আইন-আদালত

  • নড়াইলে মাদকসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক

    নড়াইলে মাদকসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চামরুল উত্তরপাড়া থেকে ৩৫ বোতল ইননসেরেক্স মাদক জব্দ করেছে মাদক নিয়নন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসময় এক বিক্রেতা নারীকে আটক করা হয়।

    শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলা কার্যালয় এ অভিযান চালায়।

    এ সময় কোডিন মিশ্রিত ৩৫ বোতল উইনসেরেক্স মাদকসহ শুকুরোনকে (৫৭) আটক করা হলেও তার স্বামী নূর মিয়া (৬৪) পালিয়ে গেছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলক মজুমদার। জব্দকৃত প্রতিটি বোতলে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত মাদকের উপাদান বিদ্যমান বলেও জানান তিনি।

    তিনি জানান, স্বামী নূর মিয়া ও স্ত্রী শুকুরোন প্রায় দুই বছর ধরে বাড়িতে থেকে বিভিন্ন ধরণের মাদক বেচাকেনা করে আসছে। তাদের নামে নড়াইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১) ১৪ (খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত শুকুরনকে শনিবার দেড়টার দিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামি নূর মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলক মজুমদার জানিয়েছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিয়মিত এ ধরণের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে একটি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল কমপ্লেক্সে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনাটিকে একটি বর্ণবাদী ও ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ বা ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে সন্দেহ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল জানিয়েছেন, সোমবার সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ বা আইসিএসডিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী দুজনও পরে নিজেদের গুলিতে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলটি একটি ইসলামিক সেন্টার হওয়ায় বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখা হচ্ছে না। পুলিশ প্রধান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ না মিলছে, ততক্ষণ একে বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ।

    সন্দেহভাজন হামলাকারী দুজনের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল আরো জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী। হামলা রুখতে এবং এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা যেন আরো বড় বিপর্যয় বা গণহত্যোয় রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

    নিহত তিনজনের সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার শুরুতে সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ সেখানে একজন সক্রিয় বন্দুকধারী থাকার কথা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও পরে জানায় যে হুমকি ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

    এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি আইসিএসডিকে এমন এক মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে মুসলিম এবং অমুসলিম- সবাই একসাথে জড়ো হন, প্রার্থনা করেন, শিক্ষা নেন এবং আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি করেন।

    ইমাম তাহা হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, একটি এবাদতের কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এমন হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য এবং মারাত্মক আপত্তিকর। আমাদের এই ইসলামিক সেন্টারটি শুধুই একটি পবিত্র এবাদতের জায়গা। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই শহরে ঘৃণার কোনো স্থান নেই।

    স্থানীয় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থনা আপনাদের সাথে আছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই শহরে আপনারা যেন নিরাপদ বোধ করতে পারেন তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই সংবেদনশীল সময়ে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের সম্পদের কমতি রাখা হবে না। সান ডিয়েগোর ডাউনটাউন বা মূল শহরের উত্তরে অবস্থিত ক্লেয়ারমন্ট আবাসিক এলাকায় এই ইসলামিক সেন্টারটি অবস্থিত।

  • গাংনী সরকারি দুই অফিসে চুরি।

    গাংনী সরকারি দুই অফিসে চুরি।

    মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে জানালার গ্রীল কেটে অফিসে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে সরকারি অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একই রাতে প্রায় একই সময়ে চুরির ঘটনা।
    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আড়াইটার দিকে জানালার গ্রীলের রড কেটে অফিসে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে তছনছ ও চুরির চেষ্টা।

    উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র এলোমেলো করে ফেলে চোরেরা। অন্যদিকে, ভূমি অফিসের পেছনের জানালা ভেঙে প্রধান অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে কাগজপত্র তছনছ করা হয়।

    তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল চুরি হয়েছে কিনা।
    আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯ টার সময় অফিস দুটিতে কর্মচারীরা আসার পর এদৃশ্য দেখেন।
    পরে পুলিশকে খবর দিলে গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

    গাংনী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার নাইমা ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাইলপত্র তছনছ করা হয়েছে। কী কী ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

    এদিকে, একই রাতে দুটি সরকারি অফিসে চুরির ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
    বিশেষ করে, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাইটগার্ডের উপস্থিতি এবং অফিস কক্ষগুলো তালাবদ্ধ না থাকা, এসব বিষয় নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
    ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানালেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদ আছে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

  • কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

    কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার জেরে বড় ভাই মোরশেদের (৪০) দায়ের কোপে ছোট ভাই ফয়সাল (৩৫) খুন হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত ফয়সাল ওই গ্রামের মরহুম রাজা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত মোরর্শেদ তার আপন বড় ভাই।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন অভিযুক্ত মোরশেদের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি নাইট শিফটের ডিউটি করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে ঘুমাতে যান।

    সকালে ঘরের পাশে শিশুরা হই হুল্লোড় করলে মোরশেদ ঘর থেকে বের হয়ে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে তাদের বকা দেন। এ সময় ছোট ভাই ফয়সাল বড় ভাইকে নিষেধ করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা দু’জনই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

    দুপুর দেড়টার দিকে দুই ভাই বাড়ি ফিরলে আবারো বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এক পর্যায়ে মোরশেদ ঘর থেকে দা নিয়ে এসে ছোট ভাই ফয়সালকে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ নিহতের লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

    এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় সুয়াগাজী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোরশেদকে আটক করা হয়।

    থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

  • গাংনী সরকারী অফিসে চুরি

    গাংনী সরকারী অফিসে চুরি

    মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে জানালার গ্রীল কেটে অফিসে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে সরকারি অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একই রাতে প্রায় একই সময়ে চুরির ঘটনা।
    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আড়াইটার দিকে জানালার গ্রীলের রড কেটে অফিসে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে তছনছ ও চুরির চেষ্টা।

    উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষের আলমারি ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র এলোমেলো করে ফেলে চোরেরা। অন্যদিকে, ভূমি অফিসের পেছনের জানালা ভেঙে প্রধান অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে কাগজপত্র তছনছ করা হয়।

    তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল চুরি হয়েছে কিনা।
    আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯ টার সময় অফিস দুটিতে কর্মচারীরা আসার পর এদৃশ্য দেখেন।
    পরে পুলিশকে খবর দিলে গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, তদন্ত অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

    গাংনী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার নাইমা ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাইলপত্র তছনছ করা হয়েছে। কী কী ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

    এদিকে, একই রাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে চুরির ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
    বিশেষ করে, রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাইটগার্ডের উপস্থিতি এবং অফিস কক্ষগুলো তালাবদ্ধ না থাকা, এসব বিষয় নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
    ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানালেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদ আছে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

  • আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    বৃহস্পতিবার সকালে বেলা ১১টার কিছু আগে হঠাৎ হাইকোর্ট চত্বরে যান তৃণমূলনেত্রী। আইনজীবীদের মতো কালো শামলা পরে আদালত চত্বরে হাজির হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে শুনানি করেন তিনি বলে জানান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

    নির্বাচনের আগে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। এবার নির্বাচনের পর হাইকোর্টে হাজির হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তাকে দেখা গেল আইনজীবীর বেশে। হাইকোর্ট চত্বরে তিনি পৌঁছালে তাকে ঘিরে উৎসুক সমর্থকদের ভিড় জমে।

    হাইকোর্ট চত্বরের বাইরে মমতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গে লিখেছে, ‘আরও একবার তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। দরকারের সময়ে কখনো তিনি পশ্চিমবাংলার মানুষকে একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই তিনি থামান না। অতুলনীয় সাহস এবং প্রত্যয়কে সঙ্গী করে তিনি বারবার ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

    এদিকে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তৃণমূলনেত্রী মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এসব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করব। রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”

  • চুয়াডাঙ্গায় বাংলা মদসহ কারবারি আটক

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলা মদসহ কারবারি আটক

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ বোতল বাংলা মদসহ কারবারি চান্দু মন্ডল (৫০) কে আটক করা হয়েছে। ১৩ মে বুধবার সকালে শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ।

    চান্দ্র মন্ডল সদর উপজেল দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া মৃত শুকর আলীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ৩৬ বোতল কেরুজ বাংলা মদ উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় সদর থানার এস আই অনুজ কুমার বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

  • সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চন্ডিপুল সংলগ্ন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপুল এলাকায় এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দক্ষিণ সুরমা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বুধবার (১৩ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, বৃদ্ধের বয়স ৭০ এর বেশি। মুমূর্ষ অবস্থায় ভবঘুরে বৃদ্ধকে পুলিশ রাতে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মৃতের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে আশেপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেউ মৃত ব্যক্তিকে চিনে থাকলে দক্ষিণ সুরমা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাইহাট বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নিহত ওই যুবকের নাম আনিছুর রহমান। তিনি নাকাইহাট বন্দর এলাকার নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নাকাইহাট বন্দরের একটি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা মাপার কাজ চলছিল। এ সময় নাকাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান ও তার ভাই আব্দুল মজিদ প্রধানের পক্ষের সাথে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজার রহমান মণ্ডলের আত্মীয় শাহ আলমের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি হিরো মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সায়েম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান, আব্দুল মজিদ প্রধান, মানিক প্রধান, মেহেদুল প্রধানসহ আরো কয়েকজন।

    গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিছুর রহমান মারা যান।

    ঘটনার খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    এদিকে, গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশীদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ নারী

    ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ নারী

    ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে বাংলাদেশী দুই নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ৯টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।

    ফেরত আসা নারীরা হলেন হ্যাপি খান (৪৩) ও মারিয়া হাওলাদর (২৬)। তারা বাগেরহাট জেলার খেজুর বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, জীবিকার সন্ধানে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতের নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে সে দেশের আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    তিনি আরো জানান, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে তারা দেশে ফেরেন।

    ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা থানা থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

    জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে আজ (বুধবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরির ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার দু’জন হলেন— মুক্তাগাছার তারাটি ইউনিয়নের বিরাশি (মধ্যপাড়া) গ্রামের মো: সিরাজুলের ছেলে সৌরভ মিয়া (৩০) ও মো: আবুল কালাম কালু মিয়ার ছেলে মো: জনি (২৫)। বুধবার (১৩ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    বাদীর অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছার বিরাশি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো: আশরাফুল আলমের বাবা আব্দুল মোতালেব জমি কেনার জন্য ৩৫ লাখ টাকা ঘরে রেখে সম্প্রতি হজে চলে যান। আশরাফুলের মায়ের শোবার ঘরে একটি স্টিলের ট্র্যাংকে টাকাগুলো রেখে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। গত ১ মে সন্ধ্যার দিকে আশরাফুলের মা মোসা: হাছিনা বেগম ঘরে তালা দিয়ে পাশের বাড়িতে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজার তালা ও স্টিলের ট্র্যাংকের তালা ভেঙে চোর ৩৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।

    এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার দু’জনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার সৌরভ ও জনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শাহাজাহানপুর থানার এ/২৮ শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় সৌরভ মিয়ার ভাড়া বাসার শোবার ঘরের ভেতর থেকে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে গ্রেফতার সৌরভের খালা শারমিন আক্তার শিখার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের চর কুষ্টিয়া গ্রামের গোয়াল ঘরের মাচার নিচ থেকে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঘটনাটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার দু’জনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে।

  • ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

    ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের লেমুয়া হাফেজিয়া রাস্তার মাথায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরো একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলার বক্তার মুন্সি বাজার সংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের মো: নুরুল হুদার ছেলে নুরুল আলম (৪৬) ও তার ছেলে মোহাম্মদ নীরব (২৫)। নুরুল আলম ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক ছিলেন।

    এছাড়া ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের সিরাজ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, নুরুল আলম মঙ্গলবার সকালে ভাগ্নে আফজালের মোটরসাইকেলে নিজ ছেলে নিরবসহ লেমুয়ায় বোনের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের মোটরসাইকেলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া হাফেজিয়া এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় ইউটার্ন নেয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা দাউদকান্দি এক্সপ্রেস বাসের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে তারা তিনজনই পিষ্ট হন।

    তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নিরব ও আফজালকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নেয়ার পথে নীরবের মৃত্যু হয়।

    ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘রাতে অ্যাম্বুলেন্সে ডিউটি শেষে নুরুল আলম মোটরসাইকেল করে লেমুয়ায় তার বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে নুরুল আলম ও তার ছেলে নীরবের মৃত্যু হয়।’

    মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথমে একজন এবং পরে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযান চালিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও গোলাবারুদসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা লামারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বাড়িতে তল্লাশি করে একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, দুটি বুলেট প্রুফ হেলমেট, এক রাউন্ড তাজা গোলা ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

    উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।‘

  • মানসিক অসুস্থ মা আটকে রেখেছিলেন দুই শিশুকন্যাকে, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার

    মানসিক অসুস্থ মা আটকে রেখেছিলেন দুই শিশুকন্যাকে, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার

    ফেনীতে নিজ কক্ষের ভেতরে ছুরি হাতে দুই শিশুকন্যাকে (বয়স ১০ বছর ও ২ বছর) আটকে রাখা এক মানসিক অসুস্থ মাকে ঠেকিয়ে শিশুদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক প্রতিবেশীর ফোনকলের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ মে) রাতে ফেনী সদর থানার মধ্যম মধুপুর এলাকায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

    সোমবার রাতে মধ্যম মধুপুর এলাকার এক বাসিন্দা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তার প্রতিবেশী এক নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি তার দুই শিশুকন্যাকে একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন এবং হাতে ছুরি নিয়ে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। প্রতিবেশীরা অনেক চেষ্টা করেও ঘরের দরজা খুলতে ব্যর্থ হন। ভেতর থেকে শিশুদের আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত পুলিশের সহায়তা চান।

    ৯৯৯ কল সেন্টার থেকে কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল জান্নাত এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ফেনী সদর থানা ও ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে অবহিত করেন। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই ইন্দু জ্যোতি রায়।

    সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফেনী সদর থানার একটি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তারা কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মা’কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১০ বছর ও দুই বছর বয়সী শিশু দু’টিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

  • সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিনভর মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ।গত রোববার রাত থেকে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    সংগঠনের পক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বাবুল মোল্লা জানান, সন্ধ্যা নামলেই আমাদের এলাকার নির্জন স্থানগুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে যুব সমাজ ও কর্মজীবী মানুষের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। মাদকের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় যুব সমাজ ‘ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠন’ এর ব্যানারে মাদক ও অপরাধবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    বাবুল মোল্লা আরো বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে এলে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একই সাথে তিনি এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

    সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির জানান, তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

    সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলার লৌহজং হলপট্টি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে লাশের পরিচয় শণাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বোরহান-উল- ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টায় লৌহজং হলপট্টি এলাকায় স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ শেষে রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে লৌহজং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ বছর হতে পারে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই জানা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান ।

    এদিকে লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায় ।

    এ,আর

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি, ১৭ দিনে আটক ৩ চোর

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে চুরি, ১৭ দিনে আটক ৩ চোর

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন চোর আটক হওয়ায় শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ সংলগ্ন একটি মেয়েদের মেসে গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করতে গিয়ে এক যুবক শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন। পরে তাকে প্রক্টরিয়াল বডির হেফাজতে নেওয়া হয়।

    এর আগে, ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের ওয়াশরুম থেকে পানির কল চুরির সময় সালমান রাফি নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন। পরে তাকে ত্রিশাল থানায় সোপর্দ করা হয়।

    ওই ঘটনার তিন দিন পর, ২২ এপ্রিল একই এলাকায় আবারও চুরি এসে ধরা পড়ে আরেক যুবক। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা ও একাডেমিক ভবনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলছেন তারা।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত টহলের অভাব এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ থাকায় চুরির ঘটনা বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    A M

  • শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কোনো মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। রোববার (১০ মে) রাতে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদকের সাথে যদি আমার দলের কেউ জড়িত থাকে কিংবা অন্য কোনো দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কোনো পরিচয়, কোনো দল, কোনো ব্যক্তি বা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন কিছুই কাজ হবে না। আমি হানজালা ওয়াদা দিচ্ছি, কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিবচরের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যার যার জায়গা থেকে মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিন। কেউ যদি মাদকসহ কাউকে ধরিয়ে দিতে পারে, আমি নিজে তাকে পুরস্কৃত করব, ইনশাল্লাহ। সে পুরস্কার পেয়ে খুশি হবে, আমি এটুকু বলতে পারি।’

  • পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    আর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মাত্র চার দিনে (৪ মে থেকে ৭ মে) রাজ্যের অন্তত ৮টি জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩৪টি সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতা কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না। কোচবিহার থেকে শুরু করে হাওড়া, বারাসাত, মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এমনকি কলকাতা মেট্রো অঞ্চলেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মসজিদ, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম মালিকানাধীন হোটেলসহ প্রায় ৫৪টি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোচবিহারের গোসাইনিমারিতে একটি মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন। এ সময় হামলাকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় সংখ্যালঘুদের এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

    আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বারাসাতে দুটি হোটেল পুড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টি এবং গবাদি পশুর হাটে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুলডোজার মিছিল বের করে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম নামযুক্ত স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ও কর্মীদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁর কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

    পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে বরুনা এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে রফিকুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন।

    বিচার চলার সময় উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিল্লাল হোসেনের লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

    সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিল্লাল হোসেন খাঁ ও তার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করেছে।

    অপরদিকে, বিল্লাল হোসেন খাঁ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের লোকজনই বিচারে এসে অতর্কিত হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।’

    রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • যশোরে রেললাইনে উঠে পড়ল ট্রাক, ট্রেনে কাটা পড়ে চালকের মৃত্যু

    যশোরে রেললাইনে উঠে পড়ল ট্রাক, ট্রেনে কাটা পড়ে চালকের মৃত্যু

    যশোরে রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে ট্রাক। ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালক ছিটকে পড়েন রেললাইনে। ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজ রোববার দুপুরে অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৬০) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ জানায়, অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি এলাকায় পাশাপাশি যশোর-খুলনা মহাসড়ক ও খুলনা-রাজশাহী রেললাইন। রেললাইনের পাশেই আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডাম্প (স্তূপ)। রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। রোববার দুপুরে একটি ট্রাক যশোর-খুলনা মহাসড়ক থেকে নেমে পেছন দিকে ধীরে ধীরে রেললাইন পার হয়ে কয়লার ডাম্পে কয়লা লোড করতে যাচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাকটির পেছনের অংশ রেললাইনের ওপর ছিল। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেন ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটি উল্টে যায় এবং চালক মনোয়ার হোসেন ট্রাক থেকে ছিটকে রেললাইনের ওপর পড়েন। ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নওয়াপাড়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইয়াসিন আরাফাত বলেন, মশরহাটি এলাকার ওই রেলক্রসিং অবৈধ। মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজ দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে নওয়াপাড়া স্টেশন ছেড়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মশরহাটি এলাকায় ওই রেলক্রসিংয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির (জিআরপি) উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • মেহেরপুরের গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে, পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে এই আত্মহত্যা। রোববার (১০ মে) গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।

    পুলিশ এ ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।’

  • বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

    বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শান্ত ইসলাম (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ মে) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের ইছাপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শান্ত ইসলাম উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া পশ্চিমপাড়ার মরহুম জায়েদ মিয়ার নাতি।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ইছাপুরা মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ মারুফ জানান, শান্ত ইসলাম ছোটবেলা থেকেই খাড়াতাইয়ায় নানা জায়েদ মিয়ার বাড়িতে থাকত। বুড়বুড়িয়া হাজী মার্কেটে তার একটি চটপটির দোকান ছিল। শান্ত ইসলামের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায়। তার বাবার নাম লাল মিয়া।

    এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • ১৮ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

    ১৮ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

    দীর্ঘ ১৮ বছর পর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের একটি হত্যা মামলায় তিন ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। রোববার (১০ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (চতুর্থ) আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শাহবাজ মিয়া (৫৮), হানিফা (৫০) ও মো: রফিকুল ইসলাম (৫৩)।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় ছয়জন অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর তিনজনকে খালাস দেয়া হয়।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে উপজেলার শিলাসী গ্রামে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে স্থানীয় নুরুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর নিহতের ছেলে কাজল মিয়া গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণে তিনজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মাসুদুল আলম খান তান্না এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান।

  • গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।

    পুলিশ এ ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    তারা বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

    এম কে (বিস্তারিত…)

  • দিনাজপুরে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

    দিনাজপুরে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

    দিনাজপুরে ট্রাক টার্মিনালে টোলের নাম করে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরে টোল আদায় ও চাঁদা বন্ধের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া হয়। রোববার (১০ মে) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ পালন করেন। এ সময় যানজটে দিনাজপুর শহর স্থবির হয়ে পড়ে।

    জানা যায়, এক মাস ধরে দিনাজপুর ট্রাক টার্মিনালে টোলের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে দিনাজপুরে শহরের আটটি পয়েন্টে দিনাজপুর জেলার ট্রাক ও মালিক শ্রমিকের যৌথ উদ্যোগে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    পরে চার ঘণ্টা পরে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহা হয়।

    এদিকে শ্রমিকদের অবরোধ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক নতুন আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দিনাজপুর ট্রাক টার্মিনালের সকল টোল আদায় বন্ধ থাকবে। দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশপত্রে টোল আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

  • সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎচালিত ধান মাড়াই মেশিনে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের পাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাফর আলী পাইকা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জাফর আলী কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ঢোলভাঙ্গা বাজারে কাপড়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রোববার সকালের দিকে ধান মাড়াই করার জন্য মেশিনে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিচ্ছিলেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আতোয়ার রহমান বলেন, ‘ধান মাড়াই মেশিন চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলীর মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক।’

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়ে একটি ম্যাসেজ পেয়েছি। ঘটনাটি দেখা হচ্ছে।’

  • চৌগাছায় ১৪০পিচ ইয়াবাসহ আটক ২

    চৌগাছায় ১৪০পিচ ইয়াবাসহ আটক ২

    এম এ রহিম চৌগাছা

    যশোরের চৌগাছায় ১৪০ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদককারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলায় তাদেরকে আদালতে পাঠান হয়।

    থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পৌর শহরের চাঁদপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মারুফ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক মারুফ হোসেন চাঁদপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার রহমানের ছেলে।

    এ দিকে যশোর ডিবি পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা চাঁদপুর গ্রামে সাইফুল ইসলাম ফিকিরকে আটক করা হয়। পরে তার নিকট থেকে ৯০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফিকির পৌর এলাকার চানপুর গ্রামের আজিজ বক্সের ছেলে ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান শাহিন হত্যা মামলার আসামি।

    শনিবার দুপুরে আটক আসামিদেরকে আদালতে পাঠান হয়।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    শ্রীমঙ্গলে পৃথক স্থান থেকে ২ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৃথক দু’টি চা বাগানের পুকুর থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৯ মে) সকালে ও বিকেলে ওই দুই লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বিকেলে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির একটি পুকুর থেকে মো: আবেদ আলী (৫৮) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পূর্ব নওয়াগাও এলাকার মরহুম কমরউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কৃষক আবেদ আলী বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

    অন্যদিকে, একইদিন সকালে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের রামপাড়া এলাকায় অজয় হাজারার বাড়ির পুকুর থেকে মোহাম্মদ হোসেন (৫৪) নামে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হোসেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের খোজারকলা গ্রামের মরহুম শরবত আলীর ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পুকুরে এক ব্যক্তির পা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে জানালে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    একই দিনে পৃথক স্থান থেকে দু’টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফুসকুড়ি চা বাগানের পুকুর থেকে এক কৃষক এবং ভাড়াউড়া চা-বাগানের পুকুর থেকে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ওসি আরো জানান, উদ্ধার হওয়া লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    যিডিডেস্ক নিউজ,

    মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ কেজি গাঁজা, ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শনিবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৯টায় চেয়ারম্যান হাট মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মো. শাহাদাৎ হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাসনগাছা এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গার মোড়ল কান্দা এলাকায় বসবাস করেন।

    ওইদিন বিকেল ৪টায় উপজেলার চাঁনপট্টি এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি গাঁজা ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ মো. রুবেল খান (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

    পুলিশ আরও জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

    মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

    সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮)। কিন্তু তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে তার সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজের একদিন পর একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে রবিনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। নিহত রবিন উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমানের ছেলে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তার লাশ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

    রবিনের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত রবিনের শ্বশুর মো: রশিদ মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে রবিন শ্রমিকদের বেতনের হিসাব রাখার দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই কিছু সহকর্মীর সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তাকে হত্যা করে লাশ ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

    নিহতের বড় ভাই খোকন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কলিং ভিসায় রবিন মালয়েশিয়ায় যায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। রবিনের ১৫ বছরের ছেলে মিহাদ, পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসা ও মাত্র দুই বছরের ছোট ছেলে রোহানের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। স্বামীর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার।

  • সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেটে বিএনপি নেতার অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই, বিকাশ কর্মীসহ গ্রেফতার ৯

    সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় বিকাশ কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পেস্টে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

    গ্রেফতার নয়জন হলেন— দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) ও কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।

    এর মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান (৩৮), আবু তাহের (২৬) ও রুপায়ন বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।

    ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার (৮ মে) সকালে নিজ কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ৮২ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। এরপর দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল বিকাশের টাকা বহনকারী গাড়িটিকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা সকলকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনসহ একজনকে মারপিট করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

    সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোগলাবাজার থানা পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • ভালুকায় সিএনজি-অটো সংঘর্ষে শিশু নিহত

    ভালুকায় সিএনজি-অটো সংঘর্ষে শিশু নিহত

    ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরাইয়া আক্তার (১১ মাস) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি সনি খাতুন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী চৌরাস্তা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুরাইয়া আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট কড়ইতলা এলাকার ছমির উদ্দিনের মেয়ে। দুর্ঘটনার সময় শিশুটি তার দাদি সনি খাতুনের কোলে ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু সুরাইয়া আক্তার তার মা ও দাদির সাথে নানার বাড়ি উপজেলার উথুরা থেকে সিএনজিযোগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলি এলাকায় যাচ্ছিল। পথে ভরাডেবা-ঘাটাইল সড়কের ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাথে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দাদি সনি খাতুন ও তার কোলে থাকা শিশু সুরাইয়া আক্তার ছিটকে নিচে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুর দাদি সনি খাতুন গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

  • সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কম্পিউটার টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্তকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অফিসে বদলি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহাদাত ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। পরে তিনি ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে নিজের কাছে থাকা একটি নকল সিল শিক্ষার্থীদের রসিদে ব্যবহার করতেন। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে আশ্বস্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে জমা হতো শাহাদাতের পকেটে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের জালিয়াতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে নকল সিল ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল শাহাদাতের সিলের বানানে একটি অসংগতিতে সব রহস্য ফাঁস হয়ে যায়।

    জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা রয়েছে। কিন্তু শাহাদাতের তৈরিকৃত নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের এই অসংগতি একই দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

    সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অল্প সময়ে তার এই জালিয়াতি ধরা পড়ায় টাকার অঙ্ক বড় হয়নি। এছাড়া কেবল শাহাদাতের একার পক্ষে এত বড় জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। এর পেছনে দপ্তরের ভেতরে বা বাইরে কোনো প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশও থাকতে পারে।

    জানা গেছে, ঘটনা তদন্তে গত ৩০ এপ্রিল তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। এছাড়া রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সিল জালিয়াতির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, এক কর্মকর্তা আমাদের ব্যাংকের অফিসারকে মোবাইলে কয়েকটি রসিদের ছবি দেখাতে এসেছিলেন। তখন আমরা সেটি আমাদের সিল নয় বলে শনাক্ত করি।

    তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের সিল অত্যন্ত নিরাপত্তার সঙ্গে করা হয়। কারো পক্ষে সেটি নকল করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বাক্ষরগুলো চেক করলে জালিয়াতি করা হয়েছে কি না, সেটি সহজেই ধরা যায়। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছি।

    এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি কন্ট্রোলার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, এই মুহূর্তে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে আমরা তদন্ত কমিটির সদস্যরা বসেছিলাম।

    তদন্তের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে। ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার শেষে পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

    তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে। এখন শাহাদাত কতটুকু দোষী বা আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটা তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে জানা যাবে।

    এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহাদাতকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি অনলাইনে মেসেজ দিয়েও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • ভালুকায় অটোরিকশার চাপায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ভালুকায় অটোরিকশার চাপায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ময়মনসিংহের ভালুকায় স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু ফারহান আহমেদ শুক্রবার (৮ মে) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে ধামশুর মামারিশপুর সড়কে হালিমুন্নেছা চৌধুরানী বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় গুরুতর আহত হয় সে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশুর (উত্তর পাড়ার) গ্রামের লিটন আহমেদের ছেলে স্থানীয় হলিব্রাইড কিন্ডারগার্টেনের প্লে গ্রুপের ছাত্র ফারহান আহমেদ বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের সাথে হেঁটে তার স্কুলে যাচ্ছিলো। স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছলে শিশুটি মায়ের হাত ছেড়ে দৌড়ে স্কুলে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে ভালুকা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত শিশুর বাবা লিটন আহমেদের বন্ধু নাহিদ।

  • মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    মাদকের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর, বাধা দেওয়ায় দা নিয়ে বাবার ওপর হামলা

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাদকাসক্ত এক যুবকের হামলায় তাঁর বাবা ও স্ত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কালিহালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁর বাবাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

    অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইমামুল (৩০)। তিনি কালিহালা গ্রামের আবুল হাসেমের (৬০) ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও আবুল হাসেমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে আসছেন। মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি প্রায়ই তাঁর স্ত্রী, মা–বাবাসহ পরিবারের লোকজনের ওপর নির্যাতন চালান। গতকাল গভীর রাতে স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা চান ইমামুল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় ইমামুল।

    ওই সময় ইমামুলকে থামাতে যান তাঁর বাবা আবুল হাসেম। এ সময় হাসেমকেও মারধর করেন ইমামুল। পরে স্থানীয় লোকজন হাসেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

    আবুল হাসেম বলেন, ‘একটি ঘর থেকে দা এনে ইমামুল আমাকে কোপাতে চায়। প্রাণভয়ে আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে সে দরজা ভেঙে আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার হাতের আঙুল কেটে যায়। ইমামুলের কারণে আমরা পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ইমামুলের দুই শিশুসন্তান আছে। তার ভয়ে শিশুরা বেশির ভাগ সময় তাদের মামার বাড়িতে থাকে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে ইমামুল অটোরিকশাসহ জমিজমা অনেক কিছুই নষ্ট করেছে, এখন আমি নিঃস্ব।’
    এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমামুলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কলমাকান্দা থানার ওসি সিদ্দিক হোসেন।

  • শিবগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

    শিবগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

    সিঁধ কেটে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনে থাকা গয়নাও খুলে নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে ধরে ফেলে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে সেলিম ফকির (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) ভোরে উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সেলিম ফকির কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের পীলখঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে ছাতুয়া গ্রামের গোপাল চন্দ্রের বাড়িতে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এসে সেলিম ফকিরকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতার মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    গৃহকর্তার পুত্রবধূ পূর্ণিমা সাহা জানান, সিঁধ কেটে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রাখে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি তার পরনে থাকা গয়নাও খুলে নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে ধরে ফেলে।

    গৃহকর্তা গোপাল চন্দ্র জানান, তার বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও প্রায় সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে।

    শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, নিহত সেলিম ফকিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ, আটক ২

    চান্দিনায় নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ, আটক ২

    বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কুমিল্লার চান্দিনায় এক নারী উদ্যোক্তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৮ মে) ভোরে চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

    আটকরা হলেন— চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বাজার সংলগ্ন এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে গাড়ি চালক মো: রুবেল (২৮) ও একই এলাকার মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: জামাল (৪০)।

    ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে পার্লারের কাজ শিখে মহিচাইল বাজারে পার্লারের ব্যবসা করছেন। বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল ও জামাল তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্তসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    তাতেও ওই নারী কর্ণপাত না করায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে তারা ওই নারী উদ্যোক্তার বিউটি পার্লারে গিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং শ্লীলতাহানির ভিডিও মোবাইলফোনে ধারণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

    চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আমরা মামলা গ্রহণ করে বিশেষ অভিযানে পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও মর্যাদাহানির জন্য ভীতি প্রদর্শনসহ যৌন নিপীড়নের অপরাধে তাদের আটক করি। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

    শুক্রবার (৮ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর সদস্যরা মহেশখালী থানার ধলঘাটা নাছিরডেল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন মহেশখালী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ফজল কাদের বাহিনীর চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মহেশখালী থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফজল কাদের বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল।

    জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।নওগাঁর রাণীনগরে চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ওই মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে (৪০) গ্রেফতার করেছে।

    গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

    মামলার বরাত দিয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

    পরে ওই শিশু বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের বিষয়টি জানায়। এছাড়া শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর পরিবারের লোকজন থানায় এসে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার রাজ্জাককে শুক্রবার (৮ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনায় ঘুষ নিয়ে এসআই ও চোরাকারবারির দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল

    নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে (এসআই) চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

    জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

    স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন ওসি।

  • যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    যশোরের শার্শার নাভারণ এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ, উৎপাদনের তারিখবিহীন ও অনুমোদনহীন রং ব্যবহার করে তৈরি শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে বিসমিল্লাহ স্টোরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোরের সদস্যরা।

    ঠিকানা বিহীন একটি ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা এসব শিশু খাদ্য দীর্ঘদিন ধরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনিরাপদ শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়।

    ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা জানান, এসব খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুরা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।

    পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিল্লাল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৫ ধারায় আরো ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান।

    এ সময় শার্শা থানা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

  • ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমি জামিনে মুক্ত

    ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ইমি জামিনে মুক্ত

    মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে কারাগারে যাওয়ার ৬০ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি এবং পরবর্তীতে ঢাকসুর ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকাল ৩টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক থেকে তিনি বের হন। এর আগে জেল গেটে তার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে নিতে অপেক্ষায় ছিলেন।

    ইমি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় তিনি জামিন পান। আইনি জটিলতার কারণে সাতদিন পর মুক্ত হন তিনি।

    চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ভাষণ বাজানো কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাবি শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ ইমি ও আরেকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন রোববার আটক তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

  • ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    ফেসবুকে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে পোস্ট, এরপর নিখোঁজ ইউপি সদস্য

    পটুয়াখালীতে এক ইউপি সদস্য দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘উড়াল দেব আকাশে’ লিখে একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী থানায় জিডি করেছেন।

    নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি তাঁর স্ত্রী আফিয়া ঝুমুরকে (৩৪) নিয়ে পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগের প্রথম লেনে বসবাস করতেন। তিনি লোহালিয়া ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    শহিদুলের স্ত্রী আফিয়া ঝুমুর জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা একসঙ্গে খাবার খান। পরে শহিদুল ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি মুঠোফোনে স্ত্রীকে কল করে জানান, তাঁর মায়ের জন্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন। সেগুলো দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবেন এবং কাজ শেষে রাত ৯টা বা ১০টার মধ্যে শহরের বাসায় ফিরবেন। রাত নয়টার দিকে শহিদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তাঁর বড় বোন শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মুঠোফোন চার্জে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন। রাত গভীর হলেও তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন স্ত্রী আফিয়া সদর থানায় জিডি করেন।

    আফিয়া ঝুমুর আরও জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। স্বামীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।

    স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে এসে স্থানীয় বাবু নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে নেন শহিদুল ইসলাম। বাবু ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। পরে নিজের ব্যবহৃত দুটি ফোন চার্জে লাগিয়ে রেখে ঘর থেকে বের হন শহিদুল। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি ফোন দুটি রেখে বের হয়ে যান।

    মোটরসাইকেলচালক বাবু জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি শহিদুল ইসলামকে মোটরসাইকেলে করে লোহালিয়া সেতুর ঢালে পৌঁছে দেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনি শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘গতকাল বুধবার সকালে আফিয়া ঝুমুর নামে এক নারী তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় জিডি করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম লোহালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি নিজেই ফেসবুকে “উড়াল দেব আকাশে” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আমরা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করছি।’

  • শ্রীনগরে গাঁজা গাছসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে গাঁজা গাছসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাজা গাঁজা গাছসহ সাইফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ফৈনপুর পাঠান বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম ফৈনপুর দক্ষিণ পাড়ার কাঞ্চন পাঠানের ছেলে।

    জানা গেছে, সাইফুল বসতবাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগর খানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ছয়টি তাজা গাঁজ গাছ জব্দ করে।

    শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, মাদক মামলায় আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসাথে তার পরিচালিত একটি বেসরকারি চক্ষু ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার হাসদহ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল।

    অভিযানে ‘বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এতে না বুঝে প্রতারিত হতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

    অভিযানের সময় তাফহিমুল হোসাইনের কাছে বৈধ সনদপত্র, প্রশিক্ষণের প্রমাণ কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অন্য এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

    এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগ ছিল। অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এতোদিন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

    অভিযানে সহযোগিতা করেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    বুধবার সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সল্পলাড়ু গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    দেলদুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ভূয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

    ভূয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

    বহু বছর ধরে জাল সনদে শিক্ষকতা করে আসা শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের নেয়া টাকা ফেরত ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪৮৭ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে প্রাথমিকভাবে তাদের লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। কেনো এসব জাল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

    বুধবার এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি মাধ্যমিক ও শিক্ষার সব আঞ্চলিক উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের পাঠানোর হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৪৭১ জন জাল, ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৫’ অনুসারে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো ৪৭১ (মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন) জন জাল, ভুয়া সনদধারী তালিকাভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হেয়েছে।

  • বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্ত্রীকে উদ্ধার করা স্বামীরই একই কারণে মৃত্যু

    বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্ত্রীকে উদ্ধার করা স্বামীরই একই কারণে মৃত্যু

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসায় ডিস লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসমাইল হোসেন (৩২) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ আগে একইভাবে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আহত হন।

    সোমবার (৪ মে) রাত ৮টার দিকে পৌর এলাকার সেনেরখীল মোল্লা কোনায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আবদুল হক নামে তাদের এক প্রতিবেশী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল তার স্ত্রী রাবেয়া ও সন্তানদের নিয়ে সেনেরখীল গ্রামের মোল্লা কোনায় আবুল হাশেমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় রাবেয়া ডিস লাইন মেরামত করছিলেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক ইসমাইল তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    এর কিছুক্ষণ পর ইসমাইল ওই ডিস লাইনটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    মঙ্গলবার দুপুরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • কক্সবাজার থেকে খুলনায় ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার থেকে খুলনায় ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। তাঁর নাম আশিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

    আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকার শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বরের সামনে থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা–পুলিশ। আশিকুল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাবর আলী মুন্সীর ছেলে।

    বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আশিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানতে চাইলে খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) আনিসুজ্জামান আজ বিকেলে বলেন, ‘ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্য চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেছি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কনস্টেবল আশিকুল ছুটিতে ছিলেন নাকি দায়িত্বরত থাকাকালে চট্টগ্রাম এসেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    মঙ্গলবার (৫ মে) তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন জবি শিক্ষার্থী অনিক। এরপর অনিককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ভুক্তভোগী অনিক নিজে ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

  • চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৫ জন আটক

    চৌগাছায় আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৫ জন আটক

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন (৬২)। নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা খাল পাড়ার শওকত আলীর ছেলে গাঁজা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন (৫৮)। সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের আড়সিংড়ি পুকুরিয়া গ্রামের মৃত লুৎফর মন্ডলের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন (৩৮)। হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের তোরাপ হোসেনের ছেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী জালাল উদ্দিন (৫৭)এবং ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে দুখুকে (২৭) চোর সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, স্টোর রুমে রাখা ল্যাপটপসহ মালামালের ক্ষতি করতে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।

    আসমাউল ইসলাম নামে একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বোরকা পরে সেখানে আগুন দেয়। ওই আগুন দিতে তার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২ মে) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারসহ এসব তথ্য দেন।

    গ্রেফতার আসমাউল মাস্টাররোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অধিদপ্তরে কাজ করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন- স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস ও মাস্টাররোলে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মরত হুয়ামুন কবীর খান।

    গতকাল শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। সেখানে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল, যেগুলো মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলছে, আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ পুরোপুরি পুড়ে যায়। ২৯টির বেশির ভাগ অংশ এবং ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত ছিল।

    হিসাব অনুযায়ী বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের ‘হদিস মেলেনি’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোস্তাক বলেন, ‘আগুন দেওয়া’ আসমাউলের সঙ্গে সেখানে কর্মরত আরো দুইজনসহ অন্তত তিনজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

    “স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও মালামালের ক্ষতি করতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আগুনে প্রায় ২-৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

    ঘটনার পরপরই কাজ শুরুর ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

    মোস্তাক সরকার বলেন, “চিহ্নিত করার পর আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি, আসলে সে প্রকৃত জড়িত কি না। নিশ্চিত হওয়ার পরে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।”

    এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসমাউল তার সঙ্গে জড়িতদের আরো তিনজনের বিষয়ে তথ্য দেয়- যাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের কথা বলেন তিনি।

    “যে তথ্য পেয়েছি, হৃদয় নামে আরেকজন শনাক্ত হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান আছে।”

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল যে মোটিভ এবং পরিকল্পনায় তাদের বাইরে আর কেউ আছে কি না সেগুলো বের করতে কাজ করছি। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করব, আশা করি মূল মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা কিছু জিনিস বলেছে, এটা আরও যাচাই করতে হবে। অনেকগুলো বিষয় সামনে আছে। এটা একটা সরকারি ভবন, মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপগুলো রাখা ছিল, এই সময়ে কেন আগুন দেওয়া হল।

    “যে আগুন দিয়েছে সে ওখানেই চাকরি করে। অন্যান্য যারা আছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? জানতে পেরেছি, যে আগুন দিয়েছে তাকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল এ কাজটা করে দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সে বিভিন্ন জিনিস কিনেছে। এ তথ্যগুলো আছে, জিনিসগুলো উদ্ধারসহ অন্যান্য কাজগুলো করতে একটু সময় লাগবে।”

    তার ভাষ্য, “যেহেতু তদন্ত চলমান, সবগুলো বিষয় খোলাসা করে বলা যাবে না। তাতে তদন্তকাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।”

    ৮৩টি ল্যাপটপের হদিস না মিললেও সিসিটিভি ভিডিয়োতে সেখান থেকে কোনোকিছু সরানোর প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

    কার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত জানতে পেরেছি এ বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার পীর হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেপ্তার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৫৭) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা-পুলিশ। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফিলিপনগর পশ্চিম দক্ষিণ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম ও একই এলাকার নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আরিফুর ইসলাম। তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লব ও আলিফ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ফরজ আলী নামের একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শামিম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আজ সোমবার বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত (১১ এপ্রিল) শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টায় মারা যান তিনি। এই হামলায় দরবার শরীফে তার আরও তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

    পরে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ দিন পর এই প্রথম দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করল দৌলতপুর থানাপুলিশ।

  • পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পরীক্ষা শেষে অস্ত্রসহ ৬ শিক্ষার্থী আটক

    পটুয়াখালীর বাউফলে পরীক্ষাশেষে অস্ত্রসহ ছয় শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার ধানদী কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটককৃতরা হলেন, সিফাত (১৫), মো. মাসুম মৃধা, মো. সিহাব হোসেন, মো. মিয়াদ হোসেন, মো. হৃদয় হোসেন, ও নয়ন হোসেন।

    জানা যায়, অস্ত্রসহ আটক সিফাত উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষার্থী মো. মাসুম মৃধা ও মো. সিহাব হোসেন উপজেলার রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মো. মিয়াদ হোসেন, মো. নয়ন হোসেন ও মো. হৃদয় হোসেন বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

    কেন্দ্রের সুপার মাওলানা মো. নুরুল আমিন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মো. আ. রব জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আরবী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে খাতা দেখতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা শেষে রামনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড়ডালিমা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

    তারা জানান, বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর পূর্বে দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে সমঝোতাও হয়। তবে পরীক্ষা শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিবাদে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরী হয়।

    একপর্যায়ে পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পথে কেন্দ্রে দায়িত্বরত এসআই সিহাবের সহযোগিতায় অস্ত্রসহ পাশের ছোটডালিমা আব্দুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিফাতকে ব্যাগে বহন করা একটি কুড়ালসহ আটক করা হয়। এসময় পালিয়ে যায় সুইচ গিয়ার ও দেশীয় অস্ত্রসহ তার আরো কয়েক সহযোগী। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

    তারা আরও জানান, আটক সিফাতের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে সে বড়ডালিমা মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মিয়াদের ডাকে ব্যাগে কুড়াল নিয়ে এসেছে। মিয়াদ তার এলাকার বড় ভাই। পরীক্ষা শেষে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিল। তারই প্রস্তুতিতে সে কুড়াল নিয়ে আসে ও তার কয়েক সহোযোগি নিয়ে জটলা সৃষ্টি করে।

    এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আছি। আটক সবাই শিশু আইনে পড়ে। থানায় নিয়ে প্রভিশন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

    এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায়।

    হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকা লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো দিয়ে আসা হয়েছে।মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতাকর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যাচ্ছি।

    এ বিষয়ে হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চার ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ২টি

    চার ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ২টি

    পরিবেশ রক্ষা ও আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত এক অভিযানে একাধিক অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং দুটি ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম (সিনিয়র সহকারী সচিব)। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান।

    জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছিল। এতে আশপাশের কৃষিজমি, গাছপালা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করে।

    সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী এম বি বি ব্রিকস এবং মেসার্স ডি স্টার ব্রিকস নামের দুটি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এছাড়া এম বি বি ব্রিকস, মেসার্স ডি স্টার ব্রিকস, এস বি এস ব্রিকস এবং মেসার্স এম বি এস ব্রিকস এই চারটি ইটভাটার প্রতিটির বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, এসব ইটভাটা অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ব্যবহার করছিল, যা কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই সঙ্গে ইট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ বাড়িয়ে তুলছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    অভিযান চলাকালে দুটি ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের শিকার হওয়া এলাকাবাসী এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় পুরো অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

  • ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    ভুট্টাখেতে ‘পুলিশের পোশাক’, পাশেই পড়ে ছিল ছুরি

    নীলফামারীর ডিমলায় একটি ভুট্টাখেত থেকে পুলিশের ইউনিফর্মসদৃশ পোশাক, ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভুট্টাখেতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকেরা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পুলিশের পোশাক, সিমকার্ড ও ধারালো ছুরি।

    নির্জন স্থানে পুলিশের পোশাক ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, কোনো অপরাধী চক্র বড় ধরনের অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে বা অপরাধ শেষে এসব সরঞ্জাম এখানে ফেলে গেছে।

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই সরঞ্জামগুলো কোথা থেকে এল বা কারা এখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।

  • সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান

    সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান

    আগামী ৩০ এপ্রিলের পর থেকে সারা দেশে অনলাইনে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে সংসদ অধিবেশনে এক নোটিশের জবাবে এমনটা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর থেকে অনলাইন জুয়া ও মাদক এবং সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। যুব সমাজকে রক্ষায় এর কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-ঠিকানা বদলে আবারও কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    এ সময় যুবসমাজকে রক্ষায় দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    মুক্ত

  • চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরির রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি বিলকিস বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আরেক ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পাওয়া যায়।

    গত বছরের ১৩ অক্টোবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে বাসার মালিক জনৈক মো: ইবনুল আলম পলাশের বাসার কেয়ারটেকার মো: জাকিরের সাথে এক অজ্ঞাতনামা নারী গৃহকর্মীর কাজের জন্য দেখা করে। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং এনআইডি নিয়ে আসতে বলেন। পরদিন তিনি কাজে যোগ দিলেও এনআইডি আনেননি। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসার মালিকের বৃদ্ধা মা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে তার পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী।

    এ ঘটনায় ইবনুল আলম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি কয়েক মাস তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী মামলাটি তদন্ত করছেন।

    পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) তদন্ত দল কার্যক্রম চালাতে থাকে। এদিকে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় গৃহকর্মী কর্তৃক মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার আরেক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পায়।

    পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পূর্বের হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি বিলকিস বেগমকে (৪০) শনাক্ত করে শ্যেন অ্যারেস্ট মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে গত ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২ এপ্রিল তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেন।

    তার দেয়া তথ্যমতে পিবিআই’র অভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত শহরবানু নামে এক নারীকে পায় এবং জুয়েলারি দোকান খুঁজে পেয়ে চুরির স্বর্ণ বিক্রয়ের সত্যতা পায়।

    আসামি বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং শহরবানু ও জুয়েলারী ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।

    পিবিআই তদন্তে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামি বিলকিস কৌশলে পরিচয় গোপন করে ভিকটিমের ছেলের বাসায় বুয়ার চাকরি নেন। বাসার মালিক ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিতে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিম রওশনারা বেগমকে খাইয়ে অচেতন করে ভিকটিমের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিচিত শহরবানুর মাধ্যমে বিক্রয় করেন।

    এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘পিবিআই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রতিষ্ঠান। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আমরা বদ্ধপরিকর।