আইন-আদালত

  • পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা

    পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পুলিশের ওপর চাপ বজায় রাখতে তাঁরা আপাতত বাঁকুড়া জেলাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

    পাশাপাশি রাঙ্কা পুরো ঘটনার একটি আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিহত ব্যক্তির স্মৃতিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, সিজেপির কর্মীর বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ গত সপ্তাহান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় রাজ্যে কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাতে নদীয়া জেলায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ৫৪ বছর বয়সী আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    পরিবারের অভিযোগ, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত। গত রোববার এই ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক এই সময়ই অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তাণ্ডব চলার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেন।

    এই চারটি মৃত্যুর জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই এসব খুনের দায় এড়াতে পারে না; কারণ, তারা রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ সরকারকে খুব একটা কোণঠাসা করতে পারেনি। কারণ, প্রধান বিরোধী মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    এ ছাড়া বাকি তিন বিরোধী অর্থাৎ সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রতপন্থী অংশ এখনো ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বিজেপির ওপর চাপ খুব একটা বাড়েনি। তবে পরপর এতগুলো খুন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

    বাঁকুড়ার ঘটনা

    পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় কথা বলছেন সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্ক

    ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে এসে পৌঁছান এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যাওয়া মোহাম্মদ মাফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।

    দুদিন আগে নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে পেটানোর পর মাফিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের আসার ও এই ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নামার কারণ, নিহত মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ সিজেপির সদস্য। দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ চলাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

    রাঙ্কা জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আইনি ধারায় কঠোর সাজা দিতে হবে এবং ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আদালত-পর্যবেক্ষিত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, পুলিশ প্রশাসন পরিবারটির পাশে সঠিকভাবে দাঁড়ায়নি।

    নিহত মাফিকের পরিবার রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন।

    হাফিজের কথায়, শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে এ ধরনের স্কুল তৈরি হওয়াই হবে তাঁর বাবার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপি নেতা রাঙ্কা ঘোষণা করেন, তাঁরা হাফিজকে আর্থিক সহায়তা দেবেন এবং রাজ্যজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন গড়ে তুলবেন, একই সঙ্গে সময়সীমার মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন।

    নদীয়া জেলার ঘটনা

    এরই মধ্যে নদীয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেত্রীসহ তিনজনকে শারীরিক পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চায়। আদালত তাঁদের ৯ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কংগ্রেসের নদীয়া জেলা সম্পাদক আনিসুর রহমান তাঁর ছেলে, পেশায় আইনজীবী আবু সুফিয়ানকে নিয়ে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। একটি রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় এবং পরে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

    তদন্তের শুরুতেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ইঙ্গিত দিয়েছে, এই জোড়া হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর নিশ্চিত করেছেন।

    তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা তড়িঘড়ি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

  • হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আদালতের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলো। এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি দাবি করেছিলেন, ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদন ‘উদ্বেগজনক’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলভি বলেন, তিনি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ইমরানের মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে ইমরানের উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মাত্রা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়।

    ইমরানের ঘুমের সমস্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান আলভি। তবে তিনি যে ওষুধগুলো সেবন করছেন, সেগুলো দেখে ঘুমের সমস্যার বিষয়টি বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আরিফ আলভি বলেন, তিনি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে চেনেন।

    তার মতে, ইমরানের দুর্বলতার জায়গা কখনোই মানসিক চাপ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেই চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় তিন বছরের কারাবাস ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার কারণে তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, এটি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন আলভি।

    ইমরানের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৫৪ বার বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসকেরা এটিকে স্বাভাবিক বললেও ইমরানের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

    ইমরানের হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন আলভি। একই সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিত তার রক্তচাপ পর্যবেক্ষণেরও দাবি জানান তিনি।

    আলভি আরো বলেন, ইমরান খানকে এখনই হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে স্বাধীন একটি চিকিৎসক প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত। সরকারি নিয়োগ করা চিকিৎসকদের ওপর ইমরানের পরিবার ও পাকিস্তানের জনগণের এককভাবে আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইমরানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে না পারা এবং তার কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছানোর সুযোগ না থাকা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালের পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

    জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিধানসংবলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৩ আগস্ট রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের গত ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।

  • কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, এজাহারভুক্ত ১৪ গ্রেফতার ১

    মো. খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি:

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা নম্বর-০৮ দায়ের করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • নাইটগার্ডকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতি, লুট ২১ লাখ টাকার মালামাল

    নাইটগার্ডকে বেঁধে চার দোকানে ডাকাতি, লুট ২১ লাখ টাকার মালামাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজবাড়ীর পাংশায় নাইটগার্ডের হাত-মুখ বেঁধে তিনটি জুয়েলারি ও একটি ওষুধের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হাট বনগ্রাম বাজারের রফিক উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

    দোকান মালিক ও স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের মুখোশধারী ডাকাতদল মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কালু ও জাকির নামে দুই নাইটগার্ডের হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তারা দোকানগুলোর তালা কেটে স্বর্ণ, রুপা, নাকফুল ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    দোকান মালিকদের দাবি, চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে। এর মধ্যে গ্যারান্টি জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, সুস্মিতা জুয়েলার্স থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার এবং লক্ষী জুয়েলার্স থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপা লুট হয়েছে। এছাড়া রাহুল ফার্মেসি থেকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সন্দেহজনক একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের ওপর মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন তিনি নিজেই।

    রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

    সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি (ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে; তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।’আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না; ফলে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।

  • জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

    এদিন প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়। এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

    তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিনজন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি।

    এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।

    এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

    তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

    নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি।

    আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।

    এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা ৪টি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা।

    গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

  • জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

    জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

    বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

    এদিন আসামি কৌশিক দেবনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। তিনি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসচক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

  • শিক্ষার্থী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

    শিক্ষার্থী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার বিবরণ ও রায়ের নথি থেকে জানা যায়, ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ও এক হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।

    আদালত সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

  • ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক স্বেচ্ছাসেবকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমাদের চুপ করানো বা ভয় দেখানো যাবে না। আমরা উন্নত স্কুলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সিজেপি আব্দুল ও তার পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সিজেপি দল বাংলায় যাবে এবং নিশ্চিত করবে যে আব্দুল ও তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আব্দুলের জন্য খুব উদ্বিগ্ন। তার বাবা বিজেপির গুন্ডাদের হাতে মারা গেছেন। তার অপরাধ কী ছিল? সে তার স্থানীয় সরকারি স্কুলের একটি সামাজিক নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিল। আব্দুল, পুরো সিজেপি পরিবার তোমার সাথে আছে। ওই গুন্ডাদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না!’

