জাতীয় সংবাদ

  • মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    মক্কা চুক্তি ও ভারত প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে- আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।

    সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কিনা, সেটি মূল বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে: বিএফইউজে মহাসচিব

    সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে: বিএফইউজে মহাসচিব

    স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা করতে না পারলে দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে। পাশাপাশি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

    শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে সভায় কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে চ্যালেঞ্জ শেষ হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তাসহ নানা কারণে সাংবাদিকতার পরিবেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবও বড় সমস্যা।

    তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে শুধু নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদাও নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড মেনে বেতন দেয় না। অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বেতন মালিকের ড্রাইভারের বেতনের চেয়েও কম। এসব বন্ধ করতে হবে। সরকারকে ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। এটি করা গেলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব হবে।

    বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতা নিছক চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, সব ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূর করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গণমাধ্যম উচ্চকণ্ঠ না থাকলে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যায় না।

    সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে একমাত্র স্বাধীন সাংবাদিকতাই সত্য কথা বলে। অন্যরা অনেক সময় সত্য আড়াল করে সরকারের প্রশংসা করবে। আমলাতন্ত্র, দলীয় লোকজন বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নানা কারণে সবসময় সত্য কথা নাও বলতে পারেন। স্বাধীন সাংবাদিকতাই এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা সরকারকে সত্য কথা বলতে পারে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও সরকারের রয়েছে।

    কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র কলম। একজন সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। সাংবাদিকের ওপর আঘাত মানে সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করা।

    সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এসএম আমিনুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহসভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর।

  • রাতে খুলতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

    রাতে খুলতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

    কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছায় উজান ও ভাটি অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণে আজ শনিবার রাত ১০টা থেকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

    কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) রেকর্ড করা হয়েছে। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হ্রদের পানির সমতল বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার রাত ১০টা থেকে গেটগুলো ৬ ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

    কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ে খোলার সময় এবং পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

  • চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে: শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলাস্থ জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবগঠিত বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান। এসময় নেতৃত্বকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। চলমান অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা। এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ই-রিকশা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রয়োজন ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুপরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

  • এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এআইয়ের ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে।

    আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি আমার মনে হয় খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে।

    ব্রিটেনের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি, বিলাতে একটি মামলায় আরেকটি মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেই রেফারেন্স জজ সাহেব গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর তিন-চারটি আদালতে সেই রায় অনুসরণ করা হয়। কিছুদিন পর গবেষণা করে দেখা গেল, এ ধরনের কোনো মামলারই অস্তিত্ব নেই। তখন বিচারক খুব বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু ততক্ষণে রায় দেওয়া হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

    চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    তিনি বলেন, কারণ রায় লিখতে হয় ৩টি জিনিস দিয়ে- আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে আপনার মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।

    ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’

    এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবেক একজন মানুষের নিজের থেকে আসে। এটা তার স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

  • কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কিছু দুষ্কৃতকারী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এরকম সারের কৃত্রিম সংকট যারা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে চাষাবাদে তুলনামূলক কম পরিমাণে সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর এসব কারণে এ অঞ্চলে পেঁয়াজ ও পাট চাষাবাদ খুব ভালো হয়। আগামী দিনে পেঁয়াজ এবং পাট বীজ উৎপাদন করে দেশকে স্বাবলম্বী করার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম।

    মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাটচাষি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

  • বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইব্রাহিম শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ইব্রাহিম উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়ারী গ্রামের মাঠের মধ্যে থাকা একটি সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সেচপাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘সকালে ভাতিজি তাল কুড়াতে গিয়ে মাঠের ধানখেতের মধ্যে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিমের হাতে বিদ্যুতের তার পেঁচানো ছিল এবং কোমরে একটি কাটিং প্লাস গোঁজা ছিল।’

    তার দাবি, সেচপাম্পের মোটর ও বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

    বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

    মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • আশপাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    আশপাশের দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

    তরুণদের মাদক থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করার জন্য আমরা (সরকার) শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাদের দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য আশপাশের দেশ থেকে মাদকটাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের ভাবমূর্তি, অর্জন ও মেধাকে ধ্বংস করে দিতে চক্রান্তে লিপ্ত। এজন্য আমরা চাই তরুণ সমাজকে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষাকে যদি অগ্রাধিকার দিতে পারি তাহলে সমাজের অবক্ষয় থেকে মুক্তি হতে পারবো।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সদর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় এসএসসিসহ সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর সোসাইটির ব্যানারে শহরের টাউন হল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

    শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, অভাব অনটনে আমরা এই বাংলাদেশ পরিচালনা করছি। একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পর আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা-স্বাস্থ্য এদিকে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছেন। একটি নকলমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম যেন চলে, সেটা আমাদের চ্যালেঞ্জের অংশ।

    লক্ষ্মীপুর সোসাইটির সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হানিফ মুরাদ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউছুফ প্রমুখ।

  • গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

    সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায়; কী অবস্থায় আছে, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল —এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলব, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

    সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব—আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

    শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন, যাতে আমরা শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে, সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

    অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    কালীগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার দায় স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার এক দিন পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন নিহতের মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

    মোজাম্মেল উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মরহুম নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মজিদের মেয়ে শাহানারার সাথে ১৭ বছর আগে বিয়ে হয় মোজাম্মেলের। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ও শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতেন।

    যৌতুকের টাকা না পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে শ্বশুর মজিদের মাথায় আঘাত করে মোজাম্মেল। এতে মজিদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো: লিটন মোড়ল মোজাম্মেলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। শনিবার সকালে মোজাম্মেল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাকির হোসেন মোজাম্মেলের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাতেই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    উল্লেখ, শুক্রবার কলা নিয়ে উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে যাওয়ার সময় ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে শ্বশুর মজিদকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল। নিহত মজিদ জামালপুর এলাকার মধ্যপাড়ার মরহুম আলকু মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন।

  • ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।

    বিশ্লেষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজ হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে। টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।

    তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।

    জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

    পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি যুগান্তরকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে-এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

  • মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা স্পিচ বা কথা বলা। আর কথা বলার ক্ষমতা না থাকলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ ও অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের রোগীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আধুনিক ও সমন্বিত বা সামগ্রিক পদ্ধতিতে রোগীর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শিখে তা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহারের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এ চিকিৎসা সেবার ফলে অটিজম, অপ্রাক্সিয়া, অস্পষ্ট কথা বলা, তোতলামি এবং বিভিন্ন ধরনের বাক ও যোগাযোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে সিআরসি সম্মেলন কক্ষে সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে আসা দুই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। এতে দেশের ৫৮ জন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) রেজিস্ট্রার ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি পুনর্বাসনসেবার মান উন্নয়নে বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে দেশের পেশাজীবীদের যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কাউন্সিলে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন স্পিচ থেরাপি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

    হারুন অর রশিদ বলেন, পুনর্বাসন পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে লাইসেন্সের আগে সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষা ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন ও

    স্পিচ থেরাপি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস কিংবা বাংলাদেশ সব দেশের মানুষ একই বিশ্বের অংশ। তাই জ্ঞান, প্রযুক্তি, মতামত ও প্রশিক্ষণ বিনিময় চলমান রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদেরও বাংলাদেশে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বলেন, ২০১৭ সালে এসএসএলটি প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় নয় বছরে সংগঠনটির পেশাজীবীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। সংসদে প্রণীত আইনের অধীনে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের আওতায় ১২টি পেশাগত শ্রেণি ও ২০ ধরনের পুনর্বাসন পেশাজীবী রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও সেবার মান বিশ্বমানের পর্যায়ে নেওয়া কাউন্সিলের অন্যতম লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তা আরও কার্যকর হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি রোগীরা থাকবেন এবং প্রশিক্ষণার্থীরা সরাসরি রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

    অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ভাষা ও কথা বলার থেরাপি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক অ্যান-ক্যাথরিন ডেমেরেভিচ বলেন, মোটর স্পিচ ডিজঅর্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের ক্লিনিক্যাল যুক্তিবোধ ও শেখার আগ্রহ প্রশংসনীয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে এসএসএলটির পেশাদারিত্ব ও পেশাটির উন্নয়নে সংগঠনটির প্রতিশ্রুতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নৈতিক ও প্রমাণভিত্তিক চর্চা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ও স্পষ্ট পেশাগত মানদণ্ড প্রয়োজন। বিআরসির পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এসএসএলটি পেশাটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    নেদারল্যান্ডস থেকে আসা প্রশিক্ষক ক্যারেন বারবারা ব্রিঙ্কম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের একাডেমিক ভিত্তি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক প্রম্পট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের বিদ্যমান জ্ঞানের সঙ্গে নতুন ধারণা ও কৌশলের সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও কার্যকর জ্ঞান। বিআরসি ও এসএসএলটি একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে নৈতিক পেশাগত চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ফলাফলও উন্নত করা সম্ভব।

    এসএসএলটির সভাপতি ফিদা আল শামস বলেন, প্রত্যেক পেশার একটি মানদণ্ড থাকা উচিত। কিন্তু রোগীদেরদের অনেকের অভিযোগ, তারা প্রকৃত থেরাপিস্টদের কাছ থেকে মানসম্মত সেবা পাননা এবং এবিষয়ে অনেকের প্রশিক্ষণ নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, অথচ নিবন্ধন পাইনি। তিনি দ্রুত সরকারের কাছে নিবন্ধনের দেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মশালায় অংশ নেওয়া কনসালট্যান্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান বলেন, মোটর-সেন্সরি ও ট্যাকটাইল ইনপুটের মাধ্যমে স্পিচকে বোঝা ও সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রম্পট একটি কার্যকর পদ্ধতি। দেশে এমন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ।

    আজ শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?

    তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ফুলবাড়ী, আনন্দবাস, নাজিরাকোনা ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দ মালামালের দুই কেজি ভারতীয় গাজা, ৭০ বোতল ভারতীয় মদ, ছয় হাজার পিস ভারতীয় সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, পাঁচ হাজার ১০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৬৯৬ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট এবং ৫৬ পিস ভারতীয় কসমেটিকস। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩৯ লাখ দুই হাজার ৭৬০ টাকা।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান বলেন, ‘দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সাথে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। ’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত কমল

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত কমল

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় ২২ ক্যারেটসহ সব ধরনের স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রৌপ্যের দামও।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৬ টাকা। আগের দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ৭ হাজার ১০৯ টাকা।

    শনিবার সকালে বাজুসের ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’-এর সভায় স্বর্ণ ও রৌপ্যের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। তেজাবি স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম কমার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন দামে স্বর্ণ

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৬ হাজার ৯২০ টাকা।

    এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৮২০ টাকা।

    ভরি হিসাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭৩ টাকা।

    কমেছে রৌপ্যের দামও

    স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্য ৪৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রৌপ্য ২৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যের দাম ছিল ৪৭০ টাকা। ফলে এবার প্রতি গ্রামে দাম কমেছে ১৫ টাকা।

    এর আগে কত ছিল স্বর্ণের দাম?

    সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ২১ হাজার ২৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সে হিসাবে প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ২০ হাজার ২৮৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১৭ হাজার ৪২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১৪ হাজার ২২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

    এর আগে ২২ আগস্টও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে কয়েক দফা দাম বাড়া-কমার পর এবার স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হলো।

    বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে মজুরি যুক্ত হবে।

    পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এই মূল্য কার্যকর থাকবে।

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

    অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ার গ্যাসের শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

    তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়া হলে সেগুলোকে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    অপরাধ দমনে পুলিশের জবাবদিহির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

  • গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে আজ চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।

    এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত দৃষ্টিশক্তিহীন যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমসহ অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

    নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং ‘বিএনপি আমার পরিবার’-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

    কোরআনের বিধান কায়েমে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে

    জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পবিত্র কোরআন হচ্ছে আমাদের এক জীবন্ত মু‘জিজা। আমরা যদি এই কোরআনকে নিজেদের বুকে ধারণ ও তার বিধানে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারি তবেই আমরা স্বার্থক। ‍কোরআনের বিধান কায়েমের জন্য ওলামা-মাশায়েখদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

    ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিপ্লব অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এদেশের আলেম সমাজ। ওলামা-মাশায়েখ শুধু মসজিদের মিনারে নয় আগামীতে সংসদেও নেতৃত্ব দেবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।তিনি শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের মতিঝিল জোন আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ ও আইম্মায়ে মাসাজিদদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, কোরআনের বিধানকে জারি করতে প্রয়োজনীয় ত্যাগের জন্য আমরা যদি প্রস্তুত থাকতে পারি, তাহলে সামানে কেন কোনো বাধাবিপত্তি কাজে লাগবে না। সব বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরো বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্দেশ্য হতে হবে মহানবী (সা.) আদর্শ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা। মহানবী (সা.) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় নিঃস্বার্থ ভূমিকা রাখতে তিনি আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। বিদ্যমান প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য সীরাতুন্নবী (সা.) আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানুষের তৈরি মতবাদে হাজার বার বিপ্লব হলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সিস্টেমের পরিবর্তন করতে হবে।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের ওলামা বিভাগের মতিঝিল জোন সভাপতি মাওলানা আ ন ম হেলাল উদ্দিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মুফতি মহিউদ্দিন, পল্টন জোন ওলামা বিভাগের সভাপতি ড. মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ওলামা-মাখায়েখ উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় অসন্তোষ

    নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় অসন্তোষ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসাইনের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের নির্ধারিত মতবিনিময় সভা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ইউএনও উপস্থিত না থাকায় অপেক্ষার পর সাংবাদিকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ইউএনও সেখানে উপস্থিত হন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টায় মতবিনিময় সভার সময় নির্ধারণ করা হয়। সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সভাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ইউএনও না আসায় তারা সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তারা জানতে পারেন, একই কক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টায় কৃষি বিভাগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে ৩টা ২৪ মিনিটের দিকে ইউএনও সভাকক্ষে উপস্থিত হন।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আপেল বলেন, নির্ধারিত সময়ে ইউএনও উপস্থিত না হওয়ায় সাংবাদিকরা সভা বর্জন করেন।

    তবে ইউএনও শামীম হোসাইন বলেন, “তারা সভা বর্জন করেছেন—এটা আপনাদের কাছ থেকেই জানলাম। আমার জানামতে, তারা অন্য একদিন সময় চেয়েছেন।”

  • নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সুলতান মঞ্চ চত্বরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪০০ শিশু উৎসবে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের পতাকাসহ ফুল-ফল, প্রকৃতি, গ্রামীণ পরিবেশ, সুলতানের প্রতিকৃতি, নৌকাবাইচ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় শিশুদের রঙতুলিতে উঠে আসে। এছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সৌখিন আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুক্রবার সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন-অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদ রহমান, নাজমুল হাসান লিজাসহ সুলতানপ্রেমীরা। দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

    বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ সুলতানকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

  • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

  • মানিকগঞ্জে বাসমোটরসাইকেলর সংঘর্ষে নিহত ১

    মানিকগঞ্জে বাসমোটরসাইকেলর সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো: জুবায়ের (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী মো: ইসরাফিল (১৭) আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঘিওর উপজেলার পুখরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুবায়ের মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা গ্রামের বাসিন্দা। আহত ইসরাফিল টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ষাটরাগান্দী গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের ও ইসরাফিল মোটরসাইকেল করে শিবালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুরে পুখরিয়া এলাকায় পৌঁছালে পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহনের একটি বাসের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুই আরোহী সড়কে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক জুবায়েরের মৃত্যু হয়। ইসরাফিল আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা আহত ইসরাফিলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জে পাঠান।

    বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত শিশুদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

    ওসি একরামুল হোসাইন জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দেবীনগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কিছু শিশু। গোসলের একপর্যায়ে পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশী চালিয়ে একে এক পাঁচ শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে।

    তিনি জানান, মৃত পাঁচ শিশুই চর চাকলা এলাকার বাসিন্দা।

    তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

  • নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলে দেশ এগিয়ে যাবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারের মেয়েরা যদি শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়, তাহলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই আমরা মা ও মেয়েদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এসব নারী ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের যদি আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আগামী দিনে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই ভালো থাকবে। মনের মধ্যে ক্রোধ না রেখে, সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তি মূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন স্তরে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে যেসব অনুদান দিচ্ছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনুদানের অর্থ দিয়ে সবজি চাষ, বাগান, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে, ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত ও চিকিৎসার খরচ বহন করা সহজ হবে। আমরা দেশের সকল পরিবারের মেয়েদের এসব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে সরকারি সহযোগিতায় প্রত্যেক পরিবারের স্বচ্ছলতা বাড়ে। একটি নারীকে স্বাবলম্বী করা মানে, পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ তৈরি ও অগ্রগামী করার বাস্তবতা স্থাপন হয়।

    ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, মন্ত্রীর পিএস ডা. জাবেদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাছুদ রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল বিতরণ করেন। এছাড়া ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, দুস্থ ১০৬ জন ব্যক্তি ও আদিবাসী ৬৪ জনসহ ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    রাজধানীর আমিনবাজারে চীনা বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ২৫ টাকায়। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কিনছে।

    দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নতুন নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেওয়া এ ধরনের প্রকল্পের কোনোটিই উৎপাদনে যেতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাধারণত ১২-১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ২২-২৪ টাকার মতো। আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রকল্পভেদে ভিন্ন হলেও ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রকল্পে তা ইউনিটপ্রতি ৬-৮ রুপির মধ্যে; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮-১১ টাকা। চীনে প্রতি ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুৎ সরকার কেনে (বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ) শূন্য দশমিক ৬৫ ইউয়ানে, যা ১১-১২ টাকা।

    এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ট্যারিফ দিয়ে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা বাদ পড়ে যায়। এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূল বিষয়। বিদ্যুৎ বাইপ্রডাক্ট। তাই দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলে তা সহনীয়।

    আমিনবাজারে বড় বিনিয়োগ
    আমিনবাজার প্রকল্পে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগ করবে। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রেখে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রকল্পের আগের হিসাব অনুযায়ী ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ না থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে দীর্ঘ মেয়াদে।
    কেন্দ্রটি নির্মাণে আওয়ামী লীগ সরকার দরপত্র আহ্বান করে। তাতে ১৭টি কোম্পানি অংশ নেয়, কাজ পায় চীনা কোম্পানি সিএমইসি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি হয়েছিল। বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল ২০২৫ সালে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ২১ সেন্ট, যা তখনকার মুদ্রার দামে ২১.২৯৫ টাকা পড়ে। এখন তা ২৫ টাকা ।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সিএমইসি বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টকে একটি কোম্পানি নিবন্ধনও করেছে, এর নাম ডব্লিউটিই পাওয়ার প্লান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেড।

    এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

    সংগঠনগুলোর মতে, কেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় চললে ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ২৬ টাকা ৭৯ পয়সা। সক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমে এলে তা ৪৭ টাকা এবং ২০ শতাংশে নামলে ৭৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কম সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৫৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার বা ৭০০ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জের ঝুঁকিও রয়েছে।
    এ ছাড়া ডিএনসিসিকে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ঘাটতি হলে প্রতি টন বর্জ্যের জন্য ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এতে বর্জ্য কমানোর বদলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদনের চাপ তৈরি হতে পারে।

    পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে ডাইঅক্সিন, ফিউরান, ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম কণার মতো দূষিত পদার্থ তৈরি হতে পারে। তাদের হিসাবে, আমিনবাজার প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে। তাদের প্রস্তাব, মিশ্র বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতের পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় ও অর্থায়ন চুক্তি হওয়ার কথা। তিনি স্বীকার করেন, ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দাম বেশি; তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেবে এবং সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না।

    মাতুয়াইলে উৎপাদন হতে পারে ৪০-৫০ মেগাওয়াট
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ চলছে। চীনের পাওয়ার চায়না এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এখানে ৪০-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ গ্রুপ মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পে কাজ করছে।

    চুক্তি করেও আটকে নারায়ণগঞ্জ
    নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে ৬ মেগাওয়াটের বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পে পিডিবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও চীনের ইউঅ্যান্ডডি এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির মধ্যে চুক্তি হয় ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর।

    প্রতিদিন ৬০০ টন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। সরকার ইউনিটপ্রতি প্রায় ২০ টাকা ৯১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে। ৪৫৫ দিনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। জালকুড়ির নির্ধারিত স্থান এখনও মূলত ময়লার ভাগাড় হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থায়ন ও বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ধীরগতিকে প্রকল্প আটকে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতি ইউনিটে খরচ ২১ টাকা
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরেও ১১ মেগাওয়াটের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পের দরপ্রস্তাব ও ট্যারিফ অনুমোদন করে।
    ২৫ বছর মেয়াদে ইউনিটপ্রতি ২১ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জুন।

    চট্টগ্রামে একাধিক প্রস্তাব, বাস্তবায়ন নেই
    চট্টগ্রামে গত এক দশকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিদিন ১ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১২-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

    জমির সংকট, অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাবকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    খুলনায় ছোট প্রকল্প
    খুলনার শলুয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে প্রতিদিন ৩৭৫ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৫ টন জৈব সার, ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এবং প্রায় ৫ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি, অগ্রগতিও ধীর।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় কতটা বেশি
    বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের কয়েকটি সাম্প্রতিক প্রকল্পে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৯৫ রুপি ট্যারিফ দেখা যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৮-১১ টাকা। চীনের বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ ০.৬৫ ইউয়ান বা প্রায় ১১-১২ টাকা। শ্রীলঙ্কায় নতুন কাঠামোয় পৌর বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ হার প্রায় ৪১ দশমিক ৭২ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ টাকা।

  • আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    আগস্টের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ থেকে ২৬ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট-এই দুই দিনে প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।

      এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৪৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

      ফলে চলতি অর্থবছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    • সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

      সেমিতে উঠলো বাংলাদেশ এইচপি

      আব্দুল গাফফার সাকলাইন সোজা অফ ড্রাইভে মারলেন চার। সাকলাইনের এই চারটা কেবল চারই নয়। ডারউইনে আজ এই চারে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তিনি। নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইককে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) একাদশ।

