আইন-আদালত

  • গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

    গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা


    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদাসম্পন্ন অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও তৎকালীন আইইউবিএটির শিক্ষার্থী তানভীর মেহেদী ইমন, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, এনসিপির গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গাংনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অল্ডাম।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীতে আলোচিত শিবলু হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার বহুল আলোচিত আতিকুর রহমান শিবলু (২৯) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। পরে তাকে চাটখিল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন কুমার কুন্ড। এর আগে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহপরান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকার মো: রবিউল আলম চৌধুরীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১, নোয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া বারাহীনগর এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি শাহপরান ওরফে রুদ্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

    মামলার এজাহার ও প্রাথমিক পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোস্তাফিজুর রহমানের (৫৬) ছেলে কাতারপ্রবাসী আতিকুর রহমান শিবলু ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ২টার দিকে শিবলুর মোবাইল থেকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে আহত অবস্থায় হিটারলাইনের দোকানের পশ্চিমে রাস্তার উপর পড়ে আছে।

    শিবলুর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ওই নম্বরে পাল্টা ফোন করলে ১ নম্বর আসামি বলেন, শিবলুকে নিয়ে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১ নম্বর আসামি আহত শিবলুকে টেনেহিঁচড়ে তার বাবার সামনে নিয়ে এসে দ্রুত পালিয়ে যান। রক্তাক্ত শিবলু চিৎকার করে জানান, আসামিরা তার বাম হাত ভেঙে ফেলেছে।

    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে চাটখিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

    অবশেষে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলার অন্যতম আসামি শাহপরানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।

  • নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীতে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।

    এর আগে একই দিন ভোরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় বেহুলা ইউনিয়নের ইটমুনি হেতালিয়া পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদ সিকদারের ছেলে মো. পারভেজ (৪২) এবং একই গ্রামের শেখ চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বিপ্লব (৪৮)।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কালো রঙের একটি হার্ডজিপে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডান পাশের দরজার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ৪১টি প্যাকেটের মধ্যে থাকা ১৯৬টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিব্যাগে মোট ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা রাখা ছিল।

    পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।

  • চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

    চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

    চেক ডিজঅনারের এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এক হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের এ আদেশ দেন।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।

    এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন, আহমেদ সইয়ন ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ও এ এস এফ রহমান।

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বারবার তাগিদের পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে একই দিন ব্যাংক সেটি ‘Insufficient Fund’ (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা অর্থ পরিশোধ করেননি।

  • সিলেটের আদালতে জামায়াত সমর্থিত ১৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

    সিলেটের আদালতে জামায়াত সমর্থিত ১৭ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

    সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্মরত জামায়াত সমর্থিত অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি), অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে দায়িত্ব পালনকারী ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

    বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের হাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে প্রেরণের জন্য একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

    বুধবার বিকেলে দৈনিক নয়া দিগন্তকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল খালিক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা ও বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদ স্বরূপ তারা উক্ত পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

    পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন- অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো: আলীম উদ্দীন এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল হুদা।

    এ ছাড়া সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে পদত্যাগী ১৫ জন হলেন- অ্যাডভোকেট মো: রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদ, অ্যাডভোকেট মো: মোজাম্মিল আলী, অ্যাডভোকেট মো: রহমত আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কাজী আতিফুল হক, অ্যাডভোকেট সাদেক আহমদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল গফ্ফার, অ্যাডভোকেট আফজল মিয়া তালুকদার, অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম ও অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।

    জানা গেছে, তারা নিজ নিজ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। পদত্যাগকারীরা তাদের পৃথক পৃথক আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা ও বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদে তারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। একইসাথে তারা ভবিষ্যতেও দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

  • পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একটি হত্যা মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো: ইউনুস আকনের ছেলে মো: কামরুল আকন ও চরকখালী গ্রামের মো: টুকু মিয়া হাওলাদারের ছেলে মো: সোহাগ হাওলাদার।

    ওই হত্যার ঘটনায় অন্য আরেক আসামি মো: ইউসুফ আকনকে আদালত খালাস দিয়েছেন।

    পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: মজিবুর রহমান বুধবার দুপুরে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক ছিল।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৭ মে বিকেলে আসামি কামরুল, সোহাগ ও ইউসুফসহ আরও ২/৩ জন পূর্বশত্রুতার জেরে মঠবাড়িয়া পৌর এলাকার মো: হালিম কাজীর ছেলে রাকিবুলকে বেতমোর বাজারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

    ওই ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে কামরুল আকন, সোহাগ হাওলাদার ও ইউসুফ আকনসহ আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ওই দিন মঠবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণে কামরুল আকন ও সোহাগকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে এ রায় দেন।

    মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি আবুল কালাম আকন ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন (মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবেলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরো জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন–পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

    এ সময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যেন ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

    জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

    অংশগ্রহণকারীরা এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • বোরকা পরে আদালতে ববি

    বোরকা পরে আদালতে ববি

    প্রতারণার মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। এ সময় ববিকে দেখা যায় বোরকা ও সানগ্লাস পরে হাজির হতে, সঙ্গে অনেকেই ছিলেন।

    শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ববির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার।

    এর আগে, ১২ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় ইটুই সলিউশনস লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স ববিসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আবুল বাশার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আহাদ মিয়া এবং অ্যাডমিন সোহেল রানা।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১২ নভেম্বর আবুল বাশার তার প্রতিষ্ঠানের জন্য লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারি সরবরাহের অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর গুলশানে বিটিএলের কার্যালয়ে পাঁচটি ৬৪ ভোল্টের ১৭০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়, যার মোট মূল্য ছিল ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারির মূল্য পরিশোধ না করে আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে মেহেদি আলম প্রিন্সকে অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারির ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

  • আওয়ামী লীগকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

    আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁকবদলের দিন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয়েরই বিচার করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ফ্যাসিবাদী সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। প্রশাসনিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করাকে আমরা সঠিক মনে করি না।’

    সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব অবৈধভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং দলটির নেতা-কর্মীদের মাধ্যমেই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ কারণে সংগঠন হিসেবেও আওয়ামী লীগকে দায় নিতে হবে।

    নুরেমবার্গ ট্রায়ালের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে হিটলারের সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশেও তেমন একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, যা বিশ্বে বিরল ঘটনা।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, এই গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যা, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা ও একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

    ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি ছিল দেশের আপামর জনগণের আন্দোলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য ধরে রেখে শহীদদের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে না পারে, সে জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

    বক্তব্যের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১-এর শহীদ এবং জুলাইয়ের শহীদেরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমরা তরুণ প্রজন্মের হাতে রেখে যাচ্ছি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান জিন্দাবাদ, জুলাই স্মৃতি আমাদের শক্তির উৎস হোক।’

  • জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

    অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন, জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। পুলিশের ভাষ্য, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।

    বংশাল থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় একদিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় নয় মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।

    তদন্তে উঠে আসে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল (বুধবার) এটি জিআরওতে আসবে। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তাঁর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক নম্বর আসামিসহ কেউই ছাড় পাবে না।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি সাইফুল

    যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি সাইফুল

    বাংলাদেশী নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর সোমবার টেক্সাসের লারেডোতে তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হয়। একটি সম্পূরক অভিযোগপত্রে সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানা যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ আল-মামুন এবং তার সহযোগী ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও ৩৮ বছর বয়সী মোক্তার হোসেন, সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক। তারা একটি মানব পাচার চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রাজিলের সাও পাওলো এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবৈধ উপায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে সহায়তা করতেন তারা।

    এই অবৈধ ভ্রমণের জন্য ভুক্তভোগী মানুষেরা দালালদের হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করেছিলেন। সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ মিলন হোসেন এবং মোক্তার হোসেন ইতিপূর্বে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ষড়যন্ত্র করা, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে একাধিকবার মানুষ পাচার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ পাচারের সবকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আরও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা, সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অ্যারন রেইটজ এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের (এইচএসআই) ফিনিক্স শাখার বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ জেসন টি স্টিভেন্স যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন।

    ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এইচএসআই ফিনিক্স এই ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। এই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা’ (জেটিএফএ), যা কার্টেল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত মানব পাচার দমনে মার্কিন সরকারের প্রধান বিশেষ সেল হিসেবে কাজ করে। তবে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি আসামিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার আইনি বিধান রয়েছে।

  • তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধের আদেশ স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট

    তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধের আদেশ স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট

    পবিত্র ঈদুল আজহা ও অন্য যেকোনো দিন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ মাদ্রাজ হাইকোর্ট দিয়েছিল, তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

    সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়ে স্পষ্ট জানায় যে, হাইকোর্টের এই নির্দেশটির ক্ষেত্রে আইনি ‘সংশোধন’ বা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

    হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ আপিল আবেদন করে বর্তমানে তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় থাকা থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার। ওই আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি জারি করেন। এই রায় রাজ্যটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

    এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি পুরোনো সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমগ্র তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই আদেশকে সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকার যুক্তি প্রদর্শন করে যে, যখন দেশের বিদ্যমান আইন ও সংবিধিবদ্ধ বিধান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে একটি বিশেষ ক্যাটাগরির বা শ্রেণির গরু জবাইয়ের স্পষ্ট অনুমতি প্রদান করে, তখন সেই বিধিবদ্ধ আইনের পরিপন্থি কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই টেকসই হতে পারে না।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের ডিভিশন বেঞ্চ দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সেই পুরনো আদেশটি জারির কথা উল্লেখ করেছিল। রায়ের লেখক বিচারপতি স্বামীনাথন আরো জোর দিয়ে বলেছিলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের দায়িত্ব হলো গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত ও মালবাহী গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এমনকি, গণপরিষদের বিতর্কের ইতিহাস টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, গরু একটি অত্যন্ত পূজনীয় প্রাণি ও হিন্দু ধর্মের ভগবান কৃষ্ণের সময় থেকেই এটি তাদের সভ্যতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহার সময় স্থানীয় বিধিবিধান মেনে বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশ ও ব্যক্তিগত প্রাঙ্গণে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি বা উৎসর্গ করে থাকেন। এর পাশাপাশি তামিলনাড়ুর বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরেও তাদের বার্ষিক উৎসবের সময় ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পশু বলিদানের প্রথা চালু রয়েছে।

