আইন-আদালত

  • দল হিসেবে আ.লীগের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

    দল হিসেবে আ.লীগের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান বলেছেন, নির্বাহী আদেশে এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছ। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ট্রাইবুনালে এ দলটির বিচার হবে। বিচার শেষে আদালতই রায় দিবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসাবে এ দেশে থাকবে কি না–।

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুক, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।

  • এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    রাজনীতি ডেস্ক:

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার বাদী জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

    এটি একটি পরিকল্পিত হামলা দাবি করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত যুগান্তরকে বলেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হঠাৎ বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা।

    এ ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা- হলেন মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

    এনসিপি নেতাকর্মীরা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে সমাবেশস্থলে আসেন। তারা পৌঁছানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উঠেন এবং অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ছিল। তাদের পেছনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা স্থানে সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাবিলা তাসনিমের বক্তব্য চলাকালে ওই স্থানেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

    বোমা হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। পরে তারা সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে এনসিপির নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

    সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমালোচনা করেন এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

    সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

  • লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৪ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা

    লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৪ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা

    যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ১৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৫ জুলাই) নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সামনে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ নামের একটি প্রচারাভিযানকারী সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ আইনের ১২ ধারায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যুক্তরাজ্যের এই আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনকে সমর্থনের আহ্বান জানানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩ বছর বয়সী অ্যাংলিকান যাজক ও দীর্ঘদিনের শান্তিকর্মী রেভারেন্ড সু পারফিটও রয়েছেন।

    ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ জানায়, ‘সেভিং লাইভস ইজ নট টেররিজম’ শীর্ষক প্রচারণার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এই প্রচারণা শুরুর পর থেকে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক আইনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, পুলিশকে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বানটি ব্যঙ্গাত্মক ছিল। তবে পুলিশ সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসবাদ আইনের ১২ ধারায় গ্রেফতার করেছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনপন্থি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের পরিবর্তে যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্যভিত্তিক কার্যক্রম তদন্ত করা।

    প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ ঘটনায় মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে খুন করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবার বলছে, শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। এরপর রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গে। বারুইপুরে টহল দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী।

    সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

    এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকায় এক যুবককে পিটিয়েও মারা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে ক্ষুব্ধ জনতার রোষেই তার মৃত্যু হয়।

    রোববার বারুইপুর থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী বারুইপুরে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোনো রকম সংঘাত ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই।

    ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর বোনটি (নির্যাতিতা কিশোরী) তার বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

    ‘রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। রোববার সকালে আমরা স্থানীয়দের থেকে খবর পেলাম। পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীকে আমরাই ধরে ফেলি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করি। তখনও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা দোষীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

    এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।

    বারুইপুরে ওই ঘটনার পরে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা সামনে এসেছে। জনরোষ সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

    এই ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত তিনটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলা কিশোরীকে খুনের ঘটনায়, একটি স্থানীয় জনগণ কর্তৃক পুলিশের ওপর হামলা ও অপরটি এক অভিযুক্তকে খুনের মামলা।

    শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পকসো ধারায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পুলিশের হাতে আসার পরে।

    যদিও প্রাথমিক রিপোর্টটিতে কী বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশকর্তারা।

    একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে সাজা নিশ্চিত করা হবে।

    অভিযুক্ত একজনকে রোববার গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়াও আরও দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। এখন মোট গ্রেফতারের সংখ্যা হলো তিন। অন্য তিনজন আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুর গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় রাতে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আছমত।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে আসামিরা বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

    মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

  • ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র ছাড়া ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জরিমানা করেন-ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজি্েস্ট্রট কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবনী বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন), যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক রাকিব ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার ‘তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ১৫ হাজার টাকা এবং নড়াগাতী থানার পাকুড়িয়া এলাকার ‘আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক ফারহানা লাজু জানান, ইউটিউব দেখে যন্ত্রপাতি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পানি বোতলজাত করছেন। তার স্বামী ফার্ণিচারের ব্যবসা করেন। আর ফারহানা লাজু বাড়িতে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ ও মুরগির খামার করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য এসব কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বোতলজাত করে কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।

  • নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু ধর্ষণ-হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পর ৬ জুলাই রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়— আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুটির সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

    ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’

  • স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বর্ণকার, রাজমিস্ত্রি, মাটিকাটা শ্রমিকের পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করেন তারা।

    রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানা গেছে, গ্রেফতারদের কেউ স্বর্ণকার, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউবা মাটিকাটা শ্রমিক। নিজেদের বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ডাকাতি করেন তারা। তাদের নামে নড়াইল, যশোর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট থানায় একাধিক চুরি এবং ডাকাতি মামলা রয়েছে।

    নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনের টানা অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন খুলনার তেরখাদা থানার নদীয়ারচর মধ্যপাড়ার জলিল মোল্লার ছেলে রাজমিস্ত্রী জাকির মোল্লা জেকের আলী (৪৮), একই গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে মাটিকাটা শ্রমিক দীন ইসলাম মোল্লা (৪২), খুলনার রুপসা থানার আইচগাতি কামারপাড়া ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ভূষণ করের ছেলে স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫), নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া তালুকদারপাড়ার সামছুল হক তালুকদারের ছেলে শ্রমিক জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া থানার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামের আইয়ুব আলী মৃধার ছেলে শ্রমিক পারভেজ মৃধা দারোগা (৩৬) এবং বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের সিয়ার উদ্দিন খাঁর ছেলে রাজমিস্ত্রি মফিজ খাঁ (৩৮)।

    গত ৮ জুন রাত ২টার দিকে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা মধ্যপাড়ার সালাহউদ্দীন খানের ঘরে প্রবেশ করে দেশী অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে ডাকাতদল। পরে সালাহউদ্দিন ও তার ছেলে আশিকুর রহমানকে গামছা দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় সালাহউদ্দীন নড়াগাতী থানায় মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশের একাধিক টিম গত তিনদিন ধরে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ডাকাত এবং ডাকাতি করা মালামাল ক্রয় করা একজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গলিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাকিরের নামে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধার নামে খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা, জাকির হোসেনের নামে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাতে তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরি, মফিজ খার নামে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে।

  • রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

    রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

    রাম জন্মভূমি মামলায় মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে পরিচিত সন্ন্যাসী সংগঠন নির্মোহী আখড়ার প্রধান মহন্ত দীনেন্দ্র দাস মন্তব্য করেছেন, ‘রামলালার (রাম) ঘরে চুরির ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।’ তিনি আরও বলেছেন, রামের ঘরে, অর্থাৎ রামমন্দিরে চুরির বিষয়টিই প্রমাণ করে যে রাবণ এরই মধ্যে অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    নির্মোহী আখড়া খিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ স্বীকৃত বৈষ্ণব বৈরাগী সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন হিন্দুধর্মীয় সন্ন্যাসী সংগঠন। এটি মূলত অযোধ্যা রাম জন্মভূমি বিবাদে মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে। অযোধ্যার আরও বেশি মানুষকে রামমন্দির ট্রাস্টের অংশ করা উচিত ছিল কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এর আগে দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ১৪ সদস্যের মধ্যে ৯ জনেরই আরএসএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মহন্ত দীনেন্দ্র দাস ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ ১৪ সদস্যের একজন। নির্মোহী আখড়া ছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মালিকানা বিরোধ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী পক্ষগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত সেই মামলার রায় হিন্দুপক্ষের অনুকূলে যায়।