    সিজেপির আরো অভিযোগ, হামলার পর কোনো মেডিকো-লিগ্যাল মামলা শুরু করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো এফআইআরও দায়ের করা হয়নি। তারা মফিকের মৃত্যুর কারণ, হামলার ঘটনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কথিত ব্যর্থতা—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

    এ ঘটনায় ইন্দাস থানাকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হাফিজ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে হাফিজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানাতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে।

    সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি স্কুল পরিদর্শন করার পর ২৫ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক শেখ আবদুল হাফিজের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার বাবা মফিক। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    সিজেপির বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বাকুড়া জেলার করিসুন্দা এলাকায় নিজের গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে গিয়ে অবকাঠামোর পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন হাফিজ। সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোর করে হাফিজের বাসভবনে প্রবেশ করে।

    বিবৃতি অনুসারে, হাসপাতাল থেকে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে হাফিজ অভিযোগ করেছেন যে, একজন স্কুল শিক্ষক তার পৌর পরিদর্শনের বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের জানিয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী হামলাটি ঘটে।

    পরে হামলাকারীরা হাফিজকে স্কুলের দুরবস্থা তুলে ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে এবং বাইরের প্ররোচনায় তিনি এসব করেছেন—এমন বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করতে চাপ দেন। হাফিজ এতে রাজি না হলে তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। এতে হাফিজের ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা মফিক মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।

    হামলার পর হাফিজ হাসপাতাল থেকে তার আঘাতের বিবরণ দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন এবং ক্রমাগত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কলকাতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার বাবা পরে ১৫ আগস্ট আঘাতজনিত কারণে মারা যান।

  • আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আ.লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ; এএজি নূরুল করিমের পদত্যাগ

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. নূরুল করিম। রোববার রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে নূরুল করিম ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি লেখেন, আমার ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আমি আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই। অতএব, আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।

    এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, নূরুল করিম ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কিছু তথ্য ও ছবি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। পরে আমি তাকে ডেকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বিষয়গুলো অস্বীকার করেননি এবং এএজি পদে না থাকার বিষয়ে আমাকে জানান।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, নূরুল করিম রাষ্ট্রপতি বরাবর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং সেটি তার কার্যালয়েও গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পদত্যাগপত্রটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

  • অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট। রোববার দুপুরের তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় জেনারেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা। ‘দফা এক, দাবি এক—অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ’ স্লোগানে রোববার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তারা ডিএজি ও এএজি নিয়োগে অনিয়ম ও কথিত নিয়োগ-বাণিজ্যের তদন্ত, ফোরামের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

    বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনজীবী শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পদত্যাগ চাই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন না। কিন্তু এখন তিনি ফ্যাসিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং তাদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।’
    তিনি আরও বলেন, ‘রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থাকার সব ধরনের যোগ্যতা হারিয়েছেন।’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে’—এমন অভিযোগ করে তিনি এর তদন্ত দাবি করেন।

    শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আজকের এই সভা থেকে আমরা রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

    বিক্ষোভে অংশ নেয়া আইনজীবীরা বলেন, ‘‘তারা ‘ফ্যাসিস্ট, গুপ্ত, সুপ্ত ও দুর্নীতিমুক্ত’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় চান।’’ এ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ মামলার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

    পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

    ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এ সংক্রান্ত বিশেষ শুনানি নিয়ে রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।

    এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯জন আসামিকে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, গ্রেফতার হওয়া আরও দুই আসামিসহ ১১জনকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    এর আগে গত ২৭ জুলাই এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে ওইদিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তী শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি হয়েছে।

    শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার- ১৫

    চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিটিং থেকে এক সাংবাদিকসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনসুরাবাদ এলাকায় জড়ো হন। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনি-সংলগ্ন হাজী ফজলুল করিম চৌধুরী ‘রয়েল টাচ’ অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, চন্দনাইশ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম রুপা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সুজলা অন্তরা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু।

    এ ছাড়া সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থ প্রতিম নন্দী, সাংবাদিক যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবীর, আয়েশা হেভেন ও মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১২। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করেছে ঢাকা। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    দিল্লি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য যে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

    হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ভারতের কাছে পাঠিয়েছে। গত জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা ভারতে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচার চলমান অবস্থাতেও তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগে হাদী হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।

  • হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে এবং প্রত্যর্পণের বিষয়ে বর্তমান কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে যে অনুরোধ জানিয়েছে, সেটি ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। ভারতের আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত দেখা হবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

    আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধকে ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধের বিষয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, তার সঙ্গে ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

    আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যের দাবি, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে মাঝে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করছেন। তাদের ভাষ্য, ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

    শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই রায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই রায়কে বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

    ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। চুক্তিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হলে তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।

    তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের সুযোগ না রাখার বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিকে ফেরত দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন কেবল দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    অধস্তন আদালত: মামলা বাড়লেও বাড়েনি বিচারক

    • দেশের জনসংখ্যার তুলনায় লাখ মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।
    • বর্তমানে বিচারক ২ হাজার ২৩৭ জন, বিচারকাজে থাকেন ১ হাজার ৮৩৭ জন।
    • বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার করার পক্ষে মত আইনজীবী-বিচারকদের।
    • ১১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

    সারা দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে বিচারক আছেন ২ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে প্রেষণ, মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানা কারণে চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয় সারা বছর। তাতে আদালতের বিচারকাজ করছেন ১ হাজার ৮৩৭ বিচারক। সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যার তুলনায় গড়ে এক লাখের বেশি মানুষের জন্য বিচারক মাত্র একজন।

    সুপ্রিম কোর্টে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন। এগুলোর মধ্যে সারা দেশের জেলা আদালতে বিচারাধীন ৪০ লাখ ৭৮ হাজার মামলা। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ছিল ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ১২১টি মামলা। দেড় যুগে মামলা বেড়েছে প্রায় ২৬ লাখ। তবে জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি বিচারকের সংখ্যা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে বর্তমান সংখ্যাও অপ্রতুল। অবশ্যই দক্ষ বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।

    আইন কমিশন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৫ সালে করা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অধস্তন আদালতের জন্য বিচারকের সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল; তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি ১১ বছরেও। যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংখ্যাও অপ্রতুল। তাই মামলাজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার হওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারকেরা।

    জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহজাহান সাজু বলেন, বর্তমানে মামলার যে জট, তা নিষ্পত্তি করতে অধস্তন আদালতে অন্তত ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সহায়ক জনবল, প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম এবং এজলাস। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকেও জোর দিতে হবে। তাহলেই মামলাজট কমবে বলে মনে করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের নানা সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৪ সালে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনকে দেওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জনসংখ্যার হিসাবে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে বিচারক একজন। ডেনমার্কে ১৫ হাজারের বিপরীতে ১ জন, জাপানে ৫৭ হাজারের জন্য ১ জন, পাকিস্তানে ৫০ হাজারের জন্য ১ জন এবং ভারতে ৪৭ হাজারের বিপরীতে ১ জন বিচারক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

    জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় ৪০০ বিচারককে নানা কারণে বিচারকাজের বাইরে থাকতে হয়। আর একজন বিচারকের বিপরীতে ৫০০ মামলা থাকলে সহজে নিষ্পত্তি করা যায়। বর্তমানে গড়ে ৩ হাজারের বেশি মামলা। এ কারণে ঠিকভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

    মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিচারকের সংখ্যা ১০ হাজার হওয়া উচিত। শুধু বিচারক বাড়ালেই মামলাজট শিগগির কমবে না; এর সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আগে প্রি-মেডিয়েশন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    বিচারক সংকটের কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একজনকে অনেক মামলার বিচার নিষ্পত্তি করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা সিভিল আপিল, সিভিল রিভিশন, ক্রিমিনাল আপিল, ক্রিমিনাল রিভিশন, ক্রিমিনাল মিস, দুদক, আরবিট্রেশন, মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা, সাধারণ দায়রা মামলা, মোবাইল কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেওয়া কার্যধারার বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদনের নিষ্পত্তি করেন। অতিরিক্ত জেলা জজের পৃথক কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁরা জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমান ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তবে তাঁদের দায়িত্ব জেলা জজ নির্ধারণ করে দেন।

    যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকেরা ২৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে সব ধরনের দেওয়ানি মামলা, সিভিল আপিল, মাদক, ১০ বছর পর্যন্ত সাজার সব মামলা, বিশেষ আদালতে ১০ বছরের বেশি সাজার মামলা, এনআই অ্যাক্ট, অর্থঋণ, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আরও কিছু মামলার শুনানি করেন। আর সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ আদালতের বিচারকেরা প্রায় ২৫ ধরনের মামলার শুনানি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক, বর্তমানে অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা দেশের জনসংখ্যা ও মামলার অনুপাতে অপর্যাপ্ত। এ কারণে একজন বিচারককে প্রতিদিন অনেক বেশি মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করতে হয়। ফলে গুণগত মানসম্পন্ন বিচার নিশ্চিত করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে।

    মাজহারুল হক বলেন, সেই সঙ্গে বিচারসংশ্লিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারক, দক্ষ সহায়ক জনবল ও সরঞ্জামাদির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে মামলা নিষ্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

  • ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    ভেড়ামারায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাই গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তাঁর ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুবেল মাহমুদ রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, পবন ও রতন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা গোপনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ভেড়ামারা থানা ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

    কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পবন ও তাঁর ভাই রতনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে খিচুড়ি রান্না করছিলেন। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার তথ্য পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, তাঁরা দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের তালিকায়

    রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় ২২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

    মামলার বিবরণী অনুসারে, রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

    গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১ নং আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

    গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পর দিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে একদিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

    গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

    এছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।

    জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

    এরপর রামিসা হত্যায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। তারপর দুই আসামি হাইকোর্টে জেল আপিল করেন।

  • হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, গ্রেপ্তার ঝিনাইদহের সাবেক এমপি

    ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে শহরের আরাপপুর জামতলা মডেল মসজিদ পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শৈলকূপা থানার ওসির নেতৃত্বে রাতে নায়েব আলীর আরাপপুরের বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    তবে অন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দার। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপিকে আটক করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    চুনারুঘাটে আ.লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    শনিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার এসআই সুমন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে আসামিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যান।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরকার, সভাপতি আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সহসভাপতি মো. রজব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ আলী, সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সজল দাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সভাপতি রাসেল মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সম্রাট মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজ সরদার এবং উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুল।

    এছাড়া উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।

    তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।

    আগামীকাল (১৬ আগস্ট) সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

  • আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলেন গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। এ সময় নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান।

    ময়মনসিংহে কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
    সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।’

    নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’

    নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’

    এর আগে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

    র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহত ব্যক্তির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

    সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

    চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

    এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

    আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

    নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

    আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

  • তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    তানজিদ–নাজমুলের পর আবার হাসান, ডারউইনে দ্বিতীয় দিনও বাংলাদেশের

    ছয় সেশনের মধ্যে কেবল একটিতেই একটু হাসি–আনন্দ করতে পারল অস্ট্রেলিয়ানরা। সেটিও আজ দিনের শেষ সেশনে। সারা দিনে বাংলাদেশের যে পাঁচটি উইকেট অস্ট্রেলিয়া নিতে পেরেছে, এই সেশনেই এসেছে তার তিনটি। এটুকু বাদ দিলে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই।

    একটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস, একটি শতোর্ধ্ব রানের জুটি এবং শতরানের কাছাকাছি আরেকটি জুটি মিলিয়ে বোলিংয়ের মতো প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদের আগুনে পুড়ে গতকাল অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ১৯৮ রানে। আজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৫৩ রানে। ডারউইনে এমন কিছুর জন্য নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিল না অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকেই কৃতিত্ব দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বো ওয়েবস্টার।

    বাংলাদেশকে এমন দিন এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ করেছেন প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। নাজমুল শতরানের দেখা পাননি, তবে বাংলাদেশের আরেকটি ভালো দিনে ১২৬ বলে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসেরও আছে বড় ভূমিকা।

    ডারউইনে এখন শীতকাল হলেও সেই শীতের ধরনটা কেমন, তা বোঝা গেল আজ দুপুরে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠা এক সতর্কবার্তায়; যাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনেক বেশি। সবাই যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করে।

    সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল

    নাজমুল যে সময়ে উইকেটে আসেন, ডারউইনের এই গা জ্বালানো রোদের ‘শীতে’ও বাংলাদেশের ইনিংসে তখন বসন্তের হাওয়া। জশ হ্যাজলউডের করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে মারতে গিয়ে প্রথম সেশনে মুমিনুল হক কট বিহাইন্ড হয়ে যান ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে। কিন্তু যাওয়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে গড়ে দিয়ে যান ১০২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যাওয়ার প্রথম ভিত গড়ে দিয়েছিল সেটাই।

    স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ১৩৮ রান, উইকেট তখনো বেশ ব্যাটিং–বান্ধব। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুলের কাজ ছিল আরেকটি বড় জুটির সঙ্গী হওয়া, নিজেও বড় ইনিংস খেলা।

    দুটিতেই সফল বলতে হবে তাঁকে। তানজিদের সেঞ্চুরির একটু আগেই নাজমুল পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি, সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি দাঁড়ায় ৯৩ রানের। নাথান লায়নের একটা বল লং অফে পাঠিয়ে ১ রান নিয়ে নাজমুল ফিফটি পেয়ে যান ৭৪ বল খেলেই।

    সেঞ্চুরি করে উদ্‌যাপন তানজিদের

    টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে ১৫ বার ফিফটি করে ৯ বারই তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন। নাজমুলের ফিফটি হলেই তাই সেঞ্চুরির সুবাস ছড়াতে শুরু করে। ডারউইন টেস্টেও তা হলে বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিধিটা আরও বড় হতে পারত। কিন্তু হ্যাজলউড নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছোটখাটো একটা বিপর্যয়, নাজমুলকে দিয়েই যার শুরু।

    নতুন বলে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছিলেন হ্যাজলউড। অফ স্টাম্পের বাইরের সে বলটা ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে নয় নাজমুলকে। তাতে ভেঙে যায় মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি।
    দলের ২৯৭ রানে নাজমুল আউট হয়েছেন ৮২তম ওভারে। এরপর ৮৫ ও ৮৬তম ওভারে কামিন্স আর মিচেল স্টার্কের বলে বাংলাদেশে হারায় আরও দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমকে। ৩ উইকেটে ২৯৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে হয়ে যায় ৩০৮/৬।

    দিনের তখনো অনেকটা খেলা বাকি ছিল বলে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো অলআউটই হয়ে যাবে আজ। ব্যাট করার মতো আর তো ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, অন্যদের মূল পরিচয় বোলার।

    কিন্তু বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতেও মিরাজের সঙ্গে এমনই দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে অপেক্ষায় থেকেই দিন শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার।

    পাকা ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন হাসান মাহমুদ

    সপ্তম উইকেটে ২৪.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকেছে মিরাজ–হাসানের সপ্তম উইকেট জুটি; এই সময়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে আরও ৪৩ রান। ৭৩ বলে ৩২ রানে অপরাজিত মিরাজের সঙ্গে হাসানের স্কোরটাই বেশি বিস্ময় জাগায়। দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি অপরাজিত ১৬ রানে, তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চরম হতাশা উপহার দিয়ে বল খেলেছেন ৭৬টি। শেষ দিকে আর উইকেট ফেলতে না পেরে অন্য পথেও গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের স্লেজিং মনঃসংযোগে কোনো ব্যাঘাতই ঘটাতে পারেনি মিরাজ–হাসানের।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, নাজমুল ৮৪, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩* ; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮, কামিন্স ১/৫০)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮। —দ্বিতীয় দিন শেষে।

  • চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    চট্টগ্রামে তিন চোর আটকের পর পড়ানো হলো ১০০ রাকাত নামাজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়েছেন স্থানীয়রা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    ধরা খাওয়া চোরদের মধ্যে দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বারইয়ারহাট এলাকার বেলাল হোসেন ও পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। সবশেষ গতকাল রাতে চক্রটির তিন সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের আর চুরি করবেন না, এ মর্মে তওবা পড়ানো হয়। এরপর ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন না করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। বুধবার তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে কোনো ধরনের আঘাত না করে তওবা পড়িয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

  • নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুজন নিহতের ঘটনায় করা জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে সেতারা বেগম ও খলিল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

  • চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    চার জেলার ‘ত্রাস’ ডাকাত কাজল গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫টি ডাকাতি মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কাজল সদর উপজেলার আথানগিরী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাজলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও চারটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপটন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আথানগিরী টিলা এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    মৌলভীবাজার সদর থানা সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চার জেলায় মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুর নেছারাবাদে নাঈম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা প্রবাসীর ঘরে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী, কন্যাসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাঈম স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রফিক মিয়ার ছেলে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ঘরের পাশে সুপারি গাছ থেকে উঠে ঘরের প্রবেশ করেন নাঈম। এ সময়ে ঘরে থাকা তার স্ত্রী নাজমা আক্তার দেখে ফেলায় মোবাইলে কল করতে উদ্যত হলে তাৎক্ষণিক হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

    তার চিৎকার শুনে তার মেয়ে বাঁচাতে এলে তাকেও যখন করে। এসময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর যখম করে পালিয়ে যাওয়ায় সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ।

    পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানায় খবর দিলে নাঈমকে পুলিশ নিয়ে যায়।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নাজমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমি ঘরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি নাঈম ঘরের পাশে থাকা সুপরি গাছ বেয়ে ওঠে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে। আমি দেখে চিৎকার করে মোবাইলে ফোন দিতে গেলে তিনি ফোন দিতে বারণ করে হুমকি দেয়।

    এ সময় আমি চিৎকার করি সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে আমি আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে। আমাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের আপন বড় ভাই মিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এ সুযোগে নাঈম নামের একটি ছেলে দিনেদুপুরে চুরি করতে এসেছিল। এ ঘটনায় তিনজনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে।

    নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় নাঈম ও তার পিতা রফিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    ঢাকার আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোরিকশা চালক মো: সুজন হাওলাদারকে (২৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গ্রেফতাররা হলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শসতল গ্রামের মো: হারুন ঢালির ছেলে মো: মারুফ ঢালি (৩৯)। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার বাগানবাড়ী সৈয়দনগর এলাকায় নাহিদ ইসলামের গ্যারেজে বসবাস করে আসছিলেন। অপরজন একই গ্রামের মো: আজিজুল ঢালির ছেলে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ (২২)।

    পিবিআইয়ের দাবি, মারুফ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আর তানভীর নিহতের লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি তার কাছ থেকে কিনেছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহত সুজনের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মো: আমির হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে নিজের অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন সুজন। এরপর সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে ফোন করে কথা বলেন তিনি। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এর দুই দিন পর, ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশের মাথায় থেতলানোর আঘাত এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে নিহতের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা: আলো বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো: জামাল উদ্দীন বিপিএম-কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, মামলাটি তদন্তে নেয়ার পর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তার নিখোঁজ হওয়ার সময়, সর্বশেষ মোবাইল যোগাযোগ, পূর্বপরিচিত ব্যক্তি এবং অটোভ্যানটির গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

    তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণে তদন্তের সূত্র গিয়ে পৌঁছায় মারুফের কাছে। পরে অটোভ্যানটির গতিবিধি অনুসরণ করে পিবিআইয়ের একটি দল মাদারীপুরে অভিযান চালায়। ১১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর থানা এলাকার আনসার ক্যাম্পের সামনে একটি অটো গ্যারেজ থেকে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান। মারুফের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সুজনের মোবাইল ফোন।

    পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্ত এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, মারুফ নিজেও একজন ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সুজন তার অটোভ্যান নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় মারুফের সাথে দেখা করেন। সেখান থেকে দুজন বেড়িবাঁধ হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

    পরদিন ৯ আগস্ট ভোররাত ৩টার দিকে কাশিমপুরে অটোভ্যানে মালামাল লোড করার পর তারা ঢাকার লালবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে আশুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এসে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গাড়িটি ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তখন মারুফ তার অটোভ্যান থেকে একটি চাপাতি নিয়ে আসেন। পরে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত সুজনের মাথায় একটি ভারী পাথর দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এরপর চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

    হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন মারুফ। ঘটনাস্থলে সুজনের লাশ রেখে তার অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। হত্যার পর সুজনের অটোভ্যান নিয়ে মারুফ লালবাগে চলে যান। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে অটোভ্যানটি চালিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুরে পৌঁছে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশের কাছে অটোভ্যানটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন মারুফ। অটোভ্যানটির অবস্থান শনাক্ত করার পরই তদন্তকারীরা মাদারীপুরে অভিযান চালান। সেখান থেকে অটোভ্যানসহ মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনাস্থলের আলামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহারের কারণেই দ্রুত এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়।

    তিনি বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬১৭ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে পুটখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় এসকাফ সিরাপগুলো পড়ে থাকতে দেখে জব্দ করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব সিরাপ জব্দ করা হয়।

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন সরকারের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন।

    আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই পলাতক।

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শাস্তি দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলায় সাত আসামিরই অপরাধ গুরুতর। তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দিয়ে এই সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাই। যেন এমন রাজনীতিবিদ দেশে আর জন্ম না নেন।’

    ষষ্ঠ দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে প্রথমেই আইনি দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এরপর শুরু করেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

    এর আগে, ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। টানা পাঁচ কার্যদিবসে পর্যায়ক্রমে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

    প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আসামিরা। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধে আহ্বান জানানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনাসহ কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় বেশ কয়েকটি ফোনালাপও। একইসঙ্গে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কয়েকজন আসামির ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২৮ জন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

  • ইসরাইলি কারাগারে ৪০ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

    ইসরাইলি কারাগারে ৪০ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

    দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে বুধবার(১২ আগস্ট) সকালে সাংবাদিক মুহাম্মদ আওয়াদকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

    এর ফলে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০। বুধবার এক বিবৃতিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে বন্দি থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে পাঁচজন নারী সাংবাদিকও রয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী মোট ২৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশকে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়।

    ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতির দেয়া তথ্যানুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের সংবাদকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে এমন গ্রেপ্তার ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

  • শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    শার্শায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হলো অপহৃত কিশোরী

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শায় পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে অপহরণের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে এক কিশোরীকে (১৪) উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণের অভিযোগে নূর মোহাম্মদ বাবু (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ বাবু শার্শা উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। রাতেই মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে শার্শা থানায় একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন ঘণ্টার মধ্যে শার্শা বাজার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চটকাপোতা গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • মোদিকে কড়া বার্তা সোনিয়ার

    মোদিকে কড়া বার্তা সোনিয়ার

    প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে কয়লা খনি বরাদ্দ মামলায় স্বস্তি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মামলায় সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ বাতিল করেছে, যার ভিত্তিতে মনমোহন সিংহকে মামলায় তলব করা হয়েছিল। আদালতের এ রায়ের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

    তার দাবি, মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রচার চলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার অবসান ঘটেছে।

    সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিত দিন হিসেবে থেকে যাবে। কারণ ওই দিনই সুপ্রিম কোর্ট কয়লা খনি বরাদ্দ মামলায় মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মামলা বন্ধের প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। নিম্ন আদালত যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে মামলায় তলব করেছিল, সর্বোচ্চ আদালত সেটিও বাতিল করে দিয়েছে।

    সোনিয়ার বক্তব্য, মনমোহন সিংহকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে ছিল তাকে কলঙ্কিত করার একটি দীর্ঘ প্রচেষ্টা। তার দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সততা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় সেই অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    মনমোহন সিংহের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও সরব হয়েছেন সনিয়া। তার মতে, ইতিহাস তাকে একজন শান্ত, নম্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই মনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ১০ বছরের সময়ে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যে সরাসরি নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মনমোহন সিংহকে নিয়ে মোদির পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অতীতে যে ধরনের কটূক্তি করা হয়েছিল, তা ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম নিম্নমুখী অধ্যায়। বিশেষ করে ২০১৭ সালে রাজ্যসভায় মোদি মনমোহন সিংহকে লক্ষ্য করে যে মন্তব্য করেছিলেন, তারও সমালোচনা করেছেন সনিয়া।

    এখানেই থামেননি কংগ্রেস নেত্রী। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তার দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা চালানো হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে। আবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে চলা অভিযোগের চিত্রও বদলে যাচ্ছে।

    সনিয়ার অভিযোগ, বিরোধী শিবিরে থাকলে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়, ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়ার পর তাদেরই অনেকে হঠাৎ স্বচ্ছ হয়ে যান। এই পরিস্থিতিকে তিনি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে দেখিয়েছেন।

    মনমোহন সিংহের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়কার অর্থনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন সনিয়া। তার দাবি, সেই সময়ে দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটেছিল, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় বেড়েছিল এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে এসেছিলেন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও ভারত তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেফতার

    মনিরুল ইসলাম মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় হওয়া একটি বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেফতার আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নাশকতার পরিকল্পনা করে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম আসলে তাকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • জাহান্নাম নিয়ে বক্তব্য দেয়ায়  মসজিদ বন্ধ করল ফ্রান্সের আদালত

    জাহান্নাম নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় মসজিদ বন্ধ করল ফ্রান্সের আদালত

    ফ্রান্সের একটি মসজিদ ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে দেশটির আদালত। মামলাটি ইসলামি বিশ্বাস ও উপাসনার ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্যারিসের কাছে অলনে-সু-বোয়া এলাকার শঁতেলুপ মসজিদ বন্ধের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মঁত্রেয়িল প্রশাসনিক আদালত।

    শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, জুলাইয়ে জারি করা আদেশ অনুযায়ী মসজিদটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

    মসজিদটির পক্ষে আইনি লড়াই করা মানবাধিকার আইনজীবী রফিক শেক্কাত এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগের একটি অংশ মসজিদের ইমামদের ধর্মীয় বক্তব্যে কোরআনের সাতটি আয়াত এবং ইসলামি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

    শেক্কাতের দাবি, উদ্ধৃত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সিরীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইমাম আন নববীর রচনাও রয়েছে। তার প্রশ্ন, ফ্রান্সে ইমামরা ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় কোরআনের আয়াত কিংবা ইসলামি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার স্বাধীনতা রাখেন কি না।

    তিনি জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রক্ষায় তারা দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্টেট কাউন্সিলে আপিল করবেন।

    ফরাসি কর্তৃপক্ষ অবশ্য মসজিদটির কিছু ধর্মীয় বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে। এসব বক্তব্যে ‘অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নাম’ এবং ‘কবরের শাস্তি’র মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

    তবে সমালোচকদের দাবি, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও এ ধরনের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হলেও মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

    আদালত বলেছে, সেন-সাঁ-দেনি বিভাগের প্রিফেক্ট জুলিয়েন শার্ল মসজিদটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে উপাসনার স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কোনো গুরুতর ও স্পষ্ট অবৈধ লঙ্ঘন করেননি।

    রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে শেক্কাত বলেন, সিদ্ধান্তটি ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। স্টেট কাউন্সিল বিষয়টি আরো গভীর আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারকর্মী সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফ্রান্সের মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    সিএআইআর বলেছে, কোনো সরকারেরই কোনো ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পাঠ বা উদ্ধৃত করার কারণে গির্জা, সিনাগগ, মসজিদ কিংবা অন্য কোনো উপাসনালয় বন্ধ করার অধিকার নেই। কোরআন পাঠ বা ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে মসজিদ বন্ধ করাকে তারা ধর্মীয় বৈষম্য ও নিপীড়ন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ফ্রান্সে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটিতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ইসলামকে চরমপন্থি উলে উল্লেখ করে এটি মোকাবেলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ফ্রান্স অন্তত ৭৩টি মসজিদ ও বেসরকারি ইসলামিক স্কুল বন্ধ করে দেয়।

    এর আগের হেরাল্ড এলাকার একটি মসজিদ ও একটি বেসরকারি স্কুল এবং অন্যান্য অঞ্চলের একটি ‘সংস্থা’ ও নয়টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

  • ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস

    ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ২৬টি ভবন ভাঙার ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র প্রশংসা করেছেন দেশটির অতি-উগ্রপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। উত্তর পশ্চিম তীরে এসব ফিলিস্তিনি অবকাঠামো ধ্বংসের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

    স্মোট্রিচ বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বসতি স্থাপন জোরদার করতে এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ, যা দেশের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।’

    তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও (আইসিজে) ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের এমন উপস্থিতি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের রুলিং দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইল পশ্চিম তীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি ও নতুন বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

  • কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। সেখানে যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

    এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

    এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা…..কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

    এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

    শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

  • সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল

    চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিভ টু আপিলের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্যও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

    বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর।

    এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

  • সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে অতিথি মানবেনা শিক্ষার্থীরা

    সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে অতিথি মানবেনা শিক্ষার্থীরা

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নালসার’-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

    ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ বা সংক্ষেপে নালসার-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বেছে নেওয়ার বিরোধিতা করে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করে একটি আবেদন জমা করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই ইমেইলে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষ যেন প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।

    এই বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি তেলুগু। তারা জানিয়েছেন যে তাদের তরফে ইমেইল পাঠানো হয়েছে যদিও তারা নিজের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

    ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে এই ইমেইলটি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার রয়েছেন।

    ২৩ জুলাই এই আবেদনটি জমা করা হলেও এর বিষয়ে দেরিতে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

    প্রধান অতিথি পুনর্বিবেচনার দাবি

    জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও অধ্যাপকরা জানতে পারেন যে শিগগিরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে চলেছে। তাদের প্রশাসনিক দপ্তর থেকে আবেদন করা হয় যে তারা যেন এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দেন।

    একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জানিয়েছে সমাবর্তনের তারিখ এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

    সেই অধ্যাপক জানালেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি যে প্রধান বিচারপতি নিজেই এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।’

    বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউই এই প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

    কর্তৃপক্ষের তরফে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে যে প্রধান বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    এই বিষয়ে জানার পরেই শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে ইমেইল করেছেন।

    কেন আপত্তি শিক্ষার্থীদের?

    কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ইমেইলে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোয় তাদের কিছু আপত্তি আছে। ‘যেহেতু সমাবর্তনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই আমরা মনে করি প্রধান অতিথির নাম নিয়ে এখনো বিচার বিবেচনা চলছে এবং এই প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্যের উপর বিচার করার অবকাশ আছে।’

    একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, প্রথমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এই আবেদন ইমেইল করেছিলেন। পরে এই ইমেইলের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগেরও বহু ছাত্রছাত্রী তাদের আপত্তির কথা জুড়ে দেন।

    ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ডাকে ২০ জুলাই যুবক ও শিক্ষার্থীরা দিল্লিতে সংসদ মিছিল করেন। এই মিছিলে পুলিশের হামলায় ছাত্র ও যুবদের উপর হামলার বিষয়টি উত্থাপন করে বলা হয়েছে, একজন আইনজীবী পুলিশের লাঠিচার্জকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন।

    সেই আইনজীবী উল্লেখ করেছিলেন, ‘পুলিশি বর্বরতার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। ছাত্ররা যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করছে যার উপর পুলিশ অত্যাধিক বলপ্রয়োগ করেছে।’

    এই আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি প্রথমে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপনারা নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না, আমাদের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুবক ও ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ইমেইলে উল্লেখ করে তাদের আপত্তি জানান।

    যদিও এই মন্তব্যের পরে প্রধান বিচারপতি আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল ওই আইনজীবীর তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন আদালতের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আবেদন করতে।

    যদিও তার ‘সময় নষ্ট করবেন না’ মন্তব্য তার পূর্বে করা ‘ককরোচ’ মন্তব্যের মতোই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেয়।

    প্রসঙ্গত, সংসদ চলো কর্মসূচিতে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ির’ বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরবর্তীকালে দিল্লি পুলিশের সমালোচনাও করেছেন।

    ‘মূল্যবোধের বিরোধী সিদ্ধান্ত’

    শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমাদের বিবেচ্য বিষয় সীমিত। সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আবেদনপত্র গ্রহণ এবং আপত্তির আলোচনার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতীক। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ।’

    শিক্ষার্থীরা তাদের ইমেইলে লিখেছেন, ‘পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করেন এমন একজন ব্যক্তির হাত থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করা নালসারে আমাদের শেখানো মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।’

    শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন।

    শিক্ষার্থীদের অনুরোধ, ‘এই বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হোক।’

    কী বক্তব্য নালসার-এর?

    শিক্ষার্থীদের ইমেইল-সংক্রান্ত আপত্তির বিষয়ে বিবিসি নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্রীকৃষ্ণ দেবা রাও এবং রেজিস্ট্রার এন বাসন্তীর সঙ্গে ইমেইল ও ফোনে যোগাযোগ করেছিল। তবে তারা এখনো কোনো জবাব দেননি।

    এদিকে, ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দু জানিয়েছে যে দোসরা অগাস্ট মুম্বাইয়ে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (সংক্ষেপে টিস নামে পরিচিত)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানটিও স্থগিত হয়ে গেছে।

    টিস-এর পক্ষ থেকে ৩১ জুলাই ঘোষণা করা হয় যে কিছু অনিবার্য কারণে সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক-৩

    চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক-৩

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় দুই আওয়ামীলীগ নেতাসহ তিন জনকে আটক করেছেন পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে চৌগাছা থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করেন।

    আটক আসামীরা হলেন উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিন্টু (৫০) তিনি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি রহমত আলী (৭০), তিনি লক্ষীপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। আটক অপর আসামী উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মৃত লাল চাঁদ নেলো মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস ইল্লি মন্ডল (৪৫) ইদ্রিস ইল্লি মন্ডল (৪৫) একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী। তাকে পুলিশ ঢাকা বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন,মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • পুঁতে রাখা ৫ লাখ টাকা এক বছর পর যা হলো

    পুঁতে রাখা ৫ লাখ টাকা এক বছর পর যা হলো

    ভারতের রাজস্থানে চুরি ঠেকাতে জমিতে ৫ লাখ টাকা পুঁতে রেখেছিলেন এক কৃষক। কিন্তু কোথায় টাকা পুঁতে রেখেছেন, তা পরে ভুলে যান তিনি। প্রায় এক বছর পর সেই টাকা খুঁজে পেলেও তখন আর কিছু করার ছিল না। উইপোকায় নষ্ট হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে পুরো টাকাই।

    জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নিজের একটি জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন ওই কৃষক। সেই অর্থ দিয়ে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তার। তবে বাড়িতে টাকা রাখলে চুরি হয়ে যেতে পারে কিংবা অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি টাকাগুলো একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন।

    কিন্তু মদ্যপানের অভ্যাস ও ভুলে যাওয়ার কারণে ঠিক কোন জায়গায় টাকা রেখেছিলেন, তা মনে করতে পারেননি তিনি। একাধিকবার খোঁজ করেও টাকার সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও ছেলেদের বিষয়টি জানান।

    প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তার কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে জমির বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন তারা। তবে বেশ কিছু চেষ্টা করেও টাকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    এরপর বর্ষা মৌসুমে জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রায় এক বছর পর মাটির নিচ থেকে ওই পলিথিনের ব্যাগটি বেরিয়ে আসে। তবে রাতের অন্ধকারে বিষয়টি কারও নজরে পড়েনি।

    পরদিন সকালে জমির বেড়া মেরামতের সময় কৃষকের স্ত্রী ও ছেলে ব্যাগটি দেখতে পান। ব্যাগ খুলতেই তারা হতবাক হয়ে যান। ভেতরে ছিল সেই ৫ লাখ টাকা, যা এক বছর আগে জমিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে ততদিনে উইপোকায় নোটগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

    নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটের কোনো মূল্য উদ্ধার করা যায় কি না, সেই আশায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত নোটগুলো সংগ্রহ করে স্থানীয় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি শাখায় যান। কিন্তু নোটগুলোর অবস্থা দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

    পরে তারা জেলার এসবিআইয়ের প্রধান শাখায় গেলেও সেখান থেকেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সঞ্চিত ৫ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে শুরু করা পরিবারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত হতাশাতেই গড়ায়।

  • স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড

    স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড

    সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তার ভাই মাহের আল আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন। আদালত বাশার আল আসাদকে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার পাশাপাশি নির্যাতন, নির্বিচারে আটক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে।

    আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটক, গুলি ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে অংশগ্রহণ এবং আটককেন্দ্রের ভেতরে পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    নাজিবের বিচার তার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে বাশার ও মাহের আল-আসাদের বিচার তাদের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার ও মাহের আল-আসাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারি অভিযান চালানোর নির্দেশও দিয়েছে।

    আদালত জানায়, তদন্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে, ২০১১ সালে দারায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি নিরাপত্তা অভিযানে নাজিব জড়িত ছিলেন।

    ২০২৪ সালে সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল শারার নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের মাত্র ১১ দিনের অভিযানে পতন ঘটে আল আসাদ সরকারের। এরপর মস্কো পালিয়ে যান তিনি।

  • যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ভিয়েতনামে ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা

    যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ভিয়েতনামে ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা

    গাজা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এক ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে ভিয়েতনামে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন’ (এইচআরএফ) ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত সেনার নাম মাতান জেরাফি। তিনি ইসরাইলি সংগঠন ‘ইম তিরজু’-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ইসরাইলি বাহিনীর ৭৬৯তম ব্রিগেডের ৯২০তম পদাতিক ব্যাটালিয়নে দায়িত্বরত ছিলেন।

    এইচআরএফ এক বিবৃতিতে জানায়, জেরাফি গাজা এবং দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংসে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা নিজেই নথিবদ্ধ করেছেন। তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে গাজা শহরের শুজাইয়া ও রিমাল এলাকা এবং মধ্য গাজার বুরেজ ও মাগাজি শরণার্থী শিবিরে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে তিনি সরাসরি অংশ নেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাকে দক্ষিণ লেবাননে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানেও তিনি একই ধরণের ধ্বংসযজ্ঞ চালান।

    সংস্থাটি জেরাফির বিরুদ্ধে সরাসরি এবং প্রকাশ্য গণহত্যার উসকানির অভিযোগ এনেছে। জেরাফি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার পক্ষে কথা বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে যৌক্তিক দাবি করেছেন এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিরোধিতা করেছেন।

    ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘গাজার বেসামরিক নাগরিকরা হামাসের অংশ। আমাদের তাদের প্রতি দয়া করা উচিত নয়।’

    এইচআরএফ-এর মহাপরিচালক দিয়াব আবু জাহজাহ ও লিটিগেশন প্রধান নাটাচা ব্রাক ভিয়েতনামী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুসারে জেরাফিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করা হোক।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা শহরে ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের নামে এই মানবাধিকার সংস্থাটির নামকরণ করা হয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে কাজ করে যাচ্ছে এই ফাউন্ডেশনটি।

  • আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    আলমডাঙ্গায় পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৮

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আট আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ও সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম নিয়ামুল হকের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামপুরের জামালের ভাঙা ব্রিজের ওপর অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক রবিউল আলমডাঙ্গার বক্সীপুর গ্রামের মরহুম নবীরন বেগম ও কুরবান মিস্ত্রির ছেলে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

    অপর এক অভিযানে হাপানিয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: মোরশেদ আলী গোকুলখালী বাজারের পশুহাটের সামনে থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজাসহ মো: শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার শরিফুল দামুড়হুদার গোপিনাথপুর খালপাড়ার মরহুম আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    এছাড়া অন্যান্য অভিযানে মাদক মামলার আসামি কোর্টপাড়ার মো: আবু জাফর বাপ্পা (৩৭) এবং মারামারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি জেহালা দায়পাড়ার মো: ইব্রাহিম হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ।

    একই সময়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামি কুমারী মাস্টারপাড়ার মো: শাকের আলী, নতিডাঙ্গার মো: আমিরুল ইসলাম, আনন্দধামের মো: রনি মালিথা (২১) এবং একই এলাকার পরেশ কুমার দাশকে গ্রেফতার করা হয়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় মাদক ও অপরাধ নির্মূলে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৭ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য উইনসেরেক্স কফ সিরাপ (ফেনসিডিল)সহ মো. সুজন মোড়ল (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের মো. আওয়ালের বাড়ির গেটের সামনে পাকা সড়ক থেকে সুজন মোড়লকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের শফি মোড়লের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই (নিরস্ত্র) মো. সবুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সুজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে ৯৭ বোতল উইনসেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৯ হাজার ৭০০ মিলিলিটার সিরাপ ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ ছাড়া সুজনের পরিহিত লুঙ্গির ডান কোচড় থেকে একটি ভিভো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ফোনটি মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত হতো।

    উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ সুজনকে থানায় নিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুজন মোড়লের বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা হয়েছে। তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় সূত্রে করা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • ফ্রান্সে দাবানলের ঘটনায় গ্রেপ্তার শতশত

    ফ্রান্সে দাবানলের ঘটনায় গ্রেপ্তার শতশত

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চলতি বছরে দাবানলে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এর মূল কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর বিষয়টিকে দায়ী করা হয়। তবে প্যারিস সরকার এর জন্য মানবজনিত কারণকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেনেশুনে বা দুর্ঘটনাবশত আগুন লাগানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে ৪২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রতি ১০টি দাবানলের ৯টির পেছনেই মানুষের হাত রয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে দাবানলে তিন লাখ একরের বেশি এলাকা পুড়ে যাওয়ার পর সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভার এলাকায় মাত্র পাঁচ দিনে ১০টি আগুন লাগানোর অভিযোগে ২৩ বছরের এক তরুণকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ ইউরো জরিমানা হতে পারে। এছাড়া ভোজেস অঞ্চলে তিনটি আগুন লাগানোর দায়ে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের অতিরিক্ত কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির গণমাধ্যম ও আইজীবীরা।

    দাবানলের উৎস অনুসন্ধানে নিয়োজিত কর্মকর্তা এরিক দুফায়েত জানান, খরা মৌসুমে আগুন লাগানোর জন্য সামান্য একটি লাইটারই যথেষ্ট। বনের কোন স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা খুঁজে বের করে তদন্তকারীরা এগোলেও ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর ঘটনাগুলোর পেছনে ডিএনএ বা আঙুলের ছাপ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামান্যই। বেশিরভাগ আগুনই অসাবধানতাবশত লাগে, যার মধ্যে নির্মাণকাজ, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সিগারেটের টুকরো এবং বারবিকিউর স্পার্ক অন্যতম। প্যারিস ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক মিশেল ল্যজোয়াঁ জানান,

    আগুন লাগানোর সাথে জড়িতরা মূলত তিন শ্রেণির: অসচেতন ব্যক্তি, সুবিধাভোগী এবং পাইরোম্যানিয়াক বা অগ্নিপাগল ব্যক্তি। দাবানল মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ও ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা উঠলেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁন জানান, এই মুহূর্তে সমালোচনা করার সময় নয়। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কাঠামোগত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের ভিন্ন ধরনের বন পুনঃসৃষ্টি ও পুনর্নিমাণ করতে হবে এবং দেশবাসীকে এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে পরিবেশ, পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসার এই ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফরাসি জনসাধারণের মনে নানা প্রশ্ন রয়েই গেছে।

  • নাবালক ও তরুণদের যৌন নির্যাতনের ৬০০ ভিডিওসহ গ্রেপ্তার

    নাবালক ও তরুণদের যৌন নির্যাতনের ৬০০ ভিডিওসহ গ্রেপ্তার

    নাবালক ও তরুণদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নান্দুরবার জেলা থেকে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২০২২ সাল থেকে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল ও শোষণ করে আসছিল ওই অভিযুক্ত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    স্থানীয় পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অশ্বিনী সনাপ জানান, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে ৬ শতাধিক অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিভাইসটিতে পাওয়া ভিডিওর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি টাকা দিয়ে নাবালকদের প্রলুব্ধ করে তাদের ওপর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন এমন গোপন সংবাদ পাওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়।

    অভিযুক্তের নাম চেতন প্রকাশ কোলি। তার বয়স ২২ বছর এবং সে রাইসিংপুরার বাসিন্দা। তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে প্রচুর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে। ফরেনটিক দল মোবাইল ফোনটি জব্দ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং অধিকতর পরীক্ষার জন্য সেটি উপর মহলে পাঠিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত ২০২২ সাল থেকে এসব অপরাধ করে আসছে। উদ্ধার হওয়া ভিডিও ও ছবিগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করা হবে এবং তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে

  • রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই নিয়ে মোট ৯৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।

    আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ও দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। কিন্তু নয় বছরেও রিজার্ভ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

  • দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    দেরিতে আদালতে এসে পরীমণি বললেন ‘এগুলো মেন্টাল টর্চার’

    ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় জেরার মুখোমুখি হতে আদালতে যাওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়েন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ফলে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে না পারায় রোববার তার জেরা হয়নি। আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    পরে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমণি। এ সময় মামলার শুনানির তারিখগুলোকে নিজের জন্য ‘মেন্টাল টর্চার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    পরীমণি বলেন, ‘যার সঙ্গে ঘটে, সেই আসলে জানে কিসের মধ্য দিয়ে যায়। এই ডেটগুলো পড়লে অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে যাই। আবার সেই ঘটনাগুলো আমাকে রিকল করে। এগুলো আমার জন্য এক ধরনের মেন্টাল টর্চার।’

    মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচটা বছর হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেরা শেষ হোক, একটা সুরাহা হোক। একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, খুব তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়ে যাক।’

    নিজের মানসিক চাপের কথা জানিয়ে পরীমণি আরও বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল। বাচ্চাদের সময় দেওয়া, সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতের এই মানসিক চাপ নিতে হয়। আমি আর এই হ্যাসেলটা নিতে চাই না।’

    পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, যানজটের কারণে দুপুর ১২টায় আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি। এ কারণে জেরা হয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মামলায় আসামি নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা জামিনে রয়েছেন। এদিন নাসির ও অমি আদালতে হাজিরা দিলেও শহীদুল আলম সময়ের আবেদন করেন।

    ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদীর তীরে বোট ক্লাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন পরীমনি। পরে ওই বছরের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন তিনি। মামলার বিচার চলছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রুদ্ধদ্বার কক্ষে।

    ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন পরীমণি। তবে এখনো তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রথমে ডন হককে আটক করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এই ঘটনায় হত্যা মামলা হিসেবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পূর্বের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, একাধিক সংস্থার তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে এ সিদ্ধান্ত তার পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং তারা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে এই মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও কার্যকর তদন্তের অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে রয়েছে এবং নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    মামলার অগ্রগতি এবং ডন হকের গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত এই মৃত্যু রহস্য।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

    তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা চলমান। তারা তদন্ত করছেন।

    সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন গত বছর। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

  • গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠককালে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয়জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    তারা হলো মো: মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), মো: নান্নু মিয়া (৩৮), মো: আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও মো: ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।

    আজ শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসান তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বনানী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার গুলশান থানাধীন গুলশান-১, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিংমলের পঞ্চমতলার ফুড কোর্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের জন্য সভা করছিলেন।

    তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গুলশান থানা এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের ‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট গ্রেপ্তার

    পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের ‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট গ্রেপ্তার

    ভারতের দিল্লি পুলিশ সংবেদনশীল প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে দেশটির বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিনি একটি বৃহত্তর গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তার বিরুদ্ধে ভারতের অফিসিয়াল গোপনীয়তা আইনে মামলা করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

    পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ৩০ মে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দিল্লির একটি আদালত তাকে তিহার কারাগারে পাঠায়। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের পর থেকে জামিনের আবেদন করেননি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য, ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগে জড়ান। পুলিশ সন্দেহ করছে, ওই নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়ের মধ্যে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে নারীর যোগাযোগ শুরু হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

    পুলিশের অভিযোগ, এই যোগাযোগের সময় ওই কর্মকর্তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংবেদনশীল নথি ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওই নারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য বা নথি আদান-প্রদান করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

    ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ইনস্টলের বিষয়ও তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মকর্তা এক সহকর্মীকে একটি ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করতে বলেছিলেন। অ্যাপটি স্পাইওয়্যার বা রিমোট-অ্যাক্সেস ম্যালওয়্যার হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্তকরণ বা কথোপকথন নজরদারির সুযোগ ছিল কি না, তা জানতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

    তদন্তকারীরা এর আগে ওই কর্মকর্তার ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য হলো কথিত তথ্যের প্রকৃত গ্রহীতাদের শনাক্ত করা এবং এর পেছনে কোনো বিদেশি হ্যান্ডলার বা বৃহত্তর গুপ্তচর নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।

    মামলায় ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন হওয়ায় তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও পরবর্তী তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করা এবং সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে ঘটনাটি ভারতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত সংস্থাগুলো বিদেশি যোগাযোগ, তথ্য পাচারের সম্ভাব্য পথ এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।

  • জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব  আদালতের রায় মানলেন না ট্রাম্প

    জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আদালতের রায় মানলেন না ট্রাম্প

    সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেন তিনি।

    এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করলেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর আগের একটি চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন।

    অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করা। হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য, কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা ‘সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ’ বন্ধ করা। এ প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন।

    গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল তিনি নির্বাহী আদেশের পথই বেছে নেন। এমন আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিত হলেও তা কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো শক্তিশালী নয়।

    এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ, এবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বাড়ানো।

    ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে গতকাল নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।’

    জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার দিন (৩০ জুন) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্য

    অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মাঝের এক বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রু দেশের নাগরিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও নির্বাহী আদেশ দুটিতে সীমিত করা হয়েছে।

  • গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

    গণভোটের অধিকার চুরি করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

    রাষ্ট্রসংস্কারের গণভোটের অধিকার সরকার জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রসংস্কারের গণভোটের অধিকার সরকার জনগণের কাছ থেকে চুরি করেছে। দুটি ভোটে অংশ নিলেও তারা একটি ভোট মেনে নেয়নি।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে কোনো সার্বজনীন কর্মসূচি নেই। তার দাবি, আওয়ামী লীগ যেমন মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ করেছিল, বর্তমান সরকারও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয়করণের পথে এগোচ্ছে।

    বিদেশে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের যথাযথ কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবেই বিদেশে ওই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার অভিযোগ, দিল্লির সরকার এ সম্মেলনে সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে আপসকামী’ এমন কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি ইতোমধ্যে তাদের বৈধতা হারিয়েছে এবং সরকার একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে।

    তিনি আরও বলেন, কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মতো হয়ে উঠবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল টাইমস,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, একটি প্রাইভেটকার ও একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জীবননগর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি জানান।

    গ্রেফতাররা হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মরহুম আনোয়ারের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়ার জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু (২৮), বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাশেম খাঁর ছেলে টুলু (৪৪), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মরহুম মজিবরের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), মিজানুরের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭) ও আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহমেদ (৩৪)। তাদেরকে আদালতে সোপর্দের পর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, গত ৪ আগস্ট সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর বিশ্বাস (৪৮) যাদবপুর দক্ষিণ মাঠে তার সেচ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি চেম্বার পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, ট্রান্সফরমারগুলোর প্রতিটিতে থাকা প্রায় ১০ কেজি ওজনের তামার কয়েলসহ মোট ৩০ কেজি তামা এবং ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল চুরি হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই দিন অপর সেচ ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামও তার একটি ট্রান্সফরমার থেকে তামা ও তেল চুরির অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জাফর জীবননগর থানায় একটি মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের তামার কয়েল, কপার, অন্য যন্ত্রাংশ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

    ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে মূল্যবান তামা, তেল ও অন্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও চক্রটির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’