      ডারউইনে আজ নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ১০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ এইচপি। তাতে করে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল এইপি। ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ হারে এইচপি ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে এখন এইচপি। দুই ও তিনে থাকা অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ও ভিক্টোরিয়া সিএ উভয়েরই পয়েন্ট ৮।

      চার ও পাঁচে থাকা নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইক ও হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমিরও পয়েন্ট ৬। শুধু অ্যাডিলেড ও ভিক্টোরিয়ার ১০ পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু এই দুই দলই ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচ খেলেছে। ৯ দলের মধ্যে সবার নিচে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি। ৫ ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটিতেই হেরেছে তারা। দুই পয়েন্ট নিয়ে আটে অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটাল টেরিটরি। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় ও সাতে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড এ ও নেপাল।

      ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ এইচপি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে। তাতে উইকেটও হারিয়েছে। ৪.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয় এইচপি। আরিফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সোহান ১০ ও ২২ রান করেছেন। তৃতীয় উইকেটে এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও সাব্বির রহমান ৩৪ রানের জুটি গড়েন।

      দশম ওভারের তৃতীয় বলে শামীমকে (১১) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রেলি মার্ক। চতুর্থ উইকেটে এরপর সাব্বির ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর গড়েন ৩৫ রানের জুটি। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে সাব্বিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন টম মেনেজিস। ৩৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করেন সাব্বির।

      সাব্বির ফেরার পর সাময়িক ধস নামে এইচপির ইনিংসে। ৩ উইকেটে ১১০ রান থেকে মুহূর্তেই ১৬.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৩ রানে পরিণত হয় শুক্কুরের দল। শুক্কুর ও এসএম মেহেরব ১৭ ও ৮ রান করে বিদায় নেন। জিততে যখন চার রান বাকি, সেই মুহূর্তে আউট হন সামিউন বাশির রাতুল। ৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৪ রান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে রাতুলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মেনেজিস।

      এমন অবস্থায় ম্যাচ শেষ করতে বাংলাদেশ এইচপির লেগেছে কেবল এক বল। ১৯তম ওভার করতে আসা ওয়েস অ্যাগারকে প্রথম বলে ডট দেন সাকলাইন। দ্বিতীয় বলে চার মেরে এইচপির ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন সাকলাইন। সাব্বিরের ৪৭ রানই বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। মার্ক, মেনেজিস দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

      এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নর্দার্ন টেরিটরি অধিনায়ক হামিশ মার্টিন। আগে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রান করে দলটি। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন জর্ডান সিল্ক। এইচপির মোহাম্মদ রুবেল ৪ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন রাতুল, রাকিবুল হাসান, মেহেরব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

    • মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

      মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

      বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-চিফ হুইপ-হুইপ ও এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মোটা দাগে তিনটি বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

      আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন (বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ) উপলক্ষ্যে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া এবং দলের ভেতর যেন কোনো ধরনের কোন্দল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

      স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে সংসদ-সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনাও দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এবং ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

      একাধিক সংসদ-সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না, সেক্ষেত্রে ত্যাগীদের বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক এমপি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তরুণদের সামনে আনছেন, এটা যেন তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়। যাতে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো ক্ষোভ বা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয়। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

      দ্বিতীয়ত: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে সিরিয়াস বিএনপি।সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন। সরকারের বিরুদ্ধে যেসব প্রচার, অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং এর জবাব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

      তৃতীয়ত: প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, বিদ্যমান সংকট নিয়ে মন্ত্রীরা যে ব্রিফ করেছেন, তার সঠিক বার্তা যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাতে সরকার সম্পর্কে মানুষ ভুল না বোঝে। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সার ও গ্যাস সংকটের বিষয়ে মানুষকে অবহিত করার জন্য দলীয় সংসদ-সদস্যদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

      সভায় জানানো হয়, সারের সংকট কাটাতে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেছেন। সার সরবরাহ ও বিতরণ যাতে যথাযথভাবে হয় সেদিকেও সরকার কড়া নজর রাখছে। এ বিষয়ে কেউ যাতে অপপ্রচার চালাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    • বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন কাদের গনি চৌধুরী

      বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন কাদের গনি চৌধুরী

      বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। তিনি কামাল উদ্দিন সবুজের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

      ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার কাদের গনিকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

      বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০(১) অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

      নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, কাদের গনি চৌধুরীকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

      কাদের গনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব।

      এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন কামাল উদ্দিন সবুজ।

    • বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমলো

      বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমলো

      বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোনার দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

      বর্তমান ডলার বিনিময় হার ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম দাঁড়ায় প্রতি আউন্সে প্রায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।ই হিসাবে প্রতি গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৮ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টাকা। এখানে এক ডলার সমান ১২২.৯৯৬ টাকা ধরা হয়েছে।

      তবে এটি আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের হিসাব। বাংলাদেশের বাজারে সোনার চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সময় কর, শুল্ক, মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাজারদর কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

      এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

      স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, কেভিন ওয়ারশের কঠোর বা ‘হকিশ’ নীতি নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এমনটি হলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আরও কমতে পারে।

      তবে তিনি মনে করেন, এই দরপতনকে অনেক বিনিয়োগকারী ইতিবাচকভাবে দেখবেন।

      কারণ সোনার দামের প্রথম দফার ঊর্ধ্বগতিতে যারা বিনিয়োগের সুযোগ পাননি, তারা আবার বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজতে পারেন।

      বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

      এর এক দিন আগে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ফেডের মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স (PCE) মূল্যসূচক জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে ৩.৭ শতাংশ বেড়েছে।

      ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ শুক্রবারই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

      সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৩.৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

      মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনা সাধারণত একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বেশি থাকলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায় না।

      তবে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও ফিউচারস বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় সোনার দাম এখনো কিছুটা সমর্থন পাচ্ছে।

      ওসিবিসির মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং অবশ্য মনে করেন, সোনার বাজারে কিছুটা দরপতন বা স্থিতিশীলতা আসার ঝুঁকি এখনো রয়েছে।

    • আইন পেশায় সফলতা পেতে অর্থের পেছনে না ছোটার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

      আইন পেশায় সফলতা পেতে অর্থের পেছনে না ছোটার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

      আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

      শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত ফেলিসিটেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

      আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শুধু অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের শর্টকাট অবলম্বন করে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

      তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।’

      নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই পেশাগত জীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

      আইনমন্ত্রী আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।’

      তিনি ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট। ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

      আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব।’

      তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

      নিজের আইনজীবী জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে।’

      নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন পেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করা হবে, তত বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।’

      তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আইন পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

      আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনে এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার কারণে আইনজীবী পেশা মানুষের কাছে আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে। আইনজীবীরা যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন, সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’

      অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এমএ বাকি খলিলি। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।

      অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

    • বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

      বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম

      হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আশা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আজ শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কমেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

      শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৫ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৯.৪৫ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ২২ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৮৩.৩১ ডলারে নেমে আসে।

        সপ্তাহজুড়ে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫.৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪.৩ শতাংশ কমেছে।

        আগের দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শুক্রবার আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল।

        এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্ত দিয়েছে দেশটি।

        ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।

        রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

      • ডুবন্ত শিশুকে উদ্ধারে দুই বোনের নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের

        ডুবন্ত শিশুকে উদ্ধারে দুই বোনের নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        শেরপুরের নকলায় মৃগী নদীতে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার জমজ বোন সামিয়া আক্তার প্রাণে বেঁচে গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

        শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

        মারা যাওয়া লামিয়া আক্তার চরমধুয়া গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে। সে চরমধুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

        নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে লামিয়া ও তার জমজ বোন সামিয়া ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় তারা সিজদা (৮) নামে এক শিশুকে নদীর পানিতে ডুবে যেতে দেখে। তাকে উদ্ধারে দুই বোনই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা সিজদাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও লামিয়া পানিতে ডুবে যায়।

        পরে স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে লামিয়াকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সামিয়া আক্তারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

        নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

      • রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

        রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫টি পাইপগান ও ৪৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি পাইপগানসহ চার কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল উপজেলার তারাবো পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।

        র‌্যাব-১১ জানায়, অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ওই পরিত্যক্ত ভবনে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি পাইপগান, তিন রাউন্ড গুলির খোসা ও চার কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

        র‌্যাব আরো জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলির খোসা ও গাঁজা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

      • চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১

        চৌগাছায় সড়ক দুর্গটনায় নিহত-১

        চৌগাছা প্রতিনিধি
        যশোরের চৌগাছায় গরুবোঝাই আলমসাধু গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে চালক
        নুর ইসলাম (৫০) নামে এক জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার
        চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার
        এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার মনোহরপুর
        গ্রামের মৃত হারেজ আলী মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় আলমসাধু গাড়ী চালক।
        পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নিজের আলমসাধু চালিয়ে পাঁচটি
        গরু নিয়ে ঝিকরগাছা থেকে চৌগাছা পশুহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে
        পলুয়া গ্রামের খলসি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আলমসাধু গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ
        হারিয়ে সড়কের নিচে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনা
        স্থলেই নুর ইসলামের মৃত্যু হয়।
        পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আলমসাধু গাড়ীতে থাকা পাঁচটি গরু
        জীবিত উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কে
        যান চলাচল বন্ধ ছিলো। খবর পেয়ে দশপাখিয়া ফাঁড়ির পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল
        স্বাভাবিক হয়।
        পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরাদেহ উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য
        প্রেরণ করেছেন।
        চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

      • সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে যাচ্ছে: জামায়াত সেক্রেটারি

        সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে যাচ্ছে: জামায়াত সেক্রেটারি

        সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সরকারের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ সবক্ষেত্রে দলীয়করণ করা হচ্ছে। আজ যদি, দেশে কোনো দলীয় সরকার না থাকতো, তাহলে প্রশাসক নিয়োগটা বৈধতা ছিল। কিন্তু এখন দলীয় নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তারা এটা পারে না।

        সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচন করার সুযোগ দিলে, জনগণের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করেন জামায়াত সেক্রেটারি।

        শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ মহিলা মাদরাসা মাঠে উপজেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতিদের সম্মেলন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

        ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা ও বিএনপিসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিলাম। সেখানে উল্লেখ ছিল, নির্বাচিত সরকার ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। আমরা তাদেরকে সে পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছি। সেপ্টেম্বরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। আমরা আশা করবো, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধিবেশন ডেকে সে সনদকে বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায়, আমরা এদেশের জনগণকে নিয়ে সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেব।

        স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, এদেশে সব বিষয়ক একজন মন্ত্রী রয়েছে। তিনি সব মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে ছোট করে তিনি বক্তব্য রাখেন। অথচ, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে তার খেয়াল নেই।

        সরকারের উদ্দেশ্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। সব দিকে শুধু সরকার দলীয় লোকদের মারামারি দেখতে পাচ্ছি। দেশে উন্নয়নের বৈষম্য চলছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের আসনে সুষম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

        ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য তার এলাকায় সব উন্নয়ন করবে, উদ্বোধন করবে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার বিরোধীদলের সংসদ সদস্যের এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদেরকে দারোয়ান হিসেবে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব প্রদান করেছে, যা বেমানান। এতে করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আরও খাটো করা হচ্ছে।

        জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধীদলের ১৩ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাহলে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় আমাদের নারী সংসদ সদস্যদেরকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হোক।

        এর আগে উপজেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য সাহাব উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রহিম, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, মজলিসে শূরা সদস্য ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, আবদুল কাদের, ইউসুফ মেম্বার, পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির কাজী মো. ইয়াছিন, সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন ওপেল, উপজেলা সদর শিবির সভাপতি নাসিম মিয়াজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

      • নিরাপদে আছেন অপু

        নিরাপদে আছেন অপু

        নেপালে আকস্মিক ভূমিধস

        নতুন সিনেমার শুটিং করতে নেপাল গিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বুধবার নেপালে আকস্মিক বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দেড় শতাধিকে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। নেপালে আটকা পড়েছেন অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন।

        সবকিছু ঠিক থাকলে আজ দেশে ফিরবেন।

        অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি, যেখানে আছি নিরাপদে। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে আগামীকাল (আজ) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’ নেপালে নিজের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’

        এর আগে নেপালে শুটিংয়ের সময় নিজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের নজর কেড়েছিলেন অপু। তার পোস্ট করা ছবিতে নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনেত্রীর শুটিংয়ের নানা মুহূর্তও উঠে এসেছে। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরও অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

      • তীব্র গরমে দেশের সোয়া দুই কোটি শিশু ঝুঁকিতে

        তীব্র গরমে দেশের সোয়া দুই কোটি শিশু ঝুঁকিতে

        জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ শিশু প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত বিপজ্জনক তাপজনিত চাপের মুখে পড়ছে।

        এ সংখ্যা দেশের এই বয়সী মোট শিশুর প্রায় ৭৯ শতাংশ।

        ব্রাসেলসের ভ্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

        গবেষণাটি গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত হয়েছে।


        গবেষণায় দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বছরে অন্তত পাঁচ মাস বা ১৫০ দিন মোট বিপজ্জনক তাপজনিত চাপের মুখে পড়া শিশুর সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে এ সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখে, যা এই বয়সী মোট শিশুর ৯১ শতাংশ।

        বাংলাদেশের পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত বড় সংকটের অংশ।

        গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় ১৬ কোটি ৭৪ লাখ শিশু, অর্থাৎ এই বয়সী মোট শিশুর প্রায় ৬২ শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বছরে অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে রয়েছে। এ অঞ্চলে বছরে অন্তত পাঁচ মাস বিপজ্জনক তাপজনিত চাপের মুখে থাকা শিশুর সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে এ সংখ্যা প্রায় আট কোটি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ।

        বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী সর্বোচ্চ ৫৬ কোটি শিশু, অর্থাৎ এই বয়সী মোট শিশুর ৪৩ শতাংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে পড়ছে। অন্যান্য বয়সী মানুষের চেয়ে শিশুদের এ ঝুঁকি বেশি।

        অতিরিক্ত গরমে শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে তাদের শরীর দ্রুত উত্তপ্ত হয়। ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে কম। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে তারা প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তীব্র গরমের কারণে শিশুদের পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোক হতে পারে। বিদ্যমান স্বাস্থ্য সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপ শিশুদের শেখার ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

        গবেষণায় আর্দ্রতাজনিত তাপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছায়ায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবকে তাপজনিত চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘামের মাধ্যমে শরীর কার্যকরভাবে তাপ ছেড়ে দিতে পারে না। ফলে এ ধরনের গরম শরীরের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

        গবেষণার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা গেলেও বাংলাদেশে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৮৭ শতাংশ প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সময়ে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ বছরে অন্তত পাঁচ মাস তাপজনিত চাপের মুখে পড়তে পারে।


        অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে এই বয়সী প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ প্রতিবছর অন্তত এক মাস অতিরিক্ত তাপজনিত চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ শিশু, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ বছরে অন্তত পাঁচ মাস তাপজনিত চাপের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

