আইন-আদালত

  • কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    ময়লা বাণিজ্য ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার ছক

    রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন।

    ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

    মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম

    এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
    গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

    ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

  • পশ্চিম তীরে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

    পশ্চিম তীরে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত দুই দিনে অন্তত ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘সামিদুন’ (প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর প্রিজনার্স অ্যাডভোকেসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ফিলিস্তিনি পরিবারের জমিতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরাইলি নিহত হন। এর পর থেকেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপক আকারে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার শুরু করে।

    মূলত নাবলুস, তুলকারেমে ও হেব্রনে অভিযানের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এসব এলাকায় সেনাসদস্যরা সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরাও কিছু অভিযানে অংশ নেয়।

    এই গ্রেপ্তার ও অভিযানকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতি’র অংশ বলে আখ্যায়িত করেছে সামিদুন।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জরুরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি জাতিসংঘ, রেড ক্রস এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

  • শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ; শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ; শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

    গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্যে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন।

    এ মামলায় বর্তমানে নয় আসামি গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ জনের নিহতের প্রমাণ পেয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালে ৫ মে দিনভর হেফাজতের সমাবেশ শেষে রাতে শাপলা চত্বরে জমায়েতে নৃশংস হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৫ আগস্টের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের (যৌনকর্ম) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জহিরুল বর্তমানে ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি হয়ে আছেন।

    আজ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন এক নারী। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকে আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই নারীর (বাদী) সঙ্গে পরিচয় হয়। আসামি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীকে তাঁর অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

    মামলায় আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ওই নারী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে তাঁর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় ওই নারীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর এই নারীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ওই নারী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ওই ঘটনায় পর গত বছরের ১৩ জুলাই ওই নারী পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন এবং ১৫ জুলাই ওই নারী ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি ফের বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

  • ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    হাইকোর্টে রিট

    দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।

    স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুনhttps://bdglobaltimes.com/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A7%AB-%E0%A6%B6/

    এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।

    গবেষকরা জানান, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে না।‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

    দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

    কোন টুথপেস্টে কী পরিমাণ

    গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

    এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

    যে আট নমুনায় পাওয়া যায়নি

    গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশভ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ ও ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।

    এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট।

  • ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

    ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত সরকার আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।

    রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত একটি সাময়িকীর প্রকাশিত তথ্য। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। এই অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    তিনি দুর্নীতির একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের বিগত সরকারের সময়ে শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি, এক কেজি রড কিংবা একশ টাকার সিমেন্টও ব্যবহার হয়নি। অথচ কাগজে-কলমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে সেই অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

    অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, এই বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, যার সুফল দেশের মানুষ পায়নি। তখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগান। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

  • শাওন-রোকেয়া প্রাচীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    শাওন-রোকেয়া প্রাচীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, রোকেয়া প্রাচী ও মাহিয়া মাহিসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।

    রোববার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে বা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজনের ভূমিকা আইনানুগভাবে তদন্ত করা হোক। সংগঠনের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, সুজাতা আজিম, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা মোবিন মেহেদী, সোমা ইসলাম ও আনিস আলমগীর।

    রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম মনে করে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানায়, অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

  • ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের প্রত্যাশা নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না।

    রোববার সকালে চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুরস্থ কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবি আরও জোরালো করবো। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। আমরা জানি না বর্তমান সরকার এ বিচার করবে কি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন।”

    কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, জেলা নেতা মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার উপজেলা আমির মোস্তফা উদ্দিন, নায়েবে আমির আবুল খায়ের, পৌর আমির জমির হোসাইন, নায়েবে আমির সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, সেক্রেটারি ছাদ উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি রুকন উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।

    সাংবাদিক এটিএম তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর তৎকালীন সিলেট ব্যুরো প্রধান এবং দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণআন্দোলনের সময় সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

    উল্লেখ্য, শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারতের আগে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নানা মাস্টার জোয়াদুর রহমান, প্রবীণ জামায়াত কর্মী মুহুরী আব্দুল খালিক এবং লেখক ও গবেষক আব্দুল হাকিম তাপাদারের কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

  • সবকিছু পর্যালোচনা করেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সবকিছু পর্যালোচনা করেই রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার । সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর এতটুকু ভরসা রাখতে হবে।

    রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পিরোজপুরে এলজিইডির প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

  • সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

    সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

    সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে আইন অমান্য করার অভিযোগে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪,৯৭০ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করা হয়।

    এর মধ্যে আবাসন আইনের ৭,৪৩৭ জন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের ৩,৯৯১ জন এবং শ্রম আইনের ৩,৫৪২ জন অপরাধী রয়েছেন।

    এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরব ঢোকার সময় আরও ১,৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার সময় ধরা পড়েছেন ৩৩ জন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের সাহায্য বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১৮ জন।

    বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের সাহায্য করলে ১৫ বছরের জেল এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষকেও এ ধরনের অপরাধ দেখলে পুলিশকে গোপনে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • যশোরে কোটি টাকার সোনার টাকার বারসহ গ্রেফতার ১

    যশোরে কোটি টাকার সোনার টাকার বারসহ গ্রেফতার ১

    যশোরে এক কোটি ৮ লাখ টাকার সাড়ে ৪ টি সোনার বারসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি| বৃহস্পতিাবর দুপুরে যশোর-নড়াইল সড়কের সদর উপজেলার দায়তলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়|
    আটক তৌফিকুর রহমান শার্শা উপজেলার ¯^রুপদাহ গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে| সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়| বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন|
    বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল যশোর-নড়াইল সড়কের সদর উপজেলার দায়তলা এলাকায় অভিযান চালায়| এ সময় সন্দেজনকভাবে তৌফিকুল ইসলামকে আটক ও দেহ তল্লাশিকালে প্যান্টের পকেটে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা সাড়ে ৪ টি সোনার বার| যার ৫৩৬ গ্রাম উদ্ধার করা হয়| ¯^র্ণের দাম এক কোটি ৮লাখ ২১ হাজার ৯৮০ টাক| এ ছাড়া আটক তৌফিকুলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে|
    ৪৯ বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, এ ঘটনায় বিকেলে আটক তৌফিকুরের কোতয়ালি থানায় মামলা দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে| সন্ধ্যায় তৌফিকুরকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে|

  • বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    রেল কর্মকর্তা মামুন মিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রেমিকা বিউটি আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    এদিন কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

    গত ১৪ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক তারেক হাসান তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন৷ আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এক বছর আগে মামুনের সাথে বিউটির ননদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তাদের দেখা হত। বিষয়টি জানত না মামুনের পরিবার। শুক্রবার চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকায় আসে। মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি রুম ভাড়া নেয়। মামুনকে সেখানে আসতে বলে দেখা করার জন্য।

    গত ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন সেখানে যায়। বিয়ে করার জন্য বিউটি তাকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    এক পর্যায়ে বিউটি দুপুর দেড়টার দিকে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গে জখম করে। একই সঙ্গে পেটেও ছুরি মারে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ টার দিকে মারা যায় মামুন।

    এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ১২ জুলাই বিউটিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

    আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

    জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

    নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’

    আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’

    সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।

    এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’

    এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।

    রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’

    পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

  • সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

    এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

    তারা আরও জানান, আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন- সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহায়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন সেজন্য তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম। আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগের আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

  • ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার ভাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) দেওয়ান শামীম খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং নগদ ২৪ হাজার ২৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের মো: আবুল হোসেনের মুদি দোকানের পেছনের একটি ছাপড়া ঘরে অর্থের বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: হাসান (৩০), ওবায়দুর (৪০), মো: ইবরাহিম (৩০), আলীম শেখ (৪৫), শাকিল মাতুব্বর (৩০) ও শহিদুল মোল্লা (৪৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

    ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানা পুলিশ ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পরে আদালতে হাজির করলে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই দিনে পৃথক অভিযানে এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনা এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই মাহাবুল হকের নেতৃত্বে জয়রামপুর মালিথা পাড়ায় অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে বাড়ির সামনে মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মো: টোটন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১ পিস ইয়াবা ও ১ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।

    আটক টোটনকে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো চার দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    এদিকে, দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মো: ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: লিটন মিয়াকে ছুটিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুইজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল মাদকদ্রব্য কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ তুষার শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোর ৪টার দিকে শ্রীনগর থানার দেলভোগ দয়হাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেফতার তুষার শেখ দেলভোগ দয়হাটা এলাকার মরহুম শেখ করিমের ছেলে।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ কামরুল হাসান (পিপিএম) সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভাড়া করা একটি বসতবাড়ির উঠানে অভিযান চালান। এ সময় তুষার শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১১০ বোতল ‘উইন কোরেক্স’ (ফেনসিডিল জাতীয় মাদক) এবং ৩২ রাউন্ড পিতলের তৈরি কার্তুজ (গুলি) উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: কামরান হোসেন বলেন, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ,আর

  • ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি ইজিবাইক, আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল এ তথ্য জানায়।

    পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছর বয়সী ইজিবাইকচালক মিশকাতের গাড়িতে যাত্রীবেশে চারজন ওঠে। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ এবং কুষ্টিয়ার জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০), আখতার মোল্লা (৪০), রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)।

    পুলিশ জানায়, প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই ইজিবাইক ও মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয়জনকে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথাই আসছিল। সেই কারণে মামলাটি হয়েছিল অপমৃত্যুর। কিন্তু একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে লাগে খটকা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জট খোলে এই হত্যাকাণ্ডের। এখন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি ওই নারীর জামাতা মো. রবিন।

    রবিন (২২) এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটি এখন বিচারের জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    যে তথ্যে খটকা

    ২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার তখন জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর মা ও ভাইদের মরদেহ। নারগিসের পরিবার থেকে তখন ধারণা দেওয়া হয়েছিল, খাবারে বিষক্রিয়া এই মৃত্যুর কারণ।

    আবার এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সম্পত্তির বিরোধ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

    পুলিশ খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছিল। দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

    ২০২৫ সালের ২ জুন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নারগিস বেগম ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ। তখন খাবারে বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে উদ্‌ঘাটিত হয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে।

    তদন্ত শুরু করে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতেই রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন আসে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

    মনজুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন রবিন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    মনজুর রহমান, উপপরিদর্শক, পিবিআই

    ক্ষোভ থেকে হত্যা

    রবিন ছিলেন ঘরজামাই। শ্বশুর রাজা মিয়া মারা যাওয়ার পর পরিবারের ডেকোরেটর ব্যবসা তিনি দেখাশোনা করতেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রবিন কোনো হিসাব শাশুড়িকে দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাঁকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। বেশ কিছুদিন পরই সেদিন শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন।

    ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ২০২৫ সালের ৩ জুন ঘরের ভেতর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর ভিড় জমিয়েছিল গ্রামের মানুষ

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা–কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ির ওপর রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝেমধ্যে ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের ঝগড়া হতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবার ওপরই তাঁর ক্ষোভ ছিল।

    মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তা নিয়ে বিরোধ থেকে একপর্যায়ে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেন। তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

    জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

    স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে কারও দেখে মনে হয় যেন তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোর চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।

    রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি বালিশ ও মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

    রবিনের গ্রাম থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম। তাই সহজেই তাঁর যাতায়াত করার সুযোগ ছিল।

    লাশ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলতে থাকেন। শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখা।

    আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

    আবদুর রশীদ, মামলার বাদী

    স্ত্রী এখনো সন্দিহান

    স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো সন্দিহান নাসরিন আক্তার।

    নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সে (রবিন) বলেছে, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

    তবে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁর মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

    নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

    মামলাটি করেছিলেন নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।’

    এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।’

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

  • বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচারের প্রবেশাধিকার’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলতে পারি গত কয়েক মাসের সরকারে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। আর এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (গুম)-এর ব্যাপারে একটা রিপোর্টেড কেস যখন এসেছে আমরা সেটাকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য আমি ইন্টার্নালি বলেছি।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জজ সাহেব যখন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারেন, তখনই বিচার বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি ভালো জজ যদি নিয়োগ হয়, ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব।

    রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং সেটা আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সাইকেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মনে করছি, আমরা আস্তে আস্তে সব রকম সংস্কারের দিকেই আগাবো। কিন্তু এ জন্য আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে।

    আজকের পরামর্শ সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গতকাল ছিল ২৪শে জুলাই। ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোন পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি।

    তিনি বলেন, যেহেতু সাংবিধানিকভাবেই ১৫ই জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা। তাই আশা করি, সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

    দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন- এই প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘অধিকার’-এর পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান।

    অধিকার আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

  • গণমাধ্যমের খবর ‘মিথ্যা’: ভারতের প্রধান বিচারপতি

    গণমাধ্যমের খবর ‘মিথ্যা’: ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দুই দিন আগে বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও দেখার মতো সময় তাঁর নেই। দুই দিন পর তিনি দাবি করছেন, ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় করা আবেদনটি তালিকাভুক্ত করতে (শুনানির দিন ধার্য করতে) তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

    ‘লাইভ ল’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কোনো রিট পিটিশনই করা হয়নি।

    পুলিশি নির্যাতনের মধ্যে চলমান এই আন্দোলনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক বিশেষ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। মে মাসে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্য তরুণসমাজকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ আরশোলার মতো ঘুরে বেড়ায়, যাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই এবং পেশাগত জগতেও কোনো জায়গা নেই। এর জের ধরে অনেকটা কটাক্ষ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠিত হয়।’

    এই দল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক মাস ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ২২ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখী তাদের পদযাত্রায় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। সেই সময়ে পুলিশ শিক্ষার্থী নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। কাঁদানে গ্যাস শেল ছুড়ে এবং পেলেট গান ও পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহার করে তাদের ওপর চড়াও হয়।

