আইন-আদালত

  • ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন রোধে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে: আইনমন্ত্রী

    ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন রোধে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে: আইনমন্ত্রী

    দেশে মুখোশধারী অনেকেই এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    আইনমন্ত্রী বলেন, যে ফ্যাসিস্ট সরকার হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে, ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু ও অন্ধ করেছে, সেই ফ্যাসিস্টদের যারা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কেউ যেন আর ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।

    তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ রেখে যেতে হবে। কাজ করলে ভুল হবে। ভুলকে সংশোধন করে এগিয়ে যেতে হবে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আদর্শে এগিয়ে যেতে হবে। দেশকে গণতন্ত্র, আইনের শাসনের স্বাদ দিতে এমন একটা দেশ গড়ার দিকে যেতে হবে। যেন ফ্যাসিজম আর ফিরে না আসে। সেই সঙ্গে আমরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি।

    বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বানও জানান আইনমন্ত্রী।

  • রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক আলোচিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত কোনো অপরাধের আসামিরা পার পায়নি; বরং পুলিশ অত্যন্ত যৌক্তিক সময় ও তৎপরতার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে এমন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি, যার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়, আর এটাই বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ’

    রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওই ঘটনাটি ঘটার পর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতভর অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এছাড়া ‘রামিসা হত্যা’ মামলাসহ বেশ কিছু আলোচিত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এত অল্প মেয়াদের মধ্যে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, যেকোনো দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া ব্যবস্থায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    তিনি আশ্বস্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিগগিরই এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেন তারা নিখুঁতভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে এবং এটি একটি প্রকৃত জনপ্রত্যাশিত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    আমাদের ধর্ম নিয়ে কথা বলার বিচারপতি কে?

    ধর্ম আমাদের। আমরা বুঝব। আদালত কে, এই বিষয়ে কথা বলার। ’ হিজাব ইস্যুতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পালটা এমনটাই জানালেন মিম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তার দাবি, ‘ধর্ম বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলে আমরা নেব। বিচারপতি কে?’ সাংসদের এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলপড়ুয়া। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ‘হিজাব পরাটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক কোনও বিষয় নয়। স্রেফ ধর্ম পালনে স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে স্কুল ইউনিফর্মের গুরুত্বকে খাটো করা যায় না। ’ আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আদালতের রায়ের সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, এটা আমাদের ধর্ম।

    আমাদের যা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর সরাসরি আক্রমণ।

    ওয়েইসির মতে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ সংবিধানের ১৯ (মত প্রকাশের স্বাধীনতা) এবং ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শবরীমালা মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে হাইকোর্টের এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।

    শুধু তাই নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত মুসলিম মহিলাদের শিক্ষায় খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম মহিলাদের ভর্তির হার গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারাপ প্রভাব ফেলবে। সাংসদের কথায়, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ এই নয় যে সবার উপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে। ”

    উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্টে পড়ুয়ার আবেদন ছিল, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরত সে। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও আপত্তি করেননি। কিন্তু একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু হয় সমস্যা। তারপরেই ওই পড়ুয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার আবেদন, ধর্মপালনের স্বাধীনতা রয়েছে প্রত্যেক মানুষেরই।

    তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হিসাবে হিজাব পরে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা এবং পোশাক বিধির অধিকার রয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পোশাক বিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। হাইকোর্ট জানায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হিজাব পরা যে ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা, এমন কোনও ধর্মীয় প্রমাণ নেই।

  • চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ১৩ হাজার কেজি সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি সার জব্দের পর অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে খাইরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    এ সময় জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমান সার জব্দ ও জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ, মুনিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলী দফাদারসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম তার সার বিক্রেতা হিসেবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অথচ তার দোকানে ২৮ বস্তা এমওপি, ১৪৭ বস্তা টিএসপি, ৯ বস্তা ডিএপি এবং ৮৭ বস্তা ইউরিয়া সর্বমোট ২৭১ বস্তা সার গুদামজাত করা ছিলো। যার খুচরা বিক্রয় মূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা।

    পরে সার জব্দ করে সরকারি নায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

    আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসলেন ত্রিবেদী এছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমান সার মজুদ করার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী ২০,০০০ ( বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন। পরে খাইরুল ইসলাম জরিমানা পরিশোধ করেন। একইসাথে তিনি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে সার মজুদ বা ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

  • মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জে ২০০৯ সালের আলোচিত আব্দুল মজিদ হিরন হত্যা মামলায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাছিম বিল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মর্জিনা, ফালানী, মিজান খান, রুস্তম খান, সবুজ আহমেদ, সেলিম মিয়া, আনিস ও রফিক।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সাটুরিয়ার রাইল্যা গ্রামের আব্দুল মজিদ হিরন নামাজ ও খাওয়া শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ের একটি মেহগনি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারে হিরনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

    দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। একই মামলায় আরও সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলা চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হয়।

  • রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মরহুম মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মরহুম রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

    নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

    গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

    শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।

    নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বিশেষ নির্দেশকে কেন্দ্র করে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠেছে। তাকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ এবং চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।

    ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইমরানের পরিবার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করছে, কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছে।

    তবে বিতর্কের মূল বিষয় ইমরানকে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো—দেশটির অন্য বন্দিরা একই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে তারা কি একই সুবিধা পাবেন?

    পাকিস্তানের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরান খান অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি অন্য বন্দিদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তা আইনের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

    গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন

    সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সময় তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি আদালতের হাতে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরানের রক্তচাপ ১৪০/১০০ পান। তাকে রক্তচাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার রক্তচাপ ১৪০/৮০ পায় এবং প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দেয়।

    তবে এসব তথ্য গুরুতর চিকিৎসা জরুরি অবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর কয়েক দিন পর ২১ আগস্ট ইমরানের বোন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা খান সংবাদ সম্মেলনে তার ভাইকে ‘১০০ শতাংশ ফিট’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইমরানকে মানসিক নির্যাতন, একাকী রাখা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পরিবার দাবি করেছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় একটি অংশ তিনি হারিয়েছেন। সরকার অবশ্য এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে তার চোখের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হয়।

    পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৩ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর ইমরানের প্রায় ৩০ বার বিভিন্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে।

    অন্য বন্দিরা কি একই সুবিধা পাবেন?

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে চলমান বিতর্কে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—একই ধরনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে অন্য কোনো বন্দি আদালতের দ্বারস্থ হলে তাকেও কি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে?

    বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, কত দিন হাসপাতালে রাখা হবে এবং কখন তাকে কারাগারে ফেরানো হবে—এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    ইমরান খানের ঘটনা পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সামনে তাই একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইনের চোখে সব বন্দি কি সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন?

  • কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    কাবিননামায় আগের বিয়ের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট

    বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেছেন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

    আবেদনে বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত এবং যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত না করে কাবিননামা হালনাগাদে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন সুরক্ষায় ফরমটি সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না। এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরর চৌগাচা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যশোর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম তাঁর হাতে এ শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

    চৌগাছা থানার এই সফল কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য, সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ভূমিকা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। বলাচলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করেছেন তিনি। নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানায় দায়িত্ব পালনে ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বটে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, সততা, সাহস, কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের একান্ত সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

  • সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। গ্রেফতার ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০)।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

    জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতার হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মরহুম আলী আকবর শেখের ছেলে।

    সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এ,আর

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ সোমবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া বিচার বিভাগের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

    গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবনে ওঠেন রাষ্ট্রপতি।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন   পলাতক ১ জন ।

    মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন পলাতক ১ জন ।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহ জেলার সম্মানিত জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, মহেশপুর থানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ২০ (বিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অপর ০১ জন আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ১২নং আজমপুর ইউনিয়নের আজমপুর মন্ডলপাড়া এলাকায় মহেশপুর-জামতলা পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম রাত আনুমানিক ৮:১৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

    এ সময় পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ১। মোঃ আসিফ (২০), পিতা-রবিউল ইসলাম, সাং-আজমপুর, থানা-মহেশপুরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তবে অপর আসামী ২। মোঃ রানা (২৫), পিতা-হাবিবুর রহমান, সাং-আজমপুর (খাঁ পাড়া) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীগণের সম্মুখে ধৃত আসামী আসিফ-এর দেহ তল্লাশী করে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট হতে ২০ (বিশ) পিচ হালকা গোলাপী রঙের অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মহেশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩৩, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