    মুসলিম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে, কোরবানি বা এই ধরনের ধর্মীয় উৎসর্গকে শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সরকারি কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অসম্ভব; কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ পশুর চাহিদার চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা বা অবকাঠামো ওই নির্দিষ্ট কসাইখানাগুলোর নেই।

    তামিলনাড়ু সরকার আদালতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন ও কসাইখানা পরিচালনার অন্যান্য বিদ্যমান নিয়মাবলি এরই মধ্যে কোনো স্থানে ও কী ধরনের শর্তাধীনে পশু জবাই করা যাবে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এসব আইন কোনোভাবেই রাজ্যে পশু জবাইয়ের ওপর কোনো ঢালাও বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

  • এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড। শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

    আসামিরা সাবাই সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও ছিলেন।

    ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একইসঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।

    ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

    এদিকে এ ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

  • কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। পাঞ্জাবের অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরা। এরপর তাঁকে আর কখনো জীবিত বা মৃত—কোনো অবস্থাতেই দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, জনমতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। তবু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও ঘটনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসলে কী হয়েছিল খালরার? তিনি কি হঠাৎ করেই পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি পুলিশের দাবি অনুযায়ী ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় দিনমজুরের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন? নাকি তিনিও সেই হাজারো তরুণের একজন, যাঁদের ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছিল—যাঁদের ন্যায়বিচারের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খালরা?

    একনজরে
    সিনেমা: ‘সাতলুজ’
    ধরন: ড্রামা
    পরিচালনা: হানি ত্রেহান
    অভিনয়: দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুবিন্দর ভিকি, গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান, কানওয়ালজিৎ সিং, জগজিৎ সান্ধু, এস এম জহির
    ভাষা: হিন্দি ও পাঞ্জাবি
    স্ট্রিমিং: জি৫
    দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট

    খালরার আত্মা যে অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল, হানি ত্রেহানের ছবির যাত্রাপথও যেন তেমনই। প্রথমে ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। ২০২৩ সালে এটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডে (সিবিএফসি) টানা তিন বছর আটকে থাকে ছবিটি। কারণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিক আন্দোলনের মূল্য নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে বোর্ড প্রায় ১২০টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল। কাস্টিং পরিচালক হানি ত্রেহান এ সময় ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, সাক্ষাৎকার দেন এবং সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

    সন্ধ্যা সুরির ‘সন্তোষ’ ছবির মতোই—যেখানে উত্তর ভারতের পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে—নতুন নাম পাওয়া ‘সাতলুজ’ও ভারতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সুযোগ পায়নি। বরং নীরবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো এটিই সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি নয়। বরং জি৫–এর ‘বার্লিন’, ‘কেনেডি’ এবং ‘সাতলুজ’—তিনটি ছবিই উদ্বিগ্ন নাগরিকদের জন্য একসঙ্গে দেখার মতো অসাধারণ একটি ত্রয়ী। কিন্তু মুক্তির পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৪ জুলাই মুক্তির ৪৮ ঘণ্টা পরেই সরকারি চাপে সিনেমাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্ল্যাটফর্মটি। এত আলোচিত, প্রশংসিত আর নিষিদ্ধ এই সিনেমায় কী আছে?

    ‘সাতলুজ’ এমন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা কোনো ধরনের আপস করে না। রাষ্ট্র এবং তার পুলিশ বাহিনী যখন জনগণের অধিকার রক্ষার বদলে সেই অধিকারই পদদলিত করে, তখন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়—ছবিটি নির্ভীকভাবে সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। ফলাফল, এটি হয়ে ওঠে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেওয়া এক সিনেমা। এটি সহজে দেখার মতো ছবি নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের হলেও ‘সাতলুজ’ কখনো দর্শককে চোখ ফেরানোর সুযোগ দেয় না। ছবিটি দর্শকের পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে এবং নির্মাতার বক্তব্যের ভার বহন করতেও যে প্রস্তুত থাকতে বলে, সে কথা বলাই বাহুল্য। হানি ত্রেহান আমাদের নিয়ে যান আশি ও নব্বইয়ের দশকের সেই পাঞ্জাবে, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায় সমাজকে গ্রাস করেছিল। রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পুলিশের লাগামহীন ক্ষমতার যে নির্মম চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং শিহরণ জাগানো।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিব

    যদিও গল্পটি ভারতের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সময়কে ঘিরে, ‘সাতলুজ’ আসলে সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন এক সর্বজনীন দলিল, যা যেকোনো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। আইনহীনতা যখন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করে, তখন তার পরিণতি কেমন হয়—ছবিটি সেটিই দেখায়। ছবির শুরুতে একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা জানিয়ে দেওয়া হয়—এটি তথ্যচিত্র নয়; মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ঘটনাগুলো অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়া মানুষ, বিচারবহির্ভূত আটক এবং গণদাহের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে জসওয়ন্ত সিং খালরাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, ছবিটি সেই ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত। আরএসভিপি এবং ম্যাকগাফিন পিকচার্স প্রযোজিত এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন হানি ত্রেহান, নিরেন ভাট ও উৎসব মৈত্র। বাস্তব ঘটনা থেকে ছবির বিচ্যুতি বলতে মূলত কয়েকটি চরিত্রের নাম পরিবর্তন করা।

    ডিজিপি আইপিএস বিট্টা (কানওয়ালজিৎ সিং) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী অনন্ত সিং—যিনি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন, তার এক সপ্তাহ পর অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন জসওয়ন্ত সিং—এসব চরিত্রের বাস্তব প্রেরণা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা জসওয়ন্ত সিং খালরা (দিলজিৎ দোসাঞ্জ) প্রথম সন্দেহ করেন, যখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বন্ধুর মা নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে পদোন্নতির চিন্তায় ব্যস্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা (বংশ ভরদ্বাজ) অভিযোগ নিতেই অস্বীকৃতি জানান।

    ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হয়ে বিয়ে করার স্বপ্নেই তিনি মশগুল। এরপর খালরা মর্গে যান। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক (গীতা আগরওয়াল শর্মা) তাঁকে এমন তথ্য দেন, যা তাঁকে স্তম্ভিত করে। কিন্তু আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল শ্মশানে। সেখানে তিনি এমন একটি রেজিস্টার খুঁজে পান, যেখানে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের তালিকা সংরক্ষিত। এরপর গল্প ক্রমে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

    হুমকি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে খালরা সত্য অনুসন্ধান চালিয়ে যান। স্থানীয় এক বিধায়ক তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য তিরস্কার করেন। কিন্তু তিনি দমে যান না। স্ত্রী পরমজিৎ (গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান) জানেন, এই পথ তাঁদের দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পুরো পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলছে। তবু তিনি স্বামীর পাশে থাকেন। স্থানীয় থানায় জসওয়ন্তের শৈশবের বন্ধু কনস্টেবল সতনাম সিং (সৌরভ সচদেবা) কর্মরত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই জসওয়ন্তকে জানাতে থাকেন তিনি। এই সাহসের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সতনাম একসময় বলেন, ‘কালো পাতায় লেখা কালো সত্য, যা দেখা যায় না, পড়াও যায় না।’ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি খালরাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।
    ছবির প্রায় এক ঘণ্টা পর সতনামের বাড়িতে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য পুরো চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এই দৃশ্যে সুবিন্দর ভিকি (এসএসপি সুরজিৎ সিং সুগ্গা) এবং সৌরভ সচদেবা অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। ক্ষমতা ও অহংকারে উন্মত্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি পরিবারকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। অন্যদিকে নিচের সারির এক অসহায় পুলিশ সদস্য অপরাধবোধ আর ভয়ে কাঁপতে থাকেন। ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে এবং সেই ক্ষমতার সামনে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে—কে ইউ মোহাননের ক্যামেরা আর এ শ্রীকর প্রসাদের সম্পাদনা মিলিয়ে দৃশ্যটি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

    ‘সাতলুজ’ মূলত পুলিশ ও জঙ্গিদের সংঘাতের গল্প হলেও ছবিটি দেখায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশই কীভাবে সবচেয়ে ভয়ংকর সহিংস শক্তিতে পরিণত হয় এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে আইন ভঙ্গ করতে থাকে। এটি গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নির্মিত এক সতর্কবার্তা।

    খালরা নিখোঁজ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পাঞ্জাবে আসেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পরিচালক সমুদ্র সিং (অর্জুন রামপাল)। চরিত্রটি ছবির বর্ণনাকারীর ভূমিকাও পালন করে। অন্যদিকে একজন আইনজীবী (বরুণ বাদোলা) অবৈধভাবে হত্যা করা নারী-পুরুষদের পরিবারের পক্ষে আদালতে মামলা করেন। ছবির কিছু অংশ হয়তো একটু দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব এবং গল্প বলার ধারালো ভঙ্গির কারণে ‘সাতলুজ’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখে। এটি একই সঙ্গে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্বস্তিতে ফেলে।

    অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি অসাধারণ। সবার আগে বলতে হয় দিলজিৎ দোসাঞ্জের কথা। অতিরঞ্জন ছাড়াই তিনি ক্ষোভ, দৃঢ়তা এবং অদৃশ্য বিপদের আশঙ্কা দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন। চরিত্রটির গুরুত্ব এবং ছবির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি যে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন, তা অভিনয়ের প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তারকাসুলভ উপস্থিতিকে সামনে না এনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চরিত্র ও সময়ের ভেতর মিশিয়ে দিয়েছেন।

    ছবিতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত খালরা চরিত্রটিকে প্রথমে দেখা যায় একেবারেই সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে। তিনি একটি ব্যাংকের কর্মী, শান্ত স্বভাবের পারিবারিক মানুষ। ছয় মাস আগে তাঁর বন্ধু কিরপালকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় মৃত পাওয়া গিয়েছিল। এবার নিখোঁজ হয়ে যান শোকে পাগল হয়ে যাওয়া কিরপালের মা। তাঁকে খুঁজতে জসওয়ন্ত ছুটে বেড়ান হাসপাতাল, মর্গ ও শ্মশানে। ব্যাংকার হিসেবে সংখ্যার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কই হয়তো তাঁকে একটি অসংগতি ধরতে সাহায্য করে। সরকারি নথিতে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে নিবন্ধিত মৃতদেহগুলোর তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

    মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া ‘সাতলুজ’। কোলাজ

    হানি ত্রেহান দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশিব্যবস্থার নৃশংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে কখনোই ক্যামেরা সরিয়ে নেন না। তবে তিনি এটাও দেখান, এই পচন পুরো ব্যবস্থার নয়; বরং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ত্রেহান এই ভয়াবহ গল্পটি বলেছেন অসাধারণ সংযম ও স্থিরতার সঙ্গে। খালরা কোনো আবেগপ্রবণ বিপ্লবী নন। তিনি এই মাটিরই মানুষ। নিজের সমাজকে রক্ষা করার দায় থেকেই তিনি সত্যের খোঁজে নামেন।

    শুরু থেকেই কে ইউ মোহাননের রাতের দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ দৃষ্টিনন্দন ও পরিশীলিত। মাঝেমধ্যে কিছু নান্দনিক দৃশ্য—যেমন ওপর থেকে ধারণ করা সাদা-কালো মুদ্রা ছোড়ার দৃশ্য—পাঞ্জাব নোয়ার ঘরানার বাস্তবতাকে ভেঙে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ছবির মাঝামাঝি এসে এটি রহস্য–থ্রিলারে রূপ নেয়। আর সেখানে অর্জুন রামপালকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ সুবিন্দর ভিকির চরিত্রের কাছে যিনি কার্যত হার মেনেছিলেন, এখানে যেন তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সুবিন্দর ভিকি অভিনয় করেছেন এসএসপি সুগ্গা চরিত্রে। দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘৃণ্য ও নির্মম এই পুলিশ কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ দীর্ঘায়িত করে মানসিক নির্যাতন চালাতে ভালোবাসে। চরিত্রটি অনেকটা ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’–এর হান্স লান্ডার কথা মনে করিয়ে দেয়।

    ‘সাতলুজ’ দেখিয়ে দেয়, বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সত্য উদ্‌ঘাটনকারীদের অপদস্থ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে। এটি শুধু ভুলে যাওয়া মানুষদের স্মৃতির দলিল নয়; এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে ধরা এক জরুরি আয়না। তাই ছবিটি শুধু সিনেমা হিসেবে নয়, সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।

    সিনেমার কিছু সংলাপ শেষ হওয়ার পরও মনে থাকে। খালরা বলেন, ‘আমরা পুলিশবিরোধী নই, সরকারবিরোধীও নই।’ ছবির শেষ হয় খালরার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, ‘আমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাই।’ তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে খালরার বলা সবচেয়ে সহজ কথাটিই—‘কাউকে না কাউকে তো সামনে আসতেই হবে।’

  • জীবননগরে গাঁজাসহ আটক যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

    জীবননগরে গাঁজাসহ আটক যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় গাঁজাসহ আটক এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শিহাব (২০) জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের সন্তু রহমানের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে এসআই মৃণাল কুমার দাস ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের চ্যাংখালী সড়কের চিংড়িখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় গাঁজাসহ শিহাবকে আটক করা হয়।

    পরে তাকে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে (সামারি ট্রায়াল) হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • তামিলনাড়ুতে গরু জবাইর পক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

    তামিলনাড়ুতে গরু জবাইর পক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

    তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদ বা অন্য যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) সর্বোচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ দিয়ে উল্লেখ করেন যে হাইকোর্টের ওই পূর্ববর্তী আদেশটিতে সংশোধন প্রয়োজন ছিল।

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাড়াগাম (টিভিকে) সরকার মাদ্রাজ হাইকোর্টের গত ২৭ মে-র রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করেছিল, যার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

    হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে যে দেশের বিদ্যমান আইনি বিধান যেখানে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গরু জবাই করার অনুমতি দেয়, সেখানে আইনের সেই বিধির পরিপন্থী কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ কোনোভাবেই বহাল রাখা যায় না।

    এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়াণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে তৎকালীন সময়ে ওই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল।

    হাইকোর্টের রায়ের পক্ষে বিচারপতি স্বামীনাথন উল্লেখ করেছিলেন যে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যগুলোর উচিত গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এছাড়া সংবিধান সভার বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সভ্যতায় গরুকে একটি শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নেতারা যুক্তি দিয়েছেন যে কোরবানি ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবে কেবল সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় পশু কোরবানি সীমাবদ্ধ রাখা একেবারেই অবাস্তব। কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা এই কসাইখানাগুলোর নেই।

    তামিলনাড়ু সরকারও আদালতের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’ সহ বিদ্যমান অন্যান্য বিধিমালা পশুর জবাইয়ের স্থান ও শর্তাবলী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই, তবে এটি ঢালাওভাবে কোনো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।

  • ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

    গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

    যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।

  • দুর্নীতির মামলায় কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা কারাগারে

    দুর্নীতির মামলায় কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তা কারাগারে

    সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।আসামিরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দিয়েছেন।

    কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, রাজস্ব কর্মকর্তা এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।

    এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমির বলেন, ‘এই ১১ আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়ে গত ১৬ এপ্রিল তারা আত্মসমর্পণ করেন। ওইদিন আদালত তাদের ১২ জুলাই পর্যন্ত জামিন দেন। সে অনুযায়ী রোববার তারা স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করে। দুদকের পক্ষে আমরা বিরোধিতা করি। শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

    পাঁচ দেশে রপ্তানির নামে সাড়ে ১৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এই মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়— আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রফতানি দেখিয়ে দো এম্পেক্স লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যাংক জমা হয়। শুধু তাই নয় ৩৪টি রফতানি চালানের মূল্যবাবদ প্রণোদনা হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো রফতানি হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দো এম্পেক্স লিমিটেডের মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে।

    যার মধ্যে ৭ বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কৃষি জাতীয় পণ্য রপ্তানির সত্যতা পাওয়া গেলেও ৩৪টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কোনো পণ্যই বিদেশে রফতানি হয়নি। অথচ পণ্য রফতানির বিপরীতে অগ্রিম হিসাবে পুরো অর্থ ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭.৪৪ মার্কিন ডলার অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবাসন হয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা। রপ্তানি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

  • নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে পরীমণির প্রশ্ন

    নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাষ্ট্রের কাছে পরীমণির প্রশ্ন

    ২০২১ সালের ৪ আগস্ট প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। তাঁর বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরে মাদক মামলায় পরীমণিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সময় প্রায় এক মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

    পরীমণির বিরুদ্ধে সেই মামলা এখনো চলমান। তবে গ্রেপ্তার নিয়ে সরাসরি কখনো কথা বলেননি পরী। সম্প্রতি এক লাইভ টক শোতে পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম জানান, পরীমণিকে গ্রেপ্তার করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশেই পরীমণিকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এ নিয়ে সে সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

    খাইরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পর তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গত শুক্রবার মধ্যরাতে দীর্ঘ পোস্ট দেন পরীমণি। সেই ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই সময়গুলো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

    পরী লেখেন, ‘র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড, টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’

    রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে পরীমণি লেখেন, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবে?’

    গ্রেপ্তার-কাণ্ডের বিতর্ক এখনো বয়ে বেড়াতে হয় উল্লেখ করে পরী লেখেন, ‘একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে। আমি চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থাটুকু অটুট থাকুক।’

  • গোরক্ষকদের সাজা দেওয়ায় পর মুসলিম বিচারককে হত্যার হুমকি

    গোরক্ষকদের সাজা দেওয়ায় পর মুসলিম বিচারককে হত্যার হুমকি

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৪ জন স্বঘোষিত ‘গোরক্ষককে’যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর মুসলিম বিচারক তাবাসসুম খান অনলাইনে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন।

    গত ১২ জুন মধ্যপ্রদেশের একটি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান ১৪ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা ও অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। ওই সময় ৫০ বছর বয়সি নজির আহমদ রাতে গরু পরিবহণ করছিলেন। পথে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে একদল স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ তার গাড়ির গতিরোধ করে। গরু পাচারের সন্দেহে নজির আহমদ ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত নজির আহমদ পরে মারা যান। তার দুই সঙ্গী বেঁচে যান এবং আদালতে ঘটনার সাক্ষ্য দেন।

    রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান এটিকে ‘স্পষ্ট গণপিটুনির ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।

    রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তারা দাবি করেন, ‘গরু রক্ষা করার’ কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারককে নিয়ে একের পর এক বিদ্বেষমূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

    বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচারককে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন। একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন, ১০ দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে দেশে ‘রক্তপাত’ ঘটবে।

    এদিকে ডানপন্থী হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সুদর্শন নিউজের এক উপস্থাপক দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দর্শকদের ‘গোরক্ষকদের পক্ষে লড়াইয়ে’ নামার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন গোরক্ষা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পাঞ্জাবে ‘গৌ রক্ষা পরিষদ’-এর বিক্ষোভে বিচারক তাবাসসুম খানের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে উত্তরপ্রদেশেও ‘রাষ্ট্রীয় বজরং দল’ দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

