আইন-আদালত

  • চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৫৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ।

    থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। শুক্রবার (৭ জুলাই) চৌগাছা থানার এসআই আব্দুস ছাত্তার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কমলাপুর মোড় এলাকায় চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কে অভিযান চালান। এ সময় রুমেল ওরফে রুবেল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রুমেল ওরফে রুবেল ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

    পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার টেঙ্গুরপুর মোড় এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ মোল্যা (৩৮) ও জসিম উদ্দীন মন্ডল (৫৫) কে আটক করেন। তাদের নিকট থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল্লাহ মোল্যা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী (উত্তর গড়ের আবাদ) গ্রামের লিয়াকত মোল্যার ছেলে ও জসিম উদ্দীন মন্ডল চৌগাছা উপজেলার রাজাপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত রওশন আলী মন্ডলের ছেলে।

    এদিকে চৌগাছা থানা পুলিশ উপজেলার টেঙ্গুরপুর-পুড়াপাড়া সড়কের আন্দারকোটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার নিকট থেকে ৩৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক আব্দুস সামাদ চৌগাছা উপজেলার পান্টিপাড়া গ্রামের মৃত হারেজ গাজীর ছেলে।

    এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মেটাকে ৭০ হাজার কোটি টাকা জরিমানা, কেন?

    মেটাকে ৭০ হাজার কোটি টাকা জরিমানা, কেন?

    শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। টাকার হিসাবে যেটা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

    নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

    এটি শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক দণ্ড। এর আগে একই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে মামলাটিতে মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।

    নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটাকে একটি ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ক্ষতি অনেকটা বায়ুদূষণের মতো। এই অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কমানোর কাজে ব্যবহারের জন্য একটি তহবিলে জমা রাখতে হবে।

    মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস।

    বিচারক বিডশিড মেটাকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষ্য, মেটার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন নিপীড়নের ঝুঁকি হলো সেই দূষণ, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

    মেটার একজন মুখপাত্র আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে মেটা নিয়মিত কাজ করছে এবং অনলাইনে কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আত্মবিশ্বাসী।

    শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্টে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

    নিউ মেক্সিকোর এই মামলা শুরু হয় ২০২৩ সালে। রাজ্যটির আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। একই সঙ্গে যৌন বিষয়বস্তু ও যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

    মামলার প্রথম ধাপে আদালত দেখতে পান, মেটা নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ বারবার লঙ্ঘন করেছে।

    আদালতের মতে, মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    মেটার অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীরা কোন কনটেন্ট দেখবেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন করে।

    দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক বলেন, মেটার কার্যক্রম ‘জনদুর্ভোগ’ পর্যায়ের ক্ষতি তৈরি করেছে। অর্থাৎ এমন একটি সমস্যা, যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    তিনি লিখেছেন, কারখানার বিষাক্ত দূষণ যেমন সাধারণ মানুষের বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে।

    জরিমানার অর্থ যাবে চিকিৎসা ও সচেতনতায়

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেটাকে যে তহবিল গঠন করতে হবে, তা শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ব্যবহার করা হবে।

    এর মধ্যে প্রায় ৪২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিকিৎসায়। এ অর্থ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

    আরেকটি অংশ ব্যবহার করা হবে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণে। বিশেষ করে শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজনিত শিশু ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    শিশু ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ

    আদালত মেটাকে আরো কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যবহারকারীকে প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সুপারিশ করা যাবে না।

    • কোনো প্রাপ্তবয়স্ক যেন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকে বার্তা পাঠাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    • অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

    • শিশু যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘একবারের অপরাধেই নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করতে হবে।

    এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরো কিছু নিয়ম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • তাদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা।

    • রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রতিদিন পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

    • সাধারণ শিক্ষাবর্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া) নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

    ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা।

    মেটার বিরুদ্ধে আরো মামলা

    শিশু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে হাজারো মামলা চলছে। নিউ মেক্সিকোর মামলার পাশাপাশি চলতি বছর লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় মেটা হেরেছে।

    আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৬ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন।

  • র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    র‍্যাবের বদলে আসছে এসআরবি

    দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানির অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

    এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

    র‍্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র‍্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।

    খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্যদের প্রেষণে এনে বাহিনীটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির।

    খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ও পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

    এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা।

    খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন।

  • মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যা, ২ কিশোরের কারাদণ্ড

    মেহেরপুরে নিষিদ্ধ পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী ‍উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকেলে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় ওই ফোন থেকে আবিরের বাবা মালয়েশিয়াপ্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।

    বিষয়টি দ্রুত আবিরের বাবা পরিবারকে মোবাইলফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন একইদিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    রায়ে আরো বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

    মামলায় ১১ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

    আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন ও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

  • ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য

    ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য

    একটি ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ কলেজে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে বিবিসির কাছে অভিযোগ করেছেন চার তরুণী। তাদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন জুনিয়র সৈনিকের হাতে তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

    যুক্তরাজ্যের উত্তর ইয়র্কশায়ারের হারোগেটে অবস্থিত আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজে (এএফসি) গত পাঁচ বছরে এই ঘটনাগুলো ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তাদের সবার বয়স তখন ছিল মাত্র ১৭ বছর। তারা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুলে জানিয়েছেন, কলেজটিতে নারীবিদ্বেষ এবং যৌন সহিংসতার এক ‘বিপজ্জনক সংস্কৃতি’ চলছে।

    সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসির এক তথ্য অধিকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, জুন পর্যন্ত গত এক বছরে উত্তর ইয়র্কশায়ার পুলিশ ওই কলেজ সংশ্লিষ্ট ১৬টি যৌন অপরাধের অভিযোগ পেয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নগ্নতা প্রদর্শন, অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তে উঁকিঝুঁকি এবং যৌন নিপীড়ন। তবে এসব ঘটনায় কারও শাস্তি হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কলেজটিতে মোট ১৭৬টি যৌন অসদাচরণের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩২টি অভিযোগ ছিল স্থায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে এবং ১৪৪টি জুনিয়র সৈনিকদের বিরুদ্ধে।

    আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজ (এএফসি) হলো যুক্তরাজ্যের ১৯ বছরের কম বয়সিদের জন্য বৃহত্তম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বর্তমানে এখানে ৮৮৯ জন জুনিয়র সৈনিকের মধ্যে ৭০ জন নারী রয়েছেন।

    ‘আমি যেন এক টুকরা মাংস ছিলাম’
    শৈশব থেকেই সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ‘টিলি’ জানান, এএফসিতে সহকর্মী সৈনিকদের হাতে তার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। তিনি সেই ভয়াবহ দিনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “তারা আমাকে জিজ্ঞেস করল ‘রুমে আসবে কি না?’ আমি ১৭ বছরের সহজ-সরল মেয়ে হিসেবে রাজি হয়ে যাই। এরপর তারা আমার পোশাক খুলে ফেলে এমন সব কাজ করতে শুরু করে যাতে আমার সম্মতি ছিল না।”

    তিনি আরও বলেন, “সেখানে অনেক লোক ছিল। তারা আমাকে যত্রতত্র স্পর্শ করছিল এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছিল। তারা আমাকে একটি মেয়ের বদলে ‘বস্তু’ বলে ডাকছিল। এরপর আমাকে গণধর্ষণ করা হয়… সমবয়সি অনেক জুনিয়র সৈনিক মিলে এই কাজ করে। এটি কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। আমার মনে হচ্ছিল আমি কেবল এক টুকরা মাংস।”

    এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর টিলি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন। তিনি জানান, পুলিশের তদন্ত ছিল ‘সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত’, যার ফলে কোনো অপরাধীর শাস্তি হয়নি। তবে উত্তর ইয়র্কশায়ার পুলিশ তাকে পরে একটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়, যদিও তারা সরাসরি দায় স্বীকার করেনি।

    দ্বিতীয় নারী ‘মনিকা’ জানান, এক সহকর্মী তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে যৌন হেনস্তা করেন। তিনি বলেন, ‘সে দরজায় এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যে আমি বের হতে পারছিলাম না। সে আমাকে জাপটে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করতে শুরু করে।’

    তৃতীয় ভুক্তভোগী ‘অ্যামি’-র মা শেরিল জানান, তার মেয়ে প্রায় প্রতিদিন যৌন হয়রানির শিকার হতেন। রুমের দরজার লক নষ্ট থাকায় অ্যামি দরজার সামনে শুয়ে রাত কাটাতেন যাতে কোনো পুরুষ সৈনিক ভেতরে ঢুকতে না পারে। শেরিল আক্ষেপ করে বলেন, তার মেয়েকে একটি ‘স্বপ্নের’ কথা বলে আনা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা নরকে পরিণত হয়েছে।

    চতুর্থ ভুক্তভোগী ‘এলি’ জানান, প্রশিক্ষকদের আচরণ কিশোরদের ওপর প্রভাব ফেলত। তিনি বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহেই একজন প্রশিক্ষক আমাদের বলেছিলেন—সবই হলো মেয়েদের শরীর নিয়ে এবং তুমি কতজনকে পটাতে পারো তা নিয়ে।’ প্রশিক্ষকরা মেয়েদের রূপের ওপর ভিত্তি করে ১০-এর মধ্যে নম্বর দিতেন এবং অনুমতি ছাড়াই মেয়েদের অন্তর্বাস পরা অবস্থায় ডরমিটরিতে ঢুকে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

    শাস্তি ও আইনি বাস্তবতা
    গত পাঁচ বছরে এএফসির কয়েকজন প্রশিক্ষক সামরিক আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০২৩ সালে ড্যানিয়েল কনওয়ে সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে সাত বছরের জেল পান এবং সাইমন বার্ট্রাম যৌন নিপীড়নের দায়ে ২০ মাসের সামরিক কারাদণ্ড পান।

    টিলি অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষকরাই নারীবিদ্বেষ উসকে দেন। ধর্ষণের পর একজন প্রশিক্ষক তাকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান অ্যামির মা শেরিলও। তিনি বলেন, ‘তার মেয়েকে লাইনে দাঁড় করিয়ে সবার সামনে চরিত্রহীন বলে গালি দেওয়া হতো কারণ প্রশিক্ষকদের মতে ছেলেদের নজরে পড়া তার দোষ ছিল। তারা ভুলে গিয়েছিল যে সে কেবল একটি শিশু।’

    তদন্তের দাবি ও বৃহত্তর সংকট
    লেবার পার্টির এমপি এমা লেওয়েল এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে অবিলম্বে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এক পরিদর্শনে সেখানকার সুরক্ষাব্যবস্থা ‘উৎকৃষ্ট’ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে।

