জাতীয় সংবাদ

  • জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। এরপর ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষাগুলো সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য দেয়া হয়েছে ছয়টি বিশেষ নির্দেশনা।

    সুচি দেখুন

    রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সূচি প্রকাশ করে।

    সূচি অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর বাংলা, ১০ ডিসেম্বর ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর গণিত ও ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।পরীক্ষার্থীদের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে- পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে; প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য দেড় ঘন্টা + বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের জন্য দেড় ঘন্টা সর্বমোট তিন ঘণ্টা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে; পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের থেকে হতে পরীক্ষা আরম্ভের কমপক্ষে সাত দিন পূর্বে সংগ্রহ করবে; পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের OMR ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্তভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না; পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন; কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সঙ্গে আনতে পারবেন না।

  • শ্রীনগরে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    শ্রীনগরে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। উভয় শিশুর বাবাই সৌদি আরব প্রবাসী।

    রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি গ্রামে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশু দু’টি হলো কাঠালবাড়ি গ্রামের মোল্লা বাড়ির মহসিন মোল্লার ছেলে পাঁচ বছর বয়সী ইব্রাহিম এবং তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে সাড়ে তিন বছর বয়সী রায়হান।

    জানা যায়, সকাল থেকেই দুরন্ত শিশু দুটি এক সাথে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তল্লাশি চালান স্থানীয়রা। সেখান থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কান্তা দাস দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জসিম উদ্দিন বলেন, দু’টি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কান্তা দাস তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব   কান্না

    সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    ‘পাট-পেঁয়াজের রাজধানী’খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মনপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে। তার ওপর সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মাচায় পচে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার এবং মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কৃষক মোট জমির ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে। এই মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়। এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বাড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

    সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

  • ২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

    ২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ মনে করার সুযোগ নেই। এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া। ২০২৪ সালের আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ রয়েছেন যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায়।

    রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে।

    এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল। ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

    জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি।

    এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

    জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

    তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিকতায় ৬০ বছর বয়সে ঘর পেলেন ‘অপেজান’

    নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিকতায় ৬০ বছর বয়সে ঘর পেলেন ‘অপেজান’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিক সহযোগিতায় ৬০ বছর বয়সে নতুন ঘর পেলেন অসহায় অপেজান বেগম।

    স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে মা-মেয়েকে।

    নলডাঙ্গা উপজেলার ৫ নম্বর বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের মমিনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুরদীঘা গ্রামে বসবাস করেন অপেজান বেগম। বয়সের ভারে কাজ করার সক্ষমতাও কমে গেছে তার। নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা কষ্টে দিন পার করছিলেন তিনি।

    নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অপেজানের দুর্দশার কথা জানতে পেরে স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। আমার এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত হয় ঘরটি। পাশাপাশি অপেজানকে খাদ্যসামগ্রীও দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপেজানের একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড এবং অপেজান বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।’

    মমিনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অপেজান বেগম স্বামীহীন অবস্থায় প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি শফিকুল ইসলাম বুলবুলকে জানালে তিনি ঘর নির্মাণ ও খাদ্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ডা: মো: মোজাহের আলীর অর্থায়নে ঘরটি নির্মাণ করা হয়।’

    নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অপেজান বেগম। তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে নিজের একটি ঘর হবে, এটা কখনো ভাবিনি। স্থানীয় নেতা ও গ্রামের মানুষের ভালোবাসা এবং সহযোগিতায় আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

    স্থানীয় ডা: মো: মোজাহের আলী বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। অপেজানের মতো অসহায় মানুষের পাশে সবাই এগিয়ে এলে সমাজে মানবিকতার বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।’

    অসহায় অপেজানের জন্য গ্রামবাসীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

  • সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    সালথায় পেঁয়াজচাষিদের নীরব কান্না

    পাট-পেঁয়াজের রাজধানী’খ্যাত ফরিদপুরের সালথায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মনপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে। তার ওপর সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মাচায় পচে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার এবং মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি কৃষক মোট জমির ৯০/৯৫ ভাগ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে। এই মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে দাম নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের দাম মন প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন কৃষক। অনেকেই মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তা মজুদ করে রেখে দেয় মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে। তবে এবছর আর তা সম্ভব হয়নি, প্রায় ৪০/৫০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে মাচায়। এমতাবস্থায় পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পেয়াজের দাম বাড়ানোর কথা বলেন সবাই। অনেকেই আবার পেয়াজ আমদানি না করার কথা বলেন।

    সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারী মো. মাসুম সরদার জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বেশি এবং মোকামে চাহিদা কম থাকায় আজকে পেঁয়াজের বাজার নিচের দিকে। আজ ৭০০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে। চিকন বা ছোট পেয়াজ ১৬০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। হয়তো আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম বাড়তে পারে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, এ বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

  • বঙ্গভবনে সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি

    বঙ্গভবনে সপরিবারে নতুন রাষ্ট্রপতি

    সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে অশ্বারোহী দলের এসকর্টে রাষ্ট্রপতির গাড়ি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে পৌঁছায়।

    সেখানে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল। এরপর বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।

    আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে নিজ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।

    এর আগে শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী হিসেবে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস করতেন।

  • কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণেরও বিকল্প নেই।রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘অ্যা ন্যাশনাল ডায়ালগ অন টিভিইটি ফর অ্যা স্কিল্ড অ্যান্ড প্রোডাক্টিভ বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদেরকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি।

    এসময় তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদেরকে যদি আমরা দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করতে যাচ্ছি। এছাড়াও, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আমরা একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আলাদা একটা প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

  • সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন।

    এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

    রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

    দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

    প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময়, তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

    এছাড়া তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসি’র ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানকে বাধা প্রদান ও চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ অবলোকন করেন।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

    এসময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টার এর উড্ডয়ন অবলোকন করেন।

    নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

    এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

    গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাবিতে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না: উপাচার্য

    ঢাবিতে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না: উপাচার্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অন্যায় করে কেউ পার পাবে না এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল।

    আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি বিভীষিকাময় অধ্যায়। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ভুলবে না।

  • চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সচেতনতামূলক প্রচারণা

    চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সচেতনতামূলক প্রচারণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পুশইন প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (২৩ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসাথে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের বিজিবির সাথে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

    প্রচারকালে স্থানীয় জনগণকে অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজেরা কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) খবর দিতে বলা হয়।

    এছাড়া পুশইনের শিকার হয়ে কোনো ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    ৬ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছেন কৃষকরা। রোববার সকালের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

    লুট হওয়া সার উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিছু সার কৃষকরা ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

    জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারের নীরব সংকট চলছে। শিলখুড়ি ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, তারা বারবার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামে সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার ডিলারের গুদামে গিয়েও সার পাচ্ছিলেন না। ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যান।

    পরে খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে কিছু সার কৃষকরা ফেরত দিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের নিয়ে যাওয়া ১৯০ বস্তা সারের মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ‘ওই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ চলাকালীন কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।

    ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘আমি এবং সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থলে আছি। লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

  • বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু

    বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মত বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতি আজ রবিবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটক-২ এ বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর একটি সু-সজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে ক্রেডেনশিয়াল মাঠে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

    বঙ্গভবনে অফিস শুরুর প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি তার অফিস কক্ষে অবস্থান করে দাপ্তরিক নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। বাসস

  • আতঙ্কে কলকাতা ছাড়ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

    আতঙ্কে কলকাতা ছাড়ছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

    কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন ‘হোটেলপাড়ার’ মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মনে গভীর ক্ষোভ ও ভীতি তৈরি হয়েছে। চরম আতঙ্ক বিরাজ করায় সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে কলকাতার হোটেল ছেড়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশি অনেক পর্যটক। এমতাবস্থায় হোটেল মালিকরা প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

    কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট তথা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট নিয়ে কলকাতার এই বিখ্যাত ‘হোটেলপাড়া’ গড়ে উঠেছে। এটি বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে খুবই পরিচিত একটি নাম। এখানে চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পর্যটকরা আসার প্রধান কারণ হলো, এই এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে হোটেল বা গেস্টহাউস পাওয়া যায়। তাছাড়া হাতের কাছেই মানি এক্সচেঞ্জ, দূরপাল্লার বাস কাউন্টার এবং ফুটপাতের নানা ধরনের খাবারের দোকান রয়েছে।

    কিন্তু সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পেছনে প্রশাসনের চরম গাফিলতি এবং অবৈধ ব্যবসাকেই সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে। এই এলাকায় বেআইনি হোটেল এবং গেস্টহাউসের ছড়াছড়ি রয়েছে। আবাসিক বাড়ির মালিকরা বেশি টাকার লোভে নিজেদের বাড়িগুলিকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হোটেলে পরিণত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করেন। যে হোটেলে অগ্নিকাণ্ড হয়, তার একটা বিল্ডিং পাশেই পশ্চিমবঙ্গের দমকল বাহিনীর হেডকোয়ার্টার৷ সুতরাং, প্রশাসনিক মদদ ছাড়া এসব হোটেল চলতে পারে না৷ অনেক হোটেলের কোনও বৈধ লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। একটি পাঁচতলা ভবনেই হয়তো দশটি পর্যন্ত ছোট ছোট হোটেল বা গেস্টহাউস চালানো হচ্ছে। ঘরের ভেতরে পার্টিশন দিয়ে অত্যন্ত ছোট আকারের কামরা বানানো হয়েছে।

    এসব হোটেলে পর্যটকদের নিরাপত্তার ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বাংলাদেশি পর্যটক মো. উজ্জ্বল খান জানান, অনেক হোটেলের প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ এতটাই সরু যে বিপদের সময় দ্রুত বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি নিজে হোটেলের বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করায় তিনি বেঁচে যান। এলাকার বেশিরভাগ হোটেলেই ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমন পথ নেই। লোহার সিঁড়ি বানিয়ে দোতলা বা তিনতলায় ওঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া যত্রতত্র বিদ্যুতের তার জোড়া লাগিয়ে এসি ও টিভি চালানো হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কোনো অডিটও অনেক হোটেলে কখনো হয়নি।

    অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহতা পর্যটকদের মনে গভীর ক্ষোভ ও ভীতি তৈরি করেছে। খবর পেয়ে অনেকেই ভয়ে কাঁপছিলেন এবং সারাদিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারেননি। বাংলাদেশের যাত্রাবাড়ী থেকে আসা পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলকাতার মতো এত বড় শহরে হোটেলের এমন বেহাল দশা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

    তাঁর মতে, হোটেলগুলো প্রচুর টাকা নিলেও তাদের পরিষেবা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সেখানে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাই নেই। পুরনো ভবনগুলোতে সিঁড়ি এতই সরু যে একসঙ্গে দু-তিনজন মানুষও ঠিকমতো নামতে পারেন না। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় লোকজন পর্যটকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের ঠকায় এবং গলা কেটে ফায়দা লোটে।

    তিনি প্রশাসনকে প্রতিটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সমীর দাসও স্বীকার করেন যে, এই ঘটনায় বাংলাদেশি পর্যটকদের মনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সোহেল নামের এক পর্যটক বলেন যে তাঁদের মনে এখন সত্যি ভয় ঢুকে গেছে। এই ঘটনার পর অনেক পর্যটকই এখন তড়িঘড়ি করে হোটেল ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন।

    উন্নত চিকিৎসার আশায় এসে লাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সবাইকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এই দুর্ঘটনার খবর বাংলাদেশের সব গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশের মানুষের মনেও গভীর রেখাপাত করেছে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের চারজন সদস্য থাকায় শোকের ছায়া আরও গাঢ় হয়েছে। এর পাশাপাশি পর্যটকরা ভারতে আসার ক্ষেত্রে নানা দুর্গতির কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁরা ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, দালালের দৌরাত্ম্য এবং বেনাপোল সীমান্তে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার মতো সীমাহীন হয়রানির কথা জানান। এসব ভোগান্তি এবং অনিরাপত্তার কারণে অনেকেই এখন চিকিৎসার জন্য কলকাতার বদলে চেন্নাই বা ভেলোর, চিন, নেপালে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন।

    অবশেষে দুর্ঘটনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাকবলিত হোটেলের সামনে ফুল দিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগ এখন কঠোর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এই এলাকার হোটেল ও গেস্টহাউসগুলির বৈধতা নিয়ে জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই আকস্মিক তৎপরতায় অবৈধ হোটেল মালিকরা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

  • ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

    ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

    ঢাকায় অবস্থিত দুইটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির ঘটনায়, বারিধারা ও গুলশানের পুরো কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বা এডিসি আবু খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আবু খায়ের বলেন, ‘চায়না এবং রাশিয়া দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল করা হয়েছে। বাট ওইটা কোন জায়গা থেকে আসছে, তা জানা যায়নি। আমরা ধারণা করছি, এটা স্ক্যামের, ফেইক।’

    ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাসগুলো নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দফতর এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে বিষয়টি অবহিত করার পর দূতাবাসগুলোর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং আরো জোরদার করা হয়েছে।

    এডিসি আবু খায়ের আরো বলেন, ‘তারা আমাদেরকে কিছু জানায় নাই। তারা মনে হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেইন অ্যাফেয়ার্সকে জানিয়েছি। আমি অফিসিয়ালি কোনো কিছু পাই নাই বাট যখন জেনেছি আমাদের যে এক্সিসটিং সিকিউরিটি মেজার সেগুলোই আরো জোরদার করা হয়েছে। ওইরকম কোনো কিছু মনে করতেছি না।’

    তবে এ বিষয়ে থানায় জিডি বা লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান আবু খায়ের।

  • কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের বাদুরগাছা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে হাবিব নামে এক ব্যক্তিকে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলাতেই দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন। এতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    অপর মামলাটি করেছেন গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই যশোর শহরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ মামলায়ও দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদকে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগে হাবিব ও সুমনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের হাত-পা বেঁধে একটি বাঁশের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন সুমন।

    খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাবিবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সময় মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মামলা ও তদন্তের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগ!

    ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে বিহারের উদ্বেগ!

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের ফারাক্কা ব্যারাজ ও পানি বণ্টনসংক্রান্ত উদ্বেগগুলো বিবেচনা করা হবে বলে রাজ্যটিকে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
    তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সময় বিহারের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও দাবিগুলো আলোচনায় তোলা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

    শুক্রবার নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পররাষ্ট্র, জলশক্তি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
    বৈঠকে বিহারের পানিসম্পদ, সেচ এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়।

    এদিন বিজয় কুমার চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
    তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজে পৌঁছানো পানির বেশিরভাগই বিহারের ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে আসে। কিন্তু পানীয় জল, সেচ ও শিল্পের ব্যবহারের জন্য বিহার তার ন্যায্য অংশ পায়নি।
    চুক্তির নবায়নের সময় বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকে নেপালের কোসি ও অন্যান্য নদীর ওপর উচ্চস্তরের জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
    ২০০৪ সালে নেপালের বিরাটনগরে যৌথ প্রকল্প কার্যালয় বা জয়েন্ট প্রজেক্ট অফিস (জেপিও) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নেপালে প্রস্তাবিত জলাধার প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেয়াই এর উদ্দেশ্য।

    বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, বৈঠকে জেপিওতে বিহারের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
    তার দাবি, জয়শঙ্কর আশ্বাস দিয়েছেন যে জেপিওতে বিহারের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। বর্তমানে ওই কার্যালয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও নেপালের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
    এ ছাড়া বিহারের আটকে থাকা সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    সাংবিধানিক নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

    রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর প্রধান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

    এ সময়ে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্যান্টনমেন্টের দল বলা হয়, অথচ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা পুনরুদ্ধার করেছেন।

    তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে রকম নির্বাচন এ গণতান্ত্রিক সরকার করবে না।

    দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেবে না। যারা করবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা আইনিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

  • আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ১৪৮ কোটি টাকার লেনদেন

    আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ১৪৮ কোটি টাকার লেনদেন

    এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেন তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে কোম্পানিটি। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ৩৩ টাকা ৮০ পয়সা। ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সায়।

    ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭৩ পয়সায়।

    ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৩ পয়সায়।

    আইপিডিসির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

    ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১।

  • এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা

    এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা

    এসবিএসি ব্যাংক পিএলসিতে ‘ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এস. এম. মঈনুল কবীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি পলিসি অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-৫-এর অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

    কর্মশালায় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, বিভাগীয় প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপক এবং উপশাখার ইনচার্জরা সশরীরে ও অনলাইনে উপস্থিত করেন।

  • চৌগাছায় শিক্ষক  সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় শিক্ষক  সমিতির সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি জিএমএ মুনিব, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম বজলুর রশিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাটগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমান, সমিতির সাবেক সভাপতি ও পুড়াহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

    সাধারণ সভায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষকদের বিরাট ভুমিকা রয়েছে। শিক্ষকরা যদী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন তাহলে দেশ ও জাতি দ্রুত উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহন করতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।

  • নাটোরে বাস-ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত

    নাটোরে বাস-ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— সাইদ (৪৫) ও সাব্বির (২৩)।

    নিহত সাইদ বড় হরিশপুর ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম হাসান আলী। অপর নিহত সাব্বির (২৩) জয়নগর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম জমশেদ।

    নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনছুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে হরিশপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের সঙ্গে একটি ভ্যানের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ সময় মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই ভারতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই। আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়ে এ সফরে যাবেন তিনি।’

    আজ শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলার রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি বিষয়।’

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। তবে ভারতসহ কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।’

    ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামীকালও যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তাহলে আগামী সপ্তাহে সফর হতে পারে। আবার পরের সপ্তাহেও হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’

  • নেপালকে উড়িয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

    নেপালকে উড়িয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

    টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। মোহাম্মদ রুবেলের স্পিন ও জিসান আলমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে সহজেই জয় পায় টাইগাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার মারারা ওভালে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ এইচপি। ব্যাটিংয়ে নেপালের হয়ে কুশল ভুর্তেল ছাড়া আর কেউ সুবিধা করতে পারেনি। ত্রিত রাজ দাস, অধিনায়ক অনিল সাহ, পবন সররফ, কুশল মাল্লা ও লোকেশ বম–– এই ৫ জন ব্যাটারের কেউ ই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেনি। এর ভেতর অনিল ও পবন কোনো রান না করেই ফেরেন।

    টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পরে নেপাল। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে সাদাব আলমকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ভুর্তেল। ৩২ রানের জুটি গড়ার পর ১১ রান করে সামিউন বসিরের বলে আউট হন সাদাব। একই ওভারে রানআউট হন নারায়ণ যোশি।

    ৪৬ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর রিজান ধকলকে নিয়ে সম্মানজনক সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যান ভুর্তেল। ২৯ রান যোগ করার পর রুবেলের বলে ইরফান শুক্কুরকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ভুর্তেল। ৩ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ৪০ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। রিজান ১০ রান করে রানআউট হন।

    শেষ উইকেট বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে ১০০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় নেপাল। বিপিন খাতরি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে ও আকাশ চাঁদ ৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ১৮ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া বসির, রোহনাত দৌল্লাহ বর্ষণ ও রিপন মণ্ডল ১ টি করে উইকেট পান।

    জবাবে খুব সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন জিসান। তৃতীয় ওভারে ৭ রান করে সাদাবের বলে আউট হন হাবিবুর রহমান সোহান। এরপর আরিফুল ইসলামকে নিয়ে ৫৮ বল হাতে রেখেই দলকে জয় এনে দেন জিসান। ২৯ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। ৩টি চার ও ৪টি ছয়ে প্রায় ১৮০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেন এই ওপেনার। আরিফুল অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।

    বাংলাদেশ এইচপির পরবর্তী ম্যাচ হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমীর বিপক্ষে আগামীকাল।

  • ঘুমন্ত দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

    ঘুমন্ত দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘুমন্ত দম্পতিকে বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে রেখে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে টিনের বেড়া কেটে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে বেঁচেছেন ওই দম্পতি। এ ঘটনায় লাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালা এলাকায় লাল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, রাতে তাঁর স্ত্রী হঠাৎ ঘরের চারপাশে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। তাঁরা ঘরের বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলতে গেলে দেখেন, বাইরে থেকে শিকল লাগানো। এরই মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পেট্রলের গন্ধ আর ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার হয়ে যায়।

    পরে ঘরে থাকা দা দিয়ে টিনের বেড়া কেটে স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হন লাল মিয়া। এ সময় তিনি আহত হন। পরে তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    লাল মিয়ার স্ত্রী বেগম আক্তার (৪৫) অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে।

    কয়েক দিন আগেও ওই প্রতিবেশীরা তাঁর স্বামীকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিলেন। আগুনে তাঁদের ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, আগুনে পরিবারটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    সখীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গ্রুপ লিডার সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

    সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ৬২ দিন পর বৃষ্টি যুক্তরাজ্যের শুকনো গ্রাম

    ৬২ দিন পর বৃষ্টি যুক্তরাজ্যের শুকনো গ্রাম

    দীর্ঘ দুই মাস ধোঁয়াশা আর রুক্ষতার মাঝে বন্দী থাকার পর অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি নামল যুক্তরাজ্যের সারে কাউন্টির উইসলি গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, টানা ৬২ দিন এক ফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা মেলেনি উইসলিতে। গ্রামের ঘাসগুলো সবুজ রং হারিয়ে তামাটে হয়ে যায়, আর রোদে পোড়া ধুলোবালি উড়ছিল বাতাসে। অবশেষে বৃষ্টি যেন গ্রামবাসীদের কাছে এক অলৌকিক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি যখন উইসলি গ্রামে মাটির শুষ্কতা ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তখন অনেককেই দেখা গেছে ঘরের জানালা খুলে, আবার অনেকে ছাতা ছাড়াই উঠানে নেমে এসে বৃষ্টির জল গায়ে মেখে নিচ্ছেন।

    চলতি গ্রীষ্মে তীব্র তাপদাহ ও খরায় পুড়ছে গোটা ইউরোপ। আবহাওয়ার চরম এই শুষ্কতা পুরো যুক্তরাজ্যকে ভোগালেও উইসলি গ্রামটি যেন সবচেয়ে বেশি পুড়েছে।

    জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই অঞ্চলটিতে ০.২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। ফলে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের তালিকায় এটি স্থান করে নেয় বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ শুষ্ক অঞ্চলের একটি হিসেবে। টানা খরায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ পাইপ দিয়ে বাগানে পানি দেওয়া কিংবা গাড়ি ধোয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়েছিল। শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া মাটি, শুকিয়ে যাওয়া জলাশয় এবং আশপাশে দাবানলের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামের অলিতে-গলিতে।

