আইন-আদালত

  • ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি ইসরাইলের

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি ইসরাইলের

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, ইরান যদি ইসরাইলকে আক্রমণ করে, তবে তার দেশ ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। খবর আলজাজিরার।

    বৃহস্পতিবার এক ভাষণে কাটজ বলেন, ইসরাইলের ওপর ইরানের হামলা হলে, ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ইসরাইল যেকোনো বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইরানের সমস্ত জাতীয় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো – যার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে – অচল করে দেব এবং ইরানকে প্রস্তর যুগ ও অন্ধকারের গভীরে ফিরিয়ে দেব।’

    ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ বিমান যুদ্ধ শুরু করেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ে জড়িত ছিল না ইসরাইল।

    কাটজের এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর আগের দিনে বিশ্ব শেয়ারে বাজারে বড় ধরনে পতন লক্ষ্য করা গেছে।

  • জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    জামানত ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ—উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর অর্ধেক হবে ব্যাংক ঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান। ঋণ নিতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘উদ্যোগ’ প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এ কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করবে। এরপর তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

    ঋণের অর্ধেক অনুদান

    নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তা তার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ। বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে।

    গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। এ ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

    তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হবে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন করে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাও হারাবেন।

    আবেদন করতে পারবেন যারা

    আবেদনের শেষ তারিখে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের বয়স ২৮ বছরের বেশি নয় এবং যারা সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা, তারা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদনকারীর আগে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।

    আবেদনের জন্য কোনো টাকা লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

    আবেদন শুরু সেপ্টেম্বরে

    কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন দাখিলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    প্রথম ধাপে ৬৪০ উদ্যোক্তা

    প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলা—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার—৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু করা হবে।

    প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

    অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শুধু অর্থায়নের মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ মেন্টরের কাছ থেকে তারা ধারাবাহিক পরামর্শও পাবেন।

    এ ছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তিন থেকে পাঁচজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ বিবেচনায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ২০২৫-এর তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অনেক ভালো’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হতে আরও সময় লাগবে, তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী আমরা সন্তুষ্ট।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, এটা হচ্ছে আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব তথ্যের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

    অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশকে দিতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

    সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

    ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে।’

    বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়। আপনার কাছে তথ্য থাকলে দেন, আমরা যাচাই করবো।’

  • শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    আলোচিত শাড়িকাণ্ডে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন।

    আইনজীবী জানান, বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

    শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

    পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই বলেছে, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।

    ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

    পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।

    শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।

  • কোটচাঁদপুরে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ নারী আটক

    কোটচাঁদপুরে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ নারী আটক

    মোঃ খালেদুর রহমান, কোটচাদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপসহ আসমা খাতুন (৩২) নামে এক নারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দুধসরা ঝোলপাড়া মোড় এলাকায় একটি ভাঙারি দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
    আটক আসমা খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার শ্যামকুড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আফসার হোসেনের স্ত্রী এবং মো. ইউনুচ আলীর মেয়ে।
    ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুধসরা ঝোলপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসমা খাতুনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৮ পিস ভারতীয় স্ক্রুফ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

    শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ ৩০ জনকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

    এদিন সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় হাজির করা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।

    এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। প্রসিকিউশন বলছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

  • তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। এইগুলো হলো অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক, ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে থেকে পৃথক তিনটি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে এ বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের কামরুজ্জামান খান এর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী আনোয়ারুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

    ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

    দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবারও কলকাতায় সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজ, অফিস ও কর্মস্থলে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

    বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়েছে একটি সেতু, পানিতে ডুবেছে একাধিক কজওয়ে। এদিকে বীরভূমে ময়ূরাক্ষী নদীর পানিস্তর বাড়ায় প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওড়ায় জমা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে।

    বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি ক্রমে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করায় সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবারও এর প্রভাবে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক ঘণ্টাতেও বৃষ্টি চলতে পারে।

    কলকাতা পৌরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পামার ব্রিজ এলাকায় ৫৬ মিলিমিটার, তপসিয়ায় ৪৬ মিলিমিটার, বালিগঞ্জে ৪৪ মিলিমিটার এবং মোমিনপুরে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

    বৃষ্টির জেরে বাঘাযতীন উড়ালপুলের নিচে এবং ঠাকুরপুকুরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমেছে। এছাড়া উডবার্ন পার্ক রোড, হসপিটাল রোড, এটিএম রোড, জাস্টিস চন্দ্রমাধব রোড, হেস্টিংস পার্ক রোড, উত্তীর্ণের সামনে, পিটিএস, পোর্ট এরিয়া-গেট নম্বর ৫, বর্ধমান রোড ও ডিএইচ রোডেও পানি জমেছে।

    হেস্টিংসের কাছে উড়ালপুল থেকে নামার মুখেও জমে থাকা পানির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে পথচারী ও যানবাহনকে। সেন্ট্রাল-আমহার্স্ট স্ট্রিট, থিয়েটার রোড ও ওয়াটার লু স্ট্রিটেও পানি জমেছে। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার কালীঘাট, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরির সামনের রাস্তাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে যানজটে আটকে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলক কম থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বাঁকুড়ায় ভেঙে পড়ল ভাসা সেতু

    লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে বাঁকুড়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুমনি খালের পানির প্রবল স্রোতে জেলার পাত্রসায়র ব্লকের জামকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভেঙে গেছে একটি ভাসা সেতু। ফলে দুই পাশের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বরাদ্দ করা অর্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি ভেসে যাওয়ায় পাত্রসায়র ব্লক সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম।

    এদিকে দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভাদুল ও মীনাপুরের দুটি পৃথক কজওয়ে পানিতে ডুবে গেছে। মেজিয়ায় মাতাবেল খালের পানিতে কজওয়ে ডুবে যাওয়ায় মেজিয়া-ছাতনা রাজ্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

    ওই কজওয়ে দিয়েই বালিয়াড়া, সোনাতপল-সহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ বাঁকুড়া শহরে যাতায়াত করেন। কজওয়ের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে দ্বারকেশ্বর নদের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একইভাবে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া মীনাপুর কজওয়েতেও যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

    ময়ূরাক্ষীর পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কা

    বৃষ্টির কারণে বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীর পানিস্তরও বাড়ছে। বুধবার সকালে ডিম পাড়া বাঁধ থেকে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতে নদী-সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাঁধ থেকে আরও পানি ছাড়া হতে পারে। ফলে নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    হাওড়ায় জমা পানিতে যুবকের লাশ

    অন্যদিকে, হাওড়ার ডোমজুরের মাকড়দহ এলাকায় বৃষ্টির জমা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে। মৃত যুবকের নাম সহদেব বাছার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বাজারে গিয়েছিলেন সহদেব। বাজার করে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির কাছেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা ডোমজুর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

    তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    স্থানীয়দের দাবি, মাকড়দহ এলাকায় কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

  • বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    বিচার বিভাগে এআইয়ের ঝুঁকি, সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

    সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নতুন ধরনের আইনি ও বিচারিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআই ব্যবহার করে ভুয়া জবানবন্দি ও প্রমাণ তৈরি, বিচারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং রায় নিয়ে অপপ্রচার চালানোর মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বুধবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি কিংবা ছবি ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণের মাধ্যমে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

    তিনি বলেন, কোনো রায় কারও পছন্দ না হলে এআই ব্যবহার করে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারকদেরই সর্বপ্রথম এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    আইনগত সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অতীতেও আইনের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির ওপর প্রমাণের দায় আরোপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র আইনের মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষীদের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর নজিরও তিনি তুলে ধরেন।
    এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একইভাবে প্রজ্ঞা, সতর্কতা ও অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি খসড়া বিল সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করবেন।

    পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর যৌথ আয়োজন করে সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) ও লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড (এলইবিএল)। অংশীদার হিসেবে এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজনে সহায়তা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। সমাপনী সেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআই গভর্নেন্স সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৪ সদস্য নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৪ সদস্য নিহত

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জনসংযোগ দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কেরমানশাহ প্রদেশে আইআরজিসির চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

    গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কেরমানশাহর উপ-গভর্নর বলেছিলেন, কেরমানশাহ প্রদেশের কোনো স্থানই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

    ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দিয়ার শহরে সাইয়্যেদ আল-শোহাদা কোরের উপ-কমান্ডার আজ বলেছেন যে, লাভান দ্বীপে হামলায় ‘তিনজন বাসিজ সদস্য’ নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।

  • হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    হৃদয়ের ট্রিপল সেঞ্চুরি

    দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তখন ম্যাচে লড়াই করাটাই কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিনে বদলে গেল পুরো চিত্র। ব্যাট হাতে একাই যেন ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। আগের দিনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেখানেই থামেননি হৃদয়। চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের ওপর আধিপত্য ধরে রেখে দলকে নিয়ে গেলেন প্রথম ইনিংসে লিডের পথে। যে মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই মাঠেই গড়লেন নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে অবিশ্বাস্য এক ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

    হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাকেরÑ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।

    এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিনের অবদান ১৭১ বলে ৮৭। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করে স্বাগতিকরা। সেই বিশাল স্কোরের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৩৭১/৬। সেখান থেকে শেষ দিনে হৃদয়ের ব্যাটে গল্পটাই বদলে গেল।

  • নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ

    নবীনগরে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বর্ষাকালে জলাবদ্ধ ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বছরের ৪-৫ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকা জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব না হলেও আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। পানিতে ডুবে থাকা জমিকে আর অনাবাদি না রেখে সেখানে উৎপাদনমুখী কৃষির সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ।

    হাওর ও জলাভূমি অধ্যুষিত নবীনগর উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকে। বছরের অন্যান্য সময়ে এ সব জমিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হলেও বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন যাবত কৃষকদের জন্য এটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলাবদ্ধ জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    উপজেলার ইব্রাহিমপুর, নাটঘর, রছুল্লাবাদ, বড়িকান্দি, সলিমগঞ্জ, নবীনগর পূর্ব ও সাতমোড়া এলাকায় গত দুই বছর ধরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি আবাদ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিপ এবং কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দেওয়া হয়েছে সরকারি সহায়তা। পাশাপাশি দুই শতাধিক কৃষককে ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে বাঁশের তৈরি কাঠামোর ওপর মাঁচা নির্মাণ করে সেখানে লতা জাতীয় বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। লাউ, চালকুমড়া, শসা ও করলাসহ বিভিন্ন সবজি এ পদ্ধতিতে ভাল ফলন দেয়। বর্ষাকালে স্বাভাবিক ভাবে যখন বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যায়- তখন ভাসমান পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। বর্ষা শেষ হলে ঐ কাঠামো দিয়ে পুনরায় জমিতে সবজি আবাদ করা যায়, এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় পরবর্তীতে অনেক কমে যায়।

    স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতায়, এ পদ্ধতিতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং আলাদা করে সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলে জলাবদ্ধ ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভাসমান এ চাষাবাদ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার এবং বালাইনাশকের ব্যবহার কম হওয়াতে খেতেও দারুন সুস্বাদু।

    ইব্রাহিমপুর গ্রামেরর মধ্য পাড়ার কৃষক ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ দুই বছর ধরে আবাদ করছি, আগে বছরে ২-৩ মাস সবজি আবাদ করার সুযোগ ছিল না। আমাকে দেখে এলাকার আরো অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

    ইব্রাহিমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবাস ফেরত সুজন গত বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমবারের মত ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন ২৫ শতাংশ জমিতে। প্রথমে ইউটিউবে এ ধরনের আবাদ দেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেন। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কলমি শাক, শসা ও লাউচাষ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ভাল হওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এ পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।’

    রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের কৃষক এমরান ২০ শতক জমিতে লাউ ও চালকুমড়া চাষ করেছেন। তার নিকট বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকা জমিতে সবজি উৎপাদন একসময় স্বপ্নের মত মনে হলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সেটি এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি ভাসমান ডালি পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ জমিতে লাউয়ের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন।

    আরো দুই মাস লাউ উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানান।

    নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘নবীনগরে প্রথমবারের মতো ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে-কলমে এ প্রযুক্তিটি শেখাতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রদর্শনী স্থাপন, ভাসমান কাঠামো তৈরি, বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভাসমান পদ্ধতিতে চাষ নিরাপদ কৃষি উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। জলাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করে কম খরচে সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। বিশেষ করে লতাজাতীয় সবজির ফলনও এ পদ্ধতিতে ভালো হয়। ভবিষ্যতে নবীনগরের জলাবদ্ধ এলাকা গুলোতে এ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। নবীনগরের জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান সবজি চাষ শুধু কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছে না, বরং বর্ষাকালে নিরাপদ সবজি উৎপাদন, পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

  • কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    এক মাসের বিরতির পর ইরানের ওপর আবার হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক সামির পুরি। কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধবিষয়ক বিভাগের প্রভাষক সামির বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ ইরানের পাল্টা হামলার নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর ছয় মাসেরও বেশি সময় পরও ইরানের পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ইরানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে—এমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং এমন সব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বেশ কিছু দৃশ্যমান ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায়। তাই এই মুহূর্তে সংঘাত আরো তীব্র হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।’

    আলজাজিরাকে পুরি বলেন, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বার্তাগুলো অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর’।

    তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশের ইরানের প্রতি সমর্থন প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরান ‘স্পষ্টতই এতটা বিচ্ছিন্ন নয়’।

    পুরির ভাষায়, ‘তাই আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে খুবই বিভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছে।’

  • সন্তান নিলে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা দিবে সিঙ্গাপুর, তবুও অনীহা দম্পতিদের

    সন্তান নিলে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা দিবে সিঙ্গাপুর, তবুও অনীহা দম্পতিদের

    সিঙ্গাপুরে জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন ঘটেছে। পরিস্থিতি বদলাতে ও দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর জন্য প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ৬৮ লাখ টাকা) সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

    তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ ও ক্যারিয়ারের জটিলতার কারণে বিপুল এই আর্থিক প্রণোদনা সত্ত্বেও বহু তরুণ দম্পতি পরিবারের সদস্য বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান।

    সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, শিশুর জন্মের পরপরই দেয়া হবে ১০ হাজার ডলারের বিশেষ অনুদান এবং চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার ডলার ও শিক্ষার খরচের জন্য আরও ৫ হাজার ডলার করে আলাদা সহায়তা মিলবে।

    এছাড়া এক থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি বছর ২ হাজার ডলার শিশু সহায়তা, প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের ফি কমিয়ে মাসে ১৫০ ডলারে নামিয়ে আনা এবং বেতনসহ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শক্তিশালী পারিবারিক কাঠামোর ওপর।

    বর্তমানে সিঙ্গাপুরে নারীপ্রতি সন্তান জন্মদানের হার বা ফার্টিলিটি রেট নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭-তে, যা বিশ্বে সর্বনিম্নগুলোর একটি। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ হারের চেয়ে এটি অনেক কম।

    চলতি বছরই সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যার ২১ ভাগের বেশি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছাবে, যাকে জাতিসংঘ ‘সুপার-এজড’ বা অতি-বয়স্ক সমাজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভ পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কোনো সন্তান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অনেকেই মনে করছেন, কেবল সরকারি আর্থিক সহায়তা দিয়ে সন্তান লালন-পালনের বিপুল সময় ও সামাজিক প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো সম্ভব নয়। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রাইভেট টিউশনির সংস্কৃতি এবং কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকে নিজেদের স্বাধীন জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সন্তান নেয়া থেকে দূরে থাকছেন।

  • ইমরান খান-বুশরার একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ করলো পাক আদালত

    ইমরান খান-বুশরার একাকী বন্দিত্ব নিষিদ্ধ করলো পাক আদালত

    পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দী রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির আদালত। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে কারাবিধি অনুযায়ী ইমরান খান ও তার স্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
    ৭৩ বছর বয়সী সাবেক তারকা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে একাকী বন্দিত্বে রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এই রায় এলো।

    অন্যদিকে, বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশশারা খাওয়ার মানেকা তার মায়ের বিষয়ে পৃথক একটি পিটিশন দায়ের করেন।
    রায় ঘোষণার সময় আইএইচসির বিচারপতি খাদিম হুসাইন সোমরো নির্দেশ দেন, কারাবিধি অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।
    আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ইমরান খানকে সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ করার এবং কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

    আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আদালতের নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে ঋণ দিয়ে বিপাকে সোনালী ব্যাংক

    লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকটের বোঝা এবার চাপছে সোনালী ব্যাংকের ওপর। সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিনেও আদায় করতে পারছে না ব্যাংকটি। এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে সোনালী ব্যাংক।

    এ পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটি। একইসঙ্গে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের ওপর চাপ কমাতে বকেয়া ঋণের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা নতুন করে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    গত ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সচিবকে লেখা এক চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বিপুল পরিমাণে বাড়বে। একইসঙ্গে ব্যাংকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং এর অধীন ৯টি চিনিকলকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩,১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। শুধু বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ২,৭৬২ কোটি টাকা।

    দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪,০৮৬ কোটি টাকা। ফলে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭,১৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫৩ কোটি টাকা পরিশোধের পর নিট বকেয়া রয়েছে ৬,৯৩৮ কোটি টাকা।

    ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১,০০০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ছিল। তবে ওই গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে বিএসএফআইসি ও চিনিশিল্পের ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা মোট ৬টি সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণগুলো নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    চিনিকলগুলোর ঋণের একটি অংশ বিএসএফআইসি, সংশ্লিষ্ট চিনিকল এবং সোনালী ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। সরকারি গ্যারান্টি ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি থাকায় এতদিন হিসাবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অশ্রেণিকৃত রাখা হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকে এসব ঋণ আবার শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সোনালী ব্যাংক।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি হওয়া ঠেকাতে এবং ব্যাংকের পাওনা সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছে সোনালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকটি বিএসএফআইসি ও এর আওতাধীন চিনিকলগুলোর ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে অবশিষ্ট আদায়যোগ্য অর্থের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানায়।

