জাতীয় সংবাদ

  • নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির নলছিটিতে অটোরিকশার চার্জিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সজল চন্দ্র দেবনাথ (১২) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তাহসিন (৯) নামে আরও এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেওপাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওপাশা গ্রামের একটি অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত দুই শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    এতে তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেওপাশা গ্রামের বাবুল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে সজল চন্দ্র দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপর আহত শিশু তাহসিনের (৯) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।

    নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    টাওয়ার ছাড়াই মুঠোফোনে যোগাযোগের বাণিজ্যিক অনুমোদন চায় বাংলালিংক

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ কিংবা সাগরে থাকা মানুষকে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা চালু করেছিল বাংলালিংক। এ কার্যক্রম সফল হয়েছে দাবি করে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবা এবার বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে চায় অপারেটরটি। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলালিংক।

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি।

    যেভাবে কাজ করে ডিটুসি

    সাধারণ মুঠোফোনের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত ভূমিতে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল। ফোন থেকে পাঠানো সংকেত প্রথমে কাছের মোবাইল টাওয়ারে যায়। কিন্তু কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠায়। এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বার্তা বা ডেটা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। এ প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, সেবা পেতে আলাদা স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।

    প্রযুক্তিগতভাবে উপযোগী সাধারণ ফোর–জি মুঠোফোন ব্যবহার করেই সেবা নেওয়া সম্ভব। মোবাইল টাওয়ারের কভারেজের বাইরে গেলে ফোনটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে।

    কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

    কেন দরকার

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট মুঠোফোন গ্রাহক ১৯ কোটির কাছাকাছি। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক। অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার রয়েছে ২১ হাজার ৩৬৯টি। এর বাইরে সাত হাজারের বেশি টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে দেশের সব অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন। এসব এলাকায় নতুন টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক বেশি। ফলে কম জনসংখ্যার বা দুর্গম এলাকায় টাওয়ার স্থাপনে অপারেটরদের আগ্রহ কম থাকে।

    ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেখানে টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে সীমিত যোগাযোগসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে।

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। গত মে মাসে সরকার দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট (পিওসি) পরীক্ষার অনুমতি দেয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের বাইরে থাকা এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সাধারণ মুঠোফোনে মোবাইল সংযোগ দেওয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সময় বান্দরবান, সন্দ্বীপসহ নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়।

    বাংলালিংক বলছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার প্রদর্শনী করেছে বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সেখানে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং, ওটিটি ভয়েস কলসহ বিভিন্ন কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।

    সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে

    বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান

    বাণিজ্যিক অনুমোদন চেয়ে চিঠি

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলালিংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত এলটিই-সক্ষম মুঠোফোন কোনো বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি ডিটুসি সেবায় যুক্ত হতে পারে—পিওসিতে তা প্রমাণিত হয়েছে। এই ভিত্তিতে বিদ্যমান সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস অপারেটর লাইসেন্সের আওতায় প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি চেয়েছে তারা।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও অন্য সামুদ্রিক পেশাজীবীরা, যাঁরা বর্তমানে স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের কভারেজের বাইরে থাকেন, তাঁরাও এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলালিংক আরও জানিয়েছে, সেবা চালুর ক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত সব শর্ত ও নির্দেশনা মেনে চলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    জানতে চাইলে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করার পর আমরা এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।’

    স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এ সেবা চালাবে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস ও ডেটা সেবা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

    শুরুতে যে সেবা মিলবে

    বাংলালিংক সূত্র বলছে, বাণিজ্যিক অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভয়েস ও ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতেই সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিরেক্ট-টু-সেলের বর্তমান ব্যবহারে মূল সুবিধা হলো, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায়ও সীমিত ব্যান্ডউইথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

    নিয়ন্ত্রক অনুমোদনে প্রশ্ন

    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পরও বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসি বাংলালিংককে যে অনুমতি দিয়েছিল, তা ছিল শুধু পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য। সেই অনুমোদনকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না—এমন শর্তও ছিল।

    এর বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিরেক্ট-টু-সেল সেবার জন্য ব্যবহৃত স্পেকট্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আওতায় মুঠোফোন সেবার জন্য নির্ধারিত আইএমটি ব্যান্ড স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্সে (ডব্লিউআরসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক কাঠামোতেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিটিআরসির এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) স্যাটেলাইট সার্ভিসের গাইডলাইনে এই লাইসেন্সের আওতায় ‘স্যাটেলাইট ও স্থলভিত্তিক আইএমটি সেবা’ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইএমটি বলতে মূলত মুঠোফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও স্পেকট্রামকে বোঝায়।

    যদিও বিটিআরসির একটি সূত্র বলছে, ডিটুসি প্রযুক্তির বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন এখনো কমিশনের হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জের ধরে রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল ২২নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলা তুলে না নেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকালে বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা বেলা পৌনে ১১টায় অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে জুমার নামাজের কিছু আগে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

    এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে ২৩নং ওয়ার্ড বন্দরে কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ (২৮) ওই বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার শেখ সিফাত ২১নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বন্দরের বারপাড়া এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২) নবীগঞ্জ কদমরসুল ফকিরবাড়ি এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার আবদুস সোবহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার সুলাইমানের ছেলে সিয়াম (২৫), বন্দর চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার মাসুদের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৬) ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬)।

    এ ব্যাপারে নিহত বুলবুলের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিনকে বাদী করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বুলবুলের গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন জানান।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে চাপ প্রয়োগ করে তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে সড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাত ও তার আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

    তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

    দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটায় সমুদ্রতীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বেড়েছে ছাদ কৃষি ও সেই সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী। আর সেখানে অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো: সেলিম গাজী।অসময়ে থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রঙয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন সেলিম। সেই তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা। তার সাফল্য দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্যরাও।কথা হয় কৃষক সেলিম গাজীর সাথে। তার তরমুজ চাষ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর দিয়ে সার তৈরি করে তা দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজে বীজ চারা করি। এরকম ৫০টি থানা চারা ছাদে রোপন করি। প্রথম দিকে বৃষ্টিতে চারা নষ্ট হয়ে যায়। ২৫টি থানা চারা ভাল ছিল। তাতেই ৪০ পিছ তরমুজ হয়েছে।’

    তরমুজ বিক্রির টাকা তার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিটি তৈরিতে শুরুতে একসাথে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ হয় খুবই কম। এ ছাড়া আগাছা হয় না বলে পরিষ্কারের কোনো ঝামেলা নেই। দফায় দফায় সার দেয়ার ঝামেলাও নেই।’

    কৃষক সেলিম গাজীর ভাষ্য মতে, অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করে জৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে তিনি চারা রোপন করেন। ইউটিউবের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত এবং সার ও ওষুধ দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পান। এরপর প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ ছাদে চাষ করেন। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি খেত প্রস্তুত করেন।

    বর্তমান তরমুজ শেষ হলে সামনে ৫০ থানা জিওব্যাগের মাধ্যমে আরো বড় আকারে তরমুজ চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

    ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে একটি ছাদে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানা গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস গাজী বলেন, ‘সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি, নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন।’

    কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মালচিং পদ্ধতি তরমুজ চাষাবাদ করা ভালো। আর তরমুজ একটি লাভজনক ফসল।’

  • মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন

    মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পাঁচজন

    তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও পাঁচজন যুক্ত হতে যাচ্ছেন। যে পাঁচজনকে ঘিরে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাদের একজন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। নতুন মন্ত্রীদের বিষয়ে যে সূত্রটি তথ্য দিয়েছে, তার বর্ণনা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন আবদুল মঈন খান, হুমায়ুন কবির, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

    সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

    হুমায়ুন কবির বর্তমান সরকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর এই পদটি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

    আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।

    সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে জয়ী হন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

  • বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন এই বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা কার্যক্রম শুরু করল।

    বৃহস্পতিবার সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, আইনের ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করেছে সরকার।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

    নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি।

    তিনি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামে পরিচালিত হবে। নতুন টিম ও উইং গঠনসহ বাকি কাজ ধাপে ধাপে শুরু হবে।

    নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমের পর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করায় তারা আনন্দিত। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্ক দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবি থেকেই এই উদ্যোগের সূত্রপাত।

    তিনি বলেন, ইনভেস্ট বাংলাদেশকে সেই একক পয়েন্টে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য। এতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো সুসংহত, নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন।

    যেসব দায়িত্ব থাকবে

    নতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

    নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষে একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।

    নতুন সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।

    সম্পদ ও জনবলও হস্তান্তর

    একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করবেন।

    নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরো সমন্বিত করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

  • নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা

    নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা

    রাজধানীর বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। একই সঙ্গে ডিমের দাম বেড়ে ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার খরচ বেড়েই চলেছে। হিমশিম খাচ্ছেন সংসার চালাতে গিয়ে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র। বাজার ও এলাকাভেদে পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্যও দেখা যায়।

    মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

    মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে মিলছে। দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি।

    ইলিশের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

    ক্রেতারা বলছেন, ২৫০ টাকার নিচে এখন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি তেলাপিয়াও কেজিপ্রতি আড়াইশ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিক্রেতারা জানান, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যায়। যেদিন যেমন আসে সেদিন তেমন দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই এখন বড় অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। এক পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। অথচ আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।

  • গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলা, কাতারের সার রপ্তানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি না করা এবং গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহ সংকটে দেশে সারের মজুতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চাহিদা অনুযায়ী কারখানায় গ্যাস না পাওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এতে নিরাপদ সার মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন থেকে বর্তমান মজুত ক্রমেই তলানিতে নামছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানিতেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে মিসরের ইয়ানবু বন্দর হয়ে প্রায় ১২০০ মাইল ঘুরে সার আনতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় ও সময় দুই-ই বাড়ছে। এর সঙ্গে কাতার চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় তিন দেশের পরিবর্তে এখন দুই দেশনির্ভর আমদানিতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ করতে হয়। উৎপাদনে ঘাটতি ও বিলম্বে জাহাজ পৌঁছানো এবং কাতারের পিঠটান—এই তিন কারণে সার সরবরাহ চাহিদায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কমানোর লক্ষ্যে বিকল্প দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই থেকে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সার আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হলে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তখন কিন্তু আমন মৌসুমও শেষ হয়ে যাবে।

    সূত্র জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে বীজতলা ও চারা রোপণে আমনের এই ভরা মৌসুমে সার সংকটে ফসল উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এসব সংকটের মধ্যে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নিয়োগ করা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এর বিপরীতে নতুন নীতিমালার আলোকে সরকার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।

    পুরাতনদের বাদ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণ নিয়ে একধরনের জট তৈরি হয়েছে। কৃষির মাঠ অফিসের কর্মকর্তাদের দাবি, পুরোনো ডিলাররা বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া দুই ক্ষেত্রেই দাম বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে কৃষকের ওপর নতুন করে আর্থিক খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।

    দাম বৃদ্ধির কারণে শুধু সাতক্ষীরাতেই গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩ অসাধু সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সময় শেরপুর জেলায় ১৫ ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশেই একই চিত্র দেখা গেছে।

    এদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকা এবং ডিএপি ১০৫০ টাকা সরকার নির্ধারণ করেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তারা খোলাবাজার থেকে টিএসপি কিনছেন ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়। আর ডিএপির জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কৃষক ওয়ালিউল্লাহর অভিযোগ, দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক আবির আহম্মেদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের একাংশের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিলে অনেক ক্ষেত্রে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম বৃহস্পতিবার আমার দেশকে বলেন, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। কোনো এলাকায় চাহিদা কম থাকলে কিছু ডিলার সেই সার অন্য এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো ডিলার সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে নিজস্ব গোডাউন খালি রেখে খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রির চেষ্টা করছেন। এতে কৃষক ডিলারের দোকানে সার না পেলেও খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে পাচ্ছেন।

    এর আগে গত রোববার কৃষি সচিব সেলিম খান রংপুরে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা) যুগ্ম সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম গত রোববার আমার দেশকে বলেন, আমন মৌসুমে সারের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে সরকারি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নতুন নীতিমালার আলোকে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর থেকেই একটি অসাধু গোষ্ঠী ও কিছু ডিলার অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

    এদিকে রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, আগামী দুবছরেও দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না। বিসিআইসির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি বিকল্প হিসেবে দেশের বন্ধ তিনটি সার কারখানা চালু করা না যায়, তাহলে আমনের পাশাপাশি আগামী বোরো মৌসুমে সারের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। যার প্রভাবে কৃষিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ ২০ হাজার টন। এর সঙ্গে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে ৫ লাখ টন রাখতে হয়। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ৩১ লাখ ২০ হাজার টন। বর্তমানে দেশে ইউরিয়া মজুত রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩২৯ টন, যা নিরাপদ মজুতের চেয়ে মাত্র ৩২৯ টন বেশি।

    কদিন আগে এ মজুত ছিল প্রায় ৮৫ হাজার টন বেশি। কারণ, আগে যেখানে ১০ শতাংশ উৎপাদন ঘাটতি ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

    জানা যায়, বিদেশ থেকে মোট ১০ লাখ ২৯ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ৬০ হাজার টন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

    বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ঘোড়াশালের পলাশ ও শাহজালাল সার কারখানা প্রায় ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। দুটি কারখানা প্রতিদিন এক লাখ টনের ওপরে উৎপাদন করছে।

    বিসিআইসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুর রেজা আমার দেশকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আরো কয়েকটি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া আশুগঞ্জসহ কয়েকটি কারখানা চালু করা সম্ভব হলে দেশে সার উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর চাপ কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

    তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরিয়ার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মজুত নিরাপদসীমার নিচে রয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ডিএপি মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৫৩ টন। নিরাপদ মজুতের জন্য প্রয়োজন ৫ লাখ টন। অর্থাৎ, ঘাটতি ১ লাখ ৯৭ হাজার টন। টিএসপির মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৪৭৯ টন। নিরাপদ মজুত প্রয়োজন ৪ লাখ টন। ঘাটতি ৯৬ হাজার টন।

    অন্যদিকে এমওপির মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬২৩ টন। নিরাপদ সীমা ৩ লাখ টন হওয়ায় ঘাটতি ১ লাখ ৩৯ হাজার টন। এ ঘাটতি দিন দিন বাড়বে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬২ হেক্টরে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০,৫৭৬ টন।

    বিসিআইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সার উত্তোলন করেন। এরপর জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির তত্ত্বাবধানে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করার কথা। ফলে কোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ ও পরিবহন ঝুঁকি থাকায় একাধিক উৎস থেকে সার সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে কোনো একটি দেশ বা সরবরাহ রুটে সমস্যা হলেও বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি করা সম্ভব হবে।

    তবে ইউরিয়া সরবরাহে আমদানিনির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন তারা।

  • ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে ঠেলা জালে ধরা পড়ল ইলিশ

    ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে ঠেলা জালে ধরা পড়ল ইলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ঠেলা জালে অবিশ্বাস্যভাবে ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচার চর এলাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তি নিকটবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদে ঠেলা জাল দিয়ে ছোট মাছ ধরতে গেলে জালে অন্যান্য ছোট মাছের সাথে একটি ইলিশ মাছও ধরা পড়ে। ইলিশটি ৬ থেকে ৭ শ’ গ্রাম ওজনের। মাছটি দেখতে একটু লম্বাটে।

    ইলিশ মাছ সাগর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর মাছ হিসেবে পরিচিত বলে ব্রহ্মপুত্র নদে এই মাছ দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছেন।

    ইলিশ মাছটি ব্রহ্মপুত্রে কিভাবে এলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও মৎস্য বিজ্ঞানী ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘ইলিশ ডিম দেয়ার জন্য সাগর থেকে মেঘনা নদীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে পরিভ্রমণ করে। মেঘনা নদীর সাথে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সংযোগ থাকায় সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে হয়তো পথ ভুলে ইলিশ মাছটি এখানে চলে এসেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ মাছের খাবার উপযোগী প্লাঙ্কটনের উপস্থিতি কম থাকায় এই মাছটি খেতে মেঘনার ইলিশের মতো এতটা সুস্বাদু হওয়ার কথা নয়।’

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না?

    দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদকে হারিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং এই পদের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে নতুন করে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠেছে, সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক হয়েও রাষ্ট্রপতি আসলে কী করতে পারেন আর কী পারেন না?

    এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে বিবিসি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদটির ভূমিকা অনেকটাই ‘আলংকারিক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মূল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতে, আর রাষ্ট্রপতি হন কেবল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান।

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা জানায়, রাষ্ট্রপতি কেবল দুটি কাজ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে করতে পারেন। আর এই কাজ দুটি হলো, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব কাজ সম্পাদনে রাষ্ট্রপতিকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। সংসদ আহ্বান করা, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, বিলে সই করা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা বা ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ চূড়ান্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী আসলেই রাষ্ট্রপতিকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে দেশের কোনো আদালতও প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো ক্ষমতা নাই।’ তিনি মনে করেন, শাসন ব্যবস্থায় যারা বাস্তবে ক্ষমতায় থাকেন, তাদের ইচ্ছার বাইরে রাষ্ট্রপতির তেমন কিছু করার সুযোগ থাকে না।

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষমতার মূল উৎস

    কাগজে-কলমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ বা আপদকালীন পরিস্থিতিতে এই পদটিই হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার মূল উৎস। বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি ক্ষমতার নেপথ্যে থাকা কোনো শক্তি, আন্তর্জাতিক চাপ বা সমর্থন থাকে, তবে রাষ্ট্রপতি অনেক সময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

    অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ক্ষমতার আড়ালে থাকা খেলোয়াড়রা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে যদি কিছু করাতে চান, তাহলে ওনার অনেক ক্ষমতা। উনি সেনা সমর্থিত সরকার আনতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন, সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।’

    এছাড়া সংবিধানই রাষ্ট্রপতি পদকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। অর্থাৎ,অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে যেমন কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তেমনি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা যাবে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সব বিধিনিষেধের ঊর্ধ্বে উঠার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতিরই আছে। তার যেকোনো উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে না কেউ।

    ঐতিহাসিক সংকট ও রাষ্ট্রপতিদের ভূমিকা

    সংসদীয় পদ্ধতি চালু হওয়ার পরও বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বেশ কয়েকটি সংকটময় মুহূর্ত এসেছে, যখন রাষ্ট্রপতিকে একক বা স্বাধীনভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বিবিসি বাংলার সংকলিত তথ্যে এমন কিছু নজির উঠে এসেছে।

    ১৯৯৬ সালের সেনা বিদ্রোহ প্রতিহতকরণ: ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাথে তৎকালীন সেনাপ্রধানের তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেনাপ্রধানের নির্দেশে ঢাকায় সৈন্য সমাবেশ করার চেষ্টা করা হলে রাষ্ট্রপতি অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেন এবং সেনাপ্রধানকে অব্যাহতি দিয়ে আটক করা হয়।

    সাহাবুদ্দীন আহমদের দৃঢ়তা: ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ‘জননিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান, যা সরকারের সাথে তার তিক্ততা তৈরি করে। পাঁচ বছরের মেয়াদে তার নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ছিলেন।

    বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ: ২০০২ সালে বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে তার দল জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে কবরে শ্রদ্ধা না জানানো এবং স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করার জেরে মাত্র ৭ মাসের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করে ।

    ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ: ২০০৬ সালে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রয়োগ।

    দলীয় আধিপত্য বনাম ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দলীয় আধিপত্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে তার স্বাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে দেওয়া হয় না, কারণ দলগুলো সবসময়ই তাদের অনুগত বা পছন্দের ব্যক্তিকে এই পদে বসাতে চায়।

    অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাষ্ট্রপতি, যদি তিনি কাজ করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তা করতে দেওয়া হয় না। দলগুলোই রাষ্ট্রপতিকে পদে বসায়, তাই তিনি স্বাধীন নন।’

    একই সুর শোনা যায় লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের কণ্ঠেও। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একসময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতি চালুর পর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংকুচিত করা হয় এবং দলগুলো তাদের অনুগতদেরই এই আসনে বসাতে পছন্দ করে। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষতার পুরো বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এবং তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ধরনের ওপর। নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য বজায় রাখার এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত বাংগালপাড়া-চাতলপাড় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এখন সীমাহীন ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

    অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার কথা। হাওরাঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই রূপের কারণে সারা বছর সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সাথে বছরজুড়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭৮ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    শুরুর দিকে দ্রুত গতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে আসে প্রকল্পটিতে।

    একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করা শুরু করে। বর্তমানে নদীর বুকে সেতুর মাত্র কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

    ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার কিংবা নৌকাই একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সঙ্কটাপন্ন রোগীদের। এতে সারাদেশের সাথে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

    সেতুটি চালু হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি পণ্য সহজে সারা দেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

    এদিকে হাওরাঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার কাজ চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

  • সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    অমর নায়ক সালমান শাহর জীবনী নয়, তাঁর মৃত্যুরহস্যও নয়। বরং নব্বইয়ের দশকে এই নায়ককে ঘিরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ আর ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    নির্মাতা জানান, সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দুদিন আগে মুক্তি দেওয়া হবে সিনেমাটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর ভক্তদের মধ্যে যে গভীর শোক ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, সেই সময়কেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এ।

    গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। নির্মাতা ইভান মল্লিক বলেন, ‘সিনেমাটি যেহেতু সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।’

    সিনেমটির গল্পে উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের সেই চেনা সময়। ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা দেখা, ভিউকার্ড সংগ্রহ, ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা রেডিওতে পছন্দের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা—সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এসব স্মৃতির আবহেই এগিয়েছে গল্প।

    সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে সালমান শাহর। অভিনয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিক উপস্থিতিতে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় নায়ক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। প্রিয় নায়ককে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন।

    সেই সময়ের আবেগ, সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এবং এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।

    রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।

    ইভান মল্লিক বলেন, ‘অডিশনের মাধ্যমে একেবারে নতুন দুজনকে নির্বাচন করেছি। অডিশনের ক্ষেত্রে পরিচালক সমিতিও সহযোগিতা করেছে। “লাভ ৯৬” পুরোপুরি রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা। দর্শকরা টানটান উত্তেজনা পাবেন। আমি মনে করি, এই চলচ্চিত্রটি দেখলে প্রত্যেক সালমান শাহ ভক্তই নিজের কোনো না কোনো অনুভূতিকে খুঁজে পাবেন।’

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

    এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফল আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি প্রকাশ করা হতে পারে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান।

    তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আর চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। পরিকল্পনা রয়েছে- আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করার। শিক্ষাবোর্ডগুলো এ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।

    গত ২ জুলাই চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে ফরম পূরণ করেছে। এবার সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে।

    আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা গত ৮ আগস্ট শেষ হয়েছে। তবে বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এ বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা ৮ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

    এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের বিশেষ পরীক্ষা আগামী ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

  • তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
    স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মহড়া থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শিরোনামের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। তবে নয়াদিল্লি কিংবা ঢাকা- কোনো পক্ষই তখন পর্যন্ত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এরপরেই দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়।

    বিকেল ৩টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো নতুন এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।
    দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এটি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাধারণত তিন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথির আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব থাকে।

  • বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২)। শুক্রবার ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আনাসের।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাসের সাথে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।

    আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিলন হোসেন বলেন, ‘স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।’

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

  • কর্মক্ষম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার আহবান মাহদী আমিনের