    অবশেষে আবহাওয়ার সেই বৈরিতা কাটিয়ে বাধভাঙা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামজুড়ে প্রাণ ফিরে এল। স্থানীয়রা বলছেন, পানির অভাব তাদের জীবনকে যেভাবে থমকে দিয়েছিল, তাতে এই বৃষ্টি শুধুই আবহাওয়া পরিবর্তন নয়, বরং স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার এক মোক্ষম সুযোগ এনে দিয়েছে।

    তবে আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করেছেন—দীর্ঘদিনের শুষ্ক পোড়ামাটি জল শোষণ করতে কিছুটা সময় নেবে, তাই এই স্বস্তির সঙ্গে সাময়িক সময়ের জন্য পানি জমে থাকার ঝুঁকিও রয়েছে। তবুও দুই মাসের দীর্ঘ তৃষ্ণা মেটার এই আনন্দ যেন উইসলির প্রতিটি ঘরেই এখন হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।

  • নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

    নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদীর মনোহরদীতে এক তরুণকে বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কির্ত্তীবাসদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা।

    নিহত আকাশ মিয়া (২৩) দৌলতপুর ইউনিয়নের কির্ত্তীবাসদী গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, সকালে আকাশের বাবা আফতাব উদ্দিন ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ঘাস কাটার জন্য জমিতে চলে যান।

    এই বিষয়ের আরও খবর:

    এসময় তার মাও জরুরি কাজে পার্শ্ববর্তী গ্রামে যায়।

    পরে আফতাব উদ্দিন বাড়িতে এসে আকাশকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় তাকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

    আরও পড়ুন: ‘সমকামী কর্মকাণ্ড’ অভিযোগে তদন্ত ঘিরে ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষমরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ”

    এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনসহ হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

  • গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আবেগঘন পরিবেশে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং সাংবাদিক ফারুক আহমেদ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও জনবান্ধব আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে তিনি গাংনী ছাড়লেও তাঁর কর্মময় সময়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

    বক্তারা তাঁর নতুন কর্মস্থলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ সময় গাংনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

    সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট-ঢাকা মহাসগড়কের ওসমানীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী। তাদের মধ্যে দু’জন ঘটনাস্থলে এবং দু’জন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর সাত যাত্রী আহত হন।

    স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে দু’জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দু’জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ও হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রথমে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দু’জন মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তারা।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ আগস্ট সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। ওই ঘটনার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একই মহাসড়কে আবারো প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সরকারের সেই নীতিকে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

    তিনি আরও বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ওই নীতি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    রায়ে বিচারক লিখেছেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এই নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অকার্যকর করে দেয়। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্থগিতাদেশের আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো দেশ; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশ; দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশের নাগরিকরা পড়েন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন বলে, এসব দেশের আবেদনকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভর করার উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছেন। বিচারকের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেয়া বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং নির্ধারিত দেশগুলোর অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেন।

    ওই মার্কিন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাদের ভিসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে তার কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে তুলে ধরেন।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ও নজরদারি বা ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানকে মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

    মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মারার ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসিকে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ২০ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের শেষ দিকে সুলিভানের মাথার পেছনে চড় মারেন মেসি। বল খেলার পর সুলিভান তাঁকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন—এমন অভিযোগ করতে গিয়ে ওই ঘটনার সূত্রপাত। মেসির চড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সুলিভান। পরে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    এই ম্যাচে মায়ামির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। ৬৮ বছর বয়সে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় ছিলেন মেসি।

    সুলিভানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মেসিই একমাত্র শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় নন। মায়ামির ইয়ান ফ্রেকেও জরিমানা করা হয়েছে। বক্সের মধ্যে সুলিভান পড়ে যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন ফ্রে।

    উত্তপ্ত ম্যাচটিতে যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ডও দেখা যায়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট এবং ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে পর্যালোচনার পর কাভানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    এদিকে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।

    বাবার মৃত্যুর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইঙ্গিত দেন, ফুটবলে তাঁর পথচলা হয়তো আর খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।

  • ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া:মমতাকে দুষলেন অমিত

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া:মমতাকে দুষলেন অমিত

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত এর কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে এ কথা বলেন অমিত শাহ।

    মমতাকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলে, ‘বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি বারবার মরিয়া হয়ে অনুরোধ করেছি, কিন্তু তাতে তিনি কোনো সাড়া দেননি। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০১৪ সাল থেকেই আমি ১ হাজার ১২৯ একর জমি চেয়ে আসছিলাম। রাজ্যে (শুভেন্দু) অধিকারী সরকার গঠনের পরই আমরা ওই জমি পেয়েছি।’

    পশ্চিমবঙ্গে গত মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    যেসব জেলায় বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি জেলা, যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

    এর আগে গত মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সশস্ত্র বিএসএফ জওয়ানদের পাহারা

    অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জমি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল রাজ্যের সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের একাংশও বরাবরই বলেছে, রাজ্যের জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, বিশেষত এমন একটি রাজ্যে, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অন্য রাজ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি।

    এ নিয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন অতীতে বিবৃতি দিয়েছে, আন্দোলনও করেছে। ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তচুক্তি হয়, সে সময় ১০ হাজার একরের কিছু বেশি জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় ভারত, তখন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজ। কিন্তু এখন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের জমি দিয়ে দেওয়ার পরও কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।

  • ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানার ফটকে এখন দুই ধরনের নোটিশ দেখা যাচ্ছে। একটিতে লেখা— স্থায়ীভাবে বন্ধ। অন্যটিতে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি। বাইরে থেকে দুটি সিদ্ধান্তকে একই রকম মনে হলেও এর অর্থ এক নয়। প্রথমটির অর্থ চাকরি হারানো; দ্বিতীয়টির অর্থ অনিশ্চয়তার মধ্যে চাকরি টিকে থাকা। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের দীর্ঘ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, শ্রম অসন্তোষ এবং বকেয়া ঋণের চাপে শিল্প খাতে এখন এই দুই বাস্তবতাই পাশাপাশি চলছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) পর্যন্ত শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসে একদিকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে শত শত কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এর সঙ্গে চলছে শ্রমিক ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান সংকোচন। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এ পর্যন্ত আসলে কতগুলো কারখানা বন্ধ হয়েছে?

    এর একক কোনও উত্তর নেই। কারণ সরকারি ও শিল্পসংগঠনের তথ্যভাণ্ডারে স্থায়ী বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শ্রম আইনের বিশেষ ধারায় বন্ধ, সাময়িক উৎপাদন স্থগিত এবং শ্রমিক ছাঁটাই—এসব তথ্য সব সময় একই তালিকায় রাখা হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে অন্তত চারটি আলাদা হিসাব দেখতে হয়।

    ছয় মাসে ২৭ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক

    ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজিএমইএ’র সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় প্রায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

    এটি পোশাক খাতের জন্য উদ্বেগজনক একটি সংখ্যা। কারণ একই সময়ে রফতানি খাতের বড় কারখানাগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কারখানাও টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে। কোথাও ক্রয়াদেশ নেই, কোথাও ব্যাংকঋণ ও নগদ অর্থের সংকট, কোথাও শ্রমিকের বকেয়া মজুরি নিয়ে বিরোধ, আবার কোথাও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে।

    তবে ২৭টি কারখানা বন্ধের তথ্য পাওয়া গেলেও এই ২৭টির পূর্ণ নামভিত্তিক তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

    শুধু সাত মাসেই তিন শিল্পাঞ্চলে বন্ধ ৯৫ কারখানা

    এর চেয়েও বড় চিত্র উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চলভিত্তিক তথ্যে। গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে গত সাত মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৯৫টি কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করতেন প্রায় ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক-কর্মচারী। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে— গাজীপুরে বন্ধ হয়েছে ৫৪টি কারখানা; নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে ২৩টি; সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