    এই ঘটনাগুলো ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নারীদের দীর্ঘমেয়াদি সংকটেরই অংশ। ২০২১ সালের ‘অ্যাথারটন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর ৬৬ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। রয়্যাল আর্টিলারি গানার জেসলি বেকের আত্মহত্যার ঘটনাও এখানে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর নিজের জীবন শেষ করে দেন।

    বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা টিলি তার জীবন নতুন করে গড়ার চেষ্টা করছেন। সেনাবাহিনীর বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যদি কোনো মেয়ে থাকে, আমি তাকে কখনোই সেনাবাহিনীতে পাঠাব না।’

  • দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পরিপত্র জারির নির্দেশ

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যে কোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অবিলম্বে একটি পরিপত্র জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত জারি করা এক রুল আংশিক মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার বিষয় নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

    রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে নির্দেশ জারি করে সার্কুলার ইস্যু করেন। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর আক্রমণ বা যেকোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি আসলে তাকে যেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; পরবর্তীতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

    ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট আবেদন দায়ের করে।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    দামুড়হুদায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-কলিম উদ্দিন ওরফে কালু (৪০), সাজিদ হাসান (২৮) ও আশিকুর রহমান (২৪)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বাঘাডাঙ্গা নতুনপাড়া এলাকায় অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।

    এ সময় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে কলিম উদ্দিনের কাছ থেকে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিথিনে রাখা ২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।

    এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন জানান, ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    খোকসায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বশোয়া গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় তার বাবা-মা নিকটবর্তী বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্রতিবেশী সৈকত শেখ (১৫) শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর পাংশা সীমান্তসংলগ্ন একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

    সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে পটেটো চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলে সে কান্নাকাটি করতে করতে ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং বুকে ও তলপেটে তীব্র ব্যথার কথা জানায়।

    পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

    অভিযুক্ত সৈকত শেখ বশোয়া গ্রামের গ্রাম পুলিশ এরশাদ শেখের ছেলে বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    কুমিল্লায় হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন, ছেলে বেকসুর খালাস

    টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার লাকসামে সাইফুল ইসলাম সোহান নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে মো: মিজানুর রহমান হাজারীকে (৬৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    তবে একই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মিজানুর রহমান হাজারীর ছেলে মেহেদী হাসানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির মরহুম আলী হোসেনের ছেলে।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম সোহানের সাথে মিজানুর রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পরে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মিজানুর রহমান হাজারী ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

    সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।

    এ,আর

  • হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

    হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

    হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ভারতের ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর রাজ্যের অটোচালক বিজয় হোলকার। পরবর্তীতে হত্যার কারণে হাতিটিকে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে শর্ত সাপেক্ষে হাতিটিকে জামিন দিয়েছে ভারতের আদালত।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অটোচালক বিজয় হোলকারের মৃত্যুর পর ঘাতক হাতিটিকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাতিটিকে আপাতত শহরেই নজরবন্দি করে রাখা হ

    তবে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গজরাজকে ইনদওর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত হাতিটির বিষয়ে বেশ কিছু শর্তও আরোপ করেছে। এটিকে শহর জুড়ে ঘোরানো, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা কোনও জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ এর গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবে।

    এই মামলায় হাতিটির মাহুত (হাতির চালক) উমেশ গোস্বামী এবং মালিক সন্দীপ নির্মোহীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। বন বিভাগ শুধু ঘটনার পরিস্থিতিই নয়, হাতিটির মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে। হাতিটিকে নিয়ম মেনে পরিবহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে স্থানান্তকরণের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে, হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে নান্দেদের কাছে হাতিটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। যে ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল, সেটির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। এর পর হাতিটি ট্রাকে উঠতে অস্বীকার করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। হাতিটি ট্রাকে উঠতে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ধরে হাঁটিয়ে সেটিকে উজ্জৈনে আনা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা হাতিটির আচরণে প্রভাব ফেলেছিল এবং সে আগের চেয়ে বেশি খিটখিটে হয়ে উঠেছিল।

    গত মাসের ২৫ তারিখে হাতিটিকে তার মাহুত রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে বেরোয়। হাতিটিকে গুড় খাওয়াতে গিয়েছিলেন ৪৯ বছরের বিজয়। হঠাৎ হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিজয়কে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিজয়কে ছুড়ে ফেলার পর হাতিটি তাঁর বুকের উপর পা তুলে দেয়। গুরুতর আহত হন প্রৌঢ়। আশপাশে থাকা লোকজন তাকে হাতির কবল থেকে মুক্ত করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিজয়ের পরিবার তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

  • লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

    লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

    চলতি বছরের শুরুতে লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলকে হত্যা এবং তার ক্যামেরাম্যান জয়নাব ফারাজকে আহত করা ইসরাইলি বিমান হামলা ছিল ‘পরিকল্পিত’ এবং তাই এটি ‘যুদ্ধাপরাধকে বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। খবর আলজাজিরার।

    লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল আখবারের সাংবাদিক খলিল ২২শে এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে প্রতিবেদন করার সময় দক্ষিণের শহর আত-তিরিতে নিহত হন।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, লেবাননে জাতিসংঘ মিশন এবং রেড ক্রসের অনুরোধসহ বিভিন্ন প্রমাণে দেখা গেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী জানত সাংবাদিকরা সেই ভবনে ছিলেন যেখানে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল।

    মানবাধিকার সংস্থাটি আরও প্রকাশ করেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী যখন উদ্ধারকারী দলগুলোকে সাংবাদিকদের অবস্থানে পৌঁছাতে বাধা দেয়, খুব সম্ভবত খলিল তখনও জীবিত ছিলেন।

    এইচআরডব্লিউ-এর রামজি কাইস এক বিবৃতিতে বলেন, সংগৃীত তথ্য থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানত, অথবা তাদের এটি জানা স্বাভাবিক ছিল, যে ফারাজ ও খলিল বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যারামেডিকদের তাদের উদ্ধার করতে বাধা দেয়।

  • মোসাদের ২১ ভাড়াটে সৈন্য আটক

    মোসাদের ২১ ভাড়াটে সৈন্য আটক

    ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব কেরমান প্রদেশে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক গোয়েন্দা-অভিযানে জায়নবাদী ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সংবেদনশীল এবং গোপনীয় কেন্দ্রগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসী মোসাদের কাছে পাঠাতো।

    মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বাহিনী প্রদেশটিতে চারজন সশস্ত্র অপরাধীকেও শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি ও বেসরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র, যুদ্ধ ও শিকারের গোলাবারুদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে  ৬০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

    কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ৬০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

    ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে চলমান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে আজ ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হওয়া এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান এই অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের চরম মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

    এছাড়াও ইসরাইলি বাহিনী সাধারণ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে এবং বসতবাড়ি ও জিনিসপত্র ব্যাপক মাত্রায় ধ্বংস করেছে।

    ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে ওই শিবিরে চলা অভিযানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলার কারণে অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

  • সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: শাকিল মুন্সীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সালথা থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার আসামি শাকিল মুন্সী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মুন্সীকে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সালথা থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর তার লিচু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং জোর করে লিচু পেরে খেতেন পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সী ও তার সহযোগীরা।

    গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু পারায় বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করেন শাকিল ও তার সহযোগীরা। এর জের ধরে বাগান মালিক আজিজুরের ওপর হামলা চালান শাকিল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা হামলার শিকার আজিজুরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ১৫ মে নিহতের ভাই ফজলুল হক মোল্লা সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

  • দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে মিরাজের দাপুটে সেঞ্চুরি

    দুশ্চিন্তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের নিয়ে। কিন্তু স্বাগতিকরা দাপট দেখালেন স্পিনে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে অফ-স্পিনার কোরি রকিচিওলি একাই ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন। প্রথম দিনে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছিল, তখন ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। হাঁকান দারুণ এক সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারের ওপর ভর করে ১০৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান। তাতে অতিথিরা পেয়েছে সম্মানজনক স্কোর। মিরাজের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রানের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।

    অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতে তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ দুর্দান্ত বোলিং করে। আক্রমণের মুখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা পড়ে যায় ব্যাটিং বিপর্যয়ে। প্রথম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে চাপে পড়ে গিয়েছিল সফরকারীরা।

    তার আগে ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৭ রানে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে সাজঘরে ফেরান হান্নো জ্যাকবস। ওপেনার তানজিদ বিদায় শূন্য রানে। এরপর সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও রানের গতি ছিল বেশ মন্থর।

    অধিনায়ক শান্ত ৫৩ বলে ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সাদমান করেন ৪৭ বলে ৩১ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (১৬) ও টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান (১৫) উইকেটে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। লাঞ্চের আগেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। যথারীতি শুরুর ছয় ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হন এই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন।

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কোরি রকিচিওলি ২৪ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। এছাড়া হান্নো জ্যাকবস, জাভিয়ার ক্রোন, ক্যাম্পবেল থম্পসন ও জারসিস ওয়াদিয়া ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬৩/১০, ৭৫.৫ ওভার

    (মিরাজ ১০৯*, শান্ত ৩৭, সাদমান ৩১, মুমিনুল ১৬, সৌম্য ১৬; রকিচিওলি ৬/৮৩, জ্যাকবস ১/২৮, ক্যাম্পবেল ১/২৬ ক্রোন ১/৪৮ ও ওয়াদিয়া ১/২৬)।

  • ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এমপি!

    ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এমপি!