    ভারতের সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মার্কণ্ডে কাটজু বলেন, এই হামলাগুলো শুধু রায়ের সমালোচনা নয়; বরং বিচারকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তার বিচারিক কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা। তার ভাষায়, বিচারকের ধর্ম নয়, রায়ের আইনগত ভিত্তির আলোকে সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

    এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)। সংগঠন দুটির দাবি, হুমকিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

    এসসিবিএর সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, বিচারকদের ভয়ভীতি দেখানো গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিচারক যদি নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক ভিডিওগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিচারক তাবাসসুম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। একই সঙ্গে তার জন্য দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

  • দিল্লির রাস্তায় ঘুমানোর চেয়ে মুসলিম মেয়েকে নিয়ে জঙ্গলে থাকা ভালো

    দিল্লির রাস্তায় ঘুমানোর চেয়ে মুসলিম মেয়েকে নিয়ে জঙ্গলে থাকা ভালো

    দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় মেট্রো স্টেশনের কাছে ফুটপাথে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল বছর দশেকের একটি মেয়ে। গত ২২ জুন ভোরবেলায় এক ট্যাক্সিচালক তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেয়েটির লাশ গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ সীমান্তের কাছে ফেলে দেওয়া হয়। অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা আরো একবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গৃহহীন নাবালিকা ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    রুজি-রুটির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে স্থায়ী বা অস্থায়ী বাসস্থানের বন্দোবস্ত করতে সক্ষম হন। তবে অনেকের পক্ষে মাথার ওপর ছাদ জোটানো সম্ভব হয় না। তারা একপ্রকার বাধ্য হয়েই রাস্তার ধারে বা ফুটপাথের মতো জায়গায় দিন কাটান। মাথার ওপর ছাদ ছাড়াই দিল্লিতে এইভাবে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ বাস করছেন, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।

    তবে গৃহহীন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শহরি অধিকার মঞ্চ’-এর অনুমান, ২০২৪ সালে দিল্লিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ গৃহহীন ছিলেন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ নারী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরো বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাস্তায় যাদের ঘর, তারা প্রতিটা রাতই নতুন ভয়কে সঙ্গী করে শুতে যান। কখনো বিরূপ আবহাওয়া তাদের ঘুম কেড়ে নেয়। কখনো দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা যানবাহনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে মাথার উপরে ছাদহীনদের যে ভয়টা সবচেয়ে বেশি তাড়া করে ফেরে, তা হলো শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের ঘটনা। এই ভয় এতটাই তীব্র যে অনেকে রাতগুলোয় অর্ধেক ঘুম আর অর্ধেক জেগে পুরো জীবন কাটিয়ে দেন।

    মেহরৌলির ওই ঘটনার পর দিল্লির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে রাস্তায় বসবাসকারী শিশু-কিশোরী ও নারীদের অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয়েছে।

    ‘ঘর থাকলে স্ত্রীকে খোলা জায়গায় রাখতাম?’

    ঘটনাস্থল সংলগ্ন লাডো সরাইয়ের ফুটপাতে যেতেই চোখে পড়ে সারি সারি মানুষ। এদের মধ্যে কয়েকজন নারী বেলুন বিক্রি করছিলেন, কেউ ফুল সাজাচ্ছিলেন, কেউ বা মূর্তি তৈরি করছিলেন। কেউ আবার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কাজে ব্যস্ত। ফুটপাথের ওপরেই রাখা তোশক। কোথাও লোহার তৈরি বেড়ার ওপর কাপড় শুকাচ্ছে। ছোট ছোট কৌটোয় রাখা খাবার-দাবার। তীব্র দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে কেউ আবার সঙ্গে স্ট্যান্ড ফ্যান রেখেছেন।

    এই ফুটপাথেই বেলুন বিক্রি করছিলেন পূজা নামে এক নারী। তিনি বলেন, ‘যতই রোদ হোক, বৃষ্টি হোক, দিন কোনোমতে কেটে যায়। আসল সমস্যা শুরু হয় রাতে। আশপাশ দিয়ে বহু লোক যায়। কেউ অশ্লীল কথা বলে, কেউ কাছে এসে বসে পড়ে। মাঝে মধ্যে অনেকে কাছাকাছি এসে শুয়ে পড়ে। মানা করলে আমাদের ধমক দিয়ে বলে—তুমি কি এই ফুটপাথ কিনে নিয়েছ?’

    কাছেই বসে ছিলেন পূজার স্বামী রোশন। তিনি বলেন, ‘শ্লীলতাহানির বিষয় নিয়ে আর কী বলব! খালি কোনোমতে বেঁচে আছি। ঘর থাকলে কি আর আমার স্ত্রীকে এভাবে খোলা জায়গায় রাখতাম?’ রাতে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন জানতে চাইলে রোশন বলেন, ‘কী করব? দিনের বেলায় অসম্পূর্ণ ঘুম পূরণ করি। কিন্তু রাত তো রাতই। চোখ লেগে যায়, আর তারপর ঠিক সেই একই ঘটনা ঘটে।’

    রাজস্থানের ভিলওয়াড়ার বাসিন্দা এই দম্পতি প্রায় চার বছর আগে দিল্লি এসেছিলেন। পূজা বলেন, ‘আমারও এক মেয়ে আছে। তাকে আমি সঙ্গে এনেছিলাম। কিন্তু এখানে এই সমস্ত দেখার পর ওকে ওর দিদিমার কাছে রেখে আসতে হয়েছে। সেখানে অন্তত মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তো আছে।’

    বছর বারোর কিশোরী আভ্যা (নাম পরিবর্তন করা হয়েছে) একসময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে গিয়েছিল। সে মৃদুস্বরে বলে, ‘হলেই বা কী করব। মেয়েদের জাত, এ সব তো হবেই। যতটা সম্ভব সাবধানে থাকি। পালা করে ঘুমাই আমরা। একজন তিন ঘণ্টা ঘুমায়, অন্যজন পরের তিন ঘণ্টা। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রাত কোনোমতে কেটে যায়।’

    ১২ বছরের আভ্যা থেকে শুরু করে ৫০ বছর বয়সি কৌশল—সবারই একই গল্প। তারা ঝলমলে রাজধানীর সেই অংশ, যা আড়ালে থাকলে তবেই দিল্লিকে দিল্লির মতো দেখায়।

    প্রায় চার দশক ধরে গৃহহীন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী ড. রাজেশ কুমার বলেন, ‘গৃহহীনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন নারীরা। এক্ষেত্রে বাচ্চা মেয়েরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ঘুমের মধ্যেই তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ ঘটে। মাঝে মাঝে তাদের বিক্রিও করে দেওয়া হয়। মেহরৌলির ঘটনাটা বিচ্ছিন্ন নয়। এমনটা ঘটতেই থাকে, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের করা হয় না। বাবা-মায়েরা জানেন না যে কিছু ঘটলে কীভাবে পুলিশের কাছে যেতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যদি কোনো শিশু রাস্তায় একা থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে শেল্টারে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। দিল্লিতে গৃহহীনদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কম। বিদ্যমান আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার।’

    দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দিল্লিতে প্রায় ২০০টি স্থায়ী শেল্টার আছে। এর মধ্যে ১৫৫টি পুরুষদের জন্য, ২০টি পরিবারের জন্য এবং মাত্র ১৭টি আশ্রয়কেন্দ্র নারীদের জন্য সংরক্ষিত।

  • ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া দেশে এসে সরাসরি আত্মসমর্পণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবেরোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো ইচ্ছা করলেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দেশে আসতে হলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। আর দেশে পা রাখামাত্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।

    গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

    তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

    মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’

    আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।

    ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

    পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।

    আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

  • নেপালে আমলাদের সম্পদের তদন্ত আটকে দিলো সুপ্রিম কোর্ট

    নেপালে আমলাদের সম্পদের তদন্ত আটকে দিলো সুপ্রিম কোর্ট

    নেপালের সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিশনের কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

    গতকাল শুক্রবার আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই কমিশন কোনো নাগরিক বা সরকারি কর্মকর্তাকে সম্পদের বিবরণী জমা দিতে বাধ্য করতে পারবে না। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে জমা পড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কারও বিরুদ্ধে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশও করা যাবে না।

    নেপালের বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক গঠিত এই কমিশনটির সাংবিধানিক বৈধতা এখন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে যাচাই করা হবে। আদালতের এই আদেশের ফলে কমিশনের মূল কার্যক্রম কার্যত পুরোপুরি থমকে গেল।

    বিচারপতি টেক প্রসাদ ধুঙ্গানা এবং বিচারপতি শ্রীকান্ত পৌডেলের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ টানা দুই দিন শুনানির পর এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টির সাংবিধানিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটি তিন সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আইনজীবী প্রেম রাজ সিলওয়াল এবং মান বাহাদুর লামিছানের দায়ের করা দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, সরকার সংসদকে এড়িয়ে কেবল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই কমিশন গঠন করে নিজের সাংবিধানিক এখতিয়ার লঙ্ঘন করেছে।

    আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ‘কমিশন গঠনের গেজেট বিজ্ঞপ্তির পরিধি অনুযায়ী তদন্ত চললে তা নেপালের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপূরণীয় আইনি ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

    রিট আবেদনকারীদের দাবি, এই কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেপালের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত গোপনীয়তার অধিকার এবং ২৩৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘কমিশন ফর দি ইনভেস্টিগেশন অব অ্যাবিউজ অব অথোরিটি’ (সিআইএএ)-এর এখতিয়ারের পরিপন্থী।

    লক্ষ্য দুই দশকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আমলনামা

    চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারীর নেতৃত্বে এই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। ২০০৫-০৬ সালের গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত—গত ২০ বছরে দায়িত্ব পালনকারী রাজনীতিক, আমলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই কমিশনকে।

    কমিশনটিতে আরও রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতি পুরুষোত্তম পরাঞ্জুলি ও চণ্ডী রাজ ঢাকাল, নেপাল পুলিশের সাবেক ডিআইজি গণেশ কেসি এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রকাশ লামসাল।