    গাজীপুরের বন্ধ হওয়া ৫৪টি কারখানার প্রায় সবই তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্ট। শুধু এই জেলাতেই বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৩২ শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

    এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ— ২৭টি কারখানা বন্ধের ছয় মাসের হিসাব এবং ৯৫টি কারখানা বন্ধের সাত মাসের শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হিসাব— একই উৎস ও একই পরিধির নয়। তাই দুটি সংখ্যা যোগ করে “১২২টি কারখানা বন্ধ” বলা সঠিক নয়। বরং এগুলো বাংলাদেশের শিল্প খাতের সংকটের দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান।

    নাম পাওয়া যাচ্ছে যেসব বন্ধ কারখানার

    প্রকাশ্য তথ্য ও শিল্প পুলিশের উদ্ধৃতি থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া বেশ কয়েকটি কারখানার নাম পাওয়া গেছে।

    গাজীপুর: গাজীপুরে বন্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য কারখানার মধ্যে রয়েছে— টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, মাহমুদ জিন্স অ্যাপারেলস, টিআরজেড, দ্য ডেল্টা নিট। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে গাজীপুরে মোট ৫৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

    সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই: এই অঞ্চলে গত সাত মাসে স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বেস্ট ওয়ান সোয়েটার, এমএস সোয়েটার, সাভার স্পোর্টসওয়্যার, বার্ডা গ্রুপ, র‍্যামস ফ্যাশন অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, প্রিয়াঙ্কা ফ্যাশন এবং জাভান টেক্স নিটওয়্যার। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে এ অঞ্চলে অন্তত ১০ হাজার ১২৭ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়েছেন।

    নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী: এই অঞ্চলে বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— গ্রিন বাংলা হোম টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান ফ্যালকন গার্মেন্টস, জিএল ফ্যাশন, মাস্টার টেক্সটাইল, ওয়েস্ট বেস্ট অ্যাটায়ার্স, এবং স্টার কাটিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।

    শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, এই অঞ্চলে বন্ধ হওয়া বেশির ভাগ কারখানাই ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আর্থিক সংকট ও পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গাজীপুরে স্থায়ীভাবে বন্ধ দুই কারখানা

    সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে স্পষ্ট ও যাচাইকৃত স্থায়ী বন্ধের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে। ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড এবং ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড গত ১৬ জুন থেকে বন্ধ থাকার পর স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক সংকট ও অন্যান্য সমস্যার কারণে কারখানা দুটি বন্ধ করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে।

    দুটি কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় পড়েন। পরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হয়।

    আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দুই কারখানা

    গত ১ এপ্রিল আশুলিয়ার দুটি পোশাক কারখানা— ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড ও জেএ অ্যাপারেলস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের পর কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিশ টানানো হয় এবং তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। দুটি কারখানা মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। তবে এগুলো পরে পুনরায় চালু হয়েছে কিনা, সেই তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় এগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।

    লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা একসঙ্গে বন্ধ

    জুলাইয়ের শুরুতে গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। এই ঘটনা দেখিয়েছে, শ্রমিক অসন্তোষ বা আর্থিক সংকট শুধু একটি কারখানার সমস্যা নয়; একটি শিল্পগোষ্ঠীর একাধিক কারখানাও একইসঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে এসব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর পুনরায় চালু হয়েছে কিনা, সেটিও স্থায়ী বন্ধের হিসাব থেকে আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।

    ইসলাম গার্মেন্টসও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

    গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ইসলাম গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ধরনের ঘটনা পোশাকশিল্পের আরেকটি দুর্বলতা তুলে ধরে— বেতন, সার্ভিস বেনিফিট বা অন্যান্য শ্রমসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা উৎপাদন বন্ধের দিকে গড়াতে পারে।

    দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট

    গত দুই বছরের আরও বড় একটি হিসাব শিল্প খাতের গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরে। আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ছিল— ১০৮টি বিজিএমইএ সদস্য কারখানা, ৩৫টি বিকেএমইএ সদস্য কারখানা, ৮টি বিটিএমএ সদস্য কারখানা এবং ১৯টি বেপজা-সংশ্লিষ্ট কারখানা। অর্থাৎ পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই বন্ধের তালিকায় রয়েছে। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।

    এই হিসাবে কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, মালিকের আর্থিক সংকট, শ্রম অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা ব্যাংকঋণের জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, কারখানা স্থানান্তর, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথাও বলছেন।

    নতুন সংকট:গ্যাস নেই, তাই উৎপাদন নেই

    স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকার বাইরেও এখন শিল্প খাতে নতুন একটি সংকট তৈরি হয়েছে—গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করা। আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা তিন থেকে চার দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করে। বিভিন্ন সূত্রে কারখানার সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত বলা হয়েছে।

    সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করে অনেক কারখানা কার্যত উৎপাদন বন্ধ রাখে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কারখানার এই ছুটিকে স্থায়ী বন্ধ বলা যাবে না, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকট চললে এটি উৎপাদন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ছুটি এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    সর্বশেষ ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের ছুটি দেওয়া হয়।

    শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, ‘‘সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। ভালুকা পৌর এলাকা ও তিতাস কার্যালয়ের আশপাশে গ্যাসের কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে প্রায় গ্যাস নেই।’’

    শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় সব গ্যাসচালিত কারখানাই সংকটে পড়েছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সীমিত উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে শিল্পাঞ্চলজুড়ে উৎপাদনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কারখানা বন্ধের প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে স্থায়ী বন্ধ, সাময়িক ছুটি এবং উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলো আলাদা করে দেখতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কারখানা কয়েক দিনের জন্য ছুটি দিলেও এটিকে স্থায়ী বন্ধ বলা ঠিক হবে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, কারখানার আর্থিক চাপ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমে যাওয়ার পরও শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি, গ্যাস-বিদ্যুতের বিলসহ অন্যান্য স্থায়ী খরচ বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল, এলপিজি বা সিএনজি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আগেই নির্ধারিত দামের কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় সব সময় পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।’’

    মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘‘কারখানা টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি সংকট দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অনেক দুর্বল ও আর্থিক সংকটে থাকা কারখানা আরও বেশি চাপে পড়বে। তাই শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটে থাকা, আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য আর্থিক সহায়তা ও নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।’’

    ছুটি কি শুধুই ছুটি, নাকি কর্মসংস্থান সংকোচনের শুরু?

    শিল্প-মালিকদের একটি অংশের যুক্তি হলো— গ্যাস না থাকলে কারখানা খোলা রাখার অর্থই হয় না। শ্রমিক বসে থাকলেও বেতন দিতে হয়, কিন্তু উৎপাদন না হলে বিক্রি ও রফতানি আয় আসে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিকল্প উৎপাদনে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে অনেক কারখানা বাধ্য হচ্ছে উৎপাদন কমাতে। কোথাও অতিরিক্ত শিফট বাতিল হচ্ছে, কোথাও শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, আবার কোথাও নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাময়িক ছুটি ধীরে ধীরে শ্রমিক ছাঁটাইয়ে রূপ নিতে পারে— এমন আশঙ্কা রয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

    চার ধরনের বন্ধ, চার রকম প্রভাব

    বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে কারখানাগুলোকে অন্তত চারটি ভাগে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা। এখানে শ্রমিকের চাকরি শেষ হয়ে যায়। বকেয়া মজুরি, সার্ভিস বেনিফিট ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে নতুন সংকট শুরু হয়।

    দ্বিতীয়ত, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানা। এখানে শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন কিনা, তা সব সময় পরিষ্কার নয়। কারখানা পুনরায় খুলতে পারে, আবার দীর্ঘ বন্ধের পর স্থায়ীভাবেও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    তৃতীয়ত, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি। গ্যাস, বিদ্যুৎ, কাঁচামাল বা ক্রয়াদেশের সংকটে কারখানা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ রাখতে পারে। এই সময়ে শ্রমিকের চাকরি টিকে থাকলেও আয় ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