    বৃটেনে শিশু ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে পুলিশের জামিনে থাকা পাকিস্তানের সাবেক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও তিনি পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক আইনসভা নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২১ সালে নিজের আসন হারানোর পর প্রায় পাঁচ বছর আইনসভার বাইরে ছিলেন রুখসার আহমেদ। চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেছেন।

    রুখসার এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১১ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আজাদ কাশ্মীর আইনসভার সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

    ৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি কুখ্যাত গ্রুমিং গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন তিনি।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তবে গত মাসে জামিনের শর্ত অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।

    কিন্তু একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।

    বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ২০২৪ সালে রুখসারের বিদেশ ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সে সময় সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুখসার আহমেদের ১৭ হাজারেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসেও তাকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় দেখা গেছে। তিনি একসময় ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন।
    তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালে রুখসার আহমেদ তাদের ধর্ষণ ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসারের বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর।

    পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হতে পারে। তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে বৃটেনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুখসার আহমেদকে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

    তিনি বলেন, আমরা শুধু শুনেছিলাম, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধারণা ছিল না। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী প্রদানকারী সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার

    সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা একটি মামলার (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) জাল নথি প্রস্তুতকারক ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরছেন সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। পরে বিমানবন্দর এলাকায় নজরদারি চালিয়ে রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জানা গেছে, সৈয়দ জগলুল পাশা রাজধানীর গুলশান থানার একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পারভেজ হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

    এ ছাড়া ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৩ সালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদল যেভাবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস শুরু করেছে, তা অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এই সরকারের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।

    তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তাদের মাঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দিয়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয় আড়াল করার জন্য ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

    বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তারা এসব কথা বলেন।

    সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়; বরং তারা ছাত্রসন্ত্রাসী ও বহিরাগত। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি করেছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম টানা না হলে এবং বিএনপির বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু করতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতাকে দুর্বলতা মনে না করার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার অবহিত করা হলেও এবং ডিএমপি কমিশনার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্তপাত হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি রক্তবিন্দুর জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বিএনপির সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে এবং এবার শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে। সেখানে মেধার চর্চা ও গবেষণা হবে এবং আলোকিত মানুষ তৈরি হবে। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাসগুলো দখল করে পুনরায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার এই পরিবেশ জুলাই বিপ্লবের ফসল। ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নিজেদের চরিত্র ও আদর্শের মাধ্যমে ছাত্রদলকে পরাজিত করেছে এবং ছাত্রসমাজের সমর্থন পেয়েছে। এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরাজয়কে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই ছাত্রদল সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ সরকারকে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে অভিযোগ করে বলেন, গতকাল পুলিশের উপস্থিতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী, গুন্ডা ও বহিরাগতরা ‘হায়নার মতো’ হামলা চালিয়েছে।

    তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আগের আইজি ও কমিশনারের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারাও একই ধরনের কাজ করেছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের রক্ষা করতে পারেননি।

    তিনি আরও বলেন, ভারতের সেবাদাস শেখ হাসিনা জনতার আন্দোলনের মুখে কীভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস বর্তমান সরকারের জানা আছে। জানা না থাকলে তা জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই পরিণতি স্মরণে থাকলে এত দ্রুত এসব কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভালো করেই চেনে। তারা জানে বলেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে চলমান গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির ধৈর্য, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে চলমান গণআন্দোলন এগিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করাকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের মূল কারণ মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নয়; বরং ছাত্রদল টেন্ডারবাজি করতে চায় এবং ছাত্রশিবির তা করতে দিতে চায় না।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টই এর ফয়সালা হয়ে গেছে। নতুন করে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ছাত্রদের মন জয় করা যাবে না এবং মেধা ও কোটার ভিত্তিতে কোনো হল তো দূরের কথা, একটি আসনও দখল করতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা শুধু ছাত্রশিবিরকে বের করে দেওয়া নয়; বরং ক্যান্টিনে বিনা মূল্যে খাওয়া এবং ক্যান্টিনগুলোকে দেউলিয়া করার পরিকল্পনাও এর অংশ।

    ৫ আগস্ট বিজয় উৎসব পালনের দিনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দাঁড়ানো বাংলাদেশ, বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য লজ্জার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে বাধ্য হয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি তারেক রহমানকে ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদলকে সামলানো না হলে ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন ত্বরান্বিত করেছে, এই ছাত্রদলও তারেক রহমানের রাজনৈতিক পতন আরও দ্রুত নিশ্চিত করতে পারে।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

  • জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছরে রায় মাত্র ছয় মামলার

    জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছরে রায় মাত্র ছয় মামলার

    জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এ সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এ পর্যন্ত ছয় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

    দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো শহীদ ওয়াসিম, মীর মুগ্ধ, গোলাম নাফিজ ও আসহাবুল ইয়ামিনসহ আলোচিত অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি। এছাড়া অসংখ্য মামলার তদন্ত এখনো ঝুলে আছে। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ আর হতাশা। ন্যায্য সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সরকারের কাছে দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

    ট্রাইব্যুনাল রেজিস্টার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাত মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

    যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন তায়িম হত্যা মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শহীদ ওয়াসিম ও শহীদ মীর মুগ্ধ হত্যার ঘটনায় করা দুটি চার্জ গঠন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দুই ট্রাইব্যুনালে মিসকেস হিসেবে ৪৬ মামলা তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রসিকিউশন সূত্রে গেছে, জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯০ মামলার মধ্যে ১০৯টি যাচাই-বাছাই শেষে তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।

    দুবছরে বিচারের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি মামলার শুরুতে তদন্তে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। এরপর প্রতিটি মামলায় ২০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষেই তা রায়ের পর্যায়ে যায়। যে ছয় মামলার রায় হয়েছে, আমি মনে করি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এবং স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আরো তিন মামলার রায় আগামী মাসে হতে পারে।

    তিনি বলেন, আমাদের এখানে বিগত আমলের গুম ও নির্যাতনের বেশ কয়েকটি মামলার বিচার চলছে। তবে আমরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা যেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের সব মামলা তদন্ত ও বিচার শেষ করতে পারি, সে প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি মনে করি অসংখ্য মামলার মধ্যে যেগুলো আমাদের ট্রাইব্যুনালে হওয়া উচিত, সেগুলো এখানে হবে। আর যেগুলো নিম্ন আদালতে হলে ভালো হবে, সেগুলো সেখানে হওয়া উচিত। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না; আবার কাউকে ন্যায়বিচার থেকেও বঞ্চিত করব না।

    তিনি আরো বলেন, আমরা সারা দেশে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯০ অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়েছি। বিচারের বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার জায়গা থেকে কাজ করছি। আশা করছি বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সময়েই বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারব।

    স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বর্বরতম পথ বেছে নেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকার। হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ, বিজিবি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মারণাস্ত্র এবং দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের নির্বিচার গুলি ও হামলায় এক হাজার ৪০০ জন শহীদ হন এবং কয়েক হাজার ছাত্র-সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন। এতে ৫৩৭ জন তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন চিরদিনের জন্য দুচোখের দৃষ্টি হারান এবং এক চোখের দৃষ্টি হারান ৪৯৩ জন।

    জুলাই বিপ্লবে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলে এই গণহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এরপর চাপ বাড়লে গত বছরের ৮ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত তিনটি করে ছয় মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় সাজা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬১ জনের। প্রথম রায় হয় গত বছরের ১৭ নভেম্বর।

    সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসিনা-কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ ও আহত পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা নির্দেশ দেওয়া হয়।

    একই ট্রাইব্যুনাল রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ওই ছয় শহীদ পরিবারে বণ্টনেরও আদেশ দেওয়া হয়।

    রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একই ট্রাইব্যুনাল গত ২৮ জুন হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানো মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল-২ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়। রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পান পুলিশের সাবেক এএসআই আবজালুর রহমান। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আশুলিয়ার সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারের মধ্যে বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়।

    জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় এই ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল পুলিশের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। এই ট্রাইব্যুনাল কুষ্টিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার রায়ে ৩০ জুন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    ছয় মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ আসামির মধ্যে ৪০ জনই বর্তমানে পলাতক। কারাগারে আছেন ২১ জন। এর মধ্যে হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক।

  • খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় ছয়জন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়া বাকীরা পলাতক রয়েছেন। এ মামলার অপর একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার জেলা ও দায়রা অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের জজ মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো: লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত শামীমকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় প্রদানকালে মো: লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতের সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো: রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময়ে তার সাথে কর্মচারী ছিলেন। তারা দু’জন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত এবং বাকী তিনজন সিভিল পোশাক পরা অবস্থায় তার গতিরোধ করে।

    এরপর তারা তাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়।

    তখন রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মো: শাহজুল ইসলাম সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

  • ‘বিচার পাওয়ার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হবে গুমের শিকার পরিবারগুলো’

    ‘বিচার পাওয়ার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হবে গুমের শিকার পরিবারগুলো’

    মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত গুমসংক্রান্ত খসড়া আইনের সমালোচনাা করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানান।

    তার মতে, খসড়া আইনের প্রস্তাবিত বিধানগুলো গুমের শিকার পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করবে এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি হয়রানি ও শাস্তির মুখে ফেলবে।

    নাবিলা ইদ্রিসের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মূলত আইনের দুটি বিশেষ ধারার কার্যকারিতা ও এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।

    খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো পরিবার যদি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করে, তবে সেই অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই করবে। এই বিধানের কঠোর সমালোচনা করে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এর ফলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিজেই তদন্ত করে নিজেদের দায়মুক্ত দেখানোর সুযোগ পাবে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

    প্রস্তাবিত আইনের ধারা ২১-এ বলা হয়েছে, তদন্তের পর যদি আদালতে গুমের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী পরিবারের ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হবে। সাবেক এই কমিশন সদস্য মনে করেন, এই ধরনের শাস্তির বিধান থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভয়ে মুখ খুলতেই সাহস পাবে না।

    সোমবার মন্ত্রিসভায় গুম সংক্রান্ত নতুন এই আইনের খসড়া অনুমোদন পায়। রাষ্ট্রীয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আসার পর তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিনের।

    তবে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্ত বাহিনী নিজেই যদি তদন্তের দায়িত্ব পায়, তবে তা থেকে ন্যায়বিচার আশা করা কঠিন। তাছাড়া, মিথ্যা অভিযোগের জিগির তুলে ৫ বছরের কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর এক ধরনের চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং আইনি হুমকি তৈরি করবে।

    সাবেক কমিশন সদস্যের এই বক্তব্য প্রকাশের পর আইনটির কার্যকারিতা ও এর খসড়া সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমে প্রচার করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ নির্দেশ অমান্য করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছিল। কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

    তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তাই সবাইকে আদালতের আদেশ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। কারও যদি আদালতের আদেশের বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত। কিন্তু আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত সেটি মেনে চলতে হবে।

    শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী নিয়োগসহ সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে চলবে।

    শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কেউ কেউ তাকে সমর্থন করতে পারেন, তবে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সাংগঠনিক বা নৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ মুহূর্তে ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত কার্যক্রম চলছে না।

    সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দেরিতে জানার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রশাসনে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রশাসনিক কাঠামো একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনও রয়েছেন। তাদের পরিবর্তে নতুন জনবল গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন।

  • এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

  • স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ৩৪ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এই হামলার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিক্ষিকাকে দ্রুত আল ফালাহ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অমিতকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চিৎকার শুনে বাইরে এসে তারা দেখতে পান, মুখোশধারী এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাচ্ছে।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষিকাকে বাইরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বাইরে আসার পর হামলাকারী তার গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে একের পর এক ছুরিকাঘাত করেন। এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঠেকাতে এগিয়ে এলে তাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হামলাকারী।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোট গ্রামের বাসিন্দা অমিত দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। কয়েকদিন আগে শিক্ষিকার দায়ের করা ইভটিজিংয়ের অভিযোগের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও তিনি প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে অমিত ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    বিজেপি নেতা এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং নারী কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তার মামলা থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। ছয়জন নারী কুস্তিগীর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন।

    এই মামলাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের শাস্তি এবং ফেডারেশন ভেঙে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরঙ পুনিয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত ভারতীয় কুস্তিগীর।

    আইন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পাশাপাশি এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত তথা কুস্তি সংস্থার সাবেক সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

    আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, ‘আদালত বলেছে, ব্রিজ ভূষণ সিং এবং বিনোদ তোমর, আপনারা দুজনেই সম্মানে সাথে খালাস পেলেন। একেবারে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম যে, যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসে বা কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আদালত আমাকে সম্মানের সাথে খালাস দিয়েছেন। এটা আমার এবং আমার অনুরাগীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমি আর কিছু বলব না আজ।’

    অন্যদিকে, মামলার রায় প্রকাশ্যে আসার পর কুস্তিগীর ও কংগ্রেস নেত্রী ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই ব্রিজ ভূষণ সিংকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে সরকার।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘শাসক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এফআইআর দায়ের করতে আমাদের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়েছে। নিজের ক্ষমতা ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ব্রিজ ভূষণ অনেক মেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।’

    তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু অনেক নারী কুস্তিগীর রুখে দাঁড়িয়ে আদালতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত যে, নারী কুস্তিগীরদের আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।’

    অন্যদিকে, কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া বলেছেন, ‘আজকের রায় এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা, তাদের সবকিছুই আছে। তারা সাক্ষীদের ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন আদালতের বিস্তারিত আদেশ জানার চেষ্টা করছি। কোন ভিত্তিতে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।’

  • কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত

    কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত

    ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে ইসরাইলি আদালত। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা এই কারাগারের চারপাশে খনন করা পরিখায় কুমির ছাড়ার কথা ছিল। খবর আনাদোলুর।

    ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিমালস লিভ’ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করার পর রোববার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    বিচারক আভরাহাম রুবিন পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমানের এক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলমানের ওই সিদ্ধান্তে কুমিরকে ‘পোষা বন্যপ্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা আইনি কাঠামোয় কুমির স্থানান্তর ও কারাগারে রাখার অনুমতি দিত।

    কান জানায়, বেন-গাভির, সিলমান ও ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পরই এই রায় আসে। এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সিলমানের ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত, যার লক্ষ্য ছিল কারাগারে ‘প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কুমির ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া।

    আবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কুমিরের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করে এবং সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়।

    কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই কারাগারের চারপাশে খাল খননসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছিল, এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এই পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ শেকেল (আনুমানিক ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছিল।

    ২০২২ সালের শেষদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের আটক পরিস্থিতি কঠোরতর করার তদারকি করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে অনাহারে রাখা, চিকিৎসা অবহেলা, নির্যাতন ও একাকী বন্দিত্বের মতো নীতি। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি—নারী ও শিশুসহ—ইসরাইলি কারাগারে কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বহুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, যার কারণ হিসেবে অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।

  • সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    ‘ছাগল কাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক এক হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গত ৩১ জুলাই সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে ইমরানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক রানা রায়। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

    ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ইমরান হোসেন এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতবস্থায় আসামিকে এ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

    শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা বেড়িবাঁধ, বছিলা ব্রিজ, বছিলা চেকপোস্ট ও সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় ভিকটিম মো. ছালেমানের পায়ের রানে গুলিবিদ্ধ হন।

    ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম মো. ছালেমান।

    উল্লেখ্য, সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরানকে ২০২৫ সালে ৩ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরদিন ১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে কারাগারে আটক আছেন আলোচিত এ ব্যবসায়ী।

  • রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। কী কারণে ও কার নির্দেশে মাসুদুর হককে হত্যা করা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।

    গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

    ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

    হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

  • দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    দর্শনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

    শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আজমপুরে পৃথক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো: আমানত উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ দল ঈশ্বরচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালায়। এখান থেকে ইয়াবাসহ মো: জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।

    জিয়া ঈশ্বরচন্দ্রপুর স্কুলপাড়ার মরহুম শুকুর আলীর ছেলে।

    এরপর রাত ১০টার দিকে পরিচালিত অন্য এক অভিযানে আজমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে মো: আকাশ হোসেন (২২) নামের আরেক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আকাশ একই গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

    গ্রেফতারের পর আসামিদের তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে হাজির করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জিয়াউর রহমানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    অন্যদিকে আসামি আকাশ হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গ্রেফতার আসামিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • গেমের ছলে খুনের মিশন

    গেমের ছলে খুনের মিশন

    ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ ভাড়াটে কিশোর গ্যাং

    ইউরোপজুড়ে ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ (ভিএএএস) তথা অর্থের বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চক্র ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরদের বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করছে সংগঠিত অপরাধী চক্র।

    এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের শীর্ষে রয়েছে ‘ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক’, যা সুইডেন থেকে পরিচালিত হলেও এর মূল নেটওয়ার্ক বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পৃক্ত বলে উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যমে কম্পিউটার গেমের মতো করে কিশোরদের বিভ্রান্ত করা হয় এবং খুনের মিশন দেওয়া হয়।

    এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের অস্ত্র ও নগদ অর্থের ভৌগোলিক অবস্থান পাঠায় গ্যাংয়ের সমন্বয়কারীরা। ২০২২ সাল থেকে এই ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক ইউরোপজুড়ে প্রায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিস্ফোরক ও গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি লন্ডনের ওল্ড বেইলির একটি জুরি আদালত ১৮ বছর বয়সী নরওয়েজীয় তরুণ জোহানেস নাটল্যান্ডকে বৃটেনের ভাড়াটে খুনের পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে জানা যায়, তাকে মাত্র ২১ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বৃটেনে একজনকে হত্যার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

    ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের সদস্য ‘এজেন্ট ৪৭’ এবং ‘জেনারালেন’ ছদ্মনামের একাধিক গ্যাং লিডার নাটল্যান্ডকে পুরো প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার গেমের চরিত্রের মতো পরিচালনা করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তাকে সময়মতো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ফক্সট্রট গ্যাংয়ের প্রধান রাওয়া মজিদ সুইডেন ও তুরস্ক থেকে পালিয়ে বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন।

    সুইডিশ সম্প্রচার মাধ্যম এসভিটির অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডায়াম্যান্ট সালিহু জানান, তেহরানে মুক্তভাবে বসবাসের বিনিময়ে রাওয়া মজিদ এবং তার নেটওয়ার্ক ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের আঘাত হানার চুক্তি করেছে। তাদের টার্গেটে রয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও ইসরাইলি স্থাপনা। ইউকে সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিলে মজিদ ও তার ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপোল এই ধরনের ভাড়াটে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ‘ওটিএফ গ্রিম’ নামে ১১টি দেশের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ইউরোপোলের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ক্র্যাগ একে কোমলমতি তরুণদের ‘সস্তায় খুনের কাজে ব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেন। তদন্তে জানা গেছে, এই অপরাধী চক্র তরুণদের বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখালেও তারা ধরা পড়লে বা কাজ শেষ হলে কোনো অর্থই প্রদান করে না।

    অতি সম্প্রতি ইরাকে ফক্সট্রটের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আলী শেহাদ আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এই ভিএএএস মডেল বর্তমানে অন্যান্য অপরাধী চক্রও গ্রহণ করায় ইউরোপজুড়ে তরুনদের এমন সহিংসতায় জড়ানোর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

  • জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

    চরফ্যাশনে চাষের জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নীলকমল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবারও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তফা জানান, নীলকমল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আলম কোম্পানি একই এলাকার নাছিরের শুকনা চাষের জমিতে পানি ছেড়ে দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত নীরবের অভিযোগ, সন্ধ্যায় তিনি ও পরিবারের সদস্যরা মৌলভীবাজারে গেলে আলম কোম্পানি, তার ভাই রশিদ, ফয়েজউদ্দিন, শাহিনসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে শরীফ, নাছির, নোমান, মোস্তফা, নীরব, সাজাহানসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।হাসপাতালে ভর্তি নাছির দাবি করেন, দুই বছর ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আলম কোম্পানি তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তবে আলম কোম্পানি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির পর প্রতিপক্ষই তাদের ওপর হামলা চালায়। চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন।



  • শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বাংলাদেশ নতুন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে গড়ে তোলা।

    রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় কমিটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে সেই ব্যবস্থা টিকে থাকে।

    প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও সেখানে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশেও নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে এই দুই বিষয় অপরিহার্য। অতীতে দেশ এ ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশের জন্যই বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধপ্রায় সুগার মিলের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই বিকল্প শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর উপাচার্য নিয়োগ ও জমি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আগামী বছর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান এবং যানজট নিরসনে রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনামূল্যের চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ ক্যাম্পে শত শত মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নির্ণয় সেবা দেওয়া হয়।

  • মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়,  জরিমানা

    মাদারগঞ্জে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করায়, জরিমানা

    জামালপুরের মাদারগঞ্জে অতিরিক্ত দামে বোতলজাত পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক দোকানদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের আমলীতলা এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানদার বোতলজাত পেট্রোল প্রতি লিটার ১৮০-২০০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একইসাথে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘পেট্রোল, অকটেনসহ যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বা জ্বালানি পণ্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে কেউ যেন কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’

    উপস্থিত স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

  • তিনি এখনো আইসিসির লক্ষ্যবস্তু নন-ট্রাম্পে

    তিনি এখনো আইসিসির লক্ষ্যবস্তু নন-ট্রাম্পে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৩১ জুলাই) রসিকতা করে বলেছেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) লক্ষ্যবস্তু নন।

    এদিকে, তার প্রশাসন এই আদালতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলোকে সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

    ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘যাই হোক, এমন কোনো তথ্য নেই যে তারা আমার পেছনে লেগেছে। তবে এমনটা ঘটতেও পারে।’ এ কথা বলার সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা হাসিতে ফেটে পড়েন।

    সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরছিলেন। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বাধা দিয়ে বলেন, ‘তিনি আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না। তিনি বিবি (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) এবং আরো কিছু মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।’

    এখানে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করেন। নেতানিয়াহু ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।

    জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে থাকা এই আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয় এবং মিত্র দেশগুলোকে সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আইসিসির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। ইতোমধ্যে আদালতের কয়েকজন বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    গত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি এমন গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, যেসব অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেরা করতে ইচ্ছুক নয় বা সক্ষম নয়।

    তবে রুবিও শুক্রবার আইসিসিকে ‘একটি অবৈধ আন্তর্জাতিক সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার চুক্তির অংশীদার নয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দুই দেশই।

    রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের সংস্কার করতে এবং আমাদের কথা শুনতে বলেছিলাম। তারা তা করেনি। তারা অত্যন্ত উদ্ধত। এখন আমরা ওই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।’

    তিনি জানান, পাঁচটি দেশ আইসিসি থেকে সরে গেছে বা সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তিনি অন্য দেশগুলোকেও একই পথে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    চাদ ও ভেনিজুয়েলা উভয় দেশই সম্প্রতি আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

  • ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।

    তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।

    এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো। কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

    তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।

    পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।

  • শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড

    শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ বোমা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার (৩১ জুলাই) তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে ‘অপরাধমূলক অবহেলার’ জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেন।

    তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর একটি অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফলে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে।

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে প্রায় একই সময়ে শ্রীলঙ্কার তিনটি পর্যটন হোটেল ও তিনটি গির্জায় বোমা হামলা চালানো হয়। গির্জাগুলোর মধ্যে দুটি ছিল ক্যাথলিক এবং একটি প্রোটেস্ট্যান্ট। ভয়াবহ ওই হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

    হামলার পর গঠিত একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতার জন্যই সাবেক পুলিশপ্রধান জয়সুন্দরাকে অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    শুক্রবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রয়েছে জয়সুন্দরার। একই অভিযোগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও শুক্রবার পৃথক রায় দেওয়ার কথা ছিল।

    ২০১৯ সালের ওই হামলার জন্য শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে যাদের শনাক্ত করা হয়েছিল, তাদের কেউই বর্তমানে জীবিত নেই। তবে হামলাকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যাদের হামলার মূল হোতা বা হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নয়। তাদের দাবি, ইস্টার সানডের ওই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল।

  • গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

    দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।

    সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।

    দেশের সড়কে প্রতিদিনই গণপরিবহনের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচল।

    এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। তবে আগামী ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যাতে সহজেই কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

    এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও বাড়াতে হবে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

    বিশ্লেষকদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

  • আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ, তদন্তে সিবিআই

    আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ, তদন্তে সিবিআই

    ভারতের কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অভয়া (ছদ্মনাম) ধর্ষণ ও হত্যা মামলা নতুন করে তদন্ত করবে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। এ মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাসহ তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজাকে সরিয়ে সিবিআইর কর্মকর্তা সন্দীপনী গর্গকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই গতকাল বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার নাম পাঠিয়েছে।

    পাশাপাশি নতুন করে গঠিত তদন্ত দলে আরও দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সিবিআইয়ের যুগ্ম পরিচালক অনুরাগ কুমার ও মণীশ উপাধ্যায়। নতুন তদন্ত দল এই মামলার হাজার পাতার নথি আবার পর্যালোচনা করবে।

    এদিকে অভয়ার আইনজীবী অমর্ত্য দে গতকাল শিয়ালদহের আদালতে বলেছেন, এই মামলায় পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়ে বারবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা আমলে নেননি।

    নতুন করে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অভয়ার মা ও বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ বলেছেন, ‘এবার আমি আমার মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায়বিচার পাব।’

    এর আগে সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত না করার প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন অভয়ার মা।

    এ ছাড়া গত মে মাসে এই মামলায় তথ্য–প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে সীমা পাহুজাকে অভিযুক্ত হিসেবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য ও সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক অভয়াকে (৩১) দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরদিন হাসপাতালের সেমিনার হলে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

    এ ঘটনায় একদল চিকিৎসক প্রতিবাদে সোচ্চার হন। দাবি তোলেন মরদেহের ময়নাতদন্তের। কিন্তু সব দাবি উপেক্ষা করে ১০ আগস্ট ওই নারী চিকিৎসকের দেহ সৎকার করা হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি শ্মশানঘাটে। এই সৎকারের পেছনে পানিহাটির তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ অন্যরা ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এদিকে চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পুলিশ হাসপাতালের কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন শিয়ালদহ আদালত।

    তবে আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ ও বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথ। অভয়ার মা বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসনে বিজেপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই মামলার আবার তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন তিনি।

  • বিদেশে গ্রেপ্তার হলে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নেতানিয়াহু

    বিদেশে গ্রেপ্তার হলে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নেতানিয়াহু

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইউরোপের কোনো দেশে তিনি গ্রেপ্তার হলে তাঁকে মুক্ত করতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী অভিযান চালাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

    নিজের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ওই বাহিনীতে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এবার চলুন, তাদের একটি নতুন মিশন দেওয়া যাক।’ বিদেশে গ্রেপ্তার হলে তাঁকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেন নেতানিয়াহু।

    গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মূলত এ পরোয়ানার প্রেক্ষাপটেই তাঁর এমন মন্তব্য এল। এ ছাড়া সম্প্রতি নিউইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়ে নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

    রোম সংবিধি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলো সাধারণত আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করাসহ যাবতীয় বিষয়ে সহযোগিতা করতে বাধ্য। যদিও এ বাধ্যবাধকতা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

    বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ অবশ্য আগেই জানিয়েছে, নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তারা আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    তবে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান কীভাবে চালানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে এমন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    গাজায় জাতিগত হত্যার কারণে নেতানিয়াহু যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং আইসিসির পদক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ কীভাবে সাড়া দেবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছে, ঠিক তখন তাঁর এ বক্তব্য সামনে এল।

    বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুর বিদেশ সফর বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। পরোয়ানা কার্যকর হতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো এড়িয়ে চলতে এখন তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গন্তব্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

  • জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জুলাই সনদের আলোকেই আইন সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

    আইন সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো ‘জুলাই সনদের’ আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইন সংস্কার কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যার প্রায় সবগুলোই আমরা গ্রহণ করেছি।’

    একই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি এনসিপির বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন।

    রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা এনসিপিকে পরামর্শ দেব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাদ দিয়ে তারা দেশের যেখানেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাক না কেন, বিএনপি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

  • নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান অর্ধেক আমেরিকান

    নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান অর্ধেক আমেরিকান

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করেন প্রায় অর্ধেক আমেরিকানতুন একটি ‘ইকোনমিস্ট/ইউগভ’ জনমত জরিপে এমনটি দেখা গেছে।

    জরিপ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ মানুষ। এর বিপরীতে ২৭ শতাংশ গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৩ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়া নাগরিকদের মধ্যে কমালা হ্যারিসের ভোটারদের ৭৪ শতাংশ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সমর্থন করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোটারদেরও প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩ শতাংশ) তার গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    এই জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জন্য নেতানিয়াহুকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার যে দাবি—তা এখন ফিলিস্তিনের সমর্থকদের গণ্ডি পেরিয়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ এই মতের বিরোধিতা করেছেন। সমান ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, ৪৩ শতাংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেন ইসরাইল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ মনে করেন তা নয়। হ্যারিসের ভোটারদের মধ্যে ৭২ শতাংশ ইসরাইলের আচরণকে গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছেন, যার বিপরীতে ট্রাম্পের ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ২২ শতাংশ।

    গত ২৫ থেকে ২৭ জুলাইয়ের (২০২৬) মধ্যে ১,৫৫৯ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে ইউগভ।

    গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। আদালত ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও একই পরোয়ানা জারি করেছে।

    আমেরিকানদের মধ্যে তাদের সমর্থন ধসের মুখে পড়া ঠেকাতে এবং গাজা সংকটকে নিজেদের মতো উপস্থাপন করতে ইসরাইল যখন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করছে, তখনই এই জরিপের ফলাফল সামনে এলো।

    চলতি সপ্তাহে পরিচালিত একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে ইসরাইল ও গাজা সম্পর্কে কী তথ্য দিচ্ছে—তা প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের সাবেক ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ব্র্যাড পারস্কেলের মালিকানাধীন কোম্পানি ‘ক্লক টাওয়ার এক্স’-কে ৪৬.৫ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে ইসরাইল সরকার।

    প্রতিষ্ঠানটি ১০টি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, যেগুলো নিজেদের সংবাদ, গবেষণা বা তথাকথিত ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ উৎস হিসেবে দাবি করে। এগুলো ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে, গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে হত্যার ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো উপাদান প্রকাশ করে থাকে।

    এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্টারনেটকে সুনির্দিষ্টভাবে রচিত ইসরাইলি প্রচারণায় ভরিয়ে দেওয়া, যাতে এআই চ্যাটবটগুলো সেই তথ্যগুলো খুঁজে পায়, সেগুলোর উদ্ধৃতি দেয় বা পরবর্তীতে তা থেকে শিক্ষা নেয়।

    মাইক্রোসফট কোপাইলট, গুগল জেমিনি এবং পারপ্লেক্সিটির মতো এআই পরিষেবাগুলো ইতিমধ্যে ওই ‘ক্লক টাওয়ার’ ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য উল্লেখ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের জানায়ওনি যে সাইটগুলো ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে।

    নতুন এই জরিপের ফল ইসরাইলের তথ্যভিত্তিক জনমত গঠন ক্যাম্পেইনের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জের গভীরতাই প্রকাশ করে। এআই, অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার, গণ-মেসেজ, বিজ্ঞাপন এবং কনজারভেটিভ মিডিয়ায় লাখ লাখ ডলার খরচ করার পরও এখন প্রায় অর্ধেক আমেরিকান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর গ্রেপ্তার চান।

    পরিসংখ্যানগুলো আরো নির্দেশ করে যে, বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের অবস্থান ক্ষুন্ন হওয়াটা কেবল বাজে জনসংযোগের ফল নয়। বরং আমেরিকানদের এক বিশাল অংশ এখন ইসরাইলের সেই আচরণ ও কর্মকাণ্ডকেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন, যা এই প্রচারণাগুলোর মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