    মাদক মুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্যে মহেশপুর থানা পুলিশের এই ধরণের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নুসরাত হত্যা মামলার সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা খর্ব

    নুসরাত হত্যা মামলার সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা খর্ব

    বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় নির্বিচারে সব আসামিকে ফাঁসির রায় দেওয়ায় ফেনীর তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ওই সময়ের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারিক আদালত এভাবে নির্বিচারে ফাঁসি দিতে গিয়ে যেভাবে প্রতিটা পরিবারের ওপর একটা ডিভাস্টেটিং ইফেক্ট (বিপর্যয়) নেমে এসেছে, এই জন্য তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

    বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলো— সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলো– উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

    খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন– মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল এবং কামরুন নাহার মনি।

    আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির, অ‍্যাডভোকেট আব্দুল মোমিন, অ‍্যাডভোকেট আদনান ইয়াজদানী ও ব্যারিস্টার আল মামুন। অন‍্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

  • লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।

    মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো: আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

    তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

    এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

    রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসাথে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই দু’টি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।

    অপর আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

    রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা মো: জাহিদুল আলম ঝুনু বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ২২/৮/২০২৬ইং।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান রোববার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন—উপজেলার করফা গ্রামের সিরু মুন্সীর ছেলে বাবুল মুন্সী, গিলাতলা গ্রামের কাদের মোল্যার ছেলে রিয়াজুল মেম্বর, কাশিপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে তরিকুল খান, বয়রা গ্রামের এমদাদ কাজীর ছেলে ওহিদ কাজী, পদ্মবিলা গ্রামের রফিকুল শেখের ছেলে রাহুল শেখ, ঈশানগাতী গ্রামের মান্নাফ শেখের ছেলে ফরিদ মেম্বর, গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ইউনুস শেখের ছেলে সদর উদ্দিন শামীম ও তার ভাই সগীর উদ্দিন সনেট, উলা গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে মশিয়ার রহমান শেখ, বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে আ: কাদের শেখ, গোপীনাথপুর গ্রামের আজিমউদ্দিন শিকদারের ছেলে বাবু শিকদার, একই গ্রামের বক্কার শেখের ছেলে পলাশ শেখ, লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার বাঁশি মোল্যার ছেলে সজীব রাজ, ইতনার ইসমাইল শেখের ছেলে ইসলাম শেখ, একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে সুহাস শেখ, ধলইতলা গ্রামের জলিল গাজীর ছেলে ওহিদুল গাজী, একই গ্রামের ধলু শেখের ছেলে খায়রুল শেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।

    পুলিশ ও দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। ২১ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের মশিয়ার জমাদ্দারের বাড়ির অদূরে চাচই-সিডি বাজার সড়কে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। পরবর্তীতে ওই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেসহ অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যা-অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জনগণের সামনে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, দায়েরকৃত মামলার আসামি শহরের গোপীনাথপুর গ্রামের মরহুম ইউনুস শেখের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শেখ সগীর উদ্দিন সনেট (২৮) ও জয়পুর ইউনিয়নের বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আ. কাদের শেখকে (৩১) শনিবার শেষরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

  • ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীতে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

    মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবী। পরে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গোসল করে খুনিরা। পরে বয়ামে রাখা খেজুর খাওয়ার পর ইয়াবা সেবন করে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

    ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় ঘটনার মোটিভ।

    গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্রিফিংয়ে। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত শেষ রাতে পার্শ্ববর্তী দেবু চক্রবর্তীর বাসার ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে এবং ইয়াবা সেবন করে।

    ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে যান। তিনি সে সময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গামছা ছিল। তিনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ছাদে বসে আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পায়। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করে।

    কমিশনার আরো দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা বাসারি নিচে থেকে উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপরে যাওয়ার সময় খুনি দু’জন তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    পরে গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে ও মেয়ের হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসে। এ সময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রার্থী চকবর্তীকে মারার পরে খুনিরা নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে।

    এ সময় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রিয়ম নামে ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে তাদের পরিচয় বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দু’জনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, শুধু খুন করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়ামে খেজুর ছিল।

    খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে এক পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেটি সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। এ সময় দু’জন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

    সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করছে সিদ্ধার্থ। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন তা ভালো করে চেনে। সে কারণে একটা স্বর্ণের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে।

    আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে, একটা স্বর্ণের চুরি পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল। তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।

    তিনি বলেন, পুলিশ যেন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে।

    দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসায় থাকা দুইটা মোবাইলফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দিয়েছিল। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দু’জনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করে।

    সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয় খুনিরা। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা ক্রয় করে।

    তিনি বলেন, এরপরও আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে। নতুন কোনো কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তী। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি চক্রবর্তী।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ থেকে, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী (৫৫) ও মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তীর লাশ (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

    নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সবশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই। কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।

    তিনি আরো বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি, তারাও কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেট খুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢুকে দেখি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।

    নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতোয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা সিল করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলেকোঠার নিচে মা প্রীতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী, ছাদে উঠার দরজার বাম পাশে গণপতি চক্রবর্তী এবং দোতলার খাটের নিচে প্রিয়মের লাশ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডি কার্ড।

    রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যেকটি লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট এলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি, সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।

    মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

  • ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেফতার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেফতার, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহ নগরীতে পশু চিকিৎসক মো: আশিকুর রহমানকে চেম্বারে ঢুকে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগের মামলায় আফরিন রশিদ সেঁজুতি (২০) নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৩ আগস্ট) নগরের আকুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরের জিলা স্কুলের পাশের একটি গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে চেম্বার পরিচালনা করেন পশু চিকিৎসক ডা: আশিকুর রহমান। সেখানে পোষা প্রাণীর চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন উপকরণ বিক্রি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন তার চেম্বারে ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও চেম্বারে ভাঙচুর করা হয়।

    ঘটনার ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে এক নারীকে চিকিৎসককে জুতা দিয়ে মারধর করতে দেখা যায়। এ সময় পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং একপর্যায়ে তিনিও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।

    চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদ, ঈশানের স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় চেম্বারের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন চিকিৎসক।

    এ ঘটনায় চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি ডা: আশিকুর রহমানের।

    শনিবার (২২ আগস্ট) তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি, সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

    এদিকে, হামলার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসক বলেন, চাঁদা দাবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধও থাকতে পারে। প্রায় এক বছর আগে একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চা প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফরিন রশিদ সেঁজুতির সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে লেখালেখির পেছনে তার হাত রয়েছে—এমন ভুল ধারণা থেকেও তার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পোষা বিড়াল মারা যাওয়ায় ময়মনসিংহে পশু চিকিৎসকের ওপর হামলা’ শিরোনামে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। এরপর কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল তদন্ত শুরু করে। ভিডিও পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে শনাক্ত করে রোববার আকুয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে হামলার ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’

    অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়।

    এ ঘটনায় গ্রেফতার আফরিন রশিদ সেঁজুতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার সাথে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।

  • গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা : রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চোরাই অটোরিকশা ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে মো: কিবরিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পিবিআই জানায়, নিহত আতাউর রহমান আতা (৬০) কাপাসিয়া উপজেলার মিজজানগর এলাকার একজন কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাত ৮টার আগে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মিজজানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে ছিনতাইকারীরা তাকে আটক করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তার অটোরিকশা ও একটি বাটন মোবাইলফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

    এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে আতাউর রহমানের ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুনও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো: মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে পিবিআইয়ের একটি দল তদন্ত শুরু করে। অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ‍দু’জন হলেন— কাপাসিয়া থানার ভাগটিয়া চালার বাজার গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) ও মিজজানগর এলাকার নাছির উদ্দীনের ছেলে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)।

    তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থানাধীন হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। চোরাই অটোরিকশাটি ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো: কিবরিয়াকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির নগদ ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার রাজীব খান ও নকিবুল হাসান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন এবং নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় আতাউর রহমানকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়া হয়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট বিকেলে আতাউর রহমানকে ফোন করে ডেকে নির্জন কলাবাগানের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রশি দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি নরসিংদীর হাতিরদিয়া এলাকায় ধুয়ে পরিষ্কার করে কিবরিয়ার কাছে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

    পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার বলেন, ‘একজন নিরীহ অটোরিকশাচালককে হত্যা এবং তার পরপরই শোকাহত মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। অপরাধীরা ভেবেছিল নির্জন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু পিবিআইয়ের পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা মূল আসামিদের গ্রেফতার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ে আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিলের জন্য তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

    মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

  • রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    প্রথমে এক বাড়িতে ইয়াবা সেবন, পরে ছাদ টপকে আসেন আরেক বাড়ির ছাদে। বাড়ির মালিকের চোখে পড়ে যাওয়ায় একে একে খুন করেন তাকেসহ পরিবারের চারজনকে। রাতভর হত্যা শেষে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ছিলেন ওই বাড়িতেই। এরপর ফের ছাদ টপকে পালিয়ে যান দুজন।

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার এই বর্ণনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আজ রবিবার ভোরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন, নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা প্রায়ই এলাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে বসে ইয়াবা সেবন করতেন, বলছে পুলিশ।

    রবিবার দুপুরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মাছুয়াপাড়া এলাকায় দোতলা বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। একই এলাকার হওয়ায় আসামিরা ছিলেন পরিচিত। গণপতিকে ‘স্যার’ ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ ডাকতেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাদের ছোট ছেলে প্রিয়মের সঙ্গে এলাকায় খেলাধুলা করত সিদ্ধার্থের ছোট ভাই।

    গণপতির বাড়িটি নির্মাণাধীন। পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে তাকেসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আর মরদেহ উদ্ধার হলো গতকাল শনিবার মধ্যরাতে।

    আরএমপির বর্ণনা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর পাশের বাড়ির ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে আসেন তারা। সেখানে আরেক দফা ইয়াবা সেবন করে দিচ্ছিলেন আড্ডা।

    ছাদে শব্দ শুনে দেখতে যান গণপতি। চিনে ফেলেন দুজনকে, বাধা দেন মাদক সেবনে। পরিচয় প্রকাশ হওয়ার শঙ্কায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

    হট্টগোল শুনে ছাদে উঠতে গেলে সিঁড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতাকে। এরপর ঘরে ঢুকে রশি পেঁচিয়ে মারা হয় তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকে। সবশেষে ঘুমন্ত ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

    একে একে সবাইকে হত্যার পর সকালের দিকে গোসল করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর খেজুর ও শসা খান তারা। আরেক দফা সেবন করেন ইয়াবা। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় রাস্তায় লোকজন কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দুজন।

    এর মধ্যে ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশে আসবাবপত্র তছনছ করেন। সঙ্গে নেন কিছু স্বর্ণালংকার। দুপুরের দিকে ছাদে উঠে ফের টপকে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে নেমে চলে যান দুজন। স্বর্ণালংকারগুলো এলাকার মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেন।

    আরএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তছনছ হওয়া আসবাবপত্র দেখে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা হয়েছিল। পরে ইয়াবাসহ বেশকিছু আলামত জব্দের পর তদন্ত করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে মন্দিরের পেছন থেকে স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। দুজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায় আরএমপি।

  • কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের বাদুরগাছা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে হাবিব নামে এক ব্যক্তিকে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলাতেই দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন। এতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    অপর মামলাটি করেছেন গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই যশোর শহরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ মামলায়ও দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদকে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগে হাবিব ও সুমনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের হাত-পা বেঁধে একটি বাঁশের সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন সুমন।

    খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাবিবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সময় মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মামলা ও তদন্তের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    যুক্তরাজ্যে ১০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন

    গত জুনে ব্রিটিশ কমান্ডোদের হাতে গ্রেপ্তার হন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের একটি তেলবাহী জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পান্থ। ৩৮ বছর বয়সী অজয় পান্থ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। মামলাটি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের ক্ষেত্রে একটি আইনি নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে তাঁর স্ত্রী দাবি করেছেন, অজয় পান্থকে এ ঘটনায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৬ বছর বয়সী ঋতু পান্থ বলেন, ‘আমার স্বামীকে শুধু বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তিনি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন।’

    গত ১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার স্মিরতোসে একটি হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নেমে এটিকে আটক করেন ব্রিটিশ কমান্ডোরা। জাহাজটির ক্যাপ্টেন ছিলেন অজয় পান্থ।

    অভিযোগ রয়েছে, স্মিরতোস রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিটের’ অংশ। অস্পষ্ট মালিকানা ও বীমাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত জাহাজের এই নেটওয়ার্ক ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর আরোপ করা তেল নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে মস্কো ব্যবহার করে।

    মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, স্মিরতোস গত ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বাল্টিক সাগর পেরিয়ে জাহাজটির গন্তব্য হিসেবে মিসরের পোর্ট সাঈদের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের সময় জাহাজটির ওপর অভিযান চালান ব্রিটিশ কমান্ডোরা।

    যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ অভিযানকে রাশিয়ার জন্য একটি ‘ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    পান্থের স্ত্রী বলেন, তাঁর স্বামী এ ঘটনার শিকার। জামিন না পাওয়ায় হেফাজতে থেকে তিনি কঠিন সময় পার করছেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের প্রথম ফোনালাপের কথা স্মরণ করে চোখের পানি সামলানোর চেষ্টা করতে করতে ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং শুধু কাঁদছিলেন।’

    তিনি বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, তিনি তা বুঝতে পারেননি…তিনি শুধু বলেছিলেন, “আমি কারাগারে আছি, দয়া করে আমাকে এখান থেকে বের করে নাও।”’

    এদিকে প্রসিকিউশন দাবি করছে, অজয় পান্থ ছিলেন জাহাজটির ‘মাস্টার’ বা ক্যাপ্টেন এবং প্রায় ৯৮ হাজার টন তেলের চালান সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল। তবে আদালতের এক শুনানিতে পান্থের আইনজীবী বলেন, জাহাজের কর্মী হিসেবে তিনি ‘শুধু নির্দেশ পালন করছিলেন’।

    তাঁর স্ত্রীও একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। ঋতু পান্থ বলেন, ‘যেকোনো জাহাজে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব হলো পণ্য নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।’

    ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল–এর আনোয়ার সাদাত বলেন, এ মামলায় ‘জটিল’ আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

    আগামী ১৫ ডিসেম্বর পান্থের বিচার শুরু হওয়ার কথা। রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলো যখন পদক্ষেপ জোরদার করছে, তখন মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

    ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের কোনো দেশ প্রথমবারের মতো জাহাজ বা এর মালিকদের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাট সি ইন্টারন্যাশনালের ডেভিড হ্যামন্ড লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের জন্য লেখা এক বিশ্লেষণে বলেন, ‘এই মামলার প্রভাব একটি জাহাজ, এর পণ্য বা এর ক্যাপ্টেনের ভাগ্যের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।’

    তিনি বলেন, ‘শ্যাডো ফ্লিটের পরিচালকদের পাশাপাশি এসব জাহাজে কর্মরত নাবিকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পশ্চিমা সরকারগুলো কতটা এগোতে প্রস্তুত, এ মামলা তার প্রাথমিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।’

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা পান্থের ‘খোঁজখবর নিতে’ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।

    পান্থ ছিলেন জাহাজে থাকা একমাত্র নাবিক, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জাহাজটির বাকি ২৪ ক্রু সদস্যের বেশির ভাগকে এরই মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি এখনো ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নোঙর করা রয়েছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েনে ‘মাঝখানে আটকে পড়ার’ আশঙ্কায় নাবিকেরা ভীত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নাবিকবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ক স্টিভ ইয়ান্ডেল। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নাবিকেরা জানতেই পারেন না, তাঁদের জাহাজে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল বহন করা হচ্ছে কি না। আর এর ফলে তাঁরা সম্ভাব্যভাবে ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

    ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি নাবিক নিয়ে ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন খাতের কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশ।

    ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ভারতীয় ট্যাংকার ক্যাপ্টেন সংকেত জোশি বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো ইস্যুর পরিবর্তে ‘বাণিজ্যিক দিক’ বিবেচনায় কোনো জাহাজের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

    গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে পান্থ তাঁর স্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির আশপাশে সমুদ্রে কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার আরেকটি সংঘাতের প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

    ঋতু পান্থ বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, এখন সমুদ্র খুব কঠিন জায়গা হয়ে উঠছে। আমি শুধু প্রার্থনা করছিলাম এবং তাঁকে বলছিলাম, “শান্ত থেকো, সতর্ক থেকো এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখো।”’

    পান্থের মা দীপা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দুই হাত জোড় করে সরকারের কাছে আবেদন করতে চাই, আমার ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিন।’

  • মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোটচাঁদপুরে জোরদার হবে পুলিশের অভিযান

    মাদক কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোটচাঁদপুরে জোরদার হবে পুলিশের অভিযান

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উপজেলাকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান।

    গত রাত ৮টার দিকে থানার ওসির কক্ষে স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    ওসি আজাদ রহমান বলেন, কোটচাঁদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও চোরাচালান, কিশোর গ্যাং এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে

    এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এসবের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু পুলিশি তৎপরতায় একটি উপজেলাকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোটচাঁদপুরের কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা কোটচাঁদপুরের মাদক সমস্যা, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

    বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সরকারের সেই নীতিকে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

    তিনি আরও বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ওই নীতি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আইনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    রায়ে বিচারক লিখেছেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এই নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অকার্যকর করে দেয়। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই স্থগিতাদেশের আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো দেশ; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশ; দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও অনেক দেশের নাগরিকরা পড়েন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন বলে, এসব দেশের আবেদনকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভর করার উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছেন। বিচারকের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ দেয়া বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং নির্ধারিত দেশগুলোর অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই রায় দেন।

    ওই মার্কিন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাদের ভিসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে তার কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে তুলে ধরেন।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ও নজরদারি বা ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে  দুইটি হত্যা

    এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠের কাছে পরপর এলাকার আধিপত্য, মাদক কারবার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। নগরীর টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি গ্রেফতারের পর র‌্যারেব কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

    এর আগে গত শুক্রবার গোপালগঞ্জ জেলার মাঝিগাতী বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সাগর আহম্মেদ নামে সাইফির আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাগর আহমেদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘নগরীর টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনী। টুটপাড়ার সন্ত্রাসী সাইফি গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানির হয়ে কাজ করে। অপরদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদকের কারবার করে। এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।’

    তিনি বলেন, “গত ১৯ আগস্ট নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মো: নাজমুল ইসলামকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। তদন্তের একপর্যায়ে সন্ত্রাসী আলমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেফতারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী রাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি ও রাকিব হত্যাকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নাজমুল তার দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল প্রতিপক্ষ ‘রোহান পলাশ’ গ্রুপের সাথে ছিল।”

    তিনি জানান, ‘সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দলের সদস্য নাজমুলকে সন্ত্রাসী রফিক আটক করে ভিডিও কলে রেখে কোপ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইফি ও তার দলের ১৫/১৬ জন প্রতিশোধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষের মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তাকে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিরাদেরকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

  • আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগে একটি পিটিশন দায়ের করেছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

    আজ শনিবার পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে ইমরান খানের বোন উজমা খান ও আইনজীবী উজাইর ভান্ডারির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই পিটিশন দাখিল করেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করার পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সরকারের এ সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেছেন, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে ও সেখানে যাওয়ার পথে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ কারণে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    তবে তারার দাবি করেন, শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও পিআইএমএসে উপস্থিত ছিলেন।

    পিটিআইয়ের পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের গত মঙ্গলবারের আদেশ লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালত অবমাননার জন্য দোষী ঘোষণা করে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে তাঁর চিকিৎসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগেরও আবেদন করেছে পিটিআই।

  • রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    রায় কার্যকর করতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

    শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র। ’

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাফহিমুল ইসলাম মারুফ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ইসহাক খন্দকার।

    নোবিপ্রবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থীকে কুরআন শরিফ উপহার দেয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই, কলম, ফুলসহ বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুররেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুররেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

    গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার ঘটনায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও কর্মকর্তা আফেক মোসকোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে তুরস্ক। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    গুরলেক বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম ইস্তাম্বুলের ১১তম হেভি ক্রিমিনাল কোর্টে চলমান রয়েছে। ২০২৬/১০৮ নম্বর মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচও রয়েছেন।

    গুরলেক জানান, গণহত্যার অভিযোগে গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর তাদের আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিতে তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    তুরস্কের বিচারমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান এবং তাদের আটক করার ঘটনায় নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিচার চলছে।

    তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, গুরুতরভাবে স্বাধীনতা হরণ, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর ধরনের ডাকাতি এবং পরিবহনযান ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    গুরলেক বলেন, গাজায় ইসরাইলি সরকারের নীতির কারণে নেতানিয়াহু সরকার কোনো ধরনের জবাবদিহির বাইরে থাকবে- এমন ধারণা তুরস্ক প্রত্যাখ্যান করে।

    তুরস্ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। গুরলেক আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণ এবং নিপীড়নের শিকার অন্যান্য মানুষের পাশে থাকবে।

  • নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়নগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী মামলার বাদীকে হত্যা, বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ গ্রেফতার ৯

    নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জের ধরে রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বাহিনীপ্রধান সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল ২২নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলা তুলে না নেওয়া এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকালে বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা বেলা পৌনে ১১টায় অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে জুমার নামাজের কিছু আগে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

    এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে ২৩নং ওয়ার্ড বন্দরে কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ (২৮) ওই বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার শেখ সিফাত ২১নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বন্দরের বারপাড়া এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২) নবীগঞ্জ কদমরসুল ফকিরবাড়ি এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার আবদুস সোবহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার সুলাইমানের ছেলে সিয়াম (২৫), বন্দর চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯), সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার মাসুদের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৬) ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬)।

    এ ব্যাপারে নিহত বুলবুলের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিনকে বাদী করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তার মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বুলবুলের গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন জানান।

    এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। শেখ সিফাত ওই মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে একা পেয়ে ঘিরে ধরে সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে চাপ প্রয়োগ করে তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে সড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত শেখ সিফাত ও তার আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ বাহিনীর ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    দামুড়হুদায় মাদক মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনসহ (৬০) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে ৬ আগস্ট দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি জয়রামপুর কলোনীপাড়ার মৃত রহিম বক্সের ছেলে হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো: স্বপনকে ২১ আগস্ট ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে জয়রামপুর কলোনীপাড়া এলাকার পাকা সড়ক থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ ছাড়া ২৮ জুলাই দায়ের করা অপর একটি মাদক মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হুদাপাড়ার মৃত আনসার আলীর ছেলে মো: ইয়াসিন আলী ওরফে কালুকে (৩৪) ২১ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং একই মামলার আরেক আসামি জয়রামপুর মালিথাপাড়ার মো: বিপ্লবকে (২২) ২০ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে রড বহনকারী চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: রিয়াদ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার হাফিজ মোল্লার ছেলে ট্রাকের হেলপার মো: হাদিছ মোল্লা ও নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর থানার মরহুম কাঞ্চন শেখের ছেলে আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড একটি ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে রডবোঝাই ট্রাক চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই চুরি যাওয়া রড উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করি। পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একইসাথে আন্তঃজেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর বাজারের আয়ান এন্টারপ্রাইজ থেকে ১২ টন ১০০ কেজি চুরি যাওয়া রড উদ্ধার করা হয়। পরে ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড বহনকারী ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা ও চুরি যাওয়া বাকি রডের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া রড ও ট্রাক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেফতারদের মধ্যে রিয়াদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

  • ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মো: ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসাথে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।

    এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার মো: ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো: রতন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • দেহে কৃত্রিম পরিবর্তন নিষিদ্ধ