        গবেষণার প্রধান লেখক ও ব্রাসেলসের ভ্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক রোসা পিয়েত্রোইউস্তি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যেই কোটি কোটি শিশু বিপজ্জনক তাপের মুখে পড়ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। উন্নয়নশীল দেশের শিশুরা এখন এবং ভবিষ্যতে জলবায়ুজনিত চরম পরিস্থিতির তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


        ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফন নেছা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র গরমের প্রভাব শিশুদের মধ্যেও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে রোদে খেলাধুলার পর হঠাৎ বমি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অস্থিরতা ও ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা এখন আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

        তিনি বলেন, শিশুদের বসার ও খেলার জন্য ঠান্ডা জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। দুপুর ও বিকেলের কয়েক ঘণ্টা তাদের বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখা দরকার। শিশুদের হালকা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী পোশাক পরাতে হবে। শিশুদের প্রচুর পানি পান করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

        গবেষণার ফল বলছে, চরম তাপমাত্রা এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। শিশুদের সুরক্ষায় শিশুকেন্দ্রিক তাপ মোকাবিলা পরিকল্পনা, শক্তিশালী তাপজনিত স্বাস্থ্য প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীল জনসেবা এবং তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাপ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দারিদ্র্য, অপর্যাপ্ত আবাসন, শীতল পরিবেশে থাকার সীমিত সুযোগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ শিশুদের তীব্র গরমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আরও কমিয়ে দিতে পারে।

        সূত্র: সমকাল অনলাইন

      • খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী

        খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী

        দেশের সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে মজুত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনো ধরনের নয়ছয়, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

        খাদ্যগুদামকেন্দ্রিক কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে কিংবা অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে এসব অনিয়মের নেপথ্যে থাকা মদদ দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

        শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

        খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্য গুদাম পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। কোথাও মজুতের হিসাবে গরমিল, খাদ্যশস্য আত্মসাৎ, সংরক্ষণে অনিয়ম কিংবা অন্য কোনো দুর্নীতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।

        মন্ত্রী বলেন, জনগণের খাদ্য নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট আমরা বরদাশত করব না। সরকারি গুদামে জনগণের খাদ্য নিরাপদ থাকবে, সঠিক হিসাব থাকবে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

        তিনি জানান, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং টেকসই ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিমানমন্ত্রী থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। বর্তমানে দায়িত্বের চেয়ার বদলালেও কাজের গতি বদলাবে না।

        খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ জনবান্ধব ও সেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারে খাদ্য নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে।

        তিনি জানান, সাময়িক অভিযান নয়, স্থায়ী সমাধানের লক্ষে দেশের খাদ্য পরীক্ষাগার ও ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

        ঘিওরের ঘটনা

        খাদ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকেই সরকারি খাদ্যগুদামে অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল ও গমের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

        তিনি বলেন, ঘিওরের ঘটনাকে আমরা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছি না। দেশের অন্যান্য খাদ্যগুদামেও একই ধরনের অনিয়ম আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

        আফরোজা খানম রিতা বলেন, ঘিওরের ঘটনায় আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, সরকারি খাদ্যগুদামে নয়ছয় করার দিন শেষ। দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু যারা সরাসরি অনিয়ম করেছেন, তারা নন; এর পেছনে যারা মদদ দিয়েছেন বা সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

        তিনি বলেন, খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্যের হিসাব কাগজে-কলমে এক রকম আর বাস্তবে আরেক রকম—এমন চিত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি খাদ্যশস্য জনগণের সম্পদ। এই সম্পদের এক কেজিও অপচয়, আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তদারকির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

        মন্ত্রী বলেন, কোনো গুদামে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সেটিকে ছোটখাটো ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামের মতো কোনো ঘটনা দেশের অন্য কোথাও পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম যারই হোক, পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না।

        খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু খাদ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, সংগৃহীত খাদ্যশস্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।

        খাদ্যমন্ত্রীর ভাষায়, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য মজুতের বিষয় নয়। সেই খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কিনা, হিসাব ঠিক আছে কিনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ জায়গায় কোনো দুর্নীতি বা সিন্ডিকেট থাকলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।

        খাদ্যগুদামগুলোকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি খাদ্যগুদামের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্যশস্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে ভবিষ্যতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

        মন্ত্রী বলেন, সরকারের খাদ্যগুদাম জনগণের জন্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। জনগণের খাদ্য নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

      • কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

        কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

        আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপে যোগ দিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

        সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


        বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।


        দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে দুই দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা জানান তারা।


        কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের কপ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এবারের সম্মেলনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।


        আঙ্কারার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুরস্ক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওদিকে সম্মেলনের ফাঁকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গেও তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

        বৈঠক হলে সেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


        প্রসঙ্গত, আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া শহরে কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ জলবায়ু সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

      • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

        চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

        চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে মরানদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

        নিহতরা হলো- ওই এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭)। তারাও ওই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন এই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।

        স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পাঁচ শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যায়। এ সময় একে একে পাঁচ শিশুই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

        চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

      • নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

        নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

        সরকার সারা দেশে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং একটি কার্যকর সোলার সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

        গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

        এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

        বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে পারবে।

        এতে আরো বলা হয়, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেও আবেদন ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, যা স্থানীয় ও নতুন উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

        উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রুফটপ সোলার খাতকে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ ও সেবা প্যাকেজ তৈরির পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।

        এছাড়া সরকার রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও কাজ করছে। বিশেষভাবে গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

        জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

        এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে সারা দেশে দক্ষ জনবল, স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

        সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান এই বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

      • নেপালে হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই

        নেপালে হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই

        নেপালে বুধবারের আকস্মিক বন্যায় স্রোতের তোড়ে অনেক লাশ ভেসে দূরের জেলাগুলোতে চলে গেছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে লাশের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে ভয়াবহ বন্যা মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গে এত লাশ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় লাশ রাখার জন্য আলাদা ভবন নির্ধারণ করছে কর্তৃপক্ষ।

        ফলে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চিতওয়ানে ২২১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকা থেকে ১৩৪টি লাশ পাওয়া গেছে।

        চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আরিয়াল বিবিসিকে বলেছেন, অনেক লাশের অবস্থা ভালো নেই। ফলে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

        স্থানীয় হাসপাতালের মর্গেও আর লাশ রাখার জায়গা নেই। এ কারণে লাশ রাখার জন্য আপাতত একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।

      • গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

        গাংনীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, মোবাইল ছিনতাই

        রাশিদুল ইসলাম বোরহান গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় এক ঘণ্টা একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

        শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টিভির মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।

        সাংবাদিকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টেবিলে বই খুলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

        পরে সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিক রাব্বি ও এসএম তারিক গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

        ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

        এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এর সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, হল সুপারসহ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

        সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

      • কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

        কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার কথা থাকলেও গুদামে ধান ঢোকাতে টনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

        চলতি মৌসুমে নিকলী খাদ্যগুদামে এক হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার এক মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি বস্তা ব্যবহার করে আগে ধান সংগ্রহ করছেন।

        দামপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ৩০৭ মণ ধান ওজন করে গুদামে নেয়া হলেও টনপ্রতি দুই হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় গুদামের কর্মকর্তা ধান ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক আল আমিন জানান, অগ্রিম টাকা দেয়ার শর্ত দেয়ায় তার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

        তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এলএসডির ওসি হিমেল। তিনি বলেন, গুদামে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং তার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