    চতুর্থত, শ্রমিক ছাঁটাই। কারখানা চালু থেকেও উৎপাদন কমিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। ফলে শুধু বন্ধ কারখানার সংখ্যা দেখলে কর্মসংস্থান সংকটের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

    বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটকে শুধু সাময়িক জ্বালানি সমস্যা হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রফতানি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের জন্য কাঠামোগত হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘যেসব কারখানা ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, তাদের সংকটের পেছনে কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, ব্যাংকঋণের চাপ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো একাধিক কারণ রয়েছে। এখন নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় চালু কারখানাগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অনেক কারখানা উৎপাদনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয় করেছে কিংবা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাচ্ছে। ফলে এগুলোকে এখনই স্থায়ী বন্ধ বলা না গেলেও দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘কারখানা কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখা এবং একটি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হলে এই সাময়িক বন্ধও একসময় আর্থিক সংকটে রূপ নিতে পারে। উৎপাদন না হলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, কারখানা রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য স্থায়ী খরচ বন্ধ থাকে না। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতার আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশও কমে যেতে পারে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন শুধু নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করলেই হবে না; চলমান শিল্প ও বিদ্যমান কর্মসংস্থান রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ছোট ও মাঝারি আর্থিক সক্ষমতার কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। আর একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাওয়া নয়—এর সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের রফতানি সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

    কারখানা বন্ধের অর্থ শুধু একটি তালা নয়

    একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু মালিকের ব্যবসা বন্ধ হওয়া নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, ব্যাংক ও এনজিও ঋণ, স্থানীয় দোকানপাট এবং আশপাশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি। গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে একটি কারখানা বন্ধ হলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাসা, দোকান, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারে। আর সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় যখন শ্রমিক চাকরি হারানোর পরও তাঁর বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দ্বার হতে পারে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর

    দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সম্ভাবনাময় বাণিজ্যপথ হতে পারে আলোচনাধীন কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোর। এটি বাস্তবায়িত হলে চীনের ইউনান প্রদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই সম্ভাবনা সামনে রেখেই ইউনানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

    ‘কানেক্ট টু দ্য সাউথ, প্রসপার থ্রু ওপেন-কোঅপারেশন’ প্রতিপাদ্যে কুনমিংয়ের দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্স-এ আয়োজিত ‘ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড এনভায়রনমেন্ট প্রোমোশন ইভেন্ট’-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।

    অনুষ্ঠানে কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান ‘বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, শিল্পভূমি, জ্বালানি সুবিধা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।

    বিশেষ করে কুনমিং–চট্টগ্রাম করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বাণিজ্যপথ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সরাসরি সংযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ইউনানভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে।

    রিদওয়ানুর রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধাও দেওয়া হয়। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করেছে।

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক এবং চার বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাবনাময় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়।

    সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ খাতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ রয়েছে বলে জানান রিদওয়ানুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কনস্যুলেটের বাণিজ্যিক উইংয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, ইউনানের পাশাপাশি সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে তারা।

  • মূল্যস্ফীতি, ঋণসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতায় উদ্বেগ বেসরকারি খাতের

    মূল্যস্ফীতি, ঋণসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতায় উদ্বেগ বেসরকারি খাতের

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে রেকর্ড নিম্নগতি, উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন চাপে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানো কঠিন হবে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকা, ঋণের উচ্চ সুদ এবং জ্বালানি সংকট ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশ্ব অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ। বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথাগত জামানতভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল মূল্যায়নের মাধ্যমে নগদ প্রবাহভিত্তিক ঋণ সুবিধা বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

    আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না।

    তিনি বলেন, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারের চাপ এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, রফতানি সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

    অনুষ্ঠানে ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সীমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

    তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন কমছে। এ অবস্থায় বন্দর, কাস্টমস ও লজিস্টিক সেবার দক্ষতা বাড়াতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে কাঠামোগত সমন্বয়ের দুর্বলতা রয়েছে। কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

    তিনি বলেন, জ্বালানি প্রাপ্তিসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু সুদের হার কমিয়ে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে না।

    সেমিনারে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকা উদ্বেগের বিষয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়ানো এবং সার্বিকভাবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

  • ৯৮ বছর ধরে কবরের পাশে টানা কোরআন তেলাওয়াত

    ৯৮ বছর ধরে কবরের পাশে টানা কোরআন তেলাওয়াত

    ‘কবরের পাশে কোরআন তেলাওয়াত করলে কবরে আজাব কম হবে’— বলেছিলেন এক পীর। পীরের এমন নির্দেশনা থেকে ৯৮ বছর ধরে ধরে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলাওয়াত চলছে কবরের পাশে। ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ৭০০ বছরের পুরোনো নওয়াব শাহি জামে মসজিদের সামনে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কবরের।

    মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রয়েছে নওয়াব পরিবারের সবার কবর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ব্যতীত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েও থেমে থাকেনি কোরআন তেলাওয়াত। চারজন হাফেজ পালাক্রমে চালিয়ে যাচ্ছেন এ কার্যক্রম।

    পীরের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন। ১৯২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী।

    মসজিদের একপাশে মিনারের মধ্যে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পরও কবরের পাশেই চলমান রয়েছে কোরআন তেলাওয়াত। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয় না কোরআন তেলাওয়াত।

    মসজিদের পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। ওয়াক্ফকৃত সম্পদের আয় দিয়ে মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদরাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় মসজিদ ও কোরআন তেলাওয়াত দেখতে।

    হাফেজ ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ওস্তাদের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন। গত ৯৮ বছরে এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়নি কোরআন তেলাওয়াত।’

  • সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

  • জনসমক্ষে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    জনসমক্ষে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো আইনে অনুমোদন দেওয়ার পর এটি কার্যকর হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিত এই আইনের আওতায় এমন পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা পুরো মুখ ঢেকে ফেলে বা পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে।

    তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্প-সংক্রান্ত কার্যক্রম কিংবা আবহাওয়ার কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে আইনে ছাড় রাখা হয়েছে। উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন ও উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

    একই সঙ্গে কাউকে তার লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশগত পরিচয়ের কারণে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    আইনটির পক্ষে প্রেসিডেন্ট সেগুরো বলেন, মানুষের পরিচয় ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার মতে, মুখ খোলা রাখা পর্তুগিজ সমাজে পারস্পরিক আস্থা তৈরির অন্যতম ভিত্তি।

    আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    নতুন আইনটি নিয়ে পর্তুগালে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ডানপন্থী চেগা পার্টির উত্থাপিত প্রস্তাবটি জুলাইয়ে পার্লামেন্টে অনুমোদন পায়। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলো এর পক্ষে থাকলেও বামপন্থী দলগুলো প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।

    বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠনও আইনটির সমালোচনা করেছে। পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশন, পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিল এবং পর্তুগিজ অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন লইয়ার্সসহ কয়েকটি সংগঠন এর আইনি ও সাংবিধানিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    মধ্য-বামপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভ্রে ও পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, আইনটি ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্যমূলক মনোভাব বাড়াতে পারে। সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিযোগ, প্রস্তাবটির ব্যাখ্যায় ইসলামোফোবিয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টিও বলেছে, নারীর অধিকার বা নিরাপত্তার সঙ্গে এই আইনের সরাসরি সম্পর্ক নেই; বরং এটি ভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    লিভ্রের পক্ষ থেকেও ডানপন্থীদের অবস্থানের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, নারীর অধিকার রক্ষার যুক্তি ব্যবহার করে পর্তুগালে কথিত ‘ইসলামি আগ্রাসন’ নিয়ে অযৌক্তিক আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