    দেহে কৃত্রিম পরিবর্তন নিষিদ্ধ

    আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, ‘অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’ (সুরা তিন: ৪)। এমনইভাবে আল্লাহ পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিকে সুনিপুণভাবে তার যথাযথ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। বস্তু ও প্রাণিজগতের আকার-আকৃতি, চলন-বলন ও অঙ্গভঙ্গি—সবকিছুই উৎকৃষ্টতার বিচারে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। এ বিষয়গুলো মানুষের সাধারণ বিচার-বিবেচনা ও গবেষণার আয়ত্তের বাইরে থাকায় অনেকেই আল্লাহর এই অসীম ক্ষমতার সমালোচনা করে এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মানব ও পশুদেহে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটায়। যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক দৈহিক পরিবর্তন অস্বস্তি ও রোগব্যাধি ছাড়া ভালো কিছু বয়ে আনে না।

    সুরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, শয়তান আল্লাহ তায়ালাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সে মানুষকে প্ররোচিত করে আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটাবে। বর্তমান বিশ্বে এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। অনেকেই শরীরে ট্যাটু আঁকা, প্লাস্টিক সার্জারি ও ট্র্যান্সহিউম্যানিজমসহ নানাভাবে দৈহিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে স্পষ্ট নিষিদ্ধ ও গর্হিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) শরীরে উলকি বা ট্যাটু আঁকতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, ৫৪০৮)সাধারণ মুসলিমদের একটি অংশ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অজান্তেই এমন কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। ফ্যাশনের নামে চেহারা ও শরীরের স্বাভাবিক গঠনকে পরিবর্তন করছেন। আল্লাহ প্রদত্ত সুন্দর মানবদেহে এ ধরনের কৃত্রিম পরিবর্তন শুধু আল্লাহর সৃষ্টির অবমাননাই নয়, বরং তাঁর কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার শামিল।

    আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও পার্থিব প্রতিযোগিতার মুখে মানবজাতি আজ সৃষ্টির স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তন করছে। এগুলোর মধ্যে ট্রান্সহিউম্যানিজমের অন্যতম উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষকে অমর করা এবং মানুষের মস্তিষ্কের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করা, যা কেবলই একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। মূলত আল্লাহর সৃষ্টি ও সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি থেকেই মানুষ এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা একজন মুসলিমের জন্য স্পষ্ট নাফরমানি। আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-ইমরানের ৬ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদের আকৃতি দান করেন যেভাবে তিনি চান।’ অর্থাৎ, আমাদের দেহের আকৃতি, রঙ ও উচ্চতা—সবকিছুই আল্লাহর প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ। এতে অন্যায়ভাবে পরিবর্তন আনা আল্লাহর সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার শামিল।

    পৃথিবীতে আমাদের পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা। কিন্তু মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে এসব অবাস্তব প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের মোহে মগ্ন হয়ে ভুলে যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তার অর্পিত দায়িত্ব ও জান্নাতের অনুগ্রহের কথা। পরিশেষে, চিকিৎসাজনিত জরুরি ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে মানবদেহে যেকোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    ইসলামের মূল লক্ষ্য শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে শান্তি ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য কখনো কখনো শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তাই অনেক সময় দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব পরিহার করে আত্মরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নির্যাতিত মানুষের সুরক্ষার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই শক্তি শুধু অস্ত্রশস্ত্র বা সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কৌশলগত দক্ষতা ও নৈতিক নেতৃত্বও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের আলোকে মুসলিম উম্মাহর সামরিক শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিরোধ

    ইসলাম মুসলমানদের আত্মরক্ষা ও শত্রুর আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি অর্জন এবং প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধোপকরণ সংগ্রহ, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহনের ব্যবস্থা, শরীরচর্চা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। কোরআনে নির্দিষ্ট কোনো অস্ত্রের নাম উল্লেখ না করে শক্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে, যা যুগ ও সময়ভেদে পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত করে। অতীতে তীর-তলোয়ার ও বর্শা ছিল যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র; পরে বন্দুক ও কামানের যুগ এসেছে আর বর্তমান যুগে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা প্রচলিত।

    সুতরাং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কৌশল আয়ত্ত করা ইসলামি নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রভান্ডারের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, গোয়েন্দা দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও এর অপরিহার্য অংশ। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক শক্তি অর্জন অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ববাহিনী, তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে, তোমাদের শক্রকে এবং এরা ছাড়া অন্যদের যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা আল-আনফাল : ৬০)

    নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষা

    ইসলামে সামরিক শক্তি অর্জনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলোÑ অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা। যদি দুর্বলদের রক্ষা করা না হয়, তাহলে পৃথিবীতে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করবে এবং সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো তাদের যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ তারা অত্যাচারিত। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম। তাদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ।’ আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিষ্টান সংসার-বিরাগীদের উপাসনা স্থান, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদগুলো; যাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে (তাঁর ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান, চরম পরাক্রমশালী।’ (সুরা আল-হজ : ৩৯-৪০)

    এই আয়াত প্রমাণ করে, সামরিক শক্তি শুধু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং মানবসমাজে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা

    রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইসলাম শান্তিপ্রিয় অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয়। তবে যখন কোনো শক্তি ইসলাম, মুসলমান বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-মুমতাহিনা : ৮)

    সামরিক শক্তি অর্জনে নবীজির অনুপ্রেরণা

    নবী (সা.) মুসলমানদের যুদ্ধোপকরণ প্রস্তুত করা, তীরন্দাজি শেখা, ঘোড়সওয়ারি অনুশীলন করা এবং সামরিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি এসব কাজকে শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়, বরং ইবাদত ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আবু হোসাইন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা একটি তিরের উসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তীর নির্মাতা যে নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করেছে, (জিহাদে) এই তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি করো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজি শিক্ষা করা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়। মুসলিম ব্যক্তির সব ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তীর নিক্ষেপ, ঘোড়ার প্রশিক্ষণ এবং নিজ স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। (কারণ) এগুলো হলো উপকারী ও বিধিসম্মত। (তিরমিজি : ১৬৩৭)

    বোঝা যায়, মুসলিম সমাজকে সর্বদা দক্ষ, সক্ষম ও প্রস্তুত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে সামরিক শক্তি অর্জন কোনো আগ্রাসী মনোভাবের প্রতীক নয়; বরং আত্মরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিপীড়িত মানুষের সুরক্ষার একটি অপরিহার্য উপায়। মুসলিম উম্মাহর জন্য সামরিক শক্তি অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চরিত্রগঠন ও নৈতিক নেতৃত্বে সমৃদ্ধ হওয়াও সমানভাবে জরুরি। তখনই একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে একটি দল নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন– ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা। তাদের মধ্যে জলিলকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য একটি লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নেয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতেরা গাড়িটির পথরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএল ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াত করতেন কাওসার। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। পরে এই তথ্য তিনি ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের জানান।

    জেলে পরিচয়, পরে ডাকাতির পরিকল্পনা
    র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় কারাগারে থাকার সময় ১৮টি মামলার আসামি হাকিমের সাথে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২ আগস্ট হাকিম, কাওসার ও জলিল মোল্লা ডিএল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পুরো এলাকা রেকি করেন। পরে মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন। আর একজন ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করে টাকা বহনকারী গাড়ির গতিবিধি জানাতে থাকেন।

    র‌্যাব জানায়, মুস্তাফিজ নামের ওই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান, টাকা নিয়ে লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়েছে। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে ভ্যানটির পথরোধ করে টাকা লুট করা হয়।

    জলিলের কাছে ছিল ৫৩ লাখ
    র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন চক্রের সদস্যরা। মূল সর্দার জলিল মোল্লার কাছে ছিল ৫৩ লাখ টাকা। ডাকাতির সময় তার হাতে একটি পিস্তল ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    আরেক সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা পান। ডাকাতির সময় তার কাছেও পিস্তল ছিল। তাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    মুস্তাফিজ ১৪ লাখ, শওকত হোসেন দিপু ১০ লাখ, সোহেল ১০ লাখ এবং চাপাতি হাতে থাকা আলী ১০ লাখ টাকা পান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। শওকত হোসেন দিপুর সাথে থাকা আরো একজন সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    র‌্যাব বলছে, হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই রাখা হয়েছিল। তবে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    তিন ধাপে গ্রেফতার
    র‌্যাব জানায়, ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি আগের দুটি মামলার নথি যাচাই করে গত ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।

    জলিলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারাবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল আরো জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত আবাসন প্রতিষ্ঠান চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চীনের একটি আদালত এ রায় দেন। প্রতিষ্ঠানটির পতনের ফলে চীনের অর্থনীতি ও আর্থিক বাজার কেঁপে ওঠার পাঁচ বছর পর এ রায় এল।

    হুই কা ইয়ান একসময় এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। এপ্রিলে তহবিলের অপব্যবহার, অর্থ সংগ্রহের নামে প্রতারণা, বেআইনিভাবে জনগণের আমানত গ্রহণ, বেআইনিভাবে ঋণদান, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সিকিউরিটিজ ইস্যু করা, ঘুষ প্রদানসহ আটটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন তিনি।

    চীনের একসময়কার প্রধান আবাসন প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড ৩০ হাজার কোটি ডলারের দায়–দেনার অধিকাংশ পরিশোধে ব্যর্থ (ডিফল্ট) হয়েছে। তাদের এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নিচের দিকে টেনে রাখা আবাসন খাতের সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘আমাদের অর্থের কী হবে’

    চীনের দক্ষিণের শহর শেনঝেনের আদালতে দেওয়া এই রায়ে হুই কা ইয়ানের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর গল্পের সমাপ্তি ঘটল। তবে এতে এভারগ্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি পাওনাদারদের আশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    এভারগ্র্যান্ডের অবসায়নকারীরা (লিকুইডেটর) এই রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রয়টার্স ইয়ানের আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ২০২৩ সালে এভারগ্র্যান্ডের খেলাপি হওয়ার পর চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছিল। এরপর তাঁকে আর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    আদালত থেকে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, দীর্ঘ হাতাযুক্ত নেভি ব্লু কলার শার্ট পরা ৬৭ বছর বয়সী পাকা চুলের ইয়ান দুই কর্মকর্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আদালত রায় পড়ে শোনাচ্ছেন।

    আদালত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এভারগ্র্যান্ড গ্রুপ, হেংদা রিয়েল এস্টেট এবং হুই কা ইয়ানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও চরম গুরুতর অনিয়ম জড়িত ছিল। এর ফলে গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ক্রেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সব সাধারণ নাগরিককেই মাশুল দিতে হয়েছে।’ আরেকজনের মন্তব্য,‘কারাদণ্ড মূলত তাঁকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বাইরে এলে তাঁর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের অর্থের কী হবে?’

    ইয়ানের শাস্তির পাশাপাশি আদালত জানিয়েছেন, তাঁরা এভারগ্র্যান্ডকে ৮৮২ কোটি ইউয়ান(১৩১ কোটি ডলার) এবং এর প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান হেংদাকে ৭০০ কোটি ইউয়ান জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে জরিমানা এবং ৬ থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইয়ান ছাড়া এভারগ্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ৫৬ ব্যক্তিকে আজ বৃহস্পতিবার কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    ওয়েলথ-ম্যানেজমেন্ট প্রোডাক্টের শত শত কোটি ডলার ফেরত দিতে কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছিল। কারণ, অনেক কম আয়ের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাঁদের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।

    আকাশ থেকে তোলা ছবিতে চীনের হাইনান প্রদেশের দানঝৌতে চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের নির্মিত ৩৯টি ভবন। ৬ জানুয়ারি, ২০২২, হাইনান প্রদেশ

    বছরের পর বছর ঝুলছে এভারগ্র্যান্ডের অবসায়ন প্রক্রিয়া

    মধ্য হেনান প্রদেশের এক গ্রামে দাদির কাছে বেড়ে ওঠা সাবেক ইস্পাত টেকনিশিয়ান ইয়ান ১৯৯৬ সালে এভারগ্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। আগ্রাসীভাবে ঋণ নিয়ে বিক্রির দিক থেকে এটিকে চীনের সর্ববৃহৎ আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

    ফোর্বসের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে ইয়ানের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি ডলার, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

    হংকংয়ের এক আদালত ২০২৪ সালে এভারগ্র্যান্ডকে অবসায়নের (লিকুইডেশন) নির্দেশ দেন এবং হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ গত বছর এটিকে তালিকাচ্যুত করে। এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের পতন ত্বরান্বিত হয়।

    অবসায়নকারীদের মতে, অবসায়নপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাওনাদারদের ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের দাবির বিপরীতে মাত্র ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।

    চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবসায়নকারীরা ইয়ান ও তাঁর সাবেক স্ত্রীর অফশোর সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালতে লড়াই করছেন, যাতে প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যান্য সাবেক কর্মকর্তার পরিশোধ করা ৬০০ কোটি ডলারের লভ্যাংশ ও বেতন উদ্ধার করা যায়।

    ২০২৪ সালে চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইয়ানকে ৬৬ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। সিকিউরিটিজ মার্কেট থেকে তাঁকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ, তদন্ত করে দেখা গিয়েছিল, এভারগ্র্যান্ডের মূল শাখা আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতি করেছিল।

  • কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্ত ওই নারীর নাম চাম্পা আক্তার (৪৮)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিন্দ্রীপ গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী। তিনি নিহত হালিমার মেয়ে এবং মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য জানান।

    পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে সিন্দ্রীপ গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী হালিমা। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মেয়ে চাম্পা আক্তার প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে, পরে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর হয়।

    মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বাদী চাম্পার ভূমিকা সন্দেহজনক মনে হয় পিবিআইয়ের। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, প্রতিশোধ নেয়া এবং প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হালিমাকে হত্যা করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আক্তার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এছাড়া হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত কি-না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার ও নবী হোসেনসহ পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর পর সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। বিরোধী দলেরও প্রার্থী আছে। এভাবেই নির্বাচন হওয়া উচিত।

    তিনি আরও বলেন, মানুষ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে পাবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দল এখনো যোগ দেয়নি।

    তিনি বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হবে।

  • চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী রূপা দত্ত। এবার মুম্বাইয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের সামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন পেয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিনেত্রীকে জামিন দিয়েছেন।

    মুম্বাই পুলিশের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ডিম্পল সিঙ্ঘভি নামে এক নারী কোলাবা থানায় চুরির অভিযোগ করেন। তার দাবি, বাবুলনাথ মন্দির থেকে কোলাবার ব্যস্ত এলাকায় যাওয়ার সময় তার পার্স চুরি হয়ে যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের হিরা বসানো স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১০ হাজার টাকা নগদ, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপল এয়ারপডস এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি।

    অভিযোগ পাওয়ার পর কোলাবা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দাবি করে, রূপা দত্তকে অভিযোগকারীর পিছু নিতে দেখা যায়। পরে ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আর এস ভোঁসলের আদালত ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রূপা দত্তকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে মামলার প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না।

    তবে রূপা দত্তের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির শিকার।

    এর আগে ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে রূপা দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

    বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রূপা দত্ত। জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘সাথী’তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

  • বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি ও সরকারি সংস্থার ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এসব হামলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪২টি কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৩১ টেরাবাইটের বেশি একাডেমিক তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, হামলাগুলোর কিছু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চালানো হয়েছিল।

    মার্কিন তদন্তকারীরা সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি সাইবার হামলার সঙ্গেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্রের কথা জানিয়েছেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়েছিল। এসব হামলায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ‘হানজালা’ হ্যাকার গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কৌশলের মিল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।

    এ ছাড়া মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবহন ব্যবস্থায় চালানো একটি সাইবার হামলার ঘটনাও তদন্তে এসেছে। ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গ্যাম্বিট সিকিউরিটির গবেষকেরা ওই হামলার জন্য ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করেছেন।

    তাদের দাবি, হামলায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির ই-মেইল, ব্যাকআপ কপি ও অন্যান্য নথিসহ অন্তত ৭০০ গিগাবাইট তথ্য চুরি করা হয়েছিল।

  • জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

    জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

    দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

    খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

    গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মূলত এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।

    ৯টির মধ্যে বনানী থানার মামলায় ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে এই মামলায়ও তার জামিন বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে তার মুক্তির পথ খোলে।

    আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানিয়েছেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক কারাগার থেকে ধানমন্ডির বাসায় যাবেন।

    খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্য মতে, পৃথক ছয় মামলায় জামিনের পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) করে। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ ৯ আগস্ট আদেশ দেন।

    আপিল বিভাগের আদেশে এ সংক্রান্ত রুল দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া খায়রুল হক দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তার ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

  • আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    একাধিকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি আদালত। আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই মহুয়া মৈত্র একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।

    এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’

    মৈত্রের আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

    পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা), ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া), ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা), ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য)-এর অধীনে করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের আগস্টে নদীয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলার সময় মৈত্রের করা এক মন্তব্যের জেরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

  • আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট এবং একজন জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন।

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ–ভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবেই নেওয়া হলো এই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

    যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আইসিসি গঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য নয়।

    আদালতের স্বাগতিক দেশ নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস তার অসম্মতি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের ধারাবাহিক সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি তোমোকো আকানেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    টম বেরেন্ডসেন আরও লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর স্বাধীনভাবে নিজেদের ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থাকা উচিত।’

    আইসিসির শীর্ষ বিচারক তোমোকো আকানে গত ডিসেম্বরেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ‘সব ধরনের পরিস্থিতি ও মামলায় আদালতের কার্যক্রমকে দ্রুত স্থবির করে দেবে এবং এর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে।’

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ভবনের বাইরের দৃশ্য

    আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে অতীতের একটি তদন্ত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জের ধরে গত বছর আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

    এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত প্রায় সব ব্যাংকেরই নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) গতকাল একটি সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এর আওতায় তোমোকো আকানে এবং আবদুলায়ে সেয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলো গুটিয়ে নিতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুনে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আইসিসির তিন বিচারক। এ পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করেন তাঁরা।

    এ ছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দুটি আলাদা মামলায় বলেছে, বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইসিসির সঙ্গে যেসব সংস্থা কাজ করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ তৎপরতা তাদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

    মার্কো রুবিও গত মাসে বলেছিলেন, আইসিসির কার্যক্রম ব্যাহত করতে মার্কিন প্রশাসন তাদের চেষ্টা আরও জোরদার করবে। এর অংশ হিসেবে অন্য দেশগুলোকে এ সংস্থা ত্যাগ করতে রাজি করানোর জন্য একটি কূটনৈতিক প্রচারণাও চালানো হবে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে।

    রুবিওর যুক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা, মাদক বহনের অভিযোগে নৌযানে অভিযান পরিচালনাকারী দল এবং অন্যান্য মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য এ আদালত এক বড় হুমকি।

    অবশ্য ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, এ প্রচারণার লক্ষ্য নিজেকে বিচার থেকে বাঁচানো নয়, বরং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যদের রক্ষা করা।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

    যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এ আদালতের সদস্য ছিল না। কোনো সদস্যরাষ্ট্র যখন নিজের দেশে ঘটে যাওয়া কোনো নৃশংসতার বিচার করতে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হয়, শুধু তখনই আইসিসি সেখানে নিজের এখতিয়ার খাটায়।

    তবে আইসিসির সংবিধিতে এ-ও বলা আছে যে কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে যদি সদস্য নয় এমন কোনো দেশের নাগরিকও নৃশংস অপরাধ করেন, তবে তাঁর বিচার করার ক্ষমতা এ আদালতের রয়েছে।

  • নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে একব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে (৭১) অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে জানান, নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন তাকে (নাজিম) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। গত ১২ আগস্ট (বুধবার) বিকেল ৫টার দিকে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে তারা অপহরণ করেন বলে অভিযোগ তার।

    নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় পরিকল্পিত ভাবে মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানা-হেচড়া ও কিল-ঘুষি মেরে উপজেলার সামনে রাস্তার উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভ দেওয়ান এবং আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে তার (নাজিম উদ্দিন) মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংক চেকের পাতা চেয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা।

    এ সময় মনিরুজ্জামান মনি, মিরাজ শেখ ও ইমরানসহ অভিযুক্তরা নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এছাড়া তিনটি একশত টাকার স্ট্যাম্প ও দু’টি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন।

    এরপর নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে সৌরভ বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে (নাজিম) উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া একশত টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দু’টি ডেমি ফেরত দেইনি। ভুক্তভোগীর আশঙ্কা স্ট্যাম্প ও দু’টি ডেমি ফেরত না পেলে অভিযুক্তরা ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র তৈরি করে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের নামে মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনটি স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ভুক্তভোগী নাজিম দেওয়ানের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরবর্তীতে গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনিকে দেওয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পর সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও সেই টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনি। এরপর গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে নাজিম দেওয়ানের বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

    তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা বলেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। এসব ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নয়।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুইপক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিন গিয়ে দেখতে পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আট মাস পর ইমরান খানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম দেখা

    আট মাস পর ইমরান খানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম দেখা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান চলতি বছরে প্রথমবারের মতো তার বোন নূরিন নিয়াজি ও স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কারাবন্দি ইমরান খানের জন্য প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের এ নির্দেশের পর ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান পরিবারের সদস্যরা।

    ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

    ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন নূরিন নিয়াজি এ বছর প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারা প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলা সুযোগ পান। কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের সম্মেলনকক্ষে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    নূরিন তার ভাইকে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের বিষয়েও অবহিত করেন। ওই নির্দেশে ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল।

    তবে সাক্ষাতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, সাক্ষাতের সুযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে ইমরান খানকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

    ইমরানের অন্য দুই বোন আলিমা খান ও উজমা খান এবং তার চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তার দলের রাজনৈতিক নেতারাও।

    স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    এদিকে মঙ্গলবার কারাগারের একটি সম্মেলন কক্ষে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইমরান খান ও বুশরা বিবির সাক্ষাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়।

    এর আগে বুশরা বিবি তার সন্তান মুসা ও মুবাশশারা মানেকা এবং তার ননদ মেহরুন্নিসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের এই সাক্ষাৎ প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়।

    মুসা ও মুবাশশারা বুশরা বিবির প্রথম স্বামীর ঘরের সন্তান। প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি ইমরান খানকে বিয়ে করেন।

    এর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুদন্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুদন্ড, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি প্রতিবেশি রবিউল সিকদার রবির (৩৭) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তিন লাখ জরিমানা করেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ আদেশ দেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম। মাত্র নয় কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ফাঁসির আদেশ শুনে দন্ডপ্রাপ্ত রবিউল সিকদার রবি বিমর্ষ ছিলেন। রবি রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি তিনি। জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    এদিকে, রবিউল সিকদার রবির মৃত্যুদন্ডের রায় শুনে আদালতে উপস্থিত শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম সন্তোষ প্রকাশ করে ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের কথা বলেন।

    নড়াইল জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু জানান, মাত্র নয় কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, গত ৪ আগস্ট মাত্র ১১ কার্যদিবসে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডু। মৃত্যুদন্ডের আদেশে বাদিপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। আশা করছি রায় দ্রুত কার্যকর হবে। এ মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর রবি পালিয়ে গেলেও পরেরদিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই জান্নাতুল মাওয়ার বাবা রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদার রবিকে আসামি করে সদর থানায় মামলার দায়ের করেন।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি রবি একজন দুশ্চরিত্র লম্পট, শিশু ধর্ষণকারী ও খুন জখমকারী। রবি আগে দু’টি বিয়ে করেছিল। চরিত্র খারাপ হওয়ার কারণে তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।

    ঘটনার দিন গত ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জান্নাতুল মাওয়াকে নিয়ে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে বাড়িতে আসেন বাবা মফিজুর রহমান। বাজার থেকে নুডুলস আনার পর জান্নাতুলের মা লাবনী খানম মেয়ের জন্য নুডুলস রান্না করে খাওয়ার জন্য তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। জান্নাতুল মাওয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তার বাবা ও মা আশেপাশে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রবির টিনশেডের বসতঘরের খাটের উপর থেকে জান্নাতুল মাওয়ার অচেতন শরীর দেখতে পান। তার গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত ছিল। উদ্ধার করে মাওয়াকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে, রবির ঘরে ঢোকার আগেই জান্নাতুলের বাবা-মার উপস্থিতি টের পেয়ে রবি তার ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

  • শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

    শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

    নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এতথ্য জানিয়েছেন।

    বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন এমন বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