    ২২ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানানো আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্রকে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    আইনজীবী যখন বলেন, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও রয়েছে, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিওর প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই; আমাদের এগুলো দেখার সময় নেই।’

    ঠিক দুই দিন পর আজ ২৪ জুলাই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বলছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা ছাড়া কেবল একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।

    ‘লাইভ ল’-এর তথ্যমতে, প্রধান বিচারপতি বলেন, গত দুই দিনে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, মামলাটি নাকি দায়ের করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম কোনো দায়িত্ব না নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে, প্রধান বিচারপতি মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    সূর্য কান্ত দাবি করেন, ‘আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি পাতাও জমা পড়েনি। ওটা কেবল একটি স্মারকলিপি ছিল…যা ওই মিশ্র বা কেউ একজন পাঠিয়েছিলেন। আমি কীভাবে একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করতে পারি? আর মানুষ এসব নিয়ে বেপরোয়া সংবাদ প্রকাশ শুরু করে দিল।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণ আইনজীবী শোয়েব আলম যখন শুনানির জন্য অন্য একটি বিষয় উল্লেখ করেন, তখন প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

    বেশির ভাগ গণমাধ্যম মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে তাঁর অনীহার চেয়ে তাঁর মৌখিক মন্তব্যের ওপরই বেশি জোর দিয়েছিল।

    এক দিন আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সকালে বলেছিলেন, বেলা তিনটার মধ্যে যদি সুপ্রিম কোর্ট মেট্রোস্টেশন খুলে দেওয়া না হয়, তবে শীর্ষ আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবেন। গতকাল কর্তৃপক্ষ ১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা কেবল আন্দোলনকারীদেরই নয়, সাধারণ কর্মজীবী ও সেবাদাতাদেরও চরম ভোগান্তিতে ফেলেছিল।

    সংবিধানবিশেষজ্ঞ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি দুষ্যন্ত দাভে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব করণ থাপারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্য ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সংবেদনহীন।

  • অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি আরবের ২৯ বছর বয়সী যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সৌদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে বৃটেনের এক আদালতের তদন্তে বলা হয়েছে, অ্যালকোহল, মাদক এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। আদালত এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুহিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় যুবরাজ আবদুল্লাহকে পাওয়া যায়। কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরজা খুলে তাকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্যারামেডিকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
    ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনার আদালতের তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক মাদক ও ওষুধ গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। সহকারী করোনার জিন হারকিন রায়ে উল্লেখ করেন, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দুর্ঘটনাবশত ঘটে যাওয়া মৃত্যু।

    টক্সিকোলজি পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
    আদালতে জানানো হয়, যুবরাজ আবদুল্লাহ ওই সালের ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি সিগারেট খাওয়ার জন্য বাইরে গিয়ে পরে একাই হোটেলে ফিরে আসেন। তদন্তকারীরা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাননি।
    টক্সিকোলজি পরীক্ষায় তার রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া যায়, যা ইংল্যান্ডে বৈধ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়া তার শরীরে প্রাণঘাতী মাত্রার গামা-হাইড্রক্সিবিউটিরেট , গাঁজার উপাদান, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ আলপ্রাজোলাম (জ্যানাক্স) এবং আরও কিছু অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
    ময়নাতদন্তে তার শরীরে কোনো তীব্র বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতে জানানো হয়, অ্যালকোহল ও একাধিক মাদকদ্রব্যের সম্মিলিত প্রভাবে তার হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে।

    আগে থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন
    তদন্তে আরও জানা যায়, যুবরাজ আবদুল্লাহ আগে থেকেই অ্যালকোহলের অপব্যবহার ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি লন্ডনের রোহ্যাম্পটনের প্রায়োরি ক্লিনিকে ডিটক্সিফিকেশন কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। পরে মার্সিসাইডের রেইনফোর্ড হল পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা চালিয়ে যান।

    পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টোরিয়া চামোরো আদালতে জানান, চিকিৎসায় যুবরাজ ভালো সাড়া দিয়েছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মনে করা হয়নি। যদিও পরে তিনি নির্ধারিত ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হননি।
    সহকারী করোনার জিন হারকিন বলেন, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা থেকে বোঝা যায় যুবরাজ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততারও কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

    সৌদি রাজপরিবারের ঘোষণা
    সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সৌদি রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে যুবরাজ আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সৌদি আরবের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে রাজধানী রিয়াদের ইমাম তুরকি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    এদিকে তারুদান্ত প্রেস যুবরাজ আবদুল্লাহকে সৌদি রাজপরিবারের একজন শান্ত, ভদ্র ও সবার শ্রদ্ধাভাজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নীরবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতেন এবং জনসম্মুখে না এলেও তার দাতব্য কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন।

  • মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণাকে ‘ফাঁপা প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানসহ একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হবে। সেইসঙ্গে এ ধরনের মামলার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি । এর পরিপ্রেক্ষিতেই কেজরিওয়াল এই মন্তব্য করেন।

    একটি ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘গত রাতে ১২টার সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সোমবার সংসদে একটি বিল আনা হবে, যার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। এই আশ্বাস কতটা ফাঁপা, তা গতকালই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’

    কেজরিওয়াল বলেন, ‘২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের মূল হোতাকে সিবিআই আদালতে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।’

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি এ ধরনের তদন্তই করতে হয়, যদি আদালতে দেখানোর মতো কোনো প্রমাণই না থাকে, তাহলে দ্রুত বিচার আদালতের (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) নাটক কেন?’

    দিল্লির সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে।

  • কাগজবিহীন অভিবাসীদের জন্য সুখবর দিল ইতালি

    কাগজবিহীন অভিবাসীদের জন্য সুখবর দিল ইতালি

    ইতালিতে বসবাসরত কাগজবিহীন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। আদালত বলেছেন, শুধু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে শেনজেন ইনফরমেশন সিস্টেম (এসআইএস)-এ প্রশাসনিক সিগন্যাল থাকলেই ২০২০ সালের ইমার্সিওন (সানাতোরিয়া) কর্মসূচির আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা যাবে না।

    রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, ইমিগ্রেশন আইনের যে বিধানের মাধ্যমে কেবল এসআইএসে প্রশাসনিক সিগন্যালের ভিত্তিতে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতো, তা ইতালির সংবিধানে বর্ণিত সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, ইতালিতে বসবাসের বাস্তবতা এবং জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধুমাত্র এসআইএসে প্রশাসনিক সিগন্যাল থাকার কারণে আবেদন বাতিল করা যাবে না।

    এই রায়ে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বহু অভিবাসী উপকৃত হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের সানাতোরিয়া আবেদন অবৈধ প্রবেশ বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে এসআইএস সিগন্যাল দেখিয়ে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, গুরুতর অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। এমন ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের সানাতোরিয়া আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে অথবা একই কারণে অতীতে বাতিল হয়েছে, তারা অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আবেদন পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিতে পারেন।

  • শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    ভারতের মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি মুম্বাই কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এক সদস্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফের আন্দোলনে এলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