    একই বছরের ১৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসএফআইসি ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে ওই সভায় কী সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছিল- সে বিষয়ে পরে সোনালী ব্যাংককে কিছু জানানো হয়নি।

    চলতি বছরের শুরুতে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবার আবেদন জানায় সোনালী ব্যাংক। বকেয়া অর্থ পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়ে সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সব শেষে গত ১৯ আগস্ট একই দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় ব্যাংকটি।

    সোনালী ব্যাংক বলেছে, চিনিকলগুলোর ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হওয়া ঠেকাতে এবং বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    এদিকে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির (অ্যালকো) সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় চিনিশিল্প খাতের অসমন্বিত ঋণ হিসাব সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এসব ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংককে একক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রমকারী ঋণগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়া হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৫টি চিনিকল। ২০২০ সালে সরকার ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে রয়েছে।

    বিএসএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্যের কারণে ট্রেড গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেড গ্যাপের কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে- এমনটা মনে হতে পারে। ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের কাছে বিএসএফআইসির পাওনা ৮,০৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়া গেলে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো না বলে তারা জানান।

    এ বিষয়ে জানতে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে তার অফিসে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—যুক্তরাষ্ট্র

    হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—যুক্তরাষ্ট্র

    দীর্ঘ এক মাসের শান্তিপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে গত রোববার ইরানে আবার হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে দেশটির রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যাতে হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে মাইন বসাতে না পারে, সে জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে মাইন স্থাপনে নিযুক্ত ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সামুদ্রিক মাইন বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিতে দেখেছে।

    এদিকে ইরানের নেতারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার পর বসে থাকেনি ইরানও। প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।

    আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের সদস্য ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এতে অন্তত দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

    ইরানের স্বল্প পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী আসলেই কি রকেটের মাধ্যমে সমুদ্রে মাইন পাতা সম্ভব, উঠেছে এমন প্রশ্ন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে—

    রকেটের সাহায্যে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবিকে অযৌক্তিক বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান।

    উলম্যানের ধারণা, মার্কিন গোয়েন্দারা হয়তো গোপনে খবর পেয়েছেন যে ইরান যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রে নতুন মাইন স্থাপনে প্রস্তুত। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এ হুমকিকে ছোট করে দেখাতে তাঁরা রকেটের গল্প সাজিয়েছে।

    উলম্যান বলেন, রকেট যখন তীব্রগতিতে এসে পানিতে আছড়ে পড়বে, সেই ধাক্কাতেই মাইন বিস্ফোরিত বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সাগরে মাইন পাতার জন্য ইরানের কাছে অনেক ভালো উপায় ও প্রযুক্তি আছে। তারা কেন এত ঝুঁকি নিয়ে রকেট ব্যবহার করতে যাবে? পুরো বিষয়টি তাঁর কাছে একেবারেই অদ্ভুত মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তবে ইরান নিজেই এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতার কথা প্রচার করেছে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, নৌ মহড়ার সময় আইআরজিসি ফজর-৫ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে মাইন স্থাপন করছে।

    সাধারণত কীভাবে সমুদ্রে মাইন স্থাপন করা হয়

    সাধারণত বিশেষ ধরনের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন কিংবা উড়োজাহাজ ব্যবহার করে সাগরে মাইন পাতা হয়। এগুলো সাগরের একদম তলদেশে ফেলে রাখা যায়, আবার পানির নিচে কিছুটা ওপরেও ভাসিয়ে রাখা যায়। মাইনগুলো এমনভাবে তৈরি, যা পাশ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার সময় তার ইঞ্জিনের কাঁপুনি বা চৌম্বকীয় সংকেত টের পেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়।

    ধারণা করা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বেশ কিছু বিস্ফোরক ফেলার জন্য ইরান ছোট ও দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে। এ জাহাজগুলো সাগরে মাইন ফেলে খুব দ্রুত ওই এলাকা থেকে সরে যায়। তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের এমন কয়েকটি দ্রুতগতির নৌযানে ইতিমধ্যে হামলা চালিয়েছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সেন্টকম হরমুজ প্রণালিতে মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে। প্রণালিটি মাইনমুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নতুন করে মাইন পাততে যেসব জাহাজ বা নৌযান ব্যবহার করা হবে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে বলে ইরানকে সতর্ক করেন ট্রাম্প।

    সেন্টকমের প্রকাশ করা ছবিতে ইরানে হামলায় অংশ নেওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করতে সেন্টকমকে অত্যন্ত ধীরগতির একটি অভিযান চালাতে হবে। প্রতিটি মাইন খুঁজে বের করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

    মার্কিন নৌবাহিনী সাধারণত মাইন অপসারণের কাজে অ্যাভেঞ্জার শ্রেণির মাইনবিধ্বংসী জাহাজ ব্যবহার করে। এগুলো তৈরিতে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়, যাতে এর ভেতরের চৌম্বকীয় কম্পন বা ইঞ্জিনের কাঁপুনি সাগরের পানিতে খুব একটা ছড়ায় না। ফলে সাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা মাইন এ জাহাজের উপস্থিতি সহজে টের পায় না এবং এটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কম থাকে।

    ইরানের ফজর-৫ রকেটব্যবস্থা সম্পর্কে কী জানা যায়

    কম খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কৌশল বা অসম যুদ্ধপদ্ধতি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ পরিচিত ইরান।

    গত বছরের জানুয়ারিতে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নৌ মহড়ার সময় আইআরজিসি সাগরে মাইন পাতার সম্পূর্ণ নতুন একটি কৌশল প্রদর্শন করেছে। এ কৌশলে স্থলভাগ থেকে ফজর-৫ রকেটব্যবস্থা ব্যবহার করে সরাসরি সাগরে মাইন স্থাপন করে তারা।

    সে সময় বিশ্লেষকেরা কৌশলটিকে ‘অভিনব’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বেগও প্রকাশ করেন। কারণ, এ পদ্ধতিতে একবার রকেট ছুড়েই আইআরজিসি সমুদ্রের বিশাল এলাকায় হাজার হাজার মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

    ১৯৯০-এর দশকে প্রথম তৈরি করা এ ফজর-৫ হলো ৩৩৩ মিলিমিটার ব্যাসের মাঝারি পাল্লার একটি রকেটব্যবস্থা। এটি সাধারণত দূরপাল্লার কামানের মতো রকেট ছোড়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।

    এ রকেটব্যবস্থার মূল সুবিধা হলো, এটি একটি চলন্ত ট্রাকের ওপর বসানো থাকে। ট্রাকে থাকা উৎক্ষেপণ যন্ত্র থেকে একনাগাড়ে সর্বোচ্চ চারটি রকেট ছোড়া যায়। প্রতিটি রকেটে প্রায় ১৭৫ কেজি ওজনের প্রচণ্ড ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে। রকেটটি যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন এর ভেতরের অংশগুলো দ্রুতগতির অসংখ্য ধারালো ধাতব টুকরায় পরিণত হয়ে চারপাশের একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে একসঙ্গে ঝাঁঝরা করে দিতে পারে।

    ফজর-৫-এর পাল্লা প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। ইরানি বাহিনী মূলত বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য এটি ব্যবহার করেছে।

    ৭৫ কিলোমিটার পাল্লা থাকায় স্থলভাগ থেকে ব্যবহার করা হলেও ফজর-৫ রকেট দিয়ে খুব সহজেই পুরো হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় মাইন ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

    পরে ইরান এ প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। ফজর-৫সি-এর মতো নতুন সংস্করণগুলোতে আরও আধুনিক ও জিপিএসভিত্তিক নির্ভুল নেভিগেশনব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এ উন্নত রকেটগুলো এখন আগের চেয়ে দূরে—প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

    মার্চে ধারণ করা ভিডিওর একটি দৃশ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের একটি নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতে দেখা যাচ্ছে।

    ফজর-৫ দিয়ে কীভাবে মাইন পাতা হতে পারে

    ফজর-৫ বা অন্য কোনো রকেটব্যবস্থা দিয়ে ইরান বর্তমানে সমুদ্রে মাইন ছড়াচ্ছে কি না, তা দেশটি নিশ্চিত করেনি।

    তাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করলে, রকেটের মাথায় যেখানে সাধারণত বিস্ফোরক বা বোমা থাকে, সেই জায়গাটিতে বিস্ফোরকের বদলে সাগরে পাতার মাইন রেখে দেওয়া সম্ভব। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইআরজিসির নৌ মহড়ায় ঠিক এমন একটি পদ্ধতিই দেখানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

    এ ব্যবস্থায় প্রথমে সমুদ্রের উপকূলীয় স্থলভাগ থেকে ট্রাকে বসানো উৎক্ষেপণ যন্ত্র ব্যবহার করে রকেটটি ছোড়া হয়। এরপর মাইনবাহী রকেটটি সমুদ্রসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে। রকেটটি যখন নির্ধারিত সমুদ্র এলাকার আকাশে পৌঁছাবে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকাশেই রকেটের ওপরের খোলস বা আবরণ খুলে যাবে।

    রকেটের ভেতরের অবিস্ফোরিত মাইনগুলো তখন আকাশ থেকে সরাসরি সমুদ্রের পানির দিকে পড়তে থাকবে। পানিতে পড়ার সময় মাইনগুলো যাতে তীব্র বেগে আছাড় খেয়ে নিজে নিজেই বিস্ফোরিত না হয়, সে জন্য প্রতিটি মাইনের সঙ্গে ছোট প্যারাসুট বা গতি কমানোর অন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। ফলে মাইনগুলো বেশ আলতোভাবে পানিতে গিয়ে পড়ে।

    সাগরের পানিতে পড়ার পর মাইনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমুদ্রের একদম তলদেশে ডুবে যেতে পারে অথবা পানির নিচে নির্দিষ্ট গভীরতায় ভেসে থাকতে পারে।

  • ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প

    ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ট্রাম্প এ হুমকি দিলেন। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার জন্য চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পেরিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালিতে গত রোববার ইরানের একটি দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় তেহরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

    ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) ওপর কঠোর আঘাত করব। দেশটিকে জবাব দেওয়া হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে আর মাইন পেতে রাখতে না পারে, সেজন্যই লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী।

    তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল দিনের শেষে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছি। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইরান কিংবা এ অঞ্চলের কারও স্বার্থ নয়।’

    ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উপায় হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।

    ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন

    লারাক দ্বীপে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

    তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। শুধু একটি ভূপাতিত করা যায়নি। তবে সেটি হুমকি সৃষ্টি করেনি।

    জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।

    ইরান আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে আবুধাবি জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

    আইআরজিসি গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সতর্ক করে বলেছে, হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়।

    এদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত করেছে। ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা গতকাল রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলেছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিবেশের ওপরও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি।

    ‘চাপ অব্যাহত থাকবে’

    মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় ছিল। এখন আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ দিকেও মনোযোগ দিয়েছে।

    ট্রাম্প গতকাল ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন বিপর্যস্ত। অর্থনীতিও ভেঙে পড়ছে। নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে। নর্থ ক্যারোলাইনায় জি-২০-এর সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা (ইরানের ওপর) চাপপ্রয়োগ অব্যাহত রাখব। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।’

    হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রেখে ইরানও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে এরই মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তির দিকে। দেশটিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে।

    হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা

    ইরান যুদ্ধের কারণে ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি থেকে মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছে।

    তবে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই আছে। গতকাল আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ‘বেপরোয়া’ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরেছে। অবৈধ পথ ধরে ট্যাংকারটি প্রণালি পার হচ্ছিল। তখন দুটি মাইনের বিস্ফোরণ হয়।

    ইরানের এ দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তারা এটিকে ‘অপপ্রচার’ বলে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন বাহিনী বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।’

    ইরানে যুদ্ধ বন্ধে কয়েক মাস ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। যদিও এর আগে করা একটি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে।

    আগের ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ইরান। গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘সমাধানের পথ একেবারে পরিষ্কার ও সরল। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের প্রতিশ্রুতিতে ফিরতে হবে।’

  • সার-কীটনাশকের চড়া দাম, কৃষকের মাথায় হাত

    সার-কীটনাশকের চড়া দাম, কৃষকের মাথায় হাত

    মাঠের দিকে তাকালে বুক ভরে যায় শান্তিতে। সবুজ পাতায় হাওয়া খেলছে, ৪৫ দিনের লকলকে আমনখেত যেন সবুজের গালিচা। কিন্তু সেই সবুজ মাঠের ভেতরে নেমেই কৃষকের মুখে ফুটে উঠছে দুশ্চিন্তার ছাপ। কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন কৃষক, কোথাও সার ছিটাচ্ছেন, আবার কোথাও মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন।

    পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকলেও উৎপাদন খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে দিশেহারা জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আমন চাষিরা। সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়লেও ধানের বাজারদর তেমন বাড়েনি। ফলে ধান ঘরে তোলার পর লাভ কতটা থাকবে, তা নিয়েই শঙ্কায় কৃষকেরা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ক্ষেতলালে ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। ১০-১৫ দিন আগেই শেষ হয়েছে আমনের চারা রোপণ। এখন চলছে খেত পরিচর্যার সময়।

    কৃষকেরা বলছেন, ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত খরচের এ চাপ আরও বাড়বে।

    কৃষি বিভাগের টাঙানো সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) সারের নির্ধারিত দাম ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২৭ টাকা), টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২৭ টাকা), ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা (কেজিপ্রতি ২১ টাকা) এবং এমওপি ১ হাজার টাকা (কেজিপ্রতি ২০ টাকা)।

    কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমওপি ও ১ কেজি জিংক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে কৃষকদের কেউ কেউ বেশি ফলনের আশায় ইউরিয়া প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের টাঙানো সরকারি মূল্যতালিকার দামে তারা সবসময় সার কিনতে পারছেন না।

    তাদের দাবি, প্রয়োজনের সময় নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় অনেক সময় ডিলার বা খুচরা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। ফলে সার বাবদ বিঘাপ্রতি তাদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১০০০-১৫০০ টাকা। এর সঙ্গে কীটনাশকের খরচও যোগ হচ্ছে।

    কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, চারা ও রোপণে ৫০০ টাকা, সার বাবদ ১০০০-১৫০০ টাকা, কীটনাশকে ১ হাজার টাকা, আগাছা পরিষ্কারে ১০০ টাকা, সেচে ১ হাজার ২০০ টাকা, ধান কাটায় ৪ হাজার টাকা, মাড়াইয়ে ৬০০ টাকা এবং পরিবহনে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে জমি পত্তনের খরচ বাদে এক বিঘা আমন চাষে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ থেকে ১৪ হাজার ২০০ টাকা।

    তবে যারা জমি পত্তন নিয়ে আমন চাষ করছেন, তাদের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন ফসলি জমি এক বছরের জন্য পত্তন নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিন ফসলের মধ্যে এক ফসলের আনুপাতিক পত্তন খরচ হিসাব করলে আমন মৌসুমে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার ৬৭০ টাকা জমির পেছনে চলে যায়। ফলে পত্তনের খরচসহ এক বিঘা আমন চাষে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার ৭০০ থেকে ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা।

    কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বিঘাপ্রতি আমনের ফলন ১৭ মণ হলে এবং প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হলে ধান থেকে আয় হবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। এর সঙ্গে খড় বিক্রি করে আরও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পাওয়া গেলে মোট আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা।

    নিজস্ব জমিতে কৃষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ১৩ হাজার ৭০০ থেকে ১৪ হাজার ২০০ টাকা খরচ হলে ধান ও খড় মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা আয় হতে পারে। সে হিসাবে খড়সহ সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকতে পারে প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ থেকে ১৩ হাজার ২৫০ টাকা। তবে এ হিসাবের মধ্যে কৃষকের নিজের শ্রমের মূল্য এবং বাজারদরের ওঠানামা ধরা হয়নি।অন্যদিকে, পত্তন নেওয়া জমিতে একই ফলন ও বাজারদর ধরে হিসাব করলে চিত্রটি অনেকটাই বদলে যায়। পত্তনসহ মোট খরচ ২৩ হাজার ৭০০ থেকে ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা হলে ধান ও খড় মিলিয়ে ২৫ হাজার ৯৫০ থেকে ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা আয়ের বিপরীতে উদ্বৃত্ত থাকতে পারে মাত্র প্রায় ৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। এতে কৃষকের নিজের শ্রমের মূল্যসহ অন্যান্য অনির্ধারিত খরচ বাদ দিলে প্রকৃত লাভ আরও কমে যেতে পারে।

    ক্ষেতলালের আমন চাষি আইজুল বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো দেখা গেলেও চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সার, ওষুধ, জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ আর ধান কাটার খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। ১৭ মণ ধান পেয়ে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে হাতে খুব একটা লাভ থাকে না। নিজের জমি হলে কিছুটা সাশ্রয় হয়, কিন্তু পত্তন নেওয়া জমিতে চাষ করলে লাভের সুযোগ আরও কমে যায়।’

    আরেক কৃষক সোবাহান বলেন, ‘বাজারে এখন ধানের যে দাম আছে, তা একেবারে খারাপ না। কিন্তু খরচের সঙ্গে মেলালে লাভ খুবই কম। সার ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ধান কাটার সময় আরও খরচ হবে। শেষ পর্যন্ত ধান বিক্রি করে ঘরে কত টাকা তুলতে পারব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।’

    পত্তন নেওয়া জমিতে আমন চাষ করা কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এক বছরের জন্য তিন ফসলি জমি পত্তন নিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাগে। হিসাব করলে শুধু আমন ফসলের জন্যই প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার ৬০০ টাকা জমির পেছনে চলে যায়। এরপর সার, ওষুধ, সেচ, পরিচর্যা, ধান কাটা-মাড়াই ও পরিবহনের খরচ তো আছেই। ধানের ভালো দাম না পেলে আমাদের মতো পত্তন নেওয়া কৃষকদের টিকে থাকা কঠিন।’ক্ষেতলালের কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সারের নির্ধারিত সরকারি মূল্য বাস্তবে কার্যকর করা এবং কৃষকের প্রয়োজনের সময় সঠিক দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি চান তারা।

    এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘কৃষকেরা মনে করেন, বেশি সার দিলেই বেশি ধান হবে। অথচ অতিরিক্ত সার ব্যবহারে শুধু উৎপাদন খরচই বাড়ে। আমরা মাঠে মাঠে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি। সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।’

    তবে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের আশ্বাসের পরও ক্ষেতলালের মাঠে কৃষকের দুশ্চিন্তা কাটেনি। সবুজে ভরা আমনখেত দেখে ফলনের আশা জাগলেও উৎপাদন খরচের চাপ সেই আশায় ফাটল ধরাচ্ছে। কৃষকের অপেক্ষা এখন একটাই ধান ঘরে তোলার সময় বাজারে ন্যায্য দাম মিলবে কি না।

  • হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    আইন-আদালত

    হামে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাতে ফের বসলে গ্রেপ্তার

    ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাতে বসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাজস্ব আদায় ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বেশির ভাগ লোককে আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে যাব, তাদের সময় দিয়ে যাব। এই সময়ের মধ্যে যদি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে এবং আইন অনুযায়ী যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে না থাকে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।

    তিনি বলেন, বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হবে। পাশাপাশি যাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নেওয়া এবং যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, তাদের নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। আপনারা নিজে থেকে আইন মেনে সবকিছু করলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। অভিযানে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    আলোচিত এ মামলায় গত ২৪ আগস্ট শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, মামলাটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন।

    সোমবার নির্ধারিত দিনে আদালত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। ওই রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। নিহত শিশুর বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

    গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়।

    একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

    শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী এ মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আজ প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

  • ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

    ইসলামকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বললেন কর্ণাটকের মন্ত্রী, পদত্যাগ দাবি বিজেপির

    দুর্নীতির অভিযোগে কর্ণাটকের এক মন্ত্রী পদত্যাগ করার মাত্র দুই দিন পরই বিরোধী দল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা থেকে আরও একজনের পদত্যাগ দাবি করেছে। দলটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলাম ধর্মকে ‘অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলে মন্তব্যের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চান, অথবা পদত্যাগ করুন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    কর্ণাটকের কোপ্পাল জেলার কুকনুর শহরে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি ইসলামকে মহান ও অত্যন্ত মানবিক ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়।

    তবে এরপর তিনি যে মন্তব্য করেন, তা নিয়ে বিজেপির তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারা এটি নিয়ে ভুল ধারণা করেন এবং ভুল মতামত তৈরি করেন। আমি বলতে চাই, ইসলাম অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি মানবতা দিয়ে শুরু হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, কোরআনের বিষয়ে বলছি, আব্রাহামিক (ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম) ধর্মগুলো নিয়ে আমি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করিনি। আর আমি নিয়মিত মন্দির বা মঠে যাই না। তবে আমি ধর্ম এবং বিভিন্ন ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করি। এ কারণেই আমি আব্রাহামিক ধর্মগুলোর দিকে তাকাই।’

    রায়ারেড্ডির এই মন্তব্যের পর কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি আর অশোক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীর মন্তব্য হিন্দুধর্মকে হেয় করেছে। ডি কে শিবকুমারের নিয়মিত মন্দিরে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন আর অশোক।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অশোক লেখেন, ‘ডি কে শিবকুমার, আপনাদের কংগ্রেস সরকারের এই হিন্দুবিরোধী মানসিকতার কি কোনো শেষ নেই? আপনি ভোরবেলা মন্দিরে যাওয়ার নাটক করেন, ক্যামেরার সামনে ভক্তি প্রদর্শন করেন। কিন্তু আপনার নিজের মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী যখন সনাতন হিন্দু ধর্ম ও মন্দির সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তখন আপনি কেন নীরব থাকেন?’

    তিনি বলেন, বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ক্ষমা না চাইলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর এই দাবি এমন সময়ে এলো, যখন দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপির লাগাতার আক্রমণের মুখে মন্ত্রী বি নাগেন্দ্র দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করেছেন। রায়ারেড্ডির মন্তব্যের দুই দিন আগেই নাগেন্দ্র পদত্যাগ করেন।

    বিজেপি নেতা আর অশোক বলেন, ‘উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ভালোভাবে শুনুন। ‘আমি মঠ বা মন্দিরে যাই না’—বলে তিনি রাজ্যের কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোকে হেয় করেছেন। আবার ‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ ধরনের মন্তব্য করে তিনি সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি পরিষ্কার—প্রথমে বাসবরাজ রায়ারেড্ডিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং রাজ্যের সব হিন্দুর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি যদি তা করতে প্রস্তুত না থাকেন, তাহলে শিবকুমারকে মন্ত্রিসভা থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তা না হলে কন্নড়ভূমির কোটি কোটি হিন্দুর কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে: আপনার মন্দিরে যাওয়া ভক্তির জন্য নয়; হিন্দু ধর্মের প্রতি সম্মান থেকেও আপনার কথাগুলো বলা হয় না; সবকিছুই শুধু ভোটের জন্য, লোক দেখানোর জন্য।’

    বিজেপির মুখপাত্র অশোক গৌড়া অভিযোগ করেন, মন্ত্রী এবং কংগ্রেস সরকার ‘ভোটারদের তুষ্ট করার’ চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘বাসবরাজ রায়ারেড্ডি তাঁর ভোটারদের তুষ্ট করতে গিয়ে মনে হচ্ছে সপ্তম শতাব্দীতেই আটকে আছেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পড়ুন, তারপর সিদ্ধান্তে আসুন। আপনি কোনো বিশেষজ্ঞ নন, দয়া করে এটি মনে রাখবেন।’

    বাসবরাজ রায়ারেড্ডি এর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় তিনি মন্ত্রী হন।

  • নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ২০০ স্কুল শিক্ষার্থী

    নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ২০০ স্কুল শিক্ষার্থী

    নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ২০০-এর বেশি স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি জেলায় অন্তত ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ৯টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭টি স্কুল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    এছাড়াও বন্যায় প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পানির স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    প্রলয়ংকারী এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। এই দুই জেলার কয়েকটি স্কুল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বা মাটির নিচে চাপা পড়েছে। এসব স্কুলে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত।

    একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানির স্রোতে তাদের এক শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি বাসও ভেসে গেছে।

    বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া ভিজুয়াল জার্নালিজম বিভাগ স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করেছে।

    এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দেশটির ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এ পর্যন্ত সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।

    অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে আগে জানিয়েছিল নেপাল। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিচ্ছে দেশটি।

  • শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

    মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

    এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হলেও ওইদিন রায় ঘোষণা না করে সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

    আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

    যেভাবে ঘটে নির্মম ঘটনা
    মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি।

    অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
    এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।

    ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার

    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

    মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

    পরে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

    তবে মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)—কে খালাস দেন আদালত।

    হাইকোর্টে আসে ডেথ রেফারেন্স

    ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলার নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    পরবর্তী সময়ে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপার বুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।

  • মুম্বই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির সোনা পাচার, তিন বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৬

    মুম্বই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির সোনা পাচার, তিন বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৬

    মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১১ কোটি রুপি মূল্যের ৭ কেজি সোনা পাচারের অভিযোগে তিন বাংলাদেশিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ডিআরআই)।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের এক কর্মীও রয়েছেন। ডিআরআই জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুনাফ মাশরাফ জমাদার (২৩) নামে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি বিমানবন্দরের বাইরে একজন ব্যক্তির কাছে পাচার করা সোনা পৌঁছে দিতেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    এতে আরও বলা হয়, তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে মোমের ভিতর থেকে সোনার গুঁড়ার সাতটি ডিম আকৃতির ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মুনাফ জানান, বিমানবন্দরের বাইরে এক ব্যক্তির কাছে এসব সোনা পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে তার আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল।

    পরে মুনাফের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সোনা সরবরাহ করা পাঁচ যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আবু নাসর, মোহাম্মদ আলম ও মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন নামে ৩ বাংলাদেশি নাগরিক আছেন বলে জানিয়েছে ডিআরআই। এছাড়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মোহাম্মদ হোসেন নামে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


    সব মিলিয়ে অভিযানে ১৬টি বলের মতো আকৃতির প্যাকেটে প্রায় ৭ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এর মূল্য প্রায় ১১ কোটি রুপি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনজীবী বীরেন্দ্র সিং ও আফতাব কুরেশি। তারা আদালতে দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা নির্দোষ এবং দারিদ্র্যের কারণে তারা এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন। পরে আদালত ছয় আসামিকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • নেপালে বন্যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি

    নেপালে বন্যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩০০ কিমি

    ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় হন্যে হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন নেপালিরা। চলতি সপ্তাহের বন্যায় তাদের পুরো গ্রাম ভেসে গেছে। প্রিয়জনদের কোনো খবরের আশায় তারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    বন্যার কারণ সম্পর্কে পর্বতারোহী সানজিত সিং বাল জানান, এটি একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রায় এক কিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে নিচে নেমে আসে এবং খাড়া ঢাল বেয়ে নামার সময় প্রচুর পাথর ও কাদামাটি সঙ্গে নিয়ে আসে। নেপাল হিমালয় ও পর্বত গবেষক ধনঞ্জয় রেগমি জানান, বন্যার জলের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই এলাকায় তিনটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।

    নতুন করে কোনো পাথর ধসে পড়লে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে হলে হ্রদে জমা পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দিতে হবে। তবে এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্তমানে যা করা সম্ভব, তা হলো মানুষগুলোকে উঁচু স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং অপেক্ষা করা।

    বরফধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভূমিকা আছে কি না জানতে চাইলে স্নোস্কেপসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশুতোষ মিশ্র জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল তিনটি হ্রদের একটিতে ভাঙন তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, হ্রদগুলোর দায় মুখ্য নয়। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লাংটাং লেরুংয়ের ৭ হাজার মিটার উঁচু শৃঙ্গ থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি উত্তরের হিমবাহ ধসে পড়েছিল।

    তবে বন্যাকবলিতদের কাছে বন্যার কারণ বা দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকির চেয়েও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি হাতে এক ব্যক্তি বলেন, তারা আমাদের স্বজন হোক বা না হোক, যিনিই আটকে আছেন তাকে বাঁচাতে হবে। আমাদের স্বজন না হলেও অন্যদের বন্ধুদের রক্ষা করা হোক। তিনি আরও জানান, তার কেবল একজন ভাই নিখোঁজ, তবে অন্য সকল নেপালিও তাদের ভাই।

  • ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট, কৃষকদের মিলনমেলা

    ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট, কৃষকদের মিলনমেলা

    ধান রোপণের মৌসুমকে ঘিরে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী ধানের চারার হাট। স্থানীয় ভাষায় ‘জালা’ নামে পরিচিত ধানের চারা বিক্রি ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠছে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ছিলাপাঞ্জা এলাকা। শুধু বানিয়াচং নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ধানের চারা নিয়ে ছুটে আসছেন এই হাটে। সকাল হতেই বিভিন্ন জাতের সবুজ ধানের চারা নিয়ে বসে পড়েন বিক্রেতারা। অন্যদিকে জমিতে রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় চারা কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। ফলে দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম থাকে ছিলাপাঞ্জা। সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধানের চারা। কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী চারা গুনে দিচ্ছেন। আবার কেউ দরদাম করছেন। চারা বিক্রি ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকের মুখেই দেখা গেছে স্বস্তির হাসি। চারা বিক্রেতা কৃষক তাহের মিয়া বলেন, ধানের চারা তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা পর্যন্ত শ্রম দিতে হয়। এখন হাটে এসে ভালোভাবে বিক্রি করতে পারছি। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে। লাখাই থেকে আসা আরেক বিক্রেতা বাদ উললাহ মিয়া বলেন, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা চারা কিনতে আসেন। এবার বিক্রি বেশ ভালো। সকালে চারা নিয়ে আসার পর বিকেল হওয়ার আগেই অনেক সময় প্রায় সব চারা বিক্রি হয়ে যায়। চারা কিনতে আসা কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, সব কৃষকের পক্ষে নিজের জমিতে চারা তৈরি করা সম্ভব হয় না। আবার সময়মতো চারা তৈরি করতে না পারলেও সমস্যা হয়। এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে আসেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো চারা বেছে কিনে নেওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধানের চারা বিক্রির এই হাট একদিকে যেমন আমন মৌসুমে চাষিদের চারা সংগ্রহের সংকট দূর করছে, অন্যদিকে চারা উৎপাদনকারী কৃষকদের জন্য সৃষ্টি করছে বাড়তি আয়ের সুযোগ। ফলে মৌসুমি কৃষিভিত্তিক এই বেচাকেনা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কৃষকরা জানান, ভালো মানের ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করতে পারলে চাহিদা থাকে বেশি। এ কারণে অনেক কৃষক এখন ধানের চারা উৎপাদনকেও বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। প্রতিদিনের এই ‘জালার হাট’ যেন গ্রামীণ কৃষিজীবনের এক ব্যতিক্রমী চিত্র। সবুজ ধানের চারা, কৃষকদের ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের দরদামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রাণ ফিরে পায় ছিলাপাঞ্জা এলাকা। ধানের মৌসুমজুড়ে এমন জমজমাট বেচাকেনা চলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

  • ভারতে আবারও চলন্ত বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতে আবারও চলন্ত বাসে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

    ভারতের গ্রেটার নয়ডায় চলন্ত বাসের ভেতর ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে নিয়ে ফেলে দেয়া হয় বাস থেকে। এ অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    অভিযুক্ত দু’জনই দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেসরকারি পরিবহন সংস্থা বিশ্বনাথ ট্রাভেলসের হয়ে কাজ করছিল বলে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের আলোচিত নির্ভয়া মামলার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকা এই ঘটনাটি ঘটে ৪ঠা আগস্ট। তবে তা নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে সবেমাত্র।

    ঘটনার দিন কিশোরীটি নয়ডার সেক্টর ৬৩ যাওয়ার জন্য একটি ফাঁকা বাসে ওঠে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, বাসটির চালক ৩৯ বছর বয়সী কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর ২৬ বছর বয়সী সন্দীপকে একই দিন উত্তর দিল্লির তিমারপুরের একটি পার্কিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী থেকে নয়ডার উদ্দেশে যাত্রা করা কিশোরীকে কথিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সেখানেই তারা অবস্থান করছিল।

    পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগে ওই কিশোরী জানিয়েছে, পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকাঝকার পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সে নয়ডায় তার এক চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়। ভারী বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে সে নয়ডার প্যারী চকে নেমে বুঝতে পারে, তার গন্তব্য তখনো অনেক দূরে। তখন রাত প্রায় ৯টা। বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভিজে যাওয়া এবং একা থাকা কিশোরীটির চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি তখনো প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। এ সময় একটি বাস তার কাছে এসে থামে।

    বাসটিতে দূরপাল্লার যাত্রার জন্য শোয়ার আসন বা বার্থ ছিল। তবে বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, কন্ডাক্টর তাকে বলে, তারাও নয়ডার সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। এরপর কিশোরীটি বাসে ওঠে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি আসলে গ্রেটার নয়ডার সূরজপুরের একটি ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছিল।

    অভিযোগে কিশোরীটি জানিয়েছে, বাসটি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করে এবং তাকে যৌন নির্যাতন করে। সে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা তাকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় ফেলে যায়। পরে কিশোরীটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। এর পরপরই অভিযুক্তদের সন্ধানে অভিযান শুরু হয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ‘স্লিপার’ বাসটির বার্থগুলো পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল। অভিযুক্তরা এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ফরেনসিক দলের সদস্যরা বাসটির ভেতর কিশোরীর চুলের নমুনা পেয়েছেন। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া বাসটি যে পথে চলেছিল, সেই পথের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক আজ

    মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই সঙ্গে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও চুক্তির আওতাধীন দেশ তিনটি আলোচনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব—এই তিনটি দেশ চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।

    মূলত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং তেহরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পটভূমিতে এই প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়েছে।

    জোটের প্রথম বৈঠক আজ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দেবেন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো গতকাল রোববার এই তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রগুলো জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ আজ বৈঠকে বসছে।

    কারা অংশ নিচ্ছেন

    তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লুর বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আজকের বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উপস্থিত থাকবেন। তাঁর সঙ্গে আরও থাকবেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা এরই মধ্যে তুরস্কে পৌঁছেছেন।

    সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন বলেও জানা গেছে।

    কী নিয়ে আলোচনা

    আজকের বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আজকের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম থাকবে। সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ তৎপরতা আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে থাকছে।

    কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি যৌথভাবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যেসব ক্ষেত্রে কাজের সিদ্ধান্ত নেবে, তা পরিচালনায় একটি সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাঠামোর রূপরেখা আজকের বৈঠকে ঠিক করা হতে পারে।

    জোটের পক্ষ থেকে আগামী সময়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব।

    এই জোটে যুক্ত হতে এরই মধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক। এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ঝুঁকি দেখছে না।

  • রুশ হামলায় ইউক্রেনে নষ্ট হয়েছে এক কোটির বেশি বই

    রুশ হামলায় ইউক্রেনে নষ্ট হয়েছে এক কোটির বেশি বই

    ছাপাখানাটির দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ভিক্টোরিয়া হাইদাই। নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে সেখানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলার কথা ছিল। কিন্তু এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ছাপাখানা। হামলার সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য পুরোদমে ১৩ লাখ বই ছাপার কাজ চলছিল। এই সংখ্যাটি ইউক্রেনের স্কুলগুলোর মোট পাঠ্যবইয়ের প্রায় ১০ শতাংশ।

    ছাপাখানার ধ্বংসস্তূপের ছাইয়ের মধ্যে পড়ে ছিল ইংরেজি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের পোড়া পৃষ্ঠা। সেখানে লেখা, ‘আমার নাম উইলিয়াম। আমার বাড়ি যুক্তরাজ্যে। আমার দাদি নটিংহামে থাকেন। এটি একটি সুন্দর শহর।’

    সম্প্রতি ইউক্রেনজুড়ে ছাপাখানা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। এসব হামলায় ১ কোটি ২০ লাখ বই নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইউক্রেনে ছাপা হওয়া মোট বইয়ের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে রাশিয়া।

    কিয়েভের ওই ছাপাখানায় কোনো কিছুই আর উদ্ধারযোগ্য নেই। আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া বইয়ের পাতাগুলোও অগ্নিনির্বাপণের পানি কিংবা খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

    প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কনভির বাণিজ্যিক পরিচালক হাইদাই বলেন, ‘রাশিয়া ইচ্ছা করেই এসব করছে বলে আমি মনে করি। গত দুই মাসে সবচেয়ে বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকেন্দ্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এসব সরবরাহকেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক বই মজুত ছিল।’

    হাইদাই বলেন, ‘ইউক্রেন জাতিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। তাই ছাপাখানাগুলো ধ্বংস করছে তারা। তবে সত্যি বলতে, তারা সফল হবে না।’

    গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের ৩৫টির বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। শুধু নতুন বই-ই হামলার লক্ষ্য হয়নি, কিয়েভের পুরোনো বইয়ের বাজারেও হামলা হয়েছে। এতে শত শত বিক্রয়কেন্দ্র এবং অসংখ্য মূল্যবান বই ধ্বংস হয়েছে।

    কিয়েভের ওই ছাপাখানায় অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শেষ করার আগেই ২৮ বছর বয়সী বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কিছু বই উদ্ধারের শেষ চেষ্টা করছিলেন। তাঁর হাতে ছিল ভিজে যাওয়া একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।

    লিলিয়া বলেন, ‘বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এগুলো হারানো মানে আমাদের হৃদয় হারিয়ে ফেলার মতো।’

    ইউক্রেনের বিভিন্ন জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, ফিল্ম স্টুডিও, গ্রন্থাগার এবং অপেরা হাউসগুলোও যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী তেতিয়ানা বেরেজনা বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের প্রতীক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’

    তেতিয়ানা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের ১ হাজার ৯০০-এর বেশি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প ও সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শিশুদের পড়াশোনা সচল রাখতে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের পুরো প্রকাশনাশিল্পই চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং এই খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বিবিসির কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য উল্টো দেশটির সরকারকেই দায়ী করেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেন নিজেরাই নিজেদের পুরোনো স্মৃতিস্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলছে এবং রাস্তাঘাটের নাম বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখার জন্য এসব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহার করছে।

    ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।

    https://4e5226d18b81482d9807891d30959302.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html
  • যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১৫

    যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১৫

    যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে প্রবল বৃষ্টির পর বন্যার পানি নেমে আসায় পার্কের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বন্যার পর জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বন্যার পর গিরিখাতের গভীর এলাকা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি মানুষকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়েছে। নদীতে ধাতব কাঠামো ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ চলে আসায় কলোরাডো নদীতে নৌযান চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ক্যান্টিন ও কেবিন এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের একটি বড় অংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ওই এলাকায় শনিবার অবস্থান করা হাইকার, ব্যাকপ্যাকার এবং ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার জন্য আগাম বুকিং করা ব্যক্তিরা রয়েছেন কি না, তা যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।

    জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা জাস্টিন জোহনড্রো জানান, মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটে ওই এলাকায় আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। খাড়া ও পাথুরে ভূপ্রকৃতির কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক নর্থ রিম থেকে কলোরাডো নদীর দিকে প্রায় ৬ হাজার ফুট নিচে নেমে গেছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

    গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। দুর্গম উপত্যকা, খাড়া পাহাড় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কারণে সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত সতর্ক থাকতে হয়। এবারের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

  • জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

    জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা

    লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং জর্ডানে ইরানের পাল্টা আঘাত সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক সংঘর্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

    মার্কিন হামলার পর আইআরজিসি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন ইরানি উৎক্ষেপণযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লারাক দ্বীপে ইরানি বাহিনী সমুদ্রের নিচে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত এবং ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা স্বার্থের কথা বলে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার দাবি করছে।

    সাম্প্রতিক হামলার ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে ইরান প্রণালির ওপর চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সমুদ্রপথের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪৪৯

    গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪৪৯

    মৃত্যুপুরী গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১৮ জন। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও কয়েকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে পৌঁছেছে।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলি হামলা ও অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। গবেষণাটি ৩১৭টি ঘটনার নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব দিয়েছে।

    এ ছাড়া ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে রয়েছে। ফলে গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজার আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, অবকাঠামো ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও গাজায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

  • সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

    আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এরকমই সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। তবে এর নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।’

    ‘তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সাথে সাগর-রুনির এই ঘটনার সাথে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাচাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করা হবে।’

    তিনি বলেন, এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এই মামলাটি সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি খুন হন। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান আটজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    ডিবি, র‌্যাবের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২৭ আগষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ফের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য় করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • মার্কিন চুক্তি ইরানে হামলা থামাতে পারবে না : ইসরাইল

    মার্কিন চুক্তি ইরানে হামলা থামাতে পারবে না : ইসরাইল

    ইসরাইলি মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, তারা হামলা করতে থাকবে। মার্কিন চুক্তি ইরানের ওপর হামলা থামাতে পারবে না।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    এলি কোহেন বলেন, ‘যদি ইরান ভুল করে এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে, এমনকি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তিও হয়, আমরা হামলা করতে থাকব।’

  • দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

    বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

    রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ পেয়েছে দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ কারণে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

    দুদকের নথি অনুযায়ী, শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

    জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান শফিউদ্দিন আহমেদ। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

  • ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

    ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। দেশের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এই শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল, সোলার প্যানেলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, হালাল ফুড খাতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। খুব দ্রুতই এই সকল প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ শ্রমিক তারা নেবে। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা ফ্রিতে নেবে।

    বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

    আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বৈঠক করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো: শহিদুল হাসান।

    পরে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তা আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের রেজিস্টার্ড শ্রমিক মালয়েশিয়াতে রয়েছে প্রায় আট লাখের মতো। আনরেজিস্টার্ড কিছু রয়েছে। সেগুলো যাতে রেজিস্টার্ড হয়- এ ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রী তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করে।

    মালয়েশিয়ারও প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আমাদের দেশের ঢাকা মেডিক্যাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যালসহ বিভিন্ন মেডিক্যালে পড়াশোনা করে।

    রাজধানীর সড়কে ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মূল সড়কে ই-রিকশা আমরা চলতে দেবো না। আটটি জোন করে তাদেরকে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে চলতে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এটি তিনটি ভাগে ভাগ থাকবে। আমরা ঢাকা শহরে যে ই-রিকশাগুলোকে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন দেবো তার যাত্রী সংখ্যা হবে দুই এবং চার। ছয়জনের কোনো ভেহিক্যালকে, মানে ই-রিকশাকে আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনব না। ওটা আমরা নীতিমালাতে বলেছি। দুই, চার, ছয়ের রেজিস্ট্রেশন পাবে গ্রামীণ এলাকায়, জেলা শহরের গ্রামীণ রাস্তাতে চলার জন্য তারা পাবে। সেটা অবশ্যই বুয়েট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির সার্টিফাইড ডিজাইন অনুযায়ী যারা তৈরি করবে, তারাই এই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে।’

    নীতিমালা কবে নাগাদ প্রয়োগ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে। ভেটিংয়ের জন্য এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পরেই আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই বা পরের সপ্তাহেই, যত দ্রুত সম্ভব এটা দিয়ে দেবো। আইনের আলোকে এই নীতিমালাটা দিলেই ই-রিকশাগুলো, ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মালয়েশিয়ার সড়কে যে রাবার কার্পেটিং হয় সেই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে পলিমার মডিফাই বিটুমিন মানে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে মালয়শিয়া রাজি হয়েছে। এটা সাধারণত রোড কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়। আপনারা জানেন যে মালয়েশিয়ার রাস্তাগুলো- ওখানে কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু তাদের কার্পেটিংয়ের রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না। তারা কার্পেটিংয়ের সাথে রাবারটা ইউজ করে।

  • জিসান হত্যা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জিসান হত্যা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আব্দুর রহমান জিসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন পুলিশ।

    রোববার দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৬ অক্টোবর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয় শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

    এ মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও উল্লেখযোগ আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিদেশ থেকে দেওয়া বার্তার মাধ্যমে অন্য আসামিদের অংশগ্রহণে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়।

    অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, তৎকালীন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও র‍্যাবের কর্মকর্তারা আন্দোলন দমনে অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশে ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের গত ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইলে আন্দোলনে অংশ নেন জিসান। ওই দিন আন্দোলন কারীদের পানি পান করাচ্ছিলেন জিসান। এ সময় আসামিদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় জিসানের বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

    মার্কিন অপরাধে সহযোগিতা করায় জাপান সরকারকে জবাবদিহির আহ্বান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধে অংশগ্রহণের’ জন্য জাপানের জনগণের উচিত তাদের সরকারকে জবাবদিহি করা। খবর আলজাজিরার।

    বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অভিযান পরিচালনায় জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আরাগচি বলেন, “এই দেশে অবস্থিত স্থাপনাগুলো ব্যবহারের জন্য জাপান সরকার দায়ী।”

    জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আরাগচি জাপানের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে জাপানের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

  • এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এআইয়ের ভবিষ্যৎ অসীম উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে।

    আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি আমার মনে হয় খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই দিকই রয়েছে।

    ব্রিটেনের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি, বিলাতে একটি মামলায় আরেকটি মামলার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেই রেফারেন্স জজ সাহেব গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর তিন-চারটি আদালতে সেই রায় অনুসরণ করা হয়। কিছুদিন পর গবেষণা করে দেখা গেল, এ ধরনের কোনো মামলারই অস্তিত্ব নেই। তখন বিচারক খুব বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু ততক্ষণে রায় দেওয়া হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

    চলতি বছরের ২৭ আগস্ট বিচারিক জীবনের ২৩ বছর পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।

    তিনি বলেন, কারণ রায় লিখতে হয় ৩টি জিনিস দিয়ে- আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে আপনার মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।

    ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। লাস্টলি, আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’

    এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিবেক একজন মানুষের নিজের থেকে আসে। এটা তার স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী।

  • ডিসির গাছের চারা বিতরণ

    ডিসির গাছের চারা বিতরণ

    নেত্রকোনার মদনে সরকার ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতেই শিক্ষার্থীদের মাঝে এই চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।

  • গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

    সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায়; কী অবস্থায় আছে, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল —এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলব, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

    সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব—আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

    শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন, যাতে আমরা শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে, সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

    অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে আজ চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।

    এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত দৃষ্টিশক্তিহীন যোদ্ধা আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলমসহ অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

    নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং ‘বিএনপি আমার পরিবার’-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর দাখিল

    মমতার বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর দাখিল

    পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে হেস্টিংস থানায়।

    আদালতের নির্দেশ অবমাননাসহ পুলিশের কাজে বাধা এবং আদালতের নির্ধারিত সময়ের পরেও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। মমতা ছাড়াও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এফআইআর করা হয়েছে।

    শুক্রবার কলকাতায় ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর আয়োজন করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, রাস্তার উত্তরমুখী লেন খোলা রেখে অনুষ্ঠান করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উভয় দিকের লেনই বন্ধ হয়ে যায়।

    পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিরও অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশ ছিল, বিকেল ৩টা পর্যন্ত সভা করা যাবে। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কর্মসূচি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মমতা এবং অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।

  • মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ওষুধ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চারজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

    তিনি জানান, ২৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপির সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার-৬৮/৪-এস হতে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া মাঠের একটি আমবাগানে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিবিহীন ৮৩০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৪ হাজার ৩৬০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খোসালপুর বিওপির হাবিলদার মো: আব্বাস হোসেনের নেতৃত্বে অপর এক বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৬০/৮০-আর হতে ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ পুরুষ, ১ নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৫৮-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

  • অভিষেকের দপ্তরের বিলবোর্ড খুলে ফেলা হলো, হাইকোর্টে তৃণমূল

    অভিষেকের দপ্তরের বিলবোর্ড খুলে ফেলা হলো, হাইকোর্টে তৃণমূল

    কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ড খোলার ঘটনায় হাইকোর্টে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে আদালতের কাছে আরজি নিয়ে যান তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। এ ঘটনায় মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারক রাজা বসুচৌধুরী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় দপ্তরের ছাদে থাকা বিশাল একটি সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যান। পৌরসভার কর্মকর্তাদের দাবি, সাইনবোর্ডটি বেআইনিভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, পৌরসভার কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে জোর করে দপ্তরের ছাদে উঠে সাইনবোর্ডটি খুলে ভাঙচুর করে নিয়ে যান।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরটি ক্যামাক স্ট্রিটের একটি ভবনের সপ্তম তলায়। গতকাল বিকেলে সাইনবোর্ড খোলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক, তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা বাধা দিলেও পৌরসভার কর্মকর্তা ও পুলিশ তাতে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

    ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘পুলিশ বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছে?’ তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের দপ্তরে বেআইনিভাবে ঢুকে পুলিশ ও পৌরসভার কর্মকর্তারা সেখানে ‘অত্যাচার’ চালিয়েছেন। সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার পর অবশ্য অভিষেকের দপ্তরের নামে নতুন করে একটি ব্যানার লাগানো হয়েছে।

    তবে তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। অভিষেক তাঁদের সঙ্গে ‘গুন্ডামি’ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সুকান্ত বলেন, ‘এখন ওরা ভয় পেয়ে গেছে।’

    ঘটনার সমালোচনা করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দপ্তরে এভাবে অভিযান চালানো যায় না। তাঁর মতে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এভাবে পরিস্থিতি তৈরি করা ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ঝগড়া ঝগড়া ভাব’ করে আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট প্রকট হয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের ভেতরে ভাঙন ও বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। দলের একাংশের বিধায়কেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পৃথক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। এর নেতৃত্বে আছেন দলটির সাবেক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক দলীয় দপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার সময় সঙ্গীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায

    লোকসভাতেও তৃণমূলের ভেতরে বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে পৃথকভাবে বসছেন। তাঁদের নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে লোকসভার স্পিকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন কি না, তা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।

    এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

    আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।

    শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।

    এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।

    এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।

    জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।

    অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

    গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।

  • সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকার সাভারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের চাঁপাইন এলাকা থেকে চাঁদাবাজির সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৯), মঞ্জুরুল হক মঞ্জু (৫২), এফ রহমান রুপক (৪৮)। এসময় মো: পিন্টু (৪৮) নামের অপর একজন পালিয়ে যান।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতাররা সাভারের চাঁপাইন এলাকায় কখনো নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার আবারো তারা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এলাকাবাসীরা তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

    সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: আব্বাস উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৭ লাখ টাকার মাদক-চোরাই মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হিজলী বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্টের টহলদল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। দিনব্যাপী অভিযানে ভারতীয় ৫০ বোতল এসকাফ সিরাপ (নেশাজাতীয়), ৫৮টি শাড়ি, ৫৭টি চকলেট, ৩৬ কেজি ফুচকা, ১ কেজি জিরা, ০.৫ কেজি কিসমিস, ৫ প্যাকেট সনপাপড়ি এবং ৩৫২টি কসমেটিকস সামগ্রী আটক করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাচালানি মালামাল ও মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।

    যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতাও চোরাচালান দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এ এম নাসির উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    এ সময় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    তবে রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • মোদির বাসভবনের পাশ থেকে ৭০০ পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

    মোদির বাসভবনের পাশ থেকে ৭০০ পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে বস্তি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এ আদেশ দেওয়া হয়। বস্তির ৭০০ পরিবারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে বলা হয়েছে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য সাবেক দিল্লি জেলা জজ মন মোহন শর্মার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের এই কমিটি বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে। কমিটির কার্যকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাস।

    আদালত দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে বস্তিবাসীদের গৃহস্থালির সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র সাভদা ঘেভরায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    সাভদা ঘেভরায় পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে বস্তিবাসীরা বলেছিলেন, তাদের বর্তমান বসতি থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ওই এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে তারা জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে তাদের বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিভিন্ন শ্রমনির্ভর কাজে নিয়োজিত। সাভদা ঘেভরায় স্কুলসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    সরকার বলেছে, ‘বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সংঘাত বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি এবং হুমকি বেড়েছে। এমন সংবেদনশীল এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।’

    সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং কেন্দ্রের স্থায়ী আইনজীবী আশীষ দীক্ষিত আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন, বস্তিবাসীদের প্রত্যেককে এক বছরের জন্য একটি করে বিনামূল্যের মেট্রো কার্ড দেওয়া হবে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হবে।

  • মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটক সাতজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোসা: আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) ও মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আটকদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি এপ্রোন, একটি খেলনা পিস্তল ও আটটি মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে।

    তিনি আরো জানান, এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।

  • প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

    অনেকদিন ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় এই শূন্যপদ পূরণে অবশেষে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।

    পিএসসির অনুমোদন মিললে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে।

    পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায়

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের। শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা।

    ২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়।

    মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।

  • বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

    বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র‌্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।

    রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা


    এম এ রহিম, চৌগাছা
    যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
    উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
    (২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
    এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
    ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
    খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
    মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
    বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
    চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
    চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
    হয়েছে।
    এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
    হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
    বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
    করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
    টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
    চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
    এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
    ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
    ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
    কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
    ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
    নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
    কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
    ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
    অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।

    রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু।

    আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।

    ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে মেয়ে লিপছিয়ার ঘুম ভাঙে। সে দেখতে পায়, তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার মরদেহ দেখতে পান।

    এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মহসিন আলী। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা।

  • বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসামি বিদিশার পক্ষে আতিকুর রহমান জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। মামলার বিচার শেষে বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের সাজা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

    ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা। এরশাদের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।