  • দুই সন্তান রেখে ধর্ম বদলে অন্যত্র বিয়ে

    দুই সন্তান রেখে ধর্ম বদলে অন্যত্র বিয়ে

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুসলিম তরুণীকে বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পরিবর্তনের পর ৮ বছর সংসার করার অভিযোগ উঠেছে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে। দুই সন্তান জন্মের পর ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে অন্য এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন তার প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম। মামলায় অর্জুনের মা কৃষ্ণা রানী ঘোষকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন শিপুল। পিবিআইয়ের এসআই মো. জামান আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্জুন ধর হীরা একসময় মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে শিপুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৪ সালে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মো. হীরা মিয়া রাখেন। এরপর শিপুলকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনে ২০১৫ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান এবং ২০২২ সালে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।

    বাদীর অভিযোগ, মুসলিম পরিচয়ে থাকাকালে হীরা নামাজ-রোজাও পালন করতেন। তবে বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তার মা কৃষ্ণা রানীর প্ররোচনায় ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে যান তিনি। পরে গোপনে অন্য এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে শিপুলকে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। মামলায় আরও বলা হয়, প্রতিকারের জন্য ২০২৫ সালের ২০ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন শিপুল। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আপসনামা ও এফিডেভিট করা হয়। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন ও জমি কিনে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শর্ত থাকলেও পরে সেগুলো পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিপুল। শিপুল বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। দুই সন্তানের বাবার পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শঙ্কিত। অভিযোগের বিষয়ে অর্জুন ধর হীরা বলেন, তিনি অনেক আগেই শিপুলকে তালাক দিয়েছেন। এরপর তিনি কী করবেন, তা শিপুলের জানার বিষয় নয়। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

  • ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

    ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

    স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি।বুধবার

    দুপুরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ডা. দীপু মনির মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আছে যে, উনি দিনের আলোতে সর্বোচ্চ বারো ঘণ্টার জন্য মুক্তি দিতে পারেন। এর বেশি হলে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।’

    দীপু মনির মেয়ের আবেদনের পর আইনি বিষয়গুলো নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

    মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

  • মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    মুক্তি পেলেন বিচারপতি খায়রুল

    সব মামলায় জামিন বহাল থাকায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আওয়ামীপন্থি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

    আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটিতে আদালত ‘নো অর্ডার’ বা কোনো হস্তক্ষেপ না করার আদেশ দেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

  • শ্রীপুরে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    শ্রীপুরে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুল কাদির (৫০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার মুলাইদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সন্দেহভাজন আব্দুল কাদিরের গতিবিধি তল্লাশি করে তার কাছ থেকে প্রায় ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার আব্দুল কাদির শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ঝিনাইদহে ১৫ আগস্টে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

    ঝিনাইদহে ১৫ আগস্টে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    মামলায় সাবেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার গাবতলা পাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজিম হোসেন বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    পরে রাতেই শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার দুটি জব্দ করেছে।

    মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ছাত্রলীগ নেতা মো. নাসির উদ্দিন শুভ (৪০), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শেখ শাহিন (২৮), ওবায়দুল হক (২৫), স্বপন গাজী (২৭), মো. রুবায়েত ইসলাম রাহুল (২৭), মো. শরিফুল ইসলাম (৪০), কালাম (৪০), নয়ন আলী (২৩), আকাশ (২২), নাহিদ (২২), মনময় (২৫), ইমন (২২), মো. শাফিন (২৬), ইমন হোসেন ডন (২৭) এবং অপু শেখকে (২৯), আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৪টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত উপজেলা কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পাশে দুটি ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবির পাশাপাশি নাসির উদ্দিন শুভর ছবি ছিল।

    বাদীর অভিযোগ, নাসির উদ্দিন শুভর অর্থায়ন এবং শেখ শাহিনের নির্দেশে অন্য আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ব্যানার দুটি টাঙান। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটচাঁদপুর মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত ৬নং আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

    কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের ব্যানার টাঙানো, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

  • মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    মর্গে কিশোরের লাশ, অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামে নিখোঁজের পর দুই দিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোর সায়েদ মুনিফ আহমেদ শানের লাশ। এদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা পরিবারকে অপহরণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের প্রকাশ করা ছবি দেখে মর্গে থাকা লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে পরিবার।

    শান চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় সে। পরে আর বাসায় ফেরেনি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে পরদিন এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে টাকা দাবি করে ওই ব্যক্তি। পরে ষোলশহর এলাকায় আসতে বলা হয় পরিবারকে।

    বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে জানা যায়, নম্বরটি লোহাগাড়া উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত।

    অন্যদিকে, শনিবার রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে পরিবার ও হালিশহর থানা পুলিশ লাশটি শানের বলে শনাক্ত করে।

    পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, দুই দিন আগে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হলে পরিবার ও হালিশহর থানার পক্ষ থেকে কিশোরটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

    পুলিশ জানায়, শান পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে কোচিং শেষে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল। সেখানে সবাই পানিতে নামলে ঢেউয়ের তোড়ে শান ভেসে যায়। ভয়ে তার চার বন্ধু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় শানের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, শান বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় গিয়ে পানিতে ভেসে যায়। পরে বন্ধুরা ভয় পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

    শানের চাচা গোফরান উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুই দিন ধরে পরিবার তাকে খুঁজলেও মর্গে থাকা লাশটি যে শানের, সে তথ্য তারা আগে জানতে পারেনি। অপহরণের কথা বলে যারা টাকা নিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

  • পুতিনবিরোধী নেতাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড

    পুতিনবিরোধী নেতাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড

    রাশিয়ার সুপরিচিত যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিবিদ এবং লিবারেল দল ‘ইয়াব্লোকো’-র উপপ্রধান লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে পস্কোভ শহরের একটি আদালত।

    রুশ সশস্ত্র বাহিনীকে ‘কলঙ্কিত’ করা এবং তাদের সম্পর্কে ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সি এই নেতাকে এই সাজা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে এই মামলা করা হয়েছিল।

    রায় প্রত্যাখ্যান করে শ্লোসবার্গ জানান, রাজনৈতিক ও নাগরিক অবস্থান বজায় রাখার জন্যই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানান। তার দল ইয়াব্লোকো এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

    এদিকে, এই রায়ের ঠিক আগেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ইয়াব্লোকো দলের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া একমাত্র নিবন্ধিত দল ছিল এটি।

    বর্তমানে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য সব দলই রুশ সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছে। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমলে যুদ্ধকালীন সেন্সরশিপ আইন দিয়ে দেশের ভেতরে যেকোনো ধরনের ভিন্নমত ও বিরোধী স্বর কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

  • ফেনীতে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি সানগ্লাস জব্দ

    ফেনীতে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি সানগ্লাস জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর ফুলগাজী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইউভি সানগ্লাস ও শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার সকালে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

    ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসাথে সীমান্তে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ, সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

  • রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের পীরগাছায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফজলে এলাহী রিপন এবং ফজলে রাব্বী রাসেলের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পকেট গেটের উপরের দেয়াল টপকিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- দুর্বৃত্তরা শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, তাতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় আসবাবপত্র ও পোশাক তছনছ অবস্থায় দেখা যায়।

    খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং কাজের নারীসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন প্রবাসীদ্বয়ের চাচা আব্দুল খালেক সুলতান। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় মনু মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    প্রবাসী ফজলে রাব্বী রাসেল জানান, ‘আমরা দুই ভাই আমেরিকা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পড়াশোনার কারণে স্ত্রী ও সন্তানরা রংপুর শহরে থাকে। সম্প্রতি আমরা রংপুরে এসেছি। আমাদের আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুই ভাইয়ের আমেরিকায় ফিরতি ফ্লাইট। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টায় এলাকা থেকে ফোন আসে বাসায় ডাকাতি হয়েছে। সাথে সাথেই আমরা রংপুর থেকে এসে দেখি ঘরের আলমারি শাবল দিয়ে ভাঙ্গা। আমরা এর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

    বর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে রাতেই আসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটা খুবই ভয়ানক ঘটনা। ওরা দুই ভাই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কিন্তু ওদের বাড়িতে এটা হবে কল্পনাই করা যায় না। যারা চুরি করেছে তারা জানাশোনা লোক বলে আমার মনে হয়।

    রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস। এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো মালামাল উদ্ধার করতে।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসেবে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।