    পর্তুগালের এই পদক্ষেপ ইউরোপের কয়েকটি দেশে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক সীমিত বা নিষিদ্ধ করার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসেও বিভিন্ন ধরনের মুখঢাকা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

  • বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

    বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর

    দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সম্ভব নয়। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা কার্যকর করা ততটাই কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সরাসরি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার একটি বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়; এর জন্য সময় প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। এর আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকার পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে কাজ করছে।

    কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো ছাড়া সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই।

    একইসঙ্গে ব্যাংকঋণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। এ জন্য দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন বন্ড চালুর বিষয়ও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে প্রাথমিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    সেমিনারে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারাও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়, উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    গাংনী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা

    শনিবার (২২ আগস্ট) গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু এবং সাংবাদিক ফারুক আহমেদ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, গাংনীতে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনও আনোয়ার হোসেন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও জনবান্ধব আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। বদলিজনিত কারণে তিনি গাংনী ছাড়লেও তাঁর কর্মময় সময়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

    বক্তারা তাঁর নতুন কর্মস্থলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইউএনও আনোয়ার হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এ সময় গাংনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শনিবার সকাল সোয়া ১০টার পর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

    এসময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

    শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন করেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

  • ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    ১০১ রানের লিডে প্রথম দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

    মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন অজি পেসার। তবে তার আগুনে বোলিংয়ের দারুণ জবাব দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

    ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরে ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন শরিফুল। দিন শেষে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুলও।

    ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১০১ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।

    শরিফুলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস একসময় ১৪৮ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয়। নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই মিচেল স্টার্ককে আউট করে নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে নেন শরিফুল। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি।

    এর আগে দ্বিতীয় সেশনেও দুই দলের মোট সাতটি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর চা-বিরতির আগেই অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে। শরিফুলের জোড়া আঘাতে মাত্র ৪১ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে পালটা চাপে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটিও ভাঙেন শরিফুল।

    এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই ভালো বোলিং করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ। জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার করেন মাত্র ৮ রান।

    এরপর অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলেই ট্র্যাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র ২২ রান করে ফেরেন অজি ওপেনার। এরপর চার বলের ব্যবধানে মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করেন শরিফুল। ৯ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন লাবুশেন। ফলে ৪১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

    এর আগে স্টার্কের তাণ্ডবে মাত্র ৬৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। এরপর বল হাতেও শুরু থেকেই কার্যকর ছিলেন তিনি।

    শেষ সেশনে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে স্মিথ ও গ্রিনের জুটি ভাঙেন শরিফুল। স্মিথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে আউট দিলে রিভিউ নেন স্মিথ, কিন্তু আম্পায়ার্স কল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফিরতে হয় অজি ব্যাটারকে। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

    এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ২৭ রান যোগ হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে আউট হন ক্যারি।

    এরপর দ্রুত ব্যাটিং ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় তারা। শরিফুলের পরের ওভারে বেউ ওয়েবস্টার গোল্ডেন ডাকে ফেরেন। এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল। নতুন ব্যাটার কামিন্সের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১ রান।

    সবশেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ককেও নিজের ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে দুর্দান্ত এক বোলিং পারফরম্যান্সের পূর্ণতা দেন শরিফুল ইসলাম।

  • কাজের গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

    কাজের গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সেদিনই তাকে এ দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে গত ৬ মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। নতুন নতুন উইং চালু করেছি। অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে যেগুলো আগে ছিল না।

    তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং আইন প্রণয়ন শাখা-২-এর সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত (২১ আগস্ট, শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো।

    বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

    একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

  • দ্বীপ জেলা ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

    দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
    আজ শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
    সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটটি বেছে নেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক ও তিনটি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। দ্রুত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হবে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



  • ১১ মাসে যা করেছি,  ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    ১১ মাসে যা করেছি, ১০৫ বছরেও কেউ পারেনি: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এমন কাজ করা হয়েছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    আজ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি কিভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়, শিক্ষার্থীরাই বলে আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে ১০৫ বছরের সে কাজ করতে পারেনি। ’

    ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একাধিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ডাকসুর ভিপি বলেন, ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।

    ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা গবেষণা করা চিন্তা করা প্রশ্ন করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করা। এজন্য সেই একাডেমিক পরিবেশ আমরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছি।

    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই দেশে আমরা গত ৫৫ বছর জুড়ে আমাদের যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল আমাদের তরুণ প্রজন্মদেরকে নিয়ে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা দিতে পারেনি। সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান। এতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    প্র্রাথমিকের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস, জুতা ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমানো এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ লাখের বেশি স্কুল ড্রেস তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউনিফর্মের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফ প্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের সুবিধার জন্য ফিতাবিহীন সাদা জুতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব স্কুল ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি উদ্যোগে স্কুল ড্রেস তৈরিতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল মিলও সহযোগিতা করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে ১ লাখ শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও এ উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ে কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ১৬ আগস্ট করা হয়। এরপর আবারও সময় পরিবর্তন করে চলতি মাসের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কমতে পারে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের পোশাক ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক অবস্থার পার্থক্যও কিছুটা কম দৃশ্যমান হবে। তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পোশাক বা ব্যাগের পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি পর্যায়ে বড় পরিসরে পোশাক বিতরণে কাপড়ের মান, সঠিক মাপ, সময়মতো সরবরাহ এবং অনিয়মের মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)’-এর আওতায় স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তবে ড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা সরবরাহে আলাদাভাবে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনোয়ারা ইসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো দাম ঠিক করিনি। প্রকল্প শুরু হলে বুঝতে পারব ড্রেসপ্রতি কত টাকা ব্যয় হয়।প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে।

    প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ১ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর ড্রেস, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য কমন রুম, স্বাস্থ্য উপকরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্যও বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণের জন্য নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বুধবার বিভাগীয় উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো এক জরুরি অফিস আদেশে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    কলেরা প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় শনিবার, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ডোজ করে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে।

    হঠাৎ করে কেন এই উদ্যোগ?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেরার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ামূলকভাবে নয়, বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েক বছর ধরে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কলেরার টিকা দেওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক টিকা জোট গ্যাভির। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, টিকার চাহিদা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা কারণে কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালে এটি অনুমোদন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্যাভি এসব টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ায় টিকা কেনার জন্য সরকারের আলাদা অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় টিকা দেওয়া হচ্ছে?
    প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে টিকাদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সিগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায়ও কর্মসূচি চলবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪৪টি উপজেলা ও থানায় কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে নির্ধারণ করা হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা?
    টিকাদানের এলাকা অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কলেরার প্রকোপ, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপ্রবণতা, আগের টিকাদানের ইতিহাস এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বা PAMIs বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধের জন্য মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    কারা এই টিকা পাবেন?
    কলেরার টিকা এক বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না। টিকাটি মুখে খেতে হয় এবং কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেউ যদি শুধু একটি ডোজ নেন, তাহলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না এবং টিকার সুরক্ষা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী নাও হতে পারে।

    কতদিন সুরক্ষা দেবে?
    দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে টিকা নেওয়ার পরও নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ শুধু টিকা দিয়ে কলেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য টিকার মতো কলেরার টিকা গ্রহণের পরও সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি ভাব বা কখনও কখনও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে এটিকে তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত টিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০২২ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবের সময় এবং এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই ধরনের টিকা ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    কলেরার রোগীর তুলনায় এত মানুষকে টিকা দেওয়া কেন?
    এ নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরার রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরে কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবারও আক্রান্তের সংখ্যাবাড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না আসা অনেক রোগী হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং ওরস্যালাইনের ব্যবহারের কারণে কলেরার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত সুফল পাওয়া যাবে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, টিকা দেওয়ার পর এর ফলাফল বিশ্লেষণ করেই বোঝা যাবে কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।শুধু টিকা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও জরুরি