    শুরু থেকেই আইনি মহলের একটি অংশ এই কমিশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিল। এমনকি কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রকাশ্যে এই কমিশন বয়কট করার এবং সম্পদের বিবরণী না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    স্থগিতাদেশের আগে জমা পড়েছিল হাজারো বিবরণী

    আদালতের স্থগিতাদেশ আসার আগে পর্যন্ত কমিশনের কার্যক্রম পুরোদমে চলছিল। কমিশনের মুখপাত্র গণেশ কেসি জানান, ইতিমধ্যে তাঁরা ১৩ হাজার ৬৬০টি সম্পদের বিবরণী এবং ১ হাজার ৫০০-এর বেশি সাধারণ অভিযোগ পেয়েছিলেন। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার কথা ছিল।

    কমিশনের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা শুক্রবার সকাল থেকেই জমা পড়া বিবরণীগুলো খোলার কাজ শুরু করেছিলাম। গত চার দিনে প্রায় ৩০০টি ফাইলের প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ হয়েছিল। সন্দেহজনক সম্পদের খোঁজ পেলে আমরা মামলাগুলো সিআইএএ-এর কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

    ইতিমধ্যে নেপালের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব তাঁদের সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল ও সুশীলা কার্কি, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ চেয়ারম্যান খিল রাজ রেগমি, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেল ছাড়াও বেশ কয়েকজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, সেনাপ্রধান ও সচিব রয়েছেন।

    কমিশনের পক্ষ থেকে ৫২ জন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং ২২০ জনেরও বেশি উচ্চ আদালতের সাবেক বিচারকের কাছে সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

    নেপালের বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি কাজ, কিন্তু সরকার সংসদকে এড়িয়ে কেবল নির্বাহী আদেশে এমন কোনো মেকানিজম বা কমিশন তৈরি করতে পারে না। সুশাসন নিশ্চিত করতে চাওয়া কোনো সরকারও সংসদীয় যাচাই-বাছাইকে এড়িয়ে যেতে পারে না।’

    অন্যদিকে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইন সচিব পুষ্কর সাপকোটা জানিয়েছেন, সরকার আদালতের এই আদেশের আইনি দিকগুলো মূল্যায়ন করছে। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী লড়াই যাতে পুরোপুরি থমকে না যায়, সে জন্য সরকার সম্ভাব্য সব আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

    আপাতত সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় কমিশনের কার্যালয়ে জমা পড়া হাজার হাজার সম্পদের বিবরণী ও অভিযোগের ফাইলগুলো বন্ধ খামেই পড়ে থাকবে।

  • হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন। পরবর্তী সরকার এসে বিচার করবে।’

    শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশের মানুষ চাঁদাবাজি করে না। যারা চাঁদাবাজি করে, তারা জনগণের কষ্ট কিভাবে বুঝবে।’

    বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ‘তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করলেও বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি ঘোষণা করেন, আগামীতে ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’ এছাড়া সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বিজিবি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানান।

    জামায়াত আমির রংপুর বিভাগকে ‘কৃষির রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি আলু চাষীদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে হিমাগারে প্রতি বস্তা আলুর জন্য ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে যা কৃষকদের ওপর জুলুম। তিনি আলুর বস্তা রাখার খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।তিনি অঙ্গীকার করেন, ১১ দলের সরকার গঠিত হলে দেশে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজের জায়গা হবে না। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত হন, তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

  • চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ  গ্রেফতার -১

    চৌদ্দগ্রামে ইয়াবা ও মদসহ গ্রেফতার -১

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামাল হোসেন ভুঁইয়া নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক আকাশ গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার কামাল উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে।

    জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমানগন্ডা গ্রামে কামালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ২৩০ পিছ ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদসহ কামালকে গ্রেফতার করা হয়।

    এসআই তারেক আকাশ বলেন, ‘মাদকসহ কামাল ভুঁইয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

  • কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা

    কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা

    কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকে ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন। কারাবন্দি থেকেও তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ৩৩ বছর বয়সি বিষ্ণোই এবং তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছে। এতে তাদের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, নিষিদ্ধ মাদক পাচার এবং মানব পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত এই নথিতে বিষ্ণোইয়ের চক্রটিকে ‘বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ বা ‘বিষ্ণোই ওসিজি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর একটি হলো কানাডায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড। এছাড়া বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়িতে গুলি বর্ষণ, পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের ওপর হুমকি এবং গায়ক সিধু মুসওয়ালার হত্যাকাণ্ডের ‘আদেশ ও নির্দেশনা’ দেওয়ার পেছনেও এই চক্রটিকে দায়ী করা হয়েছে।

    একটি বৈশ্বিক অপরাধ চক্র

    মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই অপরাধ চক্রের সদস্যরা ভারত এবং ভারতের বাইরের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের টার্গেট করে আসছিল।

    মার্কিন তদন্তে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে বিষ্ণোইয়ের এই সিন্ডিকেটটি একটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রে’ রূপ নিয়েছে। এর মূল সদর দপ্তর ভারতে হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

    তদন্তে আরো উঠে এসেছে যে, কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও বিষ্ণোই সেখানে চোরাই পথে আনা মোবাইলফোন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তি (ভিওআইপি ডিভাইস) ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে তার সহযোগীদের সরাসরি নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন।

    অভিযোগপত্রে উত্তর আমেরিকায় সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার এবং ইউরোপে রোহিত গোদারাকে বিষ্ণোইয়ের প্রধান দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুখরাজ সিং কাং ভারতে এই সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী বা লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়া রাজন ভাট্টি, ভুলওয়ান এবং সুমিত নামের আরো তিন ব্যক্তি এই চক্রের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে নথিতে নাম এসেছে।

    বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগসমূহ

    হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড

    মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুরিতে গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারা মন্দিরের বাইরে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে চারজন যুক্ত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে দু’জন সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন।

    সিধু মুসওয়ালা হত্যাকাণ্ড

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবের মানসায় বিশিষ্ট ভারতীয় গায়ক ও র‌্যাপার সিধু মুসওয়ালাকে হত্যার পেছনে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হাত ছিল। পরে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই গ্যাং হত্যাকাণ্ডের আদেশ দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছিল। কংগ্রেস নেতা সিধু মুসওয়ালার আসল নাম ছিল শুভদীপ সিং সিধু। পাঞ্জাবের মানসা জেলার জওহারকে গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

    সালমান খানের বাড়িতে গুলি

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিষ্ণোই বহুবার ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সালমান খানকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর জের ধরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমানের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। মূলত ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে এই গ্যাং বছরের পর বছর ধরে সালমান খানকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।

    গিপ্পি গ্রেওয়াল মামলা

    ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের (রূপিন্দর সিং গ্রেওয়াল) বাসভবনে গুলি চালানোর দায় স্বীকার করেছিলেন বিষ্ণোই। ২৫ নভেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষ্ণোই লিখেছিলেন, ‘আমাদের হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।’

    অভিযোগপত্র থেকে আরো জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে এই গ্যাংটি গ্রেওয়াল ও তার ম্যানেজারের সাথে বারবার যোগাযোগ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

    সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ড

    অন্যান্য মামলার মধ্যে মার্কিন বিচার বিভাগ ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে মাদক পাচারকারী সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে।

    নথিতে দেখা গেছে, গোল্ডি ব্রার এবং রোহিত গোদারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফেসবুকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তারা লিখেছিলেন, ‘আমাদের সব শত্রুরা প্রস্তুত থেকো, তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই পৌঁছাও না কেন, আমরা সেখানে পৌঁছে যাব।’

  • পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেফতার

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল আমিনের স্ত্রী।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া আসামি হাসিনা বেগমকে শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

    মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

  • শাহবাগে ‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

    শাহবাগে ‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ আদেশ দেন।

    এর আগে মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান। আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আসামিকে কারাগারে রাখা হোক। পরবর্তীতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তবে এদিন আসামিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন ছিল না।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পশ্চিম পাশের পাদদেশে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রচিত ‘তাফহীমূল কুরআন’এর তিনটি খণ্ডে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ওই যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। উত্তেজিত জনতার মারধরে আসামি সামান্য আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ সামারি ট্রায়াল আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামের মৃত হযরত আলী মণ্ডলের ছেলে আকের আলী মণ্ডল (৬৫) এবং তার স্ত্রী ফেরুজা খাতুন (৪০)। ফেরুজা একই গ্রামের ইন্তাজ আলীর মেয়ে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে এসআই হাফিজুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ওই দম্পতির কাছ থেকে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরে দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গার সামারি ট্রায়াল আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    যশোর আদালত চত্বরে প্রেমিকার কপালে প্রকাশ্যেই সিঁদুর পরিয়ে দেন এক যুবক। তবে এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তরুণী। মুহূর্তেই দুজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে যশোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোর্ট ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জানা গেছে, তরুণীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় এবং যুবকের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া গ্রামে।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে নয় বছরের প্রেম। বিকেলে দুজন যশোরের পুরাতন পরিত্যক্ত জজ আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

    একপর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে রাখা একটি পলিথিনে থাকা সিঁদুর বের করে যুবক হঠাৎ করে তরুণীর কপালে পরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তরুণী প্রতিবাদ করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি দেখে এক আইনজীবী কোর্ট ইন্সপেক্টরকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নেওয়া হয়। পরে তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুজনকেই থানায় আনা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    ট্রান্সফরমার চুরি মিল মালিককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

    বগুড়ার শিবগঞ্জে রাইস মিলের ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে মিল মালিক মোহাম্মদ আলী সরকারকে (৫০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিনের মাথায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের পুটখোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের কাঠগড়া গ্রামের আব্দুল বারিক সাকিদারের ছেলে আব্দুল আলিম (৪০)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে স্থানীয় ফুলতলা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন তার রাইস মিলে পাহারা দিতে যান। রাত দেড়টার দিকে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র বা ডাকাত দল মিলের ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করে।

    এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনে ফেললে, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

    ঘটনার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে দস্যুতা, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে এক যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, পিরোজপুর জেলা শাখা।

    শুক্রবার (৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কেএম ইলিয়াসকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কেএম ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই জেলা ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • খাবারে অরুচি, কারাগারের দ্বারস্থ কয়েদি!