  • মানহানি মামলার রায় বাতিল চান ট্রাম্প

    মানহানি মামলার রায় বাতিল চান ট্রাম্প

    লেখক ই জিন ক্যারলের দায়ের করা মানহানি মামলায় জুরির দেওয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে এই রায় চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও পৃথকভাবে একই ধরনের আবেদন জমা দিয়েছে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীদের মূল দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় ক্যারলকে নিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরই অংশ। ফলে তিনি এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

    বিচার বিভাগের ফেডারেল আইনজীবীরা আবেদনে উল্লেখ করেন, শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ না করলে সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিধিতে করা মন্তব্যের জন্য একজন দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত আর্থিক দায় বইতে হবে।

    আবেদনে ‘ওয়েস্টফল অ্যাক্ট’-এর উল্লেখ করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত নির্দিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মকর্তারা কিছু দেওয়ানি মামলায় আইনি সুরক্ষা পান।

    ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীরা ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক ‘ট্রাম্প বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওই রায়ে প্রেসিডেন্টের ফৌজদারি দায়মুক্তির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। যদিও সেটি মূল সংজ্ঞায় ফৌজদারি মামলার জন্য প্রযোজ্য, ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই একই যুক্তি দেওয়ানি মামলায়ও খাটাতে চাইছেন। তবে নিউইয়র্কের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত গত বছরই এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছিল।

    দীর্ঘ আইনি লড়াই ও জরিমানার ইতিহাস

    এল ম্যাগাজিনের সাবেক কলামিস্ট ই জিন ক্যারল দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি মানহানি মামলা লড়ছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াট ডু উই নিড মেন ফর? আ মডেস্ট প্রপোজাল’ গ্রন্থে তিনি অভিযোগ তোলেন—১৯৯৬ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করেন।

    এই মামলার বিষয়ে ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ক্যারল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই যৌন নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছেন। এই নারী আমার পছন্দের ধরন নন।’

    চলতি বছরের জুনে ৫০ লাখ ডলার জরিমানার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায় সুপ্রিম কোর্ট। এতে সুদ যোগ হয়ে অর্থের পরিমাণ পৌঁছায় প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ডলারে, যা পরিশোধের নির্দেশ দেয় একটি ফেডারেল আদালত।

    এখন ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের যৌথ এই নতুন আপিল সুপ্রিম কোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করবে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

  • ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

    ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

    ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিলপূর্বক ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, নাইন্টিন সেভেন্টি টু (পি. ও. নং সিক্স অব ১৯৭২)’-এর ৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৮৬ জনকে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জনকে বাংলাদেশের সহকারী নিয়োগ দেওয়া হলো।

  • সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

    সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

    তিনি জানান, রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মসমর্পণ করার কথা জানিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

    তিনি বলেছিলেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।

  • দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব।

    বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিরসন: বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনও এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ মো. শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই। সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস। সেমিনারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।

    আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।

    এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরমধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।

    বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।

    তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।

    আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • স্বামী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী বললেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’

    স্বামী হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী বললেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’

    ময়মনসিংহে যুবলীগের এক কর্মীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যার দায়ে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারীর নাম আফরোজা শেখ ওরফে ইতি। তিনি নিহত যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ওরফে সপুর (২৫) দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।

    রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এজলাশ থেকে বের করার সময় আফরোজাকে বিমর্ষ হওয়ার বদলে হস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। কারাগারে পাঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাসতে হাসতে বলতে থাকেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই।’

    আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেল, বলতে থাকল, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগব। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।

    নুরুন্নাহার, মামলার বাদী ও নিহত শফিকুল ইসলামের মা

    রায়ের পর নিহত শফিকুল ইসলামের মা ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার জানান, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনার পর তিন দিন ধরে খোঁজাখুঁজির নাটক করে আফরোজা। আমার ছেলে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেল, বলতে থাকল, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগব। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।’

    আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নগরের বাঁশবাড়ী কলোনি এলাকার বাসিন্দা সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রথমে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে আফরোজা শেখকে বিয়ে করেন শফিকুল। একপর্যায়ে আফরোজা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৯ সালের ১০ জুন আফরোজা শেখ পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে প্রায় ২০০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পাশের একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

    ঘটনার তিন দিন পর স্থানীয় লোকজন পুকুরে মানুষের একটি হাত ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    এ ঘটনায় শফিকুলের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ১৩ জুন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় পুত্রবধূ আফরোজা শেখ ও তাঁর বড় ভাই দীন ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে আফরোজা শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন জানান, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামি একজন নারী এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আফরোজা শেখের ভাই শেখ সাব্বির বলেন, তাঁরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাঁর দাবি, তাঁর বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সাব্বিরের ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও শফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাঁদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর বোন নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর একটি সন্তান থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। তাঁরা শুরু থেকেই খালাস প্রত্যাশা করেছিলেন। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা।

  • মাথার দাম ছিল ১ কোটি

    মাথার দাম ছিল ১ কোটি

    ভারতে মাওবাদীর একমাত্র পলিটব্যুরো সদস্য গ্রেফতার

    ভারতে মাওবাদীদের নিঃশেষ করতে গত এক বছর ধরে দিল্লি সরকার নিরন্তর অভিযান চালিয়ে মাওবাদী সংগঠনের প্রায় সব শীর্ষ নেতা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হয় নিহত হয়েছেন বা গ্রেফতার হয়েছেন। এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন কয়েক শত মাওবাদী কমান্ডার ও ক্যাডার। তবে দলের একমাত্র জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা জঙ্গলে আত্মগোপনে ছিলেন। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল এক কোটি রুপি।

    শেষমেশ মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী এই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুই কমান্ডার। মাওবাদী মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে এটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদের পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে।

    মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গেলে পুলিশ তাকে সঙ্গীসহ ধরে ফেলে।

    ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিসিরকে। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে এক মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় আদালত চত্বরে অতর্কিতে হামলা চালায় মাওবাদীরা। পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এই মাও নেতাকে। মিসির বেসরা তার আসল নাম হলেও দলে ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত ছিলেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির অন্যতম হোতা ও ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

    সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তার পেছনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সহযোগিতা ছিল। তারা দাবি করেন, ব্যাংক খাত ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিক্ষোভকারীরা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তার, ব্যাংক লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করেন।

  • চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

    ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে গত কয়েক বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

    মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

    পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী নীলদলের শিক্ষকদের বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেন তারা।

    এসময় তারা ২৩১ জন নীলদলের শিক্ষকদের তালিকা জমা দেন। তারা হলেন-

    ১. অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ ২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৩. অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার — ফার্মেসি ৪. অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৫. অধ্যাপক ড. জীনাত হুদা — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৬. অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৭. অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৮. অধ্যাপক ড. এম. ওয়াহিদুজ্জামান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯. অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১০. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মহিত — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ১৩. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাহবুব হাসান — বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ১৪. অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ১৫. অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ আলী — ইতিহাস বিভাগ ১৭. অধ্যাপক আবু হোসাইন মুহাম্মদ আহসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ১৮. অধ্যাপক ড. খালেদ মাহমুদ — আইবিএ ১৯. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. গোলাম রব্বানী — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২০. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২১. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল কবির — আইবিএ ২২. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আখতার — ইংরেজি বিভাগ ২৩. অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া — টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ ২৪. অধ্যাপক ড. শবনম জাহান — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৫. অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৬. অধ্যাপক ড. এম. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৭. অধ্যাপক ড. তাওহিদা রশিদ — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ২৮. অধ্যাপক ড. আবু শারা শামসুর রউফ — ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ ২৯. অধ্যাপক ড. এম. মাকসুদুর রহমান — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৩০. অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক খান — আইবিএ ৩১.

    অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৩২. অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ — মার্কেটিং বিভাগ ৩৩. অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩৪. অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৬. অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আখতার — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৭. অধ্যাপক ড. সবিতা রেজওয়ানা রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৯. অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাউদ্দিন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৪০. অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

    ৪১. অধ্যাপক ড. বিমান কুমার বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ৪২. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসিফ হোসেন খান — কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৪৩. অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার — গণিত বিভাগ ৪৪. অধ্যাপক ড. অসীম সরকার — সংস্কৃত বিভাগ ৪৫. অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ — সংস্কৃত বিভাগ ৪৬. অধ্যাপক ড. লিটন কুমার সাহা — ফলিত গণিত বিভাগ ৪৭. অধ্যাপক ড. আব্দুল বশির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৪৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৪৯. সহযোগী অধ্যাপক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৫০. অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ

    ৫১. সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহেল রানা — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ৫২. অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ — রসায়ন বিভাগ ৫৩. অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৫৪. অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার) — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ৫৫. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৬. অধ্যাপক ড. মো. জাভিদ ইকবাল বাঙালী — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৭. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ — আরবি বিভাগ ৫৮. অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ৫৯. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ৬০. অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম — সিরামিক বিভাগ

    ৬১. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ মিরান — রসায়ন বিভাগ ৬২. অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুজন — রসায়ন বিভাগ ৬৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান — রসায়ন বিভাগ ৬৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইকা আহমেদ — রসায়ন বিভাগ ৬৫. অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রহমান — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ৬৬. অধ্যাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু — কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ ৬৭. সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন — ক্রাফট বিভাগ ৬৮. সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া ইকবাল — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ৬৯. সহকারী অধ্যাপক সোনাম সাহা — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ৭০. অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ

    ৭১. অধ্যাপক নিসার হোসেন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭২. অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র গাইন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৩. ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৪. অধ্যাপক ড. জেড. এম. পারভেজ সাজ্জাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ৭৫. অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন — ফিন্যান্স বিভাগ ৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সিমা ইসলাম — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৭. ড. সিদ্ধার্থ দে — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৮. অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম — ইতিহাস বিভাগ ৭৯. সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. কে. মামুন মোস্তফা — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ

    ৮১. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মনিরুজ্জামান খান — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮২. অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮৩. অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৮৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. নাসিফ শামস — জ্বালানি ইনস্টিটিউট ৮৫. সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ৮৬. সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল আজিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৭. সহকারী অধ্যাপক ফারিহা কাদির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৮. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইহসান-উল-কবির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. শওল নাফি শিমুল — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৯০. প্রভাষক মো. আরাফাত হোসেন — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট

    ৯১. অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমান — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯২. সহকারী অধ্যাপক ড. শাহজাদী ইমা — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯৩. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯৪. অধ্যাপক ড. সুবর্ণা বড়ুয়া — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৫. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৭. সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম সানা — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. লোপা মুদ্রা মালেক — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১০০. অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ — আইন বিভাগ