    কর্মক্ষম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার আহবান মাহদী আমিনের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শুধু সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না তুলে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, তারা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তর ও গুণগত মানোন্নয়ন করার লক্ষ্যে সাভারে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল রেখে কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অন-ক্যাম্পাস পার্টটাইম চাকরির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়াও ব্রেইন ড্রেইন বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

  • রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানী ঢাকায় যানজট বেশ পুরনো সমস্যা। এতে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেলেনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধান। তবে সম্প্রতি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার ব্যবহার কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উদ্যোগ নিয়েছে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর।

    সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশ কমে আসবে বলে আশা করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্ত করেন এ আশাবাদ।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তার ভাষ্য, পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে, এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, ড্রোনে যদি অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে অফিসে বসে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ঢাকায় বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থামে না। বাসের কন্ডিশন অনুযায়ী ‘পার ডে’ তারা মালিককে টাকা দেয়। এই টাকা দেওয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন করে তারা। কম্পিটিশনের কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের পুরো রাস্তা ব্লক করে দেয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, উন্নত দেশগুলোয় নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে— সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকার প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। এটা যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন— এই দুটি কাজ যতদিন আমরা যথাযথভাবে করতে না পারব, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

    ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান জানালেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন— কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’

    ‘ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তবে এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব’, যোগ করেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তা।

    ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডাটা সরাসরি পাওয়া যাবে কি না— জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বললেন, একদম রিয়েল টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব। তবে, এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো লাগবে। কারণ এগুলো সবই হচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস দরকার, অবকাঠামো দরকার। এগুলোর জন্য ব্যয় আছে।

    ড্রোন পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দরকার আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা এরই মধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    এ প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে চ্যালেঞ্জের কথা জানাতে গিয়ে আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।

    ‘আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কি না। আপাতত কাজ করছে। তবে সমস্যা যে নেই, তা নয়। সমস্যা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। তবে এই অভ্যাস তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে। আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। যদি কোনো নেতিবাচক দিক দেখা যায়, তাহলে এটি চালু করা হবে না’, যোগ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • ২৩ আগস্ট ঢাবির কালো দিবস, স্মরণে নানা কর্মসূচি

    ২৩ আগস্ট ঢাবির কালো দিবস, স্মরণে নানা কর্মসূচি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘কালো দিবস’ আগামী ২৩ আগস্ট। দিবসটি উপলক্ষে নানান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাবি প্রশাসন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ২০-২৩ আগস্ট ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনার্ত ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে দিবসটি প্রতিবছর পালন করা হয়।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাবি জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৩ আগস্ট রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া, সকাল ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

  • বন্দে মাতরম নিয়ে বিজেপির কেন এত আগ্রহ?

    বন্দে মাতরম নিয়ে বিজেপির কেন এত আগ্রহ?

    জেন–জি ও জেন আলফার অসন্তোষ, তাদের সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং উজ্জীবিত কংগ্রেসের মোকাবিলায় বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি সরকার বন্দে মাতরমকে আঁকড়ে ধরছে। প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে তারা কংগ্রেসের দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলতে শুরু করেছে, দলটা নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। তারা বলছে, ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে কংগ্রেস যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি থেকে সরে আসেনি, বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে তাদের ভূমিকা আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।

    ধর্মীয় মেরুকরণের যে রাজনীতি বিজেপিকে দেড় দশক আগে ক্ষমতাসীন করেছে, বেশ বোঝা যাচ্ছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার সেই রাজনীতিকে আঁকড়েই তারা আগামী দিনের রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে চায়।

    বিজেপিকে এই সুবিধা করে দিয়েছে কংগ্রেসই। গত বুধবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দলীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে তারা বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে। পুরো গান গাইবে না।

    এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। বলা হয়েছে, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে পরামর্শের পর মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলসহ শীর্ষ নেতারা বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

    স্বাধীনতার পর ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান পরিষদের শেষ বৈঠকে বন্দে মাতরমকে ‘জাতীয় গান বা রাষ্ট্রীয় গানের’ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং বলা হয়, তা জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’–এর সমান সম্মান পাবে।

    কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এই ব্যাখ্যা শুনিয়ে বলেছেন, ওই দুই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কংগ্রেস ঠিক করেছে, দলীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে। কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, জাতীয় সংগীত ও রাষ্ট্রীয় গান কংগ্রেসের কাছে এক আবেগ। বিজেপি দলীয় স্বার্থে তা নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে।

    বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেসের যুক্তি

    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম রচনা করেছিলেন ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ওই গানের দেড় শ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বছর ধরে দেশজুড়ে বিজেপি নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

    চলতি বছর সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই উপলক্ষে মোদি সরকার জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল পাস করায়। ওই বিলে জাতীয় সংগীতের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয় জাতীয় গানকে। নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী গানটি গাইতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হলে বা অমর্যাদা করা হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাবাসের বিধান রাখা হয়েছে।

    সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানে গানটি পুরো গাইতে হবে। বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা এই গানটির মোট স্তবকের সংখ্যা ছয়। নতুন আইনে ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বন্দে মাতরম গানে দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রথম দুই স্তবকে মাতৃভূমির প্রাকৃতিক রূপের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী স্তবকগুলোয় দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ আছে। মুসলিম লিগ তাতে আপত্তি জানায়।

    সেই আপত্তি আমলে নিয়েই সুভাষচন্দ্র বসু চিঠি লেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। রবীন্দ্রনাথই পরামর্শ দেন প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার বিষয়ে, যেহেতু ওই দুই স্তবক দেশাত্মবোধক ও সর্বজনগ্রাহ্য এবং পরবর্তী স্তবকগুলোয় ধর্মীয় অনুষঙ্গ রয়েছে।

    গত শনিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন কংগ্রেস সদর দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বন্দে মাতরম পুরো গাওয়া হয়। কিন্তু কোনো কোনো ভিডিওতে দেখা যায়, পরবর্তী স্তবকগুলো গাওয়ার সময় সোনিয়া গান্ধী দলীয় কর্মীদের কিছু বলছেন। সোনিয়ার পাশে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রাহুল গান্ধীও সামান্য তফাতে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও নিয়ে বিজেপি সরব হয়। কেন সোনিয়া উসখুস করছিলেন, খাড়গে কেন কথা বলছিলেন, কেন জাতীয় গানকে মর্যাদা দেননি—এসব নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলতে থাকে। দেশের সাংস্কৃতিক চেতনা, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবোধ নিয়ে কেন কংগ্রেস নেতাদের অস্বস্তি অথবা আপত্তি, তা তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে কি না, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

    গত সোমবার গোয়ায় কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানেও মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতিতে বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানেও খাড়গে ব্যাখ্যা করেন, কেন দলীয় অনুষ্ঠানে তাঁরা প্রথম দুই স্তবকই গাইবেন।

    বিজেপি নেতারা ক্রমেই বলতে থাকেন, কংগ্রেসের কাছে জাতীয়তাবোধের চেয়ে মুসলিমদের আপত্তি চিরকাল প্রাধান্য পেয়ে এসেছে, এখনো তা অব্যাহত। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত আশ্চর্যজনক ও দেশবিরোধী। তাদের মুসলিম তোষণনীতিই দেশভাগের কারণ। এখনো তারা সেই তোষণের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ নরেন্দ্র মোদি ঐতিহাসিক ভুল শুধরে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

    হিন্দুত্ববাদী নেতা শাহর কথায়, কংগ্রেস শুধু বঙ্কিমচন্দ্রকেই অসম্মান করছে না। বন্দে মাতরম গাইতে গাইতে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, জেলে থেকেছেন, তাঁদেরও অপমান করছে।

    বিজেপি শুধু প্রশ্ন তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে। কেউ কেউ কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন আইনে অভিযোগও দাখিল করেছেন। বিতর্ক অব্যাহত আছে।

  • শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়া শেষে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

    এ সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় সমাধি প্রাঙ্গণে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

    রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখানে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।

  • চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত কনিকা মন্ডলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কনিকা মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আমি এখানে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং সরকার থাকবে। ’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবেন।

    এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কনিকা মন্ডলের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার ওসি আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)।

    অপারেশনের পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।

    দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডলের মৃত্যু হয়।

  • রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    জোড়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। আর রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে।

    বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে আসবেন। তারপর সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করবেন।

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

    বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করার জন্য বসবেন। এ সময় দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ তখন থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন। এ সময় মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন।

    শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর আছে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার সদস্যের শপথ পাঠ করাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। তাঁদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।

  • মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, শপথ আজ

    মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, শপথ আজ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরো চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। আজ রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় আরো রদবদল হতে পারে। এর অংশ হিসেবে বিমান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের দরবার হলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, শপথ অনুষ্ঠানের সব আয়োজন শেষ হয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

  • গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে পাচারকালে ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যান আটক করেছে স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো উদ্ধার করে এবং অটোভ্যান চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে উদ্ধার করা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধানখোলা বাজার থেকে আজান যাওয়ার পথে ধানখোলা ইউনিয়নের যুগিন্দা বাজার থেকে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি গাংনী উপজেলায় সারের সঙ্কট দেখা দেয়ায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সার পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা যুগিন্দা বাজারে সারবোঝাই একটি অটোভ্যান আটকিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০ বস্তা সার উদ্ধার করেন। এ সময় অবৈধভাবে সার পরিবহনের অভিযোগে অটোভ্যানচালক শাহাবুল ইসলামকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। অটোভ্যান চালক থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার যেন কোনোভাবেই অন্যত্র পাচার না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

  • প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওতে দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনের পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা খাইয়ে দিয়ে দেশব্যাপী সবার মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী।প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে জোর দিলে মানুষ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমে আসবে।

    কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা দূর করতে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, এটি একটি সহজে গ্রহণযোগ্য ওরাল (মুখে খাওয়ার) ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিটি মানুষের কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সব সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকাদানকে একটি কার্যকর ‘সামাজিক আন্দোলনে’ রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু টিকাই নয়, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পান করা, রান্না এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আংদিয়া চড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সুরুজকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমের ছোট ভাই আলম ও অনলাইন জুয়ার ডিলার তপুর কাছে কমিশনের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলমের সঙ্গে তার ভাতিজার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা পাওনা টাকা দাবি করলে আলম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তপু গুলি চালালে সুরুজ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

    মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই জুয়ার টাকাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

  • যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক লোকসমাজের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হানিফ ডাকুয়াকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যশোরের সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    হানিফ ডাকুয়া অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাজী রুহুল আমিন (৬৮), পিতা-মৃত তফসির উদ্দিন বিশ্বাস, সাং-নাজির শংকরপুর, বর্তমান ঠিকানা-রেল রোডের শাহানাজ হোটেল, কোতোয়ালী থানা, যশোর তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জীবননাশের হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ঘটনায় হানিফ ডাকুয়া গত ১৮ আগস্ট যশোর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর-১৬১৬। তিনি জানান, হুমকির পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

    এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

    অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সভাপতি গোপীনাথ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এম আর খান মিলন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন সাংবাদিককে এভাবে মোবাইল ফোনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    হানিফ ডাকুয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ‘ডাকুয়া রিয়েল এস্টেট সেল লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী।

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোর্স

    সাংবাদিক মহল বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    তারা হানিফ ডাকুয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর জহুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙা মোড়ের প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রিকশাচালক জহুরুল ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায়। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে ঘুঘুমারী এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে বালিজুড়ী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম। পথে আমলীতলা এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

    এদিকে আমলীতলা এলাকার সড়কের পাশে অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। অটোরিকশাটিতে মরিচের গুঁড়া পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে মাথাভাঙা মোড়ের পশ্চিম পাশে ডোবায় একটি লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা লাশটি জহুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশাচালক জহুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটি উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জহুরুল ইসলামকে কোথায় এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার সাথে কারা জড়িত— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর আগে তিনি বঙ্গভবনের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন

  • সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা সরকারি চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চালগুলো জব্দ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. মোসলেম সরকারকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রাম থেকে চালগুলো আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন চালবোঝাই একটি গাড়ি আটক করে বিষয়টি পুলিশ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জব্দ করা চালের প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে চাল রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, অসহায়দের মধ্যে বিতরণ না করে এসব চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চাল পরিবহনের সময় ডিলার মোসলেম সরকারের সহযোগী আসাদুল্লাহকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালগুলো গৌরীপুর থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে গাড়িচালক জানান, দড়িচরের ডিলারের গোডাউন থেকে চালগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছে এবং দুলালপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, চালবোঝাই গাড়িটি সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা আটক করেন। পরে খাদ্য কর্মকর্তাকে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, চালগুলো দুলালপুর বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

    এদিকে সরকারি চাল আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম (হিমেল) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মো. মোসলেম সরকারকে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই, তাদের পরিচয় তারা অপরাধী।’ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অনিয়ম করার জন্য নয়। এ ঘটনায় মোসলেম সরকারকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসলেম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

    হোমনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাল আটকের খবর দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোসলেম সরকারের ডিলারশিপ বাতিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সরকারি চাল অন্যত্র পাচারের অভিযোগে বাদী হয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।’

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন ২৫ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা সরকারি চাল আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে চালগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা বের করা হবে।

  • বেন-গভিরের নিন্দায় জার্মান চ্যান্সেলর

    বেন-গভিরের নিন্দায় জার্মান চ্যান্সেলর

    ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার আহ্বান জানানোর ঘটনায় ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। তিনি বেন-গভিরের বক্তব্যকে অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান সরকারের উপমুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিলে এ কথা জানান।

    সেবাস্তিয়ান বলেন, ‘চ্যান্সেলর বেন-গভিরের অমানবিক আহ্বানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    হিলে জানান, গত জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া উগ্রপন্থী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তুতের বিষয়ে ইইউ নেতারা একমত হয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনানুষ্ঠানিক ‘জিমনিখ’ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাস এ বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তাব দেবেন।

    সম্প্রতি এক পডকাস্টে বেন-গভির গাজায় ইসরাইলি হামলা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার কথা বলেন এবং গাজায় ইসরাইলিদের পুনর্বাসনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মন্তব্যের পর জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • কাঠবিড়ালির আক্রমণে অস্তিত্ব সংকটে সবজি ও ফল-ফলাদি

    কাঠবিড়ালির আক্রমণে অস্তিত্ব সংকটে সবজি ও ফল-ফলাদি

    কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের নাঙ্গলকোট, লালমাই ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র ক্ষুদে হিংস্র প্রাণি কাঠবিড়ালীর ভয়াবহ আক্রমণে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছে সবজি ও ফল-ফলাদি বাগান।

    প্রতি মিনিট সময়ে প্রায় ১০০/১৫০ ফুট লাফিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছে বেড়ানো কাঠবিড়ালী [গ্রামীণ নাম ছলা হিসাবে পরিচিত] এখন শুধু এ সম্পদগুলোই খাচ্ছে না বরং প্রতিনিয়ত খেয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের প্রত্যাশাকে।

    জেলা দক্ষিণাঞ্চল উপজেলাগুলোর একাধিক লোকজন জানায়, এ অঞ্চলে গ্রামীণ ফলজ নারিকেল, ডাব, পেয়ারা, বরই, আমড়া, আতা ও আনার ফল-ফলাদি থেকে শুরু করে সীম, লাউ, কুমড়া ও শসা সহ নানান ধরনের সবজি ও ফল-ফলাদি খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে।

    ওদের প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বাগান মালিকরা। প্রাথমিক ভাবে সাধারণ মানুষ হিং¯্র কাঠ বিড়ালীর বেপরোয়া অত্যাচার থেকে বাগানের ফসল রক্ষার্থে টিন দিয়ে শব্দ বাজানোর মতো ফাঁদ তৈরি করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।

  • মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করে আবেগে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তার গোলে ইন্টার মায়ামি এগিয়েও গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান।

