জাতীয় সংবাদ

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্যের প্রশ্ন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্যের প্রশ্ন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চেয়েছেন, গত ছয় মাসে তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, না কি ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ এ প্রশ্ন করেন। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা—বুঝতে পারিনি।’

    সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’

    তিনি বলেন, ‘সেই জেলায় গান-বাজনা, সিনেমা নাকি বন্ধের মতোই। এই ছয় মাসে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না? এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না? নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।’

    হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কীসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন—সেই স্ট্যাটিস্টিক্সটা আমি জানি না।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব ঘটনায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করলে ৩০০ বিধিতে সে বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারবেন।’

    সামাজিক চাহিদার ভিত্তিতে আলোচিত ও অনালোচিত বিভিন্ন অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সহযোগিতা করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রামিসা থেকে রংপুরের সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘এখানে কোথায় কী ব্যর্থতা আছে, বলতে হবে। আইন রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বা এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি—এগুলো বক্তব্যে চলে। এটা সংসদ। সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলে সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক করা যাবে।

  • ১৭ বছর স্বৈরশাসন চলেছে, জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে: নজরুল ইসলাম খান

    ১৭ বছর স্বৈরশাসন চলেছে, জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে: নজরুল ইসলাম খান

    ১৭ বছরে দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন চলেছে। ১৭ বছরের জঞ্জাল মুক্ত করতে সময় লাগবে৷ তাই জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    যারা ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে, সরকার তাদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বিরোধীদলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, সরকার যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যথাসময়েই বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার তার নিজস্ব নিয়মে দেশ পরিচালনা করছে, জনগণের কোনো পরামর্শ থাকলে সরকারকে তা দেওয়ার আহবান জানান তিনি৷

  • সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

    সারের জন্য কৃষক ভোগান্তিতে থাকলেও, সরকার এসব অভিযোগ এড়াতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ আরও জানান, দুর্বল গুম প্রতিরোধ আইনের প্রতিবাদে ৩০ আগস্ট রাজধানীতে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    বিদ্যুৎ-জ্বালানি-সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জোটের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকে বসেন বিরোধী জোটের নেতারা। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত আইনের খসড়া আনছে সরকার। এর প্রতিবাদে আগামী রোববার শাহবাগ থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে বিরোধী জোট।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৩০ তারিখ গুম প্রতিরোধ দিবস, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়, সেটাতে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিব এবং আমরা বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) অধিবেশনে সংসদেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কায়দায় কথা বলব।

  • দাখিল ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২ সেপ্টেম্বর

    দাখিল ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২ সেপ্টেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দাখিলের ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষার ফরমপূরণ শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অনলাইনে বোর্ড ফি জমা দেয়া যাবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফরম পূরণের মোট ফি ৬০০ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর ফরমপূরণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে যথা সময়ের মধ্যে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশাগুলো হলো- অনুমোদিত দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ফরমপূরণ করতে পারবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ৪০০ টাকা বোর্ড ফি বাবদ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে অনলাইনে জমা দিতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ২০০ টাকা কেন্দ্র ফি বাবদ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় জমা দিতে হবে। অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ফি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বা সুপারিনটেনডেন্ট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ফরমপূরণ প্রক্রিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।অনলাইনে ফরমপূরণ এবং ফি প্রদান প্রক্রিয়া- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইন সেবা-২ প্যানেলে e-SIF/e-FF এ ক্লিক করে JDC/৮ম বৃত্তি e-FF ২০২৬ সিলেক্ট করে Ccontinue বাটনে click করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার EIIN ও Password দিয়ে Login করে Probable List এ যেতে হবে এবং Print করে হার্ডকপিতে লালকালি ব্যবহার করে টিক চিহ্ন দিয়ে পরীক্ষার্থী নির্ধারণ করতে হবে; এ হার্ডকপি অনুসরণ করে কম্পিউটারে প্রদর্শনকৃত Probable List থেকে পরীক্ষার্থী Select করতে হবে; Probable List থেকে পরীক্ষার্থী Select করা হলে একটি Temporary List তৈরি হবে; Temporary List প্রিন্ট করে যাচাই বাছাই করে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার্থী Select/Unselectকরা যাবে; এরপর পেমেন্ট বাটনে ক্লিক করে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ফরমপূরণের ফি দিতে হবে; ফি এর টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে Final Candidate List Print Active হবে; Final Candidate List Print করে পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় মাদ্রাসা প্রধান স্বাক্ষর করবেন; প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকে ফরমপূরণের কাজ একইভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

  • ১১ দলীয় জোটে আছি ও থাকব: সারজিস আলম

    ১১ দলীয় জোটে আছি ও থাকব: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ১১ দলীয় জোট থেকে বের হওয়ার বিষয়ে আমাদের দলে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা জোটে আছি এবং থাকব।

    তিনি বলেন, আমাদের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিছুদিন আগে জোট প্রধান জামায়াত আমির আমাদের অফিসে গিয়েছিলেন। আমরা যোগ্য বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম জানান, ১১ দলীয় জোটে থাকলেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সংগঠনের ভিত্তি গড়ার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সংগঠকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন; যার মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ভালো ফলাফল করবে। এ জন্য আমরা জেলা, উপজেলা, সিটি, পৌরসভা ও ইউনিয়নের সব স্তরে প্রার্থী দেব। হয়তো আমরা সব জায়গায় জিতব না; কিছু জায়গায় ফল ভালো হবে, আবার কিছু জায়গায় হবে না। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে আমরা জেতার জন্যই লড়ব। আর এর জন্য ১১ দলীয় জোটে কোনো সমস্যা হবে না।

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাপ আতঙ্ক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপ দেখা গেছে। জনবহুল অফিসে সাপের উপস্থিতির মতো এমন বিরল ঘটনায় কর্মকর্তার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯ তলার করিডোরে সাপগুলো দেখা যায়।

    এত উঁচু ভবনের ১৯ তলায় সাপ উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধারণা, ভবনের কোনো স্টোরেজে আরো সাপ থাকতে পারে।রাজধানী ঢাকায় বসবাস উপযোগী নয় বলে সাপের উপস্থিতি দেখা যায় না সচারাচার। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির তা নিশ্চিত জানা যায়নি।

    গত বছরের নভেম্বরে রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় সবচেয়ে সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। সে সময় সব থেকে বেশি সংখ্যক সাপ দেখা যায় রাজধানীতে। গত বছরে চার মাসে ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

    এর আগেও ঢাকায় কিছুসংখ্যক বিষধর সাপ পাওয়া গেলেও সেবারই প্রথম এতো বেশিসংখ্যক সাপের খবর পাওয়া গেছে।

    কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

    ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

  • ৪ হাজার এসআই ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে

    ৪ হাজার এসআই ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে

    নতুন করে ৪ হাজার এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পূর্বে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের জনবল বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার নতুন ৪ হাজার এসআই (নিরস্ত্র) পদ সৃজন ছাড়াও ৪০০ সার্জেন্ট পদ ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছে। উল্লেখিত পদগুলো সৃজিত হলে রংপুর জেলাতেও জনবল বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে ডেভেলপড্ অ্যান্ড অর্গানুগ্রাম ইক্যুইপমেন্টভুক্ত পুলিশের যানবাহন ও জলযানের ঘাটতি রাজস্ব বাজেটের মধ্যে ক্রয়পূর্বক পূরণ করা হবে।

    গত ১০ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন ইউনিটে গ্রেড-১০ (নিরস্ত্র) পদে ৪ হাজার এসআই নিয়োগের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের পাঠানো প্রস্তাবটি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এরআগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে খুব শিগগির ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। নতুন ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

  • পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আনা হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার গাড়ি

    পুরোনো যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিয়ে আনা হলো বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার গাড়ি

    আমদানিকারক ঘোষণা দিয়েছিলেন, চালানে আছে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল, স্টিয়ারিং হুইল—গাড়ির এসব যন্ত্রাংশ। গাড়ির ব্যবহার করা এসব যন্ত্রাংশের পরিবর্তে আনা হয়েছে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটার বিলাসবহুল গাড়ি। এই চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কয়েকটি অংশে ভাগ করে (সিকেডি) এনে পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

    কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক গোয়েন্দা অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব গাড়ির প্রতিটির মূল্য কোটি টাকার ওপরে। মোংলা বন্দরে এ ঘটনা ঘটে।

    আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আমদানি করা একটি চালান থেকে ওই চারটি বিলাসবহুল গাড়ির শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা হয়।

    এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এসব গাড়ির শুল্কায়নযোগ্য দাম কত, তা নির্ধারণ করে শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপর আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কোন মডেলের গাড়ি ও দাম কত

    এনবিআর জানিয়েছে, ওই চারটি গাড়ির মডেল হলো রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এসব গাড়ির সম্ভাব্য মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

    কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্ত অনুসারে, যুক্তরাজ্যের তৈরি রেঞ্জ রোভার ভোগ গাড়িটি ২০১৭ সালের মডেল। বাংলাদেশে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

    জাপানে তৈরি লেক্সাস এলএক্স৫৭০ গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এর মডেল বছর ২০১৬।

    জার্মানির তৈরি বিএমডব্লিউ ৬৫আই মডেলের গাড়ি ২০১০ সালের মডেল। বাংলাদেশে এর মূল্য ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা। টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট গাড়িটি তৈরি হয়েছে জাপানে। এর দাম ৩০-৪০ লাখ টাকা।

    কীভাবে ধরা পড়ল

    গত জুলাই মাসে গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর পেয়ে ওই চারটি গাড়ির চালান স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়।

    পরে ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমের কারিগরি সহায়তা, পণ্যের বিভিন্ন স্থানে লাগানো বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং এআইয়ের সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    তদন্তে দেখা গেছে, এসব চালানে পুরোনো গাড়ির সাধারণ যন্ত্রাংশ আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যেমন হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল, স্টিয়ারিং হুইল ইত্যাদি।

    কিন্তু সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র তিন-চারটি বড় অংশে কেটে সেমি নকড ডাউন বা সিকেডি অবস্থায় আমদানি করা হয়েছে। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় মাত্র ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা।

    ঘটনাটিকে বড় অঙ্কের সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চূড়ান্ত রাজস্ব ফাঁকির অঙ্ক যথাযথ শুল্কায়ন শেষে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চূড়ান্ত তদন্ত শেষে মোংলা কাস্টম হাউসকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।

    গাড়ির ওপর আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম কর, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক—এসব নানা ধরনের শুল্ক-কর বসে। তবে দামি ও বেশি সিসির ইঞ্জিনক্ষমতাবিশিষ্ট গাড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক বেশি বসে। সিসিভেদে গাড়ির ওপর ৩০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক বসে। এই শুল্ক ফাঁকি দিতেই নানা কৌশল ব্যবহার করেন আমদানিকারকেরা।

  • ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি’

    সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা এবং নিজেকে শিক্ষক মনে করার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন—এমন দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই।’

    বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আজ নতুন করে এসব শব্দ উচ্চারণ করেননি; বরং সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে আসছেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

  • প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

    প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার সুযোগ পেল ব্যাংকগুলো

    আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা স্থানীয় প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) ইস্যুর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক গ্যারান্টি ও এসবিএলসি ইস্যু করতে পারবে স্থানীয় ব্যাংকগুলো। এর মাধ্যমে ওই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি ইস্যুসংক্রান্ত বিধান আংশিক সংশোধন করা হলো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদার, স্থানীয় এজেন্ট বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিড বন্ড, পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা এসবিএলসির সংস্থান করতে পারবে।

    এ সুযোগ পেতে কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে মূল চুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি গ্রহণের স্পষ্ট সুযোগ থাকতে হবে। দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য চুক্তি বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং এর সপক্ষে বৈধ দলিলাদি থাকতে হবে। গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ইস্যুর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও দায়ের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত জামানত বা কাউন্টার–সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।

    জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকির মাত্রা এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে। গ্যারান্টির কারণে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়, দায় ও অন্যান্য খরচ কীভাবে পরিশোধ করা হবে এবং গ্যারান্টি কার্যকর (ক্যাশ) হলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কীভাবে অর্থ ফেরত দেবে, তা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

    ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব ঋণনীতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও একক গ্রাহক ঋণসীমা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

  • আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ আছে কী ?

    আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ আছে কী ?

    নেপালে ফ্লাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যায় বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আট শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্লাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু এই ফ্লাশ ফ্লাড কী? কেন এটা হয়? আর আগের থেকে কি এই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে?

    ফ্লাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা কী?

    এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা বলছে, আকস্মিক বন্যা হলো হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিতভাবে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোত যা গিরিখাত, সংকীর্ণ খাদ, উপত্যকা বা অন্যান্য নিচু ও সংকীর্ণ এলাকা দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হয়। আকস্মিক বন্যা যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে। সাধারণত বন্যার সময় নদনদীর পানি তুলনামূলক ধীরগতিতে বাড়ে। এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় টানা বর্ষণের ফলে নদীর পানি বেড়ে যায় এবং গুরুতর আকার ধারণ করে।

    অন্যদিকে আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে অনেক সময় তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিপাতেই ব্যাপক বন্যা হয় এবং নদীর পানি শুকনো অবস্থা থেকে একেবারে কূল ছাপিয়ে প্রবাহিত হবার অবস্থায় চলে আসে বলে জানান বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র – এফএফডব্লিউসি এর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান।

    আকস্মিক বন্যা প্রায়ই বজ্রঝড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ভারী বৃষ্টিপাত অথবা পাহাড়ে তুষার ও বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। তবে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণেও এ ধরনের বন্যা হতে পারে। এই বন্যা সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হয়; কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই পানির উচ্চতা বেড়ে আবার কমে যায়। তবে এর আকস্মিক সূত্রপাত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

    ব্রিটানিকার তথ্য অনুযায়ী, কিছু আকস্মিক বন্যায় এত শক্তিশালী পানির দেয়াল তৈরি হয় যে তা নদীর তলদেশ ভাসিয়ে নিতে, স্থাপনাগুলোকে তাদের ভিত্তি থেকে উপড়ে ফেলতে, সড়ক ও সেতু ধ্বংস করতে এবং বড় গাছ ভেঙে ফেলতে বা উপড়ে ফেলতে পারে।

    আকস্মিক বন্যা আবহাওয়াজনিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি এতে মানুষ মারা যায়। অধিকাংশেরই মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে।

    আকস্মিক বন্যা কী কারণে হয়?

    অনেক কারণেই আকস্মিক বন্যা হতে পারে। তবে এর প্রধান কারণ অতিবৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যমতে, আকস্মিক বন্যা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে অথবা ভূমিধস থেকেও ঘটতে পারে। বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বৃষ্টির অবস্থান ও বিস্তৃতির মতো বিষয়গুলো আকস্মিক বন্যা কত দ্রুত ঘটতে পারে এবং কোন কোন এলাকায় তা দেখা দিতে পারে তার নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

    এছাড়া ভূপ্রকৃতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যও পানির স্তর কত দ্রুত বাড়বে এবং বন্যা কতটা বিস্তৃত হবে, তা প্রভাবিত করতে পারে। খাড়া ঢালযুক্ত এলাকা যেমন পাহাড় বা টিলা এবং শক্ত মাটি, পাথর, ছাদ, সড়ক ও অন্যান্য পাকা স্থানের মতো পানি শোষণ করতে না পারা পৃষ্ঠের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিকে তুলনামূলক দ্রুত প্রবাহিত করে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত করতে পারে।

    একইভাবে, সাম্প্রতিক দাবানলে যেখানে বিস্তীর্ণ এলাকার উদ্ভিদ পুড়ে গেছে, সেসব এলাকাতেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেশি। এর বিপরীতে, মৃদু ঢাল, ঘন উদ্ভিদ এবং পানি শোষণ করতে সক্ষম মাটিযুক্ত ভূপ্রকৃতিতে তুলনামূলকভাবে ধীরে পানি প্রবাহিত হয়। এছাড়া উষ্ণ জলবায়ুও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

    বায়ুর গড় তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বা জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাক-শিল্পযুগের তাপমাত্রার তুলনায় প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস ( এক দশমিক আট ডিগ্রি ফারেনহাইট) উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার ঘনত্ব সাত শতাংশ করে বাড়তে পারে। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা আরও বেশি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।

    ফলে ভারী বৃষ্টির কারণে যেসব অঞ্চলে আগে থেকেই আকস্মিক বন্যার প্রবণতা রয়েছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে এবং একই সঙ্গে এর তীব্রতাও বাড়তে পারে। নেপালের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তন ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে বলে অনেকে ধারণা করলেও এনিয়ে বলার সময় এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

    আগে থেকে কি আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বন্যার মতো আকস্মিক বন্যারও পূর্বাভাস পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জটি থাকে সময়ের। অর্থাৎ, অন্য সময়ে যেমন সার্বিক পরিস্থিতি মিলিয়ে হাতে সময় থাকতে আগাম প্রস্তুতির পূর্বাভাস দেওয়া যায়, হুট করে হওয়ার কারণে আকস্মিক বন্যার সময় সেই সময়টি থাকে খুবই সীমিত।

    “এর মূল কারণ হচ্ছে প্রধান নদীর অববাহিকা সাধারণত বড় হয় এবং এক্ষেত্রে তথ্যের প্রাপ্যতাও সহজ থাকে। অন্যদিকে আকস্মিক বন্যা সাধারণত পাহাড়ি অববাহিকায় হওয়ার কারণে তথ্যের ঘাটতি থাকে”, বলছিলেন মি. রায়হান।

    মানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তথ্য পাঠানোর জন্য হাইড্রোলজিক্যাল বা মেটারোলজিক্যাল স্টেশন সংখ্যায় কম থাকায় আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে দ্রুততার সাথে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি বেশ জটিল করে তোলে। মি. রায়হান জানান, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা – ডব্লিউএমও’র সংজ্ঞা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার আগাম পূর্বাভাসকে ‘নির্ভরযোগ্য লিড টাইম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    বর্তমান রাডার, স্যাটেলাইট ও অটোম্যাটিক সেন্সরের মতো প্রযুক্তি বসিয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ ঠাকুরি বলেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেতে পারে।

    “আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। হিমবাহের ওপর এবং এর আশপাশে স্থাপন করা এসব ব্যবস্থা হ্রদের পানির স্তর এবং বাঁধের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে। এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব”, বলেন তিনি। তবে ‘আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা’ কার্যকর থাকলেও আন্তর্জাতিক মাত্রার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

    বুধবার নেপালের আকস্মিক বন্যার বিষয়ে দেশটির ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলচক ক্যাম্পাসের ডিজাস্টার স্টাডিজ সেন্টার এট দ্য ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত অধিকারী বলেন, “(বন্যাটি) যদি নেপাল থেকে সৃষ্টি হতো, তাহলে আমরা এখান থেকে তা দেখতে পারতাম। কিন্তু আমরা এখন যে ধরনের ঘটনা দেখছি, সেগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তথ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে সেটি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।”

    “যেসব এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে, সেখানে কোনো জনবসতি নেই। মানুষের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা কঠিন হওয়ায় স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন করে সেখান থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত,” বলেন ওই কর্মকর্তা। “তা না হলে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হতে হবে, কারণ সীমান্তের (নেপাল-চীন) নিচের দিকে আমাদের জনবসতিগুলো অবস্থিত।”