    খাবারে অরুচি, কারাগারের দ্বারস্থ কয়েদি!

    কথিত এক সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক মার্কিন নাগরিক ভারতের দিল্লির একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিহার জেলের ভেতরে নিজের খাবার নিজে রান্না করার অনুমতি চেয়েছেন। তার দাবি, কারাগারের অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার তিনি সহ্য করতে পারছেন না।

    ম্যাথিউ ভ্যানডাইক নামের ওই মার্কিন নাগরিক গত এপ্রিল মাস থেকে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। বিশেষ এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা) আদালতকে তিনি জানান, জেলের খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার কারণে গত তিন মাসে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।

    পাতিয়ালা হাউস কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ভ্যানডাইক তার পরিবারের মাধ্যমে জেলের ভেতরে ইন্ডাকশন কুকার ও পোর্টেবল স্টোভসহ রান্নার সরঞ্জাম এবং অলিভ অয়েল ও পাস্তার মতো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি চেয়েছেন, যাতে তিনি নিজেই নিজের খাবার তৈরি করে নিতে পারেন।

    ভ্যানডাইক গত ৬ মে থেকে অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, কারাগারের নিয়মিত খাদ্যতালিকা তার শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তি তৈরি করছে এবং স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভারতীয় কারাগারের এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া তার পক্ষে যেমন অভ্যস্ততা বহির্ভূত, তেমনি শারীরিকভাবেও অসম্ভব।

    নিজের শারীরিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে ভ্যানডাইক আরও জানিয়েছেন, জেলের মশার কামড়ে তার ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুরক্ষার জন্য মশা তাড়ানোর ওষুধ ও মশারি সরবরাহের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের সাথে এই মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই দলটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মিয়ানমার সীমান্তে চলে যায়। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত এবং ভারতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তাকারী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্যানডাইককে প্রথমে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল তিহার জেলে স্থানান্তর করা হয়।

    আদালত এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, আগামী ২১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর দাবি মান্নার

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সেবা জনগণের নাগালে করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি।

    আমার বাংলাদেশ পার্টির আয়োজনে আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারে সরকারের গড়িমসির সমালোচনা করেন অতিথিরা।

    জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল রেখে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    এ সময় জুলাইয়ে ৭ বছরের সন্তান জাবিরের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন রোকেয়া বেগম।

  • দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার কেন, প্রশ্ন জুলাই শহীদের মার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।’ বাকি মামলাগুলোর বিচার শেষ করতে এত দেরি হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছেন। সেই বাংলাদেশে যেন আর কোনো নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান না ঘটে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।’

    নিজের ছেলে শহীদ জাবির ইব্রাহীমকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় মাত্র ছয় বছরের জাবির সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখত। লং মার্চে যাওয়ার আগে তার শেষ কথাগুলো এখনো আমাদের মনে গেঁথে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো শহীদ হওয়ার অনুভূতি থেকেই শিশুটি এমন কথাগুলো বলেছিল।’

    রোকেয়া বেগম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে কেউ কেউ কটাক্ষ ও অবমাননার চেষ্টা করছে। তবে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। শহীদরা কোনো অপমান সহ্য করার জন্য জীবন দেননি। তারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘গত দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করতে এত দেরি হচ্ছে কেন? অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার শেষ করে শহীদ পরিবার ও আহতদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকে মারধরের ঘটনায় এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মিতালি খাতুন (২৮) নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন।

    ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বুধবার সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মিতালি খাতুন ও তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন।

    ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    রাতে প্রধান শিক্ষক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি চলাকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হচ্ছিল। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমা জান্নাত ঐশি লাইনে দাঁড়িয়ে পেছনের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক তাকে ইশারায় থামতে বলেন।

    এরপর জাতীয় সংগীত শেষ হলে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থীকে ডেকে মারামারি করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ঐশি প্রাধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্কতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থী দুজনকে দুটি চড় মেরে শাসন করেন।

    তিনি বলেন, স্কুল ছুটির পর ঐশির বাবা সামসুর রহমান ও মা মিতালি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে সন্তানকে মারার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন।

    পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও বিশৃঙ্খল আচরণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাকে মৃদু চড় দিই।পরে তার অভিভাবকরা স্কুলে এসে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

  • ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলামিস্ট এলিজাবেথ জ্যঁ ক্যারলের মধ্যকার বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ে বড় সিদ্ধান্ত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ট্রাম্পের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর জমা রাখা ৫০ লাখের বেশি ডলার অবিলম্বে ক্যারলকে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক লুই কাপলান। গতকাল বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে ট্রাম্পের এই অর্থ পরিশোধ পিছিয়ে দেওয়ার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো।

    এই মামলা দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো। সাময়িকীর সাবেক কলামিস্ট জ্যঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।

    ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিলেন।

    জুরিবোর্ডের সেই রায়ের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসছিলেন এবং সম্প্রতি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    আদালতের এই নতুন আদেশ এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এই অর্থ আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ঝুলে থাকা পর্যন্ত যেন ক্যারলকে কোনো অর্থ না দেওয়া হয়। তবে বিচারক কাপলান সেই যুক্তি কানে তোলেননি।আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর জ্যঁ ক্যারলের আইনজীবীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    ট্রাম্প শিবিরের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশেই আছেন। ডেমোক্র্যাটদের পয়সায় ক্যারল যে বানোয়াট নাটক সাজিয়েছেন, তার অবসান হওয়া দরকার। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব আইনি নোংরামি রুখে দেবেন এবং দেশকে আবার মহান করার মিশনে মনোযোগ দেবেন।’

    এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত এই অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে লিখিত আবেদনে বলেন, ‘এখনই ক্যারলকে অর্থ দেওয়া হলে পরে ট্রাম্প আপিলে জিতলেও সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। কারণ, ক্যারল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এই অর্থ তিনি বিভিন্ন সংস্থায় দান করে দেবেন। একবার এই অর্থ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেলে তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

    আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, দেরি হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে, তা পরবর্তী সময়ে সুদের মাধ্যমেই মিটিয়ে দেওয়া যাবে।

    গত সপ্তাহে ফেডারেল আদালতের রায় বাতিল করতে ট্রাম্পের করা আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই ক্যারলের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে ট্রাম্পের জমা দেওয়া টাকা ছাড় করার অনুরোধ জানান। এ খবর পেয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে আবার একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যঁ ক্যারলের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি ছিল প্রথমটি। ২০২২ সালে করা দ্বিতীয় মানহানির মামলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি চলতি মাসের শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

  • শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তিনি শিশুটিকে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা-মা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মিতালী খাতুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ১০ কার্যদিবসে রায়, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

    অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।’

  • শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাবেক শাশুড়ির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাউস আলী নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে হাউস আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নির্যাতন এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে এসব কারণে আম্বিয়া খাতুন তাকে তালাক দেন।

    তালাকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ৭ মে রাতে হাউস আলী গাংনী উপজেলার শহড়াবাড়িয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে সাবেক স্ত্রীকে না পেয়ে তার মা ফুলসুরাতন (৬৬)-এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় আম্বিয়া খাতুন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য গাংনীতে অবস্থান করছিলেন।

    ফুলসুরাতনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাউস আলীকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

    ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওনের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে আদালত এই দণ্ড বহাল রাখে।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির আগে ইউন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা বাধাগ্রস্ত করেন। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। সংসদ সামরিক আইন বাতিল করার পর নিজের গ্রেপ্তার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও ব্যবহার করেন।

    ক্ষমতাচ্যুত এই সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার পৃথক মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। ইউন দাবি করে আসছেন, তার ওই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছিল।

    সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলায় অভিযোগ ছিল, সামরিক আইন ঘোষণার ঠিক আগে তিনি বাছাই করা কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠক করে মন্ত্রিসভার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেন।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া সামরিক আইনসংক্রান্ত আদেশ তৈরি এবং পরে তা ধ্বংস করা, বিদেশি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর এক কমান্ডারকে নিরাপদ সামরিক ফোনের তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষ ইউনের ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। গত জানুয়ারিতে নিম্ন আদালত অধিকাংশ অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    এপ্রিল মাসে আপিল আদালত ওই রায় বহাল রাখার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে।

    এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও ইউনের আইনজীবী—উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।

    টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রায়ে সর্বোচ্চ আদালতের এক বিচারক বলেন, সব আপিল খারিজ করা হলো। কারণ নিম্ন আদালতের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি ছিল না।

    ইউনের আইনজীবীরা এ রায়ে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই সর্বোচ্চ আদালত মামলার নিষ্পত্তি করেছে।

    তারা জানান, সাংবিধানিক ভিত্তিতে এই রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হবে।

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গভীর রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন এবং বেসামরিক শাসন স্থগিত করেন। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়।

    তবে জরুরি অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা দ্রুত ভোট দিয়ে সামরিক আইন বাতিল করায় তা মাত্র ছয় ঘণ্টা কার্যকর ছিল।

    ইউনের ওই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শেয়ারবাজারে বড় ধরণের পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রসহ দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাও এ ঘটনায় বিস্মিত হয়।

    পৃথক আরেক মামলায় সামরিক আইন জারির আগে সংকট ‘তৈরি’ করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর দায়ে ইউনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন একটি আদালত।

    ইউন বরাবরই দাবি করে আসছেন, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত তিনি ‘শুধু দেশের স্বার্থেই’ নিয়েছিলেন।