    গত কয়েক দিনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

    ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ ভ্যানে কয়েকজন তরুণকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। সামনের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং আর কখনো বিক্ষোভে না আসতে বলেন।

    ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার এখানে দেখা গেলে তোমাদের জীবন শেষ করে দেব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম মাদক রেখে মিথ্যা মামলা দেব, তখন সারাজীবন শেষ হয়ে যাবে।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি প্রকাশ করে মুম্বাই কংগ্রেস দাবি করেছে, যদি ঘটনাটি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দলটির বক্তব্য, প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ নয়; শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।

    এ ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওতে দেখা পুলিশের গাড়িচালককে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের কৌশল নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নজরদারি করছে এবং অনেকের বাড়িতে গিয়েও সতর্ক করছে।

    এ ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলা বা আইনি নোটিশ ছিল, তাদের অনেককে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন চালু রেখে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু শিক্ষার্থীকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

  • প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৩৪ দিন সময় লেগেছে। তার এই দীর্ঘসময়ের নীরবতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সিজেপির প্রধান। তিনি আরো জানান যে, ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পদত্যাগের দাবি সত্ত্বেও সরকার এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করে চলেছে।

    এর আগে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির জন্য ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি। তবে মোদি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি কাঁপানো ছাত্র আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, ‘তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’

    সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এই উদ্যোগকে সামান্য ‘ব্যান্ড-এইড’ বা সাময়িক মলম দেওয়ার সাথে তুলনা করে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শূন্য সাজা বা সাজাহীনতার ইতিহাস রয়েছে। তাই কেবল এই আশ্বাসে কাজ হবে না।’ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরোধী দল ভারতীয় সংসদ অচল করে দেয়। দিল্লিতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালালেও যন্তর মন্তরে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে হাজারো তরুণ অবস্থান ধরে রেখেছেন। মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১- এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

    অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

    রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

  • জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনা হয় তাকে। সেখানে প্রসিকিউশনের আবদনের প্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, তদন্ত সংস্থাকে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে এক এগারোর সরকারের বির্তকিত কর্মকাণ্ড থেকে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে নানা অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

    এর আগে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরদিন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়।

  • সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর হামলা

    সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে বহুল আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশীরা। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনের দিকে নেয়ার সময় তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে জাকিরকে মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আসামিকে নিরাপদে আদালতে নিয়ে যান।

    এর আগে, গত ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকির হোসেনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।

    তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এতে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

    এদিকে, বারবার আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামির ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই আদালতে আনা-নেয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে এবং সম্পর্কে ফাহিমার চাচা।

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ৮ মে ভোরে ফাহিমার লাশ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, জাকির হত্যার পর লাশ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

    গ্রেফতারের পর জাকির পুলিশ ও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, পুলিশ জোর করে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর গলা টিপে হত্যা করে লাশ প্রথমে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের সময় অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাদর ও একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফাহিমা হত্যাকাণ্ড সিলেটসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। মামলাটি বর্তমানে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    মামলার অগ্রগতি :
    ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে এবং তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতসহ ১১ দল

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা ছিলেন। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

    সাত দফা দাবিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলের অধিকাংশের তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব ঘটনাস্থলের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেফতার হননি। অনেকে সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার ৬১ জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বাইরে সংঘটিত বহু ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগসহ সহযোগী বা অঙ্গসংগঠনের অনেক চিহ্নিত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    এছাড়া গুম-খুন, লাশ গোপন বা ধ্বংস করার অভিযোগে জড়িতদের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরনের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এজন্য বিচারপ্রার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে যেসব ভোটার ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি। এ কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাদ পড়া ভোটারের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সম্প্রতি এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট।

    এসআইআরে বাদ যাওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশ মুসলিম এবং মোট ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের অধিকাংশকেই তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই যৌক্তিক অসংগতির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চালু করা হয়েছিল, যার জেরে এত মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

    এই ২৭ লাখ মানুষ ছাড়াও আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত (ডুপ্লিকেট) ভোটার বলে তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই ৬৪ লাখ ভোটারের তথ্যও নতুন করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

    গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সবর ইনস্টিটিউট একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার বা ‘ওপেন ডেটাবেজ’ প্রকাশের কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই ডেটাবেজে ধর্ম ও লিঙ্গ অনুযায়ী সব তথ্য সাজানো থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক ও গবেষকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায় কীভাবে সমস্যায় পড়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত মুসলিম সমাজের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, এই তদন্ত জরুরি। কারণ, ২৭ লাখের বেশি মানুষকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।

    পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    যেমন কোনো দম্পতির ছয়জন বা এর বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের নাম সাধারণভাবে বাদ পড়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলে বা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো অদ্ভুত কারণ দেখিয়েও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে সবর ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে।

    পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় একেবারে গোড়াতেই প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে। এর ফলে গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ।

    নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র ছিল অন্য রকম। বহু প্রকৃত ও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু হয়।

    নির্বাচন শুরুর আগে এবং হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে, বিশেষত মুসলিম সমাজের মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদের হারানো হয়েছে।

    অবশ্য বিজেপির তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা বানিয়ে এবং তাতে অসংখ্য ভুয়া ভোটারের নাম ঢুকিয়ে গত নির্বাচনে জিতেছিল। এবার তারা সেটা করতে না পারায় হেরে গেছে।

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। ১০ এপ্রিল ২০২৬

    নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এরপর বাতিল হওয়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন সেখানে জমা পড়ে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষের আবেদন বিবেচনা করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কারও কাছেই কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

    দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেছে বেছে ভোটারদের নাম বেশি কাটা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণের অভাবে এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সবর ইনস্টিটিউটের এ প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, নির্দিষ্টভাবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল থেকেই ভোটারদের নাম অন্তত এ নির্বাচনে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

    কারণ হচ্ছে, মুসলিম ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দিন ভোট দিয়েছে এসেছে। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ভোট না পাওয়ার কারণেই হেরেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল। এই ভোটাররা কবে ভোটার তালিকায় ফিরবেন এবং ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

  • খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর  করলো ইরান

    খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিচারিক রায়ের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মেহদি খানকি। তার বিরুদ্ধে একটি ‘বিপ্লববিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সদস্য হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    ফার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী কারাজ শহরে অভিযান চালিয়ে মেহদি খানকিকে গ্রেফতার করে। অভিযানে তার বাড়ি থেকে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    এর মধ্যে ছিল পিস্তল, গুলি, বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণের রিমোট, হাতে তৈরি গ্রেনেড, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিস্ফোরক টিউব এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরে সেই রায় কার্যকর করা হয়। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • ওই সব ভিডিও দেখার সময় নেই, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ মামলায় ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ওই সব ভিডিও দেখার সময় নেই, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ মামলায় ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর লাঠিচার্জ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই মামলা দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান এক আইনজীবী। তবে তা শুনতে অস্বীকার করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

    আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    ওই আইনজীবী আদালতকে বলেন, জনগণের স্বার্থেই আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেশটির প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ’।