    নেপালের কিছু নদী অববাহিকায় এ ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে এর ব্যবহার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠাকুরি বলেন, “এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলোও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনবসতি গড়ে না তোলা।”

  • খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

    খেলাপি ঋণ আদায়ে একীভূত ৫ ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

    খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা করেছে একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।

    ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সভায় পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    সভায় জানানো হয়, খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশনের (এডিআর) মতো সমঝোতাভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এছাড়া ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৫টি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএসহ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে। তাছাড়া আমানতকারীরা যাতে ৫ ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে তাঁদের আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকটির শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসায়িক ইউনিটের একীভূতকরণ, পুনর্বিন্যাস ও পরিচালন কার্যক্রম একীভূত করার কাজ চলমান রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও ব্যবসায়িক ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বিআরডি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।

  • নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ৩৩২, নিখোঁজ ১৫০০

    নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ৩৩২, নিখোঁজ ১৫০০

    বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নেপালি পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে দ্য পোস্টকে সর্বশেষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানে ১২১টি, নওয়ালপরাসি ইস্টে ৭৪টি, ধাদিং ও গোরখায় ২৯টি করে, নুয়াকোটে ২৮টি, তানাহুনে ১৯টি, রাসুওয়ায় ১৭টি এবং নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার নেপালে বন্যায় ২৮৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা আরও ৪৩ জন বেড়েছে।

    নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

    নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্যও রয়েছেন।

    এ ছাড়া নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা ৬৪৪। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১২৭ জন নেপালি।

    তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নেপাল ও চীনের তিব্বতে হিমালয়ঘেঁষা এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ দেশের অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।

    বন্যার পানির স্রোতে রাসুয়া ও অন্যান্য জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী অববাহিকা দিয়ে নিম্নাঞ্চলের দিকে ধেয়ে যায়। এতে জনবসতি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

  • প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোট, নভেম্বরে তফসিল

    প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোট, নভেম্বরে তফসিল

    স্থানীয় নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

    বৃহস্পতিবারে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    সিইসি বলেন, সবাইর আগে হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়নে ভোট হবে।

    তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বরে ভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বরে তফসিল এবং ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ। আগামী সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইসির সভা হবে আর্থিক বিষয় নিয়ে।

  • প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

    প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

    বন্ধ কলকারখানা চালু ও স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দিতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ১৭টি ব্যাংক হলো—সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

    গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার এ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্যাকেজে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকা।

    প্যাকেজের সবচেয়ে বড় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ তহবিল থেকে বেসরকারি খাত গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এ এম নাসির উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    এ সময় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    তবে রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়:ডা. শফিকুর রহমান

    মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়:ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।’

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নাো মত প্রকাশ করা হচ্ছে।

    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    দ্রোহ, মানবতা ও সাম্যবাদের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ। এ উপলক্ষ্যে নজরুল ইনস্টিটিউট, নজরুল একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

    ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।

    শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।

    কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

  • স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাখার বিপক্ষে ৯৬ শতাংশ

    স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাখার বিপক্ষে ৯৬ শতাংশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না। বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এমতাবস্থায় দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষও তাদের সঙ্গে একমত। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের রাখার বিপক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

    দৈনিক শিক্ষাডটকমের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জরিপে অংশ নেয়া ৩ শতাংশ মানুষ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের থাকার পক্ষে। আর অবশিষ্ট ১ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে বিপক্ষে কোনো মতামত দেননি।

    গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত দৈনিক শিক্ষাডটকমের ওয়েবসাইটে এই জরিপ চালানো হয়। দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিচালিত এই জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট ছয় হাজার ৪৬২ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ছয় হাজার ১৯২ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২২২ জন। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো মন্তব্য করেননি ৪৮ জন।

    জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না—ডেপুটি স্পিকারের মন্তেব্যের সঙ্গে আপনিও কি একমত? জরিপে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ এর পাশাপাশি ‘মন্তব্য নেই’ নামে আরেকটি ঘর ছিলো।

    প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কায়সার কামাল আরো বলেন, বিগত দিনে দলীয়করণের অপসংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়। যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। একজন শিক্ষক আজীবনই শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে “স্যার” বা “ম্যাডাম” হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র।

  • শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিগগিরই চালু হবে মায়েদের রান্না করা মিড-ডে মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে।’বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহিদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।’

    মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো- কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

    একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদটি প্রথম কোথা থেকে ছড়ানো হয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে নিসচা। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে নিসচার নেতৃবৃন্দ।

  • শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

    শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

    এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাধবপুর গ্রামের অমর ভৌমিক ও তার স্ত্রী মীনাক্ষী রানী ঘাস কাটা মেশিনে ঘাস কাটতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন। আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

    স্থানীয় মুকুল নামের এক ব্যক্তি জানান, গরুর ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় তারা স্বামী-স্ত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যু হয়।

    এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে ঘাস কাটা মেশিনের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মৃত্যু হয়েছে ।

  • দু’দিন পরই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে

    দু’দিন পরই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে

    আগামী ২৮ আগস্ট আকাশে ঘটতে যাচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। আর তা হলো- একটি গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে এই গ্রহণের সৃষ্টি করে। খবর আনাদোলুর।

    উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশপ্রেমীরা এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের পৃষ্ঠের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাবে।

    মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে) গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আমেরিকা মহাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে এ মহাজাগতিক ঘটনাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে পর্যবেক্ষকরা কেবল সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের সময় গ্রহণের আংশিক রূপ দেখতে পাবেন।

    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মতো এবার সম্পূর্ণ চাঁদ ঢাকা পড়বে না, চাঁদের একটি ছোট অংশ পৃথিবীর গভীরতম ছায়ার বাইরেই থেকে যাবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যদিয়ে সূর্যালোক অতিক্রম করার সময় তা বিচ্ছুরিত ও প্রতিসরিত হওয়ার ফলে গ্রহণকবলিত অংশটি লালচে বা তামাটে বর্ণ ধারণ করতে পারে, যা ‘ব্লাড মুন’ হিসেবে পরিচিত।

    এই চন্দ্রগ্রহণটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে, যদিও গভীর আংশিক পর্যায়ের স্থায়িত্ব হবে তুলনামূলকভাবে বেশ কম। নাসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রগুলোর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে অবস্থান করবে।

    গত ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান হওয়া একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর এই চন্দ্রগ্রহণটি ঘটছে। মূলত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের একই সরলরেখায় অবস্থানের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় সংঘটিত হয়।

    সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ কোনও সুরক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে দৃশ্যটি আরও কাছ থেকে উপভোগ করা সম্ভব।

  • ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা সেন্টার

    ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা সেন্টার

    বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় আলাদা ভিসা সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। আগামী ২ সেপ্টেম্বর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রটি চালু হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

    দূতাবাস জানায়, ভিসা আবেদন কেন্দ্র খোলার পর সাধারণ ভিসা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের আবেদনগুলো এককভাবে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

    দূতাবাস কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ভিসা সম্পর্কিত পাসপোর্টের জন্য আবেদন গ্রহণ এবং ইস্যু করা অব্যাহত রাখবে।

    কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর ঠিকানা হচ্ছে- ২ এফ বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট ৮০, ব্লক বি কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা ১২১৩।

    দূতাবাস জানায়, ভিসা আবেদন কেন্দ্রে একটি অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা করবে। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার তারিখ সম্পর্কিত বিশদ আগামীকাল ২৭ আগস্ট আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে।

    এছাড়া নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সম্পর্কিত পরিষেবাগুলি আগের মতোই দূতাবাস দ্বারা পরিচালিত হবে।

    ভিসা সেন্টার চালুর তারিখ, অপারেটিং সময়, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি, ভিসা আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি, ফি এবং ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিচালনা সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

    ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুকদের নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রসংক্রান্ত ঘোষণাগুলো সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে আবেদনকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কার্যকর ভিসাসেবা নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের ভূয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

    ইলিয়াস কাঞ্চনের ভূয়া মৃত্যুসংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তারকাদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। এবার সেই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন কিংবদন্তী চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন।

    তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা মৃত্যুসংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মীরা।

    নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন সুস্থ ও ভালো আছেন। অথচ তার মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর একটি খবর কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সংগঠনের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    নিসচার নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জীবিত মানুষকে কীভাবে যাচাই ছাড়া মৃত ঘোষণা করে সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব? তাদের মতে, এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়; একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী এবং তার প্রতি ভালোবাসা থাকা অসংখ্য মানুষের অনুভূতির প্রতিও নির্মম আঘাত।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে কারও মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা গুরুতর অসুস্থতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশের আগে পরিবার, নিকটজন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ইলিয়াস কাঞ্চনের ক্ষেত্রে সেই ন্যূনতম যাচাইয়েরও অনুপস্থিতি দেখা গেছে।

    নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, ‘সবার আগে সংবাদ’ দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। তার মতে, দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চেয়ে সেটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত্যু বা অসুস্থতার মতো বিষয়ে অনুমাননির্ভর কিংবা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা নন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার সঙ্গে অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    নিসচার নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পরে ভুল স্বীকার করলেই এমন সংবাদের কারণে তৈরি হওয়া মানসিক কষ্ট বা আতঙ্কের ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়তে অল্প সময় লাগলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বহু মানুষের ওপর।ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ঘটনায় নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মী তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুসংবাদ প্রচারকে নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একইভাবে যাচাই ছাড়া এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকেও তাঁরা অনৈতিক ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন।নিসচার পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভানুধ্যায়ীদের আহ্বান জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো মৃত্যুসংবাদ দেখেই তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা নিশ্চিত করার পরই কোনো তথ্য প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’

    মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।

    নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।

    উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

  • গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

    গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

    যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি-বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আগস্টের ভিসা বুলেটিনে এসেছে বড় ধরনের অগ্রগতি। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার এফ-২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে ভিসা পাওয়ার সুযোগ।

    এফ-২এ ক্যাটাগরির আওতায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তান।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ-২এ ক্যাটাগরির ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এগিয়ে ২২ জুলাই ২০২৬ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই কাট-অফ তারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

    এই পরিবর্তনের ফলে যেসব বাংলাদেশি আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬-এর আগে, তাদের জন্য অভিবাসন ভিসা ইস্যু বা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ নির্ধারণ করে কোন অগ্রাধিকার তারিখের আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যু করা সম্ভব হবে। আর জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগতভাবে সীমিত পরিবারভিত্তিক ভিসা ক্যাটাগরিতে সাক্ষাৎকারের জন্য আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ কার্যকর অবস্থায় থাকতে হয়।

    ফলে আগস্টের এই অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আশার খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।

    উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

  • মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটক সাতজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোসা: আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) ও মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আটকদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি এপ্রোন, একটি খেলনা পিস্তল ও আটটি মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে।

    তিনি আরো জানান, এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।

  • বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।

    রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো— বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা উভয়ই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)-এর অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এ সময় একজন সাঁতারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় অপরজনকে ঝাপটিয়ে ধরলে একপর্যায়ে তারা দু’জনই পানিতে তলিয়ে যায়।

    এ সময় তাদের সাথে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশে আনা হবে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ (বিজি ৩৪০) ফ্লাইটে তাদের লাশ বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

    মারা যাওয়া ৯ জনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন– নওগাঁর মো. ফরিদ, মো. রুবেল প্রামানিক, মো. সোহেল রানা, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, আব্দুল জলিল সরদার, নাটোরের রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর মো. শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

    লাশগুলো তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে বিমানবন্দরের কার্গো গেটে হস্তান্তর করা হবে।

    গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা


    এম এ রহিম, চৌগাছা
    যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
    উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
    (২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
    এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
    ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
    খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
    মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
    বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
    চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
    চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
    হয়েছে।
    এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
    হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
    বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
    করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
    টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
    চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
    এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
    ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
    ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
    কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
    ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
    নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
    কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
    ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
    অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে রিফাত হোসেন (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শেখপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিফাত হোসেন উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে।

    স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিফাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন সাপে কেটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার চীনের গুয়াংজুতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা মধ্যাহ্নভোজ’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, জিয়াংসি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

    বুধবার বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত লাইসেন্স কেনো বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য ক্রয় হতে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

    সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট এ্যাস এবং লবণের মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

    বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ০১.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০.০৭.২০২৮ খ্রি.), কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১৭.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ: ২৪.১২.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ: ১৫.০৪.২০২৫ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১৪.০৪.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১০.০১.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১০.১২.২০২৮ খ্রি.) এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ

    নং-০২২০২৬)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী এসকল ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় এসকল পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে ।পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইর মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায়। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

  • বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসামি বিদিশার পক্ষে আতিকুর রহমান জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। মামলার বিচার শেষে বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের সাজা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

    ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ, নগদ টাকা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ ইমন আহম্মেদ (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ইমন আহম্মেদ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    র‍্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমন আহম্মেদকে আটক করা হয়।

    পরে তাঁর কাছ থেকে ৫৪২ বোতল স্ক্যার্ফ সিরাপ ও ১১০ বোতল উইনক্যারেক্স সিরাপ, মোট ৬৫২ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর হেফাজত থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা সিরাপগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এসব সিরাপ বাংলাদেশে এনে মাদক হিসেবে সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।

    র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিরাপ, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় আটক ইমন আহম্মেদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা

    নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হন। সবাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বিবাদপূর্ণ পাঁচটি গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন।

    সমাজসেবক চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।

    এছাড়া বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গ্রাম্য সংঘাত, হানাহানি ভুলে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন আর কোনো মারামারি করবেন না। হত্যাকান্ডে জড়াবেন না। দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচটি গ্রামের দ্বন্দ্বের জেরে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে ওই পাঁচগ্রামে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি কেউ করবেন না। এই মতবিনিময় সভায় পাঁচটি গ্রামে শান্তি অটুট রাখার জন্য নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে বিজয়ী করতে এবং গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হতো। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলে আসছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী বেশি মারামারি হতো। এসব সংঘাত আজ (মঙ্গলবার) থেকে অবসান হলো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রাথী ঘোষণা করলেন গ্রামবাসী।

    এদিকে গ্রাম্য হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হত্যাকান্ড এড়াতে পাঁচ গ্রামের মানুষের এককাতারে মিলিত হওয়াকে বিভিন্ন পেশার মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা-এ বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।

  • রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক আলোচিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত কোনো অপরাধের আসামিরা পার পায়নি; বরং পুলিশ অত্যন্ত যৌক্তিক সময় ও তৎপরতার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে এমন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি, যার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়, আর এটাই বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ’

    রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওই ঘটনাটি ঘটার পর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতভর অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এছাড়া ‘রামিসা হত্যা’ মামলাসহ বেশ কিছু আলোচিত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এত অল্প মেয়াদের মধ্যে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, যেকোনো দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া ব্যবস্থায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    তিনি আশ্বস্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিগগিরই এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেন তারা নিখুঁতভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে এবং এটি একটি প্রকৃত জনপ্রত্যাশিত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • দলের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

    দলের নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।

    সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

    চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে রুহুল কবির রিজভী সুস্পষ্টভাবে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত হয় এবং তদন্তে যদি সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে সমতার পরিচয় দিয়েছে এবং অঙ্গীকার রক্ষার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার অত্যন্ত সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।

    সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়নে বিরোধী দলের আনা ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের একটি ঢালাও মন্তব্য।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের কাজের ডাটা প্রসেস করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিচ্ছে।

    এছাড়া বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল কবে হবে-সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, কাউন্সিলের বিষয়টি নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে। তবে দিন, তারিখ ও মাস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ সময় সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান রিজভী। সামগ্রিক পরিস্থিতি খারাপ না হলেও এখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নির্দেশনা

    বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের মতো সিন্ডিকেট ও অনিয়মের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

    ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই এমওইউ কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে বলে ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত অনেক এজেন্সিকে তারা নিজেরাও চেনেন না।তার অভিযোগ, আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং এতে বড় ধরনের দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিন্ডিকেট বা এ ধরনের তৎপরতার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

    এদিকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় রোববার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এটিকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর চাহিদার জন্য অনুমোদন নিতে হবে এবং নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপর মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

    কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকারের পর কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগকর্তাকে লেভি বা সরকারি ফি পরিশোধ করে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে কর্মীর নিজ দেশে মালয়েশিয়ার দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

    এরপর অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সবশেষে ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহের পর কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন।

    নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য এবং অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির তালিকা জানতে মালয়েশিয়া সরকারের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

  • ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সবজি ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আলেফ (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আলেফ ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলেফ অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিলেন। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে সবজির চারা উৎপাদন এবং তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

    প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দনিজের নার্সারিতে চারাগাছে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটি আগলে রেখেছিলেন আলেফ। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি অসহায়। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা 

    সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা 

    ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) ২২ আগস্ট শনিবার তার ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। রাজধানীর আইসিসিবিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংস্থার প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

    বিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সুবর্ণজয়ন্তী উদ্ যাপন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিজের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম রবিন। তাঁকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

    বিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুল কাদের। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজের নির্বাহী পরিচালক ইকবাল আহাম্মদ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়রা আজম, ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) চেয়ারম্যান মুরশেদ আলম সরকার, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিএমডি ও সিবিও মো. জাহিদ হোসেন এবং বিজের মাইক্রোফাইন্যান্স পরিচালক ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।

  • ইউরোপে গতবারের চেয়ে ৩৫ হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু

    ইউরোপে গতবারের চেয়ে ৩৫ হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু

    চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে পরপর চারটি রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত বছরের গ্রীষ্মের তুলনায় অন্তত ৩৫ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। মহাদেশটির অর্ধেকেরও কম এলাকার অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনেই এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক জাতীয় হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যোগ হলে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    মে মাস থেকে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। শত শত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বকালের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। ফ্রান্সে জাতীয় গড় তাপমাত্রার হিসাবে সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মানিতে জুনের শেষ দিকে টানা তিন দিন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। ওই সময় দেশটির ৪৬টি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। স্পেনেও দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলোর তীব্রতাও বাড়ছে।

    সবচেয়ে বেশি মৃত্যু জার্মানিতে

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে জার্মানিতে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) গত সপ্তাহের শেষ দিকে জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গেছেন। শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের এক সপ্তাহেই ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরকেআই।

    ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা ইইউর অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর চলতি বছরের জুনের ওই সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হার দেখা গেছে। তবে ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারি তখনও সক্রিয় ছিল।

    রেকর্ড রাখা শুরুর পর জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যুর জন্য ২০২৬ সালই সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। এর আগে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, যখন ৮ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আরকেআই জানিয়েছে, স্বাভাবিক গ্রীষ্মে জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যু সাধারণত ২ হাজারের নিচে থাকে।

    স্পেনে আগের রেকর্ডও ছাড়িয়েছে

    স্পেনের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউটের মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, মে মাস থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে তাপের কারণে ৪ হাজার ৯৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সাল স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হয়ে উঠেছে। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে, যখন ৪ হাজার ৫২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