        অন্য দিকে নিকলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের কথা বললেও, প্রভাবশালীদের সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায় নাম ঢোকানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তার দাবি, জাতীয় পরিচয় সংগ্রহ করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

      • ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

        ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

        বকশীগঞ্জে সাড়ে ৩ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        জামালপুরের বকশীগঞ্জে লাইসেন্সবিহীনভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে দুলাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তার গোদাম থেকে ৭২ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।

        বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের অকুলের মোড় এলাকায় দুলাল মিয়ার দোকান ও গোডামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।

        উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল মিয়া লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে আসছিলেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গোদাম থেকে ৬৪ বস্তা ডিএপি ও ৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারগুলো পরবর্তীকালে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।

        উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, অবৈধভাবে সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের স্বার্থে অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

      • পিস্তল ও ইয়াবাসহ

        পিস্তল ও ইয়াবাসহ

        বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারি আটক

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত অবস্থায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

        বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র বড়লেখার কুমারশাইল সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।

        এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল কুমারশাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আহত অবস্থায় ভারতীয় নাগরিক বলাই দাসকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫ শত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

      • উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

        উড়ো চিঠি পাঠিয়ে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় উড়ো চিঠিতে হত্যার হুমকি পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান ইমাম ইবনে হাবীব ওরফে হাসান ইমাম রুবেল। গত বুধবার ভোরে উপজেলার হিড়িমদিয়া গ্রামে অবস্থিত তাঁর বাড়ির প্রধান ফটকের নিচে একটি খামে করে চিঠিটি রেখে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সেদিনই ভেড়ামারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

        ‘তৌহিদী জনতা’র নামে পাঠানো চিঠিতে হাসান ইমাম রুবেলকে তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের লেখালেখি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব লেখালেখিকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির শেষাংশে এটিই ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি হাসান ইমাম
        রুবেলের ঢাকায় অবস্থান ও চলাফেরার তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
        হাসান ইমাম রুবেল দৈনিক প্রথম আলোতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এ ছাড়া চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আউটপুট এডিটর ও নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।

        ভেড়ামারা থানায় করা জিডিতে তিনি লিখেছেন, চিঠিতে তাঁর ফেসবুকের স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখির কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব লেখাকে ইসলাম ও আলেম-ওলামাবিরোধী আখ্যা দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্যথায় ‘প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবেন না’ ও ‘যেকোনো উপায়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তাঁর ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতি ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে বলেও দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি চলাফেরার ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
        হাসান ইমাম রুবেল বছরে দু’একবার পরিবার নিয়ে হিড়িমদিয়ার বাড়িতে অল্প কয়েকদিন অবস্থান করেন। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে এসেছি। (বুধবার) ভোরে ফটকের নিচে তৌহিদী জনতার নামে চিঠি রেখে যাওয়া হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে জিডি করেছি। হুমকির প্রকৃত উৎস ও জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’ তাঁর ভাষ্য, চিঠির প্রেরক কে বা কারা, তা নিশ্চিত নন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে সরাসরি দায়ী না করে উৎস শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
        ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেল জিডি করেছেন। পুলিশ তাঁর বাড়ি পরিদর্শন করেছে। কারা জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
        আরও হুমকি
        ভেড়ামারায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন আরও কয়েকটি হুমকির তথ্য পাওয়া গেছে। জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জগশ্বর গ্রামের কিয়ামাত আলী সরদারকে ১৭ আগস্ট বিশেষ বাহিনীর নামে উড়ো চিঠি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া একটি দলের জেলা কমিটির আহ্বায়ককেও কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

      • ব্রাহ্মণপাড়ায় ২০ বছর শিকলবন্দি আজাদ, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

        ব্রাহ্মণপাড়ায় ২০ বছর শিকলবন্দি আজাদ, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        একসময় যিনি ছিলেন চঞ্চল ও হাসিখুশি, সেই আজাদ মিয়ার (৪০) জীবনের প্রায় ২০ বছর কেটেছে চার দেয়ালের মধ্যে পায়ে শিকল পরা অবস্থায়। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মুছা মিয়ার ছোট ছেলে আজাদের জীবনের এই করুণ চিত্র দেখা গেছে সরেজমিনে।

        চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আজাদ মিয়া প্রায় ২০ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে একতলা টিনশেড ভবনের একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরে তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘরে কোনো খাট, বিছানা কিংবা বালিশ নেই। উশকোখুশকো চুলের আজাদের পরনে ছিল অপর্যাপ্ত পোশাক। নাম জানতে চাইলে হাসিমুখে নিজের নাম আজাদ এবং বয়স ৪০ বছর বলে জানান তিনি।

        স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদের বয়স যখন প্রায় ২০ বছর, তখন পারিবারিক একটি ঘটনার জেরে বাড়িতে কাজ করতে আসা আবদুল লতিফ নামে এক দিনমজুরের সাথে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ওই দিনমজুর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে সংক্রমণের কারণে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয় বলে জানা যায়। এর প্রায় দুই বছর পর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের ঘটনায় আজাদ তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

        পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার পর থেকেই আজাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাকে শিকল দিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে গ্রামের একাধিক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে একজন মানুষকে শিকলবন্দি করে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার যথাযথ চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।

        নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী লোক এমন কয়েকজন বলেন, ‘আজাদের বাবা সরকারি চাকরি করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যও রয়েছে। আজাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সঠিকভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।’

        এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজাদের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই দু’টি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর পর নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছি। একসময় তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকেরা ভালো হওয়ার আশা কম দেখানোর পর আর নিয়মিত চিকিৎসা করানো হয়নি। তবে সম্প্রতি কুমিল্লায় একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়েছে। তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে আগামী মাসে আবার দেখা করতে বলেছেন।’

        সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মনির হোসেন চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র অবগত হলাম। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাব। বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

        ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হবে।

        ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সামাজিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

        এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুন্নী ইসলামের সাথে মুঠোফোনে ও খুদে বার্তার মাধ্যমে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

        দীর্ঘ দুই দশক ধরে একজন মানুষকে শিকলবন্দি করে রাখার এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আজাদের প্রকৃত শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী।

      • সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

        সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        ঢাকার সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

        বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

        গ্রেফতাররা হলেন মো: আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৯), মঞ্জুরুল হক মঞ্জু (৫২), এফ রহমান রুপক (৪৮)। এসময় মো: পিন্টু (৪৮) নামের অপর একজন পালিয়ে যান।

        থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতাররা সাভারের চাঁপাইন এলাকায় কখনো নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার আবারো তারা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীরা তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

        সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: আব্বাস উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

      • মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

        মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আলম (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিষুমিয়ারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

        নিহত নুর আলম জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার জামশেদ আলীর ছেলে।

        স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে নুর আলম কখনো রাজমিস্ত্রি, কখনো ডেকোরেশনের হেলপার, আবার কখনো কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিষুমিয়ারহাট এলাকায় একটি ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।

        স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইমন বলেন, নুর আলম একেক সময় একেক কাজ করতেন। তিনি সব সময় মানুষের উপকার করতেন।

        মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভ্রা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

      • চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

        চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

        বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি-সাহিত্যিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

        দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

        পরে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

        আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

        বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

        কার্পাসডাঙ্গার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রয়েছে গভীর স্মৃতির সম্পর্ক। কবি ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দুবার নদীপথে স্বপরিবারে এখানে এসেছিলেন। স্ত্রী প্রমীলা, দুই ছেলে সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্পাসডাঙ্গার মিশনপাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগানবাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে অবস্থান করেন। ঐতিহাসিক সেই ঘরটি এখনো কবির স্মৃতি বহন করছে।