    এরপর ওই আইনজীবী কিছু ভিডিও দেখিয়ে পুলিশি নির্যাতনের প্রমাণ দিতে চেয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সময় নেই। আমরা কোনো ভিডিও দেখতে পারব না।’

    মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টও এই মর্মে কোনো জরুরি শুনানি করতে রাজি হয়নি। পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা সম্পর্কে দিল্লি হাইকোর্ট বলে দেয়, ‘এসবের মধ্যে আদালতকে টেনে আনবেন না।’

    শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি ও এর সমর্থকরা।

    এই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের করা একটি মন্তব্য থেকেই জন্ম হয় ককরোচ জনতা পার্টির। দেশের বেকার যুব সম্প্রদায়কে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আদালতের আদেশ অমান্য করায় শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আজাদ খান ও অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। পরে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মাদারীপুরের রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিট পিটিশনে স্থগিত আদেশ থাকার পরও শিক্ষা অধিদপ্তর এই আদেশ স্থগিত করে কোনো চিঠি পাঠাননি। যার ফলে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা। ওই আদালত অবমাননার মামলায় আজ আদালত শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ২ মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান ও প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নানকে স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

  • নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন : গ্রেপ্তার হবেন না-ট্রাম্প

    নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন : গ্রেপ্তার হবেন না-ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাঁকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এ বিষয়ে এখনো আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন বলে মন্তব্য করার পর সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ যদিও পোস্টে তিনি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইরান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের সহায়তার প্রশংসা করেন।

    এর আগে, ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।

    শনিবার সম্প্রচারিত নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউয়ে’ নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নগরীর আইন বিভাগ বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে, আইন তাদের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে।’

    প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু ঐতিহ্যগতভাবে নিউইয়র্ক সফর করেন।

    মামদানির বক্তব্যের জবাবে রোববার এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ইসরায়েল আইসিসিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বা পক্ষপাতদুষ্ট আদালত আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করে। পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মামদানি মনে হচ্ছে নিজের ভুলভ্রান্তি থেকে জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে এবং ইহুদি রাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশের নেতার ওপর আক্রমণ করতে আগ্রহী।’

    ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আদালতের সদস্য নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণকারী মামদানি মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে এলে তিনি পুলিশকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন।

    এদিকে, গত নভেম্বর নির্বাচনে জয়ের অল্প কিছুদিন পরই তৎকালীন মেয়র-নির্বাচিত মামদানি ও ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক করেন, যদিও এর আগে তাঁরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কটূক্তি বিনিময় করেছিলেন।

  • মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাঁকে হাজির করতে আবেদন করেন।

    পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, মোজাফফর হোসেনের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি ভারতে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হাজির করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

  • ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই সম্মতি দেন।

    যে তিনজন বিচারক পরিদর্শন করবেন তারা হলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আবেদনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাশাসনের আমলে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অনেক গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জেআইসি অথবা টিএফআই হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন জায়গায় আটকে রাখা হতো।

    সুনির্দিষ্ট পরিদর্শনের জায়গাগুলোর কথা জানিয়ে তিনি তুলে ধরেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের একটি কেন্দ্র, র‍্যাব-১-এর একটি টিএফআই সেল এবং ডিবি কার্যালয়ের বন্দিশালাসহ এ ধরনের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের নজির তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং রোম স্ট্যাটিউটের রুল ৭ ও রুল ৭৩ অনুযায়ী মামলার স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। এর আগে রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিচারিককাজে তা মেমোরেন্ডাম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন এবং বিচারকরা দিন-তারিখ নির্ধারণ করে অপরাধস্থল হিসেবে পরিচিত এই বন্দিশালাগুলো পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস দেওয়া হবে এবং আসামিপক্ষের কেউ চাইলে তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

    জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ঘটনার পর পালিয়ে যান।

    জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেয়। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝো থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল একাই তার ঘরে থাকতেন। বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।

    এ ব্যাপারে সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, ধর্ষণের পর শিশু জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত রবিউলসহ তার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, ‘শিশু জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির সময় চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা রানী খাতুন তার শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আটক ছয়জন নারী কৌশলে তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে। পরে মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন ছয় নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিকভাবে আটক নারীরা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে হাসাপাতাল থেকে জনতা আটক করে। তদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে আইনি পথ খুঁজছেন জোহরান মামদানি

    নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে আইনি পথ খুঁজছেন জোহরান মামদানি

    সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে যাবেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে আইনি দিক পর্যালোচনা করছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, তিনি মনে করেন নেতানিয়াহুর স্থান নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে। সেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অবস্থিত। মামদানি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। বহু মানুষই তার কর্মকাণ্ডের কারণে একই মত পোষণ করেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে আটক করার নির্দেশ দেয়ার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এ বিষয়ে তিনি নগর প্রশাসনের আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আইন আমাকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়, আমরা ততটুকুই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।

    আইসিসির পরোয়ানা
    ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন ইসরাইলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহার সৃষ্টি, হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকা- অন্তর্ভুক্ত।

    নির্বাচনী প্রচারণাতেও একই অবস্থান
    গত বছরের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন এবং নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দেন। সে সময় তিনি বলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তিনি তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলাকেও তিনি ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ বলে নিন্দা জানান। তবে সে সময় আইনি বিশেষজ্ঞরা মত দেন, কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব এবং এতে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়
    যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তার প্রশাসনের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের ওপর আইসিসির কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও পরে আইসিসিকে ধ্বংস করার অঙ্গীকার করে বলেন, আদালত আন্তর্জাতিক আইনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ চালাচ্ছে।

    নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
    আগামী অক্টোবরে কঠিন পুনঃনির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে থাকা নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মামদানির গ্রেপ্তারের হুমকিকে গুরুত্ব না দেয়ার কথা বলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করেন। যদিও মামদানি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সন্ত্রাসীদের পক্ষেই আছেন। যারা ইহুদি ও ইসরাইলকে ঘৃণা করে, তারা শেষ পর্যন্ত আমেরিয়াকেও ঘৃণা করে- এ বিষয়টি তিনি বুঝতে চান না কিংবা গুরুত্ব দেন না।

    ইসরাইলের পাল্টা সমালোচনা
    জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে মামদানি শহরে বাড়তে থাকা ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। তবে মামদানি বলেন, তিনি বিদ্বেষমূলক অপরাধ দমনে কাজ করা দপ্তরের বাজেট বাড়িয়েছেন। ড্যানন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে ইসরাইলের অবস্থান ও নাগরিকদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা তুলে ধরবেন। অন্যদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মামদানির বক্তব্যকে নিরেট রাজনৈতিক নাটক বলে উড়িয়ে দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