    তবে বিভিন্ন দেশ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব ভিন্ন পদ্ধতিতে করে। স্পেন ও জার্মানি তাৎক্ষণিকভাবে মডেল ব্যবহার করে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে কতজনের মৃত্যু তাপের কারণে হয়েছে, তা অনুমান করা হয়।

    এ ধরনের হিসাবের প্রয়োজন হয় কারণ মৃত্যুসনদে খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি ‘তাপ’কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকেই থাকা শ্বাসতন্ত্র বা হৃদ্রোগের মতো অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে, স্ট্রোক করে বা কিডনি বিকল হয়ে মারা যেতে পারেন।

    তাই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশ এখনো আগস্টের শুরুর দিকের মৃত্যুর হিসাবও প্রকাশ করেনি। জার্মানির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখ গত সপ্তাহে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সংখ্যাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় কম বলে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

    ফ্রান্সেও ভয়াবহ পরিস্থিতি

    ফ্রান্সে ৫০০ টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে দেশটির ৯৮ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় ছিল। ফ্রান্স প্রথমে সব ধরনের মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করে। পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কতজনের মৃত্যু তাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, তা নির্ধারণ করা হয়।

    দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিক থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩০০। তবে আগস্টের তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক এই হিসাব ইলেকট্রনিক মৃত্যুসনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশটির মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের তথ্য ধারণ করে।

    ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে

    ইতালির জাতীয় তাপপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থানীয় পৌরসভাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে। ফলে দেশটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর হিসাব প্রকাশে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। এখন পর্যন্ত ইতালি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করে অসম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক সূচক দিয়েছে।

    মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যেই ইতালিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন বেশি মারা গেছেন। মহামারিবিদরা বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব সম্পন্ন হলে ইতালিতে তাপের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ৮ হাজারের মধ্যে হতে পারে।

    যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত মৃত্যু

    ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জুলাইয়ে জানিয়েছে, তাদের মডেল অনুযায়ী মে ও জুনের তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২ হাজার ৮৭৭ জনের তাপ-সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে।

    বেলজিয়াম জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃত্যুহার ৩৯ শতাংশ বেড়েছিল। এর অর্থ ওই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জন মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, ২২ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ৯০০ জন বেশি মারা গেছেন।

    ইউরোপীয় কমিশনের উদ্ধৃত একটি দ্রুত মডেলিং গবেষণায় বলা হয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহের সময় পোল্যান্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় আরও ১ হাজার ৭০ জন মারা গেছেন। সুইজারল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একই সপ্তাহে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২০। লুক্সেমবার্গ, গ্রিস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ডেনমার্কের প্রাথমিক হিসাবেও প্রতিটি দেশে প্রায় ৪০টি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের যেসব এলাকায় ৮ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন, সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছিল।

    জলবায়ু সংকটের সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকি

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে জানিয়েছিল, গত ২০ বছরে তাদের ইউরোপীয় অঞ্চলে তাপজনিত মৃত্যুহার ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জলবায়ু সংকটের কারণে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকিও আরও বাড়বে।

    চলতি গ্রীষ্মের পরপর চারটি তাপপ্রবাহ সেই ভবিষ্যতেরই একটি ভয়াবহ পূর্বাভাস হয়ে উঠেছে। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া ৩৫ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাবও চূড়ান্ত নয়। আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

  • ৯৩৫ টন খেজুর ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

    ৯৩৫ টন খেজুর ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

    ৯৩৫ টন খেজুর ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। গত বছরের শেষ দিকে ৩৪টি কনটেইনারে এসব খেজুর আমদানি করা হয়। কিন্তু মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তা নিলাম করা যায়নি। তাই এখন খেজুর ধ্বংস করা হচ্ছে। একই কারণে ধ্বংস করা হচ্ছে কমলা, পেঁয়াজ ও কাজুবাদামও। গতকাল সোমবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ খবর দেওয়া হয়েছে।

    এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, খেজুর, কমলা, পেঁয়াজ, কাজুবাদাম, সোডা অ্যাশ, ফিড গ্রেড লাইমস্টোনসহ ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়। ধ্বংসের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে।

    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, গত বছরের শেষ দিকে খেজুরসহ অন্যান্য ফলের চালানগুলো আমদানি হয়। ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর এসেছে। মূলত প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন বা উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ বিভাগের মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় অর্থাৎ নিম্নমানের হওয়ায় এসব ফল খালাস করা হয়নি।

    তিনি আরও জানান, সোডা অ্যাশের চালান ২০১১ ও ২০১৩ সালে আমদানি হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নিলাম–অযোগ্য হয়। এর মধ্যে আছে ৪০ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ এবং ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইমস্টোন।

    এনবিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা এসব পণ্য নিলামের উপযোগী না হওয়ায় ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন জায়গা দখল হয়ে থাকে, অন্যদিকে পরিবেশ ও বন্দরের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়। ধ্বংস কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, আনসার এবং স্থানীয় বন্দর থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

    এনবিআর আরও বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের ফলে বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বন্দরের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিলাম-অযোগ্য ও ধ্বংসযোগ্য পণ্য পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

    চৌগাছায় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় কালো বাজারে পাচারের সময় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
    সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চৌগাছা পৌরসভার চাঁদপুর মোড় এলাকায় স্থানীয় জনগণ সারগুলো আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।

    স্থানীয়রা জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নসিমনে করে সারগুলো ঝিকরগাছার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নসিমনটি আটক করেন।

    খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছা শহরের ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম অবৈধভাবে সারগুলো মজুদ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সেখান থেকেই সারগুলো অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। পরে খাইরুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালানো হলেও দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন এঘটনায় সাইফুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।

    এদিকে, পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম।

    এর আগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের অবৈধ মজুদ ও পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি সার অন্যত্র পাচার হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সারের সংকটের মধ্যে সরকারি সার কীভাবে পাচার হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন?