    ২০২৪ সালেও তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে’ নির্মূল করা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে আসা বলে তার দাবি করা হুমকি মোকাবিলার জন্যই সামরিক আইন প্রয়োজন ছিল।

    সামরিক আইন জারির উদ্যোগের কারণে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইউনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টির লি জে মিয়ং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

  • আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এরপরে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এটি কি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি।

    তিনি বলেন, ৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল যে—‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

    দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, দুদকের এই মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ জুন আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আবেদনটি করেন । সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, আগে থেকেই কারাগারে থাকা কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ হলে সেই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলায় রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাশেদ খান মেনন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক।

  • ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

    ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

    ভারতভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অভিযানে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার তারা জানায়, কানাডায় এক প্রভাবশালী শিখ নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকজন।

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিনের তদন্তে তারা এমন অপরাধ চক্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছিল। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলি, হামলা, জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
    কর্মকর্তারা জানান, বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে যে তারা ভারতের কারাগারে থেকেও নিজেদের আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র পরিচালনা করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১০ জন ছাড়া বাকিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসায়লি বলেন, ‘যেসব আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে বিচার এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’

    মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা অন্যতম ঘটনা হলো ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড।

    মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যা। পাঞ্জাব বংশোদ্ভূত নিজ্জর ছিলেন ‘খালিস্তান’ আন্দোলনের একজন পরিচিত কর্মী। তিনি শিখদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের পাঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই কারাগারে বসেই নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডা তার সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    কর্মকর্তাদের দাবি, বিষ্ণোই প্রকাশ্যে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে তুলে ধরলেও এই ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নিজের অপরাধী চক্রের জন্য সদস্য ও সহযোগী সংগ্রহ করতেন।

    তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বহু দেশে ব্যাপক একটি অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, গুলি, হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন ভারতের পাঞ্জাবের ৩৮ বছর বয়সী জগ্গু ভগবানপুরিয়াও। তিনি ভারতে কারাবন্দি একজন গ্যাং নেতা এবং একসময় বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। কর্মকর্তাদের মতে, ভগবানপুরিয়া নিজের অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছেন, যার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেে এক হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে।

    ভগবানপুরিয়ার সঙ্গে আরো ১৬ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাড়াটে হত্যাকাণ্ড, মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্ডার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি এমন একটি বড় মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা প্রতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় শত শত কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।

    এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেন, ‘আজকের সমন্বিত অভিযান তিনটি ভয়ংকর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের মূল ভিত্তিতে আঘাত করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আতঙ্কিত করেছে, সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।’

  • কানাডায় নিজ্জর হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

    কানাডায় নিজ্জর হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

    নিজ্জার হত্যাকাণ্ড: অভিযোগ গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র

    কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতে কারাবন্দী কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনয় এবং তাঁর উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত অভিযোগপত্রে (ইন্ডাইটমেন্ট) বলা হয়েছে, বিশনয় এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, লরেন্স বিশনয় ভারতের কারাগার থেকে চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এই অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি নিজ্জারকে হত্যার সুবিধার্থে একজন সহযোগীকে তাঁর ছবি এবং একাধিক ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। অন্যদিকে বিশনয়ের শৈশবের বন্ধু গোল্ডি ব্রার উত্তর আমেরিকায় তাঁদের এই অপরাধী চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা ‘লরেন্স বিশনয় অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ নামে পরিচিত।

    কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জার ভারতে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র ‘খালিস্থান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নয়াদিল্লি তাকে আগেই ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

    ২০২৩ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে। নয়াদিল্লি ট্রুডোর সেই অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

    তবে লরেন্স বিশনয় ও গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দায়ের করা এই সাম্প্রতিক অভিযোগপত্রে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

    লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসেয়ালি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকা বা তাদের আগে থেকে জানার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তোলেননি।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশনয় এবং ব্রারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন মূলত মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষের একটি বৃহত্তর যৌথ তদন্তের অংশ। এই তদন্তে ভারতভিত্তিক তিনটি অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা হেফাজতে রয়েছেন।

    এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডীয় পুলিশ নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাঁদের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল। তবে মার্কিন অভিযোগপত্রে ওই শুটারদের সরাসরি আসামি না করে কেবল ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হরদীপ সিং নিজ্জারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের যে চরম অবনতি ঘটেছিল, কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অধীনে তা কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কার্নি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে ভারতে যান এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেন, যা চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে কানাডার বর্তমান সরকারের এই আপসকামিতা ও নরম মনোভাবের সমালোচনা করছে দেশটির বেশ কয়েকটি শিখ সংগঠন। তাদের অভিযোগ, অটোয়া প্রশাসন ভারতকে যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং কানাডীয় শিখদের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে

  • পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়  অভিযুক্ত ও সাক্ষী এনকাউন্টারে

    পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাক্ষী এনকাউন্টারে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুরে মুসলিম কন্যাশিশুকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ‘যোগী মডেল’-এর তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, উত্তর প্রদেশের ধাঁচে এনকাউন্টারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের খতম করে দেওয়া হচ্ছে।

    গত রোববার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে গেলে সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রভাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকেই অনেকে যোগী মডেলে এনকাউন্টার বলে আখ্যা দিচ্ছেন, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার আগেই মূল অভিযুক্ত বা সাক্ষীকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

    এই তদন্তের মধ্যেই একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, পুলিশি হেফাজতে জেরা চলাকালীন প্রভাস রাজা নামের এক বিজেপি নেতার নাম উল্লেখ করেছিল। এই নারকীয় ঘটনায় ওই নেতার জড়িত থাকার সরাসরি ইঙ্গিত থাকার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত রাজাকে গ্রেপ্তার করেনি। একদিকে মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু এবং অন্যদিকে জেরায় নাম উঠে আসা বিজেপি নেতা অধরা থাকা—এ দুইয়ে মিলে গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

    পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী বসিরহাট থেকে কবীর মোল্লা নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এই মামলায় এর আগে আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ফলে এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।

    অন্যদিকে, মঙ্গলবার বারুইপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের এসপি অফিসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ঘটনার পর বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে এরই মধ্যে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের এ ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের কড়া অবস্থান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আসছে, ঠিক তেমনি মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার এবং জেরায় নাম ওঠা বিজেপি নেতা রাজাকে ধরতে পুলিশের ব্যর্থতা বা অনীহা গোটা ঘটনায় এক নতুন ও বিতর্কিত মাত্রা যোগ করেছে।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার করতে হবে: আখতার হোসেন

    মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানী কাকরাইলের আইডিইবি মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শিরোনামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। নির্বাচন এবং বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। জুলাইয়ে আমরা যেই আন্দোলন করেছিলাম এর ২টি উদ্দেশ্য ছিল; আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং আওয়ামী কায়দা বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা। হাজার হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ।’

    আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই গড়িমসি করে আসছে, সেই ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা থেকেই। ভোটের পিআর অনুযায়ী উচ্চকক্ষ তারা মানবে না, নতুন বিচারিক প্রক্রিয়া, পিএসসি, দুদক নিয়োগসহ বেশ কিছু সংস্কার মানতে নারাজ তারা।’

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতিদ্রুত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রকাশ্যে জুলাইকে কটূক্তি করছে। তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

  • টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ. রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২৩ সালের ২২ জুন বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে একজন এবং পরে অপর দুই আসামি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অন্য দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে একই আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগে মাংস ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই মণ খাবার অনুপোযোগি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

    মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে জাকির হোসেনের মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রওশনা জাহান। অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. তানজির নাঈম সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, প্রায় দুই মন গরুর পঁচা মাংস জব্দের পর ধংস করে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (জুন) বিচারপতি স্বরনা কান্ত শর্মার বেঞ্চ দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের করা আবেদন গ্রহণ করে এ নির্দেশ দেন।

    শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতা আদালতকে জানান, দলটির কিছু পোস্ট নিট পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছিল।

    তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিট পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার পক্ষে সরকারের যে উদ্বেগ ছিল, তার আর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভ ল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট ব্লক রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই বলে মনে করেছে আদালত।

  • ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২.২ বিলিয়ন ইউয়ান) ঘুষ গ্রহণের দায়ে চীনের এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। পূর্বাঞ্চলের চাংঝৌ শহরের আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। খবর বিবিসির।

    দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াং ইউলিন (৬৯) ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৌশল প্রকল্প, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করেন।

    ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি ইয়াংকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এর ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে বহু ক্ষতি হয়েছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে বেইজিং।

    চীনে আর্থিক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, ১ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ জড়িত গুরুতর দুর্নীতির মামলায় এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে সাবেক আর্থিক কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিন এবং ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে বড় অঙ্কের ঘুষ ও আত্মসাতের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াং ইউলিন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বক্তব্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলেও তার অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, আদালত শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ দেখেনি।

  • ভারতে এবার তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে ?

    ভারতে এবার তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে ?