    ডেমোক্রেটদের মধ্যেও বদলাচ্ছে অবস্থান
    মামদানির এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও ইসরাইল নিয়ে আগের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেট সদস্যদের প্রায় অর্ধেক ইসরাইলের জন্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। যদিও প্রস্তাবটি পাস হয়নি, তবু এটি ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের অবস্থান দুর্বল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, গাজা ও ফিলিস্তিনের বিষয়ে আমাদের দেশের নীতির চেয়ে দেউলিয়া নীতিগত অবস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি আরও বলেন, গাজা যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলেও সেই প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

  • সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী, চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর

    চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। তিনি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

    শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কান্নায় আদালতকক্ষেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত অনেক আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

    সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষ সাক্ষীকে জেরা শুরু করে। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে জেরার পরবর্তী তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। একই শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন আদালত।

    উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

  • ইতালিজুড়ে কিশোর অপরাধ দমনে বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ৫৩৯

    ইতালিজুড়ে কিশোর অপরাধ দমনে বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ৫৩৯

    ইতালিজুড়ে যুব-কিশোর অপরাধ দমনে পরিচালিত বৃহৎ পুলিশি অভিযানে ৫৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৪৪টি প্রদেশে একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে আরও ৯৫৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর আনাদোলুর।

    ইতালির সংবাদ সংস্থা এএনএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৪৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানায়, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৯৭৩টি প্রোফাইল শনাক্ত করেছে, যেখানে ঘৃণা, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার উসকানি এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এর মধ্যে দুটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সম্ভাবনা বিবেচনায় বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযানের সময় পুলিশ প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করে, যার মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। মাদক কেনাবেচা ও রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

    পুলিশ ৭০০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এর মধ্যে ছিল ৪১ কেজি কোকেন, ৬৬০ কেজি ক্যানাবিনয়েড, ২ কেজি কেটামিন, প্রায় ১ হাজার অক্সিকোডোন ট্যাবলেট, পাশাপাশি এক্সট্যাসি, এমডিএমএ, মেথঅ্যামফেটামিন ও বেঞ্জোডায়াজেপিন।

    এ ছাড়া ১ হাজার ১৮২টি স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ছিল সঙ্গীহীন বিদেশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১১৭টি গেমিং আর্কেড, ৫৪৩টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থল।

    অভিযানে ৩ লাখ ৭ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ ৫১ হাজার মার্কিন ডলার) নগদ অর্থ, ৪৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ৮৭টি ধারালো অস্ত্র এবং আরও ৯৫টি সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহৃত বস্তু জব্দ করা হয়েছে।

    এছাড়া স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোনসহ চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ করা বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ৫০৬টি প্রশাসনিক জরিমানা করেছে, যার বেশিরভাগই মাদক সেবন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগে।

  • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬০, মামলা ৪৯

    রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬০, মামলা ৪৯

    রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৪৬০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সোমবার (২০ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রোববার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ডিএমপির রমনা বিভাগে ৩৯ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৬ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬২ জন, মিরপুর বিভাগে ১২৬ জন, গুলশান বিভাগে ৩৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৭ জন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে ৬ জন রয়েছেন।

    অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি বলছে, অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২ হাজার ৮৪টি ইয়াবা বড়ি, ১২০ গ্রাম গাঁজা, ১০০ বোতল সিরাপজাতীয় নেশাদ্রব্য। এ ছাড়া নগদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান জানিয়ে ডিএমপি বলছে, এখন পর্যন্ত পৃথক ৪৯টি মামলা করা হয়েছে।

  • মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরবার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একই অপরাধে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। তাই তাকে বেসামরিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সেনা আইনের আওতায় বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর অবসরপ্রাপ্ত মোজাফফর ও তার অন্য সহযোগীদের যে বিচার, সেটা তখনকার সময়ে সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু ফাইন্ডিংস আছে। তিনি পলাতক ছিলেন, দীর্ঘ দিন ভিন্ন নাম ধারণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে। আগে একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন, বিছানায় সাপ ছেড়ে দিয়ে স্বামীকে হত্যা

    দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন, বিছানায় সাপ ছেড়ে দিয়ে স্বামীকে হত্যা

    ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মিরাটে এক ব্যক্তিকে সাপের কামড়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডটিকে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে সাজিয়ে ২০ লাখ রুপির বিমা দাবি আদায় এবং নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

    নিহত ব্যক্তির নাম অতুল পানওয়ার। তিনি ও তাঁর স্ত্রী দামিনী উত্তর প্রদেশের হস্তিনাপুরে ‘কৃষ্ণা কিডস প্লে স্কুল’ নামে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। গত শুক্রবার সকালে নিজের বিছানা থেকে অতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৯ সালে অতুল ও দামিনীর বিয়ে হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।

    মিরাটের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দামিনীর সঙ্গে তাঁদের স্কুলের গাড়িচালক তুষার ওরফে নিক্কির সম্পর্ক ছিল।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দামিনী ও তুষার প্রথমে অতুলকে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা নতুন পরিকল্পনা করেন। এই ষড়যন্ত্রে দামিনী ও তুষারের সঙ্গে আরও দুজন জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

    সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (রুরাল) অভিজিৎ কুমার জানান, পরিকল্পনামাফিক দামিনী প্রথমে তাঁর স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়, পরে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর অচেতন অতুলের বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড় খাওয়ার পর শুক্রবার সকালে অতুলকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, অতুলের নামে থাকা ২০ লাখ রুপির বিমা দাবি করা এবং দ্বিতীয়ত, অতুলকে সরিয়ে দামিনী ও তুষারের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে কারও মনে কোনো সন্দেহ তৈরি না হয়।

    প্রথম দিকে ঘটনাটি সাধারণ সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা অতুলের মৃত্যুর চারপাশের পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে দামিনী ও তুষারের মধ্যকার কথোপকথন এবং ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই পুলিশ দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তুষার নিজেও বিবাহিত এবং এই হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

  • বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    যশোরের বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে ৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার নারানপুর কেলের কান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    আটক দুজন হলেন নারানপুর কেলের কান্দা এলাকার বাসিন্দা সালমা খাতুন (৩৮), স্বামী ফিরোজ এবং আমেনা খাতুন (৪৪), স্বামী শহীদ হোসেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় মাদক মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭১ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার দুই নারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় বাবা আকাশ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ রোববার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি দোকান থেকে র‌্যাব ও খুলনা সদর থানা পুলিশ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। এরও আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর আকাশকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আজ সকালে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    ওই দিন বিকেলে মা সীমার সঙ্গে নির্জনার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলে। পরে মায়ের গলা টিপে ধরে নির্জনা। তখন বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে শাসন করতে গেলে সেটি গিয়ে নির্জনার মাথায় লাগে বলে সূত্রটি জানায়। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তাঁরা।

    এরপর লাশ গুম করার জন্য বাবা কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মেয়ের হাত-পা বেঁধে ফেলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পরে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহটি দোতলা থেকে নিচে নামানো হয়। কয়েকবার মোটরসাইকেলে মরদেহ তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তা তুলতে সক্ষম হন তারা।

    পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন আকাশ। কোথায় মরদেহ ফেলা হবে, তা ঠিক করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শহরতলীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে রক্ত মুছে ফেলেন তাঁরা। রাতে উভয়েই কান্নাকাটি করেন এবং সকালে পালিয়ে যান।

    খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রথমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডিও প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হয়। পরদিন বিকেলে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    ওসি আরও বলেন, মা-বাবাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নির্জনার মা সীমাকে থানায় আনা হয়। প্রথমদিকে মেয়ে হত্যার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। পরে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ১০ দিন পর ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • গালাগাল দেওয়াকে ‘অশ্লীলতা’ বলা যায় না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

    গালাগাল দেওয়াকে ‘অশ্লীলতা’ বলা যায় না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

    ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে যে কেবল গালিগালাজ, অভদ্র আচরণ বা কোনো ধরনের কটু কথা যতই আপত্তিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য হবে না।

    শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেবল মুখে গালিগালাজ বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করলেই তা দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারার আওতায় কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

    বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি দিয়েছে। নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ বহাল রেখে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির দায়ের করা আপিল শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই রায় দেয়।

    রায়ে আদালত উল্লেখ করে, কোনো বক্তব্য বা উচ্চারণকে তখনই কেবল ‘অশ্লীল’ হিসেবে গণ্য করা যাবে, যখন প্রমাণ হবে যে সেটি ছিল অতিরিক্ত কামোদ্দীপক, যা মানুষের মনে বিকৃত ও কলুষিত চিন্তার উদ্রেক করে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে।

    সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ শুক্রবার তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায়, আইনের এই মানদণ্ডে বিচার করলে, অভিযোগকারী যে সমস্ত অভিযোগ এনেছেন তা যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও অভিযুক্তের মুখের কথাগুলোকে কোনোভাবেই অশ্লীল বলা যায় না। এই ধরনের শব্দগুলো যতই গালিগালাজপূর্ণ, অপ্রীতিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারার শর্ত পূরণ করে না।

    তাছাড়া, আইপিসির এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হতে হলে জনসমক্ষে সেই শব্দের কারণে অন্য কেউ বিরক্ত বা উত্যক্ত হয়েছেন—এমন প্রমাণ থাকতে হয়, যা এই মামলায় অনুপস্থিত ছিল। ফলে আদালত জানায় যে, আইপিসির ২৯৪(বি) ধারার অধীনে এই অপরাধটি এখানে গঠিতই হয়নি।

    আলোচ্য মামলাটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি কৃষি জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। জমি নিয়ে মামলাকারীর সঙ্গে তার দুলাভাইয়ের ঝগড়া হয় এবং এর দুদিন পর একই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নের সাথেও তার নতুন করে বিরোধ বাধে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, ওই সময় অভিযোগকারী মধ্যস্থতা করতে এলে মামলাকারী তাকে নানা কটু কথা, গালিগালাজ এবং জাতিগত বৈষম্যমূলক স্লোগান দিয়ে আক্রমণ করেন।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত মামলাকারীকে দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারায় অশ্লীলতা, ৩২৬ ধারায় গুরুতর আঘাত এবং ৫০৬(২) ধারায় অপরাধমূলক হুমকির পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরবর্তীতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট মামলাকারীকে তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীন অন্যান্য ধারাগুলোর সাজা বহাল রেখেছিল, যা অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংশোধন করে দিল।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক চারজনকে সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (৩০), হিজলগাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম খালিদ (২৭), আমিনুল হক ওরফে আজাহার (২৪) এবং বলদিয়া গ্রামের শিপন আলী (২৩)।

    আদালত সাজ্জাদ হোসেনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ইব্রাহিম খালিদ, আমিনুল হক ওরফে আজাহার ও শিপন আলীকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আকুন্দবাড়িয়া ও হিজলগাড়ি গ্রামে স্থানীয়রা মাদক সেবনের সময় ওই চারজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    রোববার বিকেলে আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ২৯(ক) উপধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের রায় ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

    চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি

    নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরটিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর কার্যালয় থেকে এখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মামদানি।

    নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি এমন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’

    আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন। মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

    সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’

  • ভারতে বাড়ছে মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা

    ভারতে বাড়ছে মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা

    ভারতের বিখ্যাত রামমন্দিরের ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনা ধর্মীয় স্থানগুলোর বিশাল অঙ্কের অর্থ ও স্বর্ণ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    গত জুনে পুলিশ এই তদন্ত শুরু করে। অযোধ্যার এই হিন্দু মন্দির থেকে অনুদান চুরির অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চুরির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ না করলেও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি রুপি বা ৩ লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার।

    দিল্লির অটোচালক অশোক প্রসাদ কুশওয়াহা জানান, ভক্তরা বিশ্বাস নিয়ে ঈশ্বরের কাজের জন্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেন। সেখান থেকে চুরি হওয়াটা ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। ভারতের বড় তীর্থস্থানগুলোতে অনুদান নিয়ে এমন কেলেঙ্কারি এবারই প্রথম নয়, এর আগে বদ্রীনাথ মন্দির এবং ৩১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ থাকা বিশ্বের অন্যতম ধনী ‘তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম’ ট্রাস্টেও এমন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

    কেরালার সাবরিমলা মন্দিরের সাবেক প্রধান পুরোহিতের নাতি ও হিন্দু সংগঠক রাহুল ঈশ্বর বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব।’

    তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল হিসাব, সিসিটিভি নজরদারি এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। রামমন্দিরে গণনা প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও নজরদারির গাফিলতিকে কাজে লাগিয়েই এই চুরি করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রামমন্দির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজার দর্শনার্থী আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপার গয়না দান করেন।

    এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, মন্দিরটি ভারতের দীর্ঘদিনের এক ধর্মীয় বিরোধপূর্ণ জায়গায় নির্মিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে সেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দেশব্যাপী সহিংসতায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমিটি মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়। এরপর দেশব্যাপী তহবিল সংগ্রহ অভিযানে প্রায় ৩৪ কোটি ১০ লাখ (৩৪১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার জমা হয়।

  • ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠিতে দুই ফ্ল্যাটে চুরি, হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,

    ঝালকাঠির পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার টিএন্ডটি সড়কে একটি ভাড়া বাসা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় মলিনা রায় (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ভবনের আরও দুটি ফ্ল্যাটে চুরি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

    শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টিএন্ডটি সড়কের একটি তিনতলা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতের কানের নিচে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। শুক্রবার শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা ভিমরুলী ও কীর্তিপাশায় গেলে মলিনা রায় একাই বাসায় ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় ঘরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মলিনা রায়কে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, সবাই রথযাত্রায় যাওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা নিচতলার ভাড়াটিয়ার বাসাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তছনছ করে এবং মালামাল লুট করে।

    তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল জানান, ফিরে এসে দেখেন নিচতলার এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বাসা এবং বাড়ির মালিকের ফ্ল্যাট থেকেও নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়েছে।

    খবর পেয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মামুন আল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস.এম. বায়জীদ ইবনে আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সময় বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

  • চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর  গ্রেপ্তার

    চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার

    নোয়াখালীতে বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তাররা হলেন হাতিয়া উপজেলার শূণ্যের চর এলাকার মিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার চর আলাউদ্দিন এলাকার রফিক উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।

    সুধারাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কাঞ্চন মেম্বারের পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিডিনিউজ ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    এদিকে, প্রায় দুই মাস আগে সোনাপুর এলাকা থেকে জয়দেব নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। শুক্রবার গ্রেপ্তার ফয়সাল মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে জয়দেবের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করলে জয়দেব ও তার বন্ধুরা কৌশলে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীরকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই জয়দেবের চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

    সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি নোয়াখালী থেকেও তারা আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ইস্যুতে আদালতের সমন জারি, নীরবতা ভাঙলেন তিশা

    শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ইস্যুতে আদালতের সমন জারি, নীরবতা ভাঙলেন তিশা

    প্রায় ১০ মাস আগে একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। আদালতের সমন জারির পর এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তিনি বলেছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন।

    একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী ও মডেল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি আদালত তাঁকে সমন জারি করে আগামী ১৩ আগস্ট হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিষয়টি আবারও সামনে আসে।

    সমন জারির পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আদালতে যাব। আমারও ইচ্ছা হয়েছিল, আমার সঙ্গে কী ঘটেছে, সেটা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলিনি। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক বিচার পাব এবং আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করব।’

    ১৪ বছরের অভিনয়জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিশা প্রশ্ন রাখেন, মাত্র ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ির জন্য প্রতারণা করার অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত।

    তার ভাষ্য, ‘আমি এত বছর পরিশ্রম করে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। একটি অনলাইন শপের ২৭ হাজার টাকার শাড়ির জন্য প্রতারণা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার বিশ্বাস, দর্শকেরা বিষয়টি বুঝতে পারবেন।’

    মামলার বাদী একটি অনলাইন পোশাক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তানজিন তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে একটি জামদানি শাড়ির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে প্রচারণার শর্তে শাড়িটি স্পনসর করা হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো প্রচারণা করেননি এবং শাড়ির মূল্যও পরিশোধ করেননি।

    তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর দাবি, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক! হা হা! আর ফটোশুটই যদি করাতে চান, পারিশ্রমিক কই? আজব নারী উদ্যোক্তা! আপনার গিফটরে সালাম!’

    এদিকে আদালতের সমনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিনেত্রী, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, একটি জামদানি শাড়িকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াবে, তা তারা ভাবেননি।

    আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তানজিন তিশা।

  • মুছে ফেলেছিলেন আসল পরিচয়, শেষ মুহূর্তে যেভাবে ধরা খেলেন জিয়ার খুনি মোজাফফর!

    মুছে ফেলেছিলেন আসল পরিচয়, শেষ মুহূর্তে যেভাবে ধরা খেলেন জিয়ার খুনি মোজাফফর!

    দীর্ঘ ৪৫ বছর নিজের পরিচয় গোপন রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। তবে শেষ মুহূর্তে নিজের পরিচয় জানাতে গিয়ে করা একটি ভুলই তার ছদ্মবেশের অবসান ঘটায়। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

    মোজাফফর হোসেন তার আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে।

    একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক— জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খোলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’।

    মোজাফফরের মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য।

  • ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াকে প্রথম গুলিটি করেন মোজাফফর!

    ঠান্ডা মাথায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলিটি করেছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন—মামলার নথিতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। প্রায় সাড়ে চার দশক ছদ্মবেশে পলাতক থাকার পর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।

    গোয়েন্দাদের দাবি, মেয়ের কর্মস্থল ও নাকের নিচের একটি তিলকে সূত্র ধরে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়েন জিয়া হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য। ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফেরারি ছিলেন।

    মামলার নথি, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক, জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

    বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

    তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’। মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

    গোয়েন্দা সূত্রে মোজাফফরের সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজেকে আড়াল করতে তিনি নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ভুয়া নাম, পরিচয় এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে চলতেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন, তখন মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। তাই তিনি তার আরেক সহযোগী মেজর এসএম খালেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রবেশ করেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী জীবনের ছক আঁকেন।

    মোজাফফর হোসেন তার নিজস্ব আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

    পলাতক অবস্থায় তিনি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ভারতের ভুয়া নাগরিকত্ব বা জাল নথির সাহায্যে তিনি পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এই ভুয়া আন্তর্জাতিক নথির ওপর ভর করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার আসল নামে খোঁজ করেও দীর্ঘদিন কোনো হদিস পাননি।

  • ইসরাইলি কারাগারে জার্মার নারী অধিকারকর্মী ধর্ষণের শিকার

    ইসরাইলি কারাগারে জার্মার নারী অধিকারকর্মী ধর্ষণের শিকার

    ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তিনবার বেআইনিভাবে নগ্ন করে তল্লাশি এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন আনা লিডকে (২৫) নামে এক জার্মান নারী অধিকারকর্মী। গত শরৎকালে ইউরোপ থেকে মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ইসরাইলি বাহিনী তাদের নৌকাটি আটক করে এবং আনাকে পাঁচ দিন বন্দি রাখা হয়।

    ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।আনা লিডকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, ইসরাইলি কারাগারে এই সহিংসতা ও ধর্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করা অধিকারকর্মীদের ভয় দেখানো।

    তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের ইচ্ছা ভেঙে দিতে এবং স্তব্ধ করতে চায়। তারা পরিস্থিতি এতটাই ট্রমাটিক করতে চায়, যেন আমরা ফিলিস্তিন নিয়ে আর কখনো কথা না বলি।’ তবে ভয় না পেয়ে আনা এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।

    ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা এবং কারারক্ষী তদন্ত বিভাগের কাছে এই লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। আনার আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, ইসরাইলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    মুনা হাদ্দাদ জানান, গত তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে। এখন ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়ানো বিদেশি নাগরিকদের ওপরও এই আচরণ সম্প্রসারিত করছে।

    গত ১০ অক্টোবর আনাকে গিভন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে একটি আংশিক ঢাকা পর্দাওয়ালা জায়গায় তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে নারীরক্ষীরা জোরপূর্বক তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে ধর্ষণ করে। আনা চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। সেই সময় পর্দার ওপাশ থেকে পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আনা বিশ্বাস করেন, কারাগারে থাকা বডি ক্যামেরা বা নিরাপত্তা ক্যামেরা দিয়ে এই পুরো ঘটনা ভিডিও করা হয়েছে।

    এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে জাতিসংঘ সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

    এছাড়া অস্ট্রেলীয় পুলিশ এবং ফরাসি প্রসিকিউটররা ইসরাইলি কারাগারে তাদের নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। ১২ অক্টোবর অন্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে আনাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। জার্মানি ফিরে গিয়ে ডিসেম্বর মাসে তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের এক সম্মেলনে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। তার দেখাদেখি ফ্লোটিলার ১০-এর বেশি অধিকারকর্মী যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন।

    তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কারা কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তাদের কর্মীদের দ্বারা কোনো ধরনের ধর্ষণ বা পদ্ধতিগত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।