    স্থানীয়দের দাবি, শুধু পরিবহনকারী বা নসিমন চালককে আটক না করে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদেরও তদন্তের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

  • বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বুধবার যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আসন্ন ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথসভা আহ্বান করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় করণীয় নির্ধারণের জন্যই মূলত এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। 

    মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। 

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্ধারিত প্রকল্পের আওতায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রস্ততকারকদের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার হলরুমে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ বিসিকের ডেপুটি ম্যানেজার সেলিনা রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ক্যামিকেল ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলাম,আমির হোসেন। প্রায় অর্ধশত উদ্যোক্তা অংগ্রহণ করেন এই কর্মশালায়। কর্মশালায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন ও মার্কেটে এর চাহিদা বাড়ানো এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য দেশের উল্লেখ্যযোগ্য বাজার দখল করে আছে মহেশপুর ইমিটেশন জুয়েলারি। এই উপজেলায় প্রায় ৬/৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে এবং প্রায় ২/৩ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। বক্তারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইমদাদুল হোসেন।

  • কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই খেলাপি ঋণ আদায়ের নির্দেশ সরকারের

    কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই খেলাপি ঋণ আদায়ের নির্দেশ সরকারের

    রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও শুধু গতানুগতিক পরিসংখ্যান বা কাগজ-কলমে হিসাবের পরিবর্তনের সন্তুষ্টিতে থাকতে নারাজ সরকার। সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের হার ১৬.৪ শতাংশে নেমে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, সুস্থ ও দক্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রকৃত মানদণ্ডে তা এখনো বেশি বলেই মনে করছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকটির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে এবং আর্থিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বাড়াতে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে—শুধু ঋণের শ্রেণি পরিবর্তন বা কৃত্রিমভাবে হিসাব সুন্দর (এভারগ্রিনিং) করার দিন শেষ; এখন থেকে কঠোর নজরদারি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত নগদ অর্থ আদায়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

    একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা যেন প্রকৃত ঋণ নিষ্পত্তি ও নগদ আদায়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, ঋণ দীর্ঘায়িত করার আরেকটি পথ হয়ে না ওঠে—সে বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এসব বিষয় তুলে ধরেন। বৈঠকে ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালন অবস্থা, সাম্প্রতিক অগ্রগতি, সমস্যা, ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে সরকার, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে খোলামেলা মতবিনিময়ই ছিল এর উদ্দেশ্য।বিজ্ঞাপন

    জানা গেছে, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ও সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের কতসংখ্যক ও কী ধরনের শ্রেণিকৃত ঋণ এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে, কত আবেদন পাওয়া গেছে এবং কতগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের তথ্য ও মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্পে অর্থায়ন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলেও এসব খাতে সোনালী ব্যাংকের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর গড়ের তুলনায় কম।

    ব্যাংকের বড় শাখা নেটওয়ার্ক, শক্তিশালী আমানতভিত্তি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প, কৃষি, নারী ও নতুন উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নয়; কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের দৃশ্যমান অবদান নিশ্চিত করা।

    জানা গেছে, যথাযথ যাচাই, নজরদারি ও সুশাসন ছাড়া দ্রুত ঋণ সম্প্রসারণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারে। তাই ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ, ব্যবসার কার্যকারিতা, খাত নির্বাচন, একই গ্রুপে মোট ঋণ এবং প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় ঋণের ক্ষেত্রে শুধু জামানতের ওপর নির্ভর না করে ঋণ পরিশোধের প্রকৃত সক্ষমতা বিবেচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    সোনালী ব্যাংকের আকার ও আর্থিক ব্যবস্থায় ভূমিকার কারণে এর সুশাসন অন্যদের অনুসরণ করার মতো হওয়া উচিত। পরিচালনা পর্ষদকে দৈনন্দিন ঋণ প্রশাসনে অতিরিক্ত যুক্ত না হয়ে কৌশল, নীতি তদারকি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ঋণ সুশাসন, ঝুঁকির কেন্দ্রীভবন, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ, বড় ঋণের মান, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা, পরিপালন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও পর্ষদের নজর প্রয়োজন।

    বড় শাখা নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ করে লেনদেন ব্যয় কমানো ও গ্রাহকসেবা উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। সরকারি অর্থ পরিশোধ, পেনশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রবাসী আয়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও খুচরা ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের পাশাপাশি কার্যপ্রক্রিয়া, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ব্যবস্থার সমন্বয়ও জরুরি।

    সভায় আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের অগ্রাধিকার হিসেবে খেলাপি ও ঋণ হিসাব থেকে বাদ দেওয়া ঋণ থেকে নগদ আদায় বাড়ানো, মানসম্পন্ন ঋণ দিয়ে অগ্রিম-আমানত অনুপাত যৌক্তিক পর্যায়ে নেওয়া, ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প, কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়ানো, টেকসই মুনাফা ও ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ এবং কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

    সোনালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরচিালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৮তম বিসিএসে (বিশেষ) আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন ও ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (নবনিয়োগ শাখা) সাবিহা ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর মাধ্যমে ১৮৪ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে প্রবেশপদে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের শর্তের মধ্যে রয়েছে— নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল আরও সর্বোচ্চ দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

    এর আগে ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত ২২ জানুয়ারি। ওই প্রজ্ঞাপনে ৩ হাজার ২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এতে সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার ৮২০ ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

  • রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মরহুম মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মরহুম রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।

    শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।

    তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি সুতার মিল থেকে এস এম তানিম (৩০) নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্বাস চেয়ারম্যানের একটি সুতার মিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তানিম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের খন্দকারবাড়ি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিলের ভেতরে একটি আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে তানিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা।

    পরে তাঁরা বিষয়টি আড়াইহাজার থানা-পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, তানিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    বন্ধ অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচলময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। এ সময় তিনি সহযোগিতার কথা জানান।

    বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।’

    তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন-পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।’

    আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’

    মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

    প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

    বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।

    সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।

    এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

    এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

    পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।

    বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।

    ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৩ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনারহাট বিওপি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, গরু, শাড়ি, চকলেট, বিড়ি, সুপারি, সবজি ও মাদক বিয়ার জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

    এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে এসব চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামালগুলোর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

    তিনি আরও জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী এরই মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ চলতি হিসাব, ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘মুদারাবা’ মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।

  • নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

    নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা, খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।

    প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এ পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

    পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও ভোক্তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।

    মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদাম সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।

    চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

    সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরো দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে।

    তিনি বলেন, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরো বেশি।

    ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করে বলে জানান তিনি।

    পণ্যের তালিকাও বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফয়সল আজাদ বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

    বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যু, স্থানান্তর বা অন্য কোনো কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত, নাম বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে।

    টিসিবি সরবরাহব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকেও এগোচ্ছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পান।

    পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে তাদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

    ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি ভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।

    নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। টিসিবি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যাতে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমে।

    তিনি বলেন, পণ্য ক্রয় বাড়ানো এবং বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোই সংস্থাটির লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, নতুন কোনো পণ্য চালুর আগে তারা জরিপ করেন। ভোক্তারা কোন পণ্য প্রয়োজন বলে জানালে তা সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। নতুন যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।