    সারা বিশ্বের পর্যবেক্ষক ও ইতিহাসবিদদের জন্য ভারতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য তাজমহলের আয়ু বোধ হয় ফুরিয়ে আসছে। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করে উত্তর প্রদেশেরই আগ্রা আদালতের একটি আদেশ সম্পর্কে তাঁদের মতামত জানতে চেয়েছেন।

    উত্তর প্রদেশের আগ্রা আদালত অতীতে তাজমহল জরিপের উদ্দেশ্যে এই সৌধের স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগে অনুমতি দেননি। অর্থাৎ তাজমহল জরিপ করার যে আবেদন এক আইনজীবী ২০১৫ সালে করেছিলেন, সেই আবেদন অতীতে খারিজ করে দিয়েছিলেন আগ্রা আদালত।

    সম্প্রতি সেই মামলার শুনানি করেই সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, কেন তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজতে জরিপ করা যাবে না।

    আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ জানতে চান, কেন সৌধের জরিপ করা যাবে না। আবেদনকারী আইনজীবী জৈনের দাবি, বিশ্বখ্যাত এই স্মৃতিসৌধটি আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যার নাম ‘তেজো মহালয়া’। এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে উৎসর্গী করা হয়েছিল।

    হিন্দু দেবতা মহাদেবকে মামলাটির মূল পক্ষ করা হয়েছে, যেমন সাধারণ মানুষকে করা হয়। মহাদেবকে মূল পক্ষ করে তাঁর ‘পরম বন্ধু’ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন এবং আরও বেশ কয়েকজন ভক্তের মাধ্যমে এই পিটিশন করা হয়েছে।

    তাজমহল

    বিতর্কিত রামমন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বছর কয়েক আগে হিন্দুত্ববাদী হরিশঙ্কর জৈনের ছেলে আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যেসব সৌধের নিচে হিন্দুদের কথিত পবিত্র স্থান রয়েছে, একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাঁরা। এই তালিকা দীর্ঘ।

    বিষ্ণুশঙ্কর বলেছিলেন, এসব স্থান বেছে বেছে বের করে মামলা করা হবে। বর্তমানে সেই কাজই করছেন পিতা–পুত্রের এই দল। বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত।

    এলাহাবাদ হাইকোর্টের মামলায় বাদীপক্ষ (আবেদনকারী) একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো—এই স্মৃতিসৌধটি একটি হিন্দু মন্দির। তাই বাদীপক্ষ তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে পূজা করার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।

    বাদীপক্ষের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সরকার ও এসআই–এর কাছে জানতে চেয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কেন জরিপ করা হবে না।

    বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে এই এলাহাবাদ হাইকোর্টই অন্যতম কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন, অযোধ্যার বিবদমান ২ দশমিক ৭৭ একর জমি হিন্দু দেবতা রাম লালা, রক্ষণাবেক্ষণকারী নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের মধ্যে সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।

    তাজমহলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সৌধের ভেতরে ‘দর্শন’ ও ‘পূজা’ করার মৌলিক অধিকার হিন্দুদের রয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে তাজমহলে জরিপ করতে একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল।

    তবে ওই সময় আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ডিভিশন) ওই আবেদন খারিজ করেছিলেন। আদালত যুক্তি দিয়েছিলেন, বাদীপক্ষ তাজমহলে সুনির্দিষ্ট জায়গা (দাগ নম্বর) নিশ্চিত করার জন্য কোনো রাজস্ব নথি (যেমন খতিয়ান বা খসড়া) দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্পত্তির বর্ণিত সীমানা ও আয়তন (৭৭ বিঘা) বিবাদীপক্ষের নথির সঙ্গে মেলেনি।

    এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে একটি রিভিশন পিটিশন (সংশোধনী আবেদন) রক্ষণাবেক্ষণের অযোগ্য বলে গণ্য করেন আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজ। এই দুটি আদেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

    আবেদনে বাদীপক্ষ মূল মামলায় করা নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যসংক্রান্ত দাবিগুলো উল্লেখ করে বলেছে, কথিত প্রাচীন তেজো মহালয় মন্দিরটি (তাজমহল), যেখানে দেবতা আগ্রেশ্বর মহাদেব বিরাজ করছেন, সেটি ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন।

    প্রসঙ্গত, ইউনেস্কো তাজমহলকে একটি ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বিষয়টি ভারত সরকারের পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে।

    সেই ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, এটি তৈরি করেছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান, তাঁর পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে। ওয়েবসাইটে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের ছবিও (হাতে বা কম্পিউটারে করা পেন্টিং) রয়েছে।

    ইতিহাসবিদদের বক্তব্য, তাজমহল বানানোর কাজ শুরু হয় ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ১৬৫৩ সালে বা তার আশপাশে। বছর দশেক আগে হিসাব করে দেখা যায়, এই স্মৃতিসৌধটির বাজার মূল্য ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এটি ভারতের মুখ্য পর্যটনকেন্দ্র।

    আবেদনকারী হিন্দুত্ববাদী আইনজীবীরা অবশ্য এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্মৃতিসৌধটি রাজা মানসিংহের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় আসে এবং পরবর্তী সময়ে ১৭ শতকে জয়পুরের রাজা জয়সিংহ এই স্থানে অর্থাৎ তাজমহলে অভিষিক্ত হন।

    এরপর মোগল শাসক শাহজাহান রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে কথিত ‘তেজো মহালয়া’ প্রাসাদটি জোরপূর্বক দখল করেন এবং তাঁর মৃত রানির স্মৃতিসৌধে পরিণত করেন। এই রূপান্তরের জন্য বিতর্কিত সৌধটির কিছু অংশ পরিবর্তন করে ইসলামিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছিল।

    হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেন, অন্তত ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে, এই সম্পত্তিটি একটি হিন্দু মন্দির।

    মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এএসআই ‘বেআইনিভাবে’ মুসলিমদেরকে গত শুক্রবারে তেজো মহালয়া বা তাজমহলে ‘নামাজ’ পড়ার অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভবন চত্বরের বেশ কয়েকটি তলা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হিন্দু ‘পূজা’ ও দেবতার আরাধনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই সম্পত্তির ব্যবহার বেআইনি।

    আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত সম্পত্তির পরিচয় নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, এটি একটি সর্বজনবিদিত প্রাচীন স্মৃতিসৌধ। তা ছাড়া আবেদনকারীদের যুক্তি, সৌধটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং তালাবদ্ধ অংশগুলো ‘কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়’।

    আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএসআই-নিয়ন্ত্রিত এই সৌধটিতে তাদের অবাধ প্রবেশের অধিকার নেই, যার ফলে কার্যকর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের নিযুক্ত একজন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য।

    এই পটভূমিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, হাইকোর্ট যেন আগ্রা আদালতের আদেশ বাতিল করেন এবং ট্রায়াল কোর্টকে (নিম্ন আদালত) গুণাগুণের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।

    এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন একটি স্থগিতাদেশের আবেদনে অনুরোধ করা হয়েছে, হাইকোর্ট যেন এএসআইয়ের পরিচালককে নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে ভবনের ভেতর ও বাইরের ছবি তোলা হয় এবং তা বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করা হয়।

    বিষয়টি নিয়ে অবগত আইনজীবীরা মনে করছেন, তাজমহল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এবং যা ৬ জুলাই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল, তা একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। একইভাবে ভারতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়েছিল তিন দশক আগে বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে, যা ২০১৯ সালে ভারতে রামমন্দির বলে আদালত চিহ্নিত করেছিলেন। তাজমহলের কপালে কী লেখা আছে, তা বোঝা যাবে আর কয়েক বছরের মধ্যেই

  • পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হয়।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।

    এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

    প্রসঙ্গত, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে রায় দেন।

    ১৫ বছর আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

    হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ খুললেও কিছু জটিলতা থেকে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিলটি করেন। নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পৃথক আপিল করা হয়েছে। আপিল তিনটি শুনানির জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।

    আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

  • ভারতে পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ: গ্রেপ্তার

    ভারতে পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ: গ্রেপ্তার

    ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এসিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সানকিরেড্ডি ভীম রেড্ডিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    এসিবির কর্মকর্তারা একাধিক স্থানে তল্লাশি শেষ করার পর ওইদিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার কথা জানানো হয়। এসিবির অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভীম রেড্ডি তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

    কয়েক দিন আগে এসিবি একযোগে তার বাসভবনসহ তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালায়। এসব স্থানের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সম্পত্তিও ছিল। তল্লাশিতে কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত সম্পদের সন্ধান পান- হায়দরাবাদের ভেসেলা মেডোজে একটি বিলাসবহুল ভিলা। টেলিকম নগরে জি+২+পেন্টহাউস বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন। সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট। গাচিবাউলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট। মানিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত একটি জি+৫ বাণিজ্যিক ভবনের অংশীদারত্ব।

    মানিকোন্ডা মারিচেত্তু জংশনের কাছে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা। টেল্লাপুরের অভিনন্দা রেসিডেন্সিতে দুটি ফ্ল্যাট। প্রগতি রিসোর্টস এলাকায় ৫০০ বর্গগজের একটি খালি প্লট। সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে সাড়ে ৩ একর কৃষিজমি। কর্নাটকে ৬ একর কৃষিজমি। কর্নাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি। ব্যাঙ্গালোরের দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি। নাগোলের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুতেই আরও ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। বিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একটি জমি। মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি। শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস নামের প্রতিষ্ঠানে ৭৫ লাখ রুপির বিনিয়োগ। সিসি কুন্তা এলাকার মুচিন্তালা গ্রামে ৪ দশমিক ২০ একর কৃষিজমি। নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপা। তল্লাশিতে ভীম রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ।

    এ ছাড়া তার কথিত এক বেনামি ব্যক্তির বাড়ি থেকে আরও ৪০ লাখ রুপি নগদ পাওয়া যায়। অভিযানে প্রায় ২ কেজি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২০ কেজি রুপার সামগ্রী এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ লাখ ৯১ হাজার রুপি জমার তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

    এসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ডায়েরিটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করেছে।

  • শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

    এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।

    ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে  আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক।

    ইরনা জানিয়েছে, এহুদ বারাক বর্তমান রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ব্যাপক আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেন।

    সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিতে মন্ত্রিসভার অস্বীকৃতি কেবল একটি আইনি বিবাদ নয়, বরং এটি এমন একটি মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে ইসরাইল এবং এর সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যাদের বিষয়াদি পরিচালনার যোগ্যতা ও দক্ষতা নেই।

    বারাক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভবিষ্যতের ওপর এই বিবাদের গুরুতর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন স্তরের ব্যর্থতার কারণে, বিশেষ করে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে উস্কে দেওয়া যুদ্ধগুলোর প্রতিকূল ফলাফলের ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইলি শাসনের অভ্যন্তরে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে।