুলেখা ওই গ্রামের মোজাফফর আলীর স্ত্রী।

    নিহতের ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আমার মা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার নিখোঁজ হয়েছিলেন।’

    স্থানীয়রা জানান, রোববার ওই জঙ্গলে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’

  • জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দুটি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইলিশ মাছ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অন্তর্গত জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৬৩/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেদিনীপুর গ্রামের কদর আলীর বাঁশবাগানে নায়েব সুবেদার মো: লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    অন্যদিকে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বড় মিয়ার আমবাগানে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা মো: জাহিদুল আলম ঝুনু বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ২২/৮/২০২৬ইং।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান রোববার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন—উপজেলার করফা গ্রামের সিরু মুন্সীর ছেলে বাবুল মুন্সী, গিলাতলা গ্রামের কাদের মোল্যার ছেলে রিয়াজুল মেম্বর, কাশিপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে তরিকুল খান, বয়রা গ্রামের এমদাদ কাজীর ছেলে ওহিদ কাজী, পদ্মবিলা গ্রামের রফিকুল শেখের ছেলে রাহুল শেখ, ঈশানগাতী গ্রামের মান্নাফ শেখের ছেলে ফরিদ মেম্বর, গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ইউনুস শেখের ছেলে সদর উদ্দিন শামীম ও তার ভাই সগীর উদ্দিন সনেট, উলা গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে মশিয়ার রহমান শেখ, বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে আ: কাদের শেখ, গোপীনাথপুর গ্রামের আজিমউদ্দিন শিকদারের ছেলে বাবু শিকদার, একই গ্রামের বক্কার শেখের ছেলে পলাশ শেখ, লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার বাঁশি মোল্যার ছেলে সজীব রাজ, ইতনার ইসমাইল শেখের ছেলে ইসলাম শেখ, একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে সুহাস শেখ, ধলইতলা গ্রামের জলিল গাজীর ছেলে ওহিদুল গাজী, একই গ্রামের ধলু শেখের ছেলে খায়রুল শেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।

    পুলিশ ও দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। ২১ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের মশিয়ার জমাদ্দারের বাড়ির অদূরে চাচই-সিডি বাজার সড়কে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। পরবর্তীতে ওই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেসহ অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যা-অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জনগণের সামনে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, দায়েরকৃত মামলার আসামি শহরের গোপীনাথপুর গ্রামের মরহুম ইউনুস শেখের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শেখ সগীর উদ্দিন সনেট (২৮) ও জয়পুর ইউনিয়নের বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আ. কাদের শেখকে (৩১) শনিবার শেষরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

  • সামিটের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে, কাটছে না সংকট

    সামিটের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে, কাটছে না সংকট

    আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সংকট কাটছে না। নতুন একটি জাহাজ পৌঁছানোর পর গতকাল শনিবার থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালটি চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমেছে। ফলে দুই টার্মিনাল থেকে আজ রবিবার সকাল থেকে মোট ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

    এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্প-কারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের। কিন্তু দুটি টার্মিনাল সচল হওয়ার পরও সরবরাহ বেড়েছে সামান্য। এতে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

    পেট্রোবাংলার ক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সক্ষমতা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ দিতে হলে প্রতি মাসে ১১ জাহাজ এলএনজি দরকার। এখন আসছে মাত্র ৫টি জাহাজ। সরবরাহ অর্ধেক নেমেছে। সব এলোমেলো। কবে নাগাদ এলএনজি সরবরাহ পুরোদমে হবে তা বলা মুশকিল।

    আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহ করে সরকার।টার্মিনালগুলো নিজেরা এলএনজি কিনতে পারে না। ভাসমান টার্মিনালের মূল কাজ হলো আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা। আগে টার্মিনালে ত্রুটি থাকলেও পরে তা ঠিক হয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে এখন এলএনজি সরবরাহে বিপত্তি ঘটেছে।

    এক্সিলারেট টার্মিনাল যখন এলএনজি সংকটে ভুগছিল, তখনো সামিটের টার্মিনাল তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছিল। এখন টার্মিনালটি নিজেই কার্গো সংকটে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনায় সরবরাহ কমানো হয়েছে।

    রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ১০টায় এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সময়ে সামিট টার্মিনালের সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামানো হয়েছে। সামিট টার্মিনাল সচল কিন্তু সাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ নেই। বাধ্য হয়েই সরবরাহ কমাতে হয়েছে। নতুন জাহাজ সাগরে না আসা পর্যন্ত এভাবেই চলবে।

    অভিযোগ উঠেছে, উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে এলএনজি না কিনে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কিনতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। ডিপিএম পদ্ধতিতে অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজও দেশে পৌঁছেনি। এ অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে চড়াদামে কিনতে চাইছে, কিন্তু সাড়া মিলছে না। এ সংকটের মধ্যে সরকার সরবরাহ কীভাবে সামাল দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৩ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৯ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১৭ জন, চট্টগ্রামে ১০০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ জন, খুলনায় ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহী ৭১ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে ৩ ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৯৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী ।

  • এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি 

    এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি 

    বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদ মর্যাদার ২ কর্মকর্তাকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ নুর-এ আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তিনি এ সই করেন।

    বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদেরকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হলো।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিকল্প জ্বালানিতে যেতে চায় সরকার

    তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। একই সঙ্গে নিউক্লিয়ার ও কয়লাতেও জোর দিচ্ছি।’

    রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে গতকাল এক সেমিনারে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজক ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে মজুদকৃত কয়লা উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই সেদিকে যেতে হবে। সেখানেও ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

    স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক না কেন, সেগুলো নিরসন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, সরবরাহ চেইন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য বজায় থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে নিম্নমুখী ঋণপ্রবাহ অর্থনীতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এ পরিপ্রেক্ষিতে রফতানিতে লিডটাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলগুলোর সব ধরনের সেবার নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি পরিলক্ষিত হবে না।’

    অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় নেমে আসেনি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতার পাশাপাশি শিল্প খাতও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।’

    পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘আমাদের নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বেশ ফারাক রয়েছে। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্তের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাই না আমরা। রফতানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে ততটাই কঠিন নীতিমালা। এর ফলে আমদানিতে উচ্চ শুল্কহার বজায় থাকছে এবং স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্যও বাড়ছে।’

    বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিপ্লব ঘটাতে হবে বলে মনে করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ভালো কিছু উদ্যোগ রয়েছে, কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেটির প্রতিফলন নেই। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।’

    নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা বেশ কঠিন। তাই ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।’

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। এজন্য নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি লজিস্টিকস খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।’

    ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সীমিন রহমান বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসাসহায়ক নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এজন্য উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অধিক হারে ঋণ গ্রহণই প্রধানত দায়ী।’

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান, বেনজীর আহমেদ, রিজওয়ান রাহমান প্রমুখ।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ১৩ দাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় কলেজের শহিদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

    সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, গত কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে ডিসিইউ প্রশাসন রানিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করে। এই গণভোটের বিষয়ে প্রায় ১৭ হাজারের উপরে শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’-কে জয়ী করেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন হতে চায় এই বিষয়ে তারা একমত প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার গণভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয়নি।

    শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতিদ্রুত সকল সেশন বিশেষ করে ২০২১-২২ সেশন এবং প্রথম বর্ষ ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষা যাতে অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং তাদেরকে এই একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একাডেমিক রোডম্যাপ এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন যাতে আজকের মধ্যেই জারি করা হয় সে দাবি জানান তিনি।

    শিক্ষার্থীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি একাডেমিক মাইগ্রেশন ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করেছে সেসব শিক্ষার্থীরা যদি ঢাকা শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তাহলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছি না। আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি গণতান্ত্রিক উপায়ে জানিয়ে দিয়েছি যে আমরা সবাই সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে একমত। এমনকি উপাচার্য এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ১৩টি দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- ১। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা ২। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণস্বাক্ষরের ফলাফল প্রজ্ঞাপন আকারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ৩। ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা ৪। বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি-উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা ৫। আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা ৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা এবং প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ দেওয়া ৭। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে ৮। গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়ানো ৯। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করা ১০। বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা ১১। ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করা ১২। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করা ১৩। উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং টিএসসি কেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    রংপুরের একটি বাসা থেকে স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারকে শ্বাসরোধে হত্যার মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে বলেও আখ্যায়িত করেন।

    পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘গতরাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন—জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

    গোটা পরিবারকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক।

    সম্প্রতি দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে তার ওপর হামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছেও অনুরূপভাবে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়েছে।

    আর সর্বশেষ রংপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

    দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, এই তিনটি ঘটনাসহ অসংখ্য ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণ এর সুরাহা চায়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে রংপুরের এ ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আদালতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণকে দারুণভাবে হতাশ করছে। এই হতাশা থেকে জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

    তাই সরকারের ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে তার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বাধ্য করা দরকার।

    আসুন, সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অপরাধের হাত থেকে আমাদের দেশের প্রিয় জনগণকে রক্ষা করি।
    আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে এসব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।’

  • পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রফতানির লক্ষ্য বাজুসের

    পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিমালা সংস্কার, আমদানি সহজীকরণ এবং আধুনিক কারখানা ও ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

    ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’-এ অনুষ্ঠানে গতকাল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা।

    লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাজুস দেশের প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    বাজুস জানায়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রফতানি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শিল্পটির অন্যতম বাধা হিসেবে নীতিমালার অস্পষ্টতাকে চিহ্নিত করে বলা হয়, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম দামে অলংকার বিক্রি করা সম্ভব।

    ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে বাজুস। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার ৫০০-৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশের মোট স্বর্ণের মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

    দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বাজুস। এসব কারখানায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও এক লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জিডিপিতে অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

    এ ছাড়া ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রফতানি সম্ভব হবে বলে জানায় বাজুস।

    বাজুসের বক্তব্যে বলা হয়, যুগোপযোগী নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।

    বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সুধীজন এবং কার্নিভাল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আজাদ আহমেদসহ বিভিন্ন উপকমিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

  • দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

    দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

    গভীর সঙ্কট থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনে তিন ধাপের কৌশল তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর আওতায় এই তিন ধাপ হলো রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনঃস্থাপন এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন বা ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন।

    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিতুমীর বলেন, ‘এই তিন ধাপ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে এনে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া হবে।’

    প্রথম ধাপ ‘রিকভারি’ বা পুনরুদ্ধারের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দীর্ঘদিনের জমে থাকা অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করা। এর মধ্যে রয়েছে ঋণের চাপ, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, তারল্যসঙ্কট, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং অর্থনীতির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

    এ লক্ষ্যে সরকার রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিতুমীর বলেন, ‘গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয় ১২ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ।’ এটিকে রাজস্ব খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তিনি।

    সরকার বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, টাকার মূল্যমান শক্তিশালী হওয়া, প্রবাসী আয় বাড়া এবং সুদের হার কমে আসাকেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।

    তিন ধাপের দ্বিতীয় পর্যায় ‘রেস্টোরেশন’ বা পুনঃস্থাপনের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে শুধু স্থিতিশীল করা নয়, বরং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া।

    তিতুমীর বলেন, ‘এ পর্যায়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।’

    বিধিনিষেধ ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং প্রস্তাবিত ‘ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাক’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একইসাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    তিনি বলেন, ‘উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়া থেকে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসব বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’

    সরকার এমন বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, যা উৎপাদন বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং রফতানি সক্ষমতা শক্তিশালী করবে। বিপরীতে ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর প্রকল্পে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হবে না।

    অগ্রাধিকার খাত হিসেবে কৃষি ও কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুনঃস্থাপন পর্যায়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামাজিক উন্নয়নকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

    তৃতীয় ধাপ ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ বা দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করা এবং অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা।

    তিতুমীর বলেন, ‘পুনরুদ্ধার ও পুনঃস্থাপন পর্যায়ে অর্জিত অগ্রগতিকে টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পুনর্গঠন অপরিহার্য।’

    এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কৌশল অনুযায়ী প্রথমে জ্বালানি খাতের তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর অর্থনীতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

    পরবর্তী পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    তিতুমীর বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আর শুধু গ্রাহক নন, তিনি একজন উৎপাদকও।’

    তার মতে, এই তিন ধাপকে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর উৎপাদন সক্ষমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং সবশেষে দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।

    বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অতীত অর্থনৈতিক রূপান্তর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিতুমীর।

    তিনি বলেন, ‘সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছিল, তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পরবর্তী সময়ে নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক খাতের বিকাশও দেখিয়েছে, কীভাবে কৌশলগত নীতিগত সিদ্ধান্ত কাঠামোগত দুর্বলতাকে অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।’

    বর্তমান কৌশলের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তিগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদচিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সঙ্কট ব্যবস্থাপনার পর্যায় থেকে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’ এই তিন ধাপের কাঠামো মূলত হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার, অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তোলার একটি রূপরেখা।

  • এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

    দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের শূন্যপদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত-ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হার্ডকপিসহ নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সর্বাধিক সমর্থনপ্রাপ্ত দলের নির্বাচনি ইশতেহার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। সেই আলোকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিধায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩-১৬তম গ্রেডের শূন্যপদে উল্লিখিতভাবে জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

    নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮-অনুযায়ী পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সব শূন্যপদে (১৩-১৬তম গ্রেড) জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারিসহ আবেদন গ্রহণ করা আছে কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান আরো শূন্যপদের ছাড়পত্র গ্রহণসহ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত আবেদনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে (মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা), সে সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫-অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রনাধীন বেশ কিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩তম গ্রেডের প্রধান সহকারী পদ রয়েছে। কিন্তু, নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮-অনুযায়ী এই পদগুলো ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে, বিধায়, ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী। উচ্চমান সহকারী, সমমান পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্যপদগুলোতে নিজ বেতনে, চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত-ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালকের কাছে হার্ডকপিসহ ই-মেইল-hrm@ld.dghs.gov.bd-এ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

  • সংকটের মধ্যেও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার: রিজভী

    সংকটের মধ্যেও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার: রিজভী

    দেশের নানা সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    রোববার (২৩ আগষ্ট) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, বর্তমান সংকটের বড় একটি কারণ প্রাকৃতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

    এর প্রভাব পড়েছে দেশের গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলকারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মহেশখালীতে ভাসমান যে টার্মিনালে যে ত্রুটি হয়েছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে ঠিক হয়ে গেছে এবং এলএনজি ভর্তি কার্গো ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ চলছে।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের যে চাপ কমে গিয়েছিল সেই চাপ আবার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লোডশেডিং অনেকটা কমে গেছে।

    রিজভী আরও বলেন, সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের সামাজিক সুরক্ষা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের মাধ্যমেও সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।