    ১০১. অধ্যাপক ড. শিমা জামান — আইন বিভাগ ১০২. প্রভাষক মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া — আইন বিভাগ ১০৩. অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান — আইন বিভাগ ১০৪. অধ্যাপক ড. জামিলা এ. চৌধুরী — আইন বিভাগ ১০৫. অধ্যাপক ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৬. অধ্যাপক ড. সুমন দাস — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৭. অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৮. অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৯. অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১০. ইমেরিটাস অধ্যাপক

    মো. আবুল হাশেম — ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগ

    ১১১. প্রভাষক মো. রাকিবুল হাসান — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ১১২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৩. অধ্যাপক ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৪. ড. মো. মুমিত আল রশিদ — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৫. অধ্যাপক ড. ইমরান কবির চৌধুরী — জনস্বাস্থ্য বিভাগ ১১৬. অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ — ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ ১১৭. অধ্যাপক এমএসটি. রেবেকা সুলতানা — দর্শন বিভাগ ১১৮. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১১৯. অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক এম. সৈয়দ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ১২০. অধ্যাপক ড. রতন চন্দ্র ঘোষ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ১২১. অধ্যাপক ড. নীলোফার পারভীন — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ১২২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন — পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ ১২৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. নাজির হোসেন খান — প্রিন্টমেকিং বিভাগ ১২৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্লাইডাস ভক্ত — সংস্কৃত বিভাগ ১২৫. সহযোগী অধ্যাপক নাসিমুল খবির — ভাস্কর্য বিভাগ ১২৬. অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরী — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৭. ড. দেবাশীষ কুমার কুণ্ডু — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমান — পরিসংখ্যান বিভাগ ১২৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা দে — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ১৩০. সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল হোসেন ঢালী — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ

    ১৩১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ ১৩২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৩. অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৪. অধ্যাপক ড. মো. মুশফিকুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৬. অধ্যাপক ড. মো. জামিল শরীফ — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৭. অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল আলম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৮. অধ্যাপক ড. মো. রফিউল ইসলাম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৯. অধ্যাপক ড. মো. সৈয়দ শামসুদ্দিন — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১৪০. অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল করিম — ফলিত রসায়ন বিভাগ

    ১৪১. অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম — ফলিত গণিত বিভাগ ১৪২. অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারুফ — আরবি বিভাগ ১৪৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন — আরবি বিভাগ ১৪৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন — আরবি বিভাগ ১৪৫. অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দে — বাংলা বিভাগ ১৪৬. অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী — বাংলা বিভাগ ১৪৭. সহকারী অধ্যাপক মো. খালেদ বিন আমির — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৮. অধ্যাপক ড. রাদ মুজিব লালন — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৯. অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫০. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

    ১৫১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫২. অধ্যাপক ড. জিএম গুলজার হোসেন — রসায়ন বিভাগ ১৫৩. অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ ১৫৪. অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন — রসায়ন বিভাগ ১৫৫. এ. বি. এম. নজমুস সাকিব — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ১৫৬. সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ১৫৭. শিশির ভট্টাচার্য (খণ্ডকালীন শিক্ষক) — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ১৫৮. অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী — অর্থনীতি বিভাগ ১৫৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. এল. পলাশ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ১৬০. অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ

    ১৬১. সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তানজিলা দীপ্তী — ফিন্যান্স বিভাগ ১৬২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান — মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ ১৬৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ১৬৪. অধ্যাপক ড. শারমিন আখতার — ইতিহাস বিভাগ ১৬৫. অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন মুন্সী — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৬৬. অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন — আইবিএ বিভাগ ১৬৭. অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবীন — আইবিএ বিভাগ ১৬৮. অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হক — আইবিএ বিভাগ ১৬৯. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭০. অধ্যাপক ড. তামান্না সুলতানা — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭১. ড. তপশ কুমার বিশ্বাস — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭২. অধ্যাপক ড. আবু তোরাব মো. আব্দুর রহিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৩. অধ্যাপক ড. শারমিন রুমি আলিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস এম. কুরশেদ — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৫. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজানা করিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ১৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমন আহমেদ — তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ১৭৭. অধ্যাপক ড. সবুর আহমেদ — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. অমল কান্তি দেব — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৯. সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমার রায় — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৮১. অধ্যাপক ড. সুবোধ দেবনাথ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮২. সহকারী অধ্যাপক মৌরি মেহতাজ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮৩. অধ্যাপক ড. লায়লুফার ইয়াসমিন — আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ১৮৪. সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১৮৫. সহকারী অধ্যাপক এম. ইমামুল হক সরকার (তিতু) — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৭. সহকারী অধ্যাপক ড. কোয়াজি ফারজানা আফরিন — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৮. ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১৮৯. অধ্যাপক ড. রুমানা ইসলাম — আইন বিভাগ ১৯০. সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ রেজা — আইন বিভাগ

    ১৯১. প্রভাষক শাহরিমা তানজিন আরনি — আইন বিভাগ ১৯২. অধ্যাপক ড. সিকদার মনোয়ারে মুর্শেদ — ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৩. অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১৯৪. অধ্যাপক মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন ভূঁইয়া — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ১৯৫. অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৬. অধ্যাপক ড. মুবিনা খন্দকার — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১৯৮. সহকারী অধ্যাপক মো. মোমিন ইসলাম — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৯. অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২০০. সহযোগী অধ্যাপক ইঞ্জি. এম. মনজুর হোসেন খান — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

    ২০১. অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মঈন — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০২. সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমান — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীরু বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ২০৪. অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৫. সহযোগী অধ্যাপক মারিয়া হোসেন — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৬. সহযোগী অধ্যাপক মন্দিরা চৌধুরী — দর্শন বিভাগ ২০৭. অধ্যাপক ড. কাজী হানিয়াম মারিয়া — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ রকি — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২১০.

    অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ২১১. সহযোগী অধ্যাপক এম. রাশেদ আলম ভূঁইয়া — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২১২. অধ্যাপক ড. সাদিক হাসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ২১৩. অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল — রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২১৪. অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৫. অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৬. অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ খান — মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ ২১৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. জেড. এম. শফিউল্লাহ — পরিসংখ্যান বিভাগ ২১৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২১৯. অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২২০. সহযোগী অধ্যাপক ড. সৌদ আহমেদ — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

    ২২১. সহযোগী অধ্যাপক ড. সামশাদ নাওরীন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২২২. অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল ইসলাম — উর্দু বিভাগ ২২৩. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম — উর্দু বিভাগ ২২৪. সহকারী অধ্যাপক অমিও সৃজন সাম্য — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ২২৫. অধ্যাপক ড. ফাজরিন হুদা — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৬. প্রভাষক ইনজামাম মাহবুব মজুমদার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৭. সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া আফরিন — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৮. প্রভাষক দেবাশীষ দাস — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৯. প্রভাষক নিলয় রায় —বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩০. প্রভাষক রহিমা আখতার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩১. অধ্যাপক ড. শারমিন মুসা — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

    দেশের বাজারে ২৬টি টুথপেস্টে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা।

  • দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ভারতীয় মাদক ই-স্কাফসহ মো: হাফিজুল হক ওরফে মিঠুন (৩৩) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মিঠুন দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর (মাঝপাড়া) গ্রামের মো: জালাল বিশ্বাসের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব শেখ মেসবাহ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন আব্দুল হামীদ নিউ মার্কেটের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মিঠুনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪০ বোতল অবৈধ ভারতীয় ই-স্কাফ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি মেসবাহ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

  • সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

    সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

    সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এসকে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস কে সুরকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পৌনে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়, রাখা হয় আসামির কাঠগড়ায়। পরে আদালত রায় ঘোষণা করে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

  • খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে নগরীর বৈকালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়

    গ্রেফতার হওয়া রাকিব বৈকালী এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাকির শেখের ছেলে

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আহাদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। দেড়-দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। তার সেই সহযোগীকে গ্রেফতার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রাকিব ও তার বাবা জাকির শেখ নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী, বয়রা ও মুজগুন্নী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। অনেক দিন ধরে বাবা ও ছেলে মিলে কিশোর গ্যাং নিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাকিব ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপরও হামলা করেছে। ছেলে-বাবার ভয়ে এলকার মানুষ মুখ খুলতে পারে না। রাকিব ও তার বাবা জাকিরের বিরুদ্ধে খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

    জানা যায়, জাকির শেখ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধ চালাতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাকির শেখ ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    ওই বছরের ৩ অক্টোবর জাকির শেখকে যৌথবাহিনী আটক করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে জাকির শেখ নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে এলাকায় আবারো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।

  • সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    সালিশে নাতিকে মারধর, রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে দাদা নিহত

    ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে সালিশে নাতিকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কিল-ঘুসিতে নবী হোসেন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের আটপাড়া গ্রামে বাদল মার্কেটে স্থানীয় বিএনপি নেতার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রাবিনের মোবাইল চুরি হয়। মোবাইল চুরি সন্দেহে একই গ্রামের শারফুলের ছেলে রানাকে (২০) বাড়ি থেকে ধরে বিএনপি অফিসে নিয়ে যান লোকজন। সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে রানাকে বিএনপি অফিসের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    নাতির চিৎকারে বৃদ্ধ দাদা মো. নবী হোসেন এগিয়ে যান। এ সময় সালিশে উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নাতিকে চোর আখ্যা দিয়ে বৃদ্ধ নবী হোসেনকে ধরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় নবী হোসেনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ভাতিজা জলিল জানান, মিথ্যা মোবাইল চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে মারধর করছিল স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচা নবী হোসেনও মারধরের শিকার হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় অভিনেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

    বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় অভিনেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

    * উপড়ে ফেলল মডেল কো-অর্ডিনেটরের পায়ের নখ * ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে পা। ‘বাংলার এপস্টেইন’ আসিয়ানের নজরুলের কাণ্ড

    বর্তমান সময়ের আলোচিত ঢাকাই সিনেমার মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এপস্টেইন কায়দায় টানা দু’ঘণ্টা নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এ সময় অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও শারীরিক নির্যাতন ও তার পায়ের নখ তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