    কলেরা নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদানের ওপর নির্ভর করছে না সরকার। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্যানিটেশন উন্নত করা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৈশ্বিক রোডম্যাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশে জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (NCCP) তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে এবারের টিকাদান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—কলেরা হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আগেই সুরক্ষা দেওয়া।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

    জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সমাধান আসবে ধীরগতিতে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতির বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। তাই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।’

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

  • শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন নতুন চার সদস্য। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।

    শপথ নেওয়া চারজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪ জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজে’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়া কারাবন্দী ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি। পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন। কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল।

    দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত।’

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পান নি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল – এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল।

    চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি। এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া। ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনু্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি। ।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, ‘এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায় নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুলের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন’।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই। কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন’।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম মির্জা ফখরুল।

    তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী। মির্জা ফখরুলের বাবা আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি চাকরি করেন একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারু। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দি

    য়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র। ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    শপথ নিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন ২ জন প্রতিমন্ত্রী হলেন, শামীম কায়সার লিংক। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

  • রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, ওই দিনই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় আগেই নিশ্চিত ছিল। তবু প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় তফসিল অনুযায়ী গতকাল ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট ও এগারো দলীয় প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। সরকারি ও বিরোধী দলের ৬ জন এমপি ভোট দানে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল রাষ্ট্রপতি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে।

  • সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

    সাত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

    গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গণমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি নিজেদের অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে এ তহবিল গঠনে সম্মত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তার লক্ষ্যে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন উদ্যোগের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অর্থায়নে এ প্যাকেজ গঠন করা হয়েছে।

    এ অর্থায়নের মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি, রফতানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ১০ হাজার কোটি টাকা আর দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র তৈরিতে ৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও ভূমিকা রাখবে এ স্কিম। স্কিমের আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ ও পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ নেয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শস্য ও ফসল উৎপাদনের জন্য একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে এ সীমা ২০ লাখ টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লী ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়ার সুযোগ থাকছে। এছাড়া ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে এসব কৃষক কোনো জামানত ছাড়াই এককভাবে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এ ঋণের বিপরীতে শুধু উৎপাদিত শস্য ও ফসল দায়বদ্ধকরণ হিসেবে থাকবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ তহবিলটির গুরুত্ব ও বহুমুখী ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’

  • শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে

    শপথ নিতে যাওয়া ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কে কোন মন্ত্রণালয়ে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই বঙ্গভবনে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    শপথ নিতে যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

    নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- ড. আবদুল মঈন খান (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী), ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (তথ্যমন্ত্রী), সাচিং প্রু জেরী (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী)।

    হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী)।

    শপথ গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হবে।

    বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০’র বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথের পর একই দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

    রয়টার্সের প্রতিবেদন

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি এ তথ্য জানান।

    এর আগে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করবেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়াদিল্লিতে এটি হতে পারে তার প্রথম সফর। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে।

    রয়টার্সকে এ এ এম সালেহ বলেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেখ হাসিনা এবং ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের ব্যাপারে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি তারা পর্যালোচনা করছে।

    এদিকে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে তারেক রহমানের সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দেয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।

    এর কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

    ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তার সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরে গত বছরের নভেম্বরে একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি একটি নতুন মাইলফলক হলেও অর্থনীতিবিদেরা এটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণ নেওয়ার খরচেও।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু কম। এক দশকের মধ্যে তা দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির ঋণ এখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার ডলার করে বাড়ছে। দিনে বাড়ছে প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১৯৮১ সালে প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তখন বিষয়টিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। অর্থনীতিবিদ মায়া ম্যাকগিনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বছরে এসে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই সেই সময়ের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশটি।

    কেন এত ঋণ
    যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ব্যবধান রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে কর কমানোর ফলে সরকারের রাজস্ব কমেছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকট মোকাবিলায়ও বিপুল পরিমাণ ঋণ করতে হয়েছে সরকারকে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ সুদের হার। সুদের হার বেশি থাকায় সরকারের পুরোনো ও নতুন ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদ এরিক সোয়ানসনের মতে, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর পেছনে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার বিষয়টিও ভূমিকা রাখছে।

    সুদ পরিশোধেই বড় চাপ
    সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের হিসাবে, সরকারের মোট কর আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই এখন ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। এই ব্যয় প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়েও বেশি।

    ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে নতুন ঋণ নিতে আরও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ড কিনে অর্থ ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি মুনাফা চাইছেন।

    এর আরেকটি কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল বিনিয়োগ। এসব কোম্পানিও বড় অঙ্কের অর্থ ধার করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের অর্থের জন্য সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

    এখনই সংকট নয়, তবে সতর্কসংকেত
    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ দেশটির অর্থনীতির আকারের প্রায় ১২৬ শতাংশ। তবে জাপান ও ইতালির মতো কয়েকটি উন্নত দেশের তুলনায় এই অনুপাত এখনো কম। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হওয়ায় দেশটি অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি সময় ধরে বড় ঋণের বোঝা বহন করতে পারে।

    তবে অর্থনীতিবিদেরা পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়কও মনে করছেন না। এল-ইরিয়ানের ভাষায়, এটি এখনো ‘লাল সংকেত’ নয়, বরং ‘হলুদ সংকেত’। অর্থাৎ পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

    অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, একপর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তখন বন্ড বিক্রি বাড়তে পারে এবং আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

    প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর
    সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ার প্রভাব শুধু সরকারি হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেশি পড়বে।

    এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুদে ঋণ নিলে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। ফলে ঋণের বোঝার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও পড়তে পারে।

    সামনে কী করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে এখনো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ সামলানো তুলনামূলক সহজ হবে।

    কিন্তু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট না হলে সরকারকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর মধ্যে করব্যবস্থায় সংস্কার, সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা কৃচ্ছ্রসাধনের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

    সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরকারি ঋণের কিছু বন্ড পুনরায় কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে সাময়িকভাবে বন্ডের চাহিদা বাড়ে এবং ঋণ নেওয়ার খরচ কমে। কিন্তু এক দিন পরই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ আবার বেড়ে যায়।

  • রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবসহ তিন সচিব পদে পরিবর্তন

    সরকারের তিন সচিব পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১১ দিন আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব হিসেবে বদলি করা রফিকুল আই মোহাম্মদকে আবারও বদলি করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তাকে এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাৎ শওকত রশীদ চৌধুরীকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে। আর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে ১০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন করেছিল সরকার। চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োজিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছিল। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়।

    অন্যদিকে সেদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধে এজেন্ট মাস্টারসহ গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি চারতলা ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। দিনব্যাপী অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াচুব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম পাওয়া গেছে ও আটক করেছে তারা হলেন হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুল এর ছেলে মোঃ রাকিব (২৪) আঃ রহমান এর ছেলে মোঃ আলভী (২৩),
    মোঃ মোস্তাফিজুর এর ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দার এর ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (৩০)

    মোঃ আল আমিন এর ছেলে মোঃ নাফি (১৮) ও কোটমোড় এলাকার আলী কদর এর ছেলে মোঃ রিফাত (১৯),এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪) তাদের সবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

    স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে ’-এর আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

    তাদের দাবি, সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    তবে দুই যুবককে পরিকল্পিত ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে , মাদক কেনাবেচা ও মাদক সেবনের অভিযোগ এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় পুলিশি তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।