        স্থানীয়দের মতে, কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থানকালে নজরুল বিভিন্ন ছড়া, কবিতা ও গান রচনা করেন। ফলে স্থানটি নজরুলপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কবির স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

        দিনব্যাপী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

      • মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

        মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        জামালপুরের মাদারগঞ্জে সেচ পাম্প চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আজাহার মন্ডল (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকালে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজাহার মন্ডল ওই এলাকার তফিল মন্ডলের ছেলে।

        স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষক আজাহার মন্ডল নিজের কৃষি জমিতে পানি দেয়ার উদ্দেশ্যে সেচপাম্পের সুইচ চালু করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

        গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

      • মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

        মোড়াগাছা স্কুলে মাদক-ইভটিজিংবিরোধী সভা

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

        বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেন আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।

        প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

        তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকা, ইভটিজিং প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়া এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন।

        সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

        সচেতনতামূলক এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খোকসা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

      • রোববার সংসদ অভিমুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পদযাত্রা

        রোববার সংসদ অভিমুখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পদযাত্রা

        তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের প্রতিবাদ এবং গুমের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে আগামী রোববার জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

        বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

        জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হবে।

        আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের পর নতুন করে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

        বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নতুন আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের হাতে দেওয়া হচ্ছে। অথচ গুমের অধিকাংশ অভিযোগই পুলিশের বিরুদ্ধে। ফলে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই তদন্তের দায়িত্ব থাকলে তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করছে তারা।

        বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল ও সারের সংকটসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ চলছে। সরকারের ব্যর্থতা সর্বত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুরো জাতি একাধিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

        তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে, কিন্তু জুলাই সনদ ও গণরায়ের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গুমের শিকার পরিবারগুলোও এখনো জানে না, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন। অতীতে বিচারবহির্ভূতভাবে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার বিচারও এখন পর্যন্ত হয়নি।

        হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এসব বিষয় সামনে রেখে আগামী ৩০ আগস্ট বিকেল ৩টায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

        বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

      • দুষ্টু লোকেরা বলে টুকু আসে-টুকু যায়, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারাহানা

        দুষ্টু লোকেরা বলে টুকু আসে-টুকু যায়, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে রুমিন ফারাহানা

        জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং নিয়ে সংসদে সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের বিষয়ে- দুষ্টু লোকে বলে, ভালো লোকে বলে না— টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’

        বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

        জ্বালানি সংকট নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যখন তেলের দাম বাড়ছে, যখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, যখন গ্যাস পাওয়া যায় না। তখন ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি যে সরকার দিয়েছিল নির্বাচনে। সে সরকার ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে ৬২ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। ৯০০ এর উপরে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে? যারা চাকরি করছেন, তাদের চাকরি কতদিন থাকবে আল্লাহ মাবুদ জানেন।

        তিনি বলেন, এ সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে তিনটি কাজের একটি হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা। আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুশকিল হয়, আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আছেন— তিনি হয় ব্যঙ্গ করেন, না হলে বাক চাতুর্য দিয়ে পুরো বিষয়টি ঢেকে দিতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেমন তিনজন মন্ত্রী আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থাকলে কেবল মন্দ হত না। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত ভালো অবস্থা।

        বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। চালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে টিসিবির পণ্যের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইনের কথাও উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য।

      • সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত?

        সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত?

        ভারত ও চীনের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠেছে, সীমান্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারত কি শেষ পর্যন্ত চীনের প্রস্তাব মেনে নিতে চলেছে?

        আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত ও চীনের সীমান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতির ভাষা পাশাপাশি রাখলে কূটনৈতিক মহলে এমনই আলোচনা শুরু হয়েছে।

        ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এই সীমান্তকে সাধারণত পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব, এই তিনটি অংশে ভাগ করা হয়। পশ্চিম অংশে রয়েছে লাদাখ, মধ্য অংশে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ এবং পূর্ব অংশে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ।

        চীন গত কয়েক বছর ধরে বলে আসছে, সীমান্তের যেসব অংশে তুলনামূলকভাবে বিরোধ কম, সেগুলো আগে নির্ধারণ করা যেতে পারে। কূটনৈতিক পরিভাষায় এই পদ্ধতিকে সীমান্ত সমস্যার ফল ঘরে তোলার নীতি হিসেবে দেখা হয়।

        অর্থাৎ পুরো সীমান্ত সমস্যার একসঙ্গে সমাধান না করে যেসব অংশে সমঝোতা সম্ভব, আগে সেসব অংশের সীমা নির্ধারণ করা। কিন্তু এ পদ্ধতি নিয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে এত দিন সংশয় ছিল। কারণ ২০০৫ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে হওয়া সীমান্ত-সংক্রান্ত চুক্তিতে সীমান্ত সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আলাদা আলাদা অংশের সমাধানের মাধ্যমে গোটা সীমান্ত সমস্যাকে টুকরো করার বিষয়ে ভারতের আপত্তি ছিল।

        এবার অজিত দোভাল ও ওয়াং ইয়ের বৈঠকের পর ভারতের বিবৃতিতে সীমান্ত নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনার কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

        চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ সীমান্ত পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

        এই বাক্যের মধ্যেই কূটনৈতিক মহল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে। কারণ, ভারতের বিবৃতিতে সীমান্ত সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের কাঠামোর কথা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সীমান্তের যে অংশগুলিতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেগুলো নিয়ে কি ভারত নতুন করে আলোচনায় রাজি হয়েছে।

        তবে এখনই বলা যাচ্ছে না যে ভারত চীনের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সীমান্ত নির্ধারণের আলোচনা মানেই কোনও নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর ভারতের দাবি প্রত্যাহার নয়। বরং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় নতুন একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

        ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সংঘাতের পর ভারত ও চীনের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। পরে দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

        এই পরিস্থিতিতে অজিত ডোভাল ও ওয়াং ইয়ের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল। বিশেষ করে সীমান্ত নির্ধারণের প্রসঙ্গটি সরাসরি আলোচনায় আসায় মনে করা হচ্ছে। দুই দেশ সীমান্ত সমস্যার সমাধানে নতুন পথ খুঁজছে।

        তবে সেই পথ শেষ পর্যন্ত ভারতের স্বার্থ রক্ষা করে কিনা, নাকি চীনের দীর্ঘদিনের প্রস্তাবকেই নতুন রূপে গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিই এখন নজরে।

      • হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

        হাটহাজারীতে আমন চাষে বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

        বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

        চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রোপা আমন চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

        উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমন চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পাওয়ার টিলারে জমি চাষ, চারা রোপণ, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি কৃষকদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে।

        চারিয়া এলাকার কৃষক মো. আজগর আলী বলেন, এক কানি জমিতে আমন চাষে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রতিটি ধাপেই খরচ হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে প্রয়োজনের সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

        মির্জাপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘এবার জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেশি। ধানের দাম যদি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কৃষকের লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।’

        ধলই ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘আমন চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিতে। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে। ধানের ভালো দাম না পেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।’

        কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কোথাও কোথাও সার ও কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। তারা সার ও কৃষি উপকরণের বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

        সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকা কেজি দামের কিছু সার ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে সব দোকানে এমন চিত্র দেখা যায়নি।

        হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

        উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাটহাজারীতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। উপজেলায় সার ও বীজের কোনো সংকট নেই। সার ও বীজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

        তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সার ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে।

        কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।