    হালের ঢালিউড বেশ কয়েকটি সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে স্নিগ্ধা চৌধুরী যথেষ্ঠ সুনাম অর্জন করেন। পারিবারিক বন্ধন ও দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ এই নারী গসিপ আর সমালোচনার বাইরে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    তবে এবার খোদ এই নায়িকার অভিযোগ, তাকে গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টানা দু’ঘন্টা হাত ও পা বেঁধে পেটানো, কুসুম গরম কফি গায়ে ঢেলে দেওয়া, অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ ও সব শেষে কফিতে নেশাজাত/বিষাক্ত দ্রবণ মিশিয়ে পান করিয়েছেন ভূমি দস্যূতায় অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের আলোচিত ব্যবসায়ী নজরুল। তিনি এসময় আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও নির্যাতন করেন নজরুলের অনুচররা। তুলে ফেলে পায়ের নখ।

    ঘটনার বর্ণানা দিতে গিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, বছর খানেক আগের পরিচিত ইমন নামের একজন কো-অর্ডিনেটরের ফোনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হওয়ার অফার করা হয় তাকে। এ সময় ইমন জানায়, ২০ লাখ টাকার এই কাজে সে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে দেবে ১৭ লাখ। তবে ডিল ফাইনাল বা চুক্তি করতে যেতে হবে সেই কোম্পানিতে।

    এ কথার সূত্র ধরে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে নিয়ে ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ স্নিগ্ধা চৌধুরীর বুকিং করা উবারে চড়ে রাজধানীর ৩০০ ফিটের পাশের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান তারা। স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, পৌঁছেই খটকা লাগে তার। তিনি ইমনকে প্রশ্ন করেন, ‘করিডরে ফিংগার প্রিন্ট কেন?’ জবাবে ইমন জানায়, ‘যেহেতু মালিক ভেতরে; তাই হয়তো বাড়তি নিরাপত্তা।’ ভেতরে ঢোকার পর দেখা মেলে সেখানে বসে আছেন আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। আশপাশে আছেন তার বিশ্বস্ত অনুচর পলাশ, পিএস মিয়ামিসহ বেশ কয়েকজন।

    শুরুতেই সামান্য আলাপচারিতার মাঝেই আসে চা, নাস্তা, কফি, খেজুর বিস্কুট- বলছিলেন ইশরাত। এরপর হঠাৎ করেই নজরুল হুঙ্কার দিয়ে উঠেন। ইসরাতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তোরে কত বছর ধইরা খুঁজতাছি। আমি তোরে দুই বার বিয়া করছি। তোর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া না?’ স্নিগ্ধা চৌধুরীর দাবি, আশিয়ানের চেয়ারম্যান তাকে জেবা তাকিয়া উল্লেখ করে বলেন, ‘ফকিন্নি, তুই আমার কোটি কোটি টাকা খাইছস। এই ইমনরে লইয়া তোর মিরপুরের বাড়ির লাইগগা ৩০ লাখ টেকা দিয়া পর্দা কিনা দিসি।’ জবাবে স্নিগ্ধা জানান, তার বাড়ি উত্তরবঙ্গে।

    এ সময় নজরুল আবার বলেন, ‘তুই আমার লগে ফাউল করছস। কতদিন কত জাইগা থোন তোরে আমি ধইরা আনসি। তুই আমার থেইকা টেকা লইয়া তোর বিদেশে থাকা নাগররে দিছত। তোর আমারে আবার বিয়া করতে হইব।’ এই কথা বলেই ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প সামনে ফেলেন নজরুল। হাতে তুলে নেন তলোয়ার সদৃশ্য ধারাল অস্ত্র। মুহূর্তে পালটে যায় স্নিগ্ধা চৌধুরীর চেনা জগৎ। সোশ্যাল মিডিয়ার সিনেমাটিক চরিত্র এপস্টেইন চরিত্র যেন তারই সামনে উপস্থিত। নিজের আতঙ্কিত মুহূর্তের কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন তিনি।

    স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, ‘এ সময় আমি কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি যতবারই বলছিলাম আমি তাকিয়া না, ততবারই ক্ষেপে যাচ্ছিলেন নজরুল। আমার সঙ্গে থাকা ইমন ইশারায় আমাকে তাকিয়ার অভিনয় করতে বলেন। সাদা দলিলে সই করে টিভিসির চুক্তির টাকা নিয়ে বেরিয়ে যেতে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি বাধ্য হয়েই অন্য একটা ভুয়া নাম সই করে দেই বাঁচার জন্য।’

    বাসর করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন নজরুল

    তবে সই করেও শেষ রক্ষা হয়নি। নজরুল এ সময় বাসর করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন- দাবি ভুক্তভোগি স্নিগ্ধা চৌধুরী। রুম থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে বেড টাইপ সোফায় গিয়ে বসতে তলোয়ার উচিয়ে নির্দেশ দেন নজরুল।

    বাসর রাতের চাপ থেকে বাঁচতে পিরিয়ড (মাসিক) চলছে উল্লেখ করায় আরও ক্ষেপে যান নজরুল। তাকে তলোয়ার উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বাধ্য করে সোফায় বসতে। এরপর রশি বের করে বলেন, ‘রশি দেখছস? এটা দিয়ে ফাঁসি দেয়। বহু বড় বড় লোককে এটা দিয়ে ফাঁসি দিসি।’ বলেই স্নিগ্ধা চৌধুরীর আইফোন নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এ সময় মোটা রশি দিয়ে প্রথমে স্নিগ্ধা চৌধুরীর পা বাঁধে নজরুল। রশি শক্ত করে বাধায় ইসরাত নজরুলকে বলেন, ‘আমার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’ এতে আবারও উত্তেজিত হয়ে ইসরাতের ডান গালে চড় কষান নজরুল। সোফায় চেপে ধরে বেঁধে ফেলেন হাত। ওপরে উঠে চেপে ধরেন গলা। সোফায় শোয়া অবস্থায় সে দুটো লাঠি নিয়ে আসেন, স্নিগ্ধা চৌধুরীর দু পায়ের পাতায় মোটা লাঠি দিয়ে লাগাতার মোট ১৪ বার আঘাত করেন তিনি। চুল ধরে বসিয়ে ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডের ওপরের অংশে ৫ থেকে ৭ বার সজোরে আঘাত করে বলে দাবি ইশরাতের। আঘাত করা হয় উঁরু, পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে।

    নির্যাতনের এ পর্যায়ে উপস্থিত হন নজরুলের নারী পিএস মিয়ামি। নজরুল সেসময় খানিকটা শান্ত হয়ে কফি অর্ডার করলে হাত বাঁধা স্নিগ্ধা চৌধুরী আপত্তি জানান। তখন নজরুলের নির্দেশে স্নিগ্ধা চৌধুরীর হাতে কুসুম গরম কফি ঢেলে দেয় মিয়ামি। পরে সেটি পান করতে বাধ্য করা হয় যাতে মেশানো ছিল নেশাজাত দ্রব্য।

    কীভাবে পালালেন স্নিগ্ধা চৌধুরী?

    তিনি জানান, এক পর্যায়ে নজরুল হয়তো বুঝতে পারেন সে প্রকৃত জেবা তাকিয়া নন। তখন খুলে দেওয়া হয় হাত-পায়ের বাঁধন। তখন ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়া দরজা খোলা পেয়ে দ্রুত দরজা টপকে নজরুলের রুম থেকে বেরিয়ে সামনের বারান্দার দিকে দৌঁড় দেন তিনি। তারপর সেই বারান্দা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে পৌঁছে যান ৩০০ ফিট রোডে। সেখানে পার্শ্ব রাস্তায় চলাচলকারী একটি চলন্ত অটো থামিয়ে সেটাতে উঠে বসেন। এভাবেই প্রাণে রক্ষা পান বলে জানিয়েছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। দুদিন আগের এই বর্বরতার হাত থেকে বেঁচে ফেরা স্নিগ্ধা চৌধুরীর পুরো শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন। ঘরে পৌঁছেই সে অচেতন হয়ে পড়ে বলে দাবি তার পরিবারের সদস্যদের।

    অভিযোগের সূত্র ধরে, ঘটনাস্থলের বিবরণ মেলায় অনুসন্ধানী দল। সেখানে পৌঁছে মেলে বর্ণনার সত্যতা- ঢোকার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিরাপত্তা বলয়, পালানোর বারান্দা, নজরুলের কক্ষ সবই ঠিকঠাক যার যার স্থানেই আছে। এছাড়াও বাস্তবেই আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ দুই কর্মচারীর একজন পলাশ, আরেকজন মিয়ামি। এছাড়াও স্নিগ্ধা চৌধুরীর মুঠোফোনের সেদিনে লোকেশন আর অবস্থানের সময়েরও মিল পায় অনুসন্ধানী টিম। মিলেছে স্নিগ্ধা চৌধুরীর উবার বুকিং এর ডিজিটাল স্লিপও। আশিয়ান মেডিকেলের ভিতরে নজরুলের অফিস কক্ষে রয়েছে সুড়ঙ্গ সাদৃশ্য আলাদা রুম আর সেখানেই তার টর্চার সেলের অবস্থান।

    স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন মাস্টার বলেন, এই জাইল্যা নজরুল প্রায়ই বিভিন্ন লোককে তার টর্চার সেলে এনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। কেউ তার ভয়ে টু শব্দ করে না। মামলা তো অনেক পরের বিষয়। এলাকাবাসী তাকে বর্বর জাইল্যা হিসেবে চেনে। তার এসব পাষবিক অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। তার প্রতিষ্ঠানের ষ্টাফদেরও প্রায়ই এরকম নির্যাতন করা হয়। সে একজন সায়কোপ্যাথ।

    এদিকে ভিডিও কলে ইমনকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে মিলেছে তার উপর চলা নির্যাতন ও নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ। ইমন এখনও অচেতন।

    তবে অনুসন্ধান বলছে এই ইমনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা নজরুলের। পাশার চাল পালটে যাওয়ায় নজরুলের প্রকৃত শিকার জেবা তাকিয়াকে না পাওয়ায় কি এ নির্যাতন? নাকি ঘটনাস্থল থেকে স্নিগ্ধা চৌধুরী জীবিত পালিয়ে আসায় নজরুলের এপস্টেইন চরিত্রের হিংস্রতার শিকারে ইমন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে আইন প্রয়োগকারীরা।

    অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, এ সকল অভিযোগ মিথ্যা। পরবর্তীতে স্নিগ্ধা চৌধুরীর লোকেশন ট্র্যাকিং এর কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমি তাকে ৪ বছর আগে চিনতাম। তখন তাকে বলা হয় আপনি তো তাকে জেবা তাকিয়া ভেবে মেরেছেন? সে তো জেবা তাকিয়া না, তখন সে আগামীকাল সকালে দেখা করার কথা বলে লাইন কেটে দেন।

    এ ঘটনায় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।