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে সুবারু পার্কে ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ১২ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে ফিলাডেলফিয়ার কুইন সুলিভান ও মায়ামির ইয়ান ফ্রের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। কুইনকে ফাউল করা হয়েছে, এমন অভিযোগ থেকেই দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

    ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন কাভান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভানের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রেফারি ফিলিপ দুজিচ দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ঘটনার শুরুতে জড়িয়ে পড়া কুইন সুলিভান অবশ্য লাল কার্ড দেখেননি। তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন কাভান। পুরো ম্যাচ খেললেও আক্রমণে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ৩৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে মায়ামির গোলমুখে একটি চেষ্টা করেছিলেন কাভান, তবে সেটি রুখে দেন গোলরক্ষক ডেইন সেইন্ট ক্লেয়ার। কুইন অবশ্য শুরু থেকে একাদশে ছিলেন না। ৬৮ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের ১১ মিনিটে এই ভাসিলেভই ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন।

    এদিকে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে কুইনের কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কুইনের মাথার পেছনে হালকা চাপড় দিতে দেখা যায় মেসিকে। বিষয়টি বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান পরিবারের ফুটবল গল্প অবশ্য এখানেই শেষ নয়। কাভান ও কুইনের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে এ বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ডেকলান টুর্নামেন্টে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ না পেলেও রোনান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছিলেন রোনান। পরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টিতে পানেনকা শটে গোল করে তাঁ জার্সি খুলে উদ্‌যাপনের দৃশ্যও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয়।

    এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ড্র করেও এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ৩ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৯। ২০ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।

  • কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্ত ওই নারীর নাম চাম্পা আক্তার (৪৮)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিন্দ্রীপ গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী। তিনি নিহত হালিমার মেয়ে এবং মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য জানান।

    পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে সিন্দ্রীপ গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী হালিমা। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মেয়ে চাম্পা আক্তার প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে, পরে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর হয়।

    মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বাদী চাম্পার ভূমিকা সন্দেহজনক মনে হয় পিবিআইয়ের। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, প্রতিশোধ নেয়া এবং প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হালিমাকে হত্যা করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আক্তার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এছাড়া হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত কি-না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার ও নবী হোসেনসহ পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

    তাই রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

    এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৬ সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য প্রার্থী দেওয়ায় এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শেষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?

    সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।

    দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা

    সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন।

    তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না বা দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

    দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা

    রাষ্ট্রপতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে এ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা বা কমাতে পারেন।

    রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি

    দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

    তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

    অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে তার পদ শূন্য হয়।

    শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

    মেয়াদ পাঁচ বছর

    রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। একইভাবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

    আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না।

    কীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন

    বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন।

    একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করেন। একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

    রাষ্ট্রপতির আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট-এ। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

    প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অবসর নিলে সাধারণভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো সরকারি সুবিধা পান না। রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু সরকারি সুবিধা বহাল থাকে।

    রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।

    বঙ্গভবন, গাড়ি ও সরকারি সুবিধা

    রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ভবনটির সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ভাতাও তিনি পান।

    বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল

    রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। বছরে এই তহবিলের পরিমাণ ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যয় করা যায়।

    রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।

    রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধা রয়েছে, যার বর্তমান পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।

    অর্থাৎ বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা রয়েছে।

    রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান নন

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি হলেও সরকারের প্রধান নন। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

    সংসদে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। কিন্তু কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটির সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় তার নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। রাষ্ট্রপতির প্রধান ভূমিকা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা; আর সরকারের কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।

  • জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

    জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

    ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন পর্ব শেষে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে বিএনপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রপ্তানিকে গতিশীল করা। সেই পরীক্ষায় দেশের রপ্তানি খাতের চিত্রে যেমন ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে, তেমনি জ্বালানি সংকটে প্রবৃদ্ধির দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকটে রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৬,৩৪০ কোটি (৬৩.৪ বিলিয়ন) ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫,৫২০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮২০ কোটি ডলার আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সম্প্রতি এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্জিত রপ্তানি আয়ের তুলনায় নতুন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশি ও বৈশ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ উচ্চাভিলাষী।

    নতুন লক্ষ্যমাত্রায় পণ্য রপ্তানির সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে তৈরি পোশাক খাতের। এ খাত থেকে ৪,৪৫০ কোটি ডলার আয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩,৮৭০ কোটি ডলার।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানি থেকে ৫,৫০০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ওই অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬,৩৫০ কোটি (৬৩.৫ বিলিয়ন) ডলার। তবে বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি আয় কম হওয়ায় তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। দেশে ইতোমধ্যে গ্যাসের সংকট নতুন করে আবার তীব্র হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে চাহিদা কমায় পণ্যের মূল্য বাড়ছে না। এ অবস্থার মধ্যে সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি খাত স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বরং মাসভেদে ক্রয়াদেশ, বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা ও শিপমেন্টের ওপর নির্ভর করেই রপ্তানি আয় ওঠানামা করছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-জুলাই ছয় মাসে রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ২৪.০৮ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ২০২৬ সালের একই সময় আয় হয়েছে ২৪.৩০ বিলিয়ন ডলার। ফলে ছয় মাস শেষে প্রবৃদ্ধি খুবই সামান্য—প্রায় ০.৯ শতাংশ। অথচ এ সময়ের মধ্যে দুই দফা বড় পতন এবং দুই দফা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় হয় ৩.৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের ৩.৯৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম। দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় মাসটিতে বড় ধাক্কা খায় রপ্তানি। ফেব্রুয়ারিতে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক ১৩ শতাংশের বেশি কমার চিত্র উঠে আসে।

    মার্চে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। ওই মাসে রপ্তানি আয় নেমে আসে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের মার্চে আয় হয়েছিল প্রায় ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। রমজান, দীর্ঘ ঈদের ছুটি এবং উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্নের পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এ সময়ে রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি করে।

    এরপর এপ্রিলে বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটে। রপ্তানি আয় ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের একই মাসের প্রায় ৩.০২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩২.৯২ শতাংশ বেশি। মার্চের ছুটিজনিত উৎপাদন ও শিপমেন্টের ব্যাকলগ এপ্রিলে পাঠানো এবং তৈরি পোশাকের চালান বাড়ার কারণে এ প্রবৃদ্ধি আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    তবে এ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা মে মাসে ধরে রাখা যায়নি। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয় ৪.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭.০৭ শতাংশ কম। ঈদের দীর্ঘ ছুটি ও বৈশ্বিক চাহিদার মন্থরতা এ পতনের অন্যতম কারণ ছিল।

    জুনে আবার রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। মাসটিতে আয় হয়েছে ৪.২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ২৫.৯১ শতাংশ বেশি। তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর শক্তিশালী পারফরম্যান্সে মাসটি অর্থবছরের শেষদিকে রপ্তানিতে স্বস্তি আনে।

    নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় আরো বেড়ে ৪.৭২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। জুনের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয় ১২.৪৯ শতাংশ। তবে আগের বছরের জুলাইয়ের ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় আয় ০.৯ শতাংশ কম। তৈরি পোশাক রপ্তানিও এ মাসে ১.৯২ শতাংশ কমেছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, কোনো সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। তারপরও ব্যবসা পরিচালনাকে সহজতর করে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করার জন্য এবং অর্থনীতির গতিধারা ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এটি আমাদের রপ্তানিকারকদের জন্য অনেক সহায়ক হবে এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করবে। করনীতিতেও ভালো কিছু পরিবর্তন এনে ব‍্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। এর মধ্যে ব‍্যাংক খাতের সমস‍্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি। এ সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আশা করি তারা দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।

    সামগ্রিক চিত্র বলছে, রপ্তানি খাত এখনো স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বরং মাসভেদে ক্রয়াদেশ, বৈশ্বিক চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা ও শিপমেন্টের ওপর নির্ভর করেই রপ্তানি আয় ওঠানামা করছে। গত অর্থবছরেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ০.৫৮ শতাংশ কম ছিল।

  • নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    কালবেলার পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হোল-

    আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।

    আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর পর সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। বিরোধী দলেরও প্রার্থী আছে। এভাবেই নির্বাচন হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, মানুষ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে পাবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দল এখনো যোগ দেয়নি।

    তিনি বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হবে।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। ভরিতে ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

    এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।

    নতুন এই বৃদ্ধির ফলে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫১ দফা এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৬৩ বার। এর মধ্যে ৩৩ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩০ দফা কমেছে।

  • প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওতে দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান।

    অনুষ্ঠানে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনের পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা খাইয়ে দিয়ে দেশব্যাপী সবার মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে জোর দিলে মানুষ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমে আসবে।

    কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা দূর করতে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, এটি একটি সহজে গ্রহণযোগ্য ওরাল (মুখে খাওয়ার) ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিটি মানুষের কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হবে।

    এ জন্য সব সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকাদানকে একটি কার্যকর ‘সামাজিক আন্দোলনে’ রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু টিকাই নয়, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পান করা, রান্না এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।



  • ৩০ বছর পর প্রথমবার বেদে পল্লীতে ডিসি ফরিদা

    ৩০ বছর পর প্রথমবার বেদে পল্লীতে ডিসি ফরিদা

    প্রায় তিন দশক ধরে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে বেদে পল্লী থাকলেও এতদিন সেখানে কোনো জেলা প্রশাসক যাননি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো ওই বেদে পল্লীতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। শুনেছেন তাদের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা। পাশাপাশি দিয়েছেন নানা সহায়তার আশ্বাস।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুপনগরের বেদে পল্লীতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পল্লীর ৬৩টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পল্লীর ১১৩ জনের মধ্যে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ ওই এলাকায় বসবাস করলেও তাদের জীবনমান ও সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখার সুযোগ হয়নি জেলা প্রশাসনের। প্রথমবার সেখানে গিয়ে তাদের কথা শোনেন ফরিদা খানম। একই সঙ্গে বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

    এ সময় উপজেলা পরিষদ থেকে বেদে পল্লীর জন্য ৫ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া, খাসজমি বরাদ্দ এবং ২৫টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।

    জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

    এদিন ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় এ-প্লাস পাওয়া ১৮৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    এছাড়া ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে শিক্ষা উপকরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলেও দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ।

    ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদের মধ্যে পোশাক ও সরঞ্জাম এবং আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলের ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিষটোপ দিয়ে ২৯টি পাখি হত্যার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়।

    নিহত পাখিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ক্ষতি ধরা হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে বীজের সাথে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে বিষাক্ত বীজ খেয়ে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দু’টি কবুতর মারা যায়। খবর পেয়ে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলমের নেতৃত্বে অভিযানে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানকালে মূল অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে গেলেও তার ছেলে মো: রাজন উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাখি শিকারে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় ও ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত বীজ ও মৃত পাখি উদ্ধার করে আলামতের জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়।

    পরে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    তিনি জানান, নিহত পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য পাঁচ হাজার ২১০ টাকা হলেও পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও অবৈধ শিকার রোধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    • সাচিং প্রু জেরী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন
    • প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে যেকোনো সময়

    সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল-সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, বিদ্যমান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই দুইজনের বাইরে আরও কমপক্ষে দুজনকে যুক্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

    নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদলও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়ায় তার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

  • চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    চৌগাছায় ৭৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৭৪০টি পদের মধ্যে ৮৩টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। শিক্ষকরা জানান, ফিডিং কার্যক্রম না থাকায় টিফিনের পর অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৫ হাজার ৯৯৩ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৩৫ জন উপবৃত্তির আওতাভুক্ত। গত ছয় মাসে উপবৃত্তি পেয়েছে ১৭ হাজার ২৩৫ জন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর কার্যালয়েও জনবল সংকট রয়েছে। পাঁচটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিনজন। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। এই জনবল দিয়ে ১৩৯টি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা কঠিন বলে জানান তিনি।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • শিশুদের কলেরা টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা

    শিশুদের কলেরা টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা

    কলেরা ভ্যাকসিন এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন একবছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে। দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ বিরতি দিতে হবে। এ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর কলেরা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এ ক্যাম্পেইনে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গুসহ কয়েকটি রোগ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টায় এবার এখন পর্যন্ত ঢাকায় মশা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে আছে।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। আগামী ২২ আগস্ট নির্ধারিত এলাকায় প্রথম ও ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।

  • ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেতে আগাছা দমনের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে। অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মো. নয়া মিয়ার ছেলে।

    কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে মাহবুর মিয়ার কীটনাশকের দোকানে গিয়ে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চান। তখন দোকানদার তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেন। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট সেটি ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি।

    কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিন থেকেই ধানের চারা মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়।

    কামরুজ্জামান বলেন, “আমি ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চেয়েছিলাম। দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে দিয়েছি। পরদিন দেখি ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এখন আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে গেছে।”তবে কীটনাশক বিক্রেতা মাহবুর মিয়া বলেন, “আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।”

    সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি জানার পর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।”

    সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধটি ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে “

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “অভিযোগ এখনো তার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • ছাদ বাগানে সবুজের হাতছানি

    ছাদ বাগানে সবুজের হাতছানি

    ইট-পাথরের শহরে সবুজের ছোঁয়া এনে অনন্য এক ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী বাজারের ব্যবসায়ী ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হাসান। শখের বশে গড়ে তোলা তার এই বাগানে এখন শতাধিক দেশি-বিদেশি ফলদ গাছ শোভা পাচ্ছে।

    ২০২৪ সালের শেষ দিকে শুরু করা বাগানটিতে রয়েছে জামরুল, আপেল, সফেদাসহ নানা জাতের ফলদ গাছ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ব্যতিক্রমী এই ছাদ বাগানটি পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।

    সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বাগানের বিভিন্ন গাছ ঘুরে দেখেন এবং গাছের পরিচর্যা, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেন।

    কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ছাদ বাগানের টবের মাটিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধরে রাখতে নিয়মিত জৈব সার ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেন তাঁরা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ছাদ বাগান মানুষের জন্য একদিকে যেমন প্রশান্তির জায়গা তৈরি করছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। শহরের প্রতিটি অব্যবহৃত ছাদ এভাবে সবুজে রূপান্তর করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    খালিদ হাসানের এই ছাদ বাগানটি এখন স্থানীয়দের কাছেও অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। ইট-পাথরের শহরের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সবুজ বাগান প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য তৈরি করেছে এক টুকরো প্রশান্তির আবহ।

  • ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাই থেকেই বাড়ছে। তবে আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই জুলাইয়ের চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি।

    চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৭৬ জন। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।

    অন্যান্য বছরের মতো এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে কোন এলাকায় ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং সামনে কোথায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এ কারণে সামনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    ঢাকার বাইরে বেশি সংক্রমণ যে পাঁচ জেলায়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে ঢাকায় মারা গেছেন ৩৪ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

    ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে খুলনা জেলায়। এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও খুলনা শীর্ষে। সেখানে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।

    এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯১ জন। মারা গেছেন তিনজন।

    আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশালের পিরোজপুর। এ জেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন।

    চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। সেখানে ৯২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন।

    ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২০। তবে সেখানে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। এই বিভাগের শুধু মানিকগঞ্জে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    কেন এই পাঁচ জেলা বেশি ঝুঁকিতে

    একসময় ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যেত। এবার ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি।

    জনস্বাস্থ্য ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বলেন, এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে এর উপস্থিতি বেশি।

    এর একটি কারণ হিসেবে উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা এবং বছরজুড়ে বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

    ডা. মুশতাক বলেন, কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। লার্ভাও তৈরি হতে পারে। সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব। কিছু এলাকায় এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও সব লবণাক্ত এলাকায় একইভাবে সচেতনতা কার্যক্রম হয়নি।

    গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপের পেছনে ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন ডা. মুশতাক।

    তার মতে, নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। পরিবেশের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।

    ময়মনসিংহের ক্ষেত্রেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি জমে থাকার মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

    বাংলাদেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাহাড় চট্টগ্রাম বিভাগে। এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা দ্বিতীয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও গাছপালাযুক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তবে শুধু এ কারণে ডেঙ্গু ছড়ায় না।

    ডা. মুশতাক বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে সমস্যা কম। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।

    কীটতত্ত্ববিদ ও জাতীয় নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি যেসব এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি, সেসব এলাকাতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হতে পারে।

    তিনি বলেন, আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় মানুষ অনেক সময় নিরাপদ নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে পানি সংরক্ষণ করা হলে এসব পাত্র এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

    ডেঙ্গু বাড়ার পেছনে আরও যেসব কারণ

    পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। বাংলাদেশে বেশি দেখা যায় এমন ক্ষতিকর মশার মধ্যে অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স অন্যতম।

    স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। আর কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ হতে পারে।

    ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশা।

    কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, এডিস ইজিপ্টাই প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। অন্যদিকে এডিস এলবোপিকটাস বেশি দেখা যায় গাছপালাসমৃদ্ধ গ্রামীণ এলাকায়।

    হাঁড়ি-পাতিল, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, দইয়ের পাত্রসহ বিভিন্ন কৃত্রিম পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস ইজিপ্টাই বংশবিস্তার করে। এ কারণে এই মশাকে ‘কন্টেইনার ব্রিডিং মসকুইটো’ বলা হয়।

    অন্যদিকে গাছের কোটর বা কচুর পাতার গোড়ার মতো প্রাকৃতিকভাবে পানি জমে থাকা স্থানে এডিস এলবোপিকটাসের প্রজনন হয়।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, ডেঙ্গু ছড়ানোর ক্ষেত্রে এডিস ইজিপ্টাই তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর বাহক। তবে কোনো কোনো এলাকায় এডিস এলবোপিকটাসই প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে এডিস ইজিপ্টাই পাওয়া না গেলেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গুকে এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, আগে শহর এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও নগরায়নের প্রভাবে এখন গ্রামেও এই মশা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামেও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ বেড়েছে।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, দুই-তিন দশক আগে ঢাকার যেসব এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট ছিল, সেখানে মানুষ ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন। পুরান ঢাকার কিছু এলাকা ও এলিফ্যান্ট রোডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পানির সংকটের কারণে এসব এলাকায় ড্রামে পানি সংরক্ষণ করা হতো। এতে মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতো।

    এখন পরিস্থিতি আরো বদলেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ও ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাত্রের ব্যবহারও বেড়েছে। আগে যত হাড়িপাতিল ও পাত্র ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। বেড়েছে ছাদবাগানও। গ্রামেও অনেকে প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করেন। বিশেষ করে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক শহর ও গ্রামের পার্থক্য কমিয়ে দিয়েছে।

    ফলে শহর ও গ্রামের উভয় এলাকাতেই এডিস মশার জন্য নতুন নতুন প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।

    এ ছাড়া সারাদেশে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার পেছনে আবহাওয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতির কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    তার মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে সিটি করপোরেশন বা উপজেলায় জনপ্রতিনিধি নেই। ফলে মশা নিধনের কাজও সেভাবে হয়নি। এতে মশার সংখ্যা বেড়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু কবে

    বাংলাদেশে কবে থেকে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

    ১৯৯৮ সালে কিছু রোগীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরের বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর অনেক রোগীর দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়।

    ২০০০ সালের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ে। তখন থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা ধীরে ধীরে শুরু হয়।

    অধ্যাপক মুশতাক হোসেন বলেন, অতীতে এডিস মশা থাকলেও ডেঙ্গু শনাক্তের সুযোগ কম ছিল। তাই এ মশার উপস্থিতি নিয়ে তখন এত গবেষণা বা উদ্বেগের সুযোগ ছিল না। এখন সেই সুযোগ বেড়েছে।

    আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। ওই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মারা যান ১৭৯ জন।

  • বিশ্ব মশা দিবস আজ

    বিশ্ব মশা দিবস আজ

    বিশ্ব মশা দিবস আজ। প্রতি বছর ২০ আগস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, এসব রোগের বিস্তার রোধ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

    ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক প্যাট্রিক ম্যানসন ও ভারতীয় মেডিকেল সার্ভিসের কর্মকর্তা রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া পরজীবী ছড়ানোর ক্ষেত্রে মশার ভূমিকা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণার পর ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট তারা প্রমাণ করেন, অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য পরবর্তীতে রোনাল্ড রস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তাদের সেই আবিষ্কারের স্মরণেই ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

    বাংলাদেশের জন্য দিবসটির গুরুত্ব আরও বেশি। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় দেশে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতির মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    যশোরের চৌগাছায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সভায় উপজেলার গত এক মাসের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ, মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন, বিজিবির সুবেদার শরিফ কবীর আহমেদ, চৌগাছা উপজেলা হিন্দু ফ্রন্টের গোবিন্দ কুমার রাহা, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সেক্রেটারী আজিজুর রহমান প্রমুখ।

  • দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

    দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক সোলাইমান হোসেন (৩৩) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে তিনি মারা যান।

    মৃত সোলাইমান হোসেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী ও দুইজন শিশু সন্তান রয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে চরকালিকাপুর নিজ গ্রামে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ ব্যস্ততম সড়কের পাশে বসে ছিলেন সোলাইমান হোসেন। এ সময় হেডলাইটে কম আলোসম্পন্ন একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহত সোলাইমানকে নিয়ে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সেখান থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে তিনি মারা যান।

    তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদুল হক শিক্কু ও মৃত সোলাইমান হোসেনের মামা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: ফারুক হোসেন।

  • পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    পতিত জমিতে পেয়ারা চাষে সফল ইমামুল

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে পেয়ারা চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের চম্পকলতা গ্রামে পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে পেয়ারা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক ইমামুল ইসলাম। তার এ সাফল্যে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    পেয়ারা আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, পেয়ারা ভিটামিন-সি, আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও হজম প্রক্রিয়ায় দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের পেয়ারাগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং উচ্চ ফলনশীল। এ জাতের গাছগুলো আকারে ছোট ও ঘন হওয়ায় উচ্চ ঘনত্বের চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী। বছরে দুইবার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের কাছে এসব জাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

    চাষি ইমামুল ইসলাম জানান, সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ শুরু করেন। দুই বিঘা জমিতে ‘গোল্ডেন এইট’ ও ‘গোল্ডেন টেন’ জাতের ৬৭টি চারা রোপণ করে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তার বাগানে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকারও বেশি পেয়ারা বিক্রি করেছেন। বর্তমান বাজারদরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৮-২০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করছেন।

    গাছের অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন ইমামুল।

    ইমামুল ইসলামের বাগানের সুস্বাদু পেয়ারা কিনতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। এ ছাড়া বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। ইমামুলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে চম্পকলতা গ্রামের আরও অনেকে পতিত জমিতে পেয়ারা বাগান তৈরির পরিকল্পনা করছেন।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান দৈনিক বলেন, ‘ইমামুল ইসলামের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে পতিত জমিকেও আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত করা সম্ভব। পেয়ারা চাষের জন্য বেলে ও দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, যা আমাদের উপজেলায় প্রচুর রয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছি।’

    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করে জুড়ীর কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব।

  • রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ জন সার ডিলারকে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার আবাদপুকুর বাজার ও পাকুড়িয়া বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন।

    নাবিলা ইয়াসমিন জানান, আবাদপুকুর বাজারে কৃষকদের নিকট সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন ডিলাররা। এমন গোপন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবাদপুকুর বাজার ও এলাকার পাকুড়িয়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    তিনি জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আবাদপুকুর বাজারের সার ডিলার শহিদুল ইসলাম ফটিককে ১২ হাজার এবং পাকুড়িয়ায় সুধীর ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    নাবিলা ইয়াসমিন আরো জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।