    এর আগে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ট্রাস্টের বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল রাওয়ের সমালোচনা করেছিলেন দীনেন্দ্র দাস। তাঁর অভিযোগ ছিল, গোপাল রাও ‘রাজনীতি করছেন।’ ট্রাস্টে রুপার ইট বা অন্যান্য অলংকার উপহার দেওয়ার পর অনেকেই কোনো রসিদ পাননি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেন্দ্র দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিটি লেনদেনের হিসাব থাকা উচিত ছিল। এমনকি রামও সমাজের নিয়ম মেনে চলতেন। সে কারণেই তিনি বনবাসে গিয়েছিলেন। তাই যদি কোনো কিছু (আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে) গোপন রাখা হয়, তাহলে সেটাই চুরির শামিল।’

    রামমন্দিরের তহবিল চুরির এই ঘটনা রামমন্দির ও অযোধ্যা শহর, উভয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু চুরি ইতোমধ্যেই হয়েছে, তাই আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে—রাবণ সেখানে পৌঁছে গেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অনুসরণ করছেন। এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জেলে পাঠানো হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডও পেতে পারেন।’

    হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের প্রধান খলনায়ক এবং লঙ্কার (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) রাক্ষসরাজ ছিলেন রাবণ। তিনি ঋষি বিশ্রবা ও রাক্ষসী কৈকসীর পুত্র। দশ মাথা ও অসীম শক্তির অধিকারী এই রাজা ভগবান শিবের পরম ভক্ত, অত্যন্ত জ্ঞানী ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে হরণ করার কারণে রামের হাতে তিনি নিহত হন।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

  • সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সরকারি খাস (হালট) জমিতে নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এর আগে, সরকারি খাস জমিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণকাজে বাধা, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ এবং এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখল করে রাখার কারণে ওই এলাকার কৃষিজমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে নালা নির্মাণের কাজ শুরু হলে আনোয়ার হোসেন বাধা দেন।

    এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ওসি সজল সরকার বলেন, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এ,আর

  • দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

    দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান গ্রেফতার

    শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ফ্লিট অ্যাডমিরাল ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে দুর্নীতির অভিযোগে শুক্রবার (৩ জুলাই) গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলেকে যোগ্যতা ছাড়াই নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অবৈধভাবে সহায়তা করেছিলেন।

    ৭৩ বছর বয়সী ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন হেফাজতে নিয়েছে। ২০০৬ সালে যোগ্যতা ছাড়াই যোশিথা রাজাপাকসকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশক ধরে চলা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের অবসানের সময় কারান্নাগোদা নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে তাকে ফ্লিট অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে নৌবাহিনীতে তার কোনো সক্রিয় দায়িত্ব নেই।

    ৩৮ বছর বয়সী যোশিথা রাজাপাকসে গত মাসে সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ ডার্টমাউথ নৌ কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (ব্রাইবেরি কমিশন) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যোশিথা রাজাপাকসকে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ফ্লিট অ্যাডমিরাল দুর্নীতির অপরাধ করেছেন।’

    কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ব্রিটেন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ তরুণকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২১ সালের অক্টোবরে মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি ও আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ দমনের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের প্রশাসন পরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে।

    দিসানায়েকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজাপাকসে পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো নতুন গতি পেয়েছে।

    বিগত বছরগুলোতে রাজাপাকসে পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলার সবগুলোই এখনো আদালতে বিচারাধীন।

    ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার বাবা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একটি বাড়ি কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় যোশিথা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও চলছে।

    তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, তার বড় ফুফুর দেয়া মূল্যবান রত্ন বিক্রি করে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে তার সেই বড় ফুফু জানাতে পারেননি, তিনি কিভাবে ওই মূল্যবান রত্নগুলো পেয়েছিলেন।

    ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের বোমা হামলায় ২৭৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় কথিত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত মাসে তার চাচা গোটাবায়া রাজাপাকসের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

  • জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরসভা ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চারজন হলেন— সীমান্ত ইউনিয়নের বেনিপুরপুর গ্রামের বসুতিপাড়ার শফি উদ্দিনের ছেলে আল মামুন (৩০), কয়া গ্রামের মরহুম মোবারক মণ্ডলের ছেলে আহমদ আলী খোকা (৩৫), হরিহরনগর গ্রামের মরহুম মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩০) ও জীবননগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মরহুম মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ (৩০)।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ৩০ জুন রায় হয় জাসদ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে, এখানেই শেষ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে ২০১৩ সালে শাপলাচত্বরে যে হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তাতে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে হাসানুল হক ইনুর। এ মামলায় তাকেও আসামি করা হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গেল বছরের ২৬ নভেম্বর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থি মুসলিম রাষ্ট্র। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত যেকোনো অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাদের বাংলাদেশে আগমন ও পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান তিনি।

    রাষ্ট্রদূত আরও প্রস্তাব করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার আবেদন করলে যাচাইয়ের সুবিধার্থে সেই আবেদনের অনুলিপি ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো যেতে পারে।

    জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক পরিচালক (ইনচার্জ) ফুয়াদ হাসান পরাগ এবং ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রথম সচিব নূর এইচ ও আলাইদি উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক মামলার রায়ে ধরাশায়ী ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক মামলার রায়ে ধরাশায়ী ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি রায় ট্রাম্পের বিপক্ষে গেছে। মাত্র একটি রায় তাঁর পক্ষে এসেছে। পরদিন মঙ্গলবারও ট্রাম্পবিরোধী রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

    রায়গুলোয় যেসব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—স্বাধীন সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব, ভোটাধিকার ও যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত মামলা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে দেওয়া রায়। এর মধ্যে শুধু স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা বেড়েছে।

    স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ক্ষমতা বাড়ল

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে একটি রায় দিয়েছেন। এই রায় অনুযায়ী, স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্টকে আর কোনো কারণ দেখাতে হবে না।

    আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ডেমোক্র্যাট সদস্য রেবেকা স্লটারকে বরখাস্তে ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপটি বৈধ। একই সঙ্গে আদালত ১৯৩৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির বাতিল করেছে, যেখানে কংগ্রেসের এমন ক্ষমতা স্বীকৃত ছিল, যার মাধ্যমে কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানদের প্রেসিডেন্টের ইচ্ছেমতো অপসারণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যেত।

    ট্রাম্প গত বছর কোনো কারণ না দেখিয়েই স্লটারকে বরখাস্ত করেছিলেন। ধারণা করা হয়, নীতিগত বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তবে নিম্ন আদালতগুলো স্লটারের দাবির পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন করেছে।

    তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির মধ্যে ৬ জনই রায় দিয়েছেন, স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্টকে আর কোনো কারণ দেখাতে হবে না।

    আইনজীবী ব্রুস ফেইন আল-জাজিরাকে বলেন, এই রায়ের কারণে ‘নির্বাহী শাখার ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিজের ইচ্ছেমতো বরখাস্ত করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।’

    বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় নিজের রাজনৈতিক মিত্রদের বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই রায়কে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে এই রায় এসেছে, যখন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করাটা ‘সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন’।

    তবে সুপ্রিম কোর্টের উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেয়র ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ৯০ বছরের পরীক্ষিত ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা বাতিল করে এমন একটি অপরিণত নির্বাহী ক্ষমতার তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা একদিকে সর্বগ্রাসী, অন্যদিকে আবার কিছু অস্পষ্ট ব্যতিক্রমের ওপর নির্ভরশীল।’

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও এই রায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছেন এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন। তিনি চান, সেগুলো মার্কিন জনগণের পরিবর্তে তাঁর ও তাঁর ধনী মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করুক।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি

    ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নরকে বরখাস্তে বাধা

    সোমবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান লিসা কুককে পদ থেকে সরিয়ে দিতে ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগটি আটকে দিয়েছেন। আর এর মধ্য দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের স্বাধীনতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ফেডারেল রিজার্ভ একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। এর গভর্নরদের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট তাঁদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে।

    কুককে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রমাণহীন মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে কুক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সুদের হার কমানোর জন্য ট্রাম্পের চাপের বিপরীতে মুদ্রানীতি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণেই তাঁকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    ১৯১৩ সালে ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে কখনো ফেডারেল রিজার্ভের কোনো গভর্নরকে অপসারণের চেষ্টা করেননি।

    সোমবার দেওয়া রায়ে আদালত বিশেষভাবে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের দেওয়া মতামতে বলা হয়, ‘শুধু স্বাধীনতা থাকাই নয়, স্বাধীনতার দৃশ্যমান উপস্থিতিও ফেডারেল রিজার্ভের কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    আইনজীবী ব্রুস ফেইন বলেন, এর ফলে ‘ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মুদ্রানীতি প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের চেষ্টা স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

    কুক আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরোধিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কল্যাণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন কোনো অনিয়মকারী ব্যক্তি নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

    তবে এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন বা সরকার পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

    ডাকযোগে ভোট গণনার নিয়ম বহাল

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি অঙ্গরাজ্য আইন বহাল রেখেছে, যার আওতায় নির্বাচনের দিনের মধ্যে ডাকযোগে পাঠানো হলেও পরে পৌঁছানো ব্যালট গণনা করা যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এটি আরেকটি ধাক্কা।

    রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ওই আইনকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। ওই আইনে বলা হয়েছে, ব্যালট যদি নির্বাচনের দিনের মধ্যে ডাক বিভাগের সিলমোহর পায় এবং ভোটের পর পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছে যায়, তাহলে তা গণনা করা হবে। আদালত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেয়।

    এর মধ্য দিয়ে নিম্ন আদালতের একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালত বলেছিল, মিসিসিপির আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সেই ফেডারেল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন। তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, এই পদ্ধতিতে জালিয়াতির সুযোগ আছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে নিজের পরাজয়ের পেছনেও এটি ভূমিকা রেখেছিল বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প।

    চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে নিম্ন আদালত সেই আদেশ বাস্তবায়ন স্থগিত করে দিয়েছে।

    নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ভোটারদের অধিকারের জন্য ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসকে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট মিসিসিপির আইন বহাল রাখার পক্ষে ভোট দেন। তাঁরা আদালতের তিনজন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে একমত হন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ব্যাপক ক্ষমতা আছে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত লিখতে গিয়ে ব্যারেট বলেন, ‘ফেডারেল আইন নির্ধারণ করে যে কখন ভোট দিতে হবে, আর অঙ্গরাজ্যের আইন নির্ধারণ করে কখন সেই ভোটপত্র গ্রহণ করা হবে।’

    সাধারণত ডেমোক্র্যাট ভোটাররা রিপাবলিকানদের তুলনায় ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বেশি ব্যবহার করেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই পদ্ধতির ব্যবহার আরও বেড়ে যায়। ট্রাম্প নিজেও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

    বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে আছে, বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তারা ট্রাম্পের নীতিগত কর্মসূচি আটকে দিতে পারে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে আবারও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়ারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে দুবার অভিশংসিত হয়েছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতিছবি

    ট্রাম্পের যৌন নিপীড়ন মামলার রায় বহাল

    ২০২৩ সালের ৯ মে ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল দেওয়ানি আদালত রায় দেন, ট্রাম্প ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে কলাম লেখক ই. জ্যঁ ক্যারলের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। আদালত এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেন। তাঁকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। সেই রায় পুনর্বিবেচনা করতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

    এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আশ্চর্যজনকভাবে, সুপ্রিম কোর্ট আমার বিরুদ্ধে আনা একটি ভুয়া মামলার রায় পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মামলাটি এমন একজন নারীর করা, যাঁর সঙ্গে আমার কখনো পরিচয় ছিল না। (কয়েক দশক আগে কোনো অনুষ্ঠানে তাঁর স্বামীসহ আমার পাশে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি আমাদের পরিচয়ের প্রমাণ হতে পারে না।)’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পরিচালিত এই মামলার বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব। এর মধ্যে মানহানির অভিযোগের মতো হাস্যকর দাবিগুলোর বিরুদ্ধেও আমি সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব।’

    ক্যারল ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি বইয়ে লিখেছিলেন, ২৩ বছর আগে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন।

    এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ক্যারলকে ‘পাগলাটে নারী’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্যারলের দাবি ছিল, এই মন্তব্য তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি মানহানিকর।

    ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজকের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে, জুরির সর্বসম্মত রায় অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ক্যারলের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন।’

    ক্যারল আরও বলেন, ‘এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের একাধিক আপিলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আজকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টারও অবসান ঘটল।’

    জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব

    গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রেখেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব মানুষই দেশটির নাগরিকত্ব পাবেন। আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী প্রধান একটি এজেন্ডা বড় ধাক্কা খেল।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন সেটির উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী এবং সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

    তবে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এ নির্বাহী আদেশটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী।

    রবার্টস লিখেছেন, ‘তখন এবং এখন-সব সময়ই নাগরিকত্ব হলো অধিকার পাওয়ার অধিকার, যার মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক কমিউনিটিতে স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়া যায়। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’

    দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল দেওয়া রায়ে বিচারকেরা নাগরিকত্ব বলতে আসলে কী বোঝায়, তা পরিষ্কার করতে ইতিহাসের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন কীভাবে ইংল্যান্ডের পুরোনো আইন থেকে শুরু করে দাসপ্রথার অবসান এবং পরে চীনাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার মতো ঘটনাগুলো ঘটেছিল।

    প্রধান বিচারপতি রবার্টস লিখেছেন, ১৮৫৭ সালের ‘ড্রেড স্কট’ মামলার রায়টি ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য। কারণ, সেই রায়ে কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে বলা হয়েছিল, নাগরিকত্ব ঠিক হবে রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে, দেশের মাটির ভিত্তিতে নয় (অর্থাৎ মা-বাবা যে দেশের নাগরিক, সন্তান শুধু সে দেশেরই নাগরিক হবে, জন্ম যেখানেই হোক না কেন)। পরে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এনে ওই ভুল নিয়মটি বদলে দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ও ‘যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া সবার’ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।

    সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা রায়ে পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘কোনো মা-বাবা যদি অবৈধভাবে বা সাময়িক সময়ের জন্য (যেমন পর্যটন বা শিক্ষার্থী ভিসায়) যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, আর সেই সময়ে তাঁদের কোনো সন্তান এ দেশে জন্ম নেয়, তবে সেই শিশুও জন্মসূত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক হবে।’

  • চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউএনওর সংবাদ সম্মেলন

    চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউএনওর সংবাদ সম্মেলন

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রার সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা-কক্সবাজার বিমানের তিনটি টিকিট ও তিন রাতের হোটেলের কক্ষ বুকিং অথবা নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়েও তিনি কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রার পরিচয়ে শাহিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি প্রথমে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য বিমানের তিনটি টিকিট এবং পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য দাবি করেন। তাতে মো. সাইফুল ইসলাম রাজী না হলে পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন শাহিন মিয়া। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হেয় করার হুমকি দেয় শাহিন মিয়া। পরে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শাহিন মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেনের যোগসাজশে তাকে জড়িয়ে জমি নিবন্ধনের এক শতাংশ তহবিলের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেই। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের এস্টিমেটে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বরাদ্দকৃত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্পে ব্যয় করেন। পরবর্তীতে সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ, লেনদেন এবং সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়মানুগ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য নিরীক্ষা করেন। কাজেই কোনো প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাতের সুযোগ ইউএনও, উপজেলা প্রকৌশলী কিংবা উপজেলা পরিষদের নেই।

    সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।

    উল্লেখ- জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। যা প্রকল্পের তথ্য নিয়মিতভাবে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির একটি আপিল আবেদন ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি না করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে এই আপিল দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস এই আপিলের ওপর আপত্তি তুলে তা ফেরত পাঠায়।

    রেজিস্ট্রার অফিসের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার সুপ্রিম কোর্টে নয়, বরং ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে (এফসিসি) হওয়া উচিত। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবী সালমান সাফদার এই আপত্তির বিরোধিতা করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, সংবিধানের ১৮৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্সের ৩২এ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফসিসিতে দ্বিতীয় আপিলের বিধান রয়েছে। তবে জামিন বা সাজা স্থগিতের আবেদনের আদেশের বিরুদ্ধে এফসিসিতে আপিল করার কোনো স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা এনএও-তে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অনুপস্থিতিতে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম হলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

    এর আগে মে মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সাজা স্থগিতের আবেদনটি এই যুক্তিতে নিষ্পত্তি করে দেয় যে মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় আলাদাভাবে সাজা স্থগিতের আবেদন বিবেচনার যৌক্তিকতা নেই।

    দায়ের করা এই আপিলে ইমরান খান উল্লেখ করেছেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি রাখা অন্যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাজা স্থগিতের আবেদনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে।

  • জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

    জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

    জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডসহ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিত ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। রায় ঘোষণা বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। গত ২২ জুন রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।গত ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী পার্টনার ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ ও ৪ আগস্ট তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। সেই সব কথাবার্তার মধ্য দিয়ে কারফিউ জারি এবং জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো—এসব বিষয় তার কথোপকথনের মধ্যে ছিল।’

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি এবং কথোপকথনের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবেই এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি যে, জনাব ইনু সাহেব একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপরে নিপীড়ন চালানোর জন্য নানা কৌশল বা নানা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার ফলে বহু লোকের জীবনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

    গত ২ এপ্রিল ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। টানা ৯ কার্য দিবস যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন তিনি। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

    গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১০ জন সাক্ষী ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেন। গত ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

  • হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) ভোরে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুপুরে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার বাছির উদ্দিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো: আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার বাছির উদ্দিন রুবেল হত্যা, সাব্বির হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

  • অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

    দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত সবুজ বন এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির এ সাম্রাজ্যে চলে লাখ লাখ টাকার কারবার। আর ওই সাম্রাজ্যের অঘোষিত রাজা যেন বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান। বনের সিংহভাগ দুর্নীতির নিয়ন্ত্রকও তিনি।অভিযোগ আছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলে তার রাজত্ব। একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর চাকরি করলেও রহস্যজনক কারণে বদলি করা হচ্ছে না তাকে। অথচ, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার বদলির সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগেই।

    বনের দুর্নীতির সাম্রাজ্যের সঙ্গে রওসান হাছান ছাড়াও বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হওয়া উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির দাপটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। বন ও অর্থখেকো কর্তাদের জুলুম-নির্যাতনে অসহায় সাধারণ মানুষ। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চরহাদীতে এক বিট কর্মকর্তার চাহিদামতো ১২ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ছয়টি মহিষ আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন সুমন হাওলাদার নামে এক রাখাল। আলোচিত সে ঘটনার পরও কর্মকর্তাদের মনের বনে রয়ে গেছে দুর্নীতির শেকড়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চরহায়দার, লালচর, চরআলগা, চরহাদি ও চরশাহজালালে বন বিভাগের সামাজিক বনাঞ্চল রয়েছে। বন বিভাগ সূত্র বলছে, চরগুলোতে ২০ হাজার একর বন বিভাগের জমি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮২১ একর বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশাল বনাঞ্চল ও জমি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রভাবশালীদের বনের গাছ ও মাটি কেটে খালে বাঁধের পর বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পরবর্তী বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকায় লিখিত-অলিখিত বিট দেওয়া হয় চরাঞ্চল। সেইসঙ্গে বনের খালে ঝাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুসের কারবার করা হচ্ছে।

    এছাড়া গোপনে বনের গাছ বিক্রি ও বন বিভাগের জমিতে মহিষ চড়ানোর অনুমোতি দিয়ে মাসিক ও বার্ষিক কিস্তিতে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে রাখালদের থেকে। নারকেল গাছের ডাব বিক্রি করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অত্যাচার, হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

    মো. অহিদুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর চরের খালে বাঁধ দিতে নিষেধ করেছেন। তারপরও টাকা নিয়ে বন বিভাগ খালে বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় প্রভাবশালীদের। গণঅধিকার পরিষদের নেতা হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বন বিভাগ।’

    তিনি বন বিভাগের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। সহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘তাদের শতাধিক মহিষ রয়েছে। বছরে প্রত্যেকটি মহিষের জন্য বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের লোকজনকে দুই হাজার করে টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে খালে বাঁধ দেওয়া হয়।’

    হাসান সরদার নামে অন্য একজন বলেন, বন বিভাগের লোকজন চরে লাখ লাখ টাকার কারবার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান যুগান্তরকে বলেন, তিনি চরফাতেমা, চরআলগা ও চরহায়দারের দায়িত্বে আছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার কোনো দুর্নীতির সাম্রাজ্য নেই এবং তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

    উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রওসান হাছান দুর্নীতির গডফাদার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালে বাঁধ দেওয়া হলেও এখন সে সুযোগ নেই। বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যায় করেছেন কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।

    এ এম

  • মোদির যোগব্যায়ামে  সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়,হাইকোর্ট

    মোদির যোগব্যায়ামে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়,হাইকোর্ট

    কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিত থাকতে হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।

    ভারতের প্রাচীন যোগব্যায়ামকে দেশের ভেতরে ও বাইরে জনপ্রিয় করতে ক্ষমতায় আসার পরেই বড় ভূমিকা নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী রোববার (২১ জুন) বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস। প্রতিবারই এই দিনে প্রকাশ্যে যোগ চর্চা করেন মোদি। ভারতের প্রচারমাধ্যম বড় করে তা প্রচার করে।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার কলকাতার প্রধান সড়ক রেড রোড সাত দিন বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে যোগব্যায়ামের পরিকল্পনা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। জলে ও স্থলে দুই জায়গাতেই যোগব্যায়ামের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এ কারণেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।

    বিজ্ঞপ্তিটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় বামফ্রন্টের সরকারি কর্মচারী সমিতি। আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিপিআইএম দলের সাবেক সংসদ সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণের জন্য সরকার নির্দেশ দিতে পারে না।

    বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘আমি যা করতে পছন্দ করি না, সরকার আমাকে তা করার নির্দেশ দিতে পারে না। এটি ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।’ আদালত যখন মন্তব্য করেন, যোগব্যায়াম যেকোনো জায়গায় করা যেতে পারে।। তখন প্রবীণ আইনজীবী উত্তর দেন, ‘আমি মোটেও এটি করতে চাই না।’

    রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মচারীদের কেবল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রেড রোডের যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানে বৃহত্তম অংশগ্রহণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়া।

    বিল্বদল বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি কেবলই একটি আবেদন ছিল এবং যাঁরা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

    রাজ্য সরকারের এই বক্তব্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি নির্দেশটি যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য কর্মচারীদের প্রতি একটি সাধারণ আবেদন মাত্র, এটি বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত কারণে কেউ উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি।

    আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের এখন যোগব্যায়ামের অনুষ্ঠানে না গেলেও চলবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে বিজেপির জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

  • সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

    সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে একাধিক. সন্তানের মধ্যে কোনো একজনের প্রতি বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করাও অন্যদের ওপর এক ধরনের অবিচার করা। আবার যেমন সাধারণ দান বা কারো জন্য জায়গাজমি, সম্পদ ইত্যাদি ভাগবাটোয়ারা ও বণ্টনে বে-ইনসাফি করা, কারো প্রতি বেশি টান অনুভব করে কমবেশি করা-এসবই হলো, জুলুম ও অবিচার। এজন্য জরুরি হচ্ছে, কাউকে কিছু হিবা-দান বা দেওয়ার ইচ্ছা হলে, সর্বোচ্চ ইনসাফ কায়েম করা এবং সাধ্যমতো সবার জন্য সমবন্টন করা জরুরি!

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়ে যায় (মাতার লক্ষণ দেখা যায় কারো মধ্যে বা দ্রুত মৃত্যু হবে এমন অবস্থা তৈরি হয়), আর যে যদি কল্যাণকর কোনো ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য ইনসাফের সঙ্গে পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য ওনিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো। (সুরা বাকারা: ১৮০)এ আয়াতের তাফসির সম্পর্কে মাআরেফুল কোরআনে এসেছে, যদিও ও ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার বিষয়ে এ আয়াতটি (সুরা নিসার ৭নং আয়াত ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের জন্য যেমন নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও তেমনি অংশ রয়েছে; হোক তা অল্প বা বেশি-এটি একটি নির্ধারিত অংশ’) দ্বারা এ-জাতীয় ওসিয়তের বিধান রহিত হয়ে গেছে। একইভাবে তাফসিরে জাসসাস ও কুরত্ববিতে এসেছে, মিরাস-উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াত আত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করাকে রহিত করে দিয়েছে। এমনকি বিদায় হজের ‘ঘোষণায় রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক হকদারের হকপ্রাপ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই এখন থেকে কোনো ওসিয়তকারীর জন্য তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারের জন্য ওসিয়ত করা জায়েজ নয়। (জামে তিরমিজি)

    সাহাবি নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার বাবা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আমরাহ বিনতে রাওয়াহা (রা.) বললেন, আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রাসুল (সা.)-কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবীজির (সা.) কাছে এলেন। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি কি এমন কাজ তোমার অন্য সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো। তখন আমার পিতা চলে এলেন এবং তিনি তার যে দান ফিরিয়ে নেন। (মুসলিম)

    মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজির কাছে যখন এ বিষয়ে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্য আসা হলো, তখন নবীজি (সা.) বললেন, এছাড়া তোমার কি আর কোনো পুত্র আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবীজি বললেন, তুমি কি তাদের সকলকে এমন (এই একই সমপরিমাণে) দান করেছ? (এর উত্তরে) যখন বলা হলো, না। তখন নবীজি বললেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি জুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সবাইকে সমবন্টন করে না দেওয়ার কারণে নবীজি স্বয়ং সাক্ষী তো হলেনই না। বরং, এমন আচরণকে জুলুম অবিচার হিসাবে আখ্যায়িত করলেন। আরেক বর্ণনায় আরো একটু বর্ধিত বিবরণ এসেছে। নবীজি বললেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা (তোমার সব ছেলে) সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে এমন করো না। (অর্থাৎ, একজনকে কিছু (বেশি বা সাধ্যের মধ্যে) দান করে, অপরকে বঞ্চিত করো না। (মুসলিম)

    শেষোক্ত বর্ণনাটি থেকে এ বিষয়টিই বুঝে আসে

    যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই কর্তব্য হচ্ছে, আমরা যদি আমাদের সন্তানদের থেকে সদ্ব্যবহার কামনা করি, তবে তাদের সবার প্রতি ইনসাফ বজায় রাখাও জরুরি। নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আজকাল আমাদের সমাজে এ-জাতীয় আচরণও প্রকাশ পাচ্ছে, অনেকেই তাদের আপন সন্তানের মধ্যে কারো প্রতি বেশি আবেগ ভালোবাসার কারণে, কিংবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়েন। ফলে ওই সন্তানের প্রতি বা তার ছেলেমেয়ের প্রতিও লালন করেন অগাধ ভালোবাসা। এমন আচরণ কখনো কাম্য নয় কারো থেকেই! এর ফলে অনেক সময় বাকি সন্তানরা রাগ-অভিমান করে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কেউবা মা-বাবার প্রতি অযত্ন-অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন করে। এটিও কোনোভাবে কাম্য নয়। এমনকি বাবা-মায়ের এমন আচরণের কারণে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়াও বিধিসম্মত নয় কখনোই।

    লেখক: শিক্ষার্থী, শ্রীপুর ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা, শ্রীপুর, গাজীপুর

    এ এম

  • রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট:কি  বলছে সিআইডি

    রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট:কি বলছে সিআইডি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আইনি মতামতের জন্য ওই খসড়া অভিযোগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যায়।

    দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করার কথা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ‘মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

    শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সম্প্রতি গণমাধ্যমে রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সিআইডির নজরে এসেছে। তবে খসড়া চার্জশিট বা সংশ্লিষ্ট কোনও তথ্য সিআইডির কোনও কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে দেননি।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য দেওয়া হয়নি।

    সিআইডি আরও জানায়, এ ধরনের সংবেদনশীল মামলার তথ্য প্রকাশে সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত। তদন্ত শেষ হলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

    সংস্থাটি পেশাদারত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে বলেও জানানো হয়েছে।

  • উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা

    ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডে জনৈক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মামুনকে (২৫) রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করেছে মো. শামিম নামে এক যুবক।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে মামুনের পরিববার জানায়, আহত কলেজ ছাত্র মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসেবা দেওয়া হয়।

    আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়মানিকা ১নং ওয়ার্ডের জনৈক এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন পাশের এলাকা কুড়ালিয়া ৪নং ওয়ার্ডের মো. রুহুল আমিন বাড়ইয়ের ছেলে মো. শামিম। ওই স্কুলছাত্রী ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মামুনের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে হওয়ায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন।

    ওই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন পর মামুনকে একা পেয়ে শামীম রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী কায়দায় রড দিয়ে পিটিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। আহত শিক্ষার্থী মামনুকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসা শেষে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

    মামুন বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এ হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপার আহত কলেজছাত্র মো. মামুন বলেন, পাশের এলাকার শামীম আমাদের বাড়ির ওপর ভাতিজি স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। ওই ঘটনায় মেয়ের ভাইয়ের সাথে আমি প্রতিবাদ করি। ওই সময় ছেলেটি স্কুলছাত্রীকে আর বিরক্ত করবে না বলে পারিবারিকভাবে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ঘটনার সমাধান হয়। এ ঘটনার জের ধরে মো. শামীম বাড়ইসহ অনেকে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য বুধবার রাতে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।

    আহত মামুন আরও বলেন, আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

    এ ব্যাপার হামলাকারী শামীমের ভাই আব্দুস সালাম জানান, আমি ঢাকায় আছি। আমার ভাইকে আগে মারধর করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পারিবারিক এ ঘটনায় মীমাংসের চেষ্টা করছি।

    এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • চৌগাছার দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায় আজ বিচার শুরু

    চৌগাছার দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায় আজ বিচার শুরু

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিচার শুরু হচ্ছে আজ।

    মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হবে।এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    এর আগে গত ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ১ জুন প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করে।

    এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

    আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

    আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সাথে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

    এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।

    গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এই নবজাতকদের নামও রাখা হয়নি। ফলে তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।

    ঘটনা তদন্তে দ্রুত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।

    ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

  • গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গ্রেপ্তার

    গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

    এ এম

  • সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবদল নেতা বহিষ্কার

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল কাশেম সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকার আড়িয়াডাংগী গ্রামের নিজামুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি।

    গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীকে গ্রেপ্তার দাবিতে রোববার অভিযুক্তের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয়রা।

    এদিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। রোববার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

    আতাইকুলা থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

    পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।

    তিনজন হলেন- সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।

    পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • ভাইয়ের করা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

    ভাইয়ের করা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

    পৈতৃক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে ভাইয়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। বাদী শাহ নেওয়াজ আহাম্মদের অভিযোগ, অভিযুক্ত তুরিন আফরোজ প্রভাব খাটিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন।

    অভিযোগে বলা হয়, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তুরিন আফরোজ জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া হলফনামা তৈরি করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। এ ছাড়া তিনি প্রভাব খাটিয়ে বাদীর মায়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে যান বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তুরিন আফরোজ বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, যার ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের কারণে বাদীর মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল মাহমুদ রায়হান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

  • স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূর আত্মহত্যা

    স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূর আত্মহত্যা

    যশোরের চৌগাছায় স্বামীকে লাইভে রেখে নববধূ শেফা (১৮) গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চৌগাছা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকার মুজিবুল ইসলামের মেয়ে ও উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের মিন্টুর ছেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ ওরফে সেতুর স্ত্রী।

    রোববার রাতে চৌগাছা পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেতুর চৌগাছা শহরে আকবর মার্কেটে বেস্ট ওয়ান নামে একটি কাপড়ের দোকান আছে।

    শেফার পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই মাস পূর্বে সেতু ও শেফার বিবাহ হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সেতু ও তার পরিবার প্রথমে ব্যবসা করার জন্য এবং পরবর্তীতে বিদেশ যাওয়ার জন্য শেফার পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। শেফার পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে টর্চার করতে থাকে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে রোববার রাতে তার স্বামী সেতুকে লাইভে রেখে শেফা তার পিতার বাড়িতে গলায় রশি দেয় । পরিবারের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সবার একই কথা মেয়েটার হাতের মেহেদি শোকানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • পিতামাতার ভরণপোষণ : আইন ও নৈতিকতা

    পিতামাতার ভরণপোষণ : আইন ও নৈতিকতা

    সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের এক ফ্ল্যাটে একাকী বসবাসরত এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে এসেছে। বৃদ্ধ ও অসহায় পিতামাতার ভরণপোষণ সন্তানের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে বলতে হয়, অনেক সন্তানই এ দায়িত্ব পালন করেন না। শিক্ষিতদের মধ্যে এ প্রবণতা একটু বেশি দেখা যায়। শিক্ষিত ও উপযুক্ত সন্তান থাকার পরও অনেক অসহায় বাবা-মাকে আশ্রয় নিতে দেখা যায় বৃদ্ধাশ্রমে। উপার্জনক্ষম সন্তান থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতাকে যদি বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাতে হয়, এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ও নিষ্ঠুর আর কিছু হতে পারে না। প্রত্যেক সন্তানেরই উচিত বৃদ্ধ পিতামাতার দেখাশোনা ও ভরণপোষণ করা এবং তাদের সঙ্গ দেওয়া।আমরা জানি, বৃদ্ধ বয়সে যাতে সন্তানের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার না হন, সেজন্য পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ গৃহীত হয়েছে। কোনো সন্তান যদি বৃদ্ধ পিতামাতাকে বাধ্য করে বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও বসবাস করতে অথবা কোনো সন্তান যদি পিতামাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন।

    পিতামাতার ভরণপোষণের আইনটি একটি জনকল্যাণকর আইন। এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো। কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসংগত কারণে পিতামাতার ভরণপোষণ না করেন, তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।

    কোনো সন্তান পিতামাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তানকেই তাদের পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। পিতামাতা একত্রে বা আলাদা বসবাস করলে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতামাতা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন, তাহলে তারা নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ দেবে।

    আইনটি শুধু পিতামাতার ভরণপোষণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এতে পিতামাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণপোষণের ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে পিতামাতার মতো ভরণপোষণ দিতে হবে।

    আইনে কেউ অপরাধ করলে তা অবশ্যই আমলযোগ্য। এ আইনের অধীনে করা মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে। অপরাধের অভিযোগ দায়ের ও বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। অপরাধের লিখিত অভিযোগ পিতামাতাকেই করতে হবে। অন্যথায় আদালত তা গ্র্রহণ করবেন না। আদালত সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আপস নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা মেম্বার বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রেরণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উভয়পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে তবেই নিষ্পত্তি করতে হবে এবং তখনই তা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে।

    আইনে ভরণপোষণ অর্থ-ক. খাওয়া-দাওয়া; খ. বস্ত্র; গ. চিকিৎসা; ঘ. বসবাসের সুযোগ-সুবিধা এবং সঙ্গ দেওয়া। এ আইনের ৩ ধারা মতে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে নিজেরা আলোচনা করে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধারায় আরও উল্লেখ আছে, সন্তানকে পিতামাতার সঙ্গে এবং একই স্থানে বসবাস করতে হবে। পিতামাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কোনো বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে একত্রে বা আলাদা বসবাস করতে বাধ্য করা যাবে না। প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান ও পরিচর্যা করতে হবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে সন্তান থেকে পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। পিতামাতা সন্তানদের থেকে পৃথক বসবাস করলে সন্তান মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, ক্ষেত্রমতে উভয়কে দিতে হবে।

    এ আইনের ৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, সন্তান পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে ভরণপোষণ করবে। এ আইনের ৫ ধারা মোতাবেক পিতামাতার ভরণপোষণ না করলে অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৫(২) ধারা মোতাবেক, কোনো সন্তানের স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে স্বামী, পুত্র, কন্যা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় ব্যক্তি পিতামাতা বা দাদা-দাদি বা নানা-নানির ভরণপোষণ করতে বাধা দিলে বা অসহযোগিতা করলে তিনি অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং ওই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    আইনের ৭ ধারা মোতাবেক, পিতামাতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এ অপরাধের জন্য মামলা করা যাবে। আইনে আপস মীমাংসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের চেয়াম্যান, মেম্বার, কমিশনারদের আপস করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ আপস মীমাংসা আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান আইনে রাখা হয়েছে।

    মা-বাবা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব কার ওপর অর্পিত হবে, তা একটি যুক্তিসংগত প্রশ্ন। এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এ আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। তবে প্রশ্নটি শুধু আইনগত নয়, নৈতিকতারও। কার্যত সব পিতামাতাই সন্তানের মঙ্গল চান। কোনো পিতামাতাই সন্তানের বিরুদ্ধে যেতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি সন্তানের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করে, তাহলে সন্তানের বিরুদ্ধে না গিয়ে উপায় থাকে না। অনেক সন্তান পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য করে। আবার কোনো সন্তান যদি পিতামাতার ভরণপোষণ না করে, তাহলে পিতামাতা এ আইনের মাধ্যমে ভরণপোষণের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন।

    এ এম

  • চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    চেক ডিজঅনার মামলায় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কারাগারে

    রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনকে চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ (বদরগঞ্জ)-এর বিচারক সোহেল রানা তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শামীম আল মামুন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন।

    রংপুর জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, ৫ অক্টোবর শামীম আল মামুন, জিকরুল হক ও হাদিজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন একই উপজেলার দক্ষিণ বাওচন্ডির মো: ফয়সাল হক। শিক্ষা অধিদফতরের এসএস ডিপি প্রকল্পে চাকরি দেয়ার নামে চেকের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

    মামলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের প্রার্থনা করেন শামীম আল মামুন। বিচারক শুনানি শেষে শামীম আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শামীম আল মামুন বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং বিএনপির পেশাজীবী ফোরাম জিয়া পরিষদের বদরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্র থেকে জানা যায়, তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ভুয়া নাম, রোল ও ঠিকানা ব্যবহার করে এবং জাল সনদ দিয়ে ২০১১ সালের ১৩ জুলাই বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরি নেন শামীম আল মামুন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

    কারাগারে যাওয়ার বিষয়ে বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভুপেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আর আদালতের ওপরে কারো কিছু করার নেই। সে যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে এটা তার নিজের বিষয়। এতে আমাদের করণীয় কিছু নেই। তবে কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৩ জনের মৃত্যু

    নিউজ,

    রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রোববার (৩১ মে) রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মরহুম তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), ওই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মরহুম মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মরহুম কফুর উদ্দিনের ছেলে মো: সাজু মিয়া (৫৫)।

    এছাড়া বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মরহুম সুলতান আলীর ছেলে মো: এরশাদ মিয়া (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি একসাথে অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান এবং ধীরে ধীরে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে রাতেই দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজুর আলীর মৃত্যু হয়।

    ছাত্তার মিয়া নামের অপর একজনের কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে রাখা হয়। এছাড়া আজ সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: সাজু মিয়া নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: মাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের মূলত অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ যাতে ময়নাতদন্ত করাতে না হয়, সেজন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: পারভেজ ও মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রির দায়ে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রির দায়ে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার চরলরেন্স বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    আদালত সূত্র জানা যায়, চরলরেন্স বাজার এলাকার ব্যবসায়ী নুরনবী ও নুরউদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রি করে আসছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঘটনার সত্যতায় মেয়াদোত্তীর্ণ দইসহ হাতেনাতে আটক করার পর তাদের এই জরিমানা করা হয়।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী বাবুল দধি বিতানের মালিক নুর উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা ও অপর ব্যবসায়ী নুরনবীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। একইসাথে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ দই। পরে জনস্বার্থে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয় সেগুলো।

    অভিযান চলাকালে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: রিয়াজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন জানান, ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। আগামীতেও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান থাকবে।

  • জীবননগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪

    জীবননগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪

    বিডি টা্ইমস ডেস্ক নিউজ,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজন তালিকাভুক্ত ও পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেফতাররা হচ্ছেন- মিন্টু ওরফে জামাই মিন্টু, মশিয়ার, ফিরোজ ও সাজ্জাদ।

    পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত ছিল।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

  • মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন

    সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।

    পুলিশের লাঠিচার্জের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

    এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

    তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসি (পেট্রোল) মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের একাংশ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

  • চৌগাছায় শিবিরের দুই নেতাকে গুলি করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ জুন

    চৌগাছায় শিবিরের দুই নেতাকে গুলি করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ জুন

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলি এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১৬ জুন নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়।

    এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন— চৌগাছা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। তাদের সোমবার সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    অন্যদিকে পলাতক আসামিরা হলেন— তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।

    এর আগে, গত ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

    প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। তাদের আদালতে হাজির না করে টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয়। পরে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে পুলিশের অধীনস্থ সদস্যদের মাধ্যমে তাদের পায়ে গুলি করা হয়।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিবিরের ওই দুই নেতার ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়া, ক্ষতস্থানে বালু ঢোকার কারণে পচন ধরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

  • আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    খুনের পর লুট হয় একটি মুঠোফোন। এরপর সেটি একের পর এক হাতবদল হয়েছে—মোট আটবার। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি। হত্যার রহস্যের কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রায় এক বছর পর সেই ফোনের খোঁজে নেমেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান খুনের পরিকল্পনাকারীদের কাছে। আর তাতেই উন্মোচিত হয় রাজশাহীর বাগমারায় মা–ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

    ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন আকলিমা বেওয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)। ধারালো অস্ত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আকলিমার আরেক ছেলে দুলাল উদ্দিন বাগমারা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিল বাগমারা থানা–পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তাঁরা কেউই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এক বছর পর মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তখনই তদন্তকারীরা নজর দেন খুনের পর আকলিমার নিখোঁজ হওয়া মুঠোফোনের দিকে। মুঠোফোনটি আটবার হাতবদল হয়ে তত দিনে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। এই মুঠোফোনটিই হয়ে ওঠে পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রধান আলামত।

    সূত্র মিলল হারিয়ে যাওয়া ফোনে

    পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায়, খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর সেটি একের পর এক ব্যক্তির হাতে বিক্রি হতে থাকে। তদন্তকারীরা ফোনটির আইএমইআই নম্বর ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন।

    ফোনটি কার কাছ থেকে কার কাছে গেছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে—প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে মা–ছেলেকে হত্যার পর হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    পিবিআই জানায়, মুঠোফোনের হাতবদলের পর্যায়ক্রম পর্যালোচনা করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে নিহত আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান ছিলেন।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার আকলিমা বেওয়া ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আকলিমার সঙ্গে আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও আকলিমার বিরোধ ছিল। আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা–ছেলেকে খুন করানো হয়। মুঠোফোনটি নিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান জোড়া খুনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

    —মোস্তফা কামাল, পিবিআইয়ের প্রধান

    পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, জোড়া খুনের এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু ছিল একটি মুঠোফোন। খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি লুট হয়েছিল। তারপর আটজনের হাতে ঘুরেছে। কিন্তু সেই মুঠোফোনের হাতবদলের ক্রম অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

    ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি

    পিবিআই সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’ শীর্ষক বইয়ে এই মামলার তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বইটি প্রকাশিত হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ছিলেন স্থানীয় মাতবর। নানা কারণে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আবার মাদকের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আকলিমার সঙ্গে হাবিবুর রহমানেরও বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের জেরেই আকলিমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমান।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়াটে খুনি সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল হাবিবুর রহমানের। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ ভাড়াটে খুনি জোগাড় করা হয়।

    মা–ছেলে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিতরা

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে ভাড়াটে খুনিদের আবুল হোসেন মাস্টার মোটরসাইকেলে পথ দেখিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেন। খুনিরা তাঁর মোটরসাইকেল অনুসরণ করে আকলিমার বাড়ির সামনে আসেন।

    পিবিআই জানায়, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে আকলিমা ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সময় বাইরে মোটরসাইকেল পাহারায় ছিলেন আরেক ব্যক্তি। হত্যার পর আকলিমার মুঠোফোন নিয়ে খুনিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

    দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আকলিমা–জাহিদ হত্যা মামলার রায় দেন আদালত।

    আদালত আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেকজন দুর্গাপুরের দেবীপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্য ও ভাড়াটে খুনিদের দলের নেতা।

    এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্গাপুরের শ্যামপুরের আবদুল্লাহ আল কাফি, রুহুল আমিন, খিদ্রকাশিপুর গ্রামের রুস্তম আলী ও খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

  • সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার মড়কা বাজার সংলগ্ন মাঠে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রামের মৃত শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মড়কা বাজারে শহিদুল ইসলামের একটি মিল রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিকটবর্তী মাঠে চাষাবাদ করতেন। সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প চালু করতে গেলে তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বুধা দীপ্ত দাস বলেন, শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তারা সবাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।

    গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি।

    তিনি বলেন, স্ট্রোকজনিত কারণেও শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিহত শহিদুল ইসলাম এর আগে দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • জঙ্গল সলিমপুর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জঙ্গল সলিমপুর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হবে না, হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার গত এক মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানকার ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সারা দেশের অপরাধচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় কিংবা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।’

    পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হন।

    উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

    সর্বশেষ ২৪ মে দিবাগত গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েক শ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এই হামলার ঘটনায় ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৩১মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও অফিস ছিল। একই সঙ্গে ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না, তবে নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মুহূর্তেই চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যানটিনের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে শিক্ষার্থীরা খাবার খাচ্ছিলেন।

    দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে দমকলকর্মী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

    আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা বলবন্ত যাদব জানান, তার মেয়ে নীলম ভবনের পাশের ক্যানটিনে ছিলেন। ভবন ধসে পড়ার সময় সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। নীলমের পা ভেঙে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, বিশেষ ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল, এনডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছেন।

    সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবনটির মালিকানা, নির্মাণকাজের অনুমোদন এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • রামিসা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে সরকার

    রামিসা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে সরকার

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করবে সরকার। রোববার দুপুরে তিনি একথা বলেন।

    এর আগে মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন, এতটা স্বাধীনতা অন্য অনেক দেশেই দেখা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের পোস্টিং বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও আমরা অতীতে দেখেছি, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে।

    মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি রামিসা হত্যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

  • আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাউরুটি তৈরির একটি ফ্যাক্টরির (বেকারি) সন্ধান পাওয়া গেছে।

    শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালটি পরিদর্শনে গেলে এ বিষয়টি সামনে আসে।

    পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ভেতরে পাউরুটি উৎপাদনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

    এ সময় ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেশের কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হয়, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

  • শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    শ্বাসনালীতে আমের আঁটি আটকে বৃদ্ধের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে আঁটি আটকে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    আজ শনিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম (৫৫) ওই গ্রামের প্রয়াত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি এলাকায় সবার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে পাঁকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের অংশ (আঁটি) তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ছটফট করতে করতে তিনি নিজ বাড়িতেই মারা যান।

    এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় প্রতিবেশীকে এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক উপায়ে হারাতে হবে, তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।

  • আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আজ শনিবার দেওয়া হচ্ছে না।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ প্রথম আলোকে জানান, প্রতিবেদন দেওয়ার আগে ছয় নবজাতকের মায়েদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কথা বলার পর প্রতিবেদনটি আগামী ৩ জুন দেওয়া হবে।

    গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান প্রথম আলোকে জানান, শনিবার (আজ) তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    তবে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, যে ছয় নবজাতক মারা গেছে, তাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুদের মায়েরা বিভিন্ন এলাকায় আছেন। তাঁদের কাছ থেকে কথা শোনা হবে। তারপর এসব বিষয় তদন্তের মধ্যে থাকবে।’

    তদন্তে এখন পর্যন্ত কী পাওয়া গেল, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ছয়টি বাচ্চা একবারে মারা গেছে। বুঝতে পারছেন তদন্তে কী আসবে। বাচ্চাগুলো তো আর হাইপার সিনড্রোমে (গুরুতর কোনো লক্ষ্মণযুক্ত উপসর্গ) মারা যায়নি। আমরা সমস্ত আলামত, সমস্ত ব্যাখ্যা পেয়েছি। কিন্তু সামারিটি (মূল বিষয়) বলব না। মায়েদের স্টেটমেন্টটা নিয়ে দেখি। যদি কিছু যুক্ত হয়, তবে সবকিছু এক করে পরে কথা বলব। ৩ জুন দেওয়া হবে প্রতিবেদন।’

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

    কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। গতকাল আশিক প্রথম আলোকে বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে কাউকে এখনো আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

  • কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদী থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদী থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ডাকাতিয়া নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডুবুরি দল নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে শিহাব হোসেন (১৮) নামে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান।

    নিহত শিহাব হোসেন উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম শিপনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন শিহাব। শুক্রবার দুপুরে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ঘুরতে যান তিনি। পরে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তল্লাশি চালায়। তবে শিহাবের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চাঁদপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে ডাকা হয়। ডুবুরি দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি। পরে রাতের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।শনিবার সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের যৌথ উদ্ধার অভিযানে সকালে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ময়মনসিংহে পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

    ময়মনসিংহে পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত

    ময়মনসিংহে পিকআপ ভ্যান ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ময়মনসিংহের আলালপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতরা সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে জানা গেছে।

  • আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিআইডির কর্মকর্তারা রয়েছেন।

    আজ বুধবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও এনআইসিইউ’র কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

    এরইমধ্যে কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল।

  • ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    ঈশ্বরদীর রূপপুর গ্রিনসিটিতে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

    পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর ভবনের ৮ তলার ৮৪ নম্বর ইউনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    মৃত লাতিপভ ভিল (৪২) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজেনারগোঅ্যাটম কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ কক্ষে অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • রাজধানীতে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু !

    রাজধানীতে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু !

    রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজ থেকে এক ওয়ার্ডের ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়।

  • কয়রায় গরুবোঝাই নছিমন উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

    কয়রায় গরুবোঝাই নছিমন উল্টে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

    খুলনার কয়রায় গরুবোঝাই নছিমন উল্টে মিজানুর রহমান নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের খিরোল গ্রামের মাওলানা সামছুর রহমানের ছেলে। এ সময় তার ছেলে আব্দুল্যাহসহ (৭) আরো দু’জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন একই গ্রামের আতিয়ার রহমান ঢালী (৪৭) ও আবুল সানা (৬০)। বর্তমানে তারা উপজেলার জায়গীর মহল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মিজানুর রহমান গরুবোঝাই নছিমন নিয়ে বাগালী জেআইবি ক্লাব মাঠের গরুর হাটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নছিমনটি উল্টে যায়। এতে মিজানুর ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    কয়রা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

  • ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির মৃত্যুদণ্ড

    ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির মৃত্যুদণ্ড

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি শাকিলের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির রায় দেওয়া হলো।

    রোববার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আবদাল হকের ছেলে।

    মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইছানুল হকের ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যা তার বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে ডেকে পাট খেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই সময় মাঠে কাজ করা লোকজন শিশু কন্যার কান্নাকাটি শুনে এগিয়ে গেলে শাকিল পালিয়ে যায়। পরে দুপুরের দিকে এলাকাবাসী শাকিলকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

    মামলাটি মাত্র ২৯ কার্যদিবসে নিষ্পত্তি করা হয় এবং দ্রুত রায় সম্পাদনের লক্ষ্যে দূরের সাক্ষীদের ভার্চুয়াল সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যে আসামি শাকিল হোসেন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬, ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন মামলাটি পরিচালনা করেন।

    রাষ্টপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। দেশের ইতিহাসে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলার রায় সম্ভবত প্রথম বলে তিনি দাবি করেন।

    আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বিজন বলেন, আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

  • জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকের গোয়েন্দা, সিসিটিভি মনিটরিং ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে।

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পশুর হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হবে। কোরবানির পশু কেনাবেচায় জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলামকে বলেন, ‘জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশ ঢাকা মহানগরীতে তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি টঙ্গী ও গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বুথ থাকবে।’

    ডিএমপির তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র রাজধানীর বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    কোরবানির পশু কেনার সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা হাটে স্থাপিত পুলিশের বুথে গিয়ে বিনামূল্যে তা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

    র‌্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন এড়িয়ে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, সড়ক ও মহাসড়কে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পশুর হাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, চুরি-ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে মোবাইল টিম এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    তিনি জানান, মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‌্যাব।

    ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বুথ থাকবে। সেখানে সিটি করপোরেশন, ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হবে।

    তিনি বলেন, হাটে জাল নোট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, প্রবেশপথ ও সড়কে থাকবে কড়া নিরাপত্তা, টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ। একইসাথে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

    পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধে সিআইডির একাধিক টিম